Feature Img

Mazhar-fফারজানার বিয়ে হয়েছিল শওকত আলী খান ওরফে হীরনের সঙ্গে। বর হীরন পটুয়াখালির কলাপাড়ার চাকামইয়া ইউনিয়নের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। শিক্ষকের পক্ষ থেকে এই ধরনের প্রস্তাব কেবল অপরাধজনকই নয়, কলঙ্কজনকও। প্রাথমিক স্কুল শিক্ষকের দায়িত্ব শিশুদের মধ্যে উন্নত মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করা। যৌতুক যে একটি খারাপ প্রথা এবং একে নির্মূল করার ব্যাপারে যেখানে শিক্ষিত মানুষমাত্রেরই ভূমিকা রাখা উচিত, সেই বিবেচনাতেও শিক্ষিত মানুষ হিসাবে এই মূল্যবোধের প্রচার করবার কথা শিক্ষকেরই। সেদিক থেকেও যৌতুকবিরোধী বক্তব্য রাখবার কথা তাঁরই। কিন্তু আশ্চর্য যে বর শওকত আলী খান ওরফে হীরন রাষ্ট্র কর্তৃক নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এবং তথাকথিত অর্থে শিক্ষিত হয়েও এই যৌতুক দাবি করেছেন। শুধু তাই নয়, একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হয়ে, নিজে একজন নারী হয়ে বরের ফুফু তাহমিনা বেগম যৌতুকের প্রস্তাবটি জোরের সঙ্গে উত্থাপন করেছেন। এ ক্ষেত্রে তিনি নিজেও পুরুষতান্ত্রিকতারই প্রতিনিধিত্ব করলেন।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে সম্পত্তির ওপর মেয়েদের অধিকারের বৈষম্যের সুযোগে যৌতুকপ্রথা এখনও সমাজে প্রবলভাবে রয়ে গেছে। সম্পত্তির ওপর নারীর অধিকার যথার্থ মানবাধিকারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত যৌতুক দূর করা কঠিন হবে। ফারজানার যৌতুক-প্রত্যাশী বর ও বরের পরিবার এই যে প্রতিহত হলো এতে খানিকটা চিকিৎসা হলো সমাজের। এই বিবেচনায় ফারজানার সাহসী ভূমিকার জন্য আমাদের অভিনন্দন জানাতেই হবে!
farzana-m
আমাদের সমাজে যৌতুক দীর্ঘকাল ধরে গড়ে-ওঠা এক ব্যধি। এর বিরুদ্ধে কেবল আইন করে এর প্রতিকার করা সম্ভব হবে না। অনানুষ্ঠানিকভাবে মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত সব ধরনের পরিবারেই এই ব্যধি এখনও দিব্যি টিকে আছে, কেবল যে টিকেই আছে তা নয়, নির্ভয়ে এর অনুসরণ হয়ে চলেছে। এর কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুই পক্ষই নানা সামাজিক আচার বা শোভন আচরণের আড়ালে এই প্রক্রিয়াকে মেনে নেয়। একপক্ষ গররাজি থাকলেও প্রতিরোধের চেষ্টা হয় কমই। সমাজের এতটাই গভীরে এর শেকড়বাকর যে আইনের আশ্রয় প্রায় নেয়াই হয় না। এ ধরনের সামাজিক ব্যাধি দূর করতে হবে সামাজিক-সাংগঠনিক কর্মপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই। যে পরিবার যৌতুক চাইবে সে পরিবারকে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।

আমরা দেখছি যে কিছু এনজিও যৌতুকপ্রথার বিরুদ্ধে নানা কর্মসূচি পালন করছে। এসব কর্মসূচি হয়তো কিছুটা ইতিবাচক ভূমিকাও পালন করে! কিন্তু আমার মনে হয় বিদেশি সাহায্যে পরিচালিত এনজিওগুলোর তৎপরতায় এই ব্যাধি দূর করা সম্ভব হবে না। কারণ বিদেশি সাহায্য নিজেদের আত্মার জাগরণ ঘটাতে সহায়তা করতে পারে না। এর জন্য দরকার নিজেদের সচেতনতা। বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক স্থানীয় সচেতন মানুষের সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের তৎপরতা বাড়িয়ে, যৌতুকের প্রত্যাশাকে নিচুস্তরের কাজ হিসাবে সমাজে প্রতীয়মান করে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর হবে। এসব ক্ষেত্রে যেহেতু সরকার যৌতুকের বিরুদ্ধে আইন করেছে ও আইন প্রয়োগে অঙ্গীকারাবদ্ধ সুতরাং সরকার এই ধরনের সামাজিক সংগঠনকে সহায়তা দিতে পারে।

মেয়েরা এখন দলে দলে লেখাপড়া শিখছে এবং পেশাগত কাজে অংশ নিয়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। নিজেদের জীবনপ্রবাহকে পরিচালিত করছে নিজেরাই। মেয়েদের উন্নতির জন্য সামাজিক সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াতে থাকলে একসময় এর থেকে সুফল আসবে, পুরুষতান্ত্রিক প্রথা নারীদেরকে আর নিজেদের ব্যবহার্য সামগ্রী ভাবতে পারবে না। মেয়েদের সচেতন প্রতিবাদী অবস্থানের মাধ্যমেই এই মারাত্মক ব্যাধি আমাদের সমাজ থেকে দূর করবার চেষ্টা করতে হবে। সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতা আইন প্রয়োগে সুবিধা যোগাতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে যৌতুকবিরোধী অবস্থান ঘোষণা করতে হবে। তাহলে যৌতুকের প্রস্তাব ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যানের সাহস মেয়েরা নিজেরাই দেখাতে পারবে বেশি করে। এ ধরনের প্রস্তাব উত্থাপন করতেই সাহস পাবে না বরপক্ষ। বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর বরপক্ষ যৌতুক দাবি করলে যে কনে এতটা তীব্রভাবে এর বিরোধিতা করতে পারবে এমন ধারণা নিশ্চয়ই ছিল না বলেই তারা যৌতুক চাইতে সাহস পেয়েছিল।

যৌতুকের ভুক্তভোগী ফারজানা ছাত্রজীবনে যৌতুকবিরোধী আন্দোলন করেছেন। নিজের জীবনে এসে যৌতুকপ্রস্তাবের মুখোমুখি হয়ে তিনি তাঁর সেই দিকনির্দেশনা হারান নি। আর সে-কারণেই তিনি প্রতিবাদী হয়ে উঠতে পেরেছিলেন। নিঃসন্দেহে ফারজানার স্পষ্ট ভূমিকা অন্য মেয়েদেরও উজ্জীবিত করবে। আর গণমাধ্যম পারে এই উজ্জীবনী শক্তিকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে। শওকত আলী হীরনের যেন শাস্তি হয় এবং এই শাস্তির খবর ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় গণমাধ্যমে– এ প্রত্যাশা করি!

আহমাদ মাযহার : প্রাবন্ধিক ও গবেষক।

১৯ Responses -- “ফারজানাকে অভিনন্দন!”

  1. এরশাদ মজুমদার

    মহাধন্যবাদ ফারজানাকে। দীর্ঘজীবী হও, সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াও। নিশ্চয়ই তুমি অনেক বড় হবে। আমি আরেক ফারজানাকে চিনি, যে মোহর, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য সম্পদ পাওয়ার জন্যে বিয়ে করে আর তালাক দেয়। এভাবে সে ধনী হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদী ফারজানার সংখ্যা খুবই কম। কিন্তু ঠগবাজ লোভী ফারজানার সংখ্যা সমাজে দিন দিন বেড়ে চলেছে।

    Reply
  2. khairul

    আমি ফারজানাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। তিনি আমাদের ঘুণে ধরা সমাজকে চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন।

    Reply
  3. আবাবিল ইয়ামিন

    হ্যাঁ। ফারজানা অভিনন্দন পাবে। তবে শুধুই অভিনন্দন নয়, ফারজানার তার চেয়েও ভালভাবে পুরস্কৃত হওয়া উচিত ছিল। আমাদের সমাজে রন্ধ্রে রন্দ্রে যে কীট লুকিয়ে আছে সেটারও উচ্ছেদ দরকার। সেজন্য দরকার ছিল আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার। সমাজ ব্যবস্থাকেও ঢেলে সাজানো। কিন্তু জাতীয়ভাবে তেমন কোন উদ্যোগ নেই। যেন বিলাপ করতে পেরেই এদের জীবন সার্থক। আসলে এদেশে একজন সমাজ সংস্কারক না জন্মানো পর্যন্ত এই সব উপদ্রব আমাদের ছাড়বেনা।

    আমাদের মুখের কথা আর কাজের মধ্যে মিল খুঁজে পাওয়া যায়না। আবার যা করি তা বিশ্বাস করিনা। আমরা ত্রিমাত্রিক দোষে দুষ্ট। ফারজানা যেকাজটা ঝুঁকি নিয়ে করতে পেরেছে, এই চেতনাটা সমাজের সচেতন মানুষদের ধারন করা দরকার। কিন্তু সেখানে আবার আরেক দোষ। প্রভাবশালীরা নিজের জন্য যা পছন্দ করেন তা সাধারন মানুষের জন্য করেন না। এখানে সমতার অভাব। এক কথায় এরা সবাইকে সমান জানে তবে নিজেকে বাদ দিয়ে। এই দ্বৈত নীতির অবসান দরকার সবার আগে।

    Reply
  4. Mohammed Shoeb

    ফারজানাকে অনেক অভিনন্দন । অসাধারণ লেখার জন্য জনাব আহমদ মাযহারকেও অনেক ধন্যবাদ এবং সেই সাতে হীরণের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি কামনা করছি ।

    যৌতুকের বিরুদ্ধে ফারজানার এই অসাধারণ প্রতিবাদের বাস্তব ঘটনাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যেকোনো শ্রেনীর বইতে গল্পাকারে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে সমাজের অনেক উপকার হবে বলে মনে করি । মীর জাফরের মত হীরনও যৌতুকখোর হীরন নামে কলঙ্কিত মানব হিসাবে উদাহারন হয়ে থাকবে ।

    Reply
  5. sapno77

    সাধুবাদ তখনি জানানো উচিৎ হবে যদি ফারজানা কোন অন্যায় না করে থাকে। ফারজানা সুযোগ নিচ্ছেন কিনা তাও ভাববার বিষয়। আগে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হোক; তদন্ত নিরপেক্ষভাবে হওয়া অতি আবশ্যক।

    আমি নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের জন্য জোর আবেদন জানাই।

    Reply
  6. Khaled

    সাধুবাদ জানাই ফারজানাকে, তবে তিনি কোন সুযোগ নিচ্ছেন কিনা তাও ভাববার বিষয়। আগে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হোক তারপর আমরা সবাই মিলে হীরণের প্রকাশ্যে শাস্তি চাইব।আমি তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশের পক্ষে।

    Reply
  7. Hamidjannat

    প্রথম মন্তব্যে বলতে ভুলে গেছিঃ
    হীরনের শাস্তি তো হতেই হবে।
    সেই সাথে হীরনের ফুফু’র শাস্তিও নিশ্চিত করতে হবে।
    দার্জাল , অশান্তি সৃষ্টিকারী ও পরিবারে ফ্যাসাদকারী
    মহিলাদের শিক্ষা হওয়া উচিৎ। এই ধরনের ফুফুরা পরিবারের
    পুরুষ সদস্যদের ছাগল ভেড়া বানানোর চেষ্টা করে।
    এদের থেকে সাবধান!!!

    Reply
  8. Hamidjannat

    ফারজানা যা করেছে তার বিনিময় মূল্য দেয়া যায় এরকম কোন জিনিস আছে কি না আমার জানা নেই। জয়তু ফারজানা! অনলাইনে আমি দুটি বিষয়ে মন্তব্য করেছি: ১. ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভি এবং ২. ফারজানা। তোমার নামের পাশে ( যৌতুক খোর হীরনের) নাম লেখাটাও পাপ তা আমি জানি। তোমার প্রতিবাদ দেখে আমাদের দেশের অনেকের শেখার আছে। কিন্তু তা কি হবে?? আমি আশাবাদী হীরন বিয়ে করার জন্য কোন পাত্রীই হয়তো পাবেনা। তাই তো হওয়া উচিত। ওর শাস্তি এটাই। ফেসবুকে হীরন এটা সেটা লিখছে। ওটা ওর নোংরা মানষিকতার ফসল। উপরের লেখাটা ভাল লেগেছে। ধন্যবাদ লেখকে। সেই সঙ্গে আবারো ধন্যবাদ ফারজানাকে। এগিয়ে যাও তোমার স্বপ্ন নিয়ে। তবে সাবধানে পা ফেলবে।।
    তোমার স্বপ্ন সফল হোক

    Reply
  9. masudul kadir

    পড়লাম। খুব ভালো লাগলো। এই সচেতনতা যত বাড়বে আমরা তত মানুষ হতে পারবো।

    Reply
  10. আহমাদ মাযহার

    আমার লেখার শেষ বাক্যটি এ-রকম:‘শওকত আলী হীরনের যেন শাস্তি হয় এবং এই শাস্তির খবর ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় গণমাধ্যমে– এ প্রত্যাশা করি!’
    রচনার দ্রুততার কারণে বাক্যটির মাধ্যমে যে চিন্তার প্রকাশ ঘটাতে চাওয়া হয়েছে তাতে দুর্বলতা ঘটেছে। বাক্যটি প্রকৃতপক্ষে হওয়া উচিত ছিল ‘শওকত আলী হীরনকে যেন বিচারের মুখোমুখি করা হয় এবং যৌতুক চাওয়ার অপরাধের বিচারে তার শাস্তি হলে সে খবর যেন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় –এ প্রত্যাশা করি।’

    Reply
  11. প্রবীর বিকাশ সরকার

    লেখাটি সময়োপযোগী। অনেক ধন্যবাদ আহমাদ মাযহার।
    আসলে কোনো অপরাধই মাঝখান থেকে আইন করে সহজে রোধ-প্রতিরোধ করা কঠিন। শিক্ষিত লোকের সমাজ হলে অন্যকথা। বাংলাদেশের মতো বিচিত্র অশিক্ষা ও কুশিক্ষার দেশে কোনো আইনই খাটে না, এটা আমরা নিজেরাও জানি। কাজেই প্রয়োজন প্রাথমিক স্তর থেকে যথার্থ শিক্ষা প্রদান করা। বিদ্যালয়ে যদি শিশুদেরকে সঠিক যুক্তির সঙ্গে যৌতুক যে অপরাধ, অন্যায় এবং একটি সামাজিক ও মানসিক ব্যাধি এই সম্পর্কে বোঝানো যায় তাহলেই কাজ হবে। এই অনাহুত অপরাধ কিভাবে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব সৃষ্টি করে, পরিবারে অশান্তি আনে, ভাঙন ধরায় এবং মানুষের মূল্যবান প্রাণ পর্যন্ত কেড়ে নিতে আগ্রাসী হয়ে ওঠে প্রামাণ্য ঘটনা ও চিত্রগুলো সংবেদনশীলভাবে তাদের সামনে তুলে ধরতে হবে। যেহেতু শিশু-কিশোরদের মনোজমিনটা থাকে কোমল এবং সংবেদনশীল তাই তারা উভয়ে অর্থাৎ ছেলে ও মেয়েরা পরস্পর অনুধাবন করতে শিখবে।
    সমাজে মানুষ যে বন্ধু এবং বন্ধুত্বের মধ্যেই ভালোলাগা, ভালোবাসা ও প্রেম গড়ে ওঠে এবং অনেক ক্ষেত্রেই চিরস্থায়ী সম্পর্ক হিসেবে বিয়ে পর্যন্ত গড়িয়ে যায়– সেখানে সামান্য কিছু টাকা, স্বর্ণ বা জিনিসপত্রের জন্য এই বন্ধুত্বটাকে নষ্ট করা কেন? এই বিষয়টি বোঝাতে হবে, এটা শুধু শিক্ষকদের ক্ষেত্রেই নয়, পারিবারিক ক্ষেত্রেও নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে হবে।
    আর আরও একটি বিষয়, বাংলাদেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য অত্যন্ত প্রকট তাই প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রেই সমাজে সমতা ও শান্তি আনার জন্য শিক্ষাবিষয় পাঠ্যভুক্ত করা জরুরি। মোট কথা সামাজিক বৈষম্য থেকেই এই যৌতুক প্রথার উৎপত্তি। শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
    জাপান প্রবাসী বলে জানি যে, একসময় জাপানেও যৌতুক প্রথা বিদ্যমান ছিল যাকে বলে জিসানকিন। জাপানে ছিল উল্টো বর কনেপক্ষকে যৌতুক দিত টাকার মাধ্যমে। সেই প্রথা তারা শিক্ষার মাধ্যমেই দূর করতে সক্ষম হয়েছে। সমস্ত কিছুই আসলে নির্ভর করে যথার্থ শিক্ষার ওপর।
    শিক্ষিত হয়েও যেখানে যৌতকু দাবি করা হচ্ছে ১০ কোটি নিরক্ষর মানুষ যে যৌতুক ছাড়াও নানা ধরনের অপরাধ করে একুশ শতকে এসে সভ্য বলে কথিত বাঙালি জাতিকে অসভ্য করে তুলেছে এই নিদারুণ জাতিগত সঙ্কটকে দূর করতে জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা যুগের দাবি মাত্র।

    Reply
  12. আবদুর রাজ্জাক শিপন

    ফারজানাকে দাঁড়িয়ে সম্মান !

    যে সাহসী পথে ফারজানা হাঁটলেন, যৌতুক নামের সামাজিক ব্যধিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে আরো অসংখ্য ফারজানা সাহসী হয়ে উঠুক ! পুরুষতান্ত্রিক সমাজ অর্হনিশি চপেটাঘাত হজম করুক !

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—