রাজধানীর কল্যাণপুরের জঙ্গিবিরোধী অভিযান নিয়ে কথা হচ্ছে অনেক রকম। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো তো রীতিমতো সরগরম, তাদের অনুসরণ করে মূলধারার মিডিয়াতেও আসছে অনেক খবর। আর সেসবের অনেকগুলোতে অনেকের মন্তব্যে এই অভিযানের সাফল্য নিয়ে সংশয়ের বহিঃপ্রকাশ দেখে একজন পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা ফেসবুকে পোস্ট করেছেন এক অভিমানী স্ট্যাটাস। পুলিশের মুখপাত্র হিসেবে টেলিভিশনে কথা বলতে বলতে এই ভদ্রলোক আগে থেকেই সারা দেশে এক চেনা মুখ; সংবাদকর্মীরাও তাঁকে চেনেন বলে খবরের বিষয় হিসেবে বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছে তাঁর স্ট্যাটাস।

তাঁর স্ট্যাটাসটা পড়ে এবং এর আগে-পরের ঘটনাপ্রবাহ দেখে কিছু প্রশ্ন উঠেছে আমার মনে।

কেন এমন হচ্ছে? কল্যাণপুরে ঘটনাস্থলের আশপাশের বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ যতখানি প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো বিশ্লেষণ করলে অন্তত এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ খুবই কম। আগে থেকে খবর পেয়ে (বা না পেয়ে, ঢাকায় চলমান ব্লক রেইডের অংশ হিসেবে) ওই বাড়িতে তল্লাশি করতে গিয়েছিল পুলিশ। তখন বাড়ির ভেতর থেকে তাদের বাধা দিতে শুরু করেছে এক দল লোক। পুলিশ পুরো বাড়িটা ঘিরে রেখেছে সারা রাত, থেমে থেমে চলেছে গুলিবিনিময়, আর সারা রাতই মেগাফোনের সাহায্যে ‘জঙ্গি স্লোগান’ দিয়েছে ঘেরাও হয়ে থাকা সন্দেহভাজন দলটি; আক্রান্ত অবস্থায় নিজেরাই জানিয়েছে তাদের জিহাদের প্রত্যয়ের কথা।

এরপরও কি না ফেসবুকের পাতাজুড়ে অবিশ্বাসের ছড়াছড়ি! মাত্র চারটা পিস্তল নিয়ে সারারাত গুলিবিনিময় করা সম্ভব কি না– এ রকম কত প্রশ্ন যে উঠছে! আর শুধু ফেসবুকেই কেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের একজন দায়িত্বশীল নেতা পর্যন্ত প্রকাশ্যে সংশয় প্রকাশ করেছেন এই ঘটনায় পুলিশের গুলিতে নিহতরা নিরপরাধ ব্যক্তি হতে পারেন বলে।

এসব দেখেশুনে পুলিশের কর্মকর্তারা অভিমান করতেই পারেন! এমনিতেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় তাদের, আর মিডিয়া তো সারাক্ষণ ‘নজরদারি’ করেই চলেছে। যে কোনো ব্যর্থতাতেই খলনায়ক বানিয়ে দেওয়া হয় তাদের! তাহলে, সাফল্যে নায়ক হওয়ার সুযোগটা কেন পাবেন না তাঁরা? অন্তত এই অভিযানটা নিয়ে সমালোচনা নয়, প্রশংসাই প্রাপ্য তাদের।

কারণ, এই অভিযানটায় সম্ভাব্য সব রকমের পেশাদারিত্ব রক্ষা করে চলছিলেন তাঁরা। অভিযানে তাদের কেউ হতাহত হয়েছেন বলে শুনিনি। নয়জন সন্দেহভাজন জঙ্গি নিহত হয়েছে, বন্দি হয়েছে একজন আর পালিয়ে যেতে পেরেছে মাত্র একজন। নিহতদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করার বিষয়েও গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনার মতো কোনো হঠকারিতা দেখাননি তাঁরা। আগে প্রকাশ করা হয়েছে ছবি। এরপর অনেকখানি নিশ্চিত হয়েই প্রকাশ করা হয়েছে তাদের নামধাম, পরিচয়।

তাহলে কেন এত অবিশ্বাস, এত সংশয়? এর জন্য কিন্তু দায়ী পুলিশ এবং তাদের সহযোগী আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোই। তাদের অতীত রেকর্ড যে মোটেই বিশ্বাসযোগ্য নয়! বেশি দিন আগের কথা নয়, এই তো এ মাসেই তাদের টনক নড়িয়ে দেওয়া হলি আর্টিজানের ঘটনার পরও তাঁরা অবিশ্বাস্য রকমের অবিমৃষ্যকারিতার পরিচয় দিয়েছেন। ঘটনার দিন পুলিশের অনেক আগেই আক্রমণকারীদের ছবি প্রকাশ করে দিয়েছিল তাদেরই সহযোগীরা। কিন্তু তাদের দেওয়া আবু হোরাইরা-আবু সালমান জাতীয় আরবি ছদ্মনামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তড়িঘড়ি করে পুলিশ প্রকাশ করেছে আকাশ-বিকাশ-ডন-বাঁধন-রিপন জাতীয় ‘অবিশ্বাস্য’ নাম। ইন্টারনেটে ছবি দেখে হামলাকারীদের আসল পরিচয় প্রকাশ করতে কিন্তু ফেসবুক-গোয়েন্দাদের লেগেছে মাত্র কয়েক ঘণ্টা! এই কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করলেই তাদের আসল পরিচয় প্রকাশ করা যেত।

যে ঘটনা সারা দেশ নাড়িয়ে দিয়েছে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে দরকার সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব। কিন্তু পুলিশ-র‌্যাব কি সেটা পেরেছে? নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকার কথাই ধরা যাক। ওই তালিকা প্রকাশ করার পরের মাত্র দুই দিনে দেশের সংবাদকর্মীরাই খুঁজে বের করলেন কথিত নিখোঁজদের প্রায় সবাইকে; তাহলে পুলিশ-র‌্যাবের গোয়েন্দারা কেন পারলেন না? চার দিনের মাথায় তো সেই তালিকাটা বদলাতেই হলো, তাহলে কেন এত তড়িঘড়ি?

কল্যাণপুরের ঘটনা সেদিক থেকে উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। কিন্তু এ ক্ষেত্রেও আবেগের কাছে শেষ পর্যন্ত হার মেনেছে পেশাদারিত্ব। ফেসবুকে আবেগী স্ট্যাটাস দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য করতে তাঁরা ফাঁস করে দিয়েছেন তদন্তের সূত্র। বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়ায় নিহত তরুণদের মধ্যে ছয়জনের আইএসের পোশাক পরা যে ছবি প্রকাশিত হয়েছে, সেটা কিন্তু আইএসের ওয়েবসাইট প্রকাশ করেনি, পুলিশের হাত থেকেই বেরিয়ে পড়েছে কোনো কোনো সংবাদকর্মীর হাতে।

বাংলাদেশে পুলিশের প্রকাশ করতে চাওয়া তথ্য মিডিয়াকর্মীদের কাছে সরবরাহ করা এবং সেই সূত্রে সংবাদ প্রকাশের ঘটনা নতুন নয় মোটেই। আর পুলিশ-র‌্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধের গল্পগুলোতেও সৃজনশীলতার কোনো ছাপ থাকে না– একই গল্পের পুনরাবৃত্তি শুনতে শুনতে সাধারণ মানুষেরও সেটা মুখস্থ হয়ে গেছে। তাই এগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার যথেষ্ট সুযোগ আছে। অনলাইনে এই কাজগুলো বেশ সাফল্যের সঙ্গেই করে যাচ্ছেন কেউ কেউ। হলি আর্টিজানের ঘটনার পর পরই যেমন অনলাইন গরম হয়ে উঠেছিল, ‘জঙ্গিদের কেউ মাদ্রাসা-ছাত্র নয়’, ‘আওয়ামী লীগ নেতার ছেলেই জঙ্গি’ এমন প্রচারণায়।

কল্যাণপুরের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটছে। নিহত সন্দেহভাজনদের একজন নিজের নিখোঁজ সন্তান হতে পারেন– এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন ইউনিয়ন পর্যায়ের একজন আওয়ামী লীগ নেতা। কিন্তু তা প্রমাণিত হয়নি এখনও। কারণ, ওই একই ছেলেকে নিজের সন্তান দাবি করেছেন অন্য আরেকজন। কিন্তু অনলাইন মিডিয়া সরগরম এবারও ‘আওয়ামী লীগ নেতার ছেলেই জঙ্গি’ এমন প্রচারণায়। অন্যদিকে আরেক পক্ষ প্রচারণা চালাচ্ছে, ‘মোনায়েম খানের নাতি জঙ্গি’।

এটা আসলে অত্যন্ত দায়িত্বহীন এক সরলীকরণ। কোনো রকম গবেষণা, উপাত্ত বিশ্লেষণ না করে দিনের পর দিন বলা হয়েছে মাদ্রাসাগুলোই জঙ্গি তৈরির কারখানা। জঙ্গিদের একটা ‘মিথিক্যাল’ চরিত্র দাঁড় করিয়ে ফেলা হয়েছে। এখন তারা সেই মিথটাই ভাঙার চেষ্টা করছে; সাফল্যের সঙ্গে করছেও। অথচ মিথটা সত্যি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ, কিন্তু সেটা নিয়ে তো যথাযথ গবেষণা হতে হবে, খুঁজে বের করতে হবে এর প্রতিকার।

তা না করে কেবলই পরস্পরের প্রতি দোষারোপ, কাদা ছোঁড়াছুড়ি করে গেলে লাভ হবে না। তাতে কেবল সুযোগসন্ধানীরাই শক্তিশালী হবে।

খাদেমুল হকঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক

Responses -- “পুলিশকর্তার অভিমান ও পেশাদারিত্বের প্রশ্ন”

  1. Md. Abdur Razzak

    এ যুগটা সোসাল মিডিয়ার। আমরা সরকারি বা প্রফেশনাল চ্যানেলে যত তথ্য পাই তার চেয়েও অনেক বেশি পাই সোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে। কাউন্টার টেররিজম ইউনিট প্রধান( ডিআইজি) মনিরুল ইসলামের স্টাটাসটি কোন সরকারি বা পেশাদার চ্যানেলে আসেনি। এটা এসেছে সোসাল মিডিয়া থেকে যেটা সম্পূর্ণ তার নিজস্ব অনুভূতি। বিষয়টি তিনি একটি টক শোতে টেলিফোনিক অংশগ্রহণে পরিষ্কার করেছেন।

    এখন আপনি যদি বলেন, পুলিশ অফিসারদের সারাক্ষণই পেশাদারি মেজাজ সংরক্ষণ করা তাহলে তো তাদের আর সাধারণ মানুষের মতো জীবন যাপন করতে হবে না। এখন আপনি পুলিশ সদস্যদের মানুষ না ভাবেন, তাহলে আমার কোন মন্তব্য নেই। আর যদি রক্তমাংসের মানুষই ভাবেন, তবে আপনাকে তাদের আবেগ প্রকাশের সুযোগ যেমন দিতে হবে, তেমনি তাদের আবেগের মূল্যায়নও করতে হবে।

    আপনার কথাই উঠে এসেছে যে পুলিশ অপরাধ নিবারণ, সন্ত্রাস দমন, জঙ্গিবাদ উচ্ছেদ প্রভৃতি ক্ষেত্রে যেমন দিবারাত্র পরিশ্রম করছে তেমনি অকাতরে জীবন বিসর্জনও দিচেছ। পেশার কারণে আগু-পিছু ভেবে ঝুঁকি নেয়া যায়, কিন্তু এ ঝুঁকি গ্রহণের মধ্যে যদি আবেগ না থাকে, দেশপ্রেম না থাকে তবে একটি ঘটনার পর একই ধরনের কাজে আর কাউকে ঝুঁকি নিতে দেখা যাবে না। তখন পেশাদারিত্বকে ছাপিযে কাপুরষতা দেখা দেবে। তাই আবেগহীন পুলিশ অফিসারের প্রত্যাশা একটি আত্মঘাতী পরামর্শ বলেই মনে করি।

    সবশেষে বলব, আপনার লেখার শিরোনামের সাথে ভিতরের বিষয়বস্তুর ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেননি। আপনা নিবন্ধের ভিতর অপ্রাসঙ্গিকভাবে নানা বিষয়ের অবতারণা করেছেন। এমতাবস্থায় আপনার নিবন্ধটি সুখপাঠ্য হয়ে ওঠেনি।

    Reply
    • Shamsuzzaman

      যুগটা সোশ্যাল মিডিয়ার, তাতে পুলিশ ভাইরা প্রাণ খুলে মনের কথা লিখতে পারবেন। কিন্তু কেউ সেটার সমালোচনা করলেই দোষ! আরে ভাই, বিতর্ক সৃষ্টি হয়, এমন কথা যখন বলবেন, তখন তো সমালোচনা সহ্য করার প্রস্তুতিও থাকতে হবে, নাকি? মনিরুল সাহেবের ওই স্ট্যাটাস কিন্তু আর কেবলই ব্যক্তিগত স্ট্যাটাস থাকেনি, সোশ্যাল মিডিয়াতেও থাকেনি, এসে গেছে মেইনস্ট্রিম মিডিয়াতেও। প্রাণ খুলে মনের কথা বলার ক্ষেত্রে তাঁর মতো সেলিব্রেটি অফিসারের অবশ্যই আরো সতর্ক হওয়া উচিৎ ছিল। পেশাদারিত্বের প্রমাণ রাখার সুযোগ ছিল। লেখক সেই দিকেই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাঁর করা প্রশংসাটুকু উপভোগ্য মনে হচ্ছে আপনার, কিন্তু যৌক্তিক সমালোচনার যুক্তিও খুঁজে পাচ্ছেন না। ধারাবাহিকতার অভাব তো দেখছি আপনারই!

      Reply
      • Razzak

        ওরে বাবা! সমালোচনা সহ্য করা হয়নি, কোথায় সেই উদাহরণ? কাউন্টার টেররিজম ইউনিট প্রধানের Status নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সমালোচনা বেশি দেখিনি। তারপরও যারা সমালোচনা করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো পুলিশ অফিসার খড়্গহস্ত হয়েছেন বলে তো কেউ অভিযোগ করেনি। না সমালোচনার জবাবও দেয়া যাবে না। তাহলে তো পুলিশকে আপনি নিতান্ত গর্দভ কিংবা মেশিন ছাড়া কিছুই ভাবছেন না!

    • Md. Abdur Razzak

      পুলিশকে নিয়ে মসকরা করতে কোন দোষ নেই। এতে বেশ বাহবা পাওয়া যায়?
      বিষয়টি বুঝিয়ে লিখুন না কিছু, সিমলা দিদি

      Reply
  2. Rafiqul Islam

    এ দেশের মানুষকে বোঝা আসলেই কঠিন। এই লেখাটি, এবং তারপর প্রথম দুটি প্রতিক্রিয়া পড়ে যার-পর-নাই হতাশ হলাম। লেখকের কথা বোঝার চেষ্টা না করেই অর্থহীন সমালোচনা করা যেন আমাদের ব্রত হয়ে দাঁড়িয়েছে। মি. আর মাসুদ এই লেখার অর্থ খুঁজে পাননি। সেটা তাঁর নিজের সমস্যা, আমি তো বেশ দেখতে পাচ্ছি, এই লেখাটা আসলে পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল সাহেবের আবেগী স্ট্যাটাসের জবাব, যেখানে পরিস্কার একটি বার্তা আছে– পুলিশকে এ ধরনের আবেগ মানায় না, তাদের হতে হবে চূড়ান্ত পেশাদার।
    অন্য আরেকজন তৌফিক সাহেব আবার এই লেখায় পুলিশের ভয়ে কম্পমানতা আবিস্কার করেছেন। মেরুদণ্ড সোজা করার আহ্বানও জানিয়েছেন। আমি তো দেখছি, এই লেখাটা আগা-গোড়া পুলিশের সমালোচনায় ভরা, তবে সেই সমালোচনা তৌফিক সাহেবদের মতো একচোখা নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের কাছে প্রত্যাশিত যুক্তি দিয়েই সাজানো।
    খাদেমুল স্যারকে অভিনন্দন। এমন যুক্তিশাণিত লেখা তিনি আরো লিখবেন আশা করি।

    Reply
  3. R. Masud

    বাংলাদেশের পুলিশকে নিয়ে অনেক রসাল গল্প প্রচলিত আছে, তা থাক।
    ঢাকা শহরে আমি নিজের চোখে ১৯৭৭-৭৮ সনে দেখেছি বাসের কন্ডাকটর-এর ছুড়ে দেওয়া ৪ আনা পয়সা রাস্তা থেকে কুড়িয়ে তুলতে পুলিশকে। কিন্তু দিন বদলেছে তার সঙ্গে পুলিশও কমবেশি বদলেছে।
    আমি খাদেমুল সাহেবের এই লেখার তাত্পর্যটা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। পুরা লেখাটা পড়ে কয়েক ঘণ্টা ভেবেও তার অন্তর্নিহিত কথাগুলো বুঝতে পারিনি।
    “আমেরিকার অরলান্ডো শহরে ঘটানো একক বন্দুকধারীর পরিচয়, তার মোটিভেশন, দলীয় সম্পর্ক ইত্যাদি নিয়ে আমেরিকার পুলিশের এবং ওখানকার গণমাধ্যমের পরিবেষন করা খবর অথবা ইনফরমেশন গুলো” পড়ে দেখেন।
    ওখানে একজন আসামী এটা ঘটিয়েছিল তাতেই যদি এত ভিন্ন ধরনের খবর আর ভুল সংবাদ হতে পারে, কিম্বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনির দেওয়া বিবৃতিগুলো এতভাবে ছড়াতে পারে। মনে রাখবেন ঐ সব দেশে হর হামেসাই এই ধরনের ঘটনা ঘটে, মানে ওখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো পরীক্ষিত আর অভিজ্ঞ, তার বিপরীতে বাংলাদেশে প্রথম ঘটা একই ধরনের ঘটনায় যে ভুল হয়েছিল তা নিয়ে এমন রসালাপ লেখা তাত্পর্যহীন বলে মনে হয়– খাদেমুল সাহেব নিজেই বলেছেন, গুলাশানের পর কল্যাণপুরের ঘটনায় পুলিশ প্রপেশানিলিজম দেখিয়েছে।

    Reply
  4. Taufiqul Pius

    ভালই তো বলার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু এত ভয় পান কাকে?
    আপনার লেখায় পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে যে, লেখার সময় আপনার হাত-পা রীতিমত কাঁপছিল মনিরুলদের ভয়ে!
    মেরুদণ্ড সোজা করেন! দেশটা শেষ হয়ে যাচ্ছে! আপনারা যদি না জাগেন, ভোর কখন হবে?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—