Feature Img

Ratan-fবিডিনিউজটোয়েন্টিফোর-এ ফাহাম আব্দুস সালাম সম্প্রতি একটি লেখায় বলেছেন, ইংরেজিতে বিজ্ঞান পড়া উচিত তো বটেই এমনকি তা বুঝতেও শেখা উচিত ইংরেজিতে। বাংলায় বিজ্ঞান বইয়ের অনুবাদ নাকি জ্ঞানের ইতরীকরণ! বিজ্ঞান বাংলায় অনুবাদ করা কীরকম অসম্ভব সেটা বোঝাতে লেখক একটি গবেষণা প্রবন্ধের ‘অ্যাবস্ট্রাক্ট’ দিয়েছেন এবং পরিভাষাগুলো বাদ রেখে হলেও সেটার অনুবাদ করে দেখতে বলেছেন। আমি নিজে ইংরেজি কাজ চালানোর মতো জানি। পারতপক্ষে বলি না, লিখিও না। আমার কাছে ইংরেজির তেষ্টা মেটানো গরম পানি পান করার মতো। তাতে জীবন বাঁচে, কিন্তু তৃপ্তি হয় না। ইংরেজি ভালো না জানলেও আমি বিজ্ঞানের ছাত্র বলে লেখকের দেয়া অ্যাবসট্রাক্টটি বুঝতে পারলাম। অন্তত আমার তাই মনে হল। তারপরও নিশ্চিত হওয়ার জন্যে একজন বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করলাম যার মাতৃভাষা ইংরেজি। তাকে লেখকের দেয়া অ্যাবস্ট্রাক্টের প্রথম অংশটি দিলাম। সেটি এরকম:

The cytokines interleukin-3 (IL-3), interleukin-5 (IL-5), and granulocyte-macrophage colony stimulating factor (GM-CSF) exhibit overlapping activities in the regulation of hematopoietic cells. All these cytokines signal via a specific alpha receptor () and the shared human beta common subunit (hβc). This thesis explores IL-3 and GM-CSF receptor binding and activation mechanisms.

অ্যাবসট্রাক্টটি পড়ে আমার বন্ধুর চেহারাটি হয়েছিল দেখার মতো! প্রতিক্রিয়ায় সে আমাকে যা বলেছিল সেটি কেবল বন্ধুদেরকেই বলা যায়। ভদ্রমহলে তার একটা অনুবাদ করতে পারি কেবল। আমার বন্ধুটি বলল, “ক্ষেপেছ নাকি! এটি কীসের ঘণ্ট! আমি কীভাবে এই জিনিস বুঝবো! তোমার কী মাথা খারাপ হয়েছে…!’ তখন আমি তাকে আমার ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে বোঝানোর চেষ্টা করলাম, বুঝলে হে, পরিবেশে যতো ক্ষতিকর জীবাণু কিলবিল করে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের শরীরে থাকে রক্ষীকোষ। তারা নানা উপায়ে জীবাণুদের ঘায়েল করে। রক্ষীকোষ অনেক রকমের হতে পারে। তাদের মধ্যে একটা হচ্ছে ম্যাক্রোফেজ। এই ম্যাক্রোফেজরা কী করে জানো? তাদের কাজ জীবাণুদের ধরে ধরে খেয়ে ফেলা আর শরীরের অন্য যেসব বিশেষ রক্ষীকোষ আছে তাদেরকে সংকেত দেয়া। শরীরের রক্ষীকোষদের মধ্যে একটা দল আছে যাদের বলে গ্রানিউলোসাইট। গ্রানিউল মানেতো জানই, ওই গুঁড়ো গুঁড়ো অথবা দানাদার জিনিস। আর সাইট এসেছে সাইটো শব্দটা থেকে যার মানে হলো গিয়ে কোষ। সব মিলিয়ে এরা হচ্ছে সেই কোষ যাদের মধ্যে দানাদার বস্তু থাকে। এইসব কোষেরা বিশেষ ধরনের বিষ দিয়ে শরীরে অণুপ্রবেশ করা জীবাণুকে মারতে পারে।

আজকাল যে হর-হামেশা ‘স্টেম সেল’-এর নাম শোন, তারা কী জানো? ‘স্টেম সেল’ মানে স্টেম কোষ; ‘স্টেম কোষ’ হলো শরীরে অনেক প্রয়োজনীয় কোষের প্রাচীন অবস্থা। মানে হলো, ধরো তুমি যেমন ময়দার কাই বা খামির দিয়ে রুটিও বানাতে পারো বিস্কুটও বানাতে পারো, সেরকম। ‘স্টেম সেল’ নিজে সংখ্যায় বৃদ্ধি পেয়ে আরো ‘স্টেম সেল’ যেমন বানাতে পারে তেমনি অন্য অনেক ধরনের কোষও বানাতে পারে। যেসব ‘স্টেম সেল’ পরবর্তীতে ‘ম্যাক্রোফেজ’ অথবা ‘গ্রানিউলোসাইট’দের মতো শরীরের রক্ষীকোষ তৈরি করে তাদেরকে বলে ‘হেমাটোপোয়েটিক স্টেম সেল’ অথবা ‘হেমাটোপোয়েটিক’ কোষ। ‘স্টেম সেল’ বৃদ্ধি পেয়ে অন্য কোন ধরনের বিশেষ কোষে রূপান্তরিত হবে সেটা নির্ভর করে এসব কোষ কী ধরনের সংকেত পাচ্ছে তার উপর। কোষেরা সংকেত পায় কীভাবে জানো তো? কোষেরা সংকেত পায় বিভিন্ন রকমের প্রোটিন কণা দিয়ে। এসব সংকেত দেয়ার প্রোটিন কণাকে বলে ‘সাইটোকাইন’। ‘সাইটো’ মানে ‘কোষ’, আর ‘কাইন’ এসেছে ‘কাইনোস’ থেকে যার মানে ‘গতি’। এসব কিন্তু গ্রীক শব্দ, তোমরা ইংরেজরা নিজের বলে চালাচ্ছ এখন! সে যাকগে, যা বলছিলাম, এই অ্যাবসট্রাক্ট-এ যে লেখা ‘ইন্টারলিউকিন-৩’ (আইএল-৩), ‘ইন্টারলিউকিন-৫’ (আইএল-৫) আর ‘গ্রানিউলোসাইট-ম্যাক্রোফেজ কলোনি স্টিমুলেটিং ফ্যাক্টর’ (জিএম-সিএসএফ)–এসবই হলো একেক ধরনের কোষকে সংকেত দেয়ার প্রোটিন মানে ‘সাইটোকাইন’।

এখন পড়ে দেখ তো, অ্যাবস্ট্রাক্টের প্রথম লাইনটা খুব বিস্তারিত না হলেও খানিকটা বুঝতে পারো কিনা! আমি তো স্পষ্ট বুঝতে পারছি, এতে বলছে, , “‘আইএল-৩’, ‘আইএল-৫’ এবং ‘জিএম-সিএসএফ’ নামের এই তিনটি ‘সাইটোকাইন’ ‘হেমাটোপোয়েটিক স্টেম সেল’কে তার বৃদ্ধি অথবা ভবিষ্যৎ নির্ধারণে যে সংকেত দেয়, সেই সংকেত দেয়ার প্রক্রিয়ায় খানিকটা মিল রয়েছে।” এখন তোমার যদি এই বিষয়ে আগ্রহ থাকে তাহলে পুরো প্রবন্ধটা পড়ে বিস্তারিত জেনে নিতে পার। এতো কিছু বুঝিয়ে বলার পরেও অবশ্য আমার বন্ধুটি খুব খুশি হতে পারেনি। কারণ সে বিজ্ঞানের ছাত্র নয়। বিজ্ঞানের প্রাথমিক জ্ঞান তার নেই। নিজে ইংরেজিভাষী হলেও ‘সাইটোকাইন’, ‘ইন্টারলিউকিন’, ‘গ্রানিউলোসাইট’ অথবা ‘ম্যাক্রোফেজ’-এর মতো শব্দ তার পরিচিত নয়। এক লাইনে বুঝিয়ে বললেও সে এসব খুব বিস্তারিত জানবে না। একটি গবেষণা প্রবন্ধের একটি লাইনের আসল মানে কী, তার তাৎপর্য কতটুকু সেটা সে সহজে বুঝে উঠতে পারবে না। সেটি বুঝে উঠতে তাকে নির্দিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত পড়াশোনা করতে হবে। অন্য বিষয়ের ছাত্র হলে তো দূরের ব্যাপার, একজন ইমিউনোলজি অথবা রোগপ্রতিরোধবিদ্যার ছাত্রও তো তার পড়াশোনার প্রথম অথবা মধ্যভাগে এই গবেষণা প্রবন্ধটি ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারবে না! আমরা কী একটি ষষ্ঠ শেণীর শিক্ষার্থীকে জীবনানন্দ দাশের ‘আট বছর আগের একদিন’ কবিতাটিতে কবি কী বলতে চেয়েছেন সেটি জিজ্ঞাসা করব? সে নিজে বাংলাভাষী হলেও সেই কবিতাটি বুঝে ওঠার জন্য তার যথেষ্ট বেড়ে ওঠার প্রয়োজন রয়েছে!

একটি গবেষণাপ্রবন্ধ নিয়ে ইংরেজ বন্ধুকে পড়ানোর ফলাফলটি এখানে বলার উদ্দেশ্য পাঠকদেরকে জানানো যে, বিজ্ঞানের ভাষা ইংরেজি নয়। সেরকম হলে ইংরেজমাত্রই বিজ্ঞানের গবেষণা প্রবন্ধ পড়ে তার তাৎপর্য বুঝে ফেলত! ফাহাম আব্দুস সালামের আরেকটি কথাতে দ্বিমত রয়েছে আমার। লেখক বলেছেন, গবেষণা প্রবন্ধের অ্যাবসট্রাক্ট সাধারণ বিজ্ঞান পাঠকদের জন্য লেখা হয়। আসলে ব্যাপারটা সেরকম নয়, এটি লেখা হয় পুরো প্রবন্ধটিকে কী বলা হয়েছে তা আগ্রহীদেরকে ঝট করে বলে দেয়ার জন্য । এটা সবার জন্য নয়, বরং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষার্থী, গবেষক এবং সেই বিষয়ে কাজ করছেন এমন প্রতিষ্ঠানের জন্য। এই সময়ের বিজ্ঞান প্রবন্ধ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যথেষ্ট জানাশোনা না থাকলে কেউ বুঝতে পারবেন না। না পারাটাই স্বাভাবিক। সাধারণ বিজ্ঞান পাঠক যারা বিজ্ঞানে কৌতুহলী, তাদের জন্য সব ভাষাতেই সহজবোধ্য বিজ্ঞানের বই লেখা হয়। বাংলায় অনেক কম লেখা হয়, ইংরেজিতে লেখা হয় হাজারগুণে বেশি।

ফাহাম আব্দুস সালাম বলতে চাইলেন, বিজ্ঞানের পরিভাষা বাদ দিয়েও, এমনকি বিশেষ্য বিশেষণ অথবা ক্রিয়া পদগুলোর বাংলা করাও সহজ নয়! বিজ্ঞান বুঝতেও হবে ইংরেজিতে, চিন্তাও করতে হবে ইংরেজিতে! তিনি তাঁর লেখায় দু’জন বৈজ্ঞানিকের কথা বলেছেন যাঁরা তাঁদের প্রথম শেখা ভাষা না হলেও বিজ্ঞান বোঝেন ইংরেজিতে। অথচ, দীর্ঘদিন ধরে জার্মানিতে আছি বলে এবং বিজ্ঞানের ছাত্র হবার সুবাদে আমি অসংখ্য ছাত্র শিক্ষককে দেখেছি যাঁরা বিজ্ঞান পড়েছেন, বুঝেছেন, সাধনা করেছেন তাঁদের নিজেদের ভাষায়। এমনকি এখনো জার্মানিতে ইংরেজিতে বিজ্ঞান পড়ানো হয় খুব কম ক্ষেত্রেই। যেসব বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে কাজ করে তারা কেবল ভাষা হিসেবে ইংরেজি ব্যবহার করে। বিজ্ঞানের খবর রাখেন এমন কেউ বলতে পারবে না নিজের ভাষায় বিজ্ঞান শিখে জার্মানি পিছিয়ে রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনে আমার সুযোগ হয়েছে বেশ কয়েকজন জার্মান বৈজ্ঞানিকের সংস্পর্শে আসার, তাঁরা কেউ নোবেল বিজয়ী নন বটে কিন্তু বিজ্ঞানী হিসেবে তাঁরা প্রথম সারির। নিজেদের বিষয়ে তাঁরা সবার সেরা, সবার উপরের। এঁদের অনেকেই খুব ভালো ইংরেজি বলতে পারেন না। কিন্তু সেটা জানাতে এই লেখাটি লিখছি না। আমি বলতে চাইছি বিজ্ঞানের ভাষা ইংরেজি তো নয়ই, বিজ্ঞানীর ভাষাও ইংরেজি হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। বিজ্ঞানের শব্দ মাত্রও ইংরেজি নয়। বিজ্ঞানের পরিভাষাও ইংরেজি নয়। গ্রীক, ল্যাটিন, জার্মান, সব ভাষারই অংশ আছে তাতে। এবারে যে ‘টল লাইক রিসেপ্টর’ সম্পর্কিত গবেষণার জন্যে চিকিৎসায় নোবেল পুরষ্কার দেয়া হল, সেই ‘টল’ শব্দটি জার্মান!

যে দু’জন বৈজ্ঞানিকের কথা ফাহাম আব্দুস সালাম বলেছেন তাঁরা নিঃসন্দেহে পূজনীয়। তাঁদের প্রতি যথেষ্ট সন্মান জানিয়েই বলছি, মানুষের ভাষা এবং চিন্তা করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁদের মতামতের চাইতে আমি একজন মনোবিজ্ঞানীর মতামতকে বেশি গুরুত্ব দেব। মানুষের চিন্তা করার প্রক্রিয়াটি খানিকটা জানতে চেষ্টা করেছি স্টিভেন পিন্কারের কাছ থেকে। আগ্রহী পাঠককে জানিয়ে রাখি, পিন্কার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যলয়ের মনোবিজ্ঞানের প্রফেসর। তিনি গবেষণা করেন ভাষা এবং ভাষামনোস্তত্ত্ব বিষয়ে। ভাষামনোস্তত্ত্ব বিষয়ক তাঁর গবেষণা এবং লেখা বইয়ের জন্য তিনি বিখ্যাত।

পিন্কার বলেন (ভাবানুবাদ করছি), আমরা যখন শব্দ মিলিয়ে বাক্য তৈরি করি তখন আসলে অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধারণা অথবা বোধ মিলিয়ে একটা পূর্ণ ছবি আঁকার চেষ্টা করি। যে ছবিটি আমাদের বক্তব্য ধারন করে। আমাদের বক্তব্য শ্রোতার মস্তিস্কেও সেই একই ছবি তৈরি করে। এই যে আমরা অসংখ্য ধারণা বা বোধের হিসেব মিলিয়ে একটা পূর্ণাঙ্গ ছবি এঁকে একেকটি বাক্য তৈরি করি, সেটা আমরা করি আমাদের অবচেতন মনে সচেতন কোনো বাড়তি চেষ্টা ছাড়াই। এরকম অসংখ্য ধারণা বা বোধ মিলিয়ে ভাষা বুঝতে পারার এই প্রক্রিয়াই হচ্ছে চিন্তার ভাষা। স্থান, সময়, বিষয়, কারণ, মানসিকতা, পরিপ্রেক্ষিত ইত্যাদির মতো খুব প্রাথমিক ধারণা বা বোধগুলোই চিন্তার ভিত্তি তৈরি করে।

মনোবিজ্ঞানের কেতাবি হিসেব বাদ দিলেও একটি সহজ ব্যাপার বুঝতে চেষ্টা করতে পারি আমরা। ধরা যাক, আমাদের ভাষা আমরা কীভাবে পাই? ভাষা কী? মানুষের ভাষা (মৌখিক ভাষার কথা বলছি) হচ্ছে, কেউ তার ভাবনা, তার ধারণাকে কিছু শব্দ দিয়ে জানায় অন্য কাউকে। সেই ‘অন্য কেউ’ প্রথম ব্যক্তির বলা শব্দগুলোকে (অবচেতনভাবে) বিশ্লেষণ করে তার ভাবনাটি বুঝতে পারে (ভাষার সংগায় এই কথাটি পিন্কারও বলেছেন)। সেইজন্যে শব্দ করলেই তা ভাষা হয়না। সেই শব্দটি যদি শ্রোতার মনে একটি নির্দিষ্ট ভাবনা/বোধের জন্ম না দেয় তাহলে সেটা ভাষা নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, শব্দের সঙ্গে ভাবনা বা বোধ মেলানোর এই ক্ষমতাটি আমরা কোথায় পাই? কোন শব্দ কোন বোধকে প্রকাশ করে তা আমরা কীভাবে বুঝতে পারি? এইখানেই মাতৃভাষা অথবা ফাহাম আব্দুস সালামের কথামতো ভাষাপ্রেমের অকেজো আবেগ দূরে রেখে বলি, ‘প্রথম শেখা ভাষা’র গুরুত্ব। একটি শিশু তার পরিবেশ থেকে তার প্রথম শেখা ভাষার শব্দগুলোর সঙ্গে অবচেতন মনে একটা ছবি আঁকতে শেখে। একেকটি পরিস্থিতি পরিবেশ পরিপ্রেক্ষিতের সঙ্গে সম্পর্কিত শব্দগুলোকে বিশ্লেষণ করে চিন্তার ভাষা তৈরি করতে শেখে। একটা বাঙালি শিশুকে সেজন্য ‘ম্যাঙ্গো’ কী জিনিস তা বোঝাতে ‘আম’ বললেই হয়। অথবা যে কখনো আম দেখেনি তাকে যদি বলা হয় ‘আম এক ধরনের ফল’। তাহলে সে বুঝতে পারে। কারণ তার ভেতরে ‘এক’ শব্দটির ধারণা রয়েছে, রয়েছে “ধরন’ এবং “ফল’ শব্দটিরও ধারণা। এই শব্দগুলো মিলিয়ে সে তার অবচেতন মনে একটা ছবি আঁকতে পারে। সেই ছবি আঁকার প্রক্রিয়াটি সে শিখেছে তার পরিবেশ থেকে। একেবারে শিশুকাল থেকে একেকটি শব্দ, আর ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে মিলিয়ে তার মস্তিস্ক জেনেছে কোন শব্দের কী মানে, কোন শব্দ দিয়ে কোন ধারণা প্রকাশ হয়। সেই জন্যে মানুষ পরিস্থিতির সঙ্গে শব্দকে মিলিয়েও ভাষার ভাবোদ্ধার করে। সেই জন্যে মানুষ বিভিন্ন শব্দকে মিলিয়ে সব রকমের ধারণার প্রকাশ করতে পারে। সভ্য মানুষের একটি পূর্ণাঙ্গ ভাষার ক্ষমতাও এখানে; ভাষা অল্প কিছু শব্দ দিয়েই অসীম ভাব প্রকাশ করতে পারে।

যে শিশুটি বাংলা ভাষার সঙ্গে মিলিয়ে তার ভাবনা তার ধারণাকে প্রকাশ করতে এবং বুঝতে শিখেছে তাকে তাই ইংরেজি শেখাতে গেলে বলে দিতে হয়, ‘ম্যাঙ্গো’ মানে ‘আম’। সে আম না চিনলে তাকে বলে দিলেই হয়, ‘আম হচ্ছে এক ধরনের ফল’। তাকে কখনো বলে দিতে হয়না, ‘এক’ শব্দটি থেকে কী ধারণা পেতে হবে, ‘ফল’ শব্দটি থেকেই বা কী ধারণা পেতে হবে! শেখার মাধ্যম তাই যে ভাষাই হোক, চিন্তার মাধ্যম সবসময়েই মাতৃভাষা বা আরও সঠিকভাবে বললে প্রথম ভাষা । যে জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কেউ তার প্রথম ভাষা আয়ত্ত করতে শেখে সেই প্রক্রিয়াটির পুনরাবৃত্তি করে কাউকে অন্য একটি ভাষায় চিন্তা করতে শেখানো কেবল অবৈজ্ঞানিক নয়, অসম্ভবও। অনেকে বাংলাভাষী হয়েও হয়তো দাবী করতে পারেন তাঁরা ইংরেজিতে ভাবেন। আমি তাঁদেরকে তাঁদের ভাবনার ভাষা চেনাতে চাইছি না। সেই দায় আমার নয়। আমি কেবল পাঠকদের বলে রাখি, চিন্তা করার ভাষা ব্যাপারটি অনৈচ্ছিক, সেটি ব্যবহার করা এবং বুঝতে পারা অবচেতন মনের কাজ। অবচেতন মন সেই কাজটি করতে শেখে একেবারে শিশুবেলায়, অনেক টানাপোড়েন সামলে তারপর। কেউ সচেতনভাবে ঠিক করে দেন না তিনি কোন ভাষায় ভাববেন।

একজন ইংরেজ যখন বিজ্ঞান শেখে সে তখন তার মাতৃভাষায় কল্পনা অথবা চিন্তার দারুণ ক্ষমতাকে ব্যবহার করেই বিজ্ঞানের তত্ত্ব অথবা পরিভাষা বুঝতে পারে। একটি বাঙালি শিশু যখন ইংরেজি শেখে সে তখন তার মাতৃভাষাতেই ইংরেজি শেখে। সেই বাঙালি শিশুটিকে যদি ইংরেজিতে বিজ্ঞান পড়তে দেয়া হয় তাহলে সে ইংরেজিতে পড়বে ঠিকই কিন্তু সেটার অনুবাদ করে নেবে বাংলায় এবং বাংলায় অনুবাদ করার পরেই সে বুঝতে পারবে সেই বিজ্ঞানের তাৎপর্য। সে যদি ইংরেজিতে বিজ্ঞান পড়ে বুঝতে দারুণ অভ্যস্থ হয়ে যায় তখন ওই অনুবাদের কাজটি সে করবে অবচেতন মনে। কখনো কখনো তখন তার মনে হতে পারে সে ইংরেজিতে বুঝতে পারছে! অনেক ইংরেজি অথবা বিদেশী শব্দের পরিভাষা বাংলায় নেই। এরকম শব্দ আমরা ব্যাখ্যা করে বুঝি। ব্যাখ্যাটি কিন্তু বাংলাতেই হতে হয়! জার্মানরা খাওয়ার আগে পরিচিত জনকে বলে ‘গুটেন আপেটিট’। তার মানে, ‘তোমার খাওয়া ভালো হোক’ অথবা ‘ভালো মতো খাও’। বাংলায় যেমন সকালে সুপ্রভাত বলে শুভেচ্ছা জানানোর নিয়ম, যার মানে ‘তোমার সকাল শুভ হোক’। জার্মানরা সেরকম শুভেচ্ছা খাওয়ার আগেও জানায়। খাওয়ার আগে শুভেচ্ছা জানাতে তারা বলে ‘গুটেন আপেটিট’। এটা তাদের সংস্কৃতি। প্রিয় পাঠক আমার মনে হয়, ‘গুটেন আপেটিট’ জাতীয় শব্দমালা এমনকি এই সংস্কৃতি বাংলাতে না থাকলেও এই শব্দ দুটির অর্থ, ব্যবহার এবং তাৎপর্য বুঝতে আপনাদের কারো জার্মান শিখে জার্মান ভাষায় ভাবতে হয়নি!

সচেতন মনে অনেকেই বাংলা শব্দের সঙ্গে মিলিয়ে অনেক ইংরেজি শব্দের অর্থ করতে পারেন না। প্রয়োজনীয় ছবি আঁকতে পারেন না। অনেকের ধারণা তাঁরা সেই কাজটি করেন ইংরেজিতে। সেটি অনেকের ক্ষেত্রে তাঁদের দাবী অনুয়ায়ী সত্য হতে পারে, সেই তর্কে যাবো না। তাঁদের দাবীই মেনে নিলাম। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠের জন্য এটা সত্য নয়। যেসব শব্দের বাংলা প্রতিশব্দ নেই, যেসব আচরণের প্রতিরূপ বাংলা সংস্কৃতিতে নেই সেসবও বাঙালিরা বাংলাতেই বোঝেন। কেবল প্রথমবার সেটার ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হয়।

বাংলাভাষী শিশুরা অথবা বাংলাভাষী বাবা মায়ের সন্তানরা শিশুকাল থেকেই দেশের বাইরে বেড়ে উঠলে সেই পরিবেশের প্রভাবেই তারা অন্য ভাষায় ভাবতে শেখে। কিন্তু একেবারে শিশুকাল থেকেই ভিন্নভাষী পরিবেশে না থাকলে তার ভিন্ন ভাষা আয়ত্ব করার মাধ্যমটিও বাংলা-ই রয়ে যায়। যে কথাটি প্রথমে বলতে চেয়েছিলাম, একটি শিশু যদি জন্মগত ভাবে ইংরেজিভাষীও হয়, তাহলেও বিজ্ঞান বুঝতে তাকে বিজ্ঞানের পরিভাষা নয়, নির্ভর করতে হয় তার মাতৃভাষা ইংরেজিটুকুতেই। যে ইংরেজি তাকে তার অবচেতন মনে একটি বোধগম্য ছবি আঁকতে শেখায়। সেই ভাষাতেই সে বিজ্ঞানের পরিভাষাকে অনুবাদ করে। সবাই তার নিজের মাতৃভাষাতেই বিজ্ঞানকে অনুবাদ করে নিয়ে তারপর বোঝে। বিজ্ঞানের পরিভাষা কারো মাতৃভাষা নয়! বিজ্ঞানের পরিভাষা অনুবাদের ভালো দিকটিও এখানে। রেডিওঅ্যাক্টিভিটি শব্দটির বাংলা তেজস্ক্রিয়তা। এটি একটি তৈরি করা শব্দ। আমার ভুল না হলে এই শব্দটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের তৈরি। এতো চমৎকার অনুবাদ কিন্তু আরো অনেক বৈজ্ঞানিক পরিভাষারও হতে পারে। পরিভাষা মানেই কেন অবোধ্য আর খটোমটো হতে হবে! পরিভাষা তো অর্থবহও হতে পারে। শ্বেতকণিকা শব্দটি কি হাস্যকর? অথবা লোহিত কণিকা? এগুলোও তো বৈজ্ঞানিক পরিভাষা। সব বৈজ্ঞানিক শব্দের বাংলা হতে হবে তাও তো নয়! অনেক বৈজ্ঞানিক শব্দই বাংলায় দারুণ মানিয়ে যায়! কিন্তু বাঙালির মনের ভেতরে একটা অর্থবহ ছবি আঁকতে যদি বাংলা বৈজ্ঞানিক পরিভাষার প্রয়োজন হয়, তাহলে সেটা আমরা করব না কেন! আরেকটি কথা বলা প্রয়োজন, বৈজ্ঞানিক পরিভাষা কিন্তু ইংরেজিতেও খুব দারুণ দারুণ সব শব্দ নয়। অনেকক্ষেত্রেই সেসব অবোধ্য আর হাস্যকর। কিন্তু সেগুলো বিজ্ঞানের প্রয়োজনে এসেছে, সেটা গ্রহণ করবার মানসিকতাও তাদের রয়েছে। কেউ যদি গ্রহণযোগ্য বাংলা বৈজ্ঞানিক পরিভাষাকে হাস্যকর আর উদ্ভট বলে তাহলে তাকে মৌলবাদী বলা ছাড়া আর উপায় নেই! তার অন্ধ ইংরেজভক্তি দুধে ধুলেও যাবে না! আর তাছাড়া বৈজ্ঞানিক শব্দমাত্রই কিন্তু ইংরেজি ভাষার শব্দ নয়। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীমাত্রই জানেন বিজ্ঞানে নিত্য নতুন পরিভাষা যোগ হয়। যিনি কোনো নতুন আবিষ্কার করেন অথবা তত্ত্ব উত্থাপন করেন তিনিই সেটার ব্যাখ্যা দেন এবং প্রয়োজনীয় পরিভাষাটি প্রস্তাব করেন। বৈজ্ঞানিক পরিভাষা তাই ইংরেজরাও মায়ের মুখ থেকে শেখে না।

ফাহাম আব্দুস সালাম বলছেন “প্রশ্ন হলো যে ভাষায় আপনি অনুশীলন করছেন সে ভাষার এমন সক্ষমতা আছে কি না যে সে ধারণ করবে প্রয়োজনীয় কনসেপ্টগুলো, ভাষাটি আপনার প্রথম না দ্বিতীয় সেটা খুব বড় বিষয় না। খুব ভালো হোতো যদি বাংলা ভাষার এই ক্ষমতা থাকতো, কিন্তু বাস্তবতা হোলো সে ক্ষমতা আমাদের নেই।” এই বাক্যটিতে তীব্র আপত্তি রয়েছে আমার। একটি জাতির ভাষায় কোনো ধারণা বোঝার অথবা বুঝিয়ে বলার সামর্থ নেই মানে সেই জাতি ওই ধারণাটিই গ্রহন করতে পারে না। তাদের মস্তিস্ক ওই ভাবনার জন্য উপযুক্ত নয়! লেখক ভাষা এবং চিন্তা সম্পর্কে খুব না জেনেই বলেছেন বলে সন্দেহ হয়। বাংলা পৃথিবীর সমৃদ্ধ ভাষাগুলোর একটি। অসীম ধারণা প্রকাশ করতে যতোটা বিবর্তনের প্রয়োজন হয় বাংলার তা হয়েছে। লেখকের শব্দভাণ্ডারে যথেষ্ট শব্দ না থাকতে পারে, মাতৃভাষার ব্যবহারে লেখকের মন বাংলা শব্দকে সবরকম ধারণায় বদলে নেয়ার জন্য তৈরি অথবা অভ্যস্থ নাহয়ে থাকতে পারে, কিন্তু তার মানে বাঙালি এবং বাংলা চিন্তাশক্তিতে দুর্বল বলে মেনে নিচ্ছি না। ভাষা বিবর্তনের সেরা ফসলগুলোর একটি। তুলনামূলক কম বিবর্তিত প্রাণীদেরই ভাষা (ভাব প্রকাশের ব্যপ্তির হিসেবে) দুর্বল হয়! কম বিবর্তিত ভাষাই যথেষ্ট ভাব প্রকাশ করার অযোগ্য হয়!

বাংলায় বিজ্ঞান চর্চা হচ্ছে তো নিশ্চয়ই। যতো বাঙালি বিজ্ঞানের চর্চা করছেন সব বাংলাতেই হচ্ছে। তাঁরা পড়ছেন হয়তো ইংরেজিতে কিন্তু ভাবছেন বাংলায়। বিজ্ঞান কোনো জাতির জন্য নির্দিষ্ট নয় বলে বিশ্বের জন্য তাঁরা ইংরেজিতেই সেটার প্রকাশ করছেন। সেজন্য তাঁদের ইংরেজি শিখতে হয়েছে নিশ্চয়ই। আমাদের আজকের শিক্ষার্থীরাও ভালোমত ইংরেজি শিখবে। তাদের ইংরেজিতে দূর্বলতা কেন তৈরি হচ্ছে সেটা আমরাই খুঁজে বের করব এবং দূর করব। কিন্তু আমাদের ছেলেমেয়েরা ইংরেজি শিখবে কেবল সেটা আন্তর্জাতিক ভাষা বলে। বিজ্ঞানের ভাষা বলে নয়। বিজ্ঞানের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। যে ভাষাতেই বিজ্ঞানের সেই ভাষাকে অনুবাদ করা হোক তার অর্থ বদলে যায় না। বদলে যাওয়ার উপায় নেই বলেই সে বিজ্ঞান।

আরেকটি কথা বলতে চাই, ভাষা হিসেবে বারো বছর ধরে ইংরেজি শিখিয়েও আমাদের ছেলেমেয়েদের যে ইংরেজিতে দুর্বলতা সেটির জন্য কেবল ইংরেজি বিমুখতা দায়ী নয়। সেরকম হলে আমাদের ছেলেরা কেবল ইংরেজিতে কাঁচা হলেও গণিতে, বিজ্ঞানে নাহয় অন্তত বাংলাতে পোক্ত হয়ে উঠতো। কিন্তু বাস্তবতা সেরকম নয়। সেটার কারণও ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। আমরা পড়াশোনা করেছি শেখার আনন্দে, শেখার জন্যে নয়! আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠরা পড়াশোনা করেছি মুখস্ত করে ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য। আমাদের শিক্ষা আমাদেরকে চিন্তা করতে শেখায় নি। শিক্ষা আমাদেরকে আনন্দ দেয় নি। এটা বিরাট সমস্যা তো বটেই। এবং এই সমস্যার সমাধান করার প্রয়োজন এখনই। এবং সেজন্যেই আমরা বলছি বাংলায় সহজবোধ্য বিজ্ঞান লেখার এবং পড়ানোর কথা। আমাদের শিশুরা যখন বিজ্ঞানের তীব্র আনন্দ বুঝতে পারবে তখন তারা নতুন কিছু সৃষ্টিরও উৎসাহ দেখাবে। রুপকথার গল্পের মতো সেটি কেবল বই লিখে সম্ভব নয়, জানি। বিজ্ঞানের আবহ এবং উচ্চতর গবেষণার সুযোগও আমাদেরকেই তৈরি করতে হবে। অন্য কোনো দেশ কিন্তু বাঙালি জাতির ভবিষ্যত বিজ্ঞানীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে বসে নেই! আমরা একটি জাতি কি অন্য দেশে পাওয়া একটু আধটু সুযোগের জন্য নিজেদেরকে প্রস্তুত করব, নাকি নিজেদের জন্যে নিজেরাই উচ্চতর বিজ্ঞানের পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরি করব?

আমরা বিজ্ঞানে উন্নত বিশ্বের তুলনায় যে শত বছর পিছিয়ে আছি সেটাতো একদিনে লাফ দিয়ে পার হয়ে যাওয়ার নয়। একটি জাতিকে ধরে ইংরেজিতে খাওয়া ঘুমানো শিখিয়ে আর লাখে হাজারে ইংরেজি বিজ্ঞানের বই মুখস্ত করিয়ে ফেলেও সেই দূরত্ব পার হওয়া সম্ভব নয়। আফ্রিকার অনেক দেশের মানুষ তাদের মাতৃভাষা না হওয়া সত্ত্বেও তারা ইংরেজি অথবা ফরাসিতে কথা বলে, জীবনধারণ করে। শিক্ষার মাধ্যম বদলে দিলে যদি বিজ্ঞানে এগোনো যেত তাহলে এইসব দেশ তো আর সময়ের সবচেয়ে অনুন্নত দেশ হয়ে থাকতো না! তাই ভাষা না বদলে, মানসিকতার সঙ্গে মানানসই বিজ্ঞানের আবহ তৈরি করে যদি একটি প্রজন্মকে বিজ্ঞানমনস্ক করে তোলা যায় তাহলে বিজ্ঞানের পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের যে দূরত্ব সেই দূরত্ব কিছুটা কমতে পারে। আরো আশার কথা হচ্ছে, জ্ঞান বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উন্মুক্ত। এই সময়ের জ্ঞান নিয়ে এখন থেকেই আমরা যাত্রা শুরু করতে পারি। সেই যাত্রা খুব দ্রুতগতির হবে তা বলছি না। কিন্তু অন্তত একটা যাত্রা তো শুরু হবে! একটি জাতিকে যুগ যুগ ধরে ইংরেজ বানিয়ে তারপর আজকের বিজ্ঞান বোঝানোর মূর্খামি না করে তাকে এই সময়ের বিজ্ঞান তার মাতৃভাষাতে বুঝিয়ে বললেই সে আজকের বিজ্ঞানকে ধারণ করতে পারবে।

রজিউদ্দীন রতন:বিজ্ঞান-গবেষক ও লেখক ।

৭৮ Responses -- “বিজ্ঞানের ভাষা ইংরেজি নয়”

  1. Rasel

    ‘সাধারণভাবে’ বিশেষজ্ঞ অথবা অ-বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদেরকে কোনো গবেষণা প্রবন্ধের অ্যাবসট্রাট্রাক্ট বাংলাতে বোঝানো অসম্ভব। একটি উদাহরণ থেকে সাধারণীকরণ সম্পূর্ণভাবে অর্থহীন।

    আর বিষয়বস্তু বোঝা ভাষানিরপেক্ষ হলে বিজ্ঞানচর্চার জন্য বাংলা ভাষার ব্যবহার কী মৌলিক সুবিধা নিয়ে আসবে, এটি প্রমাণের দায়িত্ব লেখকের। বাংলায় পপুলার সায়েন্সের বই লেখা, বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ বা উচ্চ মাধ্যমিক অবধি বাংলাতে বিজ্ঞান পড়া– আর বিশ্ববিদ্যালয় পর্য়ায়ে বিজ্ঞানচর্চা বা গবেষণা এক কথা নয়।

    এটি সবার জন্যও নয়।

    Reply
  2. Rasel

    বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে তা পরিষ্কার করলে ভালো হয়। এর অর্থ যদি হয় পপুলার সায়েন্সের বই বাংলাতে লেখা– তবে ঠিক আছে। এর অর্থ যদি হয় ইংরেজিতে পদার্থবিজ্ঞানের সমীকরণগুলো লিখে ইংরেজি পাঠ্যপুস্তক বা রেফারেন্স ব্যবহার করে বাংলায় ক্লাসে লেকচার দেওয়া বা বাংলায় বিজ্ঞান বিষয়ে ইনফরমাল আলোচনা করা– তাহলেও ঠিক আছে। কিন্ত এর অর্থ যদি হয় নিউটনীয় অঙ্গুরীয়, নিষিদ্ধ শক্তি ফাঁক, অপবর্তন ঝাঁঝরির মতোন বিটকেলে সংস্কৃত পরিভাষা আবিষ্কারে সময় অপচয় এবং হাজার হাজার পুস্তকের বঙ্গানুবাদ– তাহলে বিজ্ঞান পড়া বাদ দিয়ে তাদের লিংগুইস্টিকস পড়তে বলব!!!

    বাংলা ভাষায় কি ইংরেজি, জার্মান, ডাচ, ইতালীয় বা জাপানি ভাষার মতোন ট্র্যাডিশনালি বিজ্ঞানের সেইরকম মানের মৌলিক বই লেখা হয়েছে? যে সব ভাষা এবং সভ্যতায় ট্র‍্যাডিশনালি আধুনিক মৌলিক বিজ্ঞান গড়ে উঠেছে ( গত চারশ বছর ধরে) সে সব ভাষাতেই উচ্চতর পর্যায়ে বিজ্ঞানের চর্চা এবং গবেষণা সম্ভব। সেটি কথ্য ভাষায় কম্যুনিকেট করা বা আলোচনা করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বস্তু এবং তারও সীমাবদ্ধতা আছে। ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজি বহুল প্রচলিত এবং বৈশ্বিক বিবেচনাতে এই ভাষায় লেখা মৌলিক এবং উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক বইয়ের সংখ্যা অন্য যে কোনো ভাষার সাথেই তুলনীয় নয়।

    কাজেই বিজ্ঞান শেখা বা চর্চা যার মূল লক্ষ্য সে ইংরেজি শিখবে। বাকিরা পরিভাষা বের করা আর এক শতাব্দী ধরে ইংরেজি আর অন্যান্য ভাষা থেকে বাংলায় অনুবাদের কাজ করতে থাকুক।

    Reply
  3. Rony Ronouk

    ফাহাম আব্দুস সালাম বলছেন “প্রশ্ন হলো যে ভাষায় আপনি অনুশীলন করছেন সে ভাষার এমন সক্ষমতা আছে কি না যে সে ধারণ করবে প্রয়োজনীয় কনসেপ্টগুলো, ভাষাটি আপনার প্রথম না দ্বিতীয় সেটা খুব বড় বিষয় না। খুব ভালো হোতো যদি বাংলা ভাষার এই ক্ষমতা থাকতো, কিন্তু বাস্তবতা হোলো সে ক্ষমতা আমাদের নেই।”

    ভাষা কোন ব্যক্তি/প্রাণী নয় যে, সে নিজে বিবর্তিত হয়ে কোন ব্যাপারে সক্ষমতা অর্জন করবে । ভাষা বিবর্তিত হয় তার ব্যাবহারকারী দ্বারা । ভাষার সক্ষমতা নেই বললে বুঝতে হবে, ভাষাকে আমরা এখনো সেই পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারিনি, এটা আমাদের অক্ষমতা, ভাষার নয় । আর এটা একান্তই নিজস্ব ব্যাপার যে, আমরা কি সক্ষম হওয়ার চেষ্টা করবো নাকি উটপাখির মত মাথা গুঁজে থাকবো আর বলবো , আমরা অক্ষম ।

    Reply
  4. কে,এম,রশিদুল হাসান

    অল্প কিছু ব্যক্তির অতি উচ্চ শিক্ষার প্রয়োজনে সকলকে ইংরেজী ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করতে হবে–এটা অযৌক্তিক । আমাদের জন্য বাংলা ভাষায় কোনও বিষয় অনুধাবন যত সহজ,অন্য কোনও ভাষায় সেটা সম্ভব নয়;ইংরেজীতেও নয় ।

    Reply
  5. আজাদ-আল-আমিন

    এটা সত্য যে, বিজ্ঞানের ভাষা ইংরেজি নয়; আমি বলি কোনো ভাষাই বিজ্ঞানের নয়। তবে আজ-কাল ভালভাবে বিজ্ঞান বুঝতে হলে ইংরেজি জানা খুবই প্রয়োজন। শেখার জন্য আবেগের আশ্রয় বোকামি।

    Reply
  6. akhter jahid

    জাপানিরা আজ নিজ ভাষায় শিখছে বলেই আজ জাপান সুপার power,সকল জাপানিরা সুফল ভোগ করছে। হ্যাঁ কিছু লোককে ইংরেজি জানতে হবে অনুবাদের জন্য যা জাপানিরা করে।

    Reply
  7. মোঃ সাইফুল হক

    বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার মাধ্যমে বিজ্ঞান-জ্ঞানের স্তর মধ্যম পর্যায়ের উপরে নিয়ে যাওয়া কঠিন– জ্ঞানের স্তর অন্তত দশ বছর পিছিয়ে থাকবে। বিজ্ঞানের কোন বিষয় প্রথমে নামকরা জার্নালে প্রকাশিত হয়, তারপর তা বিজ্ঞানিদের মাঝে প্রসার লাভ করে, বিষেশ করে উন্নত দেশের বিজ্ঞান শিক্ষক বা বিজ্ঞানীদের মাঝে। এর পর এই শিক্ষকরা তা তাদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠ্য বইয়ে অন্তর্ভূক্ত করবে। এই পর্যায়ে আসার পর, আমাদের দেশের শিক্ষক বা বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাগণ এ বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা লাভের জন্য উন্নত দেশসমূহে পড়াশোনার জন্য গমন করে ও বিষয়টি ভাল ভাবে আত্তস্থ করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় কিছুদিন শিক্ষা দেয়ার পর ছাত্ররা যথেষ্ঠ অভিজ্ঞ হলে তা কলেজ পর্যায়ে পাঠ দানের যোগ্য হয়। কলেজ পর্যায়ে পাঠ দান মোটামুটিভাবে প্রচলিত হলে, ধারনা করা যেতে পারে যে, বিষয়টি জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং এ বিষয়ে কিছু ছাপা হলে তা বিক্রির সম্ভাবনা আছে। এ প্রক্রিয়াটা আরো দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যদি এ বিষয়টি জার্নালে পড়ে ও বিদেশে গিয়ে যারা শিক্ষা লাভ করবে তারা ইংরাজি ভাষায় দক্ষ না হন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেশন জট লেগে থাকে। চীন, জাপান, জার্মানি প্রভৃতি দেশে বিজ্ঞান বিষয়ে আন্তর্জাতিক মান সম্পন্ন সমন্তরাল গবেষনা ও তা প্রকাশের মাধ্যম রয়েছে, তারা ইংরাজি ভাষায় যথেষ্ঠ অভিজ্ঞ এবং বিজ্ঞান সেখানে জনপ্রিয় বিষয়। বর্তমানে বিজ্ঞানের দ্রুত উন্নয়নের সাথে তাল মিলাতে নিজেকে হাল নাগাদ পর্যায় রাখার জন্য ইংরেজির সাহায্য ছাড়া উপায় নেই।
    যদি বিজ্ঞানের ছাত্র বা শিক্ষক হয়ে কবিতা, উপন্যাস বা এ জাতীয় বিষয়ে নিয়ে ব্যস্ত থাকতে চান, তবে বাংলায় বিজ্ঞান পড়ূন। একটা কথা মনে রাখবেন, পৃথিবীতে এমন কোন দেশের অস্তিত্ব নেই যারা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উন্নত কিন্তু অর্থনৈতিকভাবে গরীব। বিজ্ঞানকে পূজি করে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব।

    Reply
  8. মুকিত

    যতদিন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বাংলায় বিজ্ঞানচর্চা আমরা শুরু না করবো ততদিন আমাদের বিজ্ঞানের জ্ঞান শুধু আমাদের ক্যারিয়ারেরই কাজে লাগবে, সত্যিকারের বিজ্ঞানকে অর্জন বা ধারন করতে আমরা পারবোনা।

    Reply
  9. কাজী মিনার

    রতন ভাই খুব ভালো লাগলো আপনার লেখা।বিজ্ঞান চর্চা বা গবেষণা কি বাঙলা ভাষায় সম্ভব তা আবারো দেখিয়ে দিয়েছেন।।অসংখ্য ধন্যবাদ।ফাহাম আবদুস সালামকেও ধন্যবাদ।

    Reply
  10. এফ কে এস

    বিজ্ঞানের কোন প্রতিষ্ঠিত সাবজেক্ট নিয়ে পড়ছিনা,বলতে গেলে ব্যবহারিক বিজ্ঞান (নগর পরিকল্পনা ও জলবায়ু ঘটিত দূর্যোগ) নিয়ে আমার পড়াশোনা। সুতরাং ভাষা আমার কাছে এতো বড় ইস্যু হয়নি আসলে। এইজন্যে আমি সাম্প্রতিক এই লেখাগুলার খুব গভীর বিশ্লেষনে আমি যাই নি। কিন্তু একটা জিনিস সত্যি মানতে হয় সেটা হলো ‘মাতৃভাষা’ শব্দটা বার বার নিয়ে এসে একটা ধারালো আলোচনার ধার অনেক কমে যাচ্ছে। এক গ্রুপ আগেই ইমোশনালী একজনকে বিপক্ষ শক্তিতে ফেলে দেয়। এইজন্যে কিছু মানুষ এসে উলটাপালটা মন্তব্য করে।

    বিজ্ঞান চর্চার দিক থেকে রজিউদ্দিন রতন বা তানভীরুল ইসলাম বা ফাহাম আব্দুস সালাম কে কতখানি পটু তার কোন বাটখারা কারো কাছে নাই। যা নিয়ে কথা হচ্ছে পুরোটাই উপলব্ধীর ব্যাপার। একটা হাইপোথিসিস একপক্ষ দিচ্ছে যে বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা এবং গবেষণা সম্ভব, এর কারন তানভীর বা রজিউদ্দিনের দেয়া অনেক উদাহরন আছে যে অন্য ভাষাভাষিরা নিজেদের ভাষায় কিম্বা ইংরেজী ভাষাভাষির মানুষ কোন বিজ্ঞানীর অন্যভাষায় লেখা গুরূত্বপূর্ণ লেখা বুঝতে সেই ভাষা শিখছে। কিন্তু আমার মতে একটা জায়গায় বড় গ্যাপ রেখেই এই হাইপোথিসিস দেয়া হচ্ছে, সেটা হলো যাদের উদাহরন টানা হচ্ছে যেমনঃ ফ্রেঞ্চ, জাপানী এদের সামাজিক-প্রযুক্তিগত-অর্থনৈতিক-শিক্ষা ইত্যাদি জায়গায় অবস্থান করছে বা কতটা সময় ধরে এই দেশগুলোতে বিজ্ঞান শিক্ষার উপর ব্যাপকভাবে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী এগুচ্ছে এবং সেই অনুসারে তাদের নিজের ভাষায় বিজ্ঞান শেখা কতখানি কার্যকর হয়েছে তা এখনো উন্মোচিত হয়নি। একটা ধনী দেশ ১০০ জন ছাত্রকে কোন একটা বিশেষ ভাষায় বিজ্ঞান বোঝার জন্যে অর্থ্যায়ন করতে পারে, তা থেকে তাদের ৩/৪ জনও যদি কিছু ভালো ফল দেখায় সেটাই তাদের সফলতা। আমাদের দেশের এতো আর্থ-সামাজিক সমস্যার মাঝে এইরকম চিন্তাভাবনা নিয়ে এগুনোর জন্যে দরকার একটা অতি বৃহৎ পরিকল্পনা। এখানেও অনেকে বলছে যে ২০০ বছরও লাগতে পারে। আর পরিকল্পনার ছাত্র হিসেবে এইটুকু মূল শিক্ষা আছে যে,যখন কোন বৃহৎ পরিকল্পনা করা হয় (যেমনটা তানভীর/রজিউদ্দিন রা করছে) সেই পরিকল্পনাটা সফলভাবে প্রনয়ন করার জন্যে সবচেয়ে গুরূত্বপূর্ন হলো বাঁধাগুলো ভালোভাবে আইডেন্টিফাই করা। ফাহাম সাহেব প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞানের একটা শাখা থেকে উচ্চতর শিক্ষার উপলব্ধী থেকে সেই বাঁধাগুলোই চিহ্নিত করে দিচ্ছেন। এই বাঁধাগুলোকে যারা বাঁধা মনে করছেনা তাদের দায়িত্ব সেটা প্রমান করা। এখন ভালো পরিকল্পনাবিদের উচিত হবে আবেগের বাহিরে থেকে বাঁধাগুলা বাস্তবসম্মতভাবে চিন্তা করা।

    Reply
  11. কামরুল হাসান

    আমি লেখকের বক্তব্যের সাথে একমত। ধন্যবাদ এমন একটি লেখার জন্য।

    Reply
  12. কাজী মাহবুব হাসান

    বিস্মিত হচ্ছি কিছু মন্তব্য দেখে।
    যারা নিজেরা ইংরেজীতে বিজ্ঞান পড়েছেন, নিজেদের মেধায় বিশ্বে নিজেদের অবস্থান করে নিয়েছেন, তারাই তাদের নিজেদের অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করছেন না পরবর্তী প্রজন্মকে উপদেশ দিতে। এ কাজটা শুধু আমরাই পারি। এই সব বিজ্ঞানে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন যারা,তাদের পদাঙ্ক অনুসরনকারী কোন ভবিষ্যৎ ছেলে মেয়েদেরকে আমি একজন শিক্ষক হিসাবে উপদেশ দিচ্ছি,এ কথাগুলো কোন বাস্তব সম্মত কথা না।
    বিজ্ঞানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে এই মুহর্তে যার দেশ বাংলাদেশ, তাকে মেধাবীতো হতেই হবে, সেই সাথে ইংরেজীতে দক্ষ হতে হবে। এ দক্ষতাটা সে কখন অর্জন করতে হবে সেটা তার নিজেকেই খুজে বের করতে হবে।

    Reply
    • রজিউদ্দীন রতন

      আপনার আগের একটি মন্তব্য এবং এই মন্তব্যটির জবাব এখানেই দেয়ার চেষ্টা করি।

      আমি নিজে এবং আমার মতো আরো অনেকেই দেশের বাইরে এসেছেন পড়তে। আমাদের সবাইকেই ইংরেজি শিখতে হয়েছে। নিজেদেরকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মানিয়ে নেয়ার মতো করে প্রস্তুত করতে হয়েছে। আপনি সম্ভবত বলতে চাইছেন, আমরা নিজেরা যেটা করেছি সেটা অন্যদেরকে করতে উপদেশ দিচ্ছিনা কেন!

      দেখুন, আমি নিজে বাংলা মাধ্যমে পড়ে এখানে এসেছি। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম ইংরেজি ছিল ঠিক, কিন্তু আমাদের শিক্ষকেরা আমাদেরকে পড়াতেন, বুঝিয়ে বলতেন বাংলাতেই। আমরাও (অন্তত আমি নিজে) সেভাবেই বুঝতাম। আমি কিন্তু কখনোই ইংরেজি শিক্ষার বিরোধী নই। ইংরেজি ভালোমতই শেখা দরকার। কিন্তু “ইংরেজিতে শেখা’র বিরোধী আমি। এমনিতে ব্যক্তিগতভাবে কেউ ইংরেজিতে শিখতে চাইলে আমার আপত্তি নেই, কিন্তু একটি জাতি, যার মাতৃভাষা ইংরেজি নয়, তাকে “ইংরেজিতে শেখানো’ ব্যাপারটিতে আমার আপত্তি রয়েছে।

      যাঁরা এখন দেশের বাইরে এসেছেন, উচ্চতর শিক্ষা নিচ্ছেন, তাঁরা কেন এসেছেন? বাধ্য হয়ে নয়কি? আমি কি একটি জাতির সব শিক্ষার্থীকে আমার মতো প্রস্তুতি নিয়ে দেশের বাইরে চলে আসতে বলব? সেটি কী বাস্তব? অন্য কোনো দেশ/জাতি কী আমাদের একটি জাতির সব শিক্ষার্থীর জন্য গবেষণা বা শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে রেখেছে অথবা রাখবে? আমরা যারা দেশের বাইরে এসেছি তারা আসলে অন্য দেশ/জাতির দেয়া একটুখানি সুযোগ অনেক পরিশ্রম করে অর্জন করে এখানে এসেছি! কোনো সন্দেহ নেই, আমার চাইতে অনেক বেশি মেধাবী হাজারো ছেলেমেয়ে সেই সুযোগ পায়নি! না পাওয়াটাই স্বাভাবিক।

      আমি আমার লেখাতেই এই প্রশ্নটি রেখেছি, আমরা একটি জাতি কি অন্য কোনো দেশ/জাতি থেকে পাওয়া একটুখানি সুযোগ নেয়ার জন্য প্রস্তুত হবো?

      যাঁরা এই সময়ে বিশ্বের বড় বড় সব ল্যাবে কাজ করতে চান তাঁদের জন্য শুভকামনা। তাঁরা সুযোগ পাক সেটাই চাই। কিন্তু আমরা সবাই জানি, সেই সুযোগটি পাবেন নিতান্তই অল্প কিছু ভাগ্যবান শিক্ষার্থী! বাকিদের কী হবে?

      আমি বলছি না, আজকেই আমাদের দেশটিতে বিরাট পরিবর্তন এসে যাবে! এখনতো এমনকি আমরা প্রতিযোগিতায় নামারও যোগ্য নই! কিন্তু আমরা কি ভবিষ্যতের জন্যেও প্রস্তুতি নেব না?

      এই লেখাটি, “”তোমরা যারা উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশে আসতে চাও তাদের জন্য পরামর্শ” ধরনের কিছু নয়। আপনি সম্ভবত ভুল বুঝেছেন। বরং এই লেখাটি, “”আমরা একটি জাতি কীভাবে বিজ্ঞান শিখব” সেই বিষয়ের সঙ্গে খানিকটা সম্পৃক্ত।

      শুভেচ্ছা।

      Reply
      • কাজী মাহবুব হাসান

        “”তোমরা যারা উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশে আসতে চাও তাদের জন্য পরামর্শ”

        আমি কিন্ত এ ধরনের কোন পরমার্শ দেইনি। সেটা আপনি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন। আমি যেমন আপনাদের বিষয়টা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছি।

        আপনার মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি।

        এছাড়া আমি পলিটিক্যালি রাইট কোন কথাও হয়ত বলছি না। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত বিজ্ঞান বাংলায় আছে। বাংলায় পপুলার বিজ্ঞানের বই লিখতে বাধা নেই। যে ভাষায় পড়ি না কেন আমি আমার মাথায় বাংলায় তা নিচ্ছি, দেশে আমরা বাংলায় তা প্রয়োগও করছি।

        আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি আমি যেটুকু বিজ্ঞান শিখেছি তা ইংরেজী বই পড়ে শিখেছি।

        আমি যখন ছাত্র পড়িয়েছি তখন প্রয়োজনে বাংলায় পড়ালেও ভালো চিকিৎসা বিজ্ঞান বুঝতে টেক্সট বা রেফারেন্স বইয়ে কোন ছাড় দেবার কোন উপদেশ দেইনি। আমি নিজেও তাই মেনেছি, মেনেছি বলে আমি দেশে যে কয়দিন থাকার সুযোগ পেয়েছি তার সদ্ব্যবহার করতে পেরেছি, যার প্রমান এখনো দেশেই আছে। আমি বলতে চেয়েছি একটা পর্যায়ে আমরা যদি রেফারেন্স বই না পড়ি আমাদের জানার ঘাটতি থেকে যাবে, সেটা জানতে হলে ইংরেজী জানতে হবে। কারন সেই বইগুলো ইংরেজীতে লেখা। এই ভাষা সে কখন শিখবে সেটা তার উপর নির্ভর করবে। আমি যেমন এক সময় তা আয়ত্ত্ব করে নিয়েছেন।

        আমিও বাংলাদেশের ছেলে, আমি বাস্তবতা খুব ভালো করে জানি। কারন আমি সেই সিস্টেমের মধ্যে কাজ করেছি।

        আপনার অভিজ্ঞতা হয়তো ভিন্ন।

        শুভকামনা রইল।

      • কাজী মাহবুব হাসান

        আমার মনে হয় আমি উত্তর দিয়েছি উপরে।

        আমি তো জাতীয় নেতা না। আমার পেশাগত ক্ষেত্রে যে সুদুরপ্রসারী আকাঙ্খার সাথে আমি জড়িত ছিলাম,এবং আমার বিষয়ের ক্ষেত্রে তা পূরণ করতে সরাসরি অবদান রাখতে আমি পেরেছি, সেটা সারা পৃথিবীর সাথে পাল্লা দিয়ে। বাংলাদেশে এখন সরকারের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক মানের ভাইরোলজী ল্যাব প্রতিষ্ঠা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশে উদীয়মান বিজ্ঞানীদের কাজে লাগবে।

        স্পষ্টতই আমি আত্মরক্ষামূলক কথা বলছি না।

    • ফারসীম

      কাজীদা, আপনি যেটা বারবারই ভুল বুঝছেন তা হল কেউ বলছে না যে ইংরেজির দরকার নেই। কিন্তু বুনিয়াদি শিক্ষা, এবং সেইসাথে যতদূর পারা যায় উচ্চতর শিক্ষার কিছুটা, বাংলায় করা উচিত। এই মূহুর্তে আমাদের দেশে ভাল ইংরেজি শিক্ষার গোড়াপত্তন সুদূর পরাহত। কবে হবে সেই আশায় কি বসে থাকবেন? আর বাচ্চারা ত শিখতে চায়, তাদেরকে কী শেখাবেন? ড. জাফর ইকবাল ঠিক কথা বলেছেন, বাচ্চাদের জন্য বাংলায় ভাল বিজ্ঞানের বই লেখা দরকার বেশী বেশী, আর এমন একটা ব্যবস্থা রাখা দরকার যাতে উচ্চশিক্ষার ইংরেজিটা তারা যেন চট করে ধরতে পারে।

      Reply
      • কাজী মাহবুব হাসান

        ধন্যবাদ ফারসীম, আমি হয়তো বুঝতে ব্যর্থ হয়েছি।
        কারন আমি কথা আর কাজের পার্থক্য করেছি সারা জীবন।
        বাংলায় বিজ্ঞানের বই লেখার ব্যাপারে আমার কোন দ্বিমতই নেই।

        উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত তো বাংলা আছেই। বাংলায় এখন আপনারা অসাধারন সব জনপ্রিয় বই লিখছেন। অবশ্যই তা কৌতুহল সৃষ্টি করবে,বিজ্ঞানকে ভালোবাসতে শেখাবে।
        যার বিজ্ঞানে অ্যাপটিচিউড আছে সে ঠিকই ইংরেজী শিখে নেয়, মেডিকেল কলেজে আমি এমন বহু ছেলেমেয়েকে দেখেছি। যারা ইংরেজী বুনিয়াদ ছাড়াও মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করে খুবই মেধাবী চিকিৎসক হয়েছে। বিজ্ঞানের সব রেফারেন্স বই যে ভাষায় সেই ভাষায় না পড়লে কী করে হয়। আপনি ইংরেজীতে দক্ষ না হলে কানাডায় পি এইচ ডি করতে পারতেন না, আর বুয়েটও মেধাবী শিক্ষক পেত না।

        আমিও তো আমার ব্লগে বাংলায় বিজ্ঞান লিখছি ( কেউ পড়ে বলে মনে হয়না), কিন্ত যদি কেউ পড়ে বা ভালো করে জানতে চাইলে আমি তাকে ইংরেজী রেফারেন্স বই পড়তে বলবো। কারন আমার অভিজ্ঞতা তাই। আমি সব সময় বলেছি ক্লাসে জানাটা শুরু হয় শুধু, একটা স্টিমুলেশন মাত্র।

        তাই আমি হয়তো আপনার মত স্বপ্ন দেখতে পারছি না।

        তবে শুভকামনা রইল। আপনাদের মত মেধাবী প্রজন্ম দেশের ভবিষ্যৎ।

        এছাড়া আমি একা কী ভাবছি সেটাতে কারো কোন সমস্যা হবার কথা না।

    • অনুপমা হক

      আমি ইংরেজিতে দক্ষ। শুধু দক্ষ না , বেশ দক্ষ। মেধার হিসাবেও দেশের প্রথম সারিতেই পড়বো। আমার বিষয়ের পৃথিবী সেরা গবেষণা হয় জাপানে। স্কলারশীপ পেতে হলে আমাকে জাপানিজ শিখতে হবে। তো নিজের জীবন থেকেই বলছি,

      ইংরেজিতে অতি দক্ষ হয়ে আমার কি লাভ হলো?

      Reply
      • কাজী মাহবুব হাসান

        আমি মনে করি আপনি চাইলে জাপানীজ ভাষা শিখে নিতে পারবেন।
        এবং আপনার ইংরেজী দক্ষতাও আপনার উপকারে আসবে, সেটার প্রমান আপনি অবশ্যই পাবেন।

        বাংলাদেশে এখন কাজ করছে আমার এক বন্ধু কার্ডিয়াক সার্জন, সে জাপানী ভাষা শিখে যেমন কাজ করেছে তেমনি হামামাৎসুর সেই কার্ডিয়াক গ্রুপের গুরুত্বপুর্ন কিছু আবিষ্কার ইংরেজীতে সারা পৃথিবীর কাছে পরিচিত করিয়েও দিয়েছে। ইংরেজী পাবলিকেশনের সময় আমি তার ডেভেলপ করা একটা স্টেন্টের ডায়াগ্রাম এর রেখাচিএ আঁকতে সাহায্য করেছিলাম বলেই জানি।

        অনেক শুভকামনা রইল আপনার ভবিষ্যৎ স্বপ্নপূরণে।

  13. আসমা সুলতানা

    ”আমরা কেন তাহলে আমাদের জীবন থেকে উপদেশ দেই না?”

    এটাই মধ্যবিত্ত বাঙ্গালীর হিপোক্রিসি …

    ” বিজ্ঞানের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। যে ভাষাতেই বিজ্ঞানের সেই ভাষাকে অনুবাদ করা হোক তার অর্থ বদলে যায় না। বদলে যাওয়ার উপায় নেই বলেই সে বিজ্ঞান।”

    অসাধারণ কথা ! শিখতে চাওয়াতে এত অনাগ্রহ কেনো আমাদের ?

    Reply
  14. আরাফাত

    আপনার এই পোস্ট আমাকে আব্দুল্লাহ আল মূতী শরফুদ্দীন স্যারের কথা মনে করিয়ে দেয়। বিজ্ঞানের কতো জটিল বিষয়বস্তু নিয়ে লিখেছেন উনি। কত বিচিত্র বৈজ্ঞানিক ধ্যানধারণা নিয়ে কাজ করেছেন। অথচ লিখেছেন একেবারে ছোটদের জন্য। বিজ্ঞান বিষয়ক লেখালেখিকে উনি শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।

    আসেন আমরা এইসব কূটবিতর্ক ছাড়ি। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করি। দেশব্যাপী অজ্ঞতা, কুসংস্কার আর অন্ধতার ঘোর কাটাতে বিজ্ঞান চেতনার বিকল্প নেই।

    Reply
    • অনুপমা হক

      একমত। বিজ্ঞানে উন্নতির জন্য বিজ্ঞান শিক্ষার দরকার, দরকার নিজস্ব গবেষণার। সেইটা যে কোন ভাষাতেই করা সম্ভব। তবে মাতৃভাষায় হইলে সহজ হয়।

      Reply
  15. ড. মো. দানেশ মিয়া

    রাজিউদদীন রতনকে অনেক ধন্যবাদ। মাতৃভাষার মমত্ববোধের সাথে বিজ্ঞানচর্চাকে যেভাবে এই লেখায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, তা এককথায় চমৎকার। বাংলাভাষা ও বাঙালী সংস্কৃতিকে যারা নিগৃহ করতে শিখেছে, তারাই কেবল বলতে পারেন বাংলাভাষায় বিজ্ঞান চর্চা করা সম্ভব নয়। রতন সাহেব ফাহাম আব্দুস সালামের আপাত কঠিন এ্যাবস্ট্রাক্টটি যেভাবে বাংলায় বুঝানোর চেষ্টা করেছেন, তাতে আমি অভিভূত হয়েছি। তার প্রতি শ্রদ্ধায় অবনত হয়েছি, তার দায়িত্ববোধের কারনে। কর্কটরোগ বিষয়ক এ্যাবস্ট্রাক্টটির বাংলায় ভাবনাটি আমাকে অনেকখানি উজ্জীবিত করেছে। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, জনাব রতন সাহেবের মতো বাঙালীরা পৃথিবীর যেখানেই থাকুক না কেন, বাঙালীদের প্রতি তাদের অনেক অকৃত্তিম মমতা কাজ করে। তাদের মতো বাঙালীরা দায়িত্ববোধ নিয়ে এগিয়ে এলে, বাঙালীরা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবে। কর্কট রোগের মতো কঠিন রোগের প্রতিকার তারাই করতে পারবে। রতন সাহেবকে ছালাম!!!

    Reply
  16. বিসগ দাশ

    প্রথমত লেখককে ধন্যবাদ সুন্দর ও অর্থবহ লেখাটির জন্য। এফ কে এস, বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধের উদ্দেশ্য সাধারন মানুষকে বু্ঝানো নয়। এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য অন্য বিজ্ঞানীদের কাছে নতুন গবেষনার ফলাফল তুলে ধরা।

    Reply
  17. সগীর হোসাইন খান

    ফাহাম আব্দুস সালাম এর কথার সাথে কোন ভাবেই একমত হতে পারলাম না।
    ছোট একটি উদাহরন দেই। জাপানের প্রথম সারির বিজ্ঞানীরাও ইংরেজী বলাতো দূরে থাক শুনেও বুঝতে পারেন না। তাদের বলার ধরন দেখলে হাসতে হাসতে পেটে ব্যথা উঠে যায়। কিন্তু তাদের জ্ঞান কি ইংরেজী জানা লোকদের চাইতে কম? রোবট বিজ্ঞানে জাপানের চাইতে উপরে এখন কেই নেই। তারা তাদের জ্ঞানের চর্চাতো তাদের নিজেদের ভাষাতেই করে থাকেন। তাহলে তাদের জ্ঞান কি বিজ্ঞানের জ্ঞান হবে না?

    শিক্ষা বিজ্ঞানের একটি কথা হল প্রতিটি মানুষকে শিক্ষা দিতে হবে তাদের নিজেদের ভাষা অনুযায়ী। আর এর জন্যই ইন্দোনেশীয়াতে সব কিছুই এমনকি উচ্চ শিক্ষাতেও তাদের মাতৃভাষা ব্যবহার করা হয়। আমার এক ম্যম ইন্দোনেশিয়া থেকে পড়ালেখা করে এসেছেন। তার কাছে এক গল্প শুনলাম। একবার তাদের এক দেশী বন্ধু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের কষ্ট হয়েছিলো ডাক্তারকে বোঝাতে যে তাদের বন্ধুর ডেঙ্গু হয়েছে। কারন ইংরেজীতে ডেঙ্গুর কথা বললেও ডাক্তার বুঝতে পারেনি কী বলছে। কারন ডেঙ্গুর ইন্দো ভাষার রূপ তারা ব্যবহার করে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে দূতাবাস থেকে লোক এনে সেই বন্ধুকে সাহায্য করেছেন চিকিৎসার জন্য। তারা যদি তাদের ভাষায় ডাক্তারী পড়তে পারে তাহলে আমরা নই কেন? ইন্দোনেশীয়ার অর্থনীতি, সমাজনীতি আর সার্বিক অবস্থা কি আমাদের চাইতে খারাপ? আমাদের চাইতেও ভালো। কারন তারা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি আর ভাষাকে সমর্থন করে। আমরা আমাদের পাছায় নিজেরাই লাথি দেই বলেই আমাদের উন্নয়ন সুদূর পরাহত হচ্ছে।

    ফাহাম আব্দুস সালাম এর মত মানুষ তখন থাকলে রফিক, বরকত, সালামের মত ছেলেরা শুধু শুধু জীবন দেওয়া থেকে বাঁচতো বলে মনে হচ্ছে। কারন এখণ ভাষা নিয়ে আমাদের মাঝে যে অবহেলা দেখা যাচ্ছে তা চিন্তা করলে ২১ ফেব্রুয়ারীকে অনর্থক মনে হয়।

    Reply
    • ইবতি

      ভাই, আসলেই ঠিক বলেছেন। ৭০০ কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র ২৮ কোটির ভাষা ইংরেজী !!! এটা কী ভাবে বিজ্ঞানের ভাষা হয়। এ ছাড়াও আরো না হয় ৪০ কোটির দ্বিতীয় ভাষা ইংরেজি। তা হলে দুনিয়ার বাকি প্রায় সারে ছয়শ কোটি মানুষ কি বিজ্ঞান পরবে না?

      Reply
  18. ?জাকির!

    “আমাদের ছেলেমেয়েরা ইংরেজি শিখবে কেবল সেটা আন্তর্জাতিক ভাষা বলে। বিজ্ঞানের ভাষা বলে নয়। বিজ্ঞানের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। যে ভাষাতেই বিজ্ঞানের সেই ভাষাকে অনুবাদ করা হোক তার অর্থ বদলে যায় না। বদলে যাওয়ার উপায় নেই বলেই সে বিজ্ঞান।”

    Reply
  19. মোঃ ইকবাল হোসেন, চীন থেকে

    গবেষণা প্রবন্ধের অ্যাবসট্রাক্ট সাধারণত লেখা হয় “পুরো প্রবন্ধটিকে কী বলা হয়েছে তা আগ্রহীদেরকে ঝট করে বলে দেয়ার জন্য । এটা সবার জন্য নয়, বরং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষার্থী, গবেষক এবং সেই বিষয়ে কাজ করছেন এমন প্রতিষ্ঠানের জন্য।”

    আমি একমত লেখকের সঙ্গে । আর একারনেই অনেক scientific article এর অ্যাবসট্রাক্ট লেখা হয়ে থাকে তাদের নিজের ভাষায় যেমন- স্পানিস, জার্মানি, আরবী; যাতে করে গবেষক সহজেই অনুধাবন করতে পারে অল্প এই লেখাটুকু পড়ে, এরপরে সে সেই বিষয়ের ভিতরে যাবে কি যাবে না ? আমরা আমাদের প্রথম ভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় পড়াশুনা করলেও ঠিক কিন্তু আমাদের প্রথম ভাষায় সেটা রুপান্তর করে সেটার মানে বুঝার চেষ্টা করে থাকি। যেমন চাইনীজ এ আপনাকে কেউ “xiexie” বলল আমরা কিন্তু সেটা ইংলিশ এ নিয়ে (Thanks) গিয়ে বাংলায় রুপান্তর করে (ধন্যবাদ) এর মানে ঝট করে বুজে ফেলি । আসলে আমরা যা কিছু শিখি না কেন সব কিছুই কিন্তু প্রথম ভাষায় সেটার মানে বুঝার চেষ্টা করি।

    লেখককে অনেক ধন্যবাদ !!!

    Reply
  20. সাঈদুজ্জামান

    “ বিজ্ঞানের ভাষা ইংরেজি নয় ”
    রজিউদ্দীন রতনকে ধন্যবাদ সুন্দর একটি লেখা উপহার দেবার জন্য। বাংলাদেশে বিজ্ঞান গবেষণা হয় না বললেই চলে। গবেষণা নিয়ে এদেশ যারা কথা বলে তারাই বড় বিজ্ঞানী হিসাবে পরিচিত। হাতে গোণা দু একজন বাদে বাকিরা সবাই ভাবে সপ্তমী। ইংরেজি না জানা বা কম জানা নিয়ে তাদের কথার শেষ নেই। তাকে আপনি প্রশ্ন করুন, স্যার, আপনি তো ভালো ইংরেজি জানেন, আন্তর্জাতিক জার্নালে এ পর্যন্ত আপনার কতগুলি পেপার প্রকাশিত হয়েছে?
    রতন পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন বিজ্ঞান চর্চা বা গবেষণার জন্য ভাষা মাধ্যম কোন সমস্যা নয়। এ কাজগুলির জন্য দরকার উপযুক্ত পরিবেশ ও উপযুক্ত মানুষ যা বাংলাদেশে এখনও দৃশ্যমান হয়নি।
    সত্যেন বোস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্ব যিনি পরবর্তীতে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়েছিলেন। বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের সাথে তাঁর অনেকগুলি যৌথ গবেষণা কর্ম রয়েছে। এটি সেই চল্লিশ-পঞ্চাশ দশকের কথা। এরপর শুধু ধুধু মরুভুমি।
    এই সমস্যা নিয়ে ভাবার কেউ নেই, সমাধানের কেউ নেই।

    Reply
  21. রাজীব

    আমি কোন বিজ্ঞানের বিষয় পড়তে গেলে প্রথমে তা বাংলায় নিজের মত অনুবাদ করে নেই। তার পর তা পড়ি। এতে আমার তা মনেও থাকে ভালো, বোঝাও যায় পুরোপুরি। অনেকের তা লাগেনা। বাংলায় এইচ এস সি পর্যন্ত পড়েছি। এর পর আন্ডারগ্র্যাড আর মাস্টার্স ইংরেজিতে করলেও ইংরেজিটা এখনও নিজের মনের মত হয়নি, কোন দিন হবে বলে মনেও হয় না। লেখক সময় নিয়ে ধৈর্য্য ধরে সুন্দর একটা লেখা লিখেছেন।

    Reply
  22. কাজী মাহবুব হাসান

    আমি নিজে ইংরেজি কাজ চালানোর মতো জানি। পারতপক্ষে বলি না, লিখিও না। আমার কাছে ইংরেজির তেষ্টা মেটানো গরম পানি পান করার মতো। তাতে জীবন বাঁচে, কিন্তু তৃপ্তি হয় না। ইংরেজি ভালো না জানলেও আমি বিজ্ঞানের ছাত্র বলে লেখকের দেয়া অ্যাবসট্রাক্টটি বুঝতে পারলাম। অন্তত আমার তাই মনে হল। তারপরও নিশ্চিত হওয়ার জন্যে একজন বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করলাম যার মাতৃভাষা ইংরেজি

    আমার মনে হয় লেখক এখানে খানিকটা নিজেকে খানিকটা আন্ডারএস্টিমেট করেছেন। তিনি অনুজীববিজ্ঞানে পড়েছেন, আমার ধারনা সেটা বাংলায় না, আর লেখক ফাহামের অ্যাবস্ট্রাক্টটি তার জন্য বোঝা কষ্টকর না কারন এটি তার বিষয়ের বেশ কিছু (আমি বলবো প্রায় সবটুকু) কভার করছে। তিনিও ক্যানাডিয়ীয় অ্যামেরিকান কগনিটিভ সায়েন্টিষ্ট স্টিভেন আর্থার পিঙ্কারকে কোট করেছেন (অনুবাদ), আমার মনে হয় ইংরেজী দক্ষতা না থাকলে এটা সম্ভব হতো কি, অবশ্য হতে পারে লেখক এখানে জার্মান ভাষার টেক্সট অনুবাদ করেছেন);লেখক এখানে যে ভিজ্যুয়াল কগনিশন বেসড শেখার প্রক্রিয়াটার কথা বলেছেন সেটার ব্যাখ্যা করার কাঠামোটি বিবর্তন বা আরো খানিকটা বড় পরিসরে বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান নির্ভর। এবং লেখক খুবই মুন্সীয়ানার সাথে এটির মুল বিষয়টি দারুন ব্যাখ্যা করেছেন,এভাবে –

    একজন ইংরেজ যখন বিজ্ঞান শেখে সে তখন তার মাতৃভাষায় কল্পনা অথবা চিন্তার দারুণ ক্ষমতাকে ব্যবহার করেই বিজ্ঞানের তত্ত্ব অথবা পরিভাষা বুঝতে পারে। একটি বাঙালি শিশু যখন ইংরেজি শেখে সে তখন তার মাতৃভাষাতেই ইংরেজি শেখে। সেই বাঙালি শিশুটিকে যদি ইংরেজিতে বিজ্ঞান পড়তে দেয়া হয় তাহলে সে ইংরেজিতে পড়বে ঠিকই কিন্তু সেটার অনুবাদ করে নেবে বাংলায় এবং বাংলায় অনুবাদ করার পরেই সে বুঝতে পারবে সেই বিজ্ঞানের তাৎপর্য। সে যদি ইংরেজিতে বিজ্ঞান পড়ে বুঝতে দারুণ অভ্যস্থ হয়ে যায় তখন ওই অনুবাদের কাজটি সে করবে অবচেতন মনে।

    সুতরাং এই লেখক তার ইংরেজী জ্ঞান যতটুকু দাবী করুন না কেন, অবশ্যই তা প্রশংসার দাবীদার।
    লেখক একটি অনুচ্ছেদে এসে বলেছেন-

    বাংলায় বিজ্ঞান চর্চা হচ্ছে তো নিশ্চয়ই। যতো বাঙালি বিজ্ঞানের চর্চা করছেন সব বাংলাতেই হচ্ছে। তাঁরা পড়ছেন হয়তো ইংরেজিতে কিন্তু ভাবছেন বাংলায়। বিজ্ঞান কোনো জাতির জন্য নির্দিষ্ট নয় বলে বিশ্বের জন্য তাঁরা ইংরেজিতেই সেটার প্রকাশ করছেন। সেজন্য তাঁদের ইংরেজি শিখতে হয়েছে নিশ্চয়ই। আমাদের আজকের শিক্ষার্থীরাও ভালোমত ইংরেজি শিখবে। তাদের ইংরেজিতে দূর্বলতা কেন তৈরি হচ্ছে সেটা আমরাই খুঁজে বের করব এবং দূর করব। কিন্তু আমাদের ছেলেমেয়েরা ইংরেজি শিখবে কেবল সেটা আন্তর্জাতিক ভাষা বলে। বিজ্ঞানের ভাষা বলে নয়। বিজ্ঞানের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। যে ভাষাতেই বিজ্ঞানের সেই ভাষাকে অনুবাদ করা হোক তার অর্থ বদলে যায় না। বদলে যাওয়ার উপায় নেই বলেই সে বিজ্ঞান।

    উপরের এই অনুচ্ছেদে তার মুল যুক্তিটা আছে বলে আমি মনে করি। লেখক যদি মনোবিজ্ঞানীদের লার্নিং থিওরী নিয়ে রিসার্চ করে থাকেন তাহলে দেখেছেন আমাদের প্রত্যেকের শেখার প্রক্রিয়াটি ভিন্ন্, এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ লেখক যেটা বলেছেন সেটাব, প্রথম ভাষাটাই ব্যবহার হয় বেশী। আমরা যারা বাংলাদেশে বিজ্ঞান পড়েছি, গবেষনা করেছি,চর্চা করছি তাদের বিজ্ঞান শেখার ভাষা ইংরেজী (বিজ্ঞানকে সে যে ভাষায় আত্মস্থ করুক না কেন);এবং এর প্রয়োগ কোন ভাষায় তিনি করছেন তা নির্ভর করছে তিনি কোথায় আছেন। এখানে কি কোন বিতর্ক আছে।

    যারা এই বিষয়ে পর পর প্রবন্ধ লিখেছেন,তারা সবাই মেধাবী তরুন তারা দেশে গ্রাজুয়েশন করেছেন এবং বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বিজ্ঞান গবেষনা করছেন। এই লেখক যেমন জার্মানীতে গবেষনা করছেন। যারা তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে চায়, তারা সেই প্রজন্মকে কি উপদেশ দিচ্ছেন তাহলে। আমার মনে হয়না কোন বাস্তব সম্মত উপদেশ দিচ্ছেন।

    একই ভাবে বিজ্ঞানচর্চা করছেন এমন অনেকেও মন্তব্য করেছেন, তারা আসলে কি উপদেশ দেবেন, যারা এদেশে বিজ্ঞান পড়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সেই সব লেখকের মত জায়গা করে নিতে চান তারা কি করবেন? জার্মানীর সাথে বাংলাদেশের তুলনা হয়না । বিজ্ঞানের কমিউনিকেশনের ভাষাই ইংরেজী, এই লেখক জীববিজ্ঞানের, তিনি নিশ্চয়ই জানেন। ব্যক্তিগত একটা উদহারন দেই,আমাদের রিসার্চ টীম প্রতিবছর ECCMID এ যোগ দেয়,লেখক নিশ্চয়ই জানেন এটি ইউরোপীয় একটি সম্মেলন,এর ভাষা ইংরেজী।

    এছাড়া এই লেখক এবং প্রায় একই মতামত প্রকাশ করা আরেক লেখক দুজনেই বিজ্ঞান বিষয়ে লেখেন, যাদের পাঠক বিজ্ঞানপ্রেমী মানুষ (আমিও একজন);আমি যে ভাষায় বিজ্ঞান শিখি না কেন,আমারতো মাতৃভাষায় বিজ্ঞানকে আগ্রহী মানুষের মধ্যে সহজবোধ্য ( এই প্রবন্ধের লেখক অসাধারন সহজ ভাষায় বাংলা লেখেন, আমি তা আগ্রহের সাথে পড়েছি)করে লিখতেই পারেন। তার লেখা যে তার মত সাতক্ষীরার কোন মেধাবী ছেলেকে ( আমার বাড়ীও সাতক্ষীরার দেবহাটায় কাজীমহল্লা গ্রামে তাই বললাম) উৎসাহিতও করছে না তার পদাঙ্ক অনুসরন করতে তিনি কি তা জানেন।

    আমি মাষ্টারী করেছি, ক্লাস ভর্তি ছেলেদের চোখ দেখলে বুঝতাম কাকে আমি আসলে স্বপ্ন দেখাতে পারছি। এই স্বপ্নের শিকড়টা যদি বাস্তব সম্মত না হয়, তাহলে ?আমি বলতাম ‍বাংলায় বিজ্ঞানের বই কৌতুহলটা শুধু তৈরী করবে, কিন্তু পৃথিবীর সব জ্ঞান তার জন্য অপেক্ষা করছে আরেকটি ভাষায়, যে ভাষার অংশটুকু শিখতে বিজ্ঞানে অ্যাপটিচিউড আছে এমন কোন বাংলাদেশী ছাত্রর পক্ষে শেখা কোন ব্যাপারই না। যারা আসলেই বলছেন বিজ্ঞান চর্চা ( যার সাথে জড়িত তার মেধা ও পেশাগত উৎকর্ষতা , সফলতা সহ) জন্য ইংরেজীর কোন ভুমিকা নেই, তারা আসলে বর্তমান এই বৈশ্বিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে কিসের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন।

    আমি একজন মধ্যবয়সী বাংলাদেশী চিকিৎসা বিজ্ঞানী যে বাংলাদেশে তার জীবনের সেরা কিছু বছর দিয়েও বাংলাদেশে দাড়াবার সুযোগ পাইনি। আমি হাজার ব্যস্ততার মাঝে বাংলায় বিজ্ঞান লিখি। কোথাও হয়তো কেউ আমি একসময় যা পড়তে চাইতাম তার অপেক্ষায় আছে,সে পড়লে এখান থেকেই তার ঠিকানা করে নেবে,এটাই আমার বড় পাওয়া;

    বাংলাদেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আমি পড়েছি। ১৯৮১ সালে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে প্রথম ইংরেজী পরীক্ষায় ২৭ পেয়েছিলাম। আমার জীবনে এটি স্মরনীয় একটি ঘটনা। আমি ইংরেজীতে আর ফেইল না করলেও খুব ভালো করিনি কোনদিনও ।কিন্তু আমি ইংরেজীর গুরুত্ব বুঝেছিলাম। আমি যদি শুধু আমার ব্যাচের বন্ধুদের উদহারন দেই (.. সবসময় দেই কারন আমি একসাথে এত মেধাবী কোনদিন দেখিনি), আজ তারা দেশে এবং বিদেশে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য জায়গা তৈরী করে যাচ্ছেন (তাদের জন্য তাদের আগের প্রজন্ম যা করেছিল) তাদের বাংলা বা ইংরেজীর দক্ষতা ঈর্ষার সাথে স্মরণ করছি।

    আমরা কেন তাহলে আমাদের জীবন থেকে উপদেশ দেই না?

    Reply
    • সাঈদুজ্জামান

      রজিউদ্দীন রতন তাঁর লেখায় জাতীয় বিজ্ঞান চর্চার পলিসির স্বরূপ কী হওয়া উচিৎ তা নিয়ে আলোচনা করেছেন। বাংলাদেশের জাতীয় প্রেক্ষাপটে এটি খুবই প্রাসঙ্গিক রচনা।
      (১) “আমি একজন মধ্যবয়সী বাংলাদেশী চিকিৎসা বিজ্ঞানী যে বাংলাদেশে তার জীবনের সেরা কিছু বছর দিয়েও বাংলাদেশে দাড়াবার সুযোগ পাইনি।” কাজী মাহবুব হাসান দেশের নেতৃত্বের ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে ”চাচা আপন প্রাণ বাঁচা” নীতি অনুসরন করেছেন। এ নীতি অধিকাংশ মানুষ গ্রহণ করে বা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। তবে লড়াকু মানুষেরা সাধ্য মত লড়াই চালিয়ে যায়।
      (২)”তার লেখা যে তার মত সাতক্ষীরার কোন মেধাবী ছেলেকে ( আমার বাড়ীও সাতক্ষীরার দেবহাটায় কাজীমহল্লা গ্রামে তাই বললাম) উৎসাহিতও করছে না তার পদাঙ্ক অনুসরন করতে তিনি কি তা জানেন।” মন্তব্যটির মধ্যে ভুল যুক্তি আছে। রতন তাঁর লেখাপড়ার প্রথম স্তরগুলি বাংলাতেই করেছেন। তা সত্বেও তিনি এখন জার্মান ভাষার পরিমন্ডলে একটি বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করছেন। এই ইনফরমেশনটুকুই বলে দেয় বাংলাদেশের বাংলায় পড়ুয়া ছাত্ররা রতনকে অনুসরণ করার যোগ্যতা রাখে। ঢাকার ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল থেকে পাশ করা ছাত্রদের দৌঁড় কত দূর বিজ্ঞান গবেষণায়? দয়া করে একটু খোঁজ নিন।
      (৩) “ব্যক্তিগত একটা উদহারন দেই, আমাদের রিসার্চ টীম প্রতিবছর ECCMID এ যোগ দেয়, লেখক নিশ্চয়ই জানেন এটি ইউরোপীয় একটি সম্মেলন,এর ভাষা ইংরেজী।” এটা ঠিক যে ইংরেজি ইন্টারন্যাশনাল ভাষা। ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্সগুলিতে ভাষা মাধ্যম হিসাবে ইংরেজিই প্রচলিত। এক্ষেত্রে ইংরেজি জানা থাকলে ভালো হয়। ইংরেজিতে রিহার্সেল বা কোন সহকারীর দরকার হয় না। উল্লেখ্য, বিষয়বস্তুর উপর যদি গভীর দখল থাকে, তবে সহজেই কনফারেন্সের প্রশ্নোত্তর পর্বটি পার করা যায়। শুধুমাত্র ভালো ইংরেজি জানলে চলে না। এখানে আরো একটি তথ্য না দিলেই নয়, সেটি হলো, চীন ও জাপানের বহু জাদরেল বিজ্ঞানী তাঁদের ইংরেজি না জানার প্রেক্ষিতে ইংরেজি জানা ইউরোপিয়ান বা আমেরিকান বিজ্ঞানীদেরকে সহ-লেখক বা সহ-গবেষক হিসাবে গ্রহণ করে থাকে। এতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রচারণা ও পদচারণা সহজ হয়। নোবেল পুরষ্কার পা্ওয়ার লক্ষেও তাঁরা এই কৌশল গ্রহণ করে থাকে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিজ্ঞানের যৌথ গবেষণা একটি মহৎ প্রথা।
      সুতরাং বিজ্ঞান চর্চায় গবেষকের প্রথম শেখা ভাষাটিই শ্রেয় ভাষা যা তাকে বিষয়বস্তুর অতি গভীরে নিয়ে সৃষ্টির প্রেরণা ও প্ররোচনা দিতে পারে।
      রতনের সুন্দর রচনার জন্য আবারও ধন্যবাদ।

      Reply
    • দেবজ্যোতি বসু সরকার

      প্রিয় কাজী মাহবুব হাসান,

      আপনার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, আমি জানি না নেচার বা ল্যানসেট বা সায়েন্সে আপনার কয়টা গবেষণা প্রবন্ধ আছে। তবে আমি এতটুকু বলব এটা খুবই আফসোসের যে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজের চেয়ে বড় মেধাবীদের হাবের সংস্পর্শে আপনি আসতে পারেননি। সেই কুয়োর ব্যাঙের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।

      যাহোক, আমি নিজে অথরিটিতে শ্রদ্ধাশীল নই, তবে এটা জানি কেউ কেউ প্রকৃত অর্থেই কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে অধিকতর গ্রহণযোগ্য। সে ক্ষেত্রে আমি অবশ্যই আপনার চেয়ে আচার্য সত্যেন বসুকে বেশি গ্রহণযোগ্য হিসেবে মানব। তিনি বলেছিলেন,
      “যে ব্যক্তি মনে করেন বাংলাভাষায় বিজ্ঞানচর্চা করা সম্ভব নয়, হয় তিনি বাংলা জানেন না, অথবা বিজ্ঞান বোঝেন না।”

      আরেকটি কথা, আমি যে অধ্যাপকের তত্ত্বাবধানে গবেষণা করছি উনি কিন্তু পিএইচ-ডি শেষ করার আগেই ন্যাচারে একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন এবং নাসার ওয়েবসাইটে ওর সাক্ষাৎকারও প্রকাশ করা হয়েছে।

      Reply
  23. ফাহাম আব্দুস সালাম

    পড়ে খুব ভালো লাগলো। কী সুন্দর হয়েছে লেখাটা! কী বলিষ্ঠ আর সৎ তার আবেগ! আমার খুবই গর্ব হচ্ছে যে এই ছেলেটি আমার ছাত্র। কিছুদিন মাত্র যে শিক্ষকতা করেছিলাম দেশে সেজন্য এতোটা গর্ব কোনোদিন অনুভব করি নি, আজ করছি – হোক না সেটা আমারই লেখার বিরোধিতা। কোনো তর্কের অবকাশ নেই আজ – আজ শুধুই ভালো লাগা – সময়ই বলে দেবে কে ঠিক ছিলো আর কে ভুল।

    Reply
  24. খান মুহাম্মদ

    খুব ভাল লিখেছেন। আমার অনেকগুলো ধারণাও এখানে এসে গেছে। ফাহাম আবদুস সালাম বিজ্ঞান শিক্ষা নিয়ে সম্পূর্ণ অবৈজ্ঞানিক একটি নিবন্ধ লিখেছিলেন বলে আমার মনে হয়েছিল। কারণ তার লেখার যুক্তিগুলো ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আর বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের বুলি থেকে নেয়া। কিন্তু বিজ্ঞান বা বিজ্ঞান শিক্ষা বিষয়ক গবেষণা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বা বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের বুলি দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। প্রয়োজন পড়ে সত্যিকারের গবেষণা এবং গবেষণাপত্রের। আপনি স্টিভেন পিংকারের কথা বলেছেন, এবস্ট্রাক্টটির চমৎকার একটি অনুবাদ করেছেন। খুব দৃঢ় একটি কথা বলেছেন- ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা, বিজ্ঞানের ভাষা নয়। এবস্ট্রাক্ট সাধারণ মানুষের জন্য লেখা হয় এমন ভ্রান্ত কথা ছিল পূর্বোক্ত লেখাটিতে। কিন্তু সত্যি হচ্ছে, এবস্ট্রাক্ট সাধারণ মানুষ নয়, বরং ঐ ক্ষেত্রে যারা গবেষণা করে তাদের জন্যই লেখা হয়। কেউ যদি এবস্ট্রাক্টটি বুঝতে না পারে তাহলে সেটা তার ভাষার দুর্বলতার জন্য নয়, বরং বিজ্ঞানের দুর্বলতার জন্য।

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এসে গেছে আপনার লেখায় কিছুটা: ইংরেজিতে খুবই দুর্বল কিন্তু বাংলা-বিজ্ঞান-গণিতে দুর্দান্ত এমন ছাত্র পাওয়া খুব বিরল। যে দুর্বল সে পড়াশোনায় যথেষ্ট উৎসাহ পায় না বলেই দুর্বল, ইংরেজির প্রতি তার বিশেষ ভীতি রয়েছে বলে নয়। সুতরাং সামগ্রিকভাবে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি এবং ইংরেজি শিক্ষার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনলেই আমাদের ইংরেজির অবস্থা ভাল করা সম্ভব এবং সেটা অনেক দরকারও। কিন্তু ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের মাধ্যমে বাঙালিদের ইংরেজায়নের প্রক্রিয়া অপ্রয়োজনীয়।

    আর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা এখন ইংরেজিতে আছে সেটা আমি বিশ্বাস করি না। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে কথাবার্তা নিশ্চই ইংরেজিতে হয় না। ইংরেজি পাঠ্যবই পড়িয়ে, ইংরেজিতে পরীক্ষা নিয়েও বাংলায় ক্লাস নেন শিক্ষকরা। বাংলায় যদি তড়িৎ প্রকৌশলের ক্লাস নেয়া যায় তাহলে বই লেখা যাবে না কেন? বাংলা একটু বেশি চর্চা করলেই আমরা ইংরেজিতে গোল্লা পাব এমনটা ভাবার কারণ নেই। দুটোকে একসাথেই চালানো সম্ভব বলে মনে করি। অন্তত অস্ট্রিয়া-ইতালি-জার্মানি তে পড়াশোনা শেষে আমার তাই মনে হয়েছে।

    গোটা দেশ হোক দ্বিভাষিক, তবে বাংলা হোক সবকিছুতে প্রথম।

    Reply
  25. সৈয়দ আলী

    আমি এই কচকচির মধ্যে যেতেই চাইনা। তবে সততার সঙ্গে বলতে পারি, আজ পেশাদারী জগৎ এতই বিস্তৃত যে এক পেশার পুস্তকাদি বা দস্তাবেজ ইংরেজী ভাষায় লিখা হলেও, অন্যদের কাছে গ্রীক মনে হবে (গ্রীকদের কাছে হিন্দি মনে হলে হতেও পারে)। লেখক এখানে তার পেশাসংশ্লিষ্ট খটোমটো কিছু দিয়ে আমাদের দৌড়ে পলায়নে উৎসাহিত করেছেন। আমিও আমার পেশার এমন কিছু উদাহরণ দিতে পারি যা অন্যদের কাছে বিস্বাদ মনে হবে। তাই এ্যাবষ্ট্রাক্টটি কী তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে তা গ্রহীতার কাছে যথাযথ পৌছানো। এখন ইংরেজি হলেই বিষবৎ পরিত্যাজ্য তা নিছক গোয়ার্তুমি মাত্র, যেখানে বাংলাদেশে বাংলা ভাষাতে উচ্চপর্যায়ের একাডেমিক পুস্তকাদি বা গবেষনাপত্র প্রায় অস্তিত্বহীন। (কেন চল্লিশ বছরেও পেশাদারী ও একাডেমিক পুস্তক বাংলায লিখা/অনুদিত হয়নি, তা লাল-নীল-সাদা-হলুদ-গোলাপী শিক্ষক নামের রাজনৈতিক মস্তানদের রাস্তায় ফেলে গলায় পা দিয়ে জিজ্ঞেস করলে আমরা না হয় অন্যদিকেই তাকিয়ে থাকবো)। আমি সুবিধাবদী একটি মাঝামাঝি পন্থা বাতলাই (যা আমি নিজে আমার জীবনে প্রয়োগও করেছি)। যদ্দিন বাংলায় যথেষ্ট পেশাদারী ও উচ্চতর শিক্ষার পুস্তক/গবেষনাপত্র পুরোপুরি না লিখা হচ্ছে, তদ্দিন নাহয় পড়লেনই ইংরেজীতে লেখা পুস্তকাদি! মনে রাখা উচিৎ, অনুবাদ খুব সহজ কাজ নয়। সব বক্তব্য বা ভাষা অনুবাদ করা যে কী প্রায় অসম্ভব তার উদাহরণ দিয়েছিলেন সৈয়দ মুজতবা আলী। তিনি বলেছিলেন,’করতো অনুবাদ, “পান্তাভাতে কাঁচা লঙ্কা চটকে এই মাত্তর এক সানকি গিলে এলুম”।

    Reply
    • অনুপমা হক

      “পান্তাভাতে কাঁচা লঙ্কা চটকে এই মাত্তর এক সানকি গিলে এলুম”- এই চরণটির অনুবাদ করা কেন প্রয়োজন একটু বুঝিয়ে বলবেন? উদাহরণ হিসেবে এইটি অত্যন্ত নিকৃষ্ট হয়েছে কারণ বিষয়বস্তুর সাথে এইটে সম্পর্কহীন। সব ভাষারই কিছু নিজস্বতা থাকে যাকে অনুবাদ করা যায় না। আপনি পারবেন “মিস ইউ” এর আবেগ বাংলায় অনুবাদ করতে? “আমি তোমার বিরহে কাতর”- কিন্তু ভাবানুবাদ, তারপরেও সে “মিস ইউ”কে ঠিক যেন প্রকাশ করতে পারে না।

      হ্যাঁ, অনুবাদ সহজ না। কেউ বলেনি সহজ। কিন্তু এইটা কি কোন কারণ হতে পারে “ইংরেজিতে বিজ্ঞান শিখিতে বাধ্য হইবেন” বলার? ভাষা ভাব প্রকাশের মাধ্যম। বিজ্ঞান ভাব প্রকাশের মাধ্যম না- ঐটা জ্ঞান আহরণের একটি পদ্ধতি।

      Reply
  26. নয়ন

    আপনার লেখাটির সঙ্গে সহমত জ্ঞাপন করছি। আমিও বিজ্ঞানের ছাত্র। ইংরেজী জ্ঞান আমার খারাপ না কিন্তু আপনার মতই – “ইংরেজী আমার কাছে গরম পানি দিয়ে তেষ্টা মেটানোর মত”। আমি সবসময়ই অনুভব করি, আমার পাঠ্যবই গুলো যদি বাংলায় হত তাহলে আমি আরও অনেক কিছু নিজে নিজে শিখতে পারতাম।

    এখন যেমন নিজের প্রয়োজনের বাইরে আমি ইংরেজীতে পড়া বা লেখা কোনটিই করিনা কারন শুধু শুধু গরম পানি কি কেউ ইচ্ছা করে খায়। সব কিছু বাংলায় হলে নিজের ইচ্ছাতেই হয়ত অনেক কিছু পড়তাম যেভাবে এখন রবীন্দ্র বা শরৎ পড়ি।

    Reply
  27. মোস্তাফিজুর রহমান সোহাগ

    মানুষ সকল ভাষাই শিখতে পারে পারষ্পারিক যোগাযোগকে সহজ করার জন্য ।শুধু ইংরেজী কেন ? সেটা মান্দারিন,স্প্যানিশ,আরবী বা ইংরেজী যে কোন ভাষাই হতে পারে । বিজ্ঞান তথা বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষা আবশ্যকীয় প্রতিটি মানুষের জন্য । তাই বলে সবাইকে সেটা ইংরেজীতে চর্চা করতে হবে এমন তো মানে নেই । পড়াশোনা তথা শিক্ষা পুরোটাই বোঝাপড়ার ব্যাপার । বিজ্ঞান শিক্ষা যদি আমি মাতৃভাষায় শিখতে পারি তহলেও কোন সমস্যা থাকার কথা না । অনেকেই ইংরেজ-মার্কিন তথা পশ্চিমাদের প্রেমে পড়ে ইংরেজীকে আবার অনেকেই ধর্মের দোহাই দিয়ে আরবি,সংস্কৃত ভাষাকে মাতৃভাষার উপরে স্থান দিয়ে এর পক্ষে শেষ যুক্তিটিও তুলে ধরতে চান ।আমাদের দেশে এর সংখ্যা নেহাত কম নয় । কবির সাথে সহমত রেখে বলতে চাই,
    “যে সব বঙ্গেতে জন্মে হিংসে বঙ্গ বাণী,
    সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি ।”

    Reply
  28. sohail

    খুব সুন্দর বিশ্লেষণের জন্য লেখককে অনেক ধন্যবাদ। তবে আমি বিজ্ঞানের পরিভাষাগুলোকে অনুবাদ করনের পক্ষপাতি নই।

    Reply
  29. পাঠক

    ফাহাম আবদুস সালাম তাঁর লেখায় বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরীর বরাত দিয়ে বলেছেন, কগনিশনের বাংলা করা সম্ভব নয়। কগনিশনের চমৎকার একটি বাংলা রয়েছে, অবধারণ। সেটি তাঁকে জানিয়েছিলাম মন্তব্যে, মন্তব্যটি প্রকাশিত হয়নি।

    কগনিশন আর অভিসন্দর্ভের মুখবন্ধের হিংটিংছট দিয়ে ফাহাম আবদুস সালাম যেটা বলতে চেয়েছেন, তা হচ্ছে, বিজ্ঞানের গুরুভার এবং সূক্ষ্মধার ধারণে বাংলা অক্ষম একটি ভাষা। তিনি বারট্রান্ড রাসেল পড়ে লোকজনকে বাংলা চর্চার পরামর্শও দিয়েছেন। আমি ফাহাম আবদুস সালামকে একটু কষ্ট করে সৈয়দ মুজতবা আলী, রাজশেখর বসু আর শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা পড়তে বলি।

    Reply
    • ফাহাম আব্দুস সালাম

      আপনার প্রশ্নের উত্তরটি দেয়া হয়েছে আমার লেখার নীচে, বিস্তারিত ভাবে। সংক্ষেপে বলি, আপনি সম্ভবত Cognition এবং “অবধারণ” দুটো শব্দের একটিরও অর্থ জানেন না দেখে এরকম হাস্যকর মন্তব্য করেছেন। আমার পরামর্শটি যদি বা আপনার পছন্দ না হয় জেনে রাখুন যে সমস্ত বাংলা লেখকের তারিফ আপনি করছেন, সম্ভবত এদের কেউই ইংরেজি না জানলে, না আত্মস্থ করলে আপনার প্রশংসার পাত্র হতেন না। আপনাকে কে বললো যে এঁদের লেখা আমি পড়ি না?

      Reply
  30. সাফওয়াত আবেদীন

    আপনার প্রতি শ্রদ্ধা রইল ওই ‘বিভ্রান্তিমূলক’ লেখাটির যুক্তিগুলো খন্ডন করে এরকম একটি অসাধারণ লেখা লেখার জন্য।
    যে নিজের মাতৃভাষার গভীরতাকে অনুভব করেনি, যে বোধহয় নিজেকেও অনুভব করেনি।

    Reply
  31. এফ কে এস

    লেখক বিজ্ঞানের কোণ শাখায় গবেষনা করছেন জানালে ভালো হতো। ফাহাম আব্দুস সালামের দেয়া এবস্ট্রাকট হয়তো আপনি তার কাছাকাছি বিজ্ঞান চর্চা করেন বলে অল্প পরিশ্রমে করতে পেরেছেন কিন্তু বিজ্ঞানের অন্য শাখা বা বিজ্ঞানের বাহিরের মানুষের জন্যে ভালো বাংলায় কি এই এবস্ট্রাকট বুঝানো সম্ভব??

    Reply
    • Rony Ronouk

      আপনার মন্তব্যটি আমরা যারা সাধারণ মানুষ আছি, তাদের সবারই জন্য প্রযোজ্য । বিজ্ঞানের খটমট শব্দ গুলো বুঝতে আমাদের মাঝে মাঝে হিমশিম খেতে হয় । তবে এই ধরনের ক্ষেত্রে রাজিউদ্দিন রতন ভাই, দ্রোহী সচলায়তন ভাই এর মত বিজ্ঞান মনস্করা যদি এগিয়ে আসেন তবে মনে হয় না, আমাদেরকে বিজ্ঞানের খটমট শব্দ গুলো বুঝতে গিয়ে অথৈ সাগরে পড়তে হবে। আর আমরা যে যেই ক্ষেত্রে আছি, তারা যদি আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করি, তবে অবশ্য অবশ্যই ধীরে ধীরে আমাদের বাংলা ভাষাও বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে ।

      Reply
    • জাহিদুল ইসলাম

      আপনার মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই বলছি জনাব সালামের উদাহরনসরূপ দেয়া ঐ এবস্ট্রাকটটি কি বিজ্ঞানের ঐ শাখায় কাজ করেনা এমন একজন ইংরেজীভাষীর কাছেও কি বোধগম্য?

      Reply
    • নয়ন

      আপনি বোধ হয় লেখকের বক্ত্যবটি ঠিকমত পড়েন নি। লেখক খুব পরিস্কার করে লিখে দিয়েছেন যে তার ইংরেজ ভাষী এক বন্ধু যে কিনা বিজ্ঞানের ছাত্র নয়, সে এই লেখা পড়ে কিছুই বুঝতে পারেন নি। তাহলে যার মাতৃভাষা ইংরেজী সেই যদি এবস্ট্রাকটের লেখাটির অর্থ বুঝতে না পারেন, তাহলে বাংলা দিয়ে কীভাবে সম্ভব?

      আর একটা কথা। এবস্ট্রাক্ট কিন্তু বিজ্ঞানের বাইরের কারও জন্য লেখা হয় না। এবস্ট্রাক্ট লেখা হয় গবেষনাপত্রটির সারমর্ম কি তা জানানোর জন্য। তাই যেই বিষয়ের উপর গবেষনাপত্রটি লেখা সেই বিষয়ে জ্ঞান নেই এমন কেউ (সে যে ভাষারই হোক না কেন) এবস্ট্রাকট বুঝতে পারবেন না।

      Reply
    • ধুসর গোধূলি

      লেখক তো ভাই আপনার কথাটাই বলতে চেয়েছেন। যে কোনো এ্যাবস্ট্রাক্ট বুঝতে হলে ‘সেই বিষয়ে’ [আই রিপিট, সেই বিষয়ে] জ্ঞান থাকাটা বাধ্যতামূলক হতে হবে। ভাষার ওপর পাণ্ডিত্য আপনাকে সেই এ্যাবস্ট্রাক্টটি বুঝতে সাহায্য করবে সামান্যই।

      এখন এ্যাবস্ট্রাক্ট আরবী, ফার্সী, হিব্রু, হিন্দী, আংরেজি, হিস্পানিক, ফরাসী, বাংলা— যে ভাষাতেই লেখা হোক কোনো লাভ নাই, যতোক্ষণ পর্যন্ত না আপনি মূল বিষয়টা অনুধাবন করতে পারছেন! এবার আপনি বলেন, আপনাকে একটা জিনিস বুঝাতে হলে (মতান্তরে অনুধাবন করাতে হলে) কোন ভাষাটা নির্বাচন করলে আপনার জন্য সহজ হবে!

      Reply
    • এড লালন

      বাংলা, ইংরেজী যে ভাষায় লেখা হোক, গবেষণা পত্রের এবস্ট্রাক্ট সাধারণ মানুষের বোধগম্য না হওয়াটা স্বাভাবিক। সাধারণ পাঠককে টার্গেট করে লেখা হয় পপুলার সাইন্স বা গণ বিজ্ঞান, যেমনঃ আব্দুল্লাহ আল মুতী, রিচার্ড ডকিন্স, স্টিফেন হকিন্সের বিজ্ঞান বিষয়ক সব পুস্তক (গবেষণা পত্র বাদে)।

      Reply
    • Rupak

      “লেখক বিজ্ঞানের কোণ শাখায় গবেষনা করছেন জানালে ভালো হতো।” – অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য। আর একটা থিসিস পেপার, বৈজ্ঞানিক জার্নাল, বা ঐ মানের একটি প্রব্ন্ধ একই বিষয় নিয়ে কাজ না করে এক্জন সহজে বুঝতে পারবে এটা কেন ধরে নিচ্ছেন?

      Reply
    • রজিউদ্দীন রতন

      আপনার প্রশ্ন: “বিজ্ঞানের অন্য শাখা বা বিজ্ঞানের বাহিরের মানুষের জন্যে ভালো বাংলায় কি এই এবস্ট্রাকট বুঝানো সম্ভব?’

      যদি বুঝিয়ে বলতে চান তাহলে সম্ভব। এবং বাঙালিদের জন্য তা বাংলাতেই সবচে ভালোভাবে সম্ভব। একটি কথা কিন্তু আমি আমার লেখাতেই ব্যাখ্যা করে বোঝাতে চেয়েছি, সেটা হচ্ছে, এইসময়ের একটি গবেষণা প্রবন্ধ ঝট করে বুঝে উঠতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আপনার জানাশোনা থাকতে হবে। তা না হলে, আপনি বাঙালী হন বা ইংরেজ, এই সময়ের গবেষণা প্রবন্ধ আপনি বুঝে উঠতে পারবেন না।

      Reply
  32. সৈকত আরেফিন

    রজিউদ্দীন রতনের এই লেখাটি পড়ে অনেক স্বস্তি পেলাম; ফাহাম আব্দুস সালামের আগের লেখাটি আমার অবস্থানকে প্রায় নড়িয়ে দিয়েছিল, দ্বিধান্বিত হয়ে গেছিলাম যে, তাহলে কি বিজ্ঞানের ভাষা কেবলই ইংরেজি! রতন, আপনি এই রচনাটি না লিখলে আমার দ্বিধা বরং আরও প্রলম্বিতই হত। ধন্যবাদ রজিউদ্দীন রতন।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—