Feature Img

আমার বিশ্লেষণী ক্ষমতা খুবই কম। কেউ যখন কিছু বলে, কোনো ঘটনার বর্ণনা দেয়, অবলীলায় আমি তা বিশ্বাস করি। কিন্তু একই ঘটনার সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা বর্ণনা যখন পাই অন্য একজনের মুখ থেকে, তখন বিভ্রান্ত হই। বুঝতে পারি না, মানুষ বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা কেনো বলবে?

গত কয়েকদিন ধরে দারুন এক বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে আমি আছি। মানিকগঞ্জের সেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার পর মানুষ যখন শোকের তীব্রতায় হতভম্ব, তখন কয়েকজন মন্ত্রী উল্টাপাল্টা কথা বলা শুরু করলেন। রাস্তাঘাটের দায়িত্বে যে মন্ত্রী, তিনি বললেন, এই ঘটনার জন্য রাস্তা কিংবা ট্রাফিক সিস্টেম দায়ী নয়। দায়ী-চালকরা। বিশেষ করে ইঙ্গিত করলেন তিনি বিধ্বস্ত গাড়ির চালকের প্রতি। সে নাকি আর একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে যেয়ে এই বিপর্যয় ডেকে এনেছে। মন্ত্রী মহোদয় যে ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, সেই বেচারীর পক্ষে এর প্রতিবাদ করা সম্ভব নয়।

কারণ ইতোমধ্যেই তিনি মৃত, এইসব বাদ-প্রতিবাদের উর্ধে চলে গেছেন। বিষয়টা আমার কাছে বোধগম্য হলো না, ওই হতভাগ্য চালক তো তার প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ নয়, তাহলে মন্ত্রী কেনো তাকেই দায়ী করছেন পুরো দুর্ঘটনার জন্য। তাছাড়া তিনি নিজে ওই সময় গাড়িতে কিংবা আশপাশে ছিলেনও না। তাহলে কীভাবে এতো নিশ্চিত হয়ে দায় চাপাতে পারলেন তিনি মৃত চালকের উপর?

কিন্তু ওই যে বললাম, আমার বিশ্লেষণী ক্ষমতা খুবই কম, তার প্রমাণ দিলো এক বন্ধু। বললো সে, কেন তুমি মন্ত্রীর উচ্চারিত বক্তব্যের অন্তর্নিহিত লক্ষ্যটির দিকে তাকাচ্ছ না? তিনি তো মৃত ড্রাইভারের উপর দায় চাপাচ্ছেন না, বরং নিজেকে নিরাপদে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাইছেন। আর একই সঙ্গে অভিযোগের আঙ্গুলটি সরিয়ে দিচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকদের নেতা আর এক মন্ত্রীর দিকে!

এইখানে আমার জন্য অপেক্ষা করছিলো আর একটি চমক। পরিবহন শ্রমিকদের নেতা নিশ্চয়ই দেশের মন্ত্রী হতে পারেন। কিন্তু মন্ত্রী হওয়ার পরও তিনি কী করে শ্রমিক নেতৃত্বের সেই পদটি ধরে রাখতে পারেন? বাংলাদেশে পরিবহণ শ্রমিকদের সঙ্গে পরিবহণ মালিক কিংবা যাত্রীদের স্বার্থের বিরোধ নতুন কিছু নয়। এই যে আর কদিন পর ঈদ আসছে, তখনই দেখা যাবে পরিবহণ শ্রমিক-মালিকদের দৌরাত্মের বিকট নমুনা। যাত্রীদের সেই ভোগান্তি আর অসহায়ত্বের সময় এই মন্ত্রী যা কিছু বলবেন তা কি কোনো একটি পক্ষের বক্তব্য হয়ে যাবে না? এর মাঝে একটি পত্রিকায় দেখলাম পরিবহণ ফেডারেশনের এই ‘নেতা কাম মন্ত্রী’ নাকি কিছুদিন আগে অনেকটা চাপ দিয়েই কোনোরকম পরীক্ষা ছাড়া ১৮ হাজার ড্রাইভিং লাইসেন্স করিয়ে নিয়েছেন। সেই একই পদ্ধতিতে, অর্থাৎ পরীক্ষায় না বসে আরও ২৫ হাজার অবৈধ ড্রাইভারকে লাইসেন্স দেয়ার জন্য এখন নাকি চাপ অব্যাহত রেখেছেন। খুব শিগগীরই এটা নাকি হয়েও যাবে। যথাযথ যোগ্যতা ছাড়া এই গাড়ি চালানোর লাইসেন্সপ্রাপ্তি, এটা হয়তো অদূর ভবিষ্যতে আরও অনেক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্ম দেবে। তবে পাশাপাশি পরিবহণ ফেডারেশনে ওই মন্ত্রীর নেতৃত্বের আসনকে যে অনেকটাই দৃঢ় করবে তা বলা যায় নির্দ্বিধায়।

নিহত ড্রাইভারকে দায়ী করে যোগাযোগ মন্ত্রী’র বক্তব্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। কেবিনেট মিটিংয়েও তিনি বলেছেন ওই কথা, প্রধানমন্ত্রীকে শুনিয়েছেন। পরে অবশ্য গাড়িতে থাকা এক যাত্রী, যিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন, জানালেন ওই দিন ওভারটেকিংয়ের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। একই কথা বললেন যে বাসের সঙ্গে ঘটেছে দুর্ঘটনা সেই বাসের ধৃত চালকও। তাহলে, যোগাযোগ মন্ত্রী কেনো আন্দাজে মন্তব্য করলেন? ঘটনার মনগড়া বিবরণ দিলেন প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রীদের বৈঠকে? এরকম দায়িত্বপূর্ণ একটি পদে থেকে এতটা বালখিল্য আচরণ কি মানানসই? আমার মনে আরও একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। আচ্ছা, আমাদের প্রধানমন্ত্রী কি এখনো যোগাযোগ মন্ত্রীর ওই বক্তব্যই বিশ্বাস করে বসে আছেন? যদি না করে থাকেন, সেটাই বা আমরা বুঝব কী করে?

আশপাশের বন্ধুদের বক্তব্য থেকে আর একটি বিষয় আমার কাছে স্পষ্ট হলো, যোগাযোগ মন্ত্রীর এই যে আগ বাড়িয়ে ‘আমি কলা খাই না’ জাতীয় বক্তব্য, এর পেছনে আসলে রয়েছে দেশজুড়ে মহাসড়কগুলো যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষন করতে না পারার বিষয়টি। এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ও সম্ভবত এটি। ইতোমধ্যেই কয়েকটি মহাসড়ক যানচলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। এতটাই খারাপ অবস্থা ওগুলোর যে, ওই রুটের বাসগুলো ঘোষণা দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিলো। এই প্রসঙ্গটিও কিন্তু কেবিনেট মিটিংয়ে উঠেছিলো। এবং যোগাযোগ মন্ত্রী যথারীতি দায়টি অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, অর্থমন্ত্রণালয় টাকা পয়সা দিচ্ছে না বলেই নাকি রাস্তা মেরামত করা যায়নি। কিন্তু সমস্যা হলো, এক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী ওই হতভাগ্য ড্রাইভারের মতো মৃত নন। তিনি ঠিকই প্রতিবাদ করলেন। যোগাযোগ মন্ত্রীর অজুহাতকে নাকচ করে দিয়ে বললেন, রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকমতো না হওয়াতেই মহাসড়কগুলোর এই দুরবস্থা।

এই যে দুই মন্ত্রীর দায়িত্ব এড়ানোর ধাক্কাধাক্কি, এটা কিন্তু খোদ প্রধানমন্ত্রীর সামনেই হলো। তিনি দুই মন্ত্রীকেই শান্ত করার চেষ্টা করলেন, এবং পারলেনও একসময়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব কি মন্ত্রীদেরকে শান্ত করা? নাকি জনগণকে শান্ত করা? তিনি কি অর্থ কিংবা যোগাযোগ মন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী, নাকি জনগণের প্রধানমন্ত্রী? মহাসড়কগুলোর এই দুরবস্থা হঠাৎ করে আচমকা একদিনেই তো আর হয়নি, এটা দীর্ঘ অবহেলার চুড়ান্ত একটা রূপ। এই সড়কগুলোর দেখভালের জন্য সরকারের বিশাল একটা বিভাগ রয়েছে। কী করেছেন তারা এতদিন? এর দায়িত্ব কি এড়াতে পারবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী মহোদয়? অন্য অনেক মানুষের মতো আমিও আশা করেছিলাম, যোগাযোগ মন্ত্রীর এই ব্যর্থতাটুকু অন্ততঃ চোখে পড়বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর। কিন্তু সেরকম কিছু হয়েছে বলে অবস্থাদৃষ্টে এখনো মনে হচ্ছে না। বরং দু’দিন পর দেখলাম প্রধানমন্ত্রীর ধমক খেয়ে যোগাযোগ মন্ত্রী নিজে গেলেন ভাঙাচোরা মহাসড়ক দেখতে। পত্রিকায় এমনও পড়লাম যে, মন্ত্রীর বিলাসবহুল গাড়িটি ওই খান-খন্দক আর কাদাময় মহাসড়কের কয়েক জায়গায় আটকে গিয়েছিলো। অথচ এই মন্ত্রীই দু’দিন আগে বলেছিলেন রাস্তাগুলো নাকি অতটা খারাপ নয়!

আলোচিত এই মন্ত্রীর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেই। আওয়ামী লীগের সিনিয়র এক মন্ত্রী তো বলেই ফেললেন, ‘মন্ত্রীর চেহারা চকচকে, রাস্তার কেনো বেহাল দশা?’ রাস্তার এই বেহাল দশা দূর করতে তড়িঘড়ি করে অনেক টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আগামী কয়দিন হয়তো বেশ জোড়াতালিও চলবে। কিন্তু সেটা টিকবে কয়দিন, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা যায়। কিন্তু এতকিছুর পরেও সন্দেহ নেই এই মন্ত্রীর টিকে থাকা নিয়ে। হতে পারে প্রধানমন্ত্রী তার অন্য কিছু যোগ্যতায় খুবই খুশি।

আমি জানি না, ছোট মুখে বড় কথা বলে ফেললাম কিনা। তবে গত কয়েকদিনে বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলে অনেকের মুখেই এ ধরনের উচ্চারণ শুনেছি। সাধারণ মানুষের এমন প্রতিক্রিয়ার দীর্ঘমেয়াদী কোনো প্রভাব আছে কিনা, তা অভিজ্ঞরাই ভালো বলতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার পর রাজনীতিকরা এসবকে তেমন গুরুত্ব দেন কিনা, বিগত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় এবিষয়ে আমার মধ্যে বিপুল সন্দেহের জন্ম নিয়েছে।

লেখাটি শুরু করেছিলাম তারেক মাসুদ আর মিশুক মুনীরের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা দিয়ে। এ বিষয়ে আর একটি তথ্য মাত্র সেদিন জানতে পারলাম। একটি পত্রিকায় পড়লাম, কোনো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে, তাতে একাধিক ব্যক্তি মারা গেলেও, দায়ী চালকের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে! এমন দুর্বল আইন সব সময় ছিল না। পরিবহণ শ্রমিকরা আন্দোলন করে এটা আদায় করে নিয়েছে। এখন তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় ধৃত ওই বাস ড্রাইভারের কারণেই ঘটেছে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, তাহলে তার তিন বছরের বেশি কারাদণ্ড হবে না? এটা তো ‘লাইসেন্স টু কিল!’

এই তথ্যটি আমার জানা ছিলো না। এখন মনে হচ্ছে, অবিশ্বাস্য এই তথ্যটি জানা না থাকলেই বোধ করি কিছুটা কম আতঙ্ক নিয়ে রাস্তায় বের হতে পারতাম। অজ্ঞতা আসলেই অনেক সময় আশীর্বাদ।

বিদিশাফ্যাশন ডিজাইনার; লেখক

৩৩ Responses -- “লাইসেন্স টু কিল: অপারেশন মানিকগঞ্জ”

  1. শহীদ

    বিদিশা তো ভাল লিখবেনই কারণ বিদিশা তো বিদিশাই।

    Reply
  2. মহবিুল হাসান

    খুব ভাল লাগল আপনার মননশীল লেখাটি । ইস, সবাই যদি আপনার মত চিন্তা করত?

    Reply
  3. jamil rahman

    খুব সুন্দর হয়েছ। আপনাকে অনেক ধ্যন্যবাদ। রাস্তায় বের হলে নিশ্চিত নই যে, ভালভাবে ফিরবো কিনা। কখন কী হয়। তাই সবাই রের হবার সময় নিজের ঠিকানা কাছে রাখুন। যেন মরলে কমপক্ষে লাসটা বাড়ির লোকরা পায়।

    Reply
  4. আশীষ কুমার দে

    লেখাটি সময়োপযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য লেখককে ধন্যবাদ। এ ধরনের লেখা বিভিন্ন গণমাধ্যমে এখন নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে এবং এই ধারা অব্যাহত রাখতে লেখক নিজেও আরো সিরিয়াস হতে পারেন। এছাড়া গণমাধ্যমে লেখার পাশাপাশি রাজপথেও সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে হবে, দুর্ঘটনা রোধে সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহলের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে, সর্বোপরী সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে। আশা করি লেখক বিদিশা আপা এ ব্যাপারে রাজপথেও সোচ্চার হবেন।
    ধন্যবাদান্তে

    Reply
  5. Liaquat Chowdhury

    শেয়ার বাজার নিয়ে কিছু লিখুন ।
    লিয়াকত চৌধুরী
    ইয়ানবু,সৌদি আরব ।

    Reply
  6. Jamal

    আপনার মতো সব লেখক এই ধরণের চিন্তা নিয়ে কলাম লিখলে জনগণ খুব খুশি হবে এবং আমার বিশ্বাস যে সরকারের চোখেও একদিন তা ধরা পরবে।

    আপনার প্রতি অনুরোধ রইল এই ধরণের ভালো কিছু দিক নিয়ে আরও লেখার জন্য।

    Reply
  7. Rumana

    ‘হতে পারে প্রধানমন্ত্রী তার অন্য কিছু যোগ্যতায় খুবই খুশি’ ভালো,এমনটা আরো অনেকের কাছেই শুনলাম।

    Reply
  8. CHANCHAL

    বিদিশা আপনার লেখাটা ভাল লাগলো। আর আমরা বোধহয় নতুন সত্যটা জেনে আগের চেয়ে আরো বেশী আতন্কে পথ চলবো।

    Reply
  9. Faysal Alam

    ফয়সাল আলম
    খুব ভাল লিখেছেন, কিন্তু কয়লা ধুলে ময়লা যায়না। এর প্রমান দু’একদিন যেতেই দেখতে পাবেন। কারণ অনেক এমপি তার পদত্যাগ দাবি করেছেন। এরপরও তিনি পদত্যাগ করবেন না। কারণ লাজ লজ্জা থাকতে হবেতো।

    Reply
  10. হারুন আল নাসিফ

    পরিবহন শ্রমিকদের নেতা নিশ্চয়ই দেশের মন্ত্রী হতে পারেন। কিন্তু মন্ত্রী হওয়ার পরও তিনি কী করে শ্রমিক নেতৃত্বের সেই পদটি ধরে রাখতে পারেন?

    Reply
  11. Liaquat Chowdhury

    এমন সু্ন্দর এবং সাহসী লেখার জন্য আপনাকে আমার অনেক সালাম ।
    লিয়াকত চৌধুরী
    ইয়ানবু,সৌদি আরব ।

    Reply
  12. এনাম

    ১৩ই আগস্ট দুর্ঘটনাটির ব্যাপারে শুনার পর থেকেই মাথায় খচ খচ করছিল একটি বিষয় যা আপনার বিশ্লেষণধর্মী লিখায় আবছা প্রতিফলন দেখতে পেলাম তবে কেন যেন মনে হল আপনি যা লিখতে বসেছিলেন তা শেষ মুহূর্তে আর ব্যাপ্ত করেন নি বা বুদ্ধিমান পাঠকদের জন্য উহ্য রেখেছেন… প্রয়াত তারেক মাসুদ এর পরিচালিত সিনেমা গুলোর ধাচ, কাহিনী , দর্শক , “যাদেরকে ইঙ্গিত করে বানানো” , শ্রমিক পরিবহন আইন , যোগাযোগ মন্ত্রীর সাফাই এসব কিছু একসাথে নিয়ে ভাবতে বসলে একটা সুনির্দিস্ট কিন্তু একইসাথে ধোয়াসে একটি দিকেই বার বার আঙ্গুল চলে যায়… আর সেটি হচ্ছে ব্যাপারটা কি সত্যি শুধুমাত্র দুর্ঘটনা নাকি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকান্ড…? আমি বলছি না মন্ত্রী মহোদয় এতে জড়িত কিন্তু এত সুন্দর আইনের ফাঁক ব্যাবহার করে যে কাউকে ‘টার্গেট’ অতঃপর ‘ডেড বডি’ তে রুপান্তর করা এখন মনে হচ্ছে ছেলে খেলা মাত্র…

    Reply
  13. আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী

    ভাল লেখার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
    কিন্তু সমস্যা হল মন্ত্রীরা বাংলাদেশের অতি সম্মানিত মানুষ তাদের নিয়ে এত লিখেছেন আদালত না আবার আপনার পিছু নেয়।

    একটা খবর দেখলাম ফেসবুকে স্টেটাস নিয়ে আদালত বাবস্থা নিতে যাচ্ছে ।

    ভাবতে অবাক লাগে আমরা দুই বছর গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য আন্দোলন করলাম আর এখন সেই গণতান্ত্রিক দেশে স্বাধীনভাবে কথা বললেও আদালত তার পিছু নেয় ।

    Reply
  14. Rahman

    যা বলেছেন তা সাধারন মানুষের বাক্য – কিন্তু তাতে কি এদের টনক নড়বে ?

    তবে আপু, আমি মনে প্রাণে এটা মানি যে – এরশাদই একজন রাজণীতিক যিনি দেশের উন্নয়ন করেছেন দেশকে ভালোবেসে, উনার পরে যা হয়েছে তা কোনো সরকার না থাকলেও হতো – বরং আরো ভাল হতো ।

    Reply
    • Rahman

      আমি এখন অনেক মানুষের মুখেই এরশাদের প্রশংসা শুনি । আমার বাবা একজন সরাসরি অংশ গ্রহনকারী মুক্তিযোদ্দা, বংগবন্ধু প্রেমিক, সারা জীবন নৌকা । কিন্তু এইবার বেটা ধরা খেয়েছে – কারন হলো – ছাত্রলীগ, দ্রব্যমুল্য, শেয়ার বাজার, পুলিশের কর্মকান্ড, রাস্তা ঘাট আর লাগামহীন সরকারের কথাবার্তা ।

      এখন বলছে স্বৈরশাষক হলেও দেশের উন্নয়ন ওই এরশাদই করেছে, এর পর আর কিছু হয়নি । দেশপ্রেমিক (মুজিব) তো মরে গেছে ।

      Reply
  15. নাসরীন

    অসাধারন বিশ্লেষন। বিদিশা আপনাকে ধন্যবাদ এবং শুভেচ্ছা।

    Reply
  16. মাহবুব হোসেন

    মিস বিদিশা, আপনার লেখাটি সত্যের প্রতিফলন।

    মাহবুব

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—