কে স্বাধীনতার ঘোষক: বঙ্গবন্ধু না, মেজর জিয়া? এই বিতর্ক দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে যারা বেড়ে উঠেছেন তাদের কাছে অবশ্য এই বিতর্ক হাস্যকর ও অবান্তর। ইতিহাস সম্পর্কে ওয়াকিবহাল যে কারো কাছেই এটি কোনো বিতর্কের বিষয়ই হতে পারে না। কারণ ইতিহাসে এর সাক্ষ্যপ্রমাণ এতই স্পষ্ট, অতীর্যক ও উচ্চকিত যে, এ নিয়ে বাহাস করা মূর্খতা মাত্র।

তাহলে ইতিহাসের বাসরঘরে কোন ছিদ্রপথে বিতর্কের এই বিষাক্ত কুটিল ভুজঙ্গ প্রবেশ করেছে? মূলত রাজনীতি, যার রক্তে রয়েছে প্রতারণার বিষ। যে রাজনীতি মহান কোনো আদর্শ থেকে উৎসারিত হয় না, তা আমাদের ইতিহাস ও ঘটনার বিকৃতির মাধ্যমে বিপথগামী করে তোলার জন্য সব আয়োজন নিয়ে হাজির হয়।

বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় এরকম কোনো দুরন্ত আয়োজনের কোনো দুঃসাহস দেখায়নি কেউই, এমনকি মেজর জিয়াও কখনও ঘোষণার বিষয়টিকে বিতর্কিত বলে মন্তব্যও করেননি, দাবী তো দূরের কথা। কিন্তু জিয়াউর রহমান জীবদ্দশায় একে বিতর্কিত মনে না করলেও তাঁরই ঔরসে জন্ম বিএনপি একে বিতর্কিত করেছে। এবং এই বিতর্কের পেছনেও রয়েছে ইতিহাসের পদাঘাতে বিক্ষিপ্ত ও ছিটকে পড়া সেই সব রাজনৈতিক দলের লোকদের ষড়যন্ত্র যারা আওয়ামীবিরোধী রাজনীতিতে নিঃস্ব ও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছিল, বিশেষ করে ন্যাপ, মুসলিম লীগ ও জামায়াতে ইসলাম।

আরও পরে চীনাপন্থীদের যারা একসময় বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন– যেমন মান্নান ভূইয়া, তরীকুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল নোমান– তারা শুধু রাজনৈতিক ঈর্ষা থেকেই নয়, বরং রাজনৈতিক পরাজয়ের প্রতিশোধ চরিত্রার্থ করার উপায় হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ভাবমূর্তি নিঃস্ব করার ষড়যন্ত্রের সুযোগটির সদ্ব্যবহার করতে চেয়েছেন। তারা বঙ্গবন্ধুর ‘আইকনিক ইমেজ’ ভেঙে স্বাধীনতার ‘ঘোষক’ হিসেবে জিয়াউর রহমানকে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান নিজে এরকম কোনো আকাঙ্ক্ষার কথা প্রকাশ না করলেও তার অনুসারী চাটুকাররা তা-ই চেয়েছিল। চাওয়ার কারণ ১৯৭৯ সালে বিএনপি রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধী পরাজিত দল ও ব্যক্তিদের প্রতিশোধস্পৃহাকে এই নতুন দলের ছত্রছায়ায় উজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

নতুন দল মানেই নতুন হিরো, নতুন কাল্ট তৈরি করা, নতুন মিথ তৈরি করা। মেজর জিয়ার মধ্যে এর সম্ভাবনা অল্প হলেও ছিল। তিনি মহান মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। উপরন্তু, তিনিই ছিলেন সামরিক বাহিনীর সেই লোক যিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার পক্ষে ঘোষণা ‘পাঠ’ করেছিলেন। ‘বাঙালি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনিই সবার আগে বিদ্রোহ করেন।’

(মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর, গোলাম মুরশিদ, প্রথমা প্রকাশন, জানুয়ারি ২০১০, পৃঃ ৯২)

এই কৃতিত্ব কোনোভাবেই অস্বীকার করা যাবে না, উচিতও নয়। কিন্তু স্বাধীনতার পক্ষে ‘ঘোষণা পাঠ’ করা আর ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ দেওয়া দুটো ভিন্ন বিষয়। দুধ অল্প পরিমানে থাকলে তাতে জল মিশিয়ে বাড়ানো সম্ভব। সুবিধাবাদী পরাজিত রাজনীতিবিদরা সেই পদ্ধতিই অবলম্বন করেছিল নির্লজ্জভাবে, তা না হলে কেন তারা স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিতর্কটি বঙ্গবন্ধু, এমনকি জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায়ও তোলেননি? আজ তারা যে আস্থা ও উগ্রতার সঙ্গে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, তারা এই দাবির কথা তখন কেন জানাননি?

বিএনপির এই দাবি প্রবল হয়ে দেখা দেয় ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর। ক্ষমতা এমন এক জিনিস যার বদৌলতে মিথ্যাকে সত্য ও সত্যকে মিথ্যায় পরিণত করা সম্ভব। আর যদি হয় অর্ধসত্য, তবে তাকে পূর্ণসত্যে পরিণত করা আরও সহজ হয়ে পড়ে।

জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বহু রাজনৈতিক কীটপতঙ্গকে পুনর্বাসিত করার সুযোগ দেওয়ায় সেই কৃতজ্ঞতাবোধের প্রকাশ হিসেবে যেমন, তেমনি আওয়ামী লীগ ও তার প্রতিষ্ঠাতার ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন না করলে বিএনপিকে প্রসারিত ও প্রতিষ্ঠিত করা যাবে না– এই ভাবনা থেকেও জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে দেখানোটা জরুরি হয়ে পড়ে আওয়ামীবিরোধীদের পক্ষে। প্রতিটি দলেরই দরকার হয় একজন আইকনিক ব্যক্তিত্ব, বা কাল্টফিগার। জিয়াউর রহমানের তিলোপম ব্যক্তিত্বকে তাই তাল বানানোর চেষ্টা করেছে তারা। কিন্তু তারা আন্দোলন ও ইতিহাসের ধারাবাহিকতার অনিবার্য ফলাফল অস্বীকার করে স্বেচ্ছাচার দিয়ে ইতিহাস গড়তে চেয়েছে।

ইতিহাসে স্বেচ্ছাচারের জায়গা অল্পকালের জন্য হলেও নিরপেক্ষ ইতিহাস রচনায় এর কোন স্থায়ী জায়গা হয় না। ঘটনার যৌক্তিক পারম্পর্য ও শৃঙ্খলা ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে অনিবার্য এক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে কাজ করে। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ইতিহাসের দিকে পেছন ফিরলে দেখতে পাব ১৯৬৩ সাল থেকে শেখ মুজিব ধাপে ধাপে পূর্ব বাংলার স্বাধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন গড়ে তোলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে যদি এই কালক্রমিক আন্দোলন না থাকত তাহলে ২৬ মার্চে যে কেউ এসে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেই দেশ যে স্বাধীন হত না, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকি আন্দোলনের এই দীর্ঘ ইতিহাস না থাকলে স্বয়ং শেখ মুজিবও হঠাৎ করে ২৬ মার্চে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেও দেশ স্বাধীন হত কি না, সন্দেহ।

স্বাধীনতার পক্ষে দেশবাসীকে তিনি ধাপে ধাপে উদ্বুদ্ধ ও প্রস্তুত করে তুলেছিলেন বলেই সেটা সম্ভব হয়েছে। সুতরাং কেউ একজন এসে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন বলেই দেশ স্বাধীন হয়নি। ইতিহাসের ঘটনাস্রোত ও বঙ্গবন্ধু পরস্পর এমন অবিচ্ছিন্নভাবে স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে গিয়েছেন যে সেখানে শেখ মুজিব ছাড়া আর কারও পক্ষে সেই স্বাধীনতা ঘোষণা করা সম্ভবই ছিল না। যদি তা-ই হত, তা হলে শেখ মুজিব ছাড়াও তো তখন অনেক নেতাই ছিলেন, তারা কি সেটা করতে পেরেছিলেন?

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এই যে, রাজনৈতিক চর্চা ও আন্দোলন থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন কোনো ব্যক্তির পক্ষে তা ছিল আরও অসম্ভব। সুতরাং জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে দাবি করাটা স্রেফ গায়ের জোরে চাপিয়ে দেওয়া একটা ব্যাপার ছাড়া আর কিছুই নয়।

গবেষক গোলাম মুরশিদ জানাচ্ছেন যে, “বস্তুত, ফেব্রুয়ারি মাঝামাঝি তিনি (বঙ্গবন্ধু) তাজউদ্দীন ও কামাল হোসেনকে দিয়ে স্বাধীনতা ঘোষণার একটি খসড়া লিখিয়ে নেন।”

(গোলাম মুরশিদ, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর’, প্রথমা, জানুয়ারি ২০১০, পৃ-৬৭)

সেই সময়ের আন্দোলনের ইতিহাসটি যারা জানেন তারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে, ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতার পর “পূর্ব পাকিস্তান চলতে শুরু করে মুজিবের আদেশে। কেবল আওয়ামী লীগের নয়, তিনি সবার নেতায় পরিণত হন ততদিনে। তাঁর নেতৃত্বে দেশের জনগণ আন্দোলনে ফেটে পড়লেন।”

(গোলাম মুরশিদ, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর’, প্রথমা, জানুয়ারি ২০১০, পৃ-৬৭)

বঙ্গবন্ধু তখন রাজনৈতকি ব্যক্তিত্ব হিসেবে এতই প্রবল ও পরাক্রমশালী হয়ে উঠেছিলেন যে, একটি রাষ্ট্র তখন চালিত হচ্ছে সশস্ত্র শাসকদের দ্বারা নয়, বরং নিরস্ত্র বিরোধী দলের একজন নেতার নির্দেশে। এমন ঘটনা ইতিহাসে খুবই বিরল। তাঁর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে তো তিনি স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, যাকে স্বাধীনতার ঘোষণা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না:

“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।”

“এর পর থেকে সরকারী অফিস-আদালত, ব্যাংক, সমুদ্রবন্দরের কাজ– সবই চলতে থাকে তাঁর হুকুম মতো।”

(গোলাম মুরশিদ, মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর, প্রথমা, জানুয়ারি ২০১০, পৃ-৭২)

বঙ্গবন্ধুর সমকালে আরও অনেক নেতাই ছিলেন, ন্যাপ ও বাম দলগুলোর নেতারা ছিলেন, তাদেরও বঙ্গবন্ধুর হুকুমের বাইরে কিছুই করার ছিল না। এরকম অবস্থায়, যিনি জনপ্রতিনিধি নন, নিতান্তই একজন সামরিক কর্মকর্তা, তিনি এসে হুট করে স্বাধীনতা ঘোষণা করবেন– এটা উদ্ভট কল্পনাশক্তি ছাড়া সম্ভব নয়।

রাজনীতির প্রবল ব্যক্তিত্ব বঙ্গবন্ধুর পরিবর্তে সেকালে জিয়াউর রহমানের মতো অজ্ঞাত ও অপরিচিত এক লোককে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগটা বিএনপি গ্রহণ করেছে মূলত চট্টগ্রামের ‘স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ থেকে প্রচারিত ঘোষণাটিকে পুঁজি করে। কিভাবে সম্ভব হয়েছিল সেই ঘোষণাটি? কোনো সামরিক লোক নয়, বরং স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করার কথা বেতার কেন্দ্রের কর্মীরাই প্রথম ভেবেছিলেন জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে। ঘোষণা তো বঙ্গবন্ধু ২৭ মার্চের আগেই দিয়ে রেখেছেন তাঁর বক্তৃতায়, মুক্তিযোদ্ধা মঈদুল হাসান সে কথা স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন তার ‘মূলধারা ’৭১’ বইয়ে: “ঢাকার বাইরে এ কথা রাষ্ট্র হয়ে পড়ে যে, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন এবং পাকিস্তানী হানাদারদের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিরোধ সংগ্রামের নেতৃত্ব দান করে চলেছেন।”

(মঈদুল হাসান, ‘মূলধারা ‘৭১’, ইউপিএল, জানুয়ারি ২০১৬ পৃ: ৪)।

কিন্তু বেতারের কর্মীরা বঙ্গন্ধুর ‘স্বাধীনতার ডাক’ জনসাধারণে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য জিয়াউর রহমানকে বেছে নিয়েছিলেন। শুধু এই কারণে বিএনপির উৎসাহী নেতা ও কর্মীরা জিয়াকেই স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে দেখাতে চান। জিয়াউর রহমান কি শেখ মুজিবের আগে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন? ২৭ মার্চের যে ঘোষণাটির কথা বলা হয় সেটাও তো নিজে স্বেচ্ছায় গিয়ে ঘোষণা করেননি জিয়াউর রহমান, যদিও জানি যে, “বাঙালি সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের মধ্যে তিনিই সবার আগে বিদ্রোহ করেন।”

(গোলাম মুরশিদ, ‘মুক্তিযুদ্ধ ও তারপর’, প্রথমা, জানুয়ারি ২০১০, পৃ-৯২)

এবং এও সত্য যে, “মেজর জিয়ার ঘোষণা এবং বিদ্রোহী ইউনিউগুলোর মধ্যে বেতার যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা হবার ফলে এই সব স্থানীয় ও খণ্ড বিদ্রোহ দ্রুত সংহত হতে শুরু করে।”

(মঈদুল হাসান, ‘মূলধারা ‘৭১’, ইউপিএল, জানুয়ারি ২০১৬, পৃ-৭)

চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রের তখনকার কর্মকর্তা বেলাল মোহাম্মদ জানিয়েছেন, জিয়াউর রহমানকে ডেকে নিয়ে এসে তাঁরা স্বাধীনতার ঘোষণাটি পাঠ করান। মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী কারোর লেখা স্মৃতিচারণেই এ কথা বলা হয়নি যে, তিনি নিজে যেচে গিয়ে চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্রে ঘোষণাটি দিয়েছেন।

যেহেতু ২৫ মার্চের আক্রমণটি ছিল আকস্মিক যা আওয়ামী লীগের নেতারা কেউ কল্পনাও করেননি, ফলে প্রতিরোধের ক্ষেত্রে পরিকল্পনার কোনো নিপুণতা ছিল না, ছিল না যথাযথ সমন্বয়ও। বেতার কেন্দ্রের ক্ষেত্রেও তা-ই হয়েছিল। এমনকি যেসব ভাষ্য তখন পাঠ করা হত সেগুলোও খুব গোছানো ও সুশৃঙ্খল ছিল না। যে কারণে মেজর জিয়া তাঁর প্রথম বক্তৃতায় নিজেকে ‘রাষ্ট্রপ্রধান’ বলে ঘোষণা করে ফেলেছিলেন। বোঝাই যায়, এটি স্বেচ্ছাকৃত নয়, অনিচ্ছাকৃত ভুল।

মঈদুল হাসান তাঁর বইয়ে জিয়ার ঘোষণাটি সম্পর্কে বলেছেন, “স্বল্পকালের জন্য চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র যখন বিদ্রোহীদের দখলে আসে, তখন ২৬শে মার্চ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হান্নান এবং ২৭শে মার্চ সন্ধ্যায় ৮ ইবির বিদ্রোহী নেতা মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে স্বাধীন ঘোষণা করেন। মেজর জিয়া তাঁর প্রথম বেতার বক্তৃতায় নিজেকে ‘রাষ্ট্রপ্রধান’ হিসেবে ঘোষণা করলেও, পরদিন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পরামর্শক্রমে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার কথা প্রকাশ করেন।”

(পৃ: ৫-৬)

মঈদুল হাসানের এই বক্তব্যের সঙ্গে আমরা মিল খুঁজে পাব জিয়াউর রহমানের সেই ঘোষণাটির:

“On behalf of our great national leader, the supreme commander of Bangladesh Sheikh Mujibur Rahman do hereby proclaim the independence of Bangladesh. It is further proclaimed that Sheikh Mujibur Rahman is the solo leader of the elected representatives of 75 million people of Bangladesh. I therefore appeal on behalf of our great leader Sheikh Mujibur Rahman to the government of all the democratic countries of the world specially the big world part and neighboring countries to take effective steps to stop immediately the awful genocide that has been carried on by the army of occupation from Pakistan. The legally elected representatives of the majority of the people as repressionist. It is cruel joke and contradiction in terms which should be fool none. The guiding principle of a new step will be first neutrality, second peace and third friendship to all and anomity to none. May Allah help us. Joy Bangla.”

বঙ্গবন্ধুর পক্ষে জিয়াউর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতার ঘোষণার পাঠ শোনার জন্য উপরের লিংকে ক্লিক করুন।

জিয়া ও বিএনপির উগ্র, অন্ধ সমর্থকরা, এমনকি দলীয় ইতিহাস লেখকরাও নির্বোধের মতো জিয়াকে স্বাধীনতার ‘ঘোষক’ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নির্দেশে’ কথাটি পুরোপুরি বর্জন করে। অথচ এই ঘোষণাতেই জিয়া স্পষ্ট করে বলেছেন:

“মহান জাতীয় নেতা, বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি।”

এমনকি এই ঘোষণার তৃতীয় বাক্যটিতেও জিয়াউর রহমান আবারও on behalf শব্দযুগল ব্যবহার করে বলেন:

“অতএব আমাদের মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে…”

জিয়াউর রহমান কর্তৃক এই ঘোষণা পাঠে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানের কৃতিত্বই একমেবাদ্বিতীয়তম। জিয়াউর রহমান এখানে শেখ মুজিব কর্তৃক স্বাধীনতা ঘোষণাপত্রের পাঠক মাত্র। টেলিভিশনে সংবাদ পাঠক (News caster) যেমন পাঠের সূত্রে সংবাদের নায়ক হতে পারেন না, বরং নিছকই পাঠক, তেমনি জিয়াউর রহমান ঘটনাক্রমে এর পাঠক মাত্র। এমনকি তিনি এর প্রথম পাঠকও নন, কারণ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হান্নান তার আগেই স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন। ফলে পাঠক হিসেবেও তিনি প্রথম নন। আর ঘোষক হিসেবে তিনি প্রথম বা দ্বিতীয়– কোনোটাই নন।

কবিতার আবৃত্তিকার যেমন আবৃত্তির সূত্রে কবিতাটির রচয়িতা বলে নিজেকে দাবি করতে পারেন না, ঠিক একইভাবে জিয়াউর রহমানকে কোনোভাবেই স্বাধীনতার ঘোষক বলা যায় না।

রাজু আলাউদ্দিনলেখক ও সাংবাদিক

৩৩ Responses -- “জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক নন, ঘোষণাপত্রের পাঠক মাত্র”

  1. Alpona

    সব কিছু দেখে শুনে বুঝে একজন স্বাধীনতার ঘোষনা পত্র পাঠদান কারীর প্রতি অবশ্যই আমার আন্তরীক শ্রদ্ধা..কিন্তু স্বাধীনতার ঘোষক বলে মানব কেনো??
    বঙ্গবন্ধুর নামে পাঠ করেছেন তো আর কি ভাবে বললে অবুঝ কতিপয় বাঙ্গালীদের ঘারের ভূত নামবে???

    Reply
    • zaidul haque

      বঙ্গবন্ধুর পক্ষে পাঠ করেছেন এটা শত ভাগ সত্য। সাত কোটি বাঙ্গালীর পক্ষে আর কেউ পাঠ করলেন না । অনেক বড় বড় নেতা ছিলেন। পলিসি মেকার ছিলেন । তারা কেউ পারেন নাই। সুতরাং জিয়ার অবদানকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই।

      Reply
  2. Alpona

    সব কিছু দেখে শুনে বুঝে, একজন স্বাধীনতার ঘোষনা পত্র পাঠদান কারীর প্রতি অবশ্যই আমার আন্তরীক শ্রদ্ধা..কিন্তু স্বাধীনতার “ঘোষক” বলে মানব কেনো?? ??
    বঙ্গবন্ধুর নামে পাঠ করেছেন, তো আর কি ভাবে বললে অবুঝ কতিপয় বাঙ্গালীদের ঘারের ভূত নামবে???

    Reply
  3. ইমরান

    জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক, স্বাধীন ঘোষনা দিতে খুব বেশি কস্ট হয় না, যার কারনে এখানে পাঠক প্রয়োজন নেই!!

    Reply
  4. Banglar Shahenshah Maltimidea

    আমিও এক মত। জিয়া হল বঙ্গবন্ধুর আব্দুল, যেমন আব্দুল আমার জন্য এককাপ চা নিয়া আয়,তাই বলে চার কাপটি কিন্তু আব্দুলের নয়।

    Reply
  5. Faisal Shaheed Shumon

    Mejor Zia was not only a Freedom Fighter but also a great leader. He tried to fill up the crisis when Bangabandhu was absent….Adore u brave LEADER

    Reply
  6. আকতার হোসেন

    পাকিস্তানি মিলিটারিদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে যিনি বা যারা বেতার ট্রান্সমিটার নিয়ে কালুরঘাটে বসিয়েছিলেন এবং যে ট্রান্সমিটারের সাহায্য নিয়ে একাধিক ব্যক্তি ঘোষণাপত্র পাঠ করেছিলেন তাদের নাম নেই অথচ অনেকের মধ্যে একজনের নাম কেন উঠে আসে সেটা সকলেই জানে। রাজু ভাইও সেটা লিখেছেন; ‘প্রতিটি দলেরই দরকার হয় একজন আইকনিক ব্যক্তিত্ব, বা কাল্টফিগার। জিয়াউর রহমানের তিলোপম ব্যক্তিত্বকে তাই তাল বানানোর চেষ্টা করেছে তারা”।
    আর একটু দেখে নেয়া যাক।
    ২৫ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় জনাব এম আর সিদ্দিকীর বাটালি হিলস্থ ‘প্যানোরামা’ বাস ভবনে সংগ্রাম পরিষদ এবং নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এক বিশেষ বৈঠক বসে। বৈঠক চলাকালীন সময়েই ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধুর টেলিফোন ম্যাসেজ আসে ‘Liberate Chittagong / Proceed to Comilla / Takeover the local administration.
    মেজর রফিকের নেতৃত্বে ইপিআর জোয়ানদের একটা ইউনিট ২৫ মার্চ রাত ৮ ৩০ মিনিটের মধ্যেই সি আর বি টাইগার পাস রেস্ট হাউসে অবস্থান নিয়ে কাজ শুরু করেন। ..ডা এম এম এ আতাউর রহমান খান কায়সার ডা জাফর সেনানিবাসে বিভিন্ন বাঙ্গালি অফিসারদের মধ্যে (পূর্বেই যাদের সাথে যোগাযোগ ছিল তাদের সাথে) পুনরায় যোগাযোগ করেন। ..ডিসি হিলে তদানীন্তন ডিসি রমিজউদ্দিন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করন। জহুর আহমদ চৌধুরীর পল্টন রোডস্থ বাসভবন থেকে এম আর সিদ্দিকী, রামগড় কাপ্তাই এবং ইপিআর ক্যাম্পের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায় ইতিমধ্যে তারা কাজ শুরু করে দিয়েছে। কাপ্তাইয়ের ক্যাপ্টেন হারুন জানান যে তিনি তাঁর জওয়ানদের নিয়ে চট্টগ্রাম শহরের অভিমুখে রওনা হচ্ছেন।…২৫ তারিখ রাত বারোটার আগে জহুর আহমদে চৌধুরী সহ অন্যান্যদের নামে সম্বোধন করা বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা বাণী ওয়ারলেস কপি রিসিভ করা হয়।
    It did happen on the 25th March..‘This may be my last message. But carry on the fight until the last killer is driven out and Independence is completely achieved’.. thus 25 March ended with the beginning of the genocide and 26 March dawned with the war of liberation.
    ‘ঢাকায় অবস্থানরত বিশ্বের সাংবাদিকবৃন্দও একাত্তরের ২৫ মার্চ নাগাদ স্ব-শাসনাধীন বাস্তবতাকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন’।
    অন্দরকিল্লায় ছাত্র নেতা মোখতার, রাখাল চন্দ্র বনিক এবং আরো অনেকের উপস্থিতিতে ঘোষণা বাংলায় অনুবাদ করা হয়। তারপর সাইক্লেসটাল কপি সারা শহর বিলি করা হয়।…২৬ মার্চ বেলা ২টায় এম এ হান্নান কালুর ঘাট কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাটি হুবহু পাঠ করে। এই দিন সকালে মেজর জিয়া তাঁর বাহিনী নিয়ে কালুর ঘাটের দিকে রওনা করে। ২৭ তারিখে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে দেয়া ঘোষণার (যেটা ইতিহাসের অংশ) খসড়া লিখে দেন এ কে খান সাহেব।
    ‘স্বাধীনতার মনস্তাত্ত্বিক ভিতটা তাই তৈরি হয়ে গিয়েছিল একাত্তরের মার্চেই, যখন বীর বাঙ্গালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’।
    কাজেই অস্ত্র ধরাটাই সকলের প্রতি নির্দেশ ছিল যার জন্য পুলিশ আনসারদের অস্ত্রাগার লুট হতে শুরু করেছিল ২৫ মার্চের আগেই। ৭ মার্চের ভাষণের যে দিকটা এখনে প্রযোজ্য সেটা হল ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলা এবং যুদ্ধের কৌশল বলে দেয়া হলো যে আমরা হাতে মারবো পানিতে মারবোর। তবে কখন থেকে সেটা অফিসিয়ালি করতে হবে সেটাও ৭ মার্চ ভাষণে আছে। ‘আর যদি একটা গুলি চলে’ ২৫ মার্চে সেই একটা গুলি না চালানোর নির্দেশ অমান্য করায় যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সকলে। ২৫ মার্চ রাতে যখন ইপিআর বা পিলখানায় নির্বিচারে গুলি করে বাঙ্গালি সেপাইদের হত্যা করা হয়েছিল তারাও পাল্টা গুলি চালিয়েছিল সেটাই বিদ্রোহ। রাজারবাগ পুলিশে লাইন যখন রক্তের বন্যায় বইছিল সেখান থেকেও বাঙ্গালি পুলিশ ভাইয়েরা গুলি চালিয়ে প্রতিরোধ করেছে সেটাই বিদ্রোহ। এগুলো মেজর জিয়ার বিদ্রোহের আগেই ঘটেছিল। ৭ মার্চে বাঙ্গালি কর্মচারীরা রেডিও প্রচার বন্ধ করে বেরিয়ে এসেছিল সেটাও ছিল বিদ্রোহ। ২৪ মার্চ ডি আই টি থেকে টেলিভিশন সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছিল সেটাই বিদ্রোহ। সবচেয়ে বড় কথা ১৯ মার্চ জয়দেবপুরে প্রতিরোধ এবং পাকিস্তান মিলিটারির বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা বুলেট ছিল সর্বপ্রথম বিদ্রোহ। ‘জয়দেবপুরের পথ ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’। ২৩ মার্চ পাকিস্তানের পতাকার বদলে বাংলাদেশের নতুন পতাকা উড়ানো হয়েছিল বাংলাদেশের সর্বত্র। একাধিক ইপিআর লাইনে সেদিন বাংলাদেশের পতাকা উড়েছিল। এটাই বিদ্রোহ। সিদ্দিক সালিকের বইতে আছে ২৫ রাতে তারা ওয়ারলেস ইন্টারসেপ করে শুনতে পায় শেখ মুজিব স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন।
    ‘Report began coming in on the morning of 26 March. In Rajshahi the CO Lt Col Shafaqat Baluch acted with lack of judgment. He was not mindful of the 25 percent Bengali inductees in his battalion… ultimately, out of 150 or so Punjabi soldiers at Pabna, all were killed except about 20 who managed to escape back to Rajshahi’.
    ‘পশ্চিম পাকিস্তানি সৈন্যদের সাথে একটা শ-ডাউন এর প্রস্তুতি শেখ নিচ্ছিলেন জানুয়ারি থেকে। এই গুরুত্বপূর্ণ ও অতি পবিত্র কাজের দায়িত্ব দেয়া হয় পাকিস্তান আর্মির অবসরপ্রাপ্ত বাঙালী অফিসার কর্নেল এমএজি ওসমানীর ওপর। তাঁর চাইতে যোগ্যতর ভূমিপুত্র খুঁজে পাওয়া সম্ভব ছিল না। …ওদের মধ্যে তিনি টাইগার বাবা নামে পরিচিত ছিলেন। শেখ তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন তা পালনে ওসমানী লাগামহীন উৎসাহের সাথে লেগে গিয়েছিলেন।… সংক্ষেপে পরিকল্পনাটি ছিল পাকিস্তানী সৈন্যদের মনোবল নষ্ট করে দেয়া, বাঙালী সৈন্যদের অনুগত্য নষ্ট করা, বল প্রয়োগে ক্যান্টনমেন্টগুলো দখল করা..’ জেনারেল টিক্কা খানের দায়িত্ব গ্রহণের আগে (৭ মার্চ ১৯৭১) আমাদের সৈন্যরা ছিল ক্যান্টনমেন্টগুলোতে আবদ্ধ.. অবস্থার আরো অবনতি ঘটে যখন বাঙালী ঠিকাদারেরা তাদের তাজা রেশন সরবরাহ বন্ধ করে দেয় এবং বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়। চিত্রটি ছিল পুরোপুরি বিষাদময়’।
    ‘৫ই আগস্ট তারিখে (১৯৭১) পাকিস্তান সরকারের পক্ষ হইতে “ইষ্ট পাকিস্তান ক্রাইসেসঃ হোয়াট হ্যাপেনড শীর্ষক একটি হোয়াইট পেপার বাহির হয়। এটি একটি বড় আকারের পুস্তক। এই পুস্তকে বলা হয় যে, ২৫/২৬ মার্চের মধ্যরাত্রির পরে আওয়ামী লীগ সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ ঘোষণা করিবার জন্য দিন-ক্ষণ (যিরো আওয়ার) নির্বাচিত করিয়াছিল।

    As promised, Sheikh Mujib did address a rally on 3 March.. every passing day, the Awami League tightened its grip on administration in East Pakistan. The de facto position was that all organs of the East Pakistan government reported to Sheikh Mjuib’s headquarters for instruction. Even the Inspector General of Police had stopped coming to the Martial Law headquarters, but had started reporting to Sheikh Mujib’s residence and received instruction from there. Shafil-ul Azam, the Chief Secretary.. expressed his inability to carry out any instruction (from the Martial Law headquarters)’
    Mujub’s house in the Dhanmandi area of Dhaka became the focal point of all political activity, Responsibilities were delegated for all functions.. Even the matter of troops, it became clear to us at this stage that the Bengali troops would not shoot at Bengali crowds. In fact, it seemed obvious that on a clarion call from Sheikh Mujib, they would even take up arms in his support… it appeared that there was a change in the President’s policy. He was replacing the ‘doves’ with the ‘hawks’…. The new plan, prepared by Farman and myself (Khadim Raja) was named ‘Searchlight’.
    আগ্রহী পাঠাকদের নিচের বইগুলো পড়তে অনুরোধ করবো। এই সমস্ত বই থেকে কিছু উদ্ধৃতি উপরে উল্লেখ্য করা হয়েছে।
    ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর / আবুল মনসুর আহমেদ, ‘প্রতিরোধের প্রথম প্রহর’ / মেজর রফিকুল ইসলাম, পাকিস্তান যখন ভাঙল (অনুবাদ) / লে জে গুল হাসান, একাত্তরের বিজয় গাথা / মুনতাসীর মামুম (সম্পাদিত), বাংলাদেশের অভ্যুদয়.. / রেহমান সোবহান, হৃদয়ে মুক্তিযুদ্ধ রণাঙ্গন নেত্রকোণা / আবু আককাস আহমেদ,
    Witness to Surrender / Siddiq Salik, Voice of Thunder / Obaidul Huq, a stranger in my own country.. Mj Gen Khadim Hussain Raja

    Reply
  7. মুজিবুর রহমান।

    জিয়াউর রহমান নামে কেউ ছিলেন না ! এইটা লিখে দিলেইতো ল্যাটা চূকে যায়। ২৬ শে মার্চ যারা দেখেছে তাঁরাই শুধু এই ঘোষনার তাৎপর্য বুঝবে।

    Reply
  8. Rashed Jahan

    “ক্ষমতা এমন এক জিনিস যার বদৌলতে মিথ্যাকে সত্য ও সত্যকে মিথ্যায় পরিণত করা সম্ভব। আর যদি হয় অর্ধসত্য, তবে তাকে পূর্ণসত্যে পরিণত করা আরও সহজ হয়ে পড়ে”

    ঠিক বলেছেন। সেটাই তো এখন দেখতে পাচ্ছি সর্বত্র 🙂

    Reply
  9. শামস আরেফিন

    তাহলে ইতিহাসের বাসরঘরে কোন ছিদ্রপথে বিতর্কের এই বিষাক্ত কুটিল ভুজঙ্গ প্রবেশ করেছে? মূলত রাজনীতি, যার রক্তে রয়েছে প্রতারণার বিষ। যে রাজনীতি মহান কোনো আদর্শ থেকে উৎসারিত হয় না, তা আমাদের ইতিহাস ও ঘটনার বিকৃতির মাধ্যমে বিপথগামী করে তোলার জন্য সব আয়োজন নিয়ে হাজির হয়।

    Reply
  10. সরকার জাবেদ ইকবাল

    বঙ্গবন্ধুর ভাবমূর্তিকে নষ্ট করেছে আওয়ামী লীগ (তাঁকে দলীয়করণ করে), আর জিয়ার চরিত্রকে নষ্ট করেছে বিএনপি (তাঁকে বড় করতে গিয়ে)। অথচ, আমাদের মুক্তিযুদ্ধে দু’জনেরই রয়েছে অনন্য ভূমিকা ও অবদান।

    আমি মান্না দে’র গানগুলো ভালোই গাইতে পারি। কিন্তু নিজেকে মান্না দে বলে দাবী করি না, আর আমাকে কেউ তা বলেও না। হা: …হা:…হা:..হা: …………

    Reply
  11. enayatullah

    ঘোষণা মানে কী? ঘোষণা তো তাই যা সরাসরি মানুষের সামনে অথবা কোন মাইক-মিডিয়া ব্যবহার করে মানুষের সামনে পেশ করা হয়। এর বাইরেও রয়েছে একরম ঘোষণা যা মানুষের সামনে পাঠ করা হয়, এসব হাস্যকর দাবীর কী অর্থ?!

    বঙ্গবন্ধুকে তার মর্যাদা দেওয়া হোক। কিন্তু জিয়ার মর্যাদাও টেনে নিয়ে তাকে প্রদান করতে হবে কেন?

    আমাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।

    Reply
  12. রুখসানা কাজল

    ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিই যে জিয়াউর রহমান পঠিত এই ঘোষণাটি আমি শুনেছি শৈশবকাল থেকে। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি র সব চেয়ে বড় ধৃষ্টতা হলো একটি প্রমাণিত সত্যকে মুছে দেওয়া। বাঙালীর মুক্তিযুদ্ধকাল শুরু হয়েছিল অনেক আগে থেকে। বাঙালীর পক্ষে প্রতিবাদ, আন্দোলন,কারাদন্ড ভোগ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহামান পরীক্ষিত নেতা হয়ে উঠেছিলেন। অর্থাৎ বাঙ্গালী জাতি সুনির্দিষ্টভাবে তাদের নেতাও নির্বাচিত করে নিয়েছিল। আর ষড়যন্ত্রের ইংগিত পেয়ে বঙ্গবন্ধু কিন্তু ৭ই মার্চের ভাষণে বলে দিয়েছিলেন, আমি যদি হুকুম দেবার না পারি—- ।
    একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে জিয়াউর রহমান সন্মানীয়। কারো কারো মত তিনি কিন্তু পাকিস্তান বাহিনীর সেবক হয়ে যাননি। কিন্তু তিনি কখনোই স্বাধীনতার ঘোষক নন, কেবল একজন দেশপ্রেমিক পাঠক মাত্র।
    সত্য সবসময়ের জন্যেই সত্য।

    Reply
    • এম ইউ আহমেদ

      মুজিব কি জিয়ার কাছে কোন ঘোষণা পাঠিয়েছিল ? মুজিবের পক্ষে জিয়া ঘোষনা দিয়েছে স্ট্রাটেজিক কারণে।

      এটা জিয়ার বুদ্ধিমত্তার পরিচয়, মুজিবের না। আর জিয়ার আগে কেউ কোন ঘোষণা দিয়ে থাকলে তাহলে জিয়ার আর ঘোষণা দেওয়ার দরকার পড়ত না।

      জিয়ার ঘোষণাই প্রমাণ করে এর আগে কেউ তেমন কোন ঘোষণা দেয় নাই যা কাজের ছিল।

      Reply
      • Raju

        জিয়াকে ডেকে নিয়ে এসে ঘোষনা টা পাঠ করানো হয়েছিলো কারণ যদি কোন সেনা অফিসার দিয়ে পাঠ করানো যায় তাহলে পূর্ব পাকিস্তানের বা বাংলার সৈনিকরা দেশ মাতৃকার জন্য যুদ্ধ করবে।

  13. Md. Abdul Quddus

    If we do not understand the difference between the meaning of “proclamation” and “reading out” then we live in the fool’s paradise. But history will follow in it’s own course.

    Reply
  14. লতিফ

    জিয়াকে ‘ঘোষণাপত্রের পাঠক’ বলাটাও ইতিহাস বিকৃতি। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পঠিত হয়েছিল ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠার দিনে। সেখানে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রদত্ত ঘোষণাটি অনুমোদন দেয়া হয়েছিল পরে যা সংবিধানের অংশে পরিণত হয়। জিয়া সহ অন্যরা যা কিছু ঘোষণা দিয়েছেন তার রাজনৈতিক গুরুত্ব থাকতে পারে, কিন্তু কোন আইনগত অনুমোদন না থাকায় এগুলো সবই আইনের দৃষ্টিতে অপ্রাসঙ্গিক।

    Reply
  15. Md.Abdul Matin

    ১৯৭১ সালের আগে জিয়াকে কি কেউ চিনতো? আমাদের স্বাধীনতা কি ১৯৭১ সালে শুরু হয়েছিল নাকি তারও আগে ? স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে জিয়াকে টেনে এনে যারা মুচকি হেসে ঢেকুর তোলেন তারা হলেন রাজনীতিতে পরগাছা। উনিতো কখনো পাক-শাসকদের বিরাগভাজন হননি। বরং জিয়াকে তারা তাদের লোক ভাবতেন। আর শেখ মুজিব ১৮ বছর জেল খেটেছেন পাকিদের হাতে, কেন। যারা এখন ঘোষক বিতর্কের জন্ম দিয়ে চলেছেন তাদের কি বলবেন ? ভিলেন? নিমকহারাম ? যে জাহি মীর জাফর হয়, রাজাকার আলবদর হয়, তারা সবই পারে। জিয়াসমর্থক লোক রাজাকরপ্রিয় হয় কি করে? আদর্শিক মিল না হলে বন্ধুত্ব হয়?

    Reply
  16. MD SELIM RAHMAN

    Wonderful! This is the clarification. History would have been writing by it’s own merits. A lot of recorded documents are for the evidence. Only way to know a history is to read the books which is written on the base of those historical documents. These books are open to all including BNP.

    Reply
  17. সৈয়দ আলি

    জিয়াউর রহমান সম্পর্কে আমার কোন অনুরাগ নেই। তবে যখন আওয়ামী লীগের সেবকেরা জিয়ার ঘোষনাটিকে নিছক ‘পাঠ’ বলে অভিহিত করে তখন ইতিহাসের বিশুদ্ধতা রক্ষার্থে এর জবাব দিতেই হয়। তখনো সেনাবাহিনীর একজন অফিসার হিসেবে জিয়া যে নিজ নামে ঘোষনাটি ‘পাঠ’ করে কী সাহসের পরিচয় দিয়েছিলো তা’ আওয়ামী চোখে কখনো ধরা পড়বেনা। জনগনকে কামানের মুখে ফেলে কেউ সীমান্ত অতিক্রম করে, কেউবা মাড়-দেয়া পাঞ্জাবি পায়জামা পড়ে যা দেখিয়েছেন তা নিকষ ভীরুতা। যে কোন সৎ মানুষ স্বীকার করবে, জিয়ার ঘোষনাই বাংলাদেশের মানুষদের হতাশা ও মুষড়ে পড়া থেকে পূণঃরুত্থান ঘটিয়েছে।
    নব্য ইতিহাসবিদদের নয়া ইতিহাস এখনো বাংলাদেশের মানুষ গ্রহন করেনি। করবে বলেও মনে হয় না।

    Reply
      • সৈয়দ আলি

        হে হে দাদা বড্ড লেগেছে? সিগনিফিকেন্ট লাইফ তো হয় শুধু আওয়ামী লীগের চাকরবাকর হলে। তা আর হতে পারলাম কই? আপনারা সিগনিফিকেন্ট লাইভের অধিকারী হোন, দোয়া করি।

    • Munaz Tanzil

      আলি সাহেব, পরিষ্কারভাবেই বোঝা যাচ্ছে জিয়াউর রহমানের সম্পর্কে আপনার সামান্যতম অনুরাগ নেই। আপনি একজন নিরপেক্ষ সুশীল।

      Reply
      • সৈয়দ আলি

        আমি সত্য ইতিহাসে অনুরক্ত। যে ইতিহাস এখানে আলোচিত হচ্ছে, তা আমার ইতিহাস, আমার অংশ নেয়া ইতিহাস, ভাই। সুশীলরা তো মুজিব কোট পড়ে, আগে অবশ্য ময়লা ঢোলা পাঞ্জাবি-পায়জামা পড়ে কুঁড়েঘরের গুন গাইতো।

    • আসহাব আহমেদ

      জিয়ার ঘোষনা বা পাঠ যাই বলি না কেন আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে অবশ্যই এর তাৎপর্য রয়েছে। এই ঘটনাকে অস্বীকার করা মানে ইতিহাসকেই অস্বীকার করা। আমরা হয়ত দলীয় দৃষ্টিকোন হতে এই সত্যকে মানতে পারি না। কিন্তু অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। মহান মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাস এ দেশের মানুষরাই বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়ে স্বাধীনতাকে তরান্বিত করেছে। কারো নেতৃত্বকে খাটো করে দেখার উপায় নাই। কারো একক নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। কারন বঙ্গবন্ধুর অনুপস্হিতিতে যারা যুদ্ধ চালিয়েছেন তাদের প্রাপ্য সম্মান দিতেই হবে।

      Reply
      • মাসুদ আনোয়ার

        অবাক লাগে স্বাধীনতার ঘোষক যখন রাজাকারকেই প্রধানমন্ত্রী বানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—