- মতামত - https://opinion.bdnews24.com/bangla -

অসাম্প্রদায়িক থেকে সাম্প্রদায়িক জাতি!

কিছুদিন আগে শাকসবজি কিনতে বাজারে গিয়েছিলাম। সবজির উচ্চমূল্য শুনে বিক্রেতাকে পাশের একটি ‘রিটেইল চেইন শপ’ দেখিয়ে বললাম, “ওখানে তো আপনাদের চাইতে কম দামে সবজি বিক্রি হয়।” শুনেই তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে সবজিওয়ালা বলল, “আরে সেগুলো তো পচা-বাসি সবজি, মানুষ খায়? ওগুলো তো হিন্দুরা খায়।” আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম।

বাসায় একদিন আমার মেয়ের সঙ্গে তার এক হিন্দুু ধর্মাবলম্বী বন্ধু আসে। আমার বুয়া বাসায় রান্না করা গরুর গোশতের তেহেরি মেয়েটিকে খেতে দিয়েছিল। তা শুনে আমি বললাম, “বুয়া কী করেছ, ওকে গরুর গোশত খাওয়ালা?” বুয়া বিজয়ের ভঙ্গিতে বলল,‘ভালো হইসে, খুব মজা হইসে।” শুনে আমি থ! বললাম, “তোমাকে যদি কেউ শূকরের গোশত না বলে খেতে দেয় তোমার কেমন লাগবে?” তখন বুয়া বলে উঠে, “ক্যান খামু? ক্যান দিবেন?”

আমাাদের বিবেচনায় এ দুজন স্বল্প বা অশিক্ষিত শ্রেণির আওতাভুক্ত। আমরা তথাকথিত উচ্চ শিক্ষিতদের মানসিকতা কি এর চেয়ে উন্নত? একটি নামী স্কুলের প্রধান শিক্ষক দুঃখ করে বলছিলেন, তাঁর স্কুলের এক শিক্ষার্থী আরেক হিন্দুুধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীর ধর্ম নিয়ে তুচ্ছাতাচ্ছিল্য করলে সে শিক্ষকের কাছে নালিশ করে। প্রধান শিক্ষিকা মুসলমান শিক্ষার্থীর মা-বাবাকে ডেকে বিষয়টি জানান। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, সেই মা-বাবা তাদের সন্তানকে এ জন্য ভর্ৎসনা তো করেনইনি, উল্টো স্কুল কর্তৃপক্ষের ওপর রাগ করে সন্তানকে স্কুল থেকে নিয়ে যান।

বলা বাহুল্য, হিন্দুু অধ্যুষিত রাষ্ট্রেও একইভাবে মুসলামান সংখ্যালঘুদের প্রতি এ ধরনের বিদ্বেষ পোষণ করা হয়। একাত্তরে শরণার্থী হয়ে কলকাতায় পরিবারের সঙ্গে সল্ট লেকের এক বাসায় ছিলাম। ছোট ছিলাম, পাড়ার মেয়েদের সঙ্গে খেলতাম। একদিন কী প্রসঙ্গে একটি মেয়ে যখন শুনল আমরা মুসলমান, সে বলে উঠল, “অ্যা তোরা মুছলমান?” আরেকদিন এক ছোট ছেলে বলে, “তোমরা মুসলমান হতেই পার না, কারণ, মুসলমানদের কাছে ছুরি থাকে।”

সেসময় কলকাতার মুসলমানরা একটা স্বতন্ত্রতা নিয়ে থাকত। তাই সাধারণ হিন্দুু-মুসলমানদের মধ্যে হয়তো একটা ফারাক ছিল। শিক্ষিত বুদ্ধিজীবী মুসলমানরা অবশ্যই ছিল এর বাইরে। ওই দুটি ঘটনার পাত্রপাত্রীর মতো যদি সত্যি পশ্চিমবঙ্গের মানুষদের মানসিকতা থাকত তাহলে প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে নয় মাস ধরে পালতে পারত না ভারতের সেসময়ের সরকার। একাত্তরে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসামের সাধারণ মানুষেরাও যার যা সামার্থ্য ছিল তা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া শরণার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। স্কুলের ছেলেমেয়েরাও টিফিনের পয়সা জমিয়ে বাংলাদেশি শরণার্থীদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিল। তখন তারা হিন্দুু-মুসলমান বিবেচনা করেনি; মানবতাই কাজ করেছে।

কলকাতার অভিজ্ঞতা শেয়ার করলাম এই কারণে যে তখন ছোট হলেও মনে হয়েছিল, ওদের চাইতে আমরা কত অসাম্প্রদায়িক, কত উদার! ছোটবেলায় দেখতাম, বাবার হিন্দুু বন্ধু ও বন্ধুপত্নিরা প্রায় সারা দিন আমাদের বাসায় কাটিয়ে যেতেন। বলতে গেলে আমরা একপাতে খেয়েছি। শুধু আমাদের পরিবার নয়, আশেপাশে কাউকে দেখিনি হিন্দু বলে বা অন্য কোনো ধর্মাবলম্বীর প্রতি এত বিদ্বেষমূলক মনোভাব পোষণ করতে, বিশেষ করে আমরা যারা শহরে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ হয়েছি।

এখন ‘ইসলামি সিনড্রম’ যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে তাতে এ অসুখ থেকে মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত, ধনী কেউ বাদ পড়ছে না। ধার্মিক হলেই যে অন্য ধর্মবিদ্বেষী হবে, এটি আমরা দেখিনি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, যত মানুষ ধর্ম-অনুগত হচ্ছে তত মানুষের ধর্মের ‘সুড়সুড়ি’ অনুভব করার প্রবণতা বাড়ছে। যে পরিবারের সদস্যকে দেখেছি ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে মহা উৎসাহে শুধু পূজামণ্ডপ দেখতে যাওয়া নয়, প্রসাদও তৃপ্তির সঙ্গে খেতে, সে আজ মধ্যপঞ্চাশে এসে বলছে, “পূজামণ্ডপে যাওয়া গুনাহ।”

সামরিক শাসক আমলে যারা বড় হয়েছে, যারা ‘ধর্মীয় অনুভুতি’কে রাষ্ট্রীয পৃষ্টপোষকতায় লালন করতে দেখেছে, যারা চারপাশে ‘ধর্ম’, ‘ধর্ম’ নিয়ে আহাজারি করতে শুনেছে এবং রাষ্ট্রকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেখেছে, তারাই সাম্প্রদায়িক হয়ে উঠেছে, সে ব্যাখ্যাও তো এখানে ধোপে টেকে না। যারা ষাট বা সত্তর দশকে বাঙালি রেঁনেসা যুগে মানুষ হয়েছেন তারাও অদ্ভুতভাবে ধর্মর আজগুবি ব্যাখ্যায় আসক্ত হয়ে উঠছেন।

পঞ্চাশ-ষাট দশকে এ দেশে যেসব দাঙ্গা হয়েছে, মুসলামানরাই গিয়ে হিন্দুদের আগলে রেখেছিল। তবে বাহ্মণবাড়িয়ায় প্রতিমা ভাঙচুর আর হিন্দুবাড়ি লুটের ঘটনায় দুজন যুবকের কথা জানতে পারি যাঁরা এসব লুটতরাজের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু শ শ মানুষের আক্রোশের কাছে দু-চারজনের সচেনতা কি কাজে আসে? সে জন্য তাঁরা পারেননি। এ ছাড়া প্রশাসন যেখান ‘পক্ষাঘাত আক্রান্ত’ থাকে সেখানে সমাজ আর কতটুকু সচল হতে পারে?

এখন আমজনতা সবাই ফেসবুক ব্যবহার করে। দেশ ডিজিটাল হচ্ছে, সেই সঙ্গে আমরা ‘ডিজিটাল সাম্প্রদায়িকতা’র খপ্পরে পড়ছি। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কমেন্ট, স্ট্যাটাস পড়লে মনে হয় শুধু সংখ্যালঘুরা নয়, আমাদের মতো যাদের হৃদয়ে এক চিমটে হলেও বিবেক আছে তাদের দেশ ছেড়ে পালাতে হবে! ফটোশপে কারসাজি করে ধর্মীয় সহিংসতা উস্কে দেওয়া হয়েছে– এসব ফেসবুক ব্যবহারকারীরা অবশ্যই জানে। কিন্তুু অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি বিদ্বেষ যাদের মনের ভেতর উথালপাতাল করে তারা এ সুযোগে তা কাজে লাগাতে পারে। এসব বদহজম রোগীদের মধ্যে শুধু স্বল্প শিক্ষত মানুষজন নয়, আছেন অধ্যাপক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ সমাজের ‘ক্রিম’রাও!

ব্রিটিশরা আমাদের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার বীজ ঢুকিয়ে দিয়েছে, বহুচর্চিত এই বাণী শুনে আসছি যুগ যুগ ধরে। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বা ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ দুই ধর্মের অনুসারীদের মধ্যে হিংসা রোপনের জন্য দায়ী বলা হয়। তাহলে কেন এ দেশের শতকরা ৯০ জন মানুষ ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয় তাদের অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ নীতি থাকা সত্ত্বেও? কেন ভারতে চার-চারজন মুসলিম রাষ্ট্রপতি হতে পেরেছিলেন? আমরা কি ষাট-সত্তর দশকের অসাম্প্রদায়িক জাতি থেকে একবিংশ শতকে এসে সাম্প্রদায়িক জাতিতে রূপান্তরিত হচ্ছি?

যখন সমাজচালক শিক্ষিত মধ্যবিত্তরা ধর্ম নিয়ে ‘আদিখ্যেতা’ করে তখনই ধর্মীয় সম্প্রীতি সমাজ থেকে উধাও হয়ে যায়, সেটি শুধু থাকে বক্তৃতাতেই। যখন তথাকথিত শিক্ষিতদের আড্ডায় সর্বস্থলের উচ্চপর্যায়ে হিন্দুদের নিয়োগ নিয়ে গুপ্ত রাগ প্রকাশ করা হয়, তখন মনে হয় সামরিক শাসনকালে অলিখিতভাবে সব উচ্চপদ থেকে অমুসলিমদের দূরে রাখা হত, সেসময় কারোর মুখ থেকে তো কোনো উচ্চবাচ্য শোনা যায়নি। সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষরা যখন সামনে আসার যোগ্যতা অর্জন করে তখন এ রকম ফিসফাস শোনা য়ায়, নারীদের ক্ষেত্রেও তা ঘটছে।

২৪ বছর পাকিস্তানি প্রশাসন শত চেষ্টা করেও এ দেশের মানুষকে সাম্প্রদায়িক করতে পারেনি, তাদের প্রেতাত্মা জামায়াত-শিবির খুব সংগোপনে তাদের সে ‘মিশন’ সফল করার কৃতিত্ব নিতে পারছে। চারদিকে হিজাবের ছড়াছড়ি তার একটা প্রমাণ। একদিন আমার এক সহকর্মী বলছিল, সে যখন রাস্তায় একা হেটে কোথাও যায়, প্রায়ই দেখা যায় দাড়িওয়ালা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা মানুষ পাশে যাওয়ার সময় ফিসফিস করে বলেন, “মাথায় কাপড় দেন।” কী ভয়াবহ!

মানুষমাত্র ‘অ্যান্টি-এস্টাবলিশমেন্ট’। অনেকে বলে, এ কারণেও মানুষ ধর্মের প্রতি বেশি অনুগত হয়ে উঠছে। (ধর্মের প্রতি অনুগত মানে অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষ নয়, কিন্তুু আমাদের ক্রিয়াকলাপ দেখিয়ে দিচ্ছে নিজের ধর্মের প্রতি ভালোবাসা মানে অন্য ধর্মের প্রতি ঘৃণা)। কিন্তু ‘এস্টাবলিশমেন্ট’দের তো ধর্মনিরেপক্ষ হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখি না। নাসিরপুরের টিএনও আর সাংসদের আচরণ তো আমরা ফেসবুকের বদৌলতে দেখতে পেরেছি। যে জনপ্রতিনিধি বলেন, “কয়েকটি মাত্র মন্দির ভাঙচুর হয়েছে”, তাঁর কাছে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা কতটা আশা করা যায়?

সুখবর হচ্ছে, হামলায় অংশগ্রহণকারী ক্ষমতাধর দলের দুজনকে দল থেকে বহিষ্কৃত করা হয়েছে। চাপটি কোথা থেকে এসেছে, কে জানে!

একটি মন্দির ভাঙলেও তার দায়ভার নিতে হবে প্রশাসনকে। ধর্মের প্রতি এই পক্ষপাতিত্ব এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে সারা বিশ্বে, বিশেষ করে এই উপমহাদেশে। তা না হলে মোদীর সাম্প্রদায়িক দল ধর্মনিরেপক্ষ বলে খ্যাত দেশে নির্বাচনে জয়লাভ করে? যেখানে নির্বাচনের আগে অমর্ত্য সেনের মতো ব্যাক্তিরা মোদীকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। মোদী যতই মিষ্টি কথা বলুক, তাঁর দল তো পারছে না সাম্প্রদায়িক মনোভাব থেকে ঊর্ধ্বে উঠতে। আমাদের দেশে তো ক্ষমতায় কোনো সাম্প্রদায়িক দল নেই। বরং যে দল ক্ষমতায় আছে তারা অসাম্প্রদায়িক, তারা এ দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল। ধর্ম নিয়ে পাকিস্তানি শাসকদের চোখ-রাঙানিকে যে দল বুড়ো আঙুল দেখাতে পেরেছিল, সে দলের শাসনামলে কেন মন্দির ভাঙচুর হবে? কেন ধুলিসাৎ হবে বৌদ্ধ মন্দির?

যারা বলে, এ দেশের হিন্দুদের এক পা ভারতে, তারা এ ধরনের সহিংসতায় একজন হিন্দুকেও বাঁচাতে এগিয়ে এসেছে কি? তারা কি অনুভব করতে পারে নিজ বাস্তুভিটা ত্যাগ করার যন্ত্রণা? যাদের ভারতে বা অন্যদেশে গিয়ে থিতু হওয়ার সামর্থ্য আছে তাদের উপর এ আক্রমণ হচ্ছে না, যে প্রান্তিক মানুষদের জমিজামা যতটুকু আছে তা দখল করা সহজ, তাদের উপর চলে এই নৃশংসতা।

কে একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী ইসলাম ধর্মকে অপমান করেছে সে কারণে পুরো হিন্দুু সম্প্রদায়ের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে? তাহলে তো প্রতিদিন যেখানে পূজা-খাদিজার মতো নারীরা পুরুষ কর্তৃক আক্রান্ত হচ্ছে সেখানে পুরো পুরুষ জাতিকেই জেলে ঢোকানো উচিৎ! একটি ঘটনা বারবার ঘটলে এবং তার প্রতিকার না হলে সবার কাছে সেটার গুরুত্ব ভোঁতা হয়ে যায়। সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ সে পর্যায়ে যাচ্ছে।

সংখ্যাগুরুদের দাম্ভিকতা প্রতিটি জাতির মধ্যে রয়েছে। কিন্তু সুশিক্ষা, মুক্তচিন্তা তা থেকে পরিত্রাণ দিতে পারে। আমরা সে শিক্ষা পাচ্ছি না– না পরিবার, না সমাজ, না রাষ্ট্র তা দিচ্ছে।

এ কারণে সবজিওয়ালা হিন্দুরা অখাদ্য খায় বলে মন্তব্য করে, হিন্দুকে গরুর গোশত খাইয়ে মজা পায় কাজের বুয়া, এবং এ কারণে শিক্ষিত মা-বাবা সন্তানের ভিন্ন ধর্মের সহপাঠীকে হেনস্তা করা সমর্থন করেন।

২০ Comments (Open | Close)

২০ Comments To "অসাম্প্রদায়িক থেকে সাম্প্রদায়িক জাতি!"

#১ Comment By ATD On নভেম্ভর ৬, ২০১৬ @ ১:২৩ অপরাহ্ণ

Excellent Writing.

#২ Comment By বাঙাল On নভেম্ভর ৬, ২০১৬ @ ১:৪৭ অপরাহ্ণ

প্রথমেই লেখিকার একটি তথ্য গত ভুল সংশোধন দিয়েই শুরু করতে চাই, তিনি বলেছেন এই দেশের শতকরা ৯০ জন মানুষ ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়, কথাটি ঠিক নয়। সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামীলিগ এই পূর্ববঙ্গের মোট ভোটের শতকরা ৭৪ ভাগ ভোট পেয়েছিল বাকি ২৬ ভাগ ভোট পেয়েছিল এই দেশের সম্প্রদায়িক গোষ্টি যারা এই দেশের স্বাধিনতা চয়নি, তারা ছিল উগ্র সম্প্রদায়িক চেন্তার সমাজের ধনী ও মধ্যবিত্তি শ্রেনীর প্রতিনিধি।এই দেশের সাধারন দরিদ্র জনগোষ্টির মধ্যেই বঙ্গবন্দুর জনপ্রিয়তা বেশী ছিল। একাত্তরের পর এই দেশে নুতন করে সাম্প্রদায়িক চেতনার বিস্তার ঘটান জেনারেল জিয়া তার শাসন আমলে। জেনারেল জিয়া একাত্তরের স্বাধিনতার বিরোধি সেই ২৬% নিয়েই তার রাজনিতি শুরু করেন। যারা এই দেশকে একটি সাম্প্রদায়িক জাতিতে পরিনত করেছে। জেনারেল জিয়া তার শাসনআমলে পাকিস্থানিদের সেই পুরানা রাজনিতির সংস্কৃতি চালু করেন তার দলের লোকদের মাধ্যমে, তা হল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের দেশত্যাগে বাধ্য করে তাদের সম্পত্তি দল করা।এতে দুইটি লাভ হয়েছিল এক, তার দলের লোকেরা সহজেই হিন্দু সম্পত্তি দখল করে রাতারতি ধনি হতে পেরেছিল। যে কারনে গ্রাম্য টাউদের সহজেই তিনি তার দলে টানাতে পেরেছিলেন। দুই হিন্দুদের দেশ থেকে বিতারনের মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষ সমার্থক দলের সমার্থন তিনি কমাতে পেরেছিলেন। একাত্তরের এই দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ১৯ ভাগ ছিল হিন্দু জনগোষ্টি, এখন সেই সংখ্যা মাত্র ৮.৫ ভাগ। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এই দেশ ত্যাগের বাধ্য করার ক্ষেত্রে বিএনপি, জামাত, জাতিয়পার্টি, আওয়ামীলিগের কিছু নেতা সবাই এক। আদম শুমারির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে এই দশ বছরে বাংলাদেশ থেকে হিন্দু জনসংখ্যা কমেছে প্রায় ৯ লাখ। এর কারন হল সেই একই। তাই যতদিন এই হিন্দু সম্পত্তি দখলের সহজ পথটি চালু থাকবে, আমরা ততই ক্রমানয়ে অসাম্প্রদায়িক থেকে সাম্প্রদায়িক জাতিতে পারিনত হব।

#৩ Comment By সরকার জাবেদ ইকবাল On নভেম্ভর ৬, ২০১৬ @ ৬:৩৪ অপরাহ্ণ

চমৎকার বিশ্লেষণ। হিন্দু সম্প্রদায়ের শতভাগ নিরাপত্তাবোধে আস্থা অর্জনে সরকারকেই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। ইতিমধ্যে অনেক হত্যাকাণ্ড, জ্বালাও-পোড়াও ঘটে গেছে। কিন্তু সরকারকে কোন সক্রিয় এবং কঠোর ভূমিকা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। তার চাক্ষুষ প্রমাণ হলো নাসিরনগরে এত বড় একটি ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরও আমাদের প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে একটি শব্দও উচ্চারিত হতে দেখা গেল না। এই নিরবতা রহস্যময়। আমিতো মনে করি প্রধানমন্ত্রীর এরই মধ্যে একবার নাসিরনগর যাওয়া উচিত ছিল। সবকিছুই নির্ভর করছে সদিচ্ছার উপর।

#৪ Comment By Nizam Hossain On নভেম্ভর ৬, ২০১৬ @ ১:৪৭ অপরাহ্ণ

thanks a lot for positive comments. I believe that that AL is better than BNP, but need to take positive attention about madrasha education system. Nizam

#৫ Comment By Nurul Haque On নভেম্ভর ৬, ২০১৬ @ ১:৫৬ অপরাহ্ণ

মালাউন বলে হিন্দু সম্প্রদায়কে তিরস্কার করা চরমতম গর্হিত ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

#৬ Comment By nazer alam On নভেম্ভর ৬, ২০১৬ @ ২:০০ অপরাহ্ণ

আজ হিন্দু সম্প্রদায়কে ভাবতে হবে তারা আঃলীগের কাছে কেন আত্মসমার্পন করেছে? কেন তারা আঃলীগ ছাড়া অন্যকোন দলকে নিরাপদ মনে করে না?

#৭ Comment By সাম্প্রদায়িকতা On নভেম্ভর ৬, ২০১৬ @ ২:৪৮ অপরাহ্ণ

এদেশে মৌলবাদী বা সাম্প্রদায়িকতা শব্দ ব্যাবহার করে বারবার যেমন দুষ্কৃতকারীদের আপনারা আড়াল করেছেন তেমনি একদিন দেখবেন এরাই আপনাকে আর আপনার সুশীলতাকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে।
আগুণের চোখ নেই, আপনার চোখ আছে, দেখে- শুনে- বুঝে এই আগুন এখনই নেভান।

#৮ Comment By হৃদয় দাস On নভেম্ভর ৮, ২০১৬ @ ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ

মানুষের মানবতা বলে একটি বিষয় আছে, সেটা মনে হয় সবাই ভূলে গেছে।

#৯ Comment By Palash kumar das On নভেম্ভর ৬, ২০১৬ @ ৪:০৩ অপরাহ্ণ

লেখিকাকে ধন্যবাদ হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু অসঙ্গতি প্রকাশ করার জন্য। মনে প্রশ্ন জাগে আমরা কি তথ্য প্রযুক্তির যুগে আছি? তার চেয়ে প্রাচীন যুগ কি ভালো ছিলনা?
বিদ্রোহী কবির ভাষায় বলতে চাই-
“হায়রে ভজনালয়
তোমার মিনারে চড়িয়া ভন্ড গাহে স্বার্থের জয়
মানুষেরে ঘৃণা করি
ওকারা কোরান বেদ বাইবেল চুম্বিছে মরিমরি—

#১০ Comment By আমি বাঙ্গালি On নভেম্ভর ৬, ২০১৬ @ ৪:১৯ অপরাহ্ণ

একদম সত্যি কথা ।

#১১ Comment By সরকার জাবেদ ইকবাল On নভেম্ভর ৬, ২০১৬ @ ৪:২৯ অপরাহ্ণ

মুসলমান নামধারী কিছু গুণ্ডার গুণ্ডামীর কারণে সামগ্রিকভাবে মুসলমান জনগোষ্ঠীকে সাম্প্রদায়িক বলা যায় না। আর, কাণ্ডটি যে রসরাজই করেছে তা কিন্তু এখনও প্রমাণিত হয়নি। যারা ‘ফটোশপ’ করে চাঁদে সাঈদীর মুখ দেখাতে পারে তারা মক্কা শরীফের উপর শিবমূর্তি বসাতে পারে না কে বললো? আমার কান আছে কিনা পরখ না করেই চিলের পেছনে ছোটা ঠিক হবে না।

#১২ Comment By Ashutosh Barai On নভেম্ভর ৬, ২০১৬ @ ৮:৪১ অপরাহ্ণ

90% of Bangladeshi people are now “so called Muslim” not a true Muslim and hate people of other religions. Madrasha education or Mosque education controlled by Jamat successfully achieved their objectives. The country is now in a point of “no return”. Some people will only say “Islam does not support attacking people of other religious belief” but never come forward to stop the criminals.

#১৩ Comment By Fazlul Haq On নভেম্ভর ৬, ২০১৬ @ ৬:৪৯ অপরাহ্ণ

জমি যায়গা ও সম্পত্তির ধান্দায় এই অমানবিক তান্ডব। ধর্ম সেখানে অজুহাত ও মুখোশ। এদের বিচারে চরম শাস্তি প্রাপ্য।

#১৪ Comment By Ashraful Islam On নভেম্ভর ৬, ২০১৬ @ ৬:৫৭ অপরাহ্ণ

ভুল সব ভুল

#১৫ Comment By অনু On নভেম্ভর ৬, ২০১৬ @ ৭:১৮ অপরাহ্ণ

চারদিকে হিজাবের ছড়াছড়ি তার একটা প্রমাণ। একদিন আমার এক সহকর্মী বলছিল, সে যখন রাস্তায় একা হেটে কোথাও যায়, প্রায়ই দেখা যায় দাড়িওয়ালা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরা মানুষ পাশে যাওয়ার সময় ফিসফিস করে বলেন, “মাথায় কাপড় দেন।” কী ভয়াবহ!
আপনার এই কথাগুলির মাঝে চরম সাম্প্রদায়িক ভাব আছে

#১৬ Comment By mintu lal mandol On নভেম্ভর ১০, ২০১৬ @ ১:৫৯ অপরাহ্ণ

পাঞ্জাবি-পাজামা পরা লোকদের কাছ থেকে একই কথা আমিও শুনেছি এবং ওরা এই কথা যখন বলে যে, ‘মাথায় কাপড় দে ’ তখন যে কী পরিমাণ ক্ষুব্ধ থাকে সেটা কেউ সরাসরি না শুনলে বুঝতে পারবে না।

#১৭ Comment By হৃদয় দাস On নভেম্ভর ৮, ২০১৬ @ ১০:২১ পূর্বাহ্ণ

মানবতা শব্দটা এখন সাম্প্রদায়িকতার আড়ালে লুকায়িত।

#১৮ Comment By mintu lal mandol On নভেম্ভর ৯, ২০১৬ @ ৫:৩৫ অপরাহ্ণ

এরকম একট অভিজ্ঞতা আমারও আছে। কিছুদিন আগে অফিস শেষে বাড়ি ফিরছিলাম। রাস্তার পাশে কয়েকটা দোকান। একটা দোকানের সামনে সাজিতে কিছু পেয়াজ রাখা। বড় বড় পেয়াজ। এগুলো খুব সম্ভবত ভারতীয় পেয়াজ। হঠাৎ করে আমার কানে এলো দোকানদার এক ক্রেতাকে বলছে, এগুলো চারাইল্ল্যা পেয়াজ। আমি একটু দোকানের কাছাকাছি হওয়ার চেষ্টা করলাম আরো ভালো করে শুনার জন্য। দোকানদার তখন বলছেন:এগুলা ইন্ডিয়ার পেয়াজ ,এগুলা চারাইল্ল্যা পেয়াজ।

#১৯ Comment By Shyama Dutta On জানুয়ারি ৩১, ২০১৭ @ ২:৩৭ অপরাহ্ণ

100% right. Due to we are minority.

#২০ Comment By Shyamal Bhattacharjee On ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৭ @ ১:৩২ অপরাহ্ণ

এ সমস্যা কবে মিটবে আমি জানি না। এ ধ্ররণের সমস্যার স্বীকার হয়ে শুধু দুঃখ পাওয়া ছাড়া আপাতত আর কোনো পথ সত্যিই দেখতে পাচ্ছি না। মার্ক্স বলেছিলেন, একসময় সমাজে ধর্মের একটা প্রগতিশীল ভূমিকা সত্যিই ছিল। তারপর থেকে পৃথিবীতে ধর্ম খারাপ ছাড়া ভাল কিছু করে নি। পৃথিবী পরিবর্তনশীল। এখানে কোনো কিছুই স্থির নয়। কোনো ব্যাবস্থাও স্থির থাকে না। এটাও কোনো একদিন থাকবে না। এই ডাইনোসার একদিন অবলুপ্ত হবেই।