Feature Img

Taposh-f‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান-চর্চ্চা সম্ভব’ এই প্রস্তাবনার স্বপক্ষে আমি লিখব, তা আমি কখনও ভাবিনি। আমি ভাবি নি, তার কারণ–আমি অনুমান করি–প্রতিটি ভাষার মধ্যেই সেই ভাষার জনগণের চিন্তা, দার্শনিকতা, ভাবুকতা, ইত্যাদিকে প্রকাশ করবার সম্ভাবনা এবং শর্ত প্রস্তুত হয়ে থাকে; কিন্তু যা অমিমাংসিত থেকে যেতে পারে, তা হল সেই সম্ভাবনাকে প্রকাশ করা, তাকে মূর্ত করা, তাকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া। যারা মনে করেন, ‘বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান-চর্চ্চা করবার বাহিকা শক্তি নেই’ তাদের দিকে দৃষ্টি রেখে আমার মতামত আমি অতিক্ষুদ্র পরিসরে প্রকাশ করতে চাই; বাংলাভাষী তিন প্রধান বিজ্ঞানী-জগদীশচন্দ্র বসু, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, এবং প্রফুল্ল চন্দ্র রায় বাংলা-ভাষায় বিজ্ঞান-চর্চ্চা নিয়ে কী ভাবতেন, তা এখানে তুলে ধরব এবং সেই নিমিত্তে দুই/একটি মত প্রকাশ করব এবং আশা রাখি, অধিকাংশ পাঠক আমার সাথে একমত হবেন।

জগদীশচন্দ্র বসু প্রণীত ‘অব্যক্ত’ গ্রন্থের প্রসঙ্গ-কথায় (পৃঃ ১২) প্রশ্ন উঠেছে, ‘জগদীশচন্দ্র তাঁর গবেষণাপত্র বাংলায় কেন প্রকাশ করেন নি?’ জগদীশচন্দ্র বসু তাঁর জবাবে লিখেছেন, ‘আমার যাহা কিছু আবিষ্কার সম্প্রতি বিদেশে প্রতিষ্ঠা লাভ করিয়াছে, তাহা সর্বাগ্রে মাতৃভাষায় প্রকাশিত হইয়াছিল এবং তাহার প্রমাণার্থ পরীক্ষা এদেশে সাধারণ সমক্ষে প্রদর্শিত হইয়াছিল। কিন্তু আমার একান্ত দুর্ভাগ্যবশতঃ এদেশের সুধীশ্রেষ্ঠদিগের নিকট তাহা বহুদিন প্রতিষ্ঠা লাভ করিতে সমর্থ হয় নাই।’ বিজ্ঞানী বসু এখানে বিজ্ঞান চর্চ্চার ক্ষেত্রে বাংলা-ভাষার সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন নি, বরং উচ্চারণ করেছেন তৎকালীন (১৯২০-১৯২১ খ্রিস্টাব্দ) সুধীশ্রেষ্ঠদিগের হীন্মন্যতার কথা, যাকে আমরা ‘ঔপনিবেশিক মানসিকতা’ বলে আখ্যায়িত নাই বা করি। ‘অব্যক্ত’ গ্রন্থে বিজ্ঞানী বসুর উপরোক্ত মন্তব্যের সাথে একমত পোষন করে ‘অব্যক্ত গ্রন্থের প্রসঙ্গ-কথায় (পৃঃ ১৩) শ্যামল চক্রবর্তী আরও উল্লেখ করেছেন, ‘এই কথা যে কতটা সত্যি, তার প্রমাণ আমরা আরও একটি ঘটনা থেকেও উল্লেখ করতে পারি। সত্যেন্দ্রনাথ বসু যখন বাংলায় বিজ্ঞান-চর্চ্চার অভিপ্রায়ে তাঁর জীবনের একটা দীর্ঘ সময় ও শ্রম ব্যয় করেছেন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে ভাষাচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তি সেই নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক সংলাপ উচ্চারণ করতে পিছু পা হন নি।’ শ্রী চট্টোপাধ্যায়ের ব্যঙ্গাত্মক উচ্চারণের প্রায় একশ বছর পরে ‘বি ডি নিউজ’ একই প্রসঙ্গকে ভিন্ন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে হাজির করছে, যদিও সেই ভিন্ন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আমাদের আলোচনার বিষয় নয়। তবু এই কথা বলা, বোধকরি, অপ্রাসাঙ্গিক হবে না যে বিশ্বায়নের একালে ইংরেজী ভাষার দাপটে জার্মান, ফরাসি, ইত্যাদি বনেদি ভাষাসমূহেরও নাভিশ্বাস উঠছে। বোধকরি, ভাষার সাম্রাজ্যবাদী চরিত্র এ আলোচনার প্রধান বিষয় নয়। সুতরাং, মূল-প্রসঙ্গে ফিরে আসার নিমিত্তে আমি এখন বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর শরণাপন্ন হব।

১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের অক্টোবর মাসে হায়দ্রাবাদে, ‘ইংরেজী হটাও কনফারেন্স’-এ ‘মাতৃভাষা’ নামে যে ভাষণ সত্যেন্দ্রনাথ বসু দিয়েছিলেন, তা কামেশ্বর সি ওয়ালি সম্পাদিত, ‘সত্যেন্দ্রনাথ বোস: হিজ লাইফ এণ্ড টাইমস’ গ্রন্থে ‘মাতৃভাষা’ নামে ভাষণটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেখানে সত্যেন্দ্রনাথ বসু নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘বিভিন্ন দেশ ঘুরিয়া যাহা দেখিয়াছি, তাহা হইল-সর্বত্রই মাতৃভাষাকে কেন্দ্র করিয়া শিক্ষা-পদ্ধতি ক্রমান্বয়ে গড়িয়া উঠিয়াছে, কারণ সবাই তাহার মাতৃভাষাকে বুঝে। মধ্যযুগে, ভিন্ন কোনো এক ভাষার মাধ্যমে শিক্ষাদানের ব্যাপার ছিল; নিতান্ত শিক্ষিত এবং ক্ষুদ্র এক জনগোষ্ঠির তাহাতে অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল। এই শিক্ষা-ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ছিল এই যে সাধারণ মানুষ এই ভাষা বুঝিত না এবং শিক্ষা-বিস্তার ছিল নিতান্তই ধীর-গতি-সম্পন্ন।’ ইতিহাস আমাদেরকে অনেক সত্য সহজে দেখতে সাহায্য করে। সত্যেন্দ্রনাথ বসু, এই ভাষণে মাতৃভাষার মাধ্যমে বিজ্ঞান-চর্চ্চার ক্ষেত্রে তাঁর জাপান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর বিধ্বস্ত জাপান দুই দশকে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিতে যে বিস্ময়-সাধন করেছে, তা বিজ্ঞানী বসুর মতে, শিক্ষা-তথা বিজ্ঞানশিক্ষার মাধ্যমে জাপানী ভাষা বলে সম্ভবপর হয়েছে। জাপানী এক কনফারেন্সে, জাপানের শিক্ষিত শ্রেণী–বিজ্ঞানী, দার্শনিক, শিক্ষক-প্রমুখ জড়ো হয়েছেন আধুনিক বিজ্ঞান এবং মানবের ভবিষ্যৎ অভিমুখ কী হবে– তা নির্ধারণ করতে। বিজ্ঞানী বসু অবাক হয়ে দেখলেন প্রায় সকল জাপানী বিজ্ঞানী এবং শিক্ষাবিদ জাপানী ভাষায় তাঁদের বক্তব্য দিচ্ছেন, যদিও তাঁরা ইংরেজী ভাষায় তাঁদের বিজ্ঞান চিন্তা, দার্শনিকতা প্রকাশ করতে সক্ষম ছিলেন : হয়তো স্বাচ্ছন্দ্যের ঘাটতি ছিল। বিজ্ঞানী বসু আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, ‘ভারতীয় ভাষাসমূহের তুলনায়, জাপানী ভাষার কিছু সমস্যা রহিয়া গিয়োছে। … আমাদের ভাষাসমূহে বর্ণমালার সংখ্যা নিতান্তই অল্প; অন্যদিকে, জাপানী ভাষায় তাহাদের নিজস্ব বর্ণমালার পাশাপাশি তিন হাজার চাইনিজ বর্ণমালা রহিয়াছে। জাপানে যাহারা উচ্চ-শিক্ষা নিতে আগ্রহী, তাহাদের এসবই আয়ত্ত করিতে হয়। আমাদের ভাষাসমূহের শিশুরা নিজস্ব ভাষায়  যে দক্ষতা এক কিংবা দুই বছরে অর্জন করে, সমরূপ দক্ষতা জাপানি ভাষায় রপ্ত করিতে একটি জাপানি শিশুকে  প্রায় ছয় বছর ব্যয় করিতে হয়। এই বাধা সত্ত্বেও, জাপানি ভাষা এমন এক স্তরে গিয়া উপনীত  হইয়াছে যে প্রত্যেক জাপানি দার্শনিক এবং বিজ্ঞানী তাঁহার চিন্তা এবং ভাবুকতা জাপানি ভাষায় প্রকাশ করিতে পারেন।’ বিজ্ঞানী বসুর কথা থেকে যা প্রতীয়মান, তা হল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান-চর্চ্চা অসম্ভব নয়: যা জরুরী, তা হল অসমাপ্ত কর্মযজ্ঞকে এগিয়ে নেয়া : এবং নি:সন্দেহে এ এক ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। এই কর্মযজ্ঞে বিভিন্ন-শাখার বিজ্ঞানী, ভাষাবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, বাংলা একাডেমী, বিজ্ঞান একাডেমী, আর্থিক-সহযোগিতায় সরকারী এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ, ইত্যাদি অত্যন্ত জরুরী।

বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর বিখ্যাত কাজ, যা তাকে জগৎবিখ্যাত করেছে তা যখন ইংরেজী ভাষার জার্নাল, ‘ফিলোসফিক্যাল ম্যাগাজিনে’ প্রকাশ হল না, তখন তিনি তাঁর কাজ বিজ্ঞানী আইনষ্টাইনকে পাঠালেন এবং অনুরোধ করলেন তাঁর আর্টকলটিকে জার্মান ভাষায় অনুবাদ করে তিনি (আইনষ্টাইন) যেন প্রকাশের জন্য ‘Zeitscrift fur Physik’-এ দাখিল করেন। আইনষ্টাইন বিজ্ঞানী বসুকে লিখলেন, “আমি তোমার পেপার  জার্মান ভাষায় অনুবাদ করিয়াছি এবং ‘Zeitscrift fur Physik’-এ প্রকাশের জন্য দাখিল করিয়াছি। তোমার কাজ আমাকে মুগ্ধ করিয়াছে এবং এই কাজটি বিজ্ঞানের জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’ প্লাঙ্কসের তত্ত্বের যে ডেরিভেশন বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু করেছেন এবং আইনষ্টাইন তাঁর কাজের যে গুরুত্ব চিহ্নিত করেছেন, তা  বিংশ-শতাব্দীর পদার্থ বিজ্ঞানের জগতে এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা।  এখানে বিজ্ঞানী বসুর কাজের আলোচনা নয়, বরং দেখানো বিভিন্ন ঐতিহাসিক কালপর্বে বিভিন্ন ভাষা বিজ্ঞানের জগতে কীভাবে প্রভাব রেখেছে। মধ্যযুগে লাতিন, এবং পরবর্তীকালে কখনো জার্মান, কখনো ফরাসি, কখনো ইংরেজী ভাষা অধিকতর প্রভাব ফেলেছে। বিজ্ঞানের কাজ এই জগতের কার্য-কারণ সম্পর্ক তথা রহস্য উম্মোচন। এবং বিজ্ঞানের এই কাজ এককভাবে ইংরেজী ভাষাভাষি বিজ্ঞানীদের নয়, কিংবা নয় এককভাবে অন্য কোনো ভাষার বিজ্ঞানীদের: বরং এ-কাজ যে-কোনো ভাষায়ই হতে পারে, কিন্তু প্রয়োজন সদিচ্ছা, কর্মযজ্ঞ, এবং অর্থের নিগুঢ় মন্থন। আমার এ সংক্ষিপ্ত আলোচনা বিজ্ঞানী প্রফুল্ল চন্দ্র রায়–যিনি দেশের উন্নতির জন্য শিল্পায়নের গুরুত্ব অনুভব করেছেন এবং বিজ্ঞান গবেষণার পাশাপাশি দেশে শিল্পায়নের ব্যাপক কর্মযজ্ঞে ব্যাপৃত ছিলেন এবং তিনি তাঁর কর্মযজ্ঞের প্রভূত সাফল্য দেখেছেন– বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান সম্পর্কে কী ভাবতেন তা পাঠকদের জানাতে চাই।

বিজ্ঞানী প্রফুল্ল চন্দ্র রায় দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন, স্কুলে শিক্ষার মাধ্যম বাংলা হওয়া উচিত; এবং সে দিকে দৃষ্টি  রেখে তিনি বাংলায় বিজ্ঞানের পাঠ্য-পুস্তক রচনা করেন। তিনি আগ্রহভরে তাঁর ছাত্রদের কাছে রাশিয়ান বিজ্ঞানী মেন্দেলেভের কথা বলতেন, যিনি পিরিওডিক টেবিলের আবিস্কারক। বিজ্ঞানী মেন্দেলেভ তাঁর কাজ রাশিয়ান জার্নালে প্রকাশ করেন, কারণ তিনি চাইতেন পৃথিবীর অন্য ভাষাভাষী বিজ্ঞানীরা যেন রুশ  ভাষা শিখতে বাধ্য হন।

আমাদের মনে রাখতে হবে, বিজ্ঞান জ্ঞানেরই একটি বিশেষ শাখা। সুতরাং, বাংলাভাষায় যদি সাহিত্য, দর্শন, ন্যায়শাস্ত্র আলোচনা সম্ভব, তবে বিজ্ঞান সাধনাও সম্ভব: তবে এটি অবশ্যই অনেক বিজ্ঞানী তথা ভাষাবিদদের অনেক দিনের কাজ। প্রত্যেক ভাষাভাষী জনপদের বিজ্ঞান-চর্চ্চার বিকাশ লক্ষ করলে দেখা যাবে যে মাতৃভাষাই ছিল তাদের জ্ঞান তথা বিজ্ঞান বিস্তারের জন্য সবচে’ সহায়ক ভাষা। বিজ্ঞান-ইতিহাস বিষয়ে অজ্ঞানতা নয়, নিজের মাতৃভাষায় অনাস্থা নয়, বরং জ্ঞান-প্রবাহকে বেগবান করবার জন্যেই বাংলা ভাষায় আমাদের আরও মনোযোগী হতে হবে।

তাপস গায়েন : অধ্যাপনা, পদার্থবিদ্যা বিভাগ, ফোর্ডহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়, নিউ ইয়র্ক।

Responses -- “বিজ্ঞান-চর্চ্চায় ভাষার দায়”

  1. ডঃ কল্লোল গুহ

    আমার সঙ্গে কি যোগাযোগ করবেন দয়া করে? আমি ড. কল্লোল গুহ, শিকাগোতে থাকি। আমার সাইট দেখুন–

    http://www.hrdsinc.org

    http://www.onthewaytodenmark.com

    Tel: (847)298-2662

    প্রাযুক্তিক শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে মাতৃভাষার ব্যবহারের জন্য জনমত গঠনে যারা কাজ করছেন তাদের স্পন্সর করতে চাইছি আমি।

    Reply
  2. sabbir

    আমি আপনার সঙ্গে একমত। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করলে তা আরও বোধগম্য হবে সবার কাছে। তথ্যপ্রযুক্তিতে অগ্রগামী দেশ যেমন জাপান, চীনসহ বেশিরভাগ দেশ তাদের মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চা করছে । তারা যদি নিজের মাতৃভাষা ব্যাবহার করতে পারে, তবে আমাদের বাংলা ভাষা কী দোষটা যে করল তা আমি বুঝতে পারি না ।

    Reply
  3. সুভাষ সাহা

    আপনার লেখাটা পড়ে খুব ভালো লাগল। কিন্তু আমি বুঝি না সবাই এই সত্যটা কেন স্বীকার করেন না যে এখন ইচ্ছা থাকলেও সেটা সম্ভব না? বিশ্বায়নের এই যুগে আমরা এখন একা একা গবেষণা করি না। করতে পারি না। বিভিন্ন দেশের গবেষকদের সাথে সম্মিলিতভাবে গবেষণা করি। আর তার জন্য দরকার এমন একটা ভাষা যাতে আমরা যোগাযোগ করতে পারি। উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত বাংলা আছে, ভালো। কিন্তু গবেষণার জন্য বাংলা নিয়ে বিতর্ক না করাই ভালো।

    Reply
  4. সাঈদুজ্জামান

    তাপস গায়েনকে ধন্যবাদ সুন্দর একটি তথ্যবহুল লেখা উপহার দেবার জন্য। তথ্য দিযে প্রমাণ করেছেন, “বিজ্ঞানী-জগদীশচন্দ্র বসু, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, এবং প্রফুল্ল চন্দ্র রায় বাংলা-ভাষায় বিজ্ঞান-চর্চ্চা”র পক্ষে ছিলেন। নিঃসন্দেহে বলা যায়, আজ পর্যন্ত এই তিন প্রধানের চেয়ে বিজ্ঞান গবেষণায় বাংলাদেশে এগিয়ে নেই কেউ। সত্যেন বোস তো তাঁর বোস-আইনস্টাইন তত্ত্বের শক্তিতে পদার্থবিজ্ঞানের একটি বিরাট অধ্যায় দখল করে আছেন! ঘনিভূত বস্তু (কনডেন্সড ম্যাটার)গবেষণায় বিশ্বব্যাপী তাঁর কাজের ফলো আপ দিন দিন যেন বেগবান হচ্ছে। যা হোক, বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা/ভূমিকা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ব্যাপারটা দেখুন। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের এক তরুণ অধ্যাপককে কিছুকাল নিয়মিতভাবে বাড়িতে ডেকে আনতেন এবং তাঁর কাছ থেকে বিজ্ঞানের বিভিন্ন মৌলিক বিষয়ে পাঠ গ্রহণ করতেন এবং আলোচনা করতেন। এর পর বিশ্ব কবি তাঁর সহজ বোধ্য বাংলায় লিখলেন বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ “বিশ্ব পরিচয়”। তৎকালীন বিজ্ঞানের অগ্রগতির প্রেক্ষাপটে গ্রন্থটিতে স্থান পেয়েছে পরমাণু, অণু, সৌরজগতসহ বিশ্ব সৃষ্টির নানা বিষয়।
    তাপস গায়েনকে আর একবার ধন্যবাদ জানিয়ে বলবো, বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চায় কোন অসুবিধা হবার কথা নয়।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—