- মতামত - https://opinion.bdnews24.com/bangla -

এই ত্রাসের রাজত্ব আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাস নয়

wahiduzzaman-fআমার প্রিয় ক্যাম্পাস জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝরে গেল আরেকটি মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবন। পত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জানতে পারলাম নিহত জুবায়ের আহমেদ ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিলো। মেধাবী এই ছাত্রের অপরাধ, সে এক সময় ছাত্রলীগের একটি গ্রুপের সাথে রাজনীতি করতো যে গ্রুপটির ওই ক্যাম্পাসে প্রবেশাধিকার নেই! আমাদের ছাত্রজীবনেও আমরা এমন ঘটনা অনেক দেখেছি যে, ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের অর্ন্তদন্দ্বে এক গ্রুপ বাইরে থাকতো। তবে পরীক্ষার সময় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থায় তাদের ক্যাম্পাসে এনে বা ক্যাম্পাসের বাইরে কোন প্রতিষ্ঠানে সাব-সেণ্টার করে পরীক্ষা নেবার ব্যবস্থা করতেন। দণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী জেলে বসে পরীক্ষা দিয়েছে এমন ঘটনাও আমাদের সময়ে আমরা দেখেছি।

এখন সময় বদলেছে। আগে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এইসব ক্যাম্পাস প্রবাসী ছাত্রদের প্রতি সহমর্মী থাকতো এখন সেখানে তাদেরকে কীভাবে আরো অপদস্থ করা যায় সেসব পরিকল্পনার মোবাইল আলাপের বিবরণ ও আমাদেরকে পত্রিকায় পড়তে হয়। দরিদ্র বাবা-মার সন্তান জুবায়ের হয়ত নিরুপায় হয়ে মৃত্যু ঝুঁকি নিয়েই অনার্স ফাইনাল পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলো। উচ্চ শিক্ষার প্রতি আগ্রহের এই অপরাধকে ঘাতকরা কিছুতেই ক্ষমা করতে পারেনি। পরীক্ষা শেষে প্রকাশ্য দিবালোকে নিজ বিভাগের অন্যান্য সহপাঠীদের সামনে থেকে ১০/১২ জন ঘাতক তাকে ধরে নিয়ে গেছে, প্রশাসন কি এটা জানতে পারে নি? এরপর তাঁকে নির্মাণাধীন ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের পেছনে নিয়ে রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে বেধড়ক আঘাত করা হয়েছে। শেষে ঘাতকদের মধ্যেই দুইজন আবার তাঁকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজে নিয়ে ভর্তি করে দিয়ে এসেছে। এই পুরো সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি বিষয়টা জানতো না– এটা প্রতিষ্ঠিত করা কঠিন।

জুবায়ের আহমেদ এখন মৃত। আকাঙ্খিত উচ্চশিক্ষার যে সনদ আনতে সে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলো সেখান থেকে সে কফিনে শুয়ে ফেরত যাবে গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর কুয়াকাটায়। বাবার কাঁধে উঠবে পুত্রের লাশ। এ বড় নির্মম শাস্তি। এই শাস্তি কি এড়ানো যেতো না? সংবাদ মাধ্যমে গত দুই বছর যাবৎ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় যতবার না সু-সংবাদের জন্য শিরোনাম হয়েছে তারচেয়ে বেশিবার শিরোনাম হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের তাণ্ডবের জন্য। অথচ আমরা সবাই জানি যে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কোন কমিটি নেই। আরো দেড় বছর আগে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে এই ইউনিটের সকল কর্মকাণ্ড স্থগিত ঘোষনা করা হয়েছে।

পত্র-পত্রিকা পড়ে আমরা আরো জেনেছি যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের একটি অংশকে পৃষ্টপোষকতা দেয়। এতদিন যাবৎ দেখে এসেছি সংগঠনের গ্রুপিং হয় ব্যক্তি বা অঞ্চলকেন্দ্রীক। এমন গ্রুপ হিসেবে এক সময় ‘লিয়াকত গ্রুপ’, ‘হান্নান গ্রুপ’, ‘গোপালগঞ্জ গ্রুপ’, ‘শরীয়তপুর-মাদরীপুর গ্রুপ’ বিখ্যাত ছিলো। এবার প্রথম শুনলাম ‘ভিসি গ্রুপ’, ‘বহিরাগত গ্রুপ’!  যাঁদের দায়িত্ব ছিলো শিক্ষার্থীদের আন্ত:কলহ মিটিয়ে দিয়ে সহাবস্থানের ব্যবস্থা করা তাঁরাই আজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভেদের প্রাচীর তুলতে ব্যস্ত। একথা বলার অবকাশ নেই যে সন্ত্রাসীদের প্রতি এই কর্তৃপক্ষীয় পৃষ্টপোষকতাই আজ পাখির কলকাকলীমুখর প্রিয় ক্যাম্পাসকে পরিনত করেছে ত্রাসের রাজত্বে। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সময় সারা বছর সন্ধার পর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মূখর থাকতো আজ সেখানে সন্ধা নামার সাথে সাথে বিরাজ করে ভুতুড়ে নিস্তব্ধতা।

গতবছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক প্রাক্তন ছাত্রকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দেয়ার পর বিকল্প মিডিয়া, ফেসবুক ও ব্লগে বেশ কিছু সন্ত্রাসীর নাম আলোচিত হয়েছিলো। সদ্য সমাপ্ত ভর্তি পরীক্ষার সময় এক ছাত্রীর মোবাইল ছিনতাই করার পরও একই নামগুলো আলোচনায় এসেছিলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগকে দিয়ে তখন ঐ সন্ত্রাসীদের পক্ষে সাফাই গেয়ে এবং আক্রান্তদের চরিত্রহরণ করে কর্তৃপক্ষীয় বিবৃতি দেয়ানো হয়েছিলো। এরপর এক সাংবাদিককে নির্মমভাবে প্রহার করার পর সংবাদ মাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি লোক দেখানো বিচার করে কয়েকজনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে দায় সেরেছে। ঐ সময় এই চিন্হিত সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিলে আজ হয়তো জুবায়েরের প্রাণহানি ঘটতো না।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রথমে জুবায়েরের মৃত্যুর বিচার করতে গিয়ে এক নির্মম রসিকতাই করেছে।  ১০/১২ জন হত্যাকারীর মধ্য থেকে মাত্র তিন জনকে এক বছরের জন্য সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে! আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সাময়িক বহিষ্কারের মানে হচ্ছে সে এই সময়কালে দণ্ডিতরা ছাত্রাবাসে অবস্থান করতে পারবে না তবে তাদের ছাত্রত্ব বহাল থাকবে। দুই বছরের তাণ্ডবীয় পরিশ্রমে আমাদের প্রকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত ক্যাম্পাসকে যারা ত্রাসের রাজত্বে পরিনত করেছে, এই এক বছরের বিশ্রাম তাদের পুরষ্কার হিসেবে পাওনা ছিলো বৈকি! সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই শাস্তি না মেনে আন্দোলনে গেছে এবং সেখানেও ছাত্রলীগের ভিসি গ্রুপের সন্ত্রাসীরা এসে হুমকি দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তাড়িয়ে দিয়েছে। অবশেষে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের চাপে এবং সংবাদমাধ্যমের শক্ত ভূমিকার প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ ঐ তিনজনকেই আজীবন বহিষ্কার করেছেন।

তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়, ১০/১২ জন ঘাতকের মধ্যে মাত্র তিনজনের শাস্তি হলো কেন? বাকিরা কোন বিবেচনায় ক্ষমা পেল? সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন আন্দোলন করছিলো তখন ঘাতকদের পক্ষ নিয়ে কারা পুলিশের নাকের ডগায় হুমকি দিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের তাড়িয়ে দিয়েছে? এদের মধ্যে ঐ ১০/১২ জনের মধ্যে কয়জন আছে?

(১০, জানুয়ারী, ২০১১)

এ.কে.এম. ওয়াহিদুজ্জামান [১]: গবেষক ও কলামিস্ট। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল ও পরিবেশের শিক্ষক।

২০ Comments (Open | Close)

২০ Comments To "এই ত্রাসের রাজত্ব আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাস নয়"

#১ Comment By আবু সালেহ মোঃ ইউসুফ On জানুয়ারি ১১, ২০১২ @ ৬:৫৫ অপরাহ্ণ

শিক্ষকরা দল করলেও সবকিছুর উর্ধ্বে থাকবে। দল তাদের মনে থাকবে। সরকার বা বিরোধী দলের ভালো-মন্দ কাজের আলোচনা সমালোচনা করবে তাই নয় কি? কোন দলের পক্ষে-বিপক্ষে মানে একটা ধান্ধা-ফিকিরতো নিশ্চিত আছে। তার মানে ঐ শিক্ষকগুলো ধান্ধাবাজি পন্থায় মানুষকে জীবন গড়ার কারিগরি কাজ শিক্ষায়? তাই নয় কি?

ঢাকার মিরপুরি ভাষায় **** দিয়ে বলতে ইচ্ছা করছে। কিন্তু আমার প্লাটফর্ম থেকে পারছি না। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যেই তো সুশীলের অভাব। খুবই হতাশ লাগছে।

#২ Comment By মুসাফির খাঁন On জানুয়ারি ১১, ২০১২ @ ৯:৫৪ অপরাহ্ণ

জাবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের কোন স্বীকৃত কমিটি নেই। এখন যারা ছাত্রলীগের নামে ওখানে সন্ত্রাস, খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি করছে এদের পৃষ্ঠপোষক হচ্ছেন স্বয়ং ভাইস চ্যান্সেলর, প্রোক্টর এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তা–এমন আভাস রয়েছে পত্রিকাগুলোর সংবাদে। কাজেই ভাইস চ্যন্সেলরের অনুমোদন ছাড়া এই ঘটনা ঘটেছে তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। ক্যাম্পাসে অবস্থানরত এই খুনীদের সাথে ভিসি ও প্রোক্টরের সখ্যতা এবং শাফিন গ্রুপের প্রতি আক্রোশ এই লিংক থেকেই পাওয়া যাবে।

[২]

#৩ Comment By Mohammad Nazrul Islam On জানুয়ারি ১১, ২০১২ @ ১০:০০ অপরাহ্ণ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন দুই দলের ছাত্রদের কোন্দলে কোনও ছাত্র খুন হয়েছে বলে আমার মনে পরেনা| এই পর্যন্ত যতগুলো ছাত্র খুন হয়েছে তাদের প্রায় সবগুলোই নিজেদের অন্তরকোন্দলের কারনে| গত আওয়ামিলীগ সরকারের সময় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের কোন্দলে খুন হয়েছিল তাদেরই এক গ্রুপের নেতা আনন্দ নামের এক নিরীহ পরিবারের সন্তান| ওই সময় ছাত্রলীগের দুইটি গ্রুপ ক্যাম্পাসে রাজত্ত্ব করতো| তাদের একটি ছিল কিলার(খুনী)গ্রুপ আর আরেকটি ছিল রেপিষ্ট(ধর্ষক)গ্রুপ|
বর্তমান আওয়ামিলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ছাত্রলীগের অন্তরকোন্দলে খুন হলো আরেক নিরীহ ছাত্র জুবায়ের| তবে এইবার তাদের গ্রুপ নামকরণে কিছুটা উন্নতি হয়েছে| পত্রিকায় দেখলাম এক গ্রুপের নাম ‘ভিসি’ গ্রুপ আর আরেক গ্রুপের নাম ক্যাম্পাস থেকে ‘বিতাড়িত’ গ্রুপ|
আনন্দ হত্যার পর খুনিদের পাশাপাশি কিলার গ্রুপের প্রধানও এর দায় এড়াতে পারেনি| উক্ত প্রধান ব্যাক্তিসহ সব নেতাদের নামেই ওইসময় মামলা হয়েছিল| এক পর্যায়ে খুনের দায় কাধে নিয়ে ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়েছিল কিলার গ্রুপের প্রধান ব্যক্তিটিকেও| আর ধর্ষক গ্রুপের ইতিহাসতো সবারই জানা|
তখন যদি খুনের জন্য খুনী গ্রুপের প্রধান ও ধর্ষণের জন্য ধর্ষক গ্রুপের প্রধানকে দায় বহন করে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে হয় তাহলে বর্তমানে ‘ভিসি’ গ্রুপের প্রধান ব্যক্তিটি আমাদের জুবায়ের হত্যার দায় কিভাবে এড়াবেন?

#৪ Comment By হেলাল আহমেদ On জানুয়ারি ১১, ২০১২ @ ১০:০৪ অপরাহ্ণ

লেখা ভালো লাগল। কিন্তু যে নীতি নির্ধারকদের জন্য এ লেখা তারা কখনো কি পড়বে? তাদের শুধরাতে হলে কী করতে হবে?

#৫ Comment By মোঃ আবুল খায়ের (মামুন) On জানুয়ারি ১১, ২০১২ @ ১০:২০ অপরাহ্ণ

খুব জানতে ইচ্ছে করছে, জাবি ক্যাম্পাসের মাটির রং বেশী লাল, নাকি জুবায়েরের রক্তের রং বেশি লাল? জুবায়েরের মরন চিত্কার কি ভিসি, প্রক্টরদের কানে পৌছায়নি? জুবায়েরকে যারা কুপিয়ে হত্যা করল তাদের হাত কি একটুও কাঁপেনি?

#৬ Comment By আজাদ আবুল কালাম On জানুয়ারি ১১, ২০১২ @ ১১:০৯ অপরাহ্ণ

উপাচার্যকেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আমরা চোখের সামনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিণত হতে দেখেছি। এর আগেও দেশবাসী শুনেছে, কীভাবে চারতলা থেকে মানুষ ফেলে দেওয়া হয়েছে, সেই নমুনা, তারপর উপাচার্য নিজেই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মধ্যে গ্রুপিং উস্কে দিয়ে নিজের পছন্দের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠন করলেন ‘ভিসি লীগ’। ফলে প্রকৃত ছাত্রলীগকর্মী হওয়া সত্ত্বেও অনেককে ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়েছে। তার আদেশেই রাতের আঁধারে একটি হলের ছাত্রলীগ কর্মীদের রক্তাক্ত করে হলছাড়া করে দেওয়া হয়েছে। তার আদেশেই আশুলিয়া থানা মামলা নিতে রাজি হয়নি, বিতাড়িতরা থানায় গিয়েও নিজেদের অধিকার খুঁজে পায়নি।

আমরা দেখেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করতে এসে ক্যাম্পাস জীবনের প্রথম দিনেই আদিবাসী লিয়েন বম মারা যায়, প্রশাসন তার লাশ মায়ের কাছে পৌঁছে দিতে একটা অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও করতে পারেনি। আমরা দেখেছি, অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে এক ছাত্রীকে হলের মধ্যেই মারা যেতে, দেখেছি কয়েকদিন আগে মুরাদ রহমানের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স দিতে গড়িমসি করছে প্রশাসন। অথচ সেই অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে তারা বাজার করেন।

অ্যাম্বুলেন্সে নিজেদের ব্যক্তিগত মালামাল পরিবহন করেন, শিক্ষার্থী মরলেও তারা অ্যাম্বুলেন্স স্বল্পতার অজুহাত দেখান।

আমরা দেখেছি, এই প্রশাসনের আমলে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকগুলো লিজ দেওয়ায় এবার শীতের পাখি আসেনি। কারণ, মাছ চাষের উপযোগী করার জন্য তাতে চুন দেওয়া হয়েছে, খাবার না থাকায় পাখি আসেনি, এসেও চলে গেছে। আমরা দেখেছি, অতিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলনের ফল, পোষা ছাত্রলীগ দিয়ে ধাওয়া দেওয়া হয়েছে তাদের।

এই হলো জাবির বর্তমান অবস্থা। অযোগ্যের শাসনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের কাঠামো ভেঙে গেছে। মুক্তবুদ্ধি চর্চার বদলে সেখানে তৈরি করা হয়েছে একনায়কতন্ত্রের ব্যারিয়ার। কেউ কোনো আওয়াজ দিলেই, উপাচার্য মহাশয় ‘সিন্ডিকেট’ নামক যাঁতাকলে ফেলে দেন, আর তা ওপাশ দিয়ে ‘বহিষ্কার’ হয়ে বের হয়। বহিষ্কারের ভয়ে এতোদিন শিক্ষার্থীরা কোনো কথা বলেনি, রাজপথে নামলেও ছিল হাতেগোনা উপস্থিতি। দাবি আদায় তো দূরের কথা, যা সুবিধা ছিল, তাই কেড়ে নেওয়া হয়।

#৭ Comment By আঞ্জুমান শিরিন On জানুয়ারি ১১, ২০১২ @ ১১:১৫ অপরাহ্ণ

আমার দুঃখ হয়, জাবির উপাচার্য নাকি আওয়ামী সরকারের মনোনীত উপাচার্য। অথচ আওয়ামী লীগকে ভাবতে বলি একটু- এ কেমন আওয়ামীপন্থি উপাচার্যের ক্যাম্পাস পরিচালনা, যেখানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ পালিত হচ্ছে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, আর জাবিতে শোকের মিছিল সামাল দিতে গিয়ে উপাচার্যের টালমাটাল অবস্থা। আওয়ামী লীগকে এতই ভালোবাসেন উপাচার্য? এই তার আওয়ামী লীগ সিলের নমুনা? একে দলীয় লোক বলে না, আমরা জানি, এ ‘সুবিধাবাদী’ ছাড়া আর কিছুই নয়।`

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা আজিমের নামে আছে মাদক ব্যবসার অভিযোগ। জানি না তা কতটা সত্যি। জুবায়ের হত্যাকাণ্ডের পর একটা বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেখলাম, আজিম মন্তব্য করেছেন, এই হত্যাকাণ্ডকে তিনি বন্ধুদের কোন্দল হিসেবে দেখিয়েছেন।

বুঝলাম, আজিম ছাত্রলীগকে ভালোবাসেন, এ জন্য তিনি ছাত্রলীগের ঘাড়ে দোষ চাপাতে রাজি না। কিন্তু তিনি কি শুধু ছাত্রলীগের মারামারিতে নিরাপত্তা দেবেন, ছাত্রলীগের সংঘর্ষেই দায়িত্ব তার, বন্ধুদের মারামারি বলেই কি তিনি এতবড় একটা ঘটনার খোঁজ রাখেন না!

ঘটনা ঘটে বিকেলে, তিনি জানেন রাত নয়টায়। এই হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা পরিস্থিতি।

আমরা জানি, ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা সর্বদা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছেন। ক্যাম্পাসে বেড়েছে ছিনতাই, অপরাধ। কোথায় কী ঘটছে, তার খবর নিরাপত্তা কর্মকর্তা রাখেনই না, ঘটনা ঘটার পাঁচ-ছয় ঘণ্টা পরে তিনি জানতে পারেন!

#৮ Comment By মুহম্মদ জাহাঙ্গীর On জানুয়ারি ১১, ২০১২ @ ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

যে মরেছে ও যারা মেরেছে উভয়ই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির বলি।

#৯ Comment By Moshiur On জানুয়ারি ১১, ২০১২ @ ১১:৪৯ অপরাহ্ণ

সম্পর্ক নয়, অপরাধই বিবেচিত হয়া উচিত সকলের।

#১০ Comment By শাহ্‌ মেরাজ On জানুয়ারি ১১, ২০১২ @ ১১:৫০ অপরাহ্ণ

আমার কাছে আজব লাগে খুনের বিচার শুধু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার!! তিন চার জনের ছাত্রত্ব গেলে বাবা মায়ের কোল কোনদিন ভরবে আবার? এটা কোন ধরনের বিচার? ছাত্রত্ব তো যাবেই সেই সাথে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার হবে, তবেই না আমরা সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরন করলাম। তাও কিনা মাত্র তিন চার জনের জন্য এই ব্যবস্থা, বাকিরা তাহলে ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াবে আবার আর একটি ঘটনা ঘটবার জন্য? কী দেশ আর কী বিচার, কোথায় আছি আর কী হচ্ছে এসব?

#১১ Comment By শহিদুল ইসলাম On জানুয়ারি ১২, ২০১২ @ ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

ছি!ছি!ছি! এরা নাকি শিক্ষক! ছি! শিক্ষক জাতির এরা কলঙ্ক! এমন শিক্ষকেরাই দেশের ছাত্র রাজনীতিকে কলুষিত করেছে। কাজেই এসব শিক্ষকদেরকেই আগে বহিষ্কার করা উচিত।

#১২ Comment By কাজী মাহবুব হাসান On জানুয়ারি ১২, ২০১২ @ ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ

আক্ষেপের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে শুধু।

#১৩ Comment By Md.Asraful Alam khan Jewel On জানুয়ারি ১২, ২০১২ @ ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ

ধন্যবাদ এ্যাপোলো ভাই,সময়োপযোগী চমত্কার একটি লেখনীর মাধ্যমে আমাদের প্রাণের ক্যাম্পাসের করুণ চিত্রটি তুলে ধরার জন্য । ছাত্রনেতারা যদি রাজনৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে না পারে তাহলে তারা আমাদের গৌরবময় ইতিহাস -ঐতিহ্যকে ধারন করতে সক্ষম হবেনা। ক্যাম্পাসে আমাদের প্রথম পরিচয় ছাত্র হিসেবে । এরপর কে কোন সংগঠন করবে তা তার ব্যক্তিগত বিষয় । বিশেষ কোন সংগঠনের মতাদর্শে বিশ্বসী না হলে কিংবা ব্যক্তি বিশেষের পছন্দের না হলে তাকে পরীক্ষা দিতে দেয়া যাবে না বা তাকে মারার জন্য অনুগতদের প্ররোচিত করাকে অপরাধের কোন ধারায় পড়ে তা আইন বিশারদগণই ভাল বলতে পারবেন । তবে এভাবে ব্যক্তি বিশেষের স্বার্থ রক্ষায কোন তাজা প্রাণ ঝরে যাক তা কোন সুস্থ বিবেকবান মানুষের কাম্য হতে পারে না । আমরা চাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এস আর কোন তাজা প্রাণ ঝরে যাক ।আর ক্যাম্পাস প্রশাসন যদি সামান্যতম মানবতাবোধের পরিচয় দিতে চায় তাহলে তাদের উচিত অবিলম্বে পদত্যাগ করা।কারণ যে ব্যক্তি যে পদে বসার যোগ্য নয় তাকে সে পদে বসানো হলে এমন পরিস্থিতি সৃস্টি হতে বাধ্য। বর্তমান ব্যর্থ প্রশাসনের উচিত তারা যে পদ ধারন করার যোগ্য নয় তা ছেড়ে দেয় । পরিশেষে জুবায়েরের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকাগ্রস্ত পরিবারের প্রতি রইল সহমর্মিতা ।

#১৪ Comment By Gias Uddin Bhuiyan On জানুয়ারি ১২, ২০১২ @ ১২:১৮ অপরাহ্ণ

এই ত্রাসের রাজত্ব আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাস নয় : আসলে এখন সারাদেশে শিক্ষা গেছে ব্যবসার স্থানে আর শিক্ষকরা হয়ে গেছেন ব্যবসায়ী। এখানে সু্বিচার কেমন করে পাবেন বলেন। যারা আজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভিসি হচ্ছেন, প্রশাসনের দায়িত্বে আছেন উনাদের সবাই কোন না কোন রাজনৈতিক দলের ছত্র ছায়ায় থেকে উঠে আসেন এবং পরবতীর্তে পদে আসেন। তাই উনাদের নিকট থেকে আমরা বা সাধারণ ছাত্ররা কি সুবিচার আশা করতে পারে। তাই এখন দরকার এমন একটি আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয় সন্ত্রাসীমুক্ত করণ এবং শিক্ষকদের রাজনীতিমুক্ত করা, তাছাড়া কোন সুফল আসবে না। কারণ শিক্ষকদের চরিত্র যেখানে রাজনৈতিক নেতাদের মত হয়ে যায় সেখানে ছাত্ররা কি শিখবে? এটা সবাই বুঝতে পারছেন বোধহয়। তাই আসুন আমরা

#১৫ Comment By Nisuti Rater Basuri On জানুয়ারি ১২, ২০১২ @ ১২:৪৪ অপরাহ্ণ

আমরা জানি শিক্ষা জাতির মেরূদন্ড। আর এই মেরূদন্ডকে শক্ত করতেই আমরা উচ্চ শিক্ষার জন্য দেশের নামকরা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। ভালো কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে কত ঝামেলাই না পোহাতে হয় এটা সবারই জানা। ভর্তির পরে বাবা মা গর্ব করে আমার সন্তানরা অমোক কলেজ/বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখা পড়া করে, তার মানে তারা একসময় শিক্ষা ও জাতির মেরুদন্ড হবে। সামান্য ভর্তিতেই এত আশা/গর্ব, আর ভালো রেজাল্ট করলে সেটাতো বলাই বাহুল্য। এটা শুধু বাবা মা কেন পুরো জাতিই আশা করতে পারে। কিন্তু আজ আমরা ছেলে মেয়দেরেকে স্কুল কলেজে দিয়ে চিন্তায় থাকি ওরা ঠিকঠাক মত ফিরে আসবেতো? অথচ এক সময় ছেলে মেয়দেরেকে স্কুল কলেজে দিয়ে বাবা মা আশায় থাকত আমার সোনামনিরা কখন একটা ভালো রেজাল্টএর সংবাদ দেবে…।জুবায়ের, আমরা তোমার জন্য কিছুই করতে পারলামনা, তুমি আমাদের ক্ষমা করেদিও।

#১৬ Comment By nino On জানুয়ারি ১২, ২০১২ @ ৩:৪২ অপরাহ্ণ

মারা গেলে সবাই মেধাবী হয়ে যায়।

#১৭ Comment By anik On জানুয়ারি ১২, ২০১২ @ ৫:৩৩ অপরাহ্ণ

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ এ মামুনের গায়ে হাত তোলেন প্রক্টর আরজু মিয়া। একপর্যায়ে তার কোর্ট ও শার্টের কলারে ধরে টানাহেচড়া করতে থাকেন। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

#১৮ Comment By zahid sohag On জানুয়ারি ১২, ২০১২ @ ৫:৪০ অপরাহ্ণ

শেখ হাসিনা সবসময়ই বলেন, ছাত্রলীগে সন্ত্রাসী নেই। তাহলে এরা করা? লেখক কোনো কল্প-কাহিনি বলছেন না তো! আমাদের শ্রদ্ধেয় প্রধানমন্ত্রী মিথ্যা বলতে পারেন এ আমি বিশ্বাস করি না। কারণ তার প্রচেষ্টায়ই দেশে ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সৎ মানুষ হিসেবেও তার সুনাম শতভাগ রয়েছে। আমার মনে হয় এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার। আমাদের উচিৎ ছাত্রলীগের নাম যাতে কেউ ভাঙাতে না পারে সেই ব্যবস্থা করা।

#১৯ Comment By মোঃ নাসির উদ্দীন On জানুয়ারি ১২, ২০১২ @ ১০:৩০ অপরাহ্ণ

আজ টিভিতে যা দেখলাম তারপর তো এই শিক্ষক নামের কলঙ্কদের উপর ঘৃণার পাহাড় জমা হয়েছে। যেভাবে এক সন্ত্রাসী প্রক্টর শিক্ষক সমিতির নির্বাচিত সভাপতিকে পেটালো, তাতে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে তার হাত থাকার সন্দেহ আরো ঘনীভূত হলো।

অনেক কষ্ট পেয়েছি এই লেখাটা পড়ে। তবে ভালো লেগেছে যে, এসব নিয়ে সত্য কথা বলার মত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এখনো আমাদের দেশে আছে।

#২০ Comment By asam On এপ্রিল ৩০, ২০১২ @ ৫:২৯ অপরাহ্ণ

আমার ধারণা ঢাকা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেবল সন্ত্রাসী উৎপাদন করছ্। এতে শিক্ষক ও রাজনীতিবিদদের অবদান রয়েছে।