Feature Img

mahbub-f1111যানজট নিরসনে হাজার কোটি প্রকল্প বিগত দিনে নেয়া হয়েছে, এখনো হচ্ছে। কিন্তু এত অর্থ খরচের পরও যানজট হ্রাস পায়নি, হ্রাস পায়নি মানুষের দুর্ভোগ। একের পর এক প্রকল্পের ব্যর্থতা, আর যাতায়াতের অবর্ণনীয় যন্ত্রণার পরও নতুন নতুন প্রকল্পের সমাপ্তি ঘটেনি। হাঁটার জন্য স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, যানবাহনের ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, সাইকেলের জন্য পৃথক লেন, সুষ্ঠু পাবলিক পরিবহন ব্যবস্থার মতো গণমুখী ও সহজ ব্যবস্থার উন্নয়ন না করে কেনই বা হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ততা নিরন্তন তা একটি বিস্ময়ের বিষয়। প্রশ্ন করা উচিত সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত হাজার কোটি টাকা খরচ করে যাতায়াত ব্যবস্থায় কেন এই যন্ত্রণাকে সৃষ্টি করা হলো?

মানুষ কীভাবে যাতায়াত করতে স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করে তা কখনো জানতে চাওয়া হয় না। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত গাড়ীতে চড়া প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিন্তাপ্রসূত পরিকল্পনা তাদের সুবিধা আর বাণিজ্যের জন্যই হয়। তাই অনেক পরিকল্পনাই হয়, কিন্তু এর সুফল জনতার মধ্যে আসে না, আসে একটি শ্রেনীর মধ্যে। যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে অনেক সংগঠন কাজ করে আসছে, নীতিনির্ধারকদের তাদের কথা শুনতে বা আলোচনায় বসতে দেখা যায় না। জনগনের কথা না শুনে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের প্রেক্ষিতে সমস্যার সমাধান আসছে না। তাই যাতায়াত পরিকল্পনার যৌক্তিকতা নির্ধারণে জনপ্রতিনিধিদের সর্তকতা ও ভিন্ন পন্থা অবলম্বন জরুরি।

ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে বাস না পাওয়া, জেব্রাক্রসিং না থাকায় আতংকিত রাস্তা পারাপারে মানসিক চাপ, হাঁটার পর ফুটওভারব্রিজ পারাপার হওয়ার যন্ত্রণা, সিএনজি বা ট্রাক্সি চালককে অনুনয় বিনয় করে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যেতে রাজি করানো, প্রতিনিয়ত ভাড়া বৃদ্ধির খরচ যোগান যে কত কষ্টের তা নীতিনির্ধারকরা বুঝতে পারে না। আর তাই অনেক প্রকল্প হয় কিন্তু সমস্যার সমাধান আর জনগনের দুর্ভোগ লাঘব হয় না।

যানজট নিরসনের চেষ্টায় অনেক গবেষণা হয়েছে, ফ্লাইওভার, ওভারপাস, আন্ডার পাস, রিকশা নিষিদ্ধ, বাস রুট পরিবর্তন, ট্রেনের সময়সুচী পরিবর্তনসহ নানা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু যানজট সমস্যার সমাধান আসেনি, বরং যানজট দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে মানুষের দুর্ভোগ, খরচ, দুঘর্টনা ও মৃত্যু। আজকে যানজট একটি মুখরোচক শব্দ। অথচ হাঁটা, সাইকেল, বাস, রিকশা বা রেলের মতো সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নে কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় না।

যানজট নয় বরং মানুষের যাতায়াত বিষয়ে চিন্তা করা প্রয়োজন
পরিকল্পনার ভিত্তি হওয়া উচিত মানুষের যাতায়াত। অধিকাংশ মানুষ কীভাবে স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে তা পরিকল্পনায় প্রাধান্য দেয়া উচিত। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকার যাতায়াত ব্যবস্থায় ১৯% হেঁটে, ২৮.৫% বাসে, ৩৮.৭% রিকশায় এবং ৫.২% প্রাইভেট গাড়ীতে ট্রিপ হয়ে থাকে। আর এক্ষেত্রে যাতায়াত পরিকল্পনায় হেঁটে চলাচাল, পাবলিক পরিবহন (রেল/ট্রাম, বাস, রিকশা), সাইকেল চলাচলকে প্রধান্য দেয়া উচিত। এ ধরনের যাতায়াত পরিকল্পনা জনবান্ধব এবং উকৃষ্ট যাতায়াত পরিকল্পনা। কিন্তু আমাদের দেশে যানজট নিরসনের নামে ফ্লাইওভার তৈরি, পার্কিং তৈরি, রিকশা নিষিদ্ধ, ফুটওভার ব্রিজ তৈরির মতো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে, যা প্রাইভেট গাড়ী নির্ভর যানবাহন ব্যবস্থা। শুধুমাত্র ধনীক শ্রেণীর মানুষের সুবিধা নিশ্চিত করতে গিয়ে, নগরকে একটি প্রাইভেট গাড়ীর জঞ্জালে পরিণত করছে।


যানজট নয়-প্রাইভেট গাড়ীরজট নিরসন প্রয়োজন

ঢাকার বর্তমান অবস্থাকে যানজট না বলে, প্রাইভেট গাড়ীরজট বলা উচিত। ঢাকা শহরের অধিকাংশ রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে রাখে প্রাইভেট গাড়ী। যানজট নিরসনের নামে হাঁটা, রিকশা, বাস, সিএনজির মতো জনযাতায়াতের মাধ্যমগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা হলেও, প্রাইভেট গাড়ী নিয়ন্ত্রণ হয়নি। বরং প্রতিনিয়ত নতুন নতুন গাড়ী আসছে ও নামছে। মানব নগরে এ যেন যন্ত্রমনিব। প্রাইভেট গাড়ীর চলার সুবিধা নিশ্চিত করতে ফ্লাইওভার, এলিভেটেড এক্সপেসওয়ে, মতিঝিলের মতো দামী এলাকায় পাকিং নির্মাণ করা হয়েছে। ঢাকা শহরের যত্রতত্র প্রাইভেট গাড়ী পার্কিং করার জন্য স্বর্গরাজ্য। অনন্যা পরিবহন নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারকদের কঠোর মনোভাব পরিলক্ষিত হলেও, প্রাইভেট গাড়ী নিয়ন্ত্রণে তারা নিজের স্বার্থে অসহায়। শহরের যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রাইভেট গাড়ী নিয়ন্ত্রণের মানসিকতা ও সামর্থ্য অর্জন করতে হবে।

পাবলিক পরিবহনে ভাড়া : নির্যাতিত জনগণ
সাধারণ মানুষের যাতায়াতের বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো উদাসীনতার প্রকৃত উদাহরণ পাবলিক পরিবহনের ভাড়া। ঢাকার অধিকাংশ বাসগুলোই সরকার নির্ধারিত বাস ভাড়া মান্য করে না। তথাপিও প্রতিনিয়ত জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে সরকারীভাবে বাস ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়, আর বাস মালিকরা বৃদ্ধি করে আরো কয়েক গুন ।

ঢাকা শহরের যাতায়াত ব্যবস্থায় অপর নির্যাতনকারী পরিবহনের নাম সিএনজি। সিএনজি চালকরা নানা অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করে থাকে। এক সময় ছিল গ্যাস সংকট, তারপর মালিকদের অতিরিক্ত দৈনিক জমা, আর নিয়মিত অজুহাত যানজটের কারণে আয় হয় না। প্রতিটি যাত্রীকে বাধ্য করা হয় সিএনজিতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে। সরকারী সংস্থাগুলোর নিস্ক্রিয়তা, গণপরিবহণের অতিরিক্ত ভাড়া ও মানহীন সার্ভিসের কারণে নির্যাতিত সাধারণ মানুষ। প্রতিনিয়ত যেভাবে ভাড়া বাড়ছে এত অর্থের যোগান কীভাবে দেবে তা কখনো কি নগর পরিকল্পনাবিদ ও নীতিনির্ধারকরা ভেবে দেখেন ?

নগরে বিভিন্ন রুটে বিআরটিসি বাস চালু করা প্রয়োজন
ঢাকা শহরের বিভিন্ন রুটে এক সময় বিআরটিসি বাস চলাচল করলেও, ব্যক্তিমালিকাধীন বাস মালিকদের কারণে এই সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। অলাভজনকসহ নানা সমস্যার কথা তুলে বিআরটিসি বাস বন্ধের প্রেক্ষিতে নগরের যাতায়াত ব্যবস্থা আজ বেসরকারী মালিকদের নিকট জিম্মি। জনগণের অর্থ পরিচালিত বিআরটিসি যদি জনগণকে সেবা দেয়া তবে কেন তা অলাভজনক হিসেবে চিহিত করা হবে তা সত্যিই বিস্ময়ের। অথচ বর্তমানে অনেক অনেকগুণ বেশি অর্থ বেসরকারী বাস কোম্পানিগুলো জনগন হতে প্রতিনিয়ত তুলে নিচ্ছে।

বিআরটিসি বাসগুলো দেয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যাতায়াতের জন্য। ফলে কিছু মানুষ সুবিধা পেলেও, বাসগুলো অধিকাংশ সময় বসে থাকছে। অথচ পরিকল্পিতভাবে গণপরিবহন হিসেবে নিয়মিত চলাচল করলে অনেক মানুষ সুবিধা পেতো। ঢাকা শহরের এক রুট হতে অন্য রুটে যাতায়াতের সুবিধা না থাকায় মানুষ প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। অথচ বিআরটিসি-র সকল বাস সঠিক ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। কেন বা কী কারণে বা কোন স্বার্থানেষী গোষ্ঠীর কারণে বিআরটিসি বিদ্যমান সুবিধা ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না তা তদন্ত করা প্রয়োজন।

বিভিন্ন রাস্তায় রিকশা বন্ধ, ভাড়ছে ভাড়া: সাধারণ মানুষ যাতায়াত কীভাবে করবে

ঝিগাতলা হতে একজন রোগী বা বয়স্ক ব্যক্তি কীভাবে পিজি হাসপাতালের যাবে? এটি একটি রাস্তার ক্ষেত্রে প্রশ্ন নয়, ঢাকার অধিকাংশ রাস্তায়ই একই অবস্থা। ঢাকার বিভিন্ন রুটে রিকশা বন্ধ করা হচ্ছে। কারা কোন পরিকল্পনা বা গবেষণার প্রেক্ষিতে বা কখন করবে তা এই নগরবাসীর অজানা। রাস্তা বন্ধের প্রেক্ষিতে রিকশা চলাচলে ক্ষেত্র সীমিত হলেও, ভাড়া বাড়ছে দিন দিন। এই রিকশা ভাড়াও নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা এখনো অর্জন করতে পারেনি ঢাকা সিটি কর্পোরেশন বা অনন্যা সংস্থাগুলো।

ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৩৮.৭% ট্রিপ হয় রিকশায়। নারীদের ক্ষেত্রে ৪৭.৪% এর যাতায়াত এর জন্য রিকশা ব্যবহৃত হচ্ছে এবং স্কুলে ৪১% যাতায়াত হয়। এই মানুষগুলো কীভাবে চলাচল করবে– এ বিষয়টি চিন্তা না করেই রিকশা বন্ধ করা হয়। গাড়ীতে চলাচলকারী মানুষের জন্য এ চিন্তা যত সহজ, সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য তত কঠিন। এই মানুষগুলোর সুবিধা নিশ্চিত করতে রিকশার জন্য পৃথক এবং ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।

পরিকল্পনায় উপেক্ষিত-নিরাপত্তাহীনতা পথচারী
একজন মানুষ যতক্ষন হাঁটতে পারে ততক্ষনই সুস্থ্য। ধনী-গরীব সকলকেই হাঁটতে হয়। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১৯% ট্রিপ হয় হাঁটার মাধ্যমে। অথচ হাঁটার প্রতি অবহেলার কারণে ঢাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হয় পথচারী। ১৯৯১ সালে ঢাকা শহরে দুর্ঘটনার আক্রান্তদের মধ্যে ৬৭% শতাংশ ছিল পথচারী এবং ২০০৮ সালে বেড়ে দাড়ায় ৮৬%। এ সময়ে পথচারীদের নিরাপত্তার নামে ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডার পাস তৈরি করা হয়েছে। পরিসংখ্যান থেকে এই বিষয়টি স্পষ্ট যে এ ব্যবস্থা পথচারীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। অথচ হাঁটার ব্যবস্থায় উন্নয়নের কথা আসলেই প্রথমেই ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করা এবং ফুটপাত দখল বিষয়ক আলোচনা। আর হাঁটার উন্নয়নে মানেই ফুটপাত সংস্কার। বিগত কয়েক বছরে ধরে এ ব্যবস্থা চলে আসলেও পথচারীদের পথের অবস্থার উন্নয়ন হয়নি বরং দিন দিন খারাপ হচ্ছে। অধিকাংশ মানুষের যাতায়াতের এই মাধ্যমে উপেক্ষা করে নগর যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন কতটুকু সম্ভব তা প্রশ্ন বিদ্ধ বিষয়।

মানুষকে হাঁটার জন্য বাধ্য করার প্রয়োজন নেই, যদি উপযুক্ত পরিবেশ পায় এমনিতেই হাঁটবে। পরিবেশ দূষণ, যানজট, জ্বালানি সংকট, জলবাযূর পরিবর্তন, অতিরিক্ত মোটা হওয়া ও নানা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে হাঁটার উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরী। ব্যায়ামের অভাব বা প্রয়োজনীয় শারীরিক পরিশ্রম না করায় শিশু ও সব বয়সী মানুষের মাঝে অতিরিক্ত মোটা হওয়া, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্তের হার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের নীতিনির্ধারকরা ও জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের সুস্থ্য রাখতে সকাল বিকেল পার্কে হাঁটতে হচ্ছে। যদি হাঁটার ব্যবস্থা নিরাপদ ও আরামদায়ক করা যায়, তবে যাতায়াত ও ব্যায়াম দুইটি হাঁটার মাধ্যমে করা সম্ভব। জনগনের জন্য হাঁটার পরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের স্বাস্থ্য রক্ষার মাধ্যমে জনগনের আস্থা অর্জন এবং পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

ফুটওভার ব্রিজ নয়, জেব্রা ক্রসিং প্রয়োজন

ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের পরিকল্পনা ও প্রচারণা পথচারীদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক বিষয়। একজন মানুষ যে কারণে লিফট ব্যবহার করে এবং গাড়ীতে চলাচল করে, ঠিক একই কারণে একজন পথচারী সমতলে চলাচল করতে চায়। ঢাকা শহরের বিভিন্ন সময়ে ফুটওভার ব্রিজ তৈরি হলেও এগুলো মানুষ খুব একটা ব্যবহার করে না, যা মানুষের যন্ত্রণার কারণের প্রমাণ দেয়। ফুটওভার ব্রিজগুলো পথচারীদের জন্য কষ্টদায়ক। নুন্যতম হাঁটার পর একজন মানুষের পক্ষে এই ফুটওভার ব্রিজ অতিক্রম করা সম্ভব নয়। এছাড়া মালামাল বহনকারী ব্যক্তি, শিশু, গর্ভবতী মহিলা, বৃদ্ধ, শারীরিক প্রতিবন্ধী, অর্থ্রাইটিস রোগীদের জন্য ফুটওভার ব্রিজ অতিক্রম অসম্ভব। এসব মানুষের কথা না ভেবে নগর পরিকল্পনায়বিদগণ একের পর এক ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করে যাচ্ছে।

অনেক সময় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে বাধ্য করছে। অথচ পথচারী অগ্রাধিকার নীতি অনুসারে পথচারীদের নিরাপদ পরাপারে জ্রেবা ক্রসিং দেয়া প্রয়োজন। সিটি কর্পোরেশন আইনের ধারা ১৯.৩ পথচারীদের নিরাপদ যাতায়াতে গাড়ী নিয়ন্ত্রণের বিধান থাকলেও, বাস্তবে হচ্ছে উল্টে। অধিকাংশ মানুষকে কষ্ট করে যাতায়াতে বাধ্য করে, যান্ত্রিক গাড়ীর জন্য নির্বিঘ্নে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

হকার উচ্ছেদ নয়, ব্যবস্থাপনা জরুরি

পরিকল্পিত ফুটপাত শুধুমাত্র স্বচ্ছন্দে হেঁটে যাতায়াতের জন্য নয়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফুটপাতে হকার ব্যবসার মাধ্যমে দেশে প্রচুর মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এদের সুশৃঙ্খলভাবে বসার ব্যবস্থা করার মধ্য দিয়ে আরো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব। বেকারত্ব হ্রাস পেলে সামাজিক অপরাধও কমে আসে। তাছাড়া ফুটপাতে হকার থাকলে তাদের সাজিয়ে রাখা জিনিসপত্র হেঁটে এবং সাইকেলে চলাচলকারীদের আকর্ষণ করে এবং মানুষ সস্তায় জিনিসপত্র কিনতে পারে। সুতরাং সাধারন মানুষকে হেঁটে চলাচলে উৎসাহী করতে ফুটপাতে হকারদের ব্যবসা করার জন্য নিয়ন্ত্রিতভাবে বসা ও তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যা তাদের জীবন মানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

পরিবেশগত, অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা, চিকিৎসা, মানব সম্পদের উন্নয়ন তথা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে উপযোগী যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম। কম খরচে, নিরাপদে, নির্দ্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য একটি সুষ্ঠু যোগাযোগ ব্যবস্থা মানুষের অধিকার। সাধারণ মানুষের অর্থে আর বিলাসী প্রকল্প নয়, বরং অধিকাংশ মানুষের সুবিধা বিবেচনা করে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তবেই যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন সম্ভব। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগে সরকার বিলাসী প্রকল্প বর্জন করে অধিকাংশ মানুষের সুবিধা নিশ্চিত করে এ ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করবে।


সৈয়দ মাহবুবুল আলম
: সংগঠক, নীতি বিশ্লেষক এবং তরুণ আইনজীবি।

Responses -- “জনতার যাতায়াতে দুর্ভোগ কে দেখবে”

  1. Zakir

    যাতায়াত করবে জনতা আর দুর্ভোগ দেখবে কে? যার সমস্যা সেই দেখবে। আমরা এখন আদিম যুগে ফিরে যেতে চাই। যেখানে কোন সরকার থাকবে না, থাকবে না কোন কর্তৃপক্ষ। সবাই স্বাধীন। কত মজা! তবে তখন রাস্তা খেকো আবুলদের একটু কষ্ট হবে। তাদের জন্য একটু দয়া হচ্ছে। তারপরও সুখ……!!!

    Reply
  2. আরাফাত আহমেদ সোহাগ

    আমাদের মানসিকতার ঋণাত্মক মান বিয়োগবোধক অসীমের দেখা পেতে বিভোর হয়ে ছুটছে । আমরা সব দেশের কাজে ব্যস্ত, মানুষের কাজের সময় কোথায় ???

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—