এ দেশ ‘ডান্ডি’ আর ‘মালু’দেরও– এ রকম একটি শিরোনাম ঠিক করেছিলাম লেখাটির। যদিও পরে বদলে ফেলেছি। খুব কষ্ট হচ্ছিল শিরোনামে ‘ডান্ডি’ আর ‘মালু’ শব্দ দুটো রাখতে। কেন এমন শিরোনাম ভেবেছিলাম তার ব্যাখ্যা দিচ্ছি।

আমাদের চট্টগ্রামের কথ্য ভাষায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আড়ালে অপমান করার জন্য একটি শব্দ আলাদা করে রেখে দেওয়া আছে। সেই শব্দটি হল ‘ডান্ডি’। স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কখনও এ শব্দটি ব্যবহার করতে শুনিনি। তবে খেলার মাঠে বা আড্ডায় এর ব্যবহার দেখেছি। একবার এক মুসলমান সহপাঠী হিন্দু ধর্মাবলম্বী এক সহপাঠীকে ‘ডান্ডি’ বলে ডেকেছিল। আমার সেই হিন্দু বন্ধুর চেহারায় সেদিন অপমানের যে ছাপ পড়েছিল তা এত বছর পরও মনে আছে।

বড় হওয়ার পর খারাপ লাগত কেন শুধুমাত্র অন্য ধর্মের হওয়ার কারণে একদল মানুষকে অপমান করার জন্য আমরা আলাদা করে একটি শব্দ তৈরি করেছি। তারপর যখন ভিন্ন শহরের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে গিয়ে বিভিন্ন জেলার বন্ধু তৈরি হল তখন আবিষ্কার করলাম, অন্য জায়গার মানুষও একই কাজ করছে। ‘ডান্ডি’র একটি প্রতিশব্দ শিখলাম–‘মালু’।

তখন আরেকটি কথা ভেবে আমি আরও বিভ্রান্ত হয়ে গেলাম। আমাদের প্রজন্ম বড় হয়েছে ‘বহুব্রীহি’, ‘অয়োময়’, ‘কোথাও কেউ নেই’ এর মতো দুর্দান্ত সব নাটক দেখে। এ নাটকগুলোতে সমাজের অনেক অসঙ্গতি প্রতীকী অর্থে এসেছে। কিন্তু কখনও আমি ‘মালু’, ‘ডান্ডি’ এসব শব্দের ব্যবহার সংলাপে পাইনি। আমি বলছি না নাটক বানিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অপমান করতে। কিন্তু বাস্তব জীবনে আমাদের দেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বী নাগরিকরা যে প্রতিনিয়ত অপমান আর নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সেই গল্পগুলো নাটকে নিয়ে আসা মানে সমস্যাটি স্বীকার করে নেওয়া। আর সেটি না নিয়ে আসা মানে সমস্যা চেপে রাখা। কেন আমরা এই ব্যাপারগুলো সব সময় লুকিয়ে রাখি? কেন আমরা স্বীকার করি না জাতি হিসেবে আমাদের অর্জনের পাশাপাশি অনেক ব্যর্থতাও আছে? এর মধ্যে একটি হল ইসলাম-ভিন্ন অন্য ধর্মাবলম্বীদের উপর নির্যাতন আর আক্রমণ।

একটি সমাজ কতটুকু নারীবান্ধব সেটি মাপার একটি উপায় সম্ভবত হল রাতে নারী নিরাপদে একা বাইরে চলাফেরা করতে পারে কি না। সেই সমাজ কতটুকু সভ্য সেটি মাপার আরেকটি উপায় খুব সম্ভবত ইসলাম-ভিন্ন অন্য ধর্মাবলম্বীদের মানুষদের অপমান করার শব্দভাণ্ডার কতটা সমৃদ্ধ!

আমি তাই ঠিক করেছি নোংরা ধর্মান্ধ মানুষদের কাছ থেকে তাদের গালিগুলো ‘হাইজ্যাক’ করে ভদ্র সমাজে ব্যবহার করা শুরু করব। তখন সবাই জেনে যাবে গোপনে এসব নোংরা মানুষ কী কী শব্দ ব্যবহার করে। খুব জানার ইচ্ছা, সেই কুৎসিত চিন্তার মানুষগুলো যখন তাদের গোপনে ব্যবহার করার জন্য রেখে দেওয়া শব্দভাণ্ডার পত্রিকার লেখার শিরোনামে দেখবে, তখন তাদের কেমন লাগে?

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, দত্তপাড়া, ঘোষপাড়া, গাংকুলপাড়া, মহাকালপাড়া, কাশিপাড়া, নমশুদ্রপাড়া, মালিপাড়া ও শীলপাড়ায় ৩০ অক্টোবর কমপক্ষে ১৫টি মন্দির ভাঙা হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের কমপক্ষে দেড়শ বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে। এসব জায়গায় হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিশু-কিশোর-কিশোরীরা কত অল্প বয়সে না জেনে গেল এই গ্রাম তাদের নয়! এই দেশ তাদের নয়! তারা কোথায় যাবে? কেনই বা তাদের যেতে হবে? তাদের অপরাধ কী? হিন্দু পরিবারে জন্মেছে এটিই এ দেশে আক্রান্ত হওয়ার জন্য যথেষ্ট?

যতই বড় হোক তারা কি কোনোদিন ছোটবেলার এ দিনটির কথা ভুলে যাবে? বড় হয়ে কলেজে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বা চাকরিতে যখনই কেউ তাদের ‘ডান্ডি’ বা ‘মালু’ বলে অপমান করবে তখনই তাদের ছোটবেলার এই দুঃস্বপ্ন ফিরে আসবে। এই শিশুরা কি কোনোদিন স্বাভাবিক হতে পারবে? যার অস্তিত্বই তার অপরাধ, যার জন্মই তার প্রধান অন্যায় সে কোথায় পালাবে? নিজের কাছে থেকে কি পালিয়ে যাওয়া সম্ভব?

মজার ব্যাপার হল, আগে এ ধরনের কাজ যারা করত তারা সবসময় বিএনপি-জামায়াতের প্রশ্রয়ে থাকত। আগ্রহীরা এর আগে বিভিন্ন বছর ঘটা আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণের ইতিহাস পড়ে দেখতে পারেন। এবার যারা করেছে সেই আহলে-সুন্নত ওয়াল জামায়াত হল ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সঙ্গী। অনেকে অবাক হলেও আমি এতে বিন্দুমাত্র অবাক হইনি।

একটি জিনিস সবসময় সবাইকে মনে রাখতে হবে– বিএনপি-জামায়াত ছিল আমাদের ইতিহাসের কৃত্রিম বুদবুদ। একটি দেশের রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদে আবর্তিত হয় সেই সব রাজনৈতিক দল ঘিরে যাদের সৃষ্টি সময়ের প্রয়োজনে, জনতার অংশগ্রহণে, ক্যান্টনমেন্টে সরকারের টাকা খরচ করে নয়।

এখন যেহেতু বিএনপি-জামায়াতের বুদবুদ ফেটে গেছে, যারা এক ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বভিত্তিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে তাদের টিকে থাকার একটিই উপায়। সেটি হল: কোনো একটি তৃণমূলে বিস্তৃত রাজনৈতিক দলের দখল নেওয়া। আওয়ামী লীগের ভেতরে এখন সেই আদর্শের সংঘাত চলছে।

এই যে আমরা এখন ভিন্নধর্মাবলম্বীদের উপর নির্যাতন দেখছি সেটি হল এক ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বভিত্তিক রাজনীতিতে বিশ্বাসীদের ‘রাফখাতা’। এটি তাদের একটি বড় যুদ্ধের প্রস্তুতিপর্ব। এই যুদ্ধ প্রতি যুগে হয়েছে। পঞ্চাশের দশকে আওয়ামী লীগ যখন আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে ধর্মনিরপেক্ষ আওয়ামী লীগ হয়েছিল তখন এই সংঘাত দেখা গেছে। একাত্তরে তো আমাদের একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ জিততে হয়েছে এ রকম ধারণা ঝেঁটিয়ে বিদায় করার জন্য।

কিন্তু দুই দশকের মিলিটারি শাসনে এসব ধারণা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। শাহবাগ আন্দোলন আমাদের অনেক বড় একটি কাজ খুব কম সময়ে করে দিয়েছে, তা হল সব প্রজন্মের জন্য মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ আর চেতনা ‘রিভিশন’ দিয়ে দেওয়া।

কিন্তু অশুভ শক্তি বার বার তাদের শক্তি পরখ করে দেখে। তার কিছুদিন পর পর অল্প অল্প ছোবল দিয়ে দেখে কখন একটি ধর্মনিরপেক্ষ, নারীবান্ধব, উদার, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল সমাজ তাদের সবচেয়ে দুর্বল আর অলস মুহূর্তে আছে। যেদিন তারা আমাদের সবচেয়ে দুর্বল মুহূর্তে পাবে সেদিন দেবে মরণ-কামড়। আমাদের ইতিহাসের গায়ে সেই কামড়ের দাগ আছে।

কাজেই একটি ধর্মনিরপেক্ষ, প্রগতিশীল সমাজ কোনো দূরের লক্ষ নয়, কিংবা নির্বাচনী শ্লোগান নয়; এটি একটি জীবন-পদ্ধতি। এটি পৃথিবীকে শুভদৃষ্টিতে দেখার চশমা। আমাদের সবসময় সেটি পরা থাকতে হবে আর শ্যেনদৃষ্টিতে তাকিয়ে বুঝতে হবে কোথায় কখন কী হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া আর ছাতকের ঘটনা আসলে আমাদের সমস্যা নয়। এটি আরও বড় আর ভয়ংকর অসুখের খুব ছোট লক্ষ্মণ। এটি হল ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিতে এক ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করার অশুভ উদ্যোগ। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন সেই কুৎসিত মনের মানুষগুলো সফল না হয়। তাদের দেখিয়ে দিতে হবে এ দেশ সবার, ‘ডান্ডি’ আর ‘মালু’দেরও।

ওমর শেহাবইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ভিজিটিং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরামের (আইসিএসএফ) সদস্য

৬৩ Responses -- “এ দেশ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদেরও”

  1. আনান

    পলাশ সাহেবের কথার সূত্র ধরে বলা যায়,এদেশীয় হিন্দুরা আগের জন্মে অত্যাচার করেছিল মুসলিমদের উপর।তাই এই জন্মে মুসলিমরা প্রতিশোধ নিয়েছে।
    কিছু শব্দার্থ শিখে নিন-
    কাফির- অবিশ্বাসী (non-believer)
    মুশরিক – বহুঈশ্বরবাদী ( polytheists)
    মালাউন – অভিশপ্ত (cursed) ( আমি কখনো ইসলামি বইয়ে মালাউন শব্দ পাই নি।এক গ্রাম্য মাওলানা বলেছিল, এর মানে cursed)
    ডান্ডি – বাংলা অভিধনে এই শব্দ নেই।আরবিতে ‘ড’ উচ্চারণ করা যায় না।পাকবাহিনী তাদের অনুগত বাঙালিদের “ডান্ডি “কার্ড দিত।
    ভারতের মুসলিম থেকে এদেশীয় হিন্দুরা অনেক নিরাপদে আছে।অন্তত কাশ্মীর থেকে ভাল। ফেসবুকে ঐ ছবি না দিলে ঘটনা এতদূর গড়াত না।আল্লাহ ভাল জানে।যাই হোক,অপরাধের চেয়ে প্রতিক্রিয়া একটু বেশি হয়েছে বলেই মনে হয়।

    Reply
  2. shishir

    পলাশ ভাই এতোগুলো কমেন্ট এর ভিতর আপনার কথাগুলো ভালো লাগলো।তাদের তো চোখ থাকতে অন্ধ।

    Reply
  3. Raza Ahmed

    কী করে সাহস হয় মুসলমানের ধর্মের উপর আঘাত হানার। সে এত বড় সাহস কোথা থেকে পেল????

    আপনি ভারতের পরিস্থিতি দেখেন। সেখানে গরুর মাংস খাওয়ার জন্য মুসলিমদের জবাই দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য কোনোদিন কোনো প্রতিবাদ করেছেন? করেননি। আপনাদের মতো সংখ্যালঘু মানুষেরাই এ দেশের রাজনৈতিক অবস্থা খারাপ করছেন। এ সব কিছুর জন্য আপনারাই দায়ী!

    Reply
    • তমাল

      আপনার মন ধর্মান্ধ মানুষের জন্যেই বাংলাদেশ আজ পাকিস্তান হতে বসেছে। কিছু হলেই ছাগলের ৩ নাম্বার বাচ্চার মত ইন্ডিয়ার সাথে তুলনা করে। আরে ইন্ডিয়া তে মুস্লিম প্রেসিডেন্ট ও হয়, আর সৌদি তে যান, অখানে ইসলাম বাদে অন্য ধর্ম পালন করা নিষেধ।

      Reply
      • আনান

        এই জন্য জাজিরাতুল আরবে ১ কোটি খ্রিষ্টান। ভারতের মুসলিম থেকে এদেশীয় হিন্দুরা অনেক নিরাপদে আছে।অন্তত কাশ্মীর থেকে ভাল। ফেসবুকে ঐ ছবি না দিলে ঘটনা এতদূর গড়াত না।আল্লাহ ভাল জানে।যাই হোক,অপরাধের চেয়ে প্রতিক্রিয়া একটু বেশি হয়েছে বলেই মনে হয়।

  4. Fazlul Haq

    পরস্পরকে দোষারোপ করে কোন কিছু হবে না। “প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ”। জনগণের ক্ষমতায় রাষ্ট্র পরিচালিত করতে সকল শ্রেণীপেশা, ধর্ম বর্ণ, ক্ষুদ্রজাতি গোষ্ঠী, দলমত প্রভৃতির নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা স্থানীয় সংসদ ( ইউনিয়ন সংসদ, উপজেলা সংসদ, জেলা সংসদ) এবং স্থানীয় পরিষদ (ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ) গঠন করতে হবে। স্থানীয় সংসদে সকল সমস্যার আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে যা স্থানীয় পরিষদ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে কার্যকরী করবে। শুধু কেন্দ্রীয় সরকারের পরিচালিত আমলাতন্ত্র দিয়ে এই ব্যাধি দূর হবে না। স্থানীয় সংসদে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও পুলিশ সহ প্রশাসনের জবাবদিহিতার ব্যবস্থা করলে এসকল অপরাধীদের ধরা সম্ভব হবে।

    Reply
  5. rabin

    আমি ও প্রথম ডান্ডির সাথে পরিচিত হলাম! কিন্তু সম্প্রীতিযত ঘটনা ঘটেছে তা ক্ষমতাসীন দলীয় আদলেই ঘটেছিল।যেটা এবার ও ব্যাতিক্রম ঘটে নি।কিন্তু তা আবার ফেইচবুকে লেখা নিয়ে। এর জন্য আবার ৫ দিনের রিমান্ড। এটা হিন্দু ধর্মাবলম্বি দের জন্য একটা কাল। অধ্যায় হয়ে থাকবে??????????

    Reply
  6. Mdfaruk3234@gmail.com

    আমি এতদিন মালু শব্দটি বুজতামনা আজ বুজলাম।যারা এই অপকর্মের সাথে জড়িত তাদের শাস্তি চাই।

    Reply
  7. Kallol Mustafa

    সাম্প্রদায়িক হামলায় আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা থাকা কোন নতুন ঘটনা নয়। তারপরেও কেন জানি কিছু কিছু লোক আওয়ামী লীগকে সাম্প্রদায়িক ভাবতে পারে না! চার বছর আগে রামু হামলার সময়ও একই ঘটনা ঘটেছিল, যার বিচার এখনও হয়নি। সেসময়ও আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে রিপোর্ট হয়েছিলো।০২-১০-২০১২ তারিখে প্রথম আলো লিখেছিল- “মন্দিরে হামলার আগে আয়োজিত একটি সমাবেশে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। তাঁদের উপস্থিতিতেই উপাসনালয়ে হামলা হয়।”একই দিন কালের কন্ঠ লিখেছিল- “রামুতে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে এমন এক ব্যক্তি সর্বপ্রথম ফেসবুকে ট্যাগ করা ছবিটি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টির উদ্যোগ নেন। তিনি রামু স্টেশনে উত্তেজনাকর বক্তব্যও দেন.. .. ওই ব্যক্তির সঙ্গে স্থানীয় বৌদ্ধ সমপ্রদায়ের কয়েকজনের সঙ্গে (যাঁদের কয়েকজন স্থানীয় সংবাদকর্মী) ব্যক্তিগত শত্রুতা থাকার জের ধরে এ রকম ঘটনায় তিনি ইন্ধন দেন বলে অনেকে বলছেন।“রামু হামলায় আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপি জামাতও ছিল।
    আসলে লুটেরা রাজনীতির আরো অনেক বিষয়ের মতো সাম্প্রদায়িক ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে লুটপাটের ক্ষেত্রেও এদের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। আওয়ামিলীগ বিএনপি জামাত এরা সকলেই শাসক শ্রেণীর অংশ- কোথাও এমপি, কোথাও চেয়ারম্যান ইত্যাদি নানা ভাবেই তারা ক্ষমতা কাঠামোয় প্রতিনিধিত্ব করে। শাসন ক্ষমতায় বিভিন্ন ভাবে যুক্ত থাকা এসব প্রভাবশালীদের ইন্ধন,সমর্থন, পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলে মানুষ যতই ক্ষব্ধ হোক, কোন এলাকায় এভাবে বিনা বাধায় কোন নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের উপর লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধ্বংসযজ্ঞ চলতে পারে না।

    Reply
    • এনায়েত

      এটি আপনার ক্রনিক আওয়ামী লীগ বিরোধীতার আর এক প্রমান। এই সব সাম্প্রদায়িক সংঘাতের সময় পাবলিক আওয়ামী লীগ বিএনপি জামাতের পরিচয় মুছে ” মুসলমান” হিসেবে একত্রিত হয়ে যায়।

      Reply
  8. shaon

    এইসব লেখা আমার কাছে মূল্যহীন মনে হয়। যে মুর্খ হিন্দু বা মুসলিমরা এই সংগাতের জন্য দায়ী তাদের কাছে এই বার্তা পৌছায় না। আগে ওদের মানুষ করতে হবে তা না হলে ব্লগ লেখে বাহবা জুটতে পারে কিন্ত শান্তির সমাজ আসবে না

    Reply
  9. বাঙাল

    অনেকেই ভুলে যান এই দেশের স্বাধিনতার জন্য সবচেয়ে বেশী ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছিল, তৎকালি পূর্ববঙ্গের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়দাকে তখা হিন্দুদের। বাংলাদেশের এমন কোন হিন্দু পরিবার খুজে পাওয়া যাবে না, যে তারা কোন কোন ভাবে স্বাধিনতার যুদ্ধের জন্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি। কোন কোন পরিবারের সব সদস্যদের হত্যা করা হয়েছিল সেইদিন, যাদের কোন হদিস আমরা জানি না। অসংখ্য পরিবার আছে যাদের কোন কোন সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিল। দেড় কোটি হিন্দুদের দেশ ত্যাগ করতে হয়েছিল। যখন সেই সব পরিবার শরনার্থি শিবির থেকে সদ্য স্বাধিন হওয়া দেশে ফিরে আসে নিজের ভিটায়, তখন শুন্য ভিটা ছাড়া তাদের কিছুই ছিল না।যাদের ত্যাগে আমাদের এই স্বাধিনতা, আজ তারাই আবার এই দেশেই নির্যাতিত হয় সেই সব লোকদের দ্বারা যারা এই দেশের স্বাধিনতা চায় নাই। একজন মুসলমান হিসাবে আমাকে ব্যাথিত করে। আর রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামিলীগ কখনই হিন্দু সম্প্রদায়কে প্রতিরক্ষা দিতে পারে নাই, বঙ্গবন্দুর হত্যার পর। প্রায় সময়ই দেখা যায় সাম্প্রাদায়িক শক্তির সাথে হাত মিলায় আওয়ামিলীগের নেতারা। সেই সব নেতার আবার আশ্রয়-প্রশ্যায় পায় দলের শির্ষ নেতাদের দ্বারা। অথচ এই দলটিকে বার বার ক্ষমতায় ফিরে আসতে সাহায্য করেছে এই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জনগোষ্টি।

    Reply
  10. আহমেদ

    অপ্রিয় সত্য প্রকাশের জন্য ধন্যবাদ। আমাদের ধর্ম নিরপেক্ষ সরকারের ছায়াতলে ওরা দিনে দিনে বড় হচ্ছে ছোবল হানার জন্যে।

    Reply
  11. নাজমুল ইসলাম

    আমি আমার হিন্দু বন্ধু কে মালু ডাকি
    ও তো গরুর গোসতও খায়,অথচ সে ব্রাহ্মণ গোত্রিয়।

    Reply
    • BD TIGER

      কী খাইল না খাইল সেটা তার ব্যাপার। আমি তো বহু মুসলিমকে দেখেছি শুকর অার মদ খাইতে।

      Reply
  12. utpal roy

    ধন্যবাদ ওমর ভাই, মালুরা তো ভালো ক্রিকেট খেলতে পারেনা তাই ঘর বাড়ি বা মন্দির ভাঙ্গলে মাননীয় PM এর নিকট থেকে সেগুলোর কোন প্রতিকারের আশা করাও মালুদের পাপ। শুধু ক্ষমতায় থাকার লোভে দিনের পর দিন সংখ্যা লঘুদের উপর চালানো অত্যাচার সরকার চোখ বন্ধ করে পার করে দিতে পারেনা।ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করেনা । হয়তো আজ আমরা মালুর দল প্রাণ খুলে কাঁদারও সাহস পাচ্ছিনা কিন্তু অঝোরে বয়ে যাওয়া চোখের জল কোন একদিন যে প্লাবন ডেকে আনবেনা এটা ভাবাও বোধ করি সমীচীন নয় …………………

    Reply
  13. সরকার জাবেদ ইকবাল

    লেখকের আন্তরিকতা আর সহমর্মিতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, অনেক চিন্তাভাবনা করে যে শিরোনামটি শেষ পর্যন্ত বেছে নিলেন তাতেও আমি পুরোপুরি স্বস্তি অনুভব করতে পারলাম না। আমার আপত্তি ঐ ‘ও’ বর্ণটির প্রতি। যখনই আপনি ‘ও’ সংযুক্ত করছেন তখনই আপনি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদেরকে দয়া-দাক্ষিণ্যের পাল্লায় ফেলে দিচ্ছেন। তা কেন হবে? সংখ্যাগরিষ্ঠ আর সংখ্যালঘিষ্ঠ বলেও কোন কথা নেই। জন্মগতভাবে আমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। এ দেশ আমাদের সবার। তাই শিরোনামটি হতে পারতো ‘এ দেশ আমাদের সবার’ কিংবা ‘এ দেশ সব ধর্মাবলম্বীর’। ধন্যবাদ।

    Reply
  14. মোঃ শফিউল ইসলাম

    একটি মুসলিম দেশে কি করে একজন হিন্দুর শাহস হয় মুসলমানের ধর্মের উপর আঘাত হানার। সে এত বড় শাহস কোথা থেকে পেলো।

    Reply
  15. আজাদি হাসনাত

    একটি সমাজ কতটুকু নারীবান্ধব সেটি মাপার একটি উপায় সম্ভবত হল রাতে নারী নিরাপদে একা বাইরে চলাফেরা করতে পারে কি না। সেই সমাজ কতটুকু সভ্য সেটি মাপার আরেকটি উপায় খুব সম্ভবত ইসলাম-ভিন্ন অন্য ধর্মাবলম্বীদের মানুষদের অপমান করার শব্দভাণ্ডার কতটা সমৃদ্ধ!
    – ইসলামকে না জেনে ইসলাম সম্পর্কে মন্তব্য করা অর্থহীন এবং বোকামী। ইসলাম নারীদের যে অধিকার দিয়েছে, সেই অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে দেখা দরকার নারীবান্ধব সমাজ হয় কিনা। রাসুল স. নারীদের যে অধিকার দিয়েছেন, তা যদি এই যামানার নারীরা বুঝত, তাহলে তারা ঝাটা লাঠি নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে রুখে দাড়িয়ে বলত ‌রাসুল যে অধিকার দিয়েছেন তা ফিরিয়ে দেয়া হোক।

    Reply
  16. Rakshit Kumar Acharjee

    সময় উপযোগী লেখা। আমি অবশ্য মালূ বা মালাউন শব্দটি সম্পর্কে অবহিত ছিলাম কিন্তু ডান্ডি শব্দটি সম্পর্কে নতুন জ্ঞান অর্জন করলাম।

    Rakshit Kumar Acharjee
    Senior Assistant (Technology)
    CSE Department, SUST

    Reply
    • আনান

      দুঃখজনকভাবে, ডান্ডি বলে কোন আরবি শব্দ নেই।আরবিতে ‘ড’ উচ্চারণ করা যায় না।বাংলা অভিধানে এই শব্দ নেই।মনে হয়,এটা শিহাব সাহেবের বন্ধুর আবিষ্কৃত

      Reply
  17. ফারাবী

    এই যে আপনি একটা বলে সরকার কে বিরোধী দলের প্রতি উস্কে দিচ্ছেন এটা কি ঠিক হচ্ছে,,আপনি ভারতের পরিস্তীথি দেখেন সেখানে গরুর মাংস খাওয়ার জন্য মুসলিম দের জবাই দেওয়া হচ্ছে এটার জন্য কোনদিন কোন প্রতিবাদ করেছেন করেননি,,আপনাদের মত সংখ্যালঘু মানুষেরাই এ দেশের রাজনৈতিক অবস্থা খারাপ করছেন,,আর এ সব কিছুর জন্য আপনারাই দায়ী

    Reply
  18. মোঃ দেলোয়ার হোসেন

    ওরাও ভারতে আমাদের ধর্মের অনুসারী দের কে জঙ্গি , কট্টরপন্থি , মৌলবাদী সন্ত্রাসী , আতঙ্কবাদি , ইত্যাদি বলে ডাকে ।আমরা মুসলিম , বিধায় ইনসাফ করি ।আর খারাপ মানুষ প্রত্যেক গোত্রের রয়েছে ।আর মিডিয়ার কাজ হল শুধু মুসলমানদের খারাপ চরিত্রগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া ।

    Reply
  19. Tapan

    মজার ব্যাপার হল, আগে এ ধরনের কাজ যারা করত তারা সবসময় বিএনপি-জামায়াতের প্রশ্রয়ে থাকত। আগ্রহীরা এর আগে বিভিন্ন বছর ঘটা আহমদিয়া সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণের ইতিহাস পড়ে দেখতে পারেন। এবার যারা করেছে সেই আহলে-সুন্নত ওয়াল জামায়াত হল ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সঙ্গী। অনেকে অবাক হলেও আমি এতে বিন্দুমাত্র অবাক হইনি।

    Reply
  20. abrar

    ভুলে যাইয়েন না। ভারতও কিন্তু সকলের। বিশ্বের বড় গণতান্ত্রিক দেশ হলেও। মুসলিমদের সকল অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়ছে।

    Reply
  21. সিম্পল গার্ল

    সারা দেশের যতগুলো এধরনের ঘটনা ঘটেছে, ঘটছে তার প্রায় সবগুলোর সাথে মি. শেহাবদের সাধের ধর্মনিরপেক্ষ আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত। নাসিরনগরের ঘটনার সাথেও আওয়ামী লীগের কারা কারা জড়িত তাদের নাম-ঠিকানা-ছবি সব বিস্তারিত বিবরণ বিভিন্ন আওয়ামীপন্থী মিডিয়াতেই প্রকাশিত হয়েছে। এরপর শেহাব সাহেবদের মতে এসব নাকি, “ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিতে এক ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করার অশুভ উদ্যোগ”! শেহাব সাহেবদের ধর্মনিরপেক্ষ আওয়ামীরা তাহলে এখন ধর্মের শ্রেষ্ঠত্বভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্ঠা চালাচ্ছে? কারণ ঘটনার সাথে তো আওয়ামীরাই জড়িত। তো এবার দাবী করবেন আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে?! আছে সেই সৎ সাহস?!

    Reply
  22. চেতনাবাজ

    আরেক শ্রেণী আছে, আরো বড় জ্ঞানী জ্ঞানী ভাব নিয়া প্রগতিশীল সাইজ্যা পোস্ট করছে, “ফটোশপ করে কাবার উপরে শিবের ছবি দিলেই আপনার কাবার ইট কি খসে পড়ছে? এতেই অসম্মান হয়ে যায় কাবার?” না, অসম্মান হয় না!
    এসব প্রগতিবাদীদের বলছি, “বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান” কে কিংবা শেখ হাসিনারে দুয়েকটা গালি দিলেই কি তাদের অসম্মান হয়ে যায়?
    অথচ বঙ্গবন্ধুর নামের আগে জাতির জনক না বলায় ইমাম সাহেবের চাকরি চলে যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারে নিয়া কার্টুন আঁকলে গ্রেফতার হইতে হয়, লীগের হাতে মাইর খাইতে হয়। তখন তো আপনারাই হাততালি দিছেন, “বঙ্গবন্ধুরে নিয়া কটুক্তি? এবার মজা বুঝো।” .
    ৬৪ জেলার মধ্যে ৪৮ জেলায়ই যখন হিন্দু ডিসি নিয়োগ দেওয়া হয়, তখন কি করে বলি, হিন্দুরা সংখ্যালঘু? বরং মুসলিমরাই সংখ্যালঘু। হিন্দুদের পক্ষে কথা বলার জন্যে এই দেশের সব মিডিয়া আছে। মুসলমানদের পক্ষে বলার কেউ আছে কী?
    হিন্দুরা একটা থাপ্পড় খাইলেও তার বিরুদ্ধে কথা বলার জন্যে জাফর ইকবাল থেইকা শুরু কইরা ইরেশ জাকের, ফারুকীরা আছে, আর ফেসবুকের একচোখা দজ্জালরা তো আছেই। কিন্তু ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা! কবি এখানে নীরব! গ্রামের পর গ্রাম পুলিশি হামলার শিকার। বন্দুকযুদ্ধ নাম দিয়া মানুষজনরে মাইরা ধানক্ষেতে লাশ ফেইলা দেয়, তখন ফেসবুকের মহাবীররা মুখে টিস্যু পেপার গুঁজে ক্রিকেট খেলা দেখেন!.
    অবশ্যই কোনোভাবেই আমি হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা সাপোর্ট করি না। এই দেশ হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ সবার, এই পৃথিবীটাও সবার। কিন্তু আপনারা যেইভাবে দেখাইতেছেন, ব্যাপারটা এইরকম না। ভারতের চেয়ে এই দেশের হিন্দুরা অনেক ভালো আছে। চাকরির ক্ষেত্রে সরকারের প্রথম পছন্দ হিন্দু, তারপর গোপালগঞ্জ, তারপর ছাত্রলীগ! এরপরও যদি বলেন, হিন্দুরা নির্যাতিত, তাইলে বলবো, আপনার আন্ডারওয়ার দেখা যাচ্ছে, লুঙ্গি পরেন।।

    Reply
  23. শরীফ আহমেদ

    নিজের পছন্দের দলটারে ধ্রুব রেখে সব দোষ অন্যদের উপর চাপানোর কৌশলটা ভালোই রপ্ত করেছে লেখক।

    Reply
  24. Mohiuddin Chowdhury

    ধন্যবাদ ভাই
    Actually we need live together because we are getting freedom with all nations & all religious, all should be live together in Bangladesh. I think we should be favors Our Minority religious. Who will teasing /nervous them please arrange for punishment him.

    Reply
  25. Ranjan Dutta

    ওমর শেহাব ভাইকে ধন্যবাদ। অনেক দিন পর ডান্ডি কথাটা এসেছে। চট্টগ্রামের অনেক শিক্ষিত লোকেরা ডেঁডা বলে। একটা সিনেমাতে মরহুম হুমায়ুন ফরিদি একটা উক্তি করেছেন ডান্ডি ফটাস। রাস্তার ছেলেরা হিন্দুদের দেখলে ডান্ডি ফটাস,ডান্ডি ফটাস বলে চিৎকার করত। এটা শিক্ষার অভাব। আমরা যত বলি না কেন শিক্ষার হার বেড়েছে। আসলে বাড়েনি। অক্সফোর্ট খ্যাত ঢাকা ভার্সিটিতে ভর্তি পরীক্ষায় মাত্র পাশের হার ২%। এবার বুঝুন শিক্ষার মান কতটুকু বেড়েছে। দেশে জনগণ বাড়ছে কিন্তু মানুষ বাড়ছে না। সময় এসেছে সরকার এর কিছু করার। শেহাব ভাইকে আবারও ধন্যবাদ।

    Reply
  26. চেতনাবাজ

    চেতনাবাজদের এই এক সমস্যা! সবকিছুর সাথে এরা মুক্তিযুদ্ধকে গুলিয়ে ফেলে? ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে কী হল আর না হল; একটা মানুষ আহতও হয়নি। অথচ, চুশিল বুদ্ধিজীবী, শাহবাগী আর নাস্তিকদের লেখালখি দেখে মনে হচ্ছে, যেন গুজরাটকেও হার মানাইছে। এতো চেতনাজীবী লইয়া
    এতো আয়নাবাজী লইয়া
    এতো ষাঁড়ের দড়ি লইয়া
    এতো এতো শাহবাগী লইয়া
    গাতি কি করিবে, যদি –
    নিজ দেশের বন রক্ষায়ও ভিন দেশির নিকট চিডি দিতে অয় ?
    এই গাতির নিকট নতুন প্রজন্ম কি শিখিবে ওমর শেহাব ?
    দেশ প্রেমের এই যদি হয় কর্ম কার্জ
    মনে রেখো দালালদের ধ্বংস অনিবার্য !
    তুমি যে দলের, মতের বা ধর্মেরই হও
    চারিদিকে শুধু লজ্জা এবং লজ্জা !

    Reply
  27. Ashequl Arefin

    যার অস্তিত্বই তার অপরাধ, যার জন্মই তার প্রধান অন্যায় সে কোথায় পালাবে?

    Reply
  28. নওশাদ আনসারী

    সুন্দর লিখেছেন কিন্তু এখানে তথ্যে একটু গরমিল আছে যেটা পরিস্কার করা প্রয়োজন। যেমন সেদিন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত এর সভা ছিল, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত হচ্ছে সুফিবাদী এমনি মতাদর্শ যে এর বিরুদ্ধে আগেও কোনদিন হিংস্র হওয়ার খবর পাওয়া যায় নি। বরঞ্চ জঙ্গিবাদীদের রোষানলে মাঝে মাঝে এরাও নিহত হয় । যেমন মাওলানা ফারুকীকে দেখুন।
    তবে ঘুরপাক ও জঙ্গিবাদীদের কৌশল দেখুন।- হেফাজতে ইসলামও সেদিন সভা সমাবেশে করেছে এবং তাদের সমাবেশ ছিল খুবই উগ্র মনোভবের। তাজ্জবের কথা হলো সেদিন হেফাজতে ইসলাম এই নামে সভা করিনি করেছে খাটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত এর নামে। অর্থাত এক ঢিলে দুই পাকি শিকার এবং তাতে তারা সফলও হয়েছে। যেমন সুফিবাদী অহিংস আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতকে বদনাম করা এবং এবার তাদেরই নামে নিরহীয় নন-মুসলিমদের হত্যা করা,তাদের মন্দির,বাড়ীঘর চুরমার করা।
    কিন্তু আপনারা এদিকে দৃষ্টিপাত করছেন না কেন, যে হঠাত হেফাজতে ইসলাম খাটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত এর ব্যানারে সভা করতে যাবে কেন? কি ছিল তাদের উদ্দেশ্য?- এর তথ্য সমৃদ্ধ লেখা ভোরের কাগজেও এসেছে উঠে এসেছে হেফাজতে ইসলামের এই ভয়ানক কৌশলের। যাক নিয়ে তথ্য সমৃদ্ধ লেখা উপহার দিবো শিঘ্রই। কিন্তু তাই বলে অহিংস আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতকে বদনামের কোন প্রশ্নই উঠে না। এরাতো নিজেই হেফাজতে জঙ্গিবাদীদের সাথে আদর্শগত লড়াই লড়ছে। তাদের আসল চেহরা জন সম্মুখে আনার চেষ্টা করছে। আশা করি সবাই বুঝতে পারবেন।

    Reply
    • আনান

      আহলে সুন্নাত ওয়াল জাময়াত নিয়ে আপনার জ্ঞানের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে না যে,আপনি এই বিষয়ে কিছু লিখতে পারবেন। তাই আপনাকে একটা উপদেশ দেই, ইমাম তাহাবী রচিত -আকিদাতুত তাহাবী / আহলে সুন্নাত ওয়াল জাময়াতের আকিদা বইটা পড়ে নিবেন

      Reply
  29. Palash kumar das

    সচেতনতামুলক লেখার জন্য লেখককে ধন্যবাদ। যেসব বিধর্মী স্বেচ্ছায় যুদ্ধরত নয় তাদের উপর হামলা ও লুটপাট ইসলাম সমর্থন করেনা। বরং শান্তিপ্রিয় বিধর্মীদের প্রতি ইসলাম সহানুভুতি দেখিয়েছে, ব্যাপারটা সবাইকে বুঝতে হবে। এদেশ সকল শান্তিপ্রিয জনতার। মাতৃভুমির প্রতি শ্রদ্ধা থাকলে কেউ এহেন নিন্দনীয় কাজে অংশ নিতে পারেনা বলে আমার বিশ্বাস।

    Reply
  30. M. Rana

    বাংলাদেশে নিছের আঈনটা করা অতিব জরুরি।
    “””””””””
    যখনি কারো কোন কমেন্ট বা লিখার জন্য ধর্মকে আগাত করেছে বলে কেউ অভিযোগ তুলবে, তা প্রমানিত হবার আগে, কোন ধরনের সভাসমাবেস, মিছিল, করা যাবেনা-
    যারা এই আঈন না মেনে সভা সমাবেশ, মিছিল ইত্যাদি করবেন, বিনাবিচারে তাদের ৫ থেকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে
    “””””””
    প্রমান করার জন্য এমন একটা কমিট করতে হবে যেখানে সব দল, সব ধর্মের প্রতিনিধি থাকবে আর ঐ সমিতির চেয়ারম্যান হবেন একজন উচ্চপদের বিচারপতি-
    তার মুখ থেকেই সবশেষ সিদ্ধান্তটা আসবে –
    ঐ সিদ্ধান্ত মোতাবেক কমেন্ট কারীকে শাস্তি দেওয়া বা না দেওয়া তা ঠিক হবে–

    Reply
  31. M. Rana

    চমৎকার ওমর শেহাব, অতিক্ষুদ্র একটা লিখা কিন্তু তার ধার প্রচন্ড–

    ধর্ম এসেছিল মানবের মাঝে জঙ্গল গুলোকে সাফ করতে , আজ সেই ধর্মই জঙ্গল ছড়াচ্ছে অসৎ দের হাতে পড়ে-
    আরও দুঃখের ব্যাপার হলো, ধর্মকে যারা তথাকথিত ভালভাবে চর্যা করে বলে হাফুস হুফুস করে সেই লোকগুলোও নিরবে ঐ জঙ্গল গুলকেই সমর্থন করে —

    ওমর শেহাবদের এই ধরনের লিখা গুলোই হয়তোবা এই বাংলাদেশকে রক্ষা করবে, আর তানাহলে দিন গুনতে হবে , কবে এই দেশ পাকিস্তান, সিরিয়া বা লিবিয়ার মতে হবে-

    Reply
  32. palash

    স্যার প্রণাম নিবেন
    আপনাদের মতে া হাতে গোনা কিছু বিবেকী মুসলিম/মানুষকে আবারও প্রণাম জানাই। স্যার সব মুসলিমদের উদ্দেশ্যেই আমার প্রশ্ন হচ্ছে মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিটা এত পাতলা/হালকা েকেন? অামরা জানি যারা ‘ডান্ডি’ বলে তারা অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত। কিন্তু সুশিক্ষিতরা ঐ শব্দটি বলে না। সত্যি কথা বলতে কি অপরকে ঘৃণাত্মক শব্দ বা ব্যঙ্গাত্মক শব্দ বলাটা ব্যক্তিত্ব নয়। ডান্ডি শব্দের কোনো অর্থই অভিধানে পাওয়া যাবে না। কিন্তু মুসলিমদের যবনও বলা হয়। স্যার আপনি নিজ দায়িত্বে যবন শব্দের অর্থ অভিধানে দেখে নিবেন। তখন বুঝবেন কত নীচু শব্দটা। আমরা দুর্যোধনের মতো মাছি হতে চাই না মৌমাছি হতে চাই। মাছি অন্যের ঘা খোজে। আর মৌমাছি শুধু মধুই খোঁজে। আজ বিশ্ববাসী দেখছে ইরাক, সিরিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্থান, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া সহ আরো অনেক মুসলিম অধ্্যুষিত দেশগুলোর কি বাজে অবস্থা। মনে হচ্ছে সাক্ষাত নরক। প্রশ্ন হচ্ছে ঐসব দেশতো শান্তির ধর্ম ইসলামেরই। তারপরও শান্তির এত দুরাবস্থা কেন? পাশাপাশি বুদ্ধ, খ্রিস্টান, সনাতন ধর্মালম্বীদেশগুলোর দিকে চোখ বুলালেও স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় আসল শান্তি কোথায়? স্যার কর্মফল কাউকেই ১ মিলিমিটারও ছাড় দেয় না। আমাদের শাস্ত্র বলছে যারা আজ এক পয়সার ছল ছুতোয় শত শত বাড়ি ঘর, মন্দির নির্বিচারে ধ্বংস করছে তাদের শাস্তি সরকার না দিলেও প্রকৃতি দেবে। এটা শতভাগ নিশ্চিত। তাদের পূনর্জন্ম হবে অবশ্যই। তখন তাদেরকে অন্যরা ঠিক এভাবেই নির্যাতন করবে। তার স্বাক্ষী ইতিহাস। বলতে পারবেন স্যার? কেন অনেক মানুষ পঙ্গু হয়ে জন্মায়? ফুটপাতে জন্মায়? অশিক্ষিত? কুৎসিৎ, দরিদ্র তার একটাই কারণ। সেটা হচ্ছে পূর্বজন্মের কুকর্মের ফল। কেন আজ ইসরায়েল কর্তৃক নির্যাতিত হচ্ছে নিরপরাধ ফিলিস্তিনিরা? হয়তো ঐসব ফিলিস্তিনিরা পূর্বজন্মে এইরকম অত্যাচার করেছে নিরীহদের ওপর। স্যার আমার মন্তব্যে দুঃখ পেলে ক্ষমা চাই করজোড়ে।

    Reply
    • বাবা বাবা

      “প্রশ্ন হচ্ছে ঐসব দেশ তো শান্তির ধর্ম ইসলামেরই। তারপরও শান্তির এত দুরবস্থা কেন?”

      — কারণ আপ্নের আমরিকান রাশিয়ান মামুরা আছে যে!

      Reply
  33. সঞ্জিত কুমার কর্মকার

    ধন্যবাদ ওমর ভাই আপনাকে… এত চমৎকারভাবে লেখা উপস্থাপনের জন্য…
    ভাই বলেন তো দেশ কি শুধু একদল বা এক ধর্মের মানুষের জন্যই?????????? আমাদের কে এই দেশের উন্নয়নে কোন ভুমিকা নেই???????
    বলবে কে সত্য???????

    Reply
  34. ইসমাইল

    যেই দেশে ছায়েদুর / বদি রা মন্ত্রি / এম পি হতে পারে – সেই দেশে সংখ্যালঘুরা কখনো নিরাপদ হবে না।

    Reply
  35. অপূর্ব তালুকদার দেব

    আপনার সহমর্মিতার জন্য ধন্যবাদ। সুন্দর লিখেছেন। মালু শব্দটির সাথে আমি পরিচিত ডান্ডি টা নতুন শুনলাম। এখন কেউ যদি আমাকে এই নামে ডাকে বেশ উপভোগ করব!!!

    Reply
  36. Rupan

    আমার মনে হয় সময় এসেছে – সরকার এর কিছু করার। হয় সরকার সংখ্যালঘুদের বাঁচানোর চেষ্টা করুক। নয়ত সকল সংখ্যালঘুদের গুলি করে মেরে ফেলুক বা দেশ ছাড়তে বাধ্য করুক!!!

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—