১.

দেশের মানুষজন সবাই ঘটনাটি জানে কি না আমি নিশ্চিত নই, কিন্তু আমাদের কানের খুব কাছে দিয়ে একটা গুলি গেছে।

এই মাসের গোড়ার দিকে হঠাৎ করে আমরা জানতে পারলাম, শিক্ষা আইনের যে চূড়ান্ত খসড়াটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্যে পাঠানো হচ্ছে সেখানে কোচিং, টিউশনি, গাইড বই সবগুলো জায়েজ করে দেওয়া হয়েছে। আমি যখন রিপোর্টটি পড়ছিলাম তখন আতংকে আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল এবং আমার মনে হচ্ছিল, এক্ষুনি আমি দেখতে পাব শুধু কোচিং, টিউশনি এবং গাইড বই নয়, প্রশ্নফাঁস এবং নকলও বৈধ করে দেওয়া হয়েছে!

কোচিং এবং টিউশনির নাম দেওয়া হয়েছে ‘ছায়া-শিক্ষা’ এবং ছায়া শিক্ষার অর্থ হচ্ছে টাকা নিয়ে কোনো ব্যক্তি বা শিশুদের তত্ত্বাবধানে কোনো স্থানে পাঠদান কার্যক্রম! আগে তবু কোচিং বা টিউশনি বিষয়টিতে এক ধরনের চক্ষুলজ্জার বিষয় ছিল, ‘ছায়া-শিক্ষা’ নাম দিয়ে সেটার পিছনে সরকারি অনুমোদনের সিল মেরে দেওয়ার পর সেটাকে ঠেকিয়ে রাখার আর কোনো উপায় থাকল না।

আমাদের দুঃখটা অনেক বেশি হয়েছিল। কারণ, শিক্ষা আইনের খসড়াতে আগে এগুলোকে শুধু যে বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছিল তা নয়, সেগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাবও করা হয়েছিল। শুধু যে কোচিং এবং প্রাইভেট টিউশনি বৈধ করা হয়েছে তা নয়, সহায়ক বইয়ের বিষয়টি এমনভাবে লেখা হয়েছে যে, এখন যে কোনো ধরনের বই প্রকাশের আইনি সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। গাইড বই ছাপিয়ে রমরমা ব্যবসার একেবারে সুবর্ণ সুযোগ।

বলা বাহুল্য রিপোর্টটি দেখে আমার এবং আমার মতো সবার খুব মন খারাপ হয়েছিল। আমরা সবাই প্রতারিত বোধ করছিলাম। তার কারণ, মাত্র কিছুদিন আগে শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বড় বড় কর্মকর্তাদের নিয়ে আমরা কক্সবাজারে পড়াশোনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছি, চমৎকার চমৎকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন দেখছি যারা আমাদের সাথে ছিলেন তারাই কোচিং, টিউশনি, গাইড বই জায়েজ করে দিয়েছেন। কী ভয়ঙ্কর কথা!

খুবই সঙ্গত কারণে দেশের শিক্ষাবিদেরা সাথে সাথে তার প্রতিবাদ শুরু করলেন। তাদের প্রতিবাদে কাজ না হলে কীভাবে সবাইকে নিয়ে আন্দোলন শুরু করতে হবে– সেটাও আমার মাথায় উঁকি দিয়ে গেল। মোট কথা, আমরা খুব অশান্তিতে ছিলাম।

পত্রপত্রিকায় এখনও বিষয়টি আমার চোখে পড়েনি, কিন্তু খবর নিয়ে জানতে পেরেছি– শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোচিং, টিউশনি বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ দেওয়া থেকে শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে এসেছে। গাইড বই বিক্রেতারা ধর্মঘট করছে জেনে খুব আনন্দ পেলাম, যে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হচ্ছে সেটি নিশ্চয়ই সঠিক সিদ্ধান্ত। তা না হলে গাইড বইয়ের প্রকাশকেরা কেন ধর্মঘট করতে যাবে? দেশের লেখাপড়ার বিষয়ে গাইড বইয়ের প্রকাশক থেকে বড় শত্রু আর কে হতে পারে? তারা অসুখী থাকলেই আমরা সুখী।

আমি এখন নিঃশ্বাস বন্ধ করে আছি, শিক্ষানীতির সাথে সাথে একটা শিক্ষা আইনের দরকার। আমরা সবাই জানি, শুধু নীতি যথেষ্ট নয়, নীতি বাস্তবায়ন করার জন্যে আইনের সাহায্য নিতে হয়। সেই আইনটিই যদি ভুল একটা আইন হয়, তাহলে আমরা কোথায় আশ্রয় নিতে যাব? কাজেই এই দেশের সব শিক্ষাবিদের সাথে আমিও নিঃশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করে আছি একই চমৎকার আইনের জন্যে। এখনও আমার বুক ধুক ধুক করছে, মনে হচ্ছে একটা ফাঁড়া কাটল, কানের খুব কাছে দিয়ে একটা গুলি চলে গেল। ভয় হয় আবার না নূতন একটা গুলি চলে আসে!

 

Book festival - 111
আমি এখন নিঃশ্বাস বন্ধ করে আছি, শিক্ষানীতির সাথে সাথে একটা শিক্ষা আইনের দরকার

 

২.

গত কয়েক বছরে আমাদের একটা বড় ক্ষতি হয়েছে। সেটা হচ্ছে লেখাপড়া বিষয়টা কী, সেটা নিয়ে সবার ভেতরে একটা ভুল ধারণা জন্মে যাচ্ছে। কীভাবে কীভাবে জানি সবার ধারণা হয়েছে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়া হচ্ছে ভালো লেখাপড়া। তাই পুরো লেখাপড়াই হয়ে গেছে পরীক্ষা-কেন্দ্রিক! কোনো কিছু শেখা নিয়ে ছেলেমেয়েদের আগ্রহ নেই, একটা প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দেওয়া যাবে সেটা নিয়ে সবার আগ্রহ। লেখাপড়াটা হয়ে যাচ্ছে প্রশ্নের উত্তর শেখা। একজন ছেলে বা মেয়ে যখন নূতন কিছু পড়ে নূতন কিছু শেখে, তার মাঝে এক ধরনের আনন্দ থাকে। কিন্তু একজন ছেলে বা মেয়ে যখন একই বিষয় শেখে শুধু প্রশ্নের উত্তর হিসেবে, তার মাঝে কোনো আনন্দ নেই।

সবচেয়ে বড় কথা একজন ছেলে বা মেয়ে কোনো বিষয়ের অনেকগুলো প্রশ্নের উত্তর সঠিকভাবে মুখস্থ করে রাখলেও সেটি কিন্তু কোনোভাবে গ্যারান্টি করে না যে, সে তার বিষয়টা সঠিকভাবে জানে। সে জন্যে আমরা দেখতে পাই জিপিএ-ফাইভ (বা গোল্ডেন ফাইভ!) পেয়েও একজন ছেলে বা মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিপরীক্ষায় পাস মার্কটুকুও তুলতে পারছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিপরীক্ষায় মোটেও খুব উঁচু শ্রেণির পরীক্ষা নয়, এই পরীক্ষায় ভালো করার বিশেষ কোনো গুরুত্ব নেই। কিন্তু পাস মার্কসও না তুলতে পারা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়– লেখাপড়া নিয়ে আমাদের বড় ধরনের সমস্যা আছে।

আমাদের দেশে কেন কোচিং বন্ধ করতে হবে সেটি নিয়ে অনেক কিছু বলা যায়। এর বিপক্ষে সবচেয়ে বড় যে যুক্তিটি দেওয়া যায় সেটা হচ্ছে, এটা আমাদের দেশে একটা বড় ধরনের বৈষম্য তৈরি করে। যার অনেক টাকা সে তার ছেলেমেয়েদের জন্যে অনেক প্রাইভেট টিউটর রাখতে পারবে, আর যার টাকা নেই সে তার ছেলেমেয়েদের জন্যে কোনো প্রাইভেট টিউটর রাখতে পারবে না।

সেটি সত্যিকার অর্থে বড় কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয় এবং আমাদের মনে করা উচিৎ দরিদ্র বাবা-মায়ের দরিদ্র সন্তানটিই সৌভাগ্যবান, তার টিউশনি কিংবা কোচিংয়ের পীড়ন সহ্য করতে হচ্ছে না।

কিন্তু বাস্তবে সেটা ঘটে না। কারণ, আমরা সবাই জানি স্কুল-কলেজের অনেক শিক্ষকের মাঝে এক ধরনের নৈতিক অধঃপতন হয়েছে। তারা আজকাল ক্লাসরুমে পড়ান না, তারা কোচিং কিংবা ব্যাচে পড়ান। যে ছেলে বা মেয়েটি তার শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ে না তার শেখার সুযোগ থাকে না। কাজেই এই দেশে এখন দরিদ্র ছেলেমেয়েদের স্কুলের ছাত্র হয়েও লেখাপড়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে।

আমরা বিষয়টা জানি, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীরা পড়তে আসে, আমি তাদের খোঁজ নিয়ে দেখেছি তাদের সবাই এখন বিত্তশালী বাবা-মায়ের সন্তান। লেখাপড়াটা এখন এই দেশের সব ছেলেমেয়ের জন্যে নয়– এই দেশের বিত্তশালী মানুষের জন্যে। আমাদের এই কুৎসিত নিয়মটি ভাঙার কথা, এটাকে শক্তিশালী করার কথা নয়।

যদি আমরা কোচিং আর টিউশনিকে একেবারে আইনি বৈধতা দিয়ে দিই তাহলে বলা যায়– আমরা রাষ্ট্রীয়ভাবে এই দেশের গরীব বাবা-মায়ের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যতের সকল স্বপ্ন ধ্বংস করে দিচ্ছি। আমাদের একটু একটু করে এই কুৎসিত চক্রটি ভাঙার কথা, এটাকে শক্তিশালী করার কথা নয়।

পৃথিবীর সবাই স্বীকার করে নিয়েছে লেখাপড়ার নিয়মের একটা বড় পরিবর্তন এসেছে। কী পড়ছে, কীভাবে পড়ছে সেটা নিয়ে কারও মাথাব্যাথা নেই, পরীক্ষায় কত পেয়েছে সেটা নিয়েও কারও কৌতূহল নেই, সবাই দেখতে চায় সে কতটুকু শিখেছে। সেটা নিশ্চিত করার জন্যে আমাদের ছেলেমেয়েদের কোচিং সেন্টার থেকে ক্লাসরুমে ফিরিয়ে আনতে হবে। গাইড বই সরিয়ে তাদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দিতে হবে। এই জরুরি দুটো কাজে আমরা যদি দেশের আইনের সহযোগিতা না পাই, উল্টো যদি দেশের আইন কোচিং সেন্টার আর গাইড বইকেই বৈধতা দিয়ে দেয় তাহলে একেবারে সর্বনাশ হয়ে যাবে।

শিক্ষা আইনের প্রাথমিক খসড়াটিতে কোচিং, গাইড বই শুধু নিষিদ্ধ ছিল না, এর জন্যে শাস্তির কথা পর্যন্ত বলা হয়েছিল। সেই আইনটি পরিবর্তন করে একেবারে আটঘাট বেঁধে তাদের পুরোপুরি বৈধতা দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হল, তার কারণটা বুঝতে কারও ‘রকেট সায়েন্টিস্ট’ হতে হবে না। আমরা সবাই জানি, যারা এর বৈধতার জন্যে আন্দোলন করে যাচ্ছে তাদের টাকার বা ক্ষমতার অভাব নেই। এদের মাঝে কোচিং সেন্টারের মালিক, গাইড বইয়ের প্রকাশকের সাথে সাথে দেশের সবগুলো প্রথম সারির খবরের কাগজগুলো আছে। তার কারণ, তারা সবাই নিয়মিতভাবে সেখানে গাইড বই ছাপিয়ে যাচ্ছে। এ রকম বিষয়ে জনমত তৈরি করার জন্যে সংবাদপত্রের সাহায্য নেওয়া হয়, কিন্তু যেখানে সংবাদপত্রগুলো নিজেরাই ‘গাইড বই’ ছাপিয়ে যাচ্ছে সেখানে তারা কতটুকু সাহায্য করবে?

আমরা সবাই এখন রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করে আছি। আশা করে আছি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রিসভা আমাদের হতাশ করবে না, আমরা চমৎকার একটা শিক্ষা আইন পাব, যেটাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আমরা আমাদের শিক্ষাজগতের দুবৃর্ত্তদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে এগিয়ে যাব।

আশা করে আছি, কানের কাছ দিয়ে যে গুলিটি গেছে সেটা আর অন্য কোনো দিক থেকে অন্য কোনোভাবে ফিরে আসবে না।

মুহম্মদ জাফর ইকবাললেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫ Responses -- “কানের কাছে গুলি”

  1. অবনী হালদার

    আমরা কত অসহায়, তা স্যারের এই লেখা থেকে বোঝা যায় । তবে এটা সত্য যে আমাদের নিয়ে ভাববার লোক আজও আছে, এটাই ভরসা । ধন্যবাদ ।

    Reply
  2. Ami

    যেখানে ক্লাসরুমে পড়ানো হয় না- সেখানে টিউশনি ছাড়া উপায় আছে? সারের উচিত হবে আগে ক্লাসরুম কিভাবে ঠিক করা যায় সেটা নিয়ে লিখা। ক্লাসরুমে ১০০% পড়া হলে কেউ গাটের টাকা খরচ করে এমনিতেই প্রাইভেট পড়বে না। আইন দিয়ে কি হবে? আমাদের দেশে কোন আইনের প্রয়োগ আছে?

    Reply
  3. সুলতান আহমেদ

    ধন্যবাদ স্যার। আপনার এই মতামতের সাথে আমিও একমত। শিক্ষার এই বাণিজ্যিকরণ রোধ করতে পারলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অনেক অগ্রগতি হবে। বিশেষ করে স্কুল কলেজের শিক্ষকরা প্রাইভেট টিউশনির নাম করে ছাত্রদের যেভাবে জিম্মি করছে এই নীতির ফলে ছাত্রদের হয়রানির অবসান হবে।

    Reply
  4. শাহরিয়ার

    ​যত্শই লেখালেখি করেন না শেষ পর্যন্ত শিক্ষা আইনে সহায়ক বই থাকবে, যা নোট–গাইডের বিকল্প নাম। আামাদের সরকার ও শিক্ষাবিদেরা কেন বুঝতে পারেন না যে, নোট–গাইড ও সহায়ক বইয়ের কোনও পার্থ্ক্য নেই। সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতিতে নোট–গাইডের পরিবর্তে অনুশীলন বই, সহায়ক বই বা প্র্যাকটিস বুক নাম দেওয়া হয়েছে। সরকার সবাইকে বিনামূল্যে বই দিচ্ছে, এটা ভালো উদ্যোগ। কিন্তু এক সেট বই কিনতে আগে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা লাগত। এখন সহায়ক বই কিনতে লাগে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। দেশের অনেক শিক্ষবিদও এখন সহায়ক বইয়ের পক্ষে। তাঁদের কে, কীভাবে ম্যানেজ হয়েছে খোঁজ নিয়ে দেখেন। আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সরিষায় ভূত। সাংবাদিকদের অনেকেও ম্যানেজ। অতএব, সাধু সাবধান!!!!

    Reply
    • আসলাম হু’সাঈন

      “আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সরিষায় ভূত। সাংবাদিকদের অনেকেও ম্যানেজ। অতএব, সাধু সাবধান!!!!”
      তুলনামূলকভাবে অধিক গুরুত্বপূর্ণ একথাগুলো ভাল লেগেছে!

      Reply
  5. shibly hassan

    স্টুডেন্ট (ছাত্র) দ্বারা প্রাইভেট টিউশনি পড়ানো বন্ধ না করানোর জন্য সবিনয় অনুরোধ জানাই। কারন আমরা যারা ছাত্র-জীবনে টিউশনি করেছি আমাদের বাবা-মায়ের পক্ষে পড়ালেখা করার আর্থিক সক্ষমতা না থাকায়। আমার মতো হাজারো গরীব বাবা-মায়ের সন্তান টিউশনি করে তার পড়ালেখার খরচ চালায়। সুতরাং গরীব মেধাবী ছাত্রদের কথা একটু হলেও বিবেচনা করে তাদের বাবা-মায়ের আর্থিক অক্ষমতা বিবেচনা করে শুধুমাত্র ছাত্রদের প্রাইভেট টিউশনি (কোচিং বানিজ্য ব্যতিত) করার সুযোগ দানে সরকারের নিকট অনুরোধ রইল। তবে স্কুলের বা কলেজের শিক্ষক দ্বারা অবশ্যই কোচিং বাণিজ্য বা প্রাইভেট বানিজ্য বন্ধ করা উচিৎ।

    Reply
  6. Ajgar Ali

    বুয়েট,মেডিকেল, আইবিএ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটু উচ্চ স্তরের কোচিং-এর সাথে যুক্ত। সেগুলো ব্রান্ডেড কোচিং সেন্টার। তাদের শাখা-প্রশাখা বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত। এগুলো সম্ভবত রেজিস্টার্ড। এসবের মালিকানায় যাঁরা তাঁরা বাণিজ্যে সফল ঠিকই কিন্তু তাঁদের অবদানও কিছু কম নয়। স্কুল-কলেজের পড়া থেকে, বিভিন্ন রকম ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক ক্লাস তারা করান মডেল টেস্ট নেন। এদের অনেকেই আবার বাসায় গিয়েও পড়ান। বাংলা মাধ্যম, এ লেভেল, ও লেভেল, ভার্সন ইত্যাদি ভেদে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা তাদের মাসিক সম্মানী। চা খেতে গিয়ে দেখা হলে, পরিচিত বুয়েটের এক ছাত্রের কাছে কথা প্রসঙ্গে জানতে চেয়েছিলাম-কোথায় যাবে?- টিউশনি আছে।ভবিষ্যতে আমার মেয়েকে পড়ানোর কথা বলব চিন্তাটা মাথায় রেখে বললাম, কয়দিন পড়াও, কত সম্মানী নাও?বলেছিল-অঙ্কসহ বিজ্ঞানের সবই পড়াই মাসে দশ হাজার টাকা নিই। ১২ দিন পড়াই। আমি আর কিছু বলিনি। ফোন নম্বরটা রেখে দিয়েছি। বললে আসবেন এবং আমার বিশ্বাস কিছুটা কম নেবেন আমার কাছে।

    আর এসব প্রতিষ্ঠানে বা বাড়িতে গিয়ে যে সকল মেধাবীরা পড়ান তারা বাণিজ্যের জন্য পড়ান না, পড়ান নিজেদের প্রয়োজনীয় অর্থের যোগানের জন্য। পড়ান নিজেদের জীবনের প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নেবার জন্য।
    চাহিদা থাকায়,বিনিয়োগ থাকায়,বাজার থাকায় অনেকের কাছে কোচিং-এ পড়ানো এবং টিউশনি করা্নোটাই পেশা। সেজন্যে কেউ কেউ এককভাবে সাইনবোর্ড লাগিয়েও পড়ান। সেখানে নাম, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কী কী বিষয়ে এ+ পাবার নিশ্চয়তাসহ পড়ানো হয় তার উল্লেখ থাকে। নামের পাশে অবশ্যই ‘স্যার’ শব্দটিও থাকে। প্রতিবেদকের বা সর্বসাধারণের ধারণা হয়,যেহেতু ‘স্যার’ লেখা আছে সুতরাং তিনি নিকটবর্তি নামকরা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক না হয়ে পারেন না। হতে পারে, কোন কোন নাম কমন থাকতেও পারে। হতে পারে কোথাও দু’একটি ব্যাতিক্রম ঘটতেও পারে।

    Reply
  7. rony akram

    কোচিং বা প্রাইভেট টিউশনি নয়, শ্রেণী পাঠদান (Classroom Teaching) কেন্দ্রীক শিক্ষা চাই। অভিভাবকদের উচিত স্কুলের শ্রেণী কক্ষে ভাল পাঠদান কেন হচ্ছে না সেই প্রশ্ন করা। শ্রেণী পাঠদান ভালো হলে কোচিং টিউশনির প্রভাব কমতে বাধ্য । দেখা যায়, একজন গনিত শিক্ষক একটি
    শ্রেনীকক্ষে একটি অনুশীলনীর ২/৩টি
    অংক কষে বাকিগুলো ছাত্রছাত্রীদের করে
    আনতে বলেন। ছাত্রছাত্রীরা বাড়িতে এসে
    পরিবার বা প্রাইভেট শিক্ষকের সাহায্যে তা
    সম্পূর্ণ করে। বুঝতে পারুক আর ন পারুক
    অংক করা শেষ। পরদিন শ্রেনীকক্ষে যে বা
    যারা অংক সবগুলো না বুঝল তাদেরকে
    তা সব সময়ই বুঝিয়ে দেয়া হয় না বা করে
    দেয়া হয় না। কারন
    সময় কম, সিলেভাজ শেষ করতে হবে,
    না হয় বলবে আমার কাছে প্রাইভেট পড়তে
    আসো সব শিক্ষিয়ে দেব।
    স্কুল বা কলেজে কম পড়িয়ে বাসায় পড়তে
    আসার মন মানষিকতা বদলাতে হবে। এটাও
    এক ধরনের দূর্নীতি।
    বাস্তবতায় দেখা যায় একজন শিক্ষক যা বেতন
    পান তা যতেষ্ঠ নয় ফলে তাকে বাড়তি ইনকামের
    জন্য প্রাইভেট পড়ানোর দিকে যেতে হয়।

    Reply
  8. প্রাপ্তি প্রিয়া

    জাফর ইকবাল স্যারকে শিক্ষামন্ত্রণালয়ে চাই,অথবা তাঁর পরামর্শের বাস্তবায়ন চাই,নতুবা শিক্ষার বানিজ্যিকিকরণ আর রোঁখা সম্ভব হবে না

    Reply
  9. মু. মেহেদি হাসান নাইম, রায়গঞ্জ,সিরাজগঞ্জ।

    তাহলে আমরা মানে শিক্ষার্থীরা এখন কী করব???

    Reply

Leave a Reply to Ami Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—