প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির পর থেকে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত একজন শিক্ষার্থী কী কী শিখবে– তা সুস্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট করা আছে। প্রাথমিক স্তরে এগুলোকে ‘অর্জন উপযোগী যোগ্যতা’ ও মাধ্যমিক স্তরে ‘শিখনফল’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অর্জন উপযোগী যোগ্যতার আবার ভাগ আছে– ১. বিষয়ভিত্তিক, ২. শ্রেণিভিত্তিক ও ৩. প্রান্তিক। প্রতিটি শ্রেণির লেখাপড়া শেষ করার পর শিক্ষার্থীরা প্রতিটি বিষয়ে আলাদা আলাদাভাবে কী কী শিখবে তা যেমন দেওয়া আছে; তেমনি পুরো প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার পর সামগ্রিকভাবে কী কী যোগ্যতা অর্জন করবে, তাও নির্দিষ্ট করা আছে। এই সামগ্রিক যোগ্যতাকে একত্রে বলা হচ্ছে ‘প্রান্তিক যোগ্যতা’।

যদিও প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষাক্রম দীর্ঘদিন ধরে এসব শ্রেণিভিত্তিক ও বিষয়ভিত্তিক অর্জন উপযোগী যোগ্যতা অনুসারে তৈরি ও ব্যবহৃত; কিন্তু কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া শিক্ষার্থীদের প্রান্তিক বা শ্রেণিভিত্তিক ও বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতা অনুসারে মূল্যায়ন করা হয় না। প্রাথমিক স্তরের মত মাধ্যমিকেও একইভাবে প্রতিটি শ্রেণি ও বিষয়ের জন্য আলাদাভাবে শিখনফল নির্ধারণ করা আছে।

প্রাথমিক বা মাধ্যমিক স্তরে অর্জন উপযোগী যোগ্যতা বা শিখনফলের ওপর ভিত্তি করে পাঠ্যবইসমূহ লেখা হয়েছে। যতগুলো অর্জন উপযোগী যোগ্যতা বা শিখনফল রয়েছে, তার সবগুলো অবশ্য পাঠ্যবইতে প্রতিফলিত করা সম্ভব নয় এবং সেটি উচিতও নয়। তবে পাঠ্যপুস্তক রচনার নিয়মকানুন মেনে সর্বোচ্চসংখ্যক যোগ্যতা বা শিখনফল পাঠ্যপুস্তকে প্রতিফলিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

সুতরাং বলা যায়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার মূল আয়োজন এসব অর্জন উপযোগী যোগ্যতা ও শিখনফল কেন্দ্র করে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের পাঠ্যপুস্তকগুলোর মত শিক্ষক নির্দেশিকাসমূহও সেভাবেই তৈরি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের কি এসব যোগ্যতা ও শিখনফল অনুসারে মূল্যায়ন করা হচ্ছে? যেসব পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে ও যেভাবে পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে, তাতে শিক্ষার্থীরা এসব যোগ্যতা ও শিখন অর্জন করছে কি না, তা যাচাই করা কি সম্ভব হচ্ছে? উত্তর হবে– ‘না’।

তাহলে কেন এত এত পরীক্ষা দিতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের? কী উদ্দেশ্যে সারা বছর তাদের কেবল পরীক্ষার জন্যই প্রস্তুতি নিতে নিতে সময় পার হয়ে যায়?

শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত প্রচুর পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। নানা ধরনের ক্লাশ টেস্ট তো আছেই, একটু ‘ভালো’ বলে পরিচিত বিদ্যালয়গুলো প্রতিনিয়তই নানা ধরনের পরীক্ষা নেওয়া হয় ক্লাশে। এসব বাদ দিলে ষান্মাসিক, বার্ষিক এবং পাবলিক পরীক্ষা রয়েছে। এগুলোর কোনোটিতে কি শিক্ষার্থীরা অর্জন উপযোগী যোগ্যতা বা শিখনফল অর্জন করছে কি না, তা যাচাই করা হয়? আবারও উত্তর হবে– ‘না’।

তাহলে শিক্ষার্থীদের কেন এত পরীক্ষা দিতে হচ্ছে নিয়মিত? শুধু বই থেকে যা শিখছে, সেগুলো যাচাই করতে? কনটেন্ট-ভিত্তিক শিখন যাচাইয়ের জন্য এত পরীক্ষার আয়োজন কি সুস্থ প্রতিযোগিতার জন্ম দেয়?

বর্তমানে শিক্ষার্থীদের চারটি পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। এগুলো হল, পঞ্চম শ্রেণির পর প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা (পিইসি), অষ্টম শ্রেণির পর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), দশম শ্রেণির পর সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও দ্বাদশ শ্রেণির পর হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা।

এ চারটি পরীক্ষার আয়োজন করতে গিয়ে সরকারকে বিপুল আয়োজন করতে হয়। তার চেয়েও বেশি আয়োজনের মুখে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের ও তাদের মা-বাবাদের। কিছুদিন আগে একবার সিদ্ধান্ত হয়েছিল– এ বছর থেকে পঞ্চম শ্রেণির পর যে পরীক্ষাটি হয় সেটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। কারণ, ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’-এর সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রাথমিক শিক্ষার মেয়াদ এখন পাঁচ বছর থেকে আট বছর হয়েছে, অর্থাৎ পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে। সে অনুযায়ী পঞ্চম শ্রেণির পর পাবলিক পরীক্ষাটির যৌক্তিকতা থাকে না। কিন্তু কী এক অজ্ঞাত কারণে এ বছরও সেটি নেওয়া হচ্ছে।

এ প্রশ্নটি এখন নিয়মিতই উঠছে যে, এতগুলো পরীক্ষার আদৌ দরকার আছে কি না? আমার মত হচ্ছে, এতগুলো পাবলিক পরীক্ষা তো নয়ই; বরং বিদ্যালয়ের নেওয়া বার্ষিক পরীক্ষা ছাড়া ত্রৈমাসিক, ষান্মাসিক বা অন্যান্য পরীক্ষাও বন্ধ করে দেওয়া হোক।

আমি পরীক্ষার বিরুদ্ধে নই, কিন্তু আমার অবস্থান কার্যকর মূল্যায়নের পক্ষে ও পরীক্ষা-সংস্কৃতির বিরুদ্ধে।

বাংলাদেশের গত বিশ বছরের শিক্ষাব্যবস্থা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আমরা দিন দিন পরীক্ষানির্ভর শিক্ষাব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছি। মনে হচ্ছে, পড়ালেখা আসলে গৌণ বিষয়; শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মূল টার্গেট বরং পরীক্ষা। মনে হচ্ছে, শেখার প্রয়োজন নেই; ভালো গ্রেড পাওয়াই মূল লক্ষ্য।

পরীক্ষার মাধ্যমে যদি দেখা হত শিক্ষার্থীরা অর্জন উপযোগী যোগ্যতা বা শিখনফল কতটুকু শিখছে, তাহলে হয়তো এতগুলো পরীক্ষার যৌক্তিকতা থাকত। শিক্ষার্থীদের সামনে এখন জিপিএ-৫ নামের একটি টার্গেট রয়েছে। কে কিভাবে এ টার্গেটে যেতে পারে তারই এক উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা চলছে এখন। এই অবাধ ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার তোড়ে ‘শিক্ষা’ কতটুকু হল, সে খবর কে রাখবে?

পরীক্ষার কারণে শিক্ষার্থীরা যে কিছুই শিখছে না, তা বলা এ লেখার উদ্দেশ্য নয়। বরং এতগুলো পরীক্ষা না থাকলে তাদের শিখনটুকু যে আরও মজবুত হত, তা বলার চেষ্টা করছি এখানে।

পরীক্ষাকে আমরা সাধারণ পড়ালেখার শেষ ধাপ হিসেবে চিহ্নিত করি। আর এর ফল হিসেবে খাতা-কলমনির্ভর পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যেভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে, সেটিই আসলে পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য নষ্ট করে ফেলেছে। যে শিক্ষার্থীর মুখস্থবিদ্যার জোর নেই, তার শতগুণ থাকা সত্ত্বেও ভালোভাবে মূল্যায়িত হবে না। সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরও আজকাল নোট বা গাইড বইতে পাওয়া যায় এবং সেগুলো মুখস্থ করে পার পাওয়া যায়। আর খাতায় তেমন কিছু না লিখেও কিংবা অপ্রাসঙ্গিক উত্তর লিখেও নম্বর পাওয়ার বিষয়টি তো এখন অন্যতম আলোচিত বিষয়। এর সত্য-মিথ্যা কতটুকু তা সুনির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল, কিন্তু এসব নিয়ে আজকাল সামাজিক মিডিয়াতে বেশ আলোচনা হয়।

আমার প্রস্তাব থাকবে, দ্বাদশ শ্রেণির আগে সব পাবলিক পরীক্ষার আয়োজন বন্ধ করা হোক। এমনকি বিদ্যালয়ের নানাবিধ আনুষ্ঠানিক পরীক্ষাও উঠিয়ে দেওয়া হোক। এ সময়টুকুতে শিক্ষার্থীরা কেবল ‘মডিফায়েড’ বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নেবে। মডিফায়েড এ অর্থে যে, প্রচলিত বার্ষিক পরীক্ষার বদলে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট কিছু দক্ষতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে বার্ষিক পরীক্ষার আয়োজন করা হবে, যা অর্জন উপযোগী যোগ্যতা ও শিখনফল যাচাইয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। আর বার্ষিক পরীক্ষার মূল লক্ষ্য হবে দুটো। এক. সীমিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর দক্ষতা ও দুর্বলতা যাচাই করে সে অনুসারে ফিডব্যাক দেওয়া। দুই. লেখাপড়ার শেষ ধাপ হিসেবে নয়; বরং শিখন-শেখানো কার্যক্রমের স্বাভাবিক ও নিয়মিত ধাপ হিসেবে পরীক্ষা পদ্ধতির সর্বোৎকৃষ্ট ব্যবহার নিশ্চিত করা, যার সঙ্গে গ্রেডের সম্পর্ক হবে গৌণ, শিখনের সম্পর্ক হবে মুখ্য।

আরও ভালো হত যদি বলতে পারতাম বার্ষিক পরীক্ষাটুকুও তুলে দেওয়া হোক। আমাদের শিক্ষকগণ যদি খাতা-কলমভিত্তিক পরীক্ষা না নিয়ে শ্রেণিতে সারা বছর ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা ও উন্নতির বিষয়গুলো ক্রমাগত তুলে ধরতে পারতেন এবং সে অনুসারে শিক্ষার উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে পারতেন, তাহলে বার্ষিক পরীক্ষারও প্রয়োজন হত না।

বার্ষিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের রোল নম্বর দেওয়ার মতো ভুল কাজটিও আমরা করি। আপাতদৃষ্টিতে এটিকে ঠিক মনে হলেও দিনশেষে তা অসুস্থ প্রতিযোগিতারই সৃষ্টি করে। মনে করা হয়, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভালো ফল করার প্রবণতা সৃষ্টি হবে। এটি আংশিকভাবে ঠিক; এ প্রবণতার নেতিবাচক দিকই বেশি। আমরা নানা ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের উদাহরণ দিই, কিন্তু তাদের শিক্ষাব্যবস্থার ইতিবাচক দিকগুলোর কতটা গ্রহণ করি? একটু খোঁজ নিলেই জানা যাবে, অনেক দেশে এ ধরনের পরীক্ষাভিত্তিক রোল নম্বর নির্ধারণের প্রচলন নেই।

বলা প্রয়োজন, দ্বাদশ শ্রেণির আগে বার্ষিক পরীক্ষা ছাড়া অন্য সব পরীক্ষা বন্ধ করলেই যে শিক্ষার গুণগত মানে রাতারাতি পরিবর্তন চলে আসবে, তা নয়। বরং হাঁফ ছাড়ার আনন্দে ও নির্ঝঞ্ঝাট থাকার আতিশয্যে প্রথমদিকে লেখাপড়ায় ঢিল দিতে পারে অনেক শিক্ষার্থী, এমনকি বিদ্যালয়ও। এটি শিক্ষকদের জন্যও প্রযোজ্য হতে পারে। স্বল্প সময়ের জন্য এর নেতিবাচক দিকগুলোই বরং প্রকটভাবে ফুটে উঠতে পারে আমাদের সামনে। সেজন্য একসঙ্গে সব পরীক্ষা বন্ধ না করে আস্তে আস্তে দু-তিন বছর সময় নিয়ে পরীক্ষাগুলো বন্ধ করা উচিত।

লেখাপড়া থেকে শিক্ষার্থীদের যতটুকু উপকৃত হওয়ার কথা, পরীক্ষা ও বল্গাহীন প্রতিযোগিতার সংস্কৃতিতে তারা উপকৃত হয় তার থেকে কম। প্রচলিত ধরনের পরীক্ষা লেখাপড়াকে আনন্দহীন করে তোলে। পরীক্ষাকেও আনন্দময় করে তোলা যায়, কিন্তু তার জন্য যে ধরনের দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন, সেটির অভাব আছে আমাদের। প্রতিবছর পাবলিক পরীক্ষার আয়োজন করতে গিয়ে যে পরিমাণ বিপুল অর্থ খরচ হয় সরকারের (শ্রম ও সময়ও বিবেচনা নেওয়া দরকার), সেই অর্থ বিদ্যালয়ে বিনিয়োগ করে আমাদের শিক্ষকদের আনন্দময় পন্থায় নিত্যদিনের মূল্যায়ন ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হোক। তাতে খাতা-কলমভিত্তিক পরীক্ষা না নিয়েও শিক্ষার্থীদের যেমন মূল্যায়ন করার উপায়সমূহ প্রতিনিয়ত প্রয়োগ করা যাবে, তেমনি আস্তে আস্তে বাড়বে শিক্ষার গুণগত মান।

গৌতম রায়লেখক ও গবেষক; সহকারী অধ্যাপক, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

২৭ Responses -- “পরীক্ষা-সংস্কৃতি নয়, চাই মূল্যায়ন ব্যবস্থা”

  1. Md. Amrul Kayesh Amin

    Dear Sir,
    First of all I would like to give you special thanks for the potential article that is emergency demands of the society at this moment.
    Please excuse me sir, as a father of 2 babies I’m very much worried about their education. If we observe bit carefully we see, since primary to intermediate, some cases up-to Graduation level even most of the institute recruits those teachers whom was the student of back bench mostly and they have not such quality to do any job else except this. Depth of knowledge and any other Criteria (responding a good teacher) of these peoples are very poor (!) but they are high ambitious.

    So, this type of examination system is very suitable for them. They need not to give any effort for students, only they are concentrating private & couching system to earn extra money in high volume. On the other hand, Govt. also recognized them by increasing 100% of their salary. More-over, students fee also goes high to secure education business.
    We the general peoples/public get caught everywhere!!

    To rescue this situation somebody like you or your level need to come in front to lead.

    This is my humble request (if you survey properly, most of the guardian will agree with me), please do something to change this type of bogus system of education; other-wise, one day (very near that day!!) whole nation will fall down crucially and we everybody will devastate.
    Pls, pls come in front to lead us, to lead proper future of nation.

    Reply
    • গৌতম রায়

      আপনার উদ্বেগের কারণটা সহজেই বোধগম্য, কারণ আপনি দু’সন্তানের শিক্ষা পর্যবেক্ষণ করে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, আমাদের সাধারণ পর্যবেক্ষণও একই ধরনের সিদ্ধান্তে আসে। সমস্যা হলো, এগুলো ঠিক করার জন্য যারা বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত, তাদের অনেকে এসব বিষয়ে হয় সম্যক ওয়াকিবহাল নন; নয়তো অনেকে ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষাব্যবস্থাকে এইদিকে নিয়ে যাচ্ছেন। আমরা যারা শিক্ষা নিয়ে কাজ করি, তারাও একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ের বাইরে গিয়ে কিছু করতে পারি না বা আমাদের সেই অ্যাকসেস নেই। সুতরাং যতোটুকু সম্ভব, নিজ জায়গা থেকে বক্তব্যগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করি। আপনারাও আপনাদের জায়গা থেকে বক্তব্যগুলো নানা জায়গায় তুলে ধরুন। আশা করি কর্তৃপক্ষ আমাদের সুরগুলো গুরুত্ব দিবেন। মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

      Reply
  2. Md. Nazrul Islam Khan, Director, FREPD

    গবেষক যাহা চিন্তা করেন, অন্যদের দ্বারা তা কতটুকু সম্ভব? এ দেশের চালকগণ চিন্তা করেন, কোথায় কোথায় ‘ধান্দার’ সুযোগ আছে!!!

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      শ্রদ্ধেয় নজরুল ভাই,
      ভালই বলেছেন। কেউ বাঁচার জন্য খায়, আবার কেউ খাওয়ার জন্য বাঁচে। পার্থক্য এতটুকুই।

      Reply
    • গৌতম রায়

      যারা চালক আছেন, তাঁদের অনেকেই যে এগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করেন না, তা নয়। কিন্তু সংখ্যায় তাঁরা কম। কিংবা এমন আরও অনেক বাস্তব বাধা হয়তো তাদের সামনে আছে যা আমরা উপলব্ধি করতে অপারগ। যা হোক, দিনশেষে আমাদের অন্তত এটুকু জায়গায় আসতে হবে যে, দেশের চালকদেরকে এই বিষয়গুলো জোর করে হলেও বুঝাতে হবে। নাইলে শিক্ষাব্যবস্থার পতন অবশ্যম্ভাবী।

      Reply
  3. রুবেল রায়

    অামি স্যারের সাথে এক মত। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্তা যে অবস্থা। তাতে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরা পড়াশুনা করতে পারবেনা। কারণ শিক্ষা এখন ব্যবসায় পরিনত হয়েছে। এখন শ্লোগান হচ্ছে টাকা যার শিক্ষা তার।

    Reply
    • গৌতম রায়

      শিক্ষা দিন দিন আরও ব্যবসায়িক উপাদানে পরিণত হবে, যদি না এখন থেকেই শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা ও কাজ করা হয়।

      Reply
  4. সরকার জাবেদ ইকবাল

    সুপ্রিয় গৌতম রায়,

    একটি গভীর মননশীল লেখার জন্য অভিনন্দন। আমরা ‘গ্রেড সংস্কৃতি’র হাতে জিম্মি হয়ে আছি। ইচ্ছে থাকলেও আমাদের ধারাবাহিক মূল্যায়নের পথে হাঁটার উপায় নেই। কেননা, নীতি-নির্ধারকগণ এ পথে হাঁটবেন কিনা সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। আর, যে কারণে এই আশঙ্কাটি আমার মনে জাগছে তা হলো আমাদের সংস্কৃতিই হলো এ রকম যে, – শাশুড়ি কর্তৃক শাসিত বউ শাশুড়ি হইয়া বউকে শাসায়। অর্থাৎ, নীতি-নির্ধারকগণ যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন তারা সেই প্রক্রিয়া ভেঙ্গে বেরিয়ে আসতে চাইবেন কিনা বা চাইলেও কতটা সক্ষম তা ভেবে দেখার বিষয়।

    যাই হোক, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী নিশ্চিত করতে তাদেরকে ‘পরীক্ষা’ নামক বিভীষিকা বা বন্দীদশা থেকে মুক্ত করা একান্ত জরুরি। তা যত তাড়াতাড়ি ঘটে ততই মঙ্গল।

    Reply
    • গৌতম রায়

      আপনার আশঙ্কাটি আসলে সত্যি। আর সে কারণেই এখনো আমাদের হাতে সময় আছে শেকলটি ভেঙে ফেলার। না হলে এমন এক সময় আসবে যখন শেকলের বন্ধন কেবলই দৃঢ় হতে থাকবে, আমাদের হাতে উপযুক্ত হাতিয়ার থাকবে না সেই শেকল ছেঁড়ার। শেকল তখন কেবলই ফাঁস হয়ে দাড়াবে আমাদের জন্য।

      Reply
  5. debasish kumar

    সত্যি কথা বলতে কী, এসব বলে বা লিখে কোন লাভ নেই (অত্যন্ত কষ্টদায়ক হলেও সত্য!)!! কেননা, যারা কিনা দেশের ভবিষ্যত নিয়ে ভাবেন (আমার সন্দেহ হয়, আদৌ ভাবেন কি না), তাদের মাথায় কিছু থাকলে (!) এতদিন মূল্যায়ন পদ্ধতি অবশ্যই পরিবর্তিত হতে পারত। শুধু মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বা স্নাতক নয়, খোদ বিসিএস পরীক্ষার মূল্যায়ন পর্যন্ত অত্যন্ত নিম্নমানের। আর এই ভুলেভরা মারাত্মক ত্রুটিপূর্ণ মূল্যায়নের মাধ্যমে নিয়োগকৃত অফিসারেরা দেশের যে কী পরিমান সর্বনাশ করছে সেটা তো দেখাই যাচ্ছে!

    Reply
    • গৌতম রায়

      লিখে লাভ নেই– এই অবস্থান নিয়ে বসে থাকলে দেশের কোনোকিছুই পাল্টাবে না। সন্দেহ নেই, আমি নিজেও আপনার মতোই এ-ধরনের হতাশায় ভুগি মাঝেমধ্যেই; কিন্তু পরক্ষণেই মনে হয়, এসব বিষয় নিয়ে অনবরত কথা বলা প্রয়োজন। আমার-আপনার সবার। দেশটাকে বদলানোর দায়িত্ব আমাদের সবার।

      Reply
  6. আশিক

    আপনার যুক্তি আমার একটুও ভাল লাগল না। আমার একটা ছোট ভাই আছে, তাকে দেখি পরীক্ষার সময় ছাড়া পড়তে বসতে চায় না এবং আমার নিজেরও তো পরীক্ষা না আসলে পড়তে মন চায় না! সৃজনশীল বলতে কী বুঝায়– এটার মানে আমি বুঝি না। বাংলাসহ এসব সৃজনশীল বিষয়গুলোতে তো এখন যারা ভাল স্টুডেন্ট তারাও যে রকম নাম্বার পায়, যারা পড়ালেখা কম করে তারাও তো ওরকমই নাম্বার পায়।

    Reply
    • গৌতম রায়

      “আমার একটা ছোট ভাই আছে, তাকে দেখি পরীক্ষার সময় ছাড়া পড়তে বসতে চায় না এবং আমার নিজেরও তো পরীক্ষা না আসলে পড়তে মন চায় না!” – আপনার এই বক্তব্যের মধ্যেই লেখাটির মূল উদ্দেশ্য নিহিত। পড়ালেখাটা এমন হবে যেখানে পরীক্ষা হবে লেখাপড়ার একটি অংশ বিশেষ, যাতে ওই পরীক্ষার সময় ছাড়া পড়তে চায় না এমন প্রথাই উঠে যাবে।

      আপনার মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—