- মতামত - https://opinion.bdnews24.com/bangla -

এসডিজি অর্জনের পথে বাংলাদেশ

বর্তমান বিশ্বে বিবিধ সামগ্রিক মন্দার মধ্য থেকেও যে কটি দেশ বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ মাত্রার উপর অর্জন করছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। প্রবৃদ্ধির এ ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারার অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে দেশের জনগোষ্ঠীর ৭০ শতাংশের বয়স ২০ থেকে ৫০ বছর হওয়ার বিষয়টি। অর্থাৎ জনসংখ্যার বৃহদাংশ কর্মক্ষম তথা অর্থনীতির উৎপাদনশীলতায় সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারছে।

এ কারণে আমাদের অভ্যন্তরীন অর্থনীতি এমন এক ভিতের উপর রয়েছে যাতে চাহিদা-যোগানের সক্ষমতা দেশকে বিশ্বমন্দার হাত থেকে আপাতত স্বস্তি দিতে পেরেছে। একদা যে জনসংখ্যা অভিশাপ বলেই মনে করা হত, সে বিতর্কের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে বলা যেতে পারে যে, সেটি অভিশাপ না হয়ে বরং আমাদের অভ্যন্তরীন অর্থনীতির রক্ষাকবজে পরিণত হয়েছে।

জ্বালানি তেলসহ বিবিধ প্রয়োজনীয় ধাতুর দাম বিশ্ববাজারে ইতিহাসের সর্বনিম্ন মূল্যে থাকার কারণে আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে। বাংলাদেশের কৃষিতে সামগ্রিক উন্নয়নের ফলে যেমন মঙ্গা এলাকায় কৃষিপণ্যের উৎপাদন এগিয়ে গিয়েছে, তেমনি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পর তা রফতানিতেও ভূমিকা রাখছে। আমাদের জনশক্তি রফতানি করে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনই কেবল সম্ভব হচ্ছে তা নয়, খুলে যাচ্ছে উদ্যোগমুখীতার নতুন দ্বার।

রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত যে ইমেজ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল তা আমাদের সুযোগ্য উদ্যোক্তারা সুন্দরভাবে মোকাবেলা করেছেন। তাতে দেশকে নির্ভরযোগ্য যোগানদারী রাষ্ট্র হিসেবে আরও পোক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।

 

[১]
রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত যে ইমেজ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল তা আমাদের সুযোগ্য উদ্যোক্তারা সুন্দরভাবে মোকাবেলা করেছেন

 

ডিজিটাল শব্দটির সঙ্গে শুধু শব্দগত পরিচয়ই নয়, এর বাস্তবিক প্রয়োগের মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মুঠোফোনের সহজলভ্যতার কারণে কৃষি, ব্যাংকিং-সেবা, স্বাস্থ্য খাতসহ অন্যান্য সেবা সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে। বিশ্ব শান্তি রক্ষায় আমাদের সেনা সদস্যদের বিশ্বের বিভিন্ন উপদ্রুত দেশে আন্তরিক ও মানবিক ভূমিকা একদিকে সে সমস্ত দেশে যেমন জনপ্রিয়তা দিয়েছে, তেমনি বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের মুখোজ্ব্বল করেছে। অভ্যন্তরীন অবকাঠামো বিনির্মাণে সেনাবাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম।

স্বাধীন একটি দেশকে ‘বটমলেস বাস্কেট’ বলার পরও এ দেশের জনগণের উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা জাতি হিসেবে আমাদের এহেন অবস্থান সুসংহত করেছে। এখন সময় হয়েছে আত্মবিশ্লেষণের, যাতে প্রকৃতভাবে অনেক কটি বিষয় দৃষ্টির সামনে চলে আসে, যেগুলোর সমাধানকল্পে কাজ করলে দুর্বলতা দূর করার যেমন সুযোগ আসে, ঠিক তেমনি সুযোগ আসে অনেক নতুন দ্বার উন্মোচনের।

তবু আমাদের সঙ্গে প্রায় একই সময়ে স্বাধীনতা পাওয়া ভিয়েতনামের তুলনা করা হলে প্রশ্ন জাগে, আমরা কি প্রকৃতই পেরেছি আমাদের সক্ষমতার পুরোটা অর্জন করতে?

স্বাধীন দেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, জাতির অবিসম্বাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুকে নিষ্ঠুরভাবে পরিবারের বিরাট অংশসহ যেভাবে স্বাধীনতাবিরোধী কুচক্রিমহল হত্যা করেছে, তাতে যে কেবল বিরাট রাজনৈতিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে তা নয়, আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এসেছে পশ্চাৎগামিতা। একের পর এক সেনাঅভ্যূত্থান এবং সামরিক স্বৈরতন্ত্র বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধানের মূল্যবোধের স্থানগুলো নষ্ট করে দিয়েছে। তাতে দেশে সুযোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হয়নি। যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে আমরা আমাদের উন্নয়নের অবারিত পথও বাধাগ্রস্ত করে তুলেছি।

অর্থ-বৈভবের জোরে নয়, দেশের নবীন অংশের মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এ দীর্ঘ সময়ে তৈরি রাজনৈতিক নেতৃত্ব-শূন্যতার সমাধানে জাতি অনেক বন্ধুর পথ পেরিয়ে আসবেই।

একটি জাতির উন্নয়নের পিছনে তার একটি জাতীয় চরিত্র গঠন প্রয়োজন। এত কষ্ট করে পাওয়া স্বাধীনতার মূল ঘটনা অর্থাৎ মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ভুল বর্ণনা বিদ্যালয়ের পাঠ্যসুচিতে এনে জাতিকে বিভাজিত করার অপচেষ্টার মাধ্যমে স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্ব আমাদেরকে অনেক দূর পিছিয়ে দিয়েছে। উদাহরণস্বরপ বলা যায় যে, ‘পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী’ শব্দবন্ধ ব্যবহার পরিহার করে শুধু ‘হানাদার বাহিনী’ শব্দবন্ধ নিয়ে আসার মাধ্যমে পাকিস্তানকে মুক্তিযুদ্ধকালীন অপকর্মের জন্য ক্ষমা না চেয়ে অপরাধ অস্বীকারের ধৃষ্টতা দেখানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

যে কোনো জাতির উন্নয়নের পিছনে তার শিক্ষা ব্যবস্থা বিরাট ভূমিকা রাখে। ডক্টর কুদরত-ই-খুদা কমিশনের প্রস্তাবিত একমুখী শিক্ষানীতি সযত্নে আলমারিতে রেখে কত প্রকারের যে শিক্ষা ব্যবস্থা, কারিকুলাম প্রচলিত রয়েছে বর্তমানে! এতে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হবার পাশাপাশি, চিন্তা ও মানসিকতায় জাতি বহুধা-বিভক্ত হচ্ছে। আশু করণীয় হচ্ছে সে কমিশনের সঠিক ও যুযোপযোগী বাস্তবায়ন। সম্পূর্ণভাবে আমদানি-নির্ভর একটি দেশ কীভাবে শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির সুযোগ নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত হয়েছে, তার উদাহরণ সিঙ্গাপুর। আমাদের দেশেও শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন হলে ও এর প্রয়োগযোগ্যতা বাড়লে তা জনগোষ্ঠীর দক্ষতা ও উৎকর্ষতা বাড়াবে।

 

[২]
কুদরত-ই-খুদা কমিশনের প্রস্তাবিত একমুখী শিক্ষানীতি সযত্নে আলমারিতে রেখে কত প্রকারের যে শিক্ষা ব্যবস্থা, কারিকুলাম প্রচলিত রয়েছে

 

ধূসর অর্থনীতি (Grey Economy) আকারে-অবয়বে মূল অর্থনীতির মতন। এটি কেন হল এ প্রশ্ন বা বিতর্কে না গিয়ে সার্বিক কর হার হ্রাস করে করের আওতা বৃদ্ধি আমাদের অর্থনীতিতে আরও গতি নিয়ে আসবে। সামাজিক সেফটি নেট বৃদ্ধিকল্পে সরকারের গৃহীত বিবিধ প্রকল্প তাই বিশেষ প্রশংসার দাবি রাখে।

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো একটি স্বপ্নে স্বার্থকতার রূপ দিতে পারা অবশ্যই নিজস্ব সক্ষমতার পরিচায়ক। বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্খান অর্থনৈতিক সোপান ও ভিত্তি তৈরিতে বিশাল অবদান রাখতে পারে। আধুনিক সিঙ্গাপুরের জন্মদাতা লী কুয়ান ইউ বলেছিলেন, তাঁর দেশটির উড্ডয়নের দুটি পাখা ছিল, চীন ও ভারত, সংক্ষেপে ‘চিনডিয়া’। করিডোরের সুযোগ গ্রহণ করে বঙ্গোপসাগর-ভিত্তিক উন্নয়ন পরিমণ্ডলের নেতৃত্ব তাই বাংলাদেশকে বিশ্বাঙ্গনে একটি বিশেষ ভূমিকা পালনের ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে নিয়ে এসেছে। এ বিষয়ে আমাদের পুরো সক্ষমতার ব্যবহার বিশেষ বিশ্লেষণের গুরুত্ব রাখে।

আইনের শাসন, জবাবদিহিতা তথা সার্বিক স্বচ্ছতা কেবল দেশের জনগণের মাঝে স্বস্তি দেয় না, বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তখন বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও এ দেশে বিনিয়োগে উৎসাহ পান। এ কথা বিশেষভাবে সামনে নিয়ে আসা দরকার যে, বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় কোনো একটি দেশ এককভাবে থাকতে পারে না, তাকে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন করতে হয়। করপোরেট গভর্নেন্স বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ তাই অত্যাবশ্যক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপসমূহ এ জন্য বিশেষ করে প্রশংসার দাবি রাখে। ব্যাংকিং খাতের আপাত মন্দাবস্থা অচিরে কেটে যাবে বলেই আশা করা তাই যৌক্তিক।

বিষয়গুলো প্রণিধানে রেখে এগুলে এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশ যে অন্যান্য দেশের রোল মডেলে পরিণত হবে তাতে সন্দেহ নেই।

৩০ Comments (Open | Close)

৩০ Comments To "এসডিজি অর্জনের পথে বাংলাদেশ"

#১ Comment By Muhammad On ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৬ @ ৯:৫৯ অপরাহ্ণ

খুব ভালো লিখেছেন, স্যার।

#২ Comment By K.M. Harunur Rashid On ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৬ @ ৪:২৬ অপরাহ্ণ

লেখাটি পড়ে খুব ভালো লাগল, স্যার।

#৩ Comment By Shabkadar Alam On ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৬ @ ৫:৫৫ পূর্বাহ্ণ

The Article is very important for this time because bangladesh is now every way grown up only priminister and she’s party Awamileg. B. My name is MD shabkadar Alam

#৪ Comment By রবিন On ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৬ @ ১০:২৪ অপরাহ্ণ

লেখাটি পড়ে খুব ভালো লাগল। আরও বেশি করে লিখে তথ্যগুলো জানানো দরকার।

#৫ Comment By আলাউদ্দীন On ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৬ @ ২:১৩ পূর্বাহ্ণ

লেখাটা ভালো, তবে নামের সঙ্গে আরও সঙ্গতিপূর্ণ হলে বেশি ভালো লাগত।

#৬ Comment By Md. Mamunor Rashid On ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৬ @ ১০:১১ পূর্বাহ্ণ

তথ্যনির্ভর অসাধারণ একটি লেখা। ধন্যবাদ, স্যার।

#৭ Comment By নাজমুল আলম শিশির On ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৬ @ ৯:৪১ অপরাহ্ণ

কোন ধরনের তথ্যনির্ভর!!! আমি তো ভাই কোনো তথ্য খুঁজে পেলাম না।

#৮ Comment By মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান On ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৬ @ ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ

অনেক ভালো তথ্য পেলাম। ধন্যবাদ স্যার।

#৯ Comment By নাজমুল আলম শিশির On ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৬ @ ৯:৪০ অপরাহ্ণ

অনেক না, দুই একটা তথ্য বলুনতো। এইটা একটা গল্প ছাড়া আর কিছু না। কোন তথ্য নাই।

#১০ Comment By সৈয়দ আলি On ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৬ @ ১২:৪৮ অপরাহ্ণ

যাযাবরের বিখ্যাত ‘দৃষ্টিপাত’ গ্রন্থে বসের বাড়িতে (অথবা অফিসে) বসের সব কথার সাথে একমত হওয়াকে নাম দেয়া হয়েছিলো, হেঁ হেঁ সংঘ। মনে হচ্ছে আমরা এক হেঁহেঁ সংঘের নাগাল পেলাম।

#১১ Comment By কামাল সাখাওয়াত On ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৬ @ ২:৪৬ অপরাহ্ণ

তথ্যসম্বৃদ্ধ লেখাটি ভালো লেগেছে। ধন্যবাদ।

#১২ Comment By নাজমুল আলম শিশির On ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৬ @ ৯:৩৯ অপরাহ্ণ

জনাব, এখানে কি তথ্য পেলেন , সেটা দয়া করে বলবেন কি? কোন পরিসংখ্যান ছাড়া গরুর রচনার মত একটি লেখা। এখানে কি জানার আছে , সেটা দয়া করে বলবেনকি?

#১৩ Comment By †K. Gg. nvi“byi ikx` On ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৬ @ ৪:২৫ অপরাহ্ণ

লেখাটি পড়ে খুব ভালো লাগল, স্যার।

#১৪ Comment By Johir Shahriar On ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৬ @ ৮:১৮ অপরাহ্ণ

Enlightening writing. Go ahead Sir…

#১৫ Comment By নাজমুল আলম শিশির On ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৬ @ ১০:১৪ অপরাহ্ণ

একটি গল্প বা কল্প কাহিনীতেও অন্তত কিছু পরিসংখ্যান বা তথ্য থাকে। এই লেখাটিতে তাও নেই। বিডিনিউজের বেশির ভাগ লেখাই তথ্যবহুল, সুপাঠ্য। অনেক সময় লেখার মূল বিষয় থেকেও তথ্য বেশি হয়। তবে এই লেখাটাতে সঠিক কোন তথ্য নেই বললেই চলে।
শুরুতে লেখক বলেছেন,“বর্তমান বিশ্বে বিবিধ সামগ্রিক মন্দার মধ্য থেকেও যে কটি দেশ বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ মাত্রার উপর অর্জন করছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।” এখানে লেখক “সামগ্রিক মন্দা” বলতে কি বোঝাতে চাইছেন তা স্পষ্ট নয়। “ যে কটি দেশ” ব্যবহার করে লেখক তার অজ্ঞতাকেই প্রকাশ করেছেন। এই প্রযুক্তির সময়ে কয়টি দেশ ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে, তা বের করা মোটেও কঠিন কোন বিষয় নয়।
লেখক বলেছেন, “প্রবৃদ্ধির এ ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারার অন্যতম কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে দেশের জনগোষ্ঠীর ৭০ শতাংশের বয়স ২০ থেকে ৫০ বছর হওয়ার বিষয়টি” কারা বলছে তা এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন ছিলো। কোন প্রকার গবেষনা ছাড়াই যদু মদূ টাইপ কেউ বললেই তা সঠিক বা গ্রহণযোগ্য তথ্য হবে তা মনে করার কোন কারণ নেই। “দেশের জনগোষ্ঠীর ৭০ শতাংশের বয়স ২০ থেকে ৫০ বছর” এই তথ্য লেখক কোথায় পেলেন, তা জানালে ভালো হতে। “জনসংখ্যার বৃহদাংশ কর্মক্ষম তথা অর্থনীতির উৎপাদনশীলতায় সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারছে।” আবোরো তথ্যহীন কথা। বৃহদাংশ বলতে কি বোঝানো হযেছে তা বোধগম্য নয়।
লেখার শেষের দিকে বলেছেন, “কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপসমূহ এ জন্য বিশেষ করে প্রশংসার দাবি রাখে” পরের বাক্যেই আবার বলেছেন,“ ব্যাংকিং খাতের আপাত মন্দাবস্থা অচিরে কেটে যাবে বলেই আশা করা তাই যৌক্তিক।” সত্যি হাস্যকর কথা। ব্যাংকার হিসেবে হয়তো লেখক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিরাজভাজন হতে চাননি, তাই প্রশাংসা সূচক বাক্য। আর আপাত কি ধরনের মন্দাবস্থা বিরাজ করছে তা সঠিক করে বলতেও পারেননি হয়তো বিচিত্র কোন কারণে।
পুরো লেখাতেই লেখক কল্প কাহিনীর মত অর্থনীতির কিছু বিষয় বর্ণনা করেছেন। অর্থনীতির যে কোন লেখায় সাহিত্য বা ভাষার ব্যবহারের চেয়ে পরিসংখ্যান তথা তথ্য দেওয়াই যুক্তি সংগত।
বিডি নিউজ তথা লেখকের কাছে সেই প্রত্যাশাই আমাদের।
পরিশেষে লেখককে ধন্যবাদ, তথ্য ছাড়াও কেবল গল্পের মত করে হলেও কিছু বিষয় সামনে নিয়ে আসছেন। ভবিষ্যতে তথ্য সংযোজন করে ভালো লেখা উপহার দিবেন সেই প্রত্যাশা রইলো।

#১৬ Comment By সৈয়দ আলি On ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৬ @ ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ

খুব চমৎকার পর্যবেক্ষন। ধন্যবাদ আপনাকে। লেখাটিতে প্রশংসার ঢেউ দেখে আঁৎকে উঠেছিলাম। সমগ্র লেখাটি পড়লে মনে হয় যেন সরকারী প্রেসনোট পড়ছি। প্রক্ষিপ্তভাবে প্রধানমন্ত্রীকে উল্লেখ করাই যেন লেখাটির উদ্দেশ্য ছিলো।

#১৭ Comment By নাজমুল আলম শিশির On ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৬ @ ৮:১৬ পূর্বাহ্ণ

আপনার পর্যব্ক্ষেনও খুব চমৎকার। প্রশংসার ঢেউ তো পাবেনই। এই প্রশংসাতেই প্রকাশ পায় বর্তমান ব্যাংক খাতের কর্মকর্তাদের অবস্থান। বেশির ভাগ মন্তব্যে স্যার সম্বোধন করা হয়েছে। তাই সহজেই বলা যেতে পারে , যারা মন্তব্য করেছেন, তাদের বেশির ভাগই , লেখক তথা ব্যাংকারের নিম্ন পদের কর্মকর্তা।
দেশের ব্যাংক খাতে এই প্রশংসা বা আরো একটু সহজকরে বললে, তোষামোদী এখন শৈল্পিক পর্যায়ে পৌছে গেছে। হলমার্ক, বিসমিলল্লাহ, বেসিক ব্যাংক সহ বিভিন্ন ব্যাংকে নানা সময়ে যে সব অরপধমূলক কর্মকান্ড ঘটেছে, তার পিছনে এই সব তোষামোদী বা উচ্চর্যায়ের কর্মকর্তাদের ভয়ও কাজ করেছে । দুদক এবং সংবাদমাধ্যমে নিম্নশ্রেণীর কর্মকর্তারা বলেছেন, স্যাররদের কথামত তারা কাজ করেছে। তা না হলে তাদের চাকরী থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি ছিলো।
আমারো তাই মনে হয়, লেখাটা সরকারী প্রসে নোট ..!!!

#১৮ Comment By সৈয়দ আলি On ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৬ @ ১২:৫৫ অপরাহ্ণ

নাজমুল আলম শিশির, একটু প্রফেশনাল কথা বলছি। আমার জানা মতে বর্তমানে বাংলাদেশের তথ্য যোগানের প্রতিষ্ঠানগুলোর (পরিসংখ্যান ব্যুরো, বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের ত্রৈমাসিক রিপোর্ট প্রভৃতি) তথ্য প্রকাশে সরকার হস্তক্ষেপ করছে। এ নিয়ে পত্রিকায় রিপোর্টিংও হয়েছে (বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৪ কোটিতে স্থির করা উপলক্ষে)। তাই সরকারী তথ্যও কতটুকু সঠিক তা নিয়ে খানিকটা উদ্বেগ আছে বৈকি। ধন্যবাদ।

#১৯ Comment By নাজমুল আলম শিশির On ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৬ @ ৪:১০ অপরাহ্ণ

সৈয়দ আলি, আপনার সঙ্গে আমিও একমত। তবে আপনি যে তথ্যই দেননা কেন , তার অবশ্যই সঠিক সূত্র থাকতে হবে। সরকারি তথ্য যোগানের পাশাপাশি বর্তমানে আর্ন্তজাতিক কিছু প্রতিষ্ঠান (বিশ্বব্যাংক, জাতিসংঘ এমন) তথ্য সরবরাহ করে থাকে। দেশের বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠানও তথ্য দিয়ে থাকে। যদিও তাদের তথ্য সব সময় সঠিক নয় বলেই ধরে নেওয়া যায়।

#২০ Comment By kutubuddin On ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৬ @ ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ

Yes, I have same opinion with you Mr. Nazmul. Its like dramatist and made a sequence to make a Drama.

#২১ Comment By গাজী ফরহাদ On ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৬ @ ৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ

আইনের শাসন, জবাবদিহিতা তথা সার্বিক স্বচ্ছতা কেবল দেশের জনগণের মাঝে স্বস্তি দেয় না, বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তখন বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও এ দেশে বিনিয়োগে উৎসাহ পান।

এর মানে কী??? গত ৪/৫ বছরে দেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ কত?? কোনো তথ্য উপাত্ত না দিয়ে কাঠমোল্লা জাতীয় বয়ান মাইকে সামিয়ানা নিচে চলতে পারে, দেশের প্রথম শ্রেণির অনলাইনে নয়…

ব্যাংকার!! লেখকের জন্য The FDI report 2015 এর Global greenfield investment trends রিপোর্টের কেবল ২০১৪ সালের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের বিনিয়োগ চিত্র দিলাম……যে যার ধারণ ক্ষমতা অনুযায়ী বুঝে নিবেন।

% Asia-Pacific market share Capital investment($bn)

30% China 75
9% Vietnam 24
9% India 23
7% Malaysia 19
7% Indonesia 17
6% Australia 14
5% Singapore 11
4% South Korea 10
3% Thailand 8
3% Japan 8
16% Other 40

“বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় কোনো একটি দেশ এককভাবে থাকতে পারে না, তাকে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন করতে হয়”

এটা কী লিখেছেন, বা কী বুঝাতে চেয়েছেন!!!

… এটা “তৈল… তৈল” মার্কা কেমন পিচ্ছিল পিচ্ছিল কিছু একটা হয়েছে, যাতে আছাড় খেয়েছে… গুটিকয়েক ছাত্র!!!

#২২ Comment By নাজমুল আলম শিশির On ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৬ @ ৪:১২ অপরাহ্ণ

জনাব গাজী ফরহাদ আপনাকে ধন্যবাদ । আমিও আপনার সাথে একমত। এটা একটা তৈল মার্কা লেখা। দেশের প্রথম শ্রেণির অনলাইনে এটা আশা করা যায়না।

#২৩ Comment By অসীম সেন গুপ্ত On ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৬ @ ১০:২০ পূর্বাহ্ণ

ধন্যবাদ। লেখক অনেক গুলো বিষয় নিয়ে ইউনিয়ন বা গ্রাম্য পর্যায়ের রাজনীতিবিদদের মত কিছু বক্তব্য রেখেছেন। মনের মাধুরী মিশিয়ে অনেক কথা বলে আসলে তিনি কি বলতে চাইছেন, তা বোধগম্য নয়।
তবে লেখার চেয়ে লেখার মন্তব্য গুলো সুপাঠ্য। বিশেষ করে লেখককে “স্যার” উপাধীতে ভূষিত করে মন্তব্য গুলো কিছুটা আগ্রহ জাগায়।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্টান বা ব্যাংকে তোষামোদী এখন একটা রেওয়াজ হয়ে গেছে। ভালো-মন্দ, স্থান-কাল-পাত্র ভেদে সব খানেই এই তোষামোদী চলছে বেশ জোরে সোরে। অধীনস্ত কর্মীরা বসকে সন্তুষ্ট করার জন্য , কাজের চেয়ে তোষামোদীর দিকেই নজর বেশি দিচ্ছে। মন্তব্য গুলো পড়লেই তা বোঝা যায়।
কোন প্রকার যোগ্যতা না থাকার পরও লেখক , কলামিষ্ট হওয়ার বাসনা ইদানিং অনেককেই পেয়ে বসছে।
কিছুটা হতাশা নিয়েই বলতে হচ্ছে, বিডিনিউজের কাছে এই ধরনের লেখা প্রত্যাশিত নয়। পরিশেষে লেখককে আবারো ধন্যবাদ। ব্যাংকার হয়েও সরকারের নজর কাড়ার মত তথ্যহীন লেখায় কিছুর বিষয় সামনে নিয়ে আসায়।

#২৪ Comment By সৈয়দ আলি On ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৬ @ ১২:৪৪ অপরাহ্ণ

আপনার সরস মন্তব্যে ব্যাপক ‘আমুদ’ পাইলাম অসীম সেনগুপ্ত। আমার আগ্রহ অর্থনীতিতে। ফলে অর্থনৈতিক আলোচনায় আমি সাগ্রহে অংশ নেই। বক্ষ্যমান নিবন্ধটি পড়তে যেয়ে বেকুব হয়ে গেলাম। যে কোন পেশাদারী লেখায় বিষয়বস্তুর ব্যাখ্যা দেয়া নিয়ম। স্যার যে এসডিজি সম্পর্কে কতটুকু ওয়াকিবহাল তা বোঝা গেলোনা। আমিও আপনার সাথে একমত যে বিডিনিউজ২৪ এমন একটি অর্থহীন লেখা কি করে প্রকাশের অনুমোদন দিলো তা চিন্তার বিষয়। এটি কি প্রধানমন্ত্রীর নামোল্লেখের তাবিজের গুন?

#২৫ Comment By নাজমুল আলম শিশির On ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৬ @ ১০:৪১ অপরাহ্ণ

একজন পাঠক হিসেবে বিডিনিউজ কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখা দাবি করছি। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মতো একটি অনলাইনে এই ধরনের লেখকের লেখা কীভাবে প্রকাশ করা হয়?

#২৬ Comment By farhad al karim On ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৬ @ ১২:০৬ অপরাহ্ণ

SDG’s…. goal & its reflection …where …???? title not appropriate ..

#২৭ Comment By amdad hossain prodhania On ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৬ @ ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

ভুল কিছু লিখেন নি তো

#২৮ Comment By Musa Huq On ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৬ @ ১২:৩৫ অপরাহ্ণ

I would like to request the Editor of bdnews24 not to publish this sorts of vague articles. In addition, request to the writer, please have more study and home work. What are the targets and indicators of SDG? Do you know that the indicators are yet to be finalised? The world leaders are hopeful to have the revised and finalised indicators by March 2016. May we know your indicators of measuring our SDG!!

#২৯ Comment By s M shahriar sazib On ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৬ @ ২:৫৮ অপরাহ্ণ

একজন পাঠক হিসেবে বিডিনিউজ কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখা দাবি করছি। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মতো একটি অনলাইনে এই ধরনের লেখকের লেখা কীভাবে প্রকাশ করা হয়?

#৩০ Comment By আবুল হোসেন On ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৬ @ ৪:১৬ অপরাহ্ণ

আপাত দূর্বল লেখা নিয়ে অনেকে মন্তব্য করেছেন! সাধারণত ভালো লেখারই সমালোচনা হয়। তবে সমালোচকদের বলব, মনে হয় লেখকের আকাল পড়েছে। তাই লেখাটি শর্টলিস্টেড হয়ে বাদ পড়েনি!

মন্তব্যকারীদের প্রতি অনুরোধ– স্ব স্ব জ্ঞান নিয়ে কিছু কিছু লেখা দিন। কারণ, শিরোনামটি সময়োচিত বলেই লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে। সমসাময়িক বিষয়ে লিখুন।