Feature Img

tushar-fআপনাদের মনে আছে নিশ্চয়ই যে আমি এবং পরে আমার কিছু বন্ধু আমার সাথে যোগ দিয়ে সুন্দরবনকে নিয়ে এসএম্এস বানিজ্যের যে খেলা শুরু হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে লিখেছিলাম। কিছু মানুষ আমাদের দেশপ্রেম নিয়ে কটাক্ষ করেছিলেন। কিছু পত্রিকা সরাসরি প্রচারণায় নেমে পড়েছিল সুন্দরবনকে জেতানোর লক্ষ্যে। আমাদের কথার যুক্তিগুলোকে সরাসরি উপেক্ষা করে তারা নেমেছিলেন কোটি মানুষের আবেগ নিয়ে প্রতারণা করে কিছু মানুষের ব্যবসাকে সফল করার লক্ষ্যে। এখন তো সুন্দরবন হেরে গেছে । কেন হারলো সেটার কোন ব্যাখ্যা নেই। তারা অবশ্য বলেছেন যে সুন্দরবন আশানুরূপ ভোট পায়নি। আশা কত ছিল? আশা ছিল বাংলাদেশ থেকে ১০০ কোটি এসএম এস হবে। পাঁচ কোটি মোবাইল গ্রাহক বিশটা করে এসএমএস করবেন। এমন আশা ব্যক্ত করেছিলেন আমাদের পরিবেশমন্ত্রী। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভোট দিয়েছিলেন। দেশের পুলিশ বাহিনী নেমে পড়েছিল প্রচারণায়। প্রতিযোগিতা শেষ হবার পর আমরা জেনেছি যে সরকার নাকি এক কোটি আশি বা নব্বই লাখ টাকা বরাদ্দ করেছিলেন সুন্দরবনকে ভোট দিতে প্রচারণা চালানোর জন্য।

সরকার যখন কোন টাকা বরাদ্দ দেবেন তখন সেই কাজের জন্য যথাসম্ভব যোগ্য মানুষদের নিয়োগ দেবেন। এর জন্য টেন্ডার করা উচিত ছিল। সংশোধিত পিপিপি অনুযায়ী মোট প্রাক্কলিত ব্যয় দুই কোটি টাকার উপরে গেলে অভিজ্ঞতাসম্পন্নদের জন্য টেন্ডার করতে হয়। সরকার কেন যেন ঠিক দুই কোটি টাকার কিছু কম বরাদ্দ দিলেন। যাতে অনভিজ্ঞদের টাকা বরাদ্দ করা যায় সেই জন্য? সুন্দরবনকে নিয়ে প্রচারনার জন্য পুলিশ নেমে পড়ল। পুলিশের নাকি মহা সমস্যা। অপরাধ নিয়ে কিছু বলতে গেলে তারা বলেন তাদের টাকা নেই, পোষাক নেই, অস্ত্র নেই, গাড়ী নেই, লোকবল নেই। এত হাহাকারের মধ্যে থাকা আমাদের পুলিশ বাহিনী শেরাটনের কাছে একটা ডিজিটাল বোর্ড লাগিয়ে দিল, সুন্দরবনকে ভোট দিন। এই কথা ব্যানারে ছাপলে খরচ হতো ওই ডিজিটাল বোর্ডয়ের চেয়ে বহুগুন কম। সেখানে আবার লেখা উঠছিল আর মাত্র দুদিন বাকি, একদিন বাকি। আপানারা নিশ্চয়ই দেখেছেন শহরে বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ এরি মধ্যে কিছু ডিজিটাল বোর্ড আগেই লাগিয়েছিল। যেখানে হাস্যকর বানান ভুলে নানা রকম ট্রাফিক উপদেশ দেয়া হয়, গাড়ী চালকদের। যার মধ্যে একটি হলো মাছ যেমন পানিতে আকাবাঁকা চলে তেমন করে রাস্তায় গাড়ী চালাবেন না। যাই হোক সেই বোর্ডগুলি থাকতে আলাদা করে আবার কেন একটা বোর্ড ঝুলাতে হলো পরীবাগের ওভার ব্রীজে?

পুলিশের নাকি লোকবল নেই। তাহলে শহরের কয়েক হাজার পুলিশকে টিএসসিতে জড়ো করে ভোটাভুটি করার নাখাস্তা বুদ্ধি কার মাথা থেকে এল? দেশের পুলিশের কাজ কি এরকম কাজে সরাসরি অংশ নেয়া, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের প্রচারণা করা, নাকি যারা এগুলো করে তাদের নিরাপত্তা দেয়া? এধরনের কাজ তারা তাদের রাজারবাগ পুলিশ লাইনেও করেছে। পুলিশের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিজে এই কাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন। যেন সুন্দরবনকে জেতানো পুলিশের মহান দায়িত্ব। পুলিশ দিনে দুপুরে এই কাজ করেছে সরকারী কাজ বাদ দিয়ে। এটা কি বিধিসম্মত? একটি বিদেশী সংস্থার আর্থিক লাভ জড়িত ছিল এই পুরো আয়োজনে। কারণ প্রতিটি এসএমএস থেকে টাকা পাবে নিউ সেভেন ওয়ান্ডার্স ফাউন্ডেশন নামের এই বিদেশী প্রতারক সংস্থাটি। সেই বিদেশী প্রতারকের আর্থিক লাভের জন্য পুলিশের কাজ করা কি নৈতিক? কালকে কি পুলিশ চাইলে ইউনিলিভারের ক্লোজ আপ ওয়ানের জন্য ভোট সংগ্রহ করতে পারবে কিংবা মীর আক্কেলে আমাদের দেশের কোন প্রতিযোগী থাকলে তার জন্য প্রচারণা চালাতে পারবে?

এখন কিছু মানুষ রেগে গেছেন। তারা বলছেন, আরে ভাই, সুন্দরবন জিতলে তো দেশের লাভ হতো। সুন্দরবন জিতলে নাকি পর্যটকরা দলে দলে দেশে আসতেন এবং দেশ বৈদেশিক মুদ্রায় সয়লাব হয়ে যেত। প্রথম আলোর প্রথম পাতায় পত্রিকাটি ২৩ নভেম্বর লিখেছে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে একটি নৌপথে গত ছয় মাস ধরে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ টি মালবাহী নৌযান চলাচল করে। এতে করে উচ্চ শব্দ, হর্ণের হুংকার, তেল ও বর্জ্য দিয়ে বনের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে এবং প্রাণী জগতে বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। মাত্র ত্রিশটি জাহাজ চলছে যেগুলো মালবাহী। মালবাহী জাহাজে মানুষ কম থাকে। এবার চিন্তা করুন তো দলে দলে পর্যটক আসছেন এবং তারা সুন্দরবন দেখতে যাচ্ছেন। মাত্র ২৫ টি জাহাজে কি তাদের হবে? একটি জাহাজে কি পরিমান মানুষ থাকবে? তারা তো জংগলে ঢুকবেন। তখন কী হবে? ফলে সুন্দরবন জিতলে বনটাই বিলীন হবার সম্ভাবনা ছিল। কেবল তাই নয় বন্য প্রাণীকে বিরক্ত করলে তাদের প্রজণন কমে যায়। বিশেষ করে বাঘের বেলায় এটি বেশী। তাই বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী বাঘের বারোটা বাজানোর এই আয়োজনে এত উৎসাহ কেন ছিল আমাদের পুলিশের এবং সরকারের? কেন প্রথম আলো এখন বুঝতে পারল মাত্র কয়েকটা জাহাজ চললে যে বনের বারোটা বাজে, সেই বনে বছরে লাখ লাখ পর্যটক ঢুকলে কী হতে পারে? কিছু মানুষ আমাকে এখন ইকো ট্যুরিজম নিয়ে জ্ঞান দিতে শুরু করবেন। সব বনে ইকো ট্যুরিজম করতে হয় না। শরীরের সব ছিদ্র দিয়ে যেমন আমরা খাই না, তেমনি সব জায়গায় পর্যটক প্রবেশ করানোর বুদ্ধি এক ধরনের অবিমৃষ্যকারিতা, ইকো ট্যুরিজম না। সবকিছু বেচে পয়সা কামাতে হয় না, কিছু জায়গার কেবল ছবি বেচতে হয়। সুন্দরবন হলো সেইরকম বন, যার ছবি দেখবে মানুষ বেশী, যাবে সেখানে কম।
এবার আসি ভোটের সংখ্যায়। আমরা আগেই বলেছিলাম যে এই প্রতিযোগিতার ভন্ড আয়োজক সংস্থা ভোটের সংখ্যা বলে না। ফলে যে ভোটের সংখ্যা গোপন থাকে সেই ভোটের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন থাকাই স্বাভাবিক। সুন্দরবন মোট কতগুলি ভোট পেয়েছে এবং অন্যান্য প্রতিদ্বন্দীরা কতটি ভোট পেয়েছে সেটা বলতে কোন সময় লাগা উচিত নয় বরং ভোট গুনেই যদি এই স্থান ঘোষণা করা হয়ে থাকে, তবে ধরে নিতে হবে প্রতিটি ভোটের হিসাব করা হয়েছে, ফলাফল ঘোষণার আগেই। তাহলে ভোটের সংখ্যা নিয়ে এই লুকোচুরির কারণ কী? কারণ হলো এই ভন্ড ওয়েবার এবং তার সহযোগীরা গতবারের মতো এবারো বলেছে এবং আরো বলবে যে তাদের কোন লাভ হয়নি। ভোটের সংখ্যা বলে দিলে আপনি আন্দাজ করতে পারবেন যে কী পরিমাণ আয় হতে পারে। এটা বুঝলে লস এর হিসাব দেয়া কঠিন । তাই তারা ভোটের সংখ্যা বলে না, স্পন্সরশীপের অর্থ লুকিয়ে রাখে। তবে মালদ্বীপের কাছে তারা পাঁচ লাখ ডলারের সুবিধা চেয়েছিল–এটা মালদ্বীপ সরকারীভাবে বলেছে। এটাকে সাধারণ মান ধরে নিলে বলতে হয় অন্তত ২৮ টি প্রতিযোগীর কাছ থেকে এক কোটি চল্লিশ লাখ ডলার এমনিতেই তারা আদায় করেছে হয়তো। টাকার অংকে এটি প্রায় একশ পনের কোটি টাকার মতো। এর বাইরে আছে স্পন্সরশীপ ও এসএমএস থেকে পাওয়া আয়। কিন্তু আগেরবারও তারা বলেছিল তাদের কোন লাভ হয় নাই, এবারও তারা বলছে তাদের কোন লাভ হয় নাই।

আমাদের দেশে সুন্দরবনকে ভোটাভুটির জন্য স্পন্সর যোগাড় করা হয়েছিল। একটি বেসরকারী ব্যাংক টাকা দিয়েছে বলে আমরা জেনেছি। আমাদের এখানে যারা এগুলো করলেন, তারা কি তাদের এই মহৎ চাঁদাবাজী করে সংগৃহীত আয়ের হিসাব দেবেন? তাদের কি কোন লাভ হয় নি? শুনেছি বিটিআরসি প্রতি এসএমএস এ টাকা পেয়েছে। বিটিআরসি কি বলবে কত টাকা তারা পেল? তার মানে সুন্দরবন হারলেও কিছু মানুষের আয় ঠিকই হয়েছে আর বৃহত্তর জনগণ প্রতি ভোটের জন্য ২ টাকা ত্রিশ পয়সা করে দিয়েছেন। যারা বিশটি ভোট দিয়েছেন তাদের খসেছে ছেচল্লিশ টাকা। শুনেছি মানননীয় প্রধানমন্ত্রীও ভোট দিয়েছেন। তাহলে তারও পকেট থেকে গেছে ছেচল্লিশ টাকা আর এর মধ্য থেকে তের টাকা ষাট পয়সা গেছে ভন্ড প্রতারকের হাতে। এবার আরেকটি প্রশ্ন। দেশ থেকে টাকা বিদেশে পাঠাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি লাগে। এই প্রতারকরা কোটি টাকা কোন পথে নিয়ে যাবে কিংবা যাচ্ছে?

ইন্দোনেশিয়াও এটিকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তাদের পর্যটন মন্ত্রনালয়কে এই আয়োজকরা পুরষ্কার বিতরনীর সকল খরচ বহন করে হোস্ট নেশন হতে চাপ দেয়। সরকার রাজী না হওয়াতে তারা কমোডো ন্যাশনাল পার্কের প্রস্তাবকারী হিসেবে মন্ত্রনালয়ের নাম কেটে দেয় এবং এটিকে বাদ দেয়ার হুমকি দেয়। তাদের মন্ত্রী জিরো ওয়াচিক এই সংগঠনের বিরুদ্ধে ইন্দোনেশিয়ার ভাবমূর্তী নষ্ট করার চেষ্টার দায়ে মামলা করার কথাও বলেছেন। এই লিংকটি দেখুন http://www.thejakartaglobe.com/home/indonesia-under-attack-by-new7wonders-foundation-tourism-ministry/423012 এবং এই লিংকটি দেখুন http://www.thejakartapost.com/news/2011/02/08/komodo-may-be-7wonders-list-after-ri-nixes-payment.html তারা ইন্দোনেশীয় সরকারের কাছে চেয়েছিল দশ মিলিয়ন বা এক কোটি ডলার। অথচ পরে তারা কমোডোসকে প্রতিযোগীতায় রেখে দেয় এবং কোন অফিসিয়াল সমর্থন না থাকলেও তাতে তারা প্রথম সাতের মধ্যেও রেখেছে। তার মানে তারা এই প্রতিযোগীতায় কোন স্বচ্ছ নিয়মকানুন অনুসরন করে নাই। আমাদের বেলায় সমর্থক কমিটি লাগে, আর অন্যদেশ নাম তুলে নিলেও তারা থেকে যায় এবং নির্বাচিতও হয়।

এরা যে ফলাফল ঘোষণা করেছে সেটি ইউটিউবে দেখা যায়। হাস্যকর এই ভিডিওটি বাংলাদেশের যে কোন টিভি চ্যানেলের জঘন্যতম ভিডিওটির চেয়েও সস্তা ও নিম্নমানের, আড়ম্বরহীন এবং এই ভিডিওর শুরুতে তাদের হেড অফিসের একটি ছবি দিয়েছে যেটি আসলে কারো বাসা। সংগঠনটির কর্মকর্তারা দুবাই গিয়ে সেখানের একটি দ্বীপকে এই প্রতিযোগিতায় এনেছিলেন। দুবাই যারা গেছেন তারা জানেন সেখানে এমন কোন আহামরি কোন দ্বীপ নেই যেটি প্রাকৃতিক আশ্চর্য হতে পারে। আসলে তারা টাকার ধান্দা করছিলেন। এই কারণে তারা দেশে দেশে ঘুরছেন। মাঝে কোলকাতা থেকে কিছু ডক্টরেট দেয়া হতো। বাংলাদেশের একটি পত্রিকার সম্পাদক, একজন নামকরা গায়িকা, হালে একটি চ্যানেলের মালিক এরকম ডক্টরেট কিনে এনেছেন। সেভেন ওয়ান্ডার্স সংগঠনটি সেই রকম একটি সংগঠন যারা নিজেদের লাভের জন্য প্রচারণা চালিয়ে এরি মধ্যে স্বীকৃত কিছু প্রাকৃতিক আশ্চর্যকে প্রতিযোগিতায় নামিয়ে আমাদের সেরকম ভুয়া ডক্টরেটের লোভ দেখিয়েছেন । এভারেস্ট, সুন্দরবন, কক্সবাজার, নায়াগ্রা কিংবা গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ, গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের জন্য কি ভোটাভুটি করে প্রমাণ করার দরকার আছে এগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব? ভোটে বাদ পড়ে গেছে বলে কি কক্সবাজার পর্যটন তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাবে? ভোটে ছিল না বলে কি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাক্ষেত্র কাশ্মীর বা তিব্বত কাল থেকে অসুন্দর হয়ে যাবে?

বাংলাদেশে পর্যটক আনতে হলে চাই পর্যটন মহাপরিকল্পনা। চাই পরিকল্পিত বিনিয়োগ। মালয়েশিয়ার গেনটিং বা পেনাং, সিংগাপুরের সেন্টোসায় যেভাবে পরিকল্পিত বিনিয়োগ এনে একে পর্যটনের ক্ষেত্রে পরিণত করা হয়েছে , সেভাবে চেষ্টা না করে, এসএমএস পাঠিয়ে ২৩০ কোটি টাকার খেলা করে, এই হাস্যকর পুরস্কার বা প্রতিযোগিতা আমাদের কিছুই দেবে না। আমরা কেবল কক্সবাজারে যদি পর্যটনের জন্য নানা ধরনের আয়োজন, যেমন প্যারা সেইলিং, হট এয়ার বেলুন, কেবল কার, থীম পার্ক, গলফ ক্লাব, ক্যাসিনো বা অন্যান্য পর্যটন আকর্ষন গড়ে তুলতাম, তবে অতি সহজে অনেক বেশী পর্যটক পেতাম। রাজশাহী কিংবা কক্সবাজারে চাইলে বাঞ্জি জাম্পিং এবং স্কাইডাইভিং এর ব্যবস্থাও করা সম্ভব। সম্ভব ট্রেকিং, হাইকিং, সাইক্লিং, মোটর র‌্যালী, রেসিং ট্র্যাক, স্কুবা ডাইভিং এর ব্যবস্থা করা। চাইলে সেন্ট মার্টিন বা কুতুবদিয়াকে প্রাকৃতিক সামুদ্রিক জাদুঘরে পরিণত করা সম্ভব। আন্ডার ওয়াটার অ্যাকুরিয়াম বানানো সম্ভব।

আমাদের পর্যটন শিল্পকে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য যে প্রস্তুতি বা পরিকল্পনা দরকার সেটি করার জন্য সরকারের কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। কেবল একটি বিজ্ঞাপন বানিয়ে সেটি ক্রিকেট খেলার দিন দেখিয়ে খুব বাহবা নিয়েছেন সবাই। দেশের শহরে কোন পাবলিক টয়লেট নেই, ভাল যানবাহন নেই, বিদেশীদের থাকার জন্য নিরাপদ সস্তা হোটেল নেই। দেশের পুলিশ বিদেশীদের নিরাপত্তা দিতে পারেন না। কিছুদিন আগে দেশে বেড়াতে আসা বিদেশী সাংবাদিক এবং অতিথিদের ছিনতাইয়ের কবলে পড়ার খবর আমরা পত্রিকাতে পড়েছি। অথচ ভোট দিয়ে সুন্দরবনকে জেতানোর জন্য পুলিশের উৎসাহের কমতি নেই। যার যা কাজ সেটা না করে অন্য কাজে এত আগ্রহের কারণ কী? বিদেশীরা যে সুন্দরবন দেখতে আসবেন, সেখানে নিরাপত্তা দেবার মুরোদ আছে পুলিশের?

বাংলাদেশে ট্যুর গাইড হবার মতো যথেষ্ট ইংরেজী জানা বা বিদেশী ভাষা জানা মানুষের অভাব আছে। দেশের অধিকাংশ হোটেল রেস্তোরাঁয় ইংরেজী মেন্যু নাই। দেশের কোন রাস্তায় ভাল কোন রোড সাইন নাই। শহরগুলির বা পর্যটন এলাকাগুলির কোন ম্যাপ নাই, যেটা দেখে আপনি কিছু খুঁজে বের করতে পারবেন। ফুটপাথে হাটার ব্যবস্থা নাই। সুন্দরবন যদি জিতত এই খেলায় তবে পর্যটক কি তার দেশ থেকে সোজা এসে সুন্দরবনে নামত হেলিকপ্টার কিংবা প্যারাশুট দিয়ে? ঢাকা পার হয়ে সুন্দরবন পর্যন্ত কীভাবে যেতে হয় সেটা দেশের অধিকাংশ মানুষ বলতে পারবে না। সেখানে বিদেশীরা কী করত? শুধু বাঘ দেখার জন্য বিদেশীদের সুন্দরবন আসার প্রয়োজন পড়ে না। সিংগাপুরের চিড়িয়াখানাতে অসাধারন পরিবেশে রয়েল বেঙ্গল টাইগার রাখা আছে। ওটা দেখলেই চলে। মজার বিষয় হলো আমাদের দেশের চিড়িয়াখানাতে বাঘ এর চেয়ে অনেক খারাপ পরিবেশে থাকে।
দেশকে ভালবাসলে তাকে দৌড় প্রতিযোগিতায় নামিয়ে দিয়ে প্রথম বানানোর খেলা না খেলে, তাকে দৌড়ে জেতানোর মতো সক্ষম জায়গায় নিয়ে যাওয়া বেশী জরুরী। আমাদের দরকার অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত উন্নয়ন। আমাদের চাই অবকাঠামো ও উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ। সেসব না করে পর্যটন দিয়ে আয় করতে চাইলে কখনো সফল হওয়া যাবে না। কারণ আমাদের পাশের দেশে পর্যটনের জন্য এতসব বড় বড় জায়গা থাকতে, আমাদের দেশের ষোল কোটি মানুষের সাথে ধাক্কাধাক্কি করে ট্রেন বাসে চড়ে সুন্দরবন দেখতে কেউ আসবে না কারণ সুন্দরবনে যেতে চাইলে সেটাও ভারতের ভেতর থেকেই যাওয়া যায়। দুটো ভিসা করে, ঢাকা এসে আবার খুলনা যাওয়ার চাইতে কোলকাতা খেকে বন দেখতে যাওয়া বেশী সহজ।

বিদেশীদের পর্যটনে আগ্রহী করে তুলতে চাইলে যে পরিকল্পনা চাই, সেটা না করে, আমরা যোগ দিয়েছি পয়সা দিয়ে যত খুশী, যেমন খুশী ভোট দেবার অসভ্য খেলায়। এই খেলায় জেতার চাইতে হেরে যাওয়া ভালো হয়েছে। কারণ যে ভোটে যার যত টাকা, তার তত ভোটের সম্ভাবনা, সেই ভোটে যারা অংশ নেয় তারা হয় নির্বোধ নয়তো দূর্নীতিবাজ। আসুন আমরা সবাই মিলে এই প্রতিযোগিতাতে সুন্দরবনের পরাজয়কে অভিনন্দন জানাই। কারণ এর ফলে সুন্দরবন ও তার জীব ও উদ্ভিদবৈচিত্র আশু ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

এবার যারা আমাদেরকে দেশপ্রেমহীন বলে গালাগাল করেছিলেন তাদের উদ্দেশ্যে বলি, অন্ধ আবেগে আক্রান্ত হয়ে দেশপ্রেমহীন বলে গালাগাল দিয়ে আমাদের দুঃখ দিয়েছিলেন কেবল। কিন্ত দেশকে ও দেশের মানুষকে একদল প্রতারকের হাত থেকে বাঁচানোর কথা বলায় যদি আমরা দেশপ্রেমহীন হই, তবে এরকম হতে আপত্তি নেই। সপ্তাশ্চর্যের লোভ দেখিয়ে দেশের মানুষের পকেট কেটে টাকা বের করে নেবার এই ধান্দাবাজি নিয়ে কথা বলা যদি অপরাধ হয়ে থাকে তবে আমি এরকম অপরাধ আরো করতে রাজী আছি। দয়া করে আপনাদের কাছে অনুরোধ, এই ভোটাভুটিতে সরকার কত ব্যয় করলো, আমরা কত করলাম এবং স্পন্সররা কত খরচ করলো এর একটি স্বচ্ছ হিসাব দেবেন কি? বলবেন কি যে দেশে প্রতিদিন সরকার ভর্তুকী আর খরচের হিসাব মেলাতে হিমসিম খাচ্ছে সেখানে সরাসরি সিডরে আক্রান্তদের ত্রান না দিয়ে আমরা সুন্দরবনের ঢোল বাজিয়ে টাকা খরচ করে কী পেলাম? এখনো সিডর ও আইলা আক্রান্তদের পুনর্বাসন শেষ হয়নি। এখনো জলাবদ্ধতা দূর হয়নি। বাংলাদেশের পুলিশ সেখানে না গিয়ে সেজেগুজে টিএসসিতে বসে থাকে কেন? দেশের মানুষের পকেট কেটে এরকম প্রতিযোগিতা হয়তো আরো হবে, তবে এখন থেকে সাবধান। মানুষ ঠকানো এখন আর আগের মতো সহজ না। মানুষ দেখিয়ে দিয়েছে তারা জানে কোথায় ভোট দিতে হয় আর কোথায় হয় না। সেটা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনেই হোক আর সুন্দরবন নিয়ে জুয়াখেলাতেই হোক।

ডা. আব্দুন নূর তুষার টেলিভিশন-উপস্থাপক।

১১৪ Responses -- “সুন্দরবনের পরাজয়কে অভিনন্দন”

  1. ফাহিদুল হাসান

    অনেক দিন পর ওয়েব এ একটা ভাল লেখা পরলাম। ধন্যবাদ তুষার ভাইয়া।

    Reply
  2. Tanvir

    অসাধারন লেখা। শতভাগ সত্য কথাটা আজ অবধি কেউ বলার সাহস করেনি। ব্যক্তিগতভাবে টেলিকম ভ্যালু অ্যাডেড সেবা ব্যবসায়ের সাথে জড়িত, কাজেই পেছনের ব্যাপারটা ভাল ধরতে পারি- বাস্তবিক হরির লুট আর কি!

    Reply
  3. মোঃ ইমদাদুর রহমান

    দেশপ্রেমের তাড়নায় ভোট দিয়েছিলাম। তবে এই প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহ ছিলো প্রথম থেকেই। যা হোক আপনার লেখার মাধ্যমে অনেক কিছু জানা হলো। তুষার ভাই আপনাকে ধন্যবাদ।

    Reply
  4. রিয়াল

    তুষার ভাই,
    আপনাকে ধন্যবাদ দিয়ে ভুল করবনা, আপনার জন্য ষোল কটি মানুষের পক্ষ থেকে
    সুন্দর বনের প্রাকৃতিক শুভেচ্ছা রইল ।

    Reply
  5. masum

    স্যার,
    আপনাকে স্যলূট। এরকম কিছুই আশা করেছিলাম কারো কাছ থেকে। আর সেটা যদি হয় আপনি, তাহলে তো কথাই নেই।
    সত্যি বলতে কি, এই আমাদের দেশের ক্ষমতাশীল মানুষগুলাই দেশটাকে বিক্রি করে দিচ্ছে। আর আমরা সাধারণ জনগন কিছু বললেই হয়ে যাই দেশদ্রোহী।

    বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশের পথের অন্তরায়গুলোকে অতন্ত্য সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।

    এইরকম একটি লেখার দরকার ছিল। লেখাটি পড়ে অনেক ভাল লাগলো।

    Reply
  6. Jewel

    তুষার ভাই আপনাকে স্বাগতম! অনেক সময় ভাবি আমাদের দেশটা কেমন হওয়া উচিৎ অথবা কেমন হলে ভলো হয়। কিন্তু এই ভাবনার শেষ নাই,বরং এখন ভাবতেই ভয় হয়। আসলে আমরা কেউ তো নিজের স্বার্থ ছাড়া কিছু ভাবতে পারিনা বা ভাবতে চাই না। নিজের স্বার্থ নিয়ে ভাবলে তার লাভটা দেখা যায়, কিন্তু দেশের স্বার্থ নিয়ে ভেবে কোন লাভ তো কেউ দেখতে পায় না। আমরা সবাই বলি এটা হলে বা এটা করলে ভাল হোতো। কিন্তু আমরা কি কখনো ভাবি আমি কী করলাম আর সেটা দেশের জন্য ভাল হলো কিনা। আমাদের দেশের একটি পত্রিকার স্লোগান হলো বদলে যাও, বদলে দাও। তারা কেনো বলে না বদলে যাই বদলে দেই। আমার মনে হয় তারা তা পারে না। কারন তারা কিছু স্বার্থান্বষী কম্পানির পৃষ্ঠপোষকতায় পুষ্ট। তাই তারা বদলে গেলে সেই কম্পানিগুলোর কী হবে।

    Reply
    • masud rana

      খুব ভালো বলেছেন। স্লোগানটা হওয়া উচিত “বদলে যাই বদলে দিই”।

      Reply
  7. M Haque

    ছাচা ছোলা লেখা। কথায় কথায় দেশপ্রেম ইত্যাদিকে পুঁজি করে নানান ধান্দা করছে নানা জন, অনেকেই কঠিন দেশপ্রেমী দেখতে। তুষারকে আন্তরিক ধন্যবাদ তার সাহস এবং আন্তরিকতার জন্য। আরো এরকম লেখা চাই। বিডিনিউজকেও ধন্যবাদ।
    মুকুল, জেদ্দা

    Reply
  8. NAZMUL HAQUE

    আসলে এই সব কথা বলে কোন লাভ নাই। আমি এটা রবি’র ওয়েবসাইটে লেখার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা মুছে দিয়েছিলো।

    Reply
  9. কবীর হুমায়ূন

    তুষার, আপনাকে ধন্যবাদ।

    আপনার যৌক্তিক এবং তথ্যবহুল নিবন্ধটি পড়ে ভালো লাগলো। আপনার সুচিন্তিত ধারণার সাথে আমি সহমত।

    Reply
  10. TheSaveHost.com

    চোরেরা সুযোগ বুঝে কত টাকা সরিয়ে নিলো আমাদের কাছ থেকে। পার্সোনালি আমি কোনো ভোট দেইনি। সেজন্য বন্ধুদের কাছে “রাজাকার” উপাধীতে ভূষিত হয়েছিলাম। আশা করি এবার আমার বন্ধুরা বুঝতে পারবে।
    ধন্যবাদ ডা. আব্দুন নূর তুষার। অনেক অনেক ধন্যবাদ। আশা করছি এখন সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কালপ্রিটরা ধরা পড়বে এবং ভবিষ্যতে যেন এরকম বাটপারি করতে না পারে তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষ নেবেন।

    আপনাকে আবার ধন্যবাদ।

    Reply
  11. bishal

    তুষার ভাই, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আপনার অসাধারণ এ লেখা দেশের কোটি কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য।

    Reply
  12. asaduzzaman

    অসাধারণ!!! চাটুকাররা যেভাবে লেখে সেভাবে লেখেন নি । আপনার লেখায় দেশপ্রেমের গন্ধ পাচ্ছি । আপনার কাছে অশা করবো মোবাইল কোম্পানি গুলো যেভাবে চুটিয়ে ভিওআইপি ব্যবসা করে দেশের বারটা বাজাচ্ছে সে বিষয়ে বিস্তারিত লিখবেন । আমার মোবাইলে প্রায় প্রতিদিন নিয়মিত অন্যদেশ থেকে কল আসে , কিন্তু মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে ওঠে একটি বিশেষ দেশীয় মোবাইল কোম্পানির নম্বর । কোটি কোটি টাকা খরচ করে যারা টিভিতে বাহারি বিজ্জ্ঞাপন প্রচার করে । এ বিষয়টা যদি ভেবে দেখতেন। আর হ্যাঁ , অনেক প্ররোচনা সত্বেও আমি হুজুগে ভেসে এসএমএস ভোট দেইনি । অনেক অনেক ধন্যবাদ জনাব তুষার ।

    Reply
  13. বিপুল-ঢাকা

    তুষার ভাই, প্রথমেই আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার প্রথম লেখাটি আমার পড়া হয়নি। কিন্তু এই লেখাটি পড়ে দারুণ লেগেছে। প্রথম যখন প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য্য নির্বাচনে প্রতারণামূলক খেলাটি শুরু হয় তখন থেকেই আমি এর ঘোর বিরোধী ছিলাম। কিন্তু আমার বিরোধীতায় কি আর আসে যায়। তাই অনেকটা চুপ মেরে ছিলাম। যেদিন রাতে কথিত ওই সপ্তাশ্চর্য্যরে ফলাফল ঘোষণা হবে সেদিন নিজের কম্পিউটারের সামনে বসেছিলাম অধীর আগ্রহে- কি ফলাফল আসে সেটা দেখার জন্য। তবে মনেপ্রাণে প্রার্থনা করছিলাম যেন নেতিবাচক ফলাফল আসে। কারণ সুন্দরবন এমনিতেই সুন্দর নিজের স্বকীয়তা আর বৈশিষ্ট্যে। তাকে আর নতুন করে পরিচয় করে দিতে হবে না। আমার ভয় ছিল এটি নির্বাচিত হলে সুন্দরবন আর সুন্দর থাকবে না। যারা বড় বড় বুলি আওড়ান, যারা এর নির্বাচিত হওয়ার পক্ষে ছিলেন তারাই এটির সৌন্দর্য্য নষ্ট করে দেবেন। শেষ পর্যন্ত আমার প্রার্থনা যেন কবুল হল। এতে ভীষণ আনন্দিত হলাম। পরদিন এক সহকর্মীকে বললাম সুন্দরবন নির্বাচিত না হওয়ায় আমি ভীষণ খুশি। ওই সহকর্মী আমার কথায় কিছুটা মনোক্ষুন্ন হয়েছিলেন। বলেছিলেন, আপনার দেশপ্রেমের অভাব আছে। আমি তার সঙ্গে আর তর্কে যাইনি। কারণ তাতে কোন লাভ নেই। সবশেষে বলি সুন্দরবন আমাদের অহংকার। এখানকার জীব-বৈচিত্র স্রষ্টা প্রদত্ত। ঘন অরণ্য আর সবুজে ভরা জীব-বৈচিত্র্যের আঁধার প্রাকৃতিক বনকে ধ্বংস করার অধিকার কারো নেই। দয়া করে এমন খেলায় আর যেন কেউ কখণও মেতে না ওঠেন। প্লিজ…প্লিজ… প্লিজ…। কথাটা মনে রাখবেন।

    Reply
  14. মাহবুব আলম

    ধন্যবাদ তুষার ভাই, এরকম একটি তথ্যবহুল লেখার জন্য আপনাকে অবশ্যই ধন্যবাদ জানাতে হয়। আমার নিজের বাসায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট লাইন, মোবাইল ফোনতো এখন সবারই আছে তারপরেও এধরণের ভোটাভুটিতে অংশগ্রহণ করিনি তার কারণ হলো আপনার লেখায় উল্লেখিত তথ্যগুলো সম্পর্কে একটা পূর্বানুমান ছিল। কিন্তু যে দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের কেউ এধরণের একটি হটকারী বিদেশী কোন কোম্পানী/ওয়েভসাইডের ব্যবসায় সাড়া দেন সে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা শংকিত।

    Reply
  15. MD

    সাহসী তুষার ভাইকে অনেক অনেক অভিনন্দন, এরকম একটি কলাম লেখার জন্য। অসাধারণ এবং অনেক তথ্যবহুল। সবাইকে পড়ার অনুরোধ রইলো

    Reply
  16. চৈতী আহমেদ

    চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে, আমার এক টাকাও খরচ হয় নাই, আমি ভোট দেই নাই। কিন্তু আমি সত্য বলছি আমি আমার দেশকে ভালোবাসি!ধন্যবাদ আব্দুন নূর তুষার।

    Reply
  17. মোঃ আমিনুল ইসলাম

    চমৎকার বিশ্লেষনধর্মী লেখা। বেড়া যদি বেগুন খেয়ে ফেলে তাহলে ভোটের ব্যাপারটা সম্পূর্ন অপচয়। আমার মত সাধারন জনগনের পক্ষে আয়োজক প্রতিষ্ঠানের মান যাচাই করা সম্ভব না হলেও সরকারের পক্ষে মনে হয় তা অনেকটা সহজ ছিল। তারা কি তা করেন নাই? অধিকন্তু, টিআইবি(ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) অনেক ভাল কাজ করেন। যেহেতু টিআইবি একটি ইন্টারন্যাশনাল সংস্থা এবং এই ভোটের ব্যাপারটাতে অনেকগুলো দেশ অংশগ্রহন করেছিল সেহেতু তাদেরও ব্যাপারটা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন ছিল।

    Reply
  18. mbr musa

    ধন্যবাদ, তবে অনেক দেরি হয়ে গেল। সমাজে পতিতাদেরও লজ্জা আছে কিন্তু আমাদের নেতাদের নাই। আপনার কথায় তাদের কিছুই যায় আসে না আর আমরাও কিছু করতে পারলাম না। আর ভোটের কথা বলছেন? হা হা হা সব তো এক ই।

    Reply
  19. মাহমুদুল কবীর

    ধন্যবাদ তুষার ভাই। ভাল লেখা।
    এইবার আমাদের টিভি চ্যানেলগুলার রিয়েলিটি শো নামের ব্যাবসা নিয়া কিছু বলেন……হিন্দী অনুকরণে করা “কে হতে চায় কোটিপতি” টাইপের অনুষ্ঠান করে চ্যানেল আর মোবাইল কোম্পানিগুলা দেষের মানুষের পকেট কাটতেছে সেটা নিয়া কিছু লেখেন প্লিজ।

    Reply
  20. শাহাদাত

    স্যালুট টু ইউ ডাঃ তুষার।
    আমার মনের কথাগুলো আপনার অসাধারন লেখার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার জন্য আপনাকে অভিনন্দন,সেই সাথে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
    অসাধারন লেখা।

    Reply
  21. Shumon Chowdhury

    তুষার ভাই, ধন্যবাদ। বিবেক হিসেবে আপনি আমাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। জাতির ঘারে বসা ভূতে আগুন দিয়েছেন, এবার যদি তারা পালায়।
    সুমন চেীধুরী
    ঢাকা।

    Reply
  22. asif

    যাক,শান্তি পেলাম, মহা শান্তি, খুব ভাল লাগল। সামনে এরকম আবার এরা আসবে। এবার ভালভাবে এদের শায়েস্তা করতে হবে।

    Reply
  23. Biplob

    তুষার ভাই, পুলিশ থেকে কযেকটা দিন সাবধানে খাকবেন,কথন আবার শশুরবাড়ী নিয়ে আপনাকে সাইজ করে।

    Reply
  24. Md. Anamul Haque

    তুষার ভাইকে অনেক ধন্যবাদ এই রকম একটি সুন্দর লেখা উপহার দেবার জন্য।

    Reply
  25. শাহীন

    সুন্দরবন দেখতে খুব সুন্দর। এখানে রয়েছে অসংখ্য জাতের পাখি এবং জীবজন্তু। আমাদের মানসিকতা এবং মননশীলতা সুন্দরবনকে সপ্তাশ্চর্যের জায়গায় নিতে পারে নাই।

    Reply
  26. Raihan Ahmed

    আমি জানতাম এরকম একটা কিছু ঘটবে এবং ঘটলও তাই। তারপরেও আমি সুন্দরবনকে ভোট দিয়েছিলাম। যদি…… এভাবে ভোটাভুটির কোন মানে হতে পারে না। এভাবে সপ্তাস্চর্য নির্বাচন করা যায় না….. ভোট দিলে একটা দেব… এতগুল ভোট দেয়ার কোন মানে নাই।…… আমি মানি না এই সব ভোটাভুটি…. সুন্দরবন এখনও সুন্দরবন হয়েই আছে। থাকবে আজীবন…। সে ব্যবস্থা যদি আমাদের সরকার গ্রহন করেন তবে আমরা সাধারন পাবলিকরা খুশি হইতাম…..

    Reply
  27. কিবরিয়া

    দেশে-বিদেশে যারা জডিত তাদের বিচার চাই; জানি হবে না।
    জনগন সজাগ হোক; জানি হবে না।
    নিজে প্রতিরোধমূলক কিছু করতে চাই; জানি পারব না।

    দিশেহারা…..

    Reply
  28. Rashad

    সুন্দরভাবে প্রতারক চক্র ও তাদের সহযোগীদের ধরিয়ে দেয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আশা করি আপনার সুন্দর লেখনীর মাধ্যমে পাঠক সমাজ কিছুটা হলেও বিচার-বিবেচনা করবে। আপনার লেখাটা চমৎকার,তবে ভোটাভুটির আগে লিখলে অনেকে উপকৃত হত। একটা বিষয় সত্য; আমরা সবাই নিখাঁদ ভালোবাসি আমাদের দেশটাকে।ধন্যবাদ।আমি এ পর্যন্ত একটিও ভোট দিই নি,কারন এক ব্যক্তি এক এস.এম.এস হলে স্বচ্ছতা থাকতো,কিন্তু আনলিমিটেড এস.এম.এস কোন গ্রহনযোগ্য ভোট সিস্টেম হতে পারে না। এটা ৪২০ ব্যবস্থা বলে আমি মনে করি।ধন্যবাদ তুষার ভাই। আসলে আমরা ডিজিটাল দেশ গড়ার নামে ডিজিটাল পদ্ধতিতে চুরি করি, এইটি তার আরও একটি নমুনা।ডিজিটাল দেশ নয়, ডিজিটাল চোর গড়া আমাদের লক্ষ্য।আমি আপনার সাথে একদম একমত।তুষার ভাই, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এত সুন্দরভাবে চোখে আঙ্গুল দিয়ে সবাইকে বিষয়টা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য। আমি আপনার বক্তব্যের সাথে সম্পুর্ন একমত।

    Reply
  29. shakhawat Hossain

    আমাদের মদন বানানো অতি সহজ তাই, তারা আমাদের মদন বানিয়ে ফেলেছিল , আর এ দেশ যারা চালাচ্ছেন তাদের সম্র্পকে বলে কোন লাভ নেই। যেমন গায়ক তেমন তার সারিন্দা ।

    তবে আপনার আরো আগে বেশি বেশি প্রচারণা চালানো দরকার ছিল, তাতে হয়তো জাতীয় মদনের সংখ্যা কম হতো ।

    Reply
  30. Robi

    আমি আগেই জানতাম এটা একটা ভুয়া প্রতিযোগিতা,তাই একটিও ভোট দেইনি। তবে শেষের দিন Face Book-এ একটি দেয়েছিলাম, কারন ঐখানে ভোট দিতে পয়সা লাগেনা। তুষার ভাইকে ধন্যবাদ।

    Reply
  31. Masum Billah

    ভন্ডামীর এক নতুন খেলায় প্রথম আলো হেরে যাবার পর একদম চুপ মেরে গেছে। আপনার লেখাটা দরকার ছিলো।

    Reply
  32. nazim

    আমি একটা ভোটও দেইনি। কারন আমার মনে হত এটা একটা ধোঁকাবাজি খেলা শুরু হয়েছে।

    Reply
  33. আহমেদ ফিরোজ

    সুন্দর লেখা তুষার ভাই। কোথাও কোথাও আক্রোশটা একটু বেড়ে গেছে। তারপরেও সত্য তো সত্যই। সত্যকথনের জন্য অনেক অনেক অভিনন্দন। ভালো থাকুন সবসময়…

    Reply
  34. Anwar Hossain

    তুষার ভাইকে আন্তরিক অভিনন্দন এমন অসাধারণ একটি লেখার জন্য। অন্যকোন বিষয়ে এধরনের লেখার অপেক্ষায় রইলাম।

    Reply
  35. সাজেদুল হক পলাশ

    তুষার ভাই, আপনার লেখাটির জন্য অনেক ধন্যবাদ, অত্যন্ত চমৎকার লেখা। তবে আরো আগে পেলে সবার বুঝতে সুবিধা হত চুরিটা কোথায় হচ্ছে। পুলিশ এবং সরকারের ভূমিকার জন্য একটা বড় ধন্যবাদ পাওনা হল! তবে চিন্তা এটাই এরপরও কি আমাদের বোধোদয় হবে ?

    Reply
  36. হাবিব

    খুবই ভাল লিখেছেন কিন্তু আমরা পড়লে বা শেয়ার দিলে তো লাভ নাই । যাদের পড়া দরকার ,তারা তো এই লেখা পড়বেন না । সমস্যা সমস্যাই থেকে যাবে ।

    Reply
  37. অনির্বাণ

    প্রচারনার শুরু থেকেই কামনা করেছিলাম সুন্দরবন যেন সেরা ৭ এ অবস্থান না করে। ভোট চলাকালীন ফেসবুকএ আমার মন্তব্যটি ছিল নিম্নরূপ ঃ
    ————————————————
    বন্যেরা বনে সুন্দর… বন হবে জীবের(পশু) জন্য অভয়ারণ্য, নিরাপদ। সুন্দরবন সেরা ৭এ অবস্থান করলে এই বন বন্যদের জন্য কতটুকু নিরাপদ হবে?
    ১। ঢাকা টু সুন্দরবন সরাসরি লঞ্চ সেবা শুরু হবে।
    ২। বছর জুড়ে সুন্দরবনে পিকনিক, মানুষের অবাধ বিচরণ।
    ৩। মানুষের নিরাপত্তা প্রদানের নিমিত্তে একটা বিশেষ এলাকাকে নিরাপদ রাখা (বন্য পশু মুক্ত রাখা)।
    ৪। বিদেশি পর্যটক ও আমাদের ভিআইপিদের সুন্দরবনে রাত্রিকালীন অবকাশ যাপনের জন্য সুন্দরবনে অট্টালিকা নির্মাণ।
    ৫। অট্টালিকা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধায়ক (মানুষ) নিয়োগ।
    ৬। সুন্দরবনে নেটওয়ার্ক পৌঁছে দেবার জন্যে মোবাইল কোম্পানি গুলোর দৌড় ঝাঁপ। প্রতিযোগিতাঃ বনের মধ্যে কার টাওয়ার কত লম্বা।

    ফলাফলঃ মানুষের অবাধ বিচরণ, পিকনিক, হৈ হুল্লোড়, গান বাজনা, জমজমাট ব্যবসা বাণিজ্য । নিরীহ পশুদের বিতারিত করে সুন্দরবনের দখল আদায় করা।

    এই বনের পশুরা তো মানুষের কোন ক্ষতি করেনি, তবে মানুষ কেন এই নিরীহ পশুদের অভয়ারণ্য ধ্বংস করার জন্য SMS SMS খেলা শুরু করেছে।

    মিথ্যা দেশপ্রেমে প্রলুব্ধ হয়ে এসএমএস/ভোট প্রদানের আগে একবার চিন্তা করা উচিত, আমার মতামত কতটুকু দেশের স্বার্থে? সুন্দরবন ধ্বংস (পশু শূন্য) হয়ে গেলে এর দায়ভার কার?

    Reply
  38. সোহাগ

    বাংলাদেশের কিছু বুদ্ধিজীবীও বেশ নাচানাচি করেছে । পয়সা কামানোর ধান্দাকে জাতীয়ভাবে সমর্থন দেওয়া আমাদের জন্য চরম লজ্জাজনক ।

    Reply
  39. নেওয়াজ হাসান

    নূর ভাই ধন্যবাদ, আমরা শিক্ষিত হয়েও অনেক সময় প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হই তবুও আমাদের চৈতন্য হয় না। আশা করি এবার হবে । তবুও কিছু মানুষ আছে যারা বিভ্রান্ত ,তাদের চেতনা ফিরবেনা কিছুতেই। আর ডিজিটাল প্রতারণা অনেক বৈচিত্র্যময়। এ জন্য এটা বিশ্বাস করানোও কঠিন। তবে যারা এই লেখা পড়বেন তাদের কাছে মিনতি রইল কূট তর্কে না গিয়ে বাস্তবতাকে উপলব্ধি করুন । হুজুগে না মেতে সত্যকে স্বীকার করুন, যদি সেটা নিজের বিপক্ষেও গিয়ে থাকে।

    Reply
  40. Shahin

    ধন্যবাদ তুষার ভাই এ রকম সুন্দর একটা প্রতিবেদনের জন্য। আসলে আমাদের মত দেশগুলোর মানুষের আবেগ বেশিতো তাই কিছু লোক যেমন খুশি তেমন করে তাদের মত করে আমাদের চালাতে পারে। তবে আমরা যদি একটু একটু করে আমাদের দেশটাকে ভালবাসতাম তাহলে গত চল্লিশ বছরে আমাদের এই দুরবস্থা হত না।

    Reply
  41. Suprio

    যেদিন ফল প্রকাশিত হলো সেদিন প্রথম আলোতে মন্তব্য দিয়েছিলাম “আমি খুশি হয়েছি সুন্দরবন রক্ষা পেল বলে”। কক্সবাজার পরিকল্পনার অভাবে নষ্ট প্রায়। যে সৈকতে খাটো প্যান্ট পড়লে কিংবা রৌদ্র স্নান করলে চারপাশে লোক জড়ো হয় সে সৈকতে বিদেশিরা কেন আসবে?

    Reply
  42. জামান

    অনেক অনেক ধন্যবাদ তুষার ভাই। আমাদের সকলের উচিত সচেতনতার সাথে এসব ভন্ডামির মুখে কুলুপ এটে দেয়া। খারাপ লেগেছিল যখন দেখেছি দেশকে বদলে দেবার প্রত্যয় নিয়ে যেসব পত্রিকা কাজ করছে তারা এবং পছন্দের তালিকায় থাকা অনেক স্বনামধন্য ব্যক্তিত্বরা ভোটের ক্যাম্পেইনে জোড়েসোড়ে মাঠে নেমেছিল, তাদের দেখে। এখন সাধারণ মানুষ নিশ্চয়ই বুঝতে পেরছে যে এটা নিছকই একটা বাণিজ্য ছিল।

    Reply
  43. মির্জা রাশেদ

    তুষার ভাই,
    সুন্দরবনকে নিয়ে এই ভোটাভুটির মহাযজ্ঞ যখন শুরু হয়, তার কিছুদিন পর সম্ভবতঃ, আমি কোথাও একটা লেখা পড়েছিলাম যেখানে এই ভণ্ডামী সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়েছিল। তারপর থেকেই আমার মধ্যে সবসময় একটা সন্দেহ কাজ করেছে। এই যে এতদিন ধরে এই ভোটাভুটি সার্কাস চলল, একটা ভোটও আমি দিইনি। কিছুদিন আগে আপনার একটা নোট পড়েছিলাম ফেসবুকে, তাতে এত চমৎকারভাবে আপনি এই ধান্ধাবাজির অন্তর-বাহির ফুটিয়ে তুলেছেন যে ভোট দেয়ার অবচেতন ইচ্ছাটাকে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছি আমি।

    ভণ্ডদের মুখোশ উন্মোচক চমৎকার দু’টি লেখার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

    Reply
  44. tanjina

    আমরা সাধারন জনগন অসাধরণ বিসনেসের কথা জানতেই পারি না। ভাবতে পারি না, শুধু পারি দেশকে ভালবাসতে।

    Reply
  45. joy

    আমাদের মানননীয় প্রধানমন্ত্রীও ভোট দিয়েছেন। তুষার ভাই আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ।

    Reply
  46. Md. Nasir Uddin

    আপনার লেখাট পড়ে খুবই ভাল লাগল। আমিও জানতাম এটি একটি প্রতারণা মাত্র, আমাদেরতো আর কোথাও বলার বা লেখার জায়গা নেই তাই প্রকাশ করতে পারিনি। আমার এক কোরিও বন্ধু আমাদের দেশে এসে এই প্রতিযোগিতার সরকারী-বেসরকারী মহড়া দেখে খুবই আবাক হয়েছিল এবং আমাকে বলেছিল যে, এটা একটা প্রতারণা মাত্র।

    ধ‌ন্যবাদ আপনাকে সবাইকে ব্যাপারটা পরিস্কার করার জন্য। আপনি পারলে অন্যান্য পত্রিকা এবং টিভিতে আলোচনা করলে ভাল হয়।

    Reply
  47. Taif

    ভন্ডদের দেশে ভন্ডামি করা ছাড়া আর কোনো কাজের দাম নাই, তাই সরকার ও কিছু অতি ভন্ড এই চালাকি করে দেশের কষ্টার্জিত টাকা নিয়ে যেতে পারল |
    ধন্যবাদ তুষার ভাই || এত কথার পরেও কিছু হবে না ||

    Reply
  48. ফারুকুজ্জামান রানা

    সুন্দরভাবে প্রতারক চক্র ও তাদের সহযোগীদের ধরে দেয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আশা করি আপনার সুন্দর লেখনীর মাধ্যমে পাঠক সমাজ কিছুটা হলেও বিচার-বিবেচনা করবে।

    Reply
  49. siddik

    আপনার লেখাটা চমতকার,তবে ভোটাভুটির আগে লিখলে অনেকে উপকৃত হত। একটা বিষয় সত্য আমরা সবাই নিখাঁদ ভালোবাসি আমাদের দেশটাকে।ধন্যবাদ।

    Reply
    • শাহেদ

      এ বিষয়ে মানবজমিন, বাংলাদেশ প্রতিদিন, সাপ্তাহিক বিপরীত স্রোত এবং সাপ্তাহিক কাগজে আব্দুন নূর তুষার ও তার সমমনারা লিখেছিলেন। তাছাড়া ফেসবুকে এবং সামহ্যোয়ার ইন ব্লগেও এই নিয়ে তুষার লিখেছিলেন। আরটিভি ও এনটিভিতে খবরে সিরিজ প্রতিবেদনেও তুষার, মোস্তফা জব্বার ও অন্যরা বলেছেন-ওজায়ের ইবনে ওমর নামে একজন টিভি সাংবাদিক অনেকগুলো সাহসী রিপোট করেছিলেন।

      Reply
  50. তামজীদ আহম্মদ

    আমি এ পর্যন্ত একটিও ভোট দিই নি,কারন এক ব্যক্তি এক এস.এম.এস হলে স্বচ্ছতা থাকতো,কিন্তু আনলিমিটেড এস.এম.এস কোন গ্রহন যোগ্য ভোট সিস্টেম হতে পারে না। এটা ৪২০ ব্যবস্থা বলে আমি মনে করি।

    Reply
  51. SHAHRIAR

    চলুন আমরা আরেকটি ওয়েব সাইটে এরকম প্রতিযোগীতা শুরু করি।ভালো বািজ্য

    Reply
  52. শুভ

    ঐ রাতে খবরটা জানার পরে মন খুব খারাপ হয়ে গেছিল। বুঝতে পারতেছিলাম না কেন সুন্দরবন হেরে গেল।যাক একটা জিনিস বোঝা গেল ,অনেকেই সুন্দরবনকে ভোট দেয় নাই!এইটা আমাদের একটা সমস্যা আমরা কোন বিষয়েই একমত হতে পারিনা। ভোট দিব সুন্দরবনকে, তার আগে চিন্তা করি কে কয় টাকা পাইলো !!! ধিক্কার!!

    Reply
    • অতিথী

      কানের পিছে ঘুরছি কেন আমরা সবাই মিলে?

      নিউ সেভেন ওয়ান্ডার্সগুলি কী এক্সট্রা সুবিধা পায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে ওটা ছিল পিওর ধান্দাবাজী।

      Reply
  53. সোহেল

    ধন্যবাদ তুষার ভাই। আসলে আমরা ডিজিটাল দেশ গড়ার নামে ডিজিটাল পদ্ধতিতে চুরি করি, এইটি তার আরও একটি নমুনা।

    ডিজিটাল দেশ নয়, ডিজিটাল চোর গড়া আমাদের লক্ষ্য।

    Reply
  54. munir

    আর রাষ্ট্র যখন এইসব ভন্ডামীকে সমর্থন দেয় তখন জনগনের আর কিছু বলার থাকেনা। সরল মনে সবাই ফোনে বা SMS-এর মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের কত টাকা অযথা খরচ হয়ে গেল তার হিসেবটা কি কেউ করছেন? অবাক করার মত একটা সংখ্যা-ই আসবে।
    যুগে যুগে আমাদের আবেগ নিয়ে সবাই বানিজ্য করে গেল। এটা আমাদের জ্ঞান পাপীরা কোন দিন ধরতেও পারল না!!

    Reply
    • bibek

      তুষার ভাই আপনাকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করব না। আপনি যে এত গভীরভাবে দেশকে এবং দেশের সমস্যাকে বুঝতে পেরেছেন, তার দশ ভাগের এক ভাগ যদি রাজনীতিবিদরা বা সরকার বুঝত তাহলে আমাদের এই দেশ সত্যিই সোনার বাংলাদেশ হতো। আর পুলিশকে দোষ দিয়ে লাভ কী?

      Reply
  55. Md Khaled Miah

    তুষার ভাই আপনাকে অনেক ধন্যবাদ এত সুন্দর ভাবে চোখে আঙ্গুল দিয়ে সবাইকে বিষয়টা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য। আমি আপনার বক্তব্যের সাথে সম্পুর্ন একমত।

    Reply
  56. আবাবিল ইয়ামিন

    তারপরও আপনাকে ধন্যবাদ। কারণ আপনার আগের সেই সতর্কবার্তার জবাব কিন্তু কেউ জোরেশোরে মিডিয়াতে দেয়নি। আর দেয়নি বলেই মানুষকে খুব স্বতঃস্ফূর্ততার সাথে আর ভোট দেয়াতেও পারেনি। ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে মুখে মুখে। তবে শেষের দিকে সরকারের লোকজন আর পুলিশ মাঠে নেমে পড়ে। আর এটাও ছিল জনগণের সন্দেহের অন্যতম কারণ। বিশেষতঃ সরকারী ব্যবস্থাপনা হতে শেয়ার বাজার লুন্ঠণ হবার পর থেকে দেশের সাধারণ মানুষ আর সরকারকে কোনভাবেই বিশ্বাস করতে পারছেনা । এতে করে সাধারণ মানুষের সংশয় বেড়েছে, কমেনি। এই ভোট দেয়ার ব্যাপারে সকল সময়েই কেমন যেন একটা লুকোচুরির ভাব ছিল। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এই সব অস্বচ্ছ আর বিতর্কিত কাজে যত কম ভূমিকা থাকে ততই ভাল।

    আর পুলিশকে দিয়ে সরকার কোন ভাল কাজ করাতেও পারবেনা। এর একমাত্র কারণ এদেশে পুলিশের বন্ধু কোন সুশীল আর নিরীহ জনগণ নয়, বরং সরকার, তার মাস্তান বাহিনী আর একশ্রেণীর অপরাধীচক্র।

    Reply
  57. নাঈম

    তুষার ভাইকে আন্তরিক অভিনন্দন এমন অসাধারণ একটি লেখার জন্য। এই লেখা পড়ার পর আমার একটি কথাই বলতে ইচ্ছে করছে, সেটা হল, যারা অন্ধের মত কিছু না জেনে, কোন পড়াশুনা না করে সুন্দরবনকে ভোট দেয়ার পেছনে ফেসবুক, ব্লগ জুড়ে তোলপাড় করে ফেলেছিলেন, সুন্দরবন হেরে যাওয়ার পর ঐ একই প্ল্যাটফর্মে মায়াকান্না জুড়ে দিয়েছিলেন, তখন বলেছিলাম আপনারা এই লেখাটি একবার পড়ুন আর উপলব্ধি করুন আপনাদের জ্ঞানের পরিধি কোন পর্যায়ে। ভুঁইফোঁড়, অর্থলোভী সংগঠনের ফাঁদে পড়ে আপনারাও সেটিকে সমর্থন দিয়েছেন মূল বিষয়টি না জেনে।

    Reply
  58. নাহিদ

    একেবারে আমার মনের কথাগুলোই বলেছেন। এসব কথা বলে বন্ধুদের কাছে তিরষ্কৃত হয়েছিলাম। দেশদ্রোহী বলেও গালি শুনতে হয়েছিল। এখন দেখছি আমার কথাই সত্য। তবু সান্ত্বনা যে, কিছু বিবেকবান মানুষও বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছেন। লেখা পড়ে সান্ত্বনা আর স্বস্থি পেলাম। ধন্যবাদ

    Reply
    • রাফি শামস্

      কিছু বিবেকবান মানুষ সবসময়ই সত্যটি উপলব্ধি করবেন এবং সবাইকে জানাবেন, এভাবেই সৃষ্টির শুরু থেকে চলে আসছে। তবে তাদের কথা শুনবে অল্প কিছু লোক, বাকীরা “হেমলক” ও “ক্রুশ” এ “ভোট” দিবে।

      Reply
  59. mohammad mohiuddin

    ভাইজান, আমাদের দেশ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে যুবক নামের প্রতিষ্ঠান হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে পারে। ইউনি পে শত কোটি টাকা খেযে হজম করতে পারে,শেয়ার বাজার মানুষকে সর্বস্বান্ত করতে পারে,এক টাকার ধাতব মূদ্রার তেলেসমাতিতে দেশের মানুষের অর্ধ কোটি টাকা লোপাট হতে পারে,বিদেশে পাঠানোর নাম করে অতি উৎসাহী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোটি টাকা মেরে দিতে পারে। কিন্তু এ সব মহা প্রতারকদের হাত থেকে নিরীহ মানুষকে বাঁচানোর কোন সংস্থা এদেশে আছে বলে তো মনে হয়না। তাই জনসচেতনতামূলক আপনার এ লেখার জন্য অনেক দন্যবাদ। অবশ্য এ সব কথা বলাতে অনেক রিস্কও আছে কারণ প্রতারকদের হাত থাকে অনেক লম্বা। মহান আল্লাহ্ তা‘লা আপনার মঙ্গল করুক।

    Reply
  60. Subrata

    সুন্দর লেখা হযেছ। আপনার মত বিতার্কিকের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে এ ধরনের যুক্তিগ্র্রাহ্য লেখা পেলে আমরা সবাই উপকৃত হবো।

    ধন্যবাদ। অন্যকোন বিষয়ে এধরনের লেখার অপেক্ষায় রইলাম।

    Reply
  61. ত্রিভুজ

    দারুণ লেখা। ব্লগে আমরা এটার বিরুদ্ধে টুক-টাক প্রতিবাদ করেছি কেউ কানে তুলেনি। আপনার ব্লগটা এক্ষেত্রে অনেকের টনক নাড়িয়েছে। কিছুদিন আগে এই বিষয়ে একটা লেখা দিয়েছিলাম-

    যাই হোক, আবারো ধন্যবাদ।

    Reply
  62. শাকিল হোসাইন

    হুজুগে বাঙ্গালীদের ভুল ধরিয়ে দিলে তেড়ে মারতে আসে। ভিন্নমত তো কোনদিনই এদেশের মানুষ সহ্য করতে চায়না। কেউ কিছু বিপক্ষে বললেই ব্যক্তিগত বিরূদ্ধাচারন ধরে নেয়। পায়ে পা বাধিয়ে ঝগড়া শুরু করে দেয়। তারপরও আপনাদের মত কিছু মানুষ দেশের দিকে তাকিয়ে, মানুষের দিকে তাকিয়ে সাহসী উচ্চারনে সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলেন। এইজন্যই এদেশটা এখনো ভেসে যায়নি। ধন্যবাদ স্যার। আনু মুহাম্মাদ, নুরুল কবির, আসিফ নজরুল, আপনি, আপনাদের বেশ কয়েকজনের উচ্চকিত হয়ে ওঠায় কিছু না কিছু দেশবাসীর ঘুম ভাঙবে, জেগে উঠবে এ আশা তো করতেই পারি!

    Reply
  63. নাইম

    ভন্ডামীর এক নতুন খেলায় প্রথম আলো হেরে যাবার পর একদম চুপ মেরে গেছে। এখন আর কোনো কথা নাই ওদের মুখে।

    Reply
  64. মিলন

    বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় এই ভোটযুদ্ধে শরিক হয়েছিলেন…

    মানুষকে বিভিন্নভাবে মানুষই বোকা বানায়, কিন্ত এই রকম নির্লজ্জভাবে সমগ্র জাতিকে বোকা বানানোর পিছনে সরকার এবং কিছু কুপমন্ডুকের অংশগ্রহন খুবই পীড়া দেয়; নিজেকে খুবই ছোট মনে হয় তখন।

    Reply
  65. সৈয়দ আলী

    ধণ্যবাদ তুষার, ডবল ধন্যবাদ। একটি ধন্যবাদ পাচ্ছেন এক মহাজালিয়াতিকে আক্রমন করে ন্যাংটো করে দেয়ার জন্য, অন্যটি আপনার সততা এবং বলিষ্ঠ ভঙ্গীর জন্য। আপনি যা বলছেন তার বাইরেও আমার একটি সন্দেহ কাজ করছে এবং তা হলো সুন্দরবনকে নিয়ে এই হাইপ তুলে কমিশন খাওয়ার জন্য সরকারের মদদপুষ্ঠ কেউ একজন বা একাধিক ছিলো। তা না হলে, যে পরিবেশ মন্ত্রনালয় দেশের লক্ষ লক্ষ গাছ কেটে ইটের ভাটা তৈরি করতে বাধা দেয়না, সে মন্ত্রনালয় সুন্দরবনকে ‘জেতানোর’ জন্য আদাজল খেয়ে কোন কার্যকারনে মাঠে নেমে পড়েছিল?

    Reply
  66. প্রকৌশলী মোঃ আরিফ হোসেন রিসাদ

    অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে সমাজের খোলা চোখে ঘুমিয়ে থাকা মানুষগুলোকে জাগিয়ে তোলার জন্য। ভালো লাগতো যদি সমাজের সবাই এভাবে কিছুটা চিন্তা হলেও করতো!!!!

    Reply
  67. Sanaullah Sanu

    ধন্যবাদ এমন একটা লেখার জন্য।
    সত্যি বলতে কি জানেন, এই আমাদের দেশের ক্ষমতাশীল মানুষগুলাই দেশটাকে বিক্রি করে দিচ্ছে। আর আমরা সাধারণ জনগন কিছু বললেই হয়ে যাই দেশদ্রোহী।

    Reply
  68. জারীফ হাসান

    এই বিষয়গুলা যদি বাঙালির মাথায় ঢুকতো তাহলে কি আজ আমাদের এই অবস্থা হত? মাঝে মাঝে নিজে বাঙালি হিসাবে পরিচয় দিতে লজ্জাই লাগে|

    Reply
  69. সাইফুর

    http://www.facebook.com/permalink.php?story_fbid=10150921292005156&id=592385155&notif_t=like

    এই লিংকটা দেখুন। লেখক আনিসুল হকের নোটে বার বার প্রতিবাদ করেছি এটার বিরুদ্ধে। কেনো আমরা একটা ভন্ডামির সাথী হবো?

    আপনার লেখাটা দরকার ছিলো। সবাই জানুক।

    Reply
    • মো: আবুল কালাম আজাদ

      তুষার ভাই আপনাকে ধন্যবাদ । সুন্দরবনকে ‘জেতানোর’ জন্য আমি অনেক ভোট করেছি। শুধু পুলিশ নয় সমগ্র জাতি এজন্য উদ্গ্রীব ছিল। সুন্দরবন বিজযী হলে আপনিসহ আমরা সবাই খুশি হতাম।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—