ঈশ্বর ও ধর্মের প্রকৃতি কেমন হবে, পৃথিবীর কোন অঞ্চলে কোন ধরনের ধর্মের উৎপত্তি হতে পারে, বা কোথায় কোন ধর্ম সগৌরবে টিকে থাকবে তা হয়তো ভূগোল ও আবহাওয়ার উপর কিছুটা নির্ভর করে। সমভূমির ঈশ্বর ও মরুভূমির ঈশ্বরের প্রকৃতি ও আচরণ এক নয়। বেশিরভাগ ধর্মেই স্বর্গ-নরক আছে, কিন্তু সব ধর্মে স্বর্গের সুযোগ-সুবিধা ও নরকের শাস্তি-যন্ত্রণা এক প্রকারের নয়। উত্তর ভারতের হিন্দু সাধুরা মাথায় জটাভার, মুসলমান-শিখ বুজুর্গরা মাথায় পাগড়ি-টুপি, হিন্দু-মুসলমান-শিখরা গ-দেশে প্রলম্বিত শ্মশ্রু রাখতে পারার একটি কারণ হয়তো এই যে তাদের বাসভূমি শীতপ্রধান। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মস্তক মুণ্ডিত এবং মুখমণ্ডল ক্ষৌরিকৃত হবার একটি কারণ হয়তো এই যে উষ্ণ কিন্তু জলীয় বাষ্পবহুল বাংলা-বিহার অঞ্চলে বৌদ্ধধর্মের সূচনা।

ভারতবর্ষের পূর্বাঞ্চলের অধিবাসীরা এই ভেবে গর্ববোধ করতে পারে যে, তাদের এলাকায় সূচিত হওয়া একটি ধর্ম ছড়িয়ে গিয়েছিল এশিয়া মহাদেশের প্রায় সর্বত্র: বাংলা-বিহার থেকে শুরু করে বেলুচিস্তান-আফগানিস্তান-ইরান-তুরস্ক এবং শ্রীলঙ্কা থেকে শুরু করে চীন-তিব্বত-কোরিয়া-কম্বোডিয়া-জাপান পর্যন্ত। উত্তর ভারতের গ্রীক রাজা মেনান্দার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিলেন।

সপ্তম শতকে চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং যখন ভারতভ্রমণে এসেছিলেন তখন আফগানিস্তানের জনসংখ্যার অর্ধেক ছিল হিন্দু আর বাকি অর্ধেক বৌদ্ধ। বামিয়ানে এই সেদিন পর্যন্ত সটান দাঁড়িয়েছিল পাহাড়-প্রমাণ উচ্চতার এক বুদ্ধমূর্তি।

তুর্কিস্থানে, ইরানে আবিষ্কৃত হয়েছে বৌদ্ধধর্মের বহু গুরুত্বপূর্ণ পাণ্ডুলিপি। তুর্কিরা প্রায় সবাই এবং ইরানিদের উল্লেখযোগ্য অংশ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিল। এশিয়ার সর্বশেষ প্রান্তে, জাপানের রাজধানী টোকিওর অদূরে কামাকুরায় পদ্মাসনে বসে আছেন ১২৫২ সালে নির্মিত ৪৩ ফুট উঁচু মহিমাময় চেহারার এক অমিতাভ বোধিসত্ত্ব।

লক্ষ্য করার বিষয় হচ্ছে, যেখানে বৌদ্ধধর্মের উৎপত্তি, সেই দক্ষিণ এশিয়া তথা ভারতবর্ষের এক চট্টগ্রাম ছাড়া আরও কোথাও বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী নেই (সাম্প্রতিক কালে যে তাণ্ডব রামু ও অন্যত্র ঘটে গেছে তাতে করে চট্টগ্রামেও বৌদ্ধরা যে খুব বেশিদিন বহাল তবিয়তে থাকবে তা জোর দিয়ে বলা যাবে না)। আশ্চর্যের বিষয়, বৌদ্ধ ইতিহাসে বিখ্যাত সব স্থান: বিহারের পাটলিপুত্র (পাটনা), রাজগৃহ (রাজগির), এমনকি বুদ্ধগয়াতেও কোনো বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব নেই।

ভারতবর্ষে বৌদ্ধধর্মের অবস্থা কতটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল তার অন্যতম প্রমাণ অজন্তা। ১৮১৯ সালের ২৮ এপ্রিল মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির ২৮তম অশ্বারোহী বাহিনীর এক অফিসার জন স্মিথ আওরঙ্গাবাদ শহর থেকে শ খানেক কিলোমিটার দূরের এক জঙ্গলে বাঘ শিকারে গিয়ে আবিষ্কার করেন অজন্তার ১০নং গুহা। ৩০টি গুহা আছে অজন্তায় যার প্রত্যেকটিতে অনিন্দ্যসুন্দর ভাস্কর্য ও দেয়ালচিত্রে বুদ্ধ ও বোধিসত্ত্বদের জীবনকাহিনি বিধৃত হয়েছে। গবেষকদের মতে, চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শতক পর্যন্ত দীর্ঘ সময় জুড়ে এই গুহাগুলো অলঙ্কৃত হয়েছিল। সপ্তম শতকে হিউয়েন সাং অজন্তায় বাস করেছেন কিছুদিন। অষ্টম থেকে ঊনবিংশ– হাজার বছরের বেশি সময় ধরে জঙ্গলের নিচে চাপা পড়েছিল অজন্তার শিল্পসম্ভার তথা ভারতবর্ষের গৌরবময় বৌদ্ধ অতীত।

ভারতবর্ষ থেকে বৌদ্ধধর্ম হারিয়ে যাবার পেছনে কমপক্ষে চারটি কারণের কথা বলা হয়ে থাকে: ১. অন্তর্কোন্দল, ২. স্থানীয় আক্রমণ, ৩. ধর্মের বিকৃতি এবং ৪. বহিরাক্রমণ। বুদ্ধদেবের জীবনকালেই অন্তর্কোন্দলের শুরু। কী নিয়ে অন্তর্কোন্দল? যে তিনটি বিষয় পৃথিবীর অন্যান্য ধর্মের স্তম্ভস্বরূপ: ঈশ্বর, আত্মা ও পরলোক (শেষ বিচার, স্বর্গ-নরক, পুনর্জন্ম, পুনরুত্থান…) সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে বুদ্ধদেব নীরব থাকতেন। জীবন দুঃখময়, দুঃখের কারণ তৃষ্ণা এবং তৃষ্ণার কারণ অবিদ্যা। গায়ে তীর এসে বিঁধেছে। এই তীর কে ছুঁড়েছে, সেটা জানার চেয়ে জরুরি হচ্ছে শরীর থেকে তীরটা খুলে ফেলা এবং ক্ষতস্থানে ঔষধ লেপন। সম্যক দৃষ্টি, সম্যক সংকল্প, সম্যক বাক, সম্যক কর্ম, সম্যক জীবিকা, সম্যক ব্যায়াম, সম্যক স্মৃতি, সম্যক সমাধি– এই অষ্টমার্গ অবলম্বন করলে ধীরে ধীরে তৃষ্ণা, অবিদ্যা দূর হবে বলে দাবি করা হয়েছে বৌদ্ধ দর্শনে।

অষ্টমার্গ গৃহী ও ভিক্ষু উভয়ের জন্যে প্রযোজ্য। তবে গৃহীর তুলনায় ভিক্ষুকে অতিরিক্ত কিছু নিয়ম (‘শীল’ বা ‘বিনয়’) মেনে চলতে হয়: ভিক্ষু কাম থেকে বিরত থাকবেন; ভিক্ষান্নে জীবন ধারণ করবেন; গৃহত্যাগ করে সঙ্ঘে অবস্থান করবেন; ভিক্ষুর ব্যবহৃত ভিক্ষাপাত্র হবে মাটির; ভিক্ষুর পোষাক খুব বেশি আরামদায়ক হবে না; সূর্য মধ্যগগনে উপস্থিত হবার পূর্বেই ভিক্ষুকে খাদ্যগ্রহণ শেষ করতে হবে এবং ভিক্ষু দিনে একবার মাত্র খাদ্যগ্রহণ করবে; ভিক্ষু জাতিভেদ, বর্ণভেদ প্রথা মানবেন না; যে কোনো জাতের গৃহীর ভিক্ষা তিনি পরম শ্রদ্ধাভরে গ্রহণ করবেন; একই বাড়িতে পর পর দুই দিন ভিক্ষায় যাওয়া যাবে না; কী ভিক্ষা দিতে হবে গৃহীকে তা বলা যাবে না; গোমাংস, বরাহমাংস, কাঁটাযুক্ত মৎস্য… ভিক্ষান্ন যাই হোক না কেন, ভিক্ষুকে তাই গ্রহণ করে সন্তুষ্ট থাকতে হবে; ভিক্ষুকে খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে প্রাণীহত্যা করা যাবে না; ভিক্ষুর জন্যে সঞ্চয় নিষিদ্ধ।

সংসার ত্যাগ করে দীর্ঘ ছয় বৎসর বিভিন্ন মত ও পথ অনুসরণ করে সাধনা করার পর এক বৈশাখী পূর্ণিমায় সিদ্ধার্থ গৌতম বুদ্ধত্ব লাভ করেন। অল্পদিনের মধ্যে তাঁর অনুগামীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল। কোশলরাজ প্রসেনজিৎ, মগধরাজ বিম্বিসার ও তদীয় পুুত্র অজাতশত্রু, কৌশাম্বীরাজ উদয়ন বুদ্ধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল, যতক্ষণ না রঙ্গমঞ্চে উপস্থিত হলেন বুদ্ধকাহিনির অন্যতম খলচরিত্র গৌতমের জ্ঞাতিভ্রাতা দেবদত্ত। তরুণ বয়স থেকেই গৌতমের প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ ছিল দেবদত্ত। কোনোমতেই গৌতমের সমকক্ষ হতে না পেরে কোনো সুযোগে তাঁর ক্ষতি করার সুযোগ পাবার আশায় দেবদত্ত কয়েকজন বন্ধুসহ বুদ্ধের কাছে দীক্ষা গ্রহণ করে ভিক্ষু হন।

ভিক্ষু হলে কী হবে, মনে মনে তিনি উচ্চবংশীয় শাক্যই থেকে গিয়েছিলেন। বৌদ্ধধর্মের ত্রিরত্ন, অর্থাৎ বুদ্ধ, ধর্ম ও সঙ্ঘের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা ছিল না দেবদত্তের। কয়েকবার তিনি বুদ্ধের প্রাণহরণের চেষ্টা করেন। ক্রমাগত কুমন্ত্রণা দিয়ে বুদ্ধ এবং পিতা বিম্বিসারের প্রতি অজাতশত্রুর মন বিষিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন দেবদত্ত। শুধু তাই নয়, দেবদত্ত বিনয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতেন: ব্রাহ্মণ আর চণ্ডালকে কেন এক দৃষ্টিতে দেখা হবে? আরামদায়ক কাপড় পরলে বা ভিক্ষাপাত্র যদি স্বর্ণনির্মিত হয়, তবে তাতে সমস্যা কী? এক আধ দিন দ্বিপ্রহরের কিছু পরে খেলেই বা কী এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে গেল? সঞ্চয় নিষিদ্ধ, কিন্তু পশুর শিঙের মধ্যে সামান্য পরিমাণ লবণ সঞ্চয় করে রাখলে এমন কী দোষ হয়? এ ধরনের দশটি নিয়ম (দশ মহাবস্তু) নিয়ে ভিক্ষুদের মধ্যে মধ্যে ক্রমাগত মতান্তর হতে থাকে।

বুদ্ধদেব নারীদেরও শ্রমণী হওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন। সমসাময়িক বেশ কয়েকজন নগরনটী ও রাজকুমারী ভিক্ষুণী-জীবন গ্রহণ করেছিলেন। যদিও শ্রমণী ও শ্রমণেরা আলাদা গৃহে বাস করতেন, তবুও জীবনের নিজস্ব নিয়মে ব্যভিচারের কিছু অভিযোগ উঠেছিল বুদ্ধের জীবৎকালেই। এই সব অভিযোগের কারণে সঙ্ঘ ভাঙারও উপক্রম হয়েছিল একাধিক বার। কিন্তু কোনো পাপী যদি অনুতপ্ত হতো, তবে তাকে সঙ্ঘ থেকে বহিষ্কার না করার প্রশ্নে বুদ্ধদেব অনড় থাকতেন। পাপীকে নয়, বুদ্ধদেব পাপকে পরিহার করার পক্ষপাতী ছিলেন।

যারা অক্ষরে অক্ষরে বিনয় মানতে চাইতেন না তাদের বেশির ভাগই সম্ভবত দেবদত্তের মতো উচ্চবংশীয় ভিক্ষু ছিলেন। বৌদ্ধদের বিভক্তির মূল কারণ ভিক্ষুদের পূর্বাশ্রমের (অর্থাৎ ভিক্ষু হবার আগের জীবনের) জাতিভেদ। সুতরাং সমস্যাটা মূলত শ্রেণীগত। বিদ্রোহীদের নেতা ছিলেন কখনও দেবদত্ত, কখনওবা অন্য কেউ। বিদ্রোহী ভিক্ষুদের সংখ্যা যথেষ্টই ছিল, যদিও বুদ্ধদেবের উপস্থিতিতে, তাঁর জ্ঞান আর বাগবিভূতির সাথে পাল্লা দিয়ে ভিন্নমত প্রতিষ্ঠার কোনো উপায় ছিল না।

নিজের জীবৎকালে বুদ্ধদেব একাধিক বার সঙ্ঘ ভেঙে বিদ্রোহী ভিক্ষুদের বেরিয়ে যাওয়া ঠেকিয়েছেন। কিন্তু অসন্তোষের তুষের আগুন যে ধিকি ধিকি জ্বলছিল তার প্রমাণ, শাস্তার (বুদ্ধদেবের) পরিনির্বাণের খবর পেয়ে এক ভিক্ষু নাকি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলে ফেলেছিলেন: ‘যাক, আজ থেকে আর ঘড়ি ধরে বিনয় পালন করতে বলবে না কেউ!’

৪৮০ খ্রীস্টপূর্বাব্দে বুদ্ধদেবের মৃত্যুর প্রায় একশত বৎসর পর বিহারের বৈশালী নগরীতে ভিক্ষুদের এক মহাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় ভিক্ষুরা দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায়: ১. স্থবিরবাদী বা থেরবাদী এবং ২. মহাসাংঘিক। আরও প্রায় এক শত বৎসর পর স¤্রাট অশোকের সময় (৩০৪-২৩২ খ্রীষ্টপূর্ব) বিহারের পাটলিপুত্রে আর একটি সভা হয়। এই সভায় মহাসাংঘিকদের নাকি ডাকাই হয়নি। সুতরাং মহাসাংঘিকেরা থেরবাদীদের এই সভাটিকে স্বীকারই করে না। আরও শ দুয়েক বৎসর পরে কুষাণ স¤্রাট কনিষ্কের (১২৭-১৬৩) রাজত্বকালে মহাসাংঘিকেরা পাঞ্চাবের জলন্ধরে এক সভা আহ্বান করে। এই সভায় তারাও স্থবিরবাদীদের খুব একটা আমন্ত্রণ করেনি বলে জানা যায়।

প্রথমে বিনয়ের প্রশ্নে ভিক্ষুদের মধ্যে বিভক্তি এসেছিল, কিন্তু কালক্রমে বিভক্তি এসেছিল বুদ্ধ এবং ধর্মের প্রশ্নেও। বুদ্ধদেবের শিক্ষা হচ্ছে, প্রত্যেককে অষ্টমার্গ অনুসরণ করে নিজ নিজ নির্বাণের লক্ষ্যে সাধনা করতে হবে। প্রত্যেকের জামাকাপড়ের মাপ যেমন আলাদা, প্রত্যেকের সাধনার পথও ‘এক রকম’, কিন্তু ‘একই’ নয়। বুদ্ধদেবের এই শিক্ষায় এখনও বিশ্বাস করেন থেরবাদীরা।

মহাসাংঘিকেরা বলতে শুরু করলেন, বুদ্ধদেব অন্য সবাইকে উদ্ধারের জন্যেই সদ্ধর্ম প্রচার করেছেন। সুতরাং নিছক নিজের নির্বাণের চিন্তা করাটা অতি হীন কাজ। থেরবাদীরা ক্ষুদ্রচেতা, তাদের ধর্ম ‘হীনযান’। জগতের সব প্রাণীকে উদ্ধার করার পর মহাসাংঘিকেরা নিজেদের নির্বাণের কথা ভাবতে ইচ্ছুক। সুতরাং তারা উদারমনা, তাদের ধর্ম ‘মহাযান’।

কথিত আছে যে, বুদ্ধ হবার আগে সিদ্ধার্থ পাঁচশত পঞ্চাশ বোধিসত্ত্ব জন্ম পার করে এসেছেন। এসব জন্মের কাহিনি বিধৃত আছে ‘জাতক’-এ। মহাযানীদের মতে, এ রকম বোধিসত্ত্ব আরও অনেক আছেন: অবলোকিতেশ্বর, অমিতাভ, মঞ্জুশ্রী… যাঁরা চাইলেই নির্বাণ লাভ করতে পারেন, কিন্তু জগতের বাকি সব প্রাণী ও উদ্ভিদের প্রতি ‘করুণা’-বশত তাঁরা নির্বাণের আকাঙ্ক্ষা করেন না। মহাযানীরা মনে করেন, গৌতম বুদ্ধও একজন বোধিসত্ত্ব মাত্র।

তবে অন্য বোধিসত্ত্বদের সঙ্গে তাঁর পার্থক্য হচ্ছে, তিনি হচ্ছেন অন্য সব বোধিসত্ত্বের ‘কলম’ বা মুখপাত্র, যেহেতু তাঁর মুখ দিয়েই সদ্ধর্মের নিয়মগুলো প্রকাশিত হয়েছে। মহাযানীদের সঙ্গে থেরবাদীদের একটা ভাষাগত পার্থক্যও ছিল। বুদ্ধদেব উপদেশ দিতেন সর্বসাধারণের ব্যবহৃত প্রাকৃত ভাষায়। বৌদ্ধধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থ ত্রিপিটকও রচিত হয়েছে ‘পালি’ নামক এক প্রাকৃত ভাষায়। মহাযানীরা শিক্ষিত ভদ্রলোকদের ব্যবহৃত প্রমিত ভাষা সংস্কৃত ব্যবহার করতে অধিকতর আগ্রহী ছিলেন।

মৌর্যসম্রাট অশোক তাঁর পুত্র (মতান্তরে ভাই) মহেন্দ্রকে সিংহলে (বর্তমান নাম ‘শ্রীলঙ্কা’) পাঠিয়েছিলেন বৌদ্ধধর্ম প্রচারে। মহেন্দ্র সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন বুদ্ধগয়ার বোধিবৃক্ষের একটি শাখা। সেই শাখা সিংহলে গত দুই হাজার বছরে কয়েক বর্গমাইলব্যাপী এক মহীরুহে পরিণত হয়েছে। বৌদ্ধধর্মের আদি থেরবাদী রূপটি সম্ভবত অক্ষুণœ আছে শ্রীলঙ্কায়। মহাযান অংশটি ছড়িয়ে গেছে পূর্ব এশিয়ার তিব্বত, চীন, মঙ্গোলিয়া, কোরিয়া ও জাপানে। থেরবাদীরা আছেন বার্মা, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও লাওসে। ভিয়েতনামে শুনেছি মহাযান ও থেরবাদ দুইই আছে।

বুদ্ধদেবের পরিনির্বাণের কয়েক শত বছর পরে বুদ্ধ ও বোধিসত্ত্বের প্রতীক ও মূর্তিপূজা চালু হয়। বুদ্ধশরীরের ধাতু (অস্থি, দাঁত) এক জায়গায় জড়ো করে তার উপর বিশেষ ধরনের এক স্থাপত্য-কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছিল যার নাম স্তুপ। প্রথম দিকে এই স্তুপ ছিল বুদ্ধের প্রতীক। বুদ্ধ যদিও বার বার বলেছেন, তিনি সাধারণ মানুষ এবং মানুষের জন্যে সদ্ধর্মের অনুসরণই যথেষ্ট, তবুও তাঁর মৃত্যুর পর স্তুপপূজা শুরু হয় এবং কালক্রমে দলমত নির্বিশেষে বৌদ্ধরা বুদ্ধমূর্তির উপাসনা শুরু করে যা অদ্যাবধি চলছে (এটাই স্বাভাবিক, কারণ প্রার্থনার জন্যে কোনো না কোনো মূর্তি অপরিহার্য: মাটি/কাঠ/পাথর/ধাতুর মূর্তি অথবা কথামূর্তি অথবা ভাবমূর্তি)।

অজন্তায় প্রাচীনতম গুহাগুলোতে স্তুপ এবং অপেক্ষাকৃত নবীন গুহাগুলোতে বুদ্ধ ও বোধিসত্ত্বের মূর্তি/চিত্র লক্ষ্য করা যাবে। সুতরাং যাকে আমরা আজ ‘বৌদ্ধধর্ম’ বলছি ‘বুদ্ধের প্রচারিত’ ধর্মের সঙ্গে তা টায়ে টায়ে মিলে কি না– সে প্রশ্ন উঠতেই পারে।

মৌর্যবংশের পতনের পর যে শুঙ্গবংশের প্রতিষ্ঠা হয় তার প্রথম সম্রাট পুষ্যমিত্র ছিলেন সামবেদী ব্রাহ্মণ ও চরম বৌদ্ধবিদ্ধেষী। তিনি ভারত থেকে বৌদ্ধদের বিতাড়িত করার চেষ্টা করেছিলেন। বহু সংখ্যক পশুবলি দিয়ে অশোকের রাজধানী পাটলিপুত্রে (আজকের পাটনায়) বিশাল এক যজ্ঞের আয়োজন করেছিলেন পুষ্যমিত্র। এই যজ্ঞ ছিল বৌদ্ধদের অহিংসার বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণ্যবাদীদের সহিংস প্রতিবাদ। হিন্দুদের হাতে বৌদ্ধরা হয় নিহত হন, অথবা ধীরে ধীরে ধর্মান্তরিত হন হিন্দুধর্মে।

পূর্ব ভারতের রাজা শশাঙ্ক এমনই বৌদ্ধবিদ্বেষী ছিলেন যে তিনি নাকি বুদ্ধগয়ার বোধিবৃক্ষটাই কেটে ফেলেছিলেন (পরে সিংহল থেকে বোধিবৃক্ষের একটি শাখা নিয়ে এসে আবার রোপন করা হয় বুদ্ধগয়ার যা থেকে বর্তমান বোধিবৃক্ষ)। প্রধানত থেরবাদীরাই হিন্দু রাজাদের অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন, কারণ তারা বাস করতেন পাটলিপুত্রের আশেপাশে, বুদ্ধদেব যেখানে ধর্মপ্রচার করেছিলেন।

মহাযানীরা ইতিমধ্যে পশ্চিম ভারতের দিকে সরে গিয়েছিল। সেখানে শক, যবন, পহ্লব প্রভৃতি জাতির শাসন ছিল। মহাযানীরা সেসব জাতিকে নিজেদের ধর্মে দীক্ষিত করার চেষ্টা চালায় এবং তাতে অনেকটা সফলও হয়। থেরবাদীদের সঙ্গে মহাযানীদের মতান্তর সপ্তম শতকেও অব্যাহত ছিল, কারণ রাজা হর্ষবর্ধন পরিব্রাজক হিউএন সাংকে এই দুই দলের ঝগড়া মেটানোর কাজে নিয়োগ করেছিলেন।

পূর্বভারতে তন্ত্র নামে এক ধর্মমত ছিল যাতে নারী-পুরুষ শরীরকে মোক্ষলাভের উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হতো। তান্ত্রিকেরা ভাবতেন, পুরুষ শরীর শিব আর নারী শরীর শক্তির প্রতীক। শিব আর শক্তির মিলনে কৈবল্যের সাধনা। এক সময় তন্ত্র আর মহাযান বৌদ্ধমত মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। বিকৃত হয়ে যায় সদ্ধর্মের মূল রূপ। ‘তারা’ নামে প্রত্যেক বোধিসত্ত্বের এক একটি শক্তি কল্পনা করা হয়।

বোধিসত্ত্ব ও তারার মূর্তির হাত, পা, মাথার সংখ্যা বাড়তে বাড়তে হাজার ছাড়িয়ে যায়। কিছু কিছু মূর্তিতে বোধিসত্ত্ব ও শক্তি বিচিত্র ভঙ্গীতে মিথুনাবদ্ধ। কোনো কোনোটিতে এক বোধিসত্ত্বের সঙ্গে আলিঙ্গনাবব্ধ শক্তি নতুন এক বোধিসত্ত্ব প্রসব করছেন। এ ধরনের কিছু মহাযানী মূর্তিকে ‘বিভৎস’ বলে বর্ণনা করেছেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।

কোনো অর্থকরী পেশা গ্রহণ করা ভিক্ষুদের জন্যে নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু কালক্রমে ভিক্ষুরা কারুশিল্পীর মতো ছোটোখাটো পেশা গ্রহণ করতে থাকে। দু পয়সা জমিয়ে অনেকে কমবেশি বড়লোকও হয়, ইওরোপের ইতিহাসে বুর্জোয়াদের মতো। উদ্বৃত্ত অর্থ থাকলে মানুষ চায় আরাম– শরীরের ও মনের। এক সময় মহাযানী ভিক্ষু ও ভিক্ষুণীরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে শুরু করেন। নিজেদের শরীরকেই তারা নির্বাণ লাভের উপায় হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেন।

এই মহাযানীদের একটি শাখা বাংলা অঞ্চলের সহজিয়া বৌদ্ধধর্ম। বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদ মূলত সহজিয়াদের ধর্মসঙ্গীত। সমাজবহির্ভূত, অশ্লীল ধর্মাচরণের কারণে সহজিয়া মহাযানীরা সম্ভবত তথাকথিত ভদ্র সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এদেরই একটি অংশ সম্ভবত বৈষ্ণব এবং/অথবা বাউলে রূপান্তরিত হয়েছিল।

ভারতবর্ষে বৌদ্ধধর্মের উপর সর্বশেষ এবং মরণান্তক আঘাতটি করেন বঙ্গদেশে নবাগত তুর্কি ও আফগান শাসক-সেনানায়কেরা যাদের পূর্বপুরুষ এক সময় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছিল। ত্রয়োদশ শতকের শুরুতে বখতিয়ার খিলজির নেতৃত্বে তুর্কি সৈন্যরা নালন্দা ও ওদন্তপুর বিহারের হাজার হাজার নিরস্ত্র, মু-িতমস্তক ছাত্র-শিক্ষক ভিক্ষুকে ‘কতল’ করার পর পাঠাগারের বইপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ রকম বহু শত বিহার-পাঠাগার তারা ধ্বংস করে, হত্যা করে হাজার হাজার নিরীহ ভিক্ষুকে। কিছু ভিক্ষু সম্ভবত পালিয়ে যেতে সক্ষম হন নেপাল এবং তিব্বতে। ধারণা করা যায় যে পলায়নপর ভিক্ষুরা সঙ্গে করে কিছু পুঁথিপত্র নিয়ে যেতে পেরেছিলেন। সম্ভবত এসব পুঁথির মধ্যে একটি– চর্যাপদ ঊনবিংশ শতকে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগারে আবিস্কৃত হয়।

হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর মতে, চট্টগ্রামের বৌদ্ধদের কথা বাদ দিলে, বাংলার অন্যত্র এবং উড়িষ্যায় বৌদ্ধধর্মের সর্বশেষ রূপ ধর্মঠাকুরের পূজা। ধর্মঠাকুরের মূর্তি কচ্ছপের মতো। এই কচ্ছপ আর কিছুই নয়, বৌদ্ধধর্মের প্রথম দিকের সেই স্তুপ। এক সময় স্তুপের চেহারা দাঁড়ায় মন্দিরের মতো। মন্দিরের চারপাশে চারটা কুলুঙ্গি। চার কুলুঙ্গিতে চারজন ধ্যানীবুদ্ধ: পূর্বে অক্ষোভ্য, পশ্চিমে অমিতাভ, দক্ষিণে রতœসম্ভব এবং উত্তরে অমোঘসিদ্ধি।

প্রথমে এই (মহাযানী) স্তুপে গৌতম বুদ্ধের স্থান ছিল না, কারণ তিনিতো অন্য বুদ্ধদের মুখপাত্র বৈ আর কিছু নন। পরে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে গৌতমের জন্যেও একটা কুলুঙ্গি কাটা হয়। পাঁচ কুলুঙ্গিওয়ালা স্তুপ (চার পা ও এক মাথা) কচ্ছপের আকার ধারণ করে। ধর্মঠাকুরের ভক্তদের একটি অংশ সম্ভবত ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল, কারণ রামাই পণ্ডিতের ধর্মঠাকুরের পাঁচালিতে আছে: ‘ধর্ম হইল যবনরূপী, মাথায়েতে কাল টুপি, হাতে শোভে তীরুচ কামান।’

শাস্ত্রী মনে করেন, উড়িষ্যার পুরীর মন্দিরের জগন্নাথ, সুভদ্রা, বলরাম মূলতঃ বৌদ্ধধর্মের ত্রিরতœ: বুদ্ধ, ধর্ম ও সঙ্ঘ। শাস্ত্রী মহাশয়ের দাবি যদি সঠিক হয়, তবে বাংলা-উড়িষ্যা অঞ্চলের রথযাত্রার মধ্যে বৌদ্ধধর্ম অধ্যাবধি সগৌরবে (যদিও প্রচ্ছন্নভাবে) টিকে আছে। এছাড়া বাউলদের সাধন-ভজন-গানের মধ্যেও বৌদ্ধধর্ম কিছু পরিমাণে টিকে আছে বৈকি।

বাউলদের জাতপাত না মানা, দেহের খাঁচার ভিতর অচিন পাখি খোঁজা, শরীরকে সাধনার যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা… ইত্যাদিকে মূল বৌদ্ধধর্মের বা মহাযানী বৌদ্ধধর্মের কিছু কিছু আচার ও বিশ্বাসের আধুনিক রকমফের বললে অত্যুক্তি হয় না। বাংলা অঞ্চলে হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে বাউলগানের জনপ্রিয়তা এবং বাউল সমাজের কিছু রীতিনীতির কথা যদি ভাবি, তবে বলতে হয়, বাঙালি মনে বৌদ্ধধর্মের প্রভাব এখনও একেবারে নিঃশেষ হয়ে যায়নি।

শিশির ভট্টাচার্য্যঅধ্যাপক, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৩ Responses -- “বুদ্ধপূর্ণিমায় ধর্মভাবনা: বৌদ্ধরা সব গেল কোথায়”

  1. Sykot Biswas

    অসাধারণ তথ্যবহুল আটিকেল & ইন্টেলেকচুয়াল বিতর্ক। পড়ে সমৃদ্ধ হলাম।

    Reply
  2. ভিক্ষু সম্বোধি

    ১। লেখা এবং প্রশ্নোত্তর পর্ব দেখলাম। সবকিছু মিলে যেটা মনে হলো- শিশির নামের ভদ্রলোক কেবলমাত্র প্রবন্ধ হিসেবে একটা লেখা লিখেছেন। এটা করতে গিয়ে হাতের কাছে যে কয়টি বই পেয়েছেন তা দিয়েই তার লেখা শেষ করেছেন। বৌদ্ধ ধর্মীয় বইয়ের সংগ্রহ তেমন বেশী নেই তার কাছে। নইলে কেবলমাত্র শ্রী প্রবোদচন্দ্র বাকচি’র বৌদ্ধধর্ম ও সাহিত্য এবং রাহুল সাংকৃত্যায়ন এর ভারতে বৌদ্ধধর্মের উত্থান পতন বই দুটি পড়লেই আরো অনেক ভালো লেখা উপহার দিতে পারতেন তার প্রতিপাদ্যের মূল বিষয় নিয়ে (এই লেখা যে খারাপ তা বলছি না)।

    ২। ভদ্রলোকের লেখার ধারাবাহিকতা ঠিকই ছিল কিন্তু বিপত্তি বাঁধলো তথ্যগত ত্রুটিগুলো নিয়ে কারণ লেখা টাতে বেশ কিছু তথ্য বিভ্রাট পাওয়া যায়, যা শিশিরবাবু শাস্ত্রীর নাম দিয়ে দায় এড়াতে চেয়েছেন তবুও লেখক হিসেবে নিজের দায় এড়াতে পারেন না।

    ৩। শুধু চট্টগ্রামে বৌদ্ধদের উপস্থিতি দেখানো, অনেকবার সঙ্ঘ ভাঙ্গার উপক্রম হওয়া, বিরোধী অনেক নেতা থাকা, মূল তিন স্তম্ভে নীরব থাকা, একবার আহার, যা দেয় তা খাওয়া, বুদ্ধ পূজা, স্তুপ পূজা এরকম বেশ কিছু বিষয়ে বিভ্রান্তি পরিলক্ষিত হয়।

    ৪। যদিও প্রতিপাদ্য ঠিক রাখার কথা লেখক মহোদয় বলেছেন তবু সাধারণ বৌদ্ধ হিসেবে তথ্য বিভ্রাটগুলো আমি নিজেও ছাড় দিতে রাজী নয়। কারণ বিভ্রান্তি একটা বা দুইটা নয় বেশ কিছু বিভ্রান্তিই প্রতীয়মান হয়। প্রকৃতপক্ষে সাধারণ কোন বিষয়ে লেখা লিখলে তাতে বিভ্রান্তি থাকলে তেমন কারো মাথা ব্যাথার কারণ হয় না, কিন্তু ধর্মীয় বিষয়গুলো স্বাভাবিকভাবেই ধর্মানুসারীদের গায়ে বিঁধে।

    ৫। উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসুর লেখাতেও সেই বিভ্রান্তির কথাগুলো উঠে এসেছে দেখা যাচ্ছে এবং তিনি এই বিভ্রান্তি নিয়ে খুব সোচ্চার মনে হল। বুঝা যায় তিনি সদ্ধর্ম চর্চা তথা ত্রিপিটক অধ্যয়ন করেন। তাই হয়তো বিভ্রান্তি গুলো তাকে একটু বেশী-ই আঘাত করেছে।

    ৬। লেখক যদিও বৌদ্ধদের ক্ষয়িঞ্চুতা দেখাতে চেয়েছেন কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এখন বৌদ্ধদের পুনরুত্থান এর সময়। এক ভারতেই হাজার হাজার হিন্দু বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করছে।

    ৭। যাই হোক, প্রশ্নোত্তর অনেক হয়েছে, লেখকও কিছু তথ্য বিভ্রাট থাকার কথা স্বীকার করেছেন। অতএব, বিষয়টি এখানেই থেমে যাওয়া উচিত। নতুবা কথায় কথা বাড়তেই থাকবে। মূল বিষয়ের চাইতে তখন বাহ্যিক বিষয় বড় হয়ে দাড়াবে। লেখক এবং মন্তব্যকারী সবার বক্তব্যেই ব্যক্তিগত আক্রমণ পরিলক্ষিত হয়েছে যা মোটেই কাম্য নয়। এখানেই এটার সমাপ্তি হোক। জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।

    Reply
  3. শাওন বড়ুয়া

    ওহ স্যার,
    লেখা দিলেন মাত্র দু পৃষ্ঠার।
    আর এই দুই পৃষ্ঠার যে হেড লাইন তাতেই করলেন মস্ত বড় গলদ।
    বৌদ্ধরা সব গেল কোথায় বলতে গিয়ে চট্টগ্রাম ছাড়া ভারতবর্ষের আর কোথাও বৌদ্ধদের পাচ্ছেন না।
    পরে আবার বললেন, ওভাবে বলাটা ঠিক হয় নাই।
    আরো পরে এসে বলছেন কিছু তথ্য ভূল রয়েছে।
    আপনি একজন অধ্যাপক মানুষ, তাও আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের।
    একটু কি চিন্তাভাবনা করে লেখা যায় না?
    ছোট্ট একটা লেখাতেই এত সমস্যা থাকলে, তাও আবার আপনাদের মত স্বনামধন্যদের লেখাতে, তবে আমরা সাধারণ ছাত্ররা কোথায় যাই?
    না পারলে না লিখুন, লিখলে সময় দিয়ে মান সম্মত করে লিখুন যেন লেখার পর ভূল হয়েছে বলতে না হয়।
    আপনারা ভূল শিখালে তো জাতি ভূল শিখবে।
    সেটা তো বুঝতে হবে।
    তদুপরি বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে যতই লিখছেন ততই আপনার দূর্বলতা ফুটে উঠছে।
    অতএব, আরো জানুন, আমাদেরকেও জানান, আমরা শিখতে চাই, জানতে চাই।
    ইতিপূর্বে ভালো কিছু মৌলিক লেখা তো পেয়েছি আপনার কাছে।
    এখন, কেবল গতানুগতিক লেখা দিয়ে প্রকাশিত হতে হবে এমনতো কথা নাই।
    প্রকাশিত হওয়ার চেয়ে যে বিকশিত হওয়া জরুরী সে-ই জ্ঞান আপনাকে দেওয়ার দুঃসাহস দেখাচ্ছিনা। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।

    Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      আফগানিস্তান থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ভারতবর্ষে বৌদ্ধরা যে সপ্তম শতকের তুলনায় অনেকটাই হারিয়ে গেছে এতে কী ভুল আছে? ইন্দো-আর্য ভারতবর্ষে চট্টগ্রাম ছাড়া আর কোথায় বৌদ্ধরা আছে জনগোষ্ঠী হিসেবে? জনগোষ্ঠী কথাটা লক্ষ্য করুন। লেখাটির মূল প্রতিপাদ্যে কোন সমস্যা আছে সেটা বলুন। তথ্য নিয়ে নয়, বিশ্লেষণ নিয়ে ভাবুন। ভুল হতেই পারে। তবে ভূলটা তথ্যের নাকি বিশ্লেষণের সেটা চিন্তা করুন। আপনি যদি এতই বিকশিত হয়ে থাকেন, তবে একই বিষয়ে আপনিও লিখতে পারেন। পাঠক বিচার করবে কার কথাটা ঠিক। আমি বারবার বলেছি, আমার লেখাটা গবেষণা নয়। এটা একটা সাধারণ জ্ঞানমূলক প্রবন্ধ। আমি অজন্তার কথা বলেছি, আফগানিস্তানের কথা বলেছি। এই বৌদ্ধজনবহুল অঞ্চলগুলোতে বৌদ্ধরা যে হারিয়ে গেছে সে কথাটা কি মিথ্য?

      Reply
      • শাওন বড়ুয়া

        আপনি কি তবে বহুরুপী মানুষ মহাশয়?
        আপনি চট্টগ্রাম ছাড়া আর কোথাও বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী নাই সেই কথাতেই যদি অটল থাকেন তবে আরেক জায়গায় বললেন কেন যে, ওভাবে লেখাটা ঠিক হয় নাই। কোনটা কে সত্য ধরে নেব? চট্টগ্রাম ছাড়া কোথাও নাই সেটা নাকি পরক্ষণে আবার সেই কথার বিপরীত কথা বলা – যেখানে বলেছেন ওভাবে লেখা ঠিক হয় নাই। একই মুখে দুই ধরণের কথা বললে কোন দিকে যাবো আমরা?

        আপনি যদি চট্টগ্রাম ছাড়া আর কোথাও বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী নাই সেটাই বলতে চান তবে সেটা যে আবারো আপনার অজ্ঞতা প্রকাশ করে- পটুয়াখালী, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, কুমিল্লা, বগুড়া এসব অঞ্চলে বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী আছে এটাই সত্য কথা। কেবলমাত্র কথায় জয় লাভের জন্য মিথ্যাশ্রয়ী হওয়া তো আপনার শোভা পায় না।

    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      ভিক্ষু শীলভদ্র এর অনূদীত বই বুদ্ধবাণীতে একাধিক বার বুদ্ধকে দেব বলা হয়েছে।
      ৯১ পৃষ্ঠায়, ১৪২ পৃষ্ঠায়, ১৪৩ পৃষ্ঠায়… সুতরাং আমার আগ্রে কোন কোন বৌদ্ধ লেখক বুদ্ধকে দেব আখ্যায়িত করেছেন।

      Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      উইকিপিডিয়া লিখছে:
      Apart from a small community in eastern Bengal (present-day Bangladesh) in which it had survived from ancient times and Nepal, Buddhism was virtually extinct in India by the end of the 19th century.

      Reply
  4. কুন্তল মুৎসুদ্দী

    এখানকার বৌদ্ধ যারা লেখেন, তাঁরা সেই একই আজগুবি কাহিনী মেলে ধরে বুদ্ধকে যেন তেন ভাবে উপস্থাপন করেন।…………….. কত নিচু মনের মানুষ হলে প্রদীপের মত মানুষগুলো এমন কথা উপস্থাপন করতে পারে সত্যিই অবাক লাগে। সৌরভদাকে ধন্যবাদ জানাতেই হয় কারণ তিনি বিষয়টি খেয়াল না করলে এবং সবার সামনে তুলে না ধরলে হয়তো প্রদীপের আসল রুপ প্রকাশ-ই পেত না। সকল বৌদ্ধ লেখকরা আজগুবি কাহিনী তুলে ধরে বুদ্ধকে নিয়ে কেবল প্রদীপ-ই এসব বুঝতে পারে। শুধু প্রদীপ-ই একজন আছে যে বুদ্ধকে যথার্থভাবে উপস্থাপন করতে পারে, বৌদ্ধ লেখকরা যারা আছে তারা সবাই মূর্খ, কেবল প্রদীপ-ই একজন আছে মহাজ্ঞানী, মহাপন্ডিত, মহাগুণী। মহাজ্ঞানী, জ্ঞানের ভান্ডার প্রদীপ একটু সাবধান হোন, কলম দিয়ে ভাল কথাও লেখা যায়, নোংরা কথাও লেখা যায়। মুখ দিয়ে ভালো খাবারও খাওয়া যায় আবার ময়লা আবর্জনাও খাওয়া যায় আপনি মনে হয় ময়লা আবর্জনা খেতেই বেশী পছন্দ করেন। নইলে এমন বাজে কথা মুখ দিয়ে বের হয় কিভাবে? এখনকার সব বৌদ্ধ লেখককে অবজ্ঞা করার সাহস পান কোত্থেকে। সংযত হন, আপনি যেই লাট বাহাদুর হোন না কেন। সবকিছুর সীমা আছে দালালী করতে গিয়ে সীমা লংঘন করিয়েন না।

    Reply
  5. উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

    শিশির বাবু থেমেছেন –
    প্রদীপ বাবুর মিথ্যাচার নাকি অজ্ঞতা কোনটাই বুঝতেছিনা তবে তার লেখা দেখে সত্যি অবাক-ই হচ্ছি। তিনি এক শিশির বাবুকে বাঁচাতে গিয়ে কত কি না বলে যাচ্ছেন।

    পাঠকবৃন্দ, আপনাদের জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই বুদ্ধগয়ার মূল মন্দিরে যাওয়ার সময় হাতের ডান পার্শ্বস্থ গেইটে (উত্তরমুখী গেইটটাতে) ঢুকতে গেলে হাতের বাম পাশে মাত্র ২০ হাতের মধ্যেই রয়েছে হিন্দুদের জগন্নাথ মন্দির। শুধু কি তাই বুদ্ধগয়ার মূল যে বুদ্ধ মূর্তি আছে তার নিচে একই কক্ষে মাত্র ০৫ হাতের মধ্যেই হিন্দুরা স্থাপন করেছে শিবলিঙ্গ।

    একদল বৌদ্ধ ভিক্ষু বুদ্ধগয়ার মূল বিহারটি কেবল বৌদ্ধদের এই দাবী করে শিবলিঙ্গটি ভেঙ্গে ফেললে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আর তখন ভারতের আদালত নির্দেশ দেয় যে যেটা যেভাবে আছে এখন থেকে সেভাবেই থাকবে। ফলে শিবলিঙ্গ যে পাথরের উপর রক্ষিত ছিল সেই ২ফুট/২ফুট কালো পাথরটি এখনো আছে আর হিন্দুরা গিয়ে সেখানে ফুল দেয় টাকা দেয়। ওটার পাশে বসে ব্রাহ্মণরা মন্ত্র জপ করে, কাসা বাজায়।

    যেখানে মূল মন্দিরের নিকটেই জগন্নাথ মন্দির আছে যেখানে মূল মন্দিরের ভেতরেই হিন্দুরের পুজার জন্য শিবলিঙ্গের সেই পাথর আছে। সেখানে প্রদীপ বাবু লিখেছেন- বুদ্ধ গয়া মহা বিহারের পাশে কোন হিন্দু মন্দিরের কাসর ঘন্টা শোনা যায় না, কিন্তু আজানের প্রবল শব্দ মহাবিহারের পর্যটকরা শোনে। ….মনে হচ্ছে- তিনি যেন হিন্দুদের জয়ধ্বনি গাইবার জন্য এজেন্ট এর দায়িত্ব নিছেন।

    প্রদীপ বাবু, বৌদ্ধ বাবুদের উপদেশ দিতে গিয়ে আবারো যে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করছেন; এখন আপনাকে কে উপদেশ দেবে সেটা তো বুঝতে পারতেছিনা। কেন এমনটা করেন? আপনার এ ধরণের আচরণ দেখে প্রত্যুত্তর দেবো-ই না ভাবি কারণ আপনাকে তো চিনি আমি সেই ২০০৭ সাল থেকে ভালোমতোই। তারপরও কেন জানি এরকম বিভ্রান্তিকর তথ্য দেখলে না লিখে আর থাকতে পারি না। আমার কথাগুলো বিশ্বাস না হলে বুদ্ধগয়া গিয়ে সরাসরি নিজ চোখে দেখে আসুন তখন আর মনগড়া বক্তব্য বের হবে না মুখ দিয়ে। পাঠকদেরও অনুরোধ জানাই বুদ্ধগয়া ভ্রমনে যারা যায় তাদের কাছ থেকে অথবা সরাসরি নিজেরা গিয়ে যেন আমার দেওয়া তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

    Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      উজ্জ্বল বড়ুয়া লিখেছিলেন, হিন্দুরা মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু বৌদ্ধরা মায়ানমারে না পালিয়ে বাংলাদেশে ছিল। ৭১ সালে হিন্দুরা প্রাণ বঁাচাতে
      ভারতে শরণাথী‍ হয়েছিল, কারণ হিন্দু ভারত বাংলাদেশের পক্ষে ছিল। বৌদ্ধদের পালাতে হয়নি, কারণ বৌদ্ধ চীন বাংলাদেশের বিপক্ষে ছিল।
      অনেক হিন্দু বড়ুয়া পাড়ায় লুকিয়ে জীবনরক্ষা করেছিল এবং অনেক বৌদ্ধ মুক্তিযুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছিল, এগুলোও সত্য।
      আফগানিস্তান থেকে চট্টগ্রাম যদি ভারতবর্ষের সীমানা হয় তবে এই ভূখণ্ডে গত হাজার দুই বছরে বৌদ্ধদের সংখ্যা যে দর্শনীয়ভাবে কমেছে এতে কারও কোনো সন্দেহ নেই। অবশ্যই আসামে, ভূটানে, অরুণাচলে বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী আছে। তবে তারা ইন্ডিক ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী নয় যে জনগোষ্ঠীতে মূলত বৌদ্ধধর্মের প্রচার হয়েছিল।এই অঞ্চলগুলো অবশ্যই ভারত রাষ্ট্রের অংশ, কিন্তু ভারতবর্ষের অংশ সবসময় ছিল কিনা সে প্রশ্ন করা যেতেই পারে।
      বুদ্ধ (এবার দেব বলিনি!) আত্মা, পরলোক, ঈশ্বরের ব্যাপারে নীরব থাকতেন, কথাটার অর্থ এই নয় যে তিনি এসব ব্যাপারে অজ্ঞ ছিলেন। আমি বলতে চেয়েছি, ওঁর কাছে এই সমস্ত বিষয়ের আলোচনা গুরুত্বহীন ছিল।
      আমার লেখার যে সমস্ত বিষয় নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে সেগুলোর একটিও আমার মূল প্রতিপাদ্য বৌদ্ধদের সংখ্যা ভারতবর্ষে কেন লক্ষ্যণীয়ভাবে কমে গেল? এর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
      এই লেখাটি লিখে বৌদ্ধধর্ম সম্পর্কে আমি কিছুটা জানতে পেরেছি। বৌদ্ধদের আচরণ ও প্রকৃতি সম্পর্কে আমার ও আমার পাঠকদের অনেক ভুল ভেঙে গেছে।
      আমি মনে করি, উজ্জ্বল বড়ুয়ার প্রশ্নগুলোর উত্তর আমি দিয়েছি। আমি এও মনে করি, ওঁর একটি প্রশ্নও আমার প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
      অনেকেই গাছের জন্যে বন দেখতে পাচ্ছে না।আমি আঙ্গুল দিয়ে চাঁদ দেখাচ্ছি, ওঁরা চাঁদের দিকে না তাকিয়ে আমার আঙ্গুলের দিকে তাকিয়ে আছেন।

      Reply
      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        আমি থামিনি। এক কথা বার বার বলা থেকে বিরত থাকছি। আর সংস্কৃতে একটা কথা আছে: উপদেশে হি মূর্খানাম প্রকোপায়, ন শান্তয়ে। অর্থাত্‌ মূর্খকে উপদেশ দিলে সে কখনও শান্ত হয় না, তার রাগের আরও বৃদ্ধি হয়। সুতরাং চুপ করে থাকাকেই শ্রেয় মনে করছি।

      • কুন্তল মুৎসুদ্দী

        শিশির বাবু, কিছু্ক্ষণ আগে আরেকজনকে মৌলবাদী বানাই ফেললেন, এখন আপনার মতো মহাজ্ঞানীকে কি বিশেষণ দেওয়া যায় বলুন তো। উজ্জ্বল বাবুর প্রশ্নগুলো মূল বিষয়ের প্রতিপাদ্য নয় বলেছেন কিন্তু স্বীকারও তো করেছেন আপনার তথ্যগত কিছু ভূল ছিল, আরেক জায়গায় লিখেছেন ওভাবে লেখা ঠিক হয় নাই। উজ্জ্বল বাবু ঠিকমতো না ধরলে এগুলো স্বীকার করতেন না। আপনার ভূলও ভাঙতো না। মূর্খকে উপদেশ দিলে শান্ত হয় না, এখানে মূর্খ কে? যে ভূল করলো, স্বীকারও করলো পরে সেই মূর্খ নাকি যে ভুল ধরিয়ে দিল সেই- মূর্খ? থুথু যে মারলেন সেটা কার গায়ে পড়লো মিঃ ভট্টাচার্য?

      • Prosenjit Barua

        নীরব শব্দের প্রতিশব্দ কি গুরুত্বহীন হতে পারে? আপনি তা-ই বানিয়েছেন। প্রথমে নীরব থেকেছেন বলে পরে বলেছেন আপনি বুঝাতে চেয়েছেন গুরুত্বহীন ছিল। আসলেই যদি প্রবন্ধের কথাগুলো দিয়ে তাই বুঝাতে চেয়ে থাকেন তবে বলতে হয় আপনি আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট এর অধ্যাপক হলেও আপনার লেখা দ্বারা আপনি যা বুঝাতে চান তা বুঝানোর মতো ভাষাজ্ঞানের আপনার অভাব আছে।

      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        আবারও বলছি, উপদেশে হি ….
        আপনাদের সব কথাই ঠিক। আমার সব ভুল।
        মূর্খে বশ কর তার মতে মত দিয়া
        পণ্ডিতেরে বশ কর সত্য কথা দিয়া।

      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        তথ্যের ভুল থাকতেই পারে। তবে দেখতে হবে সেই ভুলের কারণে বিশ্লেষণের কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা। বৌদ্ধরা কেন অনেকটাই হারিয়ে গেল সেই বিশ্লেষণ নিয়ে কোনো মন্তব্য চোখে পড়লো না। এর মানে হচ্ছে কিছু পাঠক গাছ দেখতে দেখতে বন দেখতে ভুলে যাচ্ছেন।

    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      হিন্দুদের সম্পর্কে প্রথমেই বিরূপ মন্তব্য করেছেন উজ্জ্বল বড়ুয়া। কেন করেছেন? করেছে হিন্দু পরিবারে লেখকের জন্ম বলে। হিন্দুরা কেন ভারতে গেল তার সাথে আমার প্রবন্ধের কী সম্পর্ক?
      হিন্দুরা কেন ভারতে যেতে বাধ্য হয়েছে ১৯৭১ সালে এবং বৌদ্ধরা কেন যায়নি তার উত্তর আমি দিয়েছি। আমি বলেছি, কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হতে পারে, কারণ যারা ১৯৭১ সালে নিরাপদে বাংলাদেশে ছিলেন (তারা যে ধর্মেরই হোন না কেন!) তারা বলতে পারেন না যে ১৯৭১ সালে হিন্দুরা মনের আনন্দে ভারতে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন। যারা দেশে ছিলেন তাদের অনেকেই (সবাই নয়) গাছেরও খেয়েছেন, তলারও কুড়িয়েছেন। দেশ স্বাধীন না হলে তারা যে পাকিস্তানকে সমর্থন করতেন না তার প্রমাণ কী? যে এক কোটি হিন্দু ভিটে মাটি সন্তান সম্ভ্রম হারিয়ে ভারতে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন কেউ বলবে না যে তারা পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। যারা দেশে থেকে কমবেশি স্বাভাবিক জীবন যাপন করেছেন তাদের সম্পর্কে সন্দেহ থেকেই যাবে।কেঁচো খুঁড়তে এই সব সাপ আমি বের করতে চাইনি।

      Reply
      • Prosenjit Barua

        বিরুপ মন্তব্য দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তো আপনি নিজেই সৃষ্ঠি করে দিয়েছেন।

        দক্ষিণ এশিয়া তথা ভারতবর্ষের এক চট্টগ্রাম ছাড়া আরও কোথাও বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী নেই। এই কথা দিয়েই তো আপনি শুরুতে বিভ্রান্তি শুরু করেছেন। আপনার লেখার প্রতিপাদ্য যদি হয় বৌদ্ধদের হারিয়ে যাওয়া আর সেই প্রতিপাদ্যটার সমাধান বা সমাপ্তিতেই তো আপনি গন্ডগোল লাগিয়েছেন ভূল তথ্য দিয়ে। এবং ভুল করেছেন বলে তো আপনি পরে স্বীকারও করলেন।

      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        নীরব শব্দের অর্থ গুরুত্বহীন আমি বলিনি। কোনো প্রশ্ন গুরুত্বহীন হলে সেই প্রশ্নে উত্তরদাতা নীরব থাকতে পারেন – সেটা বলেছি।

      • উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

        শিশির বাবু লিখেছিলেন- দশ মহাবস্তু নিয়ে বুদ্ধদেবের জীবত্‌কালেই যে মতান্তর হয় তাও পড়েছি শাস্ত্রীর বইয়ে।
        শিশির বাবু কে প্রশ্ন করা হয়েছিল- শাস্ত্রীর বইয়ের কত নং পৃষ্ঠা তে পেয়েছেন ‍বুদ্ধের জীবিতকালেই দশ মহাবস্তু নিয়ে মতান্তর হয়েছিল?

        শিশির বাবু আদৌ কি প্রশ্নটার উত্তর দিয়েছেন? অথচ উপরে লিখেছেন- উজ্জ্বল বড়ুয়ার সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। পাঠকবৃন্দ বুঝে নিন যে, উনি আসলেই সত্যাশ্রয়ী কিনা? এ রকম আরো অনেক বিষয় পাশ কাটিয়েছেন যা আর তুলে ধরতে চাইছি না।
        কারণ যিনি সত্যাশ্রয়ী নন, তাকে একের পর এক ভূলগুলো ধরিয়ে দিয়ে কিবা লাভ হবে? অযথা সময়ই নষ্ট করা ব্যতীত কিছুই হবে না।
        শিশিরবাবু স্পষ্টতই মূর্খ ডেকেছেন আমিও একমত এখনো তেমন কিছুই জানিনা তাই আসলে মূর্খই। কিন্তু যিনি মহাজ্ঞানী বলে জাহির করছেন নিজেকে, তার অতীতের লেখাগুলো একটু পর্যালোচনা করে দেখুন- বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের কয়েকশত বছর পরে তিনি স্তুপ পূজার উৎপত্তি দেখালেন, আমি লিখলাম এটা সত্য নয় বুদ্ধের সময়েই স্তুপ পূজার উৎপত্তি হয়েছে। সারিপুত্র ও মৌদগল্যায়ন এর উদাহরণ যখন দিলাম তখন সেটা বিস্তারিত না জেনেই পাল্টা ব্যাঙ্গাত্মক প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন- জীবিত অবস্থায়ও তাহলে দেহধাতু সংগ্রহ করা যায়! সত্যটা কি জানার চেষ্টা না করে পাল্টা ব্যঙ্গ করা থেকেই মহাজ্ঞানী শিশির বাবু সম্পর্কে বুঝা যায় অনেক কিছুই। আপনি মহাজ্ঞানী ক্ষতি নেই, কিন্তু ভূল যদি করে থাকেন/হয়ে থাকে তবে মূর্খ থেকে শিখতেও ক্ষতি কি?
        আসল কথা হচ্ছে, আপনার মত অনুসারে, বৌদ্ধরা সংখ্যায় অধিক ছিল এটা দিয়ে শুরু ………আর বৌদ্ধরা সংখ্যায় নগণ্য হয়ে গেছে এই দু’ লাইন দ্বারা প্রতিপাদ্য বিষয় ঠিক রেখে প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে পারলেই হল। মধ্যখানে তথ্যের বিকৃতি, ভ্রান্তি এসব থাকলে তাতে কিছু-ই আসে যায় না। বরং কেউ সেই ভ্রান্তি গুলো দেখিয়ে দেওয়াটাই মহাঅপরাধ।
        আর আপনার মূল প্রতিপাদ্য কেমন লিখেছেন তা নিয়ে তেমন কোন মন্তব্য না করার কারণ হচ্ছে- ইতিপূর্বে মহাপন্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন- “ভারতে বৌদ্ধধর্মের উত্থান পতন” নামক যেই গবেষণালব্ধ বই উপহার দিয়েছেন সেটা পড়ার পর আপনার লেখাটা মন কাড়ার কথা নয়। আপনি যে চাঁদ দেখাতে চেয়েছেন সেই পূর্ণিমার চাঁদ রাহুল সাংকৃত্যায়ন দেখিয়ে মন ভরিয়ে দিয়েছে। আপনারটা মূলত ঈদের চাঁদ। আঙ্গুল দিয়ে আপনার দেখানো সেই ঈদের চাঁদ দেখতে দিয়ে আপনার আঙ্গুলের ক্ষতটাই আগে চোখে পড়ে গিয়েছে। তাই সুন্দর চাঁদ দেখার চেয়েও আপনার ক্ষত সাধনের জন্য যে মন ব্যাকুল হয়ে উঠল। আর এই অত্যধিক ব্যাকুলতার শাস্তি হিসেবে বেশ কিছু সময়-ই কেবল নষ্ট হয়ে গেল। আঙ্গুলের ক্ষতটা মনে হয় আরো একটু বেড়েই গেল।

      • Prosenjit Barua

        এক জায়গায় বলছেন বুদ্ধ নীরব ছিলেন, আরেক জায়গায় বলছেন বুঝাতে চেয়েছেন বুদ্ধের কাছে এসব গুরুত্বহীন ছিল। আবার বলেছন- নীরব শব্দের অর্থ গুরুত্বহীন আমি বলিনি। কোনো প্রশ্ন গুরুত্বহীন হলে সেই প্রশ্নে উত্তরদাতা নীরব থাকতে পারেন – সেটা বলেছি।
        —– আরে ভাই বুদ্ধ তো নীরব-ই ছিলেন না বর্ণনা যে দিয়েই গেছেন প্রতিটি বিষয়ের তা উজ্জ্বল বাবু আপনাকে রেফারেন্স সহ দিয়েছেন তাহলে অযথা ঘুরে ফিরে সেই একই মিথ্যাচার কেন বারবার? যে বিষয়ের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে নীরব ছিলেন কথাটা লেখাটাই তো একপ্রকার বিকৃতির মধ্যে পড়ে। নীরব থাকা আর গুরুত্বহীন ভাবা তো কখনো এক হতে পারে না।
        আপনি লিখেছেন- নিজের জীবৎকালে বুদ্ধদেব একাধিক বার সঙ্ঘ ভেঙে বিদ্রোহী ভিক্ষুদের বেরিয়ে যাওয়া ঠেকিয়েছেন। …… একাধিক বার যে বিদ্রোহ হয়েছে তার সপক্ষে যুক্তি দিন। অন্ততঃ ০৪টা ঘটনার বিবরণ দিন যাতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে একাধিকবার বিদ্রোহ হয়েছে।

  6. সৌরভ বড়ুয়া

    প্রদীপ নামের লোকটা লিখেছে- আমি বিডি নিউজ কে ধন্যবাদ জানাব যে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে কোন বৌদ্ধ লেখকের লেখা তা ছাপাই নি বলে,কারন এখানকার বৌদ্ধ যারা লেখেন, তাঁরা সেই একই আজগুবি কাহিনী মেলে ধরে বুদ্ধকে যেন তেন ভাবে উপস্থাপন করেন।….আচ্ছা এই প্রদীপটা কি পাগল নাকি ছাগল?

    সে উম্মাদ বলে কি সব বৌদ্ধ লেখকদের উম্মাদ মনে করে? নইলে সব বৌদ্ধ লেখকদের নিয়ে ঢালাওভাবে মন্তব্য করার সাহস কোত্থেকে পায়?
    সে এক শিশিরের দালালী করতে গিয়ে সব বৌদ্ধ লেখকদের নিয়ে এমন মন্তব্য করে কিভাবে? নাকি সে নিজেকে মহাপন্ডিত ভাবে বাকীরা সবাই গাধা?আসলে এর মত বলদ কে জুতা পেটা করা দরকার সবার সামনে যেন আর কোনদিন সব বৌদ্ধ লেখকদের নিয়ে এমন মন্তব্য করার সাহস না পায়। ব্যাটা ছাগল, বিতর্ক করছিস একজনের সাথে করে যা, আমরা দেখব কার জারিজুরি কতটুকু। তাই বলে সব বৌদ্ধ লেখকদের টেনে আনতে হবে কেন এখানে?

    Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      বড়ুয়া কথাটার সঙ্গে কি বড় শব্দের কোনো সম্পর্ক আছে? যদি থাকে, তবে কীভাবে একজন বড়ুয়া লিখে: প্রদীপ নামের লোকটা, বেটা ছাগল, জুতা পেটা… অসহিষ্ণু মৌলবাদীরা একটি বিশেষ ধর্মের লোক হয়ে থাকে এ ধারণাটা আবারও ভুল প্রমাণিত হলো।

      Reply
      • কুন্তল মুৎসুদ্দী

        প্রদীপ বাবুরা যেই লেভেলে অবস্থান করে তাদের সেই লেভেলে নেমে উত্তর গুলো না দিলে তাদের কানে ঢুকবেনা। নইলে এই লোকটি কিভাবে আপনাকে উপরে তুলতে গিয়ে সব বৌদ্ধ লেখকদের অপমান করতে সাহস পায়? আর অসহিঞ্চু মৌলবাদ …. শব্দগুলোর বিবরণ কিন্তু ব্যাপক। দু্ই লাইন খারাপ ব্যবহার করলেই যদি মৌলবাদী হয়ে যায় তবে তো অনেককেই আপনি এই বিশেষণে বিশেষায়িত করতে পারেন। এক বিশেষ ধর্মের লোকদের কথা বলে লাভ কি? আপনার ধর্মে কি নাই এ ধরণের মৌলবাদী?

    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      বুদ্ধের জীবত্‌কালে ভিক্ষুদের মধ্যে মতান্তরের কথা আছে ভিক্ষু শীলভদ্র অনূদীত বুদ্ধবাণী পুস্তকে। পৃষ্টা ৬১-৬৩।

      সাম্প্রদায়িক বিরোধের শান্তি হইল না, বুদ্ধও কৌশাম্বী পরিত্যাগ করিয়া নানা স্থান ভ্রমণপূর্বক পরিশেষে শ্রাবস্তি নগরে আগমন করিলেন। বুদ্ধের অনুপস্থিতিতে কলহ গভীরতর হইল।

      Reply
      • উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

        শিশির বাবু, সমস্যা তো ওখানেই- ডাল দিয়ে ভাত খেয়ে মাংস দিয়ে খেয়েছেন বলে প্রচার করেন। সবশেষে বলেন ভাত খেয়েছি তো কিন্তু ডালের জায়গায় যে মাংস বলেছেন তা বেমালুম ভূলে যান।

        পেয়েছেন- বুদ্ধের সময়ে ভিক্ষুদের মধ্যে মতান্তর হয়েছে।

        লিখেছেন- বুদ্ধের সময়ে ভিক্ষুদের মধ্যে দশ মহাবস্তু নিয়ে মতান্তর হয়েছে।

        সবশেষে, বিকৃতিকারীর দোষ খুঁজে পান না, বরং যিনি বিকৃতি টা ধরিয়ে দেন তারই দোষ খুঁজে পান। কারণ যারা বিকৃতি ধরিয়ে দেয় তারা মূর্খ আর বিকৃতিকারীই হচ্ছে প্রকৃত জ্ঞানী। অসাধারণ!!!

    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      আমি দেশে নেই এবং বইটা হাতের কাছে নেই। কত পৃষ্ঠায় আছে, আপনি যদি দেশে থাকেন, তবে বইটা খুলে দেখে নিলেইতো পারেন। আমি দশ মহাবস্তুর কথা পড়েছি শাস্ত্রীর বইয়ে। সুতরাং এ সম্পর্কিত যত তথ্য ওখান থেকেই পেয়েছি। মতান্তর বুদ্ধের জীবত্‌কালে হোক আর নির্বাণের পরে হোক, মতান্তর হয়েছিল এটাই বড় কথা। কী নিয়ে মতান্তর হয়েছিল সেটাও বড় কথা নয় আমার প্রবন্ধের জন্যে। বৌদ্ধরা কেন ভারতবর্ষ থেকে হারিয়ে গেল তার কারণ নির্দেশের জন্যে কেন কখন মতান্তর হয়েছিল সেটার তেমন গুরুত্ব নেই। মতান্তর হয়নি – কেউ যদি সেটা প্রমাণ করতে পারে তবে তা চিন্তার বিষয় হবে বটে। বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে কোন তথ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে গবেষককে সেটা বুঝতে হবে।

      Reply
      • উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

        একটু আগে ভিক্ষু শীলভদ্রের বইয়ের পৃষ্টা নং বললেন। আর এখন শাস্ত্রীর বইয়ের পৃষ্ঠার বেলায় দেশের বাইরে চলে গেলেন? ভিক্ষু শীলভদ্রের বইটি বুঝি সাথে নিয়ে গেছেন? যাই হোক শাস্ত্রীর বইয়ে দশ মহাবস্তুর উল্লেখ থাকলেও আপনার মতো করে উনি বুদ্ধের জীবিতকালে সেটা নিয়ে গন্ডগোলের কথা লিখেন নাই।

        আপনার সাথে আমার তফাৎ হচ্ছে আপনি মনে করেন- মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ঠিক থাকলে তথ্যগত ভূল থাকলেও ক্ষতি নেই। আর সেক্ষেত্রে দু’একটা তথ্যগত ভূল থাকলে সেটা ছাড় দিতে আমিও রাজী কিন্তু আপনি একাধিক তথ্য বিকৃতি করেছেন যা মেনে নেয়া যায় না।

        আপনার কথা হচ্ছে – আপনি মেধাবী লেখক আপনার প্রশংসা করতে গিয়ে কেউ তার প্রবন্ধে আপনার গুণগুলো ঠিক মতো তুলে ধরলেই হবে আপনার বাবার নাম ভূল হলে আপনি পরিবারের বড় ছেলে হলেও আপনাকে ছোট ছেলে বানিয়ে দেওয়া হলে, আপনার বয়স একটু বাড়িয়ে লিখলে, আপনার গ্র্যাজুয়েট ভাইকে নিরক্ষর লিখলে তাতে কোন ক্ষতি নেই। আপনার গুণ গুলো ঠিকমতো প্রকাশ পেলেই তো হল, পরিবার দিয়ে কি আসবে যাবে। কারণ প্রতিপাদ্য তো ঠিকই আছে যে, আপনি মেধাবী লেখক।

        তদুপরি আপনার নিজের সপক্ষে যতই ব্যাখ্যা দিন না কেন- যে তিনটি বিষয় পৃথিবীর অন্যান্য ধর্মের স্তম্ভস্বরূপ: ঈশ্বর, আত্মা ও পরলোক (শেষ বিচার, স্বর্গ-নরক, পুনর্জন্ম, পুনরুত্থান…) সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে বুদ্ধদেব নীরব থাকতেন।….এই ধরণের কথা দিয়ে বুদ্ধকে আপনি অজ্ঞ-ই বানিয়ে ছেড়েছেন। যদিও পরে বার বার বলেছেন আপনি বুঝাতে চেয়েছেন বুদ্ধ এসবকে গুরুত্বহীন মনে করেছেন। কিন্তু আপনার প্রবন্ধের লেখা আর পরের ব্যাখ্যা মিলে না। সেটা কি ইচ্ছাকৃত করেছেন না আপনার বুঝানোর দূর্বলতা তা আপনি-ই ভালো জানেন। এই ত্রুটিগুলো আমি একা ধরিনি আরো অনেকে মন্তব্য করেছেন এখানে এসব নিয়ে অতএব আপনি বলতে পারেন না আমার বুঝার ভুল। আপনাকে যখন তথ্য বিভ্রাটগুলো ধরিয়ে দেওয়া হলো তখন কয়জন বৌদ্ধ পঞ্চশীল পালন করে এমন পাল্টা প্রশ্ন করে বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীকে প্রকারান্তরে আপনি হেয় করেছেন। এসব আপনার কাছে কাম্য হতে পারে না। আর তাই কিছু জায়গায় ইটের পরিবর্তে পাটকেল এসে গেছে স্বাভাবিক নিয়মে। অথচ আপনার জানা উচিত ছিল যে, মন্তব্যের যেহেতু সুযোগ এখানে আছে তাই পক্ষে বিপক্ষে মন্তব্য থাকতেই পারে, কিন্তু আপনার কথায় মনে হয়েছে আপনি অপেক্ষায় ছিলেন- সবাই বলবে ভালো হয়েছে, খুব ভালো হয়েছে। আপনি যতই বলুন প্রতিপাদ্য ঠিক থাকলে তথ্য বিভ্রাট কোন ব্যাপার না কিন্তু আমরা চাই না বুদ্ধকে নিয়ে কেউ তথ্য বিকৃতি করুক। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন। তথ্য সমৃদ্ধ, তথ্য বিভ্রাটমুক্ত ভালো লেখা উপহার দিন।

  7. Prosenjit Barua

    ছিঃ প্রদীপ বাবু ছিঃ
    বেশ কয়দিন ধরে এখানকার মন্তব্য গুলো দেখছিলাম। শিশির বাবু তার প্রত্যুত্তরে কেচো কুড়তে সাপ বের করবে বলে যেখানে প্রকারান্তরে বৌদ্ধদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী হিসেবে প্রকাশ করতে চায় সেখানে প্রদীপ বাবুরা কোন দোষ খুজে পান না। দোষ খুজে পান উজ্জ্বল বাবু মুক্তিযুদ্ধে বৌদ্ধদের অবদান নিয়ে তথ্য প্রমাণাদি নিয়ে প্রস্তুত আছে বললে। এতে কি বুঝা যায়? প্রদীপ নামের ভদ্রলোক শিশির বাবুকে তৈল মর্দণ করতে আসছেন।
    শিশিরবাবু কয়জন বৌদ্ধ বুদ্ধের শিক্ষা পালন করেন এরকম শিষ্টাচার বহির্ভূত প্রশ্ন করলে দোষ খুজে পান না, দোষ খুজে পান না ইতিহাস বিকৃত করলে। উজ্জ্বল বাবু যখন ত্রিপিটকের রেফারেন্স দেন তখন প্রদীপবাবুর কাছে ত্রিপিটক কেবল টেক্স বুক হয়ে যায়। মিঃ প্রদীপ টেক্স বইয়ের তথ্য-ই বেশী গুরুত্বপূর্ণ নাকি সহায়ক বইয়ের?
    উজ্জ্বল বাবু যখন শিশির বাবুকে পয়েন্ট আকারে বিভ্রাটগুলো তুলে দিলেন তখন দেখা গেল শিশির বাবু নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যক প্রশ্নের উত্তর দিলেও বাকীগুলো দিতে পারেন নি এবং কিছু কিছু জায়গায় উনি এটা কেবল একটা প্রবন্ধ হিসেবেই লিখেছেন, তথ্য বিভ্রাট কিছু আছে বলেও শিশিরবাবু স্বীকার করেছেন অতএব সমস্যা তো এখানেই সমাধান হয়ে যায়।
    কিন্তু প্রদীপ বাবু আসলেন নিজেকে জাহির করতে কিন্তু কই জাহির করতে পারলেন কই বরং নিজের কিছু বাক-চাতুরতা-ই প্রকাশ পেল। স্থবিরবাদ ও বোধিসত্ত্ব বাদের উৎপত্তি সম্পর্কে উজ্জ্বল বাবু যেখানে স্পষ্ট করে ০৫ টা বইয়ের তথ্য সহ রেফারেন্স দিলেন সেখানে প্রদীপ বাবু কি পেরেছেন একটা বইয়ের রেফারেন্স দিতে? বরং যে ০৫ জন লেখকের নাম নিলেন তাদের মৌলিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বেচে যেতে চান।
    রাহুল সাংকৃত্যায়ন, অধ্যাপক শীলাচার শাস্ত্রী, রবীন্দ্র বিজয় বড়ুয়া, প্রজ্ঞাবংশ মহাথের, জ্যোতি বিকাশ বড়ুয়াদের নামে দেওয়া তথ্যগুলো কি এতই ঠুনকো। উজ্জ্বল বাবু আমি জানিনা আপনি কে? তবে এটুকু বলতে পারি আপনার একের পর এক তথ্যভিত্তিক যুক্তির অবতারণা দেখে আমি আপনার ভক্ত হয়ে গেছি।
    প্রদীপ বাবুরা বাক চাতুর্য দেখাতে পারবেন বটে, আপনার মত যে জ্ঞান রাখেন না তা তার পরবর্তী কথায়ও বুঝা যায়। উনি লিখেছেন- সারিপুত্রের বিবরণ স্থবিরবাদে পাওয়া গেলেও মৌদগল্যায়ন এর বিবরণ নাকি প্রথম মহাযানের গ্রন্থে পাওয়া যায়। অথচ আপনি আবারো তাকে মিথ্যা প্রমাণ করলেন উপযুক্ত প্রমাণ সহকারে। এসবের পর প্রদীপ বাবু নামের ব্যক্তিটির যদি এতটুকু জ্ঞান থাকে তবে তার নিজের ভুল স্বীকার করবেন।
    উজ্জ্বল বাবু, এসব প্রদীপ বাবুরা তৈল মর্দন করতেই থাকবেন আপনার প্রমাণাদির দিকে খেয়াল করবেন না। আপনি মামলা করার কথা বললে প্রদীপ বাবুর গা জ্বলে কিন্তু উনার সেই জ্ঞান নেই যে, মামলা করার আইনগত অধিকার সবারই আছে যদি দেখে কোন ব্যক্তি তার ধর্মের অবমাননা করছে মনে করে তবে কেনই বা করবেনা? এতে অন্যের গা জ্বলার কি আছে? যে মামলা করবে সে তো তথ্য প্রমাণাদি নিয়েই করবে। আর উপযুক্ত প্রমাণাদি যে দেবে সেই জিতবে। কিন্তু সেখানেও প্রদীপ বাবুর মায়াকান্না দেখলে বুঝা যায় প্রদীপ বাবু কি এখানে যুক্তি দিতে আসছেন, আলোচনা করতে আসছেন নাকি কেবল শিশির বাবু কে তৈলমর্দন করতে আসছেন।
    অতএব উজ্জ্বল বাবু, এসব মানুষের পিছনে সময় নষ্ট করা থেকে বিরত থাকুন। পাঠকরাই তো বুঝে নিচ্ছেন কার জ্ঞান গভীরতা কতটুকু। আর প্রদীপ বাবুকে ধিক্কার না দিয়ে পারলাম না তাই বলছি- ছিঃ প্রদীপ বাবু ছিঃ।

    Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      প্রদীপ যদি শিশিরকে তৈলমর্দন করে থাকেন (আপনার মতে) তবে আপনি নিজেও উজ্জ্বলকে তৈলমর্দন করছেন। উজ্জ্বলবাবু কি তার কোনো ভুল স্বীকার করেছেন? উজ্জ্বলবাবু এবং আরও দুই একজন মতামতপ্রদানকারীর ভাষা কি বৌদ্ধধর্মসঙ্গত? সম্যক বাক কথাটা কি বুদ্ধ নিছক কথার কথা হিসেবে বলেছিলেন? অষ্টাঙ্গিক মার্গ পালন করার কোনো দায় কি উজ্জ্বলবাবু এবং তার অনুসারীদের নেই?

      Reply
      • Prosenjit Barua

        উজ্জ্বল বাবু কি ভুল করেছেন একটু জানতে চাই। তৈল মর্দন কথাটা প্রদীপ বাবুর সাথেই যায় কারণ প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত কমেন্ট গুলো পড়লে দেখা যায় যেখানেই শিশির বাবুর সাথে প্রশ্ন/পাল্টা প্রশ্ন চলেছে সেখানেই প্রদীপ বাবু শিশির বাবুর পক্ষ নিয়ে হাজির। এটা করতে গিয়ে এখনকার সব বৌদ্ধ লেখককে ছোট করতেও তিনি দ্বিধাবোধ করেননি। এমন ঘটনাও ঘটেছে যেখানে শিশির বাবু উত্তর দেন নাই কিংবা দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন নাই সেখানেও প্রদীপ বাবু মন্তব্য আর মন্তব্য দিয়ে গেছেন কেবলই শিশির বাবুর পক্ষে।
        আমি এমনটা করিনি, প্রদীপ বাবুর এহেন আচরণ দেখে অনেকগুলো মন্তব্য থেকে সারাংশটুকুই তুলে ধরে প্রদীপ বাবুর আচরণের প্রতিবাদ করেছি। কারো তৈলমর্দন করিনি। উজ্জ্বল বাবু এবং দু এক জনের ভাষা নিয়ে কথা তুলেছেন। প্রশ্ন এসেই যায় আপনার আর আপনার একান্ত অনুসারী প্রদীপ বাবুর ভাষা কি তাদের চেয়ে খুব বেশী উঁচুমানের?

      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        প্রদীপ একটিও খারাপ কথা বলেনি। উজ্জ্বল বড়ুয়ার বক্তব্যের ধরণ কোনোমতেই অষ্টাঙ্গিক মার্গের অনুসারী নয়। আমি ইসলাম নিয়েও কমপক্ষে দুটি প্রবন্ধ লিখেছি। ঈশ্বর-ধর্ম-বিশ্বাস নামে আমার একটি বইই আছে। সে বইয়ে তথ্যগত কোনো ভুল নেই এ দাবি আমি করবো না। কিন্তু কখনও কোনো মুসলিম বা হিন্দু পাঠক আমাকে এমন নোংরাভাবে আক্রমণ করেনি তথ্যগত ভুলের কারণে। জাত ধর্ম পেশা তুলে গালাগালি শুনতে হয়েছে আমাকে সাধারণ একটা লেখা লিখে। যারাই এখন থেকে আই এস এর দোষ দেখাবে তাদের আমি আমার প্রবন্ধের নিচে অপমানজনক মন্তব্যগুলো পড়ে দেখতে বলবো। কথা দিয়ে আঘাত আর চাপাতি দিয়ে আঘাতের মধ্যে তফাত্‌ কি? সুযোগের তফাত। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান, মুসলমান, সব ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আই এস আছে। সুযোগ পেলে সবাই চাপাতি নিয়ে দৌঁড়ে আসে। শুধু সুযোগের অপেক্ষা।

      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        প্রদীপ যদি আমার চেয়ে বেশি জানেন তবে উত্তর দিয়ে তিনি কী দোষটা করেছেন? উনি উত্তর দেয়াতে আমরা সত্যটা জানতে পারলাম। যে ভাষায় উজ্জ্বল বড়ুয়া লিখেন সেটাই তার ভুল। তথ্যগত ভুল হতেই পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে লেখককে তার পেশা, জাত ধর্ম তুলে অপমান করতে হবে। প্রবন্ধটিতে শুধু কি ভুলই আছে? এতে পড়ার মতো কিছুই কি নেই? যদি পড়ার মতো কিছু না থাকে তবে এই প্রবন্ধের এতগুলো লাইক ও শেয়ার কীভাবে হয়? এক এক জন বৌদ্ধের আচরণ দেখে বৌদ্ধদের সম্পর্কে আমার আশৈশব লালিত ধারণা ধূলিস্যাত্‌ হয়ে গেছে। হায় বুদ্ধ! এই আপনার শিক্ষার পরিণাম!

      • Prosenjit Barua

        প্রদীপ বাবু তো আপনার এবং আপনার ধর্মানুসারীদের প্রশংসা করতেই ব্যস্ত। আপনি তার ভূল ধরবেন তা কি হয়? আর তাই তো প্রদীপ একটিও খারাপ কথা বলেনি বলছেন। আচ্ছা খারাপ কথা বলতে কি বুঝাতে চান আপনি? কেবল গালিগালাজ করলেই বুঝি খারাপ কথা হয়?
        প্রদীপ বাবু যেখানে এখনকার সব বৌদ্ধ ধর্মানুসারী লেখকদের অপমানিত করেছেন সেখানে আপনি তার ভুল দেখতে পান না, কারণ এসব তো লিখেছেন কেবল আপনার প্রশংসা করতে গিয়েই। অশিষ্ট বাক মানুষ, পাঁচটা বই পড়ে জ্ঞান ভাঁড়ে জর্জর? এসব আক্রমণ বা বাজে শব্দগুলো প্রদীপ বাবুর মুখ দিয়ে এসেছে। আর আপনি তো পান্ডিত্য দেখাতে গিয়ে মূর্খ ডাকতেও দ্বিধা করেন নাই। অতএব, অন্যের ভাষা কি বৌদ্ধধর্মসঙ্গত কিনা তা জিজ্ঞেস করার অধিকার তো ওখানেই হারিয়ে ফেলেছেন দুজনেই। একজন এক লাইন গালি দিলে যাকে গালি দেওয়া হয়েছে সেও যদি এক লাইন গালি দেয় তবে দুজনের মধ্যে আর পার্থক্য কোথায় থাকে। প্রদীপ বাবুরা যে, সত্য কে মিথ্যা বানায় সেটা তো বুদ্ধগয়ায় কাসার শব্দ খুজে না পেয়ে কেবল আজানের আওয়াজ খুজে পাওয়াতেই বুঝা যায়।

  8. প্রদীপ

    উজ্জ্বল বাবু – আপনার ভাষাজ্ঞান আপনাকে অসুন্দর ভাবে উপস্থাপন করছে। ‘চোরের মার বড় গলা’ এসব ভাষা কোত্থেকে শিখেছেন। আপনি যাদের নাম নিয়েছেন, তাঁদের বইতে কি এ ধরনের অনার্য ভাষা দিয়ে কাউকে আক্রমন করা হয়েছে। কি রকম বৌদ্ধ আপনি ? ভদ্র ভাবে সম্মান দিয়ে জ্ঞান দান করতে এতোই অপারগ ?আপনি কী ধরিয়ে দিলেন ? কী ধরিয়ে দেবার ক্ষমতা আপনার আছে ???? যে লোক একজন লেখক কে আদালতের ভয় দেখায় তাঁর ক্ষমতা কতটুকু ? আপনার চেয়ে বেশি পড়া লেখা কেউ করে কীনা সেটা আপনি বিশ্বাস করেন ? আপনার লেখক প্রজ্ঞাবংশ ভান্তে কে যোগাযোগ করে জিজ্ঞেস করতে পারবেন ? পাঁচটা বই পড়ে জ্ঞান ভাঁড়ে জর্জর?? আর কার কার বই পড়েছেন, বলুন আপনার মতো অশিষ্ট বাক মানুষের সাথে চ্যলেঞ্জ এ যাবার মানুষ আমি নই । রাহুল সাংক্রিত্যায়ন ছাড়া একজনও মৌলিক লেখকের নাম যিনি দেখাতে পারেন না (অন্যরাও সম্মানের এবং তাদের কয়েক জন কে ব্যক্তিগত ভাবে জানি )। তার সাথে চ্যালেঞ্জ ???? আমি এন সাইক্লপেডিয়া থেকে সুত্র গুলোর রেফারেন্স দিয়েছি। এনসাইক্লপেডিয়া ব্রিটেনিকা । কি বিশ্বাস হয় না ? তাহলে তো আমন্ত্রন জানাতে হয় মি বাসু ? অবশ্য চোরের মায়ের আমন্ত্রন রক্ষার মতো মানুষ আপনি কি ? উজ্জ্বল বাবু , ক্ষমা তো উদ্যতের কাছে চায় না কেউ ?? নত দের কাছে চায় । উদ্যত কে ক্ষমার মাঝে ই রাখা যায় না। আমার বিশদ ব্যাখ্যা পড়েন, সুত্র গুলো র মর্মার্থ বুঝার চেষ্টা করেন। যে জন ক্ষমা দাবী করে সে জন অক্ষমনীয় । সে কারো ক্ষমার মাঝে ঠাইও পাবে না কোনদিন ।

    Reply
    • উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

      প্রদীপ বাবু,
      ড. রবীন্দ্র বিজয় বড়ুয়া ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি ও সংস্কৃত সাহিত্যের অধ্যাপক। ইতিপূর্বে তিনি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েরও অধ্যাপক ছিলেন।

      অধ্যাপক শীলাচার শাস্ত্রী ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি বিভাগের অধ্যাপক। তিনিও ভারতে অধ্যাপনা করেছেন।

      রাহুল সাংকৃত্যায়ন এর জ্ঞান ভান্ডারের কথা নাইবা বললাম। প্রজ্ঞাবংশ মহাথের বাংলা ও পালি দু বিভাগ থেকেই মাস্টার্স পাশ করে বাংলায় পালি থেকে ত্রিপিটক অনুবাদের কাজ অনেকটাই বেগবান করেন।

      আচ্ছা এরা কি সবাই বিকৃত তথ্য দিয়েছেন তাদের বই গুলোতে? নাকি বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে তারা কেউ কিছুই জানেন না, বুঝেন না? আমি এসব পন্ডিত ব্যক্তিদের বই তথা পৃষ্টা নং সহ উল্লেখ করে এটা স্পষ্ট করেছি যে স্থবিরবাদ ও বোধিসত্ত্ববাদের উৎপত্তি হয়েছে বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের একশত বছরের অধিক সময় পরে।
      এসবের সাথে আপনাকে আরো বৌদ্ধ স্কলার Rhys Davids এর কথা বলতে চাই, তিনি অভিধর্ম পিটকের অন্যতম গ্রন্থ Points of Controversy বা কথাবত্থু তে তার ভূমিকায়ও এই দুই ধারার উৎপত্তির সময়কাল ও ক্রমবিকাশ বর্ণনা করেছেন।
      তাহলে কি বলতে হবে এরা সবাই ভ্রান্ত তথ্যই দিয়ে গেছেন স্থবিরবাদ ও বোধিসত্ত্ববাদ এর উৎপত্তিকাল সম্পর্কে। আপনি যদি বলেন যে, তাদের তথ্যগুলো ভূল আপনার গুলোই সত্য সেক্ষেত্রে আমার কিছুই বলার থাকে না। কারণ আপনি বারবার রেফারেন্স দিয়েছেন বলে এনসাইক্লপেডিয়া ব্রিটেনিকা এর কথা বলে কয়েকটি সূত্রের ব্যাখ্যা দিলেও সেখানে সুনির্দিষ্ট কোন জায়গায় পেয়েছেন যে, বুদ্ধের সময়েই ওই দুইটি ধারার উৎপত্তির কথা বলা হয়েছে তা বলেন নাই।
      কথায় কথা বাড়ে, আর আপনার সাথে কথা বাড়াতে গিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে লাভের কিছুই দেখছিনা বিধায় নিজেকে সংযত করছি আরো বেশ কিছু বিষয় তুলে ধরা থেকে। কেননা, আপনার লেখা থেকে তো অনেক কিছুই প্রকাশ পায় আপনি লিখেছেন- স্থবির বাদের মূল গ্রন্থে সারিপুত্রের বর্ণনা থাকলেও, মজ্ঞলায়নের বর্ণনা প্রথম পাওয়া যায় মহাযান সুত্র ‘উল্লম্বনা সুত্র’ এ । …….. এখন আমি যদি আপনাকে প্রশ্ন করি তবে সেই কথায় কথাই বাড়বে যা আমি বাড়াতে চাচ্ছি না। কারণ আপনি সূত্র পিটক পড়েছেন কিনা আমি সন্দিহান। সূত্র পিটকের ধারাবাহিকতায় পাওয়া যায় প্রথমে মধ্যম নিকায় তারপর সংযুক্ত নিকায় তারও পরে অঙ্গুত্তর নিকায়। এখানে মধ্যম নিকায়, সংযুক্ত নিকায়, অঙ্গুত্তর নিকায় গ্রন্থ গুলোতে অসংখ্য বার সারিপুত্র ও মৌদগল্যায়ন এর নাম আসলেও মৌদগল্যায়নকে নিয়েই প্রথম সরাসরি মৌদগল্যায়ন সূত্র পাওয়া যায় সংযুক্ত নিকায় এ। সেই ভিত্তিতে সারিপুত্রেরও আগে মৌদগল্যায়নের বর্ণণা পাওয়া যাচ্ছে। আবার অঙ্গুত্তর নিকায়েও দেখা যায় প্রথমেই মৌদগল্যায়ন সূত্র তারপর সারিপুত্র সূত্র। তাহলে কি বুঝা যায়? কার বর্ণনা স্থবির বাদের গ্রন্থে আগে পাওয়া যায়? অথচ আপনি লিখেছেন -স্থবির বাদের মূল গ্রন্থে সারিপুত্রের বর্ণনা থাকলেও, মজ্ঞলায়নের বর্ণনা প্রথম পাওয়া যায় মহাযান সুত্র ‘উল্লম্বনা সুত্র’ এ। আপনি হয় নিজের মত করে কথাগুলো লিখেছেন নতুবা কেউ একজন যথাযথভাবে না জেনে লিখেছে তাই আপনি তুলে দিয়েছেন। অথচ অন্যদিকে আপনি কালাম সূত্রের কথা বলেছেন। যদি কালাম সূত্রকে আপনি মানেন, তবে আপনাকে এটাও মানতে হয় যে আপনার তথ্যগুলো ভূল। আপনি মানেন বা না মানেন একান্তই আপনার ব্যক্তিগত বিষয়। সূত্র পিটক দেখুন, পড়ুন জেনে যাবেন আমার কথাগুলো কালাম সূত্র অনুসারে মিলে যায় কিনা? ভালো থাকবেন।

      Reply
    • উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

      আমার কি ধরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আছে তা আবারো বুঝিয়ে দিলাম, যদি বুঝার ইচ্ছা থাকে তো বুঝেই নেবেন অবশ্য ঘুমের ভান ধরলে তাকে জাগানো যায় না। আমি যদি অসুন্দর ভাষাজ্ঞান উপস্থাপন করি তবে আপনি যে আমার চেয়ে কোন অংশেই উত্তম নন তা “অশিষ্ট বাক মানুষ” কথাটা দ্বারাই বুঝা যায়। কেবল কথার ভান্ডার থাকলে হয় না যথাযথ তথ্য ও যুক্তি থাকা বাঞ্চনীয়।
      কেবল রাহুল সাংকৃত্যায়ন-ই আপনার কাছে মৌলিক লেখক। তবে কি অধ্যাপক শীলাচার শাস্ত্রী মৌলিক লেখক নন? জেনে বলছেন না আন্দাজি বলছেন? জানুন আগে। আসলে আপনার লেখায় অন্যকোন দিক দিয়ে উপকৃত না হলে একদিক দিয়ে ভালোই উপকার পাচ্ছি। হাসা নাকি এক প্রকার ব্যায়াম। আমার সেই ব্যায়ামটা ভালোই হচ্ছে। এরকম তথ্যাদি আপনার কাছে জেনে।

      Reply
  9. AJOY BARUA

    শ্রদ্ধেয় শিশির বাবু , মহামানব গৌতম বুদ্ধ ধর্ম প্রচারকালে বিরুধীদের অপপ্রচারের জবাবে ’অন্ধের হস্তি দর্শনের “ উদাহরণ দিয়েছিলেন । তিনি একথাও বলেছিলেন বৌদ্ধধর্মের ব্যাপকতা বিশাল, যারা এটাকে পরিপূর্ণ আয়ত্ব করতে পারে না ,তারা অন্ধের মতো যে অংশকে স্পর্শ করে সে সম্পর্কে মন্তব্য করে ।” এ কারণে দুয়েকটা বই পড়ে আপনি যা লিখেছেন ঐ মন্তব্য কি প্রযোজ্য হয় না ? আপনাকে পন্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়নের লেখা যা প্রয়াত শ্রদ্ধেয় ভন্তে জ্যোতিপাল মহাথের “ভারতের বৌদ্ধধর্মে পতনের কারণ” নামে অনুবাদ করেছেন , শহীদ বুদ্ধিজীবি জে সি দেবের “বুদ্ধ দ্যা হিউম্যান”, নোবেল বিজয়ী লেখক অর্মত্য সেনের প্রবন্ধ সংগ্রহ “তর্কপ্রিয় ভারতীয়” , খন্দকার মোহম্মদ ইলিয়াসের “মুজিববাদ”:গ্রহ্নের ‘বাংগালির শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস” অধ্যায় ,ভারতীয় দর্শন’ প্রবোধ কুমার ঘোষ ,ড. রামশরণ শর্মার “প্রচীন ভারতের ইতিহাসের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যাগুলো পড়ার অনুরোধ করছি । আপনি বৌদ্ধধর্মের আলোচনা করতে গিয়ে এর ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ আর দার্শনিক বিশ্লেষণকে গুলিয়ে ফেলেছেন ।বৌদ্ধধর্মের উপর এতো বেশী লেখা থাকতে আপনি কেন দুজন লেখককে বেছে নিলেন। শংকরাচার্যের ভাবাদর্শের প্রভাব থেকে আপনি বেড়িয়ে আসতে পারেনি , তাই বুদ্ধদেবে বলেই শুরু করেছেন“মুজিববাদ”:গ্রহ্নের ‘বাংগালির শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস” অধ্যায়ে এর ব্যাখ্যা আছে ।আপনাকে অনুরোধ করবো নিজেকে আলোচিত করার বা কোন মিডিয়াকে জনপ্রিয় করার মানসে নিজেকে নীচে নামিয়ে আমার প্রিয় ‍শিক্ষক শহীদ বুদ্ধিজীবি জে সি দেবের মতো মানুষের প্রতিষ্ঠানকে হেয় করবেন না । মার্কসবাদীরা বলেন, শোষিত মানুষেরা শক্তিশালী শোষক শ্রেণির বিরুদ্ধে সংগ্রাম না করে নিজেরা কামড়াকামড়ি করে ,যা শোষকের হাতকে মজবুত করে । আপনি সে পথে এগিয়ে গেলেন।দয়া করে পারস্পরিক সম্প্রীতি ধ্বংসের হাতিয়ার হবেন না । আপনার পড়ার সুযোগ আছে , পড়ুন পড়ুন , তারপর মানুষকে এগিয়ে যাবার পথে সহায়তা দিন । যুগে যুগে মানব প্রগতির ধারাকে যারা এগিয়ে নিয়ে গেছেন তারা সবাই বিরাট মানুষ বা মহামানব তাদের যুগের আলোকে বিচার করবেন । মনে রাখবেন কোন মানুষই তার বস্তু জগতের বাইরে চিন্তা করতে পারে না।

    Reply
  10. AJOY BARUA

    শ্রদ্ধেয় শিশির বাবু ,
    আপনার লেখায় প্রথমে গৌতম বুদ্ধকে বুদ্ধদেব সম্বোধন করার মাধ্যমে আপনার মানসিক অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন । আপনাকে শুধু অনুরোধ করবো যদি সম্ভব হয় , শহীদ বুদ্ধিজীবি জে সি দেবের লেখা বুদ্ধ দ্যা হিউম্যান , পন্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন এর লেখা যার অনুবাদ শ্রদ্ধেয় ভন্তে জ্যোতিপাল মহাথের করেছেন “ ভারতীয় উপমহাদেশে বৌদ্ধধম্মের পতনের কারণ “, নোবেল বিজয়ী অর্মত্য সেনের “তর্কপ্রিয় ভারতীয়’ জনাব খন্দকার মোহম্মদ ইলিয়াছের লেখা ‘মুজিববাদ” বইটিতে বাংগালির শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাস অধ্যায় , এটুকু পড়ে নিজের লেখাটি বিচার করবেন । আপনার এ লেখার পেছনে বিশেষ উদ্দেশ্য যে লুকায়িত নেই ,তা নয় । আপনি যা লিখেছেন ভারতের অনেকে এ ধরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে ।এতে নিজের দৈন্যতা ছাড়া আর কিছু ‍ফুটে উঠেনি। শহীদ বুদ্ধিজীবি জে সি দেবের একজন পাঠক হিসেবে আপনাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপকের যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয় এমন লেখা নিজেকে প্রচারিত করার বা একটা মিডিয়াকে জনপ্রিয় করার দায়িত্ব পালন এবং সবশেষে দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্থ করার চেষ্টা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করছি ।

    Reply
  11. উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

    পূর্বের লেখার প্রত্যুত্তরে-
    একটা বিষয় দেখে ভালো লাগল যে, আপনি লিখতে বাধ্য হয়েছেন- শুধু চট্টগ্রামে বৌদ্ধরা আছেন কথাটা বলা আপনার ঠিক হয় নি অর্থ্যাৎ আপনি ভ্রান্ত এক তথ্য দিয়েছিলেন।আরেক জায়গায় স্বীকার করেছেন কিছু তথ্যের ভূল থাকতেই পারে। দু-পৃষ্ঠার একটা লেখায় যদি এত তথ্যের ভূল হয় তাহলে আপনার বিরুদ্ধে কেনই বা লিখবো না? কারণ তথ্য বিকৃতি তো একটি ধর্মকেই নিয়ে করেছেন। যা কিনা ধর্ম অবমাননার শামিল।

    আমি আমার পূর্বের প্রত্যুত্তরে এক জায়গায় লিখেছিলাম কেউ একজন আপনাকে বুদ্ধ পূর্ণিমায় হয়তো একটা প্রবন্ধ দিতে বলেছেন আর আপনি এই বই থেকে দু’লাইন আর ওই বই থেকে দু’লাইন সাথে নিজের থেকে আরো দু’লাইন সংযোজন করে প্রবন্ধ লিখেছেন। কিন্তু ধারাবাহিকতা না থাকায় এবং কিছু বিষয় নিজের মত করে লিখতে গিয়ে অনেক জায়গায় যে বিকৃতি সাধন হবে সেটা হয়তো বুঝতেই পারেন নি।

    আপনার বিভিন্ন উত্তরে কেবল শাস্ত্রীর বইতে পেয়েছি এ কথা দ্বারা স্পষ্ট যে আপনি মূল ত্রিপিটকের ধারে কাছেও যান নি। প্রশ্ন হচ্ছে এমনটা হবে কেন? আপনি একটা জাতিগোষ্ঠীর ধর্ম সম্পর্কে লিখবেন যখন তখন সেই জাতিগোষ্ঠীর মূল বইতে ধর্ম প্রবর্তক কি বলেছেন তা জানা কি আপনার প্রয়োজন ছিল না? শাষ্ত্রীর লিখিত একটি বই-ই যদি বৌদ্ধ ধর্মের সবকিছুই প্রকাশ করে তবে ত্রিপিটকের তো কোন প্রয়োজন-ই থাকবেনা তাই নয় কি?

    যাই হোক মূল কথায় আসি, এদেশে ৭১ এর পর থেকে বৌদ্ধদের উপর রামুর মত বড় কোন ঘটনা ঘটে নি। আর এই ঘটনার পর সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে পূর্বের চেয়েও সুরম্য বিহারাদি নির্মাণ করে দিয়েছেন। কয়েকটি ব্যতিক্রম ঘটনাকে তো আমি মূল করে দেখাতে পারেন না।

    বৌদ্ধ/কমিউনিষ্ট ……. কিভাবে লিখেন আপনি? আমি তেমন জ্ঞানী নই তবে আপনার এ ধরণের শব্দ চয়নে কিন্তু বেশ অনভিজ্ঞতা এবং বিষয়গুলো সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচয়-ই পাওয়া যায়। বৌদ্ধ শব্দের বিকল্প হিসেবে কমিউনিষ্ট কিভাবে দাঁড় করান আপনি, বিজ্ঞ পাঠক মহল-ই তা বুঝে নেবে।

    চীন বিরোধী ছিল বলে বৌদ্ধরাও যে বিরোধী ছিল কিভাবে বলেন আপনি? চীনের বেশীরভাগ লোক কোন ধর্ম পালন করে কিংবা চীনে সংখ্যাগরিষ্ট কি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী কিনা তা যদি জানতেন তবে চীন আর বৌদ্ধদের নিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলতেন না। উইকিপিডিয়াতে একবার ঘুরে আসুন জেনে যাবেন বিস্তারিত আর তখন এরকম হাস্যকর মেলবন্ধন করতে যাবেন না।

    আপনি মুক্তিযোদ্ধা এক বিশুদ্ধানন্দ মহাথের এর জীবনী পড়লেই কেঁচো খুড়তে সাপ বের হবে নাকি অন্য কিছু বের হবে জানতে পারবেন। বৌদ্ধদের প্রতিনিধি হয়ে তিনি কয়টা দেশে ঘুরেছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কয়টি দেশের সমর্থন আদায়ে ভুমিকা রেখেছেন তা না জানলে সাপ বের করার দুরভিসন্ধিই থেকে যাবে। গবেষণা করুন, লিখুন কি বের হবে তখন-ই দেখা যাবে। আর আমরাও তথ্য প্রমাণাদি সহ প্রস্তুত আছি দুরভিসন্ধিগুলো ব্যর্থ করে দিতে।

    আপনি খুব সুচতুর লোক তাই যে সব বিষয়ে আপনার উত্তর জানা নাই সেই সব বিষয়গুলো সুকৌশলে এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন বটে সফল হতে পারেন নাই। মূল লেখাতে লিখেছিলেন- বুদ্ধ ইশ্বর, আত্মা, পরলোক, শেষ বিচার, স্বর্গ-নরক, পুনর্জন্ম, পুনরুত্থান এসব বিষয়ে নীরব থাকতেন যখন আমি বুদ্ধের দেওয়া স্বর্গের বিবরণ, নরকের বিবরণ, পুনর্জন্ম, পুনরুত্থান ব্যাখ্যাকৃত সূত্র সমূহ তুলে ধরলাম এক কথায় ভূল ব্যাখ্যা যে তুলে ধরেছেন তা যখন প্রকাশ করলাম তখন কৌশলে ঐ শব্দগুলো বাদ দিয়ে কেবল ইশ্বর ও আত্মায় চলে আসছেন। বাকীগুলো সম্পর্কে যে ডাহা মিথ্যা তথ্যা দিয়েছিলেন তা স্বীকার করলে আপনি ছোট হতেন না বরং আপনার মহত্ত্বতার পরিচয়-ই পাওয়া যেত

    যাই হোক, গৌতমবুদ্ধ, দেশকাল ও জীবন বই প্রসঙ্গে আসি- লেখকরা লিখেছেন, আত্মার ন্যায় ইশ্বর ও ব্রহ্মার স্থান নেই। আর আপনি বিকৃত করে লিখেছেন, বুদ্ধ এ প্রসঙ্গে নীরব থাকতেন।ধরুন, আপনি আমাকে প্রশ্ন করলেন- বান্দরবানে কি কোন বাঘ আছে? আমি বললাম- বান্দরবানে বাঘের অস্তিত্ব নাই। আর আপনি যদি লিখেন যে, আমি বান্দরবানে বাঘের অস্তিত্বের ব্যাপারে নীরব ছিলাম তাহলে সেটা আমার কথার বিকৃতি সাধন নয় কি? প্রকারান্তরে এখানে আপনি বুদ্ধকে অজ্ঞ বানিয়ে ফেলেছেন যা ধর্ম অবমাননার শামিল। আর ধর্ম অবমাননার শাস্তি কি তা আপনার কর্মস্থলের খুব কাছেই সর্বোচ্চ আদালত আছে সেখানে গেলেই জানতে পারবেন আশা রাখি।

    বুদ্ধ কি অব্যাকৃত রেখেছেন তা না জেনে মূল লেখায়ও উল্টাপাল্টা লিখেছেন আবার প্রত্যুত্তরেও একই কাজ করেছেন। বুদ্ধ যে দশ বিষয় অব্যাকৃত রেখেছেন তা হচ্ছে- ১) লোক শাশ্বত? ২) লোক অশাশ্বত? ৩) লোক অন্তবান? ৪) লোক অনন্তবান? ৫) যেই জীব সেই শরীর? ৬) জীব ও শরীর অন্য? ৭) মৃত্যুর পর তথাগত থাকেন? ৮) মৃত্যুর পর তথাগত থাকেন না? ৯) মৃত্যুর পর তথাগত থাকেন, নাও থাকেন? ১০) মৃত্যুর পর তথাগত থাকেনও না, না থাকেনও না?
    কিছুটা খয়েরী রংয়ের প্রচ্ছদে ছাপানো বিপ্রদাশ বড়ুয়ার বইটি এই মুহুর্তে হাতে নাই বলে ৮৬ পৃষ্টার কথাগুলো মিলাতে পারছিনা। তবে আপনি মিলিয়ে নিতে পারেন দশ অব্যাকৃতের সাথে কারণ আমি সূত্র পিটকের মধ্যম নিকায় ২য় খন্ড থেকে হুবহু তুলে দিয়েছি কোন লেখকের রেফারেন্স বই থেকে নয়। আপনি ভিত্তি হিসেবে ধরেছেন কয়েকটি রেফারেন্স বই মূল ত্রিপিটক কি বলে দেখেনও নি।অথচ আপনার মতো স্বনামধন্য অধ্যাপক থেকে এসব আশা করা যায় না। আপনি না লিখে এই প্রবন্ধ সাধারণ কেউ লিখলে হয়তো প্রত্যুত্তর দিতামও না। কিন্তু আপনার মতো পদবীধারী ব্যক্তিরা কিছু লিখলে সেটা যে সবাই গ্রহণ করে ফেলে, বৈধতা পেয়ে যায় তাই প্রত্যুত্তর দেওয়া।

    যাই হোক, বুদ্ধ কেন, কোন সময়ে, কার কাছে এই দশটি বিষয় অব্যাকৃত রেখেছিলেন তাও আপনার জেনে নেওয়া দরকার তবেই আপনি মূল বিষয় সম্পর্কে অবগত হতে পারবেন। আগে পরের কাহিনী না জেনে কেবল মধ্যখান থেকে দু’লাইন তুলে ধরলে মূলভাব সবসময় প্রকাশ পায় না এমনকি অনেক সময় বিপরীত অর্থও প্রকাশ পেতে পারে।

    আপনি লিখেছেন-শাষ্ত্রীর বইতে পড়েছেন দ্বিপ্রহরের আগে খাদ্যগ্রহণের কথা, যা সত্য। কিন্তু প্রবন্ধে আপনি লিখেছেন একবার মাত্র খাওয়ার কথা যা কোথায় পেয়েছেন উল্লেখ-ই করেন নাই। এরকম মাংসাহারের ব্যাপারেও আগে পরে নিজের মত করে কিছু যোগ করতে গিয়ে মূল বিষয়ের বিকৃতি সাধন করেছেন।
    দশ মহাবস্তু নিয়ে বুদ্ধের সময়েই বিবাদ হয়েছিল শাস্ত্রীর বইয়ের কত নম্বর পৃষ্ঠায় পেয়েছেন? দশ মহাবস্তু নিয়ে বুদ্ধের জীবিতকালীন সময়ে কখনোই কোন বিবাদ হয়নি। অন্যদিকে কলহের সাথে হীনযান, মহাযানের উৎপত্তি এক জায়গায় মিলিয়ে ফেলেছেন যা পুরোটাই আপনার অজ্ঞতা। কারণ একটি বিনয় নিয়ে সাময়িক বিবাদ হযেছিল বুদ্ধের জীবিত কালীন সময়ে আর হীনযান, মহাযানের উৎপত্তি বুদ্ধের পরিনির্বাণের ১০০ বছরেরও অধিক পরে।

    বু্দ্ধ পূজা সম্পর্কে বলতে হয়- বুদ্ধ আমিষ ও নিরামিষ নামে দুপ্রকারের পূজার কথা জীবিতকালীন সময়ে আনন্দ ভান্তেকে বিশ্লেষণ করে গেছেন যা মহাপরিনির্বাণ সূত্রে স্পষ্ট পাওয়া যায়। এসব আগে পড়ুন, জানুন তারপর মন্তব্য করার চেষ্টা করবেন।পড়লেই কেবল জানতে পারবেন বৌদ্ধরা কার পূজা করে। বৌদ্ধদের পূজা সম্পর্কে কিছুই না জেনে মানুষের কি পূজা হয় এরকম প্রশ্ন করে আন্দাজে ঢিল ছুড়তে যাবেন না।

    বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে আপনার অজ্ঞতা আরো প্রকট হয় আপনার কথায়- জীবিত অবস্থায় তাহলে দেহধাতু সংগ্রহ করা যায়! – এ লাইনটি দ্বারা। আপনি কেবল প্রশ্নের জন্যই প্রশ্ন করেছেন এ প্রসঙ্গে জানেন না কিছুই। আর আপনার এমন প্রশ্ন দেখে মনে হচ্ছে- শুধু শুধুই উলুবনে মুক্তো ছড়াচ্ছি।সারিপুত্র ও মৌদগল্যায়ন বুদ্ধের দুই প্রধান অ্গ্রশ্রাবক বুদ্ধের জীবিত কালীন সময়েই পরিনির্বাপিত হয়েছেন। বুদ্ধ তাদের ধাতু সংগ্রহ করে পূজার ব্যবস্থা করেছিলেন, আমি তাই লিখেছি। আপনি এসব কিছুই জানেন না বলে গভীরে না গিয়ে বাইর থেকে কেবল প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছেন যা নিতান্তই হাস্যকর।

    অষ্টাঙ্গিক মার্গ ও বিনয় সম্পর্কে বলেছেন। আপনার জানা উচিত বিনয় কেবলমাত্র ভিক্ষুদের জন্য। বিনয় মানে যে এখানে বিনয় পিটক, ভিক্ষুসংঘের দিনযাপনের নিয়মাবলী সেটা খুব সম্ভবত আপনি জানেন না, আর তাই তো বিভিন্ন জনকে আপনি প্রশ্ন করছেন দেখতে পাচ্ছি এটাই কি বুদ্ধের বিনয়ের শিক্ষা বলে।
    আপনার জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই, অষ্টাঙ্গিক মার্গ যেটা বলেছেন সেটা হচ্ছে আর্য্ অষ্টাঙ্গিক মার্গ এই আর্য অষ্টাঙ্গিক মার্গ ও বিনয় অবশ্যই পালন হয়।তবে হ্যাঁ, কোন ধর্মের ১০০ভাগ লোক ধর্মটিকে ১০০ভাগ পরিশুদ্ধভাবে পালন করে এমনটা কেউ-ই বলতে পারেনা, তাই আপনার প্রশ্নটা এখানে অমূলক।

    বুদ্ধ প্রচার করেছেন বলে বুদ্ধের ধর্ম বা বুদ্ধধর্ম, আবার যারা পালন করে তারা বৌদ্ধ বলে তাদের আচরিত ধর্মকে বৌদ্ধধর্মও বলা হয় যেখানে ঘুরেফিরে দুটির অর্থই এক দাড়ায়।

    আপনি লিখেছেন কতজন বৌদ্ধ ঐ শীল পালন করেন। এখন সুস্থ মস্তিস্ক সম্পন্ন মানুষ কি এমন প্রশ্ন করতে পারে!!! আমি যদি বলি কতজন হিন্দু মিথ্যা কথা বলে না? (মিথ্যা কথা থেকে বিরত থাকতে সব ধর্মেই বলা আছে) আপনি কি উত্তর দিবেন? তবে কি কাল থেকে আপনি প্রতিটি হিন্দু বাড়িতে জরিপ চালাতে যাবেন? জরিপ চালালেও কি আপনি যথার্থ ফলাফল বের করে আনতে পারবেন? আমার বেলায়ও ব্যাপারটা তাই-ই। আমি কিভাবে বলব কতজন বৌদ্ধ ঐ শীল পালন করে? প্রতিটি ধর্মেই সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম কানুন দেওয়া আছে, প্রতিটি ধর্মেই নির্দিষ্ট সংখ্যক লোক সেই নিয়ম কানুন মেনে চলে, আবার নিয়ম না মেনে কেবল বৌদ্ধ, মুসলিম নামধারীও আছে সেটা বৌদ্ধদের বেলায়ও প্রযোজ্য তাই বলে কয়জন ওটা মানে সেটা সুনির্দিষ্ট ভাবে কেউ-ই বলতে পারে না।

    কম্বল আর লোম নিয়ে কি বুঝাতে চাইলেন? যে কিনা বৌদ্ধরা যে পঞ্চশীল প্রতিপালন করে সেই পঞ্চশীল সম্পর্কেই জানেনা তার মুখ দিয়ে কম্বল আর লোমের গল্প কি শোভা পায়? পঞ্চশীলের তৃতীয় শীল হচ্ছে মিথ্যা কামাচার থেকে বিরত থাকা। আর আপনি স্বনামধন্য লেখক লিখেছেন তৃতীয় শীল হচ্ছে মৃষাবাক্য, সাথে আরো পাল্টা প্রশ্ন জুড়ে দেন কয়জন পালন করে।যার কিনা পঞ্চশীলের জ্ঞানটুকুও নাই সে পপুলার প্রবন্ধ লিখে পপুলার হতে চায় কোন দুঃখে? প্রবন্ধ লেখার আরো অনেক বিষয় আছে সেগুলো লিখুন। কেননা এক জায়গায় লিখেছেন ত্রিপিটক পড়ার অবসর আপনার নাই। সময় নাই যেহেতু দয়া করে উল্টা পাল্টা লেখা থেকে বিরত থাকুন। তথ্য বিকৃতি করা থেকে বিরত থাকুন। নইলে পরবর্তীতে এরকম দৃষ্টতা দেখালে ধর্ম অবমাননার মামলায় জড়াতে বৌদ্ধরা দ্বিধাবোধ করবে না। আপনার ভাগ্য ভাল যে, আমাদের বিরুদ্ধে এসব লিখে বেঁচে গেছেন, সংখ্যাগুরুদের নিয়ে এমন পরীক্ষামূলক লেখা লিখতে যান নাই।

    পরিশেষে, আবারো বলতে চাই, আপনার সাথে আমার কোন ব্যক্তিগত শত্রুতা আমার নাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হওয়া চারটি খানি কথা নাই। আপনি আপনার বিষয়ে বিজ্ঞজন কিন্তু বৌদ্ধধর্ম সম্পর্কে নিতান্তই অজ্ঞ জন।আপনার লেখায় যথেষ্ট বিকৃতি এবং ধর্ম অবমাননার উপাদান ছিল বলেই বাধ্য হয়েছি এভাবে লিখতে। তারপরও লিখতাম না এভাবে, যদি একবারে মেনে নিতেন আপনার কিছু ভূল হয়েছে, আপনি সেটা না করে উল্টো কয়জন শীল, বিনয়, অষ্টাঙ্গিক মার্গ প্রতিপালন করে এমনটা প্রশ্ন করে বৌদ্ধদের আরেক দফা ছোট করতে চেয়েছেন যা আপনার মনের সুন্দর কোন কিছু প্রকাশ করেনা। আমার লেখায় কোন কারণে মনে কষ্ট পেলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি কামনা করছি।

    Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      Wikipediaতে লেখা আছে:
      Rebirth refers to a process whereby beings go through a succession of lifetimes as one of many possible forms of sentient life, each running from conception[66] to death. The doctrine of anattā (Sanskrit anātman) rejects the concepts of a permanent self or an unchanging, eternal soul, as it is called in Hinduism and Christianity. According to Buddhism there ultimately is no such thing as a self independent from the rest of the universe. Buddhists also refer to themselves as the believers of the anatta doctrine—Nairatmyavadin or Anattavadin. Rebirth in subsequent existences must be understood as the continuation of a dynamic, ever-changing process of pratītyasamutpāda (“dependent arising”) determined by the laws of cause and effect (karma) rather than that of one being, reincarnating from one existence to the next.

      Reply
      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        However, the Buddha considered knowledge important only insofar as it remains practical. He rejected speculation about such matters as God, the nature of the universe, and the afterlife, urging his followers to focus instead on the Four Noble Truths by which they can free themselves from suffering.

      • উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

        আপনাকে তো অনাত্মার বিবরণ দিতে কেউ বলে নি। তাছাড়া এখানে নিজের পূর্বের মতের সাথে বিরোধীতা করলেন। আগে বলেছিলেন বুদ্ধ নিরব ছিলেন আর এখন আত্মার অস্থিত্ব না দেখিয়ে প্রত্যিত্যসমুৎপাদ এর কার্য কারণ নীতির মাধ্যমে পরিবর্তিত জীবন কিভাবে পাওয়া যাচ্ছে তা নিজ থেকেই বিবরণ দিচ্ছেন। আর এই প্রতীত্যসমুৎপাদের কথা তো আপনাকে সেই প্রথম প্রত্যুত্তরেই বলেছি, পুণরায় পড়ে দেখে মিলিয়ে নিন।

        যাই হোক উপরে অনেক গুলো পয়েন্ট এ আপনার ত্রুটি গুলো তুলে ধরেছিলাম এসব বিষয় পুরোটাই এড়িয়ে গেছেন। নিজের মুখে স্বীকার না করলেও আপনার যে আর সরাসরি কোন উত্তর নাই সেটা বুঝাই গেল।

        অতএব, এভাবেই শেষ করতে চাই বৌদ্ধ ধর্ম নিয়ে যে কারোর লেখার অধিকার আছে, সেটা নিছক প্রবন্ধ হোক আর গবেষণালব্ধ বিষয় হোক। তবে তথ্য বিকৃতি কোন অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। আবারও বলছি আপনার একাধিক তথ্য বিকৃতি-ই ছিল আমাদের মাথা ব্যাথার কারণ অন্যথায় আপনার সাথে আমাদের কারো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। এখন থেকে সচেতন হয়ে লিখবেন এই আশাবাদ রাখতেই পারি। ভালো থাকবেন।

      • সুব্রত বড়ুয়া রিংকু (কুমিল্লা-লাকসাম)

        উইকিপিডিয়া, প্রসাদ এইগুলো কি বৌদ্ধদের ধর্মগ্রন্থ !

    • সুব্রত বড়ুয়া রিংকু (কুমিল্লা-লাকসাম)

      মিঃ ভট্টাচার্য্য দয়া করে সর্বজন শ্রদ্ধেয় উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু স্যারের উল্লেখিত নিবন্ধ থেকে শিক্ষা নিন।

      Reply
    • প্রদীপ

      উজ্জ্বল বাবুকে বলছি –
      সবার শেষে আপনি যে আমার সমালোচনা বা আমার ‘ভুল’ ধরেছেন তার উত্তরটা দেব। ভ্রান্তি অপনোদনের দায়িত্ব আমার, তাতে যদি উদেশ্য সাধিত না হয় তার দায় আমার নয় , আপনার অহং এর। যে অহং এর প্রবল বিচরন আপনার মন্তব্য গুলোতে দেখছি। একজন বিদ্ধান আরেক জন বিদ্ধান কে ‘সুস্থ মস্তিস্ক সম্পন্ন’ কিনা প্রশ্ন করছে, ধর্ম অবমাননার জন্যে শাসাচ্ছে, ‘অনভিজ্ঞতা”অজ্ঞতা’ ‘অংক’ ‘ সুচতুর’ ‘ডাহা মিথ্যা’ , এধরনের শব্দ বন্ধ দিয়ে মোকাবেলা করছেন। বুঝতে পেরেছি আপনি অনেক বৃহৎ বৌদ্ধ, তবে জানি না আপনি কে । লেখক কে বলেছেন’ আমরা প্রমানাদি সহ প্রস্তুত আছি। আপনারা কারা মি বাসু ? এরকম রনসজ্জা , এই নিরীহ লেখকের বিরুদ্ধে ? ভুল বুঝবেন না। আমি লেখক কে চিনি না। তবে আমি নিশ্চয় একজন ছোট বৌদ্ধ , নিতান্তই ক্ষুদ্র । আপনি ত্রিপিটক ছাড়া আর কিছুই মানতে রাজি নন । ‘সবই বেদে আছে’সবই বাইবেলে আছে’ সবই …… আছে , ‘সবই তাউরাতে আছে’ – বুদ্ধের ধর্ম কি তাই যে সবই ত্রিপিটকে আছে ?? বুদ্ধের কোন ‘বাইবেল’ কি আছে ??? তাহলে তো থেরবাদ ছাড়া আর বাকি সব ফাঁকি । এই ফাকির উপর পৃথিবীর ৬৩ % বৌদ্ধ ধর্ম পালন করছে ? থেরবাদ তো মহাযান গ্রন্থ কে স্বীকৃতি দেয় না ? তাহলে ‘সব ত্রিপিটকেই আছে ‘এই নোশন কেন ? বুদ্ধের ধর্মের ইতিহাস কি গৌণ ? ত্রিপিটক তো একটা টেক্সট । এই ত্রিপিটকের এতো বিশাল এনালাইসি হয়েছে , তা আর কোন ধর্মের হতে পেরেছে ? বুদ্ধের একটি বচনের উপর একটি সুবৃহৎ বই হতে পারে, হয়েছে ও । তাই নয় কি ? কারন এর এনালাইসিস এর কোন বাধা নেই, বিপত্তি নেই । তাহলে এতো মহাকায় পন্ডিত দের ত্রিপিটক বা বুদ্ধ বচনের এনালাইসিস এর পরও কায়দা করে শুধু ত্রিপিটকের কথা বলত হবে ? আপনি সদম্ভে বলেছেন, আপনি এসেছেন ত্রটি ধরতে।এ কেমন কথা ? আপনি এমন মহাকায় জ্ঞান গর্বী ? সবচেয়ে ভালো নিজের ত্রটি খোঁজা নয় কি ? আমি তো আপনার বচনে, অভিপ্রায়ে, ব্যাখ্যায় অনেক ত্রটি দেখছি, যেমন দেখছি আমার নিজের আমার জানার সীমাবদ্ধতার মাঝে ? আর তথ্য বিকৃতি বলতে কী বুঝিয়েছেন আপনারা ? কার তথ্য সঠিক ? এই ২৬০০ বছরে কোন তথ্যটি কতটুকু সঠিক, কোনটা অনুমান নির্ভর, তা কে বাজি ধরে বলতে পারবেন ? মি বাসু, আপনি যখন আদালতের ভয় দেখিয়েছেন, এই লেখকের বিরুদ্ধে আদালতে যান, দেখি এই বড়ুয়া সমাজে কয়জন ধীমান আছেন ? যারা বুদ্ধের শিক্ষাকে উপস্থাপন করতে পারেন আদালতের কাছে ? একজন ক্ষুদ্র বৌদ্ধ হিসেবে আমিও তো প্রশ্ন করতে পারি কয়জন বৌদ্ধ এ দেশে পঞ্চশীল উদজাপন করেন , অনুশীলন করেন। অন্ধ পুজা অর্চনা ছাড়া ? আর ধর্ম অবমাননা র কথা বলেছেন ? বুদ্ধের ধর্মে কি ব্লাসফেমি আমদানী করছে আমাদের বড়ুয়ারা ?? আমি তো কি বলব বুঝতেই পারছি না ? আমাদের ও কি ধরমানুভুতি তৈরি হয়েছে ? । যাক আমার নিজের কথায় আসি। আমি বলেছি ” বুদ্ধ র জীব দ্ধশায় স্থবির বাদ এবং বোধিসত্ববাদ এর গোঁড়া পত্তন হয়, তাঁর দুই প্রধান শিষের মাধ্যমে। বুদ্ধ কি তাতে অসুখি হয়েছিলেন।” আর আপনি অমনি ভুল ধরে দিয়ে বলে ফেললেন ….. “আপনাকে বলতে চাই আপনিও ভুল একটা তথ্যই এখানে দিলেন বুদ্ধের সময়ে স্থবিরবাদ এবং বোধিসত্ববাদের গোড়া পত্তন হয় নি। আপনি একটা নয় দশটা বই পড়ুন আপনার কথা ভুল-ই প্রমাণিত হবে। আচ্ছা আপনারা এরকম বিভ্রান্তকর তথ্য দিয়ে কিছু লিখবেন আর আমরা বাহ, বেশ, খুব সুন্দর এমনটা বললেই বুঝি উপযুক্ত জবাব দেওয়া হয় তাই না!!! যেমনটি আপনি সাফাই গেয়ে গেলেন তথ্য বিকৃতিতে ভরপুর এক লেখা নিয়ে। ” ব্যস, আপনি প্রমান করলেন আপনি ই সঠিক।কীভাবে প্রমান করে দিলেন যে আমি সঠিক নই , আদৌ ? প্রজ্ঞাভারে জর্জরিত হয়ে এভাবে জ্ঞান চর্চা হয়না মি বাসু। আপনার মন্তব্য গুলো পড়ে, ভাবছি কিছু না লিখলে , আর লিখব কোথায় ? এই তো সুযোগ, এমন কয়জন মানুষকে পেলাম যার প্রজ্ঞা সন্দেহাতীত । অতএব প্রথমেই আমার বক্তব্যের স্বপক্ষে সামান্য বলি – সারিপুত্র জ্ঞানের সাধক আর মহা মজ্ঞলায়ন ছিলেন অলৌকিক তা প্রদর্শনে সমর্পিত । এই দুই শিষ্যের বিষয়ে এটা সর্বজনস্বীকৃত , যা ঐতিহাসিক ও বটে । স্থবির বাদের মূল গ্রন্থে সারিপুত্রের বর্ণনা থাকলেও, মজ্ঞলায়নের বর্ণনা প্রথম পাওয়া যায় মহাযান সুত্র ‘উল্লম্বনা সুত্র’ এ । এটা মহাযান সুত্র । সেখানে দেখা যায় বুদ্ধ মজ্ঞলায়ন কে উপদেশ দিচ্ছেন । সকল মহাযান পন্তী দেশ গুলোতে মজ্ঞলায়নের(মউদ্গলায়ন) বিশেষ চর্চা আছে । তাঁকে আলাদা ভাবে স্মরণ করা হয় ,কেন ? আমিও পড়েছি বুদ্ধের জীবদ্দশায় তাঁর এই দুইপ্রধান শিষ্য দুই চিন্তা ধারার সাথে যুক্ত ছিলেন ।যেহেতু তা বুদ্ধের মূল অভিব্যক্তির সাথে সাঙ্ঘরষিক নয়,সেহেতু তাতে বুদ্ধ দ্বিমত করেন নি । বোধিসত্ব কনসেপশন বুদ্ধেরই সৃষ্টি। এটা বুদ্ধ পরবর্তী কোন সৃষ্টি নয় এবং তা সাঙ্ঘরষিক ও নয় । তাই দুই শিষ্য তাতে আলাদা প্রিতিনিধিত্ব করতেই পারেন, এটাই অনুমিত । ‘সন্ধিনিরমচনা সুত্র ‘ নামে যোগাচার স্কুলের এক বিখ্যাত সুত্র আছে, আমাদের সমতঠে জন্ম নেয়া আচার্য শীলভদ্র ছিলেন সেই যোগাচার স্কুলের এক মহান গুরু । এই সন্ধিনিরমচনা সুত্রে বুদ্ধের ধর্ম কে তিন প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে , যে ভাবে ধর্ম তার সত্যের প্রকৃতিকে ধারন বা বিশ্লেশন করে, সেভাবে। যাকে ধর্ম চক্রের তিনটি আবরতন বা ঘূর্ণন “Three Turnings of the Dharma Wheel” বলা হয়েছে । এই ত্রি চক্র আবর্তন কে এই সুত্রে এভাবেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে ঃ
      প্রথম চক্র আবর্তন, বুদ্ধ বারানসী তে চারটি মহান সত্য ( Four Noble Truths) শিক্ষা দিয়েছেন শ্রাবক যান, বা স্থবির দের কাছে । এটা হয় ধর্ম চক্র প্রবর্তন সুত্র , যা সবাই জানেন । যার যার সাধ্য মতো তা বোঝেন । এই ধর্ম চক্র প্রবর্তন সুত্র বুদ্ধের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাচীন ধর্ম আবর্তনের ধাপ।
      দ্বিতীয় চক্র আবর্তন বুদ্ধ বোধিসত্ব দের কে মহাযান শিক্ষা দিয়েছেন । যার মর্মার্থ ছিল সকল ঘটনা বা প্রপঞ্চ অসার বা অনস্ত্বিত্ব শীল, কোন আগমন নেই, নেই নির্গমন, সব কিছু স্থির এবং নিবৃত্তি যোগ্য । এই দ্বিতীয় চক্র আবর্তন প্রজ্ঞাম্পারমিতা সুত্রে প্রতিষ্টিত, সেই সুত্র খ্রিষ্ট্রিয় ১ম শতাব্দীতে রচিত । যা মহা আচার্য নাগারজুনের মাধ্যমিক স্কুল অব থট হিসেবেই পরিচিত ।
      তৃতীয় চক্র আবর্তনে, বুদ্ধ দ্বিতীয় চক্রের সম পর্যায়ের শিক্ষা দিয়েছেন সবার জন্যে শ্রাবক, পাচ্চেক বুদ্ধ গন, এবং বোধিসত্ব গনের জন্যে নির্দেশিত । এটা সেই সুত্রেই উল্লেখ আছে । এই তৃতীয় চক্র পরবর্তীতে এনালাইসিস করেছেন যোগাচার স্কুলের দুই আচার্য যথা আসঙ্গ ও বসুবন্ধু ।
      উপরিলিখিত ব্যাখ্যায় আমি বুঝিয়েছি, যে শ্রাবন যান, বা স্থবির বাদ এবং বোধিসত্ব বাদ বুদ্ধের সময়েই প্রতিষ্টিত, কিন্তু তা কোন বিভক্তি ছাড়াই অনুশীলিতও হতো । এখন থেরবাদ, যেটুকু ঘেরাটোপের মাঝে নিজেকে রেখেছে, এবং মহাযানকে অগ্রাহ্য করেছে, মহাযান তা ইতিহাসের কোন কালেই থেরবাদ কে করেনি । যার ফলে থেরবাদ মহাযানের মতো এগোয় নি বিশ্বব্যাপী । যে কোন চিন্তা ধারা যদি কোন প্রাচীরের মাঝে আবদ্ধ হয় , বা করে রাখে, তা কখনো প্রলম্বিত হয়না। বুদ্ধের শিক্ষা কোনদিন কোন নির্দিষ্ট প্রাচীরের মাঝে আবদ্ধ হয়নি, কোন নিশেধাজ্ঞার মাঝে পালিত হয়নি, তাই তা দীর্ঘজীবী । এখানে কোন তথ্য বিকৃত (বিকৃত নয় অনুমিত) তা নিয়ে সহনশীল আলোচনা হতে পারে, তার জন্যে চাই ব্যাপক তথ্যানুসন্ধান, টেক্সট নয় শুধু । বাক্যবান দিয়ে শরাহত না করে আলোচনা করা যায়। বুদ্ধের দুর্ভাগ্য এটাই যে , আচার সর্বস্ব বৌদ্ধরা তাঁকে ওন করে ফেলেছে । অন্যরা , মানে অন্য সংস্কৃতির মানুষরা এই নন-সেক্টেরিয়ান ধর্ম কে এ জন্যে আত্মস্থ করতে পারল না । নিজের মনে করে তাঁকে রাখতে পারল না ।এই লেখক কে আমরা বিভিন্ন অভিধায় দূর দূর করে দূরে সরিয়ে দিলাম। একটা বায়বীয় গুনে ধরা সাম্প্রদায়িকতাকে মাঝখনে এনে বসালাম । আপনি বলেছেন, অন্য সংখ্যা গরিষ্টের(মানে মুসলিম) দের ধর্ম নিয়ে এভাবে বললে তাঁর বিপদ হতো। তার মানে আপনারা উদার ? অন্য ধর্ম আর বুদ্ধের ধর্ম কী এক ? দুই বিপরীত মেরুর ধর্মকে কি করে মেলালেন ? এদের তো সৃষ্টি থেকেই ব্লাসফেমি, আর বুদ্ধ তো কালাম সুত্রে , তাঁর নিজের বানী কেও খারিজ করতে বলেছেন, যদি তা কোনদিন অগ্রহন যোগ্য হয় । সেভাবে ২৬০০ বছরে অনেক কিছু ঢুকেছে, বেরিয়েছে, কিন্তু ভেতরের সুন্দর অক্ষত আছে । আমি আমার বক্তব্যের পারম্পর্য বোঝাতে গিয়ে সুত্রের রেফারেন্সে গেছি, কারন আপনি ইতিহাসের প্রতি নমনীয় নন। ইতিহাস এরকম পারম্পর্য থেকেই তৈরি হয়েছে। সত্যানুসন্ধান এভাবেই হয় । ধন্যবাদ । প্রদীপ বড়ুয়া (ফেসবুক) , ই মেইল prodip.barua@gmail.com

      Reply
      • উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

        স্থবিরবাদ হচ্ছে সবচেয়ে পুরানা নিকায় এবং প্রাচীন নীতিতে বড়ই কড়াকড়ি ভাবে সুরক্ষিত। অন্যান্য নিকায়গুলো দেশ, কাল ও ব্যক্তি ইত্যাদি বিবেচনানুসারে অনেক পরিবর্তন করেছিল। (ভারতে বৌদ্ধ ধর্মের উত্থান পতন, রাহুল সাংকৃত্যায়ন পৃষ্ঠা -০৫)

        অতএব, বিকৃত মহাযানকে স্থবিরবাদ গ্রাহ্য করবেই বা কেন। এই মহাযান প্রচার করে সারিপুত্র, মৌদগল্যায়ন ভান্তেরাও মুক্তি লাভ করে নাই, তারাও বোধিসত্ত্ব। অতএব এরকম বিভ্রান্তি যা ত্রিপিটকের বিভিন্ন গ্রন্থকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয় সেই মহাযানকে কেনই বা স্থবিরবাদ স্বীকৃতি দেবে? আপনি লিখেছেন- থেরবাদ ঘেরাটোপের মাঝে নিজেকে রেখেছে,- হ্যা রাখবেই তো গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিয়ে মূলকে বিনষ্ট করবে নাকি? , আরো লিখেছেন- যার ফলে থেরবাদ মহাযানের মতো এগোয় নি বিশ্বব্যাপী ।— যেই ধর্ম চীবরধারী হয়ে ঘর সংসার করার সুযোগ করে দেয় সেই ধর্মের প্রতি-ই তো সাধারণরা ছুটবে। উন্নত শিক্ষা তো আর সবাই গ্রহণ করতে পারে না। বুদ্ধ তার ২য় সুত্র ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্রে যেখানে দুই অন্ত বর্জন করার কথা বলেছেন সেখানে মহাযানীরা সেই অন্তগুলোকে গ্রহণে উৎসাহিত করেছে অতএব কিসের সাথে কি? আপনি ইতিহাস কে উল্টায় দেন আমি নমনীয় হব কি করে? ভারতে দু’বার গিয়েছি আমি তার মধ্যে বুদ্ধগয়াতে ১৫ দিন থেকেছি বুদ্ধগয়া মূল বিহারে বুদ্ধ মূর্তির সামনে শিবলিঙ্গকে কেন্দ্র করে কিভাবে কাসা বাজায় নিজ চোখে দেখে এসেছি। পাশের জগন্নাথ মন্দিরও দেখেছি। আপনি সেই বাস্তব বিষয়কে পর্যন্ত উল্টায় ফেলেন নিজের বক্তব্যের সাফাই গাইতে গিয়ে সেখানে আপনি আর কি বা ইতিহাস বলবেন?????

  12. Mr. S. K BARUA.

    Dear Mr. Sisir Bhattacharya, Hindus do not allow us to live as a BUDDHIST, you have forced us and please study the CHARYAPADA. Why Hindu Indian Govt. took over Buddhagaya and there are five members in the Buddhagaya Management Committee? Did you know it? You do not know anything about it.
    INDIAN BUDDHISM by Sona Kanti Barua. গৌতমবুদ্ধের ভারত
    There is no Indian identity in Hinduism and Jainism. বৌদ্ধ ঐতিহ্য ধর্মচক্র (অশোক চক্র) নিয়ে স্বাধীন ভারতের পতাকা এবং জাতীয় স্মারক সনদ (এম্বলেম) বিরাজমান। There were many Buddhas attained supreme enlightenment in India. খৃষ্ঠপূর্ব ১৫০০ বছর পূর্বে ঋগে¦দের (প্রথম বেদ; ১/১০৫/৮ ও ১০/৩৩/২) মতে বৈদিক ধর্ম পন্থী আর্য্যদের রাজা ইন্দ্র মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পার প্রাগৈতিহাসিক বৌদ্ধধর্ম (BUDDHISM OF KASSAPA BUDDHA) ধ্বংস করেন। প্রাগৈতিহাসিক বৌদ্ধদর্শনের বিভিন্ন প্রসঙ্গ বৈদিক সাহিত্যে বিরাজমান এবং প্রাচীন উপনিষদের বিভিন্ন উপদেশ বৌদ্ধধর্ম থেকে নকল করা হয়েছে বলে গৌতমবুদ্ধ ত্রিপিটকের (মধ্যম নিকায়ের ৭৫ নন্বর) মাগন্দিয় সূত্রে ব্যাখ্যা করেছেন। বৈদিক উপনিষদ সাহিত্য সহ বিভিন্ন পুরান কাহিনীতে বৌদ্ধধর্মকে নকল করে হিন্দুধর্ম করা হয়েছে ।
    জনতার প্রশ্ন : চর্যাপদের আগে বাংলা ভাষায় বিপুল বৌদ্ধ ত্রিপিটক কোথায় হারিয়ে গেল?
    সিন্ধুসভ্যতায় (মহেঞ্জোদারো এবং হরপ্পা) বৌদ্ধধর্ম, দক্ষিন এশিয়ার সম্রাট অশোকের শিলালিপি, চর্যাপদ, সিদ্ধাচার্য এবং বাংলাভাষা, বাঙালি জাতীয় ঐতিহ্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বৈদিকপন্থী হিন্দুদের ঋগে¦দে (১/৩৬/৮), বিরাজমান যদু (যাদব ও ভগবান শ্রীকৃেষ্ণর প্রথম পূর্ব পুরুষ ) দূরদেশ থেকে ভারতে আসেন। যদুরা পর্শুর সন্তান (১০/৮৬/২৩)। প্রাচীনতম বেদ হল ঋগে¦দ, যার পদ্যে রচিত সংহিতার দশটি মন্ডলে ১০২৮টি সূত্র আছে। ভগবান শিব, বিষ্ণু, ব্রহ্মা, ভগবতী কালী, দূর্গা (বা বোধিসত্ত্ব তারাদেবীর) এবং চন্ডীর কোন নাম নেই, এর বিপুল অংশ জুড়ে প্রধান দেবতা যুদ্ধ প্রিয় রাজা ইন্দ্রকে নিয়ে।

    হিন্দু মন্দিরে গৌতম বুদ্ধের পূজা হয় না, অথচ বুদ্ধের শিক্ষালব্ধ “অহিংসা মহামন্ত্রকে হিন্দু মন্ত্র বানিয়ে’ হিন্দুরাজনীতি গৌতমবুদ্ধকে হিন্দুর ভগবান বা নবম অবতার করেছেন। হিন্দুরা বৌদ্ধধর্ম গ্রহন না করে বা বৌদ্ধ ধর্মালম্বী না হয়ে হিন্দু রাজনীতি গৌতমবুদ্ধকে হিন্দু বানিয়ে গোলে মালে আধুনিক সমাজের চোখে ধূলো দিচ্ছেন। হিহুদি জাতি বা রাজনীতি যীশুখৃষ্ঠকে হিহুদি করার সাহস না করলে ও হিন্দুরাজনীতি বৈদিক জাতিভেদ প্রথা অনুসরন করে ধর্মের নামে রাঠ্রের সিংহাসন লাভ করতে সম্রাট অশোকের মৃত্যুর পর বৌদ্ধধর্ম এবং জাতিকে তিলে তিলে ধ্বংস করে চলেছে। ”
    খৃষ্ঠপূর্ব ১৫০০ বছর পূর্বে ঋগে¦দের (প্রথম বেদ; ১/১০৫/৮ ও ১০/৩৩/২) মতে বৈদিক ধর্ম পন্থী আর্য্যদের রাজা ইন্দ্র মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পার প্রাগৈতিহাসিক বৌদ্ধধর্ম ধ্বংস করেন। প্রাগৈতিহাসিক বৌদ্ধদর্শনের বিভিন্ন প্রসঙ্গ বৈদিক সাহিত্যে বিরাজমান এবং প্রাচীন উপনিষদের বিভিন্ন উপদেশ বৌদ্ধধর্ম থেকে নকল করা হয়েছে বলে গৌতমবুদ্ধ ত্রিপিটকের (মধ্যম নিকায়ের ৭৫ নন্বর) মাগন্দিয় সূত্রে ব্যাখ্যা করেছেন। বৈদিক উপনিষদ সাহিত্য সহ বিভিন্ন পুরান কাহিনীতে বৌদ্ধধর্মকে নকল করে হিন্দুধর্ম করা হয়েছে ।
    প্রসঙ্গত: ভারতীয় ধর্মান্ধ হিন্দুপন্ডিতগণ হাজার বছর পুর্বে অহিংসা পরমধর্ম প্রচারক এবং মানবাধিকারের সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠাতা বেদ বিরোধী গৌতমবুদ্ধকে হিন্দুধর্মের জগন্নাথ বুদ্ধ পুরাণ শীর্ষক তিন হাজার পৃষ্ঠার বই লিখে উড়িষ্যায় রথ যাত্রা এবং পুরীর বৌদ্ধমন্দিরকে জগন্নাথ মন্দির নাম বদলিয়ে দখল করেছে। ধর্মান্ধ হিন্দুশাসকগণ কর্তৃক ভারতে বৌদ্ধধর্ম ধ্বংসের সচিত্র বই উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মহাপন্ডিত বংশিধর মোহান্তি রচনা করেছেন।
    দক্ষিন এশিয়ার যাদুঘরসমূহ, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল, আফগানিস্তানের বামিয়ান পর্বতমালা, পাকিস্তানের ডায়ামার ভাসা বাঁধ, রাজশাহীর পাহাড়পুর এবং নরসিংদীর উয়ারী বটেশ্বরে আবিস্কৃত হলো লক্ষ লক্ষ বুদ্ধমূর্তি। মিশরের মুসলমানগণ তাঁদের পূর্বপুরুষগণের পিরামিডকে নিয়ে গর্ববোধ করেন। গৌতমবুদ্ধের বোরোবুদুর বৌদ্ধ জগতের পূজনীয় ধর্মস্থান ইন্দোনেশিয়ার মুসলমানদের কাছে “জাতীয় ঐতিহ্যের সুতিকাগার।” বাংলা বিশ্বকোষে (১৩শ ভাগ, পৃষ্ঠা ৬৫) রাজপুত্র সিদ্ধার্থের (গৌতমবুদ্ধ) বঙ্গলিপি অধ্যয়ন করার ঐতিহাসিক প্রমাণ বিরাজমান এবং ২৬০০ বছর পূর্বে গৌতমবুদ্ধ বঙ্গলিপিকে ব্রাহ্মণদের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। চর্যাপদে গৌতমবুদ্ধ বাংলা ভাষার জনক।
    অধিকন্তু প্রাচীন কালের ব্রাহ্মণ্য সভ্যতা ও সংস্কৃতি লেখাকে নরকের দ্বার স্বরূপ ফতোয়া জারি করে সাধারণ মানুষের মৌলিক জনশিক্ষার অধিকার হরণ করেছিলেন। এই অন্ধকার যুগে একমাত্র গৌতমবুদ্ধই লোভী ব্রাহ্মণদের ব্রাহ্মণ্যবাদী দলিত ঐতিহ্য ও সভ্যতা বিকৃতির হাত থেকে দক্ষিণ এশিয়ার জনগণকে রক্ষা করেন (দেশ, কলকাতা, ১ ফেব্রয়ারি, ১৯৯২)। ২০১৩ সালের ভারতীয় সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা থেকে পালি ভাষাকে বাদ দিয়ে অবতারবাদী ষড়যন্ত্র আর ও গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে।
    হিন্দুরাজনীতির হিন্দুধর্মই শুধু বৌদ্ধ ভারতের বুদ্ধগয়া ম্যানেজম্যান্ট কমিটি নিয়ন্ত্রন সহ সব রাষ্ঠ্রীয় সুযোগ সুবিধা সমূহ ভোগ করে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা তো সভ্যসমাজে গণতন্ত্রের আইন নয়। গণতান্ত্রিক
    অহিংসা পরমধর্ম দিয়ে বৌদ্ধধর্ম মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পার ধর্ম ছিল। বৈদিক রাজা ইন্দ্র সেই প্রাগৈতিহাাসক বৌদ্ধধর্ম ধ্বংস করে ভারতে বৈদিক ধর্ম প্রতিষ্ঠিত করার পর অহিংসার পরিবর্তে হিংসার ধর্ম বা “জাতিভেদ প্রথা” দিয়ে বিশ্বমৈত্রী ও মানবতাকে খন্ড বিখন্ড করেছিলেন। ঋগে¦দে (১/৩৬/৮) আছে যদু (যাদব ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণর প্রথম পুরুষ) দূরদেশ থেকে ভারতে আসেন (দেশ, পৃষ্ঠা ১৪, কোলকাতা, নভেম্বর ১, ১৯৯৯)। বিদেশী বৈদিক ধর্ম বা বিষবৃক্ষ ভারতে প্রবেশ করে স্বদেশী সিন্ধুসভ্যতার বৌদ্ধধর্মকে ধ্বংস করেছিল (ইংরেজি ভাষায় রচিত স্বপন বিশ্বাসের লেখা বিখ্যাত গ্রন্থ “মহেঞ্জোদারো হরপ্পায় বৌদ্ধধর্ম, ১৯৯৯, কোলকাতা)।

    স্বয়ং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর “হিন্দুত্ববাদীদের বিরুদ্ধে “চন্ডালিকা” রচনা করে গৌতমবুেেদ্ধর জয়গান করেন এবং গীতার বেদ উপনিষদের উদারতার অভাব তাঁর সততায় খুব সহজে ধরা পড়েছিল (পারস্যে, রবীন্দ্র রচনাবলী, ১০ম খন্ড, পৃষ্ঠা ৭৫৪, প: ব: সরকার, ১৩৬৮ বঙ্গাব্দ এবং দেশ, পৃষ্ঠা ১৯, কোলকাতা, নভেম্বর ১৯৯৯ সাল)।” বঙ্গাব্দকে ইতিহাসের মূল শেখড় থেকে বিচ্ছিন্ন করে হিন্দুত্ববাদীরা ষড়যন্ত্র করে “আল্লাহ উপনিষদ” রচনায় বহিরাগত মুসলমানদের কাঁধে বন্দুক রেখে বৌদ্ধদের বুদ্ধাব্দকে শিকার করে ধ্বংস করার পর সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে গৌতমবুদ্ধের বুদ্ধাব্দকে বাদ দিয়ে বঙ্গাব্দ প্রচলনের নাটক করেছিল। হিন্দুত্ববাদীরা ৫০০ বছরের পুরানো বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে রামজন্মভূমির নামে রাম মন্দির প্রতিষ্ঠায় হিংসা ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করলে, জনগনমন অধিনায়ক গৌতমবু্েদ্ধর ধর্ম ও সভ্যতা কি ভাবে ধ্বংস করেছে ইতিহাসে আজ ও ইহা বিরাজমান ।

    হিংসার কারনে চতুবর্ণ দিয়ে “জাতিভেদ প্রথার” মাধ্যমে গীতা সহ হিন্দুধর্মের উৎপত্তি হয়েছিল।
    সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ব্রাহ্মণদের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ‘সাম্যবাদ’ নামক বই লিখেছিলেন এবং গৌতমবুদ্ধকে সশ্রদ্ধ বন্দনা নিবেদন করে ঘোষণা করলেন,
    “তখন বিশুদ্ধাত্মা শাক্যসিংহ অনন্তকালস্থায়ী মহিমা বিস্তার পূর্বক, ভারতাকাশে উদিত হইয়া, দিগন্ত প্রসারিত রূপে বলিলেন, “আমি উদ্ধার করিব। আমি তোমাদেরকে উদ্ধারের বীজমন্ত্র দিতেছি, তোমরা সেই মন্ত্র সাধন কর। তোমরা সবাই সমান। ব্রাহ্মণ শুদ্র সমান। মনুষ্যে মনুষ্যে সকলেই সমান। সকলেই পাপী, সকলের উদ্ধার সদাচরণে। বর্ণ বৈষম্য মিথ্যা। যাগযজ্ঞ মিথ্যা। বেদ মিথ্যা, সূত্র মিথ্যা, ঐহিক সুখ মিথ্যা, কে রাজা, কে প্রজা, সব মিথ্যা। ধর্মই সত্য। মিথ্যা ত্যাগ করিয়া সকলেই সত্যধর্ম পালন কর। (বঙ্কিম রচনাবলী, ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা ৩৮২ থেকে ৩৮৩, সাহিত্য সংসদ প্রকাশিত, কলকাতা)।” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়, “তিনি (গৌতমবুদ্ধ) জন্মেছেন মানবের চিত্তে, প্রতিদিন তিনি জন্মাচ্ছেন, প্রতিদিন তিনি বেঁচে আছেন।” তবু ও ভারতে বৌদ্ধধর্ম সংখ্যা গরিষ্ঠের ধর্ম নয়
    বিগত ৬ই মে ২০১২ সালে আনন্দ বাজার পত্রিকা তার কার্টুনে (রবিবাসরীয়, শেখর মুখোপাধ্যায় গোলমেলে গিন্নি) লেখা ছিল, “ হ্যাঁ রে, আজ না কি বুদ্ধ পূর্ণিমা? বলিস কী, এখনও নাম বদলায় নি?” তিব্বতি বৌদ্ধধর্ম কে শুধু নাম বদলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুধর্ম করা হয়েছে। যথা: তিব্বতের তারা দেবী বোধিসত্ত্বকে কালি (দূর্গা ও চন্ডী) হলো, এবং বোধিসত্ত্ব অবলোকিতেশ্বরকে হিন্দুদের শিব (মহাদেব) হয়েছে ( আনন্দবাজার পত্রিকা, ১লা বৈশাখ ২০০০ সাল)।
    ১৯২৮ সালে প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ে বাঙালির আত্মপরিচয়ের খোঁজে ডক্টর মোহাম্মদ শহীদুলাহ (ইংরেজীতে তাঁর পি.এইচ. ডি. থিসিসি ছিল) ‘বুড্ডিষ্ট মিষ্টিক সংস (বা বৌদ্ধ চর্যাপদ)’ শীর্ষক বই লিখেছেন এবং বলেছেন, “আমরা বলিতে পারি যে বৌদ্ধগানই (চর্যাপদ) যেমন একদিকে গজলের, তেমনি অন্যদিকে বৈষ্ণব পদাবলীর মূল উৎস।”
    সম্প্রতি লেখক মাহফুজ পারভেজের লেখা “রক্তাক্ত নৈসর্গিক নেপালে (৫৩)” শীর্ষক প্রবন্ধ টরন্টোর বেঙ্গলি টাইমসে (২৭ অক্টোবর ২০১১) পড়ে আমরা বিস্তারিত জেনেছি যে ভারত নেপালের সীমান্তের নদীতে বাঁধ দিলে বুদ্ধের জন্মভূমি লুম্বিনী শহর সহ বিশাল জনপদ পানির অতল তলে তলিয়ে যাবে এবং লেখককে আমাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। গৌতমবুদ্ধ কি হিন্দুরাজনীতির শত্র“?

    বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গকে ধ্বংস করার জন্যে ভারত তদকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পবিত্র গঙ্গা নদীর উপরে ফারাক্কা বাঁধ প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। বিধি বাম। পশ্চিমবঙ্গ নদী কমিশন রিপোর্টে প্রকাশিত সংবাদ (আমন্ত্রন টি ভি, টরন্টো) অনুসারে, কলকাতা বন্দরে গ্রীষ্মকালে পর্যাপ্ত পরিমানে পানির রাখার জন্যে ফারাক্কা বাঁধ তৈরী করার পর

    আমেরিকায় চট্টগ্রামের হাজার বছরের পুরানো বৌদ্ধ ভিক্ষুর নামে নারোপা বিশ্ববিদ্যালয়! বৌদ্ধযুগের প্রাচীন চট্টগ্রাম পন্ডিত বিহারের (বৌদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়) মহামান্য উপাচার্য মহামহোপাধ্যায় নরোপা পাদের নামে (আমেরিকান সহ তিব্বতি এবং এশিয়ান বৌদ্ধগণ সন্নিলিত ভাবে) আমেরিকার কলোরাডোতে নরোপা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
    জগৎ জুড়ে মানব সমাজে মানবাধিকারের অহিংসায় একমাসম্রাট অশোকের মৃত্যুর পর সেনাপতি পুষ্যমিত্র (খৃঃ পূর্ব ১ম শতাব্দিী) ও গৌড়ের (বাংলা) রাজা শশাংক (৭ম শতাব্দি) কর্তৃক বৌদ্ধহত্যা যজ্ঞের কারনে বাংলা ভাষায় পালি ত্রিপিটক রচিত না হলে ও শ্রীলংকা সহ বৌদ্ধবিশ্বে পালি ভাষায় থেরবাদী বৌদ্ধ ত্রিপিটক বিরাজমান। দীর্ঘদিন ধরে বাঙালি জাতি বাংলা বর্ণমালা ইতিহাসের সাথে বঙ্গাব্দের কোন মিল খুঁজে পাচ্ছেন না। রাজপুত্র সিদ্ধার্থ (গৌতমবুদ্ধ) বঙ্গলিপি অধ্যয়ন করলে আজ ১৪১৭ বঙ্গাব্দ না লিখে বাঙালি জাতির পঞ্জিকায় ২৫৫৫বঙ্গাব্দ লেখার ইতিহাস জড়িত ছিল। বাংলাদেশের প্রাচীন ইতিহাস জুড়ে গৌতমবুদ্ধ বিরাজমান। প্রসঙ্গত: আজকের ভারতীয় সভ্যতা ও চীন সভ্যতা গৌতমবুদ্ধের অবদানকে অস্বীকার না করে অবনত মস্তকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন ভারতের স্বাধীন জাতীয় পতাকায় “অশোকচক্র” স্থাপন করে এবং চীনদেশের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সভ্যতা ও শিক্ষা প্রণালীর মাধ্যমে। বিখ্যাত চৈনিক পরিব্রাজক ইউয়েন চোয়াঙ ৬৩৯ খৃষ্ঠাব্দ থেকে ৬৪৫ খৃষ্ঠাব্দের মধ্যে পুন্ড্রবর্ধন (বগুড়া) পরিভ্রমন করেন। তিনি তখন বাংলাদেশে অনেক বৌদ্ধ প্রতিষ্ঠান ছাড়া ও নগরের (বগুড়া) কাছে এক বিরাট বৌদ্ধ বিহার দর্শন করেন। ত্র সমাধান।

    উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন শহর সমূহে অতীশ দীপঙ্কর মেডিটেশন সেন্টার আছে এবং আধুনিক কর্পোরেট সংস্কৃতির কাজের ফাঁকে আনাপাণাস্মৃতি ও মৈত্রীভাবনা করার সুযোগ লাভ করা যায়। হাজার বছর পূর্বে তিব্বতি ভাষায় চর্যাপদের ৮৪ জন সিদ্ধার্যদের জীবনী লিপিবদ্ধ হয়েছিল। বাঙালি বৌদ্ধ সংস্কৃতির গভীর প্রভাব তিব্বতি বজ্রযানী বৌদ্ধধর্মে আজ ও বিরাজমান।
    বাংলাদেশ : অহিংসা পরম ধর্ম গৌতমবুদ্ধের দান / ধর্মের চেয়ে মানুষ বড় মানবতায় প্রান। প্রাচীন বাংলাদেশে মহাস্থানের পুন্ড্রবর্দ্ধনে (বগুড়া) এবং পাহারপুরে (রাজশাহীর সোমপুরী বিহার) বসে গৌতমবুদ্ধ দিনের পর দিন বাঙালি সমাজকে দান, শীল, ভাবনা এবং সুন্দর ভাবে জীবন যাপনের শিক্ষা দিয়েছেন। বাঙালি জাতির ইতিহাসে স্মৃতির মনিমালায় পোড়ামাটির শিল্পকর্মে “গৌতমবুদ্ধ ধর্মচক্র মূদ্রায়” আজ ও বাংলাদেশে বিরাজমান। ধর্মচক্র মূদ্রা বা ভূমিস্পর্শ মূদ্রায় বজ্রসত্ত্ব বা বুদ্ধকে বর্ণনা করার মতো কলম, অথবা এঁকে দেখাবার মতো তুলি আমার নেই। শুধু আমি আমার বিদ্যাবুদ্ধিতে এটুকু বলতে পারি বাংলাদেশের বুদ্ধমূর্তির চিত্রে এমন একটা কিছু আছে যার জন্যে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকা যায়। দুর্ভাগ্যবশত: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আজ ও বুদ্ধ পূর্ণিমায় সরকারি ছুটি নেই। পৃথিবীর সকল মানুষ মুসলমান & HINDU বা একটা ধর্মের মানুষ হলে কি সকল সমস্যার সমাধান হবে?
    কথায় বলে (আনন্দবাজার পত্রিকা বৌদ্ধধর্ম সম্বন্ধে জেনে শুনে ) , “চিনির বলদ চিনি টানে, চিনে না চিনি। উক্ত কার্টুনের ভাষা বিশ্ব বৌদ্ধদের ধর্মীয় অনুভূতির মূলে কুঠারাঘাত করিয়াছে। নাম বদলানোর ইতিহাসে আনন্দবাজার পত্রিকা সহ হিন্দুরাজনীতির জুড়ি নেই। লক্ষনীয় যে, বিশেষ করে হিন্দু রামায়নে অযোধ্যাকান্ডের বত্রিশ নম্বর শ্লোকে বুদ্ধ কে চোর এবং বৌদ্ধদেরকে নাস্তিক বলে গালাগাল বিরাজমান। Dasaratha Jataka (No. 461) is the source of Ramayana (Editorial, Anandabazar Patrika dated August 22, 1993). বাংলার কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ‘বুদ্ধবরণ’ কবিতায় (বেলা শেষের গান) লিখেছেন, “বঙ্গে এল বুদ্ধবিভা, কিন্তু সে নাই বেঁচে / নগর পুন্ড্রবর্ধনও (বগুড়া) নেই, স্বপ্ন হয়ে গেছে; / নেই বালিকা উপাসিকা, আমরা তারই হয়ে, বরণ করি বুদ্ধবিভা চিত্তপ্রদীপ লয়ে; / চৈত্য দিয়ে যতেœ ঘিরি বুদ্ধবিভূতিরে, / নিরঞ্জনা তীরের স্মৃতি ভাগীরথীর তীরে।” কিন্তু বিধিবাম, In the Mahabodhi Temple of Buddhagaya, উক্ত শিবলিঙ্গ সরিয়ে যেই গর্ত সৃষ্ঠি হয়েছে সেই গর্তকে ঘিরে ত্যাঁদড় হিন্দু মৌলবাদী গোষ্ঠি বুদ্ধমূর্তির সামনের জায়গা দখল করে সকাল বিকাল গর্তের ভেতরে ও বাইরে সিন্দুর, ফুল, ফল, ধূপ বাতি সহ বিভিন্ন নৈবেদ্য দিয়ে হিন্দুধর্মের প্রার্থনা মন্ত্র এবং হিন্দু বিবাহ অনুষ্ঠানসমূহের সুত্রপাত হয়। For the development of the Buddhagaya In February 2012 থাইল্যান্ড সরকার ভারত সরকার কে ১০০ কিলোগ্রাম সোনা দিয়ে বুদ্ধগয়ায় বুদ্ধ পূজা করার অনুমতি WANTED and in 2013 Thai Government has moulded the dome of Mahabodhi কিন্তু বিধিবাম, In the Mahabodhi Temple of Buddhagaya, উক্ত শিবলিঙ্গ সরিয়ে যেই গর্ত সৃষ্ঠি হয়েছে সেই গর্তকে ঘিরে ত্যাঁদড় হিন্দু মৌলবাদী গোষ্ঠি বুদ্ধমূর্তির সামনের জায়গা দখল করে সকাল বিকাল গর্তের ভেতরে ও বাইরে সিন্দুর, ফুল, ফল, ধূপ বাতি সহ বিভিন্ন নৈবেদ্য দিয়ে হিন্দুধর্মের প্রার্থনা মন্ত্র এবং হিন্দু বিবাহ অনুষ্ঠানসমূহের সুত্রপাত হয়। For the development of the Buddhagaya In February 2012 থাইল্যান্ড সরকার ভারত সরকার কে ১০০ কিলোগ্রাম সোনা দিয়ে বুদ্ধগয়ায় বুদ্ধ পূজা করার অনুমতি WANTED and in 2013 Thai Government has moulded the dome of Mahabodhi বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে গৌতমবুদ্ধকে সশ্রদ্ধ বন্দনা নিবেদনের নৈবেদ্য সাঁজিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর “হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্বী ” গানটি (বুদ্ধ জন্মোৎসব ২১ শে ফাল্গুন, ১৩১৩ বঙ্গাব্দ) মহামানব বুদ্ধের নামে উৎসর্গ করেছিলেন, “হিংসায় উন্মত্ত পৃথ্বি নিত্য নিঠুর দ্বন্দ্ব ঘোর কুটিল পন্থ তার লোভ জটিল বন্ধ।
    নতুন তব জন্ম লাগি কাতর যত প্রাণী / কর ত্রান মহাপ্রাণ আন অমৃত বাণী! মনে উদীয়মান বুদ্ধ সর্বশক্তিমান এবং বাংলাদেশী বৌদ্ধগণ বিষাদ সিন্ধু বুকে নিয়ে বিরাজমান। বাংলাদেশে চারশত বছরের বৌদ্ধ পাল রাজত্বের পরে বখতিয়ার খিলজি (১২০২ সালে) সহ সেন বাংলায় বৌদ্ধ নির্যাতন এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী সৈন্যদের আক্রমন জয় করে আজ বৌদ্ধগণ সসন্মানে বিরাজমান। প্রায় ২৬০০ বছর পূর্বে রাজপুত্র সিদ্ধার্থ (গৌতমবুদ্ধ) বাল্যকালে যে বাংলা লিপি অধ্যয়ন করেছিলেন এর ঐতিহাসিক প্রমান বাংলা বিশ্বকোষের ১৩শ ভাগ, ৬৫ পৃষ্ঠায় সগৌরবে লিপিবদ্ধ আছে। ভারতীয় রাষ্ট্রীয় পতাকা এবং প্রতীক অশোক চক্রে (ধর্মচক্র) পরম পূজনীয় গৌতমবুদ্ধের দর্শন (প্রতীত্যসমূৎপাদ বা সমগ্র কার্যকারণ প্রবাহ ) বিরাজমান সত্ত্বেও গৌতমবুদ্ধকে বাদ দিয়ে বঙ্গাব্দ & Indian Panjika Identity শুরু হল কেন? এই ঐতিহাসিক রক্তাক্ত প্রান্তরের স্বাক্ষী বাংলা ভাষার আদিমতম নিদর্শন বৌদ্ধ চর্যাপদ।
    The World Fellowship of Buddhists (in 1992) reported, “ Whereas in the legitimate struggle of the Indian Buddhists to put an end to the sacrilege (Siva linga) that is being perpetrated at the sacred Buddhist site of Buddha Gaya, a historic duty and responsibility is cast upon the rest of the world Buddhist community to extend its fullest support, morally, financially, materially and vocally toward this cause.” Ten bombs were blasts in Buddhagaya area and the Mahabodhi temple dated July 7, 2013.
    Temple of Buddhagaya in performing the Buddha Puja from abroad. ব্রাহ্মণ্য সভ্যতা সর্বদা বৌদ্ধসভ্যতাকে (অশোক চক্র বা বৌদ্ধদের ধর্মচক্র) আত্মস্থ করে সর্ব ভারতীয় বা হিন্দু সভ্যতার মিথ্যা ইতিহাস নিয়ে বিরাজমান। ভারত সরকারগণ বৌদ্ধধর্ম কে হিন্দুধর্ম করে বুদ্ধগয়া আজ ও দখল করে আছে। মানুষ মানুষের জন্যে । Swami Vivekananda observed, “And such was the heart of Sankara that he burnt to death lots of the Buddhist monks by defeating them in argument. What can you call such an action on Sankara’s part except fanaticism.”(Complete works of, Swami Vivekananda, Vol VII. P. 118). মানুষের সকল মৌলিক অধিকার পরিপস্থী এবং মানবতা বিরোধী এক কালো আইনের নাম “বুদ্ধগয়া ম্যানেজম্যান্ট কমিটি।” ১৯৪৯ এর বুদ্ধগয়া টেম্পল ম্যানেজম্যান্ট অ্যাক্টে চারজন বৌদ্ধসদস্য, হিন্দু জেলা ম্যাজিষ্ঠ্রেট সহ চার হিন্দু সদস্য ( ৫ জন হিন্দু সদস্য), ম্যানেজম্যান্ট কমিটি নিয়ে বুদ্ধমূর্তির সম্মুখে শিবলিঙ্গ সরিয়ে বৌদ্ধ বাতাবরন সৃষ্ঠির প্রয়াস ছিল।
    ভারতে বুদ্ধগয়া মর্মভেদী ট্রাজেডিতে হিন্দু শাসকদের (Pushymitra & Sasanka, Sankaracharya etc.) গভীর যড়যন্ত্র! মানব জাতির সকল উন্নতি কি শুধু হিন্দু শাসকদের জন্যে ? বৌদ্ধধর্ম থেকে বঙ্গদেশ বঞ্চিত হয়েছে রাজা শশাংকের (৭ম শতাব্দী) বৌদ্ধ হত্যাযজ্ঞ সহ Buddhist Monks killing & শঙ্করাচার্যের ব্রাহ্মণ্যবাদী ষড়যন্ত্র এবং সেন রাজবংশ এবং তুর্কীদের আক্রমনে (১২০২সাল)। In Bangladesh মুক্তিযুদ্ধের ৪১ বছর পর; সেই ভয়াল কালো রাতে ২৯শে সেপ্টেম্বর ২০১২ সালে ২৫ হাজার জঙ্গী রামু সহ দেশের বিভিন্ন বৌদ্ধ বসতিতে আগুন দিয়ে ধ্বংসযজ্ঞের মর্মান্তিক রোমহর্ষক ঘটনার জন্যে। বৌদ্ধ বিহার এবং বৌদ্ধ জনপদের ধ্বংসচিত্র স্থানীয় জনতা নিজের চোখে দেখেছেন। সেই সময় রাতের আঁধারে ভীত সন্ত্রস্থ বড়ুয়া বৌদ্ধগণ বনে জঙ্গলে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেছিলেন।
    ভারতে বৌদ্ধ হত্যাযজ্ঞ ছিল এবং বুদ্ধগয়া took over by Hindu rulers; ভবিষ্যৎ বৌদ্ধজাতির উন্নতির প্রেক্ষাপট, সেই পূত পবিত্র বুদ্ধের প্রেক্ষাপট অঙ্গনে শিবলিঙ্গের গর্ত পূজায় অত্যাচার করে নষ্ঠ করে বৌদ্ধদের ভবিষ্যতকেই ভষ্মীভূত করা হচ্ছে, শুধু প্রতীকিভাবে নয়, আক্ষরিক অর্থে।
    অহিংসা পরম ধর্ম গৌতমবুদ্ধের দান
    ধর্মের চেয়ে মানুষ বড় মানবতায় প্রান।

    রাজা শশাঙ্ক , INVADER বখতিয়ার ও হরিসেনের বৌদ্ধ হত্যাযজ্ঞের কথা
    বল্লালসেনের মহামন্ত্রী হলায়ুধ মিশ্রের নাম ও আছে গাঁথা।
    তুমি আমার বুদ্ধগয়ার জলে স্থলের

    Reply
    • প্রদীপ

      বাবু গন, এসব বিদ্ধেষ, হিংস্রতা উদ্রেক কারী লেখা বন্ধ করুন। এসন বুদ্ধ বিরুধী । অতীত কে বয়ে নিয়ে সামনে এগিয়ে না যেতে বুদ্ধ বারন করেছেন। হিন্দু লেখক দিগের লেখা দিয়ে হিন্দুদের কে বাক আক্রমন কত টুকু শোভনীয় । বর্তমানে বাস করুন। একদিকে কিছু মুসলমানরা হিন্দু বিদ্ধেষ ছরাচ্ছে,অপর দিকে কিছু বৌদ্ধ একই কাজ করছে। দুদলই অতীত কে নিয়ে । এটা বেরমনীয়। অতীতের অসুরের সমালোচনা করতে গিয়ে বর্তমানে অসুরের সাথে অলক্ষ্য হাত মেলান ভংকর।বরতমান ভারত বৌদ্ধ বিরুধী নয়। এটা ভারত,পাকিস্থান নয়। বর্তমান ভারত বুদ্ধের মহিমায় উজ্জিবীত । বুদ্ধ গয়া মহা বিহারের পাশে কোন হিন্দু মন্দিরের কাসর ঘন্টা শোনা যায় না, কিন্তু আজানের প্রবল শব্দ মহাবিহারের পর্যটকরা শোনে। আবারো স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। নিজেদের বউদ্ধিক চেতনাকে জাগ্রত করুন। হিংসায় হিংসা ডেকে আনে। বর্তমানে হিন্দুরা সংঘটিত ভাবে বৌদ্ধ ধরমের প্রতি অনুগত, অন্যরা নয় ।

      Reply
  13. Mr. S. K. BARUA

    বৈদিক পূর্ব বৌদ্ধধর্ম আলোয় আলো

    ভারতে ব্রাহ্মনদের ধর্ম এবং রাজনীতি মানুষ জাতিকে অপমান করার ফলে আজ ২৫ কোটি দলিত জনতা মানবাধিকারের জন্যে যুদ্ধ করে বেঁচে আছেন। হিন্দু শাসক ও পন্ডিতগণ বৌদ্ধধর্মকে হিন্দুধর্ম বানিয়ে মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাধ্যমে ক্ষত্রিয় ও ব্রাহ্মনকে ভারতীয় সমাজে উপরে রেখে নর নারায়নকে দলিত অস্পৃশ্য জাতিবাদের মিথ্যা বেসাতিতে মানবতাকে তিলে তিলে অপমান করে চলেছে। মানব শিশুর অপমানে কোন ধর্মই নেই। প্রসঙ্গত: ২০১৩ সালের ৭ জুলাই বুদ্ধগয়ার মহাবোধি মন্দির সহ বিভিন্ন পূজনীয় স্থানে ১০ টা বোমা বিষ্ফোরণের অপরাধে ভারতীয় পুলিশ পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু পুরোহিত অরুপ ব্রহ্মচারী সহ আর ও বিভিন্ন জনকে আটক করেছে। জনতার প্রশ্ন : ভারতীয় মুজাহিদীনের নামে হিন্দু পুরোহিত কেন বুদ্ধগয়ায় বোমা মারলো ?

    বৈদিক রাজা ঈন্দ্র সিন্ধুসভ্যাতার মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পার কাশ্যপবু্েদ্ধর প্রচারিত বৌদ্ধধর্ম ধ্বংস করেন। পবিত্র পালি ত্রিপিটকের দীর্ঘ নিকায়ের চক্কবত্তি সীহনাদ সূত্তান্ত (৩য় খন্ড ২৬ নং সূত্র) অনুসারে বৈদিকপূর্ব চক্রবর্তি রাজর্ষি বোধিসত্ত্বের ছবি এবং সুত্তনিপাতের ৩ নম্বর খ¹বিষাণ সূত্রানুসারে গন্ডারের ছবি মহেঞ্জোদারোর মিউজিয়ামের বাইরের দেওয়ালে বিশাল রেপিকায় বিরাজমান। ১৯২২ সালে রাখাল দাস বন্দোপাধ্যায় সিন্ধু প্রদেশের (পাকিস্তান, সিন্ধু নদী থেকে কয়েশ’ মাইল দূরে) জমি থেকে ২২ মিটার উঁচু হাইমাউন্ডে অবস্থিত বিরাটকায় বৌদ্ধ স্তুপটি দেখেই তিনি উক্ত এলাকা খনন করে প্রায় ৫ হাজার বছরের পুরানো সিন্ধুসভ্যতার মহেঞ্জোদারো শীর্ষক মহানগরের সন্ধান পেয়েছিলেন (বিবর্ণ সিন্ধু, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০০৬, ভোরের কাগজ, ঢাকা)। তথাগত গৌতমবুদ্ধের মতে, ”আমি প্রাচীন বুদ্ধগণের আর্য্য অষ্ঠাঙ্গিক মার্গ অনুসরণ করে ধর্ম প্রচার করি (নিদান সংযুক্ত, নিদান বর্গ, সংযুক্ত নিকায়)” এবং গৌতমবুদ্ধের বৌদ্ধধর্মের সাথে মহেঞ্জোদারো হরপ্পার কাশ্যপ বুদ্ধের বৌদ্ধধর্মের সম্বন্ধ বিরাজমান। মহেঞ্জোদারোর বাইরের দেওয়ালে বৌদ্ধ জাতকের ষাঁড়, হাতি, হাড়ের গয়না, প্রত্নতাত্তিক নিদর্শন বিদ্যমান।

    After Emperor Asoka Buddhist Holocaust was started by Hindu rulers in India:
    Those glorious days of Buddhists have gone due to Brahmin and Hindu rulers’ conspiracy. Brahmanism was started to destroy Buddhism in India. About the Buddhist killing fields of Kerala’s Sankhara Swami Vivekananda said, “And such the heart of Sankhara that he burnt to death thousands of Buddhist monks by defeating them in argument. What can you call such an action on Sankhara’s part except fanaticism.” (C.W. works of Vivekananda, Vol.Vll p. 118). Written orders were issued (in Hindu Puran Books) to kill Buddhists in India.

    ইতিহাসের সূত্র বিশ্লেষনে দেখা যে, খৃষ্ঠপূর্ব প্রায় ১৫০০ বছর পূর্বে বৈদিক রাজা ইন্দ্র প্রাগৈতিহাসিক বৌদ্ধ নগরদ্বয় মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা ধ্বংস করে প্রাচীন ভারতে বৈদিক সভ্যতা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন (লেখক স্বপন বিশ্বাসের লেখা ইংরেজি বই ‘বৌদ্ধধর্ম’ মহেঞ্জোদারো হরপ্পার ধমর্, কলিকাতা ১৯৯৯), এবং হিন্দুরাজনীতির জাতিভেদ প্রথার কারনে হিন্দু মৌলবাদীগণ বৌদ্ধধর্ম ধ্বংস করলেন। আইনের শাসনে বৌদ্ধ ত্রিপিটক এবং ভারত সম্রাট অশোকের রাজকীয় আদেশ শিলালিপির বৌদ্ধমত অস্বীকার করে হিন্দুরাজনীতি জাতিভেদ প্রথা সহ বেদ বিরোধী ভারতীয় সভ্যতা এবং মানবতার জনক গৌতমবুদ্ধকে ভগবান বিষ্ণুর অবতার বানিয়ে বৌদ্ধধর্মকে অপহরণ করে হিন্দুধর্ম প্রচার করা অন্যায় নয় কি?

    ভারতে বৌদ্ধধর্মকে অপহরণ এবং ধ্বংস করতে ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দুধর্মের উৎপত্তি :

    পূজনীয় পবিত্র ত্রিপিটক না মেনে হিন্দুরাজনীতি বৈদিকপন্থীদের খাঁচায় বুদ্ধের নামকে বন্দী করতে হিন্দুরাজা শশাংক (৬৫০ সালে) বুদ্ধগয়ায় বোধিবৃক্ষ ধ্বংস করে এবং মহাবোধি মন্দিরে পূজনীয় বুদ্ধমূর্তিকে সরিয়ে হিন্দু দেব দেবীর মূর্তি সমূহ প্রতিষ্ঠিত করলেন। তখন থেকে হিন্দু শাসকদের ষড়যন্ত্রে এবং হিন্দু পুরোহিত প্রধান শঙ্করাচার্যের নির্দেশে বৌদ্ধহত্যা যজ্ঞ যেই শুরু হয়েছিল আজ ও তা শেষ হয়নি।
    সম্রাট অশোকের পর দক্ষিন এশিয়ার (সর্ব ভারতীয়) বৌদ্ধজাতিকে দিনের পর দিন আত্মস্থ করে বিশ্ববৌদ্ধদের মিলনতীর্থ গৌতমবুদ্ধের পূত পবিত্র ধ্যানভূমি বুদ্ধগয়ায় শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে দখলে নিয়েছে। ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্রে গৌতমবুদ্ধ ঘোষনা করলেন, “বুদ্ধের ধর্ম বুদ্ধ ব্যতীত অন্য কেহ (সমণ ব্রাহ্মণ বা দেব) প্রচার করতে সমর্থ নহেন (সমণেন বা ব্রাহ্মেণন বা দেবেন বা ব্রাহ্মূণা কেনচি বা লোকস্মিন্তি)।”

    রাজা ঈন্দ্র বৈদিক পূর্ব বা আর্য্যসভ্যতায় বেদের আগে কাশ্যপবুদ্ধের বৌদ্ধধর্ম ধ্বংস করলেন এবং সম্রাট অশোকের পরবর্তী সময়ে বৈদিক রাজনীতি বৌদ্ধধর্মকে অজগরের মতো গিলে ফেলেছেন। মহেঞ্জোদারোর প্রতœতাত্বিক নিদর্শনে পুরোহিতের ছবিতে দীর্ঘ নিকায়ের চক্রবর্তী সিংহনাদ সূত্রানুসারে, বৈদিকপূর্ব চক্রবর্তী রাজর্ষি বোধিসত্বের উপদেশ বাণী ছিল “তোমার রাজ্যে হে পুত্র যুবরাজ ! যেন অধর্ম না ঘটে বা অনৈতিক কৃত না হয়। তোমার রাজ্যে যারা ধনহীন গরীব জনতা, তাহাদিগকে সরকারি ধনাঘার থেকে ধন বন্টনের ব্যবস্থা কর। ” নৈতিক বিবর্তনে সামাজিক বিভিন্ন চিত্র আমাদের চোখে পড়ে। সিন্ধুসভ্যতায় কাশ্যপবুদ্ধের বৌদ্ধ সংস্কৃতির সর্বভারতীয় নৈতিক শক্তিকে বৈদিক জাতিভেদ প্রথা ধ্বংস করার ফলে আজ ভ্রষ্ঠাচারের দহনে করুন রোদনে তিলে তিলে ভারত সহ দক্ষিন এশিয়ার জনতা ক্ষয় হচ্ছে। মানবাধিকারই বৌদ্ধ সাহিত্য এবং ধর্মের মূলমন্ত্র।
    আর্য্যগণ প্রাচীন ভারতে বৈদিক সভ্যতা এবং ধর্ম প্রতিষ্ঠার পূর্বে সিন্ধুসভ্যতায় মহেঞ্জোদারো এবং হরপ্পায় কাশ্যপবুদ্ধের বৌদ্ধধর্মের স্মারকমালা প্রতœতান্ত্বিক নিদর্শনে বিরাজমান। বৈদিক পন্থী ব্রাহ্মণগণ ত্রিপিটকের অন্তর্গত চারি আর্য্যসত্য, প্রতীত্য সমুৎপাদের (কার্য কারন মহা প্রবাহ প্রণালী) বিশ্ববিদ্যা কল্পদ্রুম এবং অষ্ঠবিংশতি বুদ্ধ বন্দনায় বুদ্ধবংশের বুদ্ধ বচনকে উপেক্ষা করে ব্রাহ্মণ্যবাদের দ্বারা রচিত নবম অবতার নামক খাঁচায় গৌতমবুদ্ধের ইতিহাসকে বন্দী করে বুদ্ধগয়ায় শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৪৯ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর আদেশে উক্ত শিবলিঙ্গ বুদ্ধগয়ার মহাবোধি মন্দির থেকে সরিয়ে নেওয়া হল এবং বুদ্ধগয়ায় আজ বিভিন্ন বৌদ্ধ দেশের বৌদ্ধ মন্দির সমূহ সগৌরবে বিরাজমান। এমন কি বিগত ৭ জুলাই ২০১৩ সালে বুদ্ধগয়ায় নয়টি বোমা বিষ্ফোরণের পাপ কর্মের জন্যে জনৈক হিন্দু পুরোহিত কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বৌদ্ধধর্মকে ধ্বংস করবার জন্যে কি ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দু বৈদিক ধর্মের উৎপত্তি হয়েছিল ? প্রাগৈতিহাসিক ২৭ জন বুদ্ধগণকে হিন্দুরাজনীতি অবতার না বানিয়ে একমাত্র গৌতমবুদ্ধকে ভগবান বিষনুর অবতার বানিয়ে সর্বভারতীয় রাজনীতি এবং ধর্মের বাজার দখল করে আছে।

    হিন্দুরাজনীতি ভারতে বৌদ্ধধর্মকে ধ্বংস করেছে। জাতিভেদ প্রথায় বিভেদ বিদ্বেষের নামই কি হিন্দুধর্ম । ১২০২ সালে বখতিয়ার খিলজির বাংলা আক্রমনের সময় ও হিন্দু রাজনীতির বৌদ্ধ হত্যার লোমহর্ষকর বিষাদ সিন্ধুর ইতিহাস কথা কথাশিল্পী শওকত আলীর লেখা (১) প্রদোষে প্রাকৃতজন এবং (২) দুষ্কালের দিবানিশি পুস্তকদ্বয়ে বিদ্যমান।
    … বাল্মিকী রামায়নে আমি রামের মদ্যপ চরিত্রের বর্ণনা পড়েছি। আদবানি ভাল করে বাল্মিকী রামায়ণটা পড়–ন। তারপরে আমার সেেঙ্গ বিতর্কে আসুন। ” তারপর উক্ত করুণানিধির মস্তক ছেদে আহ্বান জানালেন হিন্দুত্ববাদীরা (আহমদ, হাসান ইমরান, নয়া দিগন্ত, ঢাকা, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০০৭)।

    রামায়নের অযোধ্যা কান্ডের (অধ্যায়) বত্রিশ নম্বর শ্লোকে বুদ্ধকে (যথাহি চৌর স তথাহি বুদ্ধ, তথাগতং নাস্তিকমত্র বিদ্ধি।) চোর বলে গালাগাল করার পর সেই মহাকাব্যটি কি বৌদ্ধ জাতকের আগে রচিত? “তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, / আমি হলাম চোর বটে।” ধর্মের গোড়ামি ত্যাগ করে রামায়নের ঐতিহাসিক উৎস নিরুপণ করতে গিয়ে পন্ডিত ও ভাষাতত্ত্ববিদ ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় মহাশয় কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটির এক আলোচনা সভায় বলেছেন, “দশরথ জাতকই রামায়নের উৎস ( দৈনিক বসুমতি, কলকাতা, ২ মার্চ ১৯৭৮ ইং)।”

    সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ পত্র সহ বাংলাদেশের বাংলা পত্রিকা দৈনিক ‘নয়া দিগন্তে’ (অক্টোবর ১, ২০১০) ভারতে বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার রায় সম্বন্ধে পড়তে পড়তে ত্রিপিটকের দশরথ জাতক শীর্ষক পুরানো বৌদ্ধ ইতিহাসের কথা মনে পড়ে গেল। বাবরি মসজিদ ধ্বংস করার পর ভারতীয় আদালতের রায়ে তিন ভাগের মাত্র এক ভাগ পাবেন মুসলিম জনতা। সর্বগ্রাসী হিন্দুধর্মের রাম কাহিনি নিয়ে ঢক্কানিনাদের সময় দশরথ জাতক এবং ‘আল্লাহ উপনিষদ’ নিয়ে বিচার বিশ্লেষনের জন্য কার ও কোন লজ্জা হয় না বলে। “মুসলিম তার নয়নমণি, হিন্দু তাহার প্রাণ;” না মেনে রাম মন্দির আন্দোলনের উত্তাল ঢেউয়ের মাথায় ১৯৯২ সালে ৬ই ডিসেম্বর প্রায় দুই হাজার অপাপবিদ্ধ মানুষ হত্যা করা হয়েছিল লালকৃষ্ণ আডবাণী সহ হিন্দু রাজনীতিবিদের বকওয়াস রাজনীতির জন্যে।

    হিন্দু রাজনীতির দাদারা বৌদ্ধ ধর্মকে কবর দেবার পর (দেশ, ৪ মে ২০০১ কলিকাতা পৃষ্ঠা ১২), ভারত বিজয়ী ইসলাম ধর্মকে নিয়ে অভিনব ‘বক্ওয়াস’ কূটনীতি করার মানসে সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে “আল্লাহ উপনিষদে” রচিত হলো: “আল্লো জ্যেষ্ঠং শ্রেষ্ঠং পরমং , পূর্ণং ব্রহ্মানং অল্লাম। অর্থাৎ দেবতাদের রাজা আল্লাহ আদি সকলের বড় ইন্দ্রের গুরু।”
    জনতার প্রশ্ন : আল্লাহ উপনিষদের আলোকে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা অন্যায় ও অমানবিক নয় কি? শুধু পরম করুনাময় আল্লাহের নামে উপনিষদ শীর্ষক শূন্যগর্ভ কথার বুদবুদ যা রাজনীতির নানা কক্ষের আধো অন্ধকার চন্ডীমন্ডপ পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। আল্লাহ এবং রাম সর্ব শক্তিমান স্রষ্ঠা হলে হিন্দুশাসকগণ ভারতের বৌদ্ধ মন্দির সমূহ (পুরীর জগন্নাথ মন্দির, তিরুপতি বালাজী সহ শত শত বৌদ্ধ মন্দির) দখলে রেখে ভগবান রামের নামে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করলো কেন? কারন ভারতে অহিন্দু ধর্মসমূহকে হিন্দুধর্মের লেজুর বানাতে অবতার ও আল্লাহ উপনিষদ ব্যবহার করা হবে।
    গৌতমবুদ্ধকে হিন্দুরাজনীতি নবম অবতার বানিয়ে আজ ও বৌদ্ধ মূল্যবোধকে গিলে গিলে খাচ্ছে। গোটা রামজন্মভূমির আন্দোলনটাই বকওয়াসের রাজনীতি। হিন্দু ধর্মে সব মায়া, তাই চতুরার্য সত্য নেই এবং বৌদ্ধধর্ম থেকে ধার করে অশোকস্তম্ভে লেখা হয়, “ইহাই ভারতের রাষ্ঠ্রীয় প্রতীক।”

    এই প্রসঙ্গে ইহা ও বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য যে, কলিকাতার দেশ (৪ মে, ২০০১, পৃষ্ঠা, ১৩) পত্রিকায় সন্দীপ মুখোপাধ্যায়ের মতে, “হিন্দু মন্দিরের মধ্যে আত্মগোপন করে থাকা বৌদ্ধ উপাসনা গৃহগুলি ও কি অত:পর একই যুক্তিতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বৌদ্ধদের হাতে? বস্তুত, ইতিহাসের সমস্ত অসংগতির ক্ষতিপূরণ বর্তমানে দাবী করার রীতি এইভাবে স্বীকৃত হতে থাকলে ‘বর্ণ হিন্দু’ আধিপত্যহীন হিন্দুধর্মে ধ্বজাধারীদেরও সুনিদ্রা সুনিশ্চিত থাকার কোনও কারন আদৌ নেই।” একে বলা হয় হিন্দুধর্মের সহনশীলতার বকওয়াস। বিচারের বানী নিরবে নিভৃতে কাঁদে এবং ইহার ফাঁদে সর্বগ্রাসী হিন্দু রাজনীতি নিয়ে মসজিদে হিন্দুত্বকরণ রায় নয় কি? যবনের স্পর্শে হিন্দুর জাত যায়, আর জাত ফেরে না। যবন রাম জন্মভূমির ভিটের ওপর বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠার শত শত বছর যাবত নামাজ আদায় করার পর ও হিন্দু মন্দিরের জাত গেল না কেন? ইহাই হিন্দু রাজনীতির ‘বকওয়াস’ অধ্যায়। মানবিক মর্যাদায় মনুষ্যত্ব ধ্বংস হলে “রাম নাম সত্য হে ?”

    ইতিহাস চুরির চাতুর্যে রামায়নের তথ্য ফাঁস : গৌতমবুদ্ধ তাঁর ভিক্ষুসংঘকে উপদেশ প্রসঙ্গে দশরথ জাতক সমাধান করতে গিয়ে বলেছেন, “তখন (পূর্ব জন্মে) শুদ্ধোধন রাজা ছিলেন দশরথ মহারাজা, মহামায়া ছিলেন সে মাতা, রাহুলমাতা (গোপা) ছিলেন রাজকুমারী সীতা, আনন্দ ছিলেন রাজপুত্র ভরত, সারীপুত্র ছিলেন রাজপুত্র লক্ষন, বুদ্ধ পরিষদ সে পরিষদ, আমি (বুদ্ধ) ছিলাম সে রাম পন্ডিত ( দশরথ জাতক নম্বর ৪৬১, জাতক অট্টকথা, পালি টেক্সট সোসাইটি, লন্ডন)।” বৌদ্ধ প্রধান দেশ থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক মহানগরীর বিখ্যাত রাজকীয় এমারেল্ড (মরকত মনি) বুদ্ধ মন্দিরের চারিদিক জুড়ে আছে দশরথ জাতকে রামকীর্তির অভিনব চিত্রশালা।
    প্রসঙ্গত: উল্লেখযোগ্য যে, আজকের থাইল্যান্ডের মহারাজা ভূমিপল অডুল্যডেজা হচ্ছেন নবম রাম। প্রথম রাম (১৭৮১ থেকে ১৮০৯) ১৭৮২ সালের ৬ই এপ্রিল ব্যাংককে (দেবনগরী) রতœকোষিন ডাইনেষ্ঠি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বৌদ্ধ রাজনীতিতে বোধিসত্ত্ব রামকে (দশবিধ রাজধর্ম) অনুসরন করে রাজত্ব পরিচালনা করার শপথ গ্রহন করা হয় । থাইল্যান্ডে অযোধ্যা (আয়োথায়া) এবং রাজা রাম আজ ও বিরাজমান।
    হিন্দুধর্ম ও রাজনীতি অতীত বুদ্ধগণকে স্বীকৃতি না দিয়ে সম্রাট অশোকের বৌদ্ধ সাম্রাজ্যকে (ভারত) লুটে পুটে খাচ্ছে।

    “মানুষের পরশেরে প্রতিদিন ঠেকাইয়া দূরে
    ঘৃণা করিয়াছ তুমি মানুষের প্রাণের ঠাকুরে।
    বিধাতার রুদ্ররোষে দুভিক্ষের দ্বারে বসে /
    ভাগ করে খেতে হবে সকলের সাথে অন্নপান।
    অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।”

    শ্রীরামচন্দ্র লোভ লালসা ত্যাগ করে মানব জাতির ভগবান হলেন। আজকের হিন্দু রাজনীতি ভারতে সর্বগ্রাসী হিন্দুত্বকরণের জন্য রক্তগঙ্গা প্রবাহিত করতে সর্বদা প্রস্তুত। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হিন্দু জাতিকে শিক্ষা দিয়েছিলেন:

    “সেই সত্য যা রচিবে তুমি,
    ঘটে যা, তা সব সত্য নহে,
    কবি, তব মনোভূমি,
    রামের জন্মস্থান অযোধ্যার চেয়ে
    সত্য জেনো।”

    চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনি। হিন্দু রাজনীতি শক্তের ভক্ত (সম্রাট আকবরের ভক্ত ছিল) এবং নরমের (সংখ্যালঘুদের) যম।
    অযোধ্যায় বৌদ্ধ স্থাপত্যের একটি থামের শালভঞ্জিকায় ঐতিহাসিক ছবি বিরাজমান যেখানে গৌতমবুদ্ধের মাতা শালপাতা তুলছেন। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং এর ভ্রমন কাহিনি থেকে জানা গিয়েছে যে সপ্তম শতকে অযোধ্যায় ছিলেন তিন হাজার বৌদ্ধভিক্ষু। বৌদ্ধ বিহার ছিল প্রায় একশোটি। বৌদ্ধযুগে অযোধ্যা ছিল বৌদ্ধ প্রধান অঞ্চল এবং আজকের অযোধ্যার স্থাপত্যেকীর্তির পুরাতাত্বিক অতীত অনুসন্ধান করতে গিয়ে বৌদ্ধ প্রাধান্যের যুগে ফিরে যাওয়া সহজ।

    যেমন কথিত আছে, কর্ণসুবর্ণের শৈব রাজা শশাংক সেতুবন্ধ থেকে হিমগিরি পর্যন্ত বালকবৃদ্দ নির্বিশেষে সমস্ত বৌদ্ধকে হত্যা করার আদেশ দিয়েছিলেন। আদেশ পালনে শিথিলতা যে দেখাবে তার ও শাস্তি ছিল মৃত্যু।” ডাক্তার কে যমানাদাসের লেখা ‘তিরুপতি বালাজি ওয়াজ এ বুদ্ধিষ্ঠ স্রাইন’ শীর্ষক মহাগ্রন্থে লেখা আছে, “আসলে এটি একটি প্রাচীন বুদ্ধমূর্তি। ভারতবর্ষে বৌদ্ধধর্ম পতনের সময় হিন্দুরা স্রেফ গায়ের জোরে বিহারটিকে দখল করে নেয়। পুরীর (উড়িষ্যা) জগন্নাথ দেবের মন্দির ও আসলে বুদ্ধ মন্দির।

    স্বামী বিবেকানন্দ ও তাই মনে করতেন। স্যার যদুনাথ, নগেন্দ্রনাথ বসু, ডঃ ভাও লোকান্ডের উদ্ধৃতি ও নৃতাত্বিক প্রমাণাদিসহ ড. যমানাদাস হিন্দু ধর্মের সহনশীলতা এই বহু কথিত গুণটিকেই কাঠগোড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। ভারতের সাবেক রাষ্ঠ্রপতি ডক্টর রাজেন্দ্র প্রসাদ ও বলেছিলেন, ‘বুদ্ধগয়ার মন্দিরটিকে দখলে এনে আসলে আমরা অন্যায় করে চলেছি।’ উত্তরে মহান বিদ্বান লেখক রাহুল সাংকৃত্যায়ন বলেন, ‘বুদ্ধগয়া মন্দিরের ষোল আনাই বৌদ্ধদের হাতে দিয়ে দেওয়া উচিত (আনন্দবাজার পত্রিকা, ২৪ ফেব্র“য়ারী ১৯৯৭, বৌদ্ধ মঠের কঙ্কাল বিধু বাহিরেতে)।”
    সমাজতত্ত্ববিদগণ মনে করেন যে, ভারতে বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে হিন্দুরাজনীতিবিদদের সজাগ সতর্ক সহ নৈতিক বোধের অবনতির ফলে যে ভারসাম্যহীনতা তৈরী হচ্ছে, তা আজ ও আগামী দিনে সমাজের বুকে এক ভয়াবহ ধ্বংসের রুপ নেবে। মানবাধিকারের অস্তিত্বের আলোকে বাবরি মসজিদ আলোকিত মানবতার প্রতিশ্র“তি এবং ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে “ বৈশাখী পূর্ণিমা ” শীর্ষক কবিতায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বৌদ্ধকবি হয়ে লিখেছিলেন,

    “সকল কলুষ তামস হর’ জয় হোক তব জয়!
    অমৃক বারি সিঞ্চন কর ’ নিখিল ভুবন ময়।
    জয় হোক তব জয়!
    মহাশান্তি মহাক্ষেম,
    মহা পুণ্য, মহা প্রেম!”
    জ্ঞানসূর্য উদয় ভাতি
    ধ্বংস করুক তিমির রাতি,
    দুঃসহ দুঃস্বপ্ন ঘাতি ’ অপগত কর ভয়।
    জয় হোক তব জয়।
    মোহ মলিন অতি দুর্দ্দিন, শঙ্কিত চিত্ত পান্থ,
    জটিল গহন পথ সঙ্কট সংশয় উদভ্রান্ত।
    করুনাময়, মাগি শরন,
    দুর্গতিভয় করহ হরণ;
    দাও দুঃখ বন্ধ তরণ মুক্তির পরিচয় ।
    জয় হোক তব জয়।
    মহাশান্তি মহাক্ষেম
    মহাপুণ্য, মহাপ্রেম।”

    আনন্দবাজার পত্রিকার (সম্পাদকীয়, ২২ আগষ্ট, ১৯৯৩) মতে, “রামায়নের আদি হিসাবে তাঁহাদের কেহ কেহ প্রাচীনতর ভারতীয় কাহিনীর যথা: “দশরথ জাতক” (জাতক নম্বর : ৪৬১) এর দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়াছেন। … সেই উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা কেমন করিয়া ভুলিয়া গেলেন যে, একদা রাশি রাশি বৌদ্ধ ধর্মস্থান ধ্বংস করিয়া একদিন গড়িয়া উঠিয়াছিল রাশি রাশি হিন্দু মন্দির। তাঁহারা কি জানেন, হিন্দুর কাছে অতি পবিত্র পুরীর মন্দিরের প্রাক্ ইতিহাস সম্পর্কে কানিংহাম কিংবা রাজেন্দ্রলাল মিত্রের কী অভিমত? তাই বলিতেছিলাম, অযোধ্যা একটি বৃহৎ প্রশ্ন বটে, কিন্তু নিতান্তই মনগড়া এক নির্বোধ প্রশ্ন।”

    Reply
  14. Mr. Sona kanti Barua

    সোনা কান্তি বড়ুয়া
    সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদ পত্র সহ বাংলাদেশের বাংলা পত্রিকা দৈনিক ‘নয়া দিগন্তে’ (অক্টোবর ১, ২০১০) ভারতে বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার রায় সম্বন্ধে পড়তে পড়তে ত্রিপিটকের বৌদ্ধ জাতক সাহিত্যে দশরথ শীর্ষক জাতকের কথা মনে পড়ে গেল। বাবরি মসজিদ ধ্বংস করার পর ভারতীয় আদালতের রায়ে তিন ভাগের মাত্র এক ভাগ পাবেন মুসলিম জনতা। সর্বগ্রাসী হিন্দুধর্মের রাম কাহিনি নিয়ে ঢক্কানিনাদের সময় দশরথ জাতক এবং ‘আল্লাহ উপনিষদ’ নিয়ে বিচার বিশ্লেষনের জন্য কার ও কোন ও লজ্জা হয় না বলে। রাম মন্দির আন্দোলনের উত্তাল ঢেউয়ের মাথায় ১৯৯২ সালে ৬ই ডিসেম্বর প্রায় দুই হাজার অপাপবিদ্ধ মানুষ হত্যা করা হয়েছিল লালকৃষ্ণ আডবাণী সহ হিন্দু রাজনীতিবিদের বকওয়াস রাজনীতির জন্যে। কারন ভারতে অহিন্দু ধর্মসমূহকে হিন্দুধর্মের লেজুর বানাতে অবতার ও আল্লাহ উপনিষদ ব্যবহার করা হবে। গৌতমবুদ্ধকে হিন্দুরাজনীতি নবম অবতার বানিয়ে আজ ও বৌদ্ধ মূল্যবোধকে গিলে গিলে খাচ্ছে। গোটা রামজন্মভূমির আন্দোলনটাই বকওয়াসের রাজনীতি। হিন্দু ধর্মে সব মায়া, তাই চতুরার্য সত্য নেই এবং বৌদ্ধধর্ম থেকে ধার করে অশোকস্তম্ভে লেখা হয়, “সত্য মেব জয়তে।”

    ইতিহাস চুরির চাতুর্যে রামায়নের তথ্য ফাঁস : গৌতমবুদ্ধ তাঁর ভিক্ষুসংঘকে উপদেশ প্রসঙ্গে দশরথ জাতক সমাধান করতে গিয়ে বলেছেন, “তখন (পূর্ব জন্মে) শুদ্ধোধন রাজা ছিলেন দশরথ মহারাজা, মহামায়া ছিলেন সে মাতা, রাহুলমাতা (গোপা) ছিলেন রাজকুমারী সীতা, আনন্দ ছিলেন রাজপুত্র ভরত, সারীপুত্র ছিলেন রাজপুত্র লক্ষন, বুদ্ধ পরিষদ সে পরিষদ, আমি (বুদ্ধ) ছিলাম সে রাম পন্ডিত ( দশরথ জাতক নম্বর ৪৬১, জাতক অট্টকথা, পালি টেক্সট সোসাইটি, লন্ডন)।” বৌদ্ধ প্রধান দেশ থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংকক মহানগরীর বিখ্যাত রাজকীয় এমারেল্ড (মরকত মনি) বুদ্ধ মন্দিরের চারিদিক জুড়ে আছে দশরথ জাতকে রামকীর্তির অভিনব চিত্রশালা। প্রসঙ্গত: উল্লেখযোগ্য যে, আজকের থাইল্যান্ডের মহারাজা ভূমিপল অডুল্যডেজা হচ্ছেন নবম রাম। প্রথম রাম (১৭৮১ থেকে ১৮০৯) ১৭৮২ সালের ৬ই এপ্রিল ব্যাংককে (দেবনগরী) রতœকোষিন ডাইনেষ্ঠি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বৌদ্ধ রাজনীতিতে বোধিসত্ত্ব রামকে (দশবিধ রাজধর্ম) অনুসরন করে রাজত্ব পরিচালনা করার শপথ গ্রহন করা হয় । থাইল্যান্ডে অযোধ্যা (আয়োথায়া) এবং রাজা রাম আজ ও বিরাজমান।

    আনন্দবাজার পত্রিকার (সম্পাদকীয়, ২২ আগষ্ট, ১৯৯৩) মতে, “রামায়নের আদি হিসাবে তাঁহাদের কেহ কেহ প্রাচীনতর ভারতীয় কাহিনীর যথা: “দশরথ জাতক” (জাতক নম্বর : ৪৬১) এর দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়াছেন। … সেই উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা কেমন করিয়া ভুলিয়া গেলেন যে, একদা রাশি রাশি বৌদ্ধ ধর্মস্থান ধ্বংস করিয়া একদিন গড়িয়া উঠিয়াছিল রাশি রাশি হিন্দু মন্দির। তাঁহারা কি জানেন, হিন্দুর কাছে অতি পবিত্র পুরীর মন্দিরের প্রাক্ ইতিহাস সম্পর্কে কানিংহাম কিংবা রাজেন্দ্রলাল মিত্রের কী অভিমত? তাই বলিতেছিলাম, অযোধ্যা একটি বৃহৎ প্রশ্ন বটে, কিন্তু নিতান্তই মনগড়া এক নির্বোধ প্রশ্ন।”

    “মানুষের পরশেরে প্রতিদিন ঠেকাইয়া দূরে

    ঘৃণা করিয়াছ তুমি মানুষের প্রাণের ঠাকুরে।

    বিধাতার রুদ্ররোষে দুভিক্ষের দ্বারে বসে /

    ভাগ করে খেতে হবে সকলের সাথে অন্নপান।

    অপমানে হতে হবে তাহাদের সবার সমান।” হিন্দু রাজনীতির দাদারা বৌদ্ধ ধর্মকে কবর দেবার পর (দেশ, ৪ মে ২০০১ কলিকাতা পৃষ্ঠা ১২), ভারত বিজয়ী ইসলাম ধর্মকে নিয়ে অভিনব ‘বক্ওয়াস’ কূটনীতি করার মানসে সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে “আল্লাহ উপনিষদে” রচিত হলো: “আল্লো জ্যেষ্ঠং শ্রেষ্ঠং পরমং , পূর্ণং ব্রহ্মানং অল্লাম। অর্থাৎ দেবতাদের রাজা আল্লাহ আদি সকলের বড় ইন্দ্রের গুরু।” জনতার প্রশ্ন : আল্লাহ উপনিষদের আলোকে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা অন্যায় ও অমানবিক নয় কি? শুধু পরম করুনাময় আল্লাহের নামে উপনিষদ শীর্ষক শূন্যগর্ভ কথার বুদবুদ যা রাজনীতির নানা কক্ষের আধো অন্ধকার চন্ডীমন্ডপ পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়।

    শ্রীরামচন্দ্র লোভ লালসা ত্যাগ করে মানব জাতির ভগবান হলেন। আজকের হিন্দু রাজনীতি ভারতে সর্বগ্রাসী হিন্দুত্বকরণের জন্য রক্তগঙ্গা প্রবাহিত করতে সর্বদা প্রস্তুত। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হিন্দু জাতিকে শিক্ষা দিয়েছিলেন:

    “সেই সত্য যা রচিবে তুমি,

    ঘটে যা, তা সব সত্য নহে,

    কবি, তব মনোভূমি,

    রামের জন্ম জন্মস্থান অযোধ্যার চেয়ে

    সত্য জেনো।” চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনি। হিন্দু রাজনীতি শক্তের ভক্ত (সম্রাট আকবরের ভক্ত ছিল) এবং নরমের (সংখ্যালঘুদের) যম।

    অযোধ্যায় বৌদ্ধ স্থাপত্যের একটি থামের শালভঞ্জিকায় ঐতিহাসিক ছবি বিরাজমান যেখানে গৌতমবুদ্ধের মাতা শালপাতা তুলছেন। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং এর ভ্রমন কাহিনি থেকে জানা গিয়েছে যে সপ্তম শতকে অযোধ্যায় ছিলেন তিন হাজার বৌদ্ধভিক্ষু। বৌদ্ধ বিহার ছিল প্রায় একশোটি। বৌদ্ধযুগে অযোধ্যা ছিল বৌদ্ধ প্রধান অঞ্চল এবং আজকের অযোধ্যার স্থাপত্যেকীর্তির পুরাতাত্বিক অতীত অনুসন্ধান করতে গিয়ে বৌদ্ধ প্রাধান্যের যুগে ফিরে যাওয়া সহজ।

    রামায়নের অযোধ্যা কান্ডের (অধ্যায়) বত্রিশ নম্বর শ্লোকে বুদ্ধকে (যথাহি চৌর স তথাহি বুদ্ধ, তথাগতং নাস্তিকমত্র বিদ্ধি।) চোর বলে গালাগাল করার পর কি সেই মহাকাব্যটি কি বৌদ্ধ জাতকের আগে রচিত? “তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ, / আমি হলাম চোর বটে।” ধর্মের গোড়ামি ত্যাগ করে রামায়নের ঐতিহাসিক উৎস নিরুপণ করতে গিয়ে পন্ডিত ও ভাষাতত্ত্ববিদ ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় মহাশয় কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটির এক আলোচনা বলেছেন, “দশরথ জাতকই রামায়নের উৎস ( দৈনিক বসুমতি, কলকাতা, ২ মার্চ ১৯৭৮ ইং)।”

    ইতিহাসের সূত্র বিশ্লেষনে দেখা যে, প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর পূর্বে বৈদিক রাজা ইন্দ্র প্রাগৈতিহাসিক বৌদ্ধ নগরদ্বয় মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা ধ্বংস করার পর প্রাচীন ভারতে বৈদিক সভ্যতা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন (লেখক স্বপন বিশ্বাসের লেখা ইংরেজি বই ‘বৌদ্ধধর্ম’ মহেঞ্জোদারো হরপ্পার ধমর্, কলিকাতা ১৯৯৯), এবং হিন্দুর বকওয়াস রাজনীতির কারনে আজকের বৌদ্ধধর্মই হিন্দুধর্মের পরমশত্র“। বৌদ্ধ ত্রিপিটকের মধ্যম নিকায়ের মাগন্দিয় সূত্রে (সূত্র নম্বর:৭৫) গৌতমবুদ্ধ ব্যাখ্যা করে বলেছেন, “পূর্বের বুদ্ধগণ আরোগ্য পরম লাভ এবং নির্বান পরম সুখ সম্বন্ধে যেই শিক্ষা দিয়েছিলেন বর্তমানে সেই শিক্ষা সমূদয় জনসাধারনের মধ্যে প্রচলিত হয়ে রয়েছে।” হিন্দুধর্ম ও রাজনীতি অতীত বুদ্ধগণকে স্বীকৃতি না দিয়ে সম্রাট অশোকের বৌদ্ধ সাম্রাজ্যকে (ভারত) লুটে পুটে খাচ্ছে।

    এই প্রসঙ্গে ইহা ও বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য যে, কলিকাতার দেশ (৪ মে, ২০০১, পৃষ্ঠা, ১৩) পত্রিকায় সন্দীপ মুখোপাধ্যায়ের মতে, “হিন্দু মন্দিরের মধ্যে আত্মগোপন করে থাকা বৌদ্ধ উপাসনা গৃহগুলি ও কি অত:পর একই যুক্তিতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বৌদ্ধদের হাতে? বস্তুত, ইতিহাসের সমস্ত অসংগতির ক্ষতিপূরণ বর্তমানে দাবী করার রীতি এইভাবে স্বীকৃত হতে থাকলে ‘বর্ণ হিন্দু’ আধিপত্যহীন হিন্দুধর্মে ধ্বজাধারীদেরও সুনিদ্রা সুনিশ্চিত থাকার কোনও কারন আদৌ নেই। একে বলা হয় হিন্দুধর্মের সহনশীলতার বকওয়াস। বিচারের বানী নিরবে নিভৃতে কাঁদে এবং ইহার ফাঁদে সর্বগ্রাসী হিন্দু রাজনীতি নিয়ে মসজিদে হিন্দুত্বকরণ রায় নয় কি? যবনের স্পর্শে হিন্দুর জাত যায়, আর জাত ফেরে না। যবন রাম জন্মভূমির ভিটের ওপর বাবরি মসজিদ প্রতিষ্ঠার শত শত বছর যাবত নামাজ আদায় করার পর ও হিন্দু মন্দিরের জাত গেল না কেন? ইহাই হিন্দু রাজনীতির ‘বকওয়াস’ অধ্যায়। মানবিক মর্যাদায় মনুষ্যত্ব ধ্বংস হলে “রাম নাম সত্য হে ?”

    যেমন কথিত আছে, কর্ণসুবর্ণের শৈব রাজা শশাংক সেতুবন্ধ থেকে হিমগিরি পর্যন্ত বালকবৃদ্দ নির্বিশেষে সমস্ত বৌদ্ধকে হত্যা করার আদেশ দিয়েছিলেন। আদেশ পালনে শিথিলতা যে দেখাবে তার ও শাস্তি ছিল মৃত্যু।” ডাক্তার কে যমানাদাসের লেখা ‘তিরুপতি বালাজি ওয়াজ এ বুদ্ধিষ্ঠ স্রাইন’ শীর্ষক মহাগ্রন্থে লেখা আছে, “আসলে এটি একটি প্রাচীন বুদ্ধমূর্তি। ভারতবর্ষে বৌদ্ধধর্ম পতনের সময় হিন্দুরা স্রেফ গায়ের জোরে বিহারটিকে দখল করে নেয়। পুরীর (উড়িষ্যা) জগন্নাথ দেবের মন্দির ও আসলে বুদ্ধ মন্দির। স্বামী বিবেকানন্দ ও তাই মনে করতেন। স্যার যদুনাথ, নগেন্দ্রনাথ বসু, ডঃ ভাও লোকান্ডের উদ্ধৃতি ও নৃতাত্বিক প্রমাণাদিসহ ড. যমানাদাস হিন্দু ধর্মের সহনশীলতা এই বহু কথিত গুণটিকেই কাঠগোড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। ভারতের সাবেক রাষ্ঠ্রপতি ডক্টর রাজেন্দ্র প্রসাদ ও বলেছিলেন, ‘বুদ্ধগয়ার মন্দিরটিকে দখলে এনে আসলে আমরা অন্যায় করে চলেছি।’ উত্তরে মহান বিদ্বান লেখক রাহুল সাংকৃত্যায়ন বলেন, ‘বুদ্ধগয়া মন্দিরের ষোল আনাই বৌদ্ধদের হাতে দিয়ে দেওয়া উচিত (আনন্দবাজার পত্রিকা, ২৪ ফেব্র“য়ারী ১৯৯৭, বৌদ্ধ মঠের কঙ্কাল বিধু বাহিরেতে)।”

    সমাজতত্ত্ববিদগণ মনে করেন যে, ভারতে বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে হিন্দুরাজনীতিবিদদের সজাগ সতর্ক সহ নৈতিক বোধের অবনতির ফলে যে ভারসাম্যহীনতা তৈরী হচ্ছে, তা আজ ও আগামী দিনে সমাজের বুকে এক ভয়াবহ ধ্বংসের রুপ নেবে। মানবাধিকারের অস্তিত্বের আলোকে বাবরি মসজিদ আলোকিত মানবতার প্রতিশ্র“তি এবং ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে “ বৈশাখী পূর্ণিমা ” শীর্ষক কবিতায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বৌদ্ধকবি হয়ে লিখেছিলেন,

    “সকল কলুষ তামস হর’ জয় হোক তব জয়!

    অমৃক বারি সিঞ্চন কর ’ নিখিল ভুবন ময়।

    জয় হোক তব জয়!

    মহাশান্তি মহাক্ষেম,

    মহা পুণ্য, মহা প্রেম!”

    জ্ঞানসূর্য উদয় ভাতি

    ধ্বংস করুক তিমির রাতি,

    দুঃসহ দুঃস্বপ্ন ঘাতি ’ অপগত কর ভয়।

    জয় হোক তব জয়।

    মোহ মলিন অতি দুর্দ্দিন, শঙ্কিত চিত্ত পান্থ,

    জটিল গহন পথ সঙ্কট সংশয় উদভ্রান্ত।

    করুনাময়, মাগি শরন,

    দুর্গতিভয় করহ হরণ;

    দাও দুঃখ বন্ধ তরণ মুক্তির পরিচয় ।

    জয় হোক তব জয়।

    মহাশান্তি মহাক্ষেম

    মহাপুণ্য, মহাপ্রেম।” উত্তর আমেরিকার খ্যাতিমান লেখক সোনা কান্তি বড়–য়া বিবিধ গ্রন্থ প্রণেতা এবং কানাডিয়ান বৌদ্ধ পরিষদের জাতিসংঘ প্রতিনিধি।

    Reply
    • প্রদীপ

      মি সোনা কান্তি বড়ুয়া, আপনার লেখা আদ্যপান্থ্য পরে যা বুঝেছি, তা হল আপনার প্রবল সাম্প্রদায়িক বিষদ্গার । হিন্দু দের প্রতি চরম বিষদ্গার করতে গিয়ে আবার অন্য দিকে হেলে পড়লেন দেখছি ? বাবরি মসজিদ নিয়ে আপনার এই প্রলাপ কেন ? সেখানে তো হিন্দু আর মুসলিম ফ্র্যাকশন । মুসলিম ই বা কখন ভারত বিজয় করলো ? কাদের মুখ দিয়ে এসব বলছেন ? মুসলিম রা তো আক্রমণকারী। বিজয় আর আক্রমন কি এক কথা সোনা বাবু ? নালন্দা কারা ধ্বংস করেছে ? কে হাজার হাজার গ্রন্থ পুড়ে ছাই করেছে ? শত শত বৌদ্ধ আচার্য কার হাতে কচু কাটা হয়েছে ? ওদন্তপুর কারা ধ্বংস করেছে ? ভারতের অধিকাংশ বৌদ্ধ স্থাপত্য কাদের হাতে ধ্বংস হয়েছে ? আপনার ক্ষোভ শুধু বৌদ্ধ মন্দির হিন্দুরা দখল করেছে। মুদ্রার দুই পিট আছে। আপনি কাদের ভাষায় কথা বলছেন ।এ রকম বিষবাস্প কত টুকু বৌদ্ধ জনচিত ? আমাদের বৌদ্ধদের মাঝে এখন জঙ্গি পনা ভর করেছে। ভারত রাষ্ট্রের কাছে এসব সকল স্থাপনা যথারিতি ঠিকই আছে। অন্য কোন ধর্মের রাজত্ব হলে তা এতদিনে পাকিস্থানের মতো হতো । আর বৌদ্ধদের হাতে আসলে কি তা সব আরও সুন্দর হতো ? আমি তা বুঝি না। সব সরকারের পুরাকীতি বিভাগের হাতেই থাকুক । বৌদ্ধ দের হাতে আসলে বোধি বৃক্ষের ডাল কেটে বিক্রয় করবে । আজকে থাইল্যান্ডে বুদ্ধ বিহার বাঘ পাচারের কারখানা হয়েছে। আমাদের নিজেদের দেউলিয়া পনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। বুদ্ধের ধর্মের কনা মাত্র আমরা অনুশীলন করছি না। করলে এমন বিষবত বাক্য দিয়ে মানুষের মনে বিষবৃক্ষ রোপণ করার চেষ্টা কেন > ‘বকয়াজ’ মানে কি ? মি সোনা কান্তি ??

      Reply
  15. পঙ্কজ কুমার বড়ুয়া

    প্রথমেই আমি উজ্জল স্যার ‘র প্রত্যুত্তর কে সাধু বাদ জানাই I
    একটি বিষয় আমি কিছু তেই বুঝতে পারছিনা সেটা হলো, বুদ্ধের ত্রি স্মৃতি বিজরিত এই মহান দিনে বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে লেখা র জন্য –
    একজন ভিন্ন ধর্মী লেখক / শিক্ষক কে কেন অনুরোধ করতে হবে সেটা পালি বিভাগের অধ্যাপকদের নিকট আমার প্রথম প্রশ্ন (কারণ উনি বলেছেন পালি বিভাগের অধ্যাপকদের অনুরোধে তিনি এই প্রবন্ধ লিখেছেন ) I তাহলে এই দিনে পালি বিভাগের অধ্যাপকদের ভুমিকা টা কি, শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক গণ তাহলে পালি বিভাগের অধ্যাপনা না করে গরুর গোবর কে কিভাবে উত্কৃষ্ট জালানি হিসেবে জনপ্রিয় করা যায় সে বিষযে গবেষণা শুরু করুন I
    দ্বিতীয় ত, প্রবন্ধের বিষয় বস্তু ‘’বুদ্ধপূর্ণিমায় ধর্মভাবনা: বৌদ্ধরা সব গেল কোথায়’’ এইরকম একটি কটাক্ষ পূর্ণ বিষয় বস্তু কে পালি বিভাগের অধ্যাপক রা নাকি প্রশংসা করেছেন। বৌদ্ধ রা সব কোথায় গেল সেটা লেখক কে জানানো কি খুবই জরুরি ?
    তৃতীয়ত উনি লিখেছেন ‘’আমি যা কিছু বলেছি, কোনও না কোন বইতে পড়েছি বলেই বলেছি’’ এখানে লেখক এত এত বৌদ্ধ স্কলার র প্রকাশনা বাদ দিয়ে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ‘বৌদ্ধধর্ম’ (প্রকাশক: নবযুগ) বই’র সাহায্য নিয়েছেন I – বিষয় টি পাঠক রা বিবেচনা করবেন
    চতুর্থত লেখক লিখেছেন – ‘’আমি যতদূর পারি বুঝিয়েছি। আমার ভুলও হতে পারে। আমিতো আর বুদ্ধ বা সর্বজ্ঞানী নই’’ আপনি নিজেই শিকার করছেন আপনার ভুল হতে পারে আবার যারা আপনার ভুল ধরিয়ে দিচ্ছেন তাদের কেও আপনি চ্যালেঞ্জ করছেনI – ভাব প্রকাশ টি চাতুরতায় পূর্ণ I
    সর্ব শেষ উনি লিখেছেন, ‘’বৌদ্ধধর্মের বিকাশ সম্পর্কে কিছু সাধারণ ধারণা দেয়াই এর কাজ’’ – আসলে এই ধরনের অনুমান নির্ভর, মনগড়া, বিকৃত তথ্য পূর্ণ লেখা পাঠ করে বৌদ্ধধর্মের বিকাশ সম্পর্কে সাধারণ ধারণা না নেওয়াটা ই উত্তম, আমাদের কাছে ধারণা নেয়ার আরো অনেক উত্স আছে I
    ধন্যবাদ I

    Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      আমার লেখাটি বৌদ্ধ পণ্ডিত নয়, সাধারণ মানুষের জন্যে লেখা।বৌদ্ধধর্ম বিষয়ক লেখা বৌদ্ধরাই লিখবে, ভিন্ন ধর্মের কোনো লোকের তাতে অধিকার নেই? এই কি বুদ্ধের বিনয়ের শিক্ষা? হায়!

      Reply
      • সুব্রত বড়ুয়া রিংকু (কুমিল্লা-লাকসাম)

        মিঃ ভট্টাচার্য্য আপনি একজন লেখক হিসেব সর্বাগ্রে আপনার জানা উচিত ছিল যে, আপনার মতই আপনার আরেক সহোদর প্রয়াত হুমায়ুন আহম্মেদ আমাদের বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে মূর্খদের মতই কোন এক মন্তব্য করেছিলেন ঐ মন্তব্যে ওঠে দাঁড়ায় ওনার ধর্ম সম্পর্কে যে কতটুকু জানে তাহা আমাদের সমাজে জানা হয়ে গেছে। একজন কৃষক তার জমিতে কোন ঋতুতে কোন ফসল আসবে সেই একমাত্র ভাল জানেন আর ঐ কৃষককে যদি কোন বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার জন্য পাঠানো হয় তখন ঐ বিদ্যালয়ের ছাত্ররা কিরূপ শিক্ষা পাবে তাহা একমাত্র ঐ ছাত্ররাই জানেন যেমন 20 দুই দশে বিশ না হয়ে বিষ হবে। যেমন আপনাদের মত পন্ডিতদের। এই সব শিক্ষা কোন এক সময় দেশ ও জাতির জন্য মস্ত বড় অভিশাপ হয়ে দাঁড়াবে।

        বৌদ্ধ ধর্ম মতে পাপীকে নয় পাপকে ঘৃনা কর। আপনি আমার লেখার থেসিস না বুঝে হুমকিকে বুঝেছেন ! যাহা আপনার আরেকটি অর্জিত ভঙ্গুর জ্ঞানকে বুঝায়, মিঃ ভট্টাচার্য্য। আপনাকে হুমকি নয় ! আপনিই্ প্রথমে অমার্জিত লেখার মাধ্যমে আমাদের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের হুমকি দিচ্ছেন। আমাদের ধর্ম মানবতার ধর্ম। আপনাদের ধর্মে আছে কোন প্রাণীকে বলি দিতে আর প্রাণী হত্যা করতে।

        বুদ্ধের আদর্শিত ধর্মে এরূপ কোন শিক্ষা নেই তাছাড়া আপনি তো একজন মানুষ আপনি তো কোন প্রাণহীন নয়।

        আপনার মত ভঙ্গুর জ্ঞানকে ধিক্কার জানাই! দয়া করে দেশ ও জাতির কাছে এবং সমগ্র বৌদ্ধ জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিন। এখনই সময় ! আর দয়া করে এই অমার্জিত নিবন্ধটি পোষ্ট থেকে সরিয়ে নিন। তাতেই জাতির অনেক অনেক মঙ্গল হবে। এই লেখার মাধ্যমে সমাজে বিষবাষ্প ছাড়িয়ে দিবন না। তা না হলে অসাম্প্রদায়িক ধর্মীয় উস্কানির জন্য আইনের সহায়তা নিতে বাধ্য হবে।

      • প্রদীপ

        শিশির বাবু র লেখাটা কোন মৌলিক গবেষনা নয় । তাই তাঁর এই লেখার চেষ্টাটার মাঝে ভুল ভ্রান্তি থাকতেই পারে। কিন্তু তা নিয়ে আমাদের অনেকেই যেভাবে তাঁকে সমালোচনা করছেন এবং গেল গেল রবে তাঁর সাথে কলহে লিপ্ত হলেন, তা কতটুকু সুন্দর, সেই প্রশ্ন টা থেকেই যায় । আমরা কেন বুদ্ধ ওন করছি ? আমরা কি বুদ্ধ কে নিয়ে ফান্ডামেন্টালিষ্ট কোন প্রবনতায় ভুগছি ?শিশি্র বাবু কিছু বইয়ের রেফারেন্স দিয়েছেন, তিনি সে সব বই থেকে যদি তা লিখে থাকেন সেটা এমন অমার্জনীয় হতে যাবে কেন ? কারন সে লেখক রা নমষ্য এবং সবার সীমাবদ্ধতা আছে, সেটা মানতে হবে । তিনি যে লিখেছেন, তার জন্যে তাঁকে ধন্যবাদ না জানিয়ে যেভাবে কটু বাক্যের সমাহার দেখছি তাতে মনটা খারাপ হয়ে গেল । আমরা এতে সুখটা নিশ্চিত করলাম না, লেখক কে তাঁর প্রচেষ্টা চালিয়ে নিয়ে তাঁকে বুদ্ধকে অন্তর দিয়ে চেনার জন্যে উতসাহ দিলাম না । প্রথমেই আমি বুঝতে চাই, শিশির বাবু র মাঝে কি সত্যি বুদ্ধ বা বৌদ্ধ দের নিয়ে রেজারবেশন আছে ? তিনি কি বৌদ্ধ বা বুদ্ধের প্রতি প্রতিহিংসা পরায়ন ? আমি তা খুঁজে পাইনি । সে কাজ তিনি করতে যাবেন কেন ? কী উদ্যেশ্য তার ? একজন বাইরের অবজারভার আর একজন ভিতরে বসবাস রত মানুষের চিন্তায় ফারাক থাকবেই । তিনি কিছু সময়ের জন্যে দেখেছেন, কারন তাঁর একটা লেখা ছাপানর তাগিদ আছে। তাঁর ইনস্ট্যান্ট কিছু উপাদান দরকার। স্বল্প সময়ে যা পেয়েছেন তা দিয়ে নিজের মনের মাধুরি আর স্পেকুলেশন দিয়ে একটি লেখা লিখেছেন। এতে এমন অসাধারন প্রমাদ কি করে ঘটল জানি না । আমরা যারা ভিতরে বসবাস করছি, আমরা কি অখন্ড সত্য কে ধারন করছি, সেটাও তলিয়ে দেখার বিষয় । তাই মুক্ত কচ্ছ হয়ে কাউকে একেবারে থামিয়ে দেবার প্রত্যয় টা শুভ ফল বয়ে আনবে না। আমাদের প্রবল বাক্য আর জ্ঞানের ভয়ে আর বুদ্ধ কে নিয়ে কোন আলোচনাই করার সাহস পাবে না। এটা সাঙ্ঘাতিক।এখানে হিন্দু দের সাথে বৌদ্ধ দের যে অতীত সাংঘরষিক চালচিত্র দেখান হয়েছে তাও এক পেশে। সেটা কে টেনে এনে একটা বিষময় বর্তমান তৈরির চেষ্টা তা ও ভয়ংকর। অনেক উস্লিম অইহাসিক বা লেখক রা অহেতুক বৌদ্ধদের কাছে টেনে এনে হিন্দুদের ব্রুদ্ধে তাঁদের ঐতিহাসিক ক্রোধটা সামলেছেন। সেখানে সতকতা আবশ্যক। নাগারজুন, নাগসেন, আসঙ্গ, বুদ্ধ ঘোষ, আমাদের দীপংকর শীলভদ্র এঁরা তো ব্রাম্মন্য ধর্ম থেকেই গেছেন। নাগারজুন কে বুদ্ধের পড়েই স্থান দেয়া হয়। কই কোন হিন্দু কি তাঁদের কে আক্রমন করেছেন তখন ? এসব কিছুই বুদ্ধের মূল ভাবাদর্শের অনুকুল নয় । শিশির বাবু ও আমাদের সবার মতো ভক্তি মার্গে বিচরন করেছেন। নাহলে তিনি কেনই বা এই বিভিন্ন শাখায় ঐতিহাসিক বিভক্তি নিয়ে এমন মন গড়া বা সামান্য কয়েকটি বইয়ের রেফারেন্স দিয়ে এমন ব্যাপক একটা বিষয়কে তুলে ধরবেন ? বুদ্ধ র জীব দ্ধশায় স্থবির বাদ এবং বোধিসত্ববাদ এর গোঁড়া পত্তন হয়, তাঁর দুই প্রধান শিষের মাধ্যমে। বুদ্ধ কি তাতে অসুখি হয়েছিলেন। তা যদি হতেন তাহলে তিনি তো করুনা ঘন বুদ্ধ হতেন না ।আমি যেটা বলতে চাইছি। এই সব ভিন্ন স্কুল অফ থট কোন খারাপ ফল বয়ে আনেনি। এনেছে, জ্ঞান, সুন্দর বৈচিত্র্য, অভূতপূর্ব শ্রদ্ধা । এটাকে কেন আমরা নেতি বাচক হিসেবে তুলে এনেছি ? এটা কোন ভক্তি বাদের ধর্ম নয়, এমন কি কোন ধর্ম ও নয় । বুদ্ধের শিক্ষা কোন সেক্টেরিয়ান , রিচুয়ালিস্টিক কোন বিষয় নয় । ভক্তি অন্ধ, কিন্তু এখানে রয়েছে শ্রদ্ধা, যা ইন্ট্যুইটিভ , রিজন এর সাথে যার ঊঠা বসা। যত বিভক্তি এসেছে সব কিছুর মাঝেই সুন্দর টা নিশ্চিত হয়েছে। না হলে তো আজকে একে অপরের সাথে মারা মারি কাটাকাটি হতো । তা কি হচ্ছে, হয়েছে কোন দিন ?? ইতিহাসের কিছু স্বাভাবিক অনিবার্য তা আছে। বৌদ্ধ স্থাপনা গুলো অনেক এখন হিন্দু মন্দির হিসেবেই পুজিত হচ্ছে। এবং তা অনেক বড় বড় হিন্দু চিন্তাবিদ গবেষক দেরই অনুসন্ধানের ফল। তাতে কী। সেটা নিয়ে কেন আমাদের এতো মানসিক বিবিমিষা ?তুর্কি আক্রমনে তো আরও অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে। শুধু হিন্দুদের উপর যখন অভিযোগ , তখন কি একটি বার চিন্তা করিনা, যে যারা এতো বিশাল কর্ম যজ্ঞ গুলি, নালন্দার মতো পৃথিবীর সর্বপ্রথম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন শুরু করেছিলেন তাঁরা তো বুদ্ধের ধর্মের কাছে নিজেদের সমর্পণ করেছিলেন এমন কি ব্রাম্মন্য ধর্মে থেকেও ।শুধুই কি নালন্দা ? একেকটা মহাকায় শিক্ষা কেন্দ্র গুলোর যারা পৃষ্ট পোষক ছিলেন তাঁরা মুলত কি ছিলেন। এবং যে সব মহা জ্ঞানী বিশ্ব বিশ্রুত আচার্যরা তাতে যোগ দিয়েছিলেম্ন, তাঁরা কোন ধর্ম সংস্কৃতি থেকে এসেছিলেন । তাঁরা এবং এই বিশাল কীর্তি গুলি কি কোন হিন্দু ন্রিপতির আক্রমনের শিকার হয়েছিলেন ???শশাঙ্ক মানে ‘গৌড়ের ভুজঙ্গ’ রক্ত মৃত্তিকা বিশ্ব বিদ্যালয় ধ্বংস করেছিলেন এবং ক্ষতিসাধন করেছিলেন বুদ্ধ গয়া মহাবিহার আর বোধি বৃক্ষের। বৌদ্ধ দের উপর তাঁর নৃশংসতা সত্য কিন্তু মনে হয়েছে এর পিছনে রয়েছে যতটুকু বৌদ্ধ বিদ্ধেষ তাঁর চে বেশি তাঁর সাথে কনৌজের রাজা হরষবরধনের সাথে রেষারেষি। ভারতের কিছু কিছু ইতিহাসে দেখেছি, পরবর্তী তুর্কী আফগান দের কে মহিয়ান করতে গিয়ে হিন্দু আর বৌদ্ধদের মাঝে তিক্ততার অপরিমিত অসত্য ইতিহাস প্রনয়ন করতে । বুদ্ধের ধর্ম অনুশীলনের ধর্ম, সেটা পুজা অরচনার ধর্ম নয়। পুজা সহজ, অনুশীলন কঠিন। মানুষ এখন সহজটাই করে, সেটাই স্বাভাবিক ।পুজা ভক্তির নিদর্শন, অনুশীলন শ্রদ্ধার নিদরশন।পরিশেষে অনুরধ করি, বুদ্ধের সত্যিকারের জীবনী টা খুঁজে যেন পড়া হয়। সেটা আত্মস্থ করতে পারলে তাঁর ধর্ম কে জানা যাবে। অধিকাংশ লেখক তাঁকে দেবতা প্রমানে সচেষ্ট ছিলেন। যা অনাখাঙ্কিত। সর্বশেষ ন্যু ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বিশ্ব বিশ্রুত সাধক, জেন সন্যাসী টিক ণ্যাট হান এর ‘ওল্ড পাথ হোয়াইট ক্লাউড’ বইটি পড়ার অনুরধ রইল । লেখক সুদীর্ঘ সময় ধরে চীন, তিব্বত, সংস্কৃত টেক্সট সব অধ্যয়ন এবং গবেষনা করে এই জীবনীটা লিখেছেন। তা সুখপাঠ্য । ইতিহাস নানা অভিপ্রায়ে সম্রিদ্ধ , নানা অভিসন্ধি নিয়ে নানা জনে ইতিহাস লিখেছেন। তাঁকে বীজ মন্ত্র ধরে কিছু প্রকাশ করা জ্ঞানীর লক্ষন নয় ।এমন কি বুদ্ধের শিক্ষায়ও অনেক কিছু প্রক্ষিপ্ত হয়েছে এই ২৬০০ বছরে। সেটা মেনে নিতে হবে। কোন মতেই যেন মৌল চিন্তা আমাদের মাঝে প্রবিষ্ট নাহয় । বুদ্ধকে সম্যক ভাবে জানলে, তবে কোনটা বুদ্ধের সাথে যায় আর কোনটা যায় না, তা নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কোন কিছু অন্ধ ভাবে মেনে নেবার মানেই বুদ্ধ কেই অসম্মান করার অভিপ্রায় । ভারত বর্ষে ক্রমে বৌদ্ধ আবার বাড়ছে। হাজার হাজার দলিত আনুষ্টানিক ভাবে দীক্ষা নিচ্ছে। কর্তৃপক্ষের তাতে সায় না থাকলে এমন মউল্বাদি কিছু সরকার এর সহজগি থাকতে এটা কোন ভাবেই সম্ভব হতো না। তার একটা স্পেকুলেশন থাকতে পারে যা এখানে অপ্রাসঙ্গিক । এতাই ইতিহাসের মৌন মধুর নিয়তি । কিন্তু বৌদ্ধ বাড়লে বা কমলে লাভ ক্ষতি কি ? এটা তো ব্যক্তির ধর্ম। কোন যোদ্ধা বা যুদ্ধ করে রাজ্য জয়ের ধর্ম নয়।এটা তো বিজয়ের ধর্ম নয়,এটা তো সমর্পণের ধর্ম। তাই এটা নিয়ে কেন আমাদের এমন মানসিক বিবমিষা ?? শিশি বাবু আপনি দয়া করে আরো লিখুন। এই সব প্রতিক্রিয়া যেন আপনাকে আরও নিপ্ন ভাবে লিখতে উতসাহ দেয় । আপনি মনে করবেন না। সব মন্তব্য গুলো সঠিক । আপনার ও সব যেমন সঠিক নয় । কেউ ১০০ ভাগ সঠিক হতেই পারেন না। অসহিষনুতা কে পরোয়া না করে আরও নিপুন এবং সত্যাশ্রয়ী লেখা আশা করছি ।

      • উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

        প্রদীপ বাবুকে বলছি- যে কোন বিষয় নিয়ে লেখালেখি বা গবেষণা করার অধিকার সবারই থাকে কিন্তু তাই বলে একজন তথ্য বিকৃতি ঘটিয়ে গেলে বাকীরা সবাই হাততালি দেবে সেটা আশা করা কতটুকু কাম্য? উদাহরণ স্বরুপ বলতে চাই, আপনি লিখেছেন- বুদ্ধ র জীব দ্ধশায় স্থবির বাদ এবং বোধিসত্ববাদ এর গোঁড়া পত্তন হয়, তাঁর দুই প্রধান শিষের মাধ্যমে। বুদ্ধ কি তাতে অসুখি হয়েছিলেন।….. আপনাকে বলতে চাই আপনিও ভুল একটা তথ্যই এখানে দিলেন বুদ্ধের সময়ে স্থবিরবাদ এবং বোধিসত্ববাদের গোড়া পত্তন হয় নি। আপনি একটা নয় দশটা বই পড়ুন আপনার কথা ভুল-ই প্রমাণিত হবে। আচ্ছা আপনারা এরকম বিভ্রান্তকর তথ্য দিয়ে কিছু লিখবেন আর আমরা বাহ, বেশ, খুব সুন্দর এমনটা বললেই বুঝি উপযুক্ত জবাব দেওয়া হয় তাই না!!! যেমনটি আপনি সাফাই গেয়ে গেলেন তথ্য বিকৃতিতে ভরপুর এক লেখা নিয়ে। কোন বিষয়ে একটি প্রবন্ধ লেখা যায়, গবেষণা করা যায়…কিন্তু একের পর এক তথ্য বিকৃতি ঘটালে তা মানা যায় না। শিশির বাবু যেসব বইয়ের রেফারেন্স দিয়েছেন সেসব বইয়ের কথাগুলোরও বিকৃতি সাধন করেছেন, যা স্পষ্ট করে দেখিয়েই দিয়েছি। দুঃখ প্রকাশ করছি আপনার মত করে বাহ, বেশ, খুব সুন্দর এই জাতীয় মন্তব্য করতে পারলাম না বলে।

  16. সুমন বড়ুয়া রাজ

    স্বধর্মের প্রতি আপনার মোটেই শ্রদ্ধা বোধ নেই! নাকি জাতীয় ধর্ম…….বাস্তবায়ন করার পক্ষে নিয়েছেন।

    Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      জাতীয় ধর্ম কোনটা? বুঝিয়ে বলবেন? এ ধরনের কথা কি বুদ্ধের বিনয়ের সাথে যায়?

      Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      প্রদীপের মন্তব্যগুলো পড়ে মনে শান্তি পেলাম। ধন্যবাদ। সম্যক চিন্তা, সম্যক বাক… বুদ্ধচিন্তার জয় হোক!

      Reply
      • প্রদীপ

        শিশির, ভাই, আপনি ডরিয়েন না। লিখে যান। বুদ্ধ কারো তালুক নন। বুদ্ধ আপনার আমার সবার। তথ্য আর তত্ব কোন সময় একশ ভাগ সঠিক হয়না। এর ভিতর থেকেই সত্যটা ছেঁকে নিতে হবে। দীর্ঘ চঞ্চু র পাখী যেমন ফুলের গভীর থেকে মধু তুলে আনে, সেভাবে সত্যকে তুলে আনতে হবে প্রখর অনুসন্দিতসার ভিতর দিয়ে । এটা আমার কথা নয় – বুদ্ধের। সাথে আছি।

    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      প্রদীপের মন্তব্যগুলো পড়ে মনে শান্তি পেলাম। সম্যক চিন্তা, সম্যক বাক… বুদ্ধচিন্তার জয় হোক!

      Reply
  17. সুজিত তালুকদার

    একজন লেখক বলে ধৃষ্টতা দেখানো তো শোভা পায় না। বেৌদ্ধ দর্শন সম্পর্কে কিংবা ইতিহাস সম্পর্কে সম্যক ধারণা না থাকলে যেনতেন ভাবে একটা লেখা উপস্থাপন করা তো পাঠক সমাজের গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এ লেখা সম্পর্কে অনেকেই নানাভাবে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। এখানে তো বিষয়টি উপলব্ধির বিষয়মাত্র। সেই উপলব্ধির জায়গাতে লেখকের ঘাটতি রয়েছে বৈকি। আমি লেখকের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে বলতে চাই, আপনি নিজের অজ্ঞতা বা ভুলগুলো স্বীকার করুন। তা না হলে এভাবে আরো অনেকের প্রশ্নের মুখাপেক্ষী হতে হবে আপনাকে।

    Reply
    • সুব্রত বড়ুয়া রিংকু (কুমিল্লা-লাকসাম)

      শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলে যে ওনি সব ধর্মের জ্ঞানী হয়ে যাবেন তাহা কিন্তু নয়, মি ভট্টাচার্য্য ! আপনার উচিত ছিল ভাল করে জ্ঞান আহরন করে তারপর পাঠকের কাছে তুলে ধরা তাহা আবার অন্য অন্য ধর্মাবলম্বী বিষয় নিয়ে। আপনি যাহা করেছেন তাতে আমার লজ্ঝা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আপানাকে সম্বোধন করতে ! আমি মনে করি আপনার অনেক শিখার আছে সাধরণ একজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে, মি: ভট্টাচার্য্য। বৌদ্ধ ধর্ম এমন একটি ধর্ম যাহা অতি প্রাচীন ধর্ম । মহাকারুণিক সম্যকসম্বুদ্ধ তথাগত বুদ্ধের আগে মনে হয় না অন্য কোন ধর্মের প্রবর্তক বা মহামানব পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছেন। দয়া করে বুদ্ধের জীবন ও বানী অথবা দর্শনশাস্ত্র ভাল ও মনোযোগ সহকারে পড়ুন এমন পড়া পড়বেন না যাহা না বুঝে মন্তব্য করে প্রয়াত হুমায়ুন আহমেদের মত হয়ে যাবেন না।

      Reply
      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        হুমকি দিচ্ছেন, তাইতো?

    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      সব প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে।

      Reply
      • সুব্রত বড়ুয়া রিংকু (কুমিল্লা-লাকসাম)

        কিভাবে দিচ্ছেন?
        6÷ 3 + 19+20 – 9×5 + ( 2 ÷ 2 ) -1

    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      এই লেখার প্রধান প্রতিপাদ্য বৌদ্ধরা কেন ভারতবর্ষ থেকে প্রায় হারিয়ে গেল, যেখানে তারাই ছিল প্রায় সংখ্যাগুরু। এ ব্যাপারটা এ লেখায় মোটামুটিভাবে ফুটে উঠেছে। অন্য যে বিষয়গুলো নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবশ্যই, কিন্তু এ লেখার জন্যে নয়।

      Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      ভারতবর্ষ থেকে বৌদ্ধরা কেন হারিয়ে গেল – এই প্রশ্নের উত্তর আমি যেভাবে দিতে চেষ্টা করেছি তাতে কোনো ভুল আছে কিনা দেখুন। তথ্যের কিছু ভুল থাকতেই পারে। কিন্তু সেই ভুলের জন্য মূল প্রতিপাদ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা দেখুন।

      Reply
      • প্রদীপ

        শিশির বাবু,হারিয়ে গেছে – এই প্রতিপাদ্যটাই ভ্রমাত্বক । আপনি আপনার লেখাতে অতীতে অবস্থান করছেন। সেটা যে এখন আবার ফিরে পেতে চলেছে, সেই প্রতীতি কি আপনার হয় না > তাহলে এই যে ‘ গেছে’ উপসঙ্ঘারের সাথে আমি একমত নই ।মানুষ গুলো হারিয়ে গেছে, কিন্তু অবস্থানের রিয়ালিটি টা হারিয়ে যায় নি। তাঁর প্রমান বর্তমান ।পশ্চিম বঙ্গ ছাড়া ভারতের অন্য অনেক জায়গায় আত ক্রমবর্ধমান। কে জানে, এমন সময় আসবে , একটা মিথস্ক্রিয়ায় আবার বুদ্ধের ধর্মের পুনরুথান ঘটতে পারে ?? কিছু উপাদান তো আছেই, তা বিশদ বলার জায়গা এটা নয় । ‘গেল’ ‘ গেছে’ এই শব্দ বন্দ গুলো একটা উপসঙ্ঘার নির্দেশ করে যা মঠেই বৈজ্ঞানিক নয় । আপনার কাছে বৌদ্ধ তাঁরাই, যারা বিহারে যান, পুজা অর্চনা করেন। আর যারা এসব না করে বুদ্ধের প্রতি সমর্পিত, যারা নামে নয় , যারা সঙ্ঘবদ্ধ নয়, যারা তাঁদের অনুশীলনে, চিন্তায় বৌদ্ধ তাঁদের উপর আপনার কোন নিয়ন্ত্রন নেই। আপনি শুধু কিছি রেফারেন্সে এর জন্যে বই পড়েছেন, কিন্তু অন্তর দিয়ে হয়তো বিষয়টাকে আনালাইসিস করেন নি সময়ের এবং আত্মুনুশীলনের অভাবে। আসলে কোন কিছুকে ভালবেসে তাঁকে জানা আর ক্রিটিক এর দৃষ্টিতে জানার মাঝে পার্থক্য থাকবেই । সেটা আপনার ক্ষেরে ঘটতেই পারে। এটা মোটেই দোষের কিছু না।

  18. Sapan Kumar Barua

    Professor Sishir Bhattacharya in his article mentioned that Bangladesh Buddhist people, not residing in a country other than Chittagong. This is wrong, I affirm their false. I myself live in the city of Lucknow in India and have been informed you that many Buddhist people by travel back to India’s cities. You say that by writing you find an told them to limited community of the scope of the nation .

    Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      আপনি ইংরেজি শিখে তারপর লেখার চেষ্টা করুন।

      Reply
      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        Learn how to write in correct English and then try to write!

  19. ডি সি মিশন

    উপরের কমেন্ট অনুসারে,
    বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মস্তক মুণ্ডিত এবং মুখমণ্ডল ক্ষৌরিকৃত হবার একটি কারণ হয়তো এই যে উষ্ণ কিন্তু জলীয় বাষ্পবহুল বাংলা-বিহার অঞ্চলে বৌদ্ধধর্মের সূচনা।
    বুদ্ধ চুলকে অশুচি বলেন।তাই চুল কর্তন ভাবনার অন্তর্ভুক্ত।এখানে প্রাকৃতিক কোন কারণ প্রাধান্য পায় না।ইউরোপের শীত প্রধান দেশে থেরবাদী ভিক্খু সংঘ যারা বৌদ্ধ ধর্ম অনুশীলন-প্রচার করছেন তারা ও মুণ্ডিত মস্তকধারী। আবার মার্গ – ফল লাভ করার পর এ চুল পূজার পাত্র হিসেবে পূজিত হয়। বুদ্ধের সময় তিনটি ঋতু ছিল তবু ও বুদ্ধ সংঘে অন্তরভুক্তির জন্য ত্রিচীবরের(অষ্ট উপাদান) অনুমোদন দিয়েছেন।এখানে প্রাকৃতিক কারণ অগৌণ।

    Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      মস্তকমুণ্ডনের ব্যাপারে বুদ্ধের নিজের যুক্তি অবশ্যই ছিল। তার মানে এই নয় যে আমি আমার কোনো হাইপোথিসিস প্রকাশ করবো না।

      Reply
  20. সু্ব্রত বরণ বড়ুয়া

    লেখক তার লেখায় বৌদ্ধদের ধর্ম-দর্শন সম্পর্কে মনগড়া কথা বলেছেন। তার লেখায় যে অনুমাননির্ভর অথচ আক্রমণাত্মক বিষয় প্রকাশ পেয়েছে তা নি‌সন্দেহে বুঝা যায়। তা না হলে তিনি কেন বারবার ভুল স্বীকার না করে অবিরত নানাজনের মতামতের জবাব দিয়ে যাচ্ছেন, যার কোন সুনির্দিষ্ট ভিত্তি নেই। আমি মনে করি, উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসুর ১৩টি বিষয়ের যুক্তির সাথে লেখক যদি নিজেকে মেলান, তাহলে আর কোন বিতর্ক থাকতে পারে না।

    Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      এই লেখায় বৌদ্ধধর্মের প্রতি কোন আক্রমণাত্মক বিষয়টি আছে দেখান। কিছু তথ্যের ভুল থাকতেই পারে। লেখার মূল বিষয়কে কি সেই ভুলগুলো ব্যহত করছে?

      Reply
      • উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

        মূল বিষয় কি আদৌ আপনি বুঝেন? আপনার মূল বিষয় যদি হয় যে….বৌদ্ধরা সব কোথায় গেল… তবে সেই ক্ষেত্রেও আপনি ব্যর্থ হয়েছেন, আপনি বৌদ্ধদের ভারতবর্ষের কেবল চট্টগ্রামেই খুজে পেয়েছেন। অাবার এটা লেখা ঠিক হয়নি বলেও স্বীকার করেছেন। অতএব, আপনার বিডিনিউজ কর্তৃপক্ষকে বলা উচিত পুরো প্রবন্ধটাই যেন এখান থেকে মুছে ফেলা হয়।

  21. শ্যামল চেৌধুরী

    বুড্ডিজম নিয়ে লেখক জানেন? মনে তো হয় না। যেটা বুঝলাম, লেখক শুধু ফরমায়েশি মনোভাব নিয়ে লেখাটি লিখেছেন নয়তো মহামানব বুদ্ধ বা বুড্ডিজম-কে খাটো করার জন্য লিখেছেন। ১মটি হলে বলবো ঠিক আছে, তবে পরের কারণটি হলে বলবো….লেখকের বুড্ডিজম সম্পর্কে খুব একটা ধারণাই নেই। আর একটা কথা হলো…তিনি কে যে, আগেভাবে বললেন, এদেশের কোথায় বেৌদ্ধরা থাকবে কি থাকবে না।? বিশ্লেষণ করতে গেলে অনেক কথা লিখতে হয়। তবে লেখকের উচিত ছিল শুধুমাত্র সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য লিখে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না দেয়া। এ লেখার বিস্তারিত ব্যাখ্যা উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসুর ১৩টি বিশ্লেষণের মধ্যে মূর্ত হয়ে উঠেছে। আমি মনে করে এটাই যথেষ্ট যুক্তি। একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হয়ে লেখকের ভাবা উচিত ছিল এ ধরনের মনগড়া লেখা প্রকাশ না করা। আগে বুড্ডিজমকে জানুন, তারপুর লিখুন। নয়তো পাঠকসমাজের কাছে আপনি বারবার নিন্দিত-ধিকৃত হবেন।

    Reply
  22. সৈকত মিত্র বড়ুয়া

    বৌদ্ধ ধর্ম হল মাঝি বিহীন নৌকা, যাত্রা কোথা হতে শেষ কোথায় হবে কেউ জানে না। সর্ব প্রথমে লেখকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলতে চাই, লিখাতে অবশ্যয় আপনি মনগড়া কথা লিখেছেন, যার সাথে বৌদ্ধ ধর্মের কোন সম্পর্ক নাই। সবাই তো কম বেশি আলোচনা করল, এবার আমিও কিছু উপস্থাপন করব। সর্ব প্রথমে বলে রাখি, লেখক আপনি লিখেছেন, (মৌর্যসম্রাট অশোক তাঁর পুত্র (মতান্তরে ভাই) মহেন্দ্রকে সিংহলে (বর্তমান নাম ‘শ্রীলঙ্কা’) পাঠিয়েছিলেন বৌদ্ধধর্ম প্রচারে। মহেন্দ্র সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন বুদ্ধগয়ার বোধিবৃক্ষের একটি শাখা)

    -আপনার হয়তো অজানা আছে, সম্রাট অশোকের পুত্র মহেন্দ্র স্থবির নন, সম্রাট অশোকের একমাত্র মেয়ে সংঘমিত্রা থেরী সিংহলে বর্তমানের শ্রীলংকাতে বোধিবৃক্ষের একটি শাখা নিয়ে গিয়েছিলেন। এবং তখনকার সিংহলী রাজা “দেবানাম প্রিয়তিস্সা”র হাতে দান করেন। বর্তমানে শ্রীলংকার অনুরাধাপুরে বোধিবৃক্ষের শাখাটা পূজিত হয়ে আসছে।

    হিন্দুরা বুদ্ধকে অবতার হিসেবে জানেন। তাই মহাকরুণিক তথাগত বুদ্ধকে বুদ্ধদেব বলে অাখ্যায়িত করে থাকেন। আপনি একজন শিক্ষিত মানুষ, তারপরেও ধর্মান্ধতা হতে বার হয়ে আসতে পারেন নাই। বুদ্ধকে বুদ্ধ না বলে বলতেছেন বুদ্ধদেব!

    যারা বুদ্ধকে বুদ্ধ নয় দেবতা হিসেবে জানেন তাদের জানা উচিত। জেতবন বড়ুয়ার বুদ্ধ কি মানুষ নাকী দেবতা‬ ? লিখাটা মনযোগ দিয়ে পড়ুন। জানতে পারবেন বিস্তারিত।

    বর্তমান সময়ে বুদ্ধকে যে যার মত করে মনে করার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় ।যারা বস্তুবাদী বা নাস্তিক তারা বুদ্ধকে একজন মানুষ বা দার্শনিক (প্লেটো ,সক্রেটিসদের মত) বলে মনে করে থাকেন মাত্র ,এতেই তারা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন ।আবার অনেকেই বুদ্ধকে দেবতা মনে করেন ,যেমন অন্যধর্মগুলোর সৃষ্টিকর্তার মত ।কিন্তু বুদ্ধ আসলে কী ?এর একটি সুন্দর তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাখ্যা আছে ত্রিপিটকের অঙ্গুত্তর নিকায়ের ‘ধন ব্রাহ্মণ সূত্রে’ ।

    একসময় মহাকারুণিক ভগবান বুদ্ধ হেঁটে যাচ্ছিলেন ,সেই সময়ে জনৈক ধন ব্রাহ্মণ বুদ্ধ যেই পথে হাঁটছিলেন সেই পথ ধরেই হাঁটছিলেন। তিনি বুদ্ধের চলা পথের উপর সৃষ্ট বুদ্ধের পদচিহ্ন দেখে অবাক বিস্ময়ে বিস্ময়াভিভূত হয়ে পড়েন যেহেতু এরকম নানান চক্র বিশিষ্ট পদচিহ্ন এর আগে কখনো দেখেননি ।পরবর্তীতে সেই ব্রাহ্মণ বুদ্ধকে প্রশ্ন করলেন এই বলে যে – আপনি কী দেবতা ?উত্তরে বুদ্ধ বললেন ‘না’ ।পুনরায় ক্রমান্বয়ে জানতে চাইলেন তবে কী আপনি যক্ষ নাকী গন্ধর্ব ? প্রতিবারেই বুদ্ধের একই উত্তর ‘না ‘ । এমনকি যখন ব্রাহ্মণ জানতে চাইলেন তবে কী আপনি মানুষ ?তখনো বুদ্ধ তা পুরোপুরি অস্বীকার করে বললেন, না আমি মানুষ ও নই ।ব্রাহ্মণের প্রশ্ন তবে আপনি কী ?তখন বুদ্ধ বললেন আমি দেবতা ও না ,মানুষ ও না ,যক্ষ ,গন্ধর্ব ও না ,”আমি হলাম বুদ্ধ” ।এখানে বুদ্ধ নিজে কী তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ।বুদ্ধই বলেছেন আমি ‪#‎বুদ্ধ‬ ।মানুষ ও না দেবতা ও না ।

    আসলে আমরা সাধারণ মানুষরা বুদ্ধকে নিয়ে সংশয়ে যেহেতু বুদ্ধের গুণ আসলে কী তা জানি না ,চিনি ও না এবং বুঝিও না ।যদি কিঞ্চিৎ‍ পরিমাণেও জানতাম বা বুঝতাম তবে বুদ্ধকে দেবতা বা মানুষ হিসাবে ভাবতে পারতাম না । এই ধন ব্রাহ্মণ সূত্রেই বুদ্ধ ও আরো পরিষ্কার করে বললেন ,পদ্মফুল যেমন কাঁদা মাটিতে জন্মায় এবং পানিতে থাকে তথাপি পদ্মফুল তার গায়ে কাঁদা কিংবা পানি কিছুই রাখেনা ।তদ্রুপ যদিও বুদ্ধের জন্ম লোভ ,দ্বেষ ,মোহযুক্ত মনুষ্যভূমিতে কিন্তু বুদ্ধ তা সম্পূর্ণরূপেই গয়ার বোধিদ্রুমমূলে বুদ্ধত্ত লাভের মাধ্যামে ত্যাগ করেছেন ।হয়েছেন বুদ্ধ ।তিনি এখন আর দেবতা ও নন মানুষ ও নন ।আসলে আমরা পৃথকজন মানুষ বুদ্ধকে পুরাপুরি কোনোদিন ও চিনব না ।কারণ বুদ্ধ নিজেই একসমময় সারিপুত্র ভান্তেকে বলেছিলেন এই বিষয়ে যখন কিনা সারিপুত্র ভান্তে বুদ্ধের গুণের প্রতি শ্রদ্ধাযুক্তহয়ে বুদ্ধকে বললেন যে বুদ্ধ আপনাকে আমি চিনতে পেরেছি তখন বুদ্ধ ঈষৎ্‍ হেসে বললেন ,সারিপুত্র তুমিও আমাকে চিনোনি ,চিনতে পারবেনা ,যতটুকু চিনেছ তা কেবল তোমার অগ্রমহাপশ্রাবক জ্ঞানে ।

    প্রকৃতপক্ষে আমাকে চিনতে হলে আরেকজন বুদ্ধ লাগবে ।অর্থাৎ একজন সম্যকসম্বুদ্ধকে পরিপূর্ণরূপে চিনতে পারেন কেবল আরেকজন সম্যকসম্বুদ্ধ ।দেখুন যেই অগ্রমহাশ্রাবক সারিপুত্র ছিলেন বুদ্ধের ডানহাত যিনি কিনা এক কল্পধরে বৃষ্টি হলে, সেই বৃষ্টির কত ফোঁটা জলে আর কতটুকু স্থলে পড়েছে তা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বলে দিতে পারতেন , সেই অতুলনীয় জ্ঞানসম্পন্ন সারিপুত্র ভান্তেই বুদ্ধকে পুরোপুরি চিনতে পারেননা সেখানে আমরা পৃথকজনরা বুদ্ধকে চিনবো তা ভাবাটা সত্যিই দুষ্কর ।বুদ্ধকে যদি আমরা চিনতাম, বুদ্ধের গুণ যদি বুঝতাম কিঞ্চিৎ ্‍হলেও তবে আমাদের চোখে জল চলে আসতে বাধ্য হত । ইনিই সেই মহাকারুণিক সম্যকসম্বুদ্ধ যিনি চাইলেই সুমেধ তাপস জন্মে দীপঙ্কর বুদ্ধের সময়েই অরহত্ত মার্গফলে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সমস্ত দুঃখ হতে নিজেক মুক্ত করতে পারতেন ।অথচ তিনি আমাদের মত দুঃখী সত্তের দুঃখ নিবারণ কল্পে ,নিজে দুঃখকে বরণ করে নিলেন ।বোধিসত্তাবস্থায় পারমীপূরণ করতে গিয়ে আকাশের তারকারাজির চাইতে অধিক সংখ্যক চোখ দান করলেন ।এভাবে অগণিতবার নিজের শরীর দান ,অঙ্গ দান করে পারমীপূরণ করে হয়েছেন সম্যকসম্বুদ্ধ ।তা তো কেবলি জগতের কল্যাণের জন্যই ।বুদ্ধের মহাকারুনিকতা চিন্তা করলে সত্যিই চোখে জল এসে যায় ।বর্তমানে বস্তুবাদী বা নাস্তিকরা বুদ্ধকে একজন মানুষ ছাড়া অন্যকিছু ভাবতে নারাজ ।অথচ বুদ্ধ ই বলেছেন আমি বুদ্ধ। এমনকি বুদ্ধের জন্মের সময়েই বুদ্ধ ছোট্ট সিদ্ধার্থ অবস্থায় আঙুল উচিয়ে ঘোষণা করেছিলেন যে আমিই জৈষ্ঠ ,আমিই শ্রেষ্ঠ ।

    প্রকৃতপক্ষে বুদ্ধকে মানুষ বা দেবতা বলে আমরা বুদ্ধকে ছোট করে দিচ্ছি। বুদ্ধকে লোভ , দ্বেষ , মোহযুক্ত সত্ত বানিয়ে দিচ্ছি ।অথচ বুদ্ধ গয়ার বোধিদ্রুমমূলেই সমস্ত ক্লেশ ধ্বংস করে লোভ ,দ্বেেষ , মোহমুক্ত হয়েছেন ,হয়েছেন ত্রিলোকপূজ্য ত্রিলোকশ্রেষ্ঠ বুদ্ধ ।বুদ্ধের বুদ্ধত্ত লাভের কথা বাদ ই দিলাম ।বুদ্ধত্ত লাভের পূর্বেই তাঁর ৩২ প্রকার মহাপুরূষ লক্ষণ এবং ৮০প্রকার অনুব্যঞ্জন ছিল ,যা দেখেও নিশ্চিত বলা যায় যে উনি দেবতা ও না মানুষ ও না বা তার চাইতে বেশি কিছু ।

    ধন্যবাদ সবাইকে।

    Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      আমি পড়েছি, মহেন্দ্র ও সঙ্ঘমিত্র দুজনেই সিংহল গিয়েছিলেন।

      Reply
  23. সুব্রত বড়ুয়া রিংকু (কুমিল্লা-লাকসাম)

    সামান্য কিছু বই পড়ে বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে জানা শুধু বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়। আপনি বোধ হয় কতিপয় অসাধু লেখকদের বই পড়ে মনে করেছেন বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে অনেক জ্ঞানী হয়ে গেছেন , আসলে তাহা নিতান্তই মস্ত বড় ভুল !

    সাজেস্ট করব আমাদের পবিত্র ত্রিপিটক ভাল করে পড়তে ও বুঝতে। কোন কতিপয় লেখকদের বই না পড়তে ! যেমন আপনার মত !

    Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, বিপ্রদাশ বড়ুয়া অসাধু লেখক হলে আমার কিছু করার নেই।

      Reply
      • সুব্রত বড়ুয়া রিংকু (কুমিল্লা-লাকসাম)

        মিঃ ভট্টাচর্য্য ! ফার্মেসীতে নানা ধরনের ওষুধ পাওয়া যায় তাই না! কোন এক রোগে আপনার কি উচিত হবে ফার্মেসী থেকে পয়জন লেখা ভায়েলটি কিনে এর সবটুকু ওষুধ খেয়ে ফেলা।

      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        শাস্ত্রী ও বড়ুয়া পয়জন হলে আমার কিছু করার নেই। আমি তঁাদের কথার পুনরাবৃত্তি করেছি মাত্র।

      • সুব্রত বড়ুয়া রিংকু (কুমিল্লা-লাকসাম)

        মিঃ ভট্টাচার্য্য জেনে রাখুন শুধুমাত্র কোট-টাই পড়লেই উকিল/এডভোকেট হয় না কখনও কখনও কোকিল হয়ে যায়!!!!!! হা হা হা

      • সুব্রত বড়ুয়া রিংকু (কুমিল্লা-লাকসাম)

        শাস্ত্রী ও বড়ুয়াকে পয়জন না বলে আপনি একজন পয়জনিষ্ট হয়ে গেছেন !!!

        আপনি একজন শিক্ষক হয়ে আপনাকে বলতে আর দ্বিধা নেই যে আপনার উপদেষ্ঠারা শাস্ত্রী আর বড়ুয়া যদি ভুলে পায়খানাকে কথ্য ভাষায় গু লিখে তাতে আপনিও কি গু লিখে পাঠকদের সামনে তুলে ধরবেন? এইটাই কি আপনার শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব?

    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      আমি কোথাও বলিনি আমি জ্ঞানী হয়ে গেছি। আমি জানতে চেয়েছি, বৌদ্ধরা কেন ভারতবর্ষ থেকে হারিয়ে গেল। যা জেনেছি তা প্রবন্ধে বলেছি। এখানে মনগড়া কোনো কথা নেই। কোন বইয়ে কী পেয়েছি, তার রেফারেন্স দিয়েছি। ত্রিপিটক পড়ার মতো জ্ঞান, সময় ও অবসর আমার আপাতত নেই। আমি বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে গবেষণাও করতে বসিনি। একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সাধারণ দুই একটা বই পড়েছি। এটা পপুলার প্রবন্ধ। গবেষণামূলক প্রবন্ধ নয়।

      Reply
  24. এম এ মুরশিদ

    বাংলা ও ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাস পড়তে গিয়ে বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে কিছু পড়েছি। এতটুকুই। নিবন্ধটির তথ্য বা বিশ্লেষণ নিয়ে কিছু বলছি না। তবে লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে, লেখক আক্রান্ত হয়েছেন, মন্তব্যকারীদের কেউ বলেছেন, বৌদ্ধধর্ম সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। জনাব উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু যুক্তি খন্ডন করতে গিয়ে লেখকের ধর্মসম্প্রদায় সম্পর্কে সাম্প্রদায়িক আক্রমন করেছেন। তার সকল যুক্তিখন্ডনের সূত্র হিসেবে বলেছেন ত্রিপিটক বা অন্যন্য বৌদ্ধধর্মীয় গ্রন্থ। সমস্যাটা হলো তিনিও সেইসব মানুষের দলেই যারা ভাবে সব আছে বেদে কিংবা কোরানই সকল জ্ঞানের উৎস।
    লেখককে ধন্যবাদ লেখাটির জন্য।

    Reply
    • উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

      লেখকের ধর্মসম্প্রদায় যে বারে বারে বৌদ্ধদের আক্রমণ করেছেন সেটা লেখক নিজেই লিখেছেন। বুদ্ধ নীরব ছিলেন বলে লেখক মিথ্যাচার করেছেন, তাই বুদ্ধ যে নীরব ছিলেন না কোথায় কি বলেছেন তা ত্রিপিটকের তথ্য উৎস সহকারে দিয়েছি। লেখক যে িইতিহাস বিকৃতি করেছেন তাও সুনির্দিষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে। এমনকি না জেনে কেবলমাত্র চট্টগ্রামে বৌদ্ধ আছে বলে মনগড়া কথা বলেছেন। এরকম সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলোই তুলে ধরা হয়েছে। লেখকের সাথে কারো ব্যক্তিগত শত্রুতা নাই তাই তাকে আক্রমণের প্রশ্নই আসেনা। অপেক্ষায় রইলাম লেখকের প্রত্যুত্তরের।

      Reply
      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        দেবদত্তের আত্মা এখনও ঘুড়ে বেড়াচ্ছে পৃথিবীতে। ভর করছে এর ওর উপর। বিনয়, ধর্ম, মার্গ… এদের কাছে কথার কথা। মুখে বলে, আচরণে প্রকাশ পায় না।

      • উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

        একদম সত্যি কথা, এই দেবদত্তরাই তো বুদ্ধকে অজ্ঞ হিসেবে প্রমাণের চেষ্টায় এখনো রত আছেন। যে হারে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বুদ্ধ নীরব ছিলেন বলে নির্লজ্জ মিথ্যাচার করেছেন সেই সব ভন্ডরা ধরা পড়ার পরও কোন মুখে যে কথা বলে সেটাই তো বুঝতে পারছিনা। দেবদত্তরা কোন কালেই জিততে পারেনি এখনো পারবে না।

      • প্রদীপ

        উজ্জ্বল বাবু, আমি দশ পাঁচটা বই এর রেফ দিলেও প্রমান হবে না যে বুদ্ধের সময়ে এই চিন্তার উন্মেশ ঘটেনি । বাহ এই তো বিবলিওফাইল মানুষের বচন । এ ধরনের মনোভাব নিয়ে এ রকম জ্ঞান গর্ব বিষয়ে কথা বলছেন এখানে, তাও বুদ্ধ কে নিয়ে ? এ রকম প্রি অকুপাইড হয়ে কোন বৌদ্ধ যে থাকতে পারেন, এবং তিনি সত্যিকারের বুদ্ধকে বা তাঁর শিক্ষাকে ধারন করেন, তা আমার ধারনার ও বাইরে ছিল। আপনি তো কোন রেফারেন্সে কেই গ্রহন করবেন না, তাই না ? আপনার জ্ঞান নিয়ে আপনি এতি নিশ্চিত ? তাহলে কেন বৃথা সময় নষ্ট এখানে ??

      • উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

        প্রদীপ বাবু, চোরের মার বড় গলা কথা গুলো মনে হয় আপনার মতো মানুষদের জন্যই তৈরী। আপনি ইতিহাস বিকৃতি করলেন সেটা বড় কথা নয়, যখন-ই আমি ধরিয়ে দিলাম তখন-ই আপনি আমার সত্যিকারের বুদ্ধের শিক্ষা ধারণ করা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। সত্যি বড়ই লজ্জাজনক।

        আপনি লিখেছেন-আপনি তো কোন রেফারেন্সে কেই গ্রহন করবেন না, তাই না ? আপনাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বললাম আপনি মাত্র তিনটা বইতে প্রমাণ দেখান যে- বুদ্ধের জীবদ্ধশায় স্থবির বাদ এবং বোধিসত্ববাদ এর গোঁড়া পত্তন হয়, তাঁর দুই প্রধান শিষের মাধ্যমে। যা আপনি লিখেছেন। যদি পাড়েন সবার কাছে ওপেন ওয়ালে ক্ষমা চাইবো। আপনি যে, মিথ্যা, বানোয়াট তথ্য দিয়েছেন তা আমি ০৫ টা বইয়ের রেফারেন্স দিয়ে প্রমাণ করে দিতে পারবো।

        যেদিন পারবেন রেফারেন্স সহকারে আপনার কথা প্রমাণ করতে সেদিন লিখতে আসবেন। নতুবা অহেতুক তর্কাতর্কি করতে আসবেন না। আপনি কতই সুন্দর মনের অধিকারী, জ্ঞানী ব্যক্তি তা তো আপনার লিখিত সুন্দর কথা গুলো থেকেই বুঝা যায়। বৃথা সময় নষ্ট করার সময় আমার নাই। তাই বলে যারা দু লাইন পড়ে মহাজ্ঞানী সাজতে চায়, ইতিহাস বিকৃত করে তাদের ছেড়ে দেওয়ার পাত্রও নই।

      • উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

        প্রদীপ বাবু, প্রি-অকুপাইড তারাই হতে পারে/ করতে পারে যারা আসলেই বিবলিওফাইল মানুষ।
        ১. বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত – পালি সাহিত্যের ইতিহাস – রবীন্দ্র বিজয় বড়ুয়া – পৃষ্ঠা নং- ৩৩৭
        ২. ভারতে বৌদ্ধ ধর্মের উত্থান পতন- মহাপন্ডিত রাহুল সাংকৃত্যায়ন বিরচিত – পৃষ্ঠা নং -০৩
        ৩. মহাযান বৌদ্ধ ধর্ম দর্শন – অধ্যাপক শীলাচার শাস্ত্রী – ভূমিকা পৃষ্ঠা নং -২৪, নিকায় বিভাগ পৃষ্ঠা নং – ১২
        ৪. গৌতম বুদ্ধ – জ্যোতি বিকাশ বড়ুয়া -পৃষ্ঠা নং -১১৫
        ৫. সদ্ধর্ম রত্নাকর – সম্পাদনায় প্রজ্ঞাবংশ মহাথের পৃষ্ঠা নং- ৩৫৬
        এই বইগুলোর উল্লেখিত পৃষ্ঠা গুলো যে কেউ পড়ে দেখুন, স্পষ্ট উল্লেখ পাবেন স্থবিরবাদ (হীনযান) ও বোধিসত্ত্ববাদ (মহাযান) এর উৎপত্তি বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের ১০০ বছরেরও অধিক পরে। কলেবর বৃদ্ধির ভয়ে আরো বইয়ের রেফারেন্স দিলাম না।

        অথচ আপনার মত ব্যক্তিরা ইতিহাস বিকৃতি করে লিখেন- বুদ্ধের জীবদ্ধশায় স্থবির বাদ এবং বোধিসত্ববাদ এর গোঁড়া পত্তন হয়, তাঁর দুই প্রধান শিষের মাধ্যমে।
        অতএব, প্রদীপ বাবু সবজান্তা সাজতে গিয়ে ইতিহাস বিকৃতি করতে যাবেন না। যুগে যুগে ইতিহাস বিকৃত কারীরা কোথাও মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে নি। তাদের মিথ্যাচার-ই তাদের নিচে টেনে নিয়ে গেছে। ভালো থাকুন।

  25. উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

    প্রথমেই লেখককে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই শিশির ভট্টাচার্য্য নামে বাংলাদেশে হাজার খানেক ব্যক্তি থাকতে পারে কিন্তু আপনি তাদের থেকে সম্পূর্ণই আলাদা। আপনার পদবীর কারণেই মানুষ আপনাকে ভিন্ন চোখে দেখে। আপনি যা লিখেন তা-ই অন্তত ৯০% মানুষ সাদরে গ্রহণ করে নেয়, বিশ্বাস করে। তাই সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখার জন্য হলেও আপনার অধিকতর সচেতন হয়ে যে কোন কিছু প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে মনে করি। আপনি এই প্রবন্ধটিতে বেশকিছু তথ্যবিকৃতি এবং মনগড়া মতামত তুলে ধরেছেন যা একে একে তুলে ধরছি-
    ১. আপনি শুরুটাই করেছেন অনুমান নির্ভর কথা দিয়ে; লিখেছেন- বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মস্তক মুণ্ডিত এবং মুখমণ্ডল ক্ষৌরিকৃত হবার একটি কারণ হয়তো এই যে উষ্ণ কিন্তু জলীয় বাষ্পবহুল বাংলা-বিহার অঞ্চলে বৌদ্ধধর্মের সূচনা।
    অথচ বুদ্ধ স্পষ্ট করে ১৬টি কারণ (তৈল মাখা, ধৌত করা, বন্ধন করা, রং দেওয়া, চিরুনী ব্যবহার করা …ইত্যাদি) নির্দেশ করেছেন কেন তিনি চুল রাখতে নিষেধ করেছেন। (ত্রিপিটকের মিলিন্দ প্রশ্ন গ্রন্থ দ্রষ্টব্য)। অতএব, বুদ্ধ যেখানে কারণ নির্দেশ পূর্বক বারণ করেছেন সেখানে আপনার কথাগুলো কেবলই মনগড়া।
    ২. আপনি লিখেছেন- ভারতবর্ষের এক চট্টগ্রাম ছাড়া আর কোথাও বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী নেই। এরকম হাস্যকর তথ্য কোথায় পেলেন? প্রথমে ভারত দিয়ে শুরু করি, ভারতের কলকাতা, শান্তিনিকেতন, আসাম, লক্নৈৗ,হিমাচল, লাদাখ, অরুণাচল, মিজোরাম, পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, কেরালা, তামিলনাড়ু, উত্তর প্রদেশ; বিহার রাজ্যে এখনও বৌদ্ধরা আছেন। বিহার রাজ্যের ধম্মবিরিয় মহাথেরো একজন নির্বাচিত রাজ্যসভার সদস্য। উল্লেখিত প্রত্যেকটি অঞ্চলে বৌদ্ধদের নিজস্ব বৌদ্ধ বিহার(মন্দির)ও আছে।
    বাংলাদেশের পটুয়াখালী, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, বগুড়া, কুমিল্লা প্রভৃতি অঞ্চলেই বৌদ্ধরা আছে অথচ আপনি এক চট্টগ্রাম ছাড়া ভারতবর্ষের কোথাও বৌদ্ধদের খুজে পান না।
    ৩. বৌদ্ধরা চট্টগ্রামেও টিকে থাকবে কিনা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন । সেক্ষেত্রে আপনাকে বলতে হয় হিন্দু দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখবেন না। হিন্দুদের এক বাড়ী বাংলাদেশে থাকলে আরেক বাড়ি ভারতে থাকে, ব্যবসা বাণিজ্য শেষ হলে সুযোগ পেলেই তারা ভারতে পাড়ী জমায়। কিন্তু বৌদ্ধরা ব্যতিক্রম। ৭১ এর যুদ্ধের সময় হিন্দুরা ভারতে পলায়ন করলেও বৌদ্ধরা কিন্তু মায়ানমারে চলে যায় নি। আর তাই এখন নতুন করে চট্টগ্রাম থেকে হারিয়ে যাবে সে আশাও অমূলক।
    ৪. আপনি লিখেছেন- ঈশ্বর, আত্মা, পরলোক, স্বর্গ-নরক, পুনরুত্থান ইত্যাদি সম্পর্কে বুদ্ধ নীরব থাকতেন। এটা একদম ডাহা মিথ্যা কথা।বুদ্ধ আত্মা সম্পর্কে অসংখ্য দেশনা প্রদান করেছেন, সুত্র পিটকের মধ্যম নিকায় গ্রন্থের সর্ব্বাসব সূত্র তার উল্লেখযোগ্য প্রমাণ।তাছাড়া বৌদ্ধ ধর্মের মূলেই তো রয়েছে অনিত্য, দুঃখ, অনাত্মা। তাহলে বুদ্ধ আত্মা সম্পর্কে নীরব রইলেন কিভাবে?
    সুত্ত পিটকের দেবদূত সূত্র পড়লে বুঝা যায় বুদ্ধ পরলোক এবং পুনরুত্থান সম্পর্কে কিভাবে স্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন। তাছাড়া বুদ্ধ চতুষ্মাহারাজিক স্বর্গ, তাবতিংস স্বর্গ, তুষিত স্বর্গ… ইত্যাদি; সঞ্জীব, কালসুত্ত, সঙ্ঘাত, রোরুব …. ইত্যাদি নরকের বিবরণ দিয়েছেন। তাহলে এটাই প্রমাণিত হয় আপনার কথাগুলো কেবল মনগড়া কল্পকাহিনী।
    এটা ঠিক যে, বুদ্ধ শুধুমাত্র ব্যক্তি ঈশ্বর সম্পর্কে নীরব থেকেছেন তাই বলে মানবের উৎপত্তি, পুনরুত্থান ইত্যাদি এড়িয়ে যান নি প্রতীত্যসমুৎপাদ নীতি-ই হচ্ছে তার বড় প্রমাণ। বুদ্ধ যা করেননি তা হচ্ছে মানবজাতিকে ব্যক্তি ঈশ্বরের মুখাপেক্ষী করে রাখা।
    ৫. ভিক্ষুদের জীবনাচার নিয়েও আপনি মনগড়া কথা তুলে ধরেছেন- বুদ্ধ কোথাও বলেননি ভিক্ষুরা একবার মাত্র খাদ্য গ্রহণ করবে, একবাড়িতে পরপর দুই দিন ভিক্ষান্নে যেতে পারবেনা এমন নিষেধাজ্ঞাও ভিক্ষু বিনয়ের কোথাও নাই।আপনি লিখেছেন ভিক্ষান্ন যাই হোক- গরুর মাংস, বরাহ মাংস…তাই গ্রহণ করে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। অথচ আপনি জানেন-ই না বুদ্ধ দশ প্রকার মাংস নিষিদ্ধ করেছেন ভিক্ষুদের। এমনকি মনে সন্দেহ আসলে অন্য মাংস বা মাছও তারা খেতে পারেন না।
    ৬. আপনার লেখা পড়ে মনে হচ্ছে, কেউ একজন বুদ্ধ পূর্ণিমার একটা প্রবন্ধ দিতে বলেছে আর আপনি বিভিন্ন বইয়ের এখান থেকে দুলাইন ওখান থেকে দুলাইন সংযোজন করেছেন । লবণ সঞ্চয়, আর দশ নিয়ম (দশ মহাবস্তু) নিয়ে যে মতান্তর হয়েছিল তা তো বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণেরও একশত বছর পরের ঘটনা। আর আপনি তা বুদ্ধের সময়কালীন দেবদত্তের কাহিনীতে এনে যোগ করে ইতিহাসের বিকৃতি সাধন করেছেন।
    ৭. বুদ্ধের জীবৎকালে ব্যভিচার নিযে সঙ্ঘ ভাঙ্গার উপক্রমের কাহিনীগুলো কোথায় পেলেন? আরো লিখেছেন- পাপী যদি অনুতপ্ত হতো তবে তাকে সঙঘ থেকে বহিস্কার না করার প্রশ্নে অনড় থাকতেন। অথচ বুদ্ধের জীবিত কালীন সময়েই পারাজিকা প্রাপ্ত দুঃশীল ভিক্ষুদের সঙ্ঘ থেকে বহিস্কারের নজির পাওয়া যায় অনেক। এমনকি বুদ্ধের সামনেই তাদের ভিক্ষুসীমা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। (বিনয় পিটকের মহাবর্গে গ্রন্থেই এসব প্রমাণাদি পাওয়া যায়।) অতএব আপনার কথাগুলো আবারও মনগড়া-ই প্রমাণিত হয়।
    ৮. বুদ্ধের সময়ে কেবলমাত্র দেবদত্তই কিছু বিষয়ে নিজের কর্তৃত্ব নেওয়ার জন্য বিরোধিীতা করেছিলেন যে কিনা মৃত্যুর পূর্বে বুদ্ধের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এরকম অন্য কোন নেতা পাওয়া যায় না, আপনি নাম উল্লেখ না করে আরো অনেক নেতার কথা বলেছেন যা ত্রিপিটকে পাওয়া যায় না। তদুপনি জাতিভেদ, শ্রেণীভেদকে এন এমনভাবে বুঝাতে চেয়েছেন যেন বুদ্ধের বিরোধী ৫-১০টা গ্রুপ ছিল সঙ্ঘের মধ্যে। আপনার জানা উচিত তৎকালীন হিন্দুদের জাতিভেদ, শ্রেণীভেদ রুখে দিয়েই বৌদ্ধ ধর্মের সৃষ্টি অতএব সেই বৌদ্ধ ধর্মের উৎপত্তিকালীন সময়ে আপনার ধারণাগুলো কেবল অমূলক বৈ কিছু নয়।
    ৯. হিন্দুরা বুদ্ধের উত্থানকে কখনোই মানতে চায় নি। তাই তারা তাকে অবতার/দেবতা সাজিয়ে নিজেদের একজন বলেই প্রকাশ করেছেন সবসময়। লেখকও তার ধর্মীয় দৃষ্টিকোণের উধ্বে যেতে পারেন নাই। এজন্যই আপনি বারবার বুদ্ধ দেব বলে বুদ্ধকে দেবতা সাজাতে চেয়েছেন। মূলতঃ বুদ্ধ একজন মানুষ-ই, দেবতা নন।
    ১০. বুদ্ধের সময় ঘড়ি-ই ছিলনা- অথচ আপনি লিখেছেন এক ভিক্ষু বলেছেন বুদ্ধ না থাকায় এখন আর ঘড়ি ধরে বিনয় পালন করতে হবে না্। যেখানে ঘড়ি-ই নেই সেখানে ঘড়ির কথা একজন ভিক্ষু বলেন কিভাবে? এসব কি কেবল আপনারই বানানো কথা?
    ১১. বুদ্ধের জীবিতকালীন সময়েই মূর্তিপুজা চালু হয়, সুত্তপিটকের বট্টাঙ্গুলি জাতক তার জ্বলন্ত প্রমাণ। আর আপনি মনগড়া কথা লিখেছেন বুদ্ধের পরিনির্বাণের কয়েক শত বছর পর মূর্তিপুজা চালু হয়েছে বলে। আপনি স্তুপ পূজা নিয়েও বিকৃত তথ্য দিয়েছেন।বুদ্ধ জীবিতকালীন সময়েই সারিপুত্র ও মৌদগল্যায়ন স্থবিরের দেহধাতু দিয়ে ধাতুচৈত্য স্তুপ নির্মাণ করে পূজা শুরু করেন। এক্ষেত্রেও আপনি তা বুদ্ধের পরিনির্বাণের পরে বলে বিকৃতি ঘটিয়েছেন।
    ১২. আপনার লেখায় আট বার সম্ভবত আর হয়তো শব্দ দুটির প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। আর এই সম্ভবত দিয়েই বৈঞ্চব আর বাউল গোষ্ঠীর উদ্ভব দেখিয়েছেন। একটি জাতিগোষ্ঠীর উদ্ভব কি অনুমান নির্ভর হয়ে সম্ভবত এর ব্যবহার দ্বারা দেখানো যায় গবেষণা ব্যতীত? আপনি কিন্তু পেরেছেন তাই তো লিখেছেন- এদের একটি অংশ সম্ভবত বৈঞ্চব এবং/অথবা বাউলে রুপান্তরিত হয়েছিল।
    ১৩. সর্বশেষ আপনার দৈন্যতা দেখে অবাক হই- আপনি কেবল বাউলের মাঝেই বৌদ্ধদের অস্তিত্ব খুঁজে পেলেন? আমেরিকা, ইউরোপ এর নানা জায়গায় বৌদ্ধ ধর্মের যে কি হারে প্রসার ঘটছে তা কি আপনি আসলেই জানেন না? নাকি না জানার ভান ধরে চোখ বুজে আছেন?
    পরিশেষে আপনাকে বলতে ইচ্ছে করে- বৌদ্ধরা আছে বীরদর্পে সারাবিশ্বে, তারা থাকবে। আর আপনাকে অনুরোধ জানাই ত্রিপিটকের বিভিন্ন গ্রন্থগুলো একটু মনোযোগ দিয়ে পড়ার জন্য। আর তা যদি হয় তবে আপনার কলম দিয়ে অন্ততঃ আর নতুন করে বিকৃত তথ্য উপস্থাপন হবে না।

    Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      উজ্জ্বল বড়ুয়ার আপত্তিগুলোর উত্তর
      বুদ্ধ কেন মস্তক মুণ্ডিত করতে বলেছিলেন তা আমার প্রবন্ধের জন্যে প্রাসঙ্গিক মনে করিনি। আমি জলবায়ুর সঙ্গে ধর্মের উদ্ভব ও বিকাশের একটি সম্পর্ক দেখাতে চেয়েছি। এটি একটি হাইপোথিসিস মাত্র। আমি লিখেছি ‘হয়তো’। আমি বলিনি একমাত্র কারণ। আমি বলেছি অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হলেও হতে পারে।

      দ্বিতীয় আপত্তি। চট্টগ্রাম ছাড়াও বৌদ্ধরা আছেন। তবে তঁারা ইন্ডিক ভাষা গোষ্ঠীর লোক নন। অথচ ইন্ডিক ভাষাগোষ্ঠীর লোকেরাই প্রথম সদ্ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। শুধু চট্টগ্রামে বৌদ্ধরা আছেন কথাটা বলা আমার ঠিক হয়নি। আফগানিস্তান থেকে চট্গ্রাম- এই সাংস্কৃতিক ভারতবর্ষে (ভারত রাষ্ট্রে নয়) বৌদ্ধরা অনেকটাই হারিয়ে গেছেন, কথাটা মিথ্যা নয়।

      বৌদ্ধরা চট্টগ্রামেও নিরাপদে নেই। আমার উদ্দেশ্য ছিল তাদের এই নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো। আপনি আমার কথা ভুল বুঝেছেন। যাই হোক হিন্দুরা ৭১ সালে ভারতে পলায়ন করেছিল কারণ হিন্দু ভারত বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে ছিল। বৌদ্ধ/কমিউনিস্ট চীন বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল। সুতরাং বাংলাদেশের বৌদ্ধদের মায়ানামারে পালাতে হয়নি। মাও সেতুঙের কথামতো শত্রুর শত্রু যদি বন্ধু হয়, তবে বাংলাদেশের শত্রুর বন্ধু বাংলাদেশের কী হবে ভাবা যেতে পারে। তবে আমি ভাবনার কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে পড়ুক!

      তৃতীয় আপত্তি। বুদ্ধদেব আত্মা, ঈশ্বর ইত্যাদি সম্পর্কে নীরব থাকতেন। রুবি বড়ুয়া ও বিপ্রদাশ বড়ুয়া তাদের গৌতম বুদ্ধ, দেশকাল ও জীবন পুস্তকে লিখেছেন (পৃষ্ঠা ৮১):
      বুদ্ধের দর্শনের যে রূপ – অনিত্য, অনাত্ম… আমরা দেখেছি, সেখানে আত্মার ন্যায় ঈশ্বর ও ব্রহ্ম-এর কোনো স্থান নেই।’ এর পর ৮৬ পৃষ্ঠায় আছে, বুদ্ধ দশটি বিষয় অকথনিয় বা অব্যাকৃত রেখেছেন, যার মধ্যে ঈশ্বর, আত্মা ও পরলোক রয়েছে।

      ভিক্ষুদের দ্বিপ্রহরের আগে খাদ্যগ্রহণ, এক বাড়িতে পরপর দুই দিন ভিক্ষা না করা, মাংসভক্ষণ ইত্যাদি হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর বইয়ে পড়েছি। একবার এক ভিক্ষুর ভিক্ষাপাত্রে পাখীর মুখ থেকে এক খণ্ড মাংস এসে পড়ে। বুদ্ধ এই মাংসকেও ভিক্ষা হিসেবে বিবেচনা করতে বলেছেন – এই গল্পও পড়েছি বুদ্ধধর্ম বিষয়ক কোনো বইয়ে।

      দশ মহাবস্তু নিয়ে বুদ্ধদেবের জীবত্‌কালেই যে মতান্তর হয় তাও পড়েছি শাস্ত্রীর বইয়ে। বুদ্ধের নির্বাণের পর সেই মতান্তর বৃদ্ধি পায়।

      ভিক্ষুদের আপত্তিসত্তেও এক গর্ভবতী ভিক্ষুণীকে বুদ্ধ সঙ্ঘ থেকে বের করে দেননি- এমন কাহিনি আমি পড়েছি মৈত্রেয় জাতক নামক বুদ্ধের এক জীবনভিত্তিক গ্রন্থে।

      বিপ্রদাশ বড়ুয়া লিখেছেন (পৃষ্ঠা ৯৮) বুদ্ধের কৌশাম্বী অবস্থানকালে ভিক্ষুসঙ্ঘে আর একটি কলহ হয়েছিল বলে জানা যায়।

      কোনো কলহ যদি নাই হবে তবে হীনযান ও মহাযান – এই দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেল কেন বৌদ্ধরা?

      বুদ্ধ যদি মানুষই হবে তবে তঁা পূজা কেন হয়? মানুষের কী পূজা হয়? বুদ্ধ বারবার বলেছেন তিনি মানুষ। বৌদ্ধরা কি তঁার কথা শুনেছে?

      হিন্দুরা বৌদ্ধদের মানতে চায়নি। বৌদ্ধরাও কি শ্রীলঙ্কায় হিন্দু তামিলদের মানতে চেয়েছে? আরাকানে মুসলমানদেরও তারা মানতে চাচ্ছে? মানুষের স্বভাবই এরকম। সংখ্যাধিক্যের জোরে তারা দুর্বলকে নিশ্চিন্ন করে দিতে চায়।

      ‘ঘড়ি ধরে’ কথার কথা। রূপক। এর মানে সময়মতো। বুদ্ধের সময় সূর্যঘড়ি, বালুঘড়ি, জলঘড়ি ছিল। যন্ত্রঘড়িই একমাত্র ঘড়ি নয়।

      আমি জানতাম না, বুদ্ধের জীবত্‌কালেই সারিপুত্ত ও মৌদগল্যায়ন তঁার দেহধাতু দিয়ে স্তুপ নির্মাণ করেছিলেন। জীবিত অবস্থায়ও তাহলে দেহধাতু সংগ্রহ করা যায়!

      আমি বারবার হয়তো বলেছি, কারণ আমি নিশ্চিত নই। আমি সম্ভাবনার কথা বলেছি। বিজ্ঞানসম্মত লেখার এটাই নিয়ম। বিজ্ঞানে নিশ্চিত সত্য বলে কিছু নেই। সব আপাত সত্য। সব সময় সন্দেহ করতে হবে। এজন্যেই হয়তো, সম্ভবত ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার আবশ্যক।

      বৌদ্ধধর্মের প্রসার ঘটছে ইওরোপে, আমেরিকায়…শুনে খুশি হলাম। বৌদ্ধরা কি অষ্টাংগিক মার্গ ও বিনয় পালন করছে? বুদ্ধ নিজে কি মূর্তিপূজা অনুমোদন করতেন? বৌদ্ধধর্ম ও বুদ্ধধর্মের মধ্যে কোনো তফাত্‌ কি আছে?

      পঞ্চশীলের তৃতীয় শীলে মৃষা বাক্য (কর্কশ বাক্য, কঠোর বাক্য, নিন্দাবাক্য) না বলতে বলা হয়েছে। কতজন বৌদ্ধ এই শীল পালন করেন?

      আমার লেখাটি নিছকই একটি পপুলার লেখা। পত্রিকায় লেখার জন্য কেউ গবেষণা করে না। গবেষণার ক্ষেত্র আলাদা। আমার মূল প্রতিপাদ্য: ভারতবর্ষ থেকে বৌদ্ধরা কেন হারিয়ে গেল – সেটা আমি মোটামুটি বুঝিয়ে বলতে পেরেছি বলে আমার ধারণা।
      কিছু লোক লোম বাছতে বাছতে কম্বল আর দেখতে পায় না। কিছু লোক গাছের জন্যে বন দেখে না। এমন পাঠকদের নিয়ে সত্যিই খুব মুস্কিল!

      ধর্মে আমাদের মতি থাকুক!

      Reply
      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        তবে আমি চাই না ভাবনার কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে পড়ুক!

      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        মৈত্রেয় জাতক হয়তো নয়, সম্ভবত সম্বুদ্ধ জাতক। স্মরণে আসছে না।

      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়…

      • উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

        পড়ার সুবিধার্থে জবাব উপরে দিয়েছি, দেখুন।

    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      ধর্মানন্দ মহাথের লিখেছেন:

      Is there an Eternal Soul?

      Belief in an eternal soul is a misconception of the human consciousness.

      The Soul Theory

      With regard to the soul theory, there are three kinds of teachers in the world:

      – The first teacher teaches the existence of an eternal ego-entity that outlasts death: He is the eternalist.

      – The second teacher teaches a temporary ego-entity which becomes annihilated at death: He is the materialist.

      – The third teacher teaches neither an eternal nor a temporary ego-entity: He is the Buddha.

      The Buddha teaches that what we call ego, self, soul, personality, etc., are merely conventional terms that do not refer to any real, independent entity. According to Buddhism there is no reason to believe that there is an eternal soul that comes from heaven or that is created by itself and that will transmigrate or proceed straight away either to heaven or hell after death. Buddhists cannot accept that there is anything either in this world or any other world that is eternal or unchangeable. We only cling to ourselves and hope to find something immortal. We are like children who wish to clasp a rainbow. To children, a rainbow is something vivid and real; but the grown-ups know that it is merely an illusion caused by certain rays of light and drops of water. The light is only a series of waves or undulations that have no more reality than the rainbow itself.

      Man has done well without discovering the soul. He shows no signs of fatigue or degeneration for not having encountered any soul. No man has produced anything to promote mankind by postulating a soul and its imaginary working. Searching for a soul in man is like searching for something in a dark empty room. But the poor man will never realize that what he is searching for is not in the room. It is very difficult to make such a person understand the futility of his search.

      Those who believe in the existence of a soul are not in a position to explain what and where it is. The Buddha’s advice is not to waste our time over this unnecessary speculation and devote our time to strive for our salvation. When we have attained perfection then we will be able to realize whether there is a soul or not. A wandering ascetic named Vacchagotta asked the Buddha whether there was an Atman (self) or not. The story is as follows:

      Vacchagotta comes to the Buddha and asks:

      ‘Venerable Gotama, is there an Atman?

      The Buddha is silent.

      ‘Then Venerable Gotama, is there no Atman?

      Again the Buddha is silent.

      Vacchagotta gets up and goes away.

      After the ascetic has left, Ananda asks the Buddha why He did not answer Vacchagotta’s question. The Buddha explains His position:

      ‘Ananda, when asked by Vacchagotta, the Wanderer: ‘Is there a Self?, if I had answered: ‘There is a Self’. Then, Ananda, that would be siding with those recluses and brahmanas who hold the eternalist theory (sassata-vada).’

      ‘And Ananda, when asked by the Wanderer: ‘Is there no Self?, if I had answered: ‘There is no Self’, then that would be siding with those recluses and brahmanas who hold the annihilationist theory (uccedavada)’.

      ‘Again, Ananda, when asked by Vacchagotta: ‘Is there a Self? If I had answered: ‘There is a Self’, would that be in accordance with my knowledge that all dhammas are without Self?

      ‘Surely not, Sir.’

      ‘And again, Ananda, when asked by the Wanderer: ‘Is there no Self?’, if I had answered: ‘There is no Self’, then that would have created a greater confusion in the already confused Vacchagotta. For he would have thought: Formerly indeed I had an Atman (Self), but now I haven’t got one.’ (Samyutta Nikaya).

      The Buddha regarded soul-speculation as useless and illusory. He once said, ‘Only through ignorance and delusion do men indulge in the dream that their souls are separate and self-existing entities. Their heart still clings to Self. They are anxious about heaven and they seek the pleasure of Self in heaven. Thus they cannot see the bliss of righteousness and the immortality of truth.’ Selfish ideas appear in man’s mind due to his conception of Self and craving for existence.

      Anatta: The Teaching of No-Soul

      The Buddha countered all soul-theory and soul-speculation with His Anatta doctrine. Anatta is translated under various labels: No-soul, No-self, egolessness, and soullessness.

      To understand the Anatta doctrine, one must understand that the eternal soul theory _ ‘I have a soul’ _ and the material theory _ ‘I have no soul’ _are both obstacles to self-realization or salvation. They arise from the misconception ‘I AM’. Hence, to understand the Anatta doctrine, one must not cling to any opinion or views on soul-theory; rather, one must try to see things objectively as they are and without any mental projections. One must learn to see the so-called ‘I’ or Sour or Self for what it really is : merely a combination of changing forces. This requires some analytical explanation.

      The Buddha taught that what we conceive as something eternal within us, is merely a combination of physical and mental aggregates or forces (pancakkhandha), made up of body or matter (rupakkhandha), sensation (vedanakkhandha), perception (sannakkhandha), mental formations (samkharakkhandha) and consciousness (vinnanakkhandha). These forces are working together in a flux of momentary change; they are never the same for two consecutive moments. They are the component forces of the psycho-physical life. When the Buddha analyzed the psycho-physical life, He found only these five aggregates or forces. He did not find any eternal soul. However, many people still have the misconception that the soul is the consciousness. The Buddha declared in unequivocal terms that consciousness depends on matter, sensation, perception and mental formations and that is cannot exist independently of them.

      The Buddha said, ‘The body, O monks, is not the Self. Sensation is not the Self. Perception is not the Self. The mental constructions are not the Self. And neither is consciousness the Self. Perceiving this, O monks, the disciple sets no value on the body, or on sensation, or on perception, or on mental constructions, or on consciousness. Setting no value of them, he becomes free of passions and he is liberated. The knowledge of liberation arises there within him. And then he knows that he has done what has to be done, that he has lived the holy life, that he is no longer becoming this or that, that his rebirth is destroyed.’ (Anatta-Lakkhana Sutta).

      The Anatta doctrine of the Buddha is over 2500 years old. Today the thought current of the modern scientific world is flowing towards the Buddha’s Teaching of Anatta or No-Soul. In the eyes of the modern scientists, man is merely a bundle of ever-changing sensations. Modern physicists say that the apparently solid universe is not, in reality, composed of solid substance at all, but actually a flux of energy. The modern physicist sees the whole universe as a process of transformation of various forces of which man is a mere part. The Buddha was the first to realize this.

      A prominent author, W.S. Wily, once said, ‘The existence of the immortal in man is becoming increasingly discredited under the influence of the dominant schools of modern thought.’ The belief in the immortality of the soul is a dogma that is contradicted by the most solid, empirical truth.

      The mere belief in an immortal soul, or the conviction that something in us survives death, does not make us immortal unless we know what it is that survives and that we are capable of identifying ourselves with it. Most human beings choose death instead of immortality by identifying themselves with that which is perishable and impermanent by clinging stubbornly to the body or the momentary elements of the present personality, which they mistake for the soul or the essential form of life.

      About those researches of modern scientists who are now more inclined to assert that the so-called ‘Soul’ is no more than a bundle of sensations, emotions, sentiments, all relating to the physical experiences, Prof. James says that the term ‘Soul’ is a mere figure of speech to which no reality corresponds.

      It is the same Anatta doctrine of the Buddha that was introduced in the Mahayana school of Buddhism as Sunyata or voidness. Although this concept was elaborated by a great Mahayana scholar, Nagarjuna, by giving various interpretations, there is no extraordinary concept in Sunyata far different from the Buddha’s original doctrine of Anatta.

      The belief in soul or Self and the Creator God, is so strongly rooted in the minds of many people that they cannot imagine why the Buddha did not accept these two issues which are indispensable to many religions. In fact some people got a shock or became nervous and tried to show their emotion when they heard that the Buddha rejected these two concepts. That is the main reason why to many unbiased scholars and psychologists Buddhism stands unique when compared to all the other religions. At the same time, some other scholars who appreciate the various other aspects of Buddhism thought that Buddhism would be enriched by deliberately re-interpreting the Buddha word ‘Atta’ in order to introduce the concept of Soul and Self into Buddhism. The Buddha was aware of this unsatisfactoriness of man and the conceptual upheaval regarding this belief.

      All conditioned things are impermanent,
      All conditioned things are Dukka — Suffering,
      All conditioned or unconditioned things
      are soulless or selfless. (Dhammapada 277, 278, 279)

      There is a parable in our Buddhist texts with regard to the belief in an eternal soul. A man, who mistook a moving rope for a snake, became terrified by that fear in his mind. Upon discovery that it was only a piece of rope, his fear subsided and his mind became peaceful. The belief in an eternal soul is equated to the rope of that man’s imagination.

      Reply
      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        বুদ্ধদেবের মতে আত্মা, পরলোক, ঈশ্বর সম্পর্কে জানতে চাওয়া নিছক সময় নষ্ট – এরকম লিখলে কি ঠিক হয়? নাকি এতেও সমস্যা আছে?

      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        বিপ্রদাশ বড়ুয়া লিখেছেন (৮১ পৃষ্ঠা) : ‘বুদ্ধের দর্শনের যে রূপ – অনিত্য, অনাত্ম, প্রতীত্যসমুত্‌পাদ – আমরা দেখেছি, সেখানে আত্মার ন্যায় ঈশ্বর ও ব্রহ্ম-এর কোনো স্থান নেই। সত্য যে, বুদ্ধ অনাত্মবাদ সম্বন্ধে যেমন ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ঈশ্বরবাদ সম্বন্ধে তেমন দেননি। এই কারণে কোনো কোনো লব্দপ্রতিষ্ঠ পাশ্চাত্য দর্শনের ভারতীয় অধ্যাপক বলেন যে, বুদ্ধ নীরব থেকে এভাবে বহুলাংশে উপনিষদের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণস্বীকৃতি দান করেছেন।’

        সুতরাং আত্মা, ইশ্বর ও পরলোক সম্বন্ধে বুদ্ধের নীরব থাকার কথা আমার আগেও কেউ কেউ বলেছে।

      • উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

        শিশির বাবু, আপনি অঙ্কটা খুব সুন্দর ভাবেই মিলিয়েছিলেন, কিন্তু একদম শেষে উত্তরটা লেখার সময় ভুল লিখলেন এটা খুব সম্ভবত ইচ্ছে করেই করেছেন কারণ সঠিক উত্তরটা দিয়ে দিলে আপনার পূর্বের কথাগুলো যে ভূল প্রমানিত হয়।

        বেশী কথা না বাড়িয়ে আপনার কথা থেকেই ছোট্ট একটি বিষয় ধরিয়ে দিচ্ছি, আপনি-ই লিখেছেন—-সত্য যে, বুদ্ধ অনাত্মবাদ সম্বন্ধে যেমন ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ঈশ্বরবাদ সম্বন্ধে তেমন দেননি।…অর্থাৎ অনাত্মবাদ যা আত্মার অস্তিত্বহীনতা এটার ব্যাখ্যা বুদ্ধ দিয়েছেন বলে আপনি নিজ মুখেই স্বীকার করলেন তাই না?

        কিন্তু শেষ লাইনে গিয়ে বললেন-সুতরাং আত্মা, ইশ্বর ও পরলোক সম্বন্ধে বুদ্ধের নীরব থাকার কথা আমার আগেও কেউ কেউ বলেছে। এখানে কি বুঝা গেল? আপনি পূর্বের কথা আবার সরে গেলেন। এক জায়গায় বললেন বুদ্ধ ব্যাখ্যা দিয়েছেন, পরে আবার প্রমাণ করতে চেয়েছেন বুদ্ধ নীরব-ই ছিলেন। তাহলে এটাই দাড়াল অঙ্কটা শুদ্ধ ছিল বটে উত্তরটা ভূল। নিজের অঙ্কগুলো নিজেই মিলিয়ে নিন।

        আপনি লিখেছেন- বুদ্ধদেবের মতে আত্মা, পরলোক, ঈশ্বর সম্পর্কে জানতে চাওয়া নিছক সময় নষ্ট – এরকম লিখলে কি ঠিক হয়? নাকি এতেও সমস্যা আছে? …. দেখুন আপনি আগে লিখেছিলেন বুদ্ধ এসব বিষয়ে নীরব ছিলেন, এরকম লিখলে তো বুদ্ধ অজ্ঞ ছিলেন সেটাই বুঝায়। আর তাই সেই কথাগুলোর প্রতিবাদ-ই করেছিলাম। আবারো বলছি বুদ্ধ আত্মা, পরলোক সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন, ঈশ্বর সম্পর্কে সরাসরি কিছু না বললেও উদাহরণ দিয়ে বুঝাতে চেয়েছেন এসব জানার চেয়েও আমাদের মুক্তি লাভটাই জরুরী। প্রকারান্তরে প্রতীত্যসমুৎপাদ দিয়ে বুদ্ধ জীবের উৎপত্তি সম্পর্কেও কিন্তু ব্যাখ্যা করেছেন। অভিধর্ম পিটকে কিভাবে চ্যুতি চিত্ত, প্রতিসন্ধি চিত্তে রুপ নিচ্ছে এক কথায় প্রাণের উদ্ভব পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট করে ব্যাখ্যা করেছেন। তাহলে বুদ্ধ নীরব থাকেন কিভাবে এ কথা-ই আপনাকে বুঝাতে চেয়েছি।

        বাকী কথাগুলো সম্পর্কে আর কোন মতামত দিলাম না এই কারণেই যে, আপনি এখনো অন্যান্য লেখকদের মন্তব্য নিয়েই রয়ে গেছেন। আপনি যদি আসলেই জানার চেষ্টা করতেন তবে ইতিপূর্বে দেওয়া ত্রিপিটকের উল্লেখিত বইগুলো পড়ার চেষ্টা করতেন যেখানে বুদ্ধ আত্মা সম্পর্কে বিস্তারিত কি বলেছেন, পরলোক সম্পর্কে বিস্তারিত কি বলেছেন তা অবশ্যই জেনে নিতেন। কারণ আপনাকে নির্দিষ্ট করে সূত্রগুলোর নাম সহ দিয়ে দিয়েছিলাম।

        আপনি সাগরের পাড়েই ঘুরতেছেন এখনো, পানিতে না নামলে ভেজার সুযোগ নাই। বুদ্ধের ধর্ম সাগরের মতোই যতটুকু নামবেন ততটুকুই ভিজবেন। আর এই সাগর সম্পর্কে অল্পমাত্র ধারণা পেতে হলেও ত্রিপিটক পড়া বাঞ্চনীয়।

    • প্রদীপ

      Mr. Basu,you said, the bibliophile person is pre-occupied, which is me. That means you are not a bibliophile. You do not love reading or books. Fine, I understand you statement is right. A real bibliophile person can not speak in this manner. So, you are not a bibliophile. Fine, I am convinced. But again you have referred 5 books. I can say all books are not basic except Pandit Rahula .I have about 200 hundred books on Buddhism. If you interested I can refer the authors. They are maximum from abroad. Okay,fine,you only read a book like ‘swadhormo Rotnakor’ that is not a basic book. Did you read any book which is revered as the reference for research? Please give those name. I have only referred you about Encyclopedia Britannica that also lying with my personal collection. I did not refer you those greatest authors like Dalai lama, Tich knat Han, K Sri Dharmananda, Osho, Dipak Chopra, Pandit Jyotipal specially Bodhicarya Abatar, Bisuddhimargo, Buddha Dasa Bhikkhu and so many spiritual books worlds’s most famous like Lama Surya das, famous Nun Prema Chodron, Karen Armstrong and famous Burmese Saint Mahasi Sawa Daw. But problem is ,I am pre-occupied. Because I read,I love books. So, you are not pre-occupied. If it is true then why you are abusing this immature writer ? you are vacant, you are not occupied with any notion, you are totally empty. So, why there is a pain. You are not preoccupied, so everything lets go. Why your insight is lying with a defilement ? Why are you cling with a small piece of writing ? You are not pre-occupied. Right ?? No one can nail you, nothing you are grasping, right. You are not pre-occupied. why you get hurt by the lie, why you are not facing ecstasy with the truth that called ” no ‘I’ ” means no pre-occupation . Answer me Mr. Ujjal Barua Basu. Your books are not at all sufficient enough to hold as a reference. You get my point. They are not the authority of beholding the historical phenomenon. Rahula is great Pandit and he wrote his own memoirs only in the way he thinks being a Marxist author. His great book is scientific Materialism is the great book. I am not happy to see your book list. Sorry. I thought you are a real person holding a vivid wisdom not like others commentators that uttering huge irrelevant statement.

      Reply
      • উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

        প্রদীপ বাবু, ইংরেজী শুধু লিখলেই হয় না সেটার অর্থটাও নিজের বুঝা ‍উচিত, নাকি ভেবেছেন আপনি দু লাইন ইংরেজী লিখলে আমি তা পড়তে পারবোনা বা বুঝতে পারবোনা এবং সবশেষে থেমে যাব। আপনি লিখেছেন-Mr. Basu,you said, the bibliophile person is pre-occupied, which is me. That means you are not a bibliophile. You do not love reading or books. যার বাংলা দাড়ায় -( মিঃ বাসু তুমি বলেছ গ্রন্থানুরাগী ব্যক্তি পূর্ব থেকে নির্দিষ্ট বিষয়-ই আকড়ে ধরে। তার মানে তুমি গ্রন্থানুরাগী নও। তুমি পড়তে কিংবা বই ভালবাসনা।)
        অথচ আমি লিখেছি-প্রি-অকুপাইড তারাই হতে পারে/ করতে পারে যারা আসলেই বিবলিওফাইল মানুষ।..এখানে আমি কিংবা আপনি কাউকেই বিবলিওফাইল মানুষ হিসেবে তো তুলে ধরিনি কিংবা আপনি বিবলিওফাইল আর আমি বিবলিওফাইল নয় এমন কথাও তো কোথাও বলিনি। তাহলে নিজে নিজে এত প্রলাপ বকছেন কেন?

        আসল কথায় আসি পন্ডিত রাহুলের টা ছাড়া বাকীগুলো বেসিক বই নয় তবে মহাযান বৌদ্ধ ধর্ম ও দর্শন টা কি বই? বইটি পড়েছেন কি? আবার লিখেছেন-you only read a book like ‘swadhormo Rotnakor’ that is not a basic book. মিঃ মহাশয় আমি যখন একের পর এক ত্রিপিটকের রেফারেন্স দিই তখন বলেন ওগুলো টেক্সট বুক আবার অন্যদের বইয়ের নাম তুলে ধরলে বলেন আমি বেসিক বই পড়ি না সদ্ধর্ম রত্নাকর এর মতো বই পড়ি- কোন দিকে যাবো? আমি কি বই পড়ি সেটা আপনি কিভাবে জানবেন? আমি আপাতত সেগুলোর রেফারেন্স দিচ্ছি যেগুলো এই মুহুর্তে দরকার পড়ছে। আর ত্রিপিটকের বইয়ের চাইতে অন্য কোন বই বড় রেফারেন্স বলে মনে করি না। তারপরও আপনাকে Rhys Davids এর রেফারেন্স দিলাম নাকি তাকেও মৌলিক লেখক নয় বলে উপাধি দিয়ে দেবেন? আপনি অনেক লেখকের নাম দিয়ে দিলেন- আমিও তো এরকম অনেকের নাম তুলে দিতে পারবো তো লাভ কি হবে? লেখকের নাম তুলে দিলেই কি মিথ্যা সত্য হয়ে যাবে? সত্য মিথ্যা হয়ে যাবে? আমি কেবল সেসব লেখকদের নাম , সুনির্দিষ্ট রচনা, এবং পৃষ্ঠার নম্বর দিচ্ছি যেগুলোতে আমার দেওয়া তথ্যগুলোর সত্যতা পাওয়া যায়। কোথাও প্রলাপ বকিনি, মিথ্যাচার করিনি, ভ্রান্ত তথ্যও দিই নাই। আমি যা কিছু বলেছি- তার সপক্ষে গুণী জ্ঞানী লেখকদের লিখিত তথ্য গুলো পৃষ্টা নং সহ তুলে দিয়েছি। অতএব আমার কথাগুলো সারশূন্য, নাকি সারযুক্ত আশা করছি পাঠকরাই বুঝে নেবেন। কালি কলসি একটু বেশী বাজতেই পারে তবে কোনটা খালি আর কোনটা ভরা কলসি সেটা বিক্রেতা কেবল সাফাই গাইলেই হয় না ক্রেতারাও বুদ্ধিমান তারা ঠিকই বুঝে নেয়।

  26. চিরসবুজ মানব

    বৌদ্ধরা সবচেয়ে বেশী ধর্মান্তরিত ও বিতাড়িত হয়েছে বাংলার সেন আমলে।
    এখানে পাল আমল থেকে হঠাত করে মুসলিম শাসন আমল শুরু হয়ে গেল। সেন আমলের কোন কথাই আসল না। অথচ সেনগণ বাংলায় একশ বছরেরও বেশিকাল ধরে (আনু. ১০৯৭-১২২৩ খ্রি.) কর্তৃত্ব করেন।
    আর সেনরাই বৌদ্ধদের বাংলা থেকে বিতাড়িত করেন ও গোঁড়া হিন্দু রাজত্ত্ব কায়েম করেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি , সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করেন।
    লেখক ধর্মীয় সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠতে পারেননি বরঞ্চ প্রসংগটি বেমালুম চেপে গেলেন আর পুরো দায়ভার মুসলিম শাসকদের উপর চাপিয়ে দিলেন।
    দেখুন উইকিপিড়িয়া কি বলে।

    Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      বৌদ্ধদের উপর হিন্দুদের অত্যাচারের কথা লিখেছি। কিছুই চেপে যাইনি।

      Reply
  27. Hiran Barua Avi

    thanks Mr. Shisir. “Dev” Is not used for Buddha. If you doubt please see holy Tripitaka in English. Baktier Khalji murdered and ruined the budddhist temple,vihara. Its true @
    ছাকিব

    Reply
  28. স্মৃতিময় বড়ুয়া টিপলু

    শ্রদ্ধা আর শুভেচ্ছা রইল, আরও তথ্যভিত্তিক ইতিহাস নির্ভর লেখা চাই, সাধুবাদ জানাই অাপনার এই উদ্যোগকে, তবে বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণ করে প্রয়োজনে লেখা সংশোধন করবেন। ধন্যবাদ।

    Reply
  29. স্মৃতিময় বড়ুয়া টিপলু

    বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে লেখার জন্য শ্রদ্ধা আর শুভেচ্ছা রইল, অারও তথ্য ভিত্তিক লেখা চাই, তবে বুদ্ধকে মহামানব বুদ্ধ লিখলে আরও ভাল লাগবে।

    Reply
  30. উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক মনগড়া, তথ্যবিকৃতিযুক্ত এমন একটি লেখা লিখবেন আশা করা যায় না। সবার সব বিষয়ে জ্ঞান থাকবে কথা নাই তাই বলে হয়তো, সম্ভবত শব্দগুলো ব্যবহার করে একের পর এক ভ্রান্ত তথ্য দিয়ে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ করবেন তাও আবার এতবড় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তা কেমনে হয়? আপনার জানা উচিত যে, আপনার পদবীর কারণেই আপনি যা লিখেন তা-ই বিশ্বাস করবে অধিকাংশ মানুষ তাই এই প্রবন্ধে পর্যায়ক্রমে আপনার ত্রুটিগুলি তুলে ধরে আপনাকে জানিয়ে দিতে চাই আপনার আরো সাবধান হওয়া উচিত লেখার ক্ষেত্রে। প্রথমেই বলি, আপনি লিখেছেন…… বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মস্তক মুণ্ডিত এবং মুখমণ্ডল ক্ষৌরিকৃত হবার একটি কারণ হয়তো এই যে উষ্ণ কিন্তু জলীয় বাষ্পবহুল বাংলা-বিহার অঞ্চলে বৌদ্ধধর্মের সূচনা। … এখানে হয়তো বলার কিছুই নাই আন্দাজে ঢিল ছোড়ারও দরকার নাই বুদ্ধ কিন্তু স্পষ্ট করেই বিনয় পিটকে মস্তক মুন্ডিত করার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। কারণ বুদ্ধ বিনা কারণে কোন কিছুই প্রজ্ঞাপ্ত করেন নাই। কি সেই কারণগুলো? যেহেতু আপনি না জেনেই হয়তো দিয়ে চালিয়ে দিয়েছেন তাই অনুরোধ করবো বিনয় পিটক পড়ুন তারপর নিজেই উত্তরটা দিন সবার সামনে। আমি সহজেই বলে দিলে তো লাভ কিছুই হবেনা, এখন কারণ খুজতে গেলে অন্তত বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে আরো কিছু জানবেন। তাও করতে না পারলে পালি বিভাগের কারো কাছ থেকে জেনে নিন, তারপর নিজেই সত্যটা সবার সামনে বলুন হয়তো দিয়ে নয়।

    Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      কারণটা বলে দিলেই সবাই জানতে পারে। বিনয়পিটকতো আপনার পড়া আছে। বলে দিন কারণগুলো।

      Reply
      • উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

        হা বলবো তো অবশ্যই, শুধু কারণগুলো নয়। আপনি যে আরো কত জায়গায় মনগড়া কথা বলেছেন তা সহ একসাথে তুলে ধরবো। একটু অপেক্ষা করুন।

    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      মস্তক মুণ্ডিত কারণ বুদ্ধ নিশ্চয়ই বলেছেন। আমি জানতে চেয়েছি, ধর্মের নিয়মগুলোর সঙ্গে আবহাওয়া ও জলবায়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কিনা। এটা একটা হাইপোথিসিস। এজন্যেই হয়তো লেখা। পালি বিভাগের অধ্যাপকদের অনুরোধেই এই প্রবন্ধ লেখা। তারা প্রত্যেকে এর প্রশংসা করেছেন। এ প্রবন্ধটা কৃষ্টিতে ছাপা হয়েছে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন এ লেখাটা বৌদ্ধদের অনুমোদন পেয়েছে। ‘কেমনে হয়’ নয় প্রমিত বাংলায় বলতে হবে ‘কীভাবে হয়’। আমি যা কিছু বলেছি, কোনও না কোন বইতে পড়েছি বলেই বলেছি। আপনার মন্তবে যথেষ্ট অপমান রয়েছে। বৌদ্ধরাই যদি এভাবে আঘাত করতে শুরু করে তবে বাকিরাতো চাপাতি চাপাবেই।

      Reply
      • উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

        আপনার সাথে আমার ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা নাই। আর আপনি যে এখানে একটা প্রবন্ধ লিখেছেন তাও আমি জানতাম না। বৈৗদ্ধধর্ম সম্পর্কে জানেন এরকম বেশ কজন ব্যক্তি আমায় ফোন করে আপনার লেখা সম্পর্কে বলেছেন। আমি তাদের কথার সাথে মিলিয়ে নিলাম, পেলাম বেশ কিছু মনগড়া বক্তব্য এবং তথ্য বিকৃতি তাই মন্তব্য করতে আসলাম। মন্তব্য যদি না করি তবে আপনার ভুলগুলোও যে বৈধতা পেয়ে যাবে। আমি কিন্তু ১৩টা পয়েন্ট দিয়ে আপনার ত্রুটিগুলো নিরুপণের চেষ্টা করেছি। আরো কিছু ছিল কলেবর বৃদ্ধির ভয়ে এড়িয়ে গেছি। আশা করি পয়েন্টগুলো পড়ার পর আপনি বলবেন না আপনাকে আঘাত করতে এসেছি। আর আমার কথায় যদি অপমানবোধ করেন তবে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি কামনা করছি। আশা করি কেবলমাত্র যুক্তির জন্য যুক্তি না দিয়ে আপনার ত্রুটিগুলো সহজেই মেনে নেবেন।

    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      হাইপোথিসিস মনগড়াই হয়। আমার লেখার উত্‌স হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, বিপ্রদাশ বড়ুয়া প্রমূখ। এঁরা যদি তথ্যবিকৃতি করে থাকেন তবে দায় আমার নয়। এখন থেকে উজ্জ্বল বড়ুয়াদের লেখাই পড়তে থাকবো, কথা দিচ্ছি।

      Reply
      • উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

        হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, বিপ্রদাস বড়ুয়া’র কথা যে আপনি কতটা বিকৃতি করেছেন তাতো আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে-ই দিয়েছি। যাদের লজ্জাবোধ থাকে না, তারা কত কি-ই না বলতে পারে।

  31. এস.জ্ঞানমিত্র ভিক্ষু

    বৌদ্ধরা শুধু চট্টগ্রাম বা আপনার উল্লেখিত রাষ্ট্রে নয়, বৌদ্ধরা তিব্বত ,ভূটানে, ভারতের হিমাচল, লাদাখ, অরুণাচল, আসাম, মিজোরাম, পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র, কেরালা, তামিলনাড়ু, উত্তর প্রদেশ; পাকিস্তান, ইউরোপের ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, ইংল্যান্ড প্রভৃতি দেশে এমনকি এস্তোনিয়া ও আফ্রিকান বৌদ্ধ ভিক্ষুও আছেন। বাংলাদেশের পটুয়াখালী, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, কুমিল্লায়ও তারা আছেন। এগুলো অভিবাসী নন তারা সেখানের নাগরিক। অভিবাসীর কথা এখানে উহ্য।( ইন্টারনেট, বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও আমার প্রত্যক্ষকৃত)
    বৌদ্ধ ভিক্ষুরা নিছক ভিক্ষান্নে নয়, গৃহীর সম্মানযুক্ত আহ্বানে ও ভিক্ষুকতৃক ভিক্ষা যাচ্ঞা ব্যতিরেখে আহার করেন।
    যে কোন মাংস ভিক্ষুরা উপভোগ করেন না। মানুষ, হাতি, বাঘ, গন্ডার, কুকুর, বিড়াল, কুমির প্রভৃতি মাংস গ্রহণে নিষেধ আছে। আর গরুর মাংস নিষেধ না থাকলে গরুর বিবিধ উপকারীতার কথা বলে তা ভোজনে নিরুৎসাহিতও করা হয়েছে। ( মহাবর্গ- বৌদ্ধ বিনয় পিটক)
    লেখককে ধন্যবাদ লিখাটির জন্য। তবে এ বিষয়ে আরো বিশেষ জেনে ও তথ্যসূত্র সমেত উল্লেখ করে লেখাটি প্রকাশ জরুরী ছিল।

    Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      আমি বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর কথা বলেছি, এবং বলেছি ভারতবর্ষের কথা। পশ্চিমবঙ্গ, ফ্রান্স এসব জায়গায় জনগোষ্ঠী আছে বলে শুনিনি। কয়েক শ বা কয়েক হাজার ধর্মান্তরিত লোক দিয়ে জনগোষ্ঠী হয় না। তিব্বত, ভুটান ভারতবর্ষের অংশ নয়। লাদাখ, অরুনাচল, আসামে অবশ্যই বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী রয়েছে।

      Reply
  32. এস জ্ঞানমিত্র ভিক্ষু

    বুদ্ধ, বুদ্ধই। তাঁকে সম্মানারথেও দেবতা বলা অনুচিত।

    Reply
  33. এস.জ্ঞানমিত্র ভিক্ষু

    বুদ্ধ বুদ্ধই। উঁনাকে দেব বলা অযৌক্তিক। সম্মানার্থে হলেও দেব শব্দটি বুদ্ধের সাথে যায় না। বুদ্ধের জীবদ্দশায় আত্মা, পরলোক ও সৃষ্টিকর্তা নিয়ে তাঁর শিষ্যদের মধ্যে কোন বিসম্বাদ হয় নি।

    Reply
  34. চৌধুরী প্রতীক বড়ূয়া

    আপনি প্রচুর পড়েছেন ও শুনেছেন। সেই উৎসসমুহ প্রকাশ করে বাধিত করবেন।
    আর কিছু সঠিক উৎস ঘেটে দেখলেই আপনার লেখাটী পরিপুর্ণ হতে পারে।

    “…এক ভিক্ষু নাকি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বলে ফেলেছিলেন: ‘যাক, আজ থেকে আর ঘড়ি ধরে বিনয় পালন করতে বলবে না কেউ!’”
    কোনো সঠিক উৎসে এমন লেখা থাকার কথা নয়। হয়ত বোঝানোর সুবিধার্থে আপনি এমনটি করেছেন। কিন্তু পুরো লেখাটিতে আপনার বোঝানোটাই সঠিক আশা করি আপনিও তা বিশ্বাস করেন না। ধন্যবাদ।

    Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ‘বৌদ্ধধর্ম’ বইতে এই কথা আছে। বাক্যটা আমার। প্রকাশক: নবযুগ।
      বিশ্বাসের প্রশ্ন আসছে কেন? আমি যতদূর পারি বুঝিয়েছি। আমার ভুলও হতে পারে। আমিতো আর বুদ্ধ বা সর্বজ্ঞানী নই। আমার বোঝানোর কোথায় ভুল সেটা দেখাতে হবে। তাহলে আমিও শিখতে পারবো, অন্যরাও শিখতে পারবে। এটা একটা পপুলার লেখা। এটাকে গবেষণা মনে করলে ভুল করবেন। বৌদ্ধধ‍র্মের বিকাশ সম্পর্কে কিছু সাধারণ ধারণা দেয়াই এর কাজ।

      Reply
    • উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

      বুদ্ধের সময় কি ঘড়ি ছিল? যদি নাই বা থাকে তবে ঘড়ি ধরে বিনয় পালনের কথা কেউ বলতে যাবেন কেন? ….এরকম অনেকগুলো ত্রুটি আর বিকৃতি নিয়ে ভরপুর লেখাটি। শীঘ্রই পুর্ণাঙ্গ ভাবে সবগুলো একসাথে তুলে ধরে লিখবো আশা করছি।

      Reply
      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        সূর্যঘড়ি, বালিঘড়ি, জলঘড়ি… অনেক রকম ঘড়ি ছিল। অন্যের তথ্যকে মিথ্যা বলার আগে নিজে একটু লেখাপড়া করে নিলে ভালো হয়। তুলে ধরুন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, শুধু আশা করে থাকবেন না।

      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        ঘড়ি ধরে একটা কথার কথা। এর মানে সঠিক সময়ে সঠিক কাজ করা। ঘড়ি ধরে এখানে রূপক মাত্র। শব্দের তিন ধরণের অর্থ থাকে: অভিধা, লক্ষণা, ব্যঞ্জনা… এগুলো জানেন নিশ্চয়ই।

      • উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

        তুলে তো ধরলাম, এবার উত্তর দেন প্রতিটি পয়েন্ট এর।

    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      Many thanks for showing up the TRUTH! ইংরেজি একটু শিখতে হবে লেখার আগে।

      Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      প্রতিটি পয়েন্টের উত্তর আমি যথাসাধ্য দিয়েছি। আপনার মন্তব্যের অপেক্ষায় আছি। মাথা ঠাণ্ডা করে উত্তর দিন। আপনি খুবই রেগে আছেন। এটা বিনয় ও অষ্টাঙ্গিক মার্গ তথা বুদ্ধশিক্ষার খেলাপ।

      Reply
  35. ছাকিব

    “ত্রয়োদশ শতকের শুরুতে বখতিয়ার খিলজির নেতৃত্বে তুর্কি সৈন্যরা নালন্দা ও ওদন্তপুর বিহারের হাজার হাজার নিরস্ত্র, মু-িতমস্তক ছাত্র-শিক্ষক ভিক্ষুকে ‘কতল’ করার পর পাঠাগারের বইপত্রে আগুন ধরিয়ে দেয়”।

    – কোথায় পেলেন এই আজগুবি খবর? ইতিহাসের কোন বই থেকে? এমন কাল্পনিক আর্টিকেল ছাপানো ঠিক হয়নি বিডিনিউজের।

    Reply
    • Dr. Lokananda C. Bhikkhu

      You can find answers to your question in Al-Beruni’s book which was translated into English by Ed Sachow.

      Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      ভিক্ষুদের হত্যা প্রসঙ্গে:

      “He [ Bakhtiyar Khalji] used to carry his depredations into those parts and that country until he organized an attack upon the fortified city of Bihar. Trustworthy persons have related on this wise, that he advanced to the gateway of the fortress of Bihar with two hundred horsemen in defensive armour, and suddenly attacked the place. There were two brothers of Farghanah, men of learning, one Nizamu-ud-Din, the other Samsam-ud-Din (by name) in the service of Muhammad-i-Bakht-yar ; and the author of this book [ Minhaj] met with at Lakhnawati in the year 641 H., and this account is from him. These two wise brothers were soldiers among that band of holy warriors when they reached the gateway of the fortress and began the attack, at which time Muhammad-i-Bakhtiyar, by the force of his intrepidity, threw himself into the postern of the gateway of the place, and they captured the fortress and acquired great booty. The greater number of inhabitants of that place were Brahmans, and the whole of those Brahmans had their heads shaven; and they were all slain. There were a great number of books there; and, when all these books came under the observation of the Musalmans, they summoned a number of Hindus that they might give them information respecting the import of those books; but the whole of the Hindus were killed. On becoming acquainted (with the contents of the books), it was found that the whole of that fortress and city was a college, and in the Hindui tongue, they call a college Bihar” (Tabaqat-i-Nasiri, English tr. H G Raverty, pp.551-52).
      বই পোড়ানো প্রসঙ্গেও প্রমাণ দেয়া হবে।

      Reply
      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        অসিত কুমার সেন ‘তুর্কি ও আফগান যুগে ভারত’ পুস্তকে (পৃষ্ঠা:২০) লিখেছেন: তিনি (বখতিয়ার খিলজি) বিহারের বিভিন্ন স্থান আক্রমণ ও লুণ্ঠন করেন এবং ওদন্তপুরী, বিহার ও অন্যান্য বৌদ্ধ বিহার ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছিলেন। এই আক্রমণের সময় তিনি পাল ও সেন নৃপতিদের কাছ থেকে বিশেষ বাধাপ্রাপ্ত হন নাই। কেবলমাত্র কয়েকজন মুণ্ডিতশির শ্রমণ তাঁদের বাধাদান করেছিলেন বলে সমকালীন পারসিক ভাষায় লিখিত ইতিহাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সময় বৌদ্ধ বিহার ও বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্রগুলি তুর্কিরা ধ্বংস করে বৌদ্ধধর্মের উপর চরম আঘাত হেনেছিল।

      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        আরও প্রমাণ লাগলে দেয়া যাবে।

      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        আলবেরুনীর ভারততত্ত্বে আফগানিস্তানের জনগোষ্ঠীর উপর তুর্কি সুলতানদের অত্যাচারের বিবরণ আছে।

      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        হালাকু খানও বাগদাদের লাইব্রেরি জ্বালিয়ে দিয়েছিল। বহু সেনানায়ক পাঠাগার ধ্বংস করেছে। কদিন আগে মার্কিন বোমারু বিমান আফগানিস্তানে এক হাসপাতালে বোমা ফেলেছে। সেনাবাহিনীও ভুল করতে পারে!

    • prodip

      This is well recognized by the historians. Even you can read the ancient history written by one famous Persian polymath name Firistha who was the historian of Mamluk dynasty in Delhi. Even just k look into wikipedia to entertain your inquiry. Thanks.

      Reply
    • প্রদীপ

      মি ছাকিব, আপনি নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর যে কোন ইতিহাস পড়েন, সেখানে এটা র সত্যতা পাবেন । বক্তিয়ার খিলজি নালন্দা আক্রমন কোন আজগুবি কিছু নয়, যার ঐতিহাসিক সত্যতা এখানকার একটা অংশ স্বীকার করে না। আল্বেরুনি বা পারসিয়ান ঐতিহাসিক ফিরিস্থা রবরননায় ও এর সত্যতা মেলে। ফিরিস্থা ছিলেন মামলুক ডাইনেশটির রাজসভার ঐতিহাসিক। যারা স্বীকার করে না, তাঁদেরকে আপনি ও জিজ্ঞাসা করতে পারেন, যদি বক্তিয়ার তা ধ্বংস না করে থাকে, তাইলে কে করলো ?? সে রকম কোন ঐতিহাসিক সন্দর্ভ আছে কি কারো কাছে।
      আমি বিডি নিউজ কে ধন্যবাদ জানাব যে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে কোন বৌদ্ধ লেখকের লেখা তা ছাপাই নি বলে,কারন এখানকার বৌদ্ধ যারা লেখেন, তাঁরা সেই একই আজগুবি কাহিনী মেলে ধরে বুদ্ধকে যেন তেন ভাবে উপস্থাপন করেন।

      Reply
  36. পৃথ্বীরাজ মুখার্জী

    ধর্ম নিয়ে আরো বিস্তর গভেষণা হওয়া উচিত। প্রয়োজনে গভেষণা ইন্সটিটিউট স্থাপন করা উচিত।

    Reply
  37. সুশান্ত বড়ুয়া,

    বুদ্ধ কখনো দেবতা ছিলেন না । উনি একজন শিক্ষক , দার্শনিক এবং দূঃখ মুক্তির পথ আবিস্কারক ।

    Reply
    • Sujit Barua

      বুদ্ধকে হিন্দু ধর্মালম্বীরা দেব নামে অভিহিত করে।কিন্তু বৌদ্ধরা ভগবান বুদ্ধ বলে সম্বোধন করে।

      Reply
  38. সুশান্ত বড়ুয়া,

    বুদ্ধ আপনার আমার বন্ধু হলে ক্ষতি নেই । উনি সবার বন্ধু এবং সবার মৈত্রী পরায়ন । তবে দেব মানে দেবতা । উনাকে দেবতা বললে কিংবা হিন্দু ধর্মানুযায়ী অবতার বললে উনাকে ছোট করা হবে । বুদ্ধ মানে মহাজ্ঞানী এবং প্রজ্ঞা। কাজেই বুদ্ধ বললে সমস্যা নেই । তাই বুদ্ধ হচ্ছে বুদ্ধই ।

    Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      দেব মানে সব ক্ষেত্রে দেবতা নয়। দেব শব্দ দিয়ে সম্মানিত ব্যক্তিও বোঝাতে পারে।

      Reply
  39. ড. সমিমউল মওলা

    অসম্ভব ভাল, বহুদিন পর বুদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে আমি যে ধরনের চাইছিলাম, সে ধরনের একটি লেখা পড়ে পেলাম! লেখকের প্রতি আমার শ্রদ্ধা আর শুভেচ্ছা! নিম্নোক্ত কিছু বিশয়ে আমি লেখকের দৃষ্টি আকর্ষন করছিঃ
    ১. বুদ্ধ ধর্ম প্রথমে বৈদিক ধর্মের জাতপাতের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে সংস্কারমূলক বৈদিক ধর্ম হিসেবেই গড়ে উঠেছিল, পরবর্তীতে প্রায় হাজার বছর পর সেটি আলাদা ধর্ম হিসেবে পরিগনিত হতে শুরু করে-এমন মতামত!
    ২. বাংলাদেশে ক্ষমতায় পাল বংশ বৌদ্ধ ছিল-এই বংশের শাসনের শেষ সময় হঠযোগী বা গোরক্ষনাথীয় সম্প্রদায় বাংলা, উত্তর ভারত ও আসামে সম্ভবতঃ ভাল রকমের সক্রিয় হয়ে ওঠে, এদের সাথে বৌদ্ধদের একটা বড় সমর্ক ছিল, সেসব কি কি? উত্তর বঙ্গের কুড়িগ্রাম ইত্যাদি যায়গায় যে সব স্তুপের মত ছোট ছোট মন্দিরের মত ভগ্ন স্তুপ দেখা যেত, যে সবকে স্থানীয়রা কৃষ্ণমন্দির বলে (কৃষ্ণের কোন মন্দির হয় কি?), সে সন হঠযোগীদের কিনা? জেনারেল স্যার জন গ্রীয়ারসনের সংগৃহীত “মানিক রাজার গানে”র দেশ কাল কি কোন বৌদ্ধ রাজত্বের সময় না! ওই এলাকায় যোগী বলতে নিতান্তই হঠযোগীদের বোঝায় কিনা? কোলকাতায় এইচ এম ভিতে আদি কালে ত্রিশের দশকে রেকর্ডকৃত “যোগী ভিক্ষা লও রে” , এ যোগীর পরিচয় কি? একি শ্রমন? নাকি হঠযোগী?
    ৩. অবলোকিতেশ্বর, অমিতাভ, মঞ্জুশ্রী ইত্যাদি দশম শতাব্দীদের দিকের বাংলা পল্লী এলাকার লোকজ দেব দেবী, এরা তৃনমূলে সাধারন হিঁন্দু ও বৌদ্ধ উভয় দ্বারাই পূজিত হত, যদিও মূলতঃ বৌদ্ধতান্ত্রিক অভ্যূদয়, পাশা পাশি প্রতিবেশি হিন্দুদের ধর্ম ঠাকুর, মনসা, ষষ্টি্-ঠাকুরুন ইত্যাদি তৃনমূলে সাধারন হিঁন্দু ও বৌদ্ধ উভয় দ্বারাই পূজিত হত! তার মানে কি? তখনও বৌদ্ধ ধর্ম কি বৈদিক ধর্মের সংস্কার হিসেবেই শুধু ছিল (নাও হতে পারে)? যা পরে হাজার বছরে নতুন ও আলাদা ধর্ম হিসেবে প্রতিভাত?
    ৪. অতি আকর্ষনীয় ভাবে আপনি বাউল, বৈষ্ণব ও অন্যান্য অন্তর্লীন মানব সম্প্রদ্বায়ের ুতসের সন্ধান উল্লেখ করেছেন যা অত্যন্ত চমকপ্রদ কৌতুহূলুদ্দীপক, সামনা সামনি কথা হলে খুব ভাল হত? সময় করতে পারবেন কি একটু দয়া করে? আমি সামিমউল মওলা -কিছুটা অন্য জগতের মানুষ আমি (পিএইচডি, এম ফিল. এম পি এইচ. এমবিবিএস-ঢাকা)-ফোন ০১৭১২২৭৫০৬১

    Reply
    • উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

      যা পান তা-ই যদি গলধকরণ করেন তবে কিভাবে হয়? সম্ভবত শব্দের ব্যবহারে বাউল আর বৈঞ্চব জাতিগোষ্ঠীর উদ্ভবও দেখিয়ে দিলেন। একটি জাতিগোষ্ঠীর উদ্ভব যেখানে গবেষণার বিষয় সেখানে সম্ভবত দিয়ে অনুমান নির্ভর করেই যদি সব হয়ে যেতো তবে তো আর গবেষণার দরকার-ই পড়ত না। এই লেখাটিতে যে কতগুলো ত্রুটি রয়েছে তা আমি ১৩টি পয়েন্ট দিয়ে সংক্ষেপে প্রকাশ করেছি আশা করি পড়ে নেবেন আমার মন্তব্য থেকে।

      Reply
      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        ১৩ ধারার প্রতিটির জবাব দেয়া হয়েছে।

      • উজ্জ্বল বড়ুয়া বাসু

        ১৩ ধারার জবাবে যে আবারে উল্টা পাল্টা লিখেছেন তা উপরে পুণরায় প্রত্যুত্তর দেওয়া হয়েছে। যার যথাযথ জবাব দিতে না পেরে এড়িয়ে গেছেন।

    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      এই লেখা লিখে বিপদে আছি। হুমকি দেয়া হচ্ছে।

      Reply
    • প্রদীপ

      ধর্ম আর সংস্কৃতি সম্পূর্ণ আলাদা। সংস্কৃতির শেকড় অনেক গভীরে, মানুষের সামাজিক জীবনের সুদুর যাত্রায় তাঁর বিচরন। ধর্ম আসার সাথে সাথে মানুষ তাঁর সংস্কৃতিকে দুম করে ফেলে দিয়ে ধর্ম কে আঁকড়ে ধরেনি । এটাই চিরন্তন। তাই সেখানে মিথস্ক্রিয়া রয়েছে। লোকজ সংস্কৃতি , যেটা একেবারে মাটির, সেখানে বৌদ্ধ হিন্দু মুসলমান একই বর্ণের উত্তরিয় পড়েছিল আদিতে। কেউ ধরমগ্রন্থ পরে ধর্মে আসে নি। কোন ধর্মেই তা হয়ে উঠেনি । ধর্মের চেয়ে সংস্কৃতি অনেক বেশি শক্তিশালী ও প্রাণদায়িনী ।

      Reply
  40. সফি আহমেদ

    সংক্ষিপ্ত অথচ পুর্ন এই লেখার মধ্যে বুদ্ধদেব, বৌদ্ধধর্ম ইতিহাস,ব্যপ্তি এবং আজকের পাদপদ্য প্রকাশ করেছেন। শুভ কামনা

    Reply
  41. শান্তনু

    বুদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে অাপনি কিছুই জানেন না।

    Reply
      • সুব্রত বড়ুয়া রিংকু (কুমিল্লা-লাকসাম)

        মিঃ ভ্ট্টাচার্য্য শিখে নিন এইগুলো যুক্তবর্ণ টাইপে ভুল , আপনি জ্ঞানী হয়ে তো জানেন বাংলা যুক্তবর্ণ কম্পিউটারে লিখা কত জঠিল। তাড়াতাড়ি প্রত্যুত্তর দিতে এইরকম অনেক সময় হয়। তাছাড়া অনেক কম্পিউটারে উপযুক্ত বাংলা সফটওয়্যার থাকে না তাই যুক্তবর্ণ সঠিক ভাবে লিখার চেষ্ঠা করলেও তা আর হয় না। তাই বলে কি প্রত্যুত্তর থেকে বিরত থাকা যায় ? সঠিক ভাবে বাংলা কম্পিউটারে লেখা একজন টাইপিষ্টই পারেন আমরাতো আর আপনার মত একজন দোকানের টাইপিষ্ট না ! ! !

  42. সুশান্ত বড়ুয়া,

    আপনার লেখা অনেক ভালো লাগল । আরো অনেক ইতিহাস বাদ গেলো । তবে বুদ্ধকে বুদ্ধদেব না বললে ভাল হয় । কারণ -বুদ্ধই বুদ্ধ।

    Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      বুদ্ধ আমার বন্ধু নয় যে তঁাকে নাম ধরে ডাকবো। এখানে ‘দেব’ একান্তই সম্মানজনক একটি শব্দ।

      Reply
      • সুশান্ত বড়ুয়া,

        বুদ্ধ কখনো দেবতা ছিলেন না । উনি একজন শিক্ষক , দার্শনিক এবং দূঃখ মুক্তির পথ আবিস্কারক ।বুদ্ধ আপনার আমার বন্ধু হলে ক্ষতি নেই । উনি সবার বন্ধু এবং সবার মৈত্রী পরায়ন । তবে দেব মানে দেবতা । উনাকে দেবতা বললে কিংবা হিন্দু ধর্মানুযায়ী অবতার বললে উনাকে ছোট করা হবে । বুদ্ধ মানে মহাজ্ঞানী এবং প্রজ্ঞা। কাজেই বুদ্ধ বললে সমস্যা নেই । তাই বুদ্ধ হচ্ছে বুদ্ধই ।

      • Dr. Lokananda C. Bhikkhu

        Prof. Sisir-babu:
        If you want to honor Buddha, just address him as “Bhagavan Buddha” (not Buddhadeva). Buddhist do not like to call the Buddha as “Buddhadeva”. One can address Ramakrishna Paramahansa as RamakrishnaDEVA, (AKA Gadadhara Chetterji) because Gadadhara Chetterji was like a deva. Buddha was more than a deva. One can address his/her father as “pitrdeva”, teacher as “Gurudeva” a deity simply as “deva”. Buddha was above everyone. Hence Buddha was Bhagavan Buddha.

      • সুশান্ত বড়ুয়া,

        ভগবান মানে যদি সৃষ্টি কর্তা হয়, তাহলে বুদ্ধকে ভগবানো বলা যাবে না ।

      • স্বজন বড়ুয়া

        বুদ্ধ, বৌদ্ধ ধর্মের ইতিহাস অসত্যভাবে উপস্থাপন করা এবং তথাগত সম্যক্ সমবুদ্ধকে বারংবার একগুয়েমি করে বুদ্ধদেব সম্বোধন করা, বালোকচিত ও স্ব-ধর্মের সংকির্ণতার আবর্তে ডুবে থাকাই প্রমাণ করে। কোন ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতায় আঘাত করে লেখা সবার কাছে উদ্দেশ্য প্রণোদিতই মনে হবে। যাহা মঙ্গলকর নহে। সুতরাং অন্য ধর্ম বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে স্যারকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      ভগবান যদি বলা যায়, তবে দেব বলাতে দোষ কোথায়? ভগবান শব্দের একটি অর্থ সৃষ্টিকর্তা। যত ব্ড়ই হন, বুদ্ধ নিশ্চয়ই সৃষ্টিকর্তা নন! রামকৃষ্ণদেব মোটেই দেব ছিলেন না। লোকে তঁাকে সম্মান করে দেব বলতো।

      Reply
  43. Somen Bappi

    স্যারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি- ” লেখক বিভিন্ন বই পড়ে বৌদ্ধদের ইতিহাস সম্পর্কে কিছুটা জানলেও, সদ্ধর্ম সম্পর্কে কিছুই জানেননা। ” সদ্ধর্ম সম্পর্কে তাহার ভূল ব্যাখ্যা গুলো পড়ে কষ্ট পেলাম। ভগবান বুদ্ধের ত্রি-স্মৃতি বিজড়িত বুদ্ধ পূর্ণিমা দিনে বৌদ্ধদের প্রতি অপমানজনক এধরণের লেখা বিডিনিউজ বা অন্য কোন সংবাদ মাধ্যমের নিকট কাম্যনয়।

    Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      কোন ব্যাখ্যাগুলো ভুল এবং অপমানজনক সেটা জানালে সংশোধন করা সম্ভব হয়।

      Reply
      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        তুমিই লিখ না কেন একটি কবিতা!
        জীবনানন্দ দাশ

  44. Somen Bappi

    স্যারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি- ” লেখক বিভিন্ন বই পড়ে বৌদ্ধদের ইতিহাস সম্পর্কে কিছুটা জানলেও, সদ্ধর্ম সম্পর্কে কিছুই জানেননা। ” সদ্ধর্ম সম্পর্কে তাহার ভূল ব্যাখ্যা গুলো পড়ে কষ্ট পেলাম। ভগবান বুদ্ধের ত্রি-স্মৃতি বিজড়িত বুদ্ধ পূর্ণিমা দিনে বৌদ্ধদের প্রতি অপমানজনক এধরণের লেখা BDNEWS24 বা অন্য কোন সংবাদ মাধ্যমের নিকট কাম্যনয়।

    Reply
    • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

      কোন কথাগুলো অপমানজনক একটু জানালে ভালো হয়। সদ্ধর্ম সম্পর্কে আমি কোনো ব্যাখ্যা দিইনি। আমি রেফারেন্স দিয়েছি। যাদের বই আমি পড়েছি তাদের মধ্যে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীও আছেন। তাঁরা যদি ভুল বলে থাকেন, দায় আমার নয়। এই লেখায় বুদ্ধ বা বৌদ্ধ ধর্ম সম্পর্কে একট নেতিবাচক কথা নেই।

      Reply
  45. pradip

    Boddha not a বুদ্ধদেব, Boddha was the greatest Human being in the world. the woke up one/ The enlightened one

    Reply
    • Bablu Mutsuddy

      শ্রদ্ধেয় Sir, সবাই সব কিছু জানবে এমন কোন কথা নেই এবং সবাই সবকিছু জানে না । কেউ যদি বলে আমি সব জানি তাহলে বুঝে নিতে হবে তাদের জ্ঞানের পরিধি অল্প। আমার চোখেও কয়েকটি ভুল ধরা পরাতে সংশোধন প্রার্থনায় উল্লেখ করলাম ।
      আপনি বলেছেন ভিক্ষুর পোষাক হবে খুব আরামদায়ক হবে না । বুদ্ধ তার শিষ্যদের ঋতু উপযোগী যেমন সুতি, রেশম, তুলা, পাট, পুরু কাপড় গ্রহন করা ও পড়ার কথা বলেছেন, যা বিনয় বিটকের মহাবগ্গের ভিক্ষুর চারি আবলম্ব কথায় বর্ণিত আছে । বুদ্ধের নিয়ম নীতিতে একজন মানুষ গৃহে বসাবাস করার তুলনায় প্রব্যজিত জীবন অনেক স্বাধীন, মানসিক শান্তি ও আরামপদ। ক্ষেত্র বিশেষে ধর্মের অনুকূলে যখন যেটা করনীয় তা করা যায়। যদি কোন ভিক্ষু/ভিক্ষুনী ইচ্ছা করে অল্পে সন্তুষ্ট, দান গ্রহনের ইচ্ছা পোষন না করেন তিনি চাইলে কুৎসিত, ছেড়াফাটা (পাংশুকুলিক) কাপড় পড়তে পারেন কিছুটা মাত্র কঠোর হতে পারেন যা তার বস্তু ক্লেশ জনিত লোভ ক্ষীণ হবে ।
      আপনি বলেছেন সিদ্ধার্থ সংসার ত্যাগ করে দীর্ঘ ছয় বৎসর বিভিন্ন মত ও পথ অনুসরণ করে সাধনা করার পর বুদ্ধত্ব লাভ করেন । দেখুন মাত্র কয়েক শব্দের ব্যবহার এদিক ওদিক হলে কি ঝামেলাই না হয়। বুদ্ধ ছয় বৎসর ধরে কোন পথ বা মত অনুসরণ করেনি । তিনি ছয় বৎসর ধরে তার সঠিক পথটা খুজেঁছেন সমসাময়িক শিক্ষকের কাছে, কিন্তু তাদের শিক্ষা কাজে আসেনি । তিনি নিজ চেষ্টায় মধ্যম পথ অবলম্বন করে মাত্র একদিনে আলোকপ্রাপ্ত বা প্রজ্ঞা লাভ করেন, কারন সম্যক সম্বুদ্ধগণ নিজেই চতুরার্য সত্য উপলদ্ধি করেন।
      আপনি বলেছেন বুদ্ধ হবার আগে ‍সিদ্ধার্থ পাচঁশত পঞ্চাশ বোধিসত্ত্ব জন্ম পার করে এসেছেন । আপনি একটু তথ্য গ্রহন বা প্রয়োগ করতে ভুল করেছেন । গৌতম সম্যক সম্বুদ্ধ ‘দীপঙ্কর সম্যক সম্বুদ্ধ’র নিকট বুদ্ধ হবার জন্য পার্থনা করার পর হতে চার অস্যংখ্যেয় এক লক্ষ কল্পকার পুণঃ জন্ম করত পারমী পূরণ করেন । বুদ্ধের পয়ঁতাল্লিশ বৎসর সদ্ধর্ম দেশনায় পাচঁশত পঞ্চাশ জন্ম উদাহরন দেবার জন্য দেশনা করেছিলেন ।

      পরিশেষে বলব, মানুষ মাত্রই ভুল একথা এক বাক্যে স্বীকার্য। কিন্তু স্যার কিছু ভুল আছে যা গ্রহন করা যায় না । আপনি একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আপনার পদবীর পিছনে আছে এমন বিশ্ববিদ্যালয় যে কেউ শুনে ভ্রু উপরে উঠাবে । আপনি লেখাগুলো কিভাবে লিখেছেন বা কোন জায়গা থেকে সংগ্রহ করেছেন সেটা বড় বিষয় নয়। বিষয়টা হচ্ছে বেশির ভাগ মানুষ সানন্দে গ্রহন করে নিয়েছে বা নিচ্ছে ।

      Reply
      • শিশির ভট্টাচায‍র্্য

        আমার কোন কথাটা আপনার কথা থেকে পুরোপুরি আলাদা বোঝা যাচ্ছে না। বুদ্ধের যে কোনো জীবনীতে বুদ্ধ হবার আগে ছয় বছর ধরে বিভিন্ন গুরুর মতানুসারে সাধনা করার কথা লেখা আছে। তাতে ফল হয়নি, কিন্তু তার মানে কি এই যে তিনি সমসাময়িক গুরুদের উপদেশ অনুসারে সাধনা করেননি? এক লক্ষ জন্মের জাতক আমাদের হাতে নেই। পাঁচশত পঞ্চাশ জাতকের কথা আছে। বুদ্ধের কত জন্মান্তর হয়েছিল তা কি আমার প্রবন্ধের জন্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়? প্রবন্ধের শিরোনাম খেয়াল করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—