Feature Img

bidisha-f11সেদিন এক বন্ধু ফোন করে বললেন, রোমেলার নিউজটা পড়েছেন?
আমি পড়ি নি। রোমেলা যে কে সেটাই জানি না। সে কি বিখ্যাত কেউ? তাকে কি আমার চেনা উচিত ছিলো? যদি বলি- পড়ি নি, তাহলে কি খুব বোকার মতো উত্তর দেয়া হয়ে যাবে?

এমনিতে সকালে ঘুম থেকে উঠে পত্রিকা পড়া, আরও অনেকের মতো আমারও অনেক পুরানো একটা অভ্যাস। আগে প্রতিদিনই কিছু না কিছু সুখবর পাওয়ার আশা নিয়ে পত্রিকার পাতায় চোখ বুলানো শুরু করতাম। বেশির ভাগ দিনই সে আশা মিটতো না, বরং উল্টো হতাশাই যেন ভর করতো মনে। রাজনৈতিক নেতাদের গৎবাধা বুলি, প্রতিশ্রুতি, প্রতিবাদ, হুঙ্কার, পাল্টা হুঙ্কার- এসবই যেন প্রতিদিনের বিষয়বস্তু পত্রিকার। ফলে ইদানিং পত্রিকা আর তেমন পড়া হয় না, চোখ বুলানোই সাড়া। দেখা যায়, চা’য়ের কাপ খালি হওয়ার আগেই পত্রিকার সবক’টি পৃষ্ঠা উল্টানো হয়ে গেছে।

সেদিনও তাই হয়েছে। পত্রিকাগুলোতে চোখ বুলানো হয়েছে, পড়া হয়নি তেমন কিছুই। কিন্তু রোমেলা কোথায় ছিলো?
আমি বললাম, না পড়িনি তো। বিষয়টা কী?
তিনি জানালেন, রোমেলা একটি ছোট্ট মেয়ে। গৃহপরিচারিকা হিসাবে কাজ করতো এক পুলিশ কর্মকর্তার বাসায়। সেখানে কীভাবে সে নির্যাতিত হয়েছে, তা নিয়েই খবর। সংক্ষেপে তিনি যতটুকু বললেন, শুনে আমি হতভম্ব হয়ে গেলাম। পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী ১০ বছরের শিশু রোমেলাকে অমানুষিকভাবে নির্যাতন করেছে। দিনের পর দিন ক্ষত বিক্ষত করেছে ছোট্ট শিশুর দেহ ও মনকে।

শুনে আমার বিশ্বাস হলো না। এটাও কি সম্ভব? কোনো নারী, কোনো মা, কীভাবে পারবে একটি শিশুকে প্রহার করতে? অনেক সময় এমন হয়, হয়তো রাগের মাথায় হঠাৎ করে মেরে বসলো। হয়তো বড় কোনো ক্ষতির ইচ্ছা ছিলো না, কিন্তু হয়ে গেলো এক্সিডেন্টলি। কিন্তু যা শুনলাম, তা তো এরকম কিছু নয়। বরং রোমেলাকে মারা হয়েছে দিনের পর দিন। লাঠি, ক্ষুন্তি যখন যা হাতের কাছে পেয়েছেন ওই মহিলা, তাই দিয়ে মেরেছেন। একদিন বা দুইদিন আচমকা ঘটে যায় নি। দিনের পর দিন ঠান্ডা মাথায় নিস্পাপ এই মেয়েটির প্রতি এই আচরণ তিনি করেছেন। কোনো মানুষের পক্ষে, কোনো নারীর পক্ষে কীভাবে সম্ভব হলো এই অমানুষিক নিষ্ঠুরতা?

আমি পুরানো পত্রিকা ঘেটে সেই খবরটি বের করলাম। ভেতরের পাতায়। শিরোনাম, ‘পুলিশের ঘরে নির্যাতন।’ এই শিরোনামটিও আমাকে আহত করলো। কেনো, পুলিশের ঘর না হয়ে যদি এটা অন্য কারো ঘরে হতো তাহলে কি তেমন কিছু অপরাধ হতো না? রিপোর্টটি ডিটেইল পড়লাম। ওই মহিলা নাকি বেলুন, খুন্তি, চামচসহ হাতের কাছে যা পেতেন তাই দিয়ে মেয়েটিকে পেটাতেন। একবার খুন্তির আঘাতে তার মাথা কেটে গিয়েছিলো। রক্তে কাপড় ভিজে যায়। রক্ত শুকানোর পর গৃহকর্তী তাকে আবার পেটান। আবার একদিন তাকে খুন্তি গরম করে তার হাতে ছ্যাকা দেয়া হয়। এরকম একবার নাকি মারের চোটে রোমেলার ঠোঁট কেটে গিয়েছিলো, ওই গৃহকর্তী তখন কাপড় সেলাইয়ের সুই সুতা দিয়ে সেই কাটা ঠোট সেলাই করে দিয়েছে! আমার গা শিউরে উঠলো। এও কি সম্ভব? ওই মহিলার কাছে নিশ্চয়ই এনেসথেসিয়ার ওষুধ ও যন্ত্রপাতি ছিলো না। তারও চেয়ে বড় কথা সেই আন্তরিক মানসিকতাও নিশ্চয়ই তার ছিলো না। তাহলে সেলাইয়ের সেই সূচের প্রতিটি আঘাত সহ্য করতে হয়েছে নিস্পাপ সেই শিশুটিকে!

টানা একবার পড়ার পর মনে হলো হয়তো কিছু মিস করতে পারি। দ্বিতীয়বার পড়তে শুরু করলাম, কিন্তু পারলাম না। কয়েক লাইন পড়ার পরই, চোখ ভিজে এলো, সবকিছু কেমন ঝাপসা দেখতে লাগলাম।
এবার আমি রোমেলার পরিবর্তে ওই দম্পতির কথা ভাবতে বসলাম।

ভদ্রলোক পুলিশের এসআই, নাম শাহেদ আলী। আর তার স্ত্রী’র নাম সুইটি বেগম। আমার জানার খুবই ইচ্ছা করলো, ওই পাষন্ড দম্পতির কোনো ছেলে মেয়ে আছে কিনা? যে হাত দিয়ে, হৃদয় দিয়ে তারা রোমেলাকে ক্ষত বিক্ষত করেছে, সেই হাত আর হৃদয় নিজ সন্তানদের কীভাবে আদর করেন তারা? একাধিক পত্রিকা ঘেটেও জানতে পারলাম না, আদৌ তাদের কোনো ছেলে মেয়ে আছে কিনা?

এরপর থেকে কয়েকদিন পত্রিকায় রোমেলার কী হলো জানতে চেষ্টা করলাম। প্রতিদিনই পেলাম কিছু না কিছু নতুন তথ্য। ১৫.১১.১১ তারিখের পত্রিকায় দেখলাম, রোমেলা পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে। তার চিকিৎসা চলছে। পুলিশ সেখানেই তার জবানবন্দি নিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রোমেলা নাকি বলেছে যে এসআই শাহেদ আলী নয়, তার স্ত্রী সুইটি বেগমই নাকি তাকে নির্যাতন করেছে। এমনকি শাহেদ আলী এ বিষয়ে বাধা দিতে গেলে সুইটি বেগম নাকি তাকেও পেটানোর হুমকি দিয়েছেন।

শেষের এই তথ্যটি আমাকে অবাক করলো। আসলেই কি এমন ঘটনা ঘটেছে? আসলেই কি পুলিশকে এমন কথা বলেছে হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা রোমেলা? নাকি এটা সহকর্মীকে বাঁচাতে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তার বানানো তথ্য? কারো জবানবন্দি’র উপর ভিত্তি করে পুলিশ কর্মকর্তারা যখন রিপোর্ট লেখেন, তাতে প্রকৃত ওই জবানবন্দি হুবহু কতটুকু থাকে, সে বিষয়ে আমার সামান্য হলেও অভিজ্ঞতা আছে। আমি জানি, এই দেশে কত দ্রুত এক হাত থেকে আর এক হাতে পৌঁছতে পৌঁছতেই পাল্টে যায় তথ্যগুলো।

তারপরেও না হয় ধরে নিলাম, রোমেলাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন শাহেদ আলী। কিন্তু স্ত্রী’র কাছ থেকে পিটুনির ভয়ে কিছু করতে পারেন নি! শাহেদ আলী একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তার দায়িত্বই হচ্ছে দুষ্ট লোকের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করা। রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় কোনো পুলিশ যদি দেখে, দু’জন দুষ্ট লোক একজন নিরীহ মানুষকে মারধোর করছে, তখন তার দায়িত্ব কী হবে? বাধা দিতে গেলে তাকেও মার খেতে হতে পারে, এই ভয়ে সে কি দূরে দাড়িয়ে থাকবে? তাহলে রাষ্ট্র তাকে অস্ত্র ব্যবহারের যে ক্ষমতাটি দিয়েছে, সেটা কেনো?

যে পুলিশ কর্মকর্তা নিজের স্ত্রী’র নিষ্ঠুর নির্যাতনের হাত থেকে নিস্পাপ একটি শিশুকে রক্ষা করতে পারে না, তার পুলিশ বিভাগে কাজ করার আদৌ যোগ্যতা আছে কিনা, তা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে।

এখন মনে হয়, আসলে শাহেদ আলীদের সংখ্যাই বোধ করি পুলিশ বিভাগে বেশি। আর সেই জন্যেই দিনে দুপুরে, প্রকাশ্যে প্রায় প্রতিদিনই ছিনতাই, রাহাজানিসহ নানা দুষ্কর্ম হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যায়।

বিদিশা : ফ্যাশন ডিজাইনার ও লেখক।

বিদিশাফ্যাশন ডিজাইনার; লেখক

৩৩ Responses -- “রোমেলা, সুইটি আর পুলিশ”

  1. বিধান পাল

    মায়া-মমতা আমাদেরও আছে। রোমেলা কী কারণে নির্যাতিত হল জানতে পারলাম না। একমত হবেন যে, আমাদের দেশে কাজের লোকের বড় অভাব। শুধু শুধু নির্যাতন করলে যে কাজের লোক আর কপালে জুটবে না, অন্যদের মতো একজন এসআই-এর স্ত্রীরও তা বোঝার ক্ষমতা নিশ্চয়ই আছে।

    অনেকে আগ-পাশ না ভেবে একতরফা মন্তব্য করে। কর্মচারি-শ্রমিক-কাজের বুয়া- রিক্সা-টু স্ট্রোক চালক, এরা কী জিনিস রে ভাই, অনেকে হাড়ে হাড়ে অনুভব করছেন১ যত দোষ নন্দ ঘোষের মতো অবস্থা। মিডিয়াকর্মীরা কেন যে শুধু মালিকের দোষ খুঁজে বেড়ায়, মাথায় আসে না…

    Reply
  2. faruk Hossain

    এরকম একটি গ্রহনযোগ্য মতামত তুলে ধরার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ? ভাল থাকবেন।
    আসলে যে লোক নিজের স্ত্রীর হাত থেকে একটি ছোট্ট শিশুকে রক্ষা করতে পারে না, সে কি করে অপরাধীদের হাত থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করবে।

    Reply
  3. সুফল

    বিদিশা ম্যাম অনেক দিন পর আপনার লেখা পরলাম। ভালো লিখেছেন। ধন্যবাদ। আশা করি এখন থেকে নিয়মিত আপনার লেখা পাবো,আপনার মতো আমারও একটাই প্রশ্ন যে পুলিশ নিজের বঊয়ের অত্যাচারের হাত থেকে একটা বাচ্চা মেয়েকে রক্ষা করতে পারে না সে কী করে দেশ রক্ষার কাজে নাম লেখালো, আগে সেই পুলিশের বিচার করা উচিত !তার মত আনফিট লোক যত দিন পুলিশ বাহিনীতে থাকবে তত দিন রোমেলারা ঘরে ঘরে নির্যাতিত হবে ! আর আমরা যারা লিখে মনের ভাব প্রকাশ করি তাদের মুখেও কিছু বলতে হবে !

    বিদিশা ম্যাম ছবিতে আপণাকে সুন্দর লাগছে ! ভাল থাকুন এই কামনা এ করি !

    Reply
  4. মো: আনোয়ার হোসেন

    আমার পুরনো দিনের একটা গান মনে পড়ছে। গানটি হচ্ছে : প্রতিদিন কত খবর আসে যে কাগজের পাতা ভরে / জীবন পাতার অনেক খবর রয়ে যায় অগোচরে …..। আমরা সব খবর পাইনা । আমিতো বিগত দিনে এরকম খবর আরও অনেক পড়েছি । এই দেশ নির্যাতনকারীদের দেশ। এদেশের রোমেলারা নির্যাতিত হয় সুইটি বেগমদের হাতে । গার্মেন্টস শ্রমিকরা নির্যাতিত হয় গার্মেন্টস মালিকদের হাতে । শ্রমিক শ্রেণী নির্যাতিত হয় মালিক শ্রেণীর হাতে । এদেশের ৯০ ভাগ গরীব মানুষ নির্যাতিত হয় মাত্র ১০ ভাগ ধনী মানুষের হাতে । বিরোধীদল নির্যাতিত হয় সরকারি দলের হাতে । আমাদের গরীব দেশটি নির্যাতিত হয় কায়েমী সম্রাজ্যবাদী ধনী দেশ গুলোর হাতে শুধুমাত্র আমাদের দেশ প্রেমের অভাবের কারনে । আমার কথা হয়না । আমি আর আজকে লিখবোনা । অরণ্যে রোদন করতে আমার ভালো লাগেনা ।

    Reply
  5. Md. Mahbubur Rahman

    আমরা আসলে কেমন স্বাধীন দেশে বাস করি জানি না। যেখানে মর্মান্তিক একটা ঘটনার সঠিক বিচার তো দূরের কথা সঠিক তথ্যই জানা সম্ভব না। প্রশাসনের যেটুকু ইচ্ছা আমাদের সেটুকুর মধ্যেই জানতে হবে।

    Reply
  6. samsul kobir

    এটা যেন আমাদের মানসিকতা হয়ে দাড়িয়েছে। সমাজের কর্তা ব্যক্তিদের যদি এমন ব্যবহার হয় সাধারন মানুষদের ব্যবহার কেমন হওয়া উচিৎ! একটা জাতির সংস্কৃতি, কৃস্টি পরিবর্তনের সফলতা / ব্যর্থতা নির্ভর করে এসব মানুষের উপর!

    Reply
  7. mithun

    গা ‍শিউড়ে ওঠার মতো কলাম। আমার মনে হয় পুলিস এবং তার স্ত্রীর বিচার হ্ওয়া উচিত।

    Reply
  8. notime

    নির্যাতনের প্রকার ভিন্ন হতে পারে। তবে বিদিশা নিজে কি কম নির্যাতিত হয়েছেন এরশাদ দ্বারা ?

    Reply
  9. Naba

    শুধু কাগজে লিখে এর প্রতিবাদ করা যাবে না। আসুন আমরা এইসব কিছুর প্রতিবাদ জানাতে এক সাথে মিলিত হই। আমাদের সাধারন মানুষদের এক হবার একটি রাস্তা দরকার। আমরাই পারি সব নতুন করে সাজাতে।

    Reply
  10. আলম

    লেখাটির জন্য বিদিশাকে ধন্যবাদ!
    কিন্তু, এ রকম বা এর চেয়েও ভয়াবহ ঘটনা অহরহ ঘটছে দেশে।কিছুদিন আগে এক গৃহপরিচারিকাকে মৃত পাওয়া গেল বৈঠকখানায় – ছুরি দিয়ে গলার অর্ধেক কাটা। সিদ্ধান্তঃ’আত্মহত্যা’! ময়না তদন্তের রিপোর্ট। সাধারণ মানুষের জন্য সুবিচার আছে কি দেশে? আমরাই তো এ দেশের মানুষ!

    Reply
  11. belal

    একমাত্র নারী নির্যাতিতরাই নির্যাতনের ব্যাথা বুঝতে পারে। আপনাকে ধন্যবাদ।

    Reply
  12. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম

    এ আর তেমন কী? এ-ধরনের ঘটনাতো আমাদের দেশে অহরহ ঘটছে। শাস্তি হয় না বলে পুনরাবৃত্তি রোধ করা যাচ্ছে না।

    Reply
  13. Mahmud Hossain

    অপ্রিয় হলেও সত্য সুইটি বেগমের মত এ রকম মানুষ (অমানুষ)আমাদের সমাজে অনেক দেখা যায়। পত্রিকায় আর কটাই বা আসে। আর পুলিসের সম্পর্কে কিছু না বলাযই ভাল। এই আমাদের সোনার দেশ ???

    Reply
  14. RASHED

    আমার মনে হয় শাহেদ আলি পুরুষ নয়।আর তার ওয়াইফকে এমনভাবে শাস্তি দেওয়া উচিত যেন আর কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়। আমার মনে হয় ওকে একই রকমভাবে পিটানো উচিত।

    Reply
  15. Tposh

    আমি মনে করি আমাদের দেশে সব স্বামী মানসিকভাবে এবং কাজের লোক শারীরিকভাবে বউ দ্বারা নির্যাতিত। এখানে পুলিশকে একজন স্বামী হিসাবে মনে করুন। শুধু শুধু পুলিশের দোষ ধরা ঠিক না সবসময়।

    Reply
  16. Maruf Ahmed

    আমাদের মধ্যে স্নেহ, ভালবাসার আর কোন অবশিষ্ঠ নেই। এই ঘটনা তার প্রমাণ। ধন্যবাদ এই লেখার জন্যে। বিদিশা, আপনি অনেক কোমল মনের মানুষ। ভাল থাকবেন।

    Reply
  17. কান্টি টুটুল

    প্রধানমন্ত্রী মাতৃত্বকালীন ছুটি তিন মাস থেকে বাড়িয়ে ছয়মাস করেছেন,কারন এই মায়েরা সকলেই উনার কাছে মূল্যবান ভোটার, পক্ষান্তরে রোমেলার ভোটার হতে এখনও অন্তত আট/দশ বছর বাকি আর তাই রোমেলারা কখনো প্রধানমন্ত্রীর প্রায়োরিটি লিস্টে স্হান পায় না।

    Reply
  18. Gias Uddin Bhuiyan

    রোমেলা সুইটি আর পুলিশ সম্পর্কে যে মন্তব্য লিখেছেন তা আসলে যুক্তিযুক্ত। কিন্ত আমাদের সমাজ ও সংসার এমনভাবে গড়ে ওঠা যে আমরা পত্রিকার পাতায় পড়ে মনে করি আসলে লোকটা বর্ররের মত কাজ করেছে– এ বলে তাকে দু-একটা গালাগালও দিয়ে দিই। কিন্ত পরক্ষনে আমরাই আবার এই কাজটা করে থাকি। তখন মনেই হয়না যে আমি কাজটা খারাপ করছি। খোঁজ নিলে দেখা যায় অধিকাংশ পরিবারেই কাজের মেয়েরা লাঞ্চিত হচ্ছে, যার অনেকগুলিই পত্রিকায় বা সংবাদে আসে না। তাই আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে আমাদের নিজেদের দ্বারা যেন অন্য কোন মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। তার অধিকার যেন আমার দ্বারা ব্যাহত না হয়।

    আমরা নাটক দেখি্ কেবল বিনোদনের খাতিরে, এর থেকে কোন শিক্ষা আমরা নেই না। যদি আমরা এর থেকে সঠিক শিক্ষাটা নিতাম তাহলে আর সমাজ ও সংসারে এত অশান্তি ও কলহ থাকত না। সবাই মুখে ঠিকই বলে কিন্তু অন্তরে তা বিশ্বাস করে না। অন্য লোকে যদি তা করে তাহলে সমালোচনা করতে ছাড়ি না। যেমন নাটক দেখে আমরা বলি এই বউটা খারাপ, কিভাবে শাশুড়ীর সাথে ঝগড়া করছে, শশুড়কে কোনা সম্মান করে না কিন্ত যারা এই কথাগুলি বলি তারা কি এই কথাগুলো পালন করি? করি না। এটা সবারই মনে রাখা উচিত।

    Reply
  19. Ibrahim

    আমার মনে হয় মানব অধিকার সংস্থার চেয়ারম্যানের এ দিকে দৃষ্টি পরেনি, না হয় তাদের সম্পর্কে লেখা কোন পত্রিকায় আমার চোখ পরেনি। কিন্তু মানবাধিকারের কোনো লেখা আমার চোখে পরেনি কারন রোমেলা একজন গরিব ঘরের সন্তান, এবং কাজের মেয়ে এবিষয় কিছু লিখলে হয়তো ওনার বাসার কাজের মেয়েকেও কিছু বলতে পারবেন না। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় সাধারন মানুষের ব্যাপারে মানবাধিকারে তেমন গুরুত্ব পায় না।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—