সাবিরার মৃত্যুপূর্ব ভিডিওটি মাথা থেকে মুছে যাবার আগের এক সন্ধ্যায় আমার প্রায় ১২ এবং ৯ বছর বয়েসী কন্যাদ্বয়ের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতার সুযোগ ঘটে। গরমের বিকেল জুড়িয়ে গেছে ততক্ষণে। মায়ে-মেয়ে তিনজনে মিলে নির্জন-ফাঁকা গাছপালা আর ছোট্ট এক চিলতে জঙ্গলের পাশে বসে পড়ি। শুরুর ভাবনা ছিল গল্পের ছলে ছোট কন্যাটিকে পিরিয়ড, হাইজিন, হরমোনাল চেঞ্জ, নতুন শরীর গ্রহণ করার বিষয়গুলো সম্পর্কে কিছু তথ্য অবহিত করা। এ ক্ষেত্রে দুদিন আগের এক ঘটনার কথা বলতে হয়।

ছোট মেয়ে গোসল করতে গিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে কেঁদে বলে, ‘‘মা, আমি পিউবার্টি চাই না।’’

‘‘কেন মা? পিউবার্টি খারাপ, তাই!’’

ফিক করে হাসতে গিয়ে মুখে খিল দিই। জানতে পারলাম, ক্লাসের অন্যান্য মেয়েদের তুলনায় শরীরে সে একটু এগিয়ে আছে বলে, অন্যরা তাকে নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করছে। অতিপ্রিয় ছোটখাট চাইনিজ বান্ধবী বলেছে যে, পিউবার্টি হলে এরকম হয়। এ কথা শোনার পরে খোলামেলা আলোচনাটা জরুরি হয়ে পড়ে। পিউবার্টি, নতুন শরীর ইত্যাদি বিষয়ে কোনো নেগেটিভ বা আতংক যাতে মেয়েটির ভেতরে বাসা না বাঁধে, সে জন্যে ওর সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলা দরকার।

পর্যাপ্ত তথ্য আর মোটিভেশন থাকায় বড় কন্যাটি এত চমৎকারভাবে পিউবার্টি-পিরিয়ডের ব্যাপারটা সামলিয়ে নিয়েছে যে, ছোটটির ব্যাপারে খানিকটা হালছাড়া ছিলাম। সান্ধ্য-আলোচনায় বড় কন্যার স্বয়ংক্রিয় অংশগ্রহণও চোখের ইশারায় নিশ্চিত করে নিলাম।

কথায় কথায় রাত নেমে এল। আমরা জঙ্গলের ধার ছেড়ে পার্কের পাশে মাঠের বেঞ্চিতে বসি। রাতের আবছায়ায় হঠাৎ বড় কন্যাটির চোখের আদলে সাবিরার মুখ ভেসে ওঠে আমার চোখে। চমকে ভালো করে ওর মুখের দিকে আবারও তাকাই। বুকের ভেতরটা মুচড়ে ওঠে। সাবিরা মেয়েটি তো আমারও হতে পারত! মন শক্ত করে সিদ্ধান্ত নিই, এই নির্জন-নিস্তব্ধ-রাতে আমার কন্যাদের কাছে সাবিরার গল্প করব। একটি দুঃখী ইমোশনাল মেয়ের কথা বলব যাকে কেউ শেখায়নি বেদনার সমাধান কোন পথে করতে হয়।

জানতে ইচ্ছে করছিল, আমার কন্যারা কোন চিন্তায়, জীবনকে কেমন করে গ্রহণ করে বড় হচ্ছে। দুঃখ-বেদনার বিষয়ে তারা কতটা সংবেদনশীল। তাদের কতটা ছুঁতে পারলাম আর তারাই-বা কতটা দুয়ার খোলা রাখল আমার জন্য। বয়োসন্ধির শুরুটায় তারা কেমন করে ভাবছে প্রেম-ভালোবাসা-রোমান্টিকতা আর জীবনের অর্থ নিয়ে।

সিদ্ধান্ত নিই তাদেরকে সাবিরার মৃত্যুপূর্ব ভিডিওটা দেখাবার। যদিও জানি, এটা এতটাই ভয়ের হবে ওদের জন্য, ওদেরকে এটা দেখতে দেবার আরেক নাম হয়তো হবে এক প্রকার মানসিক অত্যাচারের শামিল। তবু এটা করতে হবে, ওদেরকে জানাতে হবে মানুষের ভঙ্গুর সময় কেমন হতে পারে। আমার নিজের মানতে কষ্ট হয়েছে, এই ভিডিও পোস্ট করার পরেও খানিকটা সময় ছিল যখন সাবিরাকে হয়তো বাঁচানো যেত। কেউ যদি চেষ্টা করত! অথবা সাবিরা যদি কারও কাছে এই হতাশা প্রকাশ করতে পারত!

হয়তো বেঁচে যেত মেয়েটি। আর অন্য কোনো এক সময়ে এই ভিডিওটি নিজেই চালিয়ে দিয়ে হো হো করে হাসত। হাসলে মেয়েটিকে কী যে সুন্দর দেখায়!

 

Suicide - 222
একটি দুঃখী ইমোশনাল মেয়ের কথা বলব যাকে কেউ শেখায়নি বেদনার সমাধান কোন পথে করতে হয়

 

আত্মহত্যা বা সুইসাইডাল আইডিয়েশন নিয়ে খানিকটা পড়াশোনার সুবাদে আমার এটা জানি যে, যে আত্মহত্যা করতে পারে সে তার নানাবিধ আলামত আরও আগে থেকেই চারপাশে রেখে দিতে থাকে। আত্মহত্যা হচ্ছে একটি দীর্ঘ সময়ের চিন্তা কাজে পরিণত করা। যদি তার আগেই নিজেকে ভারমুক্ত করা সম্ভব হয়, তবে সে আর কাজটি করবে না।

নিজের বিশ্বাস, মূল্যবোধ, শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধের শিকার এই আমরা সমাজের চাওয়া অনুযায়ী প্রাণপণে আচরণ করতে থাকি। কোথাও সেটার ব্যত্যয় হয়েছে বলে কেউ মনে করলে তার নিজের মূল্যমান নিজের কাছে ক্রমান্বয়ে কমতে শুরু করে। সেলফ এসটিম কমে আসার এ প্রক্রিয়ায় ব্যক্তি প্রচণ্ড হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে এবং এ সময়ে তার অন্যের সাহায্যের দরকার হয়। অন্ততপক্ষে ভারমুক্ত হতে আস্থাভাজন কারও কাছে নিজেকে উজাড় করে সব উগড়ে দিতে হয়।

সবচেয়ে ভালো হয়, কোনো কাউন্সিলরের সঙ্গে যোগাযোগ করা। তাঁরা কোনো জাজমেন্টে না গিয়েই গল্প শুনিয়ে সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে পারে। তাতেই পাহাড়সমান ইমোশন-অভিমান অনেকটাই হালকা হয়ে যায়।

অথচ আত্মহত্যা করতে যাওয়া মানুষেরা অনেক দিন ধরেই একটু একটু করে ‘কিউ’ দিতে থাকে, জানান দিতে থাকে তাদের আত্মহত্যার সম্ভাবনা। দুর্ভাগ্যবশত আমরা, তার চারপাশের মানুষেরা সেই ইশারা বা কিউগুলির অর্থ বের করতে পারি না। যদি পারতাম, তাহলে রুখে দেওয়া সম্ভব আত্মহত্যার প্রক্রিয়াটি। আহা, যে জীবন যায়, তা যায়ই!

প্রসঙ্গত মনে পড়ে গেল এর আগে ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে পরে আত্মহত্যা করেছিল, সেই একই রকম প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে, সুমনা মেহেরুন নামের মেয়েটি। আত্মহত্যার পূর্বে একাধিক জনকে ফোন করে করে সে বিরক্ত করেছিল। হায়, এই তীব্র সময়ে তাকে সাহায্য করার মতো কাউকে পাওয়া যায়নি!

কানাডায় ডাক্তার, সোশ্যাল ওয়ার্কার, মনোচিকিৎসক, স্কুলের শিক্ষক, নার্স অথবা সামাজিক কোনো দায়িত্ববান কারও কাছে যদি কেউ ভুলক্রমেও আত্মহত্যার সম্ভাবনার কথা জানায় অথবা হুমকি দেয়, সঙ্গে সঙ্গে সেই দায়িত্ববান মানুষটির প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়ায় এই মানুষটিকে এক মুহূর্তের জন্যেও ছেড়ে না দেওয়া। এমনকি বাথরুমেও নয়। তাকে ইমার্জেন্সিতে বা একজন ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে পাঠিয়ে এই তীব্র ইমোশনের কোনো একটা তাৎক্ষণিক সুরাহা করে তবেই রেহাই! নইলে ওই পদের মানুষটির চাকরি হারাতে তো হবেই, পাশাপাশি তার জেল-জরিমানা হবার সম্ভাবনাও থাকে।

সামাজিক প্রচারণা আর সংগঠনের সম্পৃক্ততার সুবাদে সাধারণ নাগরিকদের ভেতরেও এই সচেতনতা তৈরি হয়েছে যে, আত্মহত্যা রোধ সম্ভব। দুঃখের তীব্রতা নয়, স্ট্রেস হ্যান্ডেল করার দক্ষতার অভাবই আত্মহত্যার মূল কারণ। তারপরও দুএকটি ঘটনা যে এখানেও ঘটে না তা নয়।

তাই, খানিকটা ইতস্তত করেও, ওদের বয়সের তুলনায় বিষয়টি হয়তো আপাত রূঢ়, তারপরও আমি সন্তর্পনে আলোচনা ঠেলে দিই আত্মহত্যা প্রসঙ্গে, ইমোশনাল তুঙ্গ অবস্থা বনাম বাস্তবতা মোকাবেলা প্রসঙ্গে। ধরেই নিয়েছিলাম, কানাডিয়ান পরিবেশে, এই জুনিয়র ক্লাসগুলোতে হয়তো এ প্রসঙ্গগুলো তেমনভাবে স্কুলে না-ও আসতে পারে। কে জানে, ওর এই আপাত নিরুপদ্রব জীবনে এই ভিডিও একটি বিরাট ঝাঁকুনি হয়ে যায় কি না! আবার ভাবছিলাম, কানাডিয়ান বাস্তবতার এ সময়ের প্রাক-কিশোরীর স্নায়ু কতটুকু চাপ নিতে পারে, দেখাই যাক না।

ওদের স্বাচ্ছন্দ্য চিন্তা করে ইংরেজিতেই কথোপকথন শুরু করি। একথা-সেকথা, ক্লাসের ছেলেদের দুষ্টুমির কথা আলোচনার পর বলি, ‘‘মা, হাউ ডু ইউ ফিল অ্যাবাউট ফলিং ইন লাভ? হাউ ডু ইউ থিংক অ্যাবাউট গিভিং আপ এ লাইফ ফর সাম লাভড ওয়ান?’’

একটি ওপেন প্রশ্ন, কান পেতে থাকি। আমাকে বিস্মিত করে দিয়ে বার ছুঁইছুঁই কন্যা তার ক্লাসের শিক্ষক মিস কেনেডির ভঙ্গি নকল করে বলে যেতে থাকে, যার বাংলা অর্থ মোটামুটি এমন:

‘‘ভালোবাসা একটি নরম-দরকারি অনুভূতি আর প্রেমে পড়া একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা হতে পারে মানুষের জীবনে। তবে সবার আগে তুমি নিজেকে ভালোবাসবে। এই পৃথিবীতে তোমার নিজের চেয়ে প্রিয় আর কিছুই হতে পারে না এবং তুমি কাউকে তোমার নিজের চেয়ে বেশি ভালোবাসতে পার না। তুমি নিজেকে সবচেয়ে ভালোবাস বলেই আর কাউকে তুমি তোমার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে পার না। কেউ যদি তোমাকে ‘প্রিটি’ বলে, তুমি খুশি হতে পার, কিন্তু তুমি ‘প্রিটিয়ার’ হবার চেষ্টা করতে পার না তাকে খুশি করবার জন্যে। তুমি কাউকে ভালোবাসবে তোমার ইচ্ছায়, কিন্তু তোমার চাওয়া-পাওয়ার লাগাম যেন তোমার হাতেই থাকে, তার হাতে নয়। তুমি বাঁচবে তোমার নিজের জীবন অর্থবহ করতে, আর কারও নয়।’’

মায়ের চোখ দিয়ে নিজের মেয়েকে দেখছিলাম বলেই কি না কে জানে, চোখে জল ভরে আসছিল শান্ত চেহারার মেয়েটির লেকচার দেবার ভঙ্গিতে। মনে মনে ভাবছিলাম, সাবিরা মেয়েটিও আমারই হতে পারত। বললাম, ‘‘মা, এগুলো কথা তো আমি তোমাদের এভাবে শিখাইনি। তবে কি ক্লাসে এগুলো আলোচনা হয়?’’

স্বল্পভাষী-ইন্ট্রোভার্ট বর্ণমালা এরপর যা জানাল, সত্যি সত্যি নিজের মাথার চুল ছিঁড়লাম। আরে, ওদের ক্লাসে এমনসব ইন্টারেস্টিং বিষয় ঘটে, এগুলো কেন মন দিয়ে বা জিজ্ঞেস করে করে শুনি না!

 

Suicide - 555
এই পৃথিবীতে তোমার নিজের চেয়ে প্রিয় আর কিছুই হতে পারে না এবং তুমি কাউকে তোমার নিজের চেয়ে বেশি ভালোবাসতে পার না

 

গ্রেড সিক্সের মিস কেনেডি ফ্রেঞ্চ বংশোদ্ভূত শিক্ষক। কয়েক মাস আগে তিনি ক্লাসের প্রত্যেককে এক এক করে সবার সামনে দাঁড় করিয়ে নিজ নিজ জীবনের সবচেয়ে দুঃখের ও বেদনার ঘটনা ব্যক্ত করার সুযোগ করে দিয়েছেন। তারপর সেই ঘটনা তাদের মনে কীভাবে রেখাপাত করেছে, তারা কীভাবে তা মোকাবেলা করেছে তার বিবরণ এসব বাচ্চারা পুরো ক্লাসের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছে।

মিস কেনেডি ওদের বলেছেন যে, দুঃখের ঘটনা, মৃত্যু, বিচ্ছেদ এগুলো জীবনের মোটামুটি স্বাভাবিক উপাদান। কারও ক্ষেত্রে হয়তো একটু বেশি পীড়াময়, কারও একটু কম, হেরফের বলতে শুধু এটুকু। আমরা এ ঘটনাগুলো ‘অস্বাভাবিক’ তকমা দিই বলেই আমাদের কাছে এগুলো অস্বাভাবিক মনে হয়। আর এই মনে হওয়াটা কার কাছে কত তীব্র বা সহনীয়, তার উপর নির্ভর করে আমরা সমস্যাগুলো কতটা সাফল্যের সঙ্গে সমাধান করতে পারব।

পার্কের বেঞ্চিতে রাত গভীর হতে থাকে আর বর্ণকে উসকে দিই আরও বলার জন্য। ভয়াবহ দু-একটা কেস স্টাডি বেরিয়ে আসে বর্ণমালার ক্লাসের কিছু বাচ্চার জীবনের [সাবিরার দুঃখের তুলনায় তা কোনো অংশেই কম নয়!] জানতে পারি, ও্ই বাচ্চারা পুরো ক্লাসের সামনে তাদের ঘটনা বলার পরবর্তী সময়ে কীভাবে অন্য বাচ্চারা তাদের প্রতি সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল।

মিস কেনেডি ওদের বলেছেন সমস্যা নিয়ে মুখ খুলতে হবে, দরকার হলে এক্সপার্টের সাহায্য নিতে হবে। বন্দুকের সামনে পড়লে তুমি যেভাবে নিজেকে রক্ষা করার জন্য সরে যাবে, নেগেটিভ ইমোশনের সময়ও তুমি তার কাছ থেকে সরে যাবার জন্যে অন্যের কাছে সাহায্য চাইবে, লজ্জার কিছু নেই এতে। তিনি ওদের জীবনের অত্যন্ত স্বাভাবিক উপাদান দুঃখ-বেদনা গ্রহণ করার এবং হ্যান্ডেল করার আরও কিছু টিপস শিখিয়েছেন।

অন্ধকারে সাবিরার মুখ মনে ভাসে আমার। সাবিরার গল্পটি যতটুকু জানি, বর্ণ-কথাকে বললাম। ছোটটি কতটুকু বুঝল কে জানে, কিন্তু মুখ অন্ধকার হয়ে গেল দুজনেরই। বাসায় ফিরে ভিডিওটা চালু করতে হল, আগে একবারও পুরোটা দেখার মতো মানসিক জোর পাইনি। আজ নিজেও বসলাম পুরো কথা শুনব বলে। ভয়ে সিঁটকে, দেয়ালের সঙ্গে নিজেকে সেঁধিয়ে দিয়ে বর্ণমালা দুচোখ বড় বড় করে অবিশ্বাস্যভাবে দেখতে লাগল বড় চাকু দিয়ে নিজেকে খোঁচাচ্ছে আর বলছে সাবিরা, ‘‘ইটস নট গেটিং ইন নির্ঝর, নট গেটিং ইন!’’

কথামালা দৌড়ে পালাল। এটা নেবার মতো মনের জোর ওর হয়নি। দুএকবার বর্ণকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘‘খারাপ লাগলে বন্ধ করে দিই?’’

ও দেখতেই চাইল। ভিডিওটা শেষ হতে হতে বর্ণমালার চোখের জলে মুখ ভেসে গেল। বলল, ‘‘মা, কেউ ওকে রেসকিউ করতে আসেনি? ও নিজেকে হ্যাং করার আগে ওর কোনো ফ্রেন্ডকে বলেনি, মা? ও কারও কাছে হেল্প চা্য়নি কেন, মা? ওর নেগেটিভ ইমোশনকে ও বিল্ড-আপ হতে দিল কেন, মা! দ্যাট গাই ওর চেয়ে বেশি পাওয়ারফুল হল কেন ওর কাছে, মা!’’

আমার কাছে উত্তর নেই। শুধু বলতে পারলাম, ‘‘তুমি বা তোমার কোনো বন্ধুর জীবনে এমন হতে দিও না, সোনা!’’

মনে মনে বললাম, ‘‘মিস কেনেডি, আমার প্রাণভরা ভালোবাসা নেবেন।’’

সেরীন ফেরদৌস‘নতুন দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক

১০ Responses -- “সাবিরার আত্মহত্যা এবং একজন মিস কেনেডির কথা”

  1. সুমন মাহমুদ

    ধন্যবাদ জানাতে লিখছি। আমার দুই মেয়ে। লেখাটি আমার অনেক কাজে লাগলো।

    Reply
  2. ফাহিম

    ‘‘ভালোবাসা একটি নরম-দরকারি অনুভূতি আর প্রেমে পড়া একটি চমৎকার অভিজ্ঞতা হতে পারে মানুষের জীবনে। তবে সবার আগে তুমি নিজেকে ভালোবাসবে। এই পৃথিবীতে তোমার নিজের চেয়ে প্রিয় আর কিছুই হতে পারে না এবং তুমি কাউকে তোমার নিজের চেয়ে বেশি ভালোবাসতে পার না। তুমি নিজেকে সবচেয়ে ভালোবাস বলেই আর কাউকে তুমি তোমার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে পার না। কেউ যদি তোমাকে ‘প্রিটি’ বলে, তুমি খুশি হতে পার, কিন্তু তুমি ‘প্রিটিয়ার’ হবার চেষ্টা করতে পার না তাকে খুশি করবার জন্যে। তুমি কাউকে ভালোবাসবে তোমার ইচ্ছায়, কিন্তু তোমার চাওয়া-পাওয়ার লাগাম যেন তোমার হাতেই থাকে, তার হাতে নয়। তুমি বাঁচবে তোমার নিজের জীবন অর্থবহ করতে, আর কারও নয়।’’

    Reply
  3. সালমা রেখা

    সুন্দর এবং সময় উপযোগী লেখা, লেখিকাকে ধন্যবাদ এমন একটি বিষয় নিয়ে প্রাঞ্জল একটি লেখা উপহার দেবার জন্য।

    Reply
  4. আবদুস সোবহান বাচ্চু

    প্রথমতঃ অনেক দিন পর সেরীণ আপনর খেলা পড়লাম।
    দ্বিতীয়তঃ পড়ত পড়তে কেবলই আমার সুমির কথা মনে হল..। লা্নগুলো পড়তে পারছিলাম না..। কষ্টে বুক ব্যাথা করছিল..। বর্ণমালার কথার প্রতিধ্বনি হচ্ছিল বুকের ভেতর..। সত্যিই তো সেরীণ, সুমিটা কেন ওর নেগেটিভ ইমোশনকে ও বিল্ড-আপ হতে দিল কেন? দ্যাট গাই ওর চেয়ে বেশি পাওয়ারফুল হল কেন ওর কাছে??!’’

    সময়ের কাছে কত্ত অসহায় আমরা..। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে প্রথম ত্রেণিতে মাস্টার্স করা স্বপ্নভূক মেয়েটির…. কেন এমনটি হল…!!

    Reply
  5. Bangladeshi

    তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষতার আবাহন, একজন কথিত মডেল সাবিরা ও নষ্ট সমাজের রূঢ় রূপ…

    সাবিরা হোসেন, কথিত মডেল! মডেল-অভিনেতা-অভিনেত্রী মানেই তথাকথিত আধুনিকদের স্বপ্নের রাজা-রাণী! সাজ-গোজ, পোষাক-আসাকের সাথে সাথে তাদের মতো হাটা-চলা-বলার চেষ্ঠাও অনেকে করে থাকেন। তারাই তাদের জীবনের আদর্শ!

    সেই ধরনের কথিত সুন্দরী, আকর্ষনীয় সাবিরাকে করতে হলো আত্মহত্যা! খবরটি নিয়ে তেমন উৎসাহী ছিলাম না। কিন্তু তার আত্মহত্যার কারণ ও নোটের কথা গুলো যখন প্রকাশ হলো তখন আগ্রহ বেড়ে গেলো। মনে হলো তার কথাগুলোতে শিক্ষনীয় আছে কোটি তরুণীর।

    কি সেই শিক্ষাটি? একজন মেয়ে যখন তার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ- নিজের আব্রু কোন প্রকার বৈধ সামাজিক বন্ধন ছাড়া পুরুষের কাছে হারিয়ে ফেলে তখন সেই পুরুষের কাছে ওই তরুণী ব্যবহৃত টিস্যু পেপার যে হয়ে যায়, তা সাবিরা এই সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। নষ্ট সংস্কৃতির খপ্পড়ে পড়ে সাবিরা সবকিছুই বিয়ে ছাড়াই দিয়ে বসেছে কথিত বন্ধু বা প্রেমিকের কাছে। খুবই নাকি বিশ্বাস করেছিল! সে জন্যেই নাকি স্ত্রীর মতো সবকিছুই দিয়ে দিয়েছিল। সবকিছু, সবকিছুই!

    বিনিময়ে কি পাওয়া গেলো? কেন, টিস্যু পেপারের মতো ছুড়ে ফেলে দেয়া। বুঝিনা একটি মেয়ে কি করে এভাবে কথিত পুরুষকে বিশ্বাস করে! ভালোবাসার নামে যখন পুরুষ, মেয়েটিকে স্ত্রীর মতো ব্যবহার করতে চায় তখনই তো মেয়েটির সতর্ক হয়ে যাওয়ার কথা। তখনই তো মেয়েটির বুঝা উচিত ভালোবাসা নয়, এখানে ভিন্ন কিছু ওই নষ্ট পুরুষের চাওয়া। আধুনিক মেয়েগুলো নিজেদের এত জ্ঞানী মনে করে, এত প্রগতিশীল দাবী করে, এই সামান্য বিষয়টিও বুঝতে পারে না?! আশ্চর্য!

    মেয়ে, নিজেকে এত আধুনিক ও প্রগতিশীল দাবী করো, কিন্তু নিজের শরীর, আব্রু, ইজ্জত আরেকটি ছেলের কাছে বিলিয়ে দেয়া যে ঠিক না, তা বুঝতে পারো না? আশেপাশে এত অধঃপতন দেখেও তোমাদের শিক্ষা হয় না? কিভাবে একজন ছেলের কাছে বিয়ের আগেই সবকিছু সপে দাও? দেয়ার সময় মাথায় আসে না যে প্রতারিত হতে পারো? আসবে কিভাবে? তথাকথিত আধুনিক সংস্কৃতি তো তোমাদের এটিই শিক্ষা দিচ্ছে। অবাধে মেলামেশা করো, উদ্দাম হও, লাম্পট্যপনাতে জড়িয়ে পড়ো। তোমার কি এই বোধটুকুও আসে না যে, তোমার শ্রেষ্ঠ সম্পদই যখন বিয়ের আগে কোন প্রকার সামাজিক স্বীকৃতি ও চুক্তি ছাড়াই একজন ছেলে নিয়ে নিয়েছে তখন পরবর্তীতে সেই ছেলের তোমাকে বিয়ে করার প্রয়োজন কি?

    তাই দেখা যায় সাবিরার মতো সুন্দরী, আধুনিকাও সেই পুরুষের কাছে তুচ্ছ হয়ে যায় যখন বিয়ে বহির্ভূত ভাবে সবকিছু দিয়ে দেয় ওই পুরুষকে। সবকিছু হারানোর পর সাবিরা বুঝতে পারে সে এখন তুচ্ছ! তুচ্ছ না হয়েও বা কি হবে?! কারণ সাবিরাদের মতোই অপসংস্কৃতির ছোঁয়ায় বিবেকশুণ্য হাজারও তরুণী আশেপাশে আছে যাদের ওইসব নষ্টপুরুষরা যখন তখন খুঁজে পায় ও ব্যবহার করতে পারে। যেখানে সাবিরার মতো বা তার চেয়ে আরও কথিত উন্নত-আধুনিক-সুন্দরী কাউকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তখন কেন ওই নষ্ট পুরুষরা ব্যবহৃত টিস্যু পেপার সাবিরার জন্য বসে থাকবে?

    কিন্তু সাবিরা কি তুচ্ছ হয়ে যাওয়ার মতো ছিল? কি ছিল না তার? রূপ? সৌন্দর্য? মাধুর্য? কমনীয়তা? স্বাভাবিক ভাবে একজন পুরুষ যা চায় তার কোনটি তার কমতি ছিল? তারপরও কিভাবে সে ফেলনা হয়ে গেলো? বিশাল প্রশ্ন। আত্মহত্যার নোট পড়ে ও ভিডিও দেখে এটি বুঝা যায় আসলে সবকিছু থাকার পরও সে হারিয়ে ফেলেছিল তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদটি। যা কথিত আধুনিক মেয়েরা সাবিরার মতোই ফাঁদে পড়ে হারাচ্ছে অহরহ। কেন জানি না, ওই সব আধুনিক ও কথিত শিক্ষিতরা কেন সবকিছু হারানোর আগে বিষয়টি বুঝতে পারে না!

    সাবিরার আত্মহত্যার নোট পড়ে আবারও হেফাজতে ইসলাম বা এদেশের ইসলামী দলগুলোর সেই দাবীর কথা মনে ভেসে উঠে। তারা দাবী করেছিল, “ব্যক্তি ও বাকস্বাধীনতার নামে সব বেহায়াপনা, অনাচার, ব্যভিচার, প্রকাশ্যে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ বন্ধ করা উচিত।” সাবিরাদের পরিণতি দেখে কি এই দাবীর যৌক্তিকতা ফুটে উঠে না? হেফাজত বা ইসলামী দলের এই দাবী আসলে শুধু তাদের বা ইসলামের নয় বরং প্রতিটি বিবেকবান মানুষের। যাদের বিবেক নষ্ট হয়ে গিয়েছে, যারা চায় নারীদের পরিণতি সাবিরাদের মতো হোক, তারা ছাড়া আর কেউ কি এই দাবীর বিরোধীতা করতে পারে?

    বর্তমান বাংলাদেশের তথাকথিত নারীবাদী-প্রগতিশীল-মুক্তমণাদের মূল শত্রু ইসলাম। নারী অধিকারের নামে তারা সবসময় বিরোধীতা করতে থাকে ইসলামের। তাদের সেই ইসলাম বিরোধীতার মূল কারণ তারা আসলে এদেশের তরুণ-তরুণীদের সাবিরা-নির্ঝরদের মতো তৈরি করতে চায় যাদের নীতি, নৈতিকতা, মানবিকতা, চরিত্র, ইসলাম কোন কিছুই থাকবে না, তারা হবে শুধু অশ্লীলতা, যত্রতত্র অবাধ যৌনতা ও যৌন লালসা সর্বস্ব মাতাল কিছু জীব। ওসব জীব দেশ, জাতি, সমাজ, ভবিষ্যৎ কোন কিছুই নিয়ে ভাববে না, ভাববে শুধু কিভাবে অবাধে লালসা মিটানো যায়।

    কিন্তু এক্ষেত্রে একমাত্র ও শুধুমাত্র বাঁধা ইসলাম। তাই বর্তমান বাংলাদেশে নৈতিকতা ধ্বংসের সকল পথ খুলে দেয়া হয়েছে। নৈতিক চরিত্র তৈরির সকল পথ আস্তে আস্তে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। তার ধারাবাহিকতায় বতর্মান বাংলাদেশে ইসলাম, ইসলামী শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি একপ্রকার নিষিদ্ধ এবং ইসলামী ব্যাক্তিত্বরা কারাগারে বা ফাঁসির কাষ্ঠে। একদিকে অশ্লীলতা, অনৈতিকতা ছড়ানোর কারিগর ভারতীয় অশ্লীল অপসংস্কৃতির নায়ক-নায়িকাদের জন্য বাংলাদেশকে অবারিত করে দেয়া হয়েছে, অন্যদিকে ইসলামকে নির্বাসনে পাঠানো হচ্ছে।

    কারণ ভারত, হাসিনা ও আওয়ামী লীগ ট্রানজিট-কোরিডোরময় বাংলাদেশ নামে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী যে রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে তাতে সুস্থ-সচেতন-দেশপ্রেমিক-নৈতিকচরিত্র সম্পন্ন মানুষের কোন প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু বোধশক্তিহীন-অধঃপতিত-নষ্ট চরিত্রের জীব সাবিরা-নির্ঝরদের। তাই এই সাবিরা শেষ সাবিরা নয়, আরো অনেক অনেক সাবিরা বর্তমান সাবিরার পরিণতির দিকে ধেয়ে চলেছে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী নষ্ট সংস্কৃতির কবলে পড়ে…

    Reply
  6. আবদুল্লাহ আল মাহমুদুন নূর

    সচেতনতা জরুরি। পরিবার ই একমাত্র সচেতনতা তৈরির সূতিকাগার।

    Reply
  7. maxrockz11@gmail.com

    আপনি তাহলে আপনার মেয়েদেরকে বিবাহপূর্ব যৌন সম্পর্কে উৎসাহ দিচ্ছেন?

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—