বছর ঘুরে আবার ফিরে এসেছে ১৫ আগস্ট, বাঙালি জাতির ইতিহাসে কলঙ্কময় একটি দিন। পঁচাত্তরের এই দিনে ঘাতক গোষ্ঠী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করেছে। বঙ্গবন্ধুর পবিত্র স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর জ্যেষ্ঠ ছেলে শেখ কামাল স্মরণে কিছু কথা পাঠকদের জন্য নিবেদন করছি।

শেখ কামাল আমাদের এক বছরের সিনিয়র ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে তিনি ছিলেন আমাদের আগের ব্যাচের ছাত্র। কিন্তু সিনিয়র হলেও কামাল ভাই আমাদের সঙ্গে আড্ডা মারতেন চুটিয়ে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য তাঁর কাছে কোনো বিষয় ছিল না। সমাজ বিজ্ঞান বিভাগে ছাত্রলীগের ছিল একচেটিয়া আধিপত্য। কিন্তু আমরা কয়েকজন ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকলেও তাঁর স্নেহ থেকে কখনও বঞ্চিত ছিলাম না।

কামাল ভাই সম্পর্কে আরও বলতে হয় যে, আমাদের সময়কার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে প্রাণবন্ত ছাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ‘অলরাউন্ডার’ বলতে যা বোঝায় তিনি ছিলেন তা-ই। গান, নাটকসহ সাংস্কৃতিক নানা বিষয়সহ সব ধরনের খেলাধুলায় তিনি ছিলেন সমভাবে পারদর্শী। সেতারও ছিল তাঁর একটি প্রিয় বাদ্যযন্ত্র। সবসময় হইহুল্লোড় করে আসর মাতিয়ে রাখতেন। আর দলবেঁধে গান গাইতেন। ছোটবড় সবার সঙ্গে ছিল তাঁর বন্ধুত্ব। চালচলন ছিল একেবারে সাদাসিধা। তাঁকে দেখে কখনও মনে হত না যে, তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রীর ছেলে।

প্রতি বছর ১৫ আগস্টের কালোরাতের প্রাক্কালে শেখ কামালের স্মৃতি মনে ভেসে ওঠে। তাঁর কথা মনে হলে আরও কষ্ট লাগে এই জন্য যে, পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ঘাতকের বুলেটে নিহত হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেও তিনি ছিলেন আমাদের সঙ্গে, হইহুল্লোড় করে আমাদের মাতিয়ে রেখেছিলেন তাঁর স্বভাবসুলভ প্রাণবন্ত আড্ডায়।

১৫ আগস্ট সকালে বঙ্গবন্ধুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনে আসার কর্মসূচি ছিল। এই কর্মসূচি নিয়ে ডাকসুর পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসজুড়ে চলছিল প্রস্তুতি। ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) নির্মিত হয়েছিল একটি সুউচ্চ টাওয়ার। আর্টস কলেজের (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ) ছাত্রছাত্রীরা এটি তৈরি করেছিল।

 

Sheikh Kamal - 222

 

এই টিএসসি মিলনায়তনেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ডাকসু ও হল সংসদগুলোর প্রতিনিধিদের উদ্দেশে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ দেবার কথা ছিল। ভাষণ দেবার আগে কলা ভবনের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের মিউজিয়াম পরিদর্শনের কর্মসূচিও ছিল। এছাড়া কার্জন হলেও তাঁর অপর একটি অনুষ্ঠানে যাবার কথা ছিল। মহসীন হল ছাত্র সংসদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শোনার জন্য আমন্ত্রণপত্র পেয়েছিলাম আমিও।

অন্যদিকে সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র হিসেবে আগের দিন অর্থাৎ ১৪ আগস্ট রাতে আমরা ব্যস্ত ছিলাম বিভাগের মিউজিয়াম এবং এর প্রবেশপথের সাজসজ্জার কাজে। শেখ কামাল ওই রাতে আমাদের সঙ্গেই ছিলেন। সাজসজ্জার কাজ তদারক করছিলেন আর তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে গল্প করে গান গেয়ে সবাইকে মাতিয়ে রেখেছিলেন।

কলা ভবনের নিচতলার সামনের দিকে অবস্থিত আমাদের মিউজিয়ামের প্রবেশপথে খড় দিয়ে একটি কুঁড়েঘর বানানো হয়েছিল। হঠাৎ কামাল ভাইয়ের মাথায় এল যে, কুঁড়েঘরের চালে লাউ গাছ ও লাউ ঝুলিয়ে দিতে পারলে চমৎকার হবে। আমাকে বললেন, ‘‘কী রে হাসান, এখানে একটা সাধের লাউ ঝুলিয়ে দিতে পারবি না? যদি পারিস, তাহলে মনে হবে এটা একটা আসল কুঁড়েঘর।’’

যে কথা সেই কাজ। দুজন সঙ্গী নিয়ে রাতের আঁধারে চলে গেলাম সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ইন্সটিটিউটে। মেয়েদের হোস্টেলের গাড়ি-বারান্দার ওপর থেকে লাউগাছের ডগা নেওয়ার জন্য ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী গণিকে তার হোস্টেলের রুম থেকে তুলে নিয়ে এলাম। গণি তখন ঘুমাচ্ছিল। আমাদের জন্য তাকে উঠতে হল। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, কাছে গিয়ে দেখলাম, ওগুলো লাউগাছ নয়, চালকুমড়া গাছ। অগত্যা চালকুমড়ার ডগা নিয়েই ফিরতে হল আমাদের।

Sheikh Kamal - 111

কামাল ভাই কিন্তু মহাখুশি হয়ে বললেন, ‘‘একই কথা, যেই লাউ সেই কদু। চালকুমড়ার ডগাই চলবে।’’

এরপর বললেন, ‘‘ডগা তো হল, এবার লাউ জোগাড় করতে পারলেই হবে।’’

তাঁকে বললাম, ‘‘এখন লাউয়ের সিজন নয়, ভোরবেলা নিউ মার্কেটের কাঁচাবাজারে গিয়ে চালকুমড়া নিয়ে আসার চেষ্টা করব।’’

এখানে উল্লেখ্য যে, ওই সময়ে তাঁর প্রিয় গানের একটি ছিল, ‘সাধের লাউ বানাইলি মোরে বৈরাগী।’ প্রায়ই দলবেঁধে কামাল ভাই ওই ‘সাধের লাউ’ গানটি গাইতেন। ওই রাতেও গানটি গেয়েছিলেন ক্ষণে ক্ষণে।

এভাবে দেখতে দেখতে রাত দু্টো বেজে গেল। এক পর্যায়ে কামাল ভাই বললেন, “তোরা থাক, আমি একটু বাসায় গিয়ে বিশ্রাম নিয়ে আসি।”

কিন্তু এই বিশ্রাম যে তাঁর সারাজীবনের বিশ্রামে পরিণত হবে তা আমরা কেউ তখন কল্পনাও করতে পারিনি। আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাসায় ঘাতকরা বুলেটে বুলেটে কামাল ভাইয়ের বুক ঝাঁঝরা করে দিয়েছে। জাতির জনককে হত্যা করেছে সপরিবারে।

ভোরবেলায় এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে আমরা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে আসি। এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের পর চারদিকে তৈরি হয় এক অসহনীয় পরিবেশ। পাকিস্তানি সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের উপর আবার চেপে বসে সামরিক স্বৈরাচার। প্রায়ই মনে হত, কামাল ভাই যদি রেস্ট নেওয়ার জন্য ওই রাতে ৩২ নম্বরের বাসায় না যেতেন তাহলে হয়তো বেঁচে যেতেন– মুজিবহীন বাংলায় মানুষের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন শোষণহীন বাংলাদেশ কায়েমের জন্য দিতে পারতেন বলিষ্ঠ নেতৃত্ব।

 

333

 

ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী হয়েও কামাল ভাইয়ের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার প্রসঙ্গে আরও একটি ঘটনা উল্লেখ করছি। সম্ভবত ১৯৭৪ সালে ডাকসুর উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সপ্তাহ উদ্‌যাপিত হয়েছিল। ওই সময় ডাকসুর পুরো কমিটি নির্বাচিত হয়েছিল ছাত্র ইউনিয়ন থেকে। ভিপি ছিলেন বর্তমানে সিপিবি নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এবং জিএস ছিলেন বর্তমানে আইটি খাতের সফল ব্যবসায়ী মাহবুব জামান।

ডাকসুর সদস্য বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ও সংগঠক ম. হামিদ ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সপ্তাহ উদ্‌যাপন পরিষদের আহবায়ক। হামিদ ভাইও ছিলেন মহসীন হলের আবাসিক ছাত্র। আমি তাঁর খুবই স্নেহাস্পদ ছিলাম। আমার ওপরও ছিল হামিদ ভাইয়ের অগাধ আস্থা। তাই হামিদ ভাই আমাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সপ্তাহ উদযাপন কমিটির ক্রীড়া উপ-পরিষদের আহ্বায়ক করেছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সপ্তাহ উপলক্ষে আমরা সব ধরনের ইনডোর গেমের আয়োজন করেছিলাম। আরও আয়োজন করেছিলাম বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বনাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলের বাস্কেটবল ম্যাচ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠ জিমনেসিয়ামে অনুষ্ঠিত হল এই প্রীতি ম্যাচ।

তবে সেবার সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে গিয়ে পড়লাম মহাবিপাকে। টিএসসির সুইমিংপুলে সাঁতার প্রতিযোগিতা হবে। কিন্তু পুল ছিল পানিশূন্য। বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশলীরা পানি সরবরাহ করতে অপারগতা প্রকাশ করলেন এই বলে যে, পানি দিয়ে সুইমিং পুল ভরতে গেলে রোকেয়া হল ও শামসুন্নাহার হলে তীব্র পানিসংকট দেখা দেবে।

এই অবস্থায় আমরা ফায়ার ব্রিগেডের শরণাপন্ন হলাম। তাদের বলা হল, জগন্নাথ হলের পুকুর থেকে পানি এনে সুইমিং পুল ভরে দিতে। কিন্তু তা-ও হল না, জগন্নাথ হল কর্তৃপক্ষ জানাল যে, তাদের পুকুর থেকে পানি আনলে পুকুরের মাছ মরে যাবে।

কী আর করা! এবার আমরা ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পুকুর (বাংলা একাডেমির উল্টোদিকে) থেকে পানি আনার বন্দোবস্ত করলাম। সে জন্য রাতে ফায়ার ব্রিগেডের লোকজন এসে রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ করাতে বললেন। কারণ গাড়ি, বিশেষ করে ট্রাক চলাচল করলে তাদের পানি আনার পাইপ ফেটে যাবে।

Sheikh Kamal - 333

তখন রাত প্রায় ১০টা বাজে। রাস্তা বন্ধ করতে হলে পুলিশের প্রয়োজন। আর কোনো উপায় না পেয়ে সোজা চলে গেলাম কামাল ভাইয়ের কাছে। ৩২ নম্বরের বাসায় গিয়ে তাঁকে খোঁজ করলাম। কামাল ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি শুনেই মূল ফটকে পাহারারত পুলিশ কনস্টেবল কোনো কিছু জিজ্ঞেস না করে আমাকে ভেতরে নিয়ে গেল, খবর দিল কামাল ভাইকে। তখন বঙ্গবন্ধুর ৩২ নম্বরের বাসভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল এমনই।

যাহোক, আমার যাবার কথা জেনে কামাল ভাই নিচতলার বসার ঘরে চলে এলেন। সব কিছু শু তিনি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাস্তা বন্ধ করালেন। এরপর ফায়ার ব্রিগেড পানিতে ভরে দিল টিএসসির সুইমিং পুল। পরদিন আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় ভাইস চ্যান্সেলর আবদুল মতিন চৌধুরী সাঁতার প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করলেন।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সপ্তাহের একক অভিনয়, গান, খেলাধুলা প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয়ে শেখ কামাল বিজয়ী হয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন গেমে যারা চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ হয়েছিলেন, কামাল ভাই তাদের সবাইকে নিউ এলিফ্যান্ট রোডের একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁয় দাওয়াত দিয়েছিলেন। ক্রীড়া উপ-পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে আমিও তাঁর দাওয়াত পেলাম। খাওয়া-দাওয়ার পর তিনি সবাইকে তাঁর আবাহনী ক্লাবে যোগদানের আমন্ত্রণ জানালেন।

এখানে উল্লেখ্য যে, আবাহনী ক্রীড়াচক্র প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি বাংলাদেশের ক্রীড়াজগতে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তেমনি স্পন্দন শিল্পীগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করে তিনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও এক বিরাট অবদান রেখে গেছেন। প্রকৃত অর্থেই শেখ কামাল ছিলেন একজন ক্রীড়া ও সংস্কৃতি-অনুরাগী। কখনও ব্যবসায়িক কার্যকলাপে জড়িত হননি তিনি, ছোটেননি অর্থের পেছনে।

তবে শেখ কামালকে জড়িয়ে একটি বানোয়াট কল্পকাহিনি প্রচার করা হয়েছিল। সেটি হল, তিনি নাকি বাংলাদেশ ব্যাংক লুট করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে আহত হন। ওই সময় সরকারবিরোধীরাই একটি ঘটনায় রং-রস চড়িয়ে প্রচার করেছিল। এখনও আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করতে গিয়ে কেউ কেউ ওই ঘটনার রেফারেন্স দিয়ে থাকেন। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বাধীন ‘সর্বহারা পার্টি’ নামক একটি চরমপন্থী দল বাংলাদেশের স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি। তারা স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে বোমাবাজি করেছিল। শেখ কামাল তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে কয়েকজন বন্ধুসহ রাতের বেলায় গাড়িতে করে ঢাকা শহরে ঘুরছিলেন ওই বোমাবাজদের ধরার জন্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকটবর্তী নটরডেম কলেজের কাছে পুলিশের টহল দল তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। তারা মনে করেছিল যে, ওই গাড়ীতে চরমপন্থী বোমাবাজরা রয়েছে। এই ঘটনার কথা আমি আমার দুজন সহপাঠীর কাছ থেকে শুনেছি। তারা ওই ঘটনার সময় কামাল ভাইয়ের সঙ্গেই ছিল।

তাজ্জব ব্যাপার হচ্ছে এই যে, ওই সময় ‘গণবাহিনী’ একে বাংলাদেশ ব্যাংক লুট করার কাহিনি বলে চালিয়ে দিতে চাইল। অনেকেই এখনও একে সুযোগ বুঝে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।

আবু মুসা হাসানসাবেক কূটনীতিক ও সাংবাদিক

১৮ Responses -- “ব্যক্তি শেখ কামাল ও কল্পকথার খণ্ডন”

  1. Dibbendu Dwip

    অনেক মিথ্যা কথা জনগণকে শেখানো হয়েছে এতদিন! খুব সহজে কি তারা তা ভুলবে?

    Reply
  2. হাসিনা বানু

    কামাল ভাই।
    সবগুলো কথা সত্যি–সব ঘটনা সত্যি–ব্যাক্তি গতভাবে তকে চিনতাম–
    আমার শ্রদ্ধা ও সালাম তাঁকে–

    Reply
  3. আগষ্টিন ডি’ক্রুজ

    আমার খুব ভাল লেগেছে। এই ঐতিহাসিক ছবিগুলো গণমাধ্যমে প্রচার করা দরকার।

    Reply
  4. Mokshedul Hamid

    এখানে ডলি জহুরের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যা কোন এক দৈনিকে পড়েছিলাম।
    বিএনপি নেতা জনাব টুকু (প্রাক্তন বিদ্যুত মন্ত্রী, সিরাজগঞ্জ বাড়ি) তত্ত্বাবোধায়ক সরকারের সময়ে প্রথম আলোয় সবিস্তারে লিখেছিলেন শেখ কামালের একজন বন্ধু হিসেবে তিনিও সে রাতে ঐ জীপের আরোহী ছিলেন। বিষয়টি নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে ভুল বোঝাবুঝির কারণে তারা গুলির কবলে পড়েছিলেন।

    Reply
  5. Rumman

    আমাদের মুরুবিবরা যারা তখন তেজগাও পলিটেকনিক কোলোনি তে থাকতেন তাদের কথা কিভাবে ফেলে দেই?? তারা তো শেখ কামাল কে নিজ চোখে ওনেক কিছু কোরতে দেখেছিলেন।

    Reply
    • Mahmood Hassan

      আমিও শুনেছি। যারা আজ আর বলছেন না নিজ চোখে দেখেছেন। এরা শুনে মিছে বানিয়ে বলেছেন। আর একজন প্রধানমন্ত্রীর ছেলেকে এ কাজ করতে হবেই বা কেন? চাইলে দলের হোমোরা-চোমরা নেতারাই তো যত চাই তত টাকা এনে তাকে টাকার পাহাড়ে ডুবিয়ে দিতে পারত। আজ তো কেউ বলছে না আর। ওনার কাছাকাছি যারা ছিলেন তারা সবাই শেখ কামালকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে জানতেন। ডলি জোহুর বলেছিলেন, কী সম্মন উনি করতেন মেয়েদের। চোখে চোখ রেখে কথা বলতে লজ্জা পেতেন।

      Reply
  6. Kamrul Hasan

    বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর নামে বেনামে প্রচুর প্রপাগান্ডা করা হয়েছিল; এটি gospel truth । জাতির জনককে সপরিবারে খুন করার দায় জাসদ কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। ওরাই ক্ষেত্রটা তৈরি করেছিল।

    Reply
  7. Prof.Dr.A.H.M.Zehadul Karim

    I have read your article regarding Sk Kamal. I myself also had some opportunity to get in touch with during the time when we were attending a meeting at the canteen of S.M. Hall, DU. I can not control my tears and to be very frank, I dreamed Bangabandhu last night and woke up from bed crying for him and his family. I took my fazar prayer and additional two rakats for Bagabandhu. The whole nation will always have to cry for him but never get Bangabadhu back again. May Allah bless our beloved Father of the Nation and his family.
    Prof. Dr. A. H. M. Zehadul Karim. Malaysia.

    Reply
  8. সত্য মোহন

    সিরাজ সিকদারকে ধরা কি সেখ কামালের কাজ না পুলিশের কাজ? নটরডেম কলেজের সামনে পুলিশের সাথে কামালের ভুল বুঝাবুঝিতে গোলাগুলি হয়- সেখ কামালের কাছে কেন অস্ত্র থাকবে? উনি কেন আইন নিজের হাতে তুলে নিলেন? সেখ কামাল অন্য একটি ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি হয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধু তাকে দেখতে পর্যন্ত যাননি। কেন যাননি? একজন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সাঙ্গপাংগ নিয়ে অস্ত্র হাতে খোলা জিপে ঢাকা দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন রাতদিন– এটা কি স্বাভাবিক?

    Reply
  9. সৈয়দ আলি

    আবু মুসা হাসান, ঢাকা মহানগরীর বাসিন্দা না হলেও শেখ কামালের সাথে আমার পরিচিতি ছিলো। আমার সাথে তাঁর দেখা হলেই অবধারিতভাবে তিনি বলতেন, অই মিয়া আমার মন্ডা কই? একই রকমভাবে আমিও তাঁকে একজন স্কয়ার মনে করি। সংগীত, ক্রিকেট, সামাজিকতায় তিনি নিপুন ছিলেন।
    তাই বলে অন্ততঃ ১৯৭৪ সালের ডাকসু নির্বাচনের সন্ধ্যায় তাঁর রূপটি আমি এড়িয়ে যাবো না, যেমনটি আপনি ঘটনাটির উল্লেখই করলেন না।

    Reply
  10. সৈয়দ এনাম

    ‘ভোরবেলায় এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে আমরা ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে আসি’ হাসান ভাই, এর পর কোথায় গেলেন কি করলেন দয়া করে লিখুন। আমি নিশ্চিত জাতির জনক এবং প্রিয় কামাল ভাইয়ের হত্যাকাণ্ডের পর আপনি এবং আপনার সহযোদ্ধা ছাত্রনেতারা জীবন বাজি রেখে প্রতিবাদ প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। নতুন প্রজন্ম ১৫ আগস্ট পরবর্তী প্রতিবাদ সংগ্রামের কাহিনী শুনতে আগ্রহী।

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      এরপরে আর সংগ্রাম কি? ১৯৭৯ সালে তেনারা কাঁধে কোদাল, মাথায় টুকরি নিয়ে জিয়ার সাথে খাল কাটতে গেলেন।

      Reply
  11. বিবেক

    শেখ কামালকে ব্যাংক ডাকাত হিসেবে প্রচার করে স্বাধীন বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের সূচনাকারী জাসদ গণবাহিনী।অবাক লাগে সেই জঙ্গিবাদের হোতারাই আজকাল জঙ্গিবাদ নির্মূলের উপায় নিয়ে কলাম লেখে।

    Reply
  12. মনিকা

    “সিরাজ সিকদারের নেতৃত্বাধীন ‘পূর্ব পাকিস্তান সর্বহারা পার্টি’ নামক একটি চরমপন্থী দল বাংলাদেশের স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেনি।”

    – মিথ্যা কথা কম বলুন।

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      ‘পূর্ব পাকিস্তান সর্বহারা পার্টি’ বলে কখনো কিছু ছিলো না। ইতিহাস বলতে যেয়ে গদগদ দেবতা পুঁজা না করে পারেন না?

      Reply
  13. মনিকা

    সব দোষ জাসদ আর বিপ্লবী গণবাহিনীর। হা হা হা। আপনারা পারেনও ভাই! নিজেদের দিকে একবার তাকান!

    Reply
  14. সিম্পল গার্ল

    কথাগুলো বিডিনিউজ২৪.কম এর আর্টস বিভাগ থেকে নেয়া।

    “আমি কোন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ ছিলাম না। আমি শুধু লিখতাম এবং কথা বলতাম, সব সময়ে অসংকোচে কথা বলতাম। আমি রাতে থাকব কোথায়, পরের বেলা খাবার জোটাব কি করে তারও কোন নিশ্চয়তা ছিল না। তবু বিপদে পড়ে গেলাম। কি করে যে প্রচার হয়ে গেছে যে আমি শিক্ষক-সাংবাদিকদের যোগ না দেয়ার জন্য প্রচার কার্য চালাচ্ছি। এই খবরটা শেখ সাহেবের বড় ছেলে শেখ কামালের কানে যথারীতি পৌঁছায়। শুনতে পেলাম তিনি আমাকে শাস্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। আমার অবস্থা হল ফাঁদে ধরা পশুর মত। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কোন বন্ধু-বান্ধবের বাসায় গিয়ে একটা নিষ্ঠুর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হই। একজন তো বলেই দিলেন, ভাই আমরা বউ ছেলে নিয়ে বসবাস করি। তোমাকে বাসায় বসতে দিতে পারব না। তোমার নামে নানা গুজব। তোমার সঙ্গে সম্পর্ক আছে জানলে বিপদে পড়তে পারি।
    আমি চৌদ্দই আগস্ট সন্ধেবেলার কথা বলছি। একজন ভগ্নিস্থানীয়া হাউজ টিউটরের বাসায় গিয়ে হাজির হই। আমার বিশ্বাস ছিল তাঁর কিছু উপকার করেছি। আমি খাইনি এবং কিনে খাওয়ার পয়সা নেই। লাজশরমের মাথা খেয়ে তাঁকে কিছু খাবার দিতে বলি। মহিলা পলিথিনের ব্যাগে কিছু মোয়া দিয়ে বললেন, ছফা ভাই, এগুলো পথে হাঁটতে হাঁটতে আপনি খেয়ে নেবেন। আপনাকে বসতে দিতে পারব না।

    তাঁর বাসার বাইরে এসে কি ধরনের বিপদে পড়েছি পরিস্থিতিটা আঁচ করতে চেষ্টা করলাম। বলতে ভুলে গেছি কার্জন হলে না কোথায় দুটো বোমা ফুটেছে। আমার নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। সে সময়ে আমার বন্ধু অরুণ মৈত্র আমার সঙ্গে ছিলেন। অরুণ ‘ইস্টল্যান্ড’ নামে একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থাতে কাজ করতেন। অরুণের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে বলাকা বিল্ডিংয়ের কাছাকাছি আসি। অরুণ আমাকে বললেন, সময়টা আপনার জন্য অনুকূল নয়। আপনি কোন নিরাপদ জায়গায় চলে যান। পরামর্শটা দিয়ে অরুণ বাসায় চলে গেলেন।

    উদ্দেশ্যহীনভাবে আমি বলাকা বিল্ডিংয়ের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। ওমা কিছু দূর যেতেই দেখি একখানা খোলা জিপে সাঙ্গপাঙ্গসহ শেখ কামাল। একজন দীর্ঘদেহী যুবক কামালের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলল, দেখ কামাল ভাই, আহমদ ছফা যাচ্ছে। কামাল নির্দেশ দিলেন, হারামজাদাকে ধরে নিয়ে আয়। আমি প্রাণভয়ে দৌড়ে নিউ মার্কেটের কাঁচা বাজারের ভেতর ঢুকে পড়ি। যদি কোনদিন স্মৃতিকথা লিখতে হয়, এই পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিশদ করে বর্ণনা করব।”। (ছফা, খ. ৭, পৃ, ১৪১)

    ওই ঘটনা সম্পর্কে ডক্টর আহমেদ কামাল লিখেছেন:

    “১৯৭৫-এর ১৪ আগস্ট রাতে ছফা ভাই আমার বাসা থেকে বেরিয়ে গেলেন, আর ঠিক তখনই একটি জিপে করে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর আশীর্বাদপুষ্ট কয়েকজন তরুণ ছফা ভাইকে তাঁড়া করল। ছফা ভাইয়ের কী হল বোঝা গেল না। ১৫ আগস্টের ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পর ছফা ভাইয়ের খোঁজ করাই আমার প্রথম কাজ হয়ে দাঁড়াল। আগের রাতের ঘটনা অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাককে বললে, তিনিও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। বেলা দশটার দিকে ছফা ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলে জানতে পারলাম কীভাবে তিনি নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছিলেন। আমি শঙ্কামুক্ত হলাম।” (ছফা স্মা. পৃ. ৬৭)

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—