৭ জুন, ২০১৬, দৈনিক প্রথম আলোতে মশিউল আলমের ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্প লিখে জেল খাটতে হবে’ শিরোনামের লেখাটি আমাদের নজরে এসেছে। সেটি পড়ে জনমনে ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিরোধে আইন’ সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে বলে আমরা মনে করেছি। এ ধরনের অপপ্রচার এবং বিভ্রান্তি নিরসনেই আজকের লেখাটির অবতারণা।

প্রথমেই বলে নেওয়া প্রয়োজন যে, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিরোধে আইন’ প্রণয়নের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আমরা প্রকাশ করেছি ই-বুক, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিরোধে আইন চাই’। বইটি মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে।

[ডাউনলোড লিংক:

www.liberationwarbangladesh.org/2016/03/law-against-genocide-denial-book.html]

আলোচ্য প্রবন্ধটি মনোযোগ সহকারে পড়ে যে সারমর্ম পাওয়া যায় সেটা মূলত নিম্নরূপ:

১) মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত সংখ্যা এবং তাদের কৃতকর্ম নিয়ে লেখকের মনে সন্দেহ রয়েছে:

২) লেখক মনে করেছেন যে, বিহারি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-গবেষক ও লেখকরা অস্বীকার করছেন;

৩) রাজাকার বাহিনীর কোনো কোনো সদস্য মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্য করে থাকতে পারেন।

উপরোক্ত বক্তব্যের শেষে তিনি ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিরোধে আইন’ প্রণয়নের বিরোধিতা করে বলেন:

“যাঁরা সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঠুলি চোখে পরে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের নির্মীয়মাণ সৌধটিকে খর্বাকৃতি বামন করে রাখার বন্দোবস্ত করতে চাইছেন, তাঁদের সুমতি ফিরুক– কায়মনোবাক্যে এই কামনা করি।”

এখানেই কলামটির বিষয়ে আমাদের সবচেয়ে বড় আপত্তি। প্রথমত, গণহত্যা অস্বীকার করার সঙ্গে উপরের পয়েন্টগুলোর সম্পৃক্ততা কতটুকু সেটা বোধগম্য নয়। যাঁরা এই আইন প্রণয়নের পক্ষে আন্দোলন করছেন তাদের কেউ বলেননি যে, কোনো মুক্তিযোদ্ধার কৃতকর্ম নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে সেটা গণহত্যা অস্বীকার করার তুল্য হবে। বরং দেশে অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিতি যে রয়েছে এ কথা সকলেই স্বীকার করেন।

পাকিস্তানিদের আত্নসমর্পণের দিন যখন ঘনিয়ে আসছিল তখন কেবল নয়, আত্মসমর্পণের পরও অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার আবির্ভাব ঘটে। পুরো নয় মাস তারা লুকিয়ে ছিলেন এবং বিজয়ের মুহূর্তে পাকিস্তানি সৈনিক কিংবা রাজাকারদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র হাতে নিয়ে নিজেদেরকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দবি করেছেন। এছাড়া যুদ্ধপরবর্তী সময়েও রাজনৈতিক স্বার্থে ও প্রভাবে এরকম ভুয়া অনেকেই মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নিজেদের নাম লেখাতে সমর্থ হন।

কলামের শুরুতেই লেখক এক ব্যক্তির মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সেই ব্যক্তি ও তার সহোদরের কাছ থেকে বিপরীত ধরনের বক্তব্যপ্রাপ্তির উল্লেখ করেছেন। দুই ভাইয়ের বয়ান থেকে তিনি বুঝতে পারছেন না যে, কার বক্তব্য সত্য বলে মানবেন। আমরা বলব, এটা কিন্তু কোনো জাতীয় সমস্যা নয়, এর সঙ্গে ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিরোধে আইন’এর কোনো সম্পর্ক নেই।

 

Liberation fighters - 111

 

সমস্যাটা মূলত মশিউল সাহেবের একান্ত ব্যক্তিগত। কারণ এ ধরনের সমস্যায় যে একমাত্র তিনিই পড়েছেন এমনটা নয়। আর এ বিভ্রান্তি থেকে যে তিনি সত্য তুলে আনতে পারবেন না এমনটিও হতে পারে না। দুই ভাইয়ের বয়ান থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করলে সত্য বেরিয়ে আসবে। এমনকি ভারতে ট্রেনিংপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বিশুদ্ধ পূর্ণ তালিকা আছে, প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করা খুব কষ্টসাধ্য কিছু নয়।

আলোচিত কলামটি পড়ে মনে হচ্ছে যে, আমরা বুঝি বিহারি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জাতীয়ভাবে অস্বীকার করছি। ব্যাপারটা মোটেও এমন নয়। ডক্টর মুহম্মদ জাফর ইকবালের বিখ্যাত বুকলেট ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ পড়লে দেখবেন যে, সেখানে বলা হয়েছে:

‘‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বিহারিদের ওপর যে অবিচার হয়েছে সেগুলোর জন্যও স্থান থাকবে।’’

একাত্তর নিয়ে যারা একেবারে মূলধারায় কাজ করছেন কিংবা এখনও কাজ করে যাচ্ছেন তাঁরা কেউ বিহারি হত্যাকাণ্ড অস্বীকার করেন না। ডক্টর মুনতাসীর মামুন, ডক্টর এম এ হাসান কিংবা এ ধারার কোনো গবেষকই এর বিরোধিতা করেননি।

মূলত পাকিস্তানি জেনারেলরা বিহারি হত্যাকাণ্ডের যে মাত্রার কথা বলেন এবং বাঙালিদের ওপর আক্রমণের অজুহাত হিসেবে বাঙালি কর্তৃক বিহারি-নিধনের যে তথ্য ও যুক্তি প্রদান করেন, শুধুমাত্র সেখানেই গবেষকদের আপত্তি। এ প্রেক্ষিতে গবেষকরা যুক্তি দেখান যে, যদি মার্চের শুরুতেই বিহারিদের হত্যা করা হয় সেটা কেন কোনো আন্তর্জাতিক কিংবা পাকিস্তানি পত্রিকায় আসেনি?

এখানে মনে রাখা প্রয়োজন যে, আক্রমণকারীর আক্রমণ এবং প্রতিহতকারী ও আক্রান্তদের আক্রমণ একই দাঁড়িপাল্লায় কখনও পরিমাপ করা হয় না এবং করা উচিতও নয়।

বিহারিদের উপর মুক্তিযুদ্ধের সময় ও পরবর্তীকালে বাঙালি কর্তৃক সংঘটিত সহিংসতার বিষয়টি কেউ অস্বীকার করছে না। কিন্তু এই ঘটনা বর্ণনায় যে তথ্য ও যুক্তি প্রদান করা হয়, সে বিষয়ে স্বচ্ছ হতে হবে। বাঙালি জাতিকে হেয় করা ও পাকিস্তান কর্তৃক সংঘটিত বাঙালি-গণহত্যার বিষয়টি ‘মার্জিনালাইজ’ করার উদ্দেশ্যে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বিহারি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ও যুক্তি প্রদানের বিপক্ষেই আমাদের অবস্থান।

বিহারি হত্যাকাণ্ড স্বীকারের সঙ্গে তাই জেনোসাইড ডিনায়ালের সম্পর্ক নেই বললেই চলে। তবে আমাদের আপত্তি আসে তখনই যখন দেখা যায় যে, এই অজুহাতে ত্রিশ লাখ বাঙালি হত্যার বৈধতা দানের চেষ্টা করা হয়– আমাদের একাত্তরের শহীদের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করে এবং তাদের অপমান করে।

এটা আমরা জানি যে, রাজাকার বাহিনী কিংবা শান্তি কমিটিতে যারা যোগ দিয়েছিলেন তাদের মোটা দাগে কয়েকটি ভাগে করা যায়:

১) যারা পাকিস্তান ও ইসলামের জন্য বাঙালি হত্যা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা ঈমানি কর্তব্য বলে মনে করেছিল;

২) যারা লুটপাট, প্রতিশোধগ্রহণ, নারীনির্যাতন করার সুযোগ গ্রহণ করতে চেয়েছিল;

৩) কেউ কেউ নিজের ও তার পরিবারের সদস্যের নিরাপত্তার কারণেও এসব বাহিনীতে যো্গ দিয়েছিলেন।

যুদ্ধকালীন অপারেশনের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে শত্রুপক্ষের, বিশেষ করে রাজাকার ও শান্তি কমিটির সদস্যদের যারা নিহত হয়েছিলেন তাদের কিছু কিছু এই তৃতীয় ক্যাটাগরিতে পড়েন। তারা কখনও কখনও মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যও করেছেন এবং যুদ্ধকালীন অপারেশনের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের অন্য আরেক দলের হাতে নিহত হয়েছেন। বিখ্যাত লেখক হুমায়ুন আহমদ ও জাফর ইকবালের নানা এরকমই একজন ছিলেন।

এসব তথ্য স্বীকার করলে গণহত্যা অস্বীকার করা হয় না। কিন্তু সেটা তখনই আপত্তিকর যখন এরকম দুএকটি ‘ব্যতিক্রমী’ ঘটনার মাধ্যমে পুরো রাজাকার বাহিনী কিংবা শান্তি কমিটিকে নির্দোষ আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বা মুক্তিযোদ্ধাদেরও ‘অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলে।

মশিউল আলম জেনোসাইড ডিনাইল ল প্রণয়নের বিরুদ্ধে বলতে গিয়ে বলেছেন যে, বিহারি হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বললেই কিংবা ‘ব্যতিক্রমী’ রাজাকারদের ঘটনাগুলো লিখলেই কি এখন জেলে যেতে হবে? এখানেই তাঁর কথার সঙ্গে আমরা দ্বিমত পোষণ করছি। সেটা কেন এবং কীভাবে উপরে আলোচনা করেছি।

মশিউল আলমসহ আরও অনেকেই যে প্রশ্ন করেছেন সেটি হল, এই আইন কি গবেষণার পথ রুদ্ধ করে দিবে, নতুন নতুন উপন্যাস ও গল্পের প্লট সৃষ্টিতে বন্ধ্যাত্ব তৈরি করবে? এখানে তাদের উদ্দেশে আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে: গবেষণা মানে কি মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক ‘ফ্যাক্ট’ অস্বীকার করা? উপন্যাসের নতুন প্লট মানে কি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের গালাগালি করা?

এ ধরনের আইন পৃথিবীর বহু দেশে প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হয়েছে (প্রায় ১৬টি দেশে)। এ-সংক্রান্ত আমাদের ই-বুক পড়লে বিস্তারিত জানা যাবে। শুধু এটুকু বলি, এটি প্রণীত হওয়ায় জার্মানির মতো দেশে গল্প-নাটক-উপন্যাস লেখায় কোনো বাধা তৈরি হয়নি।

 

Liberation - 12111

 

এবার আপনি বরং আমাদের বলুন, নিচের উক্তিগুলোকে কি আমরা গবেষণা বলে আখ্যায়িত করব নাকি উপন্যাসের নতুন প্লট বলব–

(ক)

কেউ সুন্দরী নারীর লোভে, কেউ ভারতীয় স্বার্থে মুক্তিযুদ্ধ করেছে।

— কাদের মোল্লা।

(খ)

যুদ্ধাপরাধী হতে হলে দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ হতে হয়। কিন্তু আমাদের এখানে যুদ্ধ হয়েছে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে। বাংলাদেশ সেই যুদ্ধের অংশ ছিল না। এ কারণে বাংলাদেশে কখনও যুদ্ধাপরাধী ছিল না।

— এ বি এম মাহবুবুল ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামিক ইউনিভার্সিটির আইন অনুষদের ডিন।

[সূত্র: প্রথম আলো, ১৩/১১/২০০৭]

(গ)

একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধারাও যুদ্ধাপরাধ করেছে, বিচার করতে হলে দুপক্ষেরই করতে হবে।

— সাদেক খান, প্রেস ইন্সটিটিউটের সভাপতি।

[সূত্র: ১৫/১১/২০০৭, প্রথম আলো]

(ঘ)

পাকিস্তানের যারা বেতন-ভাতা খাইছে, শেষ দিন পর্যন্ত, তারা (শহীদ বুদ্ধিজীবী) নির্বোধের মতো মারা গেল, আমাদের মতো নির্বোধেরা প্রতিদিন তাদের শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে ফুল দেয়। না গেলে আবার পাপ হয়। ওনারা যদি এত বুদ্ধিমান হন, তাহলে ১৪ তারিখ পর্যন্ত নিজের ঘরে থাকেন কী করে, একটু বলেন তো। আর তা ছাড়া নিজ নিজ কর্মস্থলে প্রতি মাসে পাকিস্তানের বেতন খাইল, এটাও তো কথা বলা যায়, যায় না? পাকিস্তান সরকারের তারা বেতন খাইল, তারা হয়ে গেল মুক্তিযোদ্ধা।

-– গয়েশ্বর রায়। [ডিসেম্বর ২৫, ২০১৫]

(ঙ)

বলা হয়, এত লক্ষ লোক শহীদ হয়েছে। এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে যে, আসলে কত শহীদ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে, এটা নিয়েও বিতর্ক আছে।

–- খালেদা জিয়া [ডিসেম্বর ২১, ২০১৫]

তাই আজ একটি প্রশ্ন রইল মশিউল আলম সাহেবের উদ্দেশে:

আপনি একজন মহান লেখক, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখেন। যদি ধরে নিই যে, আপনি সমস্ত দল-মতের উপরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্থান দেন তাহলে আপনার হৃদয়ের গভীর থেকে বলুন তো, এ ধরনের ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্যকারীদের আইন করে বিচার করা উচিত নয় কি?

লেখকবৃন্দ:

আরিফ রহমান, গণহত্যা-বিষয়ক লেখক

সহুল আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক লেখক

সাব্বির হোসাইন, পরিচালক, মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ ট্রাস্ট

১৬ Responses -- “মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিরোধে আইনের বিরোধিতা: শুভঙ্করের ফাঁকি”

  1. gvndzR

    আমার মনে হয়, মুক্তিযুদ্ধে অন্তত্য একজন হলেও মারা গেছে, জীবন দিয়েছে দেশের জন্য, একুশ শতকের যুগে আমাদের সামনের দিকে যেখানে এগিয়ে যাওয়া অতি দরকার, সেখানে এমন সব বিভ্রান্তি তৈরী করা কতটুকু প্রয়োজন এটাও ভেবে দেখা দরকার।

    Reply
  2. mohammad setab uddin

    sadhinotar por mukti zuddhe ongso grohonkari onno sokol rajnoitik dolke dure thele diye Banladesh Awamileague ze vul korechilo tar khesarot somogro jatike dite hocche! 7 nombor sectorer 4 nombor subsector komandar kepten Giasuddin Ahamed chowdhuri sadhinotar por amake bolechilen tar odhiner sob muktizoddhader talika (amar nam soho) tini prodhan senapoti kornel osmanike diyechilen.Tini beche achen. Take jigges korun.Tar moto sobsektor joma diyechile. sorastro montronaloi theke 75 er por gota talika udhao kora hoy! protyek shohid er jonyo Bongobondhur sakkhorzukto tin hajar takar chek prodan kora hoy. prai 950 koti taka deya hoi. sei hisabe dekha zai 30 lakher beshi sohid hoyechilo. sei sob document udaho korechilo kara?

    Reply
  3. mohammad setab uddin

    sadhinotar por mukti zuddhe ongso grohonkari onno sokol rajnoitik dolke dure thele diye Banladesh Awamileague ze vul korechilo tar khesarot somogro jatike dite hocche! 7 nombor sectorer 4 nombor subsector komandar kepten Giasuddin Ahamed chowdhuri sadhinotar por amake bolechilen tar odhiner sob muktizoddhader talika (amar nam soho) tini prodhan senapoti kornel osmanike diyechilen.Tini beche achen. Take jigges korun.Tar moto sobsektor joma diyechile. sorastro montronaloi theke 75 er por gota talika udhao kora hoy! protyek shohid er jonyo Bongobondhur sakkhorzukto tin hajar takar chek prodan kora hoy. prai 950 koti taka deya hoi. sei hisabe dekha zai 30 lakher beshi sohid hoyechilo. sei sob document udaho korechilo sadek khanra!

    Reply
  4. Bangladeshi

    আমাদের কথিত তিনজন বিশাল মুক্তিযুদ্ধ গবেষক (?!) ২০/২৫ বছর বিশাল গবেষণা করে ইতিহাস বিকৃতি রোধ আইনের জন্য অপরাধ খুঁজে পেয়েছেন মাত্র ৫টি! তারা তিনজন মিলে সেই আইনের স্বপক্ষে যুক্তি দেয়ার জন্য মাত্র ৫টি মন্তব্য উল্লেখ করলেন এবং এতে বুঝা যায় তাদের দৃষ্টিতে এগুলোই একমাত্র বা সবচেয়ে বড় অপরাধ কারণ যে কোন আইনের স্বপক্ষে সবচেয়ে বড় অপরাধ গুলোই যুক্তি আকারে উল্লেখ করা হয়। সেখানেও এক নম্বরে এমন একজনের মন্তব্য উল্লেখ করলেন যাকে আবার বিচারের নামে নাটকের মাধ্যমে অলরেডি হত্যা করে ফেলা হয়েছে। আবার কাদের মোল্লা কোথায় সেই মন্তব্যেটি করেছে তার উল্লেখ নেই। এর নাম কথিত গবেষকদের গবেষণা! কি বিশাল গবেষণা!

    (খ) নম্বরে যা বলা হয়েছে তা আন্তর্জাতিক নানা বই ও জার্নালে বলা আছে। এমনকি ভারতও বলে যে ১৯৭১ সালে যুদ্ধটি হয়েছিল ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধ। ভারতীয় সরকারী বা কোন লেখকের লিখা বা দলিলে ১৯৭১ সালের যুদ্ধকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ হিসেবে দেখানো বা বলা হয়নি। এখন এ জন্য কি কথিত এসব গবেষকরা ভারতীয়দেরও বিচার দাবী করবে? সেই সাহস তাদের আছে? ভারত বললে ঠিক আর অন্য কেউ বললে অপরাধী?!

    (গ) নম্বরে যা বলা হয়েছে তার স্বীকারোক্তি এই কলামেই কখিত এসব গবেষকরাই স্বীকার করেছেন। ১৯৭১ সালে নিরপরাধ বিহারীদের হত্যা করা হয়েছিল। সংখ্যা যাই হোক। কেউ যদি নিরপরাধ মানুষদের হত্যা করে তার বিচার চাইলে মুক্তিযুদ্ধ বিকৃতি হবে কেন? তার মানে সেই একটিই নিজে হত্যা করলে অপরাধ নেই অন্য কেউ হত্যা না করেও কথিত সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটি বলে অপরাধী! এই হলো আমাদের বিশাল গবেষকদের মানসিকতা!

    এরপর (ঘ) নম্বরের অপরাধের (?!) কথাটির ব্যাপারে তো প্রথম মন্তব্যেতে বলেছি। ১৪ ডিসেম্বর যারা নিহত হয়েছেন তাদের সবাই কি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল? তারা ও তাদের পরিবার কি পাকিস্তানের বিপক্ষে ছিল? এ বিষয়ে জানতে চাইলে অপরাধী?!

    এরপর (ঙ) নম্বরের মন্তব্যেটি যে বিতর্কের কথা বলা হয়েছে তা কি মিথ্যা? বিতর্ক তো ভারতীয় লেখকদের লিখা ও মন্তব্যেতেও আছে। স্বয়ং শেখ মুজিব সহ ওই সময়ের আওয়ামী লীগ নেতাদের লিখা-বলা ও দলিলেও আছে। এখন কি বিশাল এই গবেষকরা তাদেরও বিচার দাবী করবে? করবে না কারণ তখন যে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে!

    গবেষণার নামে এসব হাস্যকর কতগুলো বিষয় লিখে কথিত এই গবেষকরা বাস্তবে আবারো প্রমাণ করলো মহান মুক্তিযুদ্ধকে তারা কতোটা ঠুনকো বিষয়ে পরিণত করেছে। বাস্তবে গবেষণার কতোগুলো ঠাকুরমার ঝুলি লিখে (বলেছেন জেনারেল ওসমানী) নামে মুক্তিযুদ্ধকে অপমাণ ও বিতর্কিত করছে তারাই সবচেয়ে বেশি।

    Reply
  5. বিবেক

    বাংলাদেশের জন্য মুক্তিযুদ্ধ হচ্ছে গৌরবের, কেননা এর মধ্য দিয়েই আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রতিষ্ঠা ঘটেছে। আমাদের গৌরব কি এতই ঠুনকো যে একে রক্ষার জন্য আইন করতে হবে? যে স্বাধীন ও মুক্তচিন্তার অধিকার আদায়ে স্বাধীনতার লড়াই হলো, সেই স্বাধীন দেশে ইতিহাসচর্চায় আমরা চিন্তার সীমারেখা টেনে দেব, এটা কেমন ভাবনা। আইন করে সবাইকে পাখির পাঠ পড়ানোর চিন্তা যাঁরা করেন, তাঁদের নিজেদের ভাবনায় গলদ থাকতে পারে, তাঁরা মানসিক দৌর্বল্যের শিকার হয়ে থাকতে পারেন, কিন্তু পুরো জাতির ঘাড়ে একটি অহেতুক বিধিনিষেধের পরিসীমা চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই যৌক্তিক হতে পারে না।
    এজন্যই কামু বলেছেন:The only way to deal with an unfree world is to become so absolutely free that your very existence is an act of rebellion.

    Reply
  6. SAHARA KHAN

    শর্মিলা বসুর লেখা ‘ডেড রেকনিং’
    মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ঢাকা শহরের অবস্থা ছিল টালমাটাল। পাকিস্তান সেনা বাহিনী নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে ১০ ডিসেম্বরের আগেই। তখন রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনীর লোকরা নিজেদের আত্মরক্ষায় ব্যস্ত থাকবেন এটাই যৌক্তিক। এই অবস্থায় তারা কিভাবে ঢাকা শহরে বিভিন্ন এলাকা থেকে বুদ্ধিজীবীদের একই সময়ে ধরে নিয়ে আসবে, এবং নিখুতভাবে সবাইকে এক জায়গায় নিয়ে হত্যা করবে এই প্রশ্নেরও কোন সদুত্তর কোথায়ও পাওয়া যায় না। শর্মিলা বসু একই প্রশ্ন রেখেছেন তাঁর বইয়ের বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ড বর্ণনায়। এছাড়া যারা হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছিলেন তারা সবাই পুরো মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ঢাকায় অবস্থান করেছেন। পাকিস্তান সরকারের চাকরি করেছেন। পাকিস্তান সরকারের নিকট থেকে বেতন নিয়েছেন। ডা. আলীম চৌধুরীকে যারা ধরে নিয়ে গেছিলেন, একই কায়দা, একই ন্যাচারের গাড়িতে করে অন্যদেরও ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদেল সবার লাশও পাওয়া গেছে একই জায়গায়। পাকিস্তান সরকারের বেতনভোগী, মুক্তিযুদ্ধের সময় পুরো ৯ মাস ঢাকায় নিরাপদে অবস্থান করে, রাজাকার আল-বদরের নেতাকে আশ্রয় দিয়ে যারা নিহত হয়েছেন সেই ব্যক্তিরা মুক্তিযোদ্ধাই বা হন কেমন করে সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে আরো অপেক্ষা করতে হবে। শুধু তাই নয়, জহির রায়হান নিখোজ হয়েছিলেন স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারী। তাকেই পাকিস্তান বাহিনী তাদের দোসর রাজকার, আল বদররা কিভাবে গুম করবে!!
    শর্মিলা বসুর বই ডেড রেকনিং-এর নবম অধ্যায়ে ‘ত্রিশ লাখ গণহত্যা-একটি চুড়ান্ত যোগসূত্র’ শীর্ষক পর্বে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিকে একটি যৌক্তিক আলোচনা করা হয়। ১৯৭২ সালে এনিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রসঙ্গও টানা হয় এখানে। সংশ্লিস্ট সূত্র থেকে যতটুকু আমি নিশ্চিত হতে পেরেছি মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা তখন কোন উপায়ে ৭০ হাজারের বেশি পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই শেখ মুজিবুর রহমান এই তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে কাউকে কোন কথা না বলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। শর্মিলা বসু দেশী-বিদেশী পত্রিকা, গবেষনা গ্রন্থ, তাঁর নিজের গবেষণায় প্রত্যক্ষদর্শীদের বিররণ এবং অন্যান্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষ করে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের একটি সংখ্যা অনুমান করেছেন। এতে তিনি বলেছেন, ৫০ হাজার থেকে এক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে। যাদের মধ্যে রয়েছেন বাঙ্গালী, অবাঙ্গালী, হিন্দু-মুসলমান, যোদ্ধা-যোদ্ধা নয় এমন ব্যক্তি এবং ভারতীয় ও পাকিস্তানী।
    বিবিসি’র বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান মরহুম সিরাজুর রহমান আমাকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুর মা ছয়েক আগে সাক্ষাৎকারটি দৈনিক আমার দেশ অনলাইন এবং লন্ডনের একটি সপ্তাহিক পত্রিকায় ছাপা হয়। তিনি এই সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন ১৯৭২ সালের জানুয়ারী মাসে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে সরাসরি লন্ডনে এসেছিলেন। লন্ডনে পা রেখে এয়ারপোর্টে যার সাথে প্রথম সাক্ষাৎ হয় সেই ব্যক্তিটি ছিলেন সিরাজুর রহমান। তখন তিনি বিবিসিতে লন্ডনে কর্মরত একজন সাংবাদিক। শেখ মুজিবুর রহমান তখনো জানেননি বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে গেছে। সিরাজুর রহমান তাঁকে জানান বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের কথা। তখন তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলেন ক্ষয়ক্ষতি কেমন হয়েছে। তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে জানিয়েছিলেন এরকম কোন পরিসংখ্যান নেই। তবে বিবিসি বিভিন্ন খবরের কাগজের হিসাব কষে প্রায় ৩ লাখ লোক নিহত হওয়ার কথা প্রচার করেছে। এরপর শেখ মুজিবুর রহমান লন্ডনের সাংবাদিক ডেভিট ফক্সকে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ৩ মিলিয়ন নিহত হয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। সিরাজুর রহমানের মতে ৩ লাখ বলতে গিয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ৩মিলিয়ন বলে ফেলেছিলেন। এর পর থেকে ৩০ লাখ বলা শুরু হয়েছে।

    Reply
  7. SAHARA KHAN

    শর্মিলা বসুর লেখা ‘ডেড রেকনিং’
    খুলনায় জুটমিল গুলোতে কিভাবে আওয়ামী লীগ ও বাঙ্গালীদের দ্বারা অবাঙ্গালী বিহরীদের নিধন করা হয়েছিল তাঁর একটি চমৎকার বর্ণনা রয়েছে। বিহারী নারী, পুরুষ ও শিশুদের কুপিয়ে হত্যা করে নদীদে লাশ ভাসিয়ে দেয়া হয় তখন। বগুড়ার শান্তাহারে কিভাবে বিহারী নারী, পুরুস, শিশুদের লাশ রাস্তাঘাট, খালে-বিলে পড়েছিল, পচা গন্ধ বের হয়ে আসছিল তাঁরও বর্ণনা রয়েছে। আবার রাজশাহির থানাপাড়া এবং যশোররের চুকনগরে পাক সেনারা বাঙ্গালী পুরুষদের প্রথম মহিলা ও শিশুদের থেকে পৃথক করে। তাদের লাইনে দাড় করিয়ে হত্যা পরবর্তিতে মহিলা ও শিশুদের ছেড়ে দিয়ে পুরুষদের হত্যা করা হয়। সেই বর্ণনা উঠে এসেছে অত্যন্ত নিখুতভাবে। বিশেষ করে ইন্ডিয়া অভিমুখি শরণার্থিদের মাঝেও শুধু পুরুষদের চুকনগর বাজারে ঢালাও ভাবে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। যাদের লাশ পরবর্তিতে নদীদে ভাসিয়ে দিয়েছিল স্থানীয়রা। তবে নারী এবং শিশুরা ছিল এই হত্যাকান্ডের বাইরে। নারী এবং শিশুদের ছেড়ে দেয়া হয়। তাঁর বইয়ের কোথায়ও পাকিস্তান আর্মি কতৃক হিন্দু নারী বা কিশোরী ধর্ষনৈর কোন ঘটনা পাওয়া যায়নি। শর্মিলা বসু তাঁর যুক্তি এবং বর্ণনার ধারাবাহিকতায় উল্লেখ করেছেন, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তখন পাকিস্তান আর্মি কোন দখলদার বাহিনী ছিল না। দখলদার হিসাবে ছিল ইন্ডিয়ান সেনা বাহিনী। পাকিস্তান আর্মি তাদের শপথ অনুযায়ী দেশের অখন্ডতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ করছিল।
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষক আবুল বারাকাত আলভীর সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে নির্যাতন, নিপীড়ন এবং গেরিল যোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও ধরা পড়ার পর কিভাবে ছাড়া পেয়েছিলেন। পাকিস্তান সেনা বাহিনী সুনির্দিস্ট তথ্য ছাড়া কাউকে হয়রানি বা ধরে নেয়নি এমন যুক্তিও উপস্থাপন করেছেন প্রাপ্ত তথ্য উপথ্যের ভিত্তিতে। বুদ্ধিজীবী হত্যকান্ডের বিষয়েও শর্মিলা বসু খোজ নিয়েছেন। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে খ্যাত ডা. আলিম চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামলি নাসরিন চৌধুরীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তিনি। তাঁর এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে ডা. আলীন চৌধুরীর বাসায় কিভাবে ২৫ মার্চ রাতে সৈয়দ নজরুল ইসলাম আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং বোরকা পড়ে কিভাবে পালিয়েছিলেন। আবার জুলাই মাস থেকে মাওলানা আবদুল মান্নান কিভাবে তাঁর বাড়িতে আশ্রয়ে ছিলেন সেটার রয়েছে ডা. আলীমের স্ত্রী’র বর্ণনায়। মাওলানা আবদুল মান্নানের পরিবারের জন্য নিচ তলায় তাদের ক্লিনিক পর্যন্ত বন্ধ করে উদারতা দেখানো হয়েছিল। ক্লিনিক স্থানান্তর করা হয়েছিল উপর তলায় ড্রয়িং রুমে। এই মাওলানা আবদুল মান্নান ছিলেন পাকিস্তানের একনিষ্ঠ সমর্থক রাজাকার, আল বদরের অন্যতম নেতা। এবং যুদ্ধের পর তাঁকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিল সরকার। অথচ জুলাই থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত মাওলানা আবদুল মান্নান ছিলেন ডা. আলিম চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে। মাওলানা আবদুল মান্নানের সেবা দিয়ে এবং পুরো মুক্তিযুদ্ধকালীন ঢাকা শহরে বহাল তবিয়তে ছিলেন তিনি। ১৪ ডিসেম্বর বিশেষ বাহিনীর টার্গেট হত্যাকান্ডের শিকার ডা. আলীম চৌধুরী যদি এতবড় মুক্তিযোদ্ধা হয়ে থাকেন পাকিস্তান সমর্থক মাওলানা আবদুল মান্নানকে আশ্রয়ই বা দেন কেমন করে!! শ্যামলি নাসরিনের সাক্ষাৎকারে দেখা যায় মুক্তিযোদ্ধারা তাঁর বাড়িতে নিয়মিত আসা-যাওয়া করত। চিকিৎসা নিত তাঁর স্বামীর কাছে। তবে কি তারা মাওলানা মান্নানের খোজ মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে দিতে পারতেন না তখন??? কেন খোজ না দিয়ে তাঁকে স্বপরিবারে মাসের পর মাস আশ্রয় এবং সেবা দিলেন?

    Reply
  8. রোমান

    যেই শেখ মুজিবুর রহমানের নামে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে, বলা হয় তাঁর নামে শ্লোগানই ছিল তখন প্রেরণার উৎস। অথচ তিনি ছিলেন যুদ্ধের সূচনা থেকেই পাকিস্তানের কারাগারে। তিনি নিজেও এরকম স্বাধীনতা কখনো চাইতেন কিনা এনিয়েও রয়েছে অন্তহীন বিতর্ক। তবে এটা বলা যায় রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী, মুক্তিযোদ্ধা সবাই নিজেদের রাজনৈতিক বিশ্বাসের চেতনার আলোকে তথ্যের বেসাতি করছেন। প্রত্যেকে নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস ও সুবিধা অনুযায়ী শহীদের সংখ্যা, স্বাধীনতার ঘোষনার ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। নিজের চিন্তার সুবিধা অনুযায়ী শেখ মুজিবুর রহমানের নামে নানা জয়গান গাইছেন। আবার কেউ শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা চাওয়া বা না চাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। দুই পক্ষই তাদের স্বপক্ষে জোড়ালো যুক্তিও উপস্থাপন করেন। সেই দিকে আলোকপাত করা আজ আমার বিষয় নয়।
    এতসব বিতর্কের মাঝে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে সঠিক তথ্য সহজে কোথায়ও পাওয়া খুবই দু:সাধ্য ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। এমনি এক পরিস্থিতিতে বিদেশী কিছু গবেষক বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা করেছেন। বিদেশী লেখকদের মধ্য থেকে ইন্ডিয়ার পশ্চিমবঙ্গের শর্মিলা বসুর গবেষণা ভিত্তিকএকটি গ্রন্থ রয়েছে। তিনি আমেরিকায় উচ্চ শিক্ষা নিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড থেকে অর্জন করেছে পিএইচডি ডিগ্রী। তাঁর রচিত গ্রন্থটি অনেকটা তথ্য নির্ভর সত্যের কাছাকাছি বলে আমার কাছে মনে হয়। তিনি শুধু কেতাবের উপর ভিত্তি করে লেখা তৈরি করেননি। ৩ বছর সময় নিয়েছেন গবেষণা চুড়ান্ত করতে। বাংলাদেশে বড় কয়েকটি গণহত্যার জায়গা পরিদর্শন করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নিয়েছেন। বক্তব্য নেয়ার চেস্টা করেছেন গণহত্যার শিকারে পরিণত হয়েও বেঁচে যাওয়া লোকদের। তথ্যের সন্ধানে তিনি যে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে চষে বেড়িয়েছেন তার সাক্ষ্য পাওয়া যায় বইটির পড়তে পড়তে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন পাকিস্তান সেনা সদস্যদের। এজন্য তিনি পাকিস্তানে সফর করেছেন। যারা তখন মুক্তিযোদ্ধাদের মুখোমুখি হয়ে যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন তাদের খোজে বের করেছেন। পাকিস্তানের পদস্থ সেনা কর্মকর্তাদের লেখা বই থেকেও তথ্য নিয়েছেন। বলা যায় সর্মিলা বসুর গবেষনাটি অনেকটা আবেগের উর্ধ্বে। তিনি একজন ভিনদেশী লেখক। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে তিনি ইন্ডিয়ান। তারউপর আবার হিন্দু। বাংলাদেশের বর্তমান স্বাধীনতার চেতনা অনুযায়ী ইন্ডিয়ান প্রাধান্য হচ্ছে সবার আগে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেও তাঁকে বিশ্বাস করা যায়। তাহলে আমরা দেখে নিতে পারি সর্মিলা বসুর ‘ডেড রেকনিং’ বইটিতে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চিত্র এবং শহীদের সংখ্যা নিয়ে কি বলা হয়েছে।

    Reply
  9. LIAKOT ALI

    “বলে রাখা দরকার একাত্তর শুধু জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম ছিল না। বিশ্ব ব্যবস্থার মধ্যে প্রান্তিক দেশগুলোর জনগণের মুক্তি সংগ্রামের দিক থেকে তাকালে একাত্তর বিশ্ব ইতিহাসে ধর্ম, বর্ণ, জাতপাত, ধনি গরিব নির্বিশেষে বাংলাভাষী জনগণের সদর্পে বিশ্ব ইতিহাসে প্রবেশের মূহূর্ত। পশ্চিম বাংলার উচ্চবর্ণের হিন্দুর হিন্দুত্বকে এতোকাল ‘বাঙালি’ বলে গণ্য করা হোত, কিন্তু একাত্তরে বাংলাদেশের জনগণ রক্ত দিয়ে প্রমাণ করেছে তাদের ধর্ম বিশ্বাসের সঙ্গে ভাষা ও সংস্কৃতির কোন বিরোধ নাই। ভারতীয় বাঙালিরা তাদের ধর্ম বিশ্বাসের কারণে ভারতের সঙ্গে থেকে গিয়েছে। তারা হিন্দু থাকতে চেয়েছে, জাতপাত ধর্ম নির্বিশেষে বাঙালি হতে চায় নি। সেকুলারিজমের আড়ালে পশ্চিমবাংলা আজ অবধি এই হিন্দুত্ববাদী বাঙালিত্বকেই লুকিয়ে রাখে। লালন পালন করে। এই বাঙালিত্ব পশ্চিম বাংলার বাঙালিদের দিল্লীর পরাধীন রাখবার ক্ষেত্রে শক্তিশালী মতাদর্শিক ভূমিকা পালন করে। দীনেশ চন্দ্র সেন যে বৃহৎ বঙ্গের স্বপ্ন দেখেছিলেন তার ধারে কাছে তারা আজও যেতে পারে নি। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণকে ধর্মের কথা বলে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দাঁড় করানো যায় নি। তারা পাকিস্তানকে পূজা করে নি। কিন্তু তারা তাই বলে ধর্ম বিরোধীও হয়ে যায় নি।

    Reply
  10. Anonymous

    একাত্তর রাজনৈতিক জনগোষ্ঠি হিসাবে বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈশ্বিক ঘটনা। মনে রাখা দরকার বাঙালিবাদীরা যতোই চিৎকার করুক, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং ইনসাফ বা সামাজিক ন্যায়বিচার কায়েমের যুদ্ধ। স্বাধীনতার ঘোষণায় যা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা রয়েছে।
    কোন জাতিবাদী অহমিকা বা ধর্ম বিদ্বেষ কায়েমের জন্য বাংলাদেশের জন্ম হয় নি। কিন্তু জাতিবাদীরা জনগণের ইচ্ছা ও সংকল্পকে নস্যাৎ করে দিয়েছে। যে কারণে আজ অবধি রাজনৈতিক জনগোষ্ঠি হিসাবে বাংলাদেশের পরিগঠন অসম্পূর্ণ এবং স্ববিরোধী হয়ে রয়েছে। রাজনৈতিক জনগোষ্ঠি হিসাবে বাংলাদেশকে নতুন ভাবে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ কাঁধে নিতে হলে সকল প্রকার জাতিবাদীওয়ালা ও সাম্প্রদায়িক শক্তির খপ্পর থেকে জনগণকে মুক্ত করা জরুরী। সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ইনসাফের ভিত্তিতে নতুন রাষ্ট্র গড়া ছাড়া জনগণের আর কোন বিকল্প নাই এ কথাটা বারবার বোঝাতে হবে।

    Reply
  11. kazi

    বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই সত্যবাদীদের দেশে পরিণত হয়ে রয়েছে।
    ঠাট্টা করে নয়, বাংলাদেশের সমাজকে আপনি সিরিয়াসলি ‘সত্যবাদীদের সমাজ’ বলতে পারেন। এখানে সমাজের বিবাদমান সকল পক্ষই সত্যবাদী। রাজনীতিও এখানে সত্য কায়েমের রাজনীতি। অর্থাৎ প্রতিটি পক্ষই মনে করে সত্যে শুধু তাদেরই একচেটিয়া। একমাত্র তারাই সত্যবাদী, আর মিথ্যা শুধু অন্য পক্ষে। সত্যবাদী সমাজে বিবাদমান পক্ষ অপর পক্ষের কোন সত্যকথা থাকতে পারে মনে করে না। প্রতিপক্ষ মানেই সত্যের দুষমন। এই ধরনের সমাজে নির্মূল আর কতলের রাজনীতি ছাড়া অন্য কোন রাজনীতি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা খুবই কম। সব পক্ষই যখন সত্যবাদী, আর মিথ্যা যখন শুধু অন্য পক্ষে – তখন তো হানাহানি হিংসা রক্তপাত ঘটবেই। সত্যবাদী সমাজের বড় সমস্যা হচ্ছে রাজনীতি সম্পর্কে ধারণা। এই সমাজে রাজনীতির অর্থ হোল নিজ নিজ সত্যের বা মতাদর্শের ঝাণ্ডা নিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জিহাদে ঝাঁপিয়ে পড়া। এই সমাজের অনুমান হচ্ছে সত্যে যেহেতু আমারই একচেটিয়া অতএব অপরকে নির্মূল করাই আমার একমাত্র রাজনৈতিক কর্তব্য।

    Reply
  12. Golam Bari

    বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুর শত্রুর কাতারে কোন আলেম ওলামা বা মুক্তিযোদ্ধারা ছিল না। বঙ্গবন্ধুর শত্রু ছিল এ কমউনিষ্ট ইনুরা, তারাই উসকানি দিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে বঙ্গবন্ধুকে জনগণের কাছে সমালোচিত করেছে। জনগণের একটা বিশাল অংশকে প্রচার প্রপাগাণ্ডা চালিয়ে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলেছে। ইন্ডিয়াই আবার বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে পুনর্বাসন করে ঋণী করে তাদের ফায়দা হাসিল করে নিচ্ছে। অথচ বঙ্গবন্ধুর হত্যার মূল নায়ক হলো ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশের বামরা। আমাদের দেশের আলেম ওলামারা বা সাধারণ মানুষরা তাদের কথায় বিশ্বাস করে বঙ্গবন্ধু থেকে দূরে ছিলেন। ইন্ডিয়া সেদিনই তাঁকে হত্যা করার ফন্দি আটতে শুরু করে, যেদিন তিনি বলেছিলেন, মহামতি ইন্দিরা গান্ধীকে, আপনার সৈন্যবাহিনী কবে নিবেন (বাংলাদেশ থেকে), আর িএকটা হলো ৭৪ সালে যখন বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের জুলফিকার আলী ভুট্টোকে বিশাল সংবর্ধনা দিয়ে তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে সব ভুলবুঝাবুঝি বুলে গিয়ে আবার দু’ই মুসলিম জাতিসত্তা এক হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করে, সেদিন চূড়ান্তভাবে ইন্ডিয়ার মাথা খারাপ হয়ে যায়, তারা বুঝে যায় যে, এ শেখ মুজিবকে তাদের মনের মত করে পুতুল বানিয়ে চালোনো যাবে না। তখন থেকেই তারা চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশ স্থপতিকে ঘায়েল করার ফন্দি আঁটে, আর তখনই তারা এ বামপন্থী এসব নাস্তিকদের লক্ষ কোটি টাকা খরচ করে হাতে নেয়, পরবর্তী ঘটনা আমরা সবাই জানি। কিন্তু আমাদের সাংবাদিক, মিডিয়া বা বুদ্ধিজীবীরা এ ঘটনাকে অন্যভাবে প্রবাহিত করে মিডিয়ার মাধ্যমে ভুল তথ্য উপস্থাপন করে জাতিকে ধোঁকা িদিচ্ছে।

    Reply
  13. R. Masud

    বিদেশে গত ৩৫ বছর ধরে বাস করে আসছি, গত ৫ বছর ধরে কেন জানিনা বাংলাদেশের পত্রিকা গুলো নিয়মিত পড়ার অভ্যাস করে ফেলেছি।
    কিন্তু গত কয়েক মাস (সর‍্যি বার বার তিন বার গত শব্দটা বলার জন্য) ধরে কেমন একটা ভীষন বিরক্তি এসে যাচ্ছে। কারনটা সহজ (সিমপ্ল)

    দুনিয়াতে যতগুলো জাতি আছে তাদের মাঝে বাঙ্গালীই একমাত্র জাতি যারা সব চাইতে বেশী মিরজাফর এর জন্ম দিয়েছে এবং দিয়ে যাচ্ছে। নব্য মিরজাফররা হলো —
    যারা স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করে,
    শহীদদের সংখ্যা নিয়ে তর্ক জুড়ে,
    স্বাধীনতা যুদ্দকে প্রকারন্তরে প্রশ্নবিদ্ধ্য করতে চায় ,
    জাতীর পিতাকে অস্বীকার করার সাহস দেখায়।

    P.S.: আশিক্ষিত অনেকেই ধর্মকে জাতি হিসাবে পড়ে থাকেন তাদের আমি ঘৃণা করি। আমার কাছে, ধর্ম আর জাতিয়তা দুটোই মুল্যবান, একটা আমার বিশ্বাস (পরকালের জন্য প্রস্তুতি), অন্যটা আমার পরিচয় (যে ভাবে খোদাতালা আমাকে গড়েছেন) ) । আমার ধর্ম(বিশ্বাস) কে আমি পরিবর্তন করতে পারি, জাতিয়তা কে পারিনা — খোদাতালা সেই সুযোগ রাখেন নি।

    Reply
  14. Bangladeshi

    ১৪ ডিসেম্বর যে সব বুদ্ধিজীবি (যারা ছিল চীনপন্থী কমিউনিষ্ট) মারা গিয়েছে তারা কি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ছিল? চীনপন্থীরা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধকে দুই কুকুরের লড়াই বলেনি? পাকিস্তানের পক্ষে থাকার ক্ষেত্রে ওদের সাথে কথিত রাজাকার-আলবদরদের সাথে মৌলিক কোন পার্থক্য কি ছিল যার কারণে ওদেরকে হত্যা করবে পাকিস্তানপন্থীরা? যখন স্বাধীনতাপন্থীরা সবাই পালিয়ে ভারত বা দেশের বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে ছিল ওসব বুদ্ধিজীবিরা কি কারণে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত খোদ ঢাকা শহরে নিজের বাড়ি বা সরকারী বাসায় অবস্থান করছিলেন? কেউ যদি পাকিস্তান আর্মি বা রাজাকার-আলবদরদের পক্ষ থেকে নিজেকে অনিরাপদ ভাবত যুদ্ধের সেই উত্তাল দিনগুলোতে ওভাবে নিজের বাড়িতে বা সরকারী বাসায় অবস্থান করে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইয়াহিয়া খানের চাকুরি করতো? নভেম্বর ১৯৭১ মাসের বেতন কি ওরা ইয়াহিয়া খান থেকে নেননি? এসব প্রশ্ন করলে কি স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির কথিত অপরাধ হবে?!

    কথিত মুক্তিযুদ্ধ গবেষক মুনতাসির মামুন কি মুক্তিযোদ্ধা ছিল? তার পিতা কি পাকিস্তান আর্মির অধীনে যুদ্ধের পুরো সময়টি কি চাকুরি করেনি? মুনতাসির মামুন কি মুক্তিযুদ্ধের সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের নিজের পিতার সরকারী বাসায় অবস্থান করে পাকিস্তান আর্মির অন্ন ভোগ করেনি? মুনতাসির মামুনের চাচা মখা আলমগীর কি টিক্কা খার অধীনে ডিসিগিরি করেনি? রাজাকার নিয়োগের দায়িত্ব পালন করেনি?

    ১৪ ডিসেম্বর নিহত ঢাবির বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চরম চীনপন্থী বাম মুনির চৌধুরী কি কবির চৌধূরীর ভাই ছিল না? সেই মুনির চৌধূরী ও কবির চৌধুরীর আরেক ভাই কাইয়ুম চৌধূরী যে পাকিস্তান আর্মির কর্ণেল হিসেবে ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় পূর্বপাকিস্তানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ছিল তা কি জানেন? সেই কর্ণেল কাইয়ুম চৌধুরী পাকিস্তানকে এমন ভাবে ভালোবাসতো এবং বাংলাদেশকে এমন ভাবে ঘৃণা করতো যুদ্ধের পর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আর আসেইনি! সেই কবির চৌধুরী কি টিক্কা খার অধীনে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ১৯৭১ সালে ছিল না? এখন ওই চরম পাকিস্তানপন্থী পরিবারের মুনির চৌধূরীকে কি কারণে পাকিস্তানপন্থীরা খুন করবে? কি হিসেবে মুনির চৌধুরী শহীদ বুদ্ধিজীবি? পুরো পরিবারসুদ্ধ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের চরম সেবা করার পর কি হিসেবে কবির চৌধূরী ঘাদানিকের সভাপতি হয়েছিল? ওসব প্রশ্ন করলে কি সেই কথিত আইনের অধীনে জেল-জরিমানা হবে?

    স্বীকার করলেন ২৫ মার্চের আগে পরে ও ১৬ ডিসেম্বরের পর বিহারীদের হত্যা করা হয়েছিল? লাখে লাখে না হলেও হাজারে হাজারে। এখন সেখানে কি সবাই অপরাধী ছিল? নিরপরাধ বিহারীদের যারা হত্যা করেছে তাদেরকে যুদ্ধাপরাধী বা মানবতাবিরোধী অপরাধী হিসেবে বিচারের দাবী করলে অপরাধ হবে?

    বাস্তবে কথিত সেই আইনের মূল কারণ আপনাদের মুখোশ যেন ভবিষ্যতে উম্মোচন না করা হয় তার ব্যবস্থা করা। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের নামে স্বাধীনতা যুদ্ধের সেনাপতি ওসমানির ভাষায় “ঠাকুর মার ঝুলির” যে সব গল্প চালু আছে তার বিপরীতে সঠিক ইতিহাস কেউ রচনা করুক তা বন্ধ করা। কিন্তু আসলে কি এভাবে আইন করে সত্য প্রকাশ বন্ধ করা যায়?! সত্য তার আপন মহিমায় বের হয়ে আসবেই যত আইনের বাঁধই আপনারা দিতে থাকুন না কেন।

    Reply
  15. Fazlul Haq

    মশিউল আলমদের মত রাজাকার মানসিকতার লোকরা কোনদিন মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা মনে প্রাণে মেনে নেবে না। অথচ তারা স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে সুযোগমত মুক্তিযোদ্ধা সাজে।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—