সত্তরের দশকের শুরু থেকে পশ্চিমা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানসমূহ বিশেষ করে উৎপাদন খাত জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ব্যাপক প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়। ধীরে ধীরে এবং অনেকটা নিশ্চিতভাবেই জাপানি পণ্যসমূহ বাজারের দখল নিতে থাকে। তাদের সাফল্যের এ অগ্রযাত্রা ঈর্ষণীয়ভাবে অব্যাহত রাখে এবং কিছুদিনের মধ্যেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে সক্ষম হয়। জাপানের অর্থনীতির এই অভাবনীয় উন্নতির শুরুটা হয় পঞ্চাশের দশকের শেষ দিকে। সমগ্র বিশ্ববাসী হতবাক! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত ও  ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি দেশ কী করে এত দ্রুত নিজেদের ব্যর্থতার গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার মন্ত্রে দীক্ষিত হল?

পশ্চিমা থিংকট্যাংক কিছুটা বিচলিত, কেননা বাজারের উপর জাপানি পণ্যের সুস্পষ্ট আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হচ্ছিল। সেই সময়ে ‘এনবিসি টেলিভিশন’-এ কর্মরত রিপোর্টার লয়েড অ্যালেন ডোবিনস জাপানের এই বিস্ময়কর উন্নতির রহস্য উন্মোচনে সচেষ্ট হলেন। তিনি তাঁর গবেষণার অংশ হিসেবে সশরীরে জাপান গেলেন। ব্যাপক অনুসন্ধানের পরে তিনি যা আবিষ্কার করলেন তা ছিল আরও বিস্ময়কর! জাপানের এই অভাবনীয় অগ্রযাত্রার বীজ বপন করেছেন একজন আমেরিকান– উইলিয়াম এডওয়ার্ড ডেমিং!

১৯৮০ সালে ‘এনবিসি টেলিভিশন’ যখন রিপোর্টার লয়েড অ্যালেন কর্তৃক তৈরি প্রতিবেদনটি (‘If Japan can, why can’t we?’) প্রচার করে, কেবলমাত্র তখন এই তথ্য সবার গোচরীভূত হয়। কে এই ডেমিং?

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের সিউক্স শহরে ডক্টর উইলিয়াম এডওয়ার্ড ডেমিংয়ের জন্ম হয় ১৯০০ সালে। ১৯২১ সালে তিনি উয়োমিং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ প্রকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯২৫ সালে স্নাতকোত্তর এবং ১৯২৮ সালে বিখ্যাত ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগে একজন গাণিতিক পদার্থবিদ (Mathematical Physicist) হিসেবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ডেমিং মার্কিন সমীক্ষা ব্যুরোতে পরিসংখ্যান বিষয়ক পরামর্শক (Statistical Consultant) হিসেবে কাজ করেন। তিনি সুদীর্ঘ কাল (১৯৪৬- ১৯৯৩) নিউ ইউর্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ব্যাবসা প্রশাসন ফ্যাকাল্টিতে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ড. ডেমিং বিভিন্ন সময়ে বেসরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহে পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে মিত্র বাহিনী (Allied Force) জাপানের পুনর্গঠনে সহায়তা প্রদানের অংশ হিসেবে একটি সমীক্ষা করার পরিকল্পনা করে। মার্কিন সেনাবাহিনীর অনুরোধে ড. ডেমিং এই সমীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব নিতে সম্মত হন। জাপানে তাঁর অবস্থানকালে স্থানীয় বিজ্ঞানী এবং প্রকৌশলীদের ইউনিয়নের আমন্ত্রণে তাদের সদস্যদের সংখ্যাতাত্ত্বিক নিয়ন্ত্রণের (Statistical Control) উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। ১৯৫০ সালের জুন থেকে অগাস্ট– এই তিন মাসে শত শত জাপানি প্রকৌশলী, ব্যাবস্থাপক ও বিভিন্ন পেশাজীবী পরিসংখ্যান প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ (Statistical Process Control – SPC) এবং মান নিয়ন্ত্রণ (Quality Control) পদ্ধতির উপর প্রশিক্ষণ লাভ করেন।

 

Japan - 555

 

ওইসব প্রশিক্ষণের মূল বক্তব্য কী ছিল, যা পরবর্তীতে জাপানের অর্থনৈতিক উন্নতিতে অসামান্য অবদান রাখে?

ড. ডেমিং বারংবার একটি বিষয়ের উপর জোর দেন: পণ্যের গুণগত মানবৃদ্ধি উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে সাহায্য করে এবং সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পায় উৎপাদনশীলতা, যা ব্যাবসায়ীক সমৃদ্ধির জন্য একান্ত প্রয়োজন।

পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডেমিং একটি যুগান্তকারী তত্ত্বের অবতারণা করেন। তাঁর সেই তত্ত্বের চারটি প্রধান বিষয়: পদ্ধতিগত চিন্তা (system thinking), তারতম্য (variation), জ্ঞান তত্ত্ব (theory of knowledge) এবং মনস্তত্ত্ব (psychology)।

পদ্ধতিগত চিন্তা বলতে সমগ্র প্রক্রিয়াগত বিষয়কে বোঝানো হয় যেখানে সরবরাহকারী, উৎপাদনকারী এবং ভোক্তা সবার ব্যাপারে স্বচ্ছ ধারণার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক প্রক্রিয়ায় কিছুটা তারতম্য হয়। এই তারতম্য যতটা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা যায় পণ্যের মান বজায় রাখার জন্য তা ততটাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

যে কোনো পণ্য বা প্রক্রিয়ার উন্নতিকল্পে জ্ঞানের কোনো বিকল্প নেই। শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে হলে নিত্যনতুন গবেষণার উপর দিতে হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ডেমিংয়ের মতে, পরিকল্পনা (plan), বাস্তবায়ন (do), চর্চা (study) ও ক্রিয়া (act)– এই চক্র সামগ্রিক জ্ঞানবৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। যে কোনো প্রতিষ্ঠানের সফলতা অনেকাংশে নির্ভর করে সেই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়সমূহ বিশেষ করে তাদের প্রণোদনা, উৎসাহ ও উদ্দীপনার উপর।

উল্লেখযোগ্যসংখ্যক জাপানি উদ্যোক্তা ড. ডেমিংয়ের তত্ত্বের সফল প্রয়োগ করেন। ফলে অর্জন করেন অভাবনীয় সাফল্য। তাদের সফলতার মূল মন্ত্র ছিল পণ্যের গুণগত মান ও উৎপাদনশীলতা, যার ফলে তারা সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন পণ্য ভোক্তার হাতে তুলে দিতে সক্ষম হন। সৃষ্টি হয় নতুন এক বাজার যা তাদের নিয়ে যায় উত্তরোত্তর সফলতার দিকে।

জাপানের এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মতো এক উদীয়মান অর্থনীতির জন্য হতে পারে ভীষণ কার্যকরী। আমরা সবাই অবগত আছি, বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশের আশু উন্নয়নের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী। গোল্ডম্যান স্যাকস এবং অর্থনীতিবিদ জিম ও’নেইল কর্তৃক পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায় প্রকাশ: একবিংশ শতাব্দীর বৃহৎ ১১টি অর্থনীতির একটি হবে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘বিজনেস ইনসাইডার’ এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে ‘এশিয়া মহাদেশের বাঘ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

অবারিত এই সম্ভাবনা বাস্তবে পরিণত করতে গেলে এখন থেকেই নিতে হবে সঠিক উদ্যোগ। বিশেষজ্ঞদের মতে, রপ্তানিমুখী উৎপাদন খাত হবে আমাদের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির নিয়ামক। সেক্ষেত্রে পণ্যের মান আর উৎপাদনশীলতা হবে সাফল্যের চাবিকাঠি।

ভিয়েতনাম, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়াসহ আফ্রিকা মহাদেশের মিসর, কেনিয়া কিংবা নাইজেরিয়ার মতো বিভিন্ন দেশ হবে আমাদের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, আমাদের যাত্রাপথ কুসুমাস্তীর্ণ হবে না, বরং আমাদের তৈরি হতে হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের জন্যে। এ লড়াই হবে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের। আমাদের সামগ্রিক উৎপাদন প্রক্রিয়া এই চিন্তা সামনে রেখে ঢেলে সাজাতে হবে।

ড. ডেমিং যে তত্ত্ব আজ থেকে ৬৭ বছর আগে জাপানিদের শিখিয়েছিলেন, আজ এতদিন পরেও তা আমাদের জন্য একইভাবে প্রযোজ্য।

যদি জাপান পারে তাহলে নিশ্চয়ই আমরা পারব। লাখো শহীদের রক্তের ঋণ পরিশোধের লক্ষ্যে স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা সবাই আজ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

সাজ্জাদুল হাসান
চেয়ারম্যান  ও  ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিএএসএফ বাংলাদেশ লিমিটেড

৩৮ Responses -- “যদি জাপান পারে, আমরা কেন নয়?”

  1. Rumana Subhan

    ১। তুলনার কিছু নিয়ম আছে। যুক্তিবিজ্ঞানে এটাকে বলে “লজিকালি ফ্যাল্যাশাস” ভুল তুলনা। আমের সাথে জামের তুলনা চলেনা, যেমন চলেনা কাঁঠালের সাথে লিচুর। বাংলাদেশের সাথে তুলনা করা যাবে গরীব বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর, জাপানের মত অতি উন্নত দেশের সাথে নয়।

    ২। সংক্ষেপে যদি বলি, জাপানীরা পারে কারণ ওদের গায়ে জাপানী রক্ত, কারণ ওরা এক নম্বর (দেখুনঃ Japan as Number One by Ezra Vogel), কিন্তু বাঙালী হইল দুই নম্বর বা দুই নম্বরির ওস্তাদ। ফলে, কতিপয় চালাক চতুর লোকে লক্ষ ও কোটিপতি হইলেও জনগনের দারিদ্য দূর হবার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য ।

    ৩। একমাত্র খোদা চাহেতো সেটা সম্ভব। তবে তার জন্য হয়ত অনন্তকাল অপেক্ষা করতে হবে। অতএব, আসুন আমরা সবাই দোয়া করি যেন আল্লাহ আমাদের তাড়াতাড়ি সেই তৌফিক দান করে এবং এই শতাব্দির মধ্যেই ।

    Nagoya, Japan

    Reply
  2. palash

    পলাশ
    শুধু জাপান কেন ভিয়েতনামের দিকে দেখুন। কানা, পঙ্গু, বধির, বোবারাও উন্নতি করতে পারবে কিন্তু বাংলাদেশ কখনো উন্নত রাষ্ট্র হতে পারবে না। তার কারণ অনেক। বাংলাদেশে যদি সৃষ্টিকর্তা নিজেও নেমে আসে তবুও পারবে না। কারণ েঐ সৃষ্টিকর্তা যদি বাংলাদেশের উন্নয়ন করতে থাকে সেখানে বিএনপি নতুবা আওয়ামীলীগ সন্দেহ পোষন করে দলের গুন্ডাদের দিয়ে ঐ সৃষ্টিকর্তাকেও খুন করে ফেলবে। বাঙালীদের দোষ রক্তে রক্তে, চেতনায় তাই এই জাতি কখনো মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারবে না। একভাবে মনে হয় সম্ভব। সমস্ত বাঙালীদেরকে ভিনগ্রহে পাঠিয়ে দিয়ে উন্নত রাষ্ট্র থেকে িযদি কিছু ভাল, কর্মঠ, সৎ, বিবেকবান, ঘুষ কি জিনিস চিনে না, দুর্নীতি কাকে বলে জানে না এ ধরনের মানুষের বীজ এনে বপন করলে তবেই সম্ভব।

    Reply
  3. শুভ্র

    খুব ভালো লাগলো ব্যবস্হাপনা পরিচালক লেভেলের কেউ একজন প্রেরনামূলক কিছু লিখল। সত্যি প্রেরনামূলক ও বাস্তববাদী লেখা। লেখখের সাথে সম্পূর্ন একমত।

    আমার মনে হয় আমরাও পারব শুধু একটু চাইলেই। তবে দুটো প্রশ্নের উত্তর ভালোভাবে জানা চাই:

    ১. আমরা কি চাই?
    ২. কিভাবে চাই?

    কাজকে সম্মান করার একটা সংস্কৃতি আমাদের নাগরিকদের মাঝে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে হবে রাষ্ট্রকে। আর নিজের বিবেকবুদ্ধি দিয়ে চিন্তা করার ক্ষমতাটাও বিকশিত করতে হবে। গতানুগতিক শিক্ষায় বেকার উৎপাদন না করে কর্মমুখী শিক্ষার প্রসার করা আবশ্যক। বিদেশি কোন শক্তিইই চাইবেনা আমরা ভালো করি। তাই দেশের স্বার্থ সম্পর্কে সবাইকে এক হতে হবে। আর অবকাঠামো নির্মানমূলক ও উৎপাদনমুখী খাত ছাড়া ঋন পরিত্যাগ করা উচিত।

    সব কথার শেষ কথা বেকার তৈরি করার শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তন করে উৎপাদন ও দক্ষতা তৈরীমূলক শিক্ষাব্যবস্থার নীতি অবলম্বন করা উচিত। আর দাতাদের এইক্ষেত্রে ঋন দিতে বলতে হবে। দাতাদের আজেবাজে ও অনুৎপাদনমূলক খাতের ঋনের কারনে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারছেনা ভালোভাবে। আর দুর্নীতিবিহীন সুশাসনও দরকার।

    Reply
  4. সাজু খন্দকার

    জাপানিরা কর্মঠ আর বাঙ্গালিরা অলস, আমাদের পার্থক্যটা এখানেই নয়কি?

    Reply
    • Shashwata

      আমরা কর্মঠ, অলস নই। আমাদের শুধু ইতিবাচকতা আর আত্মবিশ্বাসের অভাব, এটা ঠিক করা গেলেই সব ঠিক হয়ে যাবে নিশ্চয়।

      Reply
    • mostafa kamal

      না। আমরা বেশিরভাগ লোক যথেষ্ট পরিশ্রমী তবে সুবিধাবাদীরা নিজেদের আলোস্য ঢাকতে এবং দুনির্তী বজায় রাখতে এমন অপবাদ দিয়ে থকে।

      Reply
  5. মুস্তফা

    অত্যন্ত চমৎকার লেখা। তবে বাংলাদেশীদের আসলে স্বদেশ প্রেম মুখে, বুকে নয়। আমরা এদেশকে ভালবাসি নির্দিষ্ট কিছু দিনে। বাকি সময় বিদেশি হয়ে বসবাস করি। বিদেশি পণ্য ছাড়া আমাদের চলেনা। অথচ দেখুন ইন্ডিয়াতে বিদেশি একটা জিনিষ ক্রয় করতে গেলে প্রচুর খরচ করতে হয়। ওদের দেশের জিনিষ ভাল বিধায় সবাই দেশি জিনিষেই আস্থা রাখে। আমাদের দেশপ্রেম জেগে উঠুক মনের গহীনে এই কামনা করছি।

    Reply
  6. হেদায়েতুল ইসলাম

    ছোট ছোট কিছু উদাহরন দিচ্ছিঃ
    ১-জাপানে ধনী লোকদের বাড়ীতে ড্রইং রুমে সোফাসেট নেই, ছোট তিন-চারটি পিড়ির মত চেয়ারে বসে একই রুমে মেহমানসহ ঘরের লোক কথা বলে এবং খায়
    ২-জাপানের কারখানার মালিকরা অবশ্য অবশ্যই দৈনিক কয়েকঘন্টা শ্রমিকদের সাথে কাজ করে(কাজগুলোও শ্রমিক লেভেলের)
    ৩-ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা কাজে ফাকি দেয়না
    ৪-রাস্তা পরিষ্কারে সবাই হাত লাগায়
    যেদিন আমাদের দেশের মানুষ অন্ততঃ এই চারটি কাজ হাসিমুখে করবে, সেদিনই আমরা পারব – – – এবং
    অবশ্যই পারব

    Reply
    • শুভ্র

      r8 bro.

      কিছুদিন আগে গ্যাসের উর্ধ্বতন লেভেলের একজন পারিবারিকসূত্রে আমাদের বাসায় এসে রাতে গল্প করার সময় বলে তার অফিসে কাজকাম নেই। দিনে ১১ টায় অফিসে যায় সাইন করে দুপুর ১ টায় বাসায় আসে। ট্রেড ইউনিয়নের কি পোস্টটা যেন কত লাখ টাকা দিয়ে কিনেছে। আর এর ফলে লাভ কত ঐটাও বলেছিল। শুনে ভদ্রতার খাতিরে চুপ করে হাসিমুখে থাকলেও মনে অনেক ঘৃনা করেছিলাম।

      আমার এক স্যার জাপানে phd করে এসেছিল মনবুশো স্কলিরশিপ নিয়ে। তিনি বলেছিলেন: জাপানিরা যে যত বেশি কাজ করে সমাজে তাকে তত বেশি respect করে। স্বামী যদি রাত 7টার যায়গায় অফিস থেকে রাত ৯টায় ফিরে তবে পরদিন বউ গর্ব করে অন্যদের কাছে বলে। আমাদের দেশে উল্টাটা।

      Reply
  7. M K Alam

    Life based Education up to Secondary Level for all, is the solution which Japan could start after world war 2 , appointing knowledgeable Teachers with higher Pay than other Govt. Employees.

    Reply
  8. অর্বাচীন

    প্রশ্ন: যদি জাপান পারে, আমরা কেন নয়?
    উত্তরঃ কারন, আমরা জাপানী নই।

    Reply
    • মো; শহীদুল ইসলাম

      আম রা জাপানি ন ই স ত্য কিন্তু তাদের মত আমরাও মানুষ,,,, তারা ত মানুষ এর বাহিরে কিছুনা।আস ল ব্যাপার রাজনিতীতে গুন গত পরিব র্ত ন আস তে হবে সবার আগে। রাজ নৈতিক নেতাদের সাথে চোর ডাকাতের বিচ রন বন্দধ ক রতে হবে তাহ্লে গুন গত প রিব র্ত ন আসবে। ঘুসের বিনিময় এ পুলিশ নিয়োগ বন্ধ ক রতে হবে তাহ লে আইনের শাসন হবে।

      Reply
  9. Fazlul Haq

    ডেমিংয়ের প্রশিক্ষণ নিয়ে জাপান যেমন পেরেছে; তেমনি আমাদের শিল্প কারখানার সর্বস্তরে উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

    Reply
  10. mostafa kamal

    আমরাও পারব।হয়তো সময় লাগবে। না পারলে যতটুকু এগিয়েছি ততটুকু এগুলাম কি ভাবে ? এটা ঠিক আমাদের মাঝে অন্যকে বঞ্চিত করে নিজেকে বড় করে দেখানোর প্রবনতা অত্যন্ত প্রকট। আমার মনে হয় সামাজিক নিরাপত্তা দ্রুত হলে এমন অবস্থা বদলে যেতে পারে। সামাজিক নিরাপত্তা বলতে আমি বলতে চাইছি যেমন ধরুন আমার শিক্ষা পাওয়ার নিশ্চয়তা, খাদ্য পাওয়া নিশ্চয়তা, আশ্রয় পাওয়া নিশ্চয়তা, নিরাপত্তা পাওয়ার নিশ্চয়তা, ন্যায় বিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা ইত্যাদি।

    Reply
  11. S.H.nazmus Sakib Shishir

    বাংলাদেশের মানুষের সাথে জপানীদের ‍তুলনা করা চরম বোকােমী।এদের তুলনা হতে পারে ভারতীয অার পাকিস্তানীদের সাথে।এরা একই গোয়ালের গরু।

    Reply
  12. শোভন

    আমি শাজাহান ভাইর সাথে একমত। আমি জানি তিনি দীর্ঘদিন জাপানে রয়েছেন। আমাদের ভাবি একজন জাপানী। আমাদের নৈতিক চরিত্র উন্নত হওয়া দরকার। যেখানে গ্রামজুড়ে চাঁদা তুলে বিদ্যূতের জন্য ঘুষ দেয়া হয়। চাকরী পাওয়ার জন্য ঘুষ দিতে আমরা হন্যে হয়ে ঘুরি। নিজের নেতা খুন করলে চেপে যায়, অন্যের দোষ খুঁজে মরি সব সময়। জনগনের টাকায় কিছু কাজ করি বাকীটা মেরে খাই। আর বলি সব উন্নয়ন আমার ক্রেডিট। রাস্তার বিলবোর্ড দখল করে নিজের অন্যায় প্রচার করি। কোনো ঘটনা ঘটলে একদল আরেকদলের উপর দোষ চাপাই। অথবা বিদেশী ষড়যন্ত্র বলি। বিদেশীদের সাথে চুক্তি করতে গিয়ে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করতে জানি না। আবার কেউ বলি দেশ বেচা হয়ে গেছে। আমরা কিভাবে বদলে যাবো। হাঁ আমরাও বদলাবো তার জন্য লাগবে এক সামাজিক বিপ্লব, সামাজিক রেনেসা। তারপর

    Reply
  13. Wasi Rah

    এই তত্ত্ব বাংলাদেশ খুব একটা কাজে আসবে না কারণ আমাদের নৈতিকতার অভাব আছে। আমাদের দেশের মানুষ অস্থির মনের অধিকারী ও তারা বেশি মুনাফা করে রতা রাতি বড়োলোক হতে চায়। আমাদের দেশের কাপড় ছাড়া অন্য সব প্রোডাক্ট দেখেন , কোনোটারই ম্যান ভালো না। তবে কাপড়ের প্রশংসা অবশ্যই করতে হবে আমেরিকান বড়ো বড়ো দোকান গুলোতে যে সব ভালো মানের কাপড় পাওয়া যায় তা বলা চলে একক ভাবে বাংলাদেশের।

    Reply
  14. জাকারিয়া খন্দকার

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ধ্বংস হয়েছে শুধু ইন্ফ্রাস্ট্রাকচার আর মানবসম্পদ, জাপানী জনশক্তির দক্ষতা আর ট্রেনিং ধ্বংস হয়নি। দক্ষ জনশক্তির উপর ভর করে জাপান তাড়াতাড়ি উপরে উঠে গেছে।
    বাংলাদেশও পারবে, তবে জাপানের মত অত দ্রুত নয়। জনশক্তির দক্ষতার উপর জোর দিতে হবে- উদ্যোক্তা থেকে শ্রমিক, সব লেভেলে ।
    সবার উপরে মানব সম্পদ, তাহার উপরে নাই।

    Reply
  15. ডাঃ সৈয়দ মোর্তজা আলী

    আমি ও মনে করি এটা সম্ভব, তবে অবশ্যই সব কাজের ফায়সলা নির্ভর করে তার সচ্ছতা ও গুনগত মানের উপর । আর এ সব কাজের জন্য চাই উপযুক্ত ব্যবস্থা ও সঠিক নেত্রীত্ব , তা না হলে সবই বিফলে যাবে । আমাদের নেতাদের আগে সঠিক হতে হবে, না হলে সবই বিফল ।

    Reply
  16. এমাদুল হক

    এম সুন্দর লেখাটা পড়লাম। মনে উদ্দোক্তার প্রকন্ধটা অনেক গুরুত্ব পূর্ণ।

    Reply
  17. ডাঃ আসিফ মাহমুদ

    ঠিক গতকালই এ সম্পর্কে বলেছিলাম ফেসবুকে, প্রায়ই বলি ছাত্রদের। তবে মূল পার্থক্যটা চরিত্রে আর জেনেটিক্সে যা কখনও পরিবর্তন করার আশা সুদূর পরাহত।

    Reply
    • হেদায়েতুল ইসলাম

      বাঙ্গালীরা কি পারেনি?
      ১-ক্ষুদিরাম-সূর্য্যসেন বাঙালী ছিল, বৃটিশকে কাঁপিয়েছে, বিদায় করেছে।
      ২-ভাষার জন্য রক্ত দিয়েছে
      ৩-ত্রিশ লক্ষ বলিদান দিয়ে স্বাধীনতা এনেছে
      ৪-বারবার উপকুলীয় জলোচ্ছাস,ঘির্নিঝরের পর ঘুরিয়ে দাড়িয়েছে
      ৫-খুনী-ধর্ষক-রাজাকার এবং জাতির জনকের হত্যাকারীদের বিচার করেছে
      ৬-মার্কিন মোড়লদের চক্রান্ত ঠেকিয়ে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করেছে
      ৭-খাদ্যাভাব-দূর্ভিক্ষের দেশকে খাদ্যে উদ্বৃত্ত করেছে – — আরও বলা যাবে
      তবে—
      ১-রাস্তায় অহেতুক নোংরা,আবর্জনা,ফেরিওয়ালা রেখে জনজীবন দূর্বিসহ করা থেকে নগরগুলোকে রক্ষা করতে পারেনি
      ২-মহিলাদের জনপরিবহন ও পাবলিক টয়লেট চালু করতে পারেনি
      ৩-বেকারদের পথ দেখাতে পারেনি

      Reply
  18. শাহজাহান সিরাজ

    আমরাও পারবো – যদি আমাদের ভাবনা ও চরিত্র বাদলাতে পারি । জাপানীরা – আমার টাকা, আমার টাকা, তোমার টাকা তোমার টাকা মনে করে। কিন্তু আমরা মনে করি – আমার টাকা আমার টাকা, তোমার টাকা আমার টকা।
    আর জাপানীদের প্রথম ভাবনা অন‍্যের সুবিধা কিভাবে করা যায়। এ সেবা দিয়ে – কিভাবে ব‍্যবসা করা যায়।
    বাঙালীদের ভাবনা গুলো নিয়ে ভাবলে সহজ উত্তর ও সমাধান পাওয়া যাবে।
    তবে আমরাও পারবো জাপানীদের মত!

    Reply
  19. মান্নান

    আমাদেরও পারতে হবে কিন্তু মানুষের হক নষ্ট না করে বা চুরির অভ্যাসটা ত্যাগ করে!!!

    Reply
  20. সাইফ

    সুন্দর লেখা এবং আমি আশা করবো উদ্দোক্তা যারা আছেন তাদের কাছে এই প্রবন্ধটা অনেক গুরুত্ব পূর্ন ভুমিকা রাখবে।
    ইনশাআল্লাহ আমরাও পারবো যে যাতি ভাষার জন্যে রক্ত দিতে পারে, জন্মভূমির স্বাধীনতার জন্যে অকাতরে বুকের তাজা রক্ত ডেলে দিতে পারে তাদের জন্যে দরকার কেবল আরও একজন বঙ্গবন্ধুর যে আমাদেরকে পথ দেখাবেন।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—