Feature Img

dina-f1ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রুমানার উপর যে নির্যাতন ও হত্যা চেষ্টার ঘটনা গত ৫ জুন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তা দেখে সাধারণ মানুষ বিস্মিত হয়েছে। আমাদের দেশে পারিবারিক নির্যাতন ও নারীর প্রতি সহিংসতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। স্বামীরা দুটো অস্ত্র বেশ ব্যবহার করেন প্রভুত্ব রক্ষায়, এক হচ্ছে সামাজিক অস্ত্র, অন্যটি হচ্ছে তাদের শারীরিক শক্তির অস্ত্র। প্রভু হিসেবে মেনে নিয়ে অনেক নারীই নীরবে পারিবারিক নির্যাতনের বলি হওয়া স্বাভাবিক একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এ সমাজে। তাই নিপীড়ক সাইদ নিজেকে “সাইকিক কেস” হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ পায়। নির্যাতিতাকে উল্টো দোষী করে কিছু গল্প উপস্থাপন করে সমাজের সহানুভূতি কুড়াতে চেষ্টা করে। খটকা লেগেছে মিডিয়ার আচরণে। রুমানার স্বামী তাঁর নিজের চামড়া বাঁচানোর জন্য রুমানার চরিত্র হনন করলো এবং প্রায় সবগুলো মিডিয়া ফলাও করে রুমানার স্বামীর সাজানো কুৎসা প্রচার করলো। হায় আমাদের পুরুষতান্ত্রিকতা ! শিক্ষক রুমানার প্রতি নির্যাতন, নির্মম এই সহিংসতার চেয়ে তাঁর স্বামীর প্রচারিত গল্প হয়ে ওঠে চারিদিকে আলোচনার বিষয়।

সেদিন পত্রিকার পাতা খুলে যখন চোখে পড়লো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের ডিপার্টমেন্টের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের একজন শিক্ষিকা স্বামী কর্তৃক নির্মমভাবে নির্যাতিত হয়েছেন, তখন যেন ঠিক বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। পত্রিকার শিরোনামটি ছিল বিদেশে উচ্চ শিক্ষায় যেতে না দেয়ার জন্য স্বামী কর্তৃক এক শিক্ষিকা নির্যাতিত। প্রথম আলোর সেই রিপোর্টটিতে শিক্ষক রুমানা নাম উল্লেখ করা হয়নি। তখন শিরোনামটি দেখে অবাক হয়েছিলাম, বিদেশে পড়তে চাওয়া কি একটি মেয়ের জন্য অন্যায় এ সমাজে? যে বিষয়টিতে খটকা লাগে, তা হচ্ছে শিক্ষিকার নাম উল্লেখ না করা। তবে কি নির্যাতিতার পরিবার ভয় পেয়েছিলো বলে নাম উল্লেখ করা হয়নি পত্রিকায়? ডিপার্টমেন্টের অন্য একজন শিক্ষককে সরাসরি ফোন করে বললাম, “পত্রিকায় যে নিউজ দেখলাম, সেটি আসলেই কি সত্যি? আসলেই কি চোখ উপড়ে ফেলতে চেষ্টা করেছে?” তিনি উত্তরে জানান, “হ্যাঁ ঘটনা সত্যি, এই মাত্র তিনি হাসপাতাল থেকে ফিরেছেন। শিক্ষক রুমানাকে জরুরী বিভাগ থেকে কিছুক্ষণ আগেই কেবিনে আনা হয়েছে। ডাক্তার বলেছে একটি চোখ একেবারেই নষ্ট করে ফেলেছে, অন্যটিরও তেমন আশা নেই। তিনি আফসোস করে বললেন, ” শিক্ষিত ইঞ্জিনিয়ার স্বামী এমনটা করতে পারলো?” আরও জানালেন, “তার স্বামী নাকি তাকে প্রায়ই মারধর করতো। কিন্তু মার খেয়েও তিনি কাউকে কিছুই জানান নি”। সেদিন সারাদিন দোয়া করে একদিকে চাচ্ছি শিক্ষক রুমানা যেন ভাল হয়ে ওঠেন, উনি যেন আবার আগের মত হাসি মুখে ডিপার্টমেন্টে চলাফেরা করেন, অন্যদিকে চাচ্ছি, তার স্বামীটির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয় এবং এতে করে অন্য নির্যাতকরাও যেন ভয় পায়।

শিক্ষক রুমানা তার ডিপার্টমেন্টে মিষ্টভাষিতার জন্য সুপরিচিত, তার ছাত্র-ছাত্রীরা তাকে অনেক ভালবাসেন। পত্রিকায় প্রকাশিত ঘটনার পরদিনই ফেসবুক থেকে মানব বন্ধনে অংশগ্রহণের তথ্যটি পাই। সেখানে ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র জুনিয়রদের এক বিরাট অংশগ্রহণ ছিল। সবাই পাশাপাশি হাতে হাত রেখে দাঁড়াল, কেউ ছবি তুললো ও পরে ফেসবুকে দিল। ছবিতে কমেন্টস করলেন আমাদের ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক, তিনি লিখলেন, “সহমর্মিতার মানব বন্ধব।” ছাত্ররা মন্তব্য করল “আমরা ন্যায় বিচার চাই”। আমরা হাজারও মানুষ আছি রুমানা ম্যাডামের পাশে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজনের কাছে শুনলাম নির্যাতক হাসান সাইদ উপরের মহলের প্রভাবশালী দুই একজনের ছত্রছায়ায় আছেন। হয়তো ছাড়া পেয়ে যেতে পারে বা সাজা কম হতে পারে। আমি বললাম, না তা হতে পারবে না, তার সাথে প্রভাবশালী দুই একজন ব্যক্তি থাকতে পারে কিন্তু রুমানা ম্যাডামের জন্য আছে হাজারও মানুষ।

পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে নিপীড়ককে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না–আদালতের এই রুলের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই নির্যাতক সাইদ ধরা পড়ল। ঘটনাটির পর প্রায় ১০ দিন সময় নিয়েছে পুলিশ গ্রেফতার করতে। তার আগে এটি সাধারণ পারিবারিক একটি নির্যাতনের সাধারণ মামলা হিসেবে নিয়েছিল তারা। এ সময় অনেকেই শিক্ষক রুমানার চারিত্রিক বিশ্লেষণ করেন এবং তাকে “ভাল মেয়ে” হিসেবে অভিমত দেন। আর এই ভাল মেয়ে বলেই নীরবে অত্যাচার হজম করেছে। ফেসবুকে অনেকেই প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন এতটা কষ্ট করে সংসার নামক জিনিসটা টিকিয়ে রাখার কোন প্রয়োজন ছিল কি নির্যাতিতার? আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এ ধরনের চিন্তা করতে দিতে নারাজ।

যতদিন পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতায় নির্যাতিতার চরিত্র হনন হবে, নিপীড়কের সাজানো গল্প যতদিন উৎসুক সমাজের কিছু মানুষের কাছ থেকে সহানুভুতি পাবে, ততদিন এ ধরনের অত্যাচার থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হবে। নির্যাতিতা নারীর পাশে দাঁড়াতে কখনোই তার চারিত্রিক গুণ বা দোষ, “ভাল মেয়ে” কি “মন্দ মেয়ে” বিষয়টি বড় হয়ে দাঁড়াতে পারে না। নারী যখন অত্যাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তখন অনেক সামাজিক বাঁধাই তাকে প্রতিহত করে। আমাদের উচিৎ এই বাধাগুলো সড়িয়ে ফেলা।

মাকসুদা সুলতানা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রাক্তন ছাত্রী। লেখক ও গবেষক।

৪৪ Responses -- “রুমানার উপর দ্বিমুখী নির্যাতন”

  1. Delwar Hossain Sohel

    আমি সর্ব প্রথম মাকসুদা সুলতানার সাথে একমত হতে পারলাম না,
    পুরুষ কর্তৃক নারী নির্যাতন হলে এর প্রতিবাদ করা হয়, মিছিল করা হয়, মানববন্ধন করা হয় এবং পুরুষকে শাস্তি পেতে পেতে হয়। কিন্তু নারী কর্তৃক পুরুষ নির্যাতন হলে এর প্রতিবাদ পর্যন্ত কেউ করে না।
    কেননা অপরাধী নারী হোক আর পুরুষ হোক তার অপরাধ অনুযায়ী তাকে শাস্তি পেতে হবে।

    Reply
  2. Ababil Yeamin

    যে নির্মমতা রুমানার প্রতি তার স্মামী সাঈদ দেখিয়েছে তা মানবতার প্রতি চরম অবমাননা। কোন ওজরেই এটাকে মেনে নেয়া যায়না। পুরুষতান্ত্রিকতা নয় এর জন্য সমাজের পাশবিক মানসিকতাই দায়ী। এসমাজের মানুষের মত দেখতে প্রাণীগুলোর অসুস্থ মানসিকতা এই সব নির্মমতার প্রতি আমাদের সহিষ্ণুতাকে বাড়িয়ে তুলেছে; ঘৃণাবোধকে কমিয়ে দিয়েছে। এর জন্য দায়ী শিক্ষাব্যবস্থা, সমাজ ব্যবস্থা ও রাজনীতির নামে নোংরামী।

    এ ধরণের অপরাধ সমাজ থেকে দূর করার জন্য সবার আগে আমাদের মনে বোধকে জাগিয়ে তুলতে হবে; যে বোধ আমাদের মধ্যে একেবারেই নেই। আপনি পরিস্থিতির শিকার হলেই কেবল বলেন যে, আপনার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে। কিন্তু একই অপরাধ আপনার প্রতিপক্ষের উপর করা হলে আপনি তখন তৃপ্তি বোধ করেন কেন? আমরা যেদিন আমার জন্য যা পছন্দ করিনা, সেটা আমার শত্রুর ক্ষেত্রে ঘটলেও অপছন্দ করতে পারবো তখনই কেবল সমাজ থেকে এধরনের অপরাধ দূর করা সম্ভব হবে।

    আপনি পুরুষতান্ত্রিকতার কথা বলে এটার প্রতি উন্নাসিকতা প্রকাশ করেছেন; এমনটি যদি নারীতান্ত্রিকতার ফসল হতো তখন কি আপনি খুশী হতে পারতেন? এদেশে খুব অল্প সংখ্যক যে বিবেক সম্পন্ন মানুষ আছে আপনি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলে জবাব হতো- না। আমরা এক অসুস্থ সমাজে বসবাস করি। যে সমাজে মানুষকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, পিলখানার মত নির্মম ঘটনা ঘটে থাকে, ব্যক্তি স্বার্থে সহপাঠীকে গুলি করে হত্যা করতে পারে, গাড়িতে আগুন দিয়ে নিরাপরাধ যাত্রীকে হত্যা করে,ইভ টিজিংয়ের প্রতিবাদ করলে মেয়ের অভিভাবককে হত্যা করা হয়।

    সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় কী জানেন? আমরা মুখের দিকে তাকিয়ে দেখে কখনও এসব ঘটনা অন্যায় বলি আবার কখনও সমর্থন করি। এসব ঘটনার সামাজিক বিশ্লেষণ এই ভাবেই করা হয়। আদালতও একইভাবে ফয়সালা দিয়ে থাকে । আমরা সেই দেশের মানুষ যেই দেশের সরকার অপরাধীর অভিযোগে কোন লোককে বিনা বিচারে হত্যার লাইসেন্স দিয়ে রেখেছে।

    রুমানা তার স্বামী ছাড়া আর কাউকে ভালবাসার ঘটনা সত্য হলে তার প্রতিবাদের ভাষা আছে, কিন্তু তার চোখকে অন্ধ করা কোন ভাষা হতে পারেনা। এধরণের অপরাধ সমাজ থেকে বিলোপ না হওয়ার পিছনে আমার আপনার মত যারা মানুষের মত দেখতে তারাই বড় বাধা। আমরা অন্যায়কারীর প্রতিবাদ করি, অন্যায়ের না। সমাজ থেকে এধরণের অন্যায় দূর না হওয়ার পিছনে বড় কারণ পুরুষতান্ত্রিকতা নয়; আমাদের অসুস্থ মানসিকতা এবং ঘুণে ধরা সমাজ ব্যবস্থা। আসুন আমরা আগে মানুষকে তারপর সমাজকে এবং এভাবে দেশটাকে বদলানোর চেষ্টা করি।
    a.babil@live.com

    Reply
  3. আহমেদ ফিরোজ

    প্রতিনিয়ত এদেশে যেসব অপ্রীতিকর ও ভয়ঙ্কর সব ঘটনা ঘটছে নির্যাতনমূলক ও উস্কানিমূলক– তা দেখে যে কোনো সচেতন মানুষেরই আৎকে ওঠার কথা। কিন্তু আমরা কি সবসময় আঁৎকে উঠতে পারছি, নাকি অন্যদের আঁৎকে উঠতে দেখছি। এর জন্য আমাদের কি বিচার হওয়া উচিত নয়? সারাবিশ্বেই প্রচলিত ধর্ম এবং সংবিধান তৈরি করেছে প্রধানত পুরুষ। সে কারণে বিশ্ব মানুষকে নিয়ন্ত্রণের এই দুই মাধ্যমে পুরুষতান্ত্রিকতার সৎগুণ এবং অসৎগুণ ঢুকে পড়েছে সহজেই। ফলে নারীদের আতঙ্কিত হওয়ার আরো বহু রকমের কারণ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে ধর্মকে যদি নতুন করে লেখা না যায়, তবে ধর্ম থেকেই মানুষকে মুক্ত হতে হবে। আর সংবিধান রচনায় অথবা রাষ্ট্র পরিচালনায় নারীর অংশগ্রহণ আরো বেশি পরিমাণে হওয়া দরকার। তার জন্য প্রথমেই নারীকে আরো বেশি শিক্ষিত ও মেধা প্রয়োগে সতর্ক হতে হবে। আর পুরুষতান্ত্রিকতার বেড়াজালে আবদ্ধ ধর্ম এবং সংবিধান প্রয়োগ ও পালনের ক্ষেত্রে নারীকে আরও বেশি সতর্ক ও কৌশলী হতে হবে। তাছাড়া পুরুষ-লোলুপতা ও কাম-আকাঙ্খা থেকে নারীকে মুক্ত হতে হলে প্রথমে পরিবার থেকে নারীকেই এগিয়ে আসতে হবে আগে। সম্পর্ক গঠনের ক্ষেত্রে আমাদেরকে (নারী-পুরুষকে) আরো বেশি সতর্ক হওয়া দরকার। সম্পর্ক গঠনের ক্ষেত্রে আমরা হরহামেশাই অর্থ-বিত্ত, চিত্ত ও বাহ্যিক সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দিয়ে থাকি। মনের সৌন্দর্য এখানে বহুলাংশেই পড়ে থাকে পশ্চাৎ কাতারে। ফলে লটারির মতো হয়ে পড়ে সম্পর্কগুলো। অসভ্যতা নারী-পুরুষ উভয়ের কাছ থেকেই আমাদের আকাঙ্খিত নয়। আবার পৃথিবীজুড়ে পুরুষেরাই তাদের ভোগ-লালসা পূরণে অসভ্যতা নানা প্রলোভন শিখিয়েছে নারীকে। কখনো ধর্ম দিয়ে, কখনো সংবিধান দিয়ে, কখনো-বা সম্পর্কের (ভালোবাসা বা প্রেমের) বাঁধনে। এখানে মূলত নারী-পুরুষ উভয়েই বন্দী। চিন্তার খোয়ারে বন্দী এসব নারী-পুরুষকে আগে মুক্ত হতে হবে। বিকাশমূলক শিক্ষা এবং চিন্তা জগতে। পরাজিত করতে হবে সকল অতিকে, যেমন অতি-আবেগ, অতি-ভালোবাসা, অতি-প্রেম, অতি-ভদ্রতা, অতি-ভক্তি ইত্যাদি। প্রেমের জন্ম ভয় এবং ভক্তি থেকে। এর ব্যাখ্যায় না-গিয়ে শুধু এটুকু বলছি, ব্যক্তির প্রতি ব্যক্তির শ্রদ্ধাবোধ যখন ভেঙে পড়ে, তখন যে কোনো সম্পর্কই ভেঙে পড়ে। সে ক্ষেত্রে ভেঙে-পড়া সম্পর্ক সম্বন্ধে উভয়কেই সতর্ক থাকতে হয়।
    জানি না কতটা আপনার সুন্দর যাত্রায় শরীক হতে পারলাম, তবে সময়-সুযোগ হলে আরো লিখবার ইচ্ছা রইলো। তারপরেও শেষ কথা, এরকম সকল নির্যাতন পুরুষজাতির জন্য যেমন কলঙ্ক, তেমনি মানুষ প্রজাতির জন্যও। আমরা চাই এসব অশুভ দিনের শেষ হোক, বারবার শুভদিন ফিরে আসুক। মাকসুদা, আপনার লেখা এবং হৃদয়গত উপলব্ধির জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা।
    ahmed_firoze@yahoo.com

    Reply
  4. মুনজির

    একপর্যায়ে রুমানা যদি তার প্রেমিকের জন্য সাইদকে মেরেই ফেলতো তাহলে এত আন্দোলন কেন খবরও পেতাম কিনা সন্দেহ! তবে আমরা প্রায় পেপারে দেখি এবং আমার কাছেও অনেক তথ্য আছে যে, অনেক মহিলা পরকীয়ায় পড়ে নিজের স্বামী সন্তানদেরকেও মেরে ফেলতে। ঐ সব ঘটনা নিয়ে কারো লিখালিখি বা আন্দোলন দেখি না। এটাই আফসোস!

    Reply
  5. bibek

    “দেশে প্রকাশ্যে চুমু, নারীদের বাধ্যতামূলক জীনস, টাইট গেন্জি পড়ার আইন করা হউক। আর পুরুষের বিবাহ পুরুষের সাথে, নারীদের বিবাহ নারীদের সাথে করা হউক”। -মনে হচ্ছে কথিত নারী বাদিরা কিছুদিন পর এই দাবি জানাতে রাস্তায় নামবে।

    Reply
  6. Imran Sami

    আমরা চাই, ঘটনার সুশ্ঠু তদন্ত এবং বিচার। আর রোমানার মত মেয়েদেরকে বলবো এত দীর্ঘ সময়ের সাংসারিক জীবন অতিবাহিত করার পরও যদি এ ধরনের নির্মম অত্যাচার সইতে হয় তাহলে বুঝতে হবে সেখানে পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখতে না পারার দায়ভার শুধুমাত্র পুরুষের উপর বর্তাবেনা । পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যাবস্থার দোহাই দিয়ে যদি আমরা নারীর অন্যায়কে আড়ালে রাখি এবং নারীর বৈসম্য দূর করার শ্লোগানে মাঠ গরম করে রাখি তাহলে কখনই রোমানার মত নির্যাতিতারা নিজেদের পারিবারিক কলহ দূর করতে পারবেনা।

    Reply
  7. Sreekanta

    যখন আমাদের সমাজে কোন অঘটন ঘটে ঠিক তখনই আমরা সবাই সজাগ হয়ে উঠি । আমাদের উচিত প্রত্যেকের ছেলে মেয়েকে ছোটবেলা থেকেই সৎশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলা। সমান অধিকার শব্দটির খুব বেশি অপব্যবহার হচ্ছে। আসলে এক সুত্র দিয়ে সব অঙ্ক করা যায় না। আমরা তাই করার চেষ্টা করছি। যে যার মত করে যুক্তি-তর্ক দিয়ে আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন। দোষী খুজেন আইনের ফাঁক, অপরদিকে ভোক্তভোগীরা যুদ্ধ করে যান ন্যায় বিচারে জন্য। আমি মনে করি আইনের ফাঁক ফোকর যাই থাক না কেন, বিচারক বিচার করবেন মানবিকতার দৃষ্টি থেকে। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অনেকেই লিখেছেন, সব দোষ সাঈদ সাহেবের একার নয়, রোমানা ম্যাডামেরও দোষ আছে। আমি বলব সব দোষ রোমানা ম্যাডামের হয়ে থাকলেও, চোখ উপরে ফেলার মত বা অঙ্গহানি ঘটানোর মত এমন বর্বরতা যারা করতে পারে এবং তাদের পক্ষে যারা কথা বলেন তারাই প্রকৃত দোষী। আমি হয়ত এই মুহুর্তে একটু ক্ষেপেই গেছি। যাক সব শেষে মানবতাবিরোধী কোন কাজ না করার জন্য এবং অন্যকে মানবতাবিরোধী কোন কাজ না করতে সহায়তা করার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি।

    Reply
  8. সাইদুস সাকলায়েন

    যে কোনো অত্যাচারী ও নিপীড়কের বিরুদ্ধে আমি… এবং আমরা। মানবতার ওপর যে কোনো নৃশংস ও পাশবিক আক্রমণের জন্য আমরা সবাই ঘৃণিত সাইদদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি… যেমন- এখন সবাই করছে। কিন্তু তারপরও অকারণে নারীবাদিতার চিৎকার শুনি কেন? কেন আমরা ভুলে যাই যে, ‘নারী’ বা ‘পুরুষ’ বিবেচিত হওয়ার আগে আমরা সবাই মূলত ‘মানুষ’।

    Reply
  9. hafiz

    আসলে সামাজিক অবক্ষয় ও ধর্মীয় মূল্যবোধের অভাব এবং স্বামীর বেকারত্বজনিত সমস্যার কারণে এমনটি ঘটছে বলে আমার মনে হয়। পাশ্চাত্যের ছোঁয়ায় আমাদের সমাজেও পাশ্চাত্যের মত ফ্যামিলী ব্রেকডাউন হচ্ছে যা কিন্তু আমাদের মুসলমানদের কোনভাবে কাম্য নয়। কারণ পাশ্চাত্যের সমাজপতিরাও এখন চাচ্ছে কীভাবে তাদের ফ্যামিলি ব্রেকডাউন রোধ করা যায় তার জন্য তারা ইসলামিক নীতিবোধকে প্রাধান্য দিচ্ছে ।
    রুমানা মঞ্জুরের উপর অমানবিক অত্যাচার কোন বিবেকবান মানুষ যেমন সহ্য করতে পারে না তেমনি আমাদের জানতে হবে কেন দেশের শ্রেষ্ঠবিদ্যাপিঠের একজন ছাত্র হয়েও এমন কাজ করতে অনুপ্রাণিত হলো। তবে কথা হল এক হাতে তালি বাজে না । এবং এটা একবাক্যে সবাই স্বীকার করবে যে এমনটি কখনই কাম্য নয় । সুতরাং ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সকলে যদি না বদলাই তাহলে আমাদের এ লেখালেখি সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছুই হবে না এবং এ রকম ঘটনা ঘটতেই থাকবে।

    Reply
  10. S. M. Hoque

    ছেলেরা মেয়েদের চেয়ে অনেকগুণ বেশি উদার। পুরুষরা মেয়েদের আগলে রাখে অথচ নিজ সংসারে পুরুষের কোন ভাইবোন, বাবা-মা থাকলে তাদেরকে মেয়েরা সহ্য করতে পারে না। অপরাধ করলে শাস্তি পেতে হবে। যাই করুক কিছু বললে নারী নির্যাতন হয়েছে এমন ভাবা ঠিক না। মাকসুদা সুলতানা নিজেও ইচ্ছেমত অনেক ছেলের সঙ্গে মিলতে পছন্দ করেন কিন্তু কোন স্বামী যদি কোন মেয়ের সঙ্গে সৌজন্য ব্যবহারও করে তা মানতে পারে না। পুরুষতান্তিকতা যদি গা জ্বালার কারণ হয়– তবে মহিলাতান্ত্রিকতা কেন চালু করছে না?

    Reply
  11. Bappy Chowdhury

    মাকসুদা সুলতানা, আমি আপনার সাথে মোটেও একমত নই। প্রকৃত সত্য জানার আগে আপনি সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। আমি চাই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হোক এবং সমাজের সবার সামনে তা তুলে ধরা হোক এবং তার বিচার হোক। সমাজে যে শুধু নারীরাই নির্যাতিত হচ্ছে তা নয় বরং বাংলার অনেক ঘরেই এখন পুরুষরাও প্রতারণার শিকার হচ্ছে। যার উদাহরণ হিসাবে বলতে চাই ক্রাইম ওয়াচে কিছুদিন আগে প্রচারিত এক মহিলার ১৬টি বিয়ে করে ১৬ জন পুরুষের সাথে প্রতারণা– এ রকম অসংখ্য প্রতারণা আর পরকীয়া প্রেম আমাদের সমাজে এখন নিত্য ঘটনা। কয়টা পুরুষ-প্রতারণার বিচার আজ পর্যন্ত হয়েছে বলতে পারেন? আপনি লেখক এবং গবেষক কিন্তু আপনার লেখায় বিচারবিহীন একতরফা সিদ্ধান্ত কি ঠিক? আমি নারী পুরুষে দ্বন্দে বিশ্বাসী নই কিন্তু আমি চাই সত্য বিচার হোক। অপরাধী যদি উভয়ই হয় তবে উভয়েরই শাস্তি হোক।

    Reply
  12. SHIBLY

    নারী মানেই নির্যাতনে শিকার– এর মানে হয় না। একটা দুটা বাজে উদাহরণকে ঘিরে যেভাবে পুরো পুরূষ জাতির বিরুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার হুমকি দিচ্ছে তাতে তারা নিজেদেরকেই বিভক্ত করছে। নারী পুরুষ উভয়েই উভয়ের জন্য। এমন খবর মাঝেমধ্যেই দেখা যায় যে নারী দ্বারা পুরূষ নির্যাতিত। তাই বলে কখনো পুরূষরা আন্দোলনে নামবে না।

    আমি কি বোঝাতে চাইছি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন আপনারা। আর কত বিভক্ত দরকার পৃথিবীর মানুষের? নারী খুবই সম্মানের তাই বলে পুরূষ অসম্মানের না। উদহরণ যা আছে তা সংশোধন করুন। সব ক্ষেত্রে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকদের মত মান সম্মানের ভয় করলে চলে না। সময় বদলাচ্ছে।

    সমাজ উন্নয়ন নিয়ে একটু গবেষণা করুন। বিভক্তি নিয়ে নয়।

    Reply
  13. কাইয়ুম এম আরাফাত

    যে দেশে নিম্নবিত্ত হাজার হাজার নারীদের বিভিন্ন অত্যাচারের বিচার হয় না, সে দেশে “সাইদ”
    সাহেবের বিচার হলে তার কি মান-সম্মান থাকবে!!!

    গ্রামের কলিমদ্দি ধর্ষন করে তাই কিছু হয় না। আর সাইদের বাপের তো অনেক টাকা, অনেক খ্যামতা!।
    তার আবার কী হবে?

    আমাদের দরদ যদি শুধু রুমানা মঞ্জুরের মতো লোকেদের জন্য হয়,তাহলেতো সাইদেরা বাঁচবেই।

    কাইয়ুম এম আরাফত
    ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়,কুষ্টিয়া।

    Reply
  14. Linkon

    যখন ছেলেরা নির্যাতিত হয় তখন মেয়েরা এর প্রতিবাদ করে না। কিন্তু মেয়েরা নির্যাতিত হলে ছেলেরা মেয়েদের পক্ষে দাঁড়ায়। অথ্যাৎ মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা অনেক বেশি নিরপেক্ষ এবং উদার। মেয়েদের জন্য আইন তৈরি হয় কিন্তু ছেলেদের জন্য আইন কোথায়।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রুমানার উপর নির্যাতন ও হত্যা চেষ্টার ঘটনা দুঃখজনক। কিন্তু কেন এমনটি ঘটলো্ তা আমাদের সমাজকে জানতে হবে। এটা থেকে আমাদের শিক্ষার অনেক কিছুই আছে বলে আমি মনে করি। ধন্যবাদ আপনার লিখার জন্য।

    Reply
  15. J.Mondol

    রুমানাকে নির্যাতন করা হয়েছে–তা আমি ব্যক্তিগতভাবে সমর্থন করিনা। তবে অবশ্যই এটা জানতে হবে যে বিচারের পূর্বে কোন ব্যক্তিকে দোষী সাব্স্ত্য করা উচিত নয়। রুমানার স্বামীকে এককভাবে দোষী করা যাবেনা।

    Reply
    • নয়ন দাস

      মি: জে মন্ডল, ধন্যবাদ।

      কোনো কারন ছাড়াই একজন শিক্ষিত লোক নিজের বউয়ের সাথে এরকম অমানুষিক নির্যাতন করবে এটি অস্বাভাবিক। আমাদের উচিত ঘটনার ভিতরের ঘটনা জেনে কথা বলা। আমি কারও পক্ষ নিচ্ছি না, অনেক নারীরাই স্বাধীনতা, আধুনিকতা, সম-অধিকারের নামে বেহায়াপনা,অসামাজিক কাজে জরিয়ে পরে।

      ধন্যবাদ সবাইকে, যারা নিরপেক্ষ কথা বলেছেন। আর দুঃখিত লেখক “মাকসুদা সুলতানা”র সাথে একমত হতে পারলাম না।

      Reply
  16. Delowar Hossain

    যাই বলুন, এই ধরণের বর্বরতা কোনভাবে মেনে নেয়া যায় না। আমি সাইদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করছি। ভালকে ভাল এবং খারাপকে খারাপ বলা উচিত।
    লেখক কে আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ।

    Reply
  17. গোলাম রব্বানী

    প্রথমেই লেখিকার প্রতি আহ্বান, একটি অন্যায় সব সময়ই অন্যায়। এর কোনো পুরুষতন্ত্র বা নারীতন্ত্র নেই। ভবিষ্যতে পুরুষতান্ত্রিকতার দোহাই দিয়ে একটি ঘটনার সহজ ব্যাখ্যা না দিতে অনুরোধ করবো। তাই বলে পুরুষতন্ত্র সমাজে নেই তা বলবো না।
    আপনি মিডিয়াকে দোষছেন কোনো যুক্তি ছাড়াই। এক্ষেত্রে নিপীড়কের বক্তব্য ছাপানো আপনার কাছে অন্যায় মনে হয়েছে। কিন্তু প্রত্যেক অন্যায়কারীরই আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকা দরকার।
    আমার বক্তব্য হলো- কোনো অবস্থাতেই অন্যায়কে সমর্থন করা যায় না। হাসান সাইদের অন্যায়ও কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। রুমানার ব্যক্তি জীবনে কোনো ভুল থাকতে পারে। কিন্তু সে জন্য তাকে এভাবে নির্যাতনের সুযোগ সাইদের নেই। তারা ডিভোর্সে যেতে পারতো। এর আইনগত ও সামাজিক ভিত্তি আছে। এক্ষেত্রে রুমানার আরো সচেতন হওয়া উচিত ছিলো। তবে অবশ্যই নিপীড়কের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

    Reply
  18. রণি শিকদার

    প্রিয় লেখক,
    আপনার লেখার গাঁথুনি চমৎকার,সহজ, বোধগম্য, সুশৃঙ্খল এবং সুগঠিত। আপনার এই সুশৃঙ্খল লেখার জন্য ধন্যবাদ। আপনার লেখার শেষ অংশে অনুরোধ করেছেন, নির্যাতিতা নারীর পাশে দাঁড়াতে কখনোই তার চারিত্রিক গুণ বা দোষ, “ভাল মেয়ে” কি “মন্দ মেয়ে” বিষয়টি বড় হয়ে দাঁড়াতে পারে না। নারী যখন অত্যাচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তখন অনেক সামাজিক বাঁধাই তাকে প্রতিহত করে। আমাদের উচিৎ এই বাঁধাগুলো সড়িয়ে ফেলা। কিন্তু একজন স্ত্রী যদি তার স্বামীর বেকারত্বের ও অসহায়ত্বের হতাশাগ্রস্থ জীবনের সুযোগ নিয়ে আর একজন পুরুষের সাথে গভীর বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হন, তখন স্বাভাবিকভাবেই ওই স্বামীর মনে বিভিন্ন ধরনের ক্ষোভের জন্ম নেবে। সেই ছোট ছোট পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই সৃষ্টি হয় আগ্নেয়গিরির লাভা। তাতে হয়তো পুড়ে যায় একটি পরিবার।
    জীবনের সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে প্রতিটি মানুষের মনেই বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। স্বামী বা স্ত্রী যেই হোক না কেনো, যে কারো ক্যারিয়ারে ব্যর্থতা থাকতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যর্থ ব্যক্তিটিকে সফল ব্যক্তিটির আস্থায় রাখতে হবে। তাহলে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু ব্যর্থ ব্যক্তিটিকে যদি সারাদিন অবজ্ঞা এবং অবহেলায় রাখা হয় তাহলে ব্যর্থ ব্যক্তিটির মনে নানা প্রশ্নের জন্ম হবে এটাই স্বাভাবিক।
    দেখুন আমাদের দেশের পরিবারগুলোতে কতজন নারী সফল ক্যারিয়ার গড়তে পেরেছেন? ক’জন স্বামী তার স্ত্রীর উপর নির্ভরশীল? বিবাহ বন্ধনের পর মৃত্যু পর্যন্ত একজন পুরুস কেনো একজন নারীর সব দায়িত্ব নিবেন? এটা কি পুরুষের উপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে না? তারপরও পুরুষরা সংসারের ঘানি টেনে যাচ্ছেন। কিন্তু যেসব পরিবার স্ত্রীর আয়ে চলে সেখানেই বিপত্তি বাধে। তা কেন?

    Reply
    • shakil

      “বিবাহ বন্ধনের পর মৃত্যু পর্যন্ত একজন পুরুস কেনো একজন নারীর সব দায়িত্ব নিবেন?” আমাদের বিবাহের মুসলিম কাবিননামা এই দায়িত্ব পুরুষের উপর চাপিয়ে দিযেছে।

      কিন্তু অবাক ব্যাপার, নারীরা সম অধিকার দাবি করে সব জায়গায় এমনকি মুসলিম ইনহেরিটেন্স আইন পরিবর্তন করে সম্পত্তির সমান অংশের জন্যও সংগ্রাম করছেন। কিন্তু একজন নারীও কাবিননামায় বিবাহ আইনের পরিবর্তন চান না। এটা কি নারীর জন্য অবমাননাকর নয? আপনি সম অধিকার সুবিধা মত চাইবেন তা তো হবেনা।

      এই একবিংশ শতাবদিতে এসে নারী পুরুষের সমঅধিকার আমরাও চাই। পুরুষ হিসাবে মুসলিম বিবাহ আইনের কাবিননামার “বিবাহ বন্ধনের পর মৃত্যু পর্যন্ত একজন পুরুষ কেনো একজন স্ত্রীর সব দায়িত্ব নিবেন” চাপিয়ে দেয়া আইনের বাতিল চাই।

      Reply
  19. baishakh

    সাইদ পড়েছে গ্যারাকলে, আমার কাছে মনে হয়েছে, রুমানা অনেক কিছুই লুকিয়েছে, সে বলেছে তার হাজব্যান্ড বাইরে থেকে এসেই কথা নাই বার্তা নাই নিযার্তন করা শুরু করেছে, এটা বাস্তবসম্মত নয়। নিশ্চয় সাইদ বাসায় এসে এমন কিছু দেখেছে যা সহ্য করার মত ছিল না। চ্যাট-এ কী হয়, তা হয়ত এখনও অনেকে জানেন না, আজকাল চ্যাট করার সময় খেয়াল করে দেখবেন অনেকে ফোন সেক্স করে থাকে, আমি বলছি না রুমানা তাই করতে ছিল, তবে বলা যায় নিশ্চই এমন কিছুই সে করছিল, যা সাইদ দেখে ফেলে। আর অনেক কিছুই বলা যায়, যা লিখে প্রকাশ করা যাচ্ছে না, তবে যাই হোক এইসব ঘটনার বিচার হওয়া উচিত আর মহিলাদেরও কিছুটা সংযত হওয়া উচিত, সহজ পন্থা হলো মেয়েদের যদি ষ্টার প্লাস চ্যানেল দেখা বন্ধ করে দেওয়া যায়, তাহলে এই সমাজের অবক্ষয় অনেকটা রোধ হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

    Reply
    • Rifat Rahman Shakil

      আপনি চ্যাট সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন সেটাতে কি আপনি নিজে অভ্যস্ত??? আমি ধরেই নিলাম রুমানা সেটা করছিল এ জন্য সে তার চোখ তুলে নেবে?? আপনাদের মানসিকতার জন্য পুরো পুরুষজাতিকে খারাপভাবে দেখা হচ্ছে। মনকে সুন্দর করুন। সুন্দর চিন্তা করুন।

      Reply
      • নয়ন দাস

        Mr. Rifat Rahman Shakil সেরকম করলে কি আপনি আপনার বউকে আপনি চুমু খেতেন?

        [আমি ধরেই নিলাম রুমানা সেটা করছিল – Mr. Rifat Rahman Shaki]

  20. Abdul Baset

    মাকসুদা সুলতানা আপনাকে ধন্যবাদ, এ বর্বরতাকে আমি অত্যন্ত ঘৃনা করি। কিন্তু এখানে দুজনেরই ব্যর্থতা সমান,একে অন্যকে ম্যনেজ করে চলা উচিত ছিল। বাইরে থেকে অনেক মন্তব্য করা যায় কিন্তু ভিতরে অনেক কিছূ হয়তঃ বিন্দু বিন্দু করে… । সমাধান একমাত্র পরিপূর্ণ ইসলামেই পাওয়া যাবে অন্য কোথাও নয়। তাই আসুন আমারা সকলে আমাদের ঘরকে ইসলাম দ্বারা সাজাই।

    Reply
  21. Abdul Alim

    মনে রাখতে হবে মুসলমানকে পারিবারিক জীবন দিয়েছে ইসলাম। পারিবারিক জীবনে কেউ নির্যাতিত হলে তা প্রতিহত করার পদ্ধতিও ইসলাম বাতলে দিয়েছে। নির্যাতিত বা নির্যাতিতার উচিত, সেই পথেই প্রতিকার অনুসন্ধান করা। আজকাল নারী নির্যাতন রোধে নারীকে উগ্র পথ অবলম্বন করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে নারীনির্যাতন। এভাবে দিন এগোতে থাকলে কিছুদিন পর নারীপুরুষ হয়তো মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়াবে। যা আমাদের আরও বিপর্যয় ডেকে আনবে। কীভাবে আমাদের পারিবারিক জীবনে সমন্বয় আনা যায়, সেকথা আমাদের অগ্রাধিকার দিয়ে ভাবতে হবে। আমরা ইসলাম না জানার কারণে মনে করে থাকি, আমাদের বিরাজমান সমস্যার সমাধান হয়তো ইসলামে নেই। অথচ সব সমস্যারই অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত সমাধান রয়েছে ইসলামে।সাইদ যদি অনিচ্ছায় রুমানার চোখ নষ্ট থাকে, তা হলে রুমানা প্রতি চোখের বিনিময়ে ৫০টি উট বা ৫০০ স্বর্ণমুদ্রা অথবা ৫০০০ দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা)ইসলামি বিচার অনুসারে প্রাপ্ত হবেন। কিন্তু আমাদের দেশের বিচার অনুযায়ী সাইদের জেল অথবা রিমান্ড দেখেই হয়তো সন্তুষ্ট থাকতে হবে রুমানার পরিবারকে। অথবা তদন্তের আড়ালে হারিয়ে যাবে এই বিচার।

    Reply
    • Eti

      সাইদ যদি প্রথমেই তার দোষ স্বীকার করে বলত যে সে ভুল করে রুমানার উপর আক্রমন করেছে, তাহলে ইসলামী বিচার প্রয়োগের কথা আসতো। কিন্তু সে প্রথমেই মিথ্যে বলে ইসলামি আইন লঙ্ঘন করেছে। সে রোমানাকে হত্যা করতে চেয়েছে। কোন মানুষ সে স্বামী-স্ত্রী বা অন্য যে কোন শত্রু হোক না কেন, প্রতিপক্ষের মূখমণ্ডলে আঘাত করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে না জেনে ৫০ টি উট বা ৫০০ স্বর্নমুদ্রার বিধান দিয়ে আপনি ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা করেছেন, অন্ধত্বের মূল্য কিছু দিয়েই পূরণ সম্ভব নয়। ইসলামের দোহাই দিয়ে আপনি একজন চোরের হাত কেটে দিতে পারেন না, যতক্ষন না যাকাতের বিধান পরিপূর্ণভাবে কার্যকর করবেন। আমি বলতে চাই সাইদের ক্ষেত্রে ইসলামী শাস্তির ব্যবস্থার কথা বলা আপনার মোটেই ঠিক হয়নি, এতে ইসলামের প্রতি অন্যান্য ধর্মালম্বীদের ভুল ধারণার সৃষ্টি হতে পারে।

      Reply
    • রওশন জাহান মিষ্টি

      ৫০টি উট, ৫০০ স্বনমুদ্রা বা ৫০০০ রৌপমুদ্রাই কি যথেষ্ট প্রতি চোখের ক্ষতিপূরণ হিসাবে?

      Reply
      • Lima Khan

        তাহলে রিমান্ড, জেল অথবা ফাঁসি নিয়ে খুশি থাকেন।

  22. Eti

    আমার মতামত কিছুটা সাইদের পক্ষে যেতে পারে। তবে সত্য হচ্ছে এই যে, যখন সাঈদের মতো অপরাধী কোন অপরাধ সংঘটন করে, তখন অপরাধীর শাস্তির ভয় মাথায় থাকে না। মৃত্যুদণ্ড ? যাবৎ জীবন ? ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ? সে হিসাব পরে করতে বসেন। একজন সুস্থ্য মানুষ কখনও স্ত্রীর মৃত্যু, সন্তানের বিপন্ন জীবন চাইতে পারে না। আমার হিসেবে সাইদের ৬ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তার মৃত্যুদণ্ড হলেই কি আমরা তৃপ্তির ঢ়েকুর তুলবো ? অপরাধীর কঠোর শাস্তি হোক অবশ্যই চাই। কিন্তু পারিবারিক বিশেষত স্বামী-স্ত্রী বিরোধের যে বিষবাষ্প সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে তা দূর করার পথ আমাদের খুঁজতে হবে। নইলে প্রতি বছর, প্রতি মাস, প্রতিদিন একজন করে সাইদের আবির্ভাব ঘটবে এবং আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করতেই থাকব, রুমানাও নির্যাতিত হতেই থাকবে। এ যেন অন্তহীন পথচলা………………..।

    আসুন, সমাজের পুরোনো ধ্যান-ধারণাকে ছুঁড়ে না ফেলে যেটুকু ভালো তা গ্রহণ করি। পারিবারিক-সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করি। পরস্পরকে শ্রদ্ধা করি।

    Reply
  23. hoq

    রুমানা স্বীকার করেছে যে ওর ইরানি বন্ধু ছিলো এবং এক সংগে স্কেটিং করত প্রতিদিন সকালে কানাডা থাকতে। ও স্বামীকে তালাক দিতে চেয়েছিলো। আমি সাইদকে সাপোর্ট করতে পারি না তাই বলে উচ্চশিক্ষার নামে মেয়েদের বেহায়াপনা সহ্য করতে পারি না।

    Reply
    • Hossain

      মানুষ হয়ে যতদিন অন্য প্রজাতির মত স্বাধীনতা চাইতে থাকবে ততদিন সমাজে এমন ঘটণা ঘটতেই থাকবে।

      Reply
    • Lima Khan

      এতো শুধু বেহয়াপনা না সমাজকে কলুষিত করার কারখানা। বেকার স্বামীর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে যা ইচ্ছে তাই না করে স্বামীকে ভাল চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারতো। অথবা স্বামীকে ছেড়ে দিয়ে নতুন জীবন শুরু করতে পারতো। রিমান্ড, জেল অথবা ফাসি এই হল বাংলাদেশের পেনাল কোডের শাস্তির ব্যবস্থা।

      Reply
  24. shakil

    যতদিন নারীতান্ত্রিক মানসিকতায় গনহাড়ে সকল পুরুষদের চরিত্র হনন হবে, নারী কানাদের গনপুরুষ-বিরোধী গল্প যতদিন উৎসুক সমাজের কিছু মানুষের কাছ থেকে সহানুভুতি পাবে, ততদিন এ ধরনের সামাজিক অনাচার থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন হবে।

    Reply
  25. Mohiuddin Kader

    মাকসুদা সুলতানা, আমি আপনার সাথে একমত। আপনাকে ধন্যবাদ।

    Reply
    • Sanjib

      আমাদের সমাজ এখন সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে যাওয়া একটি সমাজে পরিণত হয়েছে। এ সমাজ ভেঙে নতুন সমাজ গঠন করা ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই। সমাজের এই অবস্থার জন্য দায়ী ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর। যে উদ্দেশ্য নিয়ে ‘৭১ এর ১৪ই ডিসেম্বর সৃষ্টি করা হয়েছিল আমার দৃষ্টিতে তা শতভাগ সফল। এই অবস্থার পরিবর্তন আনতে পারে শুধুমাত্র তরুণরা। তরুণরা যখন আত্মপরিচয়ের সন্ধান করবে তখনই হয়তো ধুলো-ময়লার আস্তরনের নিচ থেকে আমাদের হারানো গৌরব,সম্মান,পরিচয়,মূল্যবোধ..সবকিছু যা শুধুই আমাদের তা বেরিয়ে আসবে। সেই দিনের অপেক্ষায় আছি..

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—