আশির দশকে কোনো একসময়ে আমি আমেরিকা থেকে দেশে বেড়াতে এসেছি। রিক্সা করে কোনো এক জায়গায় গিয়ে আমি রিক্সা থেকে নেমে মানিব্যাগ থেকে একটা দশ টাকার নোট নিয়ে রিক্সাওয়ালাকে দিয়ে হাঁটতে শুরু করেছি, তখন শুনলাম পিছন থেকে রিক্সাওয়ালা আমাকে ডাকল। ঘুরে তাকিয়ে দেখি রিক্সাওয়ালা লাল রংয়ের দশ টাকার নোটটা দুই হাতে ধরে সেটার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। আমাকে বলল, “স্যার এইটা কী দিলেন? এই নোট তো বাংলাদেশে চলে না!”

ছিয়াত্তরে দেশ ছেড়ে যাওয়ার সময় মানিব্যাগে দেশের কিছু নোট ছিল, সেই নোট এতদিন ব্যবহার হয়নি। মানিব্যাগ থেকে সেই নোট বের করে রিক্সা ভাড়া দিয়েছি– আমি জানতাম না এই দেশে নোটগুলি অচল হয়ে গেছে। নোটগুলোর দোষ কী? দোষ একটাই, সেই নোটে বঙ্গবন্ধুর ছবি!

পঁচাত্তরে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর এই দেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর শেষ চিহ্নটিও মুছে ফেলার জন্যে যে বিশাল আয়োজন শুরু হয়েছিল আমি সেটা তখনও সেভাবে জানতাম না।

আমি চুরানব্বইয়ের শেষে পাকাপাকিভাবে দেশে ফিরে এসেছি। তখনও রেডিও-টেলিভিশনে বঙ্গবন্ধুর কোনো উপস্থিতি নেই। স্বাধীনতা দিবস বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে দেখানো হয় না, এই দেশের মানুষ, ছেলেমেয়ে, ছাত্রছাত্রীরা হয়তো বঙ্গবন্ধুর চেহারা কেমন সেটাও জানে না। আমি অবাক হয়ে দেখি এটি কী হয়ে গেল দেশের?

তখন ছিয়ানব্বইয়ের নির্বাচন হল, একুশ বছর পরে প্রথমবার আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসেছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর আমি আমার স্ত্রীকে বললাম–

“চল, দোকান থেকে একটা টেলিভিশন কিনে আনি, এখন টেলিভিশনে বঙ্গবন্ধুকে দেখাবে।”

আমি আর আমার স্ত্রী একজন সহকর্মীকে নিয়ে দোকান থেকে একটা টেলিভিশন কিনে আনলাম। বাসায় এসে সেই টেলিভিশন ‘অন’ করা হল এবং সত্যি সত্যি আমরা প্রথমবার টেলিভিশনে বঙ্গবন্ধুকে দেখতে পেলাম!

একটি দেশ আর একটি মানুষ সমার্থক হতে পারে কি না জানি না, বাংলাদেশ আর বঙ্গবন্ধুর বেলায় সেটি কিন্তু হয়েছিল।

অথচ সেই বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রযন্ত্র একদিন নয় দুদিন নয় একুশ বছর সকল প্রচারমাধ্যম থেকে সরিয়ে রেখেছিল। নিজের চোখে দেখেও সেটা বিশ্বাস হয় না।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার মতো নৃশংস ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে খুব বেশি নেই। কিন্তু একজন দেশের স্থপতিকে সেই দেশের মানুষের কাছে থেকে আড়াল করে রাখার মতো ঘটনাও কি পৃথিবীতে খুব বেশি আছে? বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েই ঘাতকদের কাজ শেষ হয়নি। এই দেশের মাটি থেকে তাঁর স্মৃতি পুরোপুরি সরিয়ে দিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ হবে। যারা ট্রিগার টেনে গুলি করেছে শুধু তারাই ঘাতক, অন্যেরাও কি অন্য রকম ঘাতক নয়?

শেষ বার আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর পাঠ্য বইগুলো থেকে ইতিহাস বিকৃতি দূর করার জন্যে যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আমিও তাদের মাঝে ছিলাম। আমি তখন একসাথে আমাদের স্কুলকলেজের সব পাঠ্যবই দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম। আমরা সবাই মিলেই পাঠ্যবই থেকে ইতিহাস নিয়ে বিচিত্র একধরনের মিথ্যাচার সারিয়ে সঠিক ইতিহাসগুলো বসিয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় কথাগুলো লিখেছি, হানাদার বাহিনী যে আসলে পাকিস্তানের মিলিটারি সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছি, বঙ্গবন্ধু ছাড়া যে বাংলাদেশের জন্ম হত না সেটা সবাইকে জানিয়েছি।

মনে আছে, এরপর একটা সময় গিয়েছে যখন ছেলেমেয়েগুলো একধরনের বিভ্রান্তিতে ভুগেছে, এতদিন একটা বিষয় জেনে এসেছে, এখন অন্য বিষয় জানছে, আসলে কোনটা সত্যি?

মাঝে মাঝেই তারা জিজ্ঞেস করত–

“স্যার, স্বাধীনতার ঘোষক কে?”

এরপর অনেকদিন পার হয়েছে, পাঠ্যবইগুলো অনেকবার পড়া হয়েছে। রেডিও-টেলিভিশনে বঙ্গবন্ধুর কথা শুনছে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানছে এবং শেষ পর্যন্ত আমরা হয়ত এই দেশের ছেলেমেয়েদের বিভ্রান্তি দূর করতে পেরেছি। ইদানীং আর কেউ আমার কাছে স্বাধীনতার ঘোষক কে সেটি জানতে চায় না।

 

২.
আগস্ট মাস বাংলাদেশের জন্যে একটা অশুভ মাস। ১৯৭৫ সালে এই মাসের ১৫ তারিখ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীরা সেখানেই থেমে যায়নি, জেলে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে আওয়ামী লীগকে পুরোপুরি নেতৃত্বশূন্য করার চেষ্টা করেছিল।

অনেক বছর সময় নিয়ে যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আবার পুর্নগঠিত হয়েছে, তখন ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আবার আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার চেষ্টা করেছে। শেখ হাসিনা অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন এবং আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, শুধুমাত্র সে কারণেই আমরা বাংলাদেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে পেরেছি।

আগস্ট মাস ছাড়াও এই দেশে বোমা হামলা হয়েছে– সিপিবির মিটিংয়ে, উদীচীর অনুষ্ঠানে কিংবা ছায়ানটের নববর্ষের অনুষ্ঠানে। তবে সেগুলো কোনো নির্দিষ্ট মানুষকে লক্ষ্য করে হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের বড় নেতাদের হত্যা করার ঘটনা দুটিই ঘটেছে আগস্ট মাসে।

আগস্ট মাস অন্য যে কোনো মাসের মতোই নিরীহ একটা মাস হতে পারত কিন্তু সেটি হয়নি। লক্ষ্য ঠিক করে হত্যাকাণ্ডগুলো কেন বেছে বেছে আগস্ট মাসে ঘটানো হয়; সে ব্যাপারে আমার নিজের এক ধরনের থিওরি আছে।

বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে ঘাতক রাষ্ট পাকিস্তানকে পরাজিত করে। পরাজয়ের সেই অপমান পাকিস্তান যেরকম ভুলতে পারেনি ঠিক সেরকম ভুলতে পারেনি পাকিস্তানের পদলেহী যুদ্ধাপরাধীরা। তাই তারা যখন বাংলাদেশের উপর আঘাত হানতে চায় তখন বেছে নিতে চায় পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসটিকে। সেটি সম্ভব না হলে অন্তত পাকিস্তানের জন্ম মাসটিকে! সে জন্যে নিরীহ একটা মাস এই দেশের জন্যে অশুভ একটা মাস হিসেবে চিরদিনের জন্যে চিহ্নিত হয়ে গেল।

১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের কারণে আমরা মানুষের চরিত্রের আরও বিচিত্র দিকগুলো নিজের চোখে দেখার সুযোগ পেয়েছি। কথা নেই বার্তা নেই হঠাৎ একদিন আমরা সবিস্ময়ে আবিষ্কার করলাম, বেগম খালেদা জিয়া এই দিনটিতে তাঁর জন্মদিনের উৎসব পালন করতে শুরু করেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর দলের লোকজন মিলে বিশাল বিছানার মতো সাইজের কেক কাটতে শুরু করেছেন? যাদের সত্যি সত্যি ১৫ আগস্ট জন্মদিন তারাও এই দিনটিতে জন্মদিনের উৎসব পালন করতে সংকোচ বোধ করে।

আমি কয়েকদিন আগে একটা ছোট বাচ্চার চিঠি পেয়েছি। বাচ্চাটি আমার কাছে জানতে চেয়েছে– ১৫ আগস্ট তার জন্মদিন; এই দিনটিতে তার জন্মদিন পালন করা ঠিক হবে কি না!

একটি ছোট বাচ্চা যে বিষয়টি বুঝতে পারে বেগম খালেদা জিয়া, তার দলের শত শত নেতা সেই বিষয়টি বুঝতে পারেন না; এর চাইতে দুঃখের ব্যাপার আর কী হতে পারে?

বেঁচে থাকতে হলে আমাদের নানা কিছু দেখতে হয় শুনতে হয়, কিন্তু যে দিনটিতে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে সেই দিনটিতে নূতন করে জন্মদিন তৈরি করে বিছানার মতো সাইজের কেক কাটার মতো করুচিপূর্ণ কিছু আমি আমার জন্মে দেখিনি। মনে হয় ভভিষ্যতেও কোনোদিন দেখব না।

বহু বছর পর এইবার বেগম খালেদা জিয়ার ‘জন্মদিনে’ বিছানার সাইজের কেক কাটা হয়নি। খবরটা শুনে আমি ভেবেছিলাম শেষ পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক দলটির সুমতি হয়েছে। কিন্তু পুরো খবরটা পড়ে জানতে পারলাম দেশে বন্যা, জঙ্গি হামলা, গুম-খুন, রাজনৈতিক নির্যাতন এইসব চলছে বলে এই বছর উৎসবটি পালন করা হচ্ছে না। যার অর্থ বন্যার পানি নেমে গেলে, জঙ্গি হামলা না থাকলে গুম-খুন নির্যাতন বন্ধ হয়ে গেলে ১৫ আগস্ট বিছানার মতো বড় কেক কাটতে কোনো বাধা নেই!

 

৩.
আমি মোটেও রাজনৈতিক বিশ্লেষক নই, রাজনীতির মারপ্যাঁচ আমার পক্ষে বোঝা সম্ভব না। কিন্তু পৃথিবীর অন্য অনেক কিছুর মতোই রাজনীতিতেও ‘কমন সেন্স’ আছে এবং শুধুমাত্র এই কমন সেন্স দিয়ে বুঝতে পারি, মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে এই দেশে কেউ রাজনীতি করতে পারবে না।

যে জামায়াতে ইসলামী সরাসরি মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে সেই জামায়াতে ইসলামীর সাথে জোন করে বিএনপি নির্বাচনে জিতে এসে সরকার গঠন করেছিল। সেটি ছিল একটা খুবই বিপজ্জনক সময়! একজন বিএনপি নেতার কাছে শুনেছি, সেই সময়ে রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা সরকারের কাছে তাদের একাত্তর সালের বয়েকা বেতন দাবি করেছিল! জামায়াত-বিএনপি সরকার তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করেছিল কি না আমার জানা নেই।

সেই ভয়াবহ সময়টা আমরা পার করে এসেছি, ভবিষ্যতে যেন ভুল করেও এই দেশে এ রকম ঘটনা আবার ঘটে না যায় সেটা আমাদের নিশ্চিত হওয়া দরকার। আমি বড় বড় সুশীল ব্যক্তিদের ‘গণতন্ত্র’, ‘গণতন্ত্র’ বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলতে দেখি, কিন্তু সেই গণতন্ত্র যে হতে হবে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের গণতন্ত্র সেটি কাউকে বলতে দেখি না। এই দেশটি তো আমরা লটারির টিকেট কিনে কিংবা জুয়া খেলে পাইনি! রীতিমতো যুদ্ধ করে রক্ত দিয়ে পেয়েছি। কাজেই যে উদ্দেশ্য নিয়ে যুদ্ধ করা হয়েছে, রক্তের বন্যা বইয়ে দেওয়া হয়েছে– সেই উদ্দেশ্যটি ভুলে গিয়ে রাজাকারদের বকেয়া বেতন দেওয়ার একটা সরকার তৈরি করার জন্যে গণতন্ত্র চাইলে তো হবে না!

অবশ্যই আমরা গণতন্ত্র চাই, কিন্তু সেই গণতন্ত্রে সরকার গঠনের দলটিকে হতে হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এবং বিরোধী দলটিকেও হতে হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের। নির্বাচনের সময় আমরা রাতে শান্তিতে ঘুমোতে চাই যেন সকালে উঠে কে নির্বাচনে জিতেছে সেটা নিয়ে আমাদের কোনো দুর্ভাবনা না থাকে। যেই সরকার গঠন করবে তাকেই হতে হবে আমাদের বাংলাদেশের সরকার, মুক্তিযুদ্ধের সরকার।

এই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আমাদের আরও একটা বিষয় নিশ্চিত করার ব্যাপার আছে। সেটি হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান এবং ভালোবাসাটুকু দেওয়া। পৃথিবীর কত দেশে কত জাতীয় নেতা আছেন। তাদের দেশের মানুষ সেই জাতীয় নেতাদের সম্মান করে নিজেরা সম্মানিত হয়। পৃথিবীর সেইসব নেতাদের সাথে যদি বঙ্গবন্ধুর তুলনায় তাদের অনেকের অবদান রীতিমতো ম্লান। সারা পৃথিবীর মাঝে একজন সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা হচ্ছেন ফিদেল কাস্ত্রো, তিনি প্রথমবার বঙ্গবন্ধুকে দেখে তাঁকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন–

“আমি হিমালয়কে দেখিনি, কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি!”

এই হিমালয়কে আমাদের সারা পৃথিবীর সামনে তুলে ধরার কথা অথচ আমরা শিহরিত হয়ে আবিষ্কার করি– তাঁকে যে শুধু সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে তা নয়, হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করা হয়েছে; বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে তাঁর সকল স্মৃতি সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

কাজেই আমি মনে করি, বাংলাদেশে রাজনীতি করতে চাইলে শুধু যে মুক্তিযুদ্ধকে বিশ্বাস করতে হবে তা নয়, বঙ্গবন্ধুকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে। তার কারণ, বাংলাদেশ আর বঙ্গবন্ধু আসলে সমার্থক দুটি শব্দ। বঙ্গবন্ধুকে ভালো না বেসে বাংলাদেশকে ভালোবাসা যায় না।

 

৪.
বঙ্গবন্ধুকে দেখার জন্যে যে টেলিভিশনটি কেনা হয়েছিল সেটি সিলেটে আমার বাসায় নেই। তাই এখন টেলিভিশন দেখা হয় না সেটি অনেকেই জানে। টেলিভিশনে দেখার মতো কিছু থাকলে অনেকেই তার একটি লিংক পাঠায়।

সেদিন একজন চ্যানেল আইয়ে কর্নেল অলি আহমদের সাক্ষাৎকারের একটা লিংক পাঠিয়েছে। লিংকে পুরো সাক্ষাৎকারটি নেই। সাক্ষাৎকারের মাঝখানে একটি মেয়ের টেলিফোনে কর্নেল অলি আহমদকে উদ্দেশ্য করে বলা কিছু প্রশ্ন, কিছু কথাবার্তা আছে। আমার মনে হয় সবারই এই মেয়েটির কথাগুলো শোনা উচিৎ। তার কণ্ঠস্বর শুনে তাকে কমবয়সী একজন তরুণী মনে হয়েছে কিন্তু সে এত চমৎকারভাবে এতটুকু উত্তেজিত না হয়ে এত গুছিয়ে কথাগুলো বলেছে যে আমি মুগ্ধ হয়ে শুনেছি। আমি যদি তার বক্তব্যটুকু এখানে লেখার চেষ্টা করি তার মতো গুছিয়ে পরিস্কারভাবে লিখতে পারব না; তাই তার চেষ্টাও করছি না।

মেয়েটির বক্তব্য শুনে বুঝতে পারলাম কর্নেল অলি আহমদ এই সাক্ষাৎকারে জিয়াউর রহমানকে ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ হিসেবে দাবি করেছেন।

মুক্তিযুদ্ধে বীর বিক্রম উপাধী পাওয়া কর্নেল অলি আহমদের প্রতি পুরো সম্মান বজায় রেখে মেয়েটি তাঁকে অনুরোধ করেছে– নির্জলা মিথ্যা বলে নূতন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত না করার জন্যে। বঙ্গবন্ধু কবে কীভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, সেটি কীভাবে প্রচারিত হয়েছে, ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর কোন সংখ্যায় সেই ঘোষণাটির কথা ছাপা হয়েছে; মেয়েটি অলি আহমেদকে জানিয়েছে।

শুধু তাই না, জিয়াউর রহমান ২৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণাটিতে কী বলেছেন মেয়েটি গড়গড় করে সেটি শুনিয়ে দিয়েছে। সেখানে ঘোষণাটি যে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে দেওয়া হয়েছিল সেটি মনে করিয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, ঘোষণা দেওয়া আর ঘোষণা পাঠ করার মাঝে যে দিন-রাত পার্থক্য সেটি পরিস্কারভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে।

মেয়েটি কর্নেল অলি আহমদকে প্রশ্ন করেছে, সত্যিই যদি মেজর জিয়া স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে থাকেন তাহলে সেটি কেন তারা ১৯৭২ সালে যখন স্বাধীনতার দলীলপত্র সংকলিত করা হয়েছে সেখানে বললেন না, কিংবা যখন সংবিধান লেখা হয়েছে তখন জানালেন না। কেন সেটি ১৯৯১ থেকে শুরু হল?

আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে যখন মেয়েটি বিস্ময়কর আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলেছে–

“আমরা নূতন প্রজন্মের মানুষ, স্বাধীনতার সব তথ্য আমাদের হাতের মুঠোয়– আমরা সব জানি!”

শুধু তাই নয়, কমবয়সী একটি মেয়ে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদকে উপদেশ দিয়ে বলেছে, আপনারা রাজনীতি করতে চান করুন, সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে রাজনীতি করুন, কেন আপনারা বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করতে চান?

আমি আগেই বলেছি আমি শত চেষ্টা করলেও এই নূতন প্রজন্মের তরুণীটির মতো করে বলতে পারব না। শুধু এইটুকু বলব যে এই নূতন প্রজন্মকে দেখে, তাদের কথা শুনে মনে হয়েছে তাদের হাতে আমরা নূতন বাংলাদেশের দায়িত্ব দিয়ে পরম নির্ভরতায় বিশ্রাম নিতে পারি।

নূতন প্রজন্মকে আমি এতদিন শুধু ভালোবাসা জানিয়ে এসেছি, এখন আমি তাদেরকে শ্রদ্ধাও জানাতে চাই!

মুহম্মদ জাফর ইকবাললেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৬ Responses -- “ফিরে ফিরে দেখা”

  1. মিরা

    স্যার আপনার লেখা আমার সব সময় ভাল লাগে । আজ আরও ভাল লাগলো যে আপনি আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু নিয়ে লিখেছেন। মনে হচ্ছিল আরও কিছু লিখলে ভাল লাগতো। যারা বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা করতে চায় না তখন অনেক কষ্ট হয়। আমি আমার বাবা-মার কাছ থেকে শুনেছি আর হুমায়ুন স্যার এর বই পড়ে এবং আপনার লেখা বই পড়ে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জেনেছি। আমাদের পরীক্ষায় যখন প্রশ্ন আসতো স্বাধীনতার ঘোষক কে তখন আমি প্রশ্নটা বাদ দিয়ে অন্য প্রশ্ন দিতাম কারণ মিথ্যা প্রশ্ন লিখার দরকার মনে করতাম না। আমাদের বইতে ভুল লিখা ছিল।

    Reply
  2. bishon chandra das

    স্যার আপনার লেখা পড়তে আ
    আমার খুব ভাল লাগে।জাতির
    র জনককে নিয়ে প্রবন্ধটি লিখার জন্য আপনাকে অভিনন্ধন জানাই।

    Reply
  3. মাকসুদ

    “নতুন বাংলাদেশের দায়িত্ব দিয়ে পরম নির্ভরতায় বিশ্রাম নিতে পারি”…. আপনি বাংলাদেশের কি উপকার করছেন এখন পর্যন্ত? বড়লোক ইমশনালদের জীবন মাসে মাসে সার্থক হয়!

    Reply
  4. সিম্পল গার্ল

    নিজ থেকে কিছু না বলে জাফর ইকবাল সাহেবদের সমগোত্রীয় হুমায়ুন আজাদের ‘আমরা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলাম?’ বই থেকে কিছু উদ্ধৃতি দিচ্ছি।

    তিনি লিখেছিলেন, মুজিবের কথা মনে হলে আমার জুলিয়াস সিজারের কথাই মনে পড়ে।

    মুজিব ক্রমশ হয়ে উঠতে থাকেন একনায়ক, গণতান্ত্রিক জুলিয়াস সিজার হয়ে উঠতে থাকেন একনায়ক সম্রাট জুলিয়াস সিজার। কিন্তু মুজিবের দুর্ভাগ্য, তাঁর কোনো আন্তোনি ছিল না।

    মুজিব পরিবৃত ছিলেন দুষ্ট রাজনীতিক, বিশ্বাসঘাতক ও স্তাবকদের দ্বারা– স্বার্থপরতা আর কৃতঘ্নতা ছাড়া যাদের আর কোনো প্রতিভা ছিল না। তারা অনেক আগে থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতে থাকে, তিনি তা বুঝতে পারেননি। চক্রান্ত করার থেকে যা ভয়াবহ তা হচ্ছে, তারা তাঁকে দূষিত করতে থাকে; জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে থাকে।

    মুজিবও ভুলে যাচ্ছিলেন নিজেকে ও জনগণকে।

    মুজিবকে রাজমুকুট দেওয়া হয়নি, দেওয়া হয়েছিল সংবিধানের ‘চতুর্থ সংশোধনী’। সেটি তিনি হাতে ঠেলে সরিয়ে দেননি, গ্রহণ করেছেন; সেটি ছিল রাজমুকুটের চেয়েও শক্তিশালী।

    মুজিবকে ‘চতুর্থ সংশোধনী’র মাধ্যমে অর্পণ করা হয় মহারাজমুকুট, ক্ষমতা দেওয়া হয় স্বাভাবিকের চেয়েও বেশি। একনায়ক হওয়ার দিকে কেনো তিনি ঝুঁকেছিলেন? তাঁর কি মনে হয়েছিল, তাঁর পুজোরীরা কি তাঁকে বুঝিয়েছিল যে, তাঁকে বিধাতা হতে হবে?

    তিনি কি চেয়েছিলেন আমরণ বাঙলাদেশের অধীশ্বর থাকতে? তিনি কি একটি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করে রেখে যেতে চেয়েছিলেন যুবরাজদের, যারা তাঁর পরে হবে বাংলাদেশের নিরঙ্কুশ অধীশ্বর?

    ‘চতুর্থ সংশোধনী’টি পড়ার সময় রক্ত ঠাণ্ডা হয়ে যায়; করুণা জাগে এবং দেশ ও তার মহান নেতার ভবিষ্যৎ ভেবে হাহাকার করতে ইচ্ছা করে।

    মুজিবই ছিলেন বাংলাদেশে প্রকৃত একনায়ক, মহা একনায়ক; তাঁর পরে যে সামরিক স্বৈরাচারীরা এসেছে, তারা তাঁর পাশে তুচ্ছ, আমের আঁটির ভেঁপু বাজানো বালক মাত্র।

    চতুর্থ সংশোধনী তাঁকে করে তুলেছিলো মহাএকনায়ক; কিন্তু ওটি ছিল তাঁর জন্য আত্মহত্যা্ তারপর তিনি বেশিদিন জীবিত ছিলেন না, নৃশংসভাবে ঘাতকদের হাতে নিহত হয়েছিলেন। নিহত যদি নাও হতেন, চতুর্থ সংশোধনীর পর তাঁর জীবন হত ধারাবাহিকভাবে আত্মহত্যা। মহানেতার শোচনীয় মর্মস্পর্শী পরিণতি!

    ১৯৭২এ মুজিবের নেতৃত্বে প্রণীত হয় একটি অসাধারণ সংবিধান; কিন্তু ১৯৭৫এর ২৫ জানুয়ারিতে তাঁরই হাতে নিহত হয় তাঁরই অসামান্য সংবিধানঃ বাংলাদেশ গণতন্ত্র থেকে পা দেয় চরম একনায়কতন্ত্রে।

    মুজিবের সামন্ততান্ত্রিক বঙ্গীয় দাম্ভিকতা সম্পর্কে আমার কিছু ধারণা ছিল, ‘আমি’ ও ‘আমার’ ছিল তাঁর প্রিয় শব্দ এবং ‘তুই’। তিনি তাঁর প্রিয় বা নিম্নদের ‘তুই’ বলতেই পছন্দ করতেন বলে শুনেছি। মুজিব ‘বাংলাদেশ’-এর জায়গায় ব্যবহার করতেন ‘আমি’। যেখানে তাঁর বলার কথা ছিল ‘বাংলাদেশের জনগণ’, ‘বাংলাদেশের সেনাবাহিনী’– সেখানে তিনি বলতেন, ‘আমার জনগণ, আমার সেনাবাহিনী’।

    মুজিবপুত্রের বিয়েতে রাজমুকুট পরানো হচ্ছে, পথে পথে লাশ পড়ে থাকছে, লাশ বিক্রি হচ্ছে, হিংস্র রক্ষীবাহিনী ত্রাস সৃষ্টি করে চলছে– এসব সংবাদেন রক্ত কাঁপত। বাংলাদেশের মানচিত্রকে সোনার জুতা-পরা পায়ে দলিত রুগ্ন জীর্ণ অনাহারে মৃত ভিখিরির লাশ মনে হত।

    প্রকৃতি বেশি আতিশয্য সহ্য করে না, ইতিহাসও করে না।

    ১৯৭৫ অব্দের ২৫ জানুয়ারি বাঙালি, বাঙলাদেশ ও মুজিবের জন্যে রাহুগ্রাসের দিন– ওই দিন মধ্যাহ্নেই অস্তমিত হয় বাঙলাদেশের সূর্য; ওই দিন বাংলাদেশের সংবিধানকে ঠাণ্ডা মাথায় বলি দিয়ে গ্রহণ করা হয় ‘চতুর্থ সংশোধনী’।

    ২৫ জানুয়ারি ১৯৭৫ মুজিব একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার জন্যে গ্রহণ করিয়ে নেন চতুর্থ সংশোধনী বিল। বিলটি চরম একনায়কত্বের বিল। এত ভয়াবহ যে, ভাবতেও বুকের রক্ত তুষার হয়ে ওঠে।

    সংসদে এটি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি, কেননা আলোচনা করা সম্ভব ছিল না্ মুজিব তা চেয়েছিলেন আর তাঁর স্তাবকেরা হয়তো আরও বেশি চেয়েছিলো।

    মাত্র ১ ঘণ্টায় বাংলাদেশের মহান সংবিধানকে হত্যা করা হয়।

    ওটা ছিল হত্যাকাণ্ডই, দীর্ঘ ছুরিকার দিন। ছুরিকার পর ছুরিকা চালিয়ে ছিন্নভিন্ন করা হয় বাংলাদেশের সংবিধান। পড়ে থাকে সংবিধানের মৃতদেহ।

    একজনকে সর্বশক্তিমান করার জন্যে এটি তৈরি করা হয়, এটি একজনকে রাষ্ট্রবিধাতা করার শোচনীয় পুন্যগ্রন্থ। মুজিব হন রাষ্ট্রপতি, বাংলাদেশের বিধাতা। দেশের স্থপতি দেখা দেন মহা একনায়ক রূপে।

    মুজিব হয়ে উঠেন প্রভু, সংবিধান হয়ে উঠে তাঁর পদতলের পাপোশ!

    মুজিব কী হয়ে উঠতে চেয়েছিলেন? সিজার? নেপোলিয়ঁ? হিটলার? স্টালিন? কী হতে চেয়েছিলেন তিনি? তার কেনো এত ক্ষমতার প্রয়োজন হয়েছিল? এত ক্ষমতা শুধু পতন ডেকে আনে।

    এর পরের ঘটনা সকলে জানা, ইতিহাসের অনিবার্য পরিণতি ঘটে গেল। এই হল বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী, একসময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয়, যার কথাই ছিল আইন, সংবিধান, আদালত, বিচার সবকিছু সেই মুজিবের পরিণতি। মুজিব এমনই শক্তিশালী ছিলেন যে, তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারত এমন মানুষ একজনও ছিল না বাংলাদেশে। কিন্তু এত প্রতাপশালী ব্যাক্তিও পতনের আগ পর্যন্ত বুঝতে পারেননি আলটিমেইট পরিণতি।

    Reply
    • M. Rana

      Again the same autistic commenters appeared uttering the same words again n again n again irrevalent to the topics.
      Present govt., has developed good autistic care program for autistic persons. commanding this fellow commenters to take shelter there. God bless you dear…

      Reply
    • kamal

      আপনি শুধু কাব্য করলেন .. সত্য বললেন না একটুও…

      ইতিহাস কখনও বিকৃত করা যায় না … মীরজাফরও পারেনি।

      Reply
    • মৌসুমি ভৌমিক

      সিম্পল গার্ল, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেবু না কপচানোই ভাল। এই দেশের স্বাধিনতার জন্য তার অবদানকে কোন ভাবেই ছোট করা যায় না, অস্বীকারও করা যায় না। সামান্য ভুল ত্রুটি মানুষেরই হয়। তাই বলে, তাকে ও তার পরিবারকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে হবে, এই যুক্তি মেনে নেওয়া যায় না। যারা এটা মনে করে, তাদের বাংলাদেশে থাকার কোন যুক্তি নেই। নতুন ইসু নিয়ে নতুন ভাবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য নতুন কথা বলুন; গঠনমূলক কথা, যাতে বাংলাদেশের ভাল হয়।

      Reply
      • M. Rana

        মৌসুমি ভৌমিক
        আপনি যথার্থই বলেছেন।
        তবে কি জানেন!!
        ছোট বেলায় আমার মায়ের মুখে একটা বাংলা বচন শুনেছিলাম ,
        তা এই সিম্পল গার্ল এর জন্য উত্তম ফিট বলে গ্যরান্টী দিচ্ছি–

        বচন টা এই রকম (আঞ্চলিক ভাষায় )
        “”” আক্কেইলারে দিলে আক্কোল আপনা আক্কোল হয়–
        বেকইল্লারে দিলে আক্কোল আপনা আক্কোল ক্ষয় “””

        English Translation —-
        “” Giving lesson to an idiot makes you another idiot;
        Giving lesson to a wiser makes you more wise.””

        তাই বলছি বাদ দিন এই সব বেআক্কোলদের
        এরা জেনেও করে চলেছে–
        ইতিহাসের বিকৃতি ও অশ্রদ্ধা যে সীমাহীন অপরাধ

    • সিম্পল গার্ল

      এখানে যারা আমার মন্তব্যের রিপ্লাই দিলেন তারা মনে হয় মন্তব্যেটি শুরু থেকে না পড়েই রিপ্লাই দিলেন। আমি যা লিখেছি তা আমার কথা নয়। এই কলামের লেখক জাফর ইকবাল সাহেবদের সমগোত্রীয় ও তাদের চরম নমস্য আরেক লেখক হুমায়ুন আজাদ সাহেবের বই থেকে উদ্বৃতি দিয়েছি। হুমায়ুন আজাদ তো আর বিএনপি-জামায়াতপন্থী কেউ নন। তিনি একেবারে খাটি আওয়ামীপন্থী, চরম নাস্তিক, তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী ও আওয়ামী সুশীল ও প্রগতিশীলদের কাছে স্বপ্নের পুরুষ। এখন তিনি স্বচক্ষে যা দেখেছেন তা লিখেছেন। তাই আমি উল্লেখ করেছি। এ পর্যন্ত তার এই কথাকে কোন আওয়ামীপন্থী চ্যালেঞ্জ করেছেন বলে জানা নেই। যারা রিপ্লাই দিচ্ছেন তাদের সেই বইটি পড়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।

      Reply
      • M. Rana

        dear simple girl,
        whenever you tried to fabricate something against any body you brings some stupid arguments. such as, blaming respected late munir sir et al for the word some one uttered simewhere. this time again you put aside Jafor sir with Humayun Azad.
        In one previous article, i had argued you if ISIS or Alqueda’s crime is put on the shoulder of Muslims then bombing on any muslim by USA or Rusia will be correct? Do you agree with this?
        In fact you are an Autustic patient; this true fact you are not noticed.
        please go for treatment.

  5. আবরার হোসেন

    বঙ্গবন্ধুর মত আর নেতা বিশ্বে আসবে না।তিনি যদি থাকত বাংলাদেশ সোনার দেশ হয়ে যেত।।।।।

    তাকে আমেরিকার মদদেই খুন করা হয়েছে।
    কিন্তু আমরা কিছু করতে পারছি না।

    Reply
  6. মাকসুদ

    আর কত ইতিহাস ইতিহাস করবেন? নিজেরাই তো ইতিহাস হয়ে যাচ্ছি!

    Reply
  7. M. Rana

    আমি এমন এক জাতির অংশ যাদের মাঝখান থেকে যদি দশ জন মানুষ কে এলোমেলোভাবে বাছাই করে নেই (being choosen Randomly), তাহলে তার মাঝের ৯.৯ জনই কোননা কোন ভাবে করাপ্টেড হিসাবে পাবো। দুনিয়ার উন্নত কোন দেশে এই বেছে নেওয়া ফলের উপর গবেষনা করলে তা খুব বেশী হলে ৩ থেকে ৪ হবে –
    এত প্যাচাল পাড়ার উদ্দেশ্য হলো,
    বাংলাদেশে যে কোন দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, আজ আমরা যেই সমস্থ সমস্যা নিয়ে মুখে ফেনা তুলছি তার একটাও বদলাবেনা যতদিন ৯.৯ টাকে ৫ এর নিছে নামিয়ে না আনা যায় । সেই হিসাবে এই সরকারের আমলে যা হচ্ছে তা হলো , ব্রিটিশরা এই দেশ থেকে চলে যাবার সময় শিখিয়ে দেওয়া রোগটা তাদের চলে যাবার পরদিন থেকেই, আমরা বহুল তবিয়তে প্রাক্টিস করে চলেছি মাত্র –

    ভাল সরকার আমরা তখনই পাবো যেদিন আমরা নিজেরাই আর একটু ভাল হয়ে ৯.৯ কে ৫ এর নিছে আনতে পারবো — কারন আমাদের মাঝ থেকেই রাজনিতিবিদ , সরকারী কর্মচারী, পুলিশ বাহিনী, র‍্যাব, মিলিটারী, ডাক্তার , ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, রিক্সাওয়ালা, গারমেন্টস ইত্যাদি কর্মী/মালিক , দিন মুজুর, বিপথে যাওয়া ধর্ম গুরুরা ইত্যাদি তৈরি হয় । স্বাধীনতার পক্ষের বিপক্ষের সবাই এই রোগে জর্জরিত —
    এই করাপ্টেড লোকদের মাঝের যেই অংশটা স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে, সুধুমাত্র স্বার্থের জন্য নিজের দেশ, জাতীয়তাকে মাটিতে ফেলে পা দিয়ে মুড়ে দিতেও কস্ট পায়না — যেমন জাতির পিতাকে অস্বীকার করা তার উপর আবার তাকে হর্তা করার সেই দিনটিতে বিছানা সমান কেক কেটে উৎসব করে। সুধু মাত্র নিজের স্বার্থের জন্য কিছু উচ্চ শিক্ষিত সুশীল বাটপাররা সেই কেক কাটার পিছনে দাঁড়িয়ে হাততালি দেয় । এই সমস্যা বাহন কারিদের নিয়েই সবার আগে ভাবতে হবে । তানাহলে আমরা ধনী দেশ হয়তো হতে পারবো ধনী জাতি হতে পারবোনা —
    এই শেষের অংশের লোকদের সংশোধন করা অসম্ভব – তাদের রাজনিতিতে আসাটা বন্ধ করতেই হবে, তার জন্য তথাকথিত গনতন্ত্রকে ছুড়ে ফেলতে হলেও খারাপ কাজ মনে হবেনা – জার্মানির নাৎসি পার্টি যেমন গণতন্ত্রের দেশ জার্মানিতে আজ রাজনিতি করার সুযোগ পাচ্ছেনা–

    Reply
  8. সৈয়দ আনোয়ারুল হক

    আমরা সবাই জানি, কলম্বাস অ্যামেরিকা আবিষ্কার করেছেন। আসল ইতিহাস হল, কলম্বাস ভারতকে আবিষ্কার করার উদ্দেশ্যে পশ্চিম দিকে রওনা হয় এবং পেয়েছিলেন পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জ। কলম্বাস কিন্তু অ্যামেরিকা পর্যন্ত যায়নি। অ্যামেরিগো ভেসপুসির যখন সন্দেহ হল যে, এটি ভারত নয়, এরপর তিনি ভারত আবিষ্কার করার জন্য জাহাজ নিয়ে পশ্চিম দিকে রওনা হলেন কলম্বাসের পথ ধরে। আবিষ্কার করলেন অ্যামেরিকা। কিন্তু আমরা ইতিহাসে পাই, আমেরিকার আবিষ্কারক কলম্বাস। কারণ তিনিই আমেরিকার পথ দেখিয়েছিলেন। তাই সবাই সিদ্ধান্ত নিল, ভূখন্ডটির নাম হবে অ্যামেরিগোর নামে অর্থাৎ ‘অ্যামেরিকা’ আর আবিষ্কারকের নাম হবে, কলম্বাস। কারণ, তিনিই আমেরিকার পথ দেখিয়েছিলেন।
    দীনেশ চন্দ্র সেন কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত চন্দ্রকুমার দে সংগ্রহ করেছেন ময়মনসিংহ গীতিকা। তাই বলে কি ময়মনসিংহ গীতিকার সংগ্রহকারক চন্দ্রকুমার দে হয়েছে? আর আমরা, যে ব্যক্তি স্বাধীনতার পথ দেখিয়েছে, স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছে এবং স্বাধীনতার ঘোষণাও দিয়েছেন তাঁকেই অস্বীকার করি। হায়রে বাঙালি!

    Reply
  9. M. Rana

    জাফর স্যারের এই লেখাটাকে আমি, বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের বর্তমানের কামড়াকামড়ির প্রেক্ষাপট থেকে না দেখে বাংলাদেশ ও তার স্বাধীনতা নিয়ে যেভাবে ভাবা উচিৎ সেই প্রেক্ষাপট থেকে দেখেছি। স্যারও একই প্রেক্ষাপট থেকেই লিখেছেন বলে বুঝা যায়– এখানেই এই লিখার গভীরতা। দুঃখের বিষয়, দু-একজন কমেন্টার সেই গতানুগতিকভাবেই স্যারকে ‘আওয়ামী’, ‘বাকশালী’ বলে অপবাদ দেবার চেষ্টা করছেন। (আওয়ামী বাকশালী খারাপ কি ভালো সেই তর্কে যাবার পরিসর নাই বলে খ্যান্ত দিলাম)
    এই অংশটা বড় কস্টের– দেশকে ভাল বাসলে, মনেপ্রাণে বাঙালি হলে এই লেখার বিরোধীতা করা যায় না– করার মানেই হলো বাংলাদেশকে আর বাঙালি জাতিকে অস্বীকার করা– এই লেখা আওয়ামী লীগকে সাপোর্ট করার কন্টেন্টস নয়, সত্যিকারের বাংলাদেশকে গ্রহণ করে বাঙালি হবার ‘আয়াত’ বললেও ভুল হবে না!
    যারা এর মাঝে আওয়ামী লীগকে সাপোর্ট করা হয়েছে বলে গন্ধ পাচ্ছেন, তারা স্বাধীনতার বিরোধী পক্ষ– চোখ বুজে এ কথা বলা যায়।

    Reply
  10. আঃ খালেক ফরাজি

    বাংলাদেশকে যিনি স্বাধীন করেছেন তাঁকে যতটুকু মান্য করেন, পৃথিবী যিনি আমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন তাঁকে এতটুকুও মান্য করেন না! এটা কি উচিৎ?

    Reply
    • শিহাব চৌধুরী

      জাফর ইকবাল স্যার স্রষ্টাকে মান্য করেন না এ তথ্য কোথায় পেলেন? দয়া করে জানাবেন।

      Reply
    • M. Rana

      Dear Mr. আঃ খালেক ফরাজি
      I’m giving 100% guarantee that Dr. J. Iqbal is much more FORGATHER than the people who are worrying about faintness to GOD.
      Greatness of GOD that revealed from the scientific findings (such as space science) is trillion time bigger than the general MULLAH are knowing. It is to be noted that Dr. J. Iqbal has vast knowledge about science.

      Reply
  11. Masum Billah

    স্যার, আপনি ঠিক আছেন তো! গণতন্ত্র নাকি আপনি বাকশাল পছন্দ করতেন!

    Reply
  12. আজিজ

    ভাল লিখেছেন…আওয়ামীদের কাছে, কিন্তু বাংলাদেশীদের কাছে না।

    Reply
  13. Reza

    স্যারের মত বাংলাদেশের সবচাইতে বেশি শিক্ষিত মানুষ– আওয়ামী লীগকে বাকশালি কায়দায় আজীবন ক্ষমতায় রাখার জন্য গণতন্ত্রের নতুন সংজ্ঞা আবিস্কার করলেন! আসলে স্যারও যে বাকশালি মনোভাবের তা জানিয়ে গেলেন!

    Reply
    • Russell

      আমি ‘বাকশাল’ সম্পর্কে আরো জানতে আগ্রহী, জানার পর আপনার মতামত বিশ্বাস করতে পারব।

      যাই হোক না কেন, যেখানে লেখকের কোনটা বিবৃত-মিথ্যা তথ্য তা উল্লেখ করা হয়নি; একটি ঐতিহাসিক সত্য গ্রহণ করতে প্রায়ই তিক্ত ও কঠিন হতে পারে।

      দয়া করে ভুলবেন না সেখানে মানুষ যিনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপি লেন্সের বাইরেও দেশে মানুষ আছে।

      Reply
    • আফসার আলি

      কিসের ভিত্তিতে এখানে বাকশাল কায়েম প্রসঙ্গ আনলেন? বিএনপি-জামায়াত জোটের চেয়ে বাকশাল নিশ্চয় ভাল ছিল…

      Reply
  14. মোঃ আব্দুস সবুর মিয়া

    আপনি শ্রদ্ধেয় স্যার। আছ্ছালামু আ’লাইকুম।

    Reply
  15. ইয়াছিন আরাফাত

    আমরা নূতন প্রজন্ম অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ কে বিনির্মাণ করব ইনশাআল্লাহ।
    স্যার আপনার মত মেধাবী, সৎ, দেশপ্রেমি মানুষদেরও বর্তমানের বাংলাদেশের অনেক প্রয়োজন।

    Reply
  16. Masud Rana

    অসাধারণ লিখেছেন স্যার।

    “এই নূতন প্রজন্মকে দেখে, তাদের কথা শুনে মনে হয়েছে তাদের হাতে আমরা নূতন বাংলাদেশের দায়িত্ব দিয়ে পরম নির্ভরতায় বিশ্রাম নিতে পারি।”

    আল্লাহ আপনাকে সুস্থ রাখুন, আরো লেখার তৌফিক দান করুন…

    Reply
  17. এম. শহিদুল ইসলাম

    সরকার পরিবর্তন হলে মানুষের রূপও পরিবর্তন হয়! যেমন আপনি!

    Reply
    • মুহম্মদ হারূন

      ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল আমার সহপাঠি, কিন্তু ছাত্রজীবন থেকেই তার প্রতি রয়েছে আমার অশেষ শ্রদ্ধা। সরকার পরিবর্তন হলে অনেক মানুষের রূপ পরিবর্তন হয় ঠিকই, কিন্তু সেই সব মানুষের কাতারে শ্রদ্ধেয় মুহম্মদ জাফর ইকবাল পরে না। আমি তার পিতা শহীদ ফয়েজুর রহমানকেও দেখেছি নিজের আদর্শের জন্য জীবন বিসর্জন দিতে। একাত্তরে তার পিতার ভূমিকা নিয়ে একটি অসাধারন মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র নির্মাণ করা সম্ভব, আমার বিশ্বাস একদিন নতুন প্রজন্মের কোনো নির্মাতা ঠিকই এগিয়ে আসবে। একাত্তরের ইতিহাসের পাতা থেকে নতুন নতুন অনেক তথ্য উঠে আসবে আগামী হাজার বছর ধরে, যেখানে মিথ্যাচারের কোনো স্হান হবে না।

      Reply
    • Borhan Biswas

      মনে আছে- স্কুলে পড়ার সময় আমার এক বন্ধু পনেরো আগস্টে আওয়ামী লীগের আয়োজন দেখে টিপ্পনি কেটে বলেছিল, ও আজ তো তোদের পিতার জন্মদিন। কথাটি শুনে আমরা মনটা ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু ভক্তদের মনে আঘাত করতে এক সময় খালেদা জিয়া কাল্পনিক জন্মদিন পালনও শুরু করলেন। কিন্তু ইতিহাস বলে তো একটা কথা আছে! তার বিচার যে কতটা নির্মম হয় তা বোধহয় বিএনপি এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।
      পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্র তৈরিতে জাসদের ভূমিকার কথা শোনা যায়। আশা করবো অগণিত পাঠকের কৌতুহল মেটাতে স্যার সেই বিষয়টি নিয়েও আগামীতে কিছু লিখবেন।

      Reply
  18. দেবাশিস দাস

    স্যার চমৎকার লিখেছেন,
    নতুন প্রজন্ম বিকৃত ইতিহাস থেকে বেরিয়ে আসছে, ভাবতেই ভালো লাগে।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—