ম্যাসাচুসেটস থেকে উইসকনসিনে উড়ে এসে নেমেছি ম্যাডিসন এয়ারপোর্টে। সেখান থেকে মেয়ের অ্যাপার্টমেন্টে যাওয়ার পথে রাস্তায় দেখি নানা বয়সী নারীরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। মনে পড়ল দিনটি ২১ জানুয়ারি। ট্রাম্পের শাসনগ্রহণের পরের দিন, প্রতিবাদী নারী-যাত্রায় অংশ নিয়ে ওরা এখন ঘরে ফিরছেন। মনটা খুশিতে ভরে উঠল। অসমতা, গোঁড়ামি আর পুরুষতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে এভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠা নারীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা এক প্রস্থ বেড়ে গেল। সেই যাত্রায় বহু পুরুষও ছিলেন। একজন বিবেচক পুরুষের মনে নারীর সমানাধিকার নিয়ে সংশয় থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক। নারীর অধিকার মানবাধিকার।

দুঃখের বিষয়, এই শ্লোগানের হোতা হিলারি ক্লিনটন নির্বাচনে হেরে গেলেন, নারী হওয়ার কারণেই হয়তো-বা। মার্কিনিরা নাকি নারীকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখতে এখনও প্রস্তুত নয়। এ নিয়ে যত কথা হচ্ছে এই গ্রহে তা জমা করলে হয়তো স্থান দেওয়া সম্ভব হত না। অনেক নারীবাদীও হিলারিকে ভোট দেননি। অনেক তরুণ ডেমোক্রেটও নয়। ভোটের হিসাব-নিকাশ অনেক জটিল। যুক্তরাষ্ট্রে এই জটিলতা আরও বেশি বলে মনে হয়।

একুশে জানুয়ারির নারী-যাত্রাকে মার্কিন ইতিহাসে একদিনের বৃহত্তম প্রতিবাদ সমাবেশ বলে আখ্যায়িত করেছে মিডিয়াসহ নানা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা। ঠিক কত মানুষ সেই প্রতিবাদযাত্রায় অংশ নিয়েছেন তার চুলচেরা হিসাব নির্ণয় কঠিন। তবে মনে করা হচ্ছে সেটি ন্যূনতম তিন দশমিক সাত মিলিয়ন হতে পারে। সাঁইত্রিশ লাখ? ৫০০টি শহরে এই সমাবেশের আয়োজন হয়। কানেকটিকাট ও ডেনেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন বিশেষজ্ঞ এই হিসাবটি দেন। তাদের মতে, সমাবেশে মানুষের জমায়েত সর্বনিম্ন তিন দশমিক সাত মিলিয়ন এবং সর্বোচ্চ চার দশমিক ছয় মিলিয়ন অর্থাৎ ছেচল্লিশ লাখ।

ইউএস সেনসাস ব্যুরোর হিসাব মতে, যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা এখন ৩২৪ মিলিয়ন, অর্থাৎ বত্রিশ কোটি চল্লিশ লাখ। এ হিসাবে ন্যূনতম নারী-যাত্রার লোকের সমাবেশের সংখ্যাটা ধরলে প্রতি ১০০ জন মার্কিনির একজন এই সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। ভাবা যায়?

 

Geert Wilders - 111
নেদারল্যান্ডের নির্বাচন মার্চের ১৫ তারিখে– গিরট ওয়াইল্ডারস (Geert Wilder) সেদেশের ট্রাম্প

 

তবে এত বড় সমাবেশ যুক্তরাষ্ট্রে সমানাধিকার রক্ষার ব্যাপারে কতটা অবদান রাখতে পারবে তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। কর্মক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে নারীরা বৈষম্যের শিকার এখনও। সেখানে মাতৃত্বকালীন ছুটি নেই। পুরুষের তুলনায় নারীদের বেতন কম, নিম্ন পর্যায় থেকে চিকিৎসকের মতো এলিট পেশাতেও এ বৈষম্য রয়েছে। কিছুদিন আগে ফেসবুকে একটি ছবি দেখেছিলাম, ইরানে আয়াতুল্লাহ খোমেনি ক্ষমতায় আসার পর যখন নারীদের বোরকা পরা বাধ্যতামূলক করা হল তখন তেহরানে লাখ লাখ নারী প্রতিবাদ জানাতে পথে নেমে এসেছিলেন। ছবিতে দেখছিলাম বোরকাবিহীন স্মার্ট ইরানি নারীদের প্রতিবাদ। কিন্তু কী হল? প্রতিবাদ করেও প্রতিকার হয়নি।

মৌলবাদী বা চরম ডানপন্থীরা আবার জেগে উঠছে, আগামী পৃথিবীর জন্য এটি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পরিবেশ বিপর্যয় বা নিউক্লিয়ার পাওয়ারের অপব্যবহারের উদ্বেগের চেয়েও বেশি। কারণ ডানপন্থী মানেই কিছু গোঁড়ামি। সমাজ আবার পিছনের দিকে নিয়ে যাওয়া। মানবাধিকার হেয় করা। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, অনেক সাধারণ মানুষ এদিকে ঝুঁকছেন।

ট্রাম্পকে সাধারণ মানুষই ভোট দিয়েছেন। আমরা যতই পুতিনের ইন্টারনেট হ্যাকিংএর কথা বলি, কিছু মানুষ ট্রাম্পের সমর্থক। এ ধরনের প্রাচীনপন্থী গোঁড়াদের সমর্থকদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশেও। তার বিশ্লেষণ পরে দিলাম।

এ বছর ইউরোপে তিনটি দেশে সাধারণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। গত বছর ব্রিটেনে হল ব্রেক্সিট। এটি কিন্তু ছিল বুড়ো গোঁড়া ইংরেজদের সমর্থনের ফসল। যুবক ইংরেজরা এর ফলে ই্ইউতে কর্মসংস্থানের সুযোগ হারালেন। ট্রাম্পকে যারা ভোট দিয়েছেন তাদেরও বেশিরভাগই মধ্যবয়সী সাদা আমেরিকান।

২০১৭ সালে ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সেখানে যদি মার্কিন নির্বাচনের মতো ফল হয়, অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

 

Marine Le Pen of France's National Front (FN) addressesa a news conference in Vienna, Austria, June 17, 2016. REUTERS/Heinz-Peter Bader
ফ্রান্সে আছেন ট্রাম্পের সদৃশ, মেরিন লা পেন (Marine Le Pen)

 

সবচেয়ে কাছে নেদারল্যান্ডের নির্বাচন– মার্চের ১৫ তারিখে। গিরট ওয়াইল্ডারস (Geert Wilder) সেদেশের ট্রাম্প। তিনি ২০১৪ সালে পিপল পাটি ফর ফ্রিডম অ্যান্ড ডেমোক্রেসি থেকে বের হয়ে এসে পাটি ফর ফ্রিডম গঠন করেন। তিনি ইইউ এবং মুসলিমবিরোধী। কোরান নিষিদ্ধ করতে বলছেন। মুসলিম-অধ্যুষিত দেশগুলো থেকে ইমিগ্র্যান্ট নেওয়া বন্ধ করতে চান। যে মুসলিমদের দ্বৈত নাগরিকত্ব আছে তারা যদি নেদারল্যান্ডের কোনো আইন অমান্য করে তবে তাদের ঘাড় ধরে বের করে দেওয়ার কথাও বলেছেন গিরট। নেদারল্যান্ডের রাজনৈতিক আশ্রয় কেন্দ্র, মসজিদ ও ইসলামি স্কুলগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে তিনি। নেদারল্যান্ডে যদি তাঁর দল ক্ষমতায় আসে তাহলে কী হতে পারে তা অনুমান করা কঠিন নয়।

ফ্রান্সে আছেন ট্রাম্পের সদৃশ, মেরিন লা পেন (Marine Le Pen)। সেখানে নির্বাচন ২৩ এপ্রিল। তাঁর কণ্ঠে শোনা যাচ্ছে ট্রাম্পের বাণী। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও বাইরের পৃথিবী থেকে দেশের মানুষের চাকরি ফিরিয়ে আনার কথা বলছেন তিনি। নিজস্ব ফরাসি মুদ্রা চালুর উপর জোর দিচ্ছেন যেমন তেমন ইইউএর সঙ্গে থাকতে নারাজ। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে, পেনের পিতা যিনি তাঁর রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাতা, তিনি একবার এক বক্তৃতায় হলোকাস্টকে তুচ্ছ করায় বিচারের সম্মুখীন হয়েছিলেন। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে পেনকে খুব একটা তাচ্ছিল্য করা যাচ্ছে না।

জার্মানির অ্যাঞ্জেলা মেরকেলের চতুর্থবার চ্যান্সেলর হবার সম্ভাবনা নিয়ে হিসাব-নিকাশ চলছে। সেখানে নির্বাচন ২২ অক্টোবর। শরণার্থী নিয়ে মেরকেল বিপদে আছেন। ৪১ বছর বয়স্ক ডক্টরেট ডিগ্রিধারি ব্যবসায়ী ফ্রাউক পেট্রির (Frauke Petry) দল অলটারনেটিভ জার্মান পার্টি মিডিয়ার মনোযোগ কাড়ছে। তাঁর এক ভয়াবহ উক্তি, ‘বেআইনিভাবে যে অভিবাসী জার্মানিতে ঢুকবে পুলিশকে তাকে গুলি করার অধিকার দিতে হবে’– চমকে দিয়েছিল মিডিয়াকে। আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে এ ধরনের বক্তব্য কানে না বাজলেও উন্নত বিশ্বে তা বাজে। কিন্তু সেসব দেশের মানুষজনও চরমপন্থীদের ভালোবাসতে শুরু করেছেন। মুসলিমদের পেট্রির অপছন্দ। তাঁর মেনিফেস্টোতে রয়েছে, ‘ইসলাম ইজ নট আ পার্ট অব জার্মানি’– অর্থাৎ, ইসলাম জার্মানির অংশ নয়।

 

Frauke Petry - 111
জার্মানির ফ্রাউক পেট্রির (Frauke Petry) মেনিফেস্টোতে রয়েছে, ‘ইসলাম ইজ নট আ পার্ট অব জার্মানি’

 

২০১৭ সালে ইউরোপের এই তিন দেশের নির্বাচনের ফল যদি যুক্তরাষ্ট্রের মতো হয়, তাহলে পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার জন্য যথেষ্ট। সাধারণ মানুষ যদি এভাবে চরম ডানের দিকে ঝুঁকতে থাকেন, তার জন্য অবশ্যই দায়ী এখনকার বিশ্ব-নেতৃত্ব।

বাংলাদেশও ডানদিকে ঝুঁকছে। ২০০৮ সালে যারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অঙ্গীকার দেখে ভোট দিয়েছিলেন, তারা কি ২০১৭ সালে পাঠ্যবই সাম্প্রদায়িকীকরণ বা মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর বিষয়টি সমর্থন করবেন? নব্ব্ই দশকে যে নারী সংগঠনগুলো সিলেটের নূরজাহানের ফতোয়ার বিরুদ্ধে পথে নেমে বিশাল আন্দোলন করেছিল তারা ২০১৩ সালের হেফাজতিদের তেঁতুল হুজুরের বিরুদ্ধে তেমন নারী-সমাগম করতে পারেনি কেন? একটা ইউনিফরম ফ্যামিলি ল’ চালু করা নিয়ে আশির দশকে যে আন্দোলন দেখেছি আজ তা কেন এত নিশ্চুপ?

বাংলাদেশের ২০১৯ সালের নির্বাচনে দলগুলোর মেনিফেস্টোতে ‘ইসলাম’ অনেকখানি জায়গা করে নেবে এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। এমনকি দেশের পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত পরিবর্তনের কথা বলার মতো দুঃসাহসও যদি কোনো দল দেখায় বিস্মিত হওয়ার কিছু থাকবে না। এমনকি কোনো ‘প্রগতিশীল’ দলও যদি বলে! বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে বিভিন্ন লেখার যে প্রতিক্রিয়া দেখতে পাই তাতে মনে হয়, এদেশের মানুষ ক্রমশ চরম ডানপন্থী হতে চলেছে।

শুধু লেখার প্রতিক্রিয়া নয়, হিজাবের আধিক্য ও কিছু মানুষের মানসিকতা দেখে এ উপলদ্ধি আরও বেশি করে আসছে। কোনো দল এসে যদি বাংলাদেশের নারীদের হিজাব বা বোরকা পরা বাধ্যতামূলক করে তখন তার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের মতো উইমেন মার্চ বা তেহরানের নারীদের বিক্ষোভের মতো অত বিশাল সমাবেশ হবে তা আশা করা যাচ্ছে না।

যে দলগুলো প্রগতিশীল বা বামপন্থী তারাও যে চরম ডানে ঝুঁকবে তা তো এখনই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

পারভীন সুলতানা ঝুমাসাংবাদিক, কলামিস্ট

৪১ Responses -- “ট্রাম্প একা নন”

  1. R. Masud

    জনাবা ঝুমার লিখা খানাতে দুনিয়ার কোনায় কোনায় ডান দিকে ঝোঁকার যে প্রবনতা বাড়ছে বলে দাবী করেছেন তার সাথে একমত। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশে এই যে প্রবনতা বাড়ছে অবশ্যই তাদের জন্য বিপদ সঙ্কেত। কারন- প্রকৃতি তার সুত্র মোতাবেকেই চলে, মানে পরিবর্তন এনে ব্যালান্স করেন। যেই সাধা চামড়া একদা দুনিয়ার বাকী অংশটাকে কলোনি করে মজা লূটেছে, এবার তাদের পালা কলোনি হবার। কাদের কলোনি? এখনকার অবস্থা দেখে মনে হয় মঙ্গোলিয়ড ( Mongoloid) !!!
    সবশেষে নিছের অংশটা নিয়ে আমার একটা ধারনা আছে –
    “”” বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে বিভিন্ন লেখার যে প্রতিক্রিয়া দেখতে পাই “”””

    সরকারী অফিষে যেমন অনেক স্বাধীনতা বিরোধীরা আছে, তেমনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরে নেই ভাবাটা বোকামি হবে। তানাহলে, সাম্প্রদায়ীক /স্বাধীনতা বিরোধী কুলাঙ্গার এর কমেন্ট এর সংখ্যা অসাম্প্রদায়ীক / স্বাধীনতার পক্ষের কমেন্টের চাইতে বেশী হবার কথা নয়।

    Reply
    • সাম্প্রদায়িকতা

      “হিজাবের আধিক্য ও কিছু মানুষের মানসিকতা দেখে এ উপলদ্ধি আরও বেশি করে আসছে। কোনো দল এসে যদি বাংলাদেশের নারীদের হিজাব বা বোরকা পরা বাধ্যতামূলক করে তখন তার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের মতো উইমেন মার্চ বা তেহরানের নারীদের বিক্ষোভের মতো অত বিশাল সমাবেশ হবে তা আশা করা যাচ্ছে না।” আপনার এই কথাগুলির মাঝে চরম সাম্প্রদায়িক ভাব আছে………………..এদেশে মৌলবাদী বা সাম্প্রদায়িকতা শব্দ ব্যাবহার করে বারবার যেমন দুষ্কৃতকারীদের আপনারা আড়াল করেছেন তেমনি একদিন দেখবেন এরাই আপনাকে আর আপনার সুশীলতাকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে। আগুণের চোখ নেই, আপনার চোখ আছে, দেখে- শুনে- বুঝে এই আগুন এখনই নেভান।

      Reply
      • manobota

        সাম্প্রদায়িকতা কাকে বলে তা আপনি বুঝার চেষ্টা করুন। আপনাদের মত অসাম্প্রদায়িক(!) লোকের আধিক্যর কারনেই বর্তমান পৃথিবীতে ট্রাম্প, মোদী দের বিজয় হচ্ছে এবং হবে।

    • ব-দ্বীপ

      হিজাবের আধিক্য ও কিছু মানুষের মানসিকতা দেখে এ উপলদ্ধি আরও বেশি করে আসছে। কোনো দল এসে যদি বাংলাদেশের নারীদের হিজাব বা বোরকা পরা বাধ্যতামূলক করে তখন তার প্রতিবাদে …………আপনার এই কথাগুলির মাঝে চরম সাম্প্রদায়িক ভাব আছে । জাতিসংঘের হিউমান রাইটস কাউন্সিল ১৫ই এপ্রিল ২০১০ সালে ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে কীভাবে লড়া যায় সে বিষয়ে কয়েকটি সুনির্দিস্ট সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। ২০১১ সালের ২১শে মার্চ সর্বসন্মতভাবে সেই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের মতে ধর্ম অবমাননা একটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপরাধ। ধর্মীয় চরিত্রের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা একটি মানবাধিকার বিরোধী কাজ। খুব কৌতুহলউদ্দীপক যে ৭ নম্বর সিদ্ধান্তে বলা হচ্ছে ইসলাম এবং মুসলমানদের ভুলভাবে বারেবারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের এবং সন্ত্রাসবাদের সাথে যুক্ত করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং মুসলমান ও ইসলামকে কলংকিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল এর বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এই রেজুলুশনে বাংলাদেশ সাক্ষর করেছে। সো কল্ড মুক্তমনারা যে ফ্রি স্টাইলে ধর্ম অবমাননা চালিয়ে গেছে, ধর্মীয় চরিত্রদের নিয়ে পর্নোগ্রাফী রচনা করেছে, এটা যে মানবাধিকার লঙ্ঘন এটা বাংলাদেশের কোন মানবাধিকার সংস্থা একবারও কি মুখ ফুটে বলেছে? বামপন্থীদের বলছি, সো কল্ড স্যেকুলারিজমের নামে ইসলাম বিদ্বেষের এই ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে। এমনকি আপনাদের লিবারেল ভ্যালুজ ও এভাবে মানুষকে গরু ছাগল হিসেবে মনে করাকে এল্যাউ করেনা। কিন্তু হা হতোস্মি, কে শোনে কার কথা? মানুষকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দিতে না শিখলে এই কাচকলার রাজনীতি করে লাভ কী?এই ভ্রান্ত রাজনীতির ফলে ছাপ্পানো হাজার বর্গমাইল থেকে বিতারিত হয়ে এক বর্গ মাইলের শাহবাগে বামপন্থীদের আশ্রয় হয়েছে। এখনো হুশ না হলে এই এক বর্গমাইলের মালিকানা যেতে সময় লাগবে না।

      Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      সবচাইতে বিস্ময়কর এবং দুর্ভাবনার বিষয় হলো এই যে, যে দেশের মানুষ পাকিস্তানী শাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে সেই দেশের মানুষই ভোট দিয়ে পাকিস্তান-প্রেমী দলকে ক্ষমতায় বসায়। আগামী নির্বাচনে সে’রকম কিছু ঘটে গেলে অবাক হবো না।

      Reply
    • Ami

      @R. Masud,

      আপনার কমেন্ট পড়ে খুব সহজেই বুঝা যাই আপনি একজন চেতনা ব্যবসায়ী! ব্যবসাটা বেশ ভালো জমেছে- তাই না দাদা?

      Reply
  2. zahir Mozumder

    আমি একটি হিসাব বুঝিনা মানুষ অসম্প্রদায়িক হয় কিভাবে? কারন অসম্প্রদায়িকতো শুধু তারাই যারা কোন ধর্ম বা সম্প্রদায়ের লোক নয়। আমি মুসলিম আমি মুসলিম তাই আমি মুসলিম সম্প্রদায়ের লোক। এটাই কি স্বাভাবিক নয়?
    এখানে যার কলামটি পড়লাম তাতে বুঝলাম তিনি বাংলাদেশের মুসলিমদের উপর কিছুটা রেখে আছেন। আচ্ছা মুসলিম ধর্মের কোথায় লেখা আছে নারীর মর্যাদা কম?
    যারা উগ্র তারা কথা ভিন্ন। শুধু কি মুসলিমদের মধ্যেই উগ্র আছে । তাহলে ভারতের শিবসেনারা কি? ইসরাইলীরা কি? কিংবা ট্রাম্প সমর্থকরা কি?

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      আপনার সম্প্রদায়গত পরিচয় অক্ষুন্ন রেখেই আপনি অসাম্প্রদায়িক হতে পারেন। আমার মতে সম্প্রদায়গুলোর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও তার প্রকাশই হলো অসাম্প্রদায়িকতা। কাজেই, সাম্প্রদায়িকতাকে রুখবার জন্য আপনার সাম্প্রদায়িক হবার কোন প্রয়োজন নেই। কুকুর কামড়াতেই পারে। তাই বলে আমিতো কুকুরকে কামড়াতে পারি না।

      Reply
    • anonymous

      মুসলিম বিরোধী কার্যক্রম ও বক্তব্যের কারণে মোদি পেলো নিরঙ্কুশ বিজয়, কংগ্রেসের প্রায় ৬ গুন ভোট পেয়ে সে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলো। ভারতের মোদি, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প, মিয়ানমারের সূচি, তারই একটা নমুনা। এই উগ্রবাদের কারণে সবাই নিজের ধর্মটাকে সেরা ভাবছে। অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীল আচরণ ভূলে যাচ্ছে, ট্রাম্পের প্রতি কথায় মুসলিম বিদ্বেষের ছোঁয়া আছে। ইরাকের মানুষতো সুখেই ছিল, কিন্তু ভূয়া রিপোর্ট দিয়ে সেখানে মারণাস্ত্র আছে বলে লাখ লাখ মানুষ হত্যা করা হলো, আইএস, আল কায়দা কারা বানালো? ভিটে মাটি হারানো কিছু উদ্বাস্তু লোক নিয়ে এগুলো তৈরি করা হলো। আজ আইএস সারা বিশ্বের জন্য হুমকি, রবার্ট ফিক্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী সৌদির অর্থ আর সিআই এর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এর আবির্ভাব। নিজেদের স্বার্থে তারা এটা গড়েছে। আইএস কে ধ্বংস করার জন্য সারা পৃথিবী উঠে পড়ে লেগেছে, সাধারণ মানুষ ঝাকে ঝাকে মারা যাচ্ছে।
      উপরের আলোচনা দ্বারা এটাই প্রতিয়মান হয়, সকল অমুসলিম মাত্র উগ্রবাদী, রেসিস্ট, এন্টি ইসলামীক। কেউ যদি বলে- “আমি ক্ষমতায় গেলে মুসলিম মারবো”, ব্যস সেই হয়ে যায় তাদের কাছে হিরো। তাকেই তারা কিছু বুঝে না বুঝে নির্বাচিত করে। আর সেই সুযোগটাই নেয় রাজনীতিবিদরা। নির্বাচন কাছে আসলেই শুরু করে ইসলাম ও মুসিলম বিরোধী বিভিন্ন উগ্রবাদী বক্তব্য। একাজটি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ কথাগুলো কেন বললাম, অনেকে বলে মুসলমানরা নাকি খুব রেসিস্ট, সারা দিন অমুসলিমদের বিরুদ্ধে বলে, খুবই সাম্প্রদায়িক। কিন্তু কেউ দেখাতে পারবে না, কোন মুসলিম দেশের প্রধান তার দেশের সংখ্যালঘু অমুসলিম সম্প্রদায়ের জীবনকে হুমকি দিয়ে ভোট ব্যঙ্ক বাড়িয়েছে। কিন্তু অমুসলিম দেশে এ বিষয়টি অহরহ হচ্ছে এবং বলতে গেলে প্রায় প্রকাশ্যেই ঢাক-ঢোল পিটিয়ে হচ্ছে। আমি দেখেছি, অনেকেই মুসলমানদের সহনশীল হতে বলে, অসাম্প্রদায়িক হতে বলে। কিন্তু তারা যাদেরকে গুরু মানে তারাই কিন্তু কট্টর সাম্প্রদায়িক, উগ্রবাদী রেসিস্ট ও সন্ত্রাস মনোভাবাপন্ন। তাই আমার মনে হয়, কথিত অসাম্প্রদায়িকতার সবক মুসলমানদের না দিলেও চলবে।

      Reply
    • রাজনীতির উন্নতি

      উদারপন্থিরা পুরনো আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা জিইয়ে রাখার পাশাপাশি
      সমাজে তারা সৃষ্টি করে নতুন এলিট গোষ্ঠী। শহরের শ্রমজীবী ও
      লোকালয়ের স্বল্প আয়ের মানুষ কোথাও গুরুত্ব পান না। উপরন্তু
      শিক্ষিত ও ধনী এলিটদের সঙ্গে তাদের দূরত্ব বাড়তে থাকে। এরকম
      সময়ে নতুন কোনো সংকট না দেখা দেয়া অবধি উদারপন্থি শাসকশ্রেণি
      নিরাপদেই থাকে। কিন্তু কোনো সংকট এলে উদারতাবাদীদের বিরুদ্ধে
      কট্টরপন্থিরা সরব হয়। এতে রাষ্ট্রে এতদিন উপেক্ষিত থাকা গরিব মানুষ
      নরমপন্থিদের বিপরীতে শক্ত গলা শুনে কিছুটা যেন আশ্বস্ত হয়। শেষতক
      উপায়ান্তর না পেয়ে কট্টরদের দিকেই তারা হেলে পড়ে। কট্টরদের বেছে নেয়া ছাড়া জনগণের সামনে আর কোনো উপায় থাকে না কেন? কারণ উদার এবং কট্টর উভয়
      ধারা সবসময়ই তাদের বিকল্প হিসেবে রাজনীতির মঞ্চে যেন তৃতীয় কোনো
      ধারা উঠে দাঁড়াতে না পারে, সে ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে। বাদবাকি সকল ধারাই কোনো না কোনোভাবে উদার ও কট্টর ধারার সম্প্রসারিত মঞ্চ হিসেবে কাজ করে। এই দৃশ্য সকল পুঁজিবাদী রাষ্ট্রেই ব্যতিক্রমহীনভাবে আমরা মঞ্চস্থ হতে দেখেছি। অবশেষে যখন কট্টরপন্থা সামনে এগিয়ে আসতে থাকে, উদারপন্থিরা
      তখন পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করে। উদারতাবাদের আত্মসমর্পণের বিষয়টা
      আমরা ট্রাম্পের ক্ষেত্রে পরিষ্কারভাবে মঞ্চস্থ হতে দেখেছি। প্রথমে উদারপন্থিরা দৃঢ় আশাবাদী ছিলেন যে, ট্রাম্পের মতো লোক জিততেই পারে না।

      Reply
  3. নাসির উদ্দিন

    বাংলাদেশ কি পারবে অতি উগ্রবাদী ভারত ও আমেরিকাকে সামাল দিতে !!
    আমেরিকায় জিতেছে ট্রাম্প, ভারতে মোদি।দু’জনই অতি উগ্রবাদে বিশ্বাসী।দু’জনেরই একত্র চোখ বাংলাদেশের দিকে।কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ অতি অসাম্প্রদায়িক অসাম্প্রদায়িকতা শুনতে ভালো শোনায়, কিন্তু অসাম্প্রদায়িকতা বাস্তবতায় অতি খারাপ একটা জিনিস।কারণ আপনি ‘অসাম্প্রদায়িক’ এই কথা বলেই হার স্বীকার করে নিলেন। হিন্দুরা আসবে হিন্দুত্ব বাদ নিয়ে, খ্রীষ্টানরা আসবে খ্রীষ্টবাদ নিয়ে,আপনি তাদেরকে কি দিয়ে মোকাবেলা করবেন? অসাম্প্রদায়িকতা দিয়ে?পারবেন না, কখনই পারবেন না!বলতে পারেন এত বছর আমরা ‘অসাম্প্রদায়িক’ ছিলাম, হঠাৎ করে অসাম্প্রদায়িকতা ঝেড়ে ফেলে দেবো কিভাবে? হ্যাঁ! যখন ছিলেন তখন আপনার উপর উগ্রবাদের এতটা চাপ ছিলোনা। যারা আপনার প্রতিপক্ষ ছিলো তারা কিছুটা হলেও লিবারেল ছিলো।তাই আপনি যদি তাদেরকে অসাম্প্রদায়িক ভাব দেখাতেন তখন তারা কিছুটা হলেও খুশি হতো।কিন্তু এখন বাঘের মোকাবেলা বাঘ দিয়ে করতে হয়, ছাগল দিয়ে নয়।

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      “…. এখন বাঘের মোকাবেলা বাঘ দিয়ে করতে হয়, ছাগল দিয়ে নয়।” আপনার এই মন্তব্য খুবই বিপজ্জনক। এটা জঙ্গীবাদকে উসকে দিতে পারে। উপরে আমার মন্তব্য দেখুন।

      Reply
      • এক সময় প্রধানমন্ত্রীকেও বোরকা, হিজাব পরে বেরোতে হবে : অধ্যাপক অজয় রায়

        এভাবে চলতে থাকলে এক সময় প্রধানমন্ত্রীকেও বোরকা, হিজাব পরে বেরোতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউজিসি অধ্যাপক অজয় রায়।
        রোববার বিকালে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন আয়োজিত ‘সংকটের আবর্তে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা: প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর’ শিরোনামের আলোচনা সভায় একথা বলেন তিনি। অজয় রায় বলেন, “সরকারকে আমরা সমুচিতভাবে বলতে চাই, আপনাদের মধ্যে যারা হেফাজতি আছে তাদের চিহ্নিত করুন, শাস্তি বিধান করুন এবং জনসমক্ষে দাঁড় করান। নইলে বাংলাদেশকে আপনারা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না।
        “একদিন… বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা, আপনাকেও বোরকা পরতে হবে, আপনাকেও হেজাব পরতে হবে। এই হেফাজতিরা আপনাকেও ছাড়বে না। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলে রেহাই দেবে না।”
        বইয়ে কোনো মুদ্রণজনিত ভুল হলে সেটা মেনে নেওয়া যেত মন্তব্য করে তিনি বলেন, “কিন্তু যখন সাম্প্রদায়িকীকরণ ঘটবে তখন সেটাকে আমরা রেহাই দিতে পারি না। হেফাজতে ইসলামের নির্দেশমতো সমস্ত বই রচিত হবে, আর আমরা সেটা এখন পর্যন্ত ধর্মনিরপেক্ষ-অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে শিশুরা পড়বে, এটা চলতে পারে না।”
        হেফাজতে ইসলামের নেতাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “কী দুঃসাহসে তুমি রবীন্দ্রনাথ, অতুলপ্রসাদ, দ্বিজেন্দ্রনাথ লাল রায়কে বাদ দাও? এতো ধৃষ্টতা তোমাদের কী করে হল?” প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অধ্যাপক অজয় রায় বলেন, “বঙ্গবন্ধুকন্যাকে বলতে চাই, আমার নাম করে বলতে চাই…অজয় রায় বলছি, আপনি হেফাজতিকরণ বন্ধ করুন এবং হেফাজতিকরণের মাধ্যমে যেসব পুস্তক প্রকাশিত হয়েছে সেগুলো প্রকাশ বন্ধ করুন এবং এর আর্থিক ক্ষতি হেফাজতের কর্ণধারদের কাছ থেকে আদায় করুন।”

    • anonymous

      বিশ্বনেতাদের স্বীকার করতে হবে, তারা ব্যর্থ হয়েছেন। তারা নানাভাবে প্রতিনিয়ত ব্যর্থ হচ্ছেন। তারা অন্য অনেক মানুষকে ব্যর্থ করেছেন। আমাদের সম্পদ ক্রমাগত
      অল্প কিছু মানুষের হাতে পুঞ্জীভূত হচ্ছে, ফলে সেটা কীভাবে আরও
      বেশি করে ভাগাভাগি করা যায়, তা আমাদের শিখতে হবে।’ অতীত ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, শাসকরা এসব সুপরামর্শ সাধারণত কানে নেয় না। হিটলারের উত্থানের
      সময় ইউরোপ তা দেখেও না দেখার ভান করেছিল। তারা চেয়েছিল
      হিটলারের হাতে সোভিয়েত সমাজতন্ত্রের পরাজয় ঘটুক। তাই ফ্যাসিবাদের বিপদ সম্পর্কে সে সময় তারা কোনো সুপরামর্শ কানে নেয়নি। আজও উদারপন্থি
      শাসকশ্রেণিগুলোকে একই ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে। নানা ধরনের লাভ-
      ক্ষতির হিসাব কষে শেষ পর্যন্ত তারা উগ্রপন্থিদের উত্থানকে জায়গা
      ছেড়ে দিচ্ছেন। যদিও ইতিহাস এ সাক্ষ্যই দেয় যে, বিরাট ক্ষমতাধর এই
      স্বৈরশাসকদের পতন অনিবার্য। কিন্তু সাময়িকভাবে এই কট্টরপন্থা নিঃসন্দেহে অশান্তি ও বৈষম্যকে আরও বৃদ্ধি করবে। দুনিয়ার নিপীড়িত
      ও মুক্তিকামী জনগণকে তাই এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। জনগণের
      তীব্র সক্রিয়তাই পারে এই বিপদ ও তার ক্ষয়ক্ষতিকে কমিয়ে আনতে।

      Reply
    • আমজনতা

      ইউরোপে ব্রেক্সিট হয়ে গেছে, এখন ডানপন্থী জাতীয়তাবাদীদের জয়জয়কার
      ভারতে মোদি ক্ষমতায় এসেছে, উগ্রবাদী বিজেপি-আরএসএস’র এখন রাজত্ব
      আমেরিকায় ক্ষমতায় আসছে ট্র্যাম্প, উগ্রবাদ কত প্রকার ও কি কি, সব বুঝিয়ে দেবে।
      কি আপনি মুসলিম দেশের নাগরিক ? তাহলে তো আপনাকে সেক্যুলারিজমের ধারণা নিতে হবে। সংখ্যালঘুদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। সংখ্যাগুরু মুসলিমদের কোন অধিকার নেই, আগে সংখ্যালঘু। ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান না হলে আপনার কোন সম্মান নেই। মন্তব্য : ইহাই বর্তমান সেক্যুলারিজম, মুসলমানদের নাম-গন্ধেই দোষ, কিন্তু বাকিরা বন্দুক নিয়ে আসলেও সমস্যা নাই।

      Reply
    • প্রকাশনা সংস্থা ব-দ্বীপ

      শাহবাগ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কোনো বই প্রকাশ কেউ করছে কি না সেটা অনুসন্ধান করে দেখা হচ্ছে। “কোনো বই ধর্মীয় উন্মাদনা তৈরি করছে খবর পেলে সেই বই জব্দ করা হবে। যারা বই প্রকাশ করবেন ও বিক্রি করবেন তাদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” গতবছর বইমেলায় আসা ‘ইসলাম বিতর্ক’ নামের একটি বইয়ে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ হানার উপাদান রয়েছে দাবি করে বাংলা একাডেমির সায় নিয়ে বইটির প্রকাশনা সংস্থা ব-দ্বীপের স্টল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। পাশাপাশি ব-দ্বীপের মালিক ও বইটির সম্পাদক শামসুজ্জোহা মানিক, এক বিপণনকর্মী এবং বইটির ছাপাখানার মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়। মানিকের মুক্তি আন্দোলনে ভূমিকা রাখা রবিন আহসানের প্রকাশনা সংস্থা শ্রাবণ প্রকাশনীকে এবার বইমেলায় নিষিদ্ধ করে বাংলা একাডেমি।

      Reply
  4. নাজমুল

    সমসাময়িক বৈশ্বিক রাজনীতিতে আমরা দেখি রক্ষণশীলতা ও উগ্রবাদের জয়জয়কার।আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিংবা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এর তুলনা করলে আমরা দেখতে পারি এরা দুজনই রক্ষণশীল এবং উগ্রবাদী। তবে এ তালিকা আরো অনেক দীর্ঘ, রাশিয়ার পুতিন থেকে ফিলিপাইন এর দুতার্তে অথবা মরক্কোর ওমর আল বশির থেকে নিকারাগুয়ার ড্যানিয়েল ওর্তেগা। এক্ষেত্রে আমরা কি এডলফ হিটলার কিংবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির নাম যোগ করতে পারি না? মজার বিষয় হল উপরের সকল ব্যক্তিবর্গই মিডিয়ার নিকট দারুনভাবে সমালোচিত(যেমনটা ‘ছিলেন ‘ ডোনাল ট্রাম্প)। তবে তাদের নিজ দেশের নাগরিকের কাছে তারা যথেষ্ট সমাদৃত।তবে কি মানুষ মিডিয়ার নেতিবাচক দিকগুলো ইতিবাচক ভাবে নিচ্ছে? নাকি মিডিয়া মানুষকে বিষয়টির তাৎপর্য যথাযথভাবে বোঝাতে সক্ষম হচ্ছে না?নাকি মানুষ পরিসংখ্যান কে গুরুত্বের সাথে নিয়ে তাকে ভুল প্রমানের চেষ্টা করছে? যদিও একটি কথা প্রায় বলা হয়ে থাকে মিথ্যা তিন প্রকার -মিথ্যা, ঢাহা মিথ্যা এবং পরিসংখ্যান। ডোনাল ট্রাম্প কি সেটা আবারো প্রমান করলেন না?

    Reply
  5. সুফিয়ান

    আমেরিকায় এ বছরের তিক্ত নির্বাচনী প্রচারণার সময় রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে সরাসরি নাম করে ভারতীয় হিন্দুদের সমর্থন চেয়েছিলেন এবং তাদের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তা ছিল নজিরবিহীন।
    বহু ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান তাতে সাড়া দিয়েছেন, এবং ভারতেও বেশ কয়েকটি হিন্দু সংগঠন ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে পথে নেমেছিল। এমন কি তার জয় কামনা করে রাজধানী দিল্লির রাস্তায় পুজো এবং যজ্ঞ পর্যন্ত হয়েছিল।
    ডোনাল্ড ট্রাম্পই যে ‘বিশ্ব মানবতার একমাত্র রক্ষক’, আজ ভারতে তার সমর্থকরা সে কথা বলতেও দ্বিধা করছেন না। আসলে ডোনাল্ড ট্রাম্প যেভাবে প্রকাশ্যে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করার কথা বলেছেন, এবং তাদের ভাষায় ইসলামী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন ভারতে সেটাই তার অসংখ্য ভক্ত তৈরি করেছে।
    দিল্লির দোকানি শ্যাম হুজার যেমন বলতে কোনও দ্বিধা নেই, “মি ট্রাম্পের জয়ে আমি খুশি – কারণ আমি মনে করছি উগ্রপন্থা এখন একটা নতুন মাত্রা নেবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প, মোদি আর রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এই তিনজন মিলে উগ্রপন্থার হাওয়া দেবেন বলেই তার আশা।”

    Reply
  6. আবু সুফিয়ান

    মানুষ কখনো সংখ্যালঘু হতে পারেনা। সংখ্যালঘু শব্দটা উগ্রবাদী, রাজনীতিবিদদের টিকে থাকার তুরুপের তাস। আমেরিকার ও ভারতে মুসলমানরা সংখ্যালঘু। বাংলাদেশে হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মের মানুষ সংখ্যালঘু। এখানে তাদের ভাগ্য নিয়ে রাজনীতি চলে। কেউ এদের ওপর হত্যা নির্যাতন চালিয়ে সমর্থণ আদায়ের পন্থা অবলম্বন করে, কেউ তাদের পাশে দাঁড়িয়ে মহৎ হবার অভিনয় করে।

    Reply
  7. সিরাজুল আলম

    উদারপন্থিরা প্রত্যাখ্যাত
    হয়েছেন। তাদের এতদিনের শিক্ষা-
    সংস্কৃতিকে সাধারণ মানুষ ছুঁড়ে
    ফেলছে। এরকম অবস্থা দ্বিতীয়
    বিশ্বযুদ্ধের আগে দেখা গিয়েছিল।
    তাই অনেকের মধ্যেই এ শঙ্কা কাজ
    করছে যে, উগ্রপন্থার এই আগমনী
    আসলে দুনিয়াজোড়া বড় ধরনের
    বিপর্যয়ের সংকেত। প্রখ্যাত
    তাত্ত্বিক পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং
    সম্প্রতি এ নিয়ে মুখ খুলেছেন।
    উদারপন্থিদের কর্মকাণ্ডের ফলেই যে
    এই কট্টরতার আগমনী তা নির্দেশ
    করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এমন
    এক পৃথিবীতে বাস করছি, যেখানে
    মানুষের মধ্যে বৈষম্য শুধু বাড়ছেই,
    যেখানে বিপুল মানুষের শুধু যাপিত
    জীবনের মান নয়, জীবিকা অর্জনের
    সক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে তারা
    যে নতুন সামাজিক চুক্তির সন্ধান
    করছেন, তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু
    নেই; ট্রাম্প ও ব্রেক্সিট তাদের
    সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে।’
    এই অবস্থা দূরীকরণে পরামর্শও
    দিয়েছেন পৃথিবীর হাল-হকিকত নিয়ে
    চিন্তিত এই বিজ্ঞানী। তার মতে,
    ‘জাতিতে জাতিতে যে বৈরিতা ছিল,
    তাদের মধ্যে যে বিভেদের দেয়াল
    ছিল, তা ভেঙে ফেলতে হবে। আমাদের
    যদি সেটা করতে হয়, তাহলে
    বিশ্বনেতাদের স্বীকার করতে হবে,
    তারা ব্যর্থ হয়েছেন। তারা
    নানাভাবে প্রতিনিয়ত ব্যর্থ হচ্ছেন।
    তারা অন্য অনেক মানুষকে ব্যর্থ
    করেছেন। আমাদের সম্পদ ক্রমাগত
    অল্প কিছু মানুষের হাতে পুঞ্জীভূত
    হচ্ছে, ফলে সেটা কীভাবে আরও
    বেশি করে ভাগাভাগি করা যায়, তা
    আমাদের শিখতে হবে।’
    অতীত ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে,
    শাসকরা এসব সুপরামর্শ সাধারণত
    কানে নেয় না। হিটলারের উত্থানের
    সময় ইউরোপ তা দেখেও না দেখার
    ভান করেছিল। তারা চেয়েছিল
    হিটলারের হাতে সোভিয়েত
    সমাজতন্ত্রের পরাজয় ঘটুক। তাই
    ফ্যাসিবাদের বিপদ সম্পর্কে সে সময়
    তারা কোনো সুপরামর্শ কানে নেয়নি।
    আজও উদারপন্থি
    শাসকশ্রেণিগুলোকে একই ভূমিকায়
    দেখা যাচ্ছে। নানা ধরনের লাভ-
    ক্ষতির হিসাব কষে শেষ পর্যন্ত তারা
    উগ্রপন্থিদের উত্থানকে জায়গা
    ছেড়ে দিচ্ছেন। যদিও ইতিহাস এ
    সাক্ষ্যই দেয় যে, বিরাট ক্ষমতাধর এই
    স্বৈরশাসকদের পতন অনিবার্য। কিন্তু
    সাময়িকভাবে এই কট্টরপন্থা
    নিঃসন্দেহে অশান্তি ও বৈষম্যকে
    আরও বৃদ্ধি করবে। দুনিয়ার নিপীড়িত
    ও মুক্তিকামী জনগণকে তাই এর
    বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। জনগণের
    তীব্র সক্রিয়তাই পারে এই বিপদ ও
    তার ক্ষয়ক্ষতিকে কমিয়ে আনতে।

    Reply
  8. আলী সিকদার

    বিশ্বজুড়ে কট্টরপন্থার এই বিকাশ
    আমাদের আঞ্চলিক পরিসরেও বেশ
    মূর্ত হয়ে উঠেছে। পাশের দেশ
    ভারতেও কট্টরপন্থা এখন সর্বত্র থাবা
    বিস্তার করেছে। উদারপন্থি রাষ্ট্র
    হিসেবে পরিচিত ভারতে এখন
    ক্ষমতায় আছেন কট্টরপন্থি মোদি।
    যিনি কিনা সে দেশের উগ্র ডানপন্থি
    প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিগুলোর
    মনোনীত নেতা। তার ক্ষমতায় আসার
    পর থেকে ভারতে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা
    সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে।
    ধর্মীয় বিবাদ ইতোমধ্যে অনেক
    মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়েছে।
    কাশ্মীরে চলছে অব্যাহত সংঘর্ষ ও
    উত্তেজনা। ভারত সরকার প্রতিবেশী
    পাকিস্তানের সঙ্গেও প্রকাশ্য
    দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে। মোদি যদিও
    বিভিন্ন নীতির কারণে সমালোচিত
    হচ্ছেন, কিন্তু তাতে যেন তার
    উগ্রপন্থি ক্রিয়াকলাপ আরও বৃদ্ধি
    পাচ্ছে। সম্প্রতি কয়েকটি আন্দোলনে
    নাকাল হওয়ার পর পাকিস্তানে পানি
    বইতে দেয়া হবে না বলে উগ্রপন্থিদের
    নিজের দিকে টেনেছেন মোদি। তার
    সরকার হিন্দুত্ববাদ ও ভারতীয়
    আধিপত্যবাদকে পুঁজি করে
    অব্যাহতভাবে উগ্র প্রচার-প্রচারণা
    চালিয়ে আসছে। এর বিপরীতে
    বিরোধী পক্ষগুলো সেখানে কোনো
    সুবিধা করে উঠতে পারছে না।
    শুধু মোদি নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ
    মিয়ানমারের নোবেল শান্তি বিজয়ী
    নেত্রী সু চিও উগ্রপন্থাকে প্রশ্রয়
    দিচ্ছেন। দীর্ঘকাল ধরে অহিংসবাদী
    হিসেবে পরিচিত সে দেশের বৌদ্ধরা
    এখন মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর সশস্ত্র
    দমনপীড়ন চালাচ্ছে। রাষ্ট্রীয়
    নীরবতা ও উগ্র বৌদ্ধদের হামলার
    ফলে ইতোমধ্যে সেখানে অনেকের
    বসতবাড়ি পুড়েছে, অনেক মানুষ
    উদ্বাস্তু হয়েছেন, প্রাণে মারা
    গেছেন। এসবের রেশ বাংলাদেশেও
    এসে পড়ছে। এখানকার বৌদ্ধরা
    প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন, মুসলিমরাও।
    বিরোধীদের প্রতি বর্তমান সরকারের
    কঠোর দমনমূলক মনোভাবে এমনিতেই
    বাংলাদেশে কট্টরতার হাওয়া বইছে।
    তার সঙ্গে যোগ হচ্ছে ভারতের
    অসহিষ্ণুতা এবং মিয়ানমারে
    মুসলিমদের ওপর নির্যাতন। মুসলিমদের
    সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে পশ্চিমা
    বিশ্বের চালানো প্রোপাগান্ডা এ
    অঞ্চলেও ফেরি হচ্ছে। ফলে মুসলিম
    জনগোষ্ঠীর মধ্যে ধর্মীয় স্পর্শকারতা
    তীব্র হচ্ছে। একদিকে তারা দেখছে
    কাশ্মীর ও রাখাইনে মুসলিমরা
    নিপীড়িত হচ্ছে, অন্যদিকে তারা
    দেখছে হিন্দু-বৌদ্ধরা সন্ত্রাস
    চালালেও কেবল মুসলিমদেরই
    সন্ত্রাসী বলে প্রচার চলছে। আবার
    ক্ষমতাসীন সরকারের বিভিন্ন নীতির
    ফলে এদেশে ভারতীয় স্বার্থ যত
    বাড়ছে জনগণের ক্ষোভও যেন তত বৃদ্ধি
    পাচ্ছে।

    Reply
  9. হাসান

    এতদিন মুসলিম দেশগুলো অধিকাংশই
    মডারেট এবং কতক প্রাচীনপন্থি
    হিসেবে ভূমিকা রাখলেও তুরস্কের
    মতো মডারেট ইসলামী রাষ্ট্রে এখন
    কট্টর ধারা পুনঃস্থাপিত হয়েছে।
    মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে টানা অশান্তি ওই
    অঞ্চলের সরকারগুলোকে আরও
    কট্টরতার দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
    আবার এই অস্থিরতার সুযোগকে কাজে
    লাগিয়ে আইএসের মতো কট্টর গ্রুপ
    যেভাবে পায়ের তলে জমি করে
    নিয়েছে তেমনি এর সুযোগ
    রাষ্ট্রগুলোও নিচ্ছে। সৌদি আরব এই
    অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে নিজের
    শত্রুদের দুর্বল করছে। তুরস্কের
    প্রেসিডেন্ট এরদোগানও একই কাজ
    করছেন। তিনি নিজের ক্ষমতা বৃদ্ধি
    করেছেন, সে দেশের গণমাধ্যমগুলোকে
    আরও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে এনেছেন,
    ইউরোপে অন্তর্ভুক্তির চেষ্টাকে শ্লথ
    করেছেন। এরদোগানের বিভিন্ন
    বক্তব্য এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজ তথা
    অঙ্গভঙ্গি থেকে স্পষ্ট যে, তিনি এক
    আধুনিক মুসলিম স্বৈরশাসক ও
    বিশ্বনেতা হিসেবে নিজেকে
    অধিষ্ঠিত করতে মনস্থ করেছেন। যা
    কিনা মুসলিম দুনিয়ায় উগ্রপন্থাকে
    আরও বেশি যৌক্তিক প্রতিপন্ন
    করছে।
    ইসরাইলের শাসকশ্রেণি বরাবরই
    কট্টরপন্থি। কিন্তু এতদিন তাদের
    কট্টরতার কিছু সীমারেখা ছিল।
    বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরাইলের
    শাসকশ্রেণি যেন আরও মরিয়া হয়ে
    উঠেছে। ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের
    অস্তিত্বই এখন আর তারা স্বীকার
    করতে চাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রে
    ট্রাম্পের বিজয় তাদের স্বপ্ন
    দেখাচ্ছে স্বাধীন ফিলিস্তিনের
    দাবি ধুলোয় মিশিয়ে দেয়ার। ফলে
    সাম্প্রতিক সময়ে তাদের তৎপরতা
    বেড়েছে। গোলযোগপূর্ণ সিরীয়
    সীমানার একাংশ তারা দখলে
    নিয়েছে। ফিলিস্তিনিদের এলাকায়
    নিজেদের দখল সম্প্রসারণকে করেছে
    গতিশীল। যা কিনা মধ্যপ্রাচ্যসহ
    সারা দুনিয়ার মুসলিমদের মধ্যে
    উগ্রপন্থাকে জোরদার করছে।
    বর্তমান বিশ্বের প্রধান পরাশক্তি
    যুক্তরাষ্ট্রের উগ্রবাদী পুনর্গঠন এখন
    সারা দুনিয়ার মানুষের আলোচনার
    বিষয়বস্তু। যেভাবে সেদেশে
    কট্টরপন্থিরা উদারপন্থিদের পরাস্ত
    করেছে বিশ্ববাসী তাতে বিস্ময়
    প্রকাশ করেছে। ট্রাম্প
    নারীবিদ্বেষী, গর্ভপাতের বিরোধী।
    শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য ও মার্কিন
    ক্ষমতার বিস্তৃতিকরণে তিনি
    অঙ্গীকারবদ্ধ। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায়
    ইরান ও কিউবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের
    চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে বাতিল
    করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি।
    এমনকি ন্যাটো জোটে থাকা
    এযাবৎকালের ইউরোপীয় মিত্রদের
    কাছ থেকে যথেষ্ট অর্থকড়ি আদায়ের
    দাবিও তুলেছেন। ইসরাইলের
    শাসকশ্রেণির হাত শক্তিশালী করার
    পাশাপাশি ট্রাম্প ঘোষণা দিয়ছেন
    চীনের বিষদাঁত ভেঙে দেয়ার।
    রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক
    বরাবরই খারাপ হলেও কট্টর রুশ
    প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ট্রাম্পের ভীষণ
    পছন্দ। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ট্রাম্প
    নানা ধরনের সংস্কারের ডাক
    দিয়েছেন। সরকারের ওপর
    ধনিকশ্রেণির আধিপত্যের বিরুদ্ধেও
    তাকে নির্বাচনকালে সরব থাকতে
    দেখা গেছে। অভিবাসী নিয়ন্ত্রণ
    এবং প্রতিবেশী দেশের লোকজনের
    চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপে
    জোর দিয়েছেন। মেক্সিকো
    সীমান্তে দেয়াল তোলা এবং ট্রান্স
    প্যাসিফিক পার্টনারশিপ তথা
    টিপিপি বাণিজ্যচুক্তি ও জলবায়ু
    রক্ষার্থে করা প্যারিসচুক্তি
    বাতিলের ঘোষণা দিয়ে আলোচিত
    হয়েছেন ট্রাম্প। এসব কর্মকাণ্ডের
    মাধ্যমে তিনি বিশ্ববাসী এবং
    প্রতিবেশীদের যে বার্তা
    পাঠিয়েছেন তা দুনিয়াজোড়া
    শান্তিকামী মানুষের মধ্যে বিপদের
    আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
    ট্রাম্পের নির্বাচনকে জঙ্গিবাদের
    বিরুদ্ধে বিজয় বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ
    করা হয়েছে। তার বিজয়ে
    ওয়াশিংটনে শ্বেতাঙ্গ
    শ্রেষ্ঠত্ববাদীরা উল্লাস করেছে।
    নানা শহরে বর্ণবাদীদের হাতে
    মুসলমানদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা
    বেড়েছে। আমেরিকাকে আবার মহান
    করা এবং শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যের
    ধোঁয়া তুলে বর্ণবাদ ও উগ্র
    জাতীয়তাবাদের বিস্তৃতি ঘটানো
    হচ্ছে।

    Reply
  10. হাবিবুর

    উদারপন্থিরা পুরনো আর্থ-সামাজিক
    ব্যবস্থা জিইয়ে রাখার পাশাপাশি
    সমাজে তারা সৃষ্টি করে নতুন এলিট
    গোষ্ঠী। শহরের শ্রমজীবী ও
    লোকালয়ের স্বল্প আয়ের মানুষ
    কোথাও গুরুত্ব পান না। উপরন্তু
    শিক্ষিত ও ধনী এলিটদের সঙ্গে
    তাদের দূরত্ব বাড়তে থাকে। এরকম
    সময়ে নতুন কোনো সংকট না দেখা
    দেয়া অবধি উদারপন্থি শাসকশ্রেণি
    নিরাপদেই থাকে। কিন্তু কোনো
    সংকট এলে উদারতাবাদীদের বিরুদ্ধে
    কট্টরপন্থিরা সরব হয়। এতে রাষ্ট্রে
    এতদিন উপেক্ষিত থাকা গরিব মানুষ
    নরমপন্থিদের বিপরীতে শক্ত গলা শুনে
    কিছুটা যেন আশ্বস্ত হয়। শেষতক
    উপায়ান্তর না পেয়ে কট্টরদের দিকেই
    তারা হেলে পড়ে।
    কট্টরদের বেছে নেয়া ছাড়া জনগণের
    সামনে আর কোনো উপায় থাকে না
    কেন? কারণ উদার এবং কট্টর উভয়
    ধারা সবসময়ই তাদের বিকল্প হিসেবে
    রাজনীতির মঞ্চে যেন তৃতীয় কোনো
    ধারা উঠে দাঁড়াতে না পারে, সে
    ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে।
    আর এই তৃতীয় ধারাটি হচ্ছে বামপন্থা।
    বাদবাকি সকল ধারাই কোনো না
    কোনোভাবে উদার ও কট্টর ধারার
    সম্প্রসারিত মঞ্চ হিসেবে কাজ করে।
    বামপন্থিদের বিরুদ্ধে পুঁজিবাদী তথা
    গণতন্ত্রবাদী এই দুই ধারার প্রশ্নাতীত
    ঐক্যই কট্টরতার আগমনকে ভবিতব্য
    করে তোলে। এই দৃশ্য সকল পুঁজিবাদী
    রাষ্ট্রেই ব্যতিক্রমহীনভাবে আমরা
    মঞ্চস্থ হতে দেখেছি।
    অবশেষে যখন কট্টরপন্থা সামনে
    এগিয়ে আসতে থাকে, উদারপন্থিরা
    তখন পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করে।
    উদারতাবাদের আত্মসমর্পণের বিষয়টা
    আমরা ট্রাম্পের ক্ষেত্রে
    পরিষ্কারভাবে মঞ্চস্থ হতে দেখেছি।
    প্রথমে উদারপন্থিরা দৃঢ় আশাবাদী
    ছিলেন যে, ট্রাম্পের মতো লোক
    জিততেই পারে না।

    Reply
  11. হাকিম

    বর্তমান পুঁজিবাদী বিশ্বের
    শাসকশ্রেণিগুলো প্রধানত দুটি
    শিবিরে বিভক্ত, কট্টরপন্থি ও
    উদারপন্থি। কট্টরপন্থিদের কিছুটা
    সেকেলে এবং উদারপন্থিদের মনে
    করা হয় আধুনিক। কিন্তু বাস্তবতা
    দেখায় যে, কট্টরপন্থা ও সেকেলে
    ধ্যান-ধারণার গর্ভ থেকে জন্ম নেয়া
    উদার ও আধুনিকরা এখনও পিছিয়েই
    আছেন। তত্ত্ব বইয়ে ব্রিটিশ দার্শনিক
    জন লকের উদারপন্থাকে যেভাবেই
    চিত্রিত করা হয়ে থাকুক না কেন
    বিভিন্ন রাষ্ট্রের ক্ষমতার উত্থান-
    পতনের মধ্য দিয়ে এটা এখন স্পষ্ট যে,
    উদারতাবাদ নিজেই কট্টরপন্থাকে
    ভবিতব্য করে তোলে এবং তার কাছে
    আত্মসমর্পণ করে।
    যুদ্ধ, বিপর্যয়, অর্থনৈতিক মন্দা,
    অচলাবস্থার মতো পরবর্তী সময়ে
    সাধারণত নরমপন্থি সরকারকে
    ক্ষমতায় আসতে দেখা যায়। এদের
    আমরা উদারতাবাদী হিসেবে চিনি।
    এই উদারপন্থিরা মুখে অনেক মিষ্টি
    কথা বললেও পুরনো ব্যবস্থার কিছু
    চুনকাম ব্যতীত তাদের পক্ষে মৌলিক
    কোনো পরিবর্তন আনা সম্ভব হয় না।
    পুরনো কট্টর ধারাকে তারা উৎখাত
    করে না, বরং তাদের সঙ্গে
    সহাবস্থানের কৌশলী পথ উন্মুক্ত
    করে। কট্টরপন্থিদের একাংশকে
    তারা নিজেদের সঙ্গেই রাখে।
    বিশ্বের সব উদারপন্থি সরকারেই
    সাম্প্রদায়িক, ধনকুবের, যুদ্ধবাজ,
    দুর্নীতিবাজদের লালিত-পালিত হতে
    দেখা যায়। উদারতার সাইনবোর্ডে
    চলতে থাকে বেশুমার কট্টর তৎপরতা।
    নিজ দেশের সীমা পেরুলে এই কট্টরতা
    সব সীমাকেই অতিক্রম করে।

    Reply
  12. ইরফানুর রহমান রাফিন

    বিশ্বজুড়ে বইছে কট্টরপন্থার হাওয়া।
    গত কয়েক দশকের মধ্যে কট্টরপন্থিরা
    পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে এখনই
    সবচেয়ে বেশি সুসংহত অবস্থানে
    আছে। গত শতকের সত্তর দশকের শেষেই
    কমিউনিস্ট বিপ্লবীরা বিশ্ব
    রাজনীতির মঞ্চে ক্ষমতার লড়াইয়ে
    পিছিয়ে পড়ে। এরও কিছুটা আগে,
    কার্যত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে
    গোটা দুনিয়া প্রধানত উদারপন্থি
    পুঁজিবাদীদের দ্বারাই পরিচালিত
    হয়ে আসছে। তাদের তত্ত্বাবধানে
    বিকশিত হয়েছে উদারবাদী ও নয়া
    উদারবাদী অর্থনীতির ধারা। সারা
    বিশ্বকে মুক্তবাজার অর্থনীতি দিয়ে
    বাঁধা হয়েছে একই সুতোয়। বিশ্বকে
    সংযুক্তকরণের এই ধারণা উদারপন্থি
    রাষ্ট্রগুলোর বিভিন্ন রাজনৈতিক,
    সামরিক ও বাণিজ্য জোট গড়ে তুলতে
    সহায়তা করেছে। কিন্তু দ্বিতীয়
    বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তীকাল ধরে চলে আসা
    উদারপন্থিদের এই কর্তৃত্ব এখন কার্যত
    হুমকির মুখে। বিশ্ব পরাশক্তিসহ ছোট-
    বড় বিভিন্ন দেশেই একের পর এক
    ক্ষমতায় আসছে কট্টরপন্থিরা। বিশ্ব
    যেন নতুন যুগসন্ধিক্ষণের মুখে
    দাঁড়িয়ে।

    Reply
  13. ইউনুস কানন

    বর্তমান বিশ্বটা উগ্রবাদী নেতৃত্বের দিকে এগিয়ে চলেছে। ভারতের মোদি, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প, মিয়ানমারের সূচি, তারই একটা নমুনা। এই উগ্রবাদের কারণে সবাই নিজের ধর্মটাকে সেরা ভাবছে। অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীল আচরণ ভূলে যাচ্ছে, ট্রাম্পের প্রতি কথায় মুসলিম বিদ্বেষের ছোঁয়া আছে। ইরাকের মানুষতো সুখেই ছিল, কিন্তু ভূয়া রিপোর্ট দিয়ে সেখানে মারণাস্ত্র আছে বলে লাখ লাখ মানুষ হত্যা করা হলো, আইএস, আল কায়দা কারা বানালো? ভিটে মাটি হারানো কিছু উদ্বাস্তু লোক নিয়ে এগুলো তৈরি করা হলো। আজ আইএস সারা বিশ্বের জন্য হুমকি, রবার্ট ফিক্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী সৌদির অর্থ আর সিআই এর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এর আবির্ভাব। নিজেদের স্বার্থে তারা এটা গড়েছে। আইএস কে ধ্বংস করার জন্য সারা পৃথিবী উঠে পড়ে লেগেছে, সাধারণ মানুষ ঝাকে ঝাকে মারা যাচ্ছে। সিরিয়ায় যুদ্ধ থামানোর জন্য পৃথিবীর দুমেরু যুদ্ধে নেমেছে, যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার বোমা সেখানে পড়ছে, সবাই বলছে তারা নাকি শান্তির জন্য বোমা ফেলছে? সেখানকার মানুষ শরণার্থী হয়ে ভূমধ্যসাগরে ডুবে মরছে, শান্তি তাদের যাদুঘরে উঠে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের কোন মুসলিম দেশে শান্তি নেই, শেখদের দুগ্রুপে ভাগ করে দিয়ে যুদ্ধ বাধিয়ে দেয়া হয়েছে। এখন তারা নিজেরাই মরছে, এক গোত্র অন্য গোত্রে বোমা মারছে। পশ্চিমারা এর নাম দিয়েছে আরব বসন্ত। জান্তাদের শাসনামলে রোহিঙ্গাদের এতটা দূর্ভোগ হয়নি, কিন্তু এক লেডি সেখানে শান্তির সনদ নিয়ে গণতন্ত্র কায়েমের নামে এসে এই রোহিঙ্গা, অতিদরিদ্র, অসহায় মানুষগুলোর পরিচয় কেড়ে নিয়ে কাবাব এবং পচা মাংসে পরিণত করা শুরু করেছেন।

    Reply
  14. মুসলমানদের নাম-গন্ধেই দোষ

    ইউরোপে ব্রেক্সিট হয়ে গেছে, এখন ডানপন্থী জাতীয়তাবাদীদের জয়জয়কার
    ভারতে মোদি ক্ষমতায় এসেছে, উগ্রবাদী বিজেপি-আরএসএস’র এখন রাজত্ব
    আমেরিকায় ক্ষমতায় আসছে ট্র্যাম্প, উগ্রবাদ কত প্রকার ও কি কি, সব বুঝিয়ে দেবে।
    কি আপনি মুসলিম দেশের নাগরিক ? তাহলে তো আপনাকে সেক্যুলারিজমের ধারণা নিতে হবে। সংখ্যালঘুদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। সংখ্যাগুরু মুসলিমদের কোন অধিকার নেই, আগে সংখ্যালঘু। ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান না হলে আপনার কোন সম্মান নেই। মন্তব্য : ইহাই বর্তমান সেক্যুলারিজম, মুসলমানদের নাম-গন্ধেই দোষ, কিন্তু বাকিরা বন্দুক নিয়ে আসলেও সমস্যা নাই।

    Reply
  15. কায়সার

    ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন কী করে! তাই না? আশ্চার্য হবার জন্যেই এভাবে লিখেছি। তবে তিনি যে বিপুল ভোটে আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন তা মোটামুটি নিশ্চিত। প্রশ্ন করতে পারেন, আমি কিভাবে নিশ্চিত হলাম। আচ্ছা, ব্যাখ্যা করছি। আপনি কি কখনও ভেবেছিলেন যে ভারতের গত জাতীয় নির্বাচনে হিন্দু উগ্রবাদী, ভারতের ধর্মীয়-সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের অন্যতম নেতা নরেন্দ্র মোদি ভারতের জনগণের সরাসরি ভোটে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন? আমি মনে হয় আপনি তা ভাবেননি। কিন্তু তিনি শুধু নির্বাচিতই হননি, মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি ভারতের মহান নেতা হিসেবেও আখ্যায়িত হয়েছেন। অথচ গুজরাটে জাতিগত দাঙ্গায় মুসলিমদের হত্যা করার জন্য তিনি সরাসরি হুকুম দিয়েছিলেন। সেই খুনি ধর্মীয় হিন্দু-জঙ্গী নরেন্দ্র মোদি আজ পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রীক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী। আপনি ভাবছেন নরেন্দ্র মোদির সাথে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয়ী হওয়ার সম্পর্ক কী? সম্পর্ক আছে। সম্পর্কটি হলো মার্কিন মুল্লুকেও বৈষম্য আর বর্ণবাদ ভারতের মতই প্রকট। ওরাও ধর্মীয় জঙ্গীবাদীদের মতই উগ্র বলে এখনও পুরোপুরি সভ্য হতে পারেনি। কপটতা হীনমন্যতা আর উগ্রবাদী মনোভাবে ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে পার্থক্য খুবই সামান্য। মোদি একজন হিন্দু উগ্রবাদী, একজন খুনি হয়েও যেমন বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তেমনি ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রমান করেছেন যে তিনি একজন মুসলিমবিদ্বেষী মানবতা বিরোধী উগ্রবাদী। বর্তমান দুনিয়ায় যখনই আপনি দেখবেন কেউ মুসলিমদের উপর জুলুম নির্যাতনের জন্য জনগণকে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনিই সেই দেশের ক্ষমতা অর্জন করেছেন। এটা শুধু নরেন্দ্র মোদি বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রেই প্রজোয্য নয়। এই থিউরী সকল উগ্রবাদী জাতির জন্যই সমভাবে প্রজোয্য।
    মার্কিন মুল্লুককে সমস্ত দুনিয়ার সভ্যতার রাজধানী বলা হলেও বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। আমেরিকানদের আমরা যতটা আধুনিক এবং সভ্য বলে জানি, বাস্তবে ওরা ততটাই বর্বর এবং অসভ্য। সেইজন্য মার্কিন মুল্লুকে ট্রাম্পের মতো ভণ্ডেরও কোটি কোটি ভক্ত আছে।

    Reply
  16. আলমগীর

    যারা মৌলবাদ বিরোধী স্লোগান দিয়েও ধর্মীয় উগ্রবাদীমোদি কিংবা ট্রাম্প দের বিজয়ে উল্লাস করেন….তারা তো সন্দেহাতীত ভাবেই ভারসাম্যহীন…!!! আমেরিকায় ট্রাম্প,ভারতে মোদি
    সবখানেই উগ্রবাদী।
    বাংলাদেশে কোনবাদী……!!

    Reply
  17. baloy roy

    শুধুমাত্র মুসলিম অভিবাসী বিরোধী বক্তব্য দেওয়ার কারণে এখন ইউরোপের অনেক রাষ্ট্রেই উগ্র ডানপন্থীদের রাজত্ব, কারণ ঐখানকার জনগণ ইসলাম ও ‍মুসলিম বিরোধী বক্তব্য খুবই পছন্দ করে। আর সেই পছন্দকে কাছে লাগাতে অমুসলিম রাজনীতিবিদরা নির্বাচনের আগে ঘোষণা দেয়- আমি ক্ষমতায় গেলে মুসলিমদেরকে কেটে ফেলেবো, দেশ থেকে বের করে দিবো, মুসলিম দেশে হামলা চালাবো। ব্যস এতটুকু কথা শুনেই সেখানাকার অমুসলিমদের প্রিয়পাত্র হয়ে যায় রাজনীতিবিদরা এবং পায় নিরঙ্কুশ ভোট। এতদূরে যাওয়ার দরকার নেই। পাশের ভারতে দেখুন। ২০০১ সালে গুজরাটে ঘটে যায় এক বড় ধরনের ভূমিকম্প। ভূমিকম্পে গুজরাটে ক্ষয়ক্ষতি এত বিশাল ছিলো যে, তৎকালীন মূখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়। পরিস্থিতি কঠিন হওয়ায় তখন কাউকে অস্থায়ী মূখ্যমন্ত্রী পদে দেওয়া যাচ্ছিলো না, কারণ পাবলিক হয়ে পড়েছিলো ক্ষিপ্ত। ঠিক সেই মূহুর্তে ছুচকে রাজনীতিবিদ মোদিকে ধরে বেন্দে বসানো হয় গুজরাটের মূখ্যমন্ত্রীর পদে। মূখ্যমন্ত্রীর পদে যাওয়ার পর মোদি ফন্দি আটতে থাকে- কি করে পাবলিককে শান্ত করা যায়, কি করে ক্ষমতা স্থায়ী করা যায়, কি করে পাবলিক সাপোর্ট পাওয়া যায় ? হিন্দুরা অবাধে মুসলিম নিধন করলো গুজরাট দাঙ্গার নামে। মারলো হাজারে হাজারে মুসলমান। ব্যস অস্থায়ী মূখ্যমন্ত্রী মোদি হয়ে গেলো হিন্দুদের হিরো। এরপর এক বার নয়, মুসলিম নিধনের সহযোগীতা করায় তার জনপ্রিয়তা এতটাই বৃদ্ধি পেলো যে পর পর তিন বার নিরঙ্কুশ ভোটে নির্বাচিত হলো। আর শেষবার তাকে আরএসএস পক্ষ থেকে বলা হলো তাকে প্রধানমন্ত্রী পদে দাড়ানোর জন্য। এর শর্তও ৩টি মুসলিম বিদ্বেষী-
    ১) ক্ষমতায় গেলে বাবরী মসজিদের স্থলে রামমন্দির প্রতিষ্ঠা করতে হবে,
    ২) কাশ্মীরের ক্ষমতা বিলোপ করতে হবে,
    ৩) বাংলাভাষী মুসলিম (তাদের ভাষায় অনুপ্রবেশকারী)দেরকে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে হবে।
    মুসলিম বিরোধী কার্যক্রম ও বক্তব্যের কারণে মোদি পেলো নিরঙ্কুশ বিজয়, কংগ্রেসের প্রায় ৬ গুন ভোট পেয়ে সে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলো।
    উপরের আলোচনা দ্বারা এটাই প্রতিয়মান হয়, সকল অমুসলিম মাত্র উগ্রবাদী, রেসিস্ট, এন্টি ইসলামীক। কেউ যদি বলে- “আমি ক্ষমতায় গেলে মুসলিম মারবো”, ব্যস সেই হয়ে যায় তাদের কাছে হিরো। তাকেই তারা কিছু বুঝে না বুঝে নির্বাচিত করে। আর সেই সুযোগটাই নেয় রাজনীতিবিদরা। নির্বাচন কাছে আসলেই শুরু করে ইসলাম ও মুসিলম বিরোধী বিভিন্ন উগ্রবাদী বক্তব্য। একাজটি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প।
    এ কথাগুলো কেন বললাম, অনেকে বলে মুসলমানরা নাকি খুব রেসিস্ট, সারা দিন অমুসলিমদের বিরুদ্ধে বলে, খুবই সাম্প্রদায়িক। কিন্তু কেউ দেখাতে পারবে না, কোন মুসলিম দেশের প্রধান তার দেশের সংখ্যালঘু অমুসলিম সম্প্রদায়ের জীবনকে হুমকি দিয়ে ভোট ব্যঙ্ক বাড়িয়েছে। কিন্তু অমুসলিম দেশে এ বিষয়টি অহরহ হচ্ছে এবং বলতে গেলে প্রায় প্রকাশ্যেই ঢাক-ঢোল পিটিয়ে হচ্ছে।
    আমি দেখেছি, অনেকেই মুসলমানদের সহনশীল হতে বলে, অসাম্প্রদায়িক হতে বলে। কিন্তু তারা যাদেরকে গুরু মানে তারাই কিন্তু কট্টর সাম্প্রদায়িক, উগ্রবাদী রেসিস্ট ও সন্ত্রাস মনোভাবাপন্ন। তাই আমার মনে হয়, কথিত অসাম্প্রদায়িকতার সবক মুসলমানদের না দিলেও চলবে।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—