Feature Img

Join_photoঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯২১ সালে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেন লর্ড হার্ডিঞ্জ ১৯১২ সালে। ২১ জানুয়ারি তিনি ঢাকা সফরকালে কযেকজন মুসলিম নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ তার সঙ্গে দেখা করেন। তারা বঙ্গভঙ্গ রদের কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে অনুযোগ করেন। এই ক্ষতি পূরণের জন্য  ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়  প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে লর্ড হার্ডিঞ্জ প্রতিশ্রুতি দেন।

সে সময় পূর্ব বঙ্গে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। পূর্ব বঙ্গ মুসলমান অধ্যূষিত বলে পূর্ব বঙ্গের মুসলমানদের জন্য উচ্চ শিক্ষার দরোজা খুলে যাওয়ার সুযোগ ঘটে। পাশাপাশি পূর্ববঙ্গের অন্যান্য ধর্মের লোকজনের জন্যও এটা বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়। সকলেই এই প্রস্তাবটি স্বাগত জানায়। সকলেই সহযোগিতার হাত বাড়ায়।

এই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার বিরোধিতাও সে সময় কিছু লোকজন করেছিলেন। এই বিরোধিতাকারীদের মধ্য ছিলেন মুসলমান ও হিন্দু উভয় সম্প্রদায়ের ব্যক্তিবর্গ ছিলেন।  বিরোধিতা করেছিলেন তিন ধরনের লোকজন–
এক. পশ্চিমবঙ্গের কিছু মুসলমান–তারা মনে করেছিলেন, ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের কোনো লাভ নেই। পূর্ববঙ্গের মুসলমানদেরই লাভ হবে। তাদের জন্য ঢাকায় নয় পশ্চিমবঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়াটাই লাভজনক।
দুই. পূর্ব বাংলার কিছু মুসলমান–তারা মনে করেছিলেন, পূর্ব বঙ্গের মুসলমানদের মধ্যে ১০০০০ জনের মধ্যে ১ জন মাত্র স্কুল পর্যায়ে পাশ করতে পারে। কলেজ পর্যায়ে তাদের ছাত্র সংখ্যা খুবই কম। বিশ্ববিদ্যালয় হলে সেখানে মুসলমান ছাত্রদের সংখ্যা খুবই কম হবে।
পূর্ববঙ্গে প্রাইমারী এবং হাইস্কুল হলে সেখানে পড়াশুনা করে মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষার হার বাড়বে। আগে সেটা দরকার। এবং যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে মুসলমানদের জন্য যে সরকারী বাজেট বরাদ্দ আছে তা বিশ্ববিদ্যালয়েই ব্যয় হয়ে যাবে। নতুন করে প্রাইমারী বা হাইস্কুল হবে না। যেগুলো আছে সেগুলোও অর্থের অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। সেজন্য তারা বিশ্ববিদ্যালয় চান নি।
তিন. পশ্চিমবঙ্গের কিছু হিন্দু মনে করেছিলেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বরাদ্দ কমে যাবে। সুতরাং কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় চলবে কীভাবে? এই ভয়েই তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন।

মৌলানা আকরাম খান আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অর্থ বরাদ্দ করলে সাধারণ মুসলমানদের শিক্ষা সংক্রান্ত বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দানের ক্ষেত্রে অর্থের ব্যবস্থা করবেন না। মুসলমানদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা অপেক্ষা প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক) শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার উপর তিনি গুরুত্ত্ব আরোপ করেন। আবদুর রসুল আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় মুসলমানদের পক্ষে ‘বিলাসিতা’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তার মতে কয়েকজন ভাগ্যবানের জন্য অর্থ ব্যয় না করে বেশিরভাগ মানুষের জন্য তা ব্যয় করা উচিৎ। মুসলমানদের মতে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় হবে একটি অসাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠান, ফলে বাংলার মুসলমানদের বিশেষ কিছু লাভ হবে না। বরং গরীব অথবা যোগ্য মুসলমান ছাত্রদের বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা এবং দু-একটি প্রথম শ্রেণীর কলেজ স্থাপন ইত্যাদি করলে মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষাবিস্তার সম্ভব হবে। চব্বিশ পরগণার জেলা মহামেডান এসোসিয়েশন ১৯১২-র ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যায় স্থাপনের বিরোধিতা করে।

হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু লোকজনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন সে সময়ে। ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ তার ঢাকা সফর শেষে কলকাতা প্রত্যাবর্তন করলে ১৯১২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ড. রাসবিহারী ঘোষের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল তার সাথে সাক্ষাৎ এবং ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধিতামূলক একটি স্মারকলিপি পেশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে বিরোধী ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় আর রাজনীতিক সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী। ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড হার্ডিঞ্জ স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কী মূল্যে অর্থাৎ কিসের বিনিময়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিরোধিতা থেকে বিরত থাকবেন? শেষ পর্যন্ত স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চারটি নতুন অধ্যাপক পদ সৃষ্টির বিনিময়ে তার বিরোধিতার অবসান করেছিলেন। পরবর্তিতে স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য শিক্ষক নিয়োগে সহযোগিতা করেন। তার সঙ্গে ছিলেন স্যার নীলরতন সরকার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় পূর্ব বঙ্গের বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও শিক্ষাবিদ নানাপ্রকার প্রতিকুলতা অতিক্রম করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ঢাকার নবাব নবাব স্যার সলিমুল্লাহ। কিন্তু, হঠাৎ করে ১৯১৫ সালে নবাব সলিমুল্লাহের মৃত্যু ঘটলে নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী শক্ত হাতে এই উদ্যোগের হাল ধরেন। অন্যান্যদের মধ্যে আবুল কাশেম ফজলুল হক উল্লেখযোগ্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় পূর্ব বাংলার হিন্দুরাও এগিয়ে এসেছিলেন। এদের মধ্যে ঢাকার বলিয়াদির জমিদার অন্যতম। জগন্নাথ হলের নামকরণ হয় তাঁর পিতা জগন্নাথ রায় চৌধুরীর নামে। জগন্নাথরায় চৌধুরীর নামেই ঢাকার জগন্নাথ কলেজের নামকরণ করা হয়েছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর ফিলিপ জে হার্টজ প্রথম ভাষণেই বলেন, ‘এটি কোন মুসলিম কিংবা হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় হবে না, এটি সবার এবং প্রত্যেক মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।’ এ ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়  বাঙ্গালী জাতির মননশীলতার প্রতীক হয়ে ওঠে।

২.

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এ ধরনের একটি অভিযোগ সম্প্রতি সংবাদপত্রসহ বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি ইংরেজি পত্রিকার সম্পাদক। কিছু কিছু কলামলেখকও নানা সময়ে সংবাদপত্রে এ ধরনের তথ্য প্রকাশ করছেন।  ২০০০ সনে আহমদ পাবলিশিং হাউস থেকে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ধারাবাহিকতা এবং প্রাসঙ্গিক কিছু কথা’ নামে একটি বইয়ে মেজর জেনারেল (অব.) এম এ মতিন, বীরপ্রতীক, পিএসসি (তত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা) একটি তথ্য জানান যে, ”১৯১২ সালের ২৮শে মার্চ কলিকাতা গড়ের মাঠে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়।” তিনি অভিযোগ করেন যে, রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কালি ও কলম পত্রিকার  সম্পাদক মণ্ডলীর অন্যতম সদস্য এজেড এম আব্দুল আলী একটি পত্রিকায়  এই অভিযোগটির বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, যারা রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে এই অভিযোগটি করছেন তারা তাদের রচনায় কোনো সূত্রের উল্লেখ করেন নি।  তবে ইসলামী ফাউন্ডেশন থেকে প্রকাশিত একটি গ্রন্থে এই ধরনের একটি মনগড়া অভিযোগের উল্লেখ পাওয়া যায়। মেজর জেনারেল (অবঃ) আব্দুল মতিন এই গ্রন্থ থেকেই তথ্যটি ব্যবহার করেছেন। ঐ তারিখে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোলকাতায়ই উপস্থিত ছিলেন না এবং তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা করেন নাই। করলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছরের মধ্যেই ভাষণ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ করা হত না। ১৯৩৬ সালে তাকে ডিলিট উপাধী প্রদানের বিষয়েও বিরোধিতা হত। বরং তাঁকে দুবারই মুসলমান-হিন্দু সকল শ্রেণীর ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান আন্তরিকভাবে  সম্মাননা প্রদান করেছে। সর্বোপরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতার সংবাদাদি সে সময়কার পত্রিপত্রিকায় পাওয়া যায়। কোথাও রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতার কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করেছেন প্রফেসর রফিকুল ইসলাম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশি বছর নামে বই লিখেছেন। সেই বইয়ের কোথাও রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায় না।  ঢাকা বিশ্বিদ্যালয়ের অধ্যাপক গীতিআরা নাসরীন জানাচ্ছেন– রবীন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে এই  অপপ্রচারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট বার্ষিক অধিবেশনের (২৮-২৯ জুন, ২০১১) আলোচনায় আসে।  অধ্যাপক ফকরুল আলমের কথার অংশ থেকে লিখছি…”রবীন্দ্রনাথ একসময় বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে বিরোধী ছিলেন….কিন্তু….চারপাঁচ বছর পর তার পুরানো পজিশন পরিবর্তন করে ফেলেছিলেন। ….অবশ্যই তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে গ্রহণ করেছেন বলে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মাননায় এসেছিলেন।….যারা ইতিহাসকে এক জায়গায় রেখে দেয় তারা ইতিহাসকে বিকৃত করে, তারা সত্যকে বিকৃত করে।….” (কার্যবিবরণী, পৃ:১৭৮)।

৩.

১৯১২ সালের ২৮শে মার্চ রবীন্দ্রনাথ কোলকাতায় ছিলেন না। তিনি ছিলেন শিলাইদহে। ১৯ মার্চ ১৯১২ (৬ চৈত্র, ১৩১৮ বঙ্গাব্দ) ভোরে কলকাতা থেকে সিটি অব প্যারিস জাহাজে রবীন্দ্রনাথের ইংলণ্ড যাত্রার জন্য কেবিন ভাড়া করা হয়েছিল। তার মালপত্রও জাহাজে উঠেছিল। সেদিন সকালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে তার ইংলন্ড যাত্রা স্থগিত হয়ে যায়।

রবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর পিতৃস্মৃতি গ্রন্থে লিখছেন—জাহাজ ছাড়বার আগের দিন রাত্রে স্যার আশুতোষ চৌধুরীর বাড়িতে বাবার নিমন্ত্রণ। কেবল খাওয়া দাওয়া নয়, সেই সঙ্গে বাল্মিকীপ্রতিভা অভিনয়ের ব্যবস্থা হয়েছিল। দিনেন্দ্রনাথ বাল্মীকির ভূমিকায় অভিনয় করেন। অসুস্থ শরীরে বাবাকে অনেক রাত অবধি জাগতে হল। আমরা ঘরে ফিরলাম রাত করে। বাকি রাতটুকু বাবা না ঘুমিয়ে চিঠির পর চিঠি লিখে কাটিয়ে দিলেন। ভোরবেলা উঠে বাবার শরীরের অবস্থা দেখে আমরা ভয় পেয়ে গেলাম, ক্লান্তিতে অবসাদে যেন ধুঁকছেন। তাড়াতাড়ি ডাক্তার ডাকতে হল।…জাহাজ আমাদের জিনিসপত্র সমেত যথাসময়ে পাড়ি দিল, কিন্তু আমাদের সে যাত্রা আর যাওয়া হল না।‘

আকস্মিকভাবে যাত্রা পণ্ড হয়ে যাওয়ায় খুব বেদনা পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তিনি ২১ মার্চ ১৯১২ (৮ চৈত্র ১৩১৮ বঙ্গাব্দ) তারিখে ডাঃ দ্বিজেন্দ্রনাথ মৈত্রকে লেখেন—‘আমার কপাল মন্দ—কপালের ভিতরে যে পদার্থ আছে, তারও গলদ আছে—নইলে ঠিক জাহাজে ওঠবার মুহুর্তেই মাথা ঘুরে পড়লুম কেন? অনেক দিনের সঞ্চিত পাপের দণ্ড সেইদিনই প্রত্যুষে আমার একেবারে মাথার উপরে এসে পড়ল। রোগের প্রথম ধাক্কাটা তো একরকম কেটে গেছে। এখন ডাক্তারের উৎপাতে প্রাণ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। লেখাপড়া নড়াচড়া প্রভৃতি সজীব প্রাণীমাত্রেরই অধিকার আছে, আমার পক্ষে তা একেবারে নিষিদ্ধ।…’

২৪ মার্চ ১৯১২ (১১ চৈত্র ১৩১৮ বঙ্গাব্দ) বিশ্রামের উদ্দেশ্যে রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহে রওনা হন। ঠাকুরবাড়ির ক্যাশবহিতে লেখা আছে, শ্রীযুক্ত রবীন্দ্র বাবু মহাশয় ও শ্রীযুক্ত রথীন্দ্র বাবু মহাশয় ও শ্রীমতি বধুমাতাঠাকুরাণী সিলাইদহ গমনের ব্যায় ৩৭৯ নং ভাউচার ১১ চৈত্র ১৫।।৩।. পরদিন সোমবার ১২ চৈত্র ২৫ মার্চ ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ মৌচাক পত্রিকার সম্পাদক সুধীরচন্দ্র সরকারের ভগ্নী  কাদম্বিনী দত্তকে (১২৮৫—১৩৫০ বঙ্গাব্দ) এক চিঠিতে লেখেন—এখনো মাথার পরিশ্রম নিষেধ। শিলাইদহে নির্জ্জনে পালাইয়া আসিয়াছি।

১৯১২ সালের ২৮ শে মার্চ রবীন্দ্রনাথ একটি চিঠি লিখেছেন জগদানন্দ রায়কে। জগদানন্দ রায়  বিজ্ঞান বিষয়ক লেখক, রবীন্দ্রনাথের পুত্রকন্যাদের গৃহশিক্ষক ও শান্তিনিকেতনের ব্রহ্মচর্যাশ্রমের শিক্ষক।  সেদিন ছিল বৃহস্পতিবার। চৈত্র ১৫, ১৩১৮ বঙ্গাব্দ। রবীন্দ্রনাথ চিঠিটি লিখেছেন শিলাইদহ থেকে।  রবীন্দ্রনাথ লিখছেন—‘কয়দিন এখানে এসে সুস্থ বোধ করছিলুম। মনে করেছিলুম সেদিন যে ধাক্কাটা খেয়েছিলুম সেটা কিছুই নয়। সুস্থ হয়ে উঠলেই অসুখটাকে মিথ্যা বলে মনে হয়। আবার আজ দেখি সকাল বেলায় মাথাটা রীতিমত টলমল করচে। কাল বুধবার ছিল বলে, কাল সন্ধ্যাবেলায় মেয়েদের নিয়ে একটু আলোচনা করছিলুম—এইটুকুতেই আমার মাথা যখন কাবু হয়ে পড়ল তখন বুঝতে পারচি নিতান্ত উড়িয়ে দিলে চলবে না।’ (বি, ভা. প, মাঘ-চৈত্র ১৩৭৬। ২৫৩, পত্র৫)।

প্রশান্তকুমার পাল রবিজীবনী গ্রন্থের ষষ্ঠ খণ্ডে জানাচ্ছেন, এদিনই তিনি একটি কবিতা লেখেন। কবিতার নাম—‘ স্থির নয়নে তাকিয়ে আছি’। এই কবিতাটি গীতিমাল্য কাব্যগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত ৪ সংখ্যক কবিতা। এর পর বাকী ১৫ দিনে শিলাইদহে থেকে রবীন্দ্রনাথ আরও ১৭টি কবিতা বা গান লেখেন। এর মধ্যে একটি গান—আমার এই পথ চাওয়াতেই আনন্দ। ১৪ চৈত্র, ১৩১৮ বঙ্গাব্দ। রচনার স্থান শিলাইদহ। ২৬শে চৈত্র ১৩১৮(এপ্রিল ৮, ১৯১২) বঙ্গাব্দেও তিনি শিলাইদহে। সেখান থেকে লিখেছেন—এবার আমায় ভাসিয়ে দিতে হবে আমার। এপ্রিল ১২, ১৯১২ তারিখে লিখছেন—এবার তোরা আমার যাবার বেলাতে। শিলাইদহে রচিত। ঐ ১২ এপ্রিল, ১৯১২ শিলাইদহ থেকে  তিনি কোলকাতায় রওনা হন।

তথ্য বলছে– সে সময়ে রবীন্দ্রনাথ কলকাতায় নয়—শিলাইদহে ছিলেন।

কুলদা রায়: কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।
এম এম আর জালাল: মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষক।

৫০ Responses -- “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা ও রবীন্দ্রনাথ”

  1. আরাফাতু্ল ইসলাম

    ঠিক আছে, যারা বলেন কবি গুরু বিরোধিতা করেন নাই, তাহলে তাদেরকে বলছি আপনারা প্রমান উপস্থাপন করুন যে যারা বিরোধিতা করেছিল তাদের বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিছু লিখেছেন।

    Reply
  2. এস, এম, ইমদাদুল ইসলাম

    রাহাত খন্দকারের সর্বশেষ লেখা , শিকদার দস্তগীরের লেখা এরকম আরো কয়েকজনের লেখা প্রমাণ করেছে যে লেখকদ্বয় উকিলীয় কায়দায় সভায় অনুপস্থিত প্রমাণ করেই কেবল ঠাকুর মহাশয়কে নিরপরাধ প্রমাণ করবার চেষ্টা করেছেন । আর কোন উপযুক্ত , বিশ্বসযোগ্য দলিল উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি । কারণ বাস্তবতা হল এই যে, কবিগুরু দীর্ঘকাল যেখানে জমিদারি করেছিলেন , সেখানে তিনি কোনদিনই শিক্ষালয় গড়ে তুলবার প্রয়োজন মনে করেন নি । সেই দিক বিচার করলে এটা হতে পরে যে, তিনি বিরোধীতা করতেই পারেন । যে সব পন্ডিতজন বিরোধিতা করেছিলেন, তাদের বিরোধিতা না করবার জন্যও কিন্তু ঠাকুর মহাশয়ের কোন ভুমিকা ছিল না । যাই ঘটুক, কিন্তু সেটা নিয়ে কোনদিন এই দেশে কেউ ঝগড়া বিবাদ করেনাই । সুতরাং এত কথা বলে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নির্দোষ প্রমাণ করতে যেয়ে বরং ” ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাই না”– এরকম প্রবাদতুল্য ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ চলছে বলে মনে হচ্ছে । যদি কেউ সঠিক নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে প্রমাণ করতে পারেন, রবিঠাকুর বিরোধিতা করেছিলেন বা করেন নি, উভয় পক্ষ সেই সঠিক তথ্য দিন । আর না হয়, এই আলোচনাটা ঝগড়ায় পরিণত হওয়া থেকে বিরত থাকা ভাল। কেউ যেন এখানে কোন অশালীন কথা ব্যবহার না করেন ।

    Reply
    • মনোরঞ্জন দাস

      ‘বিরোধিতার জন্য কোলকাতায় অনুষ্ঠিত কোন এক সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেছিলেন’ — এটিই যখন অভিযোগ, তখন যদি দেখা যায় যে তিনি তখন কোলকাতাই ছিলেন না, তখন তো শুধু অভিযোগটি যে মিথ্যা তা’ই প্রমাণ হয় না বরং অভিযোগটি যে সম্পুর্ণ অশুভ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে তা’ও স্পষ্ট হয়। এটাকে ‘উকিলীয় কায়দা’ বলে বিভ্রান্তি ছড়ানোটা অশুভের পক্ষে যাওয়ার শামিল। রবি ঠাকুর তাঁর জমিদারি এলাকায় প্রজাদের উন্নতির জন্য শুধু শিক্ষা বিস্তারের চেষ্টাই নয়, আরও অনেক যুগান্তকারী প্রগতির পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। তিনি সেখানে অভূতপুর্ব কৃষিব্যাংক, সমবায় প্রথা, উন্নত জাতের গো-পালন ইত্যাদি বহু উন্নয়ন কার্যক্রম চালু করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন কৃষকদের স্বার্থে। সে’সবের অনেক অনেক প্রমাণ আছে।

      Reply
  3. সজিব

    ক্লারিফেকেশন রেকুয়ার্ডঃ

    ১। “মূর্খের দেশে আবার কিসের বিশ্ববিদ্যালয়, তারাতো ঠিকমতো কথাই বলতে জানেনা!
    ২। ঢাবির জন্মকে নস্যাৎ করতে কলকাতার বাবু বুদ্ধিজীবীরা রীতিমত আন্দোলন গড়ে তুলেন। আশুতোষ থেকে নিয়ে রবী বাবু- কেউই এ আন্দোলনে নিষ্ক্রিয় ছিলেন না। ( বিস্তারিত দেখুন: ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি কমিশন রিপোর্ট, খ- ৪, পৃ. ১৩০)
    ৩। ” আমি জানি, এই বংগে বাস করে কিছু মোছলমান চাষা , এইখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মানে সদাশয় বৃটিশ সরকারের কিছু টাকা গচ্চা যাওয়ারই নামান্তর ”
    4. “There are two religions on the earth, which have distinct enmity against all other religions. These two are Christianity and Islam. They are not satisfied with just observing their own religions, but are determined to destroy all other religions. That’s why the only way to make peace with them is to embrace their religion.”

    [The above is a part of a letter written by Rabindranath Tagore to Sri Kalidas Nag on 7th Asar, 1329 Bangabda, compiled in the article ‘Hindu-Muslim’ in the book ‘Kalantar’ and compiled in the Complete Works of Rabindranath (in Bengali), published by Viswabharati University, 1982, Vol. 24, p – 375 (tr – the author)]

    5. Rabindranath also observed,
    “A very important factor which is making it almost impossible for Hindu-Muslim unity to become an accomplished fact is that the Muslim can not confine their patriotism to any one country. I had frankly asked the Muslims whether in the event of any Mohammedan power invading India, would they (Muslims) stand side by side with their Hindu neighbors to defend their common land or join the invaders. I was not satisfied with the reply I have obtained from them….. Even such a man as Mr. Mohammed Ali (one of the famous Ali brothers, the leaders of the Khilafat Movement) has declared that under no circumstances is it permissible for any Mohammedan, whatever be his country, to stand against any Mohammedan”.

    [Appeared as Interview of Rabindranath in English daily the ‘Times of India’ April 18, 1924 in the column – “Through Indian Eyes.” It has also been quoted by Ambedkar and others in their writings.]

    Reply
  4. রমনানন্দ দে

    কুলদা রায়ের ঠাকুর রবীন্দ্রনাথ। তিনি যাদের ‘ঠাকুর’, তারা সাহিত্যকর্ম, সঙ্গতি অসঙ্গতি বুঝুক আর না বুঝুক ঠাকুরের স্ততুতি, ধুপ ধূনো দিয়ে আরাধনা করে আত্মরতির তৃপ্তি লাভ করেন। এটাই তাদের জীবনের একমাত্র অর্জন। এরা যদি দাবি করে বসেন ‘ঠাকুরের পায়ূ নিসৃত বায়ু সুগন্দি তৈরি হয়’ তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। যেমন একজন ‘কট্টরডানপন্থী’র বিরুদ্ধে বামপন্থীদের ঢাল/অবলম্বন হিসেবে দাঁড় করিয়ে ছেড়েছেন!

    রবীন্দ্রনাথ যদি ভারতের স্বাধীনতা, স্বদেশি আন্দোলন, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ইত্যাদির বিরোধিতা বা অ-সমর্থন করতে পেরে থাকেন তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করতে পারবেন না কেন? যারা যারা ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ’র বিরোধিতা করেছিল তাদের প্রত্যেকেই, একদম প্রত্যেকেই সেই একই কারণেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠারও বিরোধিতা করেছিল। রবীন্দ্রনাথের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা মিথ্যে প্রমাণ করতে হলে আগে তাঁর বঙ্গভঙ্গ’র বিরোধিতাকে মিথ্যে প্রমাণ করতে হবে। সেটা কি সম্ভব? যিনি সারা জীবনে আর কখনোই কোন রাজনৈতিক আন্দোলন কর্মসূচিরে জড়িত হননি তিনি কেন ও কোন ‘মহৎ’ উদ্দেশ্যে বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে জোতদার জমিদার, উকিল মোক্তার ডাক্তার কায়েমি-স্বার্থগোষ্ঠির সঙ্গে আক কাতারে শরীক হয়েছিলেন? এই জবাবটা কুলদাবাবু বা তার সমর্থকরা আগে ব্যখ্যা করবেন কি? ১৯০৫ সালে সারা বঙ্গে কলেজ ছিল কটি এবং তার কয়টা পূর্ববঙ্গে ছিল সেটা জানা আছে কি কারুর?

    Reply
    • মনোরঞ্জন দাস

      এমন রুচিহীন vulgar লেখা অকল্পনীয়। এর বিষয়ে কিছু লেখায় মন সায় দিচ্ছে না।

      Reply
  5. আব্দুল মান্নান

    সরাসরি বললে বলতেই হবে যে বাংলাদেশের ধর্মোন্মাদ মানুষদের রবীন্দ্রনাথ অসহ্য। যে বাঙ্গালী ভাষার জন্য প্রাণ দিতে পারে তারা কি করে বাংলার একজন শ্রেষ্ঠ কবির বিরুদ্ধে এমন বিষোদ্গার করতে পারে সেটা বিশ্বাস করা শক্ত। কিন্তু মনে রাখবেন রবীন্দ্রনাথ ছিলেন সব ধর্মের উর্ধে। মুসলমানদের প্রতি তার কতটা ভালোবাসা ছিল সেটা তার মুসলমানের মেয়ে গল্প পড়লে বুঝবেন। তাছাড়া রবীন্দ্রনাথ এমন একজন ব্যাক্তিত্ব ছিলেন যে কয়েকজন ধর্মোন্মাদ মানুষের প্রচারে তার সম্মানের কোন হানি হয় না। ওরা যদি না চায় রবীন্দ্রনাথের নাম সব জায়গা থেকে মুছে দিক। মানুষের হৃদয়ে তার স্তান অটুট থাকবে।

    Reply
    • Mahmud

      1. কবি রবীন্দ্রনাথ বলেন, অব্রাহ্মণ শিক্ষক ব্রাহ্মণ ছাত্রের প্রণম্য নয়। (সত্যেন্দ্র নাথ রায়: রবীন্দ্র মননে হিন্দুধর্শ, শারদীয় দেশ, ১৪০৫)
      2. মুসলমানির গল্প: নামই বলে দেয় মুসলমান বিদ্বেষের কথা! কোন রুচিবান মানুষ এ ধরনের নাম ব্যবহার করতে কী?

      Reply
      • মনোরঞ্জন দাস

        ১। বিচ্ছিন্ন ভাবে একটি লাইন কখনও আসল বিষয় প্রকাশ করে না। সে কালের সামাজিক অবস্থায় ‘প্রণাম’-এর স্থলে ‘নমস্কার’ চালু করাটা বিবেচ্য ছিল।
        ২। না জেনে এমন মন্তব্য! গল্পটির বক্তব্য পুরোপুরি হিন্দু সমাজের তুলনায় মুসলমান সমাজের একটি শ্রেয় দিক উচ্চে তোলে ধরে। তবে গল্পটি খসড়া আকারেই থেকে গিয়েছিল, যার মুদ্রিতব্য রূপ দেবার আগেই তিনি মৃত্যুশয্যায় চলে যান। শিরনামটিও তিনি চূড়ান্ত করতে পারেননি । নামটির মুদ্রিতব্য বা প্রকাশিতব্য রূপ তিনি দিয়ে যেতে পারেননি। রচিশীলতার আদর্শপুরুষ বিশ্বনন্দিত কবিকে সুরুচিহীন বলে ইঙ্গিত করতে কতটা নীচে নামা যায়, তা’ দেখা গেল!

      • মাহমুদ

        জনাব মনোরঞ্জন দাস
        ১. মি. রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রাহ্মণ্যবাদ ছাড়া সবকিছুকে হীন মনে করতেন। এটাই বুঝিয়েছেন।[অব্রাহ্মণ শিক্ষক ব্রাহ্মণ ছাত্রের প্রণম্য নয়]

  6. জুবায়ের চমক

    যাহা কিছু রটে তাহার কিছুটা হলেও বটে।
    ঠাকুর সাহেব নিশ্চয় এমন কিছু একটা করেছিলেন।

    Reply
  7. Ebadullah Mahmud

    Robindrannat DU protistar birodita korecilen ata promanito jinis.ata niye tar pokke sapai gawar ki ace bujina! je ‘bongho bongher ‘birodhita kore se DU protistar birothita korbe atai savabik.

    Reply
  8. শিকদার দস্তগীর

    কুলদা রায়ের বিশদ বিবরণ দিয়া সাফাই গাহিবার বিষয়টি প্রমাণ করে , ঠাকুর ঘরে কে রে ? আমি কলা খাই না । মিঃ তানিম তাহার কাছে রেফারেন্স জানিতে চাহিয়াছিল, তাহার জবাবে তিনি কিছুই কহিলেন না । কেননা আমরা জানি, ইহার পক্ষে রেফারেন্স বলিয়া কিছুই নাই । তবে কিছুদিন আগেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইকিতে ৬ জন বিরোধীতাকারীর নাম উলে্লখ ছিল (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম ব্যতিত) । যেখানে ভারতের তথা এই বংগের কোন মুসলিমের নাম ছিল না । কিন্তু কুলদা বাবু যেভাবেই হউক রেফারেন্স ছাড়া কতিপয় মুসলমান ( অবশ্য ভারতীয় /এদেশীয় শিক্ষিত মুসলমানরা তখন অধিকাংশই ছিল তাল মিলিয়ে চলা মুসলমান ) এর নাম আবিষ্কার করিয়াছেন । ইতা সত্য যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঠিক ঐ ৬ জনের মত করিয়া বিরোধীতা করেন নাই । তিনি করিয়াছিলেন অনেকটা কুটনৈতিক প্রক্রিয়ার মত করে । সেই সময়কালীন যারা কিছুদিন আগেও জীবিত ছিলেন তারা সেই সময় পত্র পত্রিকায় পড়িয়াছেন, এমনকি এখানকার পত্রিকাগুলোর আর্কাইভ হইতে খুঁজিলে পাওয়া যাইতেও পারে । আবার নাও পাওয়া যাইতে পারে । কেননা উইকিতে যেভাবে যত্ন করিয়া বিরোধীতাকারীদের অংশটুকু মুছিয়া ফেলা হইয়াছে, সেইভাবে হয়তো বাংগালী সেন্টিমেন্ট যাহাতে বিগড়াইয়া না বসে, কবিগুরুকে কেউ যাহাতে অসম্মান করিতে না পারে, তাহার জন্য এখন হয়তো বা কোন প্রমাণই আর রাখা হইবে না । যাহাই হউক, আমরা এসব কথা শুনিয়াছিলাম পাকিস্তান আমলেই যারাহা এইখান হইতে কলিকাতায় যাইয়া লেখা পড়া করিয়া বড় হইয়াছিলেন , তাহাদের মুখে । তখন টেপ রেকর্ডার ছিল না , তাই প্রমাণ রাখিতে অক্ষম । আর তখন তো আমরা নেহায়েতই ছোট মানুষ । ইহা লইয়া রাজনীতির তো আমরা কিছুই মালুম করিতে পারিতাম না । কিন্তু আমি ভাবিয়া অবাক হই, তখনকার প্রেক্ষাপটে যাহারা বিরোধীতা করিয়াছিলেন, তাদের বিরোধীতা করিবার পক্ষে হয়তো অনেক যুক্তি ছিল । এই বংগে বাস করিত কিছু মোছলমান চাষা, ইহাতো মিথ্যা নহে । সেই সময় এই দেশের কোন নেতারা রবীন্দ্রনাথকে তাহার জন্য দোষারোপ করিয়া গালাগালি করিয়াছে, এমনটিতো শুনিনাই । বরং বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হইলে শিক্ষকতা করিবার জন্য সেই বিরোধীতাকারীদের অনেককেই এইখানে কাজ করিতে হইয়াছিল । আর ইহা তো সত্য কথাই । এইখানে মুসলমানদের তো কাঁচা পিয়াজ পান্তাভাত খাইয়া ঘুম আর বিলাসীতা ছাড়া আর কোন সারই তাহাদের ছিল না । আজ অবধি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং মান নামিতে নামিতে যেইখানে আসিয়াছে তাহাতে কি ঠাকুরজীর সেই কথা প্রমাণ হয়নি যে, ” আমি জানি, এই বংগে বাস করে কিছু মোছলমান চাষা , এইখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মানে সদাশয় বৃটিশ সরকারের কিছু টাকা গচ্চা যাওয়ারই নামান্তর ” –তাহা কি আমরা প্রমাণ করিতে পারি নাই ? সুতরাং কুলদা রায় বাবুকে এত বিশদ প্যচাল না পাড়িলেও চলিত, বুদ্ধিমানদের এত বেশি কথা কহিবার দরকার হয় না । বিনিত অনুরোধ, সবার কাছে , বাস্তবতা হইল বিরোধীকারীদের শীর্ষে যে ৬ জন গুনী মানুষ ছিলেন, তাহারা ফেলনা ছিলেন না । রবীন্দ্রনাথ তাহাদের মত করিয়া বিরোধীতা না করিলেও তাহার বিরোধীতা ছিল । ইহা লাইয়া এই দেশে কেহ কোনদিন বিবাদ করেনাই । রবীন্দ্রনাথকে এই দেশের মানুষ কোনদিন ছোট করিয়া দেখে নাই । এখনও দেখিবে না । কিন্তু সত্যকে সত্য বলিয়া স্বীকার করিয়া লইতে কোন দ্বিধা থাকা উচিত নহে । আবার সত্য বলিয়া ইহা লইয়া কাহারো রাজনীতির মাঠে ফালাফালি করাও অনুচিত । বেমানান । তার চেয়ে বরং মন দিন, ইহার র‍্যাংকিং যে তলাইত তলাইতে অতলেরো নীচে গেল –ঠেকাইয়া একটু উঠানো যায় কি না, সেইদিকে মনোযোগী হউন ।

    Reply
  9. দেবনাথ

    আগে ওদের কজন কে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশেষ ভাবে জানানো দরকার বিশ্ববিদ্যালয় কি ও কেন।

    Reply
  10. আবদুস সোবহান

    যারা রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি করতে চাচ্ছে তারা পাকিস্তান আমল থেকে এটা করে আসছে। বাংলা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম কারণ পাকিস্তান কর্তৃক রবীন্দ্র বিরোধিতা। রবীন্দ্রনাথহীন বাঙালী হতে পারে না। রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগর জন্ম না নিলে বাংলা ভাষায় লিখতে বা পড়তেই পারতাম না। যারা রবীন্দ্রনাথের বিরোধিতা করে তারা বাঙালীই নয়। পাকিস্তান আমলের রবন্দ্রিনাথ বিরোধীরা ধ্বংস হয়ে গেছে, এখন যারা এটা করছে তারাও ধ্বংস হবে। বিশ্বের সকল বাঙালী ও বিশ্ববাসীর মাঝে তিনি হিরন্ময় রবি হয়ে চিরকাল জ্বলতে থাকবেন।

    Reply
    • Mahmud

      জনাব আবদুস সোবহান:
      1. কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, আমি বলচি, যা কিছু মানুষের শ্রেষ্ঠ আদর্শের সঙ্গে মিলে তাই হিন্দুধর্ম। (প্রবাসী, আশ্বিন, 1341)
      2. কবি রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাতে প্রতিষ্ঠা না হয় সেজন্য 42 বার বৃটিশ সরকারের কাছে টেলিগ্রাম পাঠান। (সূত্র: প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ, তারিখ মনে নাই)
      3. কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর নাম 1 নম্বরে ছিলো যে 22 জন পণ্ডিত ঢা. বি. প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয় গড়ের মাঠে যে প্রতিবাদ সভা হয় তাতে তিনি সভাপতিত্ব করেন। (প্রফেসর ড. কাজী জাকের হোসেন, দৈনিক ইনকিলাব 10 মার্চ 2002)

      Reply
      • Mannan

        জনাব মাহমুদ,
        ১। যা কিছু মানুষের শ্রেষ্ঠ আদর্শের সঙ্গে মিলে তাই ইসলাম ধর্ম, মুসলমানরাও কিন্তু সেকথাই বলে। হিন্দুরা বললেই আমাদের গা জ্বলে যায়।
        ২। প্রফেসর ড. মাহবুব উল্লাহ একজন সুপরিচিত বিনপি জামাতি বুদ্ধিজীবি ও উগ্র সাম্প্রদায়িক গুষ্ঠির প্রিয়ভাজন, ওনার প্রশ্নবিদ্ধ রেফারেন্স ব্যবহার করা যুক্তিসঙ্গত হবে কি?
        ৩। উগ্র সাম্প্রদায়িক গুষ্ঠির প্রিয় পত্রিকা ইনকিলাবের কোন লেখাকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করা ও নিজের যুক্তিকে নিজেই খন্ডন করা একই কথা হয়ে দাড়ায়।

    • সজিব

      দাদা, আমরা বাংলাদেশী। আর ভাষার জন্য আমরাই প্রান দিয়েছি।
      মাথা হইতে গোবর বাহির করিয়া মতামত দিবেন।

      Reply
  11. গীতা দাস

    রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় বিরোধিতা করেছিলেন কি করেননি এর নিয়ে গবেষণা হতেই পারে। তবে,তর্কের খাতিরে যদি ধরেই নিই যে রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় বিরোধিতা করেছিলেন, তবুও কি এখন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় বাধা দেয়া উচিত? আর যে কারণ দেখিয়ে লিফলেট বিলি হচ্ছে তা কি সমর্থন যোগ্য? বিরোধীদের বক্তব্য—“বিশ্ব ভারতীর আদলে শাহজাদপুরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করে সেখানে সাংস্কৃতিক চর্চা করা হবে। যা ইসলাম ধর্মের বিরোধী। কেননা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেই নাস্তিক ছিলেন। তিনি ইসলাম তথা নবীজীর বিরুদ্ধেও বিরূপ মন্তব্য করেছেন। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় চাই। তবে এটি রবীন্দ্রনাথের নামে নয়। বরং অন্য যে কোন মুসলিম সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি ও দার্শনিকের নামে হোক, তাতে আমাদের আপত্তি নেই।তবে অবশ্যই সেখানে নগ্ন ও অপ সাংস্কৃতিক চর্চা বন্ধ রাখতে হবে। এ বিষয়ে জনমত তৈরীর জন্যই আমরা প্রচারপত্র বিলি করছিলাম।” হাসিব না কাঁদিব? কিংকর্তব্যবিমূঢ়।

    Reply
  12. gopal

    অনেক আগে, রবিবারে একটা আর্টিকেল পড়েছিলাম। ইংরেজিতে লেখা ওই আর্টিকেলে ছিল, একজন মহান কবি সবসময়ই মহান। রাজনৈতিক বাতাবরণের পরিবর্তনের বদল ঘটলে তার মহত্ত্বে কোনো ক্লেদ পড়ে না।

    Reply
  13. বিপ্লব রহমান

    মূল লেখাটি আগেই পড়া; এখন পুনর্লিখিত লেখাটিও ভালো লাগলো। আরো ভালো লাগছে এই ভেবে যে, বিডিনিউজের মতামত বিভাগে ফরহাদ মজহার, অভিজিৎ রায়ই লিখছেন না, রবীন্দ্র গবেষক কুলদা রায়্ও লিখছেন। 🙂

    Reply
  14. এরশাদ মজুমদার

    ‘১৯১২ সালের ২৮শে মার্চ গড়ের মাঠে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিস্ঠার বিরুদ্ধে হিন্দুরা প্রতিবাদ সভা ডাকে। প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ। কারণ তিনি ছিলেন জমিদার। তিনি মুসলমান প্রজাদের মনে করতেন লাইভ স্টক বা গৃহপালিত পশু’( শ্রী নীরদ চৌধুরী, দি অটোবায়োগ্রাফী অব এ্যান আননোন ইন্ডিয়ান)।
    ১৯১২ সালে ১৬ই ফেব্রুয়ারী বড় লাটের সাথে বর্ধমানের স্যার রাসবিহারী ঘোষের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিমন্ডলী সাক্ষাত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিস্ঠা না করার পক্ষে যুক্তি প্রদর্শন করেন।( রিপোর্ট অব দি ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি কমিশন) আরও বহু রেফারেন্স আমার কাছে আছে। যাঁরা বলেন, কবিগুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিস্ঠার বিরোধিতা করেন নি তাঁরা কবিগুরুর জীবনী সম্পর্কে ভাল করে ওয়াকিবহাল নন।

    Reply
    • কুলদা রায়

      ১৯১২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রবীন্দ্রনাথ বোলপুরে শান্তিনিকেতনে ছিলেন। তিনি এ সময় বিলেতযাত্রার জন্য খুবই ব্যস্ত ছিলেন। বিলেতযাত্রার আগে শিলাইদহে যান তিনি। রাসবিহারী ঘোষের সঙ্গে ১৬ ফেব্রুয়ারি কোনোভাবেই বড় লাটের অপিসে যাওয়ার কথা নয় তাঁর। তাঁর জীবনীর লগবুকে এরকম তথ্য পাওয়া যায় না। জনাব এরশাদ মজুমদার, রিপোর্ট অব দি ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি কমিশন-এ সাক্ষাৎকারীর তালিকায় রবীন্দ্রনাথের নাম নেই। এটি আপনি অসত্য বলেছেন।
      শ্রী নিরোদ চৌধুরীর বয়ান দিয়ে ২৮ মার্চের যে তথ্যটি দিয়েছেন–তাও অসত্য। রবীন্দ্রনাথ সেদিন শিলাইদহে ছিলেন। গড়ের মাঠে নয়।

      Reply
      • Tanim

        @কুলদা রায়ঃ এ সম্পর্কে আপনার কাছে কোন প্রমানাদি আছে? যদি থাকে তার গ্রহণযোগ্যতাসহকারে উপস্থাপন করুন।

      • Mahmud

        1. তাহলে প্রতিবাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন কে? সেটা বলুন
        2. বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চেষ্টা বার বার ভণ্ডুল হয়েছে! কবি রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর
        বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে কী ভূমিকা রাখছে?

      • সজিব

        আপনি যেভাবে রেফারেন্স ভুল প্রমান দিচ্ছেন , এই জাতি জানতে চায় আপনার মুখের গালগল্প ছাড়া কোনো রেফারেন্স আপনার কাছে আছে কি। এ কথা সত্য যে রবি ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের সম্রাট।

    • মাহমুদ

      এখন মিথ্যাকে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করার কাজ চলতেছে…. এটাই আসল সময় রবীন্দ্র ময়লা চিরদিনের জন্য মুছে দেয়ার …

      Reply
    • শান্ত রহমান

      জনাব,

      রেফারেন্স দেয়ার নিয়ম যদি জানা থাকে– তবে সেভাবেই আপনার রেফারেন্স দিন দয়া করে। আমরা একটু উল্টে-পাল্টে দেখি।

      ধন্যবাদ।

      Reply
    • শান্ত রহমান

      জনাব এরশাদ মজুমদারঃ
      রেফারেন্স দেয়ার নিয়ম যদি জানা থাকে – তবে সে ভাবেই আপনার রেফারেন্স দিন দয়া করে। আমরা একটু উল্টে-পাল্টে দেখি। ধন্যবাদ।

      Reply
  15. দেবাশীষ

    ধন্যবাদ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে দেয়ার জন্য। এদের মিথ্যা বলার ধরন দেখে যে কোন নিরপেক্ষ মানুষ কনফিউজড হয়ে যাবে। তবে আসল বিষয়টা হচ্ছে ওদের রেফারেন্সগুলাও ভুয়া নয়ত কোন ব্লগ নয়ত ওদের মানসিকতার আর কারো লেখা বই।

    Reply
  16. mamunmahfuz

    প্রবন্ধ এবং প্রতিক্রিয়া দুটোই যুক্তিগ্রাহ্য….
    আমারও প্রশ্ন প্রবন্ধের লেখকদ্বয় কেন শুধু এবং মাত্র ওই দিন রবীন্দ্রনাথ কোথায় ছিলেন তা প্রমাণ করতে চেয়েছেন? .আমরা ধরে নিচ্ছি উল্লিখিত দিনে রবীন্দ্রনাথ কলকাতায় ছিলেন না,কিন্তু অন্য কোনও দিনে তো সমাবেশটা হতে পারে? সমাবেশের সুত্র যিনি উল্লেখ করেছেন কোনও কারণে তারিখ ভুল্ও হতে পারে।
    এছাড়াও তো কিছু দিক থাকে যেমন রবীন্দ্রনাথের চিন্তা-চেতনা, পরিপ্রেক্ষিত, বিবেচনা,হিংসাবোধ বা স্বজাত্য-চেতনা ইত্যাদি কারণে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা করেছিলেন বা করেননি, কিংবা করার প্রশ্ননই ওঠে না–এমনটি প্রমাণ করতে পারলে ভালো হতো।
    আর বিরোধিতা করাই সবসময় খারাপ নয়…এর পেছনে মঙ্গলচিন্তাও থাকতে পারে।
    আসল কথা হচ্ছে নির্দোষ বা দোষী প্রমাণের চেষ্টা নয়, নির্মোহ সত্য ও ইতিহাস জানা থাকা চাই।

    Reply
    • কুলদা রায়

      রবীন্দ্রনাথের সকল কর্মসূচির তথ্যই পাওয়া যায় তারিখ ধরে ধরে। এবং তিনি কবে কোথায় গিয়েছেন, কোথায় কী করেছেন, কী বলেছেন, কাকে কী লিখেছেন–সব ব্যক্তিগত, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সকল বিষয়ে তথ্য আছে। তিনি নিজে লিখেছেন। নিকট জনেরা লিখেছেন। পারিবারিক ক্যাশবইতে লেখা আছে, তার জীবনীতে লেখা আছে। ক্যাশবইটা লিখতেন তাদের নিযুক্ত কর্মচারি। কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছেন। কীভাবে যাচ্ছেন–কত টাকা এ বাবদ খরচ হচ্ছে–গাড়িভাড়া কত দিতে হচ্ছে, সকল বিষয়ই লেখা আছে। প্রশান্তকুমার পালের নয় খণ্ডে লেখা রবিজীবনী তাঁর প্রাত্যহিক জীবনের একটি আকর গ্রন্থ। তাছাড়া নিজে যেসব কর্মসূচিতে অংশ নিতেন–সে বিষয়েও কোনো না কোনোভাবে নিজে উল্লেখ করতেন। সর্বোপরি সে সময়ের খবরাখবর পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হত। সেগুলোর সংগ্রহ করা আছে। এখন সময়ই এমন যে কোনো মিথ্যে গল্প তৈরি করে পার পাওয়ার সুযোগটি একদম নেই বললেই চলে।
      রবীন্দ্রনাথ সারাজীবন ধরে শিক্ষা নিয়ে ভেবেছেন। তা নিয়ে কাজও করেছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়েছেন। সুতরাং যে প্রতিষ্ঠানটি সকল সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে তার বিরোধিতা করা তার স্বভাবের সঙ্গে মেলে না।
      একটা বিষয় খেয়াল করেন, রবীন্দ্রনাথের অনুরাগী ছিলেন পাকিস্তানের জনক মুহাম্মদ আলীও। জিন্নাহ ১৩ এপ্রিল ১৯২০ সালে ফ্রেঞ্চ ব্রিজের কাছে খোলা মাঠে জালিয়ানওয়ালা বাগ হত্যাকাণ্ডের সাংবাৎসরিক ও জাতীয় সপ্তাহের শেষ দিনে একটি সভায় সভাপাতিত্ব করেন। সে সভায় অংশগ্রহণের জন্য তিনি রবীন্দ্রনাথকে আমন্ত্রণ জানান বক্তব্য রাখার জন্য। রবীন্দ্রনাথ সেখানে একটি বক্তব্য লিখে পাঠান। এন্ড্রুজ সেটি সভায় পাঠ করে শোনান। The Indian daily news 15 April এ এখবরটি ছেপেছে।
      এভাবে এখন সকল তথ্যই পাওয়া যাচ্ছে।

      Reply
      • Tanim

        @মি. কুলদা রায়ঃ তার সবগুলোই কি অথেনটিক? নাকি আপনাদের মন মত হলেই তা অথেনটিক, আর না হলে তা বাদ।

  17. আজম

    আগে শুধু জানতাম যে, তিনি বিরোধিতা করেছিলেন, পরে এশিয়াটিক সোসাইটির মত নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাপিডিয়া-তেও একই তথ্য পেয়েছিলাম।

    Reply
    • সত্যনিষ্ঠ

      এশিয়াটিক সোসাইটির সমস্ত তথ্য সঠিক নয়।এশিয়াটিক সোসাইটি কর্তৃক প্রকাশিত বাংলা পিডিয়াতে ও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভুল তথ্য পরিলক্ষিত হয়।

      Reply
  18. আবু সায়েম মামুন

    উইথ ডিউ রেস্পেক্ট টু দ্য অথারস (তাঁদেরকে আমি চিনিনা, আগে তাঁদের কোন লেখাও পড়িনি)।

    প্রথম অধ্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে অথচ একটি রেফারেন্সও নাই। বঙ্গভঙ্গ নিয়ে, বৃটিশ ভারতের ইতিহাস ও রাজনীতি নিয়ে একাডেমিতে স্বীকৃত বই শয়ে শয়ে আছে। অথচ দ্বিতীয় অধ্যায়ে যেসব রেফারেন্স পেলাম সেগুলোর ব্যাপারে কি আর বলবো…। তৃতীয় অধ্যায়টি বরং কিছুটা ভালো লেগেছে। শেষেও নেই কোনো তথ্যসূত্র।

    যা হোক, রবিঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন কি করেন নি আমি মনে করি এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। যারা রবি ঠাকুরকে ফেরেশতা কিংবা শয়তান বানাতে চায় উভয় পক্ষকে আমার কাছে মতলববাজ মনে হয়।

    Reply
    • এরশাদ মজুমদার

      কবিগুরু বঙ্গভঙ্গ বা পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ সৃস্টি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিস্ঠার বিরোধিতা করে নিজধর্ম ও গোত্রের স্বার্থ রক্ষা করেছেন। কবিগুরু মনে প্রাণে একজন হিন্দু ছিলেন। তাঁর সাহিত্য ও কবিতার সৃস্টির উত্‍স ছিল বেদ উপনিষদ ও মনু সংহিতা। এতে আমি খারাপ কিছু দেখিনা। কবিগুরু কবিতা লিখতেন আত্মা থেকে আর জমিদারী ও ব্যবসা করতেন স্বার্থ থেকে।

      Reply
  19. সাদামন

    লেখকদ্বয় এক নম্বর ও দুই নম্বর কারণ হিসেবে ততকালীন পশ্চিম বঙ্গ ও পূর্ব বঙ্গের কিছু মুসলিমদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা বিরোধী রূপে চিহ্নিত করার প্রয়াস দেখিয়েছেন। তিন নম্বর কারণ হিসেবে কিছু হিন্দুদেরও দূষছেন। লেখকদ্বয়ের প্রতি আহবান, দয়া করে জানাবেন রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য কী করেছিলেন বা বিরোধীদের প্রতিবাদে কিছু করেছিলেন কিনা।

    Reply
    • কুলদা রায়

      রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছেন এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় নাই। পেলেতো সে বিষয়ে আলোচনা করা যেত। একটা বিষয় দেখুন, তিনি যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করতেন তাহলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে বিপুলভাবে সম্বর্ধনা দেওয়া হবে কেন? ঢাকায় সর্বস্তরের মানুষ তাকে গ্রহণ করেছে। এই বিষয়গুলো একটু বিস্তারিতভাবে দেখুন–

      ১৩২৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রবীন্দ্রনাথকে আমন্ত্রণ জানায় বক্তৃতাদি প্রদানের জন্য। সফরসঙ্গী হয়েছিলেন—পুত্র রথীন্দ্রনাথ, পুত্রবধু প্রতীমা দেবী, তাঁদের পালিতা কন্যা নন্দিনী, ভ্রাতষ্পুত্র দিনেন্দ্রনাথ, হিরজিভাই, মরিস, চিনা অধ্যাপক লিম নো ছিয়াঙ এবং ইতালিয়ান অধ্যাপক ফার্মিসি ও তুচ্চি।

      ৯ ফেব্রুয়ারি ১৯২৬ তারিখে আনন্দ বাজার পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়— ঢাকায় রবীন্দ্রনাথ নারায়ণগঞ্জে বিপুল অভ্যর্থনা গতকল্য রবীন্দ্রনাথ ঢাকায় পৌছিয়াছেন, ঢাকায় অধিবাসীবৃন্দ তাঁহাকে বিপুল অভ্যর্থনা করিয়াছেন। প্রকৃতপক্ষে বলিতে গেলে এইবারই রবীন্দ্রনাথ সর্বপ্রথম ঢাকায় আসিয়াছেন। ইতপূর্বে তিনি ভাল করে ঢাকা পরিদর্শন করেন নাই। স্থানীয় অর্ভর্থনা-সমিতি নারায়ণগঞ্জে বহুসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক প্রেরণ করিয়াছিলেন। নারায়ণগঞ্জ স্টীমার স্টেশন সেদিন জনসমুদ্রে পরিণত হইয়াছিল। স্টীমার ঘাটে আসিবার বহু পূর্ব হইতেই তথায় জনসমাগণ হইতে আরম্ভ হয়। দেখিতে দেখিতে এত লোক জড় হয় যে, কি ঘাটে, কি জেটিতে একটুকুও স্থান ছিল না। রবীন্দ্রনাথের স্টীমার ঘাটে পৌঁছিলে চতুর্দিক হইতে ঘন ঘন আনন্দধ্বনি উত্থিত হয়। কয়েকজন বিশিষ্টনেতা অগ্রসর হইয়া তাঁহাকে পুষ্পমাল্যে বিভূষিত করেন এবং স্টিমার হইতে নামাইয়া আনেন।…মোটরে চড়িয়া ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করেন। ঢাকা শহরের পূর্ব সীমান্তে একদল স্কাউট, বহুসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক ও শহরের বিশিষ্ট ভদ্রলোক উপস্থিত ছিলেন। রবীন্দ্রনাথের মোটর দৃষ্টিপথে প্রবিষ্ট হইবামাত্র ঘন ঘন জয়ধ্বনি উত্থিত হয়।…তারপর ঢাকার নবাব বাহাদুরের হাউস বোট তুরাগে কবির বিশ্রামের ব্যবস্থা হয়। তুরাগে যাওয়ার পথটি কলাগাছের চারা দিয়ে সাজানো হয়েছিল।

      রবীন্দ্রনাথকে প্রথম অভিনন্দটি জ্ঞাপন করা হয়েছিল ৭ ফেব্রুয়ারি ১৯২৬ তারিখের বিকেল চারটেয় মিউনিসিপ্যালিটি এবং পিপলস এসোসিয়েশনের উদ্যোগে ঢাকার নর্থব্রুক হলে। সমস্ত হলটি পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং বাইরেও ঘন জমায়েত হয়েছিল। ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটির কমিশনারগণ মানপত্রে লেখেন—

      হে জাতীয়তার দার্শনিক প্রচারক। হিন্দু-মুসলমানের স্থায়ী মিলন কেবল সাহিত্য ও শিক্ষার ভিতর দিয়াই সম্ভবপর—বর্তমান বিরোধ ও অনৈক্য সমাধানের এই গুহ্য মন্ত্র তুমি বহু পূর্ব হইতেই প্রচার করিয়া আসিতেছ। …জাতির প্রতি অত্যাচারে নিজকে লাঞ্ছিত মনে করিয়া তুমি রাজদত্ত দুর্লভ সম্মান ঘৃণায় পরিত্যাগ করিয়াছ; দেশবাসীর নিগৃহ হেতু কানাডার নিমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করিয়া আত্মসম্মানবোধ ও দেশনেতার জলন্ত দৃষ্টান্ত প্রদর্শন করিয়াছ।
      এরপরই ঢাকা জনসাধারণের কর্তৃক একটি মানপত্র পাঠ করা হয়— সেখানেও নাইট উপাধি ত্যাগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শান্তিনিকেতন, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশংসা করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ এখানে একটি লিখিত বক্তব্য দেন।

      করোনেশন পার্কে বিকেল ৫.৩০ এ কবিকে আরেকটি সংবর্ধনা দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিল দশ হাজার লোক। ঢাকা রেটপেয়ার্স এসোসিয়েশন মানপত্রে বলেন যে–

      ”লর্ড কার্জন বাহাদুরের শাসনকালে বঙ্গ বিভাগের ফলে পূর্ববঙ্গ যখন পশ্চিমবঙ্গ হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়াছিল তখন সেই কুট-নীতির বিরুদ্ধে আপনি কাব্যে ও সঙ্গীতে যে ভীষণ সংগ্রাম ঘোষণা করিয়াছিলেন তাহাও আজ স্মরণ-পথে উদিত হইতেছে।”

      নবাব বাহাদুর খাজে হাবিবুল্লাহর সভাপতিত্বে হিন্দু মোসলেম সেবাশ্রমের পক্ষ থেকে মানপত্র দেওয়া হয় হয়।

      ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল পরিদর্শন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তারপর দুপুর আড়াইটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কার্জন হলে উপস্থিত হন। এখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যার্থী সঙ্ঘ তাঁকে একটি কাব্যাভিনন্দন প্রদান করে।

      এখানেই বিকেলে মুসলিম হলে ছাত্র ইউনিয়ন সংবর্ধনার বিপুল আয়োজন করে। ছাত্রসংসদ কবিকে আজীবন সদস্যপদরূপে গ্রহণ করে। তৎকালীন ছাত্র আবুল ফজল ‘রেখাচিত্রে’ লেখেন,

      ”কবি যখন ঢুকলেন…হল ঘরের প্রবেশ পথ থেকেই কবির উপর শুরু হয়েছে পুষ্পবৃষ্টি।‘
      মুসলমি হল ছাত্রবৃন্দ মানপত্রে বলেন যে, বিধাতা বড় দয়া করিয়া, প্রাণহীন ভারতের দুর্দিনে তোমার মত বিরাট-প্রাণ মহাপুরুষকে দান করিয়োছেন। তোমার প্রাণ মুক্ত, বিশ্বময়।সেখানে হিন্দু নাই, মুসলমান নাই, খ্রিস্টান নাই—আছে মানুষ। …একদিকে তুমি মানুষকে নানা কর্মধারায় জাগ্রত করিয়াছ, অন্যদিকে সেই অসীম স্রষ্টার দিকে মনকে আকৃষ্ট করিয়াছ। ‘কর্ম ও ধ্যান’ উভয়ের সামঞ্জস্য সাধনই মানব জীবনের শ্রেষ্ঠ আদর্শ। ইসলামের এই সার বার্ত্তা তোমার ছন্দে প্রতিধ্বনিত হইয়াছে। তোমার এই ছন্দ আমাদিগকে প্রতিদিন বিশ্বের কল্যাণ সাধনে ও মানুষের সেবায় উদ্বেধিত করুক।…

      রবীন্দ্রনাথ সংবর্ধনার উত্তরে বলেন—ভারতের বুকে এত জাতি, এত ধর্ম স্থান লাভ করেছে, তার অর্থ আছে। ভারতের হাওয়ায় এমন শক্তি আছে যার বলে সকল সম্প্রদায় এখানে আসন লাভ করতে পেরেছে।… ভারতের ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ ও পরস্পরের বিচ্ছেদ দেখে নিতান্ত দুঃখিত, মর্মহিত, লজ্জিত হই। ধর্মে ধর্মে বিরোধ হতে পারে না। কারণ ধর্ম হল মিলনের সেতু আর অধর্ম বিরোধের। …যখন ধর্মে বিকার উপস্থিত হয় তখনই বিচ্ছেদ প্রবল হয়ে ওঠে। শুধু হিন্দু-মুসলমানে প্রভেদ নয় সমাজের মধ্যে ভেদের অন্ত নেই। যখন মানুষ মানুষকে অপমান করে, তখন সে দুর্গতি-দারিদ্র্যে চরম সীমায় উপনীত হয়, আমি আমার সমাজের জন্য লজ্জিত হয়েছি… বিচ্ছেদের রক্তপ্লাবনে মানব-সমাজের প্রতি স্তর কলুষিত হয়েছে।…এই সমস্যা ভারতে বহুদিন থেকে আছে। বিরোধের প্রাচীর তুলে ত সমস্যার সমাধান হবে না। …শুভবুদ্ধির আলোক বিকীর্ণ হোক। তবেই আমাদের চিত্ত মুক্ত হবে।

      এরপরে কবিকে ময়মনসিংহ ও বরিশালেও সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

      অনেক পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানিক ডি লিট উপাধিতে ভূষিত করে। স্থির ছিল, কবি ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়-প্রদত্ত সম্মান গ্রহণ করবেন। কিন্তু শরীরের কারণে ঢাকা যেতে পারেননি। তাঁর অনুপস্থিতিতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ‘honoris Causa’ উপাধিটি প্রদান করেন।

      একটি বিষয় লক্ষ করা যায় যে—কবির এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানগুলি বিপুল জনসাধারণ, ছাত্র, নেতৃবৃন্দের স্বতস্ফূর্ত উপস্থিতিতে মুখরিত।হিন্দু-মুসলিম জাতি-সম্প্রদায় ভেদে সকলেই অংশ নিয়েছেন। রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন–এ ধরনের অভিযোগ কেউ করেন নাই। কবিকে স্বজন হিসাবে সবাই গ্রহণ করেছেন।

      রবীন্দ্রনাথকে কেউ সাম্প্রদায়িক বলেন নি। তাঁকে সবাই হিন্দু-মুসলমানের মিলনের অগ্রদূত বলেছেন। তিনি সর্বত্র সবার মানুষ হয়ে সংবর্ধিত হয়েছেন।

      Reply
      • Onkur

        মানলাম সব কথা । আমরা জানি তিনি ছিলেন শিলাইদহ এবং পাবনার জমিদার। দয়া করে বলবেন কি তিনি কেন এদিকে কোন বড় কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করেন নি?

      • david hasan

        এটা কি উপরের প্রশ্নের উত্তর হলো? তিনি প্রশ্ন করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য কী করেছিলেন? স্বভাবতই এ প্রশ্নটা আসে কারন বিশ্বকবি হিসেবে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য তার শিক্ষার ক্ষেত্র প্রসারনে একটা ভূমিকা থাকবে বৈকি।

        আপনি উত্তরে যেটা বলেছেন সেটা আমি শুধু শ্রাদ্ধাই করি যে তা নয় আমি নিজেও বিশ্বাস করি রবীন্দ্রনাথ বাঙালীর সবার কবি ছিলেন। আমারও প্রিয় কবি তিনি। তার সাহিত্যের ঊপরে এখনো কোন বাঙালী কবি সাহিত্যিক উঠতে পারেন নি।

      • রাহাত খন্দকার

        আমাদের লেখক বারবার বলছেন, রবীন্দ্রনাথ যদি বিরোধীতাই করবেন তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উনাকে সম্মান দেখালেন কেনো? এই যুক্তিটা আমার কাছে খুব হালকা এবং খেয়ালি মনে হয়েছে। জামায়াত নেতা নিজামির গাড়িতে বাংলাদেশের পতাকা উড়ানো মানে কি এই যে উনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধী ছিলেন না?বিএনপি আমলে আমরা তাই দেখেছি!কবিকে সম্মান দেয়া হয়েছিলো বাংলাসাহিত্যে আর ভাষায় অবদানের জন্য।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে-বিপক্ষে চিন্তা করে নয়। এতদিন পর এসে নতুন করে এই কথাগুলো উঠানোর দরকার কী? যারা কবিকে হেয় করতে চান-যা সম্ভব নয়-তাদের উদ্দেশ্য সফল হবেনা, কারন রবিন্দ্রনাথ আর বাংলা সমার্থক।অন্যদিকে যারা কবিকে ঈশ্বরে পরিণত করতে চান তারাও খুবই অপরিণত।

      • সজিব

        ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধিন হয়। আশির দশকে আওয়ামীলিগ জামাতের সাথে জোট বদ্ধ হয়। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ এর নির্বাচনে জামাত অনেকগুলো আসন পায়। ২০০১ এ জামাতের নেতারা মন্ত্রীও হয়। ২০১৭ সালে ইন্ডিয়ানরা বাংলাদেশের মাটিতে বসে বলে যায় ১৯৭১ এ যুদ্ধ ছিল পাকিস্তান ও ইন্ডিয়ার মধ্যে।

        রবি ঠাকুর কে ডিগ্রি দেওয়াতো নস্যি ব্যাপার সেখানে।

  20. আরিফুল হোসেন

    অসাধারন লেখা। বাংলাদেশে কট্টরডানপন্থী একটি সম্প্রদায় সবসময়ই রবি ঠাকুরের এই বিষয় নিয়ে টানাটানি করে। তাদের এই হেইট ক্যাম্পেইনের মধ্যে আরো আছে কিভাবে ইংরেজরা ষড়যন্ত্র করে রবীন্দ্রনাথকে নোবেল দিয়েছিল নজরুলকে বঞ্চিত করে, যদিও রবীন্দ্রনাথের নোবেল পাওয়ার সময় নজরুলের বয়স ১৪ ছিল। এই গোষ্ঠীটি দীর্ঘদিন যাবত বাংলাদেশে বিভাজন এবং ঘৃণা তৈরীর রাজনীতি করে যাচ্ছে। এই পোস্টটি সেইসকল প্রপাগান্ডা যা নয়া দিগন্ত থেকে শুরু করে কিশোর কন্ঠের মাধ্যমে আমাদের দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে তাদের মুখে জুতা ঘষে দিল। হ্যাটস অফ কুলদা রায় কে এই লেখার জন্যে।

    Reply
  21. রাহাত খন্দকার

    লিখাটি তথ্যবহুল।পড়ে ভালো লেগেছে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ, এটা অনেকের কাছে শুনেছি, পড়েছিও হয়তো, এখন সুত্র উল্লেখ করতে পারছি না। তবে এ ব্যাপারে একটা নির্মোহ স্টাডি হতে পারে;আসলে উনি পক্ষে ছিলেন, না বিপক্ষে।

    এই প্রবনধের কিছু কাটামোগত ত্রুটি আছে। শিরোনামের সাথে প্রবন্ধের প্রথমাংশের কোনো যোগসুত্র নেই।
    সুচনা আর উপসংহারের মধ্যে কোনো বন্ধন নেই- শিরোনাম বলছে-‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা ও রবীন্দ্রনাথ’।সুচনা আর উপসঙ্গহার পড়ে শিরোনামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনা আইডিয়া পাচ্ছি না।

    রবীন্দ্রনাথকে যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর বিপক্ষে দাঁড় করাতে চান তাদের পক্ষে যুক্তি-তথ্য-তত্ত্ব কি একটাই যে রবীন্দ্রনাথ ‘১৯১২ সালের ২৮শে মার্চ কলিকাতা গড়ের মাঠে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়’।? যদি তাই হয় তবে লেখক সফল্ ভাবেই তা খণ্ডন করেছেন। কারণ লেখকের প্রচেষ্টাই ছিলো যেন কোনোভাবেই ওইদিন রবীন্দ্রনাথের অনুপস্থিতিটা প্রমাণ করতে পারলেই রবীন্দ্রনাথকে বাঁচানো যায়। সাধারণত-ওকিল সাহেবান যেভাবে অপরাধিকে ক্রাইমজোনের বাইরে রাখতে চান।

    আমাদের অবস্থান রবীন্দ্রনাথের পক্ষে-বিপক্ষে নয়,তবে লিখকের কাছ থেকে আরো তথ্যবহুল লিখা আশা করছি,যেখানে উনি আমাদের জানাবেন-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পক্ষে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিছু বলেছেন বা লিখেছেন কি না; তবেই লিখকের অবস্থান আরো জোরালো হবে বলে মনে করি।
    লিখকদ্বয়কে ধন্যবাদ।

    Reply
    • Mahmud

      ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ‍প্রতিষ্ঠার অর্থ দিয়েছেন নওয়াব আলী চৌধুরী। জমি ও জীবন দিয়েছেন স্যার সলিমুল্লাহ। তদবিন করেছেন শেরে বাংলা ফজলুল হক।

      Reply
  22. সৈকত আরেফিন

    এই লেখাটিও এমন মাত্রায় উত্তীর্ণ যে, তথাকথিত বুদ্ধিজীবীতার গালে চপেটাঘাত করে সত্য ও প্রগতির পথ নির্দেশ করে। এখন দেখার বিষয় এই লেখার মাধ্যমে যাদের বক্তব্য খণ্ডন হয়, তারা এই যুক্তি ও তথ্যের মঞ্চে অবতীর্ণ হন কি না।
    সমস্তরকম ভণ্ডামী ও অপবুদ্ধিজীবীতার প্রতি ঘৃণা।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—