Feature Img

hassan-ah21ঈদ উৎসব আমাদের জাতীয় জীবনে একটি বড় উৎসব।  প্রতিটি মুসলমানের প্রিয় উৎসব। বহুকাল ধরে এটি প্রথা আকারে আমাদের দেশে বর্তমান। এখন এটি এতটাই আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে যে তা কেবল ধর্মী নির্দেশ হিসেবে নেই। আর সমস্যাটা ঠিক এ জায়গাতেই । যখন কোন কিছু অভ্যাসে ও প্রথায় দাড়িয়ে যায় তখন সেটি আমাদের যুক্তি ও বুদ্ধির বোধ থেকে উৎসারিত হয় না। কোন এক ফরাসী পণ্ডিত বলেছিলেন, আপনি অন্যসব কিছু ভুলে যাওয়ার পর যা থাকে তাই হচ্ছে সংস্কৃতি। সুতরাং, বুঝাই যাচ্ছে চেতন সচেতনতার বা যুক্তি-বুদ্ধির সংযোগ খুব একটা নেই এর সাথে।

যে বিপদের কথা বলেছিলাম সেই বিপদের শুরু এখান থেকেই । একটু ব্যাখ্যা করি। ঈদ উৎস একটা ধর্মীয় আচরণ। ধর্ম একটা বিশ্বাসের ব্যাপার। আর বিশ্বাসটা শুরু হয়– সব ধর্মের ক্ষেত্রে – মানুষের জন্য কল্যান বোধ দিয়ে। মানুষ এই কল্যানবোধের প্রতি আকৃষ্ট হয়েই এক সময় ধর্মকে গ্রহনে আকৃষ্ট হয়। কিন্তু ধর্মটি যখন একটা আচার প্রথা বা সংস্কৃতিতে রূপান্তরিত হয়ে যায় তখন এর কল্যাণ বোধের জায়গাটা হতে থাকে অস্পষ্ট, পরে অস্পষ্ট থেকে লুপ্ত ও বিলুপ্ত। অর্থাৎ যে কল্যানবোধ ছিলো ধর্মের লক্ষ্য সেই লক্ষ্যটাই হারিয়ে যায়। এটা কেল ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রেই নয়, সব ধর্মের ক্ষেত্রেই এটাই ঘটে এবং ঘটেছে।

এখন এই যে, ধরা যাক বলীদান বা কোরবানি। এটা অনেক পুরোনো প্রথা ; প্রাকইসলামি যুগ থেকেই চলে আসছে। এই কোরবানির মূল কথাটা হচ্ছে ত্যাগ। অর্থাৎ ত্যাগটাকে আমি কতটা আন্তরিকতার সাথে করতে পারি। যে জিনিসের প্রতি আমার সামান্য আকর্ষণ আছে সেটাকে ত্যাগ করা কঠিন নয়। যে জিনিসের প্রতি আমার বেশ আকর্ষণ আছে তাকেও ত্যাগ করা কঠিন নয়। কিন্তু যে জিনিসের সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক অর্থাৎ তাকে যদি আমার আত্মজ বলা হয়, তাকে ত্যাগ করা মানে সর্বোচ্চ ত্যাগ। সেই সর্বোচ্চ ত্যাগ করার জন্যই তো এই ধর্মীয় নির্দেশটা এসেছিল। আল্লাহ যখন দেখলেন নবীজি তার ছেলেকে কোরবানি দিতে দ্বিধা করছে না তখন তিনি নবীজির ত্যাগের আদর্শে সন্তুষ্ট হয়ে একটি পশু কোরবানি দিতে বললেন।

আমরা এই ত্যাগের আদর্শে কতটা উদ্বুদ্ধ? আমরা ত্যাগের দিকে না গিয়ে কেবল পশুটিকেই বেছে নিয়েছি। এটা বলতে খুব সংকোচ হয়,তবু না বলে পারছি না : ঢাকা শহরে এই এত এত কোরবানি হয় তা কতটা সেই আদর্শে হচ্ছে তা কিন্তু প্রশ্নসাপেক্ষ। যে-পশুগুলোকে কোরবানি দেয়া হচ্ছে তারা কি ইসলাম-বর্ণিত নবীজির আত্মজ-তুল্য প্রিয় বস্তু না শুধুই প্রদশর্নী ? গরুটি যদি দীর্ঘদিন আমাদের সানিধ্যে থাকে, এই দীর্ঘ সানিধ্যের কারণে সে প্রিয় উঠবে; তবেই না সত্যিকারের আদর্শের প্রতিফলন ঘটবে। সেটা কিন্তু ঘটে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যিনি কোরবানি দেন , তিনি হয়তো নিজে গিয়ে কিনে আনার সময় পান না। বা পেলেও সেটা একদিন দুইদিন আগে কেনা হয়। সুতরাং এর সাথে সান্নিধ্যের বা প্রিয় হয়ে ওঠার সুযোগ থাকছে না।

আদর্শের সংযোগও এর সাথে খুব একটা নেই। এটি একটি অচেতন প্রথা হয়ে দাড়িয়েছে। কে কত বড় গরু কোরবানি দিল সেটাও একটা আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। আবার যারা কম পয়সাওয়ালা তাদের অনেকে তো দেখেও না কোন গরুটি কোরবানি দেয়া হলো ; বলে ওমুকের সাথে ভাগে কোরবানি দেয়া হয়েছে। সুতরাং, এতে ত্যাগের কোন আদর্শ আছে বলে আমার মনে হয় না। আমি জানি, একথা বলায় অনেকেই আমার সমালোচনা করবেন। কিন্তু লক্ষ্য করে দেকুন তো, এ রকমই ঘটছে কিনা ? এতো গেল একটা দিক। এর বাইরে আরেকটা বীভৎস দিকও আছে। ঈদের দিনটি, যে-দিনটি হবে আনন্দের, উৎসবের, ছোট ছোট শিশুদের জন্য যে-দিনটি হওয়া উচিৎ দৃষ্টিনন্দন; সেদিনটি হয়ে ওঠে হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ পশুর কোরবানির ফলে বীভৎস, আতংকময়, বিশ্রী এবং পরবর্তীতে পুতিগন্ধময়। এই দৃশ্যটা চোখের জন্য এক সীমাহীন অত্যাচার। শিশুরা যখন এই দৃশ্যটা দেখে তখন তা চেতনে বা অবচেতনে তার স্মৃতিকোষে গিয়ে জমা হয়। শিশুর মনগঠনে এর একটা প্রভাব নিশ্চয়ই পরে। আমাদের সমাজে সহিংসতা, রূঢ়তা , নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা আর নির্দয় ঘটনার এত যে ছড়াছড়ি – এর পেছনে ছোট ছোট শিশুদেরকে এই জবাই করার মতো দৃশ্যের সাথে পরিচয় করানোর সম্পর্ক থাকতে পারে বলে মনে হয়। শিশুদের কোমল মনে এই প্রচণ্ড দৃশ্য কোন প্রভাব ফেলে না– এটা কিন্তু বলা যাবে না।

আমি মনে করি জবাই করা এবং মাংশ কাটাবুটির কাজটা প্রকাশ্যে না করে আড়ালে করলে ভালো হয়। অন্তত শিশুদের সামনে নয়। নবীজিও তো কাজটা লোকালয়ে বা প্রকাশ্যে জণসম্মুখে করেন নি; তিনি নিজের প্রিয় বস্তু আত্মজকে লোকালয়ের বাইরে এক নির্জন যায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন। এই উদাহরণটি ধর্মীয় কাহিনী হিসেবে থাকা সত্ত্বেও আমরা অনুসরন করি না। ধর্মের মর্মে না গিয়ে শুধুই খোলসটুকু নিয়ে পরে আছি।

হাসান আজিজুল হক: অধ্যাপক ও কথাশিল্পী।

৩৩ Responses -- “কোরবানি: ত্যাগের বদলে প্রদর্শনের উৎসব”

  1. কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর

    হাসান আজিজুল হকের লেখাটি বেশ ভালো লাগল। মুষলমানদের দাপুটেপনার ভিতর এইভাবে মতামত প্রকাশ করাটাও একটা কাজের কাজ বটে। এই আলোচনা শুধু নয়, এমনিতেই কিছু প্রশ্ন আমায় মনোজগতে বার বার আসে_
    ১. হযরত ইব্রাহীম তো সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশে কখনও কোনো কাপর্ণ্য করেন নি। তাহলে নিজের সন্তানকে একেবারে কোরবানি করে তার আনুগত্য প্রকাশের এমন অবস্থা জারি হলো কেন?
    ২. নবী সকল এত প্রশ্নবিমুখ কেন? এইখানে, শুধু শুধু তাকে কেন পুত্রবধপালায নিমগ্ন হতে হলো? এ সাদামাটা প্রশ্নটি একজন পিতা হিসাবে ইব্রাহীমের মনোজগতে একবারও এল না!
    ৩. নিজের মাসুম-পুত্রকে বধ করার প্রস্তুতি নেয়ায় তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না?
    ৪. আপন-পুত্রের কোরবানির স্থলে একটা অচেনা, অদেখা, অলৌকিক দুম্বা সমকক্ষ হয় কি?
    ৫. আপন-পুত্র বিসর্জনের সিম্বলিক রিপ্রেজেন্টশন হিসাবে হাট থেকে কেনা রীতিমতো প্রতিযোগিতামুখর একটা নীরিহ প্রাণী বধ কি সুন্নতের প্রতি অবজ্ঞা নয়?
    ৬. কোরবানির প্রকাশ্য-উৎসবের যে রেওয়াজ নানান ধর্মে বিশেষত ইসলাম আর সনাতন হিন্দুধর্মে আছে তাই প্রাণীবধের মতো পাশবিকতার বীজ নিহিত নয় কি?

    Reply
  2. Muhammad Saiful Islam

    কুরবানি, এটা মহান আল্লাহর পক্ষ হতে সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য করনীয়। আল্লাহ তায়ালা মানুষের উপকারার্থে পৃথিবীতে বিভিন্ন তরুলতা উদ্ভিদ ও পশুপাখি জীবজন্তু সৃষ্টি করেছেন। আর এগুলোর মাধ্যমে মানুষের আহার্য়ের ব্যবস্থা করেছেন। যদি মানুষ এসব পশুর মাংস না খায় তাহলে পৃথিবীতে এসব জন্তুর সংখ্যা বেড়ে গেলে কী অবস্থা হবে ভেবে দেখেছেন!!! এতো কিছুদিন আগে উন্নত রাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়া প্রায় ৭ লাখ উট গুলি মেরে হত্যা করেছে তাদের দেশে সংখ্যাধিক্যের কারণে। পৃথিবীতে বর্তমানে যে গণতন্ত্র, মানবাধিকার রক্ষা, চরমপন্থা দমন, স্বৈরতন্ত্র এবং মৌলবাদ দমনের নামে বিশ্বের তথাকথিত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহ বিশেষতঃ আমেরিকা ও তাদের সহযোগি পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো মানুষ হত্যা করছে এবং বিভিন্ন রাষ্ট্র ধ্বংস করছে তখন তাদের কলমের কালি ও মুখের ভাষা থাকে না।

    Reply
  3. স ম আদনান

    আমি একজন মুসলিম, আর লেখক একজন কমিউনিস্ট। সেটার উপর ভিত্তি করেই বলি, হাসান আজিজুল হক কি কোরবানী দেন?
    তিনি কি তার বাপ-দাদার আমল থেকে চলে আসা ইসলামের দুটি ঈদের মধ্যে একটিকে অস্বীকার করতে চাচ্ছেন?
    এই যুগে আপনি নবীদের মত পবিত্র আর আল্লাহ প্রেমিক পাবেন না। আমরা নবীদের অনুকরণ করতে পারি না, শুধুমাত্র অনুসরণ করতে পারি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কুরবানীর তৌফিক দান করুন। আল্লাহ আমাদেরকে কাফির-মুশরিকদের হাত থেকে রক্ষা করুন। আমিন।

    Reply
    • rabbani

      ডিমের ভেতরে থেকে ডিমকে দেখা য়ায় না। ডিম কেমন দেখতে গেলে বেরিয়ে এসে দেখতে হয়। কলেমার প্রথম শব্দ দুটোর অর্থটা আশাকরি আবার মিলিয়ে দেখবেন এ্ই কথাটার সাথে। নইলে বাকারা’র সাত নং আয়াতের ভেতর পড়তে পারেন। আল্লাহ’ই ভালো জানেন।

      Reply
  4. Iqbal karim Sarwar

    এই লেখায় হাসান দাবি করতেছেন আমরা ‘ধর্মের মর্মে না গিয়ে শুধুই খোলসটুকু নিয়ে পড়ে আছি’। ধর্মের ‘মর্ম’ ও ‘খোলস’ এই দুইয়ের পার্থক্য তিনি করলেন ক্যামনে? যেটা হাসানের কাছে পছন্দ সেটা হৈল ‘মর্ম’ আর যেটা তার নীতি ও নান্দনিকতার খাপে খাপে মেলে না সেটা ধর্মের হৈল ‘খোলস’। ধর্ম ও সংস্কৃতির মধ্যে যে কাল্পনিক পার্থক্য তিনি অনুমান করেন সেটা ধর্ম বুঝতে যেমন সহায়তা করে না, ঠিক তেমনি সংস্কৃতি বুঝতেও কোন কামে আসে না।

    ‘ইসলাম’-কে আরবি ভাষা ও সংস্কৃতি থেইকা আলাদা করার দরকার হৈতে পারে, কিন্তু হাসান যে কারনে করলেন তার কোন যুক্তি নাই। প্রাক-ইসলামি যুগে চাঁদের পুজারি বেদুইনদের সংস্কৃতি কিম্বা তাদের পৌত্তলিকতার ইতিহাস বাদ দিয়া ইসলামকে আলাদা কৈরা বিচার করতে হৈলে যে পদ্ধতিতে সেটা করন যায় সেটা হৈল মার্কসের ইতিহাস বিচারের পদ্ধতি। হাসান আজিজুল হককে মার্কসবাদী বৈলা মনে হৈল না। আবার ইসলাম যে অর্থে কেতাবি ধর্ম ঠিক সেই অর্থে কি হিন্দু ধর্মকে ‘ধর্ম’ বলা যায়? হিন্দু ধর্মের মূল ভিত্তি সনাতন ঐতিহ্যে, আচারে ও সংস্কৃতিতে। এই সনাতনকে অনুসরন করাই মানুষের স্বাভাবিক ধর্ম বৈলা বর্ণাশ্রমবাদী প্রাতিষ্ঠানিক হিন্দু দাবি করে। এর বিরোধী মত থাকতে পারে। প্রতিটি ধর্মের মধ্যেই ধর্ম সম্পর্কে ধারণার রূপান্তর বা বিবর্তন ঘটতেছে, এটা নতুন কিছু না। ধর্ম, সংস্কৃতি বা বিশ্বাসকে পরস্পর থেইকা যান্ত্রিক ভাবে আলাদা কৈরা তাকে যুক্তি-বুদ্ধির বিপরীতে দাঁড় করানোর এই নিস্ফল চেষ্টার মধ্য দিয়া হাসান আজিজুল হকের চিন্তার দৈন্য দশা ফাইটা বাহির হৈয়া পড়ে।
    এমনকি, মনে রাখন দরকার, ইব্রাহিমের কোরবানির গল্প আরবদেরই গল্প। তাদের লোকায়ত কেচ্ছাকাহিনী ও সংস্কৃতির অংশ। সেটা ঈসার অনুসারী খ্রিস্টানদেরও গল্প। কিন্তু ইব্রাহিমের জীবনের ব্যাখ্যা দুই ধর্মে দুইভাবে হৈয়া আসতেছে।কোরবানির ক্ষেত্রে খ্রিস্টানদের দাবি হৈতেছে নবি ইব্রাহিম বিবি সারার গর্ভে জাত ইসহাককে কোরবানি দিতে নিয়া গিয়েছিলেন, আর মুসলমানদের দাবি ইসহাক না, ইব্রাহিম দাসী হাজেরার পেটে ধরা সন্তান ইসমাইলকে কোরবানি দিইয়া ছিলেন। একদিকে ‘কোরবানি’ আরব দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে আগাগোড়াই যুক্ত। কিন্তু অন্যদিকে দাসীর পুত্রকে মহিমান্বিত করার মধ্য দিয়া বর্ণবাদ ও দাসব্যবস্থার বিপরীতে ও বিরুদ্ধে দাঁড়াবার জন্য গল্পের বিশেষ একটা বয়ান এই ক্ষেত্রে আমরা দেখি। এই গল্পের রাজনীতি ধরতে পারা ও বোঝাটাই এই কালে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মুসলমানদের জন্য যেমন, মার্কসবাদীদেরও জন্যও তেমন। এখনও বর্ণবাদ ও দাসব্যবস্থা (এবং ঔপনিবেশিকতা ও সাম্রাজ্যবাদ) থেকে আমরা মুক্তি পাই নাই। ‘ত্যাগ’ সম্পর্কে যে মুসলমানি বয়ান হাসান আজিজুল হক হাজির করতেছেন সেটা ইসলামের রাজনৈতিক অবদান খাটো কৈরা তাকে একটা নিরামিষ আচারে পরিণত করবার চেষ্টা; বিশেষ এক শ্রেণীর মওলানা-মৌলবিদের প্রাণান্ত চেষ্টার অতিরিক্ত কিছু মনে হয় নাই।
    আমরা দেখি, খ্রিস্টিয় জগতে ইসহাককে ইব্রাহিমের কোরবানির গল্পটা আল্লার পুত্র হিশাবে হজরত ঈসার ক্রুশে কোরবানির গল্প হৈয়া হয়ে নতুন ভাবে হাজির করা হৈছে। এই কোরবানি ঈসায়ী ধর্মের ভিত্তি ও শক্তি হৈছে। তার তাৎপর্যও বুঝবার দরকার আছে। মানুষের সকল পাপ নিজ দেহে ধারণ কৈরা সকল মানুষকে পাপ ‘মুক্ত’ করবার চিন্তা এর মধ্যে নিহিত। মানুষের জন্মের ‘আদিপাপ’ থেকে নিষ্কৃতি পাবার বাসনা এখানে পরিষ্কার। ধর্মকে যেমন আচার, প্রথা, সংস্কৃতি থেকে আলাদা করন যায় না, তেমনি পাপবোধ, নীতিনৈতিকতা বা রাজনীতির থেইকাও যান্ত্রিক হাবে আলাদা করন যায় না। এইসব দোষ হাসানের লেখায় আছে।
    এটাও হাসানের মারাত্মক ভুল যে ধর্মের লক্ষ্য ‘কল্যানবোধ’। কল্যানবাদিতাই ধর্ম এই তত্ত্ব হচ্ছে ধর্ম সম্পর্কে চরম অজ্ঞতার পরিচয়। ইসলাম বা সকল ধর্ম ‘কল্যানবোধ হারিয়ে ফেলেছে’, এটাই হাসান আজিজুল হকের বিষম উদ্বেগ। এখন তিনি ইসলামে কল্যানবোধ ফিরাইয়া আনবার জন্য মুসলমানদের উপদেশ দিতে নাইমা পড়ছেন।
    আমি ভেবেছিলাম ‘প্রগতিশীল’ হাসান আজিজুল হক মার্কসের ঐতিহাসিক পদ্ধতিতে আস্থা রাখেন। এখন দেখছি তিনি মার্কস বিরোধী পাতি বুর্জোয়া প্রতিক্রিয়াশীলদের অধিক কিছু না।

    হাসানের ‘বিশ্বাস’ সম্পর্কে ধারণা নিয়াও মুশকিল আছে, যে ধারণা থেকে ধর্মকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য বলা হয় ধর্ম মানেই ‘বিশ্বাস’। কিন্তু বিশ্বাসের বিপরীতে ‘বুদ্ধি’ বা ‘যুক্তি’-কে শ্রেষ্ঠ প্রমাণের চেষ্টা খোদ দর্শনের জগতেই বিতর্কিত হৈয়া আছে বহু আগে থেইকাই। কেউ যদি ‘আল্লা’-য় বিশ্বাসের জায়গায় বুদ্ধি বা যুক্তিকে বসায়, বুদ্ধি বা যুক্তিকেই ‘বিশ্বাস’ করে, সে আসলে উপাস্য নামের বদল ঘটায় মাত্র – ধর্মতত্ত্বেরই খোপ ও খাপের মধ্যেই সে হান্দাইয়া থাকে। কিন্তু যুক্তিবাদী বা বুদ্ধিবাদী মনে করে সে বুঝি বিশ্বাসের হাত থেইকা মুক্তি পাইছে। আল্লার নামাজ ছাইড়া দিয়া যুক্তি বা বুদ্ধির পুজা চিন্তার অগ্রসরতা প্রমাণ করে না, চিন্তার অক্ষমতাই প্রমাণ করে, তখন সেটা ধর্মের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়াশীল অসুখ হিশাবে হাজির হয়। নতুন উপদ্রবের কারন হৈয়া দাঁড়ায়।

    আসলে আলোচনা করনের কথা পুঁজিতান্ত্রিক ব্যবস্থা কিভাবে আমাদের আমূল বদলাইয়া দিতেছে। সকল ধর্মের বিশ্বাসে, আচারে ও চর্চায়ও অতএব বদল ঘটতেছে। সমাজ ও সংস্কৃতির মধ্যেও। গরিব ও শ্রমিকদের স্বার্থের রাজনীতির দিক থেইকা এই বদলগুলি বোঝা দরকার। পুঁজি নিজের বাজার বিস্তারের জন্য অতিভোগের সংস্কৃতি চালু করতে বদ্ধপরিকর। এর সঙ্গে ফ্রিজ বেচা, মশলা বেচা ইত্যাদির সম্পর্ক আছে। কোরবানির গোশত আগে গরিবরা এক আধ টুকরা পাইত। এখন ধনিরা নিজেরাই খায়। পত্রপত্রিকায় গরু, ছাগল বা ভেড়ার মাংসের রেসিপি সচিত্র ছাপা হয়। নইলে পত্রিকাও চলে না।

    আলোচনা করনের কথা ইসলামপন্থী ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা বাংলাদেশের জনগণকে বিভক্ত রাইখা যেভাবে আমাদের ভারতীয় আগ্রাসন ও সাম্রাজ্যবাদী হামলার মধ্যে ফালাইয়া রাখতে চায় তার হাত থেকে উদ্ধারের পথ কি? মানুষকে একত্র ও ঐক্যবদ্ধ করন দরকার। কিন্তু না, হাসান আজিজুল হক এখন ধর্মপ্রাণ মুসলমান হৈয়া মুসলমানদের কোরবানির ত্যাগ সম্পর্কে ইসলামি শিক্ষা দিতে নাইমা পড়ছেন। তার চিন্তা নিয়ে কিছুই বলার থাকতোনা যদি না তার মধ্যে মুসলমানদের কোরবানির ত্যাগের শিক্ষা দেবার চেষ্টা না দেখতাম। আসলে ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদীরা এতোদিন খাইয়া না খাইয়া ইসলামের বিরোধিতা কৈরা আসতেছে, মুসলমান ও ইসলামের বিরুদ্ধে ঘৃণাবিদ্বেষ ছড়াইয়া মহা আনন্দ লাভ কৈরা আসতেছে, বুশ-ব্লেয়ায়ের যুদ্ধে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে হাত মিলাইয়া এই দেশের জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়াইছে। ভাবতেছি, এখন কি তারা ভোল পাল্টাইতে শুরু করল নাকি? ইসলাম ও পুঁজিতন্ত্রের সম্পর্ক নইয়া একটি অক্ষরও হাসান লিখল না, খালি কোরবানিরে নিন্দা করল। না লেখার মধ্যেই বোঝা যায় হাসান আজিজুল হকের এই লেখা ধর্ম হিশাবে ইসলামকে হেয় করার চেষ্টার অধিক কিছুই হয় নাই।

    Reply
  5. সাইফুল

    নীতির উৎস ইসলামবহির্ভুত হলে তখন কুরবানি ছাড়াও ইসলামের অনেক কিছুর মধ্য ভাল না লাগার বিষয় ফাল দিয়ে ওঠে।

    Reply
  6. আল মামুন ( ঢাকা )

    পশু হত্যায় আমি খুব অপরাধ দেখি না । কারন শুধু মুসলিমরা নয় সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ মাংসাশী । প্রতিদিন অসংখ্য পশু হত্যা করা হয় শুধু আমিষের জন্য । বাংলাদেশে কোরবানির দিনে আমাদের পরিষ্কার পরিছন্নতার বিষয়টিতে আমাদের আর বেশী যত্নবান হতে হবে । রাস্তার উপর কোরবানি দেওয়া, যত্রতত্র কোরবানির আবর্জনা ফেলা দেখলে নিজেকে খুব অসভ্য মনে হয় । আমার মনে হয় এই নোংরামি ও অসভ্যতা বর্জন করলে কোরবানি ঈদ ও ঈদ পরবর্তী দিনগুলি উপভোগ্য হবে । আর ঢাকা শহরে কুরবানি বর্জন করলে পরিবেশের জন্য অনেক ভালো হবে । শুনেছি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে এই প্রকার কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ।

    Reply
  7. Asif Iqbal

    ভয়াল ছুড়ির নীচে নিরিহ গরুর প্রাণ।

    বাঘের দাঁতের নীচে গোঙানো হরিণের মতো গরুগুলিও গোঙায় মানুষের হাতের নীচে। ওদের বৃহৎ চোখ ঠিকরে বেরিয়ে আসে বিস্ময়ে: একি নির্মম এক জানোয়ারের হাতে পড়েছে সে আজ!

    হা ঈদ, হা রক্ত উল্লাসময় ঈদুল আজহা, তুমি কি আমাদের আর কখনোই বাড়তে দিবে না? আমাদের শিশুরা কি কেবলি বালতি বালতি মাংশের মতো থলথলে স্থুলতা
    আর রক্তাক্ত ছুঁড়ি দেখে উল্লসিত হওয়া শিখবে?

    Reply
  8. rony

    হাসান আজিজুল হকের লেখা পড়ে হতাশ হতে হল। এই এক লেখাতেই হতাশ হওয়ার মত অনেকগুলা ব্যপার ঘটেছে।যা হোক মোটা দাগে দু-একটা বলি1.তিন থিওলজির আলোচনাটি করতে চেয়েছেন সংস্কৃতি দিয়ে।2.সেকুলার আইডিয়া সারা দুনিয়াতে ব্যাপক পর্যালোচনার বিষয়ে পরিনত হওয়ার পর এর রাজনৈতিক ব্যবহারের নজিরটির দিকে তিনি দৃষ্টি দেন নি। কোরবানী বিষয়টি ইসলাম ধর্মের আলোকে তিনি যে ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন এতে সমস্যা আরও বাড়বে। করণ ধর্মের রজনৈতিক ইতিহাসের দার্শনিক পর্যালোচনা ছাড়া এই সব কথাবার্তা কোন কজে আসে না।আশা করি তিনি আরও যত্নবান হবেন।

    Reply
  9. asaduzzaman

    এক কোরবাণী ঈদের পরদিন একজন সুইস ভদ্রলোক ফ্রেন্চ ভাষায় লিখিত পত্রিকা দেখিয়ে আমাকে বলেছিলেন , দেখ গতকাল তোমার দেশে ” ভাষ নেত্তোয়াইয়াজ ” হয়েছে । তার ভাষায় ” গরু পরিষ্কার ” ! চিন্তা চেতনায় আপনারা কাছাকাছি চলে এসেছেন !

    Reply
  10. মাহবুব আলম

    কুমিল্লা, নভেম্বর ০৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- কোরবানির পশু জবাইয়ের দৃশ্য দেখে কুমিল্লায় ঈদের সকালে ‘হার্ট অ্যাটাক’ হয়ে মারা গেছে মো. আবদুর রহমান সাগর নামের এক কিশোর। আপনার লেখাটি উল্লেখিত খবরটির মাধ্যমে আরো বেশী ‍যুক্তিযুক্ত হয়ে উঠেছে। আপনার মত একজন প্রখ্যাত কথা সাহিত্যিকের এমন সময়োপযোগী সাহসী লেখার জন্য আপনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

    Reply
  11. মোঃ আসাদুজ্জামান

    স্যারের এই ফিচারটি দেখে আমি হতাশ হলাম। কারন আমি একজন মুসলমান। স্যার নিজে মুসলমান হয়েও মুসলমানকে হেয় প্রতিপন্ন করে লিখেছেন। হিন্দুরা পশু বলিদান করে। এতে কি তিনি বিভৎসতার কিছু দেখেন না? সমগ্র পৃথিবীতে বিজাতিরা যারা কোরবানি করে না, তাদের দ্বারা যে নিষ্ঠুর আচরণ বিশ্ববাসী দেখছে তার প্রভাব সম্পর্কে কী বলবেন?

    Reply
    • লাবলু

      একজন সেকুলার তিনি বিশ্বাস করেন যে, মানুষের শিক্ষা ও নৈতিকতা ধর্ম কেন্দ্রিক হওয়া উচিৎ নয়। Oxford Dictionary লিখেছে, “ believing that morality and education should not be based on religion” এবং Webster Dictionary লিখেছে, “ a system of doctrines and practices that rejects any form of religious faith and worship.“ অনেকে আজকাল সেকুলারিজকে একটি আলাদা ধর্ম হিসেবে বিবেচনা করতে চায় (কৌতুহলী পাঠক Is Secularism a Religion লিখে ইন্টারনেট সার্চ করে দেখতে পারেন)। সাধারন অর্থে ধর্ম একটি বিশ্বাস ব্যাবস্থা ছাড়া কিছু নয়–যেখানে তার অনুসারীরা বিশ্বাস অনুযায়ী কর্ম সাধানে তৎপর হয় এবং আরাধনার বিষয়সমূহ সমর্থন করে। ধর্ম বিশ্বাস ব্যাবস্থায় সর্ব শক্তিমান সত্তার অস্তিত্ব থাকে। অন্যদিকে, নাস্তিক্যবাদ এবং সেকুলারিজমেও বিশ্বাস ব্যাবসথা রয়েছে–সেটা এরূপ যে, কোন সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নেই, এই বিশ্বাস স্থাপন করা এবং অন্য বিশ্বাস ব্যাবস্থাকে প্রত্যা্খান বা তুচ্ছ জ্ঞান করা। নাস্তিক্যবাদ এবং সেকুলারিজম বিশ্বাস ব্যবস্থায় সুনিদৃষ্ট কোন দেব-দেবি, ঈশর প্রভৃতির অস্তিত্ব নেই; তবে একজন নাস্তিকের কাছে মানব জাতি বা প্রকৃতিই সর্ব শক্তিমান। বুদ্ধ ধর্মের একটি অংশ (Zen Buddhism) সৃষ্টি কর্তায় বিশ্বাস না করেও প্রচলিত ধর্ম হিসেবে বিদ্যমান রয়েছে।

      Reply
  12. সরোয়ার

    ১। পশু কুরবানি আমরা কেন করি? ২। পশু কুরবানিতে ত্যাগ কোথায়? উৎসর্গ কোথায়?

    উত্তরঃ ইবরাহিম(আ.) স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে তার প্রিয় পুত্রকে কুরবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন। পরে আল্লাহ খুশি হয়ে পুত্রের পরিবর্তে একটি দুম্বা কুরবানি করতে আদেশ করেন। এই ঘটনাকে স্মরণে বা এই ঘটনার অনুকরণে আমরা পশু কুরবানি করি।

    আপাতদৃষ্টিতে উত্তরটা সঠিক মনে হলেও এতে একটা গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি আছে। অতীতে কোন ঘটনা ঘটলেই আমরা কি সেটার স্মরণে সেই ঘটনার নির্বিচার অনুকরণ করি বা সেটা করার অনুমতি কি ইসলাম আমাদের দেয়? না, দেয় না। ইবরাহিম(আ.) স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে পুত্র করবানি করতে উদ্যত হয়েছিলেন, আমরাও যদি এমন কোন স্বপ্ন দেখি তাহলে ইবরাহিম(আ.) এর অনুকরণে সেটা বাস্তবায়নে উদ্যত হতে পারি কি? না, পারি না।

    কারণ:

    ১. নবীদের স্বপ্ন ওহি, অন্য মানুষদের স্বপ্ন ওহি নয়। কাজেই সাধারণ মানুষের জন্য স্বপ্নে কিছু দেখলেই সেটার ওপর আমল করার অনুমতি ইসলামে নেই।

    ২. পূর্ববর্তী নবীদের কোন আমল যতক্ষণ পর্যন্ত কুরআন-সুন্নাহ দ্বারা আমাদের জন্য করণীয় বলে সাব্যস্ত না হয়, আমরা সেটার অনুসরণ করি না।

    ৩. পূর্ববর্তী যেকোন ঘটনার স্মরণে আমরা সেই ঘটনার অনুকরণ করি না- আমরা কেবল সেই সকল ঘটনারই অনুকরণ করি কুরআন-সুন্নাহ যেগুলো অনুকরণ করার নির্দেশ দেয়। ইবরাহিম(আ.) আর স্ত্রী-পুত্রকে নির্জন মরুভূতিতে নি:সঙ্গ অবস্থায় রেখে এসেছিলেন; আমরা সেটা অনুকরণ করি না, কারণ তার নির্দেশ বা অনুমতি ইসলাম আমাদের দেয় নাই।

    কাজেই,

    পশু কুরবানিতে আমরা ইবরাহিম(আ.)এর অনুকরণ এই জন্য করি, যেহেতু কুরআন-সুন্নাহ আমাদের সেই অনুকরণের নির্দেশ/অনুমতি প্রদান করে। কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশ বা অনুমতি ব্যতীত আমরা অতীত কোন ঘটনার নির্বিচার অনুকরণ করি না।

    ২। পশু কুরবানিতে ত্যাগ কোথায়? উৎসর্গ কোথায়?

    আমি বলবো থাকে। ইবরাহিম(আ.) যখন পুত্রকে কুরবানি করার জন্য আদিষ্ট হন, তিনি আল্লাহর নির্দেশের যৌক্তিকতা নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলেন নাই। এটা আমাদের জন্য একটা শিক্ষা। আমাদেরকে যখন পশু কুরবানি করার জন্য আদেশ করা হয়, তখন আমরাও আল্লাহর নির্দেশের যৌক্তিকতা নিয়ে কোন প্রশ্ন করি না। পশু কুরবানির বিপক্ষে শত শত প্রবন্ধ-নিবন্ধ লেখা হচ্ছে, চারদিকে পশুপ্রেমিকরা চিত্কার চেঁচামেচি করছে, পশু কুরবানির বিপক্ষে নতুন নতুন যুক্তি উপস্থাপিত হচ্ছে- কিন্তু সব কিছুকে উপেক্ষা করে মুসলিমরা ঠিকই আল্লাহর নির্দেশ পালন করে যাচ্ছে এবং যাবে। আল্লাহর নির্দেশের বিপক্ষে কোন যুক্তিই তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়- বর্তমান সময়ে এই শিক্ষাটুকু কুরবানিতে খুব বেশিমাত্রাতেই অনুভূত হচ্ছে।

    Reply
  13. minhaj

    উনি বলেছেন: ‘ঈদের দিনটি, যে-দিনটি হবে আনন্দের, উৎসবের, ছোট ছোট শিশুদের জন্য যে-দিনটি হওয়া উচিৎ দৃষ্টিনন্দন; সেদিনটি হয়ে ওঠে হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ পশুর কোরবানির ফলে বীভৎস, আতংকময়, বিশ্রী এবং পরবর্তীতে পুতিগন্ধময়। এই দৃশ্যটা চোখের জন্য এক সীমাহীন অত্যাচার।’ ওনার কাছে এইসব দৃশ্য বীভৎস, আতংকময়, বিশ্রী, অথচ যখন হাজার হাজার নিরীহ ফিলিস্তিনী বাচ্চাদের মারা হচ্ছে তখনতো উনি বলেননা যে এইসব ঘটনা বীভৎস, আতংকময়, বিশ্রী ।

    Reply
    • মহি

      আমিতো জানি উনি আপনার চেয়ে অনেক গভীরভাবে ফিলিস্তিন বিষয়টা অনুধাবন করেন এবং মস্ত প্রভাবশালী ভুমিকা রাখেন ফিলিস্তিনী জনগণের মুক্তির আকাঙ্খায়। আপনার এই মন্তব্য একজন কিছুই না জানা, অন্ধ আবেগী ভুয়া মানুষের দায়ীত্বহীন কান্ড!

      Reply
  14. সরোয়ার

    লেখাটিতে দেশের কিছু বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে। কিন্তু শেষের দিকে বেশ আবেগ তাড়িত হয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেননি। তিনি বলেছেন এভাবে-

    “আমাদের সমাজে সহিংসতা, রূঢ়তা , নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা আর নির্দয় ঘটনার এত যে ছড়াছড়ি – এর পেছনে ছোট ছোট শিশুদেরকে এই জবাই করার মতো দৃশ্যের সাথে পরিচয় করানোর সম্পর্ক থাকতে পারে বলে মনে হয়।”

    এভাবে জেনারাইলজড করার আগে একটু গবেষণা করা উচিত। তা না হলে মানুষ ভুল মেসেজ নিতে বাধ্য। এটাকে যুক্তি হিসেবে ধরে নিলে অনেক কিছুকেই লিঙ্ক করা যাবে।

    Reply
  15. Rabbani

    ঈদের দিনেই বাংলাদেশে প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ প্রাণী কুরবানির নামে হত্যা করা হয় – সেটা নিষ্ঠুরতা। একটা প্রাণীকে হত্যা করা কোনো প্রকারেই ‘ত্যাগ’ হতে পারে না। টাকা দিয়ে হাট থেকে একটা প্রাণী কিনে ওই দিন তাকে খুন করে মাংস খেয়ে বা বিলিয়ে কীভাবে মানুষ পবিত্রতা লাভ করে আমার মাথায় ঢোকে না। বলতে পারেন সব মাংস নিজে না খেয়ে অন্যদেরকেও দেওয়ার ভেতরে ত্যাগ আছে। কিন্তু একদিন দুবেলা মাংস খেয়ে কী পুষ্টি-ই বা লাভ করতে পারে মানুষ? পারে না। আমরা সবচেয়ে সুন্দর স্বাস্থ্যবান প্রাণীকে হত্যা করে উত্সব করব, খাব-খাওয়াবো—এটা আসলে ত্যাগের দোহাই দিয়ে শ্রেষ্ঠ ভোগের উত্সব। ইসলাম কোনোদিন সেই শিক্ষা দেয়নি।

    ইব্রাহীম (আ.) যে সরাসরি আল্লাহ্রর কাছ থেকে নির্দেশটা পেয়েছেন কুরআনে কিন্তু স্পষ্ট করে তেমন কিছু বলা নেই। কুরআনের সূরা আস-সাফ্ফাতে বলা আছে –
    ১০২: তারপর সে যখন বাবার সাথে চলাফেরা করার বয়সে উপনীত হলো, তখন ইব্রাহীম তাকে বলল: বেটা! আমি স্বপ্নে দেখি যে তোমাকে জবাই করছি; এখন তোমার অভিমত কি বলো। সে বলল: বাবা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে, তাই করুন। আল্লাহ চান তো আপনি আমাকে সবুরকারী পাবেন।
    ১০৩: যখন পিতা-পুত্র উভয়েই আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইব্রাহীম তাকে জবাই করার জন্যে শুইয়ে দিল।
    ১০৪: তখন আমি তাকে ডেকে বললাম: হে ইব্রাহীম –
    ১০৫: তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে! আমি এভাবেই সত্কর্মীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি।
    ১০৬: নিশ্চয়, এটা এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা।

    এই স্বপ্নে আল্লাহ্ কর্তৃক আদিষ্ট হবার কোনো কথা উল্লেখ করা নেই। আর সূরা আন্ নিসার ৯৩ নং আয়াতে বলা আছে:

    যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাক্রমে মুসলমানকে হত্যা করে, তার শাস্তি জাহান্নাম, তাতেই সে চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তার প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছন, তাকে অভিসম্পাত করেছেন এবং তার জন্যে ভীষণ শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।
    নবী ইব্রাহীমের ছেলে ইসমাইলও কিন্তু একজন নবী। সূরা আল আ’রাফ এর ২৮ নং আয়াতে আছে…আল্লাহ মন্দকাজের আদেশ দেন না। এমন কথা আল্লাহর প্রতি কেন আরোপ কর, যা তোমরা জান না। একজন মুসলমানকে (ইসমাইল) জবাই করার জন্য তার বাবাকে (আরেকজন মুসলমান) আল্লাহ্ বলবেন, এটা খুবই স্ববিরোধী।

    এবং আল্লাহ্ নিজেই ইব্রাহীমকে খুনের মতো পাপ থেকে বাঁচিয়েছেন – সূরা আস্’সাফ্ফাতের ১০৭ নং আযাতের মাধ্যমে: আমি তার পরিবর্তে দিলাম জবাই করার জন্যে এক মহান জন্তু।

    তর্ক আসতে পারে এখানে ইসলামকে বিকৃত করা হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত এবং বিস্তারিত পাঠ ছাড়া ধর্মের মতো গূঢ বিষয় ধারণ করা অসম্ভব। আল্লাহ্ আমাদেরকে তার দর্শনকে সমুন্নত রাখতে বলেছেন এবং ভাঙতে নিষেধ করেছেন। প্রত্যেক ধর্মের একটা তত্ত্বগত এবং একটা অনুষ্ঠানগত দিক আছে। অধিকাংশ মুসলমানেরা ধর্মের দোহাই দিয়ে এমন অনেক কাজ করেন যার কোনো দার্শনিক ভিত্তি নেই। অনুষ্ঠান-সর্বস্ব এই কুরবানি তাদের সদিচ্ছার কোনোই পরিবর্তন আনে না। বরং এটা এখন স্থূলভোজ এবং সামাজিক অহংকারের একটা লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। সূরা হাজ্জ এর ৩৭ নং আয়াতে আছে—এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, কিন্তু পৌঁছে তাঁর কাছে তোমাদের মনের সদিচ্ছা।

    উপরোক্ত আয়াতগুলো পর্যালোচনা করলে এবং কেবলমাত্র সদিচ্ছা-ই যদি আল্লাহ্রর কাছে পৌঁছে তবে শুধু পশুহত্যা করেই কেন কুরবানি হবে? একটা পশুর জন্য সুস্থ সুন্দর আবাসস্থল নিশ্চিত করাও তো কুরবানির ভেতর পড়বে। যে পশুটা আপনি কুরবানি করবেন, তাকে যদি আদর করে মুক্ত করে দেন তাহলে কী সে আপনার জন্যে আল্লাহ্র কাছে বেশি বেশি দোয়া করবে না? সেটা কী আরও বড় সদিচ্ছার পরিচয় নয়? একটা পিপাসার্ত কুকুরকে জল দান করার জন্য যদি একটা মানুষ আজীবনের পাপমুক্ত হতে পারে, একটা পশুকে হত্যা করে একদিন পেটপুরে খেয়ে বা খাইয়ে কী তার থেকে বেশি আনন্দ পাওয়া যায়? অপ্রয়োজনীয হত্যা কখনও ইসলাম সমর্থন করে না। বরং তাদেরকে ভালোবাসা এবং মর্যাদা দেওয়াই ইসলামের বিধান কারণ তারাও আল্লাহ্র কাছে প্রার্থনা করে, তাদেরও প্রাণ আছে। এ কথা শিখতে বিশববিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই যে, একটা প্রাণীর শুধু যে প্রাণ আছে তাই নয় তাদের সুখ-দুঃখের অনুভূতি, আশপাশের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আচরণ করা ইত্যাদি।

    Reply
    • মুনির উদ্দিন আহমেদ

      শুধু কি ঈদের দিনেই গরু জবাই করা হয়? অন্যান্য দিন ? প্রতিদিন সারা পৃথিবীতে কত গরু ,ছাগল শুকর জাবাই করা হয় ? তার হিসাব আছে ? শুকর জাবাই নিয়ে ত কেউ মাথা ঘামায় না। মুর্গির কী অবস্থা? গরুর জন্য যাদের দরদ উথলে উঠছে, উনারা কি হাঁস মুরগী খান না? নাকি শুধু সবজি খান? সবজি খেলেও কিন্তু প্রাণ বধই করা হয়। কারন উদ্ভিদেরও প্রান আছে ।

      Reply
    • Shafique

      ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দেন কেন? ভালো মতো না বুঝে, না জেনে ধর্ম নিয়ে আলোচনা করবেন না প্লিজ। এ রকম আলোচনা এখন রীতিমত ফ্যাশন।

      Reply
  16. tanxeel shahriyar

    আপনার প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়েই বলতে চাই, যদি, কোন প্রথা অপব্যবহারের জন্য রহিত করে দিতে হয়, তো এমন অনেক প্রথা সমাজে প্রচলিত আছে, আমরা চাইলেই তা বন্ধ করে দিতে পারবনা, এখন কথা হচ্ছে কুরবানির বিষয়টা পুরোপুরি আত্মিক, মনোজাগতিক, কুরবানির পশু একটা রূপক মাত্র, দাম বা আকার দেখে কুরবানির মূল্যায়ন হবে না, কে নিজের অশুভ ইচ্ছেগুলোকে কতখানি কুরবানি দিতে পারলেন, সেটাই বিবেচ্য, কিন্তু আসল উদ্দেশ্যকে কেউ অবজ্ঞা করলে প্রথা বদলে দেয়া যাবে কীভাবে? এখন অপরাধের সাজা হিসেবে আইন আছে, কিন্তু আইনের অপব্যবহারকারিও আছে, যারা আইনের ফাঁক গলিয়ে অপরাধিদের মুক্ত করে দেন বা চেষ্টা করেন, এখন এজন্য যদি কেউ আইন তুলে দিতে চান, তো তাকে আমরা কী বলব। আর পরিবেশ বা সৌন্দর্যহানির কথা যদি বলতে চান, তো বলতে হয়, সরকার বা প্রশাসনের এ বিষয়ে দায়িত্ব আছে, নাগরিকেরও আছে, কিন্তু, কথা হল, নদির বা জলাশয়ের পানি দূষণের দায়ে আপনি কলকারখানা বন্ধ করবেন না বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করবেন, এটা আপনার বিষয়, নদি, খাল ইত্যাদির পারে শশ্মান থাকে, মানুষের ভস্ম জলে মিশলে জল দূষিত হয়, এই যুক্তি দেখিয়ে কটা শশ্মান ঘাট বন্ধ করা যাবে, থার্টি ফার্স্ট নাইটের মত অপ্রয়োজনীয় একটা আচার কিছু কাল ধরে শুরু হয়েছে, শব্দ দূষণ বা সংস্কৃতির উপর আগ্রাসন বলে তা কি বন্ধ করা সহজ, নিজের হাতে নির্মিত মূর্তিকে পুজো করা, সেটাকে আবার নদির জলে ভাসিয়ে দেয়া, এটাকে কেউ অযৌক্তিক বা সেকেল প্রথা বলে উড়িয়ে দিতে চাইলে, তাকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেবে কে, তাছাড়া কেউ যদি বলে, প্রতিমার কারণে নদীর জল দূষিত হচ্ছে বা নদী দূষিত হচ্ছে, তখন সবার আগে যে কথা উঠবে তা হল, এত বছর ধরে এটা চলছে, কিছু হলনা, আর আজ একেবারে সব রসাতলে চলে যাচ্ছে। অনেক ব্যক্তি নিজেকে ধর্ম বিশারদ হিসেবে জাহির করেন, অপব্যখ্যা বা অসম্পূর্ণ ব্যাখ্যার দ্বারা মানুষকে বুঝিয়ে থাকেন, এটাও অন্যায়। আমরা যে যে ধর্ম পালন করি সে ধর্মে আমার করনীয় বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে, আমি আশা করি আমরা সকলেই সে ব্যাপারে সচেষ্ট হব।

    Reply
    • রাশেদ আহমেদ

      এই লেখায় কুরবানী বন্ধ করে দেবার কথা তো কোথাও বলা হয় নি। বরং কুরবানীর আসল উদ্দেশ্য অনুধাবনের তাগিদ দেয়া হয়েছে।
      আর দীর্ঘদিন থেকে কোন আচার চললেই সেটা সহী-শুদ্ধ হয়ে যায়নয়া। রাস্তা ঘাটে, বাসার সামনে দলে দলে পশু কোরবানীর অনুমতি না দিয়ে সরকারের উচিত প্রতিটি শহরে এবং গ্রামে একটি নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করে দেয়া। এতে শিশুদের সামনে জবাইয়ের নৃশংশতা, বর্জ্য ব্যাবস্থাপনা, ফুড কন্টামিনাশান, চামড়া নিয়ে মাস্তানদের মারামারি- সব কিছু থেকেই রেহাই পাওয়া যায়।

      Reply
  17. engr.saifullah

    লেখাটিতে প্রকাশিত মতামত প্রত্যাথ্যান করার কোন যুক্তি আমি দেখি না।

    Reply
  18. Mohsin

    ভাল লাগল। সমস্যা চিহ্নিত করলেন। কিন্তু সমাধান নাই। সমাধান না আসলে কিন্তু লেখাটার টার্গেট ইতিবাচক বলে মেনে নেওয়া যায় না।

    Reply
  19. Ashek

    হত্যাকান্ডের মহাউৎসব!
    একদিন যদি গরুদের বুদ্ধি গজায় আর মানুয়ের গজায় শিং, গরু সমাজ তাদের গৃহপালিত মানব পালকে নিজেদের কৃতকর্মের প্রায়শ্চিত্যের গারুয়ীক তাগিদে শান দেয় ভয়ঙ্কর ছুরি ও চাকুতে, অফিস আদালত কল ও কৃষিতে ছুটি ঘোষণা করে আয়োজন করে মহাউৎসবের। গরুদের বাড়ীতে বাড়ীতে চীৎকার ওঠে আর্তনাদের, আদা পিয়াজ রসুন মরিচ ও মশলার। গরুদের ছোট ছোট বাচ্চারা বায়না ধরে বাবা ও মায়ের কাছে; চলনা যাই মানুষের হাটে! দেখেশুনে কিনে আনি সামর্থ সমান এক নাদুস নুদুস মানব!

    Reply
    • মুনির উদ্দিন আহমেদ

      হা হা………হা……। গরুদের যদি বুদ্ধি গজায়!গরুদের এত দিনে যেহেতু বুদ্ধি গজায়নি, আর কখনো গজাবে না।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—