Feature Img

monjur-fবাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে যে আন্দোলন-সংগ্রাম করে এসেছে তা মূলত গণতন্ত্রের সংগ্রাম। পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি সংগ্রামই ছিল গণতান্ত্রিক। গণতন্ত্র বলতে শুধু ভোটাধিকার বা নির্বাচন নয়, রাজনীতি, রাষ্ট্র ও সরকার পরিচালনা, অর্থনীতি, সমাজনীতি এবং মতাদর্শ সর্বক্ষেত্রেই গণতন্ত্রের সংগ্রাম ছিল বিস্তৃত। জনগণের গণতান্ত্রিক রায় বাস্তবায়ন ও নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় যেতে দেয়া হয়নি বলেই শেষ পর্যন্ত আমাদেরকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ করতে হয়েছে।

স্বাধীন বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান রচিত হলেও শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকেনি। স্বাধীন বাংলাদেশে এ গণতন্ত্রের জন্য এদেশের মানুষকে সুকঠিন সংগ্রাম করতে হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে।

পাকিস্তান আমলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বারবার স্তব্ধ করে দেয়া হয়েছে। বারবার সামরিক শাসন জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশের জন্ম গণতান্ত্রিক আদর্শ নিয়ে। বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। এরপরও বাংলাদেশের রাজনীতির বড় ট্র্যাজেডি হচ্ছে আমরা এখনও পাকিস্তান আমলের সামরিক হস্তক্ষেপের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারিনি। এদেশে একের পর এক সফল ও বিফল সামরিক অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। দু’জন রাষ্ট্রপতি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ নিষ্ঠুর হত্যাকা-ের শিকার হয়েছেন এবং শত শত সেনা সদস্য ও কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বা ফাঁসিকাষ্ঠে জীবন দিয়েছেন।

সামরিক হস্তক্ষেপ একটা দেশকে কতখানি ভয়ঙ্কর পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ পাকিস্তান। বিশিষ্ট পাকিস্তানি গবেষক আয়েশা সিদ্দীকা পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ব্যবসা-বাণিজ্যের যে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সিআইএর প্রত্যক্ষ পরিচালনা ও সহযোগিতায় যে বিশাল অস্ত্রসম্ভার গড়ে তুলেছে, কিভাবে দেশের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছে তার বিবরণ তুলে ধরেছেন তার লেখা বইতে। অবশ্য আয়েশাকে পাকিস্তান থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সিআইএ পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে আফগানিস্তান, ভারত, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থে ব্যবহার করেছে। আল কায়দা এবং তালেবানদের অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহায়তা দিয়েছে সিআইএর সহযোগিতায় এবং আইএসআই। এখন খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আল কায়দা তালেবান এবং আইএসআইই হয়ে উঠেছে ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন। আইএসআই দ্বৈত ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ তুলেছে আমেরিকা। পাকিস্তানের চরম অর্থনৈতিক সঙ্কট সত্ত্বেও বিপুল অর্থ ব্যয় করে সমরাস্ত্র ক্রয় অব্যাহত আছে। বিপুল অস্ত্র, অর্থ, ব্যবসা-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সেখানকার রাজনীতিতে নিয়ামক ভূমিকা পালন করছে। সরকার পরিবর্তন, পরিবর্ধন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হত্যাকা-, বিভিন্ন অন্তর্ঘাতী কর্মকাণ্ডে পাকবাহিনী সিদ্ধহস্ত। এখন সেই অন্তর্ঘাত চলছে খোদ সেনাবাহিনীর মধ্যেই ক্যান্টনমেন্ট ও সেনা সদরেই। পাকিস্তান রাষ্ট্র আজ অস্তিত্বের সঙ্কটে।

সেনাবাহিনীর এই ধরনের ভূমিকা শুধুমাত্র পাকিস্তানেই নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা ক্রমবর্ধমান। সারা বিশ্বে যুদ্ধ, সংঘর্ষ ও উত্তেজনা যতই বৃদ্ধি পাচ্ছে, ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে অস্ত্র প্রতিযোগিতা, অস্ত্রসজ্জা ও সামরিক শক্তি। পৃথিবীর দেশে দেশে সামরিক বাহিনী সর্বাধুনিক অস্ত্র, সুদক্ষ জনবল, যুদ্ধ ও নিরাপত্তার জন্য ব্যাপক অবকাঠামো এবং অর্থশক্তিতে ক্রমেই স্ফীত হয়ে উঠছে। জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার অজুহাতে জনগণের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার, প্রাইভেসি, মানবিক অধিকার ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দারুণভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে। এক সময়ের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলো ক্রমেই হয়ে উঠছে ‘কঠিন রাষ্ট্র’ বা হার্ড স্টেট।

গণতন্ত্রের পীঠস্থান বলে পরিচিত খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন তার বিশাল সামরিক প্রতিষ্ঠানের কাছে অনেকটাই জিম্মি। ১৯৩৬-এর মহামন্দার সময় অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে পরিত্রাণের অন্যতম উপায় হিসেবে সমরাস্ত্র উৎপাদন ও বিশ্বব্যাপী তা বিক্রির ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্র। এটা করতে গিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক বিশাল সামরিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে এবং দেশ, সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী এক সামরিক শিল্প কমপ্লেক্স গড়ে ওঠে। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এদের প্রভাব বৃদ্ধিতে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডয়াইট ডি আইজেনহাওয়ার উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেন। ১৯৬১ সালের ১৭ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণে তিনি বলেন : ‘This conjunction of an immense military establishment and a large arms industry is new in the American experience….. In the councils of government we must guard against acquisition of unwanted influence, whether sought or unsought by the military industrial complex. The potential of the disastrous rise of misplaced powers exists and will persist. We must never let the weight of this combination endanger our liberties and democratic process.’

আইজেনহাওয়ারের বক্তৃতার ২ বছর পার হতে না হতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন, এফ কেনেডীকে ১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর হত্যা করা হয়। আইজেনহাওয়ার যে বিশাল সামরিক প্রতিষ্ঠান ও সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সকে স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করে সতর্ক বাণী উচ্চারণ করে দিলেন সেই শক্তিই ‘নিজ স্বার্থ’ রক্ষায় এই হত্যাকা- বা গবেষকদের ভাষায় সামরিক ক্যু-দ্যাতা সংগঠিত করে দিল।

সামরিক প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রেসিডেন্ট কেনেডীর বেশকিছু বিষয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হচ্ছিল। কেনেডী স্নায়ুযুদ্ধ হ্রাস করার ব্যাপারে মনোনিবেশ করেন। বে অব্ পিগ্স-এর বিপর্যয়ের পর সেনাবাহিনীর চাপ সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট কেনেডী সরাসরি কিউবা আক্রমণ করতে অস্বীকার করেন। কিউবান মিজাইল সঙ্কটের পরও কেনেডীর সামরিক উপদেষ্টারা পারমাণবিক যুদ্ধে নামার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে কেনেডী সে পথে যেতে রাজি হননি। কেনেডী মহাকাশে পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ করে দেন এবং সামরিক প্রতিষ্ঠানের ঘোরতর আপত্তি সত্ত্বেও ভিয়েতনাম থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেন। শোনা যায় সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধানমন্ত্রী নিকিতা ক্রশেভ কেনেডীকে এই মর্মে অবহিত করেন যে, তাঁর (কেনেডীর) নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সিআইএর এজেন্টরা ফিদেল ক্যাস্ট্রোকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট কেনেডী যখন খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ক্যাস্ট্রো হত্যার তৎপরতা অব্যাহত আছে, তখন তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং রাগে গড় গড় করতে করতে এক সভা থেকে বেরিয়ে বলেছিলেন : আমি সিআইএকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে ছাড়বো। অদৃষ্টের নির্মম পরিহাস সিআইএ কিছুদিন পরেই কেনেডীকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে মেরেছে। মার্কিন রাজনীতিতে সামরিক প্রতিষ্ঠান এবং মিলিটারী-ইন্ডস্ট্রিয়াল ফিন্যান্সিয়াল কমপ্লেক্সের প্রভাব ও হস্তক্ষেপ সাম্প্রতিককালে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

সাম্প্রতিককালে বিবিসিতে প্রচারিত এক অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদন “ফৌজি বাণিজ্য”-এ বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পাকিস্তানি মডেল অনুসারেই অগ্রসর হয়েছে। দুটি দেশেই সামরিক শাসন আমলে পাকিস্তান বাংলাদেশ সেনা কল্যাণ সংস্থাকে একটি সিমেন্ট কারখানা প্রজেক্ট বাস্তবায়নে আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য এবং সেনা পরিবারের কল্যাণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত এই ধরনের প্রজেক্ট ক্রমান্বয়ে পুরোপুরি ব্যবসায়িক উদ্যোগ হিসেবে এগিয়ে গেছে। উৎপাদন থেকে শুরু করে সার্ভিস সেক্টর পর্যন্ত, সিমেন্ট, টেক্সটাইল, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বৈদ্যুতিক ও ইলেক্ট্রনিক শিল্প, ব্যাংকিং, বিলাসবহুল হোটেল, ফাস্ট ফুড, খুচরা দোকান, ফিলিং স্টেশন, ট্রেনিং সেন্টারসহ সর্বত্র সেনা বাণিজ্যের উপস্থিতি ও প্রভাব লক্ষ্য করার বিষয়। এছাড়া শান্তি মিশনে সেনা সদস্যদের অর্জিত বাড়তি আয় শেয়ার ব্যবসায়ও নিয়োজিত হচ্ছে। সামরিক প্রতিষ্ঠান আজ আর শুধু প্রতিরক্ষা ও যুদ্ধের শক্তি নয়, দেশের প্রভাবশালী কর্পোরেট জায়ান্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আমলে ১৯৭৩ সালে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে সেনাবাহিনীকে নামানো হয়। অভিযানের ফলে অনেক ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ গ্রেফতার ও আক্রমণের শিকার হন। আওয়ামী সরকার তাদেরকে ছাড়িয়ে নেয় এবং শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে। এসব নিয়ে সেনাবাহিনীতে বিক্ষোভ-পরবর্তী বিভিন্ন ঘটনার উপর প্রভাব ফেলে। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর দেশের নিয়ন্ত্রণ বাস্তবে সেনাবাহিনীর হাতে চলে আসে। এরপর থেকে জিয়া-এরশাদসহ বিভিন্ন আমলে দেশের রাজনীতিসহ বিভিন্ন ব্যাপারে সেনা হস্তক্ষেপ এবং প্রভাব বাড়তে থাকে। ক্ষমতার রদবদলে সেনাবাহিনীর ভূমিকা গুরত্বপূর্ণ, এমনকি প্রধান হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য সংগঠনকে প্রভাবিত করা, ভাঙন, নতুন দল গঠন, নেতৃত্বের পরিবর্তন, অর্থ ও ভাতা প্রদান, গোয়েন্দা বাহিনীর হস্তক্ষেপ, হত্যা, নির্যাতন, চাপ ও হুমকি প্রয়োগ নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক দলাদলি ও বিশেষত ক্ষমতায় যেতে সক্ষম রাজনৈতিক দলগুলোও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বা ক্ষমতাকে পরিবর্তন করার জন্য সেনাবাহিনীকে কাজে লাগাবার চেষ্টা করে। বিভিন্ন বিদেশি শক্তি এসবের সাথে জড়িত হওয়ার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সেনাবাহিনীর মধ্যেও নানা সন্দেহ, অবিশ্বাস ও দলাদলির সৃষ্টি হয়। সেনা কর্মকর্তাদের দু’চারজনের উচ্চাকাক্সক্ষা পূরণের জন্য কমান্ড ও পুরো বাহিনীকে ব্যবহার করার চেষ্টা চলে। এসবের ফলে ক্যু-পাল্টা ক্যুর অনেক ঘটনা ঘটে। শত শত সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য নিহত হন, ফাঁসিকাষ্ঠে জীবন দেন। হাজারো সুশিক্ষিত সেনা কর্মকর্তা ও সদস্য অকালে চাকরি হারিয়ে অসহায়, অনিশ্চিত ও মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ত পরিস্থিতির মধ্যে নিক্ষিপ্ত হন।

এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে এক পর্যায়ে দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে ব্রতী হলো। দেশের মানুষ সামরিক স্বৈরাচারের নিষ্ঠুর নির্যাতন মোকবেলা করে বিশাল গণসংগ্রাম গড়ে তোলে। এরশাদ সরকারের পতনের পর আবারও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হয়।

রাজনৈতিক সঙ্কট ও সংহাত, ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন শেষ পর্যন্ত ২০০৭ সালে এক-এগারোর পরিবর্তন নিয়ে আসে। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় বসে।

সঙ্কটগ্রস্ত গণতন্ত্রকে ‘উদ্ধার’ করার জন্য বরাবরের মত এবারও সেনাবাহিনী কার্যত ক্ষমতায় আসে। তবে এবারের ঘটনা শুধু সেনাপ্রধানদের উদ্যোগে নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, ভারত এবং বাংলাদেশে ইউএনডিপি’র প্রধানসহ অনেকেই এই ঘটনা ঘটাবার ক্ষেত্রে যথেষ্ট ক্রিয়াশীল ছিল। খালেদা-হাসিনাসহ রাজনৈতিক নেতা অনেকেই গ্রেফতার, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হলেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা গেল অতীতে যেমন হয়েছে, তেমনি গণতন্ত্র আর উদ্ধার হলো না। সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার পিছু হটতে বাধ্য হলো। গণদাবীর মুখে মানে একটা নির্বাচন দিয়ে তাদের কেটে পড়তে হলো। পাকিস্তান আমলে, বাংলাদেশের চল্লিশ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা এটাই দেখলাম গণতন্ত্র সঙ্কটে পড়লে গণতন্ত্রের পথেই তা উত্তরণ করা ছাড়া গত্যন্তর নেই। সামরিক হস্তক্ষেপ গণতন্ত্রকেও ধ্বংস করে, দেশ এবং সেনাবাহিনীকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

কিন্তু আমরা কি ইতিহাস থেকে আদৌ কোনো শিক্ষা নিয়েছি ? আওয়ামী মহাজোট সরকারের দুই বছর পার হয়ে গেল। দেশের পরিস্থিতি আবারও যে প্রেক্ষাপটে এক-এগারোর জন্ম হয়েছিল, সেই ধরনের একটা অবস্থা সৃষ্টি করছে বলে অনেকেই মনে করেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপিরসহ অনেক নেতাই আবারও এক-এগারোর মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন। জনৈক বুদ্ধিজীবী প্রশ্ন তুলেছেন সরকারের মধ্যে কি আর একটি সরকার আছে, সরকারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে শক্তিশালী কে আছে! মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলছেন, রাষ্ট্রের ভেতরে আর একটি রাষ্ট্র কাজ করছে। জাতীয় সংসদের স্পিকার আবারও এক-এগারোর ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন।

এবারের সংসদ নির্বাচনের পর একটি অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে। সংসদে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ অনেক দলের সদস্য সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক (এক-এগারোর) সময়ের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন। দুই দলের একই ভাষায় কথা বলাটা ছিল বিরল ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে সংসদে খোলামেলা আলোচনা ও জাতীয় সংলাপ, হতে পারত সেনাবাহিনীর সাথে সংলাপ। কিন্তু তা করা হয়নি। এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতির এই মৌলিক প্রশ্নটির সুরাহা না করে যখন বড় দলগুলো বেঘোরে খেলতে থাকে, ক্ষমতায় যওয়ার জন্য, থাকার জন্য ফাউল করে, যা কিছু করার তাই করতে বেপরোয়া হয়ে ওঠে, তখন আমার কাছে তা খুব হাস্যকর মনে হয়। মনে হয় একটা বাঁশি বাজলেই তো এই চায়ের পেয়ালার ঝড় শেষ!

মনজুরুল আহসান খান : বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি।

১৫ Responses -- “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া কি আবারও বাধাগ্রস্ত হবে!”

  1. মিয়া মুস্তাফিজ

    বিবিসির একটা খবরে পড়েছি প্রতিবছর বাংলাদেশ ২ বিলিয়ন ডলার বিদেশী সাহায্য গ্রহণ করে আর ঐ সব সাহায্য অভাবী মানুষের হাতে পৌছেনা ।

    এশিয়ার ডেভেলপমেন্ট ব্যংক এর রির্পোটে বাংলাদেশ সরকারে তথ্য মতে ২০০৯ সালে বাংলাদেশে বেকার ছিলো মোট জনসংখ্যা ৫.১ চল্লিশ শতাংশ লোক দিনে এক ডলারের কম আয় করতে পারে। শিক্ষিত বেকারের সংখ্যাতো বাড়ছেই ।

    আমাদের পর্বপুরুষেরা বৃটিশদের গোলামী করেছিলো। আর এখন আমরা নিজের দেশেই কারো না কারো দাসী হয়ে আছি। ক্ষমতায় যেই আসুক তারাই হয়ে যায় রাজা । বিরোধী দল সব সময় রাজনৈতিক অরাজতকা সৃষ্টি করে। দেশর অর্থনীতি, মানুষের জীবন মান গোল্লায় গেলে তারা যেন গলা ফাটিয়ে বলতে পারে এই সরকার দেশ পরিচালনায় অযোগ্য। দেশের সাধারণ মানুষের কী এমন মুক্তি মিলেছে গো শুনি !

    আমার মতে দেশে মিলিটারী শাসনই দরকার। আপনারা গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে দেশটাকে কত দূর কী করবেন আমরা সাধারণ জনগণ বুঝে গেছি।

    Reply
  2. হাসান খান

    আপনারা জামাতের সাথে জোট গঠন করুন না ! আমাদের তো আওয়ামি-বিএনপির এই ‘হাম অওর তুম খেল’ আর ভালো লাগছে না । জাতীয় পার্টিও তেমন সুবিধা করতে পারছে না । এরা কেউই কোন প্রকার ঝুঁকি নেবার মত নয় ; কারন ঝুঁকি নিলেই একে অন্যের দ্বারা আক্রান্ত হবার ঝুঁকি রয়েছে। বাম আর ধর্মীয় দলের জোট ক্ষমতা পেলে যদি রাষ্ট্র ব্যবস্থার কোন ইতিবাচক পরিবর্তন হয় !

    Reply
  3. সুদীপ্ত শরিফ

    ধন্যবাদ। ফৌজী বাণিজ্য শুধু নয় আমরা বহুমাত্রিক বাণিজ্যের শিকার।

    Reply
  4. ziaul Haque

    জিয়াউল হক
    এ দেশের সব সরকারই সেনাবাহিনীকে ভয় পায়, তোষামোদ করে।
    তাইতো,
    সেনাবাহিনীর একজন অফিসার হলেই তাকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিলাসবহুল আবাসনের জন্য কমপক্ষে পাঁচ কাঠা জায়গা বরাদ্দ দেয়া হয়। এভাবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলো অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যদের বিলাসবহুল আবাসিক এলাকায় পরিণত হচ্ছে। দুঃখের বিষয় এদেশের কোন সরকার কি উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে, এভাবে চলতে থাকলে কোন এক সময় পুরো দেশটাই অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর বিলাসবহুল আবাসিক এলাকায় পরিণত হলে দেশের সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?
    এ অবস্থা চলতে দেয়া যায় না।
    সচেতন হতে হবে আমাদের।
    ভাবতে হবে খুব গভীরভাবে।

    Reply
  5. Abir Hossain

    অত্যন্ত চমৎকার একটি লেখা । আমাদের ভবিষ্যত অন্ধকারই মনে হচ্ছে কারণ –
    ১। দেশে হরতাল শুরু হয়ে গেছে। মনে হয় না সহজে আমরা সেই হরতাল থেকে মুক্তি পাবো।
    ২। আঃ লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জনাব আশরাফ আঃ লীগের আগের সাধারণ সম্পাদক জনাব আঃ জলিলের মতো কথা বলা শুরু করে দিয়েছে।
    ৩। বিএনপি-জামাত জোট হ-য-ব-র-ল আন্দোলন করছে।

    Reply
  6. gonomaus

    হ্যা, আজ গণতন্ত্র খাচা থেকে মুক্তি পেয়েছে। আর সেই খাচায় বন্দী হয়েছি আমরা। আজ দেশের সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ কিন্তু ক্ষমতা ভোগীদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ট। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দুই যুগ পর আজ যখন রিকশায় উঠে চল্লিশোর্ধ কোন রিকশাওলায়ার সাথে গল্প করতে করতে হঠাৎ জিজ্ঞেস করি- ‘চাচা, বলেন’তো কার সময়ে আপনারা সবচেয়ে শান্তিতে ছিলেন?’ তখন সে অতীত স্মৃতি হাতড়ে জলজল চোখে দৃপ্ত কন্ঠে বলে- ‘এরশাদ সাবের আমলে আমরা সবচে ভালা আসিলাম’ হতে পারে তখন মত প্রকাশের স্বাধীনতা অনেকটাই রহিত হয়েছিল, হতে পারে তখন সরকারী অফিসগুলো চলত পোষাকী বাহিনীর নির্দেশে, হতে পারে তখন দেশে রাজনৈতিক কর্মকান্ড ছিলো নিষিদ্ধ। কিন্তু ছিল না আজকের মত দ্রব্যমূল্যের ঊর্দ্ধগতি, ছিল না ধংসাত্মক হরতালের রাজনীতি, ছিল না কোন লাশগুম করা বাহিনী। ৯০ এর পর গণতন্ত্র পেয়েছি। কিন্তু তা শুধুমাত্র একটি দিনের জন্য। প্রতি ৫ বছর পর পর আসা এ দিনটিতে আমরা ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচিত করি আমাদের পরবর্তী প্রভু।

    আব্রাহাম লিংকনের মতে ব্যালট নাকি বুলেটের চেয়েও শক্তিশালী। কিন্তু আমাদের দেশে ব্যালটযুদ্ধে বুলেট ভর্তি পিস্তল কার হাতে থাকবে তা নির্ধারিত হয়। আর সেই ক্ষমতা পেয়ে পাপিষ্ঠ প্রভু গুলি হত্যা করে কলেজ ছাত্র আবিরকে, পা কেটে নেয় লিমনের আর স্বদেশীয় প্রভুর নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে ভিনদেশী দেবতা ফেলানীর মৃত্যু নিশ্চিত করে কাটাতারে ঝুলিয়ে।

    আজ গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চায় হরতালের নামে আমার গাড়ি ভাঙ্গা হয়, কিন্তু প্রাণভয়ে আমি কিছু বলতে পারি না। আজ গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চায় কড়া হরতাল পালনের পরিবেশ সৃষ্টিতে বাসে আগুন লাগায়, কিন্তু আমি প্রতিবাদ করতে পারি না। আজ আমার দেশের গ্যাস বাইরে রপ্তানীর ষড়যন্ত্র হয়, কিন্তু আমি সেই চুক্তি দেখতে পারি না। এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রাজনৈতিক কূটকৌশলে আমজনতা আজ মূক, বধির আর অন্ধ।

    হে সূর্যসেন, আজ তোমার স্বাধীনতা এসেছে কিন্তু মুক্তি আসেনি। হে প্রীতিলতা আজ ভিনদেশী প্রভুরা বিদায় নিয়েছে কিন্তু রক্ত চুষছে দেশীয় দেবতা। হে নূর হোসেন, আজ তোমার গণতন্ত্র এসেছে কিন্তু মুখোশের আড়ালে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে স্বৈরাচারী পরিবারতন্ত্র। যে স্বাধীনতায় আমার ক্ষুধা কমে না তা আমার কাছে মূল্যহীন, যে প্রভুত্ব আমার দুঃখ দূর করে না তার পূজা আমার কাছে অর্থহীন, যে গণতন্ত্র আমার উপর চালায় অত্যাচারের ষ্টিমরোলার তা আমার কাছে অথর্ব।

    আমি চাই সত্যিকারের স্বাধীনতা, আমি চাই প্রজাদরদী প্রভু, আমি চাই নাগরিক অধিকার নিশ্চিতের গণতন্ত্র। কিন্তু আজ গণতন্ত্রের মুখোশে স্রেফ ক্ষমতালোভে যে পারিবারিক শাসনতন্ত্র চলছে-আমি তার ফাঁসি চাই……….নূর হোসেন, আমায় ক্ষমা করো।

    Reply
  7. milon

    অত্যন্ত চমৎকার লেখা হয়েছে স্যার! আমাদের নেতাদের নামের পরিবর্তন না করে কর্মের পরিবর্তন করতে বলুন স্যার, তাহলে যদি দেশের কিছুটা মঙ্গল হয়।

    Reply
  8. Kabir

    খুব মন ছুঁয়ে গেলো, মন খারাপ হয়ে গেল। সত্যি, এই ভাল মেয়ের সার্টিফিকেটের জন্য কত মেয়ে যে মার খেয়ে মার লুকাল আর কত মেয়ে যে মারা গেল বা বেঁচে রইল মরার মত!এই ডাকটা সবার কাছে পৌঁছালো না কারণ বাংলাদেশে কতজন মেয়ে নেট-এ কলাম পড়ার সুযোগ পায়? তবে পড়তে পারলে ভালো হত। সবার পড়ার মত একটি লেখা। কোন দৈনিকে এই বিষয়ে এমন সাহসী কলাম পড়িনি, তাই বিডিনিউজ২৪ডটকম-কে ধন্যবাদ। এই লেখকের আরো লেখা পড়তে চাই।

    Reply
  9. ইকবাল

    এভাবে আরো অনেক লিখুন ৷ আমরা আরো সচেতন হতে চাই,আমরা পিছনে নয় আমরা সামনে এগোতে চাই,অনেক অনেক সামনে!

    Reply
  10. মাঈন উদ্দিন জাহেদ

    ১।জনগণের গণতান্ত্রিক রায় বাস্তবায়ন ও নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় যেতে দেয়া হয়নি বলেই শেষ পর্যন্ত আমাদেরকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ করতে হয়েছে।– তাহলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কী পরিকল্পিত নয়?
    ২।স্বাধীন বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান রচিত হলেও শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকেনি।– আসলেই কী গণতান্ত্রিক সংবিধান রচিত হয়েছিলো?কারা করেছিলেন? তাদের কি সংবিধান রচনার দায়িত্ব দিয়েছিলো জনগণ?

    Reply
  11. Zahed

    অসাধারণ লিখা হয়েছে স্যার। যদিও আমি সন্দিহান যে বিপর্যয়ের কথা আপনি বলেছেন এসব লিখা সেই বিপর্যয় ঠেকাতে আদৌ কতটা ফলপ্রসু হবে। তারপরও নিয়মিত লিখুন। এভাবে হয়তো ধীরে ধীরে অনেক পাঠক সচেতন হয়ে উঠবে।

    Reply
  12. তায়েফ আহমাদ

    ১/১১ জুজুর ভয় প্রদর্শনমূলক এই লেখায় যে কথাগুলো বলা হয়েছে, সেটি এদেশের সাধারন মানুষ মোটামুটি জানে। সশস্ত্রবাহিনীর মত পেশাদার একটা বাহিনীকে যেভাবে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে/হচ্ছে- তাও দুঃখজনক। কিন্তু, যে কথাটি আসা দরকার ছিল, সেটি হচ্ছে, এ থেকে উত্তরণের উপায় কী এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি এই উত্তরণে কোন পর্যায়ের ভূমিকা পালন করছে?

    Reply
  13. Al Jahan

    অত্যন্ত চমৎকার একটি লেখা । কিন্তু আমাদের ভবিষ্যত তো অন্ধকারই মনে হচ্ছে ।

    Reply
  14. মোহাম্মদ জহিরুদ্দিন বাবর

    ‌সামরিক প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রেসিডেন্ট কেনেডীর বেশকিছু বিষয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হচ্ছিল। কেনেডী স্নায়ুযুদ্ধ হ্রাস করার ব্যাপারে মনোনিবেশ করেন। বে অব্ পিগ্স-এর বিপর্যয়ের পর সেনাবাহিনীর চাপ সত্ত্বেও প্রেসিডেন্ট কেনেডী সরাসরি কিউবা আক্রমণ করতে অস্বীকার করেন। কিউবান মিজাইল সঙ্কটের পরও কেনেডীর সামরিক উপদেষ্টারা পারমাণবিক যুদ্ধে নামার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে কেনেডী সে পথে যেতে রাজি হননি। কেনেডী মহাকাশে পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধ করে দেন এবং সামরিক প্রতিষ্ঠানের ঘোরতর আপত্তি সত্ত্বেও ভিয়েতনাম থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করেন। শোনা যায় সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রধানমন্ত্রী নিকিতা ক্রশেভ কেনেডীকে এই মর্মে অবহিত করেন যে, তাঁর (কেনেডীর) নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সিআইএর এজেন্টরা ফিদেল ক্যাস্ট্রোকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট কেনেডী যখন খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন যে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ক্যাস্ট্রো হত্যার তৎপরতা অব্যাহত আছে, তখন তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং রাগে গড় গড় করতে করতে এক সভা থেকে বেরিয়ে বলেছিলেন : আমি সিআইএকে ভেঙে টুকরো টুকরো করে ছাড়বো। অদৃষ্টের নির্মম পরিহাস সিআইএ কিছুদিন পরেই কেনেডীকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে মেরেছে। মার্কিন রাজনীতিতে সামরিক প্রতিষ্ঠান এবং মিলিটারী-ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্সিয়াল কমপ্লেক্সের প্রভাব ও হস্তক্ষেপ সাম্প্রতিককালে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

    তারপরেও আমেরিকা নিজেদেরকে গণতান্তিক দেশ মনে করে? এককেন্দ্রিক বিশ্বে মার্কিন পরাশক্তির জন্য সত্যিকার অর্থে চ্যালেঞ্জ হযে দাড়াতে পারে এমন কোন শক্তির উত্থান আগামী বিশ্বে আদৌ সম্ভাবনা আছে? আর বাংলাদেশেও কি গণমানুষের আশা আকাঙ্খার মূর্তপ্রতীক হয়ে বিপ্লবী কোন ছাত্র সংগঠন বা আন্দোলন গড়ে ওঠার কি কোন সুযোগ বা সম্ভাবনা আছে? যাদের আন্দোলনের ভিতর থেকে গড়ে উঠবে ভবিষ্যতের জনগণ নেতা!

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—