যে সংস্কৃতিতে বড় হয়েছি তার বাইরে কোনো কিছু দেখলে বেশ অদ্ভুত লাগে। আমেরিকায় এসে প্রথম ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য একই বাথরুম আর রাতে ক্যাম্পাসে মেয়েদের নিরাপদে ঘোরাফেরা করতে দেখে অবাক হয়েছিলাম। অবশ্য আমেরিকার সব কিছু আস্তে আস্তে খোলাসা হচ্ছে। বুঝতে পারছি, একটি দেশ মানে আসলে দেশটির মানুষ।

অবকাঠামো, অর্থনীতিসহ অন্যান্য উন্নয়ন সূচকের কথা চিন্তা করলে হয়তো পৃথিবীর দরিদ্র দেশগুলো (আমরা অবশ্য এখন মধ্য আয়ের দেশ) আর সবচেয়ে ধনী দেশ আমেরিকার মধ্যে অনেক পার্থক্য। কিন্তু আমরা যদি মানুষের কথা ভাবি তাহলে দেখব এদের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই।

বাংলাদেশ আর আমেরিকা দুই জায়গাতেই অসম্ভব চমৎকার উদার, প্রগতিশীল, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, নারীবাদী চিন্তাভাবনার মানুষের দেখা পাওয়া যায়। আবার এর পাশাপাশি, দুই দেশেই এমন মানুষের দেখা মেলে যারা ধর্মান্ধ, গোঁড়া, চরমপন্থী ও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার। আমাদের সৌভাগ্য যে, শেষের কাতারে থাকা মানুষগুলো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংখ্যায় কমতে থাকে অথবা বুড়ো, অথর্ব, শক্তিহীন হয়ে যেতে থাকে। সাধারণত তাদের মধ্যে তরুণ আর নতুন প্রজন্মের খুব বেশি প্রতিনিধি থাকে না। তাই প্রকৃতির নিয়মেই আমরা মোটামুটি ভালোর দিকে যাচ্ছি।

আমেরিকা এই মুহূর্তে জটিল সময় পার করছে। অনেক বছর ধরে তাদের সমাজ, সংস্কৃতি আর রাজনীতিতে আস্তে আস্তে যে ফাটল তৈরি হচ্ছিল আজ সেই ফাটল দিয়ে হু হু করে বানের জল ঢুকছে।

এক বছরের বেশি সময় ধরে নতুন নতুন কেলেঙ্কারির জন্ম দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পৃথিবীর আনাচেকানাচে ‘অামেরিকার প্রতীক’ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এই লোকটি এখন পৃথিবীর সব উগ্রবাদী, ধর্মান্ধ, অগণতান্ত্রিক, পুরুষতান্ত্রিক, সুবিধাবাদী মানুষের চোখের মণি। আমেরিকার অনেক মানুষ, অনেক প্রতিষ্ঠান এই লোকটিকে থামানোর চেষ্টা করেও পারেনি। তারা ব্যর্থ হয়েছে এই দানবকে হারাতে। এখন গোটা আমেরিকার শেষ ভরসা হিলারি ক্লিনটন। আশার কথা হল, এর আগেও আমেরিকা বিভিন্ন সময়ে দানবের জন্ম দিয়েছে (অন্যান্য দেশের মতো) এবং থামাতেও পেরেছে।

বিভিন্ন দেশের এখন যারা তরুণ দানব তারা সবাই স্বপ্ন দেখছেন, বড়ে হয়ে তারা যার যার সমাজের, দেশের, জাতির বা ধর্মের ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ হবেন। মনে প্রশ্ন জাগে– একটি দেশ কোথায় পৌঁছুলে তার ভবিষ্যত এতটা ঝুঁকির মধ্যে পড়ে? কতটুকু ভুল রাস্তায় কত দিন ধরে হাঁটলে এত বড় বিপদে পড়তে হয়? আমাদের দেশে কি আমরা কখনও এত বড় বিপদে পড়েছি? পড়লে তার জন্য কত বছর কতটুকু ভুল রাস্তায় হাঁটতে হয়েছিল?

 

donald-trump-reuters
এই লোকটি এখন পৃথিবীর সব উগ্রবাদী, ধর্মান্ধ, অগণতান্ত্রিক, পুরুষতান্ত্রিক, সুবিধাবাদী মানুষের চোখের মণি

 

বাংলাদেশের জন্য এত বড় বিপদ হয়েছিল তখন, যখন প্রথমবারের মতো জামায়াত রাজনীতি করার অনুমতি পেয়েছিল। কেন? কারণ, জামায়াত হল বাংলাদেশের অস্তিত্ত্ব আর সংজ্ঞার ঠিক বিপরীত নাম। তাদের রাজনীতি করতে দেওয়া, সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া আত্মহত্যার শামিল। যে ডাকাত দল গ্রামে আক্রমণ করে তাদের কেউ মোড়ল বানায়? বানায় না। জামায়াতকে সংসদে জায়গা দেওয়ার মতো বড় বিপদ ডেকে আনার জন্য আমাদের বেশ কিছু বছর ভুল পথে হাঁটতে হয়েছিল– ১৯৭৫ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত। শাহবাগ আন্দোলনের কারণে জামায়াত এখন একটি প্রায় হারিয়ে যাওয়া নাম। কিন্তু তাদের অশুভ আত্মা, নোংরা আদর্শের নানা অংশ আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

যখন শাহবাগ আন্দোলন প্রথম শুরু হয়, সবার মনে আছে, নিয়মিত টিভিতে কী দেখাত, পত্রিকায় কী বলা হত? তখন পর্যন্ত আমরা জানতাম না এ আন্দোলন সফল হবে কি না। জানতাম না, যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রক্রিয়া থেমে যাবে নাকি চলতে থাকবে। পুলিশ সবাইকে গ্রেপ্তার করতে পারবে কি না, তা-ও বোঝা যাচ্ছিল না। গ্রেপ্তার করলে বিচার ঠিকমতো হবে কি না, বিচার করার পর রায় কার্যকর করা যাবে কি না– সব কিছু নিয়েই ছিল চরম অনিশ্চয়তা।

যারা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের নিশ্চয়ই ছিল চরম আত্মবিশ্বাস আর অধ্যবসায়। তা না হলে দেশে আর বিদেশে এত ধরনের ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে তারা টিকে থাকতে পারতেন না। কিন্তু শুরুর দিকের চরম অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশের ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পরা’ তাদের নোংরা চেহারা ঠিকই দেখিয়ে দিয়েছিল। ভাবলে শিউরে উঠতে হয়, যদি শাহবাগ আন্দোলন সফল না হত তাহলে তাদের উদ্ধত আস্ফালন স্থায়ী হয়ে যেত।

আমরা সৌভাগ্যবান, তা হয়নি। শাহবাগ আন্দোলন সফল হয়েছে আর এসব নোংরা ট্রাম্পরা আবার গর্তে ঢুকে গেছে।

এখন যে যুদ্ধাপরাধের বিচার চলছে সেটি শুরু হয় ২০০৯ সালে। অনেকেরই হয়তো মনে আছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের এক বিতর্কিত অধ্যাপক নিয়মিত টিভিতে কী বলতেন আর পত্রিকায় কী লিখতেন। বিচার স্বচ্ছ আর আন্তর্জাতিক হচ্ছে না– এই বায়বীয় কথা বাংলা ভাষাভাষী গণমাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তিনি প্রাণান্তকর চেষ্টা করেন। শাহবাগ আন্দোলনের বছর, ২০১৩ সালে, তার এই প্রচারণা তুঙ্গে ওঠে।

আজ যদি শাহবাগ আন্দোলন সফল না হত, যদি সরকার বিদেশ থেকে আসা ফোন কলগুলোতে দেশের মানুষের ইচ্ছার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিত, সেই অধ্যাপক আজ আরও উদ্ধতভাবে টিভির পর্দা কাঁপিয়ে বলতেন, “বলেছিলাম না, যুদ্ধাপরাধের বিচার আসলে রাজনৈতিক ধান্দাবাজি। বলেছিলাম না, দেলওয়ার হোসেইন সাঈদী যুদ্ধাপরাধী নন!”

স্বৈরাচারদের ছায়ায় ফুলেফেঁপে ওঠা দুটি রাজনৈতিক পরিবারের দুই তরুণ সদস্য শাহবাগ আন্দোলন নিয়ে নিয়মিত কী কী মন্তব্য টিভির টকশোতে করতেন, কারও মনে আছে? এদের কপাল খারাপ, ইউটিউব বলে একটি ওয়েবসাইট আছে, যেখানে টকশোতে বলা তাদের সবার ভিডিও মজুদ আছে। এদের একজন চ্যানেল আইয়ের একটি টকশোতে ব্লগ-লেখকদের নিয়ে ভীষণ নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। তিনি আমাদের সংসদের সদস্যও হয়েছিলেন।

তাই ভুল শুধু আমেরিকা নয়, আমরাও করি। একই রাজনীতিবিদের অংশ নেওয়া ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবরের একটি টকশোর ভিডিও ইউটিউবে পাওয়া গেল, যেখানে তিনি যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লাকে সম্বোধন করছেন ‘কাদের মোল্লা সাহেব’ বলে। ভাগ্যিস, ‘শহীদ’ বলেননি!

ইউটিউবে আরেক রাজনীতিবিদেরও এ রকম ভিডিও পাওয়া যায়, যা প্রমাণ করে তারা ইতিহাসের ভুল দিকে ছিলেন। একটি ভিডিওতে দেখা গেল, এই রাজনীতিবিদ বলছেন, গণজাগরণ মঞ্চের উচিত হয়নি জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি করা। একই রাজনীতিবিদের আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেল, তিনি ‘হেফাজতে ইসলাম’এর জন্ম গণজাগরণ মঞ্চের বিপরীত প্রতিক্রিয়া হিসেবে এমনটি দাবি করছেন, যা আসলে ডাহা মিথ্যা।

শাহবাগ আন্দোলন যদি সফল না হত তাহলে এই রাজনীতিবিদ তার মিথ‌্যা প্রচারণা চালিয়ে যেতেন আরও কত বছর কে জানে!

শুধু রাজনীতিবিদদের কথাই-বা বলি কেন, বিতর্কিত ও স্বঘোষিত সেই বুদ্ধিজীবী ও দার্শনিকের নামটি মনে থাকার কথা সবার। তিনি হেফাজতে ইসলামের সন্ত্রাস আর বিএনপির বাসে আগুন দেওয়ার বিষয়টি শোষিত মানুষের ‘শ্রেণিসংগ্রাম’ নাম দিয়ে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অভিজিৎ রায়কে হত্যার পর প্রকাশিত তার সেই উপসম্পাদকীয়র কথা মনে আছে, যেখানে ‘বিজ্ঞানবাদ’ বলে একটি আজগুবি শব্দ আবিষ্কার হয়ে বিজ্ঞানমনস্কতা একটি রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল?

শাহবাগ আন্দোলন যদি ব্যর্থ হত, যুদ্ধাপরাধের বিচার যদি থেমে যেত, কয়েক বছর পর এই লোক কী হতেন? জাতীয় অধ্যাপক? বিজ্ঞান একাডেমীর সভাপতি? প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা? ভাবাই যায় না!

এছাড়া দেশের বড় বড় বাংলা ও ইংরেজি জাতীয় দৈনিকের অনেকগুলো যুদ্ধাপরাধের বিচার বিতর্কিত করার জন্য বহু উপসম্পাদকীয় ছেপেছে। ঠিক যেমন বঙ্গবন্ধুকে মেরে ফেলার পরদিন পত্রিকাগুলো সেটি ‘ভালো কাজ’ হিসেবে অভিহিত করেছিল! পঁচাত্তরের পর তারা ওই কাজ করেছিল বলে যুদ্ধাপরাধের বিচার এতগুলো দশক আটকে ছিল। এবার যদি শাহবাগ হেরে যেত, যুদ্ধাপরাধের বিচার আবারও আটকে যেত, এই পত্রিকাগুলো সমস্বরে বলত– “আমরা তো বলেছিলাম এ বিচার না করতে।”

তারপর ঠিকই তারা নিয়মিত যুদ্ধাপরাধীদের লেখা ছাপাত আর সাক্ষাৎকার নিত– যেমন তারা নিয়মিত করে গেছে।

তাহলে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্পরা শুধু আমেরিকাতেই জন্মায় না, ঠিকঠাক পরিবেশ পেলে সব দেশে, সব সমাজেই জন্মায়– ছোট, বড়, মাঝারি সব ধরনের ট্রাম্প। আমাদের ইতিহাসে ট্রাম্পদের দেখেছি, এখনও দেখছি, ভবিষ্যতেও দেখব।

কী সৌভাগ্য, আমরা শাহবাগের সময় আমাদের ট্রাম্পদের হারিয়ে দিয়েছিলাম। আমরা যেমন কল্পনাও করতে পারি না ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান সফল না হলে একাত্তরে কী হত, তেমনি কল্পনাও করতে পারি না শাহবাগ আন্দোলন সফল না হলে দেশটার কী দশা হত আজ!

ওমর শেহাবইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের ভিজিটিং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরামের (আইসিএসএফ) সদস্য

২৭ Responses -- “আমাদের হেরে যাওয়া ট্রাম্পরা”

  1. ছিমপুল বয় কামরান

    একটা পত্রিকার ব্যবস্থা আমার ভাল লাগে, সেইখানে কেউ বেনামে কিছু লিখে যেতে পারে না। আইডিকার্ড, মোবাইল নাম্বার প্রভৃতি দিয়ে ভ্যারিফাই করে তারপর মন্তব্য করতে হয় সেখানে। বিডিনিউজ বহুল প্রচারিত একটি অনলাইন, আমার মনে হয় তাদেরও উচিৎ এসব ছদ্মবেশীদের পথ রোধ করা।

    Reply
  2. মুত্তালিব

    @লেখকঃ দেখা যাচ্ছে ট্রাম্পকে নিয়ে প্রবাসী লিবারেল (সুশীল) রাও বেশ অস্বস্তিতে আছেন। থাকারই কথা, কারণ এই প্রজন্মের বেশীর ভাগ মানুষের জীবনের একমাত্র লক্ষ কিভাবে দেশ থেকে ৩০ বছর বয়স হওয়ার আগেই ইউরোপ/আমেরিকা ইত্যাদি (প্রথম বিশ্ব) দেশে পাড়ি জমানো যায়। অথচ এই বয়সটাই হওয়ার কথা ছিল নিজের দেশের জন্য কাজ করা। যাইই হোক, যেহেতু সেটা হয় নাই, এখন আর কিছুই করার নেই। এখন মনে মনে প্রার্থনা করতে থাকুন ট্রাম্প যেন ক্ষমতায় না যায়। কারণ উনি ক্ষমতায় গেলে আপনারা সুশীল না কুশীল এসব কিছুই দেখবে না, ধর্ম আর গায়ের রঙ এর উপর ভিত্তি করে দলে দলে আপনাদের মত লোকজনদের কে অর্ধচন্দ্র দিয়ে দেবেন।

    @সিম্পল গার্লঃ মুসলমান জনগোষ্ঠী কিন্তু তাদের আহাম্মকির জন্য বিখ্যাত। আপনি কি জানেন প্রথম বিশ্বে পাততাড়ি গোটানোর ক্ষেত্রে কারা সবচেয়ে এগিয়ে? জ্বী, ঠিকই ধরেছেন, মুসলিমরা। কক্ষনো চিন্তা করে দেখেছেন কেন? কারণ বিগত ৮০০ বছর ধরে মুসলিম জনগোষ্ঠী উৎপাদনে কোন ভূমিকাই রাখে নাই (কোন মুসলিম দেশ সে চেষ্টা করলেও তাকে থামানো হয়েছে, যেমন সাদ্দামের ইরাক), এখন ২০১৬ তে এসে এই মুসলিমদের প্রধান পরিচয় হয়ে উঠেছে একটা “পরজীবি-সুবিধাবাদী” প্রজন্ম হিসেবে। মুসলমানদের মূল পরিচয় এখন “ভোক্তা”, এরা আর উৎপাদক নয় (মধ্যযুগে ছিলো, এখন নেই)। এই মুসলমান দের এখন জীবনের মূল উদ্দেশ্য ইউরোপ আমেরিকা গিয়ে কোনমতে প্রান্তিক জীবনপাত করা। ইরাক-সিরিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখুন, এখন ঐ এলাকা প্রায় জনশূন্য। এতদিনে আপনাদের বড় বড় নেতা-আমিররা কিছুই দেয় নাই, শুধু দুই প্রধান দলের লেজুড় বৃত্তি করা ছাড়া। জ্বি, আমি জামাত-শিবিরের কথাই বলছি, লেখক যেটা বলেছেন তা %১০০ সত্য, এই দলের কোন ভবিষ্যৎ নেই, আমি নিজেও একসময় এই দলের সাথে যুক্ত ছিলাম। যে সব নেতা যারা ছিলেন, তাদের কোনই দূর দৃষ্টি ছিলোনা, এরা খালি নিজের আখের গোছানোতেই ব্যস্ত ছিলেন। আমরা খালি আহাম্মকের মত এদের কথা শুনে খিলাফতের স্বপ্ন দেখতাম। উনাদেরক দিয়ে ঐ আইসিস মার্কা খেলাফতই হবে, অন্য কিছু না। এই জামাত শিবিরের চিন্তার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসুন। আর ট্রাম্প এলে কাদের উপকার সবচেয়ে বেশী হবে ভেবে দেখেছেন? মুসলিম বিশ্বের। কি অবাক হলেন? একটু চিন্তা করে দেখুন, এই লোক এলে ঐ দেশ থেকে মুসলিমদের কে তাড়ানোর ব্যবস্থা করবে, তখন এরা ফিরে যেতে বাধ্য হবে, এতে আখেরি লাভ আমাদেরই হবে, ওদের না। ইউরোপ আমেরিকা থেকে শিক্ষিত দক্ষ লোকবল নিজ নিজ দেশে ফিরে যাবে, আর এই সুযোগটাই নিতে হবে আমাদের। চীনের দিকে তাকিয়ে দেখুন, ট্রাম্পের বার বার “চায়না থেকে সব ফ্যাক্টরি উঠিয়ে আনা হবে” এই হুমকি শুনতে শুনতে এখন চীন বাংলাদেশের দিকে তাদের ব্যবসা বাড়ানোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। আপনার কি ধারণা হিলারির দল এলে মুসলমানদের পোয়া বারো? হিলারি এলে এই মুসলমানরা এখন যা করছে সেটাই করে যাবে, এদের কোন উন্নতি হবে না। আর আপনি কি জানেন ১৯৯০ এর আগে বুশের দলের সবচেয়ে বড় সমর্থক কারা ছিলো? ইতিহাস পড়ে দেখুন, হ্যাঁ আমরাই ছিলাম, এই আহাম্মক মুসলিমরা। দুঃখজনক হলেও সত্য, এইসব ব্যপার গুলো কেউই খেয়াল করছেন না, আপনারা পড়ে আছেন আপনাদের মৃত নেতাদের নিয়ে, তারা যে রাজাকার ছিলোনা বলে আমাদের এতদিন বুঝানো হয়েছে, এটা কি আপনি এখন বুঝতে পারছেন? কল্পনার জগত থেকে বাস্তবে ফিরে আসুন, এতে আমাদেরই লাভ।

    Reply
  3. সুদীপ্ত সাহা

    খুবই ভাল লাগলো লেখাটা। যদিও একটি জায়গায় দ্বীমত পোষণ করব, আমেরিকার ট্রাম্পরা এখন পর্যন্ত বড় স্কেলে ভিন্ন মতাবলম্বীদের উপর নির্যাতন/আঘাত করতে পারে নি, কেউ করলেও বেশ দ্রুততার সাথে আইনের মুখোমুখী হতে হয়েছে। বিল মার যতই বাইবেল নিয়ে বাজে কথা বলুক না কেন, এজন্য তাকে গালি দেয়ার পাশাপাশি মাইর দিতে হবে বা কল্লা ফেলে দিতে হবে বা কেউ কল্লা ফেলে দিলে সেটা বিল মারেরই দোষ এমন কথা প্রকাশ্যে বলার মত ট্রাম্পিও অবস্থা এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি। কাজেই দুই দেশের ট্রাম্পদের চিন্তা ভাবনা একরকমের হলেও আমাদের দেশে ট্রাম্পের সংখ্যা মাত্রাতিরিক্ত বেশি, এতোই বেশি যে তাদের বিপরীতে প্রগতিশীলরা নেহায়েৎই সংখ্যালঘু এবং এই সংখ্যাগুরুরা যেকোন অপকর্ম করতে মোটামুটি স্বাধীন। তবে আপনার সাথে নিঃসন্দেহে একমত যে শাহবাগ আন্দোলন সফল হয়েছে বলেই এখন অন্তত আমরা আশাটুকু করতে পারি, নাহলে সেটাও পারতাম না।

    Reply
  4. সাইফুল

    সিম্পল গার্ল ও বয়দের বীজ যে পাকস্তান থেকে কোন জঙ্গি বাবা হতে উৎপন্ন তাতে কোন সন্দেহ নেই।কেননা যার নূন্যতম ইতিহাস চেতনা আছে সে কিভাবে একাত্তর সালে সংগঠিত যুদ্ধাপরাধকে অস্বীকার করে? আবার যারা এই অপরাধ সংগঠনের অনুঘটক তাদের পক্ষে ওকালতি করে? তাদেরকে ইসলামের সৈনিক বলে ধর্মকে ব্যবহারের হীন চেষ্টা করে। এটা নিশ্চয় পাকস্তানের বোকা হাঁদা গবেটদের জীন।

    Reply
  5. সচেতন বাংগালী

    এখন দেখা যায় যে কিছু ধর্মবিশ্বাসী মানুস জীবনের প্রয়োজনে সিডনি বা নিউইয়র্ক গিয়ে নোংরা পশ্চিমা সংস্কৃতির সাথে মিশে যায়। একসময় তারা ধর্ম থেকে দূরে সরে যায় এবং ধর্মানুসারীদের তারা বোরিং মনে করে। ধর্মানুগতদের বিরুদ্ধে দুই কলম লিখে তারা নিজেদের অনেক জ্ঞানী ভাবা শুরু করে।
    কিন্তু তারা এটা জানতে চায়না আমার লেখার সাথে বাংলাদেশের মত একটি ধর্মবিশ্বাসী মানুস কতটা একমত হতে পারে? তারা নিজেদের নোংরামি অন্যদের মাজে ছড়িয়ে দিতে চায়।

    Reply
    • মুত্তালিব

      @ সচেতন বাঙ্গালী, আরও কিছুদিন অপেক্ষা করেন, দেখুন না ট্রাম্প যদি খালি আসে, এদের হয় খ্রিষ্টান হয়ে যেতে হবে না হয় গায়ে সাদা চুন মেখে সাদায় পরিণত হতে হবে। যে প্রজন্মের এত বিশাল সংখ্যক যুবসমাজের জীবনের লক্ষ্য শুধুমাত্র “ইউরোপ আমেরিকায় গিয়ে থিতু হওয়া” তাদের কপালে ভালো কিছু থাকতে পারে না। এদের একটা শিক্ষা হওয়া উচিৎ।

      Reply
  6. রফিকুল ইসলাম

    দঃখ জনক হলে ও বাস্তব নির্মম সত্য আপনারা তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা সুশীলরা রাজনৈতিক দলের দালালী করেন ভদ্র মানুষ সেজে।

    Reply
  7. আহমেদ শরীফ

    ট্রাম্পের সাথে কাদের তুলনা করে ফেলল?! টক শো’র লোকদের সাথে ট্রাম্পের কোনদিক থেকে মিল পাওয়া গেল বুঝলাম না। লেখক নিশ্চিতভাবেই ভীতিগ্রস্ত, নয়তো ট্রাম্পের মধ্যেও দেশের প্রতিপক্ষকে দেখতে পেতেন না!

    Reply
  8. সিম্পল গার্ল

    আর শাহবাগ আন্দোলন না নাটক ছিল! পৃথিবীর কোন রাজনৈতিক ইতিহাসে সরকারী সহযোগীতায় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছিল! শাহবাগ যদি আন্দোলন হয় তাহলে তো পৃথিবীর সব ইতিহাস, দেশে আন্দোলনের সংজ্ঞাই পরিবর্তন করে দিতে হয়!

    ওই সময় রিকশার টায়ার ফোটার আওয়াজ শুনে ভয়ে পালিয়ে যেতে গিয়ে বাদাম ভাজার তেলের উপর হুমড়ি থেয়ে পড়ে, তারা করেছিল আন্দোলন?! ওই সময় যদি সবাই রাজনৈতিক সমাবেশ বা আন্দোলনের সমান সুযোগ পেত তাহলে সরকারী প্রযোজনা ও বিরিয়ানি নিয়ে আন্দোলনের নামে নাটক করা শাহবাগিদের চেয়ে কয়েক হাজার গুণ বড় সমাবেশ মাসের পর মাস জামায়াত-শিবির করতে পারতো! আন্দোলন ও নাটক এক জিনিস নয়।

    Reply
    • আফসার আলি

      বিএনপি জামাত ৭১, ৭৫ বা এখন সরকারি সহায়তা আশা করবে, এটাই স্বাভাবিক, হেফাজতের শাপলাচত্বর ঘেরাওয়ের দিন বেগম জিয়ার আহবান সত্ত্বেও ঢাকাবাসি রাস্তায় ঝাপ দেয়নি। পেট্রোল বোমা মেরে হাজার নিরীহ নাগরিক খুন করেও গনঅভ্যুত্থান ঘটাতে পারেনি। সুতরাং বাকী রইল কেবল সরকারী সহায়তা। সরকার অবশ্যই সহায়তা দেবে যদি দাবীটা হয় সরকারকে গদিতে রেখেই এমন কিছু চান আপনারা!!

      Reply
      • সিম্পল গার্ল

        সরকারী সহযোগীতা চাওয়ার কথা কোথায় বলা হয়েছে?! বলেছি, সরকারী সহযোগীতায় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয় না বরং তা হয় নাটক, যা শাহবাগিরা করেছিল। বিএনপি-জামায়াতের সরকারী প্রযোজনায় নাটক করার কি প্রয়োজন?!

        এরপর পৃথিবীর সকল ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারীরা পুলিশ-বিজিবি ইত্যাদি দিয়ে গুলি করে ভেবেছিল এই তো সবকিছুকে ঠান্ডা করে দিয়েছে। এখন ২০৪১ সাল পর্যন্ত অবৈধ ক্ষমতা রেখে দেয়া আর ঠেকায় কে! কিন্তু পৃথিবী ও বাংলাদেশের ইতিহাস সাক্ষী এসব আস্ফালন আসলে বেশী দিন চলে না। সময় যখন আসবে তখন রক্ষীবাহিনী, চাপাতিলীগ, পুলিশ কোনকিছু্ই কাজে লাগবে না। বাংলাদেশে বর্তমানে আওয়ামী লীগের যে অবস্থা তাতে পুলিশ ছাড়া আওয়ামী লীগের কোন নেতা-কর্মী নিজেদের পরিচয় পর্যন্ত দিতে সাহস করে না। এরপর ভবিষ্যৎ বুঝে নিন।

  9. নাজমুল ইসলাম

    আ,লীগের ভিতর যে রাজাকার রয়েছে
    তাদের কি বিচার হবে?সত্যিকার অর্থে কি
    দেশ এখন স্বাধীন?
    দেশ কি বিচারহীনতার শৃংখলে
    বন্দি নয়?না কি উন্নয়ন এর মুলা নাকের
    সামনে ঝুলিয়ে ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে
    দেশ।।যে অপরাজনীতির সংষ্কৃতি গড়ে
    উঠেছে আমাদের দেশে, তা থেকে আমরা কি
    মুক্তি পাব?পুলিশী রাষ্ট্র থেকে আমরা কি
    মুক্তি পাব?না কি লুণ্ঠিত হতে থাকব
    ক্ষমতাসীনদের হাতে??।।!!!!!

    Reply
  10. Ariyan Johan

    অার এই ট্রাম্পদের যদি মানুস চায়? যদি মানুস এদের ক্ষমতায়
    দেখতে চায় তখন আপনাদের মত সুশীলরা কি বলবেন?

    Reply
  11. সিম্পল গার্ল

    জামায়াত হারিয়ে যাওয়া নাম?! তাহলে তো আপনাদের এত ভয়ের কোন কারণ ছিল না। কিন্তু আসলে কি তাই?! একমাত্র জামায়াতের ভয়ে যে আওয়ামী লীগ পুলিশ-প্রশাসন ছাড়া একমূহুর্তও থাকার দুঃসাহস করছে না, সেই জামায়াত হারিয়ে গিয়েছে বলেই আপনাদের মনে হচ্ছে?! জামায়াতের ভয়ে যে আওয়ামী লীগের প্রায় সব তথাকথিত এমপি-মন্ত্রী নিজ এলাকায় যেত না, সেই জামায়াত হারিয়ে গিয়েছে?!

    তাহলে একটি সাধারণ চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন তো দেখি। পুলিশ-প্রশাসন সবকিছু সাধারণ গণতান্ত্রিক রীতিনীতি মানবে, আইনানুগ আচরণ করবে, আওয়ামী লীগ এখন যেভাবে ক্ষমতায় আছে সেভাবেই থাকবে- এরপর তথাকথিত শাহবাগিরা ও আওয়ামী মন্ত্রী-এমপি-নেতারা নিজেদের আওয়ামী ও শাহবাগি পরিচয় দেয় কিনা তা একটু পরীক্ষা করে দেখুন তো…

    Reply
    • M. Rana

      সত্যি কথা বলতে কি,
      এই ধরনের কমেন্ট গুলোর জবাব দেওয়া দুরের কথা, পড়াটাও ভুল, গুনাহ।
      জামাতের ছাতা হাতে নিয়ে এখনো দাঁড়ায়্‌? ওকালতি করা জামাতের জন্য?
      এতো পাপ, অভিশাপ।
      জোর করে দূর করতে চাইনা এই সব অভিসপ্ত জীবগুলোকে ,
      পচন ধরা জীব যেহেতু, সময়েই এর সমাধান করে দেবে –
      নিশ্চিত সেই দিন আর বেশী দূরে নয় —

      Reply
    • রায়হান রশিদ

      ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকেও আওয়ামী লীগ নিজের পরিচয় ভুলে যায়নি কিংবা পরিচয় দিতে ভয় পায়নি। গ্রেনেড, গুলি খেয়েও আওয়ামী লীগ গর্তে ঢুকে যায়নি। তখন কিন্তু পুলিশ প্রশাসন সবই জামাত-বিনপিএর হাতেই ছিল।আর চ্যালেঞ্জ এর কথা বলছেন! কার চ্যালেঞ্জ গ্রহন করব? যারা একরাতের লগি বৈঠার মিছিল হজম করতে পারেনি, যারা দুইটা লাঠির আঘাত খেয়ে গর্তে ঢুকে যায়! যারা মানুষকে নপুংশকের মত পেছন থেকে আক্রমন করে সামনে থেকে নয়! যারা সরকারকে ৭২ ঘণ্টার সময় দিয়ে ১৭ ঘণ্টার মাথায় নিজেরাই লেজ তুলে পালায়! এমনকি যারা নিজেদের নামটা পর্যন্ত প্রকাশ করার সাহস রাখে না, নিজেকে একটা মেয়ে বলে পরিচয় দিতে নিরাপদ বোধ করে তাদের কাছ থেকে শেষ পর্যন্ত চ্যালেঞ্জ শব্দটা শোণতে কেমন যেন বেমানান আর হাস্যকর লাগে।

      Reply
      • সিম্পল গার্ল

        ১। আসলে রাজনীতির ইতিহাস জানলে কেউ বলতে পারে না ক্ষমতায় না থাকলে কোন দল হারিয়ে যায়। বরং ইতিহাস বলছে ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণেই রাজনৈতিক দল হারিয়ে যায়। সেটাই সারাবিশ্বের ইতিহাস। ক্ষমতার অপব্যবহার বঙ্গবন্ধু ও তার দল ১৯৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত করেছিল, রক্ষীবাহিনী, লালবাহিনী, নীলবাহিনী কত কিছু দিয়ে জনগণ ও বিরোধী মতকে দমন করতে চেয়েছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরিণতি ঠেকাতে পারেনি। তার পরিণতি ছিল ২১ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা। শেখ মুজিব করেছিল। এরপর দীর্ঘ পথ চলার পর যখনই আবার ক্ষমতা পেলো তখন সেই আগের একদলীয় ও ফ্যাসিবাদী চরিত্র আওয়ামী লীগ আবার দেখাতে শুরু করলো। এসবের পরিণতি স্বয়ং বঙ্গবন্ধুকেই তাজউদ্দীন সহ আরো কেউ কেউ সতর্ক করেছিল। কিন্তু মোসাহেব বেষ্টিত শেখ মুজিব তা বুঝার চেষ্ঠা করেনি। বর্তমানে শেখ হাসিনাও সেই ধরনের মোসাহেব বেষ্টিত হয়ে আছে।

        ২। এরপর লেজ তুলে পালানো না পালানো ধরনের বাক্য ব্যবহারও ইতিহাস না জানার ফল। ৬৬ সালে ৬ দফা দেয়ার পর ৬৮ পর্যন্ত আইয়ুবের দমন নীপিড়নের মুখে আন্দোলন তো দূরে আওয়ামী লীগ অফিসে বাতি জ্বালানোর জন্য এক আমেনা বেগম ছাড়া আর কাউকেই পাওয়া যায়নি। ৬৮ সালে যখন পুরো পাকিস্তান জুড়ে আইয়ুবের উন্নয়নের দশক উদযাপন চলছিল তখন কেউ বুঝতেই পারেনি ৬৯এ এসে লৌহমানব আইয়ুবের এধরনের পতন হবে। বঙ্গবন্ধুর পতনও যখন হয় তখন প্রথমে কেউ তা বিশ্বাসই করতে পারেনি এমনই প্রতাপশালী ছিল বঙ্গবন্ধু। তাই পালানো না পালানো এসব কোন বিষয়ই নয়। পতন যখন আসবে তখন তা কোন দিক থেকে আসবে তা কেউই বলতে পারে না।

        ৩। রাজনৈতিক কথা বলার কারণে আরো কয়েকজন প্রশ্ন তুলেছিল এবং অবাক হয়েছিল, মেয়েরা কিভাবে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে মন্তব্য করে। তখন বলেছিলাম, গত ৩৫ বছর ধরে বাংলাদেশের পুরো রাজনীতি ঘুরপাক খাচ্ছে দুই জন নারীকে ঘিরে। তাদের কথার বিপরীতি জ্বি-জ্বি করা ছাড়া ভিন্ন একটি শব্দ ব্যবহার করার মতো একজন পুরুষও তৈরি হলো না তিন যুগ ধরে। এরপরও এদেশের পুরুষরা আশ্চর্য হয়ে যায় যখন দেখে কোন নারী রাজনীতি নিয়ে কথা বললে। কি হাস্যকর ব্যপার…

    • রফিকুল হাসান খান

      হে সিম্পল গার্ল!
      বিএনপি জামাত কতটুকু গণতন্ত্র দিয়েছিল যে তারা এখন “সবকিছু সাধারণ গণতান্ত্রিক রীতিনীতি”(আপনার ভাষায়) আশা করতে পারে?

      ৭১’এ পাক বাহিনীর সুসজ্জিত অস্ত্র নিয়ে নিরীহ ঘুমন্ত বাঙ্গালীদের উপর হামলা করা, খুন-ধর্ষন করা, ৭৫’এ ৫ বছর প্রতিরাতে ঢাকা শহরে কারফিউ দিয়ে রাখা, খুনের সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের রাজনীতিতে নামিয়ে দেয়া, দলীয় লোকদের প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান বানানো, হাওয়া ভবনে বসে সন্ত্রাসীদের মদদ দেয়া, দিনে-দুপুরে প্রকাশ্য জনসভায় আহসানুল্লাহ মাস্টার, শাহ এস এ এম এস কিবরিয়া, আইভি রহমানের মত শান্তিপ্রিয় রাজনীতিবিদসহ অজস্র আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীকে বোমা মেরে বা গুলি করে হত্যা — এই ধরনের দৃষ্টান্ত সৃষ্টিকারীরা আজ বেকায়দায় পড়ে “সবকিছু সাধারণ গণতান্ত্রিক রীতিনীতি” চান।

      আগে সব হত্যা-ধর্ষন- পেট্রোল বোমাবাজির বিচার শেষ করে তারপরই কেবল খুনী-বদমাশ-ধর্মব্যবসায়ীদের জন্য রাজনৈতিক অধিকার দেয়ার প্রশ্ন আসতে পারে, অন্যথায় নিরীহ মানুষের নিরাপত্তা দেবে কে?

      Reply
      • সিম্পল গার্ল

        আওয়ামী লীগের কাছে তো গণতান্ত্রিক রীতিনীতি বা আচরণ চাই তা তো বলিনি। বলেছি আওয়ামী লীগ এমনই ফ্যাসিবাদী আচরণ জনগণের উপর করে চলেছে তাতে আওয়ামীবিরোধী জনমত এমন পর্যায়ে আছে এরপর যদি মিনিমাম গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও রীতিনীতি যদি আইনশৃংখলা বাহিনী বা এদেশের অন্যান্য বাহিনীগুলো মেনে চলতো তাহলে আওয়ামীরা আস্ফালন তো দূরে বরং এমনভাবে লুকিয়ে যেত যেন আওয়ামী লীগ করা তো দূরে যেন কোনদিন আওয়ামী নামটিই শুনেনি! এ ধরনের উদাহরণ তো খোদ আওয়ামী লীগেই আছে। ’৭৫ এর পর যাদের দাপটে পুরো দেশ কম্পমান ছিল সেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ঢাকা শহর না হোক কোন অজপাড়া গায়েও একটি জানাজাও বঙ্গবন্ধুর জন্য আয়োজন করেনি!
        শেখ হাসিনার সরকারই এদেশের শেষ সরকার নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—