গত বছর যতবার ভেবেছি আমি সুস্থ হতে শুরু করেছি, ততবারই তা যেন ভেঙে পড়েছে প্রতিটা হত্যার ঘটনায়।

মনে আছে টুটুলের হত্যাচেষ্টা আর দীপনের হত্যার দিন আমি ১৪ ঘণ্টা একটানা একটা চেয়ারে বসে থেকেছি, কী যে অদ্ভুত এক ক্ষুব্ধতা নিয়ে বসে থেকেছি তা ভাবলেও গা শিউরে ওঠে। সেদিনই দীপনের বাবার কথার সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেছিলাম, ‘আমিও চাই না অভিজিতের হত্যার বিচার, আমাদের উপর নৃশংস মধ্যযুগীয় আক্রমণের’। জানতাম এসব হত্যার বিচার করার সদিচ্ছা এ সরকারের থাকার কথাও নয়।

আর গত বছর এই দিনে?

২৬ ফেব্রুয়ারি আমাদের উপর আক্রমণের পর অনন্ত প্রমিজ করেছিল, আমি পড়ি কি না পড়ি সে আমাকে প্রতিদিন একটা করে ইমেইল করবেই। আমাদের উপর আক্রমণের পরে আমার ব্যক্তিগত আইফোন আর পাওয়া যায়নি, কিন্তু আমার অফিসের ব্ল্যাকবেরিটা ছিল তখনও। কাজের ইমেইলেই প্রতিদিন একটা করে ইমেইল করত অনন্ত। স্কয়ারের আইসিউতে ওই চারদিন তো ইমেইল দেখার মতো অবস্থা ছিল না; কিন্তু তারপর আমেরিকায় মেয়ো ক্লিনিকের আইসিউতে থাকার সময় প্রতিদিন ‘দিদি কেমন আছ’ বলে ইমেইল করত অনন্ত। চোখে এখনও ভাসে সেই ইমেইলগুলো।

শুনেছিলাম, আক্রমণের কথা শুনে তখনই সিলেট থেকে ঢাকায় চলে এসেছিল, কিন্তু ডাক্তাররা দেখা করতে দেয়নি বলে স্কয়ারের দরজাতেই বসে ছিল সে। ওকে অনেক বার বলেছিলাম, “তুমি তো টার্গেট হবেই, কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে থাক, আমি ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।’’ শোনেনি। বলেছিল, চাকরি ছেড়ে, অসুস্থ বাবাকে ছেড়ে কীভাবে যাবে সে।

গত বছর এই দিনে, ভাইবারে এক বন্ধু আমাকে খবরটা দিয়েছিল। আমি এক ফোঁটা চোখের পানিও ফেলিনি, আবারও স্তব্ধ হয়ে বসেছিলাম অনেকক্ষণ। চোখে জল আমার এমনিতেই কম আসে, গত বছরের পর যেন তা হারিয়েই গেছে।

Ananta cover - 1
এই বয়সেই সে বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানমনস্কতার ছোট কাগজ ‘যুক্তি’ বের করত

সেই কোন ছোট্টবেলা থেকে মুক্তমনায় লেখালেখি করত অনন্ত; আমাকে দিদি ডাকত– ইউনিভার্সিটিতে পড়ার শুরু থেকেই মনে হয়। দেশে গেলে সিলেট থেকে দেখা করতে চলে আসত ঢাকায়। আমি জোর করে ওর পকেটে বাসের ভাড়াটা গুঁজে দিতাম; বলতাম, ‘‘পড়ালেখা শেষ করে চাকরি পেলে শোধ করে দিও।’’

‘বিবর্তনের পথ ধরে’ বইটা লিখতে লিখতে তিতিবিরক্ত হয়ে বলেছিলাম, ‘‘পারব না আর ইনডেক্স তৈরি করতে।’’

অনন্ত ঢাকায় এসে, কদিন সেখানে থেকে ইনডেক্সটা তৈরি করে দিয়ে গিয়েছিল নিজ থেকেই।

কিছু কিছু সম্পর্ক আছে ব্যাখ্যা করা যায় না। জীবনে মাত্র কয়েকবার দেখা হয়েছে অনন্তের সঙ্গে। কিন্তু ওর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা সে রকমই ছিল। কী দেব এর নাম? বন্ধু, ভাই, কমরেড? জানি না। দরকারও নেই বোধহয়।

অনেকেই ব্লগে লেখালেখি করে, অনেকেই ফেসবুকে অনেক কিছু লেখে। কিন্তু মৌলিক চিন্তার অধিকারী খুব কম লেখকই হয়ে উঠতে পারে। ওর সঙ্গে আমার চিন্তার পার্থক্য ছিল অনেক কিছুতেই, কিন্তু ওর অমায়িকতা এবং স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারার ক্ষমতায় মুগ্ধ হতাম সব সময়। এই বয়সেই সে বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানমনস্কতার ছোট কাগজ ‘যুক্তি’ বের করত। ‘পার্থিব’, ‘ডারউইন: একুশ শতকে প্রাসঙ্গিকতা এবং ভাবনা’, ‘জীববিবর্তন: সাধারণ পাঠ’সহ বেশ কয়েকটা বইও প্রকাশ করেছিল।

দেশে এখন যা হচ্ছে তা তথাকথিত ‘নাস্তিক ব্লগার’ মারার পরিধি ছাড়িয়ে গেছে কবেই। নাস্তিক মারা দিয়ে ওরা হাত পাকিয়েছে, এখন সেই পাকা খুনি-হাতের থাবা বিস্তৃত হয়েছে আরও বহুদূর। এই ব্লগাররা ওদের জন্য খুব সোজা টার্গেট ছিল।

একটু খেয়াল করলেই দেখবেন যে, এখন সব ধরনের সংখ্যালঘুতা (মাইনরিটি) এবং বহুত্বটাই (ডিভারসিটি) টার্গেট করা হচ্ছে। শিয়া, হিন্দু, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ, পুরোহিত, পাদ্রি, সমকামী জনগোষ্ঠী, সেকুলার অ্যাকটিভিস্ট, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক– কেউ বাদ নেই। এই ইসলামি সন্ত্রাসীরা শুধুমাত্র তাদের দ্বারা অনুমোদিত চরমপন্থী ওয়াহাবী ইসলাম ছাড়া আর কোনো গোষ্ঠীকেই সমাজে টিকে থাকতে দিতে রাজি নয়। শুধুমাত্র তাদের মত ছাড়া আর কোনো মত তারা প্রকাশ করতে দেবে না। চিরপরিবর্তনশীল সমাজ এবং সংস্কৃতিকে তারা বদ্ধ পঙ্কিল জলাশয়ের মতোই আটকে ফেলতে চায়– প্রতিক্রিয়াশীলেরা যেটা সব সময় চেয়েছে।

প্রগতিশীলতা আর প্রতিক্রিয়াশীলতার এই দ্বন্দ্ব সমাজে নিরন্তর চলতেই থাকে। তবে যখন প্রতিক্রিয়াশীলেরা ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে তখনই সেটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।

১৮০০ শতাব্দীতে ওয়াহাবী মতাদর্শের প্রতিষ্ঠাতা আবদ-আল-ওয়াহাব এবং সৌদ বংশের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ-বিন-সৌদের মধ্যে ঐক্য স্থাপিত হওয়ার পর পৃথিবীব্যাপী ওয়াহাবী ইসলাম বিস্তৃতির কাজে এতটা সাফল্য তারা আর কখনও পায়নি। সেই পুরনো ধর্ম এবং রাজনীতির মেলবন্ধন। এর পিছনে অটোমান সাম্রাজ্যের পতন, সৌদ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা, তেল আবিষ্কার এবং এই তেলের রাজনীতি ঘিরে ব্রিটেন এবং আমেরিকার সরাসরি সহযোগিতায় সৌদি আরব এবং সংশ্লিষ্ট আরব দেশগুলোর ক্ষমতা ও প্রতিপত্তির বিস্তার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। খুব অল্প সময়েই তারা কোরানের আক্ষরিক ব্যাখ্যাসমৃদ্ধ ওয়াহাবী মতবাদের ইসলামকে অন্যান্য মুসলিম দেশ এবং সংস্কৃতিতে দ্রুত প্রসারিত করতে সক্ষম হয়েছে।

তারা এতটাই সফল হয়েছে এই কাজে যে, পৃথিবীর বেশ বড় এক মুসলিম জনগোষ্ঠীর কাছে এটাই এখন ইসলামের একমাত্র রূপ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। অথচ ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় কত দেশে কত ধরনের কত রূপের ইসলামেরই না অস্তিত্ব আছে এবং ছিল পৃথিবীতে– এবং সে কথা সব বড় বড় বৈশ্বিক ধর্ম সম্পর্কেই প্রযোজ্য।

 

Religion - 1
তারা এতটাই সফল হয়েছে যে, বেশ বড় এক মুসলিম জনগোষ্ঠীর কাছে এটাই ইসলামের একমাত্র রূপ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে

 

ধর্ম বরাবরই ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে রাজনীতির হাত ধরে এবং এই পারস্পরিক মিথোজীবীতার সম্পর্কটার নাম দেওয়া যায় ‘আনহোলি অ্যালায়েন্স’। ধর্ম রাজনীতির বৈধতা দেয়, আর বিনিময়ে সম্পদ, ক্ষমতা ও যা কিছু ইহকালে ভোগ্য, সে সবের পরিপাটি ভাগ পায়। একটা উইন-উইন সিচুয়েশন।

সেই যিশুর জন্মের অন্তত তিন সহস্রাব্দেরও বেশি আগে মহেঞ্জোদারোর সভ্যতা, বা তিন সহস্রাব্দ আগের সুমেরীয় সভ্যতা, কিংবা আড়াই হাজার খ্রিস্টপূর্বেরও বেশি পুরনো মিশরীয় সভ্যতা থেকে আধুনিক সব সেমেটিক ধর্মেও একই সুর বহমান। রোমে খ্রিস্টান ধর্মের পত্তন থেকে শুরু করে ওয়াহাব-সৌদ ঐক্যের কাহিনি, ক্রুসেড বা আধুনিক যুগের আমেরিকা-বিন লাদেন ঐক্য এবং আমাদের সরকার আর হেফাজতের ভালোবাসার কাহিনিও কম-বেশি একই সুরে বাঁধা।

উপনিবেশ-পরবর্তী যুগের সাম্রাজ্যবাদী পলিসি, আমেরিকান এবং রাশিয়ান ব্লকের মধ্যে তেল এবং বিশ্ব-সম্পদের কর্তৃত্ব নিয়ে হানাহানি, বিভিন্ন মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐতিহাসিক বিবাদ, স্থানীয় স্বৈরশাসক এবং অগণতান্ত্রিক সরকারের সাম্রাজ্যবাদের লেজুড়বৃত্তি এবং ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতে এখন যেন এই মধ্যযুগীয় ইসলামিক স্টেট বা আল কায়দা ভার্সনের ইসলামি আদর্শ হয়ে উঠেছে একমাত্র ত্রাণকর্তা। হতাশাগ্রস্ত, অবিরত সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন এবং ভিতরের ও বাইরের যুদ্ধ-বিগ্রহে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন মধ্যপ্রাচীয় সুন্নি মুসলমানদের একটা অংশের কাছে যেন এটাই একমাত্র মুক্তির উপায় হিসেবে প্রতিভাত হচ্ছে আজ।

এদিকে, বাংলাদেশের বাঙালির ইতিহাস পড়লে বা আঞ্চলিক শিল্প-সাহিত্য দেখলে মনে হয়, সাম্প্রদায়িকতার রেশ এখানে সব সময় অল্পবিস্তর ছিল, বড় দাগে ইসলামি এবং হিন্দু মৌলবাদের শেকড় এখানে অনেক আগে থেকেই প্রোথিত ছিল। তবে সমাজে সেটা কতখানি শক্তভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল সেটা হয়তো গবেষণার বিষয়।

গত কয়েক দশকে, বাইরে থেকে ওয়াহাবিজমের সরাসরি ইঞ্জেকশান, ইসলামভিত্তিক রাজনীতি এবং ব্যাপক মাদ্রাসা শিক্ষার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক এবং সাংষ্কৃতিকভাবে (অর্থনৈতিকভাবেও বাদ পড়েনি অবশ্য) ইসলামিকরণের ব্যাপক উদ্যোগ ইত্যাদি যেন দেশে আরেক প্যারাডাইমের জন্ম দিয়েছে। প্রযুক্তির সুতোয় বাঁধা আজকের পৃথিবীতে এক ধরনের বিশ্ব ইসলামি উম্মা তৈরি হতেও বেশি সময় লাগেনি। আর সব ধর্মের মতোই ইসলাম ধর্মের অভ্যন্তরীন কিছু হিংস্র মতাদর্শগত অবস্থান এবং মৌলবাদও পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

ইউরোপে পুঁজিবাদী বিকাশের অংশ হিসেবে অন্যান্য আব্রাহামিক ধর্মগুলো, বিশেষত খ্রিস্টান ধর্ম যে রিফরমেশনের মধ্য দিয়ে গেছে সেটা ইসলাম ধর্মে এখনও না ঘটায় ধর্মগ্রন্থের আক্ষরিক ব্যাখ্যা বা ওয়াহাবী ইসলাম বিশাল এক জনগোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পেরেছে এত সহজে।

ওদিকে দেশের ভিতরে সাম্রাজ্যবাদী কর্পোরেট পুঁজি এবং কনজিউমারিজমের অনিবার্য আগ্রাসন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দারিদ্র্য, ব্যাপক আয়বৈষম্য, দুর্নীতি ইত্যাদির মতো প্রধান কারণগুলো তো ইতোমধ্যে বিদ্যমান ছিল। সেই সঙ্গে এবার যোগ হল মধ্যপ্রাচ্যব্যাপী অস্থিরতা এবং সুচিন্তিতভাবে গত কয়েক দশক ধরে ওয়াহাবী ইসলাম বিস্তারের প্রভাব।

তাই অবাক হই যখন দেখি এত জটিল এই বৈশ্বিক সমস্যাটাকে একদম শুধুই ‘ইসলামের সমস্যা’ আর আরেক দল শুধুই ‘সাম্রাজ্যবাদের সমস্যা’ বলে মুখে খই ফোটানোর চেষ্টা করেন। আজকে পৃথিবীব্যাপী যে হিংস্র এবং নড়বড়ে এক ভয়াবহতার সৃষ্টি হয়েছে তার ভিত্তি অনেক গভীরে প্রোথিত। সেই আলোচনা এই অল্প পরিসরে করা ঔদ্ধত্যেরই শামিল। ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়া, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, সে সময় উপনিবেশিক শক্তিগুলোর স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্য মাথায় রেখে পৃথিবীর বিশাল এলাকা জুড়ে যথেচ্ছ রাষ্ট্রসীমানা টানা, ইসরাইল-প্যালেস্টাইন দ্বন্দ্ব, কোল্ড ওয়ার এবং কোল্ড ওয়ার-পরবর্তী সাম্রাজ্যবাদী কামড়া-কামড়ি, তেলের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জটিল লড়াই, আরব ন্যাশনালিজমের উদ্ভব এবং সেখানে নির্লজ্জ সাম্রাজ্যবাদী হস্তক্ষেপ ইত্যাদির মতো জটিল সব বিষয় গোণায় ধরে এই আলোচনায় নামতে হবে।

সেই সঙ্গে ইসলামের ভিতরের হিংস্রতা এবং মৌলবাদের সমালোচনাও করতে পারতে হবে। আজকের প্রগতিশীল এবং সচেতন বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ এবং বিশেষজ্ঞদের একই সঙ্গে সাম্রাজ্যবাদ এবং ইসলামি মৌলবাদের সমালোচনা করার ক্ষমতা থাকা অতীব প্রয়োজন হয়ে পড়েছে এই মুহূর্তে।

 

Religion - 222
ধর্ম বরাবরই ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে রাজনীতির হাত ধরে, এই পারস্পরিক মিথোজীবীতার সম্পর্কটার নাম ‘আনহোলি অ্যালায়েন্স’

 

এ রকম একটা জটিল পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের মতো একটা দারিদ্রপীড়িত দেশের সরকার এবং জনগণের দায়িত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর সেকুলার কন্সটিটিউশানসহ একটা আধুনিক রাষ্ট্রের সরকার যখন রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য নিজেই সংখ্যালঘু, বহুত্ব এবং স্বাধীন মতের টুঁটি চেপে ধরে, তখন বিচারহীনতার সংস্কৃতি আস্কারা পেতে বাধ্য।

বাংলাদেশের সরকার এখন রাজনৈতিক কারণে হেফাজতের মতো প্রতিক্রিয়াশীল ধর্মীয় মৌলবাদীদের সঙ্গে আঁতাত করে, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার না করে, হত্যার জন্য তাদের বিচার না করে বরং নাস্তিক ব্লগারদের মৃত্যুর জন্য লজ্জাজনকভাবে তাদের লেখালেখিকেই দায়ী করে। সমকামিতা ‘সমাজবহির্ভূত’ আখ্যা দিয়ে সমকামীদের হত্যা জায়েজ করে। অথচ ধর্মহীন এবং সমকামীদের সংখ্যা হিসাব করলে তা পৃথিবীতে মোট জনগোষ্ঠীর ২০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। পৃথিবীর সব পশচাদপদ উৎপীড়নকারী সরকারের কাছেই জানতে ইচ্ছে করে, এত মানুষকে আপনারা শাস্তি দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারবেন?

কদিন আগের রিপোর্টে দেখা গেল, গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসীদের বেশিরভাগই নাকি জামিনে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। অনন্তের কেইসে ধরা ব্যক্তিটিও বোধহয় জামিন পেয়ে গেছে। দীপন, অভিজিৎ এবং আমার উপর হামলাকারীরা নাকি কেউ কেউ দেশ ছেড়ে চলে গেছে! প্রশ্ন হল, তারা সেটা জানলেন কীভাবে, জানলে ঠেকালেন না কেন, কিংবা তাদের গ্রেপ্তার করলেন না কেন!

ওহহো, আমি বোধহয় খুব ভুলভাল প্রশ্ন করে ফেললাম, যার উত্তর সবাই জানেন। ডিলানের ভাষায়, ‘দ্য অ্যানসার ইজ ব্লোয়িং ইন দ্য উইন্ড’।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য সরকার আজ যে বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে লাই দিয়ে যাচ্ছে এবং মৌলবাদী দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারে সহায়তা করছে তার ফলাফল ভয়াবহ হতে বাধ্য। এ রকম অবস্থায় সমাজ-জুড়ে ধর্মীয় সন্ত্রাসের থাবা আরও বিস্তৃত হবে সেটাই তো স্বাভাবিক। তাই এখন হত্যাকাণ্ড ছড়িয়ে পড়েছে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে শুরু করে প্রগতিশীল অ্যাকটিভিস্ট বা সাহিত্যমনা ইউনিভার্সিটির শিক্ষক পর্যন্ত। দেশে কেউ আজ আর নিরাপদ বোধ করছেন না।

কিছুক্ষণ আগে এক সংখ্যালঘু লেখক বন্ধু জানাল, তাকে নাকি নিয়মিতভাবে জীবনের হুমকি দিয়ে ফোন করা হচ্ছে বিভিন্ন জায়গা থেকে, প্রস্তুত থাকতে বলা হচ্ছে। দেশে মোহাম্মদ জাফর ইকবালের মতো সম্মানিত একজন লেখক এবং শিক্ষককেও যখন পুলিশি নিরাপত্তা নিয়ে চলাফেরা করতে হয়, তখন কী করে সে দেশের সরকার সব কিছু সুস্থ এবং স্বাভাবিক আছে বলে দাবি করে তা আমাদের ধর্তব্য নয়।

যে দেশে এক মাসে ছয়জন নাগরিক ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হয় সে দেশের সরকার কী করে এগুলোর দায় নেবে না বলে সেটাও বোঝা কঠিন। তবে দায় তারা নিক আর না নিক, ভারতীয় উপমহাদেশের আল কায়দা আর আইসিস কিন্তু একের পর এক হত্যাগুলোর দায় স্বীকার করেই যাচ্ছে।

আমাদের সরকার বোধহয় বুঝতে পারছে না যে, যে কোনো প্রতিক্রিয়াশীল ধর্মীয় মৌলবাদীর সঙ্গে আঁতাত কখনও সুফল বয়ে আনতে পারে না, ইতিহাস জুড়েই এর ভুরি ভুরি সাক্ষ্য ছড়িয়ে আছে। বিন লাদেনের সঙ্গে আমেরিকার বন্ধুত্বের ফলাফল তো আমরা দেখেছি। ইরানে কমিউনিস্টদের সঙ্গে ইসলামিস্টদের আঁতাতের ফলাফলও দেখেছিলাম। ইরাক এবং সিরিয়ায় আইসিসকে অন্ধভাবে বাড়তে দিয়ে পৃথিবীব্যাপী আজ যে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হয়েছে তার উদাহরণও চোখের সামনেই রয়েছে।

এ রকম পরিস্থিতিতে দেশের প্রগতিশীল অংশটি এগিয়ে না এলে অবস্থা আরও খারাপের দিকেই যেতে বাধ্য। আতঙ্ক ছড়িয়ে থাকা সমাজেও খুব কম হলেও কেউ কেউ যে এগিয়ে আসছেন, প্রতিবাদ জানাচ্ছেন, সেটা অবশ্যই সুলক্ষণ।

প্রায়ই ভাবি অভিজিৎ, অনন্তরা থাকলে এখন কী বলত, কী ভাবত। ওদের জ্ঞানের গভীরতাটা যেহেতু জানি, তাই বুঝি আজকের পরিস্থিতির জটিল ডায়নামিক্স এবং বুৎপত্তিটা বোঝার চেষ্টা করত। আর নিজের ক্ষুদ্র পরিসরে যতটুকু কাজ করা সম্ভব, অদম্যভাবে তাই করে যাওয়ার চেষ্টা করত।

চলুন আমরাও তাই করার চেষ্টা করি।

বন্যা আহমেদমুক্তমনা লেখক; আমেরিকার ক্রেডিট ইন্ডাস্ট্রিতে সিনিয়র ডিরেক্টর ও ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসে ভিজিটিং স্কলার হিসেবে কর্মরত

৬৬ Responses -- “যেখানে রাষ্ট্রই অনন্তদের চুপ করিয়ে দিতে চায়”

  1. আবু সাঈদ খান

    @শামান সাত্ত্বিক,
    দুটি পোস্টে কুরআনের যে বিষয়গুলো উত্থাপিত হয়েছে, তার মেরিট বিচার করলে বোঝা যায়, এগুলোর উত্তর জানার আকাঙ্খা থেকে তা করা হয়নি। “Explanation of 18:86” অথবা প্রয়োজনীয় “key word” দিয়ে গুগল এবং ইউটিউব সার্চ দিয়ে এ সংক্রান্ত সকল বিষয়ের ভুরি ভুরি যুক্তি-তর্ক যে কেউ দেখে নিতে পারে।

    জাপানকে সূর্যোদয়ের দেশ বলে। এ কথার দ্বারা একমাত্র গাঁজাখোর ও পাড় মাতাল টাইপের লোকই মনে করতে পারে জাপান দেশের ভুমি ফুঁড়ে সূর্য উদিত হয়।

    উত্থাপিত বিষয়গুলোতে ধরেই নেয়া হয়েছে সেগুলো ভুল এবং সেকথার প্রকাশও রয়েছে সাত্ত্বিক বাবুর লেখায় -“আল্লাহ কেমন করে এত বড় ভুল করলেন”। দু’কলম বিজ্ঞান পড়ে, এক নগন্য সৃষ্টির স্বীয় স্রষ্টার বিরুদ্ধে এটা চূড়ান্ততম ঔদ্ধত্য।

    সুতরাং সেই অহংকার এবং ঔদ্ধত্য যারা পোষণ করে তাদের ব্যাপারে কুরআনুল কারীম থেকে সামান্য কিছু উদ্ধৃতি দিতে চেষ্টা করব।

    কুরআনে এদের বিদ্যাবুদ্ধি নিয়ে পরিহাস করা হয়েছে – “তাদের জ্ঞানের দৌড় বা পরিধ ওটুকুই, নিঃসন্দেহে তোমার প্রভুই ভাল জানেন তাকে যে তার পথ থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে, আর তিনিই ভাল জানেন যে সৎপথপ্রাপ্ত।“– ৫৩:৩০।

    তাদের জীবনের বিশ্বাস তাদেরই ভাষ্যমতে –
    ”আমাদের এই দুনিয়ার জীবন ছাড়া কিছুই তো নেই, আমরা মরব আর আমরা বেঁচে আছি, আর আমরা তো পুনরুত্থিত হব না।-২৩:৩৭

    অন্তরের রোগ

    “আর যখন কোন সূরা অবতীর্ণ হয়, তখন তাদের কেউ কেউ বলে, এ সূরা তোমাদের মধ্যেকার ঈমান কতটা বৃদ্ধি করলো? অতএব যারা ঈমানদার, এ সূরা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করেছে এবং তারা আনন্দিত হয়েছে। বস্তুতঃ যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এটি তাদের কলুষের সাথে আরো কলুষ বৃদ্ধি করেছে এবং তারা কাফের অবস্থায়ই মৃত্যু বরণ করলো।“-৯:১২৪-১২৫

    [أَمْ حَسِبَ الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ أَنْ لَنْ يُخْرِجَ اللَّهُ أَضْغَانَهُمْ]- ৪৭:২৯ – “যাদের অন্তরে রোগ আছে, তারা কি মনে করে যে, আল্লাহ তাদের অন্তরের বিদ্বেষ প্রকাশ করে দেবেন না?”

    আসাত্বিরুল আওয়্যালিন [أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ] – পূর্ববর্তীদের উপকথা

    কুরআন তথা সকল আসমানী গ্রন্থকে সমসাময়িক উন্নাসিক ও অবিশ্বাসী জনগোষ্ঠী ‘উপকথা’ বা ‘লোককথা’ বলে এসেছে। বর্তমানের বোলনেওয়ালারা স্রেফ তাদের নকলকারী। কুরআনে ৯ বার এ সংক্রান্ত উদ্ধৃতি রয়েছে।

    “আর কেউ যখন তাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ পাঠ করে তবে বলে, আমরা শুনেছি, ইচ্ছা করলে আমরাও এমন বলতে পারি; এ তো পূর্ববর্তীদের উপকথা, ছাড়া আর কিছুই নয়।“-৮:৩১

    “তাদের কেউ কেউ তোমার দিকে কান লাগিয়ে থাকে। আমি তাদের অন্তরের উপর আবরণ রেখে দিয়েছি যাতে একে না বুঝে এবং তাদের কানে বোঝা ভরে দিয়েছি। যদি তারা সব নিদর্শন অবলোকন করে তবুও সেগুলো বিশ্বাস করবে না। এমনকি, তারা যখন তোমার কাছে ঝগড়া করতে আসে, তখন কাফেররা বলেঃ এটি পুর্ববর্তীদের কিচ্ছাকাহিনী বৈতো নয়।“-৬:২৫

    “তার চাইতে অধিক জালেম কে, যাকে তার পালনকর্তার কালাম দ্বারা বোঝানো হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তার পূর্ববর্তী কৃতকর্মসমূহ ভুলে যায়? আমি তাদের অন্তরের উপর পর্দা রেখে দিয়েছি, যেন তা না বোঝে এবং তাদের কানে রয়েছে বধিরতার বোঝা। যদি তুমি তাদেরকে সৎপথের প্রতি দাওয়াত দেন, তবে কখনই তারা সৎপথে আসবে না।“-১৮:৫৭

    যার ইচ্ছা বিশ্বাস স্থাপন করুক; যার ইচ্ছা অমান্য করুক

    “বল, সত্য তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত। অতএব, যার ইচ্ছা, বিশ্বাস স্থাপন করুক এবং যার ইচ্ছা অমান্য করুক। আমি জালেমদের জন্যে অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি, যার বেষ্টনী তাদের কে পরিবেষ্টন করে থাকবে। যদি তারা পানীয় প্রার্থনা করে, তবে পুঁজের ন্যায় পানীয় দেয়া হবে যা তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে। কত নিকৃষ্ট পানীয় এবং খুবই মন্দ আশ্রয়।“-১৮:২৯

    “এই দিবস সত্য। অতঃপর যার ইচ্ছা, সে তার পালনকর্তার কাছে ঠিকানা তৈরী করুক। আমি তোমাদেরকে আসন্ন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করলাম, যেদিন মানুষ প্রত্যেক্ষ করবে যা সে সামনে প্রেরণ করেছে এবং কাফের বলবেঃ হায়, আফসোস-আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম।“-৭৮:৩৯-৪০

    “এটা উপদেশ, অতএব যার ইচ্ছা হয় সে তার পালনকর্তার পথ অবলম্বন করুক। আল্লাহর অভিপ্রায় ব্যতিরেকে তোমরা অন্য কোন অভিপ্রায় পোষণ করবে না। আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়। তিনি যাকে ইচ্ছা তাঁর রহমতে দাখিল করেন। আর যালেমদের জন্যে তো প্রস্তুত রেখেছেন মর্মন্তুদ শাস্তি।“ -৭৬:২৯-৩১

    “কখনও না, এটা তো উপদেশ মাত্র। অতএব, যার ইচ্ছা, সে একে স্মরণ করুক। তারা স্মরণ করবে না, কিন্তু যদি আল্লাহ চান। তিনিই ভয়ের যোগ্য এবং ক্ষমার অধিকারী।“– ৭৪:৫৪-৫৬

    “সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে। তার প্রতিশ্রুতি অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। এটা উপদেশ। অতএব, যার ইচ্ছা, সে তার পালনকর্তার দিকে পথ অবলম্বন করুক।“-৭৩:১৮-১৯

    আল্লাহর চ্যালেঞ্জ

    সুরা ওয়াকিয়াতে আল্লাহ্ তা’য়ালা এই হঠকারী কুপমন্ডুক গোষ্ঠীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন –
    “এটা বিশ্ব-পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। তবুও কি তোমরা এই বাণীর প্রতি শৈথিল্য পদর্শন করবে? এবং একে মিথ্যা বলাকেই তোমরা তোমাদের ভূমিকায় পরিণত করবে? অতঃপর যখন কারও প্রাণ কন্ঠাগত হয় এবং তোমরা তাকিয়ে থাক, তখন আমি তোমাদের অপেক্ষা তার অধিক নিকটে থাকি; কিন্তু তোমরা দেখ না। যদি তোমাদের হিসাব-কিতাব না হওয়াই ঠিক হয়, তবে তোমরা এই আত্মাকে ফিরাও না কেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?”-৫৬:৮১-৮৭

    শেষ কথাঃ দায় চাপানোর চেয়ে দায় নিজেদেরই স্কন্ধে নেয়াটা অধিকতর সমীচীন। যারা মুমিন-মুসলমান বলে দাবী করি তাদের আরও ভাল মুসলমান হওয়াটা অনেক বেশি জরুরী ইসলামের যে কদর্য চিত্রায়ন করা হয়েছে যুগে যুগে তা অপনোদনে। পরিপূর্ণতার দিকে মুমিনের নিরন্তর প্রচেষ্টা ইসলামের কপটাচারী মুনাফিক এবং নাস্তিক-কাফেরদের অন্তঃসার শূন্যতাকেই প্রকট করে তুলবে। সেটাই হবে বরং যোগ্য প্রতিশোধ।

    Reply
  2. আবু সাঈদ খান

    كَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ – “আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষীরূপে আল্লাহ্ই যথেষ্ট” – সুরা রা’দ (১৩:৪৩), সুরা বনী ইসরাইল (১৭:৯৬)।
    আরও – ৪:৭৯, ৪:১৬৬, ১০:২৯, ৪৮:২৮।

    وَانْتَظِرُوا إِنَّا مُنْتَظِرُونَ – “আর অপেক্ষা কর, নিঃসন্দেহে আমরাও অপেক্ষায় রইলাম।“ – সুরা হুদ (১১:১২২)
    فَانْتَظِرُوا إِنِّي مَعَكُمْ مِنَ الْمُنْتَظِرِينَ – “অতএব অপেক্ষা কর। আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করছি।“ – সুরা আ’রাফ (৭:৭১)
    فَتَرَبَّصُوا إِنَّا مَعَكُمْ مُتَرَبِّصُونَ – “সুতরাং তোমরা অপেক্ষা কর, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষমাণ।“ – সুরা ত্বওবা (৯:৫২)
    فَارْتَقِبْ إِنَّهُمْ مُرْتَقِبُونَ – “সুতরাং তুমি প্রতীক্ষা কর, নিঃসন্দেহে তারাও অপেক্ষমাণ রয়েছে।“ – সুরা দুখান (৪৪:৫৯)
    فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ وَانْتَظِرْ إِنَّهُمْ مُنْتَظِرُونَ – “অতএব তাদের থেকে তুমি মুখ ফিরিয়ে নাও এবং অপেক্ষা কর, নিঃসন্দেহে তারাও প্রতীক্ষারত রয়েছে।“ – সুরা সাজদাহ্ (৩২:৩০)

    Reply
  3. আবু সাঈদ খান

    কুরআনের আলোকে শান্তি-সৌহার্দ রক্ষা, যারা দ্বীনকে বাণিজ্যে রূপান্তরিত করেছে তাদেরকে কুরআনের আলোয় ধরিয়ে দেয়া; আর যারা স্বীয় স্রষ্টাকে ভুলে গিয়ে শয়তানের প্ররোচনায় নিজেকেই নিজের প্রভু বানিয়ে নিয়েছে, চূড়ান্ত বিচারে তাদের অন্তঃসারশূন্যতা – এই আমার বক্তব্যের উদ্দেশ্য।

    কিন্তু অত্যন্ত বেদনার সাথে আবারও বলতে হচ্ছে আল্লাহর কতিপয় বান্দা প্রথম থেকেই “ভন্ড” জিগির তুলে গোয়েবলসের মত মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে যা কখনো হবার নয়- এটা অনেকটা পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করার মত। আল্লাহ তা’য়ালাই ভাল জানেন তার কোন বান্দা কী উদ্দেশ্যে কী কাজ করে।

    Reply
    • R. Masud

      এটা পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করা নয়।
      প্রথম থেকেই বলে আসছি, একই কোরানের ব্যাখ্যা দিয়ে যখন একদল নামধারী মুসলমান আশরাফুল মখলুকাত নির্মম ভাবে হত্যা করছে, পশুর মত জবাই করছে, কুপিয়ে হত্যা করছে, তাদের কে সৎ পথে আনার কাজ হোল আসল মুসলমানদের প্রধান ফরজ কাজ। তানা করে জনাব, যাদের হত্যা করা হচ্ছে তাদের হেদায়তের জন্য ভন্ড ওয়াজ শুরু করে দিয়েছেন।

      হ্যাঁ আপনার কথাটাই ঠিক
      ““আল্লাহর কতিপয় বান্দা প্রথম থেকেই “ভন্ড” জিগির তুলে গোয়েবলসের মত মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে ““
      এই বান্দা হোল আপনি এবং আপনার মত আরও অনেকে যারা আশরাফুল মখলুকাত খুন করছে ধর্মের নাম দিয়ে, কোরানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে।
      যেমন — বোখারী হাদিস ৪২১ কে যেই ভাবে ভুল ভাবে সাজিয়েছেন —

      Reply
  4. R. Masud

    জনাব আবু সাঈদ খান
    আমাকে নিয়ে যেই কমেন্ট করেছেন , একদম সেই গুলোকে প্লাস-আলফা করে
    আবু সাইদ খান কে ফেরত দিলাম। ইনি হলেন গিয়ে ভন্ডের রাজা ভন্ড শিরোমণি

    কারণটা হোল—
    বোখারি হাদিস ৪২১ নংটা সত্যি কি মিথ্যা তা ছিল আমার প্রশ্ন
    এই ভন্ড তার সরাসরি জবাব না দিয়ে প্যাচানো শুরু করলো
    তারও একটা সহজ কারন আছে
    যদি সে জবাব দেয় হাদিস ৪২১ নং টা ভুল তাহলে তাকে স্বীকার করতে হয় যে আমাদের নবী অনেক সত্যি জানতেন না মানে আশরাফুল মখলুকাতের মাঝে সর্বসেরা নন ।
    যদি বলেন যে এই রকম ব্যাখ্যা আমাদের নবী দেন নাই তাহলে তাকে স্বীকার করতে হয় যে , যুগে যুগে তার মত ভন্ডরা আমাদে নবীর সব কিছুই পালটিয়ে আসছে, আর এই যুগে করছে আবুসাঈদ গং- তার মানে এই যে, যেই সমস্থ কোরানের ব্যাখ্যা তারা দিয়ে যাচ্ছেন তার সবগুলোই তাদের মনমত গড়া ব্যাখ্যা –

    আমার বিশ্বাস হোল — উপরের লিখার শেষের অংশটা, অর্থাৎ আমাদের নবী সব জান্তাই ছিলেন, উনি বোখারী হাদেসের ৪২১ এর মত ভুল কথা বলতে পারেন না.

    এই গুলো হোল আবু সাঈদ গংদের মত ভন্ডারা তাদের সুবিধা মত এইসব বানায় আর কিছু দিন পরপর, আই এস, আলকায়েদা, বোকাহারাম, জামাতি , ওহাবী, আলআনসার, জে এম বি, হেফাজতি ইত্যাদির মত দল বানায়-
    একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে ইসলামের নামের এই দলগুলোর কাজ হোল কোরানের কিছু কিছু ব্যাখ্যা (এই ভন্ডদের বানানো) কে ব্যাবহার করে, শেষভাগে আশরাফুল মখলুকাত হত্যা করা, আরও খোলাখুলি ভাবে বললে বলা যায়, এদের হত্যার ৯৫% হোল মুসলমান — এফ১৬, দিয়েই হোক, ড্রোন দিয়েই হোক, কোমরে বেল্ট বেধেই হোক, মসজিদে নামাজ পড়া অবস্থায় মেশিনগান দিয়েই হোক, আর গাড়ী বোঝাই ট্রাক বোমা দিয়েই হোক, খুন হবার ৯৫%ই মারা যায় মুসলমান এই হিসাব বদলায় না –
    অথচ এই ভন্ডের লিখায় ঐ গুলো নিয়ে কণ লিখা কেঊ দেখেনি –
    ভন্ড আবু সাঈদ গং বুঝেছো আসা করি—
    সব শেষে অনুরোধ, তোমাদের ভন্ডামী দিয়ে আর মানুষের মাথা খেয়োনা —

    Reply
    • আবু সাঈদ খান

      দুঃখজনক যে ‘অাবু জাহেল’টা আমার লেখার কিছুই বুঝে নাই।

      Reply
  5. noman

    Fight means ki ak pokho nirpstro r onno pokho ‘chapati’? Abusaid vaider r kono kaj nai? Lekhen ,dhormo prochar koren ttik ase . Apnader chapati chalanor jonnoi kisu valolagena. Jodi chapati chalaite ischa hoy tahole r kolom dhorar dorkar nai.

    Reply
  6. আবু সাঈদ খান

    “শামান সাত্ত্বিক”-এর কুরআন-কেন্দ্রিক পোস্ট দুটো আমি লক্ষ্য করেছি। আমাকে কিছু সময় দেয়া হোক, আল্লাহ্ চাহেতো এ ব্যাপারে আলোকপাত করতে চেষ্টা করব।

    Reply
  7. আবু সাঈদ খান

    “Our Prophet”, “In our Prophet time…”, Our Prophet said, In the late hour of Islam,…..”- এগুলো মাসুদ সাহেবের বিভিন্ন মন্তব্যে আমরা দেখতে পাই।

    এইসব শব্দচয়ন এবং হাদীসের উদ্ধৃতি থেকে তিনি যে ইসলাম, নবী, বোখারী ইত্যাদির প্রতি আস্থাশীল ও বিশ্বাসী একজন বান্দা তার প্রতিফলন পাওয়া যায়।
    আমার পাল্টা প্রশ্ন, তাহলে ৪২১-এর ব্যাপারে তার আস্থা নেই কেন? এটা আপনি বিশ্বাস করেন না। কিন্তু ‘ইসলামের শেষ যুগে শয়তানরূপী কিছু পন্ডিত ব্যক্তির আবির্ভাবের’ হাদীসের ব্যাপারে গভীর আস্থা। কেন? সম্ভাব্য কোন কারনটি হতে পারে?

    ১. শেষনবীর (তাঁর প্রতি শান্তি) নামে উদ্ধৃত কোন কথা বিশ্বাস করি, আবার কিছু করি না।
    ২. যেহেতু কিছু কথা নবীর কথা বলেই কেউ বিশ্বাস করে, অথচ সে কথা তার বিবেচনা ও জ্ঞানে অবাস্তব বিধায় তা মানা সম্ভব নয় (যেমন. ৪২১ নং)- তাহলে আসলে সে কি নবীর প্রতি বিশ্বাসী নাকি নবী-বিশ্বাসের ব্যাপারে কপট উচচারণকারী?
    ৩. নাকি এ জাতীয় কথা নবী প্রকৃতপক্ষে বলেন নাই, তাঁর নামে চালানো হয়েছে? যেভাবে আল্লাহ ও নবীগণের নামে যুগে যুগে তাদের অনুসারী মিথ্যা দাবীদারেরা অনেক কথা আরোপ করেছে?

    কুরআনের সূরা তওবার আয়াত থেকে যে প্রশ্ন করা হয়েছিল তার জবাব আমি দিতে চেষ্টা করেছি। ৪২১ নং-এর ব্যাপারেও আমার অবস্থান অস্পষ্ট নয়। আমি ইতিমধ্যেই লিখেছি- এটি লাহওয়াল হাদীস। ইসলামে বা কুরআনে এ জাতীয় কিছু নেই। কাপুরুষোচিত গুপ্তহত্যারও কোন সমর্থন আমি কুরআনে পাইনা- সেকথাও বলা হয়েছে।

    আপনার বসবাসটা কোথায়? বিশ্বাসে, অবিশ্বাসে নাকি কপটতায়?

    পরিশেষে আবারও সবার প্রতি উদাত্ত আহবান মহিমান্বিত কুরআনে প্রত্যাবর্তনের।

    Reply
    • R. Masud

      জনাব আবু সাঈদ,
      আমার বসবাসটা হোল আপনাদের মত আলেম বেশী শয়তানদের মুখোশ টেনে ছিড়ে ফেলা।
      মহাজ্ঞ্যানী, সর্বসেরা আশরাফুল মখলুকাত নবী মোহাম্মদ কোঁন ভাবেই এমন কথা বলতে পারেন না। যা বোখারী হাদিস ৪২১ য়ে বলা হয়েছে।
      এই সবই, এবং আজকাল আপনার মত আলেমবেশী শয়তানরা যেই ব্যাখ্যা দিচ্ছেন কোরান নিয়ে তা ভন্ডামী —
      নবীর বলা সতিকারের সব ব্যাপারকেই আপনারা পালটিয়ে ফেলেছেন, তাই ওহাবী দল, চাপাতী দল, আই এস, আল কায়েদা, বোকাহারেম, জামাতি, হেফাজি ইত্তাদির এর মত দল বের হচ্ছে।

      Reply
      • আবু সাঈদ খান

        সচেতন ও নিরপেক্ষ পাঠক নিশ্চয়ই লক্ষ্য করবেন, ‘R. Masud’-এর মন্তব্যগুলো কেমন অসংলগ্ন, খাপছাড়া। প্রথম থেকেই আমাকে আক্রমনাত্মক প্রশ্ন করা হয়েছে, এবং সবগুলোর উত্তরই যখন প্রদান করা হয়েছে তখন তার সর্বশেষ মন্তব্য খেই হারিয়ে প্রলাপে পরিণত হয়েছে।

        তার ঝুলিতে আর প্রশ্ন অবশিষ্ট নেই এবং তার আসল চেহারা বেরিয়ে পড়েছে। কথায় শিষ্টাচার লঙ্ঘন করছেন এবং ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করছেন। না বুঝে বা না বোঝার ভান করে আগাগোড়াই মাথা গরম- অর্বাচীন।

        আল্লাহ আমাদেরকে ক্ষমা করুন, শুভবুদ্ধি দান করুন। শয়তান ও তার মানব-দোসরদের উপর বিজয়ী করুন।

  8. আবু সাঈদ খান

    “r. masud”-এর যত রাগ, ক্ষোভ এবং অভিযোগ- তার সবগুলোর উত্তর আমার লেখা দুটোতে রয়েছে। সচেতন পাঠক তা ইতিমধ্যে লক্ষ্য করে থাকবেন। [‘মুনাফিকীঃ মূর্খ মুনাফিক আর পাক্কা মুনাফিক’, ‘দ্বীন খন্ডনকারীদের পরিচয় ও মোকাবেলা’ ইত্যাদি অংশ দ্রষ্টব্য]

    Reply
    • R. Masud

      জনাব আবু সাঈদ খান সাহেব
      অত প্যাচান কেন। সরাসরি জবাব দিন,।
      এই ভাবে প্যাচান বলেই তো ভন্ডামীর গন্দ আসে – 
      চাপাতি হত্যা আর ৪২১ নং বোখারী হাদিস নিয়ে সরাসরি কমেন্ট করুন।
      চাপাতি দিয়ে যেই হত্যা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে পায়ের নখ থেকে মাথার চুল পর্যন্ত রাগে উঠাটা হোল সত্যি কারের ইসালাম, যেটা মহান নবী বলে গেছেন দেখিয়ে গেছেন।
      আপনাদের মত অপব্যখ্যা দেওয়া (ইচ্ছা করে জেনে শুনে) লোকদের কারনেই চাপাতি খুনিরা জন্মায়।
      আর সেটা নবীর বলে যাওয়া আখেরী জমানার আলেম বেশী ভন্ড শয়তান গুলোর জন্যই হচ্ছে — বুঝতে পারছেন কাদের কথা বলছি —???

      Reply
  9. আবু সাঈদ খান

    সুরা তওবার ২৯ নম্বর আয়াতটি ‘কতল’ বা যুদ্ধ সংক্রান্ত নির্দেশ। কতল আমরা বাংলায় ব্যাবহার করে থাকি, এর অর্থ বোঝানোর দরকার হয় না। এই আয়াতের যে নির্দেশ তা সম্পূর্ণ সত্য বলেই মুসলমান বিশ্বাস করে। কখন, কোন বাস্তবতায় তা পালনীয় সে বিষয়টি আগের আয়াতগুলো পড়লে অনুধাবন করা যেতে পারে। সকল ক্ষেত্রে ও অবস্থায় যে তা প্রযোজ্য নয়, তাও একজন মুমিন বোঝে। আর এজন্যই এ আয়াত পড়েই তার প্রতিবেশী কোন অমুসলিম হিন্দু বা খ্রীস্টানের উপর খড়গ-হস্ত হয়না। বরং সম্প্রীতি বজায় রেখে সহাবস্থান করে।

    ১৯৭১ পরবর্তী বাংলাদেশে মানবাধিকারের দোহাই দিয়ে কেউ একথা বলবে না, এদেশের মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তাদেরই স্বগোত্রীয় পাকিস্তানি মুসলিম ভাইদের হত্যা করে তখন জঘন্য কাজ করেছিল। হত্যা একটা ভয়াবহ কান্ড, তারপরও সেটা ঐ সময়ের জন্য যথোচিত শুধু নয়, বীরোচিত কাজ ছিল বলেই স্বীকৃত। বাংলাদেশের রাস্তায় এখনও পাকিস্তানী নাগরিক তাদের প্রয়োজনে চলাফেরা করে। ক্ই, আমরা এখন তো তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়িনা।

    আমার দু’টি লেখায় (যা আগেই লেখা ছিল) এই বিনীত আহবানই জানাতে চেয়েছি, স্বীয় প্রবৃত্তিকে যারা তাদের প্রভু বানিয়ে নিয়েছে তারা যেমন ভয়াবহ ভুল করছে তেমনি, ইসলামকে পুঁজি করে যারা ধর্ম-ব্যবসা করছে তারা আরও গর্হিত অপরাধ করছে (আলোচক শামীম খান বার্তাটি ঠিক ধরতে পেরেছেন বলে মনে হয়)।

    নাস্তিক্যবাদ অতি সংকীর্ণবাদ। অবশ্যই তা দূরদর্শী বা মুক্তমনের পরিচয় বহন করে না। স্রষ্টার সর্বশক্তিমানতাকে চ্যালেঞ্জ করে যে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে অভিজিৎ বাবুর কোন লেখায় তা ঠুনকো। একই প্রতি-যুক্তি তাদের উপর ব্যবহার করা হলে তারা কঠিন বিপদে পড়ে যাবে।

    সমাজে অসহিষ্ণুতা প্রবল। যাদেরকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে তারা কেউ আমার শত্রু নন। শয়তানই শুধু শত্রু, শুধু আমার নয়, পুরো মানবজাতির। আর তারা শত্রু যারা শয়তানকে তাদের প্রভু বানিয়ে নিয়েছে।

    শান্তি আর অশান্তির সংজ্ঞা জানাটাও জরুরী। রাজা ইদিপাস যখন নিজের অজ্ঞাতসারে মাকে শয্যাসঙ্গিনী করেছিল, তখন সে কিন্তু অশান্তিতে ছিল না, শান্তিই পেয়েছিল। সত্য আবিষ্কারের পর তার যন্ত্রণা, দহন-পীড়ন শুরু হয়েছিল।

    নাস্তিক্যবাদীরা যখন সত্যটাকে সামনে দেখতে পাবে সেদিন তাদের মেকি অহংবোধ আর শান্তি অবশিষ্ট থাকবে না।

    “সেদিন মিথ্যারোপকারীদের দুর্ভোগ হবে, যারা ক্রীড়াচ্ছলে মিছেমিছি কথা বানায়। সেদিন তোমাদেরকে জাহান্নামের অগ্নির দিকে ধাক্কা মেরে মেরে নিয়ে যাওয়া হবে। এবং বলা হবেঃ এই সেই অগ্নি, যাকে তোমরা মিথ্যা বলতে, এটা কি জাদু, না তোমরা চোখে দেখছ না?”- সুরা তুর (৫২:১১-১৫)

    বন্যা আহমেদসহ সবার প্রতি উদাত্ত আহবান, মহিমান্বিত কুরআনের শিক্ষাকে মৃত্যু আসার পূর্বেই যেন সংস্কারহীন মনে গ্রহণ করি।

    Reply
  10. Mohammad Mynul Hasan

    Mr. Shaman Sattik,

    Please don’t quote out of context.
    Dr. Zakir naik has answered this question long before.
    Please make your question hard for Mr. Abu Syed Khan. Your question is too novice for him.

    But it looks like from your language you are not taking it seriously.

    Reply
  11. Mohammad Mynul Hasan

    Thank you Mr. Abu Said Khan. It was really nice to read your writings. Don’t mind with poor (In mind) people’s comments. You keep on- We pray for you to Allah.

    Reply
  12. R. Masud

    এই রচনার মাঝের কমেন্টগুলোতে খান নাম ধারী কয়েকজন ভন্ড মুসলমান আমার দেওয়া একটা উদ্ধৃতি নিয়ে চ্যালেঞ্জ করছে, ঐ সব ভন্ডদের জন্য নিছের সশাহী বোখারী হাদিসের অংশটুকু।
    এরা যে ভন্ড বদমাইশ ধর্ম ব্যাবসাহী তার প্রমান,
    মুখে ইসলাম, পবিত্র কোরান, কিন্তু লেখে
    “” R.Masud ! you are the real fucking hypocrite””

    যাই হোক বোখারী হাদিসের অংশটুকু —
    (Sahih Bukhari, Volume 4, Book 54, Hadith 421)
    Narrated Abu Dharr: The Prophet asked me at sunset, “Do you know where the sun goes (at the time of sunset)?” I replied, “Allah and His Messenger know better.” He said, “It goes (i.e. travels) till it prostrates Itself underneath the Throne and takes the permission to rise again, and it is permitted and then (a time will come when) it will be about to prostrate itself but its prostration will not be accepted, and it will ask permission to go on its course but it will not be permitted, but it will be ordered to return whence it has come and so it will rise in the west. And that is the interpretation of the Statement of Allah: “And the sun is quickly proceeding towards its destination. That is the designing of the All-Mighty, the All-Knowing. ” (36.38)
    (Sahih Bukhari, Volume 4, Book 54, Hadith 421)

    Reply
    • আবু সাঈদ খান

      এখানে সবাই বিবেকবান বলেই বিশ্বাস করি। অসংযত শব্দ ব্যবহার নিষ্প্রয়োজনীয়।

      কুরআনে আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের উদ্বুদ্ধ করেন –
      “ভাল ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দকে প্রতিহত কর উৎকৃষ্ট দ্বারা; ফলে তোমার সঙ্গে যার শত্রুতা আছে সে হয়ে যাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুর মত।“- সুরা ফুসসিলাত (৪১:৩৪)

      আমার পুরো বক্তব্যই কুরআনকে ভিত্তি করে বলতে চেষ্টা করেছি। কুরআন-কেন্দ্রিক কোন প্রশ্ন থাকলে আমি আনন্দিত হব সেটা নিজে ভাল করে জানতে এবং সবার সাথে ভাগাভাগি করতে।

      Reply
      • r. masud

        So you mean habith is meaningless?
        Our prophets mentioned in his explanation to Abu dhaar by reffering Allah the almighty.
        Please quite doing vondamee…
        If u don’t have an answer, simply utter so.
        don’t switch to other issue.

  13. শামান সাত্ত্বিক

    Abu syed Khan, ইসলামে অশান্তির বীজ –

    “তোমরা যুদ্ধ করো আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তার রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিজিয়া প্রদান করে (৯ : ২৯)।”

    – আরো দরকার, আপনাকে দিমুনে।

    Reply
  14. শামান সাত্ত্বিক

    “কিন্তু সারা কোরআন তন্নতন্ন করে খুঁজলেও পৃথিবীর ঘূর্ণনের সপক্ষে একটি আয়াতও মিলবে না। আল্লাহ্‌র দৃষ্টিতে পৃথিবী স্থির, নিশ্চল। সূরা নামলে (২৭ঃ ৬১) পরিষ্কার বলা আছে যে, দুনিয়াকে বসবাসের স্থান করেছেন আর তার মধ্যে নদীসমূহ সৃষ্টি করেছেন আর এটিকে (পৃথিবী) স্থির রাখবার জন্য পাহাড়-পর্বত সৃজন করেছেন …’। একইভাবে সুঊরা রুম (৩০ঃ২৫), ফাত্বির (৩৫ঃ৪১), লুকমান (৩১ঃ১০), বাকারা (২ঃ২২), নাহল (১৬ঃ১৫) পড়লেও সেই এক-ই ধারণা পাওয়া আয় যে, কোরআনের দৃষ্টিতে পৃথিবী আসলে স্থির।

    … আরবিতে পৃথিবীকে বলে ‘আরদ’ আর ঘূর্ণন হচ্ছে ‘ফালাক’। একটি মাত্র আয়াত আমি দেখতে চাই যেখানে ‘আরদ’ এবং ‘ফালাক’ পাশাপাশি ব্যবহৃত হয়েছে।

    তাছাড়া কোরআনে পৃথিবীকে গোলাকার না ভেবে সমতল ধরা হয়েছে। এই সম্পর্কে উদ্ধৃতিসহ ব্যাখ্যা দিত গেলে আজকে আমার ঘুম হারাম হবে।

    “”যারা প্রাচীন ধর্মগ্রন্থগুলোকে বিজ্ঞানের মোড়কে পুরতে চান, তারা কি এই আয়াতগুলোর কথা জানেন না? অবশ্যই জানেন। জানার পর তারা একটি মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে মনকে শান্ত করেন। অনেকে আবার সেগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করেন। আর এখানেই আমাদের আপত্তি। কেবল কোর আনে নয়, অন্য সকল অলৌকিক গ্রন্থেও আমরা নিশ্চল এবং স্থির পৃথিবীর ধারণা পাই। বাইবেল বলে-

    ‘আর জগৎও অটল, তা বিচলিত হবে না’ (ক্রনিকলস ১৬/৩০
    ‘জগৎ ও সুস্থির, তা নড়াচড়া করবে না।’ (সাম ৯৩/১)
    ‘তিনি পৃথিবীকে অনড় এবং অচল করেছেন’ (সাম ৯৬/১০)
    ‘তিনি পৃথিবীকে এর ভিত্তিমূলের ওপর স্থাপন করেছেন, তা কখনো বিচলিত হবে না’ (সাম ১০৪/৫) ইত্যাদি।”

    একইভাবে বেদেও রয়েছে-

    ‘আকাশ নিশ্চল, পৃথিবী নিশ্চল, এ সমস্ত পর্বতও নিশ্চল’।

    ঋগ্বেদের আরেকটি শ্লোকে রয়েছে-

    ‘সবিতা নানা যন্ত্রের দ্বারা পৃথিবীকে সুস্থির রেখেছেন। তিনি বিনা খুঁটিতে আকাশকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করেছেন।’

    উপরের শ্লোকটি একটি বিশেষ কারণে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। এটি থেকে বোঝা যায়, বৈদিক যুগে মানুষেরা পৃথিবীকে তো স্থির ভাবতেনই, আকাশকে ভাবতেন পৃথিবীর ছাদ। তারা ভাবতেন ঈশ্বরের অপার মহিমায় এই খুঁটিবিহীন ছাদ আমাদের মাথার ওপরে ঝুলে রয়েছে। কোরআনের সূরা লুকমানে (৩১ : ১০) বর্ণনা আছে এইভাবে-

    ‘তিনিই খুঁটি ছাড়া আকাশকে ছাদ স্বরূপ ধরে রেখেছেন …'”

    “আসলে কোরআনে কেন আকাশ ও পৃথিবী একসাথে মিশে থাকার কথা আছে তা সহজেই অনুমেয়। সেসময় প্যাগানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক গোত্রের উপকথা এবং লোককথাতেই আকাশ আর পৃথিবী মিশে থাকার আর হরেক রকমের দেব-দেবী দিয়ে পৃথক করার কথা বলা ছিল। যেমন মিশরের লোককথায় ‘গেব’ নামের এক দেবতা ছিলেন যিনি ছিলেন মৃত্তিকার দেবতা। এই গেবকে তার মা এবং বোন (আসমানের দেবী) থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ফলেই আকাশ আর পৃথিবী একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। আবার সুমেরীয় উপকথা গিলগামেশের কাহিনীতেও আসমানের দেবী ‘অ্যাান’কে মৃত্তিকার দেবতা ‘কী’ এর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার কথা বলা আছে। এ সমস্ত উপকথা থেকে প্যাগান রেফারেন্সগুলো বাদ দিলে যা থাকবে,তা কোরআনেরই কাহিনী।”

    Reply
  15. Matiur

    “কবে দেশে ফিরবেন?, কোথায় আছেন?, আপনার ফ্লাইট কবে?, আপনি কোথায় থাকেন?, দেশে এসে কতদিন থাকবেন?”- ইদানিং এই প্রশ্নগুলো আমাকে চিন্তিত করে তোলে। কাউকেই সঠিক উত্তর দিতে ইচ্ছে করেনা। কারন প্রায় প্রতি সপ্তাহেই দেশের কোথাও না কোথাও খুন হচ্ছে কেউ না কেউ। আর এই দূরদেশ থেকেও দেখতে পাই সবার মধ্যে কেমন যেন এক ভয়ংকর নিরবতা বিরাজ করছে।
    আমার একটা অদ্ভূত ইচ্ছে আছে, আমি এমন কারোর হাতে খুন হতে চাইনা যার চোখে ভয় থাকবে। ভয় খুব খারাপ জিনিস। ভয়ার্ত চোখে কেউ খুন করতে এসে নিশ্চিত হতে চায় টার্গেট মরেছে কিনা। তাই প্রয়োজনে আরো কয়েকবার অযথা আঘাত করে।
    জীবনে এমন কোন পরিস্থিতি কাম্য নয়। তবুও দেশের পরিস্থিতিতে কে কখন খুন হয় আর তারপর বানোয়াট কাহিনী জুড়ে দিতে পুলিশ বা জঙ্গী কারোরই তেমন সময় লাগবেনা। যদি ভাগ্যে অস্বাভাবিক মৃত্যু থেকেই থাকে আমি চাই আমাকে এমন কেউ খুন করুক যে কখনো আমার খুব কাছের মানুষ ছিল। অন্তত চাই খুনীর চোখ ভয়ার্ত না হোক, সাহসী কেউ হোক, পেছন থেকে না, সামনে থেকে আঘাত করুক।

    Matiur Rahaman
    @MatiuRDC
    A proud Bangladeshi
    Currently living in Australia

    Reply
    • Rashed Khan

      Mr.Matiur,
      Pretty good said,Israeli Mossad alway’s afraid due to they working on behalf of great Fucking Evil,
      People of Islam do not believe in bleeding , while if they believe you will see no fear of their eye but while you see their eye you will afraid what never before

      Reply
  16. Matiur

    প্রশ্নঃ-আপনি রাজাকারের বিচারে খুশি?
    উত্তরঃ-বলেন কি, খুশি হব না! যারা স্বাধীন বাংলাদেশ চায়নি, বিনা বিচারে আমাদের নিরাপরাধ লোকজনকে গুলি করে মেরেছে, যারা আমার লক্ষ লক্ষ মা বোনের ইজ্জত কেড়ে নিয়েছে তাদের বিচারে খুশি হব না!
    প্রশ্নঃ-তারমানে বলতে চাচ্ছেন যারা বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করে, ধর্ষণ করে, স্বাধীন বাংলা চায় না, স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের সবারই বিচার হওয়া উচিত?
    উত্তরঃ-উচিত তো।
    প্রশ্নঃ-সত্যি আপনার দেশপ্রেমের জুড়ি নেই। তা আপনি দেশ ছেড়ে জার্মানে কেন!?
    উত্তরঃ-ইয়ে মানে, দেশের যা অবস্থা! কোথায়ও নিরাপত্তা নেই। ক্যান্টনমেন্টে ধর্ষণ হয়, বর্ষবরণে জনসমুখে নারীদের ইজ্জত নিয়ে টানাহেঁচড়া হয়, বাসা বাড়িতে পরিবার পরিজন নিয়ে খুন হতে হয়, আরে সেই সত্য বলতে গেলে উঠিয়ে নিয়ে গুম করা হয়, মুক্তমনে বলতে গেলে চাপাতি দিয়ে কোপানো হয়, আর নয়ত ৫৭ ধারায় জেলে পুরে দেওয়া হয়, তাই আর না পেরে কোনভাবে জান নিয়ে দেশান্তর হয়েছি।
    প্রশ্নকর্তাঃ- আচ্চা আপনি মনে হয় ভুল করছেন, আমি আপনার কাছে ৭১রের আগের বাংলাদেশের কথা জানতে চাইনি।
    উত্তরদাতাঃ- বলেন কি! আছেন কোন দেশে!?
    প্রশ্নকর্তাঃ- না ভাই আমি দেশেই থাকি এবং আপনার সেই স্বাধীন বাংলাদেশেই থেকে বলছি।

    Reply
  17. R. Masud

    বন্যাকে বলছি
    জবাব দেবার দরকার নেই প্রতিটি কমেন্টের কিন্তু পড়তে বলবো,
    দেখবে, যেই সমস্যার জন্য তুমি সরকারকে দোষারপ করছে, কেন সেটা তোমার ভাবার মতো সহজ নয় সমাধান করা —
    তুমি সমস্যা মুলাটার যেই সামান্য অংশটা দেখছো তা সুধু মুলার উপরের অংশ খানা দেখছো। ঐ মুলার মাটির নিছে যেই অংশটা আছে তা অতিব পুস্ট, তারও উপর চার পাশ থেকে এমন কতগুলো শিকড় মুলার নিছের অংশটাকে এমন নিবিড় সাপোর্ট দিচ্ছে যে সহজে তাকে টেনে তোলা যাবেনা। এই মুহূর্তে, দরকার সহযোগিতা তত্তব্বাজী নয় ( not uttering logic/theory)

    Reply
  18. r. masud

    I gauess Banna Ahamed may now realize the difficulty of controlling the fanatic killing of Bangladesh; ….by what?
    Answer is,
    recent reaction of pakistan, turkey and their hidden panda the country where Banna now living , about hanging of filthy Nizami.
    By seeing these, it is easy to realize Where is the root of all recent fanatic killing of bangladesh.
    these group are downing two birds with a unuque stone, i mean, unresting bangladesh as well reducing the support of intelluctuals for the current govt.

    Reply
    • Matiur

      My last status on Bangladesh war Crimes related issue
      After this post I no more post anything on it .
      Last 4 years I read and observe Bangladesh war Crimes Tribumal trial proceedings and matter related to it.
      #####################
      The issue about atrocities committed in 71 war is truly painful and sad. Nothing can justifies the senseless brutalities on innocent civilians…
      ? ? ? ? There is There is ample evidence that it was committed. The effects being felt to this day and the lose and wond of the past still haunts many …
      The Bangladeshi government should push for the Pakistani government to bring those responsible to trial. It should also ask for compensation for what happened.
      The contention remains whether JI (Jamaat Islami) was involved in the atrocities. That’s why an independent court in a neutral country with neutral judge should carry out the trial.
      The present International Tribunal based in Dhaka is a joke. It lacks independent reasoning.
      You will be aware that the Europeans do this with the international courts held in the Netherlands.
      On a side note, will the Bangladeshi government bring to justice those freedom fighters who committed atrocities. ? There is evidence that this also happened.
      Personally, I am of the methodology of Nelson Mandela, Tony Blair and other notable modern leaders, who had a reconciliation policy, which is to forgive others and let everyone work together to allow the country to progress.
      After 45 years there is no need to open up raw wounds.
      Justice should not mean to be for one side’s atrocities but both .
      Being biases even for a good cause biase the same. The war crime tribunal processing is highly controversial and a threat to justice everywhere…
      .
      I have no sympathy for the views of Jamaat or its backers. But justice does not exist solely for those with a particular approved outlook. As the ‪#‎Eichmann‬ trial demonstrated, due process is essential to provide true justice to the victims of genocide. Eventually Bangladeshis will also come to recognise this and demand a proper accounting. But by then it will be too late. The war-crimes tribunal is poisoning the well from which Bangladesh will one day want to drink.
      May Allah guide us through difficult time and give us knowledge to understand truth , justice and Islam ….amen
      Matiur Rahaman
      @MatiuRDC
      A proud Bangladeshi
      Currently living in Australi

      Reply
      • R. Masud

        A proud Bangladeshi জনাব মতিয়ুর
        আপনি লিখেছেন
        “”After 45 years there is no need to open up raw wounds””
        এটা যদি আপনার ফিলোসফি হয়, তাহলেতো আপানাকে জন্ম দেওয়া আপনার বাপ মাকেও ভুলে যেতে হবে, ওইটাও তো অনেক ( আপনার বয়স সম) আগের এক রাতের ঘঠনা!!
        আপনি বোধ হয় জানেন না, ১৯৩৬-১৯৪৫ সনে হওয়া হত্যার বিচার এই ২০১৫ সনেও হচ্ছে – হ্যাঁ নাজীরা ঈহুদিদের যে হত্যা করেছিল –
        আরও লিখেছেন,
        The present International Tribunal based in Dhaka is a joke.
        could you clarify with specific points how and why it is a JOKE

  19. ভানু ভাস্কর

    দেখুন হত্যার কোনও সমাধান কিংবা বিচার হয় না। যাকে হত্যা করা হলো, তার এ ক্ষেত্রে পাবার কিছুই নেই। কিন্তু এটা আমাদের করতে হয় সমাজকে রক্ষা করার জন্য। অপরাধগুলোকে কমিয়ে আনার জন্য। কিন্তু সীমাহীন এই অনাচারের সমাজে আপনি কয়টা অপরাধ কমাবেন? মানুষ না খেয়ে থাকে, রাষ্ট্রের এর চেয়ে বড় অপরাধ আর নেই। এইসব নিয়ে লিখুন। আপনি কে আমি জানি না, সেটা জানাটাও গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু সমাজকে এগিয়ে নিতে গিয়ে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই নিজেকদেরকে পিছিয়ে দিচ্ছি। যেমন ধরুন দেশি ঐতিহ্য, কৃষ্টি নিয়ে প্রচুর খেলা করছি, এবং তারস্বরে বলে বেড়াচ্ছি এটা কিন্তু এগিয়ে যাওয়া! আসলে ফ্যালাসি। আর আপনি এ’রম একটা পরিস্থিতিতে প্রগতিশীল অংশকে এগিয়ে আসার প্রস্তাব করেছেন। কিন্তু দেশে প্রগতিশীল অংশ আসলে কারা? যাদেরকে আমরা মনে করি, সেই অংশের চরিত্র কি আপনার মনে হয় যে ধ্বজা ধরে আমাদের শরনদ্বীপে পৌঁছে দিতে পারবে?
    দেখুন হত্যা, খুন সারা দুনিয়ায় চলেছে, ক্ল্যাশ অ্যামং কমিউনিটিজ সারা জীবনের, সমস্ত যুগের জন্য সত্য। আপনি যে আমেরিকার কথা বলছেন, তাকিয়ে দেখুন সেখানে হত্যাগুলো কেমনভাবে ডাইভারসিফাইড। অর্থাৎ আমেরিকায় আপনি হত্যার দায়গুলো একটি বিশেষ ক্লান-এর উপরে ছেড়ে দিতে পারবেন না। পৃথিবীর এমনকি আমাদের দেশের ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে বস্তুর শুধুমাত্র একটি কোণ থেকে দেখে ব্যাখ্যাটা সাজালে এর কূল কিনারা করা যাবে না। সামাজিক সমস্যার আসলে একক কোনও কারণ হয় না। নষ্ট রাজনীতির ছত্রছায়ায় অনেক কিছু ঘটে যায়, ঘটেছিলো, এবং ঘটবে, এর থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য নিজের চেতনার সমৃদ্ধি ঘটানো দরকার। কিন্তু চেতনা তো আর শুধুমাত্র দু-চারজন তথাকথিত প্রগতিশীল জ্ঞানী মানুষের বাপ-দাদার সম্পত্তি নয়, এটা একটা সামগ্রিক বিষয়।
    যে কোনও হত্যা-ই দুঃখজনক। আর একটা জিনিস আপনি নিশ্চয় জানেন, কোনও ধর্মই হত্যাকে সমর্থন করে না। ফলে ধর্মকে আপনার বিপক্ষে টেনে এনে ভাবনার উপজীব্য করলে কার লাভ হয় সে জানি না, কিন্তু যারা হত্যাগুলো করে থাকে, তাদেরকে একটি বিশেষ সেক্ট-এ ফেলে বিষয়ের বিশ্লেষন না করে যুক্তি ও চিন্তার স্যাম্পল সাইজকে আর একটু বাড়িয়ে নিতে পারলে ভালো হবে। আপনি নিশ্চয় জানেন, কেউ না কেউ কিন্তু এর ফায়দা তুলছেই। তারা কারা? সে কি ধর্মধ্বজী ওই মানুষগুলো, না কি যারা শিকার?
    (আপনি একজন প্রফেসরের কথা লিখেছেন। ইনি তাঁর একটা ‘হটকেক’ বইয়ে একজন কিশোরকে দিয়ে তার বাবার সম্পর্কে খুবই আজেবাজে কথা বলিয়েছেন। আপনার কি মনে হয় ওইটাই বাংলাদেশের সমস্ত মুসলিম পরিবারের একটি জেনেরিক রূপ? তরুণ ভক্তেরা কিন্তু ওইটা-ই ভাবছে, শিখছে। ফলে কি লিখছি, কি বলছি, আর শিখে শিখে কি ভাবছি, এই ভাবনা আমাদেরকে আসলে কোনদিকে নিয়ে যাবে সেটার ভাবনা ভাবাটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।)

    Reply
    • সাত্ত্বিক

      ভানু ভাস্কর, খুব ভাল লিখেছেন। একজন মুসলিম পরিবারের সদস্য হয়ে চমৎকার বলে গেছেন। যুক্তির মারপ্যাঁচটা খুব ভালই শিখে গেছেন দেখছি?

      বাংলাদেশে এক ধর্মীয় গোত্রের মানুষকে জানি, যারা সব কিছুকে এভাবেই কথার চালে ধোঁয়াশা করে ফেলে। আপনি যে সে গোত্রের ধ্বজাধারী তা বলাই বাহুল্য। লেখক একটা বিষয়কেই ফোকাস করছে। আর আপনি সে বিষয়টার থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে ধাবিত করার মিশন নিয়েছেন। সম্ভবতঃ আপনাদেরই গোত্রভূক্ত আবু সাঈদ খান-তো আরো কয়েক ডিগ্রী এগিয়ে গিয়ে থিসিস লিখে ফেলেছেন নীচে।

      মনে হচ্ছে, অভিজিৎ, অনন্ত বিজয় দাশ-দের মৃত্যু আপনাদের আরো বিপাকে ফেলে দিয়েছে। জীবিত অভিজিৎ, অনন্তের চাইতে মৃত অভিজিৎ, অনন্ত অনেক শক্তিশালী, তাই না?

      তারা যে এখন আরো জনপ্রিয় হয়ে যাচ্ছে, হর-বছরই নিদেনপক্ষে তাদের মৃত্যু দিবস পালিত হবে, তারা এবং তাদের আদর্শের প্রচার ঘটবে, তখন কীভাবে তা ঠেকাবেন গো!

      ‘৭১-এ যুদ্ধাপরাধীদের প্রজন্ম যে ভুল করেছে, এবারও এই চাপাতির কোপা শামসু প্রজন্ম একই ভুল ভয়াবহ রকমভাবে করছে, এবং করবে। খুব করে মনে রাখুন।

      আর আপনি বন্যা আহমেদ-কে জানেন না? আর কিছু বলবো না …

      Reply
    • Rashed Khan

      ভানু ভাস্কর,sound good
      i agreed with you, yes science and technology not mean to talking against a religion,Actually this is policy of Evil to disgrace Islam

      Reply
  20. Hema Dais

    বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় থাকার যৌক্তিকতা হিসেবে যে বক্তব্য সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচারিত তা হলো যদি এই সরকার ক্ষমতায় না থাকে দেশ ‘জঙ্গী সন্ত্রাসীরা’ দখল করে নেবে, সাম্প্রদায়িকতা বাড়বে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ বিরোধী তৎপরতা বাড়বে। এই যুক্তিতে সরকার গণতান্ত্রিক অধিকারের অনেক কিছু নিশ্চিন্তে সংকুচিত করেছে, অনেক লেখক শিল্পী বুদ্ধিজীবী বহু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও মুখ বন্ধ রেখেছেন পাছে এই সরকারের ক্ষতি হয়। একের পর এক যখন সন্ত্রাসী হুমকি হামলা, লেখক প্রকাশক খুন, সাম্প্রদায়িক আক্রমণ, ধর্মান্ধতা, জাতিগত ধর্মীয় বিদ্বেষ, দখল লুন্ঠন ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী তৎপরতা বেড়েই যাচ্ছে তখন কি এই প্রশ্ন করতে পারি দেশে এখন কোন্ সরকার ক্ষমতায় আছে?

    Reply
  21. Akash Malik

    ঘুম থেকে ওঠে প্রথম এই লেখাটি পড়ে আজকের পাঠ শুরু। অভিজিৎ আর অনন্ত আমার লেখালেখি জীবনের উৎস ও প্রেরণা। অনন্তের সকল ইমেল একসাথে জড়ো করলে একটা বই হয়ে যাবে। আর অভিজিৎ না হলে আমার কোনো লেখা কেউ কোনদিন দেখতোইনা, আসল কথা আমি লিখতেই পারতাম না। তাদের ঋণ আমি কোনদিন শোধ করতে পারবোনা। তাদের দেখানো পথ ধরেই লিখে যাবো যতোদিন এ দেহে প্রাণ আছে।

    ধর্ম বা ইসলামই একমাত্র অশান্তির কারণ তা অবশ্যই নয়, যারা এ কথা বলেন তারা ধার্মিক বিদ্বেষী। তবে ধর্মগ্রন্থে বা ইসলামে যে অশান্তির বীজ রয়েছে সেটাও কিন্তু সত্য। তাই সেই সত্যটা প্রকাশ হওয়াটাও জরুরি।

    ধন্যবাদ আপনাকে চমৎকার তথ্যপূর্ণ লেখাটি শেয়ার করার জন্যে।

    Reply
    • Abu Sayed Khan

      “ইসলামে যে অশান্তির বীজ রয়েছে সেটাও কিন্তু সত্য। তাই সেই সত্যটা প্রকাশ হওয়াটাও জরুরি”-

      যেমন ??

      Reply
      • r. masud

        E.g., people like you, who are simply doing vondamee to redirect the Islam in a wrong direction.
        Our prophet said,
        in the late hour of Islam, huge wiser bujorgo will appear as a Islam saver, in fact those are real devil — the iblis… Beware from those…
        Did u ever wrote even 10 lines against those chapati killer,??
        Silence isn’t a moral support?

  22. নোমান

    আপনার লেখায় যে ক্ষত তা
    একজন ওয়াহবী মুসলিম হিসাবে আমার অন্তরে ও আঘাত করতে পারে নিশ্চয় তা বিশ্বাস করবেন
    হ্যা প্রিয় মানুষ এর এমন পরিণতি খুব কস্টের
    জানিনা আপনাদের মত মুক্তমনা দের ভেতর এই বোধ আছে কি না যে মুসলিম রা কুনু মানুষ ত দূর একটা পিপড়া কে অন্যায় ভাবে হত্যায় সমর্থন করেনা
    ইসলাম কে যতটা ভয়ংকর ভাবেন সেটা আপনাদের সীমাবদ্ধতা, ইতিহাস খুজে দেখুন মুসলিম বিজেতারা যুদ্ধে যে মানবতা আর ইনসাফ দেখিয়েছে তা আর কেউ পারেনি ব্লগার হত্যায় আপনারা খুব ব্যাথিত হন
    বাকি যারা মারা যায় এরা কি মানুষ নয়? হাজার হাজার ঘুম খুন হয় তাদের পরিবার সজনরা কি ব্যাথা পায় না? আপনারা মুক্তমনা কিন্তু মুক্ত মানবতাবাদী নন আপনাদের বিশেষ মানুষ দের প্রতি ভালবাসা এদেশের জন সাধারণ এর প্রতি অবজ্ঞা আপনাদের আটকে দিয়েছে এক অন্ধকূপ এ!
    ন্যায় বিচার প্রতিটা মানুষ এর অধিকার অবিরত একটা নির্দিষ্ট ধর্মের সমালোনা বানোয়াট মনগড়া যুক্তি দিয়ে আপনারা শুদু বিভেদ স্রস্টি করছেন আর রাজনীতিতে হাওয়া দিচ্ছেন, অন্ধকার দিয়ে আলোকময় প্রভাত আনা যায় না মিস বন্যা

    Reply
    • সাত্ত্বিক

      “ইসলাম কে যতটা ভয়ংকর ভাবেন সেটা আপনাদের সীমাবদ্ধতা, ইতিহাস খুজে দেখুন মুসলিম বিজেতারা যুদ্ধে যে মানবতা আর ইনসাফ দেখিয়েছে তা আর কেউ পারেনি …”
      – ইতিহাসটা আপনিই একটু খুঁইজা দেখেন। যা বলছেন, তার উল্টাটাই হইছে বেশি।

      Reply
    • Rashed Khan

      নোমান, Very nice good said Thank you won,
      they are the responsible for all those killing while in India People killing Muslim for eating cow meat and in Bangladesh they speak directly against Islam and it;s Prophet and Allah

      Reply
  23. হৃদয় রাজ খান

    মানুষের মধ্যে যুক্তিবোধ ও বিজ্ঞানমনষ্কতা গড়ে উঠুক তাহলেই অভিজিৎ রায়, অনন্ত বিজয়দের স্বপ্ন পূরণ হবে।

    Reply
    • Rashed Khan

      হৃদয় রাজ খান,Fuck your অভিজিৎ রায়, অনন্ত বিজয়দের স্বপ্ন পূরণ,it will never succeed and Evil will never succeed

      Reply
      • R. Masud

        ভন্ড খানরা — আবু সাঈদ, রাশেদ ইত্যাদি
        মুখে বল ইসলাম, লিখ Fuck your —-
        কারা আজ ফেইল করতাছে, তোমার আমার ধর্ম ইসলামের মানুষ জন।
        ভেবে দেখ, পশ্চিমা শক্তিরা হতে মারা যাছে কারা? আই এস , আলকায়েদারা, বোকা হারামদের হাতে মারা যাচ্ছে কারা? পোকা মাকড়ের মত এত মারা যাবার পরও বলছো
        Evil will never succeed?
        তোমাদের কথা শুনে, যেই কেঊ বুঝতে পারছে,
        ।– রে মার খেয়ে এসে গায়ের ঝাল মিঠাচ্ছে ঘরের বউকে ( নিরিহ মুক্তমনাদের, যারা মানুষ হিসাবে তোদের আমার চেয়ে অনেক উপরের) মারা ।
        — অথবা, পশ্চিমাদের লাথি খেয়ে দাত সব পড়ে যাবার পরও বলছিস, আজ মাফ করে দিলাম অন্য দিন আবার করলে দেখাইয়া দিমু–

        বলার মতো নয়কি ভন্ড কান সাহেব গং

  24. Rashed Khan

    People of Hindu who made statue Idol by own hand and worship them but you won’t talk against them why ? they has any evidence in favor of their statue ? Society and culture has destroyed many of Civilization due to pagan people like you ?you read many book and written but you ever read Quran ? Life story of last Prophet and Book of Bokhary (Imam Bokhary) ? you will know who is the real inventor ,, remember he who the creator , a leaf not get down without his order and he change human baby to old age including all .still you have time to know the truth , still you have time to know the truth due to death Angel will not email you before he come , what is death ? to unplug/disconnect soul from the body,this world will not given you justice but in next in Judgment day,so still you have time and fear Allah,Love Mohammad (saw) establish namaj .. you will never got what you have lost in the planet but in heaven. i do not trust on killing so i am sorry for your lost …. but still you have time to understand the truth

    Reply
  25. Rashed Khan

    What is you called Open Mind ? talking against a true religion even you are belong to a Muslim family ?should know that Allah said, Oh Muslim do not expect Heaven until you love your prophet better than your Mother,Father & Children, Even said do not Married pagan till he receive Islam but we saw you did both, is that make any sense to you ? if you care talk with me with your logic.
    Rashed Khan

    Reply
  26. Abu Sayed Khan

    ‘ইসলামের নামে উগ্রপন্থা ও বিভ্রান্তি’ মোকাবেলার সর্বোত্তম মারনাস্ত্র কুরআনুল কারীম

    – আবু সাঈদ খান

    ==============================================

    জিহাদান কাবিরা বা বৃহত্তর জিহাদ

    না, কখনোই না। অন্ততঃ ইসলামের নামে কৃত ‘টেররিজমের’ মোকাবেলা শুধুমাত্র ‘কাউন্টার টেররিজমের’ প্রচলিত অনুসঙ্গ দিয়ে করা যাবে না। তাতে সফলতা আসবে না, কথিত ‘জিহাদী’ উন্মাদনা ও উগ্রপন্থা নির্মূল হবে না।

    [লোকে ইসলামের নিন্দা করার জন্য বলে ‘ইসলামী উগ্রবাদ’ (Islamic extremism); না, উগ্রবাদ ইসলামী হয় না। ইসলাম কোন অবস্থাতেই সন্ত্রাসবাদ বা ফ্যানাটিসিজম শেখায় না। মুসলিম নামের কেউ ইসলামী মোড়কে দুর্বৃত্তপনা করলেই তাকে ইসলামী বলে চালানো অতি নিন্দনীয়, হঠকারী ও দূরভিসন্ধিমূলক।]

    বিশ্বের রাষ্ট্রসমূহ যত কলা-কৌশল ও শক্তি প্রয়োগ করুক না কেন, ধর্মীয় চরমপন্থা দমনে যত মিলিয়ন-বিলিয়ন ডলার ঢেলে দিক না কেন- তা শেষ বিচারে কার্যকর প্রমানিত হবে না। প্রচুর সময়-শ্রম-অর্থ ব্যয় করেও শেষ রক্ষা হবে না।

    সহজতম এবং অন্যতম সমাধান চিরন্তন সত্য, মহিমান্বিত কুরআন। যা এমন একজনের বাণী যিনি সকল মানুষের স্রষ্টা, তাদের মনের সকল গোপন কথা জানেন [إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ]-৮:৪৩, ১১:৫, ৩৫:৩৮, ৩৯:৭, ৪২:২৪, ৬৭:১৩। “যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানবেন না? তিনি অত্যন্ত সূক্ষ্ণদর্শী, সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞাত”-৬৭:১৪। আর তিনি এমন যিনি তাদের মনের রোগ সম্পর্কে সম্যক অবগত [فِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ]-২:১০, ৫:৫২, ৮:৪৯, ৯:১২৫, ২২:৫৩, ২৪:৫০, ৩৩:১২, ৩৩:৬০, ৪৭:২০, ৪৭:২৯, ৭৪:৩১।

    ভ্রান্ত ও কপট বিশ্বাসের গোড়ায় আঘাত করার জন্য কেবলমাত্র সেই কুরআনই হচ্ছে মোক্ষম মারনাস্ত্র। আল্লাহর কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে তাদের পরখ করে নেয়া, অন্তরের ব্যাধিগুলোকে কুরআন দিয়েই চিহ্নিত করে তাদের ধরিয়ে দেয়া। ‘কাউন্টার টেররিজম’ দ্বারা দমন-পীড়নের মাধ্যমে সাময়িক কণ্ঠরোধ করা যায়, নির্মূল করা যায় না বা যারা সংশোধনের যোগ্য তাদের প্রত্যাবর্তনের পথকে সুগম করা যায় না।

    উত্তম হল, সেই মহিমান্বিত কুরআন দিয়ে সকল মিথ্যা বিশেষ করে ইসলামের নামে চালু সকল মতলবী মিথ্যাকে প্রতিহত করা, কলুষিত অন্ধ বিশ্বাসের বেদীমূলে মহাসত্য (বিল হাক্ক) দিয়ে সজোরে আঘাত করা এবং তার আলো দিয়ে আল্লাহর সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বান্দাদের কলংকিত মৃত্যুর মিছিল থেকে জীবনের অভিযাত্রায় ফিরিয়ে আনা।

    কেননা এই মতলবী গোষ্ঠী- পার্থিব ভোগবিলাসের এক সাম্রাজ্য কায়েমই যাদের চূড়ান্ত গন্তব্য – আল্লাহ ও তাঁর শেষনবীর নামে প্রচুর মিথ্যা কথা চালু করেছে যা দিয়ে তারা আমজনতাকে ধর্মের নামে সহজেই বিভ্রান্ত করে দলে ভিড়িয়ে নিতে চেষ্টা করে।

    খন্ডিত দ্বীনের পতাকাবাহীরা মুসলমান তথা মানবতার বিরুদ্ধে এক ভয়াবহ দূরভিসন্ধিমূলক ‘নকল জিহাদ’ চালু করেছে। রাষ্ট্রযন্ত্রসমূহকে তার প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা, শক্তি ও বিচার ব্যবস্থাকে সাথে নিয়ে কুরআন দ্বারা এইসব কপট ও বাতিল শক্তির বিরুদ্ধে শুরু করতে হবে “জিহাদান কাবিরা” বা বৃহত্তর জিহাদ বা প্রচন্ড সংগ্রাম [جِهَادًا كَبِيرًا]; যেমনটি আল্লাহ তাঁর শেষনবীকে বলেছেন। এখানে লক্ষ্যনীয় যে, জিহাদান কাবিরার সাথে বস্তুগত মোকাবেলাকে সম্পৃক্ত না করে অস্ত্র হিসেবে কুরআনের উল্লেখ করা হয়েছে।

    এই যাবতীয় মিথ্যা শক্তিসমূহ নির্মূলে কুরআনের বাণী কতটা কার্যকরী তা আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন এভাবে-

    [بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌ وَلَكُمُ الْوَيْلُ مِمَّا تَصِفُونَ]-২১:১৮
    “বরং আমি সত্যকে মিথ্যার উপর নিক্ষেপ করি, অতঃপর সত্য মিথ্যার মস্তক (দেমাগ) চুর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়, অতঃপর মিথ্যা তৎক্ষণাৎ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তোমরা যা কিছু (মনগড়া) উদ্ভাবন করেছো, তার জন্যে তোমাদের দুর্ভোগ।“

    [وَيَمْحُ اللَّهُ الْبَاطِلَ وَيُحِقُّ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهِ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ]-৪২:২৪
    “বস্তুতঃ তিনি মিথ্যাকে মিটিয়ে দেন এবং নিজ বাক্য দ্বারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন। নিশ্চয় তিনি অন্তর্নিহিত বিষয় সম্পর্কে সবিশেষ জ্ঞাত।“

    [لِيُحِقَّ الْحَقَّ وَيُبْطِلَ الْبَاطِلَ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُونَ]-৮:৮
    “যাতে করে সত্যকে সত্য এবং মিথ্যাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে দেন, যদিও অপরাধিরা অসন্তুষ্ট হয়।“

    আর যারা সত্যিকার আলো পেতে চায় তাদের জন্য বলা হয়েছে-

    [الر كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إِلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ]-১৪:১
    “আলিফ-লাম-রা; এটি একটি গ্রন্থ, যা আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি-যাতে তুমি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আন- পরাক্রান্ত, প্রশংসার যোগ্য পালনকর্তার নির্দেশে তাঁরই পথের দিকে।“
    একমাত্র কুরআনই পারে এজাতীয় ধর্মীয় বিভ্রান্তি মোকাবেলার মাধ্যমে যুতসই সমাধানে পৌছে দিতে। কেননা সম্মানিত কুরআন হচ্ছে-
    ক. কওলান ছাকীলা [قَوْلًا ثَقِيلًا]- ভারী বা ওজনওয়ালা কথা (৭৩:৫)
    খ. কওলাম বালিগা [قَوْلًا بَلِيغًا]- অন্তরস্পর্শী কথা (৪:৬৩)
    গ. বাছায়িরু লিন্নাস [هَذَا بَصَائِرُ لِلنَّاسِ]- মানবজাতির জন্য চক্ষু উন্মোচনকারী বা আলোকবর্তিকা (৪৫:২০)
    ঘ. বাছায়িরু মির রব্বিকুম [بَصَائِرُ مِنْ رَبِّكُمْ]- তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে চক্ষু উন্মোচনকারী বা আলোকবর্তিকা (৬:১০৪, ৭:২০৩)
    ঙ. আহসানাল হাদীস [أَحْسَنَ الْحَدِيثِ]- সর্বোত্তম বাণী (৩৯:২৩)
    চ. তাফসিলা কুল্লি শাইয়িন [تَفْصِيلَ كُلِّ شَيْءٍ]- সকল বিষয়ের তফশিল (১২:১১১, ১০:৩৭)
    ছ. মা কানা হাদীসাই ইউফতারা [مَا كَانَ حَدِيثًا يُفْتَرَى]- এটা কোন মনগড়া কথা নয় (১২:১১১)
    জ. অমা কানা হাজাল কুরআনু আই-ইউফতারা মিন দুনিল্লাহ [وَمَا كَانَ هَذَا الْقُرْآَنُ أَنْ يُفْتَرَى مِنْ دُونِ اللَّهِ]- আর কুরআন এমন জিনিস নয় যে, আল্লাহ ব্যতীত কেউ তা বানিয়ে নেবে (১০:৩৭)

    জাতি-রাষ্ট্র যদি ইসলামী মোড়কের এই বিষফোড়া নির্মূলে আন্তরিক হয় তবে কুরআনী সমাধানে তাকে ফিরতেই হবে। আর যদি কোন অজ্ঞাত কারণে তাকে জিইয়ে রাখত চায় তবে তার দায়ভার তাদের উপরই বর্তাবে (অমান আসায়া ফায়ালাইহা-৪৫:১৫)।“আর যে অসৎ কর্ম করে, তা তার উপরই বর্তাবে। তোমার পালনকর্তা বান্দাদের প্রতি মোটেই যুলুম করেন না [ وَمَنْ أَسَاءَ فَعَلَيْهَا وَمَا رَبُّكَ بِظَلَّامٍ لِلْعَبِيدِ]”-৪১:৪৬।

    আসমান-যমীনের সবচে’ শক্তিশালী বানী (Most Powerful Words) এই কুরআন। কিন্তু সবাই কি তার ওজন স্বীয় উপলব্ধিতে আনতে পারে? কেন পারেনা তার কারণ বিশ্লেষণ, খেদ-আফসোস অনেক কিছুই ব্যক্ত করা হয়েছে খোদ কুরআনেই।

    বাংলায় ব্যবহৃত ‘আয়ত্ত’ শব্দটি যার অর্থ ‘অধীন’ বা ‘অধিগত’, তা আরবী ভাষার ‘ইহাত্বতুন’ ধাতুমূল থেকে উদ্ভূত। সূরা ইউনুস এবং সূরা নামলের নিম্নোক্ত আয়াত দুটিতে একই রুট থেকে ব্যবহার করা হয়েছে, ‘লাম ইউহিতু বিইলমিহি’ [لَمْ يُحِيطُوا بِعِلْمِهِ]- “যাকে এখনও জ্ঞান দ্বারা আয়ত্ত করেনি” এবং ‘লাম তুহিতু বিহা ইলমান’ [لَمْ تُحِيطُوا بِهَا عِلْمًا]- “তোমারা জ্ঞান দ্বারা তা আয়ত্ত করনি”।

    [بَلْ كَذَّبُوا بِمَا لَمْ يُحِيطُوا بِعِلْمِهِ وَلَمَّا يَأْتِهِمْ تَأْوِيلُهُ كَذَلِكَ كَذَّبَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَانْظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الظَّالِمِينَ]
    “বরং সেই বিষয়কে তারা প্রত্যাখ্যান করে যাকে এখনও তাদের জ্ঞান দ্বারা আয়ত্ত করেনি। অথচ এখনও এর মর্ম তাদের কাছে আসেনি (Nay, they reject that of which they have no comprehensive knowledge, and the final sequel of it has not yet come to them)। এমনিভাবে তাদের পূর্ববর্তীরাও মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। সুতরাং, লক্ষ্য করে দেখ, যালিমদের পরিণতি কেমন হয়েছে।“-১০:৩৯

    [حَتَّى إِذَا جَاءُوا قَالَ أَكَذَّبْتُمْ بِآَيَاتِي وَلَمْ تُحِيطُوا بِهَا عِلْمًا أَمْ مَاذَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ]-২৭:৮৪
    “যখন তারা উপস্থিত হবে, তখন আল্লাহ বলবেন, তোমরা কি আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিলে? অথচ এগুলো তোমারা জ্ঞানায়ত্ত করতে পারনি। বরং (বল) তোমরা আর কি করেছিলে?”

    [أَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ أَفَأَنْتَ تَكُونُ عَلَيْهِ وَكِيلًا () أَمْ تَحْسَبُ أَنَّ أَكْثَرَهُمْ يَسْمَعُونَ أَوْ يَعْقِلُونَ إِنْ هُمْ إِلَّا كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ سَبِيلًا]-২৫:৪৩-৪৪
    “তুমি কি তাকে দেখ না, যে তার প্রবৃত্তিকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করে? তবুও কি তুমি তার যিম্মাদার হবে? তুমি কি মনে কর যে, তাদের অধিকাংশ শোনে অথবা বোঝে? তারা তো চতুস্পদ জন্তুর মত; বরং তার চেয়েও বিভ্রান্ত।“

    [وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًا مِنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ لَهُمْ قُلُوبٌ لَا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آَذَانٌ لَا يَسْمَعُونَ بِهَا أُولَئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ أُولَئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ]-৭:১৭৯
    “আর নিশ্চয়ই আমি বহু জ্বিন ও মানুষ সৃষ্টি করেছি জাহান্নামের জন্য। তাদের অন্তর রয়েছে, তার দ্বারা বিবেচনা করে না, তাদের চোখ রয়েছে, তার দ্বারা দেখে না, আর তাদের কান রয়েছে, তার দ্বারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত; বরং তার চেয়েও নিকৃষ্টতর। তারাই উদাসীন।“

    কুরআনের শিক্ষাকে আয়ত্ত করার পথে মানুষ তখনই এগিয়ে যাবে যখন তারা তাকে নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করতে থাকবে। তাই খুবই সঙ্গত প্রশ্ন রাখা হয়েছে একাধিকবার- “তারা কি তবে কুরআন নিয়ে চিন্তাভাবনা করে না?”

    [أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآَنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلَافًا كَثِيرًا]-৪:৮২
    “তবে কি এরা কুরআন নিয়ে চিন্তাভাবনা (অনুধাবন) করে না? পক্ষান্তরে এটা যদি আল্লাহ ব্যতীত অপর কারও পক্ষ থেকে হত, তবে এতো অবশ্যই বহু বৈপরিত্য দেখতে পেত।“

    [أَفَلَمْ يَدَّبَّرُوا الْقَوْلَ أَمْ جَاءَهُمْ مَا لَمْ يَأْتِ آَبَاءَهُمُ الْأَوَّلِينَ]-২৩:৬৮
    “অতএব তারা কি এই কালাম সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করে না? না তাদের কাছে এমন কিছু এসেছে, যা তাদের পূর্বপুরুষদের কাছে আসেনি?”

    সুরা মুহম্মদে আরও শাণিত বাক্যবাণে বলা হয়েছে-
    [أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآَنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا]-৪৭:২৪
    “তারা কি কুরআন সম্পর্কে গভীর চিন্তা করে না? না তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?”

    কমন দুষমনঃ ইবলিস শয়তান

    ব্যক্তি-বিদ্বেষের জেরে আমরা পরস্পর পরস্পরের শত্রুতে রূপান্তরিত হয়েছি (বাগইয়াম বাইনাহুম- ২:২১৩, ৩:১৯, ৪২:১৪, ৪৫:১৭)। অথচ আমরা সবাই একই সত্তা আদম থেকে এসেছি (নাফসিউ অহিদাহ- ৪:১, ৬:৯৮, ৭:১৮৯, ৩১:২৮, ৩৯:৬)। আমরা সবাই একটি মাত্র জাতি (কানান্নাসু উম্মাতাও অহিদা-২:২১৩; মা কানান্নাসু ইল্লা উম্মাতাও অহিদা-১০:১৯)। [وَمَا كَانَ النَّاسُ إِلَّا أُمَّةً وَاحِدَةً فَاخْتَلَفُوا]- “আর সমস্ত মানুষ একই উম্মতভুক্ত ছিল, পরে পৃথক হয়ে গেছে।”-১০:১৯।

    আমাদের চেতনাতেই নেই যে আমরা আমাদের শত্রু হতে পারি না। হওয়া উচিত না- কেননা আমরা পৃথিবীর সবাই একজন আদর্শ পিতার সন্তান। তাদের মধ্যে কোন বৈরিতা কি কাম্য? আমরা আলবৎ ভুলে বসে আছি যে ইবলিস শয়তান শুধু মুসলমানদের নয়, বরং সম্মিলিতভাবে পুরো মানব-পরিবারের কমন দূষমন। সে কোন গোপন দস্যু নয়- বরং প্রকাশ্য দুষমন বা ‘আদুয়্যুম মুবীন [عَدُوٌّ مُبِينٌ]। কতবার বলা হয়েছে তা কুরআনে? সাত সাত বার (২:১৬৮, ২:২০৮, ৬:১৪২, ৭:২২, ১২:৫, ৩৬:৬০, ৪৩:৬২)। কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়েছে তার পদাঙ্ক অনুসরণ না করতে (লা তাত্তাবিয়ু খুতুওয়াতিশ শাইতন- ২:১৬৮, ২:২০৮, ৬:১৪২, ২৪:২১)।

    বিতাড়িত শয়তান আল্লাহর দরবারে তাঁর ইজ্জতের উপর কসম খেয়ে আদম ও তাঁর সন্তানদের জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করার জন্য হুমকি প্রদান করে এসেছে। “কলা ফাবি ইজ্জাতিকা লা উগবিয়ান্নাহুম আজমাইন [قَالَ فَبِعِزَّتِكَ لَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ]- সে বলল, আপনার ইজ্জতের কসম, আমি অবশ্যই তাদের সবাইকে বিপথগামী করে দেব”-৩৮:৮২। “যার প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন। শয়তান বললঃ আমি অবশ্যই আপনার বান্দাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট অংশ গ্রহণ করব“ [وَقَالَ لَأَتَّخِذَنَّ مِنْ عِبَادِكَ نَصِيبًا مَفْرُوضًا]-৪:১১৮।

    তাই আল্লাহ মানবজাতিকে পুনঃপুনঃ সতর্ক করেছেন-

    “হে বনী-আদম! শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে; যেমন সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে এমতাবস্থায় যে, তাদের পোশাক তাদের থেকে খুলিয়ে দিয়েছি-যাতে তাদেরকে লজ্জাস্থান দেখিয়ে দেয়। সে এবং তার দলবল তোমাদেরকে দেখে, যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখ না। আমি শয়তানদেরকে তাদের বন্ধু করে দিয়েছি, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না।“-৭:২৭

    “যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর কুরআন (জিকর) থেকে অন্ধ সাজে, আমি তার জন্যে এক শয়তান নিয়োজিত করে দেই, অতঃপর সে-ই হয় তার সঙ্গী। শয়তানরাই মানুষকে সৎপথে বাধা দান করে, আর মানুষ মনে করে যে, তারা সৎপথে রয়েছে।“-৪৩:৩৬-৩৭

    কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। আমরা কুরআনে প্রদর্শিত আল্লাহর পথে না চলে সেই শয়তানেরই পদাঙ্ক অনুসরন করছি অধিকাংশ মানুষ (আকছারান্নাস) যা করতে আমাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে বারবার।

     আল্লাহর রঙ্গে রঞ্জিত (২:১৩৮) না হয়ে আমরা তাঁর দ্বীনকে শতধা বিচ্ছিন্ন করে নিজেদেরকে খন্ডিত ও বিকৃত রঙ্গে রাঙ্গিয়েছি।
     আল্লাহ ও তাঁর কুরআনকে যথার্থ কদর না করে (মা কদারুল্লাহা হাক্কা কদরিহি-৬:৯১, ২২:৭৪, ৩৯:৬৭) কদর করছি সকল মিথ্যা ও ক্ষণস্থায়ী শক্তিকে।
     যে ভালবাসা আল্লাহর প্রতি প্রদর্শন করা উচিত তা অবারিতভাবে দিয়ে দিচ্ছি শয়তানী শক্তির ধারক-বাহকদের।

    “আর কোন লোক এমনও রয়েছে যারা অন্যান্যকে আল্লাহর সমকক্ষ সাব্যস্ত করে এবং তাদের প্রতি তেমনি ভালবাসা পোষণ করে, যেমন আল্ল

    Reply
    • সাত্ত্বিক

      ভাই, আপনি কি ইসলামের উপর থিসিস লিখতেছেন? তাইলে আলাদা পোস্ট দেন। সবাই দেইখা আরাম পাইবো।

      Reply
      • Rashed Khan

        Israeli Mossad(CIA) is the responsible for killing around the world wide due to they hate Islam and trying to disgrace Islam, other part all those Pagan atheist People from the open mind blog make an easy way to them in my country,You should not talk what you don’t have any knowledge right ? according to changed speech by the Israeli people of previous Holy book Lord the creator Allah promised that he will protect Holy Quran from diverted and also said, Prophet Muhammad (s) should be beloved better than Parents,kids & wife, if you blame against my parents than i will must hit you and than you blaming someone who is better than all than what should i do ? explain me you fuck ! talk to me you fucking garbage. you are responsible for all those killing .Lord Allah will not walking in the planet he protect one by the other human.you are the moron of my country

    • R. Masud

      জনাব আবু সাঈদ হুজুরকে বলছি —
      নিছের দেখানো লাইন খানা আপনার লিখা

      —ইসলামী উগ্রবাদ’ (Islamic extremism); না, উগ্রবাদ ইসলামী হয় না–

      তাহলে যারা চাপাতি বাজী করছে এরা কারা?
      এরাতো চিৎকার করে বলছে আল্লাহর আইন প্রতিস্টার জন্যই এই কাজ করছে। তারা যদি আপনার সংজ্ঞার ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে এই কাজ করছে তাহলে তাদের বিরুদ্ধ্যে আপনার ব্যাখ্যা মতের মুসলমানরা কেন রাস্তায় নেমে আসছেন না ?

      আপনি তো বন্যার লিখার বিরুদ্ধ্যে জপাজপ লাফিয়ে উঠলেন। কই, ইসলামের নামে চাপাতি চালিয়ে নিরপরাধ মানুষ যখন জবাই করা হয় আপনার কলমটা তখন নড়েনা কেন?
      ভন্ডামী রাখুন —

      Reply
  27. Abu Sayed Khan

    সত্যের সাথে হোক সকলের সন্ধি
    -আবু সাঈদ খান

    অল্লাহু ইয়া’লামু অআনতুম লা তা’লামুন (আল-কুরআনুল কারীম-২.২১৬, ২.২৩২, ৩.৬৬, ২৪.১৯)- আল্লাহই জানেন আর তোমরা জান না।

    মহাশূন্যে সন্তরণশীল পৃথিবী নামক এই অনন্য গ্রহে প্রথম মানবের বিচরণ কত আগে শুরু হয়েছিল তার সঠিক দিনক্ষণ আসমান-জমিন আর আদি মানব আদমের স্রষ্টা রহমানুর রাহীম এক আল্লাহ্‌ই বলতে পারেন। একই পিতার (৪.১, ৬.৯৮, ৭.১৮৯, ৩৯.৬, ৪৯.১৩) শতকোটি সন্তান সহস্র রূপে পৃথিবীর প্রতি প্রান্তে আজ ঐক্যের বিপরীতে সীমাহীন বৈষম্যই ঘোষণা করছে। অসংখ্য জাতিগোষ্ঠী ইতোমধ্যে সময়ের স্রোত পেরিয়ে বিস্মৃত অতীতে পরিণত হয়েছে। অনেক সম্প্রদায় আর সভ্যতাকে ধ্বংস করা হয়েছে। মানবসমাজের মুলোৎপাটনের বহুমাত্রিক বিবরণ কুরআনের পরতে পরতে বিবৃত হয়েছে (অলাক্বদ আহলাকনাল ক্বুরুনা মিন ক্ববলিকুম লাম্মা জলামু-৬.৬, ৭.৪, ৭.১৩৭, ৮.৫৪, ১০.১৩, ১৭.১৭, ১৯.৯৮, ২১.১১, ২১.৯৫, ২২.৪৫, ২৩.৪১, ২৩.৪৪, ২৫.৩৬, ২৫.৩৮-৩৯, ২৮.৪৩, ২৮.৭৮, ২৯.৩৮-৩৯, ৩২.২৬, ৩৬.৩১, ৩৮.৩, ৪৩.৪, ৪৪.৩৭, ৪৬.২৭, ৪৭.১০, ৪৭.১৩, ৫০.৩৬, ৫১.৪৬, ৫৩.৫০-৫২, ৫৪.৫১, ৬৯.৫-৬, ৭৭.১৬, ৯১.১৪)। [লেখাটিতে কুরআন থেকে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য সূত্রগুলো উল্লেখ করার চেষ্টা করা হয়েছে অনুসন্ধিত্সু পাঠকের চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে।]

    মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ প্রশ্ন করেন: হাল তুহিচ্ছু মিনহুম মিন আহাদিন আও তুছমায়ু লাহুম রিকঝা (১৯.৯৮)-তুমি তাদের কাউকে দেখতে পাও কি? অথবা তাদের কোন মৃদু শব্দ শুনিতে পাও কি? ফাহাল তারা লাহুম মিম বাক্বিয়া (৬৯.৮)-সুতরাং তাদের কাউকে তুমি অবশিষ্ট দেখতে পাও কি? সত্যকে প্রত্যাখ্যান করার কারণে এইসব অসংখ্য ধ্বংসযজ্ঞের পুনঃ পুনঃ উল্লেখ করে একমাত্র স্থায়ী সত্তা ‘যিল জালালী ওয়াল ইকরাম’ (৫৫.২৭) আমাদের কাছে জানতে চান: ফাহাল মিম্ মুদ্দাকির (৫৪.৫১)– এগুলো নিয়ে ভাববার কেউ আছে কি?

    আমি ‘কালো’র সামনে বসা জনৈক ‘সাদা’ আদম সন্তানটি কোন এক দূর অতীতে যে একই যোগসূত্রে বাধা ছিল তা মনে করবার কোন তাগিদই আজ আমরা আর বোধ করিনা। বিজ্ঞানের যাদুদন্ড দিয়ে ইতিহাসের আস্তাকুড় ঘেঁটে সত্যের কতটুকুই বা উদ্ধার করা যায়। যিনি অগ্রপশ্চাৎ সকল জ্ঞানকে, আর সকল সৃষ্টিকে পরিবেষ্টন করে আছেন (অছিয়া রব্বি কুল্লা শাইয়্যিন ইলমা-৬.৮০, ৭.৮৯, ২০.৯৮; ইন্না রব্বাকা আহাতা বিন্নাছি-১৭.৬০, ৪১.৫৪, ৮৫.২০; ২.২৫৫, ৬.৫৯, ৩৫.১১, ৪১.৪৭)- সেই আল্লাহ বলেন: অল্লাজিনা মিম্ বা’দিহিম, লা ইয়া’লামুহুম ইল্লাল্লাহ্ (১৪.৯)–“এবং তাদের (নূহ সম্প্রদায়, আ’দ ও সামুদ জাতি) পর যারা ছিল, তাদেরকে আল্লাহ্‌ ভিন্ন কেউই জানে না”। আরও বলা হয়েছে: হে নবী, এমন অনেক নবী-রাসূল আমি প্রেরণ করেছি যাদের কথা এই কিতাবের দ্বারা তোমাকে জানানো হয়েছে, এছাড়াও অনেক নবী-রাসূল আছে যাদের কথা তোমাকে জানানো হয়নি (৪.১৬৪)। অলাক্বদ আলিমনাল মুসতাক্বদিমীনা মিনকুম অলাক্বদ আলিমনাল মুসতা’ক্ষিরিন (১৫.২৪)-তোমাদের পূর্বে যারা ছিল আমি তাদেরকে জানি, আর তোমাদের পরে যারা আসবে তাদেরকেও আমি জানি।

    আমাদের ভ্রান্তিবিলাস তখনো কাটে না যখন জীবন সায়াহ্নে এসে ভাবি: ‘সাগর তীরে নুড়ি কুড়াইতেছি’। আমরা নো-ম্যানস্ ল্যান্ডের ক্ষণিক নিরাপদ অবস্থানে গিয়ে উপনীত হই যখন এই উপলব্ধির উন্মেষ ঘটে যে, ‘শুধু এতটুকুই জানি যে, আমি কিছুই জানি না’, বা কারো এহেন আফসোস তৈরি হয়: ‘মা’লুম হুয়া কেহ্ কুছ না মা’লুম হুয়া’। এমন অনেক বিষয় রয়েছে যে সম্পর্কে আমাদের মোটেই জ্ঞান নেই কিন্তু আমরা তর্ক-বিতর্ক করে থাকি (ফালিমা তুহাজ্জুনা ফিহা লাইসা লাকুম বিহি ইলমুন; অল্লাহু ইয়া’লামু অআনতুম লাতা’লামুন-৩.৬৬; ২৪.১৯)।

    কিন্তু মহাপ্রজ্ঞাময় আল্লাহ্‌ বলেন: ইন্নি আ’লামু (নিঃসন্দেহে আমি জানি-২.৩০, ২.৩৩, ১৫.২৪; আল্লাহু আ’লামু-৩.৩৬, ৩.১৬৭, ৪.২৫, ৪.৪৫, ৫.৬১, ৬.৫৮, ৬.১২৪, ১২.৭৭, ১৬.১০১, ১৮.২৬, ২২.৬৮, ৬০.১০, ৮৪.২৩)। তিনি বলিষ্ঠ ঘোষণা করেন: আমি অবশ্যই জানি (নাহনু/লানাহনু আ’লামু-১৭.৪৭, ১৯.৭০, ২০.১০৪, ২৩.৯৬, ৫০.৪৫)। ইন্না রব্বাকা হুয়া আ’লামু-৬.১১৭, ৬.১১৯, ১৬.১২৫, ২৮.৫৬, ৩৯.৭০, ৪৬.৮, ৫৩.৩০, ৫৩.৩২, ৬৮.৭। আরও পরিষ্কার করে বলা হয়: লা তা’লামুহুম, নাহনু না’লামুহুম (৯.১০১) – তুমি তাদের জান না; আমি তাদের জানি। “আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি এবং তার হৃদয়ে যে কুপ্রবৃত্তির উদয় হয়, তা আমি অবগত আছি। আমি তার স্কন্ধ-শিরা থেকেও অধিক নিকটবর্তী (অনাহনু আক্বরবু ইলাইহি মিন হাবলিল অরিদ)”-৫০.১৬। সেই মহান সত্তার সন্নিধান হতেই আমাদের তরফে জ্ঞান আসে (২.১২৯, ২.১৫১, ২.২৩৯, ৯৬.৩-৫)। ‘আল্লামাল ইনসানা মা’লাম ইয়া’লাম (৯৬.৫)- তিনি মানুষকে ঐ সকল বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না। সেই সমান্তরালে অবস্থান নিয়ে আমরা যখন বলি আমাদের জানাজানি ঠিক ততটুকুই যা তিনি তাঁর নবী-রাসূলগণের মাধ্যমে আসমানি কিতাব দিয়ে আমাদের জানিয়েছেন, তখন স্বস্তি আর নিরাপদ বোধ করি। তখনই প্রশান্তি লাভ ঘটে।

    কে আছে এমন যে দাবী করতে পারে যে, সে মানুষ আর আসমান-জমিন সৃষ্টি করেছে? দ্বিতীয় কে আছে এমন যে ঘোষণা করতে পারে: আমিই জীবন দান করি, মৃত্যু ঘটাই আর আমারই দিকে সকলের প্রত্যাবর্তন-৫০.৪৩। কে আছে যে স্বত্ব ঘোষণা করে, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবকিছু তারই কর্তৃত্বাধীনে (২.২৮৪, ৩.১০৯, ৩.১২৯, ৪.১২৬, ৪.১৩১-১৩২, ৫৩.৩১, ৫৯.১, ৬১.১, ৬২.১, ৬৪.১) আর সকল সৃষ্টি তাঁরই মহিমা ঘোষণা করে (১৭.৪৪), তাঁর সামনে মস্তক অবনত করে দেয় (মানুষের মধ্যকার বিভ্রান্তরা ছাড়া-২২.১৮, ২৪.৪২)। কে আছে যে বলতে পারে, সকল কিছু ধ্বংস হয়ে যাবার পরও সবকিছুর মালিকানা তাঁরই থাকবে (অলিল্লাহি মিরাছুছ্ ছামাঅতি অল আরদি-৩.১৮০, ১৫.২৩, ইন্না নাহনু নারিছুল আরদা অমান আলাইহা অইলাইনা ইয়ুরজাউন-১৯.৪০, ১৯.৮০)? কে আছে, সর্বজ্ঞ আল্লাহ ব্যতীত?

    বিগত কয়েক শতাব্দীতে বিশ্বের ‘মুক্তবুদ্ধির’ প্রবক্তারা যে মহাগ্রন্থ কুরআনের মহা বিস্ময়কর আলোটাকে গ্রহণ করতে পারল না সেটা এক বড় দীনতা। হয়ত মহাকালের বিচারে এসময়টুকু এতটা পর্যাপ্ত নয়। শিল্পবিপ্লবোত্তর ইউরোপে সম্পূর্ণ বিপরীত স্রোতে কেউ কেউ উদ্যোগী হয়েছেন, তরী তীরে ভেড়াতে পারেন নি। পার্থিব এটিকেট (ত্বরিক্বতিকুমুল মুসলা-২০.৬৩) শেষ পর্যন্ত বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল যেভাবে ঘটেছিল পূর্ববর্তী অনেক জাতি ও ব্যক্তি বিশেষের জন্য। ‘সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালোবাসিলাম, সে কখনো করেনা বঞ্ছনা’ – উচ্চারণ করেও কি শেষ পর্যন্ত আমরা সবাই সত্যকে মেনে নেই?

    কে আছে তারচে’ অধিক নির্বোধ আর নিজ সত্তার উপর সর্বাধিক জুলুমকারী (১৮.৫৭, ৩৯.৩২) যে সেই মহান, মহাবিজ্ঞানময় আল্লাহর শরণ নেয় না – একমাত্র যিনি বলতে পারেন, তিনিই জানেন। তারচে’ বড় হঠকারী আর কূপমণ্ডূক কে আছে যে এই জমিনে কুরআনের সত্য প্রকাশিত হবার পর তা থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে -(বাল কায্যাবু বিল হাক্বি লাম্মা জায়াহুম ফাহুম ফি আমরিম্ মারিজ- ৬.৫, ১০.৭৭, ১৮.৫৭, ২৯.৬৮, ৩৪.৪৩, ৪৬.৭, ৫০.৫)? সত্যের সাথে সংহতি প্রকাশ করে না- আর সে অহংকারী ও বিমুখ হয়, হক্বের ব্যাপারে স্বেচ্ছা নীরবতা অবলম্বন করে আত্মতুষ্টির রসদ ফেরি করে (২.১৩০, ২.১৩৭, ৩.২০, ৩.৩২, ৪.৮০, ৫.৪৯, ৫.৯২, ৬.৪৬, ৯.৩, ৯.১২৯, ১১.৫৭, ১৫.৮১, ১৬.২২, ১৭.৪১, ১৮.৫৭, ২১.১, ২১.১০৯, ২৬.৫, ৩১.৭, ৩২.২২, ৪১.৪, ৪৬.৩, ৫০.৯, ৫৩.৩৩, ৫৪.২, ৬০.৬, ৬৩.৫, ৬৪.৬, ৬৪.১২, ৬৯.১৭, ৭২.১৭, ৭৪.২২, ৭৪.৪৯, ৮৮.২৩, ৯২.১৬, ৯৬.১৩; আরও বহু)। স্রষ্টা প্রদত্ত মেধা দিয়ে প্রাপ্ত যশ, খ্যাতি আর পুরষ্কারের ভিড়ে চাপা দিয়ে রাখে আপন প্রভুকেই, আর তাঁর বাণীকে।

    আমি ‘মহাজ্ঞানী’, কিন্তু আমার জ্ঞান যদি সকল মহাজ্ঞানীর যিনি অভিভাবক তাঁর বয়ান-বিবৃতি থেকে বিসদৃশ হয়, তখন আমার সেই যাবতীয় অর্জন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে বাধ্য (২.২১৭, ৩.২২, ৫.৫, ৫.৫৩, ৭.১৪৭, ৯.১৭, ৯.৬৯, ১১.১৬, ১৮.১০৫, ৩৩.১৯, ৩৯.৬৫, ৪৭.৯, ৪৭.২৮, ৪৭.৩২, ৪৯.২)। এ সম্পর্কে কুরআনে উপমা ব্যবহার করেও বলা হয়েছে: “যারা তাদের প্রতিপালকের সাথে কুফরি করে, তাদের কর্মসমূহ ছাইভস্মের মত যার উপর দিয়ে ঝড়ের দিনে প্রবল বায়ু বয়ে যায়। যা তারা উপার্জন করেছিল তার কোন অংশই তাদের কাজে আসে না। এটাই ঘোরতর বিভ্রান্তি”-১৪.১৮। আল্লাহ্‌ তাঁর রাসূলকে বলেন: “তুমি বলে দাও, আমি কি তোমাদেরকে তাদের সংবাদ দেব, যারা কর্মের দিক দিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। তারা ঐসব লোক, যাদের প্রচেষ্টা পার্থিব জীবনে বিফল হয়েছে, অথচ তারা মনে করে যে, তারা উত্তম কাজ করেছে। তারা এমন লোক, যারা তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয় অস্বীকার করে। ফলে তাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যায়। অতএব কিয়ামতের দিন তাদের জন্য আমি কোন ওজনই দাড় করব না। জাহান্নামই তাদের প্রতিফল; যেহেতু তারা কাফের হয়েছে এবং আমার নিদর্শনাবলী ও রাসূলগণকে বিদ্রূপের বিষয় রূপে গ্রহণ করেছে”- ১৮.১০৩-১০৬। তাদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও বলা হয়েছে: “ইয়্যাদয়ুনা মিন দুনিহি ইল্লা ইনাসা, অইয়্যাদয়ুনা ইল্লা শাইত্বনাম মারিদা – তারা আল্লাহর পরিবর্তে শুধু নারীর (দেবীর) আরাধনা করে এবং শুধু অবাধ্য শয়তানের পূজা করে। যার প্রতি আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন”- ৪.১১৭। তাই ‘বর্ণাঢ্য ও কর্মময়’ জীবনের অধিকারী ‘প্রগতিশীল’ চিন্তা-চেতনায় তাড়িতদের হুশিয়ার হবার সময় এসেছে।

    কুরআনের শ্বাশ্বত বাণীকে বর্জন করে ‘আলোকিত মানুষ’ হবার চেষ্টা সূর্যের আলোকে অস্বীকার করে ৬০ অথবা ১০০ পাওয়ারের বালভের আলোয় আলোকিত হবার সাথেই তুল্য হতে পারে। এই কুরআন-বর্জনই এক সময় আমাদের জন্য খেদ আর বিলাপের কারন হয়ে দাড়াবে (৬৯.৫১)।

    মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যেই ধর্মীয় লেবাসে কপট-মুনাফিক বসবাস করে- যারা শুধুমাত্র দুনিয়ালাভের আশায় নগন্য মূল্যে দ্বীনকে বিক্রি করে দেয় (২.৪১, ২.৭৯, ২.১৭৪, ৩.৭৭, ৩.১৮৭, ৩.১৯৯, ৫.৪৪, ৯.৯, ১৬.৯৫)। আরো এক ভয়ংকর শ্রেণী আমাদের মাঝে বিরাজ করে যারা জেনেশুনে সত্যকে লুকায় (২.৪২, ২.১৫৯, ২.১৭৪, ৩.৭১, ৩.১৮৭, ৪.৩৭), তাদের ব্যাপারেও কঠোর বাণী তথা লা’নত উচ্চারিত হয়েছে। কুরআনে প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নে কারো জন্যই এই মুনাফিক সম্প্রদায় যেন বাধা হয়ে না দাড়ায়। মানদণ্ড আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলগন। তাওহীদ ও রেসালাতের নীচে কোন মানদণ্ড নেই। ধর্মের দুর্বৃত্তরা সবসময়ই ধর্মবিরোধীদের চেয়ে ইসলামের বেশি ক্ষতি করেছে। এজন্যই বলা হয়েছে: ইন্নাল মুনুফিক্বিনা ফিদ্দারকিল আসফালি মিনান্নার (৪.১৪৫)-নিঃসন্দেহে মুনাফিকরা জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করবে। যারা ধর্মের রাজনীতি করেন, আর যারা তার বিরোধিতা করেন – এই উভয় গোষ্ঠীর নেতৃত্বে ধার্মিকতা থাকলে সহজেই বিবাদ নিষ্পত্তি হত, আমজনতাসহ সংশ্লিষ্ট সবাই উপকৃত হত।

    শয়তান মানবজাতির কমন দুষমন; প্রকাশ্য ও ঘোষিত শত্রু (আদুয়্যুম মুবিন-২.১৬৮, ২.২০৮, ৬.১৪২, ৭.২২, ১২.৫, ১৭.৫৩, ৩৬.৬০, ৪৩.৬২)। ‘সনাতন’ ধর্মাবলম্বীরা শয়তানকে আসুরিক শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করে বুঝতে চায়। সকল মানুষের স্রষ্টা এক এবং অদ্বিতীয় আল্লাহ পাক (একমেবাদ্বিতীয়ম- এক ছাড়া দ্বিতীয় নেই) উদাত্ত আহ্বান জানান: “হে মানুষ, নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য (ইন্না অ’দাল্লহি হাক্কুন)। সুতরাং, পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে প্রতারিত না করে এবং সেই প্রবঞ্চক যেন কিছুতেই তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে প্রবঞ্চিত না করে। শয়তান তোমাদের শত্রু; অতএব তাকে শত্রু রূপেই গ্রহণ কর। সে তার দলবলকে আহবান করে যেন তারা জাহান্নামী হয়” (৩৫.৫-৬, ৩১.৩৩, ৫৭.১৪) – ফালা তাগুর্রান্নাকুমুল হায়াতুদ্দুনিয়া অলা ইয়া গুর্রান্নাকুম বিল্লাহিল গুরুর।

    কিয়ামতের কথা উল্লেখ করে আল্লাহ অগ্রিম হুশিয়ারি করেন: “এই দিবস সত্য। অতঃপর যার ইচ্ছা, সে তার প্রতিপালকের কাছে ঠিকানা তৈরি করুক। আমি তোমাদেরকে আসন্ন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করলাম, যেদিন মানুষ প্রত্যক্ষ করবে যা সে সামনে প্রেরণ করেছে এবং কাফের বলবে: হায়, আফসোস-আমি যদি মাটি হয়ে যেতাম”-৭৮.৩৯-৪০। পাক কুরআনে বিশ্বাস ও প্রত্যাবর্তনের ব্যাপার চূড়ান্ত হুশিয়ারি উচ্চারিত হয়: “অতএব, যারা এই কালামকে মিথ্যা বলে (অমাইয়্যু কাজ্জিবু বিহাজাল হাদিস), তাদেরকে আমার হাতে ছেড়ে দাও, আমি এমন ধীরে ধীরে তাদেরকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাব যে, তারা জানতে পারবে না। আমি তাদেরকে অবকাশ দেই। নিশ্চয় আমার কৌশল মজবুত”-৬৮.৪৪-৪৫। “আল্লাহ ব্যতীত আর কোনোই উপাস্য নেই। অবশ্যই তিনি তোমাদেরকে সমবেত করবেন কিয়ামতের দিন, এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। তাছাড়া আল্লাহর চাইতে বেশী সত্য কথা আর কার হবে (অমান আছদকু মিনাল্লহি হাদিছা্)”-৪.৮৭।

    “হে মানব! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গিনীকে সৃষ্টি করেছেন; আর বিস্তার করেছেন তাদের দু’জন থেকে অগণিত পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্ঝা করে থাক এবং আত্নীয় জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের ব্যাপারে সচেতন রয়েছেন”-৪.১। “হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর এবং ভয় কর এমন এক দিবসকে, যখন পিতা পুত্রের কোন কাজে আসবে না এবং পুত্রও তার পিতার কোন উপকার করতে পারবে না। নিঃসন্দেহে আল্লাহর ওয়াদা সত্য। অতএব, পার্থিব জীবন যেন তোমাদেরকে ধোঁকা না দেয় এবং আল্লাহ সম্পর্কে প্রতারক শয়তানও যেন তোমাদেরকে প্রতারিত না করে”- ৩১.৩৩।

    মানবজাতিকে তাদের গোঁড়ার ইতিহাসও স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে, বলা হয়েছে তোমাদের সকলের পৃথিবীতে আবির্ভাব একই ব্যক্তি থেকে (খলাক্বকুম্/আনশায়াকুম মিন্নাফসিও অহিদা- ৪.১, ৭.১৮৯, ৩৯.৬, ৬.৯৮; ইন্না খলাক্বনাকুম্ মিন জাকারিও অউনছা-৪৯.১৩), আসলে তোমরা সবাই একই উম্মত ছিলে (উম্মাতাও অহিদাতা – ২.২১৩, ১০.১৯, ২১.৯২, ২৩.৫২)।

    “সকল মানুষ একই জাতি সত্তার অন্তর্ভুক্ত ছিল। অতঃপর আল্লাহ তা’য়ালা পয়গম্বর পাঠালেন সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারী হিসাবে। আর তাঁদের সাথে অবতীর্ণ করলেন সত্য কিতাব, যাতে মানুষের মাঝে বিতর্কমূলক বিষয়ে মীমাংসা করতে পারেন। বস্তুত: কিতাবের ব্যাপারে অন্য কেউ মতভেদ করেনি; কিন্তু পরিষ্কার নির্দেশ এসে যাবার পর নিজেদের পারস্পরিক বিদ্বেষবশতঃ তারাই করেছে, যারা কিতাব প্রাপ্ত হয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ ঈমানদারদেরকে হেদায়েত করেছেন সেই সত্য বিষয়ে, যে ব্যাপারে তারা মতভেদ লিপ্ত হয়েছিল। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা, সরল পথ বাতলে দেন”- ২.২১৩।

    ব্যক্তিগত বিদ্বেষের কারণে যেমন এক পিতার সন্তানদের মধ্যে বৈরিতা আর বিভক্তি চলে আসে, তখন তারা তাদের প্রভুকেও খণ্ডিত করে ছাড়ে। বাংলায় প্রবাদ চালু আছে: দশচক্রে ভগবান ভুত। সেই একই পারস্পরিক বিদ্বেষ (বাগইয়াম বাইনাহুম-২.২১৩, ৩.১৯, ৪২.১৪, ৪৫.১৭) মানবজাতিকে আর তার ধর্মাদর্শকে শতধা বিচ্ছিন্ন করেছে।

    আল্লাহ যদি চাইতেন, এই বিভক্তিকে মিটিয়ে দিতে পারতেন, সবাইকে এক উম্মতের (উম্মাতাও অহিদাতা- ৫.৪৮, ১১.১১৮, ১৬.৯৩, ৪২.৮) অঙ্গীভূত হতে বাধ্য করতে পারতেন। কিন্তু প্রত্যেকে যাতে তার স্বাধীন ইচ্ছার প্রয়োগ করে নিজেই স্রষ্টার পক্ষ থেকে সেই কাজটি সম্পন্ন করে তাই সেটা তিনি করবেন না, কেননা ‘লা ইকরহা ফিদ্ দ্বীন’ (২.২৫৬)- ধর্মে কোন জবরদস্তি নেই।

    অবিশ্বাসে পাথরের টুকরোগুলো আর কতকাল আর্তনাদ করবে? প্রতিনিধিত্বের সুমহান দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েও এই আমাদের দ্বারা তার কোনই হক্ব আদায় হল না। আর কতকাল মানবসভ্যতা মিথ্যার ঘানি টেনে যাবে? আর কতকাল, কত শতাব্দী? কত সহস্র প্রজন্মকে জাহান্নামের বিনিময়ে তাগুতের দাসত্ব করে যেতে হবে (২.২৫৭, ৪.৫১-৫২, ৪.৬০, ৪.৭৬, ৫.৬০, ১৬.৩৬, ৩৯.১৭)? আর কত সহস্র বছরের মেয়াদ পেরুলে পৃথিবী আর তার অধিবাসীদের বুদ্ধির এই পরিপক্বতা অর্জিত হবে যে, শেষপর্যন্ত ‘বহুর’ দাসত্ব করতেই হয়, অতএব শতসহস্র মিথ্যার দাসত্ব না করে এক আল্লাহর দাসত্ব করাই বেহতর। এবার পাষাণহৃদয়গুলো বিগলিত হোক – যিনি চেয়ে আছেন অপার স্নেহে তাঁর জন্য। আমাদের এবার নাম লিখাবার সময় হয়েছে। শেকড় থেকে বিচ্ছিন্নতার কতকাল পেরিয়ে গেল। “শান্ত সন্ধ্যা, স্তব্ধ কোলাহল, নিবাও বাসনা বহ্নি নয়নের নিড়ে, চল ধীরে ঘরে ফিরে যাই”।

    ‘সিটিবয়’ আর ‘হাজার বছরের ঐতিহ্যের’ ঠুনকো অহমিকাকে বিসর্জন দিয়ে আমরা সবাই মহাকাল আর মহাবিশ্বের মহানাগরিক হই – কুরআনকে ধারণ করে স্থান ও কালের উর্ধ্বে উঠি। কুরআন বারবার পঠিত হবার গ্রন্থ – সবাই মিলে, সকল সময়। আমাদের সকলের শেষ আশ্রয়স্থল মহান আল্লাহ তা’য়ালাই (৫৩.৪২)। এখন সময় এসেছে কুরআনকে পূর্ণরূপে উপলব্ধির, পুরো আসমানী গ্রন্থকে ধারণের – তার জন্য মানসিক ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি গ্রহণের। তাই সকল সংকীর্ণতা পরিহার করে মানবজাতির প্রতিটি সদস্য সত্যকে আকড়ে ধরুক অতিসত্বর- সত্যের সাথে হোক সকলের সন্ধি।

    ইমেইলঃ khan_books@yahoo.com

    Reply
    • A Alam

      One can argue with millions of reasoning but truth may not be there. A poor soul finds solace when no more tears left and eyes turned into an ocean of Love and Forgiveness!

      Reply
      • শামান সাত্ত্বিক

        “কিন্তু সারা কোরআন তন্নতন্ন করে খুঁজলেও পৃথিবীর ঘূর্ণনের সপক্ষে একটি আয়াতও মিলবে না। আল্লাহ্‌র দৃষ্টিতে পৃথিবী স্থির, নিশ্চল। সূরা নামলে (২৭ঃ ৬১) পরিষ্কার বলা আছে যে, দুনিয়াকে বসবাসের স্থান করেছেন আর তার মধ্যে নদীসমূহ সৃষ্টি করেছেন আর এটিকে (পৃথিবী) স্থির রাখবার জন্য পাহাড়-পর্বত সৃজন করেছেন …’। একইভাবে সুঊরা রুম (৩০ঃ২৫), ফাত্বির (৩৫ঃ৪১), লুকমান (৩১ঃ১০), বাকারা (২ঃ২২), নাহল (১৬ঃ১৫) পড়লেও সেই এক-ই ধারণা পাওয়া আয় যে, কোরআনের দৃষ্টিতে পৃথিবী আসলে স্থির।

        … আরবিতে পৃথিবীকে বলে ‘আরদ’ আর ঘূর্ণন হচ্ছে ‘ফালাক’। একটি মাত্র আয়াত আমি দেখতে চাই যেখানে ‘আরদ’ এবং ‘ফালাক’ পাশাপাশি ব্যবহৃত হয়েছে।

        তাছাড়া কোরআনে পৃথিবীকে গোলাকার না ভেবে সমতল ধরা হয়েছে। এই সম্পর্কে উদ্ধৃতিসহ ব্যাখ্যা দিত গেলে আজকে আমার ঘুম হারাম হবে।

        “”যারা প্রাচীন ধর্মগ্রন্থগুলোকে বিজ্ঞানের মোড়কে পুরতে চান, তারা কি এই আয়াতগুলোর কথা জানেন না? অবশ্যই জানেন। জানার পর তারা একটি মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে মনকে শান্ত করেন। অনেকে আবার সেগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করেন। আর এখানেই আমাদের আপত্তি। কেবল কোর আনে নয়, অন্য সকল অলৌকিক গ্রন্থেও আমরা নিশ্চল এবং স্থির পৃথিবীর ধারণা পাই। বাইবেল বলে-

        ‘আর জগৎও অটল, তা বিচলিত হবে না’ (ক্রনিকলস ১৬/৩০
        ‘জগৎ ও সুস্থির, তা নড়াচড়া করবে না।’ (সাম ৯৩/১)
        ‘তিনি পৃথিবীকে অনড় এবং অচল করেছেন’ (সাম ৯৬/১০)
        ‘তিনি পৃথিবীকে এর ভিত্তিমূলের ওপর স্থাপন করেছেন, তা কখনো বিচলিত হবে না’ (সাম ১০৪/৫) ইত্যাদি।”

        একইভাবে বেদেও রয়েছে-

        ‘আকাশ নিশ্চল, পৃথিবী নিশ্চল, এ সমস্ত পর্বতও নিশ্চল’।

        ঋগ্বেদের আরেকটি শ্লোকে রয়েছে-

        ‘সবিতা নানা যন্ত্রের দ্বারা পৃথিবীকে সুস্থির রেখেছেন। তিনি বিনা খুঁটিতে আকাশকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করেছেন।’

        উপরের শ্লোকটি একটি বিশেষ কারণে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। এটি থেকে বোঝা যায়, বৈদিক যুগে মানুষেরা পৃথিবীকে তো স্থির ভাবতেনই, আকাশকে ভাবতেন পৃথিবীর ছাদ। তারা ভাবতেন ঈশ্বরের অপার মহিমায় এই খুঁটিবিহীন ছাদ আমাদের মাথার ওপরে ঝুলে রয়েছে। কোরআনের সূরা লুকমানে (৩১ : ১০) বর্ণনা আছে এইভাবে-

        ‘তিনিই খুঁটি ছাড়া আকাশকে ছাদ স্বরূপ ধরে রেখেছেন …’”

        “আসলে কোরআনে কেন আকাশ ও পৃথিবী একসাথে মিশে থাকার কথা আছে তা সহজেই অনুমেয়। সেসময় প্যাগানসহ মধ্যপ্রাচ্যের অনেক গোত্রের উপকথা এবং লোককথাতেই আকাশ আর পৃথিবী মিশে থাকার আর হরেক রকমের দেব-দেবী দিয়ে পৃথক করার কথা বলা ছিল। যেমন মিশরের লোককথায় ‘গেব’ নামের এক দেবতা ছিলেন যিনি ছিলেন মৃত্তিকার দেবতা। এই গেবকে তার মা এবং বোন (আসমানের দেবী) থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ফলেই আকাশ আর পৃথিবী একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। আবার সুমেরীয় উপকথা গিলগামেশের কাহিনীতেও আসমানের দেবী ‘অ্যাান’কে মৃত্তিকার দেবতা ‘কী’ এর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার কথা বলা আছে। এ সমস্ত উপকথা থেকে প্যাগান রেফারেন্সগুলো বাদ দিলে যা থাকবে,তা কোরআনেরই কাহিনী।”

    • R. Masud

      সাঈদ সাহেব ভন্ডামী রাখুন,
      কোরানের কোথায় আছে মহাশূন্য নিয়ে সুরা বা ব্যাখ্যা?
      ইসলামের মতে রাতি বেলায় সূর্য আল্লাহর আরশের নিছে গিয়ে বিশ্রাম নেয়-
      এমনকি দুনিয়াটা যে গোল কোথায় বলা আছে দেখান —

      ইসলামের ভুল ব্যখা দিবেন না —

      Reply
      • আবু সাঈদ খান

        “ইসলামের মতে রাতি বেলায় সূর্য আল্লাহর আরশের নিছে গিয়ে বিশ্রাম নেয়-”

        এটি মনগড়া, ভিত্তিহীন কথা বা ‘লাহওয়াল হাদীস’। ইসলামে বা কুরআনে এ জাতীয় কিছু নেই। বাজারে চালু মুসলিম সমাজের সকল কথাকেই ইসলামী জ্ঞান করা নির্বুদ্ধিতা।

      • শামীম খান

        Can you please give any solid reference ?
        How a learned person can pass such comments ! Where did you learn that the sun rests at the foot stool of Allah at night ? You need to read the Quran first to criticise it . I don’t consider it the right place to discus it . Just click you tube and type ‘islam’ or ‘science and islam’ , you’ll get a bunch . Surely some people will write many nonsense in the blogs but will never visit the avenues to know the facts about islam .
        বাংলাদেশে এক শ্রেনীর মানুষ যেমন ধর্মকে ব্যবহার করছে উগ্রতার ঢাল হিসাবে তেমনি আরেক শ্রেনী সেই উগ্রতাকে ইসলাম বলে প্রচার করে নাস্তিকতাকে ভিত্তি দিতে চাইছে । আমাদের কাছে দুটোই সমান অগ্রহনীয় ।

      • Rashed Khan

        R.Masud ! you are the real fucking hypocrite and you speak no means and talking shelter from the Evil

    • শামান সাত্ত্বিক

      Abu Sayed Khan, আপনার জানার জন্য –

      “‘অবশেষে যখন সে সূর্যাস্তের দেশে পৌঁছাল, সে সূর্যকে এক পঙ্কিল জলাশয়ে ডুবতে দেখল এবং সেখানে দেখতে পেল এক জাতি। আমি বললাম, হে জুলকারনাইন, হয় এদের শাস্তি দাও, না হয় এদের সাথে ভালো ব্যবহার করো। (১৮:৮৬)’
      যারা কোরআনের মধ্যে অনবরত বিগব্যাং এবং সুপার স্ট্রিং তত্ত্বের খোঁজ করেন, তারা কি একবারের জন্যও ভাবেন না আল্লাহ কেমন করে এত বড় ভুল করলেন! কীভাবে আল্লাহ ভাবলেন যে সূর্য সত্যিই কোথাও না কোথাও অস্ত যায়? কোরআন কি ‘মহাবিজ্ঞানময়’ কিতাব নাকি ভ্রান্তি-বিলাস? অনেক পাঠকই হয়ত জানেন না যে মহানবী মুহাম্মদকে শ্রেষ্ঠতম বিজ্ঞানী, চিন্তাবিদ ও দার্শনিক বলে অভিহিত করা হয়, তিনি ‘রাতে সূর্য কোথায় থাকে’ এই রহস্যের ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন : এক সাহাবার (আবু জর) সাথে মতবিনিময়কালে মহানবী বলেছিলেন যে, রাত্রিকালে সূর্য থাকে খোদার আরশের নীচে। সারা রাত ধরে সূর্য নাকি খোদার আরশের নীচে থেকে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগি করে আর তারপর অনুমতি চায় ভোরবেলা উদয়ের ( সহি বোখারি, হাদিস নং ৬/৬০/৩২৬-৩২৭, ৪/৫৪/৪২১)।
      পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে সূর্য যে আমাদের দৃষ্টির আড়াল হয় (একইভাবে বিপরীতে অবস্থানকারীদের দৃষ্টিগোচর হয়) সেটা ছিল সে সময়ের মানুষের অজানা। কিন্তু তাদের মনে প্রশ্ন ছিল, আর সবসময় ধর্ম যা করে ঠিক তেমনভাবে অজানা এ প্রশ্নটির উত্তরে আল্লাহকে টেনে এনে সেখানেই সঠিক উত্তর খোঁজার পথ রুদ্ধ করে দিয়েছিলেন নবীজি!”

      ‘কিতাব বিশেষজ্ঞ’-এর দল এই আয়াতটির মধ্যে বিগব্যাং-এর গন্ধ খুঁজে পান। কিন্তু আসলেই কি এর মধ্যে বিগব্যাং-এর কোনো আলামত আছে? একটু যৌক্তিক মন নিয়ে আলোচনা করা যাক। এই আয়াত এবং তার পরবর্তী আয়াতগুলোর দিকে তাকানো যাক-
      ‘আকাশ ও পৃথিবী একসাথে মিশে ছিল, পরে আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম’ (২১ : ৩০)
      ‘এবং আমি এ জন্য পৃথিবীতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি, যেন তা সহ এটি না নড়ে।’ (২১ : ৩১)
      ‘এবং আকাশকে করেছি সুরক্ষিত ছাদ’ (২১ : ৩২)
      ‘আল্লাহ ঊর্ধ্ব দেশে স্তম্ভ ছাড়া আকাশমন্ডলী স্থাপন করেছেন’ (১৩ : ২)
      এই আয়াতগুলো আমাদের আকাশ আর পৃথিবীর মধ্যকার সম্পর্ক বিষয়ে আসলে খুব প্রাচীন আর অস্পষ্ট একটি ধারণা দেয়। আল্লাহ আকাশকে ‘স্তম্ভ বিহীন’ ছাদ হিসেবে স্থাপন করার পর পৃথিবীতে পর্বতমালা স্থাপন করলেন যাতে কী না আমাদের এ পৃথিবী না নড়ে, ঠিক যেমনটি আমরা পাতলা কোনো কাগজ বাতাসে উড়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ওটাকে পেপার-ওয়েট দিয়ে চাপা দেই। আল্লাহ মানুষের মাথায় ‘আকাশ ভেঙে পড়ার’ হাত থেকে রক্ষা করার জন্য কী করলেন? আকাশকে অদৃশ্য খুঁটির উপর বসিয়ে দিলেন। এগুলো কী করে বিংশ শতাব্দীর জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলামত হয়? আর সবচেয়ে বড় কথা, ‘আকাশ ও পৃথিবী একসাথে মিশে ছিল, পরে আমি উভয়কে পৃথক করে দিলাম’ এই আয়াতটি যদি মহা-বিস্ফোরণের (বিগব্যাং) প্রমাণ হয়, তবে কোথায় এখানে বিস্ফোরণের উল্লেখ? ‘বিগব্যাং’ শব্দটি নিজেই এখানে তাৎপর্যবাহী। এই আয়াতের কোথায় রয়েছে সেই বিখ্যাত ‘ব্যাঙ’ (বিস্ফোরণ)-এর ইঙ্গিত?

      “তথ্যগত ভুল কিংবা প্রাচীন চিন্তাধারার নিদর্শন রয়েছে কোরআন শরীফে। ভ্রান্ত ‘সমতল’ এবং ‘অনড়’ পৃথিবীর ধারণাই কেবল নয়,এখানে আছে অদৃশ্য ‘শয়তান জ্বীন’-এর উপস্থিতির উল্লেখ (৬ : ১০০, ৬ : ১১২, ৬ : ১২৮, ৬ : ১৩০, ৭ : ৩৮, ১১ : ১১৯, ১৫ : ২৭ ইত্যাদি), যাদের কাজ হচ্ছে একজনের ওপর আরেকজন দাঁড়িয়ে ‘…Exalted Assembly’ তৈরি করা (৩৭ : ০৮) আর কানাকানি করে গোপন কথা শুনে ফেলা (৭২ : ৮, ৩৭ : ৬/১০)। আকাশে আমরা উল্কাপাত ঘটতে দেখি কারণ এই অদৃশ্য শয়তান এবং জ্বীনদের ভয় দেখানোর জন্যই আল্লাহ এমনটা ঘটান (৭২ : ৯), (৩১ : ১০)। কীভাবে জুলকারনাইন এক ‘পঙ্কিল জলাশয়ে’ সূর্যকে ডুবতে দেখেছেন, তার উল্লেখ যে কোরআনে আছে, তা তো এই অধ্যায়ের আগেই বলেছি। এধরণের ভুল আরও আছে। যেমন, বলা আছে শুক্রাণু তৈরি হয় মেরুদন্ড এবং পাঁজরের মধ্যবর্তী জায়গা থেকে (৮৬ : ৬-৭); মাতা মেরিকে বর্ণনা করা হয়েছে অ্যারণের (মুসার বড় ভাই) বোন হিসেবে (১৯ : ২৮)। এগুলো সঠিক নয়।”

      “কোরআনের কয়েকটি আয়াত থেকে পাওয়া যায়, এই মহাবিশ্ব তৈরি করতে আল্লাহ সময় নিয়েছেন ছয় দিন (৭ : ৫৪, ১০ : ৩, ১১ : ৭, ৫০ : ৩৮, ৫৭ : ৪ ইত্যাদি), কিন্তু ৪১ : ৯-১২ থেকে জানা যায়, তিনি পৃথিবী তৈরি করতে ২ দিন সময় নিয়েছিলেন, এরপর এর মধ্যে পাহাড়-পর্বত বসাতে আর অন্যান্য আনুষঙ্গিক ইমারত তৈরি করতে আরও চার দিন, সবশেষে সাত আসমান বানাতে সময় নিয়েছেন আরও দু-দিন। সব মিলিয়ে সময় লেগেছে মোট আট দিন। কাজেই কোরআন অনুযায়ী আল্লাহ মহাবিশ্ব বানিয়েছেন কয় দিনে – ছয় দিনে নাকি আট দিনে? সূরা ৭৮ : ২৭-৩০ অনুযায়ী আল্লাহ ‘বেহেশত’ বানিয়েছিলেন আগে, তারপর বানিয়েছিলেন পৃথিবী, কিন্তু অন্য কিছু আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, আগে পৃথিবী পরে বেহেশত (২ : ২৯ এবং ৪১ : ৯-১২ দ্র .)। কখনও বলা হয়েছে আল্লাহ সবকিছু ক্ষমা করে দেন (৪ : ১১০, ৩৯ : ১৫৩) কিন্তু আবার অন্যত্র বলা হয়েছে, তিনি সবকিছু ক্ষমা করেন না। (৪ : ৪৮, ৪ : ১১৬, ৪ : ১৩৭, ৪ : ১৬৮)। সূরা ৩ : ৮৫ এবং ৫ : ৭২ অনুযায়ী ইসলাম ধর্মে যারা নিজেদের সমর্পণ করে নি তারা সবাই দোজখে যাবে তা সে খ্রিষ্টান, ইহুদি, পেগান যেই হোক না কেন, কিন্তু আবার ২ : ৬২ এবং ৫ : ৬৯ অনুযায়ী, ইহুদি এবং খ্রিষ্টানদের সবাই দোজখে যাবে না। কখনও বলা হয়েছে মুহাম্মদকে সাহায্যের জন্য প্রস্তুত আছেন এক হাজার জন ফেরেশতা (৮ : ৯-১০) কখনোবা বলেছেন এই সাহায্যকারী ফেরেশতাদের সংখ্যা আসলে তিনহাজার (৩ : ১২৪, ১২৬)। কখনও আল্লাহ বলেছেন তার একটি দিন পার্থিব এক হাজার বছরের সমান (২২ : ৪৭, ৩২ : ৫), কখনোবা বলেছেন, তার দিন পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান (৭০ : ৪)। মানব সৃষ্টি নিয়েও আছে পরস্পর-বিরোধী তথ্য। আল্লাহ কোরআনে কখনও বলেছেন তিনি মানুষ বানিয়েছেন পানি থেকে (২৫ : ৫৪, ২৪ : ৪৫), কখনোবা জমাট রক্ত বা ‘ক্লট; থেকে (৯৬ : ১-২), কখনোবা কাদামাটি থেকে (১৫ : ২৬, ৩২ : ৭, ৩৮ : ৭১, ৫৫ : ১৪), আবার কখনোবা ‘ডাস্ট’ বা ধূলা থেকে (৩০ : ২০, ৩৫ : ১১) ইত্যাদি। একই সাথে এত ধরণের তথ্য ঠিক কোন অর্থ প্রকাশ করে?”

      আরো রেফারেন্স লাগলে আওয়াজ দিয়েন, দিয়া দিমুনে।

      Reply
    • শামান সাত্ত্বিক

      আবারও ভুল করে শুরুতে চলে গেছে, নীচের মন্তব্যটা। দুঃখিত। সেটাও মুছে দেবেন দয়া করে, সম্পাদক/মডারেটর সাহেব।

      Abu syed Khan, ইসলামে অশান্তির বীজ –

      “তোমরা যুদ্ধ করো আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তার রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম, যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিজিয়া প্রদান করে (৯ : ২৯)।”

      – আরো দরকার, আপনাকে দিমুনে।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—