Feature Img

এক বছর আগে আমরা যখন আমাদের বাংলা ব্লগ নতুন করে শুরু করেছিলাম তখন ঠিক করে নিয়েছিলাম, এই ব্লগ অন্য আর পাঁচটি ব্লগের মত হবেনা। এখানে ব্লগাররা শুধুই তাদের মতামত দেবেন না, শুধুই অন্য কোন ঘটনা, কোন বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাবেন না; তারা তথ্যও দেবেন। তারাও একধরণের সাংবাদিকতা করবেন।

সাংবাদিকতা নিয়ে কথা বলতে গেলে, একটা কথা প্রায়ই বলা হয়, কমেন্ট ইজ চিপ, ইনফরমেশন ইজ এক্সপেনসিভ । অর্থাৎ, মন্তব্য করাটা সহজ, কিন্তু তথ্য যোগাড় করা কিংবা তথ্য দেয়াটা কঠিন কাজ। প্রযুক্তির কল্যাণে, তথ্য পরিবেশনের কাজটা অনেক সহজ হয়েছে। কিন্তু তথ্য যোগাড়ের যে কাজটি, তথ্য যাচাই বাছাই করার যে কাজটি, সেটি আমার ধারণা একটু কঠিন কাজ। কেননা, সেখানে দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন এসে যায়, সেখানে সতর্ক হবার প্রয়োজন আছে।

এখানে দায়িত্বশীল হতে হবে দু’পক্ষকেই — যারা নাগরিক সাংবাদিক হিসেবে তথ্য দেবেন এবং সেইসাথে যারা (moderators) এ প্রান্ত থেকে আরেক জোড়া চোখ দিয়ে তা যাচাই করে দেখবেন। একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, দায়িত্বশীল আচরণ করতে ব্যর্থ হলে মাশুল গুনতে হবে সবাইকে। আইন বা বিধিবিধানের বিষয়টি তখনই সামনে আসে যখন স্বাধীনতার অপব্যবহার হয়। স্বাধীনতার নামে স্বেচ্ছাচারিতা হয়। আমাদের সতর্ক থাকবার প্রয়োজন আছে। ইন্টারনেটে, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অসতর্কতার পরিণতিতে সাংস্কৃতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক মূল্য দিতে হতে পারে। বেশি দূর যেতে হবে না, বাংলাদেশের গত ৪০ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা করলেই দেখা যাবে বিভিন্ন সময়ে কিভাবে গণবিরোধী কাজে কিংবা আইনের শাসনবিরোধী কাজে গণমাধ্যমকে ব্যবহার করা হয়েছে। আমাদের সমস্যা হচ্ছে, আমরা ইতিহাস থেকে শিখি না, শিখতে চাই না।

এদেশের রাজনীতিকরা বারবার ভুল করেছেন এবং চরম মাশুল দিয়েছেন। তবে সবচেয়ে বেশি মাশুল দিয়েছেন এদেশের মানুষ — গণতন্ত্রহীন পরিবেশে, আইনের শাসনহীন রাষ্ট্রে জনগণ যন্ত্রণা ভোগ করেছে। রাজনীতিকরা অন্য অনেক বিষয়ের মত গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে চরম দায়িত্বহীনতা এবং অযোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন। এতে সমাজের ক্ষতি হয়েছে, অর্থনীতির ক্ষতি হয়েছে, রাজনৈতিক ব্যবস্থার ক্ষতি হয়েছে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ক্ষতি হয়েছে।

তবে রাজনীতি কিংবা রাজনৈতিক ব্যবস্থার কোন বিকল্প এখনো আধুনিক সমাজ দেয়নি। যখনই অন্য কোন শক্তি এই রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করেছে কিংবা করবার চেষ্টা করেছে তখনই সসস্যা হয়েছে। দেশ, সমাজ পিছিয়ে গেছে। আইনের-শাসন-ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলবার জন্য, কিংবা যেটুকু আছে তাকে আরো শক্তিশালী করবার জন্য রাজনীতির পাটাতনটা আরো শক্ত হবার প্রয়োজন আছে। বিষয়টি না বুঝলে বাংলাদেশকে আরো মাশুল দিতে হবে, যেমনটা দিয়েছে এবং দিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। তবে, স্বীকার করতে হবে, এদেশে যা কিছু উন্নতি হয়েছে তা রাজনীতিকদের কারণেই হয়েছে। আবার, এদেশের দুর্দশার সব দায়ও রাজনীতিকদের নিতে হবে।

অব্যবস্থাপনার কারণে, কিংবা সিদ্ধান্তগ্রহণকারীদের অযোগ্যতা-অদূরদর্শিতার কারণে গণমাধ্যমে একটা অরাজক পরিস্থিতি বিরাজমান। এর দায় পুরোটাই রাজনীতিকদের। তারা তাৎক্ষণিক লাভটা দেখে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরে অনেক ক্ষেত্রে আফসোস করেছেন। সুযোগ পেয়েও শেখার বা শোধরাবার চেষ্টা করেননি।

এটা স্পষ্ট, ইতোমধ্যে অরাজক পরিস্থিতির সুবিধাভোগীরা সংখ্যায় অন্তত মূলধারার সংবাদকর্মীদের ছাড়িয়ে গেছেন। সততা এবং অঙ্গীকার নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের মধ্যে একটা হতাশা আছে বলে মনে হয়।

এটা এক ক্রান্তিকাল। দ্রুত বিবর্তিত হচ্ছে প্রচার মাধ্যম। প্রযুক্তি পাল্টে দিয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার চেহারা। মেলানো হচ্ছে রাজনীতির পুরোনো কিছু হিসেব-নিকেশ। সম্পাদকীয় ব্যবস্থাপনায়, সর্বোপরি গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায়, দায়িত্বশীল আচরণ যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন বোধহয় এখন।

কাজেই জাতিবৈরিতা, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও মানহানিকর বক্তব্য ইত্যাদি বিষয়ে সতর্ক থাকবার প্রয়োজন শুধু আইনি নয়, প্রয়োজন সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক। আইন প্রসঙ্গে একটা বিষয় পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। যে বিশাল ইন্টারনেট সমাজ গড়ে উঠেছে, তার মধ্যে যে সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে, তার বিস্তৃতি, গভীরতা এবং প্রভাব কিন্তু অনেকাংশে ‘বাস্তব’ সমাজের চেয়ে অনেক বেশি। গণমাধ্যম সম্পর্কিত পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলেই সেটা বোঝা যায়। এদেশে দু’কোটি ইন্টারনেট সংযোগ আছে, প্রায় ২৪ লাখ ফেইসবুক ব্যবহারকারী আছেন। অন্যদিকে সবগুলো কাগজের প্রচারসংখ্যা আসলে ১২ লাখের বেশি নয়। বিভিন্ন জরিপের ফলাফল দেখলেই বোঝা যায়, টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সংবাদ, চলতি ঘটনার অনুষ্ঠান কিংবা জনমত পাল্টে দেবার মত অনুষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত দর্শকসংখ্যা, এই মুহূর্তেই বাংলাদেশের ইন্টারনেট জনসংখ্যার সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সীমার কাছে কিছুই নয়।

কাজেই সতর্ক হবার প্রয়োজনটা আরো বেশি। আসলে পুরোনো মাধ্যমের চেয়ে এই নতুন মাধ্যমের শক্তি  আরো বেশি। যেমন ধরুন, মানহানির প্রশ্নে যে আইনটা প্রয়োগ করা হয় পুরোনো মাধ্যমে তা কিন্তু এই নতুন মাধ্যমেও প্রয়োগযোগ্য। ভয়টা হলো, রাষ্ট্রপরিচালনাকারীদের একটা বড় অংশ এসব বিষয়ে যথেষ্ট শিক্ষিত নন, যথেষ্ট সংবেদনশীল নন। আইনের ভুল, বিব্রতকর এবং ক্ষতিকর প্রয়োগ হলে মাশুল দিতে হবে সবাইকে। সতর্কতাটাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে হয়। সামাজিক উন্নয়নের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা সমাজেও বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্ক চলছে। আমাদের দেশেও বিতর্কটা হচ্ছে, মূলত নতুন মাধ্যমে। ভালো দিকটা হলো এই বিতর্কেও পুরোভাগে রয়েছে নতুন মাধ্যম।

ফিরে আসি নাগরিক সাংবাদিকতা প্রসঙ্গে। বাংলাদেশকে বলা হয়, সাংবাদিকতার স্বর্গরাজ্য। বিশেষ করে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার। দুর্নীতি আর বিভিন্ন  রকম দুর্বৃত্তায়নের এ দেশে চারিদিকেই শুধু খবরযোগ্য ঘটনা। নাগরিক সাংবাদিকরা এ সুযোগটা নেবে না কেনো? তবে সুযোগ গ্রহণের পাশাপাশি দায়িত্ববানও হতে হবে তাদের। না হলে গণমাধ্যমের প্রতি আস্থাহীনতার সংকট আরো প্রকট হতে পারে।

[লেখাটি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বাংলা ব্লগ bdnews24 ব্লগের বছরপূর্তি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তৃতার সারাংশ।]

তৌফিক ইমরোজ খালিদীপ্রধান সম্পাদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

১৫ Responses -- “নাগরিক সাংবাদিকতা, দায়িত্বশীলতা”

  1. ফারহানা মান্নান

    খুব ভালো লাগলো লেখাটা পড়ে। আমাদের দেশে, পত্রিকার সাংবাদিকরা খবর প্রকাশ করবার সময় বেশ সাবধান থাকেন। রাজনীতিক নেতাদের নিয়ে স্পষ্ট মন্তব্য তারা করেন না। সাগর-রুনি হত্যার পর মনে হয় তারা এখন আরও বেশী সাবধানী হবেন। পত্রিকার কথা বাদ দিলুম তারা পক্ষপাতদুষ্ট কিন্তু bdnews এর কাছে আমাদের আশা অনেক খানি বেশি। bdnews এর সাংবাদিকরা কি পারবে সে আশা পুরন করতে?

    Reply
  2. sagar

    এখন খুব ভালো লাগে যে কিছু কিছু রাজনৈতিক নেতা আজকাল টেলিভিশনে টক শোতে এসে পজিটিভ আলোচনা করেন। এটা খুবই ভালো একটি লক্ষন। তারা তাদের ভুল বুঝতে শিখছেন। কিন্তু এখনো অনেক সাংবাদিক বা সংবাদ পত্র বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার থেকে দূরে আছেন। আমরা আশা করবো যে এখনো সময় আছে রাজনীতিবীদদের মতো না হয়ে আপনারা গঠনমূলক সত্য এবং সাহসী ভূমিকা রাখবেন, যাতে পরবর্তী প্রজন্ম এসে আপনাদের দিকে আঙ্গুল না তুলে। তারা যেনো না বলে এর সবকিছুর জন্য আমরা সাংবাদিকরা দায়ী।

    আমরা ৪০ বছর পর এসে আর ভুল করতে চাই না। [লেখাটা পরে ভালো লেগেছে]

    Reply
  3. amin

    কথা উঠছে বিডিনিউজ নাকি আ.লীগের পক্ষ নিয়া কাজ করে। এমনটি আমরা চাই না। আমাদের দেশ, জনগন নিয়া কাজ করুন।

    Reply
  4. Shah Alam Faruk

    সময়োচিত লেখার জন্য শ্রদ্ধেয় সম্পাদককে ধন্যবাদ। সত্যিই সংবেদনশীলতার সাথে দায়িত্ববোধের অনুশীলন ছাড়া দায়িত্বশীল নাগরিক সাংবাদিকতা সম্ভব নয়। সমালোচনা বিশ্লেষণে পক্ষপাত আক্রমণ যুক্তি খন্ডন পাল্টা যুক্তি সবই থাকুক দক্ষ শালীন উপস্থাপনায়। ভাষা আর ভাবের যোগে বাস্তবতা আর তথ্যের মিশেলে। কিন্তু বিস্মিত কখনো বা হতবাক হই সস্তা ক্যাডারের প্রকাশভঙ্গিতে বিশেষ দলমত গোষ্ঠীর পক্ষে কারো কারো দালালের মতো আচরণ(এ পর্যায়ে গেলে নাগরিক বা সাংবাদিক না বলে এটা বলাই শ্রেয় বলে মনে করি) দেখে।

    Reply
  5. Huda

    ঘাটে তুলে ধ্বাক্কা মারা…
    “এদেশে যা কিছু উন্নতি হয়েছে তা রাজনীতিকদের কারণেই হয়েছে। আবার, এদেশের দুর্দশার সব দায়ও রাজনীতিকদের নিতে হবে।”

    সাংবাদিক এবং সাংবাদিকতার ময়নাতদন্ত:

    “এটা স্পষ্ট, ইতোমধ্যে অরাজক পরিস্থিতির সুবিধাভোগীরা সংখ্যায় অন্তত মূলধারার সংবাদকর্মীদের ছাড়িয়ে গেছেন। সততা এবং অঙ্গীকার নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের মধ্যে একটা হতাশা আছে বলে মনে হয়।”

    যিনি অনেক দূর দেখতে পারেন….

    “বিভিন্ন জরিপের ফলাফল দেখলেই বোঝা যায়, টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সংবাদ, চলতি ঘটনার অনুষ্ঠান কিংবা জনমত পাল্টে দেবার মত অনুষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত দর্শকসংখ্যা, এই মুহূর্তেই বাংলাদেশের ইন্টারনেট জনসংখ্যার সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সীমার কাছে কিছুই নয়।কাজেই সতর্ক হবার প্রয়োজনটা আরো বেশি। আসলে পুরোনো মাধ্যমের চেয়ে এই নতুন মাধ্যমের শক্তি আরো বেশি। যেমন ধরুন, মানহানির প্রশ্নে যে আইনটা প্রয়োগ করা হয় পুরোনো মাধ্যমে তা কিন্তু এই নতুন মাধ্যমেও প্রয়োগযোগ্য। ভয়টা হলো, রাষ্ট্রপরিচালনাকারীদের একটা বড় অংশ এসব বিষয়ে যথেষ্ট শিক্ষিত নন, যথেষ্ট সংবেদনশীল নন। আইনের ভুল, বিব্রতকর এবং ক্ষতিকর প্রয়োগ হলে মাশুল দিতে হবে সবাইকে। সতর্কতাটাই বুদ্ধিমানের কাজ বলে মনে হয়। সামাজিক উন্নয়নের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা সমাজেও বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্ক চলছে। আমাদের দেশেও বিতর্কটা হচ্ছে, মূলত নতুন মাধ্যমে। ভালো দিকটা হলো এই বিতর্কেও পুরোভাগে রয়েছে নতুন মাধ্যম।”

    আমি বিশ্বাস করি এসব চিন্তা এবং চিন্তার প্রতিফলন আমাদের টিকিয়ে রেখেছ।

    Reply
  6. Bangladeshi

    আপনাদের মডারেশনে আছে একপেশে মনোভাব, সম্পূর্ণ পক্ষপাতিত্ব। যেন কয়েকজনকে বিডিনিউজ ব্লগটি ইজারা দেয়া হয়েছে। মডারেশনের সাথে জড়িতদের থাকতে হয় নিরপেক্ষ মানসিকতা। কিন্তু আপনাদের ওখানে আছে ভিন্নমতকে দমনের প্রচেষ্ঠা। যৌক্তিক সমালোচনা অপছন্দ। সে কারণে নিউজ সাইটটি জনপ্রিয় হওয়ার পরও ব্লগ জনপ্রিয় নয়। মডারেশনে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা থাকতে হবে। একপেশে ও আক্রোশমূলক মনোভাব সম্পন্ন মডারেটরদের প্রয়োজনে বাদ দিতে হবে।

    হয়তো এ মন্তব্যটিও প্রকাশ করা হবেনা। কারণ এখানে শুধু প্রশংসা কাম্য, সমালোচনা নয়।

    Reply
  7. S M Shahadat Hossain

    চমৎকার বলেছেন। পুরোপুরি একমত পোষণ করছি। এর সঙ্গে উল্লেখ করতে চাই, প্রাতিষ্ঠানিক ব্লগের ক্ষেত্রে এই অবস্থানের বাইরে যাবার সুযোগ নেই। মুক্ত ব্লগবাজী নিজের মতো চলতে পারে, কিন্তু এক পর্যায়ে তা শক্তি হারাতে পারে। নতুন মাধ্যমের শক্তিকে সংহত রাখতেই দায়িত্বশীলতার বিকল্প নেই।
    অনেক ধন্যবাদ সম্পাদক সাহেবকে।

    Reply
  8. kamal hassain (kt)

    রাজনীতিক নেতাদের নিয়ে মন্তব্য ভালো লেগেছে বেশি। এ ধরণের লেখা আর্ও বেশি হলে ভালো হয়।

    Reply
  9. shehabuddin kisslu

    আমি আপনার সাথে একমত কিন্তু প্রশ্ন হলো আমরা কতটা অঙ্গীকারাবদ্ধ। সিটিজেন জার্নালিজম করতে হলে সব রকম দায়িত্বশীলতাই দরকার।
    আমাদের বড় সমস্যা হলো জার্নালিজমে খুব বেশি দূষণ। আমরা এ থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে ভালো ভালো কথা বলেও কোন কাজ হবেনা।
    আমি বিশ্বাস করি পেশাদারিত্বকে সম্মান জানাতে হবে। টাকা, পদমর্যাদা এবং ব্যক্তিগত আর্থিক লালসা একমাত্র স্বপ্ন হ্ওয়া উচিৎ নয়।
    লেখককে আমার শুভেচ্ছা।

    Reply
  10. dr. hassan mahmud mamun

    ইতিবাচক রাজনীতি ছাড়া আমাদের সামনে অন্য কোন পথ নেই ।

    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক চর্চায় এই প্রথম এবং যে কোন বিচারে অত্যন্ত অভিনন্দনযগ্য উপায়ে সার্চ কমিটির মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনের অন্য তিনটি কমিশনার নিয়োগ করলেন, সার্চ কমিটি গঠন এবং কমিটির সুপারিশে নির্বাচন কমিশন গঠন দুটোই নব্বই পরবর্তী সময়ে প্রতিশ্রুতি পাওয়া গণতান্ত্রিক ব্যাবস্থার জন্য নতুন এবং যে কোন বিচারে অত্যন্ত অভিনন্দনযগ্য একটি বিষয়। অনেকটাই বলা যায় বাংলাদেশ আওয়ামি লীগ একটি মাইলফলক রচনা করলেন।

    নির্বাচন কমিশন রীতি মোতাবেক শপথ নেওয়ার পর আমাদের দেশের দুই দলের একজন নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন – এতো উদারভাবে কখনও নিয়োগ হয়নি। আরেকজন যিনি গত তিন বছরে চিরাচরিত যা করেছেন সংসদ পদ টিকিয়ে রাখা ছাড়া সংসদে প্রায় না যাওয়া, সংসদে দেশের আইন প্রনয়নে অংশ না নেয়া, এমনকি বহুশ্রুত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে সংসদে গিয়ে সংলাপে অংশ না নেওয়া। আমাদের ক্ষমতাধর নেত্রী নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে একই ধারায় দ্বার্থহীন কণ্ঠে বলেছেন নতুন নির্বাচন কমিশন মানি না, তবে আমাদের দেশের সচেতন নাগরিকরা অবশ্য আমাদের দুই নেত্রীর দুই রকম ভাষ্যে মোটেও অবাক হন নি।

    আমাদের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দুই প্রধান দল ক্ষমতার দন্দ্বে লিপ্ত। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর প্রধান জননেত্রি শেখ হাসিনা আর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির বেগম খালেদা জিয়া।

    গোটা দেশজুড়ে আগামী ১২ই মার্চ এর চর্চা হচ্ছে, দেখা যাক আগামী ১২ তারিখ কে কত নোংরামি আর কুটিল রাজনৈতিক গেম খেলতে পারে, তবে আমরা আশা করি দেশে যাতে কোন প্রকারের সংঘাত এর দিকে ধাবিত না হয়,

    বিরোধী দলের প্রতি অনুরোধ দেশের মানুষের শান্তি আর কল্যাণের কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যাতে তাদের সাংসদদের নিয়ে সংসদে গিয়ে যোগদান করে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারে নতুন আকারে।

    ডা। হাসান মাহমুদ মামুন

    Reply
  11. রাফে সাদনান আদেল

    লেখাটি পড়ে খুবই ভালো লাগলো। খুব বেশিদিন হয়নি ব্লগ লিখছি। এরই মাঝে সাংবাদিকতার এই মাধ্যমটা আমার খুবই পছন্দ হয়েছে। সরাসরি আমার লেখার প্রতিক্রিয়া পাচ্ছি পাঠকদের কাছ থেকেই। আর তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি ইলেকট্রনিক মাধ্যমের অতি মূল্যবান অন এয়ার টাইমের কারণে আমার অনুসন্ধানের যে সারাংশ আমি দেখাতে পারবো তার পুরোটা তুলে ধরবো সাংবাদিকতার এই মাধ্যমে। আপনার লেখা থেকে দিক নির্দেশনা মিলল। এর উপলব্ধি আগেই হয়েছে, এখন প্রযোগের পালা। ভালো থাকুন আর আধুনিক সাংবাদিকতার যে ছোঁযা আপনার কাছ থেকে পাই তা অব্যাহত থাক এই প্রত্যাশা রইল।

    Reply
  12. kamran karim

    অনেক ইচ্ছে তো হয়, অনুসন্ধান করি অপরাধ আর দূর্নিতীর। এতো ব্যাস্ত ইলেকট্রনিক মিডিয়া…….
    একটা স্টোরী- সময় মাত্র কয়েক ঘন্টা।
    আমরা কি বেরিয়ে আসতে পারবো এমন পরিস্থিতি থেকে ?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—