গত কয়েক দিনে আমরা নাটকীয় বেশ কিছু খণ্ড খণ্ড দৃশ্য দেখলাম। নাটকের মুখ্য চরিত্র বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল মালিকরা। যেহেতু উনারা টিভি চ্যানেল মালিক, দর্শকদের উনারা যা খুশি তাই দেখাতে পারেন। উনারা বিডিআর বিদ্রোহ কিংবা হলি আরটিজানের ঘটনার সরাসরি সম্প্রচার করতে পারেন। উনাদের নিজেদের ব্যবসায়িক ঝগড়াঝাঁটি আমাদের দেখাতে পারেন। আমরাও দেখে আমোদিত হয়েছি।

‘গিবত’ শুনতে আমাদের ভালোই লাগে!

সরকার সম্প্রচার নীতিমালা করতে চাইলেন, উনারা বাধা দিলেন। সরকার পিছিয়ে গেল। আমরা নাগরিক হিসেবে এবং দর্শক হিসেবে এখনও জানি না টিভি সম্প্রচার নিয়ে কার কাছে অভিযোগ করা যাবে।

এবার উনাদের বিবাদের একটি অন্যতম বিষয় ছিল, বাংলাদেশ থেকে কিছু বিজ্ঞাপন ভারতের চ্যানেলে চলে যাচ্ছিল। যাদের মাধ্যমে চলে যাচ্ছিল তারাও টিভি চ্যানেলের মালিক। কাক কেন কাকের মাংস খাবে? বাকি মালিকদের দাবি হল, ভারতীয় চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রদান বন্ধ করতে হবে। ভারতীয় চ্যানেলে বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে পারলে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলো আরও কামাই-রুজি করতে পারবে। মূলত এই নিয়েই মনকষাকষি, প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ গালাগালি, মামলা– যা সবাই নিজ নিজ চ্যানেলে বেশ ঘটা করে দেখিয়েছেন।

হঠাৎ করেই তাদের মধ্যে সমঝোতাও হয়ে গেল। সমঝোতা হল দরবেশতুল্য অভিভাবকের নসিহতে। অন্দোলনের একজন নেতা ঘোষণা দিলেন– ভারতে বিজ্ঞাপন প্রচার বন্ধ করা গেছে আর তারা এক হয়ে সব সমস্যার সমাধান করবেন; তাই আপাতত তাদের আন্দোলন স্থগিত করা হল।

আমরা যারা দর্শক তাদের কী হল?

আরও বেশি টাকার বিজ্ঞাপন যদি বাংলাদেশের চ্যানেলগুলোয় প্রচারিত হয় তাহলে তো আরও বেশি করে বিজ্ঞাপন দেখতে হবে। তার মানে দর্শকদের বিড়ম্বনা বাড়বে বৈ কমবে না। অন্য ভাষায়, এই আন্দোলনের সাফল্য মানে দর্শকদের বিড়ম্বনা বাড়ানো।

গত কয়েক দিনে আমরা জেনেছি, বাংলাদেশে একটি ভারতীয় চ্যানেল ‘ডাউনলোড’ করতে বাংলাদেশি টাকায় মাত্র দেড় লাখ টাকা লাগে। আর বাংলাদেশি চ্যানেল ভারতে চালাতে গেলে পাঁচ কোটি টাকা– কেউ কেউ বললেন সাত কোটি টাকা লাগে। টিভি চ্যানেল মালিকরা দাবি তুললেন, বাংলাদেশে ভারতীয় চ্যানেল ডাউনলোড করার ফি এক করে দেওয়া হোক। খোদ বাণিজ্যমন্ত্রী বললেন, “এটা অতি অন্যায্য।”

উনি অনতিবিলম্বে বাংলাদেশেও ভারতীয় চ্যানেল ডাউনলোড করার ফি পাঁচ কোটি টাকা করার কথা বললেন। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা আশান্বিত হলাম। পানির দরে ট্রানজিট ফি, টান্সশিপমেন্ট ফি ধার্য করা হয়েছে; এবার তার খানিকটা ব্যতিক্রম হবে। মিডিয়ার শক্তি অনেক। ভেবেছিলাম তাঁরা যখন দাবি তুলেছেন তাহলে এবার ভারতীয় চ্যানেলের ডাউনলোড ফি ন্যায্য করা হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত গতকাল ফিসের অন্যায্যতার কথা বললেন। কিন্তু এই ফিস কি আদৌ পুনঃবিবেচনা করা হবে?

ভারতের সঙ্গে আমাদের দরকষাকষির রাজনৈতিক ইতিহাস থেকে আশান্বিত হবার কারন দেখি না। এর সঙ্গে যুক্ত হবে বাংলাদেশের প্রতি পাড়ায় মহল্লায় ছড়িয়ে থাকা ডিশ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ। সব মিলিয়ে এক জটিল অবস্থা। টিভি চ্যানেল মালিকদের আন্দোলন স্থগিত হয়ে গেল।আগামী কয়েক বছর পরেও আমাদের হয়তো একইভাবে আফসোস করে যেতে হবে।

টিভি চ্যানেল মালিকদের চলমান নাটক নিয়ে কেউ কেউ নৈর্ব্যক্তিকভাবে লিখেছেন। তবে যে প্রসঙ্গটি গুরুত্বের সঙ্গে আসেনি তা হল, বিশ্লেষণ। কেন একজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ভারতীয় চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দিতে চান? কেন বাংলাদেশের জাতীয় টিকা দিবসের বিজ্ঞাপন সরকারি অনুমতি নিয়ে ভারতীয় চ্যানেল প্রচার করা হয়েছিল? বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরাও যথাযথ আয়কর দিয়েই ব্যবসা করেন। কিন্তু ব্যবসার প্রসারে, ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর প্রয়োজনে ব্যবসায়ীরা যা করার তাই করার চেষ্টা করেন। আর তারা তা করেন পর্যাপ্ত বিশ্লেষণ ও গবেষণা করেই।

ভারতীয় চ্যানেলগুলোর বিষয় খুব একটা মনোমুগ্ধকর না হলেও একটি বৈশিষ্ট্য হল, এতে খুব কম বিজ্ঞাপন থাকে। তাই এসব চ্যানেলে দেওয়া বিজ্ঞাপনগুলো দর্শকরা দেখে থাকেন। এর বিপরীতে বাংলাদেশের চ্যানেলগুলোয় আধা ঘণ্টার অনুষ্ঠানে এক-তৃতীয়াংশ বা চল্লিশ/পঞ্চাশ ভাগ বিজ্ঞাপন থাকে। বিজ্ঞাপন বেশি থাকলে দর্শকরা যে সে অনুষ্ঠান দেখে না, তা বোঝার ক্ষমতা টিভি চ্যানেল মালিকদের কি নেই?

‘রিমোট’ নামক নির্মম যন্ত্রের কাছে টিভি চ্যানেল মালিকদের সব চেষ্টা মার খেয়ে যাবে যদি তাঁরা দর্শকদের আকৃষ্ট করে রাখতে ব্যর্থ হন। তাঁরা যে ব্যর্থ হয়েছেন এবং হচ্ছেন তা তো সুস্পষ্ট। তাই তাদের অতি দ্রুত দর্শকদের মন-মানসিকতা বুঝতে হবে।

প্রশ্ন হল, ভারতীয় চ্যানেলগুলো এত অল্প বিজ্ঞাপন দিয়ে চলে কীভাবে; কিংবা মুনাফা করে কীভাবে। এই জায়গাটাই বুঝতে হবে খুব ভালো করে। দেখতে হবে কয়টা ভারতীয় চ্যানেল ফ্রি আর কয়টা ‘পে-চ্যানেল’। এর বিপরীতে কয়টা বাংলাদেশি চ্যানেল ‘পে-চ্যানেল’। আমার জানামতে, যে চ্যানেলগুলোয় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা বিজ্ঞাপন দিতে আগ্রহী সেগুলো মূলত ‘পে-চ্যানেল’। সে কারণে সেসব অনুষ্ঠানে বিজ্ঞাপন থাকে খুবই কম। পক্ষান্তরে বাংলাদেশে একটিও ‘পে-চ্যানেল’ নেই। এখন ভাববার বিষয় হল, বাংলাদেশে ‘পে চ্যানেল’ করা কি সম্ভব? এ নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশে কত ঘরে ডিশ সংযোগ আছে? আমি সংখ্যাটা সঠিক জানি না। হয়তো তা জরিপ করে বের করতে হবে। আলোচনার খাতিরে ধরে নিই যে, এক কোটি। যদি এক কোটি খানায়ও ডিশ সংযোগ থেকে থাকে তাহলে কম করে হলেও মাসে দেড়শ থেকে দুশ কোটি টাকা আদায় হয়। ডিশ ব্যবসায়ীরা এর সঙ্গে মহল্লাভিত্তিক বিজ্ঞাপন থেকে আয় করে আরও খানিকটা। সরকার এর থেকে কোনো রাজস্ব পায় কি না, জানি না।

দর্শকদের ভারতীয় চ্যানেল দেখানোর জন্য ডিশ ব্যবসায়ীরা কিন্তু ঠিকই বাৎসরিক ফি দেন। কিন্তু এই ব্যবসায়ীরা টিভি চ্যানেল মালিকদের একটি ঘষা পয়সাও দেন না। উল্টো, চ্যানেল মালিকরা তাদের চ্যানেল যেন রিমোটে সিরিয়ালে প্রথমদিকে থাকে সে জন্য কিছু প্রণোদনা দিয়ে থাকেন বলে শোনা যায়।

সিরিয়ালের বিষয়ে এখন একটা শৃঙ্খলা আনা হলেও তা অনেকখানেই মানা হয় না। নতুন চ্যানেলগুলো কীভাবে যেন ডিশ ব্যবসায়ীদের ম্যানেজ করে ফেলে; অনেকটা মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের মতো। ডিশ ব্যবসায়ীদের আয় থেকে যদি এক-তৃতীয়াংশও বাংলাদেশি টিভি চ্যানেল মালিকরা পেতেন তাহলে তাদেরকে বিজ্ঞাপনের উপর এমন করে নির্ভর করে থাকতে হত না; অনুষ্ঠান অনেকখানি বিজ্ঞাপনমুক্ত রাখা যেত। কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? দেখবেন এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো টিভি চ্যানেল মালিক কথা বলবেন না। মূল সমস্যার সমাধান না করে উপসর্গমাফিক সমাধান হলে দর্শকপ্রিয়তা বাড়বে না।

ডিশ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় বা বণ্টন করা বা তাদের নিয়ন্ত্রণে আনা কতটা সম্ভব হবে তা বলা মুশকিল। কারণ পাড়ায় মহল্লায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এসব ব্যবসায়ী মূলত রাজনৈতিক পেশীধারী। ভারতেও শুরুর দিকে পরিস্থিতি এরকমই ছিল। তবে প্রায় তিন বছরের চেষ্টার পর ২০১৭ সাল থেকে থেকে এ বিষয়ে তারা একটি শৃঙ্খলা আনতে পারবে বলে আশা করছে। সে রকম একটা প্রচেষ্টা আমাদের দেশেও দ্রুত নেওয়া উচিত বলে মনে করি।

উপসংহারে বলতে চাই যে, টিভি চ্যানেল মালিকরা একত্রিত হয়েছেন তা শুভ লক্ষণ। সেই সঙ্গে লক্ষণীয় যে, শিল্পী-কলাকুশলীরাও প্রায় একই রকম দাবিতে মাঠে নেমেছেন বা নামতে প্রণোদিত হয়েছেন। তবে তাঁরা যেন হালুয়া-রুটির ভাগে সন্তুষ্ট না হয়ে, আন্দোলন স্থগিত না করে দর্শক এবং নাগরিকদের স্বার্থে কিছু পদক্ষেপ নেন। আর এই কাজে ঢালাও মতামত কিংবা অনুমাননির্ভর না হয়ে তাঁরা যেন গবেষণা ও বিশ্লেষণ করে, চিন্তা-ভাবনা করে সমস্যার মূলে হাত দেন এবং সমাধানের চেষ্টা করেন।

মনে রাখতে হবে যে, দিনশেষে দর্শকদের পছন্দ আর তাদের হাতের রিমোট সবচাইতে শক্তিশালী। দর্শকদের কাছে আপনাদের পরিবেশনা পছন্দ হলে দর্শকরা খুশি থাকবে; আপনারাও ভালো থাকবেন; নচেৎ নয়। তাই সব কিছুর উপরে দর্শকদের পছন্দের কথা, দর্শকদের স্বার্থের কথা ভাবুন।

২৭ Responses -- “টিভি চ্যানেল মালিকদের সমঝোতা: দর্শকদের কী লাভ?”

  1. BD Babu.

    বিজ্ঞাপনের ফাঁকে ফাঁকে ঢেঁড়স চাষি নাট্যকারদের নাটক দেখিয়ে দর্শক ধরে রাখা যায় না । এটা বাস্তবতা ।

    Reply
  2. Shuvo Sarkar

    এই স্টার জলসাকে বন্ধ করলে বাংলাদেশে শুধু ঝগড়া নয় অনেক কিছু আশা করা যাবে সবাই দেখবেন।

    Reply
  3. মাহবুব মুরাদ

    টিভিওয়ালাদের হাত থেকে রেহাই পাবার মোক্ষম উপায়ঃ

    > নিউজ চ্যানেল ছাড়া সব চ্যানেলের টকশোর বকবকানি,খবর-পান্তা প্যচালের অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হবে, এতে সরকারের তেলমারার খরচ কমবে,সরকার তাদের ব্লাকমেইল থেকে রক্ষা পাবে।
    > মানসম্পন্ন অনুষ্ঠান করার সামর্থ না থাকলে টিভি বন্ধ করে মালিকেরা আলুর ব্যবসায় নামতে পারেন।
    >শিল্পী-কলাকুশলীগন, শেষ পর্যন্ত আপনারাও টিভি ওয়ালাদের বাঁচাতে রাস্তায় নামলেন !
    >মনে রাখা ভালো–তোলা দুধে পোলা বাঁচে না।

    Reply
    • Hossain

      ভারতের সংস্কৃতি আর আমাদের সংস্কৃতির অনেক তফাৎ। অধিকাংশ ভারতীয় নাটকেই পরকীয়া, পারিবারিক কলহ এসবই মুখ্যবিষয় এছাড়াও নামে ধর্মনিরপেক্ষ হলেও ভারতের অধিকাংশ চ্যানেলে হিন্দুয়ানি প্রথা ও পূজাপার্বণগুলো খুব ভালভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। যেমন কেঊ বিপদে পড়ল মুখে সুধু ঈশ্বরের স্মরণ নয় বরং পুরো প্রার্থনার সিস্টেমটাই তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কিন্তু পুরোপুরি বিপরীত। সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় উভয়দিক থেকেই ভারতীয় চ্যানেল আমাদের জন্য ক্ষতিকর।

      Reply
  4. সচেতন নাগরিক

    ভারতীয় টিভি চ্যানেল বাংলাদেশে চলে মাত্র দেড়লাখ টাকায়! আর বাংলাদেশী টিভি চ্যানেল ভারতে চালাতে দিতে হয় পাচঁ কোটি টাকা! সত্যিই আশ্চর্য হলাম! আর কত ছাড় দিব আমরা ভারতকে যে তারা আমাদের কে সব জায়গায় আটকে দেয়। এটা কি করে বন্ধুত্ব হতে পারে ! আমরা তাদের ভাবি বন্ধু তারা আমাদের ভাবে শত্রু। তাইতো বলি কী করে এদেশে ভারতীয় চ্যানেল এত বেশী চলে আর আমাদেরটা তাদের দেশে চলেই না। বরং তাদের সব চ্যানেল গুলো ফ্রী করে দেয়া যায় না? তাতে তারাও খুশি হত আর এটাই তো আমাদের কাজ। তাই অনতিবিলম্বে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার কে অনুরোধ করছি।
    আর একটি কথা, ডিশ এন্টেনা মালিকদের উপর নতুন করে একটি আইন করা হোক। তাদের কে আইনের আওতায় এনে নিদিষ্ট পরিমান অর্থ টিভি মালিক দের দেওয়ার নিয়ম বেঁধে দেয়া হোক। টিভি মালিকদের অর্থ পে করে ডিশ চালাবে তা না হয়ে উল্টো টিভি মালিকেরা ডিশ মালিকদের অর্থ পে করে টিভি চালাতে হয়। নযির বিহীন যত ঘটনা এ দেশেই কেন ঘটে? আর আমরা বিনিময়ে পাচ্ছি নযির বিহীন বিজ্ঞাপন ফলে আমরা আমাদের হাতে যে শক্তি টুকু আছে তাই প্রয়োগ করছি যার কারনে সব শেষ। তাই বলছি ক্ষতি আপনাদেরই বেশী তাই ব্যবস্থা আপনাদেরই করতে হবে। সচেতন হন অন্যদের সচেতন করুন।

    Reply
  5. খায়ের আলমগযীর

    বাংলাদেশের বেসরকারী টিভি চ্যানেলগুলি ডিশ ব্যবসায়ীদের হাতে জিম্মি। বছরে প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা নিজেদের পকেটে ভরলেও টিভি চ্যানেলগুলো একটা আনাও পায় না তাদের কাছ থেকে। বরং ডিশ ব্যবসায়ীদেরকে নগদ অর্থ ও বিভিন্ন উপঢৌকনের বিনিময়ে চ্যানেল চালাতে হয় টিভি মালিকদের। এদিকে কোয়াবের সরকারের কাছে দাবী-দাওয়ার কমতি নেই। তারা ডিশ ব্যবসাকে শিল্পের মর্যাদা দিয়ে স্বল্প সুদে ব্যংক থেকে ঋণ দেওয়ার আবেদন করেছে। শুধু বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভর করে টিভি চ্যানেলগুলোর বিশাল ব্যয় ভার চালানো অসম্ভব। আরেকটি কথা না বললেই নয়, তা হলো সেটটপ বক্স। যা চালু হতে যাচ্ছে। এটা যেন কোন ভাবেই ডিশ ব্যবসায়ীদের হাতে না পড়ে। আপনার লেখার সাথে আমি একমত। লেখাটি খুব ভাল লেগেছে এবং লেখকের সাথে আমি একমত পোষণ করছি ।

    Reply
  6. Selim

    ভারতীয় চ্যানেল মানুষ কেন দেখে এবং
    আমাদের চ্যানেল গুলো মানুষ কেন দেখে না ।
    মানুষ যে চ্যানেল দেখবে না, সে চ্যানেলে বিজ্ঞাপন ব্যবসায়ীরা দেবে না – এটাই সাভাবিক ।
    ব্যঙয়ের ছাতার মত গজানো আমার দেশের চ্যানেল মালিক গন
    একটু চিন্তা করে দেখুন ?

    Reply
  7. kader khan

    যেখানে শুধু বাংলা ভাষাভাষী ৩ টি রাজ্যেও বাংলাদেশি চ্যানেল চলেনা। সেখানে ভারতীয় চ্যানেল শুধু মাত্র দের লক্ষ টাকা দিয়ে কেমন করে এই দেশে চালায়???
    এই প্রশ্নের উত্তর আগে খুজতে হবে। না হলে শিল্পী সমাজ যতই আন্দেলন করুক না কেনো যে লাউ সেই কদু।।।।।

    Reply
  8. অবাধ তথ্য প্রযুক্তির যুগে ইউটিউব বন্ধ করবে কে?

    ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ করবেন কেন?
    ভারতে যখন রাজকুমার হিরানী ছিলেন না তখন এদেশে জহির রায়হানের মতো চিত্র নির্মাতা-পরিচালক ছিলেন।নব্বইয়ের দশকে আমরা জোরালোভাবে বলিউডকে নকল করতে শুরু করেছি। বলিউডে আমির খান সালমান খানের দাপট শুরু হয়েছে তখন।সমসময়ে আমরা ইমন খানকে বানিয়েছি সালমান শাহ নকল করেছি কেয়ামত থেকে কেয়ামত।নকলেরও মান থাকতে পারে তা আমরা দেখেছি। নকল তখনও হয়েছে আজও হয়।কিন্তু তখন সুনিপুন অনুকরণ হতো হিন্দি সিনেমার।এখন ব্যার্থ, ভ্রান্ত অনুকরণ হয় হিন্দি তামিল তেলেগু সিনেমার।ফলে এদেশের চলচ্চিত্র শিল্প প্রসব করেছে কোপা শামসু,কানকাটা জরিনা, খাইছি তোরে,ধরছি তোরে’র মতন কালজয়ী বিশ্রী সিনেমা। নব্বই’র দশকে যখন হিন্দি সিনেমা নকল করেছি তখনও এদেশে ভারতীয় স্যাটেলাইট চ্যানেল স্টার জলসা ছিলো না, আবার একবিংশ শতাব্দীতে আমরা যখন “জাল” “ফায়ার “নির্মান করেছি তখনও স্টার জলসা ছিলো না।যখন বস্ত্রযুক্ত পাখি, কিরনমালা ছিলো না তখনও এদেশে বস্ত্রহীণ ময়ুরী, পলি,ঝুমকা ছিলো।
    ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ করতে চান কোন যুক্তিতে?আমাদের ছেলেমেয়ারা নষ্ট হবে?পরকীয়া শিখবে?চারটে বিয়ে করবে?কেন স্টার জলসা-প্লাস আসবার আগে এদেশে পরকীয়া ছিলো না,বহুবিবাহ ছিলো না?
    চ্যানেল বন্ধ করবেন!অবাধ তথ্য প্রযুক্তির যুগে ইউটিউব বন্ধ করবে কে?গুগল?
    আসল কথা হলো আমরা পেরে উঠতে পারছি না।ইমপ্রেস টেলিল্মের মতো গুটিকতেক প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগ ছাড়া আমাদের আর কিইবা আছে?
    এখন চ্যানেল বন্ধের চিল্লানীটা বন্ধ করে অনুসন্ধান করুণ- কেন,কারা আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পকে পতনোন্মুখ পরিস্থিতিতে ফেলেছে?উদ্ধারের উপায় কি?
    এটা উদ্ধার এবং সচল করতে নিশ্চয়ই পদ্মা সেতুর মতো জাইকার কাছ থেকে,বিশ্ব ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ চাইতে হবে না।
    ভুলে যাবেন না, “নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা”।
    শেষমেষ আসল কথা বলি। ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ করতে হবে যদি আমাদের চ্যানেলগুলো ভারতে সম্প্রচারের অনুমতি না পায়।

    Reply
  9. Ahmed Hasan

    তোমরা বলছ ভারতে বাংলাদেশে বিজ্ঞাপন বন্ধ করা হোক
    ,
    আমি বলি বাংলাদেশে ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ করা হোক,
    কারন,
    আজ পর‍যন্ত কেউ বিজ্ঞাপন জন্যে মরেনি
    মরেছে ভারতীয় টিভি চ্যানেল নাটক দেখে,
    আজকে যারা বিজ্ঞাপন বন্ধের জন্যে আন্দোলন
    করছেন তাদের বলছি,
    আপনারা ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ করার আন্দোলন করেন,
    তাহলে দেখবে দেশের টাকা
    দেশে থাকবে,
    আজকে নিজেদের ভাগে কম পরাতে আআন্দোলন করছ, লাভ নেই
    দেশ ভাল না করলে, নিজের ভাল কখন ও হবে না।

    Reply
  10. পর্নোগ্রাফি

    এক জরিপে বলা হয়েছে! স্কুল পড়ুয়া “পাঁচ শত” শিক্ষার্থীর মাঝে জরিপে বলা হয়েছে যে 77% ছাত্র পর্নোগ্রাফি দেখে। পর্নোগ্রাফির হাত থেকে দেশকে বাঁচান।

    Reply
  11. সংসার সুখের হয় ভারতীয় চ্যানেলের গুনে

    সত্যিইতো আমরা কেন হুমডি খেয়ে পডি।
    এটাযে দাদার দেশের চ্যানেল আমরা কি ভুলে গেছি?
    স্টার জলসা,কিরণ মালা দেখে যদি দেশের অর্ধেক জণগন আত্মহত্যা করে তাইলে আমার কি। তবে সন্দেহাতীত ভাবে পিসটিভির কোন দর্শক যদি কোন অন্যায় করে তাইলে আমরা পিসটিভির গুষ্ঠিসহ বন্ধ করে দেব।কারন এইটিভি ইসলাম প্রচার করে, আর আমাদের দেশ ইসলাম প্রচারের দেশনয়।
    আমাদের দেশ কিরণমালা প্রচারের দেশ।

    Reply
  12. Nurul Haque

    ব‌হির বি‌শ্বের চ্যা‌নেল‌কে সু‌যোগ দেওয়া মা‌নে এই না যে, ঢালাও ভা‌বে ওরা বাংলার সংস্কৃতির বু‌কে তীর বিধ‌বে! আমা‌দের ম‌নে রাখ‌তে হ‌বে মি‌ড়িয়ার প্র‌য়োজনীয়তা কেন?নি‌জে‌দের সং‌স্কৃতি, যোগ্যতা,আত্মসম্মান য‌দি নি‌জে‌দের মি‌ড়িয়া দি‌য়ে সর্বস্ত‌রের মানু‌ষের কা‌ছে পৌ‌ছি‌য়ে দেওয়া না যায়, তখ‌নি সং‌শ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়‌কে দ্বায়ভার বহনের প্রশ্নটা সাম‌নে চ‌লে আ‌সে।সুতরাং মাননীয় তথ্য মন্ত্রীর কা‌ছে আকুল আ‌বেদন থাকবে,বাংলার সংস্কৃ‌তি ও সামা‌জিক বন্ধন‌ যেন কোন বৈ‌দে‌শিক চ্যা‌নেল দ্বারা আহত না হয়! স্বাধীন বাংলা‌দে‌শের মু‌ক্তি‌যোদ্ধার চেতনা যাহা‌তে সম‌ন্নিত থা‌কে।

    Reply
  13. I see no evil

    আজ আমাদের দেশের ঘরে ঘরে, এমন কি নিয়মিত ধর্মচর্চা করেন এমন পরিবারেও ভারতীয় সিরিয়াল তাদের জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে গিয়েছে। বাসায় বুয়া কাজের জন্য এলে আজকাল নাকি শর্ত আরোপ করে যে, স্টার জলসাসহ আরো কোন কোন চ্যানেল কখন কখন দেখতে দিতে হবে! এসবে দেখায় কী? পরকীয়া, পরশ্রীকাতরতা, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক, ত্রিভূজ প্রেম, অবৈধ সম্পর্ক! আর এসব দেখার জন্য এদেশের লাখো মা-বোন আজ সমাজ-সংসার ফেলে রেখে, সবকিছু ত্যাগ করে, পাগলপ্রায়! আর, সেসব সিরিয়ালের পরিণামে পাখী, কিরণমালা ইত্যাদি কাপড়ের রমরমা ব্যবসা চলছে! আবার সেসব কাপড়ের দাবীতে কিছু আত্মহত্যা গত কয়েক বছরে যেন আমাদের সমাজে এক বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতকিছুর পরও কিন্তু কারো টনক নড়ছেনা! এই সেদিন নেপালের মতো একটি ল্যান্ড-লকড দেশ, যারা তাদের বাণিজ্যের জন্য ভারতের উপর অনেকটা নির্ভরশীল এবং যে দেশের জনসংখ্যার একটি বিশাল অংশ হিন্দু, তারাও নিষিদ্ধ করে দিল ভারতীয় চ্যানেল। তাহলে, আমাদের দূর্বলতা কিসে? কী কারণে আমরা এটা করতে পারছিনা? একটি দেশকে ধ্বংস করতে হলে, সেই দেশের যুবশক্তিকে সাংস্কৃতিকভাবে পঙ্গু করে দেয়াটা খুব সহজ এবং দীর্ঘমেয়াদি একটি ফলপ্রসু ব্যবস্থা। আজ আমাদের দেশ এমন কঠিন এক সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের স্বীকার, যার ফলে যুব সমাজ পঙ্গুত্বের দ্বারপ্রান্তে, আর পরিবার ধ্বংসের পথে। দেশের হর্তাকর্তারা এটাও দেখেও দেখেন না, শুনেও শুনেন না, বুঝেও বুঝেন না! “I see no evil, I hear no evil, I speak no evil” ভাব করে বসে আছেন সব্বাই!!

    Reply
  14. জলসা রকস

    একটি জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে টেলিভিশন দেখেন-এমন নারীদের ৬৬ শতাংশের বেশি অধিকাংশ সময় ভারতীয় টিভি চ্যানেল দেখেন। চ্যানেলগুলোর শীর্ষে রয়েছে স্টার জলসা। বাংলাদেশের ৫৮ শতাংশ নারী দর্শক নিয়মিত এই চ্যানেলটি দেখেন। সরকারের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও আচরণ পরিবর্তন কর্মসূচির প্রভাব যাচাই-বিষয়ক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ওই জরিপের তথ্য প্রকাশ করা হয়। জরিপটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগ। জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৯০ শতাংশ নারী টেলিভিশন দেখে। এদের ৫৮ দশমিক ২ শতাংশ অধিকাংশ সময় ভারতীয় চ্যানেল স্টার জলসা দেখে, ৬ দশমিক ৬ শতাংশ জি বাংলা এবং ১ দশমিক ৮ শতাংশ দেখে স্টার প্লাস চ্যানেল। রাষ্ট্রীয় চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশন নারীরা বেশি দেখে। এই হার ১৯ দশমিক ১ শতাংশ। এই স্ট্যাট দেখেই বুঝা যায় বাংলাদেশে সাংসারিক ঝামেলা এত বেশি কেন?

    Reply
    • Shuvo Sarkar

      এই স্টার জলসা যদি চলে যায় তাহলে বাংলা দেশের নারীরা ডিস লাইন কেটে দিবে কারন তারা দেখেই শুধু জলসা!!!

      Reply
  15. Manik

    ভারতীয় চ্যানেল বাংলাদেশে দেখালে ফি দেড় লাখ, ভারতে বাংলাদেশী চ্যানেল দেখাতে হলে ফি দিতে হয় ৫ কোটি টাকা। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য শোনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন,এটা আমার জানা ছিল না। তারপর তিনি বলেন, আপনারা দেড় লাখ টাকা দিয়ে ভারতীয় চ্যানেল দেখান কেন। দেড় লাখ টাকা ফি কে নির্ধারণ করেছে। সরকার করেছে জানার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন , এটাতো হওয়ার কথা না। তিনি বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন।

    Reply

Leave a Reply to obaydur rahman Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—