Feature Img

farhana-fআমাদের দেশের মত তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশের দারিদ্র্য, দুর্নীতি, নিরক্ষতা, পশ্চাদপদতার অবসান ঘটিয়ে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ জনসম্পদ গড়ার প্রধান কারিগর বলেই একজন শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা সুনিশ্চিতকরণ, সেইসাথে নিজস্ব যোগ্যতা ও দক্ষতার আলোকে সৃজনশীল পদ্ধতির অনুসরণ, যথাযথ শিখন-সামগ্রীর প্রদর্শন ও সর্বোপরি বাস্তবধর্মী বিষয়ভিত্তিক উদাহরণ ও দৃশ্যকল্প সংযোজন, শিক্ষার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে যোগ করতে পারে একটি নতুন মাত্রা। যা কি-না বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তথ্য-প্রযুক্তির জন্য নির্ধারিত সিলেবাসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এ কথা আমাদের স্বীকার করতেই হবে যে, প্রযুক্তি আধুনিক যুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে, বিশেষ করে কমপিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি আধুনিক যুগের এক অপরিহার্য উপাদান এবং সারা বিশ্বে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা ও চর্চার এ গুরুত্ব অনুধাবন করে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ উল্লিখিত তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে:
১. “[শিক্ষানীতিতে উল্লিখিত] কর্মযজ্ঞের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষায় আন্তর্জাতিক মান ও গুণ সম্পন্ন শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির প্রচেষ্টা চালানো।
২. তথ্যপ্রযুক্তিকে শুধুমাত্র কমপিউটার বিজ্ঞানের মাঝে সীমিত না রেখে মোবাইল ফোন, রেডিও, টেলিভিশন, নেটওয়ার্কিং কিংবা সকল তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের ব্যাপক অর্থে ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্বারোপ।” (- জাতীয় শিক্ষানীতি, ২০১০,পৃ ৩১)

উল্লিখিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রাথমিক ধাপ হিসেবে মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরের পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষা (নতুন শিক্ষা কাঠামো অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮ বছর অর্থাৎ ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে) স্তরে বাধ্যতামূলক তথ্যপ্রযুক্তির দ্বার উন্মুক্ত করা হয়েছে। নিঃসন্দেহে এ পদক্ষেপ প্রশংসনীয়, কিন্তু একইসঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার ক্ষেত্রে যথার্থ ফলাফল লাভের পথে তৈরি করে নানাবিধ সমস্যা। ঢাকা শহরের তিনটি স্বনামধন্য স্কুলের নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের উপর জরিপ চালিয়ে লক্ষ্য করা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিজ্ঞানের চেয়ে বাণিজ্যের শিক্ষার্থীরা কমপিউটারকে চতুর্থ বিষয় হিসেবে কোর্স গ্রহণে আগ্রহী। স্বচ্ছন্দে নম্বর তোলাই এ বিষয় নির্বাচনে প্রধানতম উদ্দেশ্য। বিজ্ঞানের যে সকল শিক্ষার্থীরা কমপিউটার কোর্স গ্রহণের প্রতি অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে, তাদের মতামত অনুযায়ী কমপিউটারে বর্তমান সিলেবাসের বিষয়গুলো বেশিরভাগই তত্ত্বীয়। যে তথ্যগুলো ভবিষ্যতে কমপিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে কোনো কাজেই আসে না। অপ্রতুল কমপিউটার, দক্ষ শিক্ষকের অভাব, তত্ত্বীয় ক্লাসের সাথে ব্যবহারিক ক্লাসের অসংগতি, তথ্যপ্রযুক্তির বাস্তব-প্রয়োগ বিষয়ে শিক্ষকদের অজ্ঞতা ও সর্বোপরি ব্যবহারিক নয় তত্ত্বীয় জ্ঞান-নির্ভর সিলেবাস অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের কমপিউটার কোর্স নির্ধারণে অনাগ্রহী করে তোলে। কাজেই দেখা যায়, প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ কেবলমাত্র পাঠ্যবইয়ে বিষয় অন্তর্ভুক্তকরণের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে না। তত্ত্বীয় জ্ঞান কমপিউটার সম্পর্কে কিছু মৌলিক ধারণা প্রদান করে – এ কথা সত্য। কিন্তু আমাদের দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রচলিত বাংলা ও ইংরেজি – এই দুই মাধ্যমের সিলেবাস তুলনা করে দেখবেন আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে। বলছি না যে, সিলেবাসে আমূল পরিবর্তন আনতেই হবে, কারণ পাশ্চাত্যের সাথে তুলনা করে আমূল পরিবর্তন আমাদের চলমান শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোয় আনা যাবে না সহজেই। যা করা সম্ভব তা হল, বাস্তব-প্রয়োগভিত্তিক সিলেবাস প্রণয়ন করা এবং তত্ত্বীয় জ্ঞানের পাশাপাশি হাতে-কলমে ব্যবহারিকের মাধ্যমে তত্ত্বীয় জ্ঞানের অনুশীলন যা কি-না ভবিষ্যতে আইসিটি বিষয়ে দক্ষ জনবল তৈরিতে সাহায্য করবে। এ সমস্যা সমাধানের পথে অনেক বাধার একটি হল শিক্ষকের বেতন। এটা একটা বাস্তব সমস্যা। একজন আইসিটি বা বিজ্ঞানের শিক্ষক ভালো বেতন না পেলে মানসম্মত শিক্ষা ও ক্লাসরুম-ডেলিভারি আশানুরূপ হবে না। শিক্ষক যদি মাস-কাবারি বেতনে সংসার না চালাতে পারেন, তাহলে তিনি মন দিয়ে পড়াবেন কীভাবে? পত্রিকান্তরে পড়লাম, ভারতীয় এক স্কুলশিক্ষকের বেতন ৩৫০০০ টাকা; এর সাথে শুধু তুলনা করুন আমাদের স্কুলের শিক্ষকের বেতন – কত আর, হাজার আষ্টেক কিংবা তার একটু বেশী? বেতন ব্যবস্থা উন্নত না করে কোচিং ব্যবসা কীভাবে বন্ধ হবে?

২০১০ শিক্ষানীতিতে বর্তমানের অনেক সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে বেশ কিছু যুগোপযোগী উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার আলোকে সুচিন্তিত কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করতে পারলে এরকম অনেক সমস্যারই বাস্তব সমাধান মিলবে, আশা করা যায়। কিন্তু বেড়ালের গলায় ঘন্টি দেবে কে? লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বলা এক কথা, কিন্তু তার বাস্তবায়নের কর্মপদ্ধতি প্রণয়ন আরেক কথা – যা লেখা হয়েছে সেটা করে দেখানোর গ্যারান্টি কি আছে?

ফারহানা মান্নান: লেখক এবং চিত্রশিল্পী ।

১৬ Responses -- “মানসম্মত আইসিটি শিক্ষার গ্যারান্টি কোথায়?”

  1. shishir

    আমি আপনার সাথে একমত হতে পারলাম না ।
    ১ । আপনার মাধ্যমিক ও ঊচ্চমাধ্যমিক কমপিউটার বিষয়ের সিলেবাসের উপরে কতটুকু ধারনা আছে আমার জানা নেই ।
    আপনার মন্তব্যগুলো বেশির ভাগই সঠিক নয় ।
    কমপিউটার বিষয়ের সিলেবাস যথেষ্ট সমৃদ্ধ — তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক উভয়ক্ষেত্রেই ।
    তবে উপযুক্ত শিক্ষক ও ল্যাব না থাকায় চর্চা ভালোভাবে হয়না ।
    ২। ঊচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞানের সব বিষয়ি তত্ত্বীয় , এটা শুধু কমপিউটারের ক্ষেত্রে নয় ।
    ৩। ভবিষ্যতে কমপিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে কোনো কাজেই আসে না একথাও সত্য নয় ।
    বরঞ্ছ ঊচ্চমাধ্যমিক কমপিউটার বিষয়ের ব্যবহারিক সিলেবাস পুরোপুরি শেষ করলে , সরকার তার উপরে অনায়াসেই
    ডিপ্লোমা সনদ দিতে পারেন ।
    ৪ । ঊচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞানের ছাত্ররা এই বিষয় নিতে চায় না , তার মূল কারন হল — জীববিজ্ঞান বিষয় না নিলে ,
    অনেক বিষয়ের স্নাতক শ্রেণীতে ভর্তি হওয়া যায় না ।
    ৫ । আর এই বিষয়ের বর্তমান সিলেবাসের গুরুত্ব নেই , সেটাও ঠিক নয় । ঊচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞানের ছাত্ররা ডিজিটাল
    ম্যাথ করে দ্বিতীয় বর্ষে , আর কমপিউটার বিষয়ের ছাত্ররা তা করে প্রথম বর্ষেই ।
    ৬ । আর ডেটাবেজ , এপ্লিকেশন প্রোগ্রামের ধারনা তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক সিলেবাসে যথেষ্টই রয়েছে ।
    ( হ্যা এটা ঠিক , বেতন কাঠামোর পরিবর্তন না ঘটলে উপযুক্ত তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক শিক্ষক পাওয়া সহজ হবেনা কখনই ।)

    Reply
  2. জামান

    কম্পিউটার বিষয়ে যারা পারদর্শী তাদের কোন প্রমোশন/পদোন্নতি কম হয়, তাদেরকে অনেকে ভাবে কিছু জানে না । ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার জন্য যারা প্রযুক্তি ব্যবহার করতে চায় তাদের চাকুরি খন্ডকালিন/চুক্তিভিত্তিক (স্থায়ী খুবই কম) । আর শিক্ষকতা একটি মহান পেশা তাদেরকে ন্যায্য পাওনা/বেতন দেয়া হয় না, বিষয়টি অতীব দুঃখজনক। তাদের প্রাইভেট/টিউশন/কোচিং অবৈধ কিন্তু অন্য যারা প্রাকটিস করে তাদেরটা দেখার মতো কেউ নেই ।

    ধন্যবাদ

    Reply
  3. aklima sharmin

    খুবই যৌক্তিক কিছু কথা তুলে ধরেছেন, ধন্যবাদ।

    আমি খুব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যদি আমাদের দেশের শিক্ষকদের বেতনের মান উন্নত করা হয় তাহলে আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেক সমস্যারই সমাধান সম্ভব।

    Reply
  4. Tanveer Rahman

    “”ঢাকা শহরের তিনটি স্বনামধন্য স্কুলের নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের উপর জরিপ চালিয়ে লক্ষ্য করা গেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিজ্ঞানের চেয়ে বাণিজ্যের শিক্ষার্থীরা কমপিউটারকে চতুর্থ বিষয় হিসেবে কোর্স গ্রহণে আগ্রহী। স্বচ্ছন্দে নম্বর তোলাই এ বিষয় নির্বাচনে প্রধানতম উদ্দেশ্য। বিজ্ঞানের যে সকল শিক্ষার্থীরা কমপিউটার কোর্স গ্রহণের প্রতি অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে, তাদের মতামত অনুযায়ী কমপিউটারে বর্তমান সিলেবাসের বিষয়গুলো বেশিরভাগই তত্ত্বীয়। যে তথ্যগুলো ভবিষ্যতে কমপিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে কোনো কাজেই আসে না।””
    ইস্কুল জীব্ন থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল কমপিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার, যার ফলে এইচ এস সি তে হায়ার মেথ নিলাম মুল কোর্স কিন্তু চতুর্থ বিষয় নিয়ে সমস্সা হলো। কারন যতই কমপিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ইচ্ছা থাকুক এতাও মাথায় রাখতে হত যে যদি কমপিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ না পাই তাহলে বিজ্ঞানের অন্য শাখায় পড়তে হবে যেখানে জীববিজ্ঞান দরকার। তখন হিসাব করে দেখেছিলাম জীববিজ্ঞান না পরলে বিজ্ঞানের প্রায় ২০টি শাখা আমার জন্য বন্ধ হয়ে যায়। তাই কমপিউটার এর থেকে জীববিজ্ঞান আমার কাছে প্রাধান্য পায়। তাই আমার কাছে মনে হয় “”কমপিউটারে বর্তমান সিলেবাসের বিষয়গুলো বেশিরভাগই তত্ত্বীয়। যে তথ্যগুলো ভবিষ্যতে কমপিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে কোনো কাজেই আসে না”” এটা যেমন একটা কারন তার পাশাপাশি কমপিউটার এর সীমিত পরিসর আরেকটা প্রধান কারন।

    Reply
  5. rasel

    অসাধারণ বিশ্লেষণ,ধন্যবাদ লেখককে। অনেক সুন্দর করে বিশ্লেষণ করেছেন, আশা করি সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টির উপর নজর দিবেন।

    Reply
  6. আরাফাত আহমেদ সোহাগ

    আপনার লেখার সাথে একমত হতে পারলাম না । কারণ আপনি তো ক্ষুধার রাজ্যে গদ্যময় তৃতীয় বিশ্বের কাহীনি শোনাচ্ছেন । আপনার কথায় গা ভাসালে তো আমার পিতাকে আজকেই ত্যাজ্য করতে হয় । দেখুন আমরা আমাদের একটা ভাল ভবিষ্যত তখনই প্রত্যাশা করব যখন দেখব যে আমরা কষ্ট করতে শিখেছি । আর আপনি যে ওই তত্ত্বীয় আর ব্যবহারিক সমন্বয়ের কথা বললেন সেটা আপনি ৩৫০০০ ই পান আর ৯৫০০০ ই পাননা কেন তার real implementaion টা আসবে না । বিড়ালটা ধরে আনতে পারলে ঘন্টি না হয় ধরুন আমিই পরালাম আর কি!!!

    Reply
  7. সিহাব বিন মুকছেদ

    লেখক দারুন লিখেছেন। বাস্তবায়নের মানসিকতা সম্পন্ন সরকার এই দেশে নাই।

    Reply
  8. হাসান সাইফুল

    ফারহানা খুব ভাল লিখেছেন। আইসিটিতে ভাল করতে হলে ইংরেজি, পদার্থ ও গনিতে ভাল হতে হবে এবং আন্তরজাতিক মানের সিলেবাস সব সময়ের জন্য সাম্প্রতিক রাখতে হবে। শুধু ইস্কুল পর্যায়ের পুস্তকই না, কলেজের বাংলায় লেখা পুস্তকে অনেক ভুলও পাওয়া যায়। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক পুরাতন সিলেবাসের ফলে বাস্তব জীবনে অনেক তাত্ত্বিও বিষয়ের মিল পাওয়া যায় না।

    Reply
  9. জিল্লুর রহমান

    খুব সুন্দর একটা লিখা লিখেছেন আপনি। শুধু সুন্দরই নয় অত্যন্ত যৌক্তিক এবং সময়োযোগী লেখা। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এরকম জ্ঞানগর্ভ লেখা পোস্ট দেওয়ার জন্য। আশা আগামীতে আরো ভালো, ভালো লেখা আসবে , আমরা অনেক কিছু জানবো, জাতি আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু পাবে। ভালো থাকবেন।
    জিল্লুর রহমান
    কথাসাহিত্যিক

    Reply
  10. মেহদি হাসান

    লেখকের সাথে আমি একমত। মাধ্যমিক পর্যায়ে আইটি শিক্ষার ব্যাপারে আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। ভৌত অবকাঠামোর চাইতেও দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাব আমার কাছে বড় সমস্যা মনে হয়েছে। আমি গ্রামের একটি স্কুলে পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার ল্যাব করে দিয়েছি। অথচ প্রশিক্ষক না থাকায় সেটি ব্যবহার হয় না!! তাছাড়া দৃষ্টিভঙ্গির সমস্যা ও প্রকট। শিক্ষরা কম্পিউটারকে রীতিমতো ভয় পায়। তারা এর ধারে কাছে যেতে চায় না!!

    Reply
  11. বিপুল

    কিন্তু বেড়ালের গলায় ঘন্টি দেবে কে? লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বলা এক কথা, কিন্তু তার বাস্তবায়নের কর্মপদ্ধতি প্রণয়ন আরেক কথা।

    Reply
  12. সবুজ মন্ডল

    অসাধারণ বিশ্লেষণ,ধন্যবাদ লেখককে। অনেক সুন্দর করে বিশ্লেষণ করেছেন, আশা করি সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়টির উপর নজর দিবেন। বাংলাদেশের শিক্ষা নীতি জানতে ক্লিক করুণ http://sabujmondal.weebly.com/national-education-policy-of-bangladesh.html

    Reply
    • Anwar Hossain Manju

      আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে ভালো লাগে বলে নয়, পরামর্শমূলক বলেই লিখাটা ভালো লেগেছে। কিন্তু একটু মতপার্থক্য রয়েছে। শিক্ষানীতি হোক আর অন্য নীতিই হোক সকল নীতিতেই ভালো ভালো কথা ও দিক নির্দেশনা থাকে। কিন্তু বাস্তবায়নের পর্যায়ে গিয়েই তালগোল পাকিয়ে ফেলে যে কোন সময়ে আসা যে কোন সরকার। তাদের মাথায় থাকে যে আমরা তো মাত্র পাঁচ বছরের জন্য। সময়টা কাটাতে পারলেই হলো। সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা দেখতে থাকে কোন নীতি থেকে কি সুবিধা নেয়া যাবে। অর্থ্যাৎ তারা দুর্নীতি আর নিজেদের পদায়নের দিকটাকেই বড় করে দেখে। বেতন একটি বড় ব্যাপার সন্দেহ নেই। কিন্তু আমাদের দেশে বেতন বাড়িয়ে দিলেই কি বড় বড় বেতনধারীরা কতটুকু সেবা দেন? এক সরকারী প্রতিষ্ঠানে ১০ বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে আমার। প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সিনিয়র পিএ’র বেতনের পার্থক্য তিন হাজার টাকা। পিএ আছে তিনজন। চার ড্রাইভারের মধ্যে সিনিয়র ড্রাইভারের বেতন ৪০,০০০ টাকার উপর। কাজ করতে হয় ছয় ঘন্টা। বাড়তি সময় কাজ করলে ওভারটাইম। বাংলাদেশে কি এটা স্বপ্নের মতো লাগে না? কিন্তু এতে কি কাজ খুব ভালো হচ্ছে? একজন ডাক্তারের কথা ভাবা যাক, ক’টি চেম্বারে কতো রোগী দেখলে তার খাই মিটবে? একজন সার্জন ক’টি হাসপাতালে গিয়ে ক’টি অপারেশন করলে তার অর্থের চাহিদা মিটবে? সার্ভিস দেয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।
      এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় মতিঝিলে এক ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়েছিল। ভবনের সবাই আতংকে বের হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলেও আসে না, যদি তাদের গাড়ী আক্রান্ত হয়। ঠিক এসময় দেখেছি, একজন পিয়ন একা বালতি বালতি পানি এনে আগুন নেভানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে। এরই নাম বোধহয় সেবা। ক’টাকা বেতন ছিল তার? এতো কি গরজ পড়েছিল বিপদের মধ্যে ওই ভবনে রয়ে যাওয়ার? দায়িত্ববোধ তাকে সেখানে রেখেছিল। কোন নীতি বাস্তবায়নের আগে সকল স্তরের লোকদের মধ্যে এই বোধটা জাগাতে হবে। এটা স্বপ্রনোদিত। চাপিয়ে দিয়ে এটি জাগানো যাবে না।কোনদিন কি দেশবাসীর ওই বোধ জাগবে?

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—