স্বাধীনতাত্তোর ভারতের ৭০ বছরে মোদি নোটবন্দি করে ভারতকে ৭০ দিনে ১০০ বছর পিছিয়ে দিয়েছেন। এই অভিমত ১৩০ কোটি দেশবাসীরই নয়, বিশ্বের তাবড় অর্থনীতিবিদদেরও। বিশ্ব ব্যাংক এই নোটবন্দির ফলে ভারতের বৃদ্ধি যে পিছিয়ে গেল সে ব্যাপারে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এত বড় একটা সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকে আসেনি, পাশও হয়নি। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম বলেছেন, যদি আলোচনা হয়ও, তাহলে তার বিবরণী প্রকাশ্যে আসতে হবে।

এই ৭০ দিনে ভারতের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙ্গে চুরমার করে দিয়েছে। তার ফল এখন ভারতের ১৩০ কোটি লোক হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছেন। শুধু সামরিক বাহিনীর নয়– রিজার্ভ ব্যাংক, সিবিআই, গোয়েন্দা সংস্থা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান সবই তিলে তিলে ক্ষয়িষ্ণু হয়ে যাচ্ছে। মোদি এখনও গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে বলে যাচ্ছেন, তিনি যা করেছেন, বেশ করেছেন। কিন্তু সবই যে তার খুশিমতো হয় না, দেশের আইন আছে।

ভারতের শীর্ষ আদালতের সাংবিধানিক বেঞ্চ সাম্প্রতিককালে এক রায়ে বলেছেন, নির্বাচন এলেই কে হিন্দু, কে মুসলমান, কে খ্রিস্টান, কে শিখ, কে আদিবাসী, কে দলিত– এ প্রসঙ্গ আনা যাবে না। তা যদি হয়, তাহলে প্রার্থী ও দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন।

এই আদেশ পাওয়ার পরই ভারতের নির্বাচন কমিশনার নাসিম জাইদি সব রাজনৈতিক দলকে জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। নির্দেশ অমান্য করে আরএসএস তথা বিজেপির সাংসদ সাক্ষী মহারাজ উত্তর প্রদেশের এক জনসভায় বলেছেন, “ভারতের জনসংখ্যা বাড়ার মূল কারণ মুসলমানরা। তারা একাধিক বিয়ে করেন।”

তার এই উক্তি সংবিধানবিরোধী বলে তাকে শো-কজ করেছে নির্বাচন কমিশন। শো-কজ করতেই আরএসএস-বিজেপি রে রে করে উঠেছে। কিন্তু জাইদিও ছাড়ার পাত্র নন। তিনি আইন ও সংবিধানের মধ্যেই নির্বাচন পরিচালনা করতে চান। প্রসঙ্গত, আগামী মাসের ২ তারিখ থেকে উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জার, গোয়া, উত্তরখণ্ড ও মণিপুরে বিধান সভা নির্বাচন।

মোদি ভেবেছিলেন, এই রাজ্যগুলিতে জেতার জন্য তিনি সার্জিকাল স্ট্রাইক ও নোটবন্দিকে হাতিয়ার করবেন। ৮ নভেম্বর মধ্যরাতে নোট বাতিল ঘোষণার পর থেকে বলে আসছিলেন, এই নোটবন্দি করার দায় সবই ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের। রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর উর্জিত প্যাটেল সংসদীয় কমিটির বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছেন, তার দায়দায়িত্ব নেই। কারণ মোদি সরকারই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ৭০ দিন হয়ে গেলেও দেশের সাত শতাংশ মানুষের কোনো সুরাহা হয়নি। হওয়ার আশাও নেই।

এই নোটবন্দির ব্যাপারে একটি বেসরকারি চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিয়ে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেছেন, নোটবন্দি করে দেশের কতবড় সর্বনাশ মোদি করেছেন, তা বুঝতে আরও সময় লাগবে। শুধু আর্থিক সর্বনাশই নয়, দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপরও চরম আঘাত হেনেছেন প্রধানমন্ত্রী। বিরোধী দল তো দূরের কথা, নিজের সহকর্মীদের সঙ্গেও নোট বাতিলের ব্যাপারে আলোচনা করেননি তিনি। অন্যদিকে নিজেদের মধ্যে গোলমালের জেরে বিরোধীরাও ঠিকমতো প্রতিরোধ তৈরি করতে পারেননি।

তিনি বলেছেন, কালো টাকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন। কিন্তু সে যুদ্ধে জিততে পারবেন না বুঝেই এখন আর কালো টাকার কথা মুখেও আনছেন না। এখন নগদহীন অর্থনীতির ধুয়ো তুলেছেন। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তে ক্ষতি হয়েছে কিনা, সে আলোচনার অবকাশ আর নেই।

এখন দেখা দরকার কতটা ক্ষতি করে দিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, কিছু মানুষ এখনও নরেন্দ্র মোদির সিদ্ধান্ত সমর্থন করে চলেছেন। যখন তারা বুঝতে পারবেন ততক্ষণে পাঁচটি রাজ্যে নির্বাচন হয়ে যাবে। তিনি বলেছেন, রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর পদে যদি ড. মনমোহন সিং বা রঘুরাম রাজনের মতো ব্যক্তিত্ব থাকতেন, তাহলে এত সহজে নোট বাতিলের রাস্তায় যেতে পারতেন না মোদি।

নোট বাতিল প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে অমর্ত্য সেন ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়নের প্রসঙ্গ তুলে আনেন। বলেন, রাশিয়া দখল করতে গিয়ে পর্যুদস্ত হয়ে ফিরে এসেছিলেন নেপোলিয়ন। কয়েক হাজার সেনা বাদে সকলকেই প্রাণ দিতে হয়েছিল সেই যুদ্ধে। রুগ্ন, হতোদ্যম কয়েক হাজার সেনাকে নিয়ে ফিরে এসে নেপোলিয়ন যদি বলতেন, আমরা রাশিয়ায় বরফ দেখতে গিয়েছিলাম, তাহলে যা হত, নরেন্দ্র মোদির ক্ষেত্রেও তাই হবে। নোট বাতিল কাণ্ডে লেজেগোবরে হয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি অন্য কিছু একটা বলে গা-বাঁচানোর চেষ্টা করবেন।

ভারতের আর্থ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি যত দিন যাচ্ছে তত ভেঙ্গে পড়ছে। মোদি সারা দেশে ঘুরে কংগ্রেস পার্টিকে যে ভয় দেখাচ্ছেন, তা উড়িয়ে দিয়ে কংগ্রেসের সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, মোদিকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। একজোট হয়ে লড়াই করতে হবে। সাম্প্রদায়িক শক্তিকে কোনোভাবেই মাথায় চড়তে দেওয়া হবে না।

এই পরিস্থিতিতে ভারতবাসী কবে কীভাবে মুক্তি পাবে, তার কোনো দিশা দেখা যাবে না। রাহুল বলেছেন, মোদিকে ক্ষমতাচ্যুত করে কংগ্রেসকে ক্ষমতায় আনতে পারলেই ফিরবে আচ্ছে দিন। গরিবের টাকা, চাষীর টাকা নিয়ে আরএসএস বিজেপির তহবিল ভারী করা দেশের মানুষ মেনে নেবে না।

 

INDIA-GANDHI/ECONOMY
রাহুল বলেছেন, মোদিকে ক্ষমতাচ্যূত করে কংগ্রেসকে ক্ষমতায় আনতে পারলেই ফিরবে আচ্ছে দিন

 

ইতোমধ্যে দেশের ২৫ কোটি লোক কর্মচ্যুত হয়েছেন। মোদি বলেছেন, প্রতি বছর এক কোটি লোককে চাকরি দেবেন। কিন্তু তার শাসনকালে কর্মসংস্থানের যে ভয়াবহ চিত্র তৈরি হয়েছে, তা থেকে উদ্ধারের একমাত্র পথ বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করা। এদেশে কোনো দিন জাতপাত সামনে রেখে মানুষকে দুর্বল করা যাবে না। তিনি ক্ষমতায় আসার আগে যে ‘আচ্ছে’ দিনের কথা বলেছিলেন, তা যে দুর্দিনে পরিণত হবে তা দেশের মানুষ বুঝতে পারেননি।

রাহুল আরও বলেছেন, বিপুল অর্থের মালিক নরেন্দ্র মেদি ভারতের মিডিয়াকে সেদিন তার দিকে টানতে পেরেছিলেন। এ দিন সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, আপনারা মানুষের কথা লিখুন।

নরেন্দ্র মোদি উত্তর প্রদেশের নির্বাচনে যাদব পরিবার (বাবা মুলায়ম ও ছেলে আখিলেশ) মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য আরেক দাউদ ইব্রাহিমকে কাজে লাগিয়েছেন। তার নাম অমর সিং। এই অমর সিং যাদব পরিবারের একতা ভাঙ্গার জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করছেন। তার অভিযোগ, নোটবন্দির আগে বিজেপি এত টাকা কীভাবে সরিয়ে রাখল তা-ও দেখা দরকার।

প্রশ্ন তুলেছেন অর্থনীতিবিদরাও। তাদের আশঙ্কা, গোটা দেশে আর্থিক দাঙ্গা ইতোমধ্যে শুরু হয়ে দিয়েছে। ভারতের শীর্ষ আদালতও একই মন্তব্য করেছে। বিজেপি ও আরএসএস আড়াই বছর আগে জাতপাতের নামে যে বজ্জাতি শুরু করেছিল, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। মানুষ এখন তা ধরে ফেলেছে। তিনি যা বলেন, করেন তার উল্টোটাই। তিনি নিজে যে একজন দুর্নীতিপরায়ণ লোক, তা আগেই ফাঁস করেছিলেন রাহুল গান্ধী। যার গোপন নথিপত্র এখন সামনে এসে গেছে। এখন কংগ্রেস থেকে প্রশ্ন উঠেছে, “আপনি স্বীকার করুন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় সাহারা আর রিচলার থেকে কত টাকা নিয়েছেন।”

বিজেপির মুখ্যপাত্ররা জবাব এড়িয়ে গিয়ে ব্যক্তিগত কুৎসায় নেমে পড়েছেন। এটাও একটা মারাত্মক প্রবণতা।

১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে বিজেপির হাত ধরে দিল্লি পৌঁছেছিলেন মমতা ব্যানার্জি। নোটবন্দি দিয়ে তিনি গোটা পশ্চিমবঙ্গে সভা করে জনমত সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তার নেপখ্য কারণও উঠে আসছে। তিনি চাইছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে দিল্লির ক্ষমতা দখল করতে। আর পাঁচ রাজ্যে কংগ্রেসের ভোট কেটে বিজেপিকে সুবিধা করে দেওয়া।

সুতরাং ভারতের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে বলা যায়, ‘আচ্ছে’ দিনের স্লোগান এখন দুর্দিনে পরিণত হয়েছে।

সুখরঞ্জন দাশগুপ্তআনন্দবাজার পত্রিকার সাবেক বিশেষ প্রতিনিধি; কলামিস্ট

১০ Responses -- “মোদির আচ্ছে দিন ও নোটবন্দি ভারত”

  1. জয়ন্ত ঘোষাল

    নরেন্দ্র মোদির অতর্কিত হামলায় অধিকাংশ বিরোধী দল প্রথম বাহাত্তর ঘণ্টা এর প্রায় কোনও প্রতিক্রিয়াই জানাতে পারেনি। কিন্তু ধীরে ধীরে মানুষের ভোগান্তিকে অস্ত্র করে প্রতিবাদ জানাতে লাগলেন তারা – আর তাতে নেতৃস্থানীয় ভূমিকায় দেখা গেল তৃণমূল চেয়ারপার্সন ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে।
    মিস ব্যানার্জি অভিযোগ তুললেন, “কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই এসব করা হয়েছে। যদি ১% লোকের হাতে কালো টাকা থাকে, তার জন্য ৯৯% মানুষকে কষ্ট দিতে হবে? খুন করল কে আর সাজা পাচ্ছে কে? আসলে এই ব্ল্যাক ডিসিশনের ফায়দা লুটছে কিছু ব্ল্যাক মানি হোল্ডার আর মানি লন্ডারার। এটা ডেঞ্জারাস, ডিসঅ্যাস্টারাস ও ড্রাকোনিয়ান ডিসিশন।”
    “আমি বলব সুপ্রিম কোর্টের পাঁচজন বর্তমান বিচারপতিকে দিয়ে তদন্ত করানো উচিত এই কদিনে দেশের কত লোকসান হল, কত আর্থিক বিপর্যয় হল বা অর্থনীতিতে কত ধস নামল! এই টাকাগুলো কি কাউকে পাইয়ে দেওয়ার জন্য করা হল?”
    প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী, তা নিয়ে মমতা ব্যানার্জি শুধু তদন্ত দাবি করেই ক্ষান্ত হননি – অন্যান্য দলকে সঙ্গী করে পার্লামেন্ট থেকে মিছিল করে গিয়ে খোদ রাষ্ট্রপতির কাছে নালিশও জানিয়ে এসেছেন।
    এমন কি এই লড়াইতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সিপিএমের হাত ধরতেও তিনি দ্বিধা করছেন না। বামপন্থী রাজনীতিবিদ ও সিপিআইএমএল দলের নেতা দীপঙ্কর ভ্ট্টাচার্যও মনে করছেন এই সিদ্ধান্ত জন বিরোধী ও কালো টাকার মজুতদারদের তা কিছুই করতে পারবে না।
    তাঁর কথায়, “আমরা যেটা দেখছি সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা ব্যাঙ্কগুলো নিয়ে নিয়েছে – আর মোদি মানুষের কাছে পঞ্চাশ দিন সময় চাইছেন। কিন্তু এই চরম ভোগান্তি তো আর পাঁচটা দিন সহ্য করাও তাদের জন্য অসম্ভব! ইতিমধ্যেই টাকার লাইনে দাঁড়িয়ে ২৬জন মারা গেছেন। আমার মনে হয় সরকার যেন সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে একটা যুদ্ধ ঘোষণা করেছে।”
    “আর আমরা জানি কালো টাকা যাদের কাছে আছে তারা সেটা নগদে মজুত রাখেন না, অন্যভাবে রাখেন। কালো টাকার প্রবাহ চলছেই। মোদি এর আগে নিজেই বলেছিলেন ৯০ শতাংশ কালো টাকা বিদেশি ব্যাঙ্কে লুকোনো আছে – আর এখন সেটাই পাঁচশো বা হাজার টাকার নোট হয়ে দেশের ঘরে ঘরে কোন জাদুতে ঢুকে গেল তা তিনিই বলতে পারবেন। ফলে আজ যারা নোটের লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন, তারা ঠিকই ভোটের লাইনে মোদিকে এর জবাব দেবেন।”
    নরেন্দ্র মোদি।
    রুপির নোট অচলের জেরে কী মূল্য দিতে হবে নরেন্দ্র মোদিকে?
    কী মূল্য দিতে হবে নরেন্দ্র মোদিকে?
    দিল্লিতে ক্ষমতার অলিন্দে এই জল্পনাও ভাসছে – নরেন্দ্র মোদির আসল টার্গেট হলেন মুলায়ম সিং যাদব ও মায়াবতীর মতো নেতারা – উত্তরপ্রদেশে আসন্ন নির্বাচনের আগে যারা হাজার হাজার কোটি টাকা জড়ো করেছিলেন বলে অভিযোগ।
    এই জল্পনায় সত্যতা যতটাই থাক, নরেন্দ্র মোদি যে বিরাট একটা রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়েছেন তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই জয়ন্ত ঘোষালের।
    তিনি বলছেন, “রাজীব গান্ধী যখন ভারতে টেলিকম বিপ্লব ঘটান, তখন কিন্তু ভোটের কথা ভেবে করেননি – স্যাম পিত্রোদাকে নিয়ে এসে ভারতে সমাজ সংস্কারের জন্যই সেটা করেছিলেন। মনমোহন সিং যখন আর্থিক সংস্কার শুরু করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিমহা রাওয়ের নেতৃত্বে, তখনও কিন্তু অন্ধ্রের ভোটে কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়েছিল।”
    “এবারেও মনে করা হচ্ছে, উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনে দুটো আঞ্চলিক দলকে শায়েস্তা করার উদ্দেশে মানুষকে অসুবিধায় ফেলেও এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ – আর নরেন্দ্র মোদিকেও তার রাজনৈতিক দাম দিতে হতে পারে।”
    “বিশেষ করে বিরোধী দলগুলো এটাকে একটা অনুঘটক বা ক্যাটালিস্টের মতো ব্যবহার করতে চাইছে – এবং এই সিদ্ধান্ত তাদের কনসলিডেট করতে সাহায্য করতে পারে। মমতা ব্যানার্জি আর রাহুল গান্ধীর মধ্যে বহুদিন বাদে কথা হল এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই – আর সেটাও তো বিরোধী ঐক্যের পথেই একটা অগ্রগতি!”
    ফলে এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করেই ভারতের ছন্নছাড়া বিরোধী দলগুলো হয়তো আবার একজোট হওয়ার সুযোগ পেয়ে যেতে পারে। চন্দন মিত্র আবার মনে করেন, খুব শিগগিরি স্পষ্ট হয়ে যাবে এই সিদ্ধান্তের জন্য নরেন্দ্র মোদিকে কোনও রাজনৈতিক দাম দিতে হবে কি না।
    ড: মিত্রর ধারণা, “রাজনৈতিক দাম চোকানোর বিষয়টা কিন্তু মানুষই শেষ পর্যন্ত ঠিক করে দেবে – তারাই চূড়ান্ত রায় দেবেন এই সিদ্ধান্ত তারা স্বীকার করছেন কি করছেন না। সামনেই উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, গোয়াতে নির্বাচন আসছে – আর তখনই আমরা এ প্রশ্নের জবাবও পেয়ে যাব।” “ভারতের দলিত সমাজ তাদের দলিত পরিচয় ভুলে এই সিদ্ধান্তের জন্য বিজেপিকে ভোট দেবে, কিংবা যাদব ভোট ব্যাঙ্ক তাদের যাদব পরিচয় ভুলে কালো টাকার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য নরেন্দ্র মোদিকে মসিহা ভাবতে শুরু করবেন এটা মনে করাটাও আবার অতি-সরলীকরণ হয়ে যায়।”

    Reply
  2. অনির্বাণ কয়াল

    #বিজয়_মালিয়া
    বহু কোটি টাকা ঋণ শোধ না করে বিদেশে পালিয়ে গেলেন ৷ দেশ ছেড়ে একজন দুর্নীতি পরায়ণ লোক পালাচ্ছে , আর কালো টাকার বিরুদ্ধে যিনি নাকি যুদ্ধ ঘোষণা করছেন , সেই নরেন্দ্র মোদী সরকার আঙুল চুষছে , আটকানোর কোন চেষ্টাই করেনি ৷

    #ললিত_মোদী
    বহু কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারি’তে যুক্ত ৷ বিজেপি নেত্রী সুষমা স্বরাজের সাহায্য নিয়ে বহাল তবিয়তে বিদেশে বসে আছেন ৷ নরেন্দ্র মোদী সরকার পরোক্ষে সাহায্য করছে তাকে ৷

    #গৌতম_আদানী
    পরিবেশ সংক্রান্ত বিধি নিষেধ অমান্য করার কারণে তাঁর জরিমানা বাবদ ২০০ কোটি টাকা মুকুব করে দিল নরেন্দ্র মোদী সরকার ৷

    #সুদীপ_বন্দ্যোপাধ্যায়
    তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা ৷ তিনি নিয়মিত সংসদে যান , দলের বক্তব্য তুলে ধরেন ৷ নরেন্দ্র মোদীর নোট বাতিলের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদে সরব ছিলেন সংসদে ৷ চোর নন , খুনি নন , তোলাবাজ নন ৷ দেশ ছেড়ে পালাবার কোন সম্ভাবনাই নেই ৷
    তাকে গ্রেপ্তার করতে মোদীর প্রবল সক্রিয়তা ৷

    #গুজবে_কান_দেবেন_না ৷
    #মোদীর_CBI_সম্পূর্ণ_নিরপেক্ষ ৷

    Reply
  3. Baloy Roy

    কালো টাকা আর জাল টাকার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পুরনো ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটকে অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যেই প্রকাশ পেল চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেল, অজানা উৎস থেকে আয়ের তালিকায় সমস্ত রাজনৈতিক দলের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মোদীর দল বিজেপি। মোদী যাঁদের নিয়ে দেশে কালোটাকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে , তাঁদের পার্টিতে এতো কালোটাকার পাহাড় বানিয়ে রেখেছে। এ দেখি যে সরিষা দিয়ে ভুত ছাড়াবে সেই সরিষা ভুত !!!
    জনপ্রতিনিধিত্বমূলক আইন, ১৯৫১-র ২৯সি ধারা অনুসারে কোনও রাজনৈতিক দল ২০ হাজার টাকার বেশি অনুদান কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের কাছ থেকে গ্রহণ করলে, সেই তথ্য জানাতে হয় নির্বাচন কমিশনকে। কিন্তু কোনও দল ২০ হাজারের কম টাকা অনুদান স্বরূপ গ্রহণ করলে সেই তথ্য প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা নেই। সেই ধরনের আয়ে সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস নামক সংস্থার প্রকাশ করা তথ্যে সেই ইঙ্গিতই মিলেছে। জানা গিয়েছে, ২০১৩ থেকে ২০১৫— এই সময়পর্বে অজানা উৎস থেকে বিজেপির আয়ের পরিমাণ ৯৭৭ কোটি টাকা। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কংগ্রেস। অজানা উৎস থেকে কংগ্রেসের আয় ৯৬৯ টাকা। তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে বিএসপি এবং সিপিএম। অজানা উৎস থেকে ওই সময়পর্বে এই দু’টি দলের আয় যথাক্রমে ১৪১ এবং ১২০ কোটি টাকা। বলা হয়েছে, দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই এই ধরনের অজানা উৎস থেকে আয়ের পরিমাণ প্রচুর। রাজনৈতিক দলের ৬০ শতাংশ আয়ই হয় এই ধরনের অজানা উৎস থেকে।

    Reply
  4. Sajal Chakrabarti

    ডিমোনিটাইজেশন করে কত কালো টাকা উদ্ধার হল,কতজন কালো টাকার মালিককে শাস্তি দেওয়া হল তার কোন হিসেব মোদিজী দিলেন না। ৫০ দিন পর এইসব তথ্য দেবার অঙ্গীকার মোদিজী ৮ই নভেম্বরের ভাষণে ঘোষণা করেছিলেন। ৫০ দিন পর আমজনতার দুর্ভোগ শেষ না হলে তিনি নিজে এর জন্য শাস্তি নেবেন বলে ঘোষণা করেছিলেন। ৫০ দিন কেটে যাবার পরও সাধারণের দুর্ভোগ শেষ হয় নি । ডিমোনিটাইজেশনের ফলে কাজ হারানো ২০ লক্ষ শ্রমিকের এখন পর্যন্ত আর কাজ জুটে নি। ৩ লক্ষ কৃষক তাদের ফসল বিক্রী করতে পারে নি। মোদিজী তার পূর্বঘোষিত প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছেন। তিনি এখন কোন শাস্তি নিতে রাজী নন। এটাই হল দেশ এবং দেশবাসীর সাথে নির্লজ্জ বেইমানির উদাহরণ ।
    মোদিজী কর্পোরেটদের ঝৃণ মকুবে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু কৃষকদের ঝৃণ মুকুবে তিনি রাজী নন। কাজ হারানো শ্রমিকদের জন্য তিনি কিছুই ঘোষণা করলেন না। ৮ই নভেম্বর ডিমোনিটাইজেশন অস্ত্রের সাহায্যে কালো টাকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন। এই যুদ্ধে কালো টাকা ধরা পড়ার কোন ঘোষণা তিনি করলেন না। বরং ১২৭ জন শহীদ হয়ে গেল!

    Reply
  5. হিমাংশু

    মোদীর তখন জয় জয়কার। মাঠে, ঘাটে, ট্রেনে, বাসে, হাটে-বাজারে এবং অবশ্যই ফেসবুকের পাতায় পাতায়। বুকের পাটা আছে এই গুজরাটী ভদ্রলোকের। যা আজ পর্যন্ত কেউ করে দেখাতে পারেননি তা ইনি করে দেখালেন। কালো টাকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছেন, ১০০০ আর ৫০০ টাকার নোট বাতিল বলে ঘোষনা করে।
    এই পর্যন্ত ঠিক আছে । এই পর্যন্তই তাঁর কট্টর সমর্থক।
    কিন্ত তারপরের চিত্রনাট্য খুবই দূর্বল। বিদ্ধস্ত জনজীবনের ঘর ঘর কি কাহানী। সব কাজ শিকেয় তুলে সবাই নিত্যদিন ব্যাঙ্ক মুখো। লম্বা অজগরের মতো লাইন। ফি রোজ পাল্টে যাচ্ছে আইন। আজ এত পাবে তো কাল অত। নিজের টাকা তোলায় নিষেধাজ্ঞা। আঙুলে কালি। এবং দেরীতে মনে পড়ল বিয়ে শাদীর ব্যপার স্যাপার গুলোর কি হবে। কই বাত নেহী। আড়াই লক্ষ পাবে নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে। সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হল কিছু জটিল নিয়মাবলী। কিন্তু দেশ বড় বড় চোখে প্রত্যক্ষ করল ৫০০ কোটির বিয়ে!!!!
    যাকগে। ওগুলো দেখতে নেই। সাদা চোখে। কিন্তু আমি কয়েকদিনে যেটা দেখলাম তা হল- লম্বা অজগরের মতো ব্যাঙ্ক লাইনে কোন জবরদস্ত কালোবাজারী নেই। কোন ধনী নেই। নেতা মন্ত্রী রাজা উজির কেউ নেই।
    আছি শুধু আমরা। সংখ্যাগরিষ্ঠ বোকা পাবলিক!!!!!

    Reply
  6. সৈয়দ আলি

    ভারতের অভ্যন্তরীন বিষয় বাংলাদেশের অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশের যুক্তি কি?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—