জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ বাংলাদেশের ‘শোণিতপ্রবাহ’। বাংলাদেশের অগ্রগতি ও জনগণের সব অংশের সুষম বিকাশ নিশ্চিত করতে জাসদের ভূমিকা সবসময় গৌরবজনক। এ গৌরবের ভিত্তি হল পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে জাতীয় স্বাধীনতার আন্দোলন। ১৯৬২ সাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত যারা নিরস্ত্র ও সশস্ত্রভাবে জাতীয় স্বাধীনতার জন্য নিরলসভাবে নির্ধারক ভূমিকা রেখেছেন, তারাই ১৯৭২ সালে গঠন করেছেন ‘সমাজতান্ত্রিক গণসংগঠন’-জাসদ।

যারা ছেষট্টির ছয় দফার আন্দোলন করেছেন, যারা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করেছেন, যারা বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত নির্ধারণ করেছেন, যারা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তৈরি ও উত্তোলন করেছেন, যারা স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছেন, যারা শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দিয়েছেন, যারা বিএলএফ বা মুজিববাহিনী গঠন করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, যারা মুক্তিবাহিনীতে নেতৃত্ব দিয়েছেন– তারাই গঠন করেছেন জাসদ। এ বিষয়ে যারা ভিন্ন কিছু বলেন তারা ইতিহাস-বিকৃতকারী।

সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে দেশ পরিচালনার পদ্ধতি নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বিরোধ তৈরি হয় স্বাধীনতা আন্দোলনের সংগঠক ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-তরুণ-যুবকদের। ১৯৭২ সালের শুরুতে এসব ছাত্র-তরুণ-যুবকের পক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দেশ পুনর্গঠনে হাজির করেন ১৫ দফা প্রস্তাবনা; এতে তারা ‘বিপ্লবী জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এসব প্রস্তাবনা প্রত্যাখ্যাত হলে অনিবার্য হয়ে ওঠে স্বাধীনতা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা।

যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে ক্ষমতায় ও ক্ষমতার বাইরে ছিল যথাক্রমে আওয়ামী লীগ ও জাসদ– দুটিই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল, তবে পারস্পরিক বিরোধীতা ছিল। জাসদের কার্যালয়ে হামলা হয়েছিল, জাসদের মুখপত্র ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, জাসদের রাজনৈতিক কার্যকলাপও নিষিদ্ধ হয়েছিল। স্বাধীন দেশের সর্বত্র প্রাণ দিয়েছিল দলের হাজার হাজার সদস্য, যাদের অধিকাংশই ছিলেন প্রথিতযশা বীর মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ব্যহত হয়েছিল ষড়যন্ত্রের দ্বারা; ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের একাংশ ও সেনাবাহিনীর অফিসারদের একাংশের নেতৃত্বে সপরিবারে হত্যা করা হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

জাসদ বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বিরোধীতা করেছে; তার ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত অনেক কারণ ছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জাসদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ‘থিসিস’ প্রয়োগ করে–

প্রথমত, সামরিক শাসনের বিপরীতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য জাসদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে বৃহত্তর ঐক্যের রাজনীতির সূচনা করে এবং দ্বিতীয়ত, বৃহত্তর ঐক্যের মধ্যে বাম রাজনীতির ঐক্যবদ্ধ স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তোলে।

গত ৪০ বছর ধরে জাসদ নিরলসভাবে এ রাজনৈতিক ঐক্যের চেষ্টা করেছে; কখনও সফল হয়েছে, কখনও সফল হতে অনেকটা সময় লেগেছে। জাতীয় স্বার্থে এ ঐক্যের রাজনীতি অনেকে ভুল বুঝেছেন; এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে দলের অনেক নেতাও তাল মেলাতে না পেরে দল ত্যাগ করেছেন। এ ঐক্যের রাজনীতিতে লাভবান হয়েছে দেশের আপামর জনগণ।

বঙ্গবন্ধুর খুনীদের শাসনামলেও জাসদের ওপর অত্যাচার নিপীড়ন থেমে থাকেনি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তারা হত্যা করেছে জাসদের অসংখ্য নেতাকর্মী। এ সময় ক্যান্টনমেন্টে অব্যাহত ছিল অফিসারদের ক্ষমতালিপ্সার ক্যু ও পাল্টা ক্যুর খেলা। বিপরীতে সাধারণ সেনাদের সংগঠন ‘বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা’র সঙ্গে জাসদ সবার অংশগ্রহণে ‘গণতান্ত্রিক জাতীয় সরকার’ গঠনের লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সংগঠিত করে মহান ‘সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান’।

অভ্যুত্থান সফল হয়নি– জিয়ার নেতৃত্বে প্রতিক্রিয়ার শক্তি পাল্টা আঘাত হানে জাসদের ওপর। সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানের রূপকার কর্নেল আবু তাহেরকে (বীরউত্তম) জিয়া ষড়যন্ত্রমূলক গোপন বিচারের রায়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে। সারা দেশে জাসদের ওপর নেমে আসে বিভিষীকাময় অত্যাচার-নির্যতন-নিপীড়ন-হত্যা। জিয়া রাজনীতির মাঠে আমদানি করেন পলাতক-পরাজিত যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকার-আলবদরদের, আর সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানি ভাবধারার রাজনীতি।

জাসদ জিয়ার স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ‘গণতান্ত্রিক জাতীয় সরকার’ প্রতিষ্ঠার প্রচার আন্দোলন পরিচালনা করে এবং আওয়ামী লীগ ও বাম-গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল শক্তিকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন রচনা করে; গঠন করে ১০ দলীয় ঐক্যজোট। কিন্তু আন্দোলন দানা বাঁধার আগেই খুনের রাজনীতিতে খুন হন ‘খুনী’ জিয়া নিজে। বিচারপতি সাত্তার ক্ষমতাসীন হন। ষড়যন্ত্রের গণবিচ্ছিন্ন রাজনীতির পরিণতিতে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ ক্যুর মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন এরশাদ।

এরশাদের সামরিক স্বৈরশাসনের শুরু থেকেই জাসদ অনমনীয় ভূমিকা গ্রহণ করে। ১৫ দলের ও ৭ দলের পাঁচ দফার আন্দোলন গড়ে তোলায় জাসদ পালন করে প্রধান নিয়ামক ভূমিকা। ১৯৮৬ সালের মার্চে আন্দোলনের মাঠ ছেড়ে কিছু দল সামরিক স্বৈরশাসনের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে; ১৫ দল ভেঙে গঠিত হয় জাসদের নেতৃত্বে ‘৫ দল’ ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ‘৮ দল’।

জাসদের নিরলস প্রয়াসে ১৯৮৮ সালের মধ্যেই ৮ দল আন্দোলনের মাঠে ফেরত আসে। ১৯৯০ সালে ৫ দল, ৭ দল ও ৮ দলের যৌথ আন্দোলনে পরাজিত হয় সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদ। জাসদ এ সময় ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানালেও তা উপেক্ষিত হয়।

১৯৯১ সালে বিএনপি জামায়াতের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতাসীন হয়। এ সময় বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ বিচারের দাবিতে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে আন্দোলন গড়ে ওঠে। জাসদ এ আন্দোলনের ‘স্টিয়ারিং কমিটি’তে অংশগ্রহণ করে। এরশাদ সামরিক শাসনের আমলের মতোই খালেদা জিয়ার আমলেও সারা দেশে গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনগুলোর ওপর হামলে পড়ে জামায়াত-শিবির চক্র। তাদের হাতে প্রাণ দেন জাসদ ও ছাত্রলীগের অনেক নেতাকর্মী।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক-প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। জাসদ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে থাকে। জাসদ মনে করে, ১৯৭৫ সাল থেকে বাংলাদেশে সামরিক শাসকরা রাজনীতিতে যে জঞ্জালের অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে তা থেকে জাতিকে পুনরুদ্ধার করা কোনো একক দলের পক্ষে সম্ভব নয়। পরের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতসহ যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন করে ক্ষমতাসীন হয় ২০০১ সালে। জাসদ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির ঐক্যবদ্ধ পথচলার বিষয়ে আরও জোরালো অবস্থান গ্রহণ করে।

২০০১ সাল থেকে জাসদ একক ও নিরলস প্রচেষ্টায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব দলের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা পরিচালনা করে এবং ‘জাতীয় ঐকমত্য’-এর ভিত্তিতে ‘ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন, ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন ও ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পরিচালনা’র রাজনৈতিক আবশ্যিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে। এ সময় সারা দেশে বিএনপির সমর্থনে শক্তিশালী হয়ে ওঠে অনেক জঙ্গিগোষ্ঠী; তারা গণতান্ত্রিক-প্রগতিশীল শক্তির ওপর হামলা পরিচালনা করতে থাকে, রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা চালাতে থাকে, এমনকি বিরোধী দলীয় নেতাকে হত্যার লক্ষ্যে তাঁর ওপর গ্রেনেড হামলা পরিচালনা করে।

‘একলা চল’ নীতির বিপরীতে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা আরও নিবিড়ভাবে অনুভূত হয়। অবশেষে ২০০৫ সালে গঠিত হয় ‘১৪ দল’। জাসদ প্রস্তাবিত ‘ন্যূনতম জাতীয় কর্মসূচি: পরিবর্তনের রূপরেখা ও অঙ্গীকার’-এর ভিত্তিতে প্রণীত হয় ১৪ দলের ২৩ দফা।

পরবর্তী নির্বাচনে ১৪ দলের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতাসীন হয়। সরকার দেশকে পাকিস্তানের ধারা থেকে মুক্তিযুদ্ধের ধারায় ফেরত নিয়ে আসার চেষ্টা করতে থাকে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার সম্পন্ন করা ও রায় কার্যকর করা, যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু করা, অবৈধ ক্ষমতা দখল নিষিদ্ধ করা, কর্নেল তাহের হত্যার বিচার করা, বাহাত্তরের সংবিধান ফিরিয়ে আনা, আর্থ-সামাজিক নীতিতে গণমুখীনতার সূচনা করা ইত্যাদি অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক-রাষ্ট্রীয়-সামাজিক ক্ষেত্রে বহুমুখী গতিশীলতার শুরু হয়।

কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য খালেদা জিয়া গত ৪০ বছর ধরে লালন-পালন করা জামায়াত ও জঙ্গিদের নিয়ে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের বিরুদ্ধে ‘সর্বাত্মক যুদ্ধে’ ঝাঁপিয়ে পড়ে। সরকার জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ১৪ দল খালেদা জিয়া ও জামায়াত-বিএনপিকে পিছু হটাতে বাধ্য করে। কিন্তু তারা গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে জঙ্গিদের রক্ষার জন্য নানা ছলচাতুরি করতে থাকে, আবারও সরকার ও জনগণের ওপর হামলার সুযোগ খুঁজতে থাকে।

২০১৬ সালে জাসদ ঘোষণা করেছে দেশকে জঙ্গিবাদের কবল থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করতে হলে জঙ্গি নির্মূলের পাশাপাশি গত ৪০ বছর ধরে যারা ধারাবাহিকভাবে যুদ্ধাপরাধী-জামায়াত-জঙ্গিদের পুনরুৎপাদন করেছে তাদের রাজনীতি থেকে বর্জন করতে হবে, তাদের বিচার করতে হবে, প্রয়োজনে নতুন আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। জাসদ জঙ্গি নির্মূল এবং জঙ্গি-সঙ্গী বর্জন ও বিচারের সঙ্গে সঙ্গে দুর্নীতি ও বৈষম্যের অবসান এবং সুশাসন ও সমাজতন্ত্রের বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন পরিচালনায় দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ।

দীর্ঘ ৪৪ বছরের সংগ্রামে শাসকদের আক্রমণে শহীদ হয়েছেন জাসদের হাজার হাজার নেতাকর্মী। বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেকে। অনেকে সংগ্রামের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে দল ছেড়েছেন। আশির দশকে দল যখন জিয়ার সামরিক স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন কিছু নেতা জাসদ ছেড়ে গঠন করেছিলেন আলাদা দল। এরশাদ সামরিক শাসনের শুরুতে আন্দোলনের পথ ছেড়ে সামরিক শাসকের সঙ্গে আপোষ করে দল ছেড়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাকালীন অনেক নেতা। ১৯৮৮ সালে একই পথ অনুসরণ করেছেন কেউ কেউ। সর্বশেষ ২০১৬ সালে দলের কাউন্সিল থেকে বের হয়ে গেছেন কয়েকজন নেতা।

দল যখন জঙ্গি ও জঙ্গি-সঙ্গীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে তখন তাদের দলত্যাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয় অতীতের দলত্যাগীদের কথা। তারা প্রত্যেকেই হারিয়ে গেছেন রাজনীতির মাঠ থেকে। কিন্তু এই হল নিয়ম: প্রতিটি ছোট-বড় বিজয়ের অনিবার্য আনন্দে মিশে থাকে স্বজন হারানোর বেদনা আর দলত্যাগী সাথীদের জন্য করুণা।

জাসদের প্রতিষ্ঠাকালীন অনেক নেতা দল ছেড়েছেন; তারা আন্দোলনের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেননি। কিন্তু জাসদ ধ্বংস হয়ে যায়নি; দলের কর্মীরাই দলকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন প্রতিটি অভীষ্ট লক্ষ্যের দিকে।

জাসদ আন্দোলনের দল, জাসদ হাজার হাজার কর্মীর দল; জাসদ বাংলাদেশের ‘শোণিতধারা’।

জিয়াউল হক মুক্তাজাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক

১৭ Responses -- “বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাসদ”

  1. এম বি আখতার

    লেখার শুরুতেই যদি বলা হয় যদি কেউ ভিন্ন কোন মত বা ঘটনা বা বিশ্লেষণ প্রদান করবেন তিনি হবেন ইতিহাস বিৃকতিকারী তাহলে তো আলোচনা সেখানেই শেষ। লেখক হয়তো ইতিহাস পড়ে বা শুনে তারে লেখাটি লিখেছেন সেখানে তার লেখার মধ্যে একপেশে আলোচনা নেই তার নিশ্চয়তা কে দেবে। রাজনীতির প্রধানতম লক্ষ্য হচ্ছে জনগণকে তাদের মতের পক্ষে নিয়ে আসবেন তা যদি কোন রাজনৈতিক দল না পারে সেক্ষেত্রে সেই দলকে নিজেদের অতীত ও বর্তমান কর্মকান্ড নিয়ে ভাবতে হবে। বঙ্গবন্ধুকে মূল্যায়ন ছাড়া কোন বিশেষ দলকে প্রধান্য দেয়ার অর্থই হচ্ছে সেই দলের অহংকার প্রদর্শন। লেখক আমার পরিচিত, তাই তার সাথে ব্যক্তিগতভাবেই আলোচনা হতে পারে। তবে তাদের বর্তমান মৌলবাদ বিরোধী অবস্থানকে আমি শ্রদ্ধা করি এবং সমর্থন করি।

    Reply
  2. মো: হামিদুর রহমান

    ”সমাজতান্ত্রিক গনসংঠন”-জাসদ। ইতিহাস স্বাক্ষী জাসদ কোনভাবেই কখনো ”গনসংঠন” হিসেবে নিজেদের ভুমিকা রাখতে পারেনি বরং বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের ব্যাখা দিয়ে অনেকেই এখন আমেরিকায় আরাম-আয়েশের জীবনযাপন করছেন। দেশের কথা বাদই দিলাম…এখানে আমরা দেখছি স্বৈরাচারের সাথে আতাত: করে সুবিদা আদায় আবার বর্তমানের অবস্থাতো সম্পূর্নটাই তাথকথিত “গনতান্ত্রিক” কি জানি এটাই হয়তো ছিলো আইয়ুব খানের “নিয়মতান্ত্রিক গনতন্ত্র”……না..এই বিষয়ে কিছুই বলবো না।
    ”আমাদের লক্ষ্য বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র” শ্লোগান দিয়ে জাসদ শুধু নিজেই নি:শেষ হয়নি..বাম রাজনীতিরও বারোটা বাজিয়েছে…এইসব ইতিহাস বিকৃত মানসিকতা বিসর্জন দিন।

    Reply
  3. সিম্পল গার্ল

    ১। নিজের প্রতীকে দাঁড়িয়ে যারা ইউনিয়নের পরিষদের মেম্বার হওয়ার যোগ্যতা রাখে না সেই জাসদ, জাসদ আন্দোলনের দল, জাসদ হাজার হাজার কর্মীর দল; জাসদ বাংলাদেশের ‘শোণিতধারা’?!

    ২। ডুবন্ত আওয়ামী লীগের চরম পতনের সাথে সাথে বিনাভোটে তথাকথিত নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাদখলকারী বর্তমান সরকারের যে পাঁচজন প্রথমেই দেশ ছেড়ে পালাবে তার ভিতর কনফার্ম ইনু থাকবে। সেই ইনুর দল, জাসদ আন্দোলনের দল, জাসদ হাজার হাজার কর্মীর দল; জাসদ বাংলাদেশের ‘শোণিতধারা’?!

    Reply
  4. oliul

    বৃহত্তর ঐক্যের অপর নাম ডানদল পুঁজিবাদী ঐক্য । আপনার কথায় ব্যাপারটা দারুন মনে হলেও মূলত বাম আদর্শের বারোটা বাজাইছে জাসদ । তাই দ্বিতীয় পয়েণ্টটার উদ্দেশ্য হইলো ডান পুঁজিবাদের সাথে নতুন আঙ্গিকে বাম পুঁজিবাদী দল । বাম আদর্শ মানেই হলো আলাদা একটা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা যা অবশ্যই গনতান্ত্রিক। কিন্তু জাসদের ইনু কী করতেছে ? উনার মন্ত্রনালয়ের কাজ কী? অর্থনৈতিক? রাজনৈতিক? গনতান্ত্রিক? সরাসরি কোনটাই না।

    Reply
  5. আলতাফ হোসেন।

    আপনি জেঃ জিয়ার এবং হো মো এরশাদের শাসনামলকে সামরিক স্বৈরশাসন বলেছেন। আমি একমত। কিন্তু ১৯৭২ থেকে ১৫ই আগষ্ট পূর্ববর্তী সরকারকে কোনই তকমা/ বিশেষন দেননি। বিষয়টা খোলসা করবেন কি জনাব ?
    ধন্যবাদ, লেখাটির জন্য।

    Reply
  6. মারুফ আলম

    “যারা ছেষট্টির ছয় দফার আন্দোলন করেছেন, ……… যারা মুক্তিবাহিনীতে নেতৃত্ব দিয়েছেন– তারাই গঠন করেছেন জাসদ।” এই বাক্যটির ভেতর যদি লেখক “যারা বর্তমানের বাংলাদেশে চলমান ধর্মীয় জঙ্গীবাদি হামলার ৪০ বছর আগেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জঙ্গী হামলায় রক্তাক্ত করেছে বাংলার পথঘাট জনপদ, যারা খালেদ মোশাররফকে হত্যা করেছে, যারা সামরিক-স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমানকে ক্ষমতায় আনার ষড়যন্ত্রে গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা রেখেছে” এইটুকু যোগ করতেন তাহলে লেখাটি আরো তথ্যসমৃধ্য হত।

    Reply
  7. Akhtar Hossain

    I have seen JSD; War of Liberation; Killing of the Father of the Nation; and the politics that followed it. জাসদ একটা সুবিধাবাদী দল। কর্নেল তাহের জিয়ার মাথায় লবণ রেখে বড়াই খেতে চেয়েছিলো ; কিন্ত বড়ই টা জিয়া নিজেই খেয়ে ফেলেছে !

    Reply
  8. Nurul Haque

    স্বাধীনতা পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধু সরকারের চরম বিরোধিতাকারী জাসদ বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের অংশীদার। শেখ হাসিনার সরকারে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন দলটির বর্তমান সভাপতি ইনু। তথ্যমন্ত্রী বলেন, “বঙ্গবন্ধুর হত্যার সঙ্গে জাসদকে জড়ানোর যে অপচেষ্টা বা ষড়যন্ত্র, এটার কোনো ভিত্তি নেই।…দীর্ঘ তদন্ত শেষে দীর্ঘদিন বিচার প্রক্রিয়া শেষে বিচারকরা রায় ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। সাক্ষীর জেরা থেকে অভিযোগপত্র কোনো জায়গায় জাসদ সম্পর্কে একটি শব্দও লেখা নেই।”গত ২৩ অগাস্ট জাতীয় শোক দিবসের এক অনুষ্ঠানে শেখ সেলিমকে উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, “স্বাধীনতাবিরোধীরা কখনও বঙ্গবন্ধুর ওপর আঘাত হানতে পারত না, যদি এই গণবাহিনী, জাসদ বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করে বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি করে, মানুষ হত্যা করে, এমপি মেরে পরিবেশ সৃষ্টি না করত। সুতরাং বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল রহস্য বের করতে হবে, কারা কারা জড়িত ছিল।”
    শেখ সেলিমের বক্তব্যের পরের দিন বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপনও সংবাদ সম্মেলনে জাসদের ১৯৭২-৭৫ সময়কার ভূমিকার তদন্ত দাবি করেন।
    এরপর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ আবার বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্র তৈরির জন্য জাসদকে দায়ী করে বক্তব্য দেন। বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও বলেন, ইনুরা তখন অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন।
    শেখ সেলিম যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ১৪ জোটের বৃহত্তম শরিক আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান নয় বলে মনে করছেন জাসদ সভাপতি ইনু।
    তবে তার মতে, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাদের অভিন্ন বক্তব্যে তাদের জোটের ঐক্যর ভেতর বিভ্রান্তির জাল তৈরি করছে।
    আওয়ামী লীগ থেকে সমালোচনা হওয়ায় জোট থেকে বেরিয়ে যাবেন কি না- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে ইনু বলেন, “এটা তো আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান না।
    “আওয়ামী লীগ ও জাসদ নীতিগতভাবে ঐক্যবদ্ধ, আন্দোলন-নির্বাচন এবং সরকার পরিচালনায় আমরা একসঙ্গে আছি এবং আমরা মনে করি, এই লড়াইটা শেষ পর্যন্ত নেওয়ার জন্য ঐক্য দরকার।”
    বঙ্গবন্ধুর রক্ত মাড়িয়ে মোশতাক আহমেদের মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগ নেতাদেরই যোগদানের দিকে ইঙ্গিত করে ইনু বলেন, “হালুয়া-রুটির ভাগের জন্য মোশতাক সরকারে কারা ভিড়েছিল, তা সবাই জানে।”
    পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর মোশতাকের সরকারে বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার দেড় ডজন সদস্য যোগ দিয়েছিলেন। এদের অনেকেই পরে বিএনপি ও জাতীয় পার্টিতে সক্রিয় হন। তবে আব্দুল মান্নান, আব্দুল মোমেন, দেওয়ান ফরিদ গাজীসহ কয়েকজন ফিরে আসেন আওয়ামী লীগে।
    ইনু বলেন, “জাতীয় চার নেতাসহ হাতে গোনা কয়েকজন ত্যাগী নেতা ছাড়া বহুজনই সেই দিন মোশতাকের করুণাভিক্ষার জন্য হালুয়ারুটির ভাগাভাগির জন্য তার চারপাশে ভিড় জমিয়েছিল।”
    পঁচাত্তরে মোশতাক সরকারের বিরোধিতা করে জাসদের প্রচারপত্র বিলির কথাও তুলে ধরেন দলটির সভাপতি।
    “মোশতাকের ৮৩ দিনের শাসনকালে জাসদের অনেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, ৭০ এর বেশি নেতা-কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। মোশতাকের ক্ষমতা দখলের পরে জাসদের কোনো নেতা এবং দলগতভাবে জাসদ মোস্তাকের সঙ্গে হাত মেলায়নি।”
    বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সঙ্গে জাসদকে জড়িয়ে যারা কথা বলছেন তারা ইতিহাস না জেনে অথবা সচেতনভাবে অন্য কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলেও দাবি করে ইনু। জাসদের কোনো কর্মকাণ্ডে ভুল ছিল কি না- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে দলটির সভাপতি বলেন, “চলার পথে বহু পদক্ষেপ নিতে হয়, কোনটা সঠিক কোনটা বেঠিক, এটা ইতিহাস বিচার করবে। জীবদ্দশায় এটা বিচারের মালিক আমি না।” ( ২৬/০৮/২০১৫)
    উৎসঃ বিডিনিউজ

    Reply
  9. Manik

    ১৯৭২ সালের ৩১ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে জাসদ গঠনের ঘোষণাকালে নেতারা বলেন, ‘…..২৫ বছরের গণআন্দোলন ও রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র সংগ্রাম বাঙালি জাতির জীবনে যে বিপ্লবী চেতনার উন্মেষ ঘটিয়েছে, স্বাধীনতা লাভের পর মাত্র ১০ মাসের ব্যবধানে সমগ্র জাতির সে বিপ্লবী চেতনা আজ স্তব্ধ প্রায়। ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর সুবিধাবাদী রাজনৈতিক চরিত্র আজ প্রকটভাবে ধরা পড়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনীতি আজ সুবিধাবাদী গোষ্ঠী কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। অর্থনীতি শোষক সম্প্রদায়ের করায়ত্ত। স্বাধীনতা যুদ্ধের সৈনিক মুক্তিযোদ্ধারা তথা সারাদেশের যুবশক্তি আজ চরমভাবে অস্বীকৃত, নিগৃহীত। ক্ষমতাসীন দল গোটা যুব সমাজকেই তাদের চক্ষুসূল বলে ধরে নিয়েছে। উঠতি পুঁজিপতি, শিল্প প্রশাসক গোষ্ঠী ও ক্ষয়িষ্ণু সামন্তবাদী প্রথার নিগড়ে বাংলার কৃষক-শ্রমিকের জীবন আজ অতিষ্ঠ। একদিকে সমাজের অতি ক্ষুদ্র শতকরা ৮ জন শোষক, অপরদিকে শতকরা ৯২ জন শোষিত মানুষ। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল শোষক শ্রেণীর বিরুদ্ধে জনযুদ্ধ ঘোষণা করেছেন……।’
    সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘……বর্তমান প্রতিক্রিয়াশীল সাম্রাজ্যবাদীদের ক্রীড়নক ও পুতুল সরকারকে উৎখাত করে কৃষক-শ্রমিকরাজ কায়েমের উদ্দেশ্য দেশের ভেতরে ও বাইরে প্রবল জনমত সৃষ্টির নিমিত্ত জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের পতাকাতলে জমায়েত হওয়ার জন্য দেশের ছাত্র, যুবশক্তি, মুক্তিযোদ্ধা, মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত, বাস্তুহারা, প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবী, কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষের কাছে উদাত্ত আহবান রইল।
    শোষক গোষ্ঠী দীর্ঘদিনের শক্ত বুনিয়াদের ওপরে দাঁড়িয়ে; তাদের অর্থবল, অস্ত্রবল রয়েছে। কিন্তু জনতা আজ তাদের বিরুদ্ধে জনতার বিপ্লবী শক্তিকে সুসংগঠিত করে সময়োজিত আঘাত হানলে শোষক-শাসকের কায়েমি স্বার্থের ভিত্তিমূল ধ্বসে পড়বেÑআসবে জনতার বাঞ্ছিত মুক্তি। আমাদের লড়াই শোষকের বিরুদ্ধে, শ্রেণীশত্র“র বিরুদ্ধে। এ লড়াই বাঁচা-মরার লড়াই। এ লড়াইয়ে জিততেই হবে……।’
    সে সময় নবগঠিত দলের ৮ দফা লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়। জাসদ আত্মপ্রকাশের পরদিন তৎকালীন দৈনিক গণকণ্ঠ বিশেষ সম্পাদকীয় প্রকাশ করে। তার শিরোনাম ছিলÑ‘বাংলার রাজনৈতিক গগণে নতুন সূর্য।’ বিশেষ সম্পাদকীয়তে বলা হয়-
    ‘…..মুক্ত বাংলার রাজনৈতিক গগনে বহু প্রতীক্ষিত নতুন সূর্যের উদয় হলো। সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনকারী বীর বাঙ্গালী জাতির আশা-আকাঙ্খা বাস্তবায়নের প্রয়োজনের তাগিদে জন্ম দিল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল…..^াধীনতার ফসলে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। স্বাধীনতার পরর জনগণের সাথে বেঈমানী করছে স্থিতিমান বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
    ……সূর্যের কিরণ যেমন শুধু রাতের অন্ধকার দূর করে মানুষের চলার পথ দেখায় না, সূর্যরশ্মি অনেক ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে দেয়, তেমনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক গগনে উদিত এই নতুন সূর্য বাংলাদেশ ও সারা পৃথিবীকে শুধু উদ্ভাসিতই করবে না, অনেক ক্ষতিকর ও পঙ্কিল পরিবেশকে দোষমুক্ত করতে সাহায্য করবে…….।’ (সূত্রঃ ভ্রান্তিবিলাসের অজানা অধ্যায় জাসদের, নঈম নিজাম, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ২৯ আগষ্ট ২০১৫)

    Reply
  10. মাহমুদুল করিম

    যাই বলেন,জাসদ কিন্তু সুবিধাবাদী রাজনৈতিক দল।তাদের আগের ইতিহাস আমরা খুব ভাল করে জানি।এরা সুবিধা আদায়ের জন্য দল বদল করে এমন কি শেখ মুজিব’কে ও গালাগালি করকে বাধে না তাদের সার্থের জন্য।

    Reply
  11. lanin

    now it is the time to add all left minded politicians in one compound. And give slogan, ” Up Up Socialism , Down Down Capitalism. Our Bangladesh our right, Safe Bangladesh join the fight ” . No East, No West, Left is the Best.

    Reply
  12. Ratan Chow.

    জাসদের জন্ম থেকে বর্তমান মুমুর্ষ অবস্থা পর্যন্ত স্বচক্ষে দেখা দলের এবং নেতাদের অবস্থা ও ইতিহাস বিশ্লেষন করে এক বাক্যে বলা যায় – সবই ভন্ডামী। জাসদের নেতাদের বর্তমান লেজুড়ভিত্তিক নীতিহীন-দর্শন, হালুয়া-রুটির রাজনীতি আর বর্তমান অন্তর্কোন্দল দেখে বলতেও লজ্জা হয় একসময় নিজেও জাসদ করতাম!

    Reply
  13. Kazi

    It is very easy to say in favor of yourself. Donot forget that you are zero without AL. Cannot understand how you compare yourself with BNP? Please go to people and survey about yourself. You do not have support like JP.

    Reply
  14. হালিম দাদ খান

    শুরুতেই বলা হয়েছে ‘ … যারা মুক্তিবাহিনীতে নেতৃত্ব দিয়েছেন– তারাই গঠন করেছেন জাসদ। এ বিষয়ে যারা ভিন্ন কিছু বলেন তারা ইতিহাস-বিকৃতকারী।’ এর চেয়ে বড় ইতিহাস বিকৃতি আর হতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধকালে ছাত্রলীগের সাবেক ও তৎকালীন বর্তমান চার চার আট খলিফার প্রধান কাজ ছিল প্রবাসী তাজউদ্দীন সরকারের বিরোধিতা করা। মুক্তিযুদ্ধের শেষভাগে এদের বিএলএফ ’বাংলাদেশে’ প্রবেশ করে। তারা যত না পাকি বাহিনীর বিরুদ্ধে তার চেয়ে বেশি মুক্তি বাহিনীর বিরদ্ধে যুদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের পর শেখ মণির সঙ্গে পেরে না ওঠা তাদের একাংশ সচেতন মানুষের আকাঙ্খা বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের স্লোগান দিয়ে জাসদ প্রতিষ্ঠা করে। সুতরাং তাদের কে যদি মুক্তিবাহিনীর নেতৃত্বদানকারী বলা হয় তবে যথার্থই তা ইতিহাস বিকৃতি।
    আর ‘যারা ছেষট্টির ছয় দফার আন্দোলন করেছেন, যারা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করেছেন, যারা বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত নির্ধারণ করেছেন, যারা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা তৈরি ও উত্তোলন করেছেন, যারা স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছেন, যারা শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দিয়েছেন, যারা বিএলএফ বা মুজিববাহিনী গঠন করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন’ তাদের মধ্যে যারা সেইসব ছেড়ে ’বৈজ্ঞানিক’ হয়েছেন তাদের সে সবের উত্তরাধিকার দাবি করা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত তা ভেবে দেখার দাবি রাখে। একই সঙ্গে মুজিবের আমলে তাদের অধৈর্য অতি বিপ্লবী ও জিয়ার আমলে ও পরে আপোষের রাজনীতি দেশের জন্য মঙ্গল না অমঙ্গল ডেকে এনেছে তা-ও খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।

    Reply
  15. সৈয়দ আলি

    ‘এ বিষয়ে যারা ভিন্ন কিছু বলেন তারা ইতিহাস-বিকৃতকারী। ‘৬৬তে জাসদ বলতে কি ছিলো? একাত্রেত্তর জাসদ ছিলো? না ছাত্রলীগ ছিলো।
    মিথ্যে দিয়ে শুরু নিবন্ধ…

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—