বিশ্বমোড়ল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। প্রধান দুই দলের প্রতিনিধি হিসেবে ডনাল্ড ট্রাম্প (রিপাবলিকান) এবং হিলারি ক্লিনটন (ডেমোক্র্যাট) চূড়ান্ত। প্রান্তিক দলগুলোর প্রতিনিধিও জানা হয়ে গেছে। দুই প্রধান দলেই নতুন প্রতিনিধি হওয়ায় প্রতি আট বছর পর নির্বাচনকালীন অনেক উত্তপ্ত বিতর্ক হয়, কিন্তু বিভিন্ন কারণে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সরব ছিল এবারের ‘প্রাইমারি ইলেকশন’ (রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীন নির্বাচন, যার মাধ্যমে দলের প্রতিনিধি নির্বাচিত হন)।

এই ডামাডোলের মাঝে অনেক বিষয় উঠে এসেছে, অনেক নাটকীয়তা হয়েছে, তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল, আমেরিকার জনগণের মনস্তত্ত্বে অনেক নতুনত্ব পরিলক্ষিত হয়েছে। শেষতক ভোটে কেউ না কেউ জয়ী হবেন, কিন্তু সেই জাহাজের খবরে বাংলাদেশের মতো ক্ষুদ্র আদার-ব্যাপারির লাভ-ক্ষতি কম। ভিতরে ভিতরে আমেরিকার সমাজে যেই পরিবর্তনগুলো সংঘটিত হচ্ছে তার প্রভাব তুলনামূলকভাবে সুদূরপ্রসারী। আজকের পৃথিবী নিয়ে মেতে না থেকে ভবিষ্যতের দৃশ্যপট বুঝতে এবং পরিবর্তনশীল সময়ে টিকে থাকতে হলে সেগুলো সম্পর্কে অবহিত হওয়া প্রয়োজন।

বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ক্ষোভ:

১৯৯০এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর মুক্তবাজার অর্থনীতির জয়জয়কার চলছে সারা বিশ্বে। বিশ্ব ব্যাংক এবং আইএমএফএর আগ্রাসী নেতৃত্বে সারা পৃথিবী বাধ্য হয়েছে নিজেদের বাজার মুক্ত করে দিতে। ফলে অনেক দেশের নিজস্ব অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পশ্চিমা বিশ্বের প্রতি অনেক ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হয়েছে। কিছু দেশ উন্নয়ন করতে পারলেও অধিকাংশই ঋণ এবং নির্ভরশীলতার জালে আটকা পড়েছে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকে এই ধাক্কা সামলে উঠেছে। বাংলাদেশ সেই তালিকায় অন্যতম উদাহরণ। তৈরি পোশাক এবং জনশক্তি রপ্তানিতে বাংলাদেশ নিজস্ব অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে সারা বিশ্বে। শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর একটি অংশ প্রবাসে বিভিন্ন দেশে কাজ করছে, অনেকে দেশেও ফিরে যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিশ্বায়নের ধাক্কা সামলে ওঠা বাংলাদেশের বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নিজের অবস্থান মোটামুটি ধরে রাখতে পারা উচিত।

মুদ্রার অপর পিঠে পশ্চিমা দুনিয়া অকল্পনীয় প্রবৃদ্ধি দেখেছে। মধ্যবিত্তরা মোটামুটি প্রাচুর্য এবং ভবিষ্যতের নিশ্চয়তার মাঝে দিনযাপন করেছে গত দুই দশক ধরে। সাম্প্রতিক ধসের পর মার্কিন অর্থনীতি তার হৃত শক্তির অনেকটাই ফেরত পেলেও সাধারণ মানুষ আগের মতো আরাম বা নিশ্চয়তা পাচ্ছে না। এক আমলে যেসব চাকরি করে মানুষ স্বচ্ছল জীবনযাপন করতে পারতো, তার অনেকাংশই আউটসোর্স হয়ে বিভিন্ন দেশে চলে গেছে।

এই অবস্থার জন্য আমেরিকার অধিকাংশ মানুষ বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তিকে দায়ী করে থাকে। চুক্তি মোতাবেক যখন বাজার মুক্ত হয়, তখন আমেরিকার পণ্য সারা বিশ্বের বাজারে ছড়িয়ে যায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন দেশ নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখে যায়। খুচরা পণ্যে চীন, গাড়ি ও ইলেকট্রনিক্সে জাপান এবং অদক্ষ শ্রমে মেক্সিকানরা স্থান করে নিয়েছে। পাশাপাশি ভারত, ব্রাজিল, ইত্যাদি দেশও এগিয়েছে। ফলে গড়পড়তা আমেরিকান আগের স্বচ্ছলতা বা নিরাপত্তা পাচ্ছে না।

টানা যুদ্ধের প্রভাবও পড়েছে অর্থনীতিতে। শত শত কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে চীনা পণ্যে বাজার ছেয়ে যাওয়ায়, শ্রমের বাজার সস্তা হয়ে গেছে বৈধ ও অবৈধ মেক্সিকান শ্রমিকদের কারণে।

 

Hillary Clinton - 222
হিলারি ক্লিনটন প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্প বা স্যান্ডার্সের মতো এই চুক্তিগুলোর বিরোধী নন, কিন্তু নতুন চুক্তি করে দূরত্ব কমানোর পক্ষে

 

আমেরিকানদের অভিযোগ, বাজার মুক্ত করে দেওয়ায় এমন অনেক দেশ থেকে পণ্য আসছে যারা তুলনামূলক কম খরচে পণ্য তৈরি করতে পারে। যেমন, অটোমোটিভ ইন্ডাস্ট্রিতে ধস নামার পর অনেকেই অভিযোগ করছিলেন যে, জাপানে শ্রমিকদের আমেরিকার শ্রমিকদের সমান পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা দিতে হয় না বলে তারা কম খরচে গাড়ি বানায়। চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে শ্রমিকদের অধিকার লঙ্ঘন এবং ডলারের বিপরীতে বিনিময় মূল্য যথেচ্ছভাবে বদলানোর। মেক্সিকোর বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে লক্ষ লক্ষ অবৈধ শ্রমিক আমেরিকায় পাঠানোর। গত কয়েক বছর ধরে ভারতীয় বিভিন্ন কোম্পানির এইচওয়ানবি ভিসা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ এসেছে, সেটাও কমিয়ে আনার কথা উঠছে।

আমেরিকা পিছিয়ে পড়ার এই সমস্যা সমাধান করার জন্য মোটা দাগে দুই ধরনের সমাধানের কথা আলোচনা হচ্ছে। একটি পক্ষ দোষ দিচ্ছে মুক্তবাজার অর্থনীতিকে, চাইছে এসব চুক্তি বাতিল করে দিতে এবং চুক্তিপূর্ব সময়ের মতো দ্বিপাক্ষিক অর্থনীতিতে ফেরত যেতে।

দ্বিতীয় পক্ষ চাইছে মুক্তবাজার কাঠামো অব্যাহত রেখে নতুন চুক্তির মাধ্যমে উচ্চতর মান আরোপ করতে, যাতে অন্যান্য দেশের শ্রমবাজার অতিরিক্ত সস্তা হয়ে না থাকে। তারা মনে করে, বাজার রুদ্ধ করার চেয়ে মুক্তবাজারেই বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে সমতা আনা বুদ্ধিমানের কাজ।

কোনো রাজনৈতিক দলের নাম না বলে দুই ‘পক্ষ’ বলার কারণ হল, দুই প্রধান রাজনৈতিক দলেই এই বিষয়ে বিভক্তি রয়েছে। রিপাবলিকান দলে এই ক্ষোভ অনেক বেশি এবং ক্ষুব্ধ অংশের সমর্থনের কারণে অনেক ভুল-ভ্রান্তি সত্বেও ডনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হয়েছেন। তার প্রধান বক্তব্য ছিল চীনের সঙ্গে সব চুক্তি পুনর্বিবেচনা করা, মেক্সিকোর বর্ডারে দেওয়াল তুলে অভিবাসীদের বিতাড়ন করা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মুসলমানদের অভিবাসন বন্ধ করা। পার্টির ক্ষমতাবান অংশ এই ভাবধারার বিপক্ষে হওয়া সত্বেও ১৬ জন প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে ডনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী হন।

ডেমোক্রেটিক দলেও বিভিন্ন রকম বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অনেক ক্ষোভ রয়েছে এবং এই সংক্ষুব্ধ অংশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন বার্নি স্যান্ডার্স। শুরুতে তিনি হিলারি ক্লিনটনের চেয়ে প্রায় ৬৫ শতাংশ পিছিয়ে শেষ পর্যন্ত সমানে-সমান হয়ে যান জনসমর্থনে। তাঁর ব্যাপারে একটি লেখায় বলা হয়েছিল, তিনি ‘রানিং অ্যাগেইন্সট হিলারি’ কিন্তু ‘লুজিং অ্যাগেইন্সট টাইম’।

যে প্রার্থীই বিজয়ী হোন না কেন, সামনের বছরগুলোয় জনগণের দিক থেকে বেশ চাপ থাকবে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং আরও বেশি আমেরিকান পণ্য সারা বিশ্বে বিক্রির ব্যাপারে। হিলারি ক্লিনটন প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্প বা স্যান্ডার্সের মতো এই চুক্তিগুলোর বিরোধী নন, কিন্তু নতুন চুক্তি (যেমন চীনের সঙ্গে ‘ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ’) করে দূরত্ব কমানোর পক্ষে।

মুক্তবাজার অর্থনীতির কারণে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে অনেক পরিবর্তন এসেছে। উন্নয়নশীল দেশে সামরিক বাহিনীকে তুষ্ট রাখতে পারলেই ক্ষমতা নিশ্চিত থাকত। বাংলাদেশের মতো দেশে এখন সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি নব্য ধনী গোষ্ঠী অনেক ক্ষমতা ধারণ করে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে রাজনীতিকের তুলনায় ব্যবসায়ী বেশি দেখা যাচ্ছে। রপ্তানি আয় অটুট থাকলে রাজনীতির গতিবিধি তাদের মূল বিবেচ্য হয় না। নতুন বাজারনীতির কারণে এই ‘সাম্যে’ ব্যাঘাত ঘটা অসম্ভব নয়।

অকল্পনীয় রাজনৈতিক অবস্থান মেনে নেওয়া:

আমেরিকা অভিবাসীদের দেশ, এটা সবার জানা। পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে এসে এই দেশে মানুষ নতুন জীবন শুরু করতে পারে। এখানে চূড়ান্ত উদার মানুষ যেমন আছে, তেমনি আছে প্রচণ্ড ধার্মিক ও রক্ষণশীল মানুষ। সবাই মিলে শুধু ‘শান্তিপূর্ণ’ নয় বরং ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ভাবে জীবনযাপন করে। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সমঅধিকার এবং প্রতিযোগিতা এই সমাজের অন্যতম স্তম্ভ। এই কারণেই আমেরিকার মানুষ অনেক দাতব্য কাজ করলেও শাসনব্যবস্থা হিসেবে সমাজতন্ত্রকে মেনে নেয় না। ধর্মের প্রভাব ব্যক্তিজীবনে অনেক গভীর হলেও ধর্মের কারণে কারও প্রতি বৈষম্যও অকল্পনীয়।

এই নির্বাচনের পূর্বে দুই ধরনের ব্যাপারেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের প্রকাশ্য সমর্থন দেখা গেছে। বার্নি স্যান্ডার্স স্বঘোষিত ‘সোশ্যালিস্ট’ হয়েও অল্পের অন্য ডেমোক্র্যাট দল থেকে মনোনয়ন পাননি। পূর্বের কোনো সময়ে সমাজতান্ত্রিক ভাবধারার অনুসারী কারও ভোট পাওয়া অকল্পনীয় ছিল।

অন্যদিকে, ডনাল্ড ট্রাম্প খুব আপত্তিকর ভাষায় মুসলমানদের অভিবাসনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কথা বলেছেন এবং সেটা অনেক রিপাবলিকান ভোটারের সমর্থনও পেয়েছে।

বিশেষ করে ডনাল্ড ট্রাম্পের অভব্য আচরণ অনেকের জন্য বিব্রতকর ও অগ্রহণযোগ্য ছিল। তিনি নির্যাতিত যুদ্ধবন্দী জন ম্যাককেইনকে খোঁচা দিয়ে কথা বলেছেন, এক মহিলা সাংবাদিকের ঋতুস্রাব নিয়ে টেলিভিশনে ইঙ্গিত করেছেন, একজন প্রতিবন্ধী সাংবাদিককে জনসমক্ষে ব্যঙ্গ করেছেন, মেক্সিকানদের খুনি ও ধর্ষক ডেকে লক্ষ লক্ষ অবৈধ অভিবাসী মেক্সিকানকে বিতাড়নের কথা বলেছেন, আমেরিকায় মুসলিম প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলেছেন, ইত্যাদি।

আশ্চর্যের বিষয় হল, এমনতর আচরণের পরও ডনাল্ড ট্রাম্প অন্তত ৩০ শতাংশ মানুষের সমর্থন পেয়েছেন। এই যে মাত্রা অতিক্রম করে যাওয়া বা চিরায়ত রীতি-নীতি বিসর্জন দিতে রাজি থাকা, তার একটা বড় কারণ মানুষের অতীষ্ঠ হয়ে যাওয়া। বিশেষ করে স্বল্পশিক্ষিত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের মধ্যে তার সমর্থন বেশ গভীর। এই অংশ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যার জন্য যে সমাধান দিতে পারবে তাকেই সমর্থন দিতে প্রস্তুত, আগের মতো ভব্যতার বালাই নেই।

 

Donald Trump - 11111
বিশেষ করে স্বল্পশিক্ষিত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্বেতাঙ্গ পুরুষদের মধ্যে তার সমর্থন বেশ গভীর

 

মেক্সিকান ও মুসলিমদের প্রতি এমন অন্ধ বিদ্বেষের কারণে জনসাধারণের বিপুল অংশ খুব তীব্রভাবে ডনাল্ড ট্রাম্পের বিপক্ষে। এমনকি আজীবন রিপাবলিকান রাজনীতির সমর্থক অনেকেই এই মনোবৃত্তি দেখে লজ্জিত ও শঙ্কিত। পত্র-পত্রিকা ও টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের এই বিদ্বেষকে সরাসরি তুলনা করা হচ্ছে অ্যাডলফ হিটলারের ইহুদি-বিদ্বেষের সঙ্গে। নিজ দলের কোনো সিনেটর বা কংগ্রেসম্যানও তাকে সমর্থন তো দিচ্ছেনই না, বরং প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন বাড়াবাড়ির প্রকাশ্য সমালোচনা করছেন।

অন্যদিকে বার্নি স্যান্ডার্সের অভাবনীয় সমর্থনের একটা বড় অংশ ছিল তরুণ এবং মুসলমানদের। ৮ বছর আগে তারুণ্যের প্রতীক বারাক ওবামার কাছে হিলারি ক্লিনটনের হেরে যাওয়াটা অস্বাভাবিক ছিল না। কিন্তু এই দফায় প্রায় ৭৫ বছর বয়সী বার্নি স্যান্ডার্সের কাছে ‘ইয়ুথ ভোট’এ হিলারির হেরে যাওয়াটা অবাক করার মতো। বিনামূল্যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, যুদ্ধবিরোধিতা ইত্যাদি উদারপন্থী নীতি তরুণদের মধ্যে অনেক সমর্থন পেয়েছে। নিষ্ঠা এবং অবিচলতার কারণে তাঁর একেকটি র‍্যালিতে ২০ হাজারের বেশি মানুষও যোগ দিয়েছে, যার তুলনায় অন্য যে কোনো প্রার্থীর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন অনেক কম ছিল।

তবে কৃষ্ণাঙ্গ ও প্রৌঢ়দের ভোটে তিনি হিলারি ক্লিনটনের কাছে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। আজকের তরুণ-তরুণীরা আগামী বছরগুলোয় এই উদারপন্থী অবস্থান ধরে রাখবেন কি না সেটা দেখা বিষয়।

অন্যদিকে রিপাবলিকান দলে দ্বিতীয় স্থান পাওয়া টেড ক্রুজকে নিয়েও কিছুটা আলাপ করা প্রয়োজন। টেক্সাসের এই সিনেটরের প্রতি মূলধারার রিপাবলিকানদের সমর্থনের মধ্যে ধর্মীয় রাজনীতির উত্থানের ইঙ্গিত রয়েছে। আমেরিকার সংবিধান একটি অসামান্য ঐতিহাসিক দলিল যাতে বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের কথা বলা হয়েছে। ডনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন রকম আপত্তিকর উক্তি ও আচরণের কারণে আলোচনা জুড়ে থাকলেও তার প্রতি রিপাবলিকান দলের কর্তাব্যাক্তি ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমর্থন প্রায় শূন্য। ট্রাম্পের সমর্থনের ভিত্তি হল ক্ষুব্ধ, প্রান্তিক ভোটারবৃন্দ।

অন্যদিকে, টেড ক্রুজ একজন অত্যন্ত কৌশলী রাজনীতিক, দলের ধর্মীয় কট্টরপন্থীদের প্রথম পছন্দ এবং এই প্রাইমারি নির্বাচনে তিনি সবচেয়ে চৌকষ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করেছেন। এসব কিছুর পাশাপাশি তার বয়স বিবেচনায় ভবিষ্যতের জন্য তিনি সম্ভাব্য প্রার্থী এবং তার কট্টর ধর্মীয় অবস্থান আমেরিকার রাজনীতির মৌলিক নীতির জন্য ঝুঁকির।

বিশ্বরাজনীতি নিয়ে ভিন্ন চিন্তা:

বিশ্বরাজনীতি নিয়ে যে কোনো আলাপ স্বভাবতই ঘুরপাক খায় সাম্প্রতিকতম গণ্ডগোল ঘিরে। নাইন ইলেভেনের পর আল-কায়েদা নির্মূল করার লক্ষে জর্জ ডব্লিউ বুশ পুননির্বাচিত হন। সেই সময়ে অনেক রিপাবলিকান তার ইরাক যুদ্ধের বিরোধিতা করলেও তার তৈরি সমস্যা তাকেই সমাধান করার জন্য আরেক বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার সুযোগ দিতে আগ্রহী ছিলেন।

বারাক ওবামা নির্বাচিত হওয়ার পিছনে বড় কারণ ছিল ইরাক যুদ্ধের বিপক্ষে তাঁর অবস্থান। এই নির্বাচনে আলাপ-আলোচনা বিবর্তিত হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ ঘিরে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পাশাপাশি সম্প্রতি ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে মুসলিমদের নিয়ে চলছে তুমুল বিতর্ক।

দুই প্রধান দলের সমর্থকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়ায় কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। রিপাবলিকান দল ঐতিহাসিকভাবে জাতীয় নিরাপত্তার ব্যাপারে কঠোর। তারা মনে করে যে, চরমপন্থা দমনে মুসলমানদের সমষ্টিগত দায়িত্ব রয়েছে এবং এই ধরনের আক্রমণের আশংকার কারণে মুসলমান অভিবাসী ও শরণার্থী প্রবেশের ব্যাপারে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এদের মধ্যে কেউ খুব স্পষ্টতই জাত্যাভিমান থেকে মুসলমানবিদ্বেষী, কেউ সিরিয়াসহ অন্যান্য দেশের ব্যাপারে সহমর্মী হলেও নিজ নিরাপত্তার খাতিরে স্বার্থপর অবস্থান নিচ্ছেন।

তবে বিশেষ একটি ধর্মাবলম্বী মানুষকে চিহ্নিত করার ব্যাপারে রিপাবলিকান দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বারবার সতর্ক করছেন। তারা ডনাল্ড ট্রাম্পের বিদ্বেষী বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন নিয়মিত, তবে তাই বলে বিদ্বেষের বিস্তার থেমে নেই।

উল্লেখ্য যে, এই ‘নেটিভিজম’ শুধু শ্বেতাঙ্গ নয়, অনেক দেশ থেকে আগত অভিবাসীদের মধ্যেও আছে। সব মুসলমানদের টার্গেট করার ব্যাপারে আপত্তি যেমন আছে, তেমনি বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের কারণে মুসলমানদের ব্যাপারে ভয়ও রয়েছে। যারা বিদ্বেষী নন, তারাও মনে করেন যে এই ব্যাপারে কঠোর হওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক দলের নেতৃবৃন্দ সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাইছেন যে, এভাবে মুসলমানদের টার্গেট করাটা সন্ত্রাসবাদীদের জন্যেই ভালো। আইসিসসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী বরাবর প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে যে, চলমান সংঘাত ‘ইসলাম বনাম পশ্চিমা বিশ্ব’। যদি পশ্চিমা দেশগুলো তাদের উদারনীতি বর্জন করে মুসলমানদের প্রতি বঞ্চনা ও বিদ্বেষমূলক আচরণে পর্যবসিত হয়, তাহলে সন্ত্রাসবাদীদের প্রোপাগাণ্ডা প্রতিষ্ঠা পাবে। এই মুহূর্তে মুসলমানদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, তাদের সাহায্য নিয়ে কট্টরপন্থা রোধ করতে হবে। রিপাবলিকানদের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের সার্বজনীন প্রয়াসে বড় পার্থক্য রয়েছে।

এই নির্বাচনে মুসলমানদের মুখ্য সমর্থন ডেমোক্র্যাটদের প্রতি হওয়াটা তাই অবাক করার মতো নয়। তবে লক্ষণীয় ছিল হিলারি ক্লিনটন এবং বার্নি স্যান্ডার্সের মধ্যে পছন্দের ব্যাপারে। বার্নি স্যান্ডার্স ইহুদি হওয়া সত্বেও মুসলমানদের মধ্যে তাঁর ছিল বিপুল সমর্থন। আমেরিকায় আরব-বংশোদ্ভূত মুসলমানদের সংখ্যা যেখানে সবচেয়ে বেশি সে এলাকায় বার্নি স্যান্ডার্স বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এই ধরনের ফলাফল প্রমাণ করে যে, মানুষ সেরা প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো বিভেদ করেনি।

বার্নি স্যান্ডার্সের এই সমর্থন এমনি এমনি আসেনি। তিনি খুব শক্ত ভাষায় আমেরিকার ক্রমাগত যুদ্ধের সমালোচনা করেছেন। দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সরকার পতন ঘটানোর সমালোচনা করেছেন, বিভিন্ন স্বৈরাচারীর সঙ্গে বন্ধুত্বের সমালোচনা করেছেন, পূর্ব এশিয়ায় হেনরি কিসিঞ্জারের যুদ্ধনীতির সমালোচনা করেছেন।

 

Bernie Sanders - 111
বার্নি স্যান্ডার্স স্বঘোষিত ‘সোশ্যালিস্ট’ হয়েও অল্পের অন্য ডেমোক্র্যাট দল থেকে মনোনয়ন পাননি

 

প্রায় পাঁচ দশক ধরে নিরলস এই মতবাদ প্রচার করে বর্ষিয়ান বার্নি স্যান্ডার্স আমেরিকার জনগণের একটা বড় অংশের যুদ্ধবিরোধী মানসিকতাকে স্পর্শ করতে পেরেছিলেন, ঠিক যেমনটা বারাক ওবামা করেছিলেন আট বছর আগে।

অতীত যুদ্ধের সমালোচনার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েলের ভূমিকা নিয়েও তিনি সমালোচনা করেছেন। বলেছেন যে, ২০১৪ সালে ফিলিস্তিনে ইজরায়েলের আগ্রাসন ভীষণ মাত্রা বাড়াবাড়ি ছিল। এই ধরনের প্রসঙ্গে হিলারি ক্লিনটন চিরাচরিত অবস্থানেই ছিলেন– অধিকাংশ রাজনীতিকের মতো তিনিও ইজরায়েলের প্রশ্নহীন সমর্থক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

তবু উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ডেমোক্র্যাটিক দলের ‘প্ল্যাটফর্ম কমিটি’তে বার্নি স্যান্ডার্স সুপরিচিত প্রো-প্যালেস্টাইন অ্যাক্টিভিস্টকে তাঁর হয়ে মনোনয়ন দিয়েছেন। এই নিয়োগ ভবিষ্যৎ নীতি প্রণয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

প্যালেস্টাইন প্রসঙ্গে নতুন করে ভাবা শুধু ডেমোক্র্যাটিক দলে নয়, রিপাবলিকান দলেও হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও মূলধারার বাইরের প্রার্থীই ভিন্নমত পরিবেশন করেছেন। ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন ইস্যু নিয়ে মন্তব্য করার সময় ট্রাম্প বলেন তিনি ‘নিরপেক্ষ”’ অবস্থান থেকে সমঝোতা শুরু করবেন, অন্য প্রার্থীদের মতো প্রকাশ্যে ইজরায়েলের পক্ষ নিয়ে নয়। সঙ্গে শর্ত জুড়ে দেন যে, এটা হওয়ার আগে প্যালেস্টাইনকে হামলা ও উস্কানি বন্ধ করতে হবে এবং ইজরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নিতে হবে।

উল্লেখ্য যে, অন্যান্য সব ইস্যুর মতো এই বিষয়েও ট্রাম্প এলোমেলোভাবে বিভিন্ন ধরনের মতামত প্রকাশ করেছেন যার অনেকটাই স্ববিরোধী। তবুও রিপাবলিকান দলের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে এমন মন্তব্য করা অনেক বড় ঝুঁকির বিষয়।

শুধু প্যালেস্টাইন নয়, আমেরিকার অন্যান্য যুদ্ধ নিয়েও ট্রাম্প সরাসরি সমালোচনা করেছেন। তিনি বিতর্কের মঞ্চে একাধিকবার বলেছেন যে, জর্জ ডব্লিউ বুশ বানোয়াট তথ্য দিয়ে ইরাক যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। এই ধরনের মতামত বাকি বিশ্ব বলে আসছে, ডেমোক্র্যাটিক দল থেকেও অনেকবার বলা হয়েছে, কিন্তু কোনো রিপাবলিকান এমন কিছু বলা (এবং সেই বক্তব্যের সমর্থন পাওয়া) অভাবনীয় ব্যাপার।

ডনাল্ড ট্রাম্প এবং বার্নি স্যান্ডার্সের এই অবস্থানগুলো দেখিয়ে দেয় যে, আমেরিকানদের ব্যাপারে ‘যুদ্ধবাজ’ ধারণাটা সম্পূর্ণ ঠিক নয়। দুই রাজনৈতিক দলেই অনেকে যুদ্ধের বিপক্ষে, কিন্তু এই নির্বাচনের আগে তাদের মতামত সেভাবে প্রতিষ্ঠা পায়নি।

ডনাল্ড ট্রাম্পের অভদ্র ও বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের কারণে খোদ রিপাবলিকান দলেরই একটা বড় অংশ তাকে সমর্থন করে না, তাই প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে হিলারি ক্লিনটন অনেকটা এগিয়ে। তিনি নির্বাচিত হলে ভবিষ্যতে আমেরিকার বিশ্বনীতিতে তেমন কোনো পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে সাধারণ নাগরিকদের মনস্তত্বে অনেক পরিবর্তন এসেছে, যা ভবিষ্যতে পরিবর্তনের নিয়ামক হতে পারে। তবে একই সঙ্গে উল্লেখ্য যে, ‘নিরাপত্তা’ একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় এবং একটি বড় দুর্ঘটনা বা সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ নিমেষে সব মুছে দিতে পারে।

বহু বছরের একমাত্রিকতার পর সামনের কিছু বছরে বিভিন্ন দেশের নীতিতে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বেশ অনেক বছর ধরে বিশ্বে আমেরিকার একচেটিয়া অবস্থান ছিল। এখন রাশিয়া ও চীন তাদের কর্তৃত্বের পরিধি বাড়াতে চেষ্টা করছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং সৌদি আরব মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। রাশিয়া ক্রাইমিয়া দখল করে নিয়েছে, চীন তার প্রভাব-বলয় বড় করছে, সৌদি আরব সামরিক আগ্রাসন শুরু করেছে, ইরান তার ক্ষমতা শক্ত করছে সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে, তুরস্ক একই সঙ্গে ধর্মীয় মৌলবাদকে প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং ইউরোতে প্রবেশ করতে চাইছে, সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের পর ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মতো দেশ কঠোর অবস্থানে আছে। সব মিলিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় একই সঙ্গে অনেক শক্তি সক্রিয় হয়েছে।

এই পরিবর্তনশীল সময় শঙ্কা ও সুযোগের। বিশ্বরাজনীতির জটিল জালে বাধা দেশগুলো প্রকাশ্য অবস্থান নিতে বাধ্য হবে এবং তার অবধারিত প্রভাব পড়বে আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে। কিছু দেশ ও গোষ্ঠী এই সময়ে আরও কট্টর অবস্থান নিচ্ছে, আবার অনেকেই এই সময়ে নিজের মূল্যবোধ ও উদারতার পরিচয় দিচ্ছে। প্রযুক্তি ও প্রগতিশীলতাকে যারা পাশে নিবে, তারাই পারবে নিজে কে দ্রুত সামলে নিতে। কট্টর অবস্থান নিলে সেটা অনেক বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

পরিশিষ্ট:

বিশ্ব যেদিকেই যাক, আগামী দিনগুলোয় বাংলাদেশ মানিয়ে নিতে প্রস্তুত থাকবে, এটাই কামনা। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের নাম দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যেমন উচ্চারিত হয়েছে, তেমনি ধর্মীয় মৌলবাদীদের অভয়ারণ্য হিসেবেও। পছন্দের মতাদর্শ যেমনই হোক না কেন, পশিচমা বিশ্বের প্রতি অবস্থান যেমনই হোক না কেন, শিক্ষা এবং উদারতার প্রসার যেন বন্ধ না থাকে।

বিশ্বের অনেক দেশকে পেছনে বাংলাদেশ এগিয়ে এসেছে, এবং এর পেছনে শিক্ষার প্রসারের ভূমিকা আছে, স্বাস্থ্যসেবার বিস্তারের অবদান আছে, তৈরি পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিকদের ভূমিকা আছে, মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্যান্য জায়গার অদক্ষ শ্রমিকদের ভূমিকা আছে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ভূমিকা আছে, দেশে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী তৈরির ভূমিকা আছে, প্রবাসীদের রেমিটেন্সের ভূমিকা আছে।

অন্য অনেক দেশ এই দুয়ারগুলো বন্ধ রেখেছে বলেই পিছিয়ে রয়েছে।

ইশতিয়াক রউফব্লগার, তথ্যপ্রকৌশলী

Responses -- “মার্কিন রাজনীতির নির্বাচনকেন্দ্রিক দৃশ্যপট”

  1. Carley

    This. We were just talking about this among ladies at our church. We live in Southern Illinois near St Louis MO. We are all stocking up, some more than others. I’ve always figured in a not total collapse, we head to my Da#d8&217;s farm with our pantry and guns in tow. Cows and chickens there and enough land to plant. In a total collapse we get the heck away from St Louis, we have some rural land in Southern Missouri, take the family, camper, chickens and settle in survival mode. I want to believe it wont come to that but am not willing to bet everything on it.

    Reply
  2. NirbakJanata

    Good writing but driven by emotion(some party support) instead of hard facts while analyzing the conservative side of the story. Trump positions are distorted. He is not against immigration, but illegal immigration. Wall is symbolic but the major point is USA can’t have an open border, sanctuary cities and crime asscociated with it. His rhetoric on banning muslim was wrong and was due to an inefficient campaign team. Thats fair criticism. However, fine points are missing. He said that in the context of immigrant refugees coming into the country, not all muslim around the world. Most importantly, he is correct to point that there is an issue within islam and needs to be fixed form within. While people claim that all muslim are not terrorists but what those non-terrorist muslims doing to sto hi-jacking of their religion ? I think a fair and balanced discussion is needed.

    Reply
  3. mithun gupta

    বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য প্রাধান যে নিয়ামকটি কাজ করবে বলে আমার মনে হচ্ছে তা মুক্তবুদ্ধির বাধাহীন চর্চা

    Reply
  4. বিবেক

    ট্রাম্পের চেয়ে অনেক কদাকার ভাষায় ব্লগে ফেসবুকে কিছু টাউট বাটপার ইসলামের সমালোচনা করে।বরং রিপাবলিকান মুসলিম কাউন্সিলের সাবাহ আহমেদ জানিয়েছেন মনোনয়ন নিশ্চিত হলেই টাম্প মার্কিন মসজিদ পরিদর্শন করবেন।ডেভিড ডিউক ট্রাম্পের মন্ত্রীসভায় জায়গা পেলে ট্রাম্প নিশ্চয় ইসরায়েল আগ্রাসনের বিষয়টি বিবেচনায় নিবেন।
    আর টাম্প হিলারির মতো ইহুদী হেইম সাবানের টাকার কাছে নিজেকে বিক্রি করেনি।সবচেয়ে লক্ষণীয় বিষয় হলো জিল স্টেইন নতুন রাল্প নাদের হয়ে কোন আপসেট ঘটাতে পারেন কিনা সেটা।
    মরমন ধর্মের মিট রমনি যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছে সেটাও লক্ষণীয়।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—