[মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ-এর জন্ম ১৯৫০ সালের ৭ই মার্চ কিশোরগজ্ঞে। পড়াশুনা করেছেন প্রথমে কিশোরগজ্ঞে এবং পরে ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দে। তিনি বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়ার ঈদ জামায়াতের ইমাম। দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের অন্যতম তিনি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাবেক পরিচালক এই আলেম লেখক ও অনুবাদক হিসেবেও পরিচিত। আলোচনা-সমালোচনায় উঠে আসেন প্রায়ই। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চে তাঁর যোগদান অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। জামায়াতের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন, জামায়াত একটি ভণ্ড দল, ইসলামের সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক নেই। যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় কার্যকর না হলে আওয়ামী লীগকে জনগণ ভোট দেবে না বলেও এক সময় মন্তব্য করেছেন মাওলানা ফরীদ উদ্দীন। গত জুনের মাঝামাঝিতে ইসলামের নামে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ ‘হারাম’ বলে ফতোয়া দিয়েছেন লক্ষাধিক মুফতি ও আলেম-ওলামা। আত্মঘাতী জঙ্গিদের জানাজা পড়াও হারাম বলে মত দেওয়ার পাশাপাশি তাঁরা বলছেন, যাঁরা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মারা যাবেন তাঁরা শহীদের মর্যাদা পাবেন। সেই আলেমদেরও নেতৃত্ব দিয়েছেন মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সহকারী সম্পাদক রাজু আলাউদ্দিন ২০১৫ সালের ১২ আগস্ট এই আলেমের বাসায় তাঁর সঙ্গে ঘণ্টাখানেক আলাপচারিতায় বসেছিলেন। সেই আলাপচারিতার পূর্ণাঙ্গ রূপটি এখানে দেওয়া হলো।]

রাজু আলাউদ্দিন: আসসালামু আলা্ইকুম।

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: ওয়ালাইকুম সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

রাজু আলাউদ্দিন: কেমন আছেন?

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: পরিবেশ-পরিস্থিতি হিসেবে অনেক সময় মানসিকভাবে কিছুটা অস্বস্তি অনুভব করছি। যে ধরনের সমাজ হওয়া উচিৎ ছিল… আমরা মানুষ হতে পারিনি। এই জিনিসটা অনেক সময় ব্যথিত করে। শারীরিক দিক থেকে আল্লাহর রহমতে ভালোই আছি।

রাজু আলাউদ্দিন: আপনি মানসিকভাবে খারাপ থাকার কথা বললেন, অনুমান করছি, সাম্প্রতিক যে ঘটনাগুলো ঘটছে, সম্ভবত এগুলোর প্রতিক্রিয়াতেই এমনটা ঘটছে।

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: হ্যাঁ। কষ্টটা হলো, ইসলাম অত্যন্ত উদার, অসাম্প্রদায়িক ও সহিষ্ণু ধর্ম; কিন্তু বর্তমানে সারা পৃথিবীতে, আমার মনে হয়, এই একটা চক্রান্তই বলব– ইসলামকে বর্বর, জঙ্গিবাদী, সন্ত্রাসবাদী ধর্ম হিসেবে প্রদর্শন করা হচ্ছে। এর জন্য যেমন ইসলামের প্রকাশ্য শত্রুরা চেষ্টা করছে এবং অনেকে ইসলামের নামেও ইসলামের বদনাম করছে।

রাজু আলাউদ্দিন: এই জায়গাতেই সুনির্দিষ্টভাবে একটা কথা জানতে চাই। আমরা এই বছরই দেখলাম পাঁচজন ব্লগার হত্যা করা হয়েছে। সর্বশেষ নীলয়। এই হত্যাকাণ্ড যারা ঘটাচ্ছে তারা মনে করছে, এই ব্লগাররা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিচ্ছে, ইসলাম সম্পর্কে কুৎসা করছে বা নবীজি (সা.) সম্পর্কে কুৎসা করছে; কিংবা এরা নাস্তিক– এটাও হত্যাকারীদের বড় অভিযোগ। এখন প্রশ্ন হলো, কেউ যদি নাস্তিক হয় তাহলে এটা তো (ইসলামের দৃষ্টিতে) অপরাধ কিংবা অন্যায় না, এটা হলো পাপ। আমি যতটুকু বুঝি আর কী? অন্যায় হলো, আপনি আমাকে যদি মারেন এটা সামাজিকভাবে একটা অন্যায়। এটা আদালতে যাওয়ার মতো একটা বিষয়, এটা পাপ, আবার এটা অপরাধ। কিন্তু আমি যদি বলি, আমি একজন নাস্তিক। এটা কি আমার অপরাধ, নাকি এটা পাপ?

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: এখানে দুটি বিষয় আছে– একটা হলো, যারা ইসলাম গ্রহণ করেনি, তাদেরও ইসলামে বেঁচে থাকার স্বাধীনতা আছে সম্মানের সঙ্গে, নিরাপত্তার সঙ্গে– এই গ্যারান্টি ইসলাম দেয় এবং আমরা দেখেছি ইসলাম এই ব্যাপারে এতখানি উদার যে পৌত্তলিকতার বিরুদ্ধে ইসলাম এসেছে, ইসলাম সোচ্চার, সেখানে এ কথা কোরআনে-কারীমে স্পষ্ট বলা আছে, “তোমরা তাদের দেব-দেবীদের নিয়ে গালিগালাজ কর না।” যুক্তি খণ্ডাতে পার, কিন্তু এই গালিগালাজ করা জায়েজ না।

এখানে ব্লগার, সবার সম্পর্কে মতামত আমি দিতে পারব না, আমি সাধারণভাবে যা দেখেছি– তারা অনেক সময় যুক্তির সীমা পার হয়ে গালাগালির পর্যায়ও চলে যায়, কুৎসা রটনার প্রতি চলে যায়। যারা এই ধরনের কাজ করে, এটা পাপও, অন্যায়ও। কাউকে গালিগালাজ করা অপরাধ। আমি বাকস্বাধীনতার কথা স্বীকার করি, কিন্তু বাক-স্বেচ্ছাচারিতা তো আমি মানতে পারি না। আপনি আমার মাকে নিয়ে যদি কিছু বলেন, বা আপনার মাকে নিয়ে কেউ কিছু যদি বলে তাহলে আপনি কি আইন দেখবেন, নাকি স্বাভাবিকভাবেই আপনি উত্তেজিত হবেন? এমনকি বাকস্বাধীনতা থাকলেও আপনি যৌক্তিকভাবেও আপনার পিতার বিরুদ্ধে, মাতার বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারবেন না। যুক্তিও যদি আপনার থাকে।

 

Farid Uddin Masud - 111
আমি যদি বলি– আমি একজন নাস্তিক; এটা কি আমার অপরাধ, নাকি এটা পাপ?

 

দেখুন, আপনি লক্ষ্য করবেন, হযরত ইব্রাহিম (সা.) ইসলামের একজন বড় নবী, তিনি যখন তাঁর পিতাকে বোঝাচ্ছিলেন, পিতার প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই যুক্তি দিচ্ছিলেন, অতি সম্মান রেখে। উনার পিতা যদিও মূর্তিপূজক ছিলেন এবং মূর্তিপূজকদের একজন নেতা ছিলেন, এখানে পিতাকে অসম্মান করে কিছু বলছেন না। কিন্তু উনার বাকস্বাধীনতা উনি প্রয়োগ করছেন।

ঠিক এমনিভাবে একটি কথা প্রতিষ্ঠিত আছে সারা পৃথিবীতে, আপনারা জানেন, একজন দার্শনিক বলেছিলেন, আমার মুষ্ঠিবদ্ধ হাতটা আমি ততদূর পর্য়ন্ত প্রসারিত করার অধিকার রাখি যতদূর পর্যন্ত আপনার নাকে না লাগে। কিন্তু আমার এই স্বাধীনতা নেই, আমার মুষ্ঠিবদ্ধ হাত আপনাকে গিয়ে আঘাত করবে। আমার মুষ্ঠিবদ্ধ হাতটা ওই পর্যন্ত প্রসারিত করার অধিকার আছে।

আমার মলত্যাগের অধিকার আছে। এটা স্বাভাবিক কিন্তু। তাই বলে, আমি চৌরাস্তায় বসে যদি মলত্যাগ করি, তাকে কি আমার স্বাধীনতা বলব? মানুষের সবারই স্বাধীনতা একটা স্বনিয়ন্ত্রিত অবস্থান পর্যন্ত আছে। আপনার চোখের দৃষ্টি কতদূর পর্য়ন্ত যাবে, তার নিয়ন্ত্রণ আছে। আপনার হাত কতদূর পর্যন্ত সম্প্রসারিত করতে পারেন, তার নিয়ন্ত্রণ আছে। আপনার মনন ও চিন্তার সীমা আছে। কেননা, আপনার মন-মনন-চিন্তা কখনোই আপনার যুগের ঊর্ধ্বে উঠতে পারে না, বা পরিবেশের ঊর্ধ্বে উঠতে পারে না। আজ আমরা কম্পিউটার বলতে যে কথাটা সহজে বুঝে ফেলি, এটা যদি আজ থেকে বিশ বছর আগেও বলতাম, কেউ বুঝতেন? মোবাইল ফোন বলে যে জিনিসটা বুঝি, এটা যদি আজ থেকে বিশ থেকে পঁচিশ বছর আগে কাউকে বলা হয়, সে আমাকে পাগল বলত কি না?

রাজু আলাউদ্দিন: নিশ্চয়ই পাগল বলত..

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: অর্থাৎ আমার চিন্তাটা সীমিত, আমার ভাবনাটাও আমার যুগের সঙ্গে সীমিত। তো এই ‘মুক্তমনা’ বলতে, হ্যাঁ, মুক্ত, স্বাধীনতার অধিকার আপনার আছে, সেই মুক্ততারও তো একটা সীমানা আপনি নির্ধারণ করেন। আর প্রশ্রাব করার অধিকার আপনার আছে, কিন্তু কারো মুখে প্রশ্রাব করার অধিকার তো আপনার নেই।

রাজু আলাউদ্দিন: এখন ব্লগারদের যে কর্মকাণ্ড যেটা তারা হয়তো কখনো কখনো সীমালঙ্ঘন করেছে, আপনি যেটা বললেন। প্রশ্নটা হচ্ছে, সেই সীমালঙ্ঘন করার শাস্তি কে দেবে? প্রথম হচ্ছে, আপনি একটু আগেই বললেন যে এটা পাপও, আবার বাড়াবাড়ির কারণে এটা অপরাধের পর্য়ায়ও যায়। যেটুকু অপরাধ, তার জন্য আইন আছে, আদালত আছে; আর যেটুকু পাপের অংশ, যেমন– কেউ যদি নিজেকে নাস্তিক দাবি করেন সে ক্ষেত্রে এটা তো শুধু পাপ, তাই না? পাপের শাস্তিদাতা তো মানুষ হতে পারে না। পাপের শাস্তিদাতা হবেন আল্লাহ্, ঈশ্বর বা আমরা যে নামে তাঁকে ডাকি। সে ক্ষেত্রে নাস্তিকতার অভিযোগ তুলে এই হত্যাকাণ্ড, এটাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: এটাকে আমি না কেবল, ইসলাম এটাকে কখনোই অনুমোদন দেয় না যে, আইন মানুষ নিজের হাতে তুলে নেবে। যেমন, আমি একজনকে চুরি করতে দেখলাম। ইসলামে চোরের হাতকাটার বিধান আছে, কিন্তু আপনি তার হাত কাটতে পারবেন না। আপনি যদি হাত কাটেন তাহলে কী হবে? আপনি নিজে অপরাধী হয়ে যাবেন। আপনার কর্তব্য তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করা। যে আইনে কাজী-ই বিচার করবেন তার হাতকাটা হবে কি হবে না, কাটার যোগ্য কি যোগ্য না। আপনি আশ্চর্য হবেন, খোদ বিচারক নিজের চোখে দেখছে কাউকে একটা অপরাধ করতে, তিনি শাস্তি দিতে পারবেন না, যতক্ষণ না সাক্ষীসাবুদ দ্বারা প্রমাণিত হয়।

রাজু আলাউদ্দিন: তাহলে এরা যারা হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে, তা অপরাধ এবং একইসঙ্গে পাপ। কারণ, আপনি বললেন যে এটা ইসলাম অনুমোদন করে না, ইসলাম সমর্থন করে না। সে ক্ষেত্রে এরা যে ইসলামের নামে কাজগুলো করল…

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: আমি বলব, প্রথম কথা হলো এরা যদি না বুঝে করে থাকে তাহলে এরা বিভ্রান্ত। এরা বিভ্রান্ত এবং দিকশূন্য হয়ে এরা বেহাল ঘুরছে। এবং যেটা ইসলামের কাজ নয় সেটাকে ইসলাম মনে করে তারা অপরাধ করছে।

রাজু আলাউদ্দিন: কিন্তু আমার মনে হয় ব্যাপারটি শুধু এই জায়গাতেই সীমাবদ্ধ না। এটার পেছনে রাজনৈতিক বা অন্য…

 

Farid Uddin Masud - 333
এ কথা কোরআনে-কারীমে স্পষ্ট বলা আছে, “তোমরা তাদের দেব-দেবীদের নিয়ে গালিগালাজ কর না”

 

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: এটাই বলছি, আর যদি বুঝে করে থাকে বা তাদের পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র– আমার মনে হয়, এটাই বর্তমানে সত্য। যার কথা আমি প্রথমেই বলেছিলাম। শান্তির সময়ে এবং শান্ত পরিবেশে ইসলামের যে বিকাশ ও অগ্রগতি ঘটে, কখনোই বিশৃঙ্খল অবস্থায় তা ঘটবে না। আমি আপনাকে দেখাচ্ছি, ইসলাম কত সহিষ্ণু।

হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় ওরা মানে মুশরিকরা শর্ত করল যে, আপনার নামের সঙ্গে রসুলউল্লাহ লাগাতে পারবেন না। ওটা কাটেন। কুরাইশদের সঙ্গে যখন সন্ধি (চুক্তি) লেখা হচ্ছে, রাসুল (সা.) লিখতে জানতেন না, হযরত আলী (রা.) লিখতে জানতেন। তো, হযরত আলী (রা.) লিখতে শুরু করলেন। প্রথমে লিখলেন, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’। এটার ওপর কুরাইশরা আপত্তি করল যে, ‘রাহমানির রাহিম’-কে আমরা চিনি না, সুতরাং এটা লেখা যাবে না। আচ্ছা মানলেন, লেখা যাবে না। কত সহিষ্ণু! তারপর যখন আবার হযরত আলী (রা.) লিখলেন, এই চুক্তিটা হচ্ছে মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ এবং কুরাইশদের মধ্যে। তখন তারা আপত্তি করল– রাসুলুল্লাহ লেখা যাবে না, লিখতে হবে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ। আব্দুল্লাহর পুত্র মুহাম্মদ। হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.) হযরত আলীকে (রা.) বললেন, ‘রাসুলুল্লাহ’ লেখার দরকার নেই, ‘রাসুলুল্লাহ’ শব্দটা কাট। তো হযরত আলী (রা.) বললেন, এটা তো আমার বিশ্বাস, এটা আমি কী করে কাটি? রসুল কারীম (সা.) বললেন, কোন জায়গায় লিখেছ। তিনি দেখিয়ে দিলেন, রসুল নিজের হাতে কলম নিলেন, নিয়ে শব্দটা কাটলেন। কতটা সহিষ্ণুতা!

আরও শুনুন, এরপর ওরা শর্ত জুড়লেন, যদি কেউ ইসলাম গ্রহণ করে মদিনায় যায়, তাহলে তাকে ফেরত দিতে হবে। কিন্তু কেউ যদি কোরাইশদের পক্ষাবলম্বন করে মক্কায় চলে আসে তাহলে তাকে ফেরত চাইতে পারবে না। কত অসম শর্ত! রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, আচ্ছা তা-ই হোক। তবুও শান্তি বজায় থাক। তাতে লাভ হয়েছে কী? মাত্র দুই বছরে ইসলাম মক্কা-মদিনার বাইরে ছড়িয়ে গেল। কারণ, মানুষ তখন বুঝতে পারল, ইসলাম কী?

আজকে যা হচ্ছে, ইসলামের নামে যে উগ্রবাদিতা, আমি তো বলব, একটা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র। ইসলামের যে একটা অপ্রতিরোধ্য গতি, আজকের দিনে বলা হচ্ছে যে পঞ্চাশ বছর পর ব্রিটেন মুসলিম দেশে পরিণত হয়ে যায় কি না। এ রকম কিছু আন্দাজ করা হচ্ছে, (উত্তর) আমেরিকায় যে হারে মুসলমান বাড়ছে আজ থেকে পঞ্চাশ বছর পর সেখানেও সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যায় কি না।

রাজু আলাউদ্দিন: আপনি বলতে চাইছেন যে, এর পেছনে রাজনীতি যেমন আছে, এর পেছনে জাতিগত ষড়যন্ত্র কোনো না-কোনোভাবে, পরোক্ষভাবে বা অবচেতনে কাজ করছে, যার প্রকাশ ঘটছে রাজনীতির উগ্রপন্থার ভেতর দিয়ে?

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: যারা উগ্রপন্থা করছে তারা কখনও ইসলামের পক্ষের শক্তি নয়। মুখে যতই ইসলামের কথা বলুক, কিন্তু ইসলাম এদের স্বীকৃতি দেয় না।

রাজু আলাউদ্দিন: আমি শুনেছি, তারা ‘নারায়ে তাকবির’ বলে আক্রমণটা করেছে।

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: ‘নারায়ে তাকবির’ বললে ইসলাম হয়ে যাবে, তা তো নয়।

রাজু আলাউদ্দিন: না, তা নয়। আমি জানি না, এটা হয়তো সত্য, আপনি যে ব্যাখ্যাটা দিলেন, এরা ইসলামের নামে…

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: হয়তো যে ছেলেটা গিয়ে হত্যা করেছে, সে হয়তো বিভ্রান্ত, কিন্তু তাকে যে পরিচালনা করছে সে ষড়যন্ত্রকারী। আপনি আইএস বলেন আর ওরা বলেন, সবাই আজকে ইসলামেরই বদনাম করছে।

রাজু আলাউদ্দিন: তা তো বটেই। শেষ পর্য়ন্ত ইসলামের বদনাম হচ্ছে। আপনি যেভাবে বললেন ঐতিহাসিক সব ঘটনার কথা, তাতে তো পরিষ্কার…

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: যারা প্রথম ইসলামি জঙ্গি ছিল এদের খারিজি বলা হত। এরা তা হয়েছিল হযরত আলী (রা.)এর বিরুদ্ধে গিয়ে, যখন হযরত আলী (রা.) হযরত মাবিয়ার (রা.) সঙ্গে সন্ধি করাটা মেনে নিলেন, তখন হযরত আলীর (সা.) পক্ষের পাঁচ হাজার লোক তাঁর দল থেকে বেরিয়ে গেল এই কথা বলে যে, হযরত আলী (সা.) এখানে আল্লাহর হুকুম লঙ্ঘন করেছেন। এই সন্ধি মানা যায় না। কারণ, আল্লাহ তায়ালা নিজে কোরআনে বলছেন,‘ইনিল হুকমু ইন্নালিল্লাহ’, মানে আইন একমাত্র আল্লাহর। তিনি মানুষের মতামত গ্রহণ করতে গিয়ে আল্লাহর আইনকে লঙ্ঘন করেছেন।

হয়রত আলী (রা.) বললেন, কথা তো সত্য, তোমাদের মতলবটা তো ভালো না। এরা ধর্মীয় দিক থেকে এতটা ঈর্ষন্বীয় বন্দেগীর পাবন্দ ছিল যে, আপনাকে বলি, এদের একটা দল, যারা নাকি হযরত আলীকে হত্যা করেছিল, লোকেরা যখন উত্তেজিত হয়ে তাঁকে (হত্যাকারীকে) আঘাত করতে গেছে তখন সে বললো, তোমরা যা-ই কর আমার হাত-পা কেটে নাও, কিন্তু আমার জিহ্বাটা কেটে নিও না। কারণ, আমি আল্লাহর নাম নিতে নিতে মরতে চাই। অথচ হযরত আলী (রা.)-এর হত্যাকারী সম্বন্ধে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ওরা জাহান্নামী, মুসলমান না। কিন্তু দেখতে তো একই রকম।

আরেকটা ঘটনা বলি, হযরত খাব্বাব (রা.) বড় সাহাবী ছিলেন। ইসলামের প্রথমদিকে মুসলমান হয়েছিলেন। উনি বৌ-বাচ্চা নিয়ে এক জায়গায় যাচ্ছিলেন। উগ্রবাদীরা এক জায়গায় তাদের এরেস্ট করে ফেললেন। উনারে জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি আলীকে কাফের মনে কর, না মুসলমান মনে কর? উনি বললেন, আলী একজন মুসলমান। শুধু এইটুকু বলার কারণে উনার নাবালক শিশু, স্ত্রী এবং উনাকে মেরে ফেলা হলো, অর্থাৎ তাঁরা শহীদ হলেন। কিন্তু এরাই এমন লোক কিছু দূর অগ্রসর হওয়ার পরে জানতে পারল যে, উনাদের একজন খ্রিস্টানদের একটা শুকর এনে মেরে ফেলেছে। উনারা বললেন, জলদি এই শুকরের গন্ধ সরাও, এটা নাজায়েজ। তো একটা শুকরের প্রাণ বাঁচাতেও তারা প্রস্তুত, এখানে মানুষের প্রাণ ইসলামের নামে সংহার করতে দ্বিধা করছে না। তাহলে কতখানি অন্ধ এরা!

এই উগ্রবাদীদের সম্বন্ধে রাসুল (সা.) বলেছেন, এরা উগ্রবাদী। এদের সম্পর্কে বুখারী শরীফে আছে, এদের নামাজ দেখলে তোমার নিজেকে হেয় মনে হবে যে আমি হয়তো নামাজ ঠিকমতো পড়তে পারলাম না; এদের ইবাদত দেখলে তোমার নিজের ইবাদতকে খাটো মনে হবে; এদের চলাফেরা দেখলে তোমার নিজের চলাফেরাকে খাটো মনে হবে। কিন্তু এদের অবস্থা এমন, ইসলাম থেকে এরা এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যে ইসলামের সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক নেই। উদাহরণ দিয়ে বললেন, একজন শিকারী যদি এমনভাবে তীর ছুঁড়ে মারে যে পাখির শরীর ভেদ করে চলে যায়, এরপর কেউ যদি তীরটা খুঁজে পায় তখন রক্তের একটু চিহ্নও খুঁজে পাওয়া যায় না। ঠিক তেমনিভাবে ওদের মধ্যে ইসলামের কোনো চিহ্নও নেই।

এই উগ্রবাদীদের সম্পর্কে রাসুল (সা.) আমাদের অত্যন্ত সতর্ক করে দিয়েছেন। এই উগ্রবাদীদের সম্পর্কে রাসুল (সা.) যা কিছু বলে গেছেন, বর্তমান উগ্রবাদীদের সম্পর্কেও তার সবকিছু খাটে। এরপরও আমরা তাদের চিনতে পারছি না। আমাদের যুবকরা বিভ্রান্ত হচ্ছে।

রাজু আলাউদ্দিন: আপনার কি মনে হয় যুবকরা মূলত বিভ্রান্ত হচ্ছে? আমাদের রাজনীতি কি বিভ্রান্ত নাকি সচেতনভাবেই এগুলো করা হচ্ছে?

মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসঊদ: আমার কাছে মনে হয়, আমাদের দেশে যারা নাকি ইসলাম সম্পর্কে জানা লোক ছিল, এরা সচেতনভাবে ইসলামকে আমাদের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে। এখনো তারা আমাদের স্বাধীনতাকে সহ্য করতে পারছে না, উন্নয়নকে সহ্য করতে পারছে না। তারা সচেতনভাবেই এর অপব্যবহার করছে। কিন্তু যারা জড়িত হচ্ছে তারা হলো বিভ্রান্ত।

রাজু আলাউদ্দিন: এ ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের অবস্থান আপনার কাছে কী রকম মনে হয়–এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে?

 

Farid Uddin Masud - 555
এই উগ্রবাদীদের সম্পর্কে রাসুল (সা.) যা কিছু বলে গেছেন, বর্তমান উগ্রবাদীদের সম্পর্কেও তার সবকিছু খাটে

 

মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসঊদ: হত্যাকাণ্ড তো অবশ্যই নিন্দনীয়। ইসলামের দৃষ্টিতেও নিন্দনীয়। একজন নাগরিকের নিরাপত্তা রক্ষা করা তো একটা সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব। আমি বলব সরকার বাহ্যত, আমি তো জানি না– (সরকার) কী করছে না করছে– এই নিরাপত্তা দেওয়ার পর্যায়ে তারা নেই। দ্বিতীয় বিষয় হলো, সরকারের হয়তো বা গাফিলতি বলবো না– সীমাবদ্ধতা আছে। বর্তমান সরকারের জন্য তো ১৬ কোটি মানুষ, সেখানে কয়েক হাজার লোকের জন্য একজন পুলিশ– মনে হয় তাদের পক্ষে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব না। সবচেয়ে বেশি উচিৎ হবে, সরকারের চেয়ে মানুষের সচেতনতা। আজকে পাঁচতলায় উঠে একটি লোক মানুষকে হত্যা করছে। তাদের মেরে তারা নির্বিঘ্নে চলে যাচ্ছে।

রাজু আলাউদ্দিন: আবার কিলিংয়ের সময় এগিয়েও আসছেন না কেউ…

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: হ্যাঁ, চিৎকার করার পরও কেউ এগিয়েও আসছে না।

রাজু আলাউদ্দিন: এই পরিস্থিতিটা আসলে আরও বেশি ভয়াবহ…

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: হ্যাঁ, এটা বলছি, এই পরিস্থিতিতে সরকার করবেটা কী? যদি দশ হাজার পুলিশও সরকারের কাছে থাকে তা দিয়ে তো আর ঘটনার মুহূর্তে গিয়ে থাকবে না।

রাজু আলাউদ্দিন: পরে গিয়ে কী করবে? যারা উপস্থিত থাকল, যাদের সাহায্য করার কথা ছিল, তারা এগিয়ে না এলে… এই জায়গায় একটা প্রশ্ন করতে চাই আপনাকে, এই যে মানুষের মধ্যে যে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে না, এর পেছনে কোন কারণগুলোকে আপনি বেশি দায়ী মনে করেন?

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: এটার জন্য আমি আমাকেও দায়ী করি এবং আমি সংবাদমাধ্যমকেও দায়ী করি। এই হিসেবে যে, আমি একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি। আমি ধর্মীয় বিষয়টাকে যদি আরও সুচারুভাবে তুলে ধরতে পারতাম মানুষের মধ্যে তাহলে মানুষ নিশ্চয় সচেতন হত। আমার দ্বারা মানুষের সচেতনতা যতখানিই হবে সরকারের কোনো আইনই ততটা পারবে না। আপনি মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, আপনি কথাটা আরও বেশিভাবে মানুষের কাছে নিয়ে যাচ্ছেন। আমি তো যেতে পারছি না। সব সময় আমি আপনাকে কথাগুলো বলছি। আপনি কথাটাকে হাজার লোকের কাছে নিয়ে যাবেন। আমরা যেমন, মিডিয়াও তেমনি, আমার মনে হয় বিষয়টা যথাযথভাবে নিয়ে যেতে পারছি না।

এই জিনিসটাই এমন– ধর্মের প্রতি আঘাত করা হলে আপনিও উত্তেজিত হয়ে যাবেন। বুঝেছেন ব্যাপারটা? এই ব্যাপারে আমাদের পুলিশের আইজি শহীদুল হক সাহেব যে আবেদনটা জানিয়েছেন, এই আবেদনটাকে আমি কিন্তু সমর্থন করি। আইজি সাহেব বললেন যে, ব্লগারদেরও স্বসীমায় থাকা দরকার। আমার কথাটা খণ্ডিত হয়ে যাচ্ছে, তিনি এ-ও বলেছেন, এই দেশে কিন্তু হত্যাকাণ্ড বিষয়ে আইন আছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিৎ না– চৌদ্দ বছরের কারাদণ্ড আছে। তাই যে কোনোভাবেই হোক, কেউ যেন ক্ষুদ্ধ না হয়– এসব ব্যাপারও তিনি বলছেন।

রাজু আলাউদ্দিন: তবে উনার এ কথাও বলা উচিত ছিল যে, আপনি যেটা বললেন, সেসব বিষয়ে মানুষ সহজেই উত্তেজিত হয়। মূল কথা হচ্ছে, আমাদের সহিষ্ণু হতে হবে। তবে উনার আরো বলা উচিত ছিল যে, মানুষের মধ্যে সহিষ্ণুতা আরো বাড়ানো উচিৎ। আপনার কোনো কিছু, চিন্তা যদি অস্বস্তির কারণ হয়, ভুল মনে হয়, তাহলে চিন্তা দিয়েই তাকে প্রতিহত করতে হবে। গায়ের জোরে প্রতিহত করি যদি…

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: গায়ের জোরে কোনো চিন্তাকে আজ পর্যন্ত প্রতিহত করা যায়নি।

রাজু আলাউদ্দিন: আরেকটা জিনিস হলো, এখন প্রচলিত যে মাদ্রাসা আছে সেখানে যারা শিক্ষাদান করছেন, তাদের যোগ্যতার বিষয়টা জানতে চাই। মাদ্রাসাতে যে ধরনের বই, যে ধরনের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে– সমাজে এই শিক্ষা কি ধরনের ভূমিকা রাখছে?

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: একজন মাদ্রাসাছাত্রের প্রধান কাজ হলো নীতি ও নৈতিকতা বোধকে জাগ্রত করা, সমাজের প্রাণকে জাগ্রত করা। এখন ব্যাপার হলো, আমাদের দেশের মাদ্রাসাগুলো এতটা ব্যক্তিকেন্দ্রিক, যতটা ব্যক্তিকেন্দ্রিক হলে, এদের ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই বলবো না, তাতে উনারা আবার গোসা হবেন। তবে এটাও সত্য যে সরকারী নিয়ন্ত্রণ অনেক সময়ই হিতে বিপরীত হয়। তাই নিয়ন্ত্রণনয় নয়, পারস্পরিক সমন্বয়ের প্রয়োজন আছে বলে মনে করি।

রাজু আলাউদ্দিন: আমি একটা জিনিস দেখেছি, সেটা হলো কওমি মাদ্রাসার বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে শেখ মুজিবর রহমানের নামই নেই।

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, তিনি আবার বলছেন আমরা জেনেশুনেই এটা লিখছি।

রাজু আলাউদ্দিন: আমি সেটাই তো বলছি, সরকারের নিয়ন্ত্রণ যদি থাকত তাহলে কিন্তু এটা ঘটতে পারে না।

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: সেটাই বললাম, এই মাদ্রাসাগুলো যারা চালাচ্ছে তাদের ইচ্ছামতোই এগুলো চলছে। যার কারণে এই মাদ্রাসা ওই মাদ্রাসার মধ্যে মিল খুব কম।

রাজু আলাউদ্দিন: মানে ‘স্টেট উইদিন স্টেট’, রাষ্ট্রের মধ্যে ওরা আরেকটা রাষ্ট্রের কল্পনা করে ওরা নিজেদের ইচ্ছেমতো চালাচ্ছে?

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: শুধু এইটুকুই না, আপনি আশ্চর্য হবেন এটা জেনে যে, পারিবারিক চিন্তা যেমন হয়, মাদ্রাসাও তেমন; কয়েকটি মাদ্রাসা মিলে একটি পরিবার।

ধরুন, আপনি একটি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল, আপনার যে রকম আদর্শ ওই আদর্শেরই প্রতিফলন ঘটে ওখানে। আমি একটা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল, আমার মাদ্রাসা আমার আদর্শের। কিন্তু আমার আপনার মধ্যে চিন্তার যে মিল, ভালো ভাবনার যে সমন্বয়, এই সমন্বয়টা আমার আপনার মধ্যে নেই। এ জন্যই আমরা প্রস্তাব করেছিলাম, মাদ্রাসাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ বা তদারকি করার জন্য না হলেও সমন্বয় সাধনের জন্য এগিয়ে আসা উচিৎ। মাদ্রাসার কিন্তু সিলেবাস আছে। এই যে আপনাকে যে ঘটনাটি বললাম এটা কিন্তু সিলেবাসে আছে। এটা কিন্তু পড়ানো হয়। কিন্তু ওই আঙ্গিকে পড়ানো হয় না যে এর রেজাল্টটা ছেলেদের মনে পরিবর্তন আসবে।

রাজু আলাউদ্দিন: তার মানে কথাগুলো বইয়ের মধ্যে আছে। কিন্তু বই থেকে ওই ছাত্রের মধ্যে, কী ভেতরে…

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: পাকিস্তান আমলে ইউনিভার্সিটিগুলোতে সমাজতন্ত্র নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু পাকিস্তান আমলেই ছাত্রদের মধ্যে সমাজতন্ত্রের ভাবধারা সবচেয়ে বেশি ছিল। বাংলাদেশ হওয়ার পর সমাজতান্ত্রিক হওয়ার মতো অনুকূল পরিবেশ বেশি হওয়া সত্ত্বেও কমিউনিজম, সমাজতান্ত্রিক ভাবধারা ফ্লপ করছে। ব্যাপারটা হয়ে গেছে আসলে উল্টো।

এই দেশে যতই ব্লগাররা উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাইছে অন্য পক্ষ ততই ইসলামের নামে উত্তেজিত হচ্ছে, মানুষ মারছে। এ দিক দিয়ে যদি ব্লগাররা সহিষ্ণু হতো, আর আমরাও সহিষ্ণু হতাম তা হলে সমাজে কিন্তু এই বিশৃঙ্খলা দেখা দিত না। যে জন্য আপনাকে এই কথা বলছিলাম, সহিষ্ণুতা আনা দরকার।

আমি একটা ঘটনা আপনাকে বলব যে রাসুল (সাঃ)-এর সহিষ্ণুতা কতখানি ছিল। একজন ইহুদি রাসুল (সা.)-এর নিকট টাকা পেতেন। এটার একটা নির্ধারিত মেয়াদ ছিল যে, এতদিন পরে এসে উনি টাকা নিয়ে যাবেন। কিন্তু নির্ধারিত মেয়াদ ফুরানোর বেশ আগেই তিনি রাসুল (সা.)-এর নিকট আসলেন। এসে টাকা চাওয়া তো দূরের কথা, বাড়াবাড়ি শুরু করলেন। এই রকম তোমরা, এই করো তোমরা, আরবরা এই রকম– নানা কথা বলতে লাগলেন। এমনকি রাসুল (সা.)-কে বংশ তুলে গালিগালাজ করতে লাগলেন। রাসুল (সা.)-তো হাসছেন। আসশপাশে যাঁরা সাহাবী ছিলেন তাঁরা তো উত্তেজিত হয়ে গেলেন, এমনকি হযরত উমর (রা.) তো খুব উত্তেজিত হয়ে গেলেন। হযরত উমর (রা.) বললেন যে, রাসুল (সা.), আপনার কাছে ও টাকা পেতে পারে তাই বলে গালিগালাজ করার তো অধিকার নেই। আপনি শুধু অনুমতি দেন তো আমি ওর কল্লাটা নিয়ে আসি। রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন মদিনার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত আর ওই ইহুদি তখন প্রজা।

রাসুল (সা.) তখন বলছেন, তুমি (উমর) তো অন্যায় করেছ, সে আমার কাছে টাকা পায়। সুতরাং তার কথা বলার অধিকার আছে। তুমি বরং আমাকে বলতে পারতে, আপনি জলদি কী করে পারেন তার টাকা দিয়ে দিন। তুমি তার টাকা আদায় করে দিতে পারতে। আর এই যে তুমি তাকে ভয় দেখালে এ জন্য তাকে অতিরিক্ত এত টাকা দিয়ে দাও। কারণ, তাকে ভয় দেখানোর কোনো অধিকার তোমার নেই। এরপর ওই ইহুদি সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পায়ে পড়ে গেছে– আমি বুঝেছি ইসলাম সত্যধর্ম। এখন বুঝতে পারছেন, এই সহিষ্ণুতা– এটা পোক্ত না হলে তো হচ্ছে না।

রাজু আলাউদ্দিন: এই জন্যই বলছিলাম, পুলিশের আইজি সাহেবের বলা উচিত ছিল– উনি যেটা বলছেন সেটা অবশ্যই সত্য, কিন্তু কোন সত্যটি প্রাধান্য পাবে সেটা কিন্তু বিষয়। এখন আইজি সাহেব যেটা বলেছেন, সেটা কিন্তু পরোক্ষভাবে ব্লগারদের হত্যার একটা বৈধতা দেওয়া হয়ে যায়। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, আমাদের দেশে সহিষ্ণুতার অভাব। সহিষ্ণুতা বাড়ানো দরকার, কিন্তু এই বাড়ানোর জন্য কি করতে হবে, সেরকম কোনো সুনির্দিষ্ট পরামর্শ আছে কি না আপনার?

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: আমার মনে হয়, আমাদের দেশে যারা ‘মুক্তমনা’ বলে নিজেদের ধারণ করে তারা মানসিক বুদ্ধিবৃত্তিতে পড়াশোনায়, জ্ঞানে এতটা বিকশিত হননি। কারণ, জ্ঞান মানুষের যত বৃদ্ধি পায় তত সে বিনয়ী হয়, তত সে সহিষ্ণু হয়। কিন্তু আমাদের দেশে যাঁরা পড়ালেখা করছেন, তাঁরা ইসলামের জাজমেন্টকে ঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারছেন না। এঁদেরও ইসলাম সম্পর্কে পড়াশোনা কম। যে কারণে বলব, সহিষ্ণুতা সৃষ্টির জন্য নিজেদের জ্ঞানের বিকাশ করা দরকার। কিন্তু জ্ঞানের বিকাশ নেই। এবং সেই জ্ঞানটা যেন একমুখী না হয়, বিবিধমুখী জ্ঞান বাড়ানো দরকার। বিবিধমুখী জ্ঞান যত বাড়বে তার ভেতর সহিষ্ণুতা তত বাড়বে। আমার মনে হয়, বর্তমানে শুধু এ ক্ষেত্রে নয়, গোটা সমাজটাই অসহিষ্ণু হয়ে গেছে। তার প্রধান কারণ হলো, মানুষের জীবন-জীবিকা– জীবন পরিচালনায় টেনশন। মানুষ সারাক্ষণ টেনশনের মধ্যে বেঁচে আছে। যার অর্থকড়ি আছে সেও টেনশনে আছে, যার অর্থকড়ি নেই সেও টেনশনে আছে। এই টেনশনটা থাকার কারণে মানুষ অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে।

এই যে দেখুন, আজকে আমাদের দেশে আইনমূলকভাবে তালাকের মাত্রাটা বেড়ে গেছে। এটার মূলে কিন্তু একই কারণ– টেনশন। আজকের দিনে সমাজের সব শ্রেণির– আমার উদাহরণটা, দুই হাত জোড় করে বলছি, শুধু আপনার জন্য, আপনি চাইলে কেটেও দিতে পারেন– আজকাল এরকম অবস্থা হয়ে গেছে একটা কুকুর আরেকটা কুকুরের প্রতি যেমন করে। একটা কুকুরকে একজন ছুঁয়ে গেছে, দূর দিয়ে আরেকটা কুকুর যাচ্ছে, এটা দেখে খামোখা খ্যাঁক করে ওঠে। আজকে আমাদের অবস্থা সমাজে এ রকম হয়ে গেছে, আরেকজনকে দেখলে ‘খ্যাঁক’ করে উঠি। অসহিষ্ণুতা এতটা বেড়েছে। তাই টেনশন কমানো দরকার। এই টেনশন কমানোর দায়িত্ব রাষ্ট্রের যেমন আছে এবং যারা সামাজিক নেতৃত্বে আছেন– সুশীল সমাজ, ওলামা একরাম তাঁদেরও দায়িত্ব আছে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

আগের দিনে মানুষের একান্নবর্তী পরিবার ছিল। আমি বাড়িতে এলে মা আমার গালে চুমু খেয়েছে, আমার দাদি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছে, আমার বোনরা আমার জন্য দস্তরখানা বিছিয়ে দিয়েছে। কত মায়া আমার জন্য তাদের। ঘরে এসে আমি কী পেয়েছি– মায়া, কত মায়া! বাইরে থেকে আমি যত টেনশন নিয়ে আসি, এখানে এলে সব ‘নেই’ হয়ে যায়।

কিন্তু আজকের দিনে একটা ছেলে স্কুল থেকে এসে কি দেখছে– মা অফিসে, বাবা অফিসে, ভাই-বোন অফিসে, আছে শুধুমাত্র একটা গৃহকর্মী। গৃহকর্মী তার মনকে জানে না, মনকে বোঝে না। দেখা গেল, কাজের মেয়ে তার জন্য এক গ্লাস দুধ নিয়ে আসে, সে জানে গ্লাসে দুধ আছে, খাওয়া ভালো, তাই খায়। এই যে একটা পরিবেশ হচ্ছে আমাদের।

পাশ্চাত্যে প্রথমে পরিবারব্যবস্থা ভালো ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে ভেঙেছে। তার কারণে পরিবার ব্যবস্থাটা ভাঙার পরও বিকল্প পেয়েছে। আমাদের কী হয়েছে? আমাদের দেশে পূর্বের অবস্থানটা একসঙ্গে ভেঙে পড়েছে। এক চান্সে লাফ মেরেছি। একটা সিচুয়েশন থেকে, ফ্যামিলি বা পরিবারিক পরিবেশ থেকে চট করে বদলে গেছি। চট করে বদলে যাওয়ার কারণে এটা সহ্য করতে করতে যে যাবো, তা আমাদের হয়নি। যার কারণে সমাজে বিশৃঙ্খলা বেশি। তাই দেখবেন আমাদের সমাজটা অত্যন্ত অসহিষ্ণু। কিছু একটু হলো কী, এটা ওটা আছড়ে দিল, ছোট বোনটাকে কামড়ে দিল, পিঠে কিল বসিয়ে দিল। এটা ঠিক হলো কি হলো না, তা ভাবছে না। দেখবেন মা-বাবার সম্পর্ক থেকে সে অনেক দূরে। তখন মা-বাবা চিন্তিত হয়ে পড়েন। তখন তাবিজের জন্য আসে আমাদের কাছে। কেন তাবিজ দেব? বলেন যে, আমার মেয়ে যেন কেমন করে। আমি জিজ্ঞেস করছি তার বয়স কত? বলে, তেরো। আমি বলি, তুমি তেরো বছর পর এসেছ তাবিজ নিতে!

 

Farid Uddin Masud - 444
এই মাদ্রাসাগুলো যারা চালাচ্ছে তাদের ইচ্ছামতোই এগুলো চলছে, যার কারণে এই মাদ্রাসা ওই মাদ্রাসার মধ্যে মিল খুব কম

 

একটা সন্তানকে পাওয়ার জন্য যে প্রস্তুতি যে সাধনা– সেটা আমাদের ফ্যামিলিতে নেই। দেখা যায় হঠাৎ করে মা সন্তান নিচ্ছেন। এর ফলে মা টেনশনে ভোগেন।

রাজু আলাউদ্দিন: আচ্ছা। একটা জিনিস জানতে চাই– জুমার দিনগুলোতে মসজিদে– আমি শুনেছি– যে ভাষণ দেওয়া হয়, সেখানে নৈতিক উন্নতির পরিবর্তে অনেক রকম বিদ্বেষমূলক কথা বলা হয়। যেমন আপনি যে ইহুদীদের সঙ্গে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর যে সম্পর্কের, তাদের সঙ্গে যে আচরণের কথা বললেন– সেটার সঙ্গে কোনোভাবে মেলে না। আমি দেখেছি, অনবরত ইহুদিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, বিধর্মীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ। শুধু ইহুদি না, ইহুদি-খ্রিস্টান-হিন্দু-বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়। এগুলো কি কোনোভাবে আমাদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করছে না?

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: হ্যাঁ, করছে। প্রথম কথা হলো, আমাদের মধ্যে ভালোবাসা হারিয়ে যাচ্ছে। মায়া হারিয়ে যাচ্ছে, মমতা-সহানুভূতি-সহমর্মিতা হারিয়ে যাচ্ছে। এর জন্য আমরা দায়ী। এর জন্য সরকারও দায়ী। আমার ছেলেটা শিখছে না– এর জন্য আমাদের সামাজিক ঔদার্য্য বন্ধ হয়ে যাওয়া দায়ী। সুশীল সমাজে একজন আবুল ফজল, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ– এঁরা নেই। ওই সময় সামাজিক যে সেতু যে ভিত্তি ছিল তা খুবই সহিষ্ণু ছিল। সে সহিষ্ণুতা জ্ঞানে, প্রজ্ঞানে। বর্তমানে রাজনীতির জন্যই অনেক সময় অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে।

আগের দিনে মানুষ অনেক বেশি কল্যাণধর্মী ছিলেন। এখন শুধু মাত্র নিজের স্বার্থের জন্য একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, ফ্যাঁসাদ করছে। সেই কল্যাণধর্মীতা নেই। এ জন্য গোটা সামাজিক নেতৃত্বকে দায়ী করা যায়।

রাজু আলাউদ্দিন: আপনি যেটা বললেন, আবুল ফজল বা ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর কথা– এখন সেই জায়গাগুলোতে একটা সংকট-সমস্যা আছে।

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: জানেন, শের-এ-বাংলা কে ছিলেন, চিত্তরঞ্জন দাশ কে ছিলেন– এঁদের চেনে না আজকের ছেলেমেয়েরা। আমি কাউকে হেয় করে বলছি না। কেউ কেউ বড় করে দেখাচ্ছে মেজর জিয়াকে, কেউ কেউ দেখাচ্ছেন শেখ মুজিবকে বড় করে। আমি এদের হেয় করছি না। কিন্তু খুব বড় অর্থে কি তাদের দেখানো হচ্ছে? আমার মা আমাকে বিশেষ করে বলতেন, দেখ বাবা, শের-এ-বাংলার বিরুদ্ধে কখনো কিছু বল না। উনি বড় মানুষ। তো আমাদের সময় এই যে আইকনগুলো ছিল, এখন বাংলাদেশের আইকন কে? মুস্তাফিজ? এই যে দুইটা বল ছুঁড়েই আইকন হয়ে গেছে। এদের প্রভাব কিন্তু পড়ছে। ক্রিকেটকে আমি ছোট করে দেখছি না। তাহলে এরা মওলানা আবুল কালাম, স্যার জগদীশচন্দ্র বসুকে কোথায় পাবে?

মেসি বা নেইমার– ফুটবলে ভাল করে লাথি দিতে পারে, সে-ই হয়ে গেছে কোটি-হৃদয়। তাহলে আইনস্টাইন হবে কী করে? এখন আইনস্টাইনের সেই আলোচনা নেই, মেসি আর নেইমারের যে আলোচনা আছে। আজকে সালমান খানকে যতটুকু চেনে ততটুকু আইনিস্টাইনকে কে চেনে?

রাজু আলাউদ্দিন: তো বর্তমান অবস্থা নিয়ে আপনার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য যদি বলেন?

মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ: বর্তমানে সামাজিক অস্থিরতার পেছনে যুগে যুগে অশিক্ষা-কুশিক্ষা ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের আমি দায়ী মরে করি। যতক্ষণ পর্যন্ত সামাজিক ব্যক্তিত্ব সচেতন না হবে, মানুষ সচেতন না হবে, শিক্ষার বিকাশ না ঘটবে এবং দারিদ্র্য দূর না হবে; ততদিন পর্যন্ত আমার মনে হয় না সামাজিক অস্থিরতা দূরে হবে। আজকে উগ্রবাদিতার নামে যে অস্থিরতা কালকে আরেক নামে অস্থিরতা তৈরি হতেই পারে। এই অস্থিরতা দূর করতে হলে এই তিনটা কম্পোনেন্ট এখন বেশি জরুরি। এক. শিক্ষার মান নিশ্চিতকরণ ও বিকাশায়ন। শিক্ষা শুধু শিক্ষা নয়, শিক্ষার মাধ্যমে মানসিক বিকাশ নিশ্চিত হতে হবে। দ্বিতীয়টা হলো, মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা। আরেকটা হলো সামাজিক নেতৃত্বের সচেতনতা।

রাজু আলাউদ্দিন: অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

মওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসউদ: শুকরিয়া।

 

[অনুলিখন: অলাত এহ্সান]

রাজু আলাউদ্দিনলেখক ও সাংবাদিক

১৬৪ Responses -- “হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.) হযরত আলীকে (রা.) বললেন, ‘রাসুলুল্লাহ’ লেখার দরকার নেই, ‘রাসুলুল্লাহ’ শব্দটা কাট”

  1. Rafiqul Islam

    এদের নামাজ দেখলে তোমার নিজেকে হেয় মনে হবে যে আমি হয়তো নামাজ ঠিকমতো পড়তে পারলাম না; এদের ইবাদত দেখলে তোমার নিজের ইবাদতকে খাটো মনে হবে; এদের চলাফেরা দেখলে তোমার নিজের চলাফেরাকে খাটো মনে হবে। কিন্তু এদের অবস্থা এমন, ইসলাম থেকে এরা এমনভাবে বেরিয়ে যাবে যে ইসলামের সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক নেই।

    Reply
  2. Mubin

    আমার কাছে সবচাইতে ভালো লেগেছে উনার এই কতঃআগুলো:

    “এই যে দেখুন, আজকে আমাদের দেশে আইনমূলকভাবে তালাকের মাত্রাটা বেড়ে গেছে। এটার মূলে কিন্তু একই কারণ– টেনশন। আজকের দিনে সমাজের সব শ্রেণির– আমার উদাহরণটা, দুই হাত জোড় করে বলছি, শুধু আপনার জন্য, আপনি চাইলে কেটেও দিতে পারেন– আজকাল এরকম অবস্থা হয়ে গেছে একটা কুকুর আরেকটা কুকুরের প্রতি যেমন করে। একটা কুকুরকে একজন ছুঁয়ে গেছে, দূর দিয়ে আরেকটা কুকুর যাচ্ছে, এটা দেখে খামোখা খ্যাঁক করে ওঠে। আজকে আমাদের অবস্থা সমাজে এ রকম হয়ে গেছে, আরেকজনকে দেখলে ‘খ্যাঁক’ করে উঠি। অসহিষ্ণুতা এতটা বেড়েছে। তাই টেনশন কমানো দরকার। এই টেনশন কমানোর দায়িত্ব রাষ্ট্রের যেমন আছে এবং যারা সামাজিক নেতৃত্বে আছেন– সুশীল সমাজ, ওলামা একরাম তাঁদেরও দায়িত্ব আছে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

    আগের দিনে মানুষের একান্নবর্তী পরিবার ছিল। আমি বাড়িতে এলে মা আমার গালে চুমু খেয়েছে, আমার দাদি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছে, আমার বোনরা আমার জন্য দস্তরখানা বিছিয়ে দিয়েছে। কত মায়া আমার জন্য তাদের। ঘরে এসে আমি কী পেয়েছি– মায়া, কত মায়া! বাইরে থেকে আমি যত টেনশন নিয়ে আসি, এখানে এলে সব ‘নেই’ হয়ে যায়।

    কিন্তু আজকের দিনে একটা ছেলে স্কুল থেকে এসে কি দেখছে– মা অফিসে, বাবা অফিসে, ভাই-বোন অফিসে, আছে শুধুমাত্র একটা গৃহকর্মী। গৃহকর্মী তার মনকে জানে না, মনকে বোঝে না। দেখা গেল, কাজের মেয়ে তার জন্য এক গ্লাস দুধ নিয়ে আসে, সে জানে গ্লাসে দুধ আছে, খাওয়া ভালো, তাই খায়। এই যে একটা পরিবেশ হচ্ছে আমাদের।

    পাশ্চাত্যে প্রথমে পরিবারব্যবস্থা ভালো ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে ভেঙেছে। তার কারণে পরিবার ব্যবস্থাটা ভাঙার পরও বিকল্প পেয়েছে। আমাদের কী হয়েছে? আমাদের দেশে পূর্বের অবস্থানটা একসঙ্গে ভেঙে পড়েছে। এক চান্সে লাফ মেরেছি। একটা সিচুয়েশন থেকে, ফ্যামিলি বা পরিবারিক পরিবেশ থেকে চট করে বদলে গেছি। চট করে বদলে যাওয়ার কারণে এটা সহ্য করতে করতে যে যাবো, তা আমাদের হয়নি। যার কারণে সমাজে বিশৃঙ্খলা বেশি। তাই দেখবেন আমাদের সমাজটা অত্যন্ত অসহিষ্ণু। কিছু একটু হলো কী, এটা ওটা আছড়ে দিল, ছোট বোনটাকে কামড়ে দিল, পিঠে কিল বসিয়ে দিল। এটা ঠিক হলো কি হলো না, তা ভাবছে না। দেখবেন মা-বাবার সম্পর্ক থেকে সে অনেক দূরে। তখন মা-বাবা চিন্তিত হয়ে পড়েন। “

    Reply
  3. Shaukat

    আচ্ছা। একটা জিনিস জানতে চাই, “জুমার দিনগুলোতে মসজিদে– আমি শুনেছি– যে ভাষণ দেওয়া হয়, সেখানে নৈতিক উন্নতির পরিবর্তে অনেক রকম বিদ্বেষমূলক কথা বলা হয়। যেমন আপনি যে ইহুদীদের সঙ্গে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর যে সম্পর্কের, তাদের সঙ্গে যে আচরণের কথা বললেন– সেটার সঙ্গে কোনোভাবে মেলে না। আমি দেখেছি, অনবরত ইহুদিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ, বিধর্মীদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ। শুধু ইহুদি না, ইহুদি-খ্রিস্টান-হিন্দু-বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো হয়। এগুলো কি কোনোভাবে আমাদের মধ্যে প্রভাব বিস্তার করছে না?”

    Mr. Tipu Alauddin, in one of his questions has mentioned that during the Jumua sermons, a varieties of hatred arousing things are told instead of telling about moral development. He has also mentioned that hatred is observed to be spread out against the Jews, Christians, Hindus and Buddhists in the khutbas. In reply to his first statement, I would like to tell that his statement is not entirely correct. Besides praying against the non-Muslim torturers, a lot of good things are also stated in the Jumua sermons. And in reply to his second statement, I would like to tell that Muslims don’t believe in a single nation. They believe in Muslim-Umma or brotherhood. So, whenever they see Muslims of any particular place perpetrated illegally in the hands of the non-Muslims they stand against them in a number of ways including praying to Allah (swt) for preventing them from doing further harms against the Muslims.

    Reply
  4. S. Karim

    এত সুন্দর একটা স্বাক্ষাৎকার এতদিন পরে প্রচার হলো কেন? তাও আবার শিরোনামটি নেতিবাচক হিসাবেই আমার কাছে মনে হয়েছে।
    তবে অন্যদিক হিসাব করলে, এই শিরোনামের জন্যেই মানুষ স্বাক্ষাৎকারটি পড়বে এবং পরে সব বুঝতে পারেব।
    আল্লাহ এমন একটি নির্ভেজাল আলেমকে দীর্ঘজীবী করুন। বর্তমানে এমন একজন আলেমের খুবই দরকার।

    Reply
  5. পারভেজ

    মাওলানা ফরিদ মাসুদ সাহেবের যোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। এজন্য আলেম-বুজুর্গদের মজলিসে উনাকে বর্তমান যুগের ‘বালাআম বাউর’ বলে গণ্য করা হয়। (উল্লেখ্য, বালাআম বাউর ছিলেন হযরত মুসা (আঃ)-এর যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ বুজুর্গ।) এ থেকেই মাওলানা সাহেবের শান-মান অনুধাবন করা যায়।

    Reply
  6. সামছুদ্দিন আহমেদ

    সাক্ষাৎকারের শিরোনাম এবং যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে তাতে পাঠকের মনে শুরুতেই নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হওয়ার অাশংকা থেকে যায়। পুরো সাক্ষৎকারটি না পড়লে কেউ বিভ্রান্ত হতে পারেন। সাক্ষাৎকারটি এভাবে কেন উপস্থাপিত হলো তা জানতেহয়তো পাঠকদের মনে কৌতুহল সৃষ্টি হতে পারে।

    Reply
  7. সামছুদ্দিন আহমেদ

    মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেবকে অশেষ ধন্যবাদ তাঁর এ মূল্যবান সাক্ষাৎকারের জন্য। তিনি অত্যন্ত নিপুনভাবে আজকের সমাজের ব্যাধিটা চিহ্নিত করতে পেরেছেন। ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ সাক্ষৎকারটি ব্যাপক প্রচারের দাবি রাখে। যদি সম্ভব হয় ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে কয়েক বার প্রচার করা হোক। তাতে হয়তো অনেক বিপথগামীরা তাদের ভুল বুঝতে পেরে সঠিক পথের সন্ধান পাবেন। আল্লাহ মাওলানা সাহেবকে দীর্ঘজীবী করুন। এ দোয়া রইল। আমিন!

    Reply
  8. motiur

    মাওলানার পিছনে দেীঁড়ানোর দরকার নেই। পবিত্র কোরআন ও হাদিস ভালভাবে পড়েন, সব বুঝতে পারবেন।

    Reply
    • মইনুল হাসান

      অত্যন্ত ভয়ঙ্কর এবং জঘন্য একটা কথা একটা । নিজে নিজে কোরান পড়ার জন্য কোরান আসে নাই । উপযুক্ত উস্তাদ থাকতে হবে । যে নিজে কোরান হাদীস পড়ে সে নিশ্চিত গোম্রাহ এবং তার দ্বারা ইসলামের যে ক্ষতি হয় সেটা কোন বিধর্মীর দ্বারাও সম্ভব না ।

      Reply
  9. ময়েনুল ইসলাম

    মাওলানার পিছনে দেীঁড়ানোর দরকার নেই। পবিত্র কোরআন ও হাদিস ভালভাবে পড়েন, সব বুঝতে পারবেন।

    Reply
    • মইনুল হাসান

      অত্যন্ত ভয়ঙ্কর এবং জঘন্য একটা কথা একটা । নিজে নিজে কোরান পড়ার জন্য কোরান আসে নাই । উপযুক্ত উস্তাদ থাকতে হবে । যে নিজে কোরান হাদীস পড়ে সে নিশ্চিত গোম্রাহ এবং তার দ্বারা ইসলামের যে ক্ষতি হয় সেটা কোন বিধর্মীর দ্বারাও সম্ভব না ।

      Reply
    • আব্দুল মান্নান

      আমার বক্তব্য হল আমাদের সবাইকে মাওলানাদের গিছনে ছুটাছুটির দরকার নেই। কারণ আমরা মুসলমান আমাদের প্রথম গ্রন্থ হল কোরআন। অতএব আমরা কোরআন এবং রাসুলে পাক (সাঃ) হাদিস অনুযায়ী মেনে চলা অতি উত্তম। আমরা যদি পবিত্র কোরআনকে সঠিকভাবে বুঝে উত্তর সহকারে পড়ি তাহলে আমরা বুঝতে পারব আসলে আমাদের ভুল কোথায়। কেন আমরা এত দলাদলি করি আর আলেমদের পিছনে ভাগি। এখনও সময় আছে ভুল পথ থেকে আমরা ফিরে আসি।

      Reply
      • মো:আব্দুল মান্নান

        খুবই ভালো লাগল আপনার মন্তব্য পড়ে। সাধারণত এইসব জায়গায় হতাশাজনক মন্তব্যই বেশি দেখা যায়। কখনো কখনো সেটা গালাগালিতে পরিণত হয়, কিন্তু একজন নন-মুসলিমের কাছ থেকে এই রকম পজিটিভ কমেন্ট সত্যিই ভালো লাগল…

        কেউ যদি ইসলাম সম্বন্ধে জানতে চায়, ইসলাম কী তা বুঝতে চায়, তবে তার উচিৎ বর্তমান সময়ের কোন মুসলমানকে না দেখে বা অনুকরণ না করে বরং ইসলামের সর্বশেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (সা:)-এর আদর্শ, চরিত্র এবং জীবনীকে অনুসরণ করা। কুরআনেও এই কথাই আছে । এবং আমরা প্রত্যেক মুসলমানকে এটা বুঝার দরকার যে বর্তমানে আলেম সমাজ এমন অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছে সম্পূর্ন ভুল পরামর্শ্ আর এবং ভুয়া হাদিসের বাণী দিচ্ছে। এদের পিছনে না দৌঁড়ায়া এখনো সময় আছে আমরা সব ভাই ভুল পথ থেকে ফিরে আসি। আমিন।

        আগস্ট ২, ২০১৬

      • ispahani arif jahan

        আপনি যে পন্ডিতি করতেছেন যে কোরআনের অর্থসহ পড়বেন,ওস্তাদ ছাড়া আপনি কেমনে পড়বেন কিভাবে শিখবেন। নিজে নিজে সব পারলেতো আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরকার ছিলনারে ভাই

  10. shakibur

    এই মানুষটাকে আমি যে কত সম্মান করি তা ভাষায় বলা সম্ভব না। আপনি দেশের জন্য, ধর্মের জন্য যা করছেন তার ঋণ শোধ করা অসম্ভব।

    Reply
  11. zakir

    খুব সুন্দর কথাবার্তা। এখানে মিসগাইডেড কিছু তো দেখলাম না। না বুঝে এমন হেডিং দেওয়ার কী দরকার ছিল? আগে বুঝতে হবে, পরে আলোচনা-সমালোচনা।

    Reply
    • Jasmin Akther Suma

      আমি আপনা সঙ্গে একমত হতে পারছি না… এখন দেখা যাবে এই হেডলাইন দেখেই অনেকে ধারণা করবে রাসুলুল্লাহ বলা যাবে না… পুরো আর্টিকেলটা কেও পড়বে না… আজকালকার হেডলাইন এমনভাবে দেওয়া হয় যাতে মানুষজন সংবাদটা পড়তে আগ্রহী হয়। কিন্তু তার ফলাফল নিয়ে কেউ চিন্তিত না… এরাই আবার সমাজের মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে লিখে কলম শেষ করে ফেলছেন… আজব পাবলিক…

      Reply
  12. মুফতী সিরাজী

    জিহাদ আর জঙ্গিবাদ এক নয়। তথাকথিত জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দ্বারা অন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয় আর জিহাদ দ্বারা ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়। শুধু অস্ত্রের ঝনঝনানিতে যদি মুজাহিদ হত তবে ডাকাত দল সবচেয়ে বড় মুজাহিদ হত।

    জিহাদ আদর্শ, কৌশল ও মানবসভ্যতা, যা দ্বারা প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ অধিকার নিয়ে এক স্থিতিশীল সমাজ গঠন করতে পারে। জিহাদকে ছদ্মনাম বানিয়ে অনেক ইসলাম-বিদ্বেষী সংগোপনে অস্ত্রবাজি করে। মুুসলিমদেরকে বিশ্বদরবারে একটি আতঙ্কবাজ জাতি হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতে চাচ্ছে। এরা ঠিক ঘোলাটে জলে মৎস শিকার করার প্রয়াস করেছে।

    সারা বিশ্বে যদি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে আমাদের রাখতে পারে তবে সাম্রাজ্যবাদী গং নির্বিঘ্নে গ্রাস করবে ভূমিতল। আর এটাই তারা চাচ্ছে।

    Reply
    • Saleh

      মুফতী সাহেব -“ জিহাদ আদর্শ, কৌশল ও মানবসভ্যতা, যা দ্বারা প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ অধিকার নিয়ে এক স্থিতিশীল সমাজ গঠন করতে পারে। “ বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন ব্যাখ্যা করবেন কী ?

      Reply
    • sondor jibon

      মুফতি সাহেবকে অনুরুধ কনব যে, তাহলে আমরা জিহাদটাকে কি ভাবে করতে পারি ইকটু ইস্পষ্ট করে বলবেন কি?

      Reply
  13. Akash Malik

    মউলানা মাসউদ যে সত্য বলছেন তা আপনারা নিশ্চিত হলেন কীভাবে? সহিষ্ণুতা দেখিয়ে যে ঘটনাগুলো বলেছেন এর বিপরীত ঘটনাও যে নেই তা সেটা কোরান হাদিস ও ইসলামের ইতিহাস না পড়ে জানলেন কীভাবে? অনেকের মন্তব্যে সেটাই প্রতিয়মান হয় যে, তারা এসব আগে মোটেই শোনেননি বা পড়েননি।

    নবীর পথে কাঁটা বিছানোর ইহুদী বুড়ির কেচ্ছা আর বিদ্যা অর্জন করতে সুদূর চীন দেশে যাওয়ার হাদিস শোনা পর্যন্ত যাদের ইসলামি জ্ঞান, তারা মউলানা মাসউদের ওয়াজ শুনে অবাক হবেনই। কারণ এর বিপরীতটা তাদের জানা নেই। মাউলানা মাসউদকে অনেক আগেই এ দেশের আলেম ওলামারা খারেজ করে দিয়েছেন আসল আলেমের খাতা থেকে।

    হেফাজতের এক আলেম টক শোতে দুনিয়ার সামনে তাকে তাসলিমা নাসরিনের সাথে তুলনা করেছেন। মাউলানা মাসউদ বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা, নারী উন্নয়ন নীতিমালার বিরোধিতা করেছেন। সব কিছু ব্যাখ্যা করতে হলে পুরো একটা প্রবন্ধই হয়ে যাবে। দুটো হাদিস এখানে উল্লেখ করা হলো, এর মধ্যে কোথাও লেখা নেই যে, হুদাইবিয়ার সন্ধিতে মুহাম্মদ (সা.) সন্ধিপত্র লেখক তাঁর জামাতা আলী (রা.) বলেছিলেন; ‘দেখাও কোন জায়গায় (রাসুলুল্লাহ) লিখেছ’। মউলানা মাসউদ এখানে মুহাম্মদ (সা.)কে অক্ষরজ্ঞানহীন বুঝাতে অতিরিক্ত একটি বাক্য যোগ করেছেন। আর যদি মেনেই নেওয়া হয় ঘটনা সত্য, এরকমই হয়েছিল, তাহলেও সমস্যা আছে।

    কারণ হোদাইবিয়া সন্ধির অনেক পরে কোরানে বারবার সেই চুক্তির কথা বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ ও আল্লাহর রাসুলের সাথে চুক্তি।’ হোদাইবিয়ার চুক্তিতে আল্লাহর নাম কলম দিয়ে কেটে দিয়ে কোরানে এসে আবার সেই বাক্য লেখা কেন? এরপর মউলানা মাসউদ বলেছেন; হজরত আলীর (রা.) হত্যাকারীকে মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন জাহান্নামী। মুহাম্মদ (সা.) মৃত্যুর পরে এ কথা বলেন কীভাবে? আর মউলানা মাসউদ নাস্তিকদের মধ্যে অসহষ্ণুতার কী পেলেন, কোথায় পেলেন?

    নাস্তিকরা তো শুধু মারই খেল, খুন হল, কোনোদিন অস্ত্র হাতে নিল না, তাহলে কেমন করে কী? হাদিস দুটো নিচে দেওয়া হলো;

    Volume 3, Book 49, Number 862:
    Narrated Al-Bara bin ‘Azib:

    When Allah’s Apostle concluded a peace treaty with the people of Hudaibiya, Ali bin Abu Talib wrote the document and he mentioned in it, “Muhammad, Allah’s Apostle .” The pagans said, “Don’t write: ‘Muhammad, Allah’s Apostle’, for if you were an apostle we would not fight with you.” Allah’s Apostle asked Ali to rub it out, but Ali said, “I will not be the person to rub it out.” Allah’s Apostle rubbed it out and made peace with them on the condition that the Prophet and his companions would enter Mecca and stay there for three days, and that they would enter with their weapons in cases.
    ________________________________________

    Volume 3, Book 49, Number 863:
    Narrated Al-Bara:

    When the Prophet intended to perform ‘Umra in the month of Dhul-Qada, the people of Mecca did not let him enter Mecca till he settled the matter with them by promising to stay in it for three days only. When the document of treaty was written, the following was mentioned: ‘These are the terms on which Muhammad, Allah’s Apostle agreed (to make peace).’ They said, “We will not agree to this, for if we believed that you are Allah’s Apostle we would not prevent you, but you are Muhammad bin ‘Abdullah.” The Prophet said, “I am Allah’s Apostle and also Muhammad bin ‘Abdullah.” Then he said to ‘Ali, “Rub off (the words) ‘Allah’s Apostle'”, but ‘Ali said, “No, by Allah, I will never rub off your name.” So, Allah’s Apostle took the document and wrote, ‘This is what Muhammad bin ‘Abdullah has agreed upon: No arms will be brought into Mecca except in their cases, and nobody from the people of Mecca will be allowed to go with him…

    (Translation of Sahih Bukhari, Book 49:)

    Reply
      • Saleh

        উল্লিখিত হোদায়বিয়ার সন্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ গোপন করা হয়েছে। মুহাম্মাদ (সা:) খবর পেলেন মক্কার কাফিরগণ হযরত ওসমান (রাঃ)-কে আটক করেছেন এবং হত্যা করেছে তখন উক্ত স্থানে অবস্থিত প্রায় চৌদ্দশত সাহাবা হুজুর (সা:)-এর হাতে হাত রেখে বায়াত গ্রহণ করলেন এই মর্মে যে, এ হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে একযোগে যুদ্ধ করতে থাকবেন মক্কা বিজয় অথবা শহীদ না হওয়া পর্যন্ত।
        সে সময় ওসমান (রা:) খলিফা ছিলেন না; ছিলেন সাহাবা, তাঁর পরিচয় একজন মোসলেম।
        “নবি (সাঃ) একজন মোসলেমকে অন্যায়ভাবে হত্যার বদলা হিসেবে নিজেসহ চৌদ্দশত সাহাবার জীবন দিতে চেয়েছিলেন।” এ অশংটুকু একই সময়ের ঘটনা ও সহিষ্ণুতার বিষয় প্রাসঙ্গিক আলোচনা। কিন্তু মাসউদ সাহেব কোন উদ্দেশ্যে উক্ত সত্য গোপন বা পাশ কেটে গেলেন? তিনি গোপন রাখলেন এ জন্য যে, তিনি বহু আগেই তাগুতের কাছে তাঁর এলেম বিক্রি করে দিয়ে হক থেকে বিচ্যুত হয়েছেন!

    • শামীম

      ঠিকই কলেছেন মাওলানা মাসউদ সাহেব, ক্লগারেরা আংশিক জ্ঞান নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে।

      Reply
    • হাসান তানভীর

      রাসুল নিরক্ষর ছিলেন এটা সবাই জানে। এজন্যই আলির (রা) লেখায় কোথায় রাসুলুল্লাহ ছিলো বুঝতে পারেননি। আলীকে হত্যা করা হবে এটা রাসুল জীবিত থাকাবস্থায় ভবিষ্যদ্বানী করেছিলেন। তার হত্যাকারীর পরিণতির কথাও ওই সময় বলেছিলেন। কিছু জানতে হলে নির্মোহভাবে পড়ুন। ভুল ধরার নিয়তে পড়লে বিভ্রান্তিতে পড়তে হবে। ধন্যবাদ।

      Reply
  14. Saleh

    আপনি হাক্কানী আলেম থেকে বিচ্যুত। মহান আল্লাহ আপনাকে হকের উপর অধীষ্ঠিত করুন। আমীন। এটা দ্বীনের সবচেয়ে বড় সহিষ্ণুতা।

    Reply
    • আলী হাসান

      আপনি ভুল বলছেন৷ মাওলানা মাসউদ ঠিকই বলেছেন৷ আপনি যে কুরআনে উল্লেখিত বাইয়াতে রিদওয়ানের কথা বলছেন, সেটা একজন মুসলমান হত্যার বদলার জন্য ছিল না৷ সেটা ছিল শান্তি বা রাষ্ট্রদূত হত্যার বিরুদ্ধে৷ এ ধরনের দূত হত্যা সব জাতি ও সভ্যতাতেই প্রতিশোধযোগ্য ও প্রেসটিজিয়াস ভাবা হয়৷ এ দিয়ে আপনার দাবি প্রমাণের চেষ্টাই প্রমাণ করে মানুষ কিভাবে ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা করে৷ এ জন্যই শুধু কুরআন-হাদিস নিজে নিজে জানা যথেষ্ট নয়, যোগ্য আলেমের সান্নিধ্যে তা শিখতে হবে৷

      Reply
      • Saleh

        উক্ত বিষয়ে আপনার মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আলোচ্য বিষয় ব্যতিরেকেও একজন আলেম-এর পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা এবং উক্ত জ্ঞানের উপর অধীষ্ঠিত থাকা জরুরী। এ ক্ষেত্রে মাসুদ সাহেব-এর জ্ঞান ও শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রশ্নাতীত নয়। কিন্তু প্রশ্ন হল তাঁর যোগ্যতার অনুশীলন নিয়ে। কেউ দ্বীন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখা সত্ত্বেও যদি তিনি দ্বীন ধারণ না করেন তবে তিনি হকের উপর অবিচল নন।

  15. R. Masud

    মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ সাহেবের আলাপচারিতা, উনার বলা কথাগুলো পড়ে মনে হচ্ছে, উনি ধর্মের গোঁড়ামিকে দূর করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন– তার জন্য আমার মনের গভীর থেকে উনার জন্য দোয়া করছি।
    কিন্তু উনার সহিষ্ণুতার উদাহরনটা দেখে মেনে হয়েছে– এটা না দিলেও পারতেন। এটাতে বিরাট সহিষ্ণুতা দেখানো হয়েছে বলে মনে হয় না। তা ছাড়া “কতটা সহিষ্ণুতা ” কথাটা যোগ করে আমাদের নবী (সা.)-কে হালকা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

    Reply
  16. H M Hossain

    How does it possible for Prophet Muhammad (S.) couldn’t make hand writing.

    Farid Uddin Masud is totally ravish, he was founder of “so called Islamist terrorism”

    How it is possible for Prophet Muhammad (S) to comment on death of Hazrat Ali (R)? Prophet Muhammad (S) died before Ali (R).

    Reply
  17. Rashedul Haque

    অামার কয়েকটা প্রশ্ন–
    ১/ রাসুল (সা:) যখন ইন্তেকাল করলেন, তখন কি চারজন সাহাবি একসাথে হুজুর (সা:) জানাযায় উপস্থিত ছিলেন?

    ২/ যদি চারজন একসাথে না থাকে তাহলে কে ছিলেন? তারপর যারা ছিলেন না তাদের প্রতিক্রিয়া কি ছিল? রাসুল (সা:)-এর দেহ নিয়ে কি কোনো ঝগড়া হয়ে ছিল?

    ৩/ তাবলীগ কি? মসজিদে মসজিদে গিয়ে মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার বিষয়ে ইসলামে কি বলে?

    Reply
  18. কামাল হোসাইন

    ফরিদ সাহেব আপিন কিভাবে বললেন, “রাসুল (সঃ) লিখতে জানতেন না”, এবং “রাসুল (সঃ) বলেছেন, হযরত আলী (রাঃ) হত্যাকারীরা মুসলমান না।” এটা রাসুল (সঃ)-এর ব্যপারে সরাসরি অপবাদ, এতে আপনার মুনাফেকি স্পষ্ট হয়ে গেছে।

    Reply
    • মাহফুজ

      মহানবী (সা:) পড়তে অথবা লিখতে কোনোটাই পারতেন না; সাহাবীরা তাঁর হয়ে এগুলো করে দিতেন; এখানে অপবাদ অথবা অসম্মান কিছুই নেই আসলে, যেহেতু স্বয়ং আল্লাহ্ তাআলা উনাকে শিখিয়েছেন!

      Reply
      • কবীর

        আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) লিখতে জানতেন না– এটা সম্পূর্ণ ভুল একটা কথা। কেননা পৃথিবীর বুকে যদি একটি জ্ঞানী ব্যক্তি থাকে সেটা হল আল্লাহপাকের হাবীব আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)। মাইকেল এইচ হার্ট নামে একজন খ্রিস্টান লেখক, পৃথিবীর ১০০ জন শ্রেষ্ঠ জ্ঞানীদের নিয়ে একটি বই লিখছেন যার নাম “The 100” এই বইয়ে তিনি প্রথমেই আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর নাম দিয়েছেন। (সুবহানাল্লাহ!)। একজন বিধর্মী সেও জানে যে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) একজন শ্রেষ্ঠ জ্ঞানী ব্যক্তি। আল্লাহপাক পৃথিবীর সমস্ত জ্ঞান হুজুরপাক (সাঃ)-কে দান করেছেন। কাজেই যে বলবে যে হুজুর পাক (সাঃ) পড়তে বা লিখতে পারতেন না সে একটা মুর্খ ছাড়া আর কিছুই না।

  19. বিশ্বজিৎ চন্দ্র নাথ

    জ্ঞানে, চিন্তায়, বিচার বিশ্লেষণে আপনার মত বিচক্ষন হোক, একজন ভিন্ন ধর্মাবলম্বী (বিধর্মী নয়) হিসেবে এই আমার কামনা। সৃষ্টিকর্তা আপনাকে দীর্ঘজীবি করুন। লেখাটা পড়ে আপনার প্রতি শ্রদ্ধা আমার অনেক বেড়ে গেল। ইসলামের সত্যিকারের দিকটা এত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন আপনি যা এক কথায় অসাধারণ। আপনাকে এই সমাজে আজ বড়ই প্রয়োজন।

    Reply
    • ইমরান আহমেদ

      খুবই ভালো লাগল আপনার মন্তব্য পড়ে। সাধারণত এইসব জায়গায় হতাশাজনক মন্তব্যই বেশি দেখা যায়। কখনো কখনো সেটা গালাগালিতে পরিণত হয়, কিন্তু একজন নন-মুসলিমের কাছ থেকে এই রকম পজিটিভ কমেন্ট সত্যিই ভালো লাগল…

      কেউ যদি ইসলাম সম্বন্ধে জানতে চায়, ইসলাম কী তা বুঝতে চায়, তবে তার উচিৎ বর্তমান সময়ের কোন মুসলমানকে না দেখে বা অনুকরণ না করে বরং ইসলামের সর্বশেষ নবী হযরত মোহাম্মদ (সা:)-এর আদর্শ, চরিত্র এবং জীবনীকে অনুসরণ করা। কুরআনেও এই কথাই আছে।

      Reply
  20. Ennr. Mizanur Rahman, Karlauerstrasse 42a, Graz, Austria

    অথচ হযরত আলী (রা.)এর হত্যাকারী সম্বন্ধে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ওরা জাহান্নামী, মুসলমান না। কিন্তু দেখতে তো একই রকম।
    How it is possible for Prophet Muhammad (S) to comment on death of Hazrat Ali (r)? Prophet Muhammad (S) died before Ali. (Muhammad (S) in 632AD and Ali (r) in 661AD). Can you please make it clear? Thank you.

    Reply
    • ইমরান আহমেদ

      এই প্রশ্নটা আমার মনেও এসেছে, কিন্তু নিশ্চয়ই এর কোনো যথার্থ ব্যাখ্যা আছে… সম্ভবত, আমি আপনি এখান থেকে কোন ব্যাখ্যা পাবো না… তাই বিভ্রান্ত না হয়ে আপনার পরিচিত একজন হক এবং যোগ্যতা সম্পন্ন আলেমের কাছে জিজ্ঞেস করুন, ইনশাআল্লাহ উত্তর পেয়ে যাবেন…

      Reply
    • মাহফুজ

      It is quite possible as Prophet Muhammad (S.) commented on a lot of things that happened or will happen after His death. I am interested about the reference from the hadith though!

      Reply
  21. shah matin tipu

    মাওলানা ফরিদ ঊদ্দিন মাসউদ,

    সাক্ষাতকারে দেওয়া আপনার বক্তব্যে আমি ভীষণ মুগ্ধ। আল্লাহ দীর্ঘদিন আপনার মতো আলেমদের বক্তব্য শোনার তৌফিক দিন।

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      আমার প্রস্তাব– শিরোনাম হোক ‘ইসলাম ও জঙ্গিবাদ’।

      Reply
  22. মুক্তি

    নবীজির আদর্শের মানুষ থাকলে সকল মানুষ এক সময় মুসলিম হতো। যাদের মধ্যে ধৈর্য্য নাই, জ্ঞান নাই, তারাই উগ্রবাদী হয়। আল্লাহ যেন সবাইকে সঠিক ইসলাম বোঝার তৌফিক দেন, আমিন।

    Reply
  23. সাজ্জাদ আলী খান

    পড়ে খুব ভাল লাগল। হুজুরকে মহান আল্লাহ্‌ তাঁর রহমত বর্ষণ করবেন যাতে আমাদের বিভ্রান্তি দূর করতে তিনি কাজ করে যেতে পারেন। জেহাদের তিনটি স্তর ১-নফস বা লোভ-লালসা থেকে মুক্তিলাভের জন্য নিজ চরত্র গঠনের সংগ্রাম; ২-এলেম বা জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা; ৩-ধর্ম প্রতিষ্ঠা।
    আমি মনে করি, প্রথম দুই স্তর অর্জনের যথেষ্ট চেষ্টা না করেই যদি আমরা বেপরোয়া হয়ে যাই তা হলে ইসলামকে সবাই ভুল বুঝবে।
    আবার শুধু ৩ নম্বর স্তরেও পবিত্র কোরআন শরীফে নিরীহ বৃদ্ধ-নারী-শিশু এবং নিরস্ত্র বিধর্মীদের রক্ষা করে যুদ্ধরত কাফেরদের খুন করার কথা বলা হয়েছে, আজকে একদল লোক যাকে ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে।
    এই “খুন বা হত্যার” বিষয়টা পরিষ্কার থাকা জরুরি–
    সকল ধর্মে ধর্মযুদ্ধ আছে, অবশ্যই সাথে ‘রীতি-নীতি’ও আছে, তা না মেনে শুধু খুনাখুনি করার জন্য ধর্মযুদ্ধ হতে পারে না। নিরপরাধ মানুষকে রক্ষা করে কেবল যুদ্ধরত শত্রুসেনাদের হত্যা করা ধর্মযুদ্ধসহ, যে কোনো যুদ্ধের বিধান, একই সাথে যুদ্ধ ঘোষণা না করে কাউকে লুকিয়ে হত্যা করে সেটাকে পড়ে জেহাদ বলা কোনো সৎ ধার্মিকের কাজ হতে পারে না।
    আর মহান সৃষ্টিকর্তা ‘হত্যা’র কাজের ‘অনুমতি’ বা ‘নির্দেশ’ কেন দিলেন? এই প্রশ্নেরও একটা উত্তর হচ্ছে: ‘অপরাধের শাস্তি’ হিসাবে, ‘খুনের বদলা’ হিসাবে বা ‘যুদ্ধের ময়দানে বিরোধী পক্ষের সৈন্যকে হত্যা’ করার বিধান সব সমাজেই আছে, যা অবশ্যই ন্যায়বিচার অনুযায়ী হতে হবে; সৃষ্টিকর্তা যদি অনুমতি না দিতেন তাহলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পরেও কারো মৃত্যুদন্ড কার্য্যকর করা যেত না। যুদ্ধ করা যেত না। ডাকাতের হামলা ঠেকানো যেত না। ফলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে মৃত্যু পরোয়ানা কার্যকর করতেই হত্যার এ বিধান। আরেকটি কথা, জল্লাদ বা বেতনভুক সৈন্যরা যথাযথ ন্যায়ানুগ নির্দেশ পাওয়ার পরেও খুনের পাপের ভয়ে ফাঁসী কার্য্যকর করা বা বিপক্ষ দলের দিকে গুলি ছুড়তো না এবং শয়তান বা গুন্ডা বদমাশদের কেঊ ঠেকাতে পারত না।

    Reply
  24. Zaber

    Pls keep the heading which was given at first time. It was good but you have change this which will make Mawlana Masud controversial, but his explanation is very good and clear.
    Pls dont make him controversial only for your business!
    I think some media person want to trade news and article. It is not a subject to trade.

    Reply
  25. Mukul kanti Biswas

    আপনার লেখা আমার খুব ভাল লেগেছে। আমি আপনার সাথে সম্পুর্ণ একমত।

    Reply
  26. গোলাম ফারুক হামিম

    একটি ভাল সাক্ষাৎকার হেডিং-এর কারণে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি করতে পারে।

    Reply
    • কাজী মো: জাহিদ উল্লাহ

      শিক্ষণীয় অনেক কিছু আছে। ভাল লাগলো। কিন্তু শিরোনামটা একদমই ভাল হয়নি।

      Reply
  27. মাহফুজুর রহমান

    বিস্তারিত পড়ে জানলাম “হযরত রাসুলুল্লাহ (সা.) হযরত আলীকে (রা.) বললেন, ‘রাসুলুল্লাহ’ লেখার দরকার নেই, ‘রাসুলুল্লাহ’ শব্দটা কাট” কেন বলেছেন। ঠিক তেমনিভাবে আজকে যারা ইসলামের নামে মানুষ মারছে জঙ্গি হচ্ছে তারা আসলে ইসলাম কি জানে না। তারা বিভ্রান্ত,তাদের বিভ্রান্তকারীরাই বিভ্রান্ত করছে। তাই আমাদের সচেতন হওয়া দরকার…

    Reply
  28. মো ওসমান গনি

    খুব যুক্তিগত সাক্ষাৎকার, ইসলাম শান্তির ধর্ম। আমি মনে করি, মাওলানা ফরিদ ঊদ্দিন মাসউদ আলেম সমাজের দাবিদার হিসেবে ইসলামের শান্তির দিকটা প্রচার করতে পারেন। আশা করি Bdnews24 সামনে আরও সাবধান হবে, আর নাস্তিক্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গডে তুলবে।

    Reply
  29. pranta

    সত্যি অসাধারণ! আল্লাহ আমাদের ইসলাম সত্যিকারভাবে বোঝার তৌফিক দান করুন। আমিন।

    Reply
  30. Salauddin Ahmed

    পাঠককে পড়াতে হলে এমন শিরোনাম দিতে হবে তা কখনোই কেউ আশা করে না।

    Reply
  31. পারভেজ

    “একটা জিনিস জানতে চাই– জুমার দিনগুলোতে মসজিদে– আমি শুনেছি– যে ভাষণ দেওয়া হয়, …” How do you hear, with your own ears? Or, by ears of others? pls speak the truth. Because we never heard such things with our own ears.

    Reply
    • রাজু আলাউদ্দিন

      জনাব পারভেজ,
      আমার নিজের কানে না শুনলে আমি তা কী করে বললাম? আপনি বাংলাদেশে থাকেন? থাকলে শুনতে পেতেন। এই প্রশ্ন একমাত্র আপনিই করলেন, আর কেউ করেননি। এ থেকেই বুঝা যায় আপনি হয় বাংলাদেশে থাকেন না কিংবা থাকলেও সম্প্রদায় ও জাতিবিদ্বেষী মওলানাদের স্বার্থের পক্ষের লোক। আল্লাহ আপনাকে ইসলামের সহি পথে নিয়ে আসুক–এই কামনা করি।

      Reply
    • raihan ul islam

      MR Parvez, “Because we never heard such things with our own ears.” Are you from Mars?
      In the sermons and everywhere, most preachers spread anti non-Muslim hatred. it’s true like daylight. This IS against true Islam as far as we know.

      Reply
      • পারভেজ

        Why are you becoming angry? I do believe that you too never heard such thing with your own ears, because all these are PROPAGANDA.

  32. Nur Alam

    Excellent Focus About Islam
    এমন আলেম যদি বাংলাদেশের সব মসজিদে থাকতেন জনগণকে সঠিক কথা বলতেন তবে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদিতা থাকত না।

    Reply
  33. ফ্রি দাওয়াহ (ভাড়াটে হুজুর নই)

    যাই হোক, এই চুক্তিপত্রটি কোরআনের অন্যতম সহীহ তাফসীর “তাফসীর ইবন কাসির”-এর সূরা তাওবাহ-এর “নিশ্চয়ই মুশরিকরা অপবিত্র”, এই আয়াতের ব্যাখ্যা থেকে নেওয়া।

    Reply
  34. alia

    প্রত্যয় সাহা, উপরের আলোচনা পড়ে আপনি কিছু বুঝতে না পারার জন্য খুবই মর্মাহত। এক হাতে তালি বাজে না, দুই হাতের দরকার হয়। সহিষ্ণু শুধু মুসলমানদের নয়, সব বাংলাদেশিদের হতে হবে। যদি ভালো করে খেয়াল করি, আপনি আর সকলেই দেখতে পাব প্রত্যেক ধর্মেই কিছু না কিছু উগ্রপন্থী দল আছে।
    পোপ ফ্রান্সিসেরকথা মনে হলো, এখনো পৃথিবীতে লোকদেখানো জ্ঞানী না, সত্যিকারের জ্ঞানী আছে যারা মনে করেন ইসলাম কখনো মানুষকে খারাপ কাজে উৎসাহিত করে না। মানুষই খারাপভাবে ধর্মকে ব্যবহার করে। তিনি এটাও বলেছেন, “If I speak of Islamic violence, I have to speak of Catholic violence. Not all Muslims are violent,”।

    আমি শুধু বঅলতে চাই, যারা নিজেদের মুক্তমনা বলে দাবি করে, এত সহজ কথাটুকু তারা বুঝতে না পেরে সকল মুসলমানদের কটাক্ষ করে কথা বলে।
    কিন্তু এই উগ্রবাদি মুসলমানদের সাথে লড়াইয়ে একজন সচেতন মুসলমান হয়ে আমি আপনার সাথে সবসময় আছি র থাকব।

    Reply
  35. MD. Ali Azam

    কী মন্তব্য করবো ভেবে পাচ্ছি না; পড়ে মনে হলো বাঙালির মনীষা আজো বেঁচে আছে! যেতে যেতে শুধু এটুকু বলে যাই, আল্লাহ্‌ উনার হায়াত দারাজ করুন।

    Reply
  36. Salauddin Ahmed

    শিরোনামটাই কি অসহিষ্ণু করে তোলার জন্য যথেষ্ট নয়?? সমাজকে অসহিষ্ণু করে তোলার জন্য আপনারা পত্রিকাওয়ালারা অনেকাংশে দায়ী।

    Reply
  37. আবদুল কাদের

    আনেক দিন পর একটি ভাল এবং সত্য কথা পড়লাম। আমি হুজুরের সাথে একমত।

    Reply
  38. হাসান মাহমুদ

    শিরনাম পড়ে একটু বিভ্রান্ত হয়েছিলাম। তবে পুরোটা পড়ে অনেক ভালো লাগছে।

    Reply
  39. Amin Ahmad

    এত সুন্দর একটা স্বাক্ষাৎকার এতদিন পরে প্রচার হলো কেন? তাও আবার শিরোনামটি নেতিবাচক হিসাবেই আমার কাছে মনে হয়েছে।
    তবে অন্যদিক হিসাব করলে, এই শিরোনামের জন্যেই মানুষ স্বাক্ষাৎকারটি পড়বে এবং পরে সব বুঝতে পারেব।
    আল্লাহ এমন একটি নির্ভেজাল আলেমকে দীর্ঘজীবী করুন। বর্তমানে এমন একজন আলেমের খুবই দরকার।

    Reply
    • REZA BISWAS

      এত সুন্দর একটা স্বাক্ষাৎকার এতদিন পরে প্রচার হলো কেন?
      তবে এই শিরোনামের জন্যেই মানুষ স্বাক্ষাৎকারটি পড়বে এবং পরে সব বুঝতে পারেব।
      আল্লাহ এমন একটি নির্ভেজাল আলেমকে দীর্ঘজীবী করুন। বর্তমানে এমন একজন আলেমের খুবই দরকার।

      Reply
    • জয়নাল আবেদীন

      আমাদের মুসলিম সমাজ আজ তাদের জন্যই ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে! আজকের আলেম সমাজ এক নাই। তাই আলেমদের এক হতে হবে।
      আমরা সাধারণ মুসলমানরা কোথায় যাব? একেক আলেমের মতামত একেক রকম।
      আমরা কোন আলেমের কথা শুনব?
      কেউ বলে সুন্নি কেউবা বলে ওহাবি, আমরা কোন দিকে যাব?
      আমার পরামর্শ হল, সব আলেমের এক হওয়া দরকার। কোনো ধরনের ভেদাভেদ রাখা যাবে না।

      Reply
  40. রেজা

    লেখাটা পড়ে আপনার প্রতি শ্রদ্ধা আমার অনেক বেড়ে গেল। ইসলামের সত্যিকারের দিকটা এত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন আপনি যা এক কথায় অসাধারণ। আপনার মতো করে এমন কল্যাণকর চিন্তা যদি করতে পারতাম! আপনাকে এই সমাজে আজ বড়ই প্রয়োজন।

    Reply
  41. সাকিব করিম

    উনার কথাগুলো আমার কাছে ভালো লেগেছে। উনার কথাগুলো মানতে হবে তাহলে দেশ ভালো থাকবে।

    Reply
  42. ইয়াকুব শরীফ

    আমি মনে করি, তিনি যা বলেছেন, তা সঠিক হতে পারে আবার বেঠিক হতে পারে। কেননা তিনি কোনো দলিল পেশ করেননি, কোরআন-হাদিস থেকে তো আমরা সাবধান…

    Reply
    • Amin Ahmad

      আপনারা ভালোকে ভালো বলতে দ্বিধা করেন কেন? তিনি কোরআন-হাদীসের আলোকেই তাঁর নিজস্ব চিন্তাকে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতামতকে আমি করি দেশের ৯৯% সত্যিকার ধর্মপ্রিয় মানুষ গ্রহণ করবে।

      Reply
  43. নোমান ইসলাম

    একবার বাংলাতে কোরান খতম দিন।
    আশা করি সবাই উত্তর পেয়ে যাবেন।
    এবং ইসলাম কী এবং কেমন সেইটাও সবাই পরিস্কার বুঝতে পারবেন।

    Reply
  44. নোমান ইসলাম

    তাহলে কোরানে ইহুদী নাসারা ইসলামত্যাগী মুরতাদদের হত্যা করার আদেশের আয়াত কি ইহুদি নাসারা নাস্তিকেরা ঢুকিয়েছে?
    জঙ্গিদের কি চোখ অন্ধ/অশিক্ষিত? নাকি তারা মানসিক প্রতিবন্ধি?
    তারা কি কোরান হাদিস না পড়ে ইসলাম না-বুঝে ইহুদী নাসারাদের ষড়যন্ত্রের শিকার হন?
    বিজ্ঞ মওলানা মাসউদ স্যারের নিকট জানতে চাই।

    Reply
    • মোঃ সাজ্জাদ হোসেন

      মওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ সাহেব যে ব্যাখা দিয়েছেন, সত্যি অনুধাবণ করার বিষয়। নোমান সাহেব কোরানের একটি আয়াতের অপব্যাখ্যার সুযোগ নিয়ে ইসলামবিরোধীরা মুসলমানদের দিয়েই যে চক্রান্ত করার সুযোগ নিয়েছে, অবশ্যই তা প্রতিহত করতে হবে। জঙ্গি যে ইহুদী দ্বারা পরিচালিত নয় তা কি করে বুঝবেন অথবা তাদের জ্ঞানের পরিধি সীমিত বা তারা সহিষ্ণু নয় এ পর্যন্ত তাই উপলব্ধি হচ্ছে।

      Reply
    • আব্দুল্লাহ!

      যুদ্ধের ময়দানে গিয়ে কোনো ধর্ম তো দুরের কথা, কোনো সেনাপ্রধানও কোনদিন বলবে না যে শত্রুর প্রতি উদার হও। কুরআন-এর যুদ্ধের ময়দানের বিষয়ে আয়াতগুলোকে ভুল ব্যখ্যা করে যারা উগ্রবাদ ছড়াচ্ছে, তাদেরকে সমগ্র কুরআনের প্রতিনিধি বানিয়ে আপনি কি বুঝাতে চাচ্ছেন? ফরিদ উদ্দিন সাহেবের লেখাটা আবার পড়ুন! যারা বিভ্রান্ত হচ্ছে তারা ভুল ব্যখ্যা করেই বিভ্রান্ত হচ্ছে। পাশাপাশি এই উত্তরও দিবেন যে, জর্জ বুশ এবং বর্তমান আমেরিকা যে বিমান হামলা করে কয়েক কোটির উপর নারী-শিশু হত্যা করেছে এবং করছে, এই জন্য আপনি খ্রিষ্টান ধর্ম কে দায়ী করছেন না কেন? নিজের চেহারাটা আগে আয়নায় দেখুন যে আপনি কেমন ডাবল স্ট্যান্ডার্ড। আগে নিজেকে চিনুন।

      Reply
    • R. Masud

      জনাব নোমান,
      মুসলিম জগতের কতজন কোরান হাদিস পড়ে ইসলামকে জানার চেষ্টা করেছে? চ্যালঞ্জ দিয়ে বলছি ০.১%-ও নয়। আর কোরান পড়লেই তার মর্মবানী বুঝার মতো আরবিতে গভীর জ্ঞ্যান আছে এমন লোকের সংখ্যা ধরলে ওই হার ০.০০১%-য়ে নেমে আসবে।
      তার মানে হলো, আমারা সবাই কাকাতুয়া পাখির মতো যা শিখিয়ে দেয়, তাই শুধু আওড়ে যাই।
      তবে আপনার “মানসিক প্রতিবন্ধি” কথাটা ভালো লেগেছে।

      Reply
    • মইনুল হাসান

      মুরতাদদের হত্যা করার আদেশ ইসলামে আছে ওস্বইকাএ কোরব না কিনটু সেটা শরীয়া আইন দেশে বলবত থাকলে এবং তা কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজীর মাধ্যমে । যেখানে শরীয়া আইন নাই সেখানে এর কোন সুযোগ নাই যদি না বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে তা না হয় । কোনভাবেই সাধারন মানুষ করতে পারবে না । এমন কি সৌদিতেও (বকা হয়ে থাকে সেখানে শরীয়া আইন আছে) কেও এমন করার দুঃসাহস রাখে না ।

      Reply
  45. Zahidul

    ওলানা মাসউদ সাহেব যা বললেন, তার উত্তরে শুধু এটুকুই বলতে পারি উনি যা বলেছেন এক কথায় অসাধারণ ৷ আল্লাহ্ উনাকে নেক হায়াত দান করুন৷ সেই সাথে আল্লাহ্ আমাদেরকেও সঠিক পথের দিশা দিন ৷ আমিন

    Reply
  46. Abu Umar ibn Abdur Rahman

    আবদুললাহ ইবন উবাই ইবনে সুলুল-এর নাম কে কে শুনেছেন?

    Reply
  47. রেজাউল করিম

    লেখার শিরোনামটা অবশ্যই বিভ্রান্তিকর। পাঠক কে পড়াতে হলে এই শিরোনাম দিতে হবে তা কখনোই কেউ আশা করে না। সম্পাদকেরা আরও সতর্কতার পরিচয় দিবেন আশা করি।

    আর মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এভাবেই আমাদের প্রত্যেক মুসলিম-এর মনের দরজা খুলে দিন অনন্তকাল ধরে। মহান আল্লাহপাক আপনাকে সুস্থ রাখুন, দীর্ঘজীবী করুন।

    Reply
  48. নোমান

    মাননীয় সম্পাদক সাহেব, এত সুন্দর একটি সাক্ষাৎকারকে এমন বিকৃত শিরোনামে উপস্থাপন করেছেন, মনে হয় যেন জনাব মাসুদ সাহেব “রাসুলুল্লাহ” শব্দটি একসাথে লিখতে নারাজ। এই শিরোনামে জনাব মাসুদ সাহেবকে ভক্তদের মাঝে ফটল সৃষ্টি করার জন্যই কি এমন শিরোনাম? উক্ত শিরোনামটি পড়ে প্রথমে আমি বিভ্রান্তিতে পড়ে গেলাম। চিন্তা করতে লাগলাম, একজন দক্ষ আলেম এমন ‘মুশরিকী’ কথা কিভাবে বলতে পারেন? মনে মনে ওনাকে খুব তিরস্কার করতে লাগলাম। কিন্তু ওনার সাক্ষাতকারটি পড়ে আমার ভুল ভাঙ্গল। তিনি যে কথাগুলো বলেছেন, তা বর্তমান সময়ের জন্য খুব উপযোগী। কিন্তু আপনারা নিজের স্বার্থ চারিথার্থে এমন সুন্দর সাক্ষাৎকারটির শিরোনাম এমন বিকৃত করে দিয়েছেন। কারণ, ইসলামী লেখাগুলো যে আপনাদেরও ভালো লাগে না! জনাব মাসুদ সাহেব একজন আলেম ও ধর্মপ্রচারক। এখন যদি সাক্ষাৎকারটি কোন মুক্তমনার হত তাহলে আপনারা শিরোনাম বেশ আগ্রহেরসহিত সুন্দর শিরোনামে প্রকাশ করতেন।

    Reply
  49. মসিউর রহমান

    “তারা যখন উত্তেজিত হয়ে তাঁকে (হযরত আলীকে) জখম করতে গেছে তখন তিনি বললেন, তোমরা যা-ই কর আমার হাত-পা কেটে নাও, কিন্তু আমার জিহ্বাটা কেটে নিও না।”
    শুদ্ধ হবে “তারা যখন উত্তেজিত হয়ে হযরত আলীর হত্যাকারীকে জখম করতে গেছে তখন সে বলল, তোমরা যা-ই কর আমার হাত-পা কেটে নাও, কিন্তু আমার জিহ্বাটা কেটে নিও না।”
    এই ব্যাপারে ড. খোন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর লিখিত আর্টিকেলটি পড়তে পারেন।
    http://assunnahtrust.com/site/?page_id=770

    Reply
  50. দীপ

    কতো সুন্দরভাবে উনি ধর্মটাকে তুলে ধরেছেন । উনি কতোটা জ্ঞানী এবং বিজ্ঞ তা তার কথার মাধ্যমে বোঝা যায় । সৃষ্টিকর্তা উনাকে দীর্ঘজীবী করুক । কিন্তু বিডিনিউজ শিরোনামটা ঠিকভাবে করেনি ।

    Reply
  51. সিয়াম

    এত বিশ্লেষণ ধর্মী লেখা খুব কমই পড়েছি। এক কথায় অসাধারণ। আসলেই আমাদের ভেতর সহিষ্ণুতার অভাব খুবই প্রকট। ছোট বেলা থেকেই আমরা পারিপার্শ্বিক ভাবে একটা শিক্ষা পায় যে বিধর্মী রা আমাদের শত্রু। একটা উদাহরণ দেয়- ছোটবেলায় যেকোন ভাবে জেনেছিলাম যে কাল পিপড়া কামড়ায় না তাই এটা মুসলিম। আর লাল পিপড়া কামড়ায় তাই এটা হিন্দু, লাল পিপড়া দেখলেই মেরে ফেলতে হবে। আমার এলাকার মসজিদে প্রায়ই খুতবায় ইহুদীদের বিরুদ্ধে ইমাম সাহেব তুফান উঠান, (আমি ব্যক্তিগত ভাবে ও ইহুদিদের ঘ্ৃনা করি) কিন্তু তাদের সাথে মহানবী (স:) কেমন আচরণ করতেন সেগুলো বয়ান করেন না। ইসলাম প্রতিষ্টার জন্য মহানবী (স:) কে কত ত্যাগ তিতিক্ষা করতে হয়েছে তা হুদায়বিয়ার সন্ধিতেই দেখা যায়, কিন্তু এসব ব্যাপারে মসজিদে আমি আলোচনা শুনিনি।
    ব্যক্তিস্বাধীনতা বিষয়ক উদাহরণ খুবই মনঃপুত হয়েছে। সার্বিক ভাবে পুরো আলোচনায় ভাল লেগেছে।

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      একটি সংশোধনী: ‘বিধর্মী’ নয়; ‘ভিন্ন ধর্মাবলম্বী’।

      Reply
  52. Mortuza Hussain

    আমাদের সারা জীবনে অনেক গল্প, উপন্যাস পড়া হয়ে যায়। কিন্তু একবারের জন্য পবিত্র কুরআন শরীফের বাংলা তরজমা ও তাফসির (অনুবাদ ও ব্যাখ্যা) পড়া হয় না। একবার পড়ে দেখুন। জীবন ও জগৎ সম্পর্কে আপনার অনেক ভুল ধারণা দূর হয়ে যাবে; আপনি আরও বেশি বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে উঠবেন; অহেতুক বিতর্কে লিপ্ত হতে চাইবেন না। কেননা, বিজ্ঞান নতুন কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না; পবিত্র কুরআনে বর্ণিত সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে মাত্র। আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে হেদায়েত নসীব করুন, আমীন।

    Reply
  53. আব্দুল্লাহ্

    মাওলানা মাসউদ সাহেব যা বললেন, তার উত্তরে শুধু এটুকুই বলতে পারি উনি যা বলেছেন এক কথায় অসাধারণ ৷ আল্লাহ্ উনাকে নেক হায়াত দান করুন৷ সেই সাথে আল্লাহ্ আমাদেরকেও সঠিক পথের দিশা দিন ৷ আমিন

    Reply
  54. আব্দুল্লাহ্

    ওলানা মাসউদ সাহেব যা বললেন, তার উত্তরে শুধু এটুকুই বলতে পারি উনি যা বলেছেন এক কথায় অসাধারণ ৷ আল্লাহ্ উনাকে নেক হায়াত দান করুন৷ সেই সাথে আল্লাহ্ আমাদেরকেও সঠিক পথের দিশা দিন ৷ আমিন

    Reply
  55. মাসুদ রানা

    আমার কাছে শিরোনামটা বিভ্রান্তিকর মনে হয়েছে। শিরোনাম দেখে মনে হতে পারে কী মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ এত বড় কথা বলেছেন! কিন্তু পড়লে বোঝা ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই ধরনের কাজগুলো (বিভ্রান্তিকর শিরোনাম দিয়ে কাউকে আকৃষ্ট করা) করে কিছু সস্তা দরের পত্রিকা এবং বর্তমানে কিছুৃ লো-ক্লাস ফেসবুক এবং ইউটিউব ইউজার। এদের জ্বালায় ক্রমেই অতিষ্ঠ হয়ে উঠছি।
    আমি যে বিডিনিউজকে চিনি তার চরিত্রের সাথে এটা বেমানান। আশাকরি, বিডিনিউজ ভবিষ্যতে আরো সতর্ক হবে।

    Reply
  56. Md. Shamsul Haque Khan

    Really he is genius. All Imams of Bangladesh should have like him. Islam never ever admit quarreling and killing each other. Islam means peace. He explain that clearly with examples .

    Reply
  57. ফাহিম

    পড়ে খুব ভাল লাগল। মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ খুব মহান একজন মানুষ। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল Bdnews24-এ উনার বক্তব্য খুব একটা প্রচার করা হয় না।

    Reply
  58. রুবেল

    অসাধারণ! ধর্মের এই শিক্ষা সবার মাঝে (জঙ্গী বা ‘মুক্তমনা’ অথবা সাধরান) ছড়িয়ে যাক। ছড়িয়ে দেওয়া হোক।

    Reply
  59. শাওন

    আমি ফরিদউদ্দিন মাসুদের একজন বিরোধী টাইপের মানুষ-ই ছিলাম… বিশাল প্রশ্ন ছিল মনে “একজন ইসলামী জ্ঞানসম্পন্ন লোক কিভাবে আওয়ামী লীগের মতো দলের সমর্থন করে বা সেই দলের জন্য কাজ করে? হয়তো বা সে একজন চাটুকার লোক, দলের পা চেটে আজকের অবস্থায় এসেছে” কিন্তু তার আজকের এই বক্তব্যের পরে তার সম্পর্কে আর খারাপ ধারণা দূর হলে গেল। তাঁর জ্ঞানের গভীরতা অনেক। যে কথাগুলো বাংলার মানুষের নিকট যেভাবে প্রকাশ করা দরকার বলে মনে করি উনি সেই কথাগুলো ঠিক সেভাবেই বলেছেন। যদিও সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামের অবস্থানের দুর্বলতা সম্পর্কে তিনি কিছু বললেন না। ঐ ব্যপারগুলোও সামনে আনা দরকার ছিল। সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে বড় হয়ে আসা একজন মুসলমানের বেসিক জ্ঞানই শিক্ষার মধ্যে থাকে না… নবীদের পরাম্পরা, মুজেজা, ইসলামিক সমাজের ধারণা, ইসলামিক রাষ্ট্রের ধারণা, মানবতা, কেন নামাজ, কেন যাকাত, কেন হজ্জ এই আলোচনার বদলে আছে সেখানে এইভাবে নামাজ পর, এই হল যাকাত এটা দিতে হবে, কোরানের কিছু সুরা সেগুলা মুখস্ত কর, অর্থ লিখ… মা-বাবার মুখের কথায় ইসলাম মানতে থাকলে আসলে মূল থেকে বিচ্যুতি বাড়তেই থাকবে। সমস্যা সমাধানের বড় উপায় হল ইসলামকে খুব কাছ থেকে দেখা বা জানা।
    জঙ্গি মাদ্রাসা বা স্কুলের উভয় জায়গারই ছেলেরা হচ্ছে তার কারণগুলো এভাবে বিশ্লেষণ করা যায়। মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছেলেরা সাধারনত ইকটু ব্যাকডেটেড কিছিমের (অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী বা গরিব পরিবারের) এবং অধিকাংশ ছেলেদেরই আলেম হবার তুলনায় পাশ করার চিন্তা বেশি। পরিবেশের কারণে হয়তো তাদের মাঝে হয়তো ইসলামী লেবাস বা মাসলা-মাসায়েল কিছু জানলেও উপলব্দি অনেকটাই থাকে না। তাই খুব সহজেই ধর্মের অপব্যাখ্যা তাদের বোঝানো সম্ভব।
    অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় পড়ে আসা ছেলেমেয়েরা ইসলামকে কাছ থেকে দেখে আসে না এবং তাদের অনেকের অনেক প্রশ্ন থাকে মনে ইসলামকেন্দ্রিক যেগুলোর উত্তর তারা পায় না। এর ফলে একদল পরে নাস্তিকদের হাতে আর অন্যদল বিভিন্ন ইসলামিক দলের হাতে, যেই সুযোগগুলোর অপেক্ষায় সন্ত্রাসবাদী ধর্মব্যবসায়ীরা থাকে। তারা যেহেতু ইসলাম থেকে অনেক দূরে ছিল তাই তাদের মাঝে কিছু প্রায়শ্চিত্ত করার প্রবণতা থেকে যায়। যেটা তাদের জঙ্গিবাদের জন্য সহজলভ্য করে তোলে।

    Reply
    • বিলাল হোসাইন

      জঙ্গি মাদ্রাসা বা স্কুলের উভয় জায়গারই ছেলেরা হচ্ছে তার কারণগুলো এভাবে বিশ্লেষণ করা যায়। মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছেলেরা সাধারণত ইকটু ব্যাকডেটেড কিছিমের (অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী বা গরিব পরিবারের) এবং অধিকাংশ ছেলেদেরই আলেম হবার তুলনায় পাশ করার চিন্তা বেশি। পরিবেশের কারণে হয়তো তাদের মাঝে হয়তো ইসলামী লেবাস বা মাসলা-মাসায়েল কিছু জানলেও উপলব্দি অনেকটাই থাকে না।
      আপনার এই কথার সাথে আমি একমত নই। কারণ কওমি মাদরাসায় মানুষকে পরিপূর্ন ইসলামি শিক্ষা দেওয়া হয়। ওখানে কোনো ভন্ডামি চলে না। আর তাদেরকে কেউ বিভ্রান্তও করতে পারে না। এইটাই সত্যি। তাই খুব সহজেই ধর্মের অপব্যাখ্যা তাদের বোঝানো সম্ভব না।

      Reply
    • কামাল হোসাইন

      YES, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইর মতো অনেক কিছু জানেন।
      আমি তো বলব উনাকে এই জঙ্গিবাদের জন্যই কোটি ডলার খরচ করে লালন করা হচ্ছে।

      Reply
  60. hiron

    মাসুদ সাহেব, আপনার এই কথাগুলো পড়ার সময় বহু মানুষের হবে না জানি, যাদের হবে তারা আর যাই হোক নিজেকে নিয়ে ভাগ্যবান মনে করতে পারবে।

    Reply
  61. Palash

    1. আমি যদি বলি– আমি একজন নাস্তিক; এটা কি আমার অপরাধ, নাকি এটা পাপ?

    2. উনাদের একজন খ্রিস্টানদের একটা শুকর এনে মেরে ফেলেছে। উনারা বললেন, জলদি এই শুকরের গন্ধ সরাও, এটা নাজায়েজ। তো একটা শুকরের প্রাণ বাঁচাতেও তারা প্রস্তুত!

    Reply
    • মোহাম্মদ জাকারিয়া

      ১। একজন নাস্তিক পাপী এবং অপরাধী উভয়য়েই আল্লাহর নিকট আর রাষ্ট্রিয় আইনে হয় অপরাধী না যদি না আইনে সেটা বলা থাকে। সামাজিকভাবে তার মতবাদ আমাদের নিকট অবশ্যই পরিত্যাজ্য হবে তবে পরিত্ব্যাগ মানে তাকে শাস্তি দেয়া নয়।

      ২। আমিও বিষয়টি ক্লিয়ার না। মনে হয় উনি বলতে চেয়েছেন যে তারা শুকর নাজায়েজ মনে করে অথচ মানুষ হত্যা নাজায়েজ মনে করে না এই জাতীয় কিছু। তবে আমি নিশ্চিত নই।

      Reply
    • মেজবাহ

      শুকরের জীবন বাঁচাতে প্রস্তুত মানে হচ্ছে, তারা অনেক স্থুল বিষয়কে পাশ কাটিয়ে অনেক ছোট বিষয় নিয়ে অনেক বেশি সচেতন ছিল। ইসলামে শুকর খাওয়া হারাম বা শুকরকে অপবিত্রতার চিহ্ন হিসেবে দেখা হয়। তাই তাদের যাতে মৃত শুকরের রক্তের গন্ধ পর্যন্ত সহ্য করতে না হয়, সে জন্য শুকরের মৃত্যু পর্যন্ত কামনা করত না। অথচ তারাই আবার অন্যায়ভাবে মানুষের রক্তে নিজেদের হাত রাঙাতে দ্বিধা বোধ করত না, অথচ এটা কত বড় অন্যায় আর পাপ।

      Reply
  62. সরকার জাবেদ ইকবাল

    দীর্ঘ আলোচনায় যাওয়ার মত জ্ঞান ও যোগ্যতা আমার নেই। সংক্ষেপে শুধু এটুকুই বলতে চাই, আমাদের সারাজীবনে অনেক গল্প, উপন্যাস পড়া হয়ে যায়। কিন্তু একবারের জন্য পবিত্র কুরআন শরীফের বাংলা তরজমা ও তাফসির (অনুবাদ ও ব্যাখ্যা) পড়া হয় না। একবার পড়ে দেখুন। জীবন ও জগৎ সম্পর্কে আপনার অনেক ভুল ধারণা দূর হয়ে যাবে; আপনি আরও বেশি বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে উঠবেন; অহেতুক বিতর্কে লিপ্ত হতে চাইবেন না। কেননা, বিজ্ঞান নতুন কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না; পবিত্র কুরআনে বর্ণিত সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে মাত্র। আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে হেদায়েত নসীব করুন, আমীন।

    Reply
  63. মোস্তফা কামাল

    অসাধারণ বলেছেন। তিনি অনেক কিছু জানেন। এমন আলেম যদি বাংলাদেশের সব মসজিদে থাকতেন জনগণকে সঠিক কথা বলতেন তবে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ থাকত না।

    Reply
    • কামাল হোসাইন

      YES, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে উবাইর মত অনেক কিছু জানেন।
      আমিতো বলব উনাকে এই জঙ্গীবাদের জন্যই কোটি ডলার খরচ করে লালন করা হচ্ছে।

      Reply
  64. প্রত্যয় সাহা

    দেশের ৯০% মুসলিমের হৃদয় আপনার মত সহিষ্ণু হোক। জ্ঞানে, চিন্তায়, বিচার বিশ্লেষণে আপনার মত বিচক্ষন হোক, একজন ভিন্ন ধর্মাবলম্বী (বিধর্মী নয়) হিসেবে এই আমার কামনা। সৃষ্টিকর্তা আপনাকে দীর্ঘজীবি করুন।

    Reply
    • সরকার জাবেদ ইকবাল

      সুপ্রিয় প্রত্যয় সাহা, দেশের প্রতিটি মানুষ আপনার মতো মহানুভব হয়ে উঠুক– এই প্রার্থনা। মুক্তিযুদ্ধের সময় এক থালায় ভাত খেয়েছি। কে হিন্দু, কে মুসলমান সেই প্রশ্ন দেখা দেয়নি। কেননা, আমরা মনেপ্রাণে জানতাম, আমরা একই মায়ের সন্তান। দেশ আজ এক ক্রান্তিলগ্নে উপস্থিত। এ মুহূর্তে মুক্তিযুদ্ধকালীন সেই অনুভূতি আর বিশ্বাসের পুনরুজ্জীবন ভীষণ প্রয়োজন। কবি নজরুল যথার্থই বলেছিলেন, “হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন? কান্ডারী! বল ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মা’র।” এ বিষয়ে আমাদের সবার স্পষ্ট ধারণা ও বিশ্বাস থাকা প্রয়োজন যে, ধর্ম যার যার, দেশ সবার।

      Reply
    • Ataur

      আপনার লেখা আমার খুব ভাল লেগেছে। আমি আপনার সাথে সম্পুর্ণ একমত।

      Reply

Trackbacks/Pingbacks

  1.  arts.bdnews24.com » দীপেন ভট্টাচার্য: তারা বিশ্বাস করতে পারছেন না প্রকৃতি তাদের সঙ্গে এভাবে বিশ্বাসঘাতকত

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—