Feature Img

Sirajul Hossainমানুষ গল্প শুনতে ভালোবাসে। এটা বিবর্তনগত উন্নয়নে সহায়ক। গল্পের মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে জীবনের অভিজ্ঞতা তথা মূল্যবোধের সঞ্চালন ঘটে। এককালে মানুষ মুখে গল্প বলত, আর এখন বলে সিনেমার মাধ্যমে। তবে গল্প ছাড়াও সিনেমায় আরও কিছু থাকতে পারে। থাকতে পারে দর্শককে মোহিত করার মতো দৃশ্য; তাকে আবেগমথিত করা চরিত্র অথবা চমৎকার অভিনয়; অভিভূত করা এডিটিং; ক্যামেরার অসাধারণ কাজ; মনোমুগ্ধকর স্পেশাল ইফেক্ট। আর সিনেমায় গল্প যেহেতু দৃশ্যরূপে উপস্থাপিত, তাই গল্পের মাধ্যমে স্বপ্ন দেখানো সেখানে খুব সম্ভব, যদিও তার থাকতে পারে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক-দার্শনিক উদ্দেশ্য।

স্ট্যানলি কুবরিকের ১৯৬৮ সালের ছবি ‘২০০১: আ স্পেস অডিসি’ নিয়ে বলতে গেলে সিনেমার উৎকর্ষতার এমন বহু কিছু উল্লেখ করার আছে। গত প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে শৈল্পিক ও কারিগরি দিক দিয়ে একটি অসাধারণ চলচ্চিত্র হিসেবে এটি বিবেচিত হয়ে আসছে। চলচ্চিত্রকারদের জন্যও এটি একটি শিক্ষণীয় চলচ্চিত্র হিসেবে গণ্য। এর ড্রামা, সিনেম্যাটিক কনসেপ্ট ও স্পেশাল ইফেক্ট অসাধারণ। চাঁদে মানুষের অবতরণ যখন নিকট ভবিষ্যতের বাস্তবতা, তখন সেই দৃশ্য বাস্তবসম্মতভাবে ফুটিয়ে তোলা সহজ কথা নয়। মনে রাখতে হবে, মানুষ চাঁদে পা রাখার আগেই ছবিটি মুক্তি পেয়েছে।

প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে শৈল্পিক ও কারিগরি দিক দিয়ে একটি অসাধারণ চলচ্চিত্র হিসেবে এটি বিবেচিত হয়ে আসছে
প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে শৈল্পিক ও কারিগরি দিক দিয়ে একটি অসাধারণ চলচ্চিত্র হিসেবে এটি বিবেচিত হয়ে আসছে

সাদা চোখে এটি সাই-ফাই দর্শকদের জন্য চমৎকার একটি সিনেমা। আবার কেউ যদি এই ছবির কাহিনির সুপ্ত অর্থ বোঝেন তাহলে ছবিটি হঠকারী। এটি একটি ঝাঁ চকচকে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে ধর্মীয় দর্শনের প্রচার। পরিচালক স্ট্যানলি কুবরিক নিজেই বলেছেন:

On the deepest psychological level the film’s plot (2001: A Space Odyssey) symbolizes the search for God,

— ‘রোলিং স্টোন’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া ইন্টারভিউ

‘প্লেবয়’ ম্যাগাজিনকেও তিনি বলেছেন:

I will say that the God concept is at the heart of 2001.

https://en.wikipedia.org/wiki/Interpretations_of_2001:_A_Space_Odyssey

[রেফারেন্স ৯ ও ১০এ পাওয়া যাবে সাক্ষাৎকার দুটির উল্লিখিত অংশ]

কোন লক্ষ্য থেকে এমন একটা ছবি তৈরি করলেন স্ট্যানলি কুবরিক? জবাব হচ্ছে, সন্ত্রস্ত মানসিকতার সমর রাজনীতির দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন তারা। ষাটের দশকে ভিয়েতনামে কোনঠাসা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল কমিউনিস্ট আগ্রাসনের ভয়ে ভীত। দূরদেশে লুটপাট করা পুঁজিবাদী সাম্রাজ্যগুলো দখল হয়ে যাচ্ছে স্বঘোষিত নাস্তিক সমাজতন্ত্রীদের দ্বারা। ঐ সময় তারা ভাবতেন, একমাত্র ধর্মই বুঝি এই ‘বিপর্যয়’ ঠেকানোর ভালো অস্ত্র।

কোন লক্ষ্য থেকে এমন একটা ছবি তৈরি করলেন পরিচালক স্ট্যানলি কুবরিক
কোন লক্ষ্য থেকে এমন একটা ছবি তৈরি করলেন পরিচালক স্ট্যানলি কুবরিক

ওদিকে, ১৯৬২ সালের অক্টোবরের ‘কিউবান মিসাইল ক্রাইসিস’ আমেরিকাকে নিজের দেশে পারমাণবিক আক্রমণের ভয়ে ভীত করে তোলে। সামরিক দিক দিয়ে নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে মিসাইল ডিফেন্সে অনেক বাজেট খরচ করতে হচ্ছে তখন তাদের। এই বাজেট যুক্তিসঙ্গত করতে মহাকাশ গবেষণা ও চাঁদ থেকে গ্রহ-গ্রহান্তরে গমন মানব জাতির জন্য অতীব জরুরি এবং নিকট ভবিষ্যতেই সম্ভব বলে সমাজে এক ধারণা তৈরির প্রয়াস শুরু হয় যাতে মানুষ ঐ স্বপ্নে বিভোর থাকে ও খরচাপাতি নিয়ে প্রশ্ন না করে।

পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে আমেরিকা যুদ্ধের জন্য ধর্মকে সব সময় ব্যবহার করেছে। জর্জ বুশ ইরাক আক্রমণের আগে বলেছিলেন, তিনি নাকি স্বপ্নে দেখেছেন ঈশ্বর তাকে ইরাক আক্রমণ করতে বলেছেন:

President Bush said to all of us: ‘I am driven with a mission from God’. God would tell me, ‘George go and fight these terrorists in Afghanistan’. And I did. And then God would tell me ‘George, go and end the tyranny in Iraq’. And I did.

[দ্য গার্ডিয়ান; অক্টোবর ৭, ২০০৫]

http://www.theguardian.com/world/2005/oct/07/iraq.usa

যুগে যুগে ধর্মকে ব্যবহার করে যুদ্ধ করতে গিয়ে শাসকেরা ঘোষণা করেছেন তারাই শত্রু দমনের জন্য নির্বাচিত ব্যক্তি– দ্য চোজেন ওয়ান। ‘২০০১: আ স্পেস অডিসি’ তেমনই এত তত্ত্বের প্রচারক। ঠাণ্ডা যুদ্ধকালে এই চলচ্চিত্র দার্শনিকভাবে তরুণ প্রযুক্তিপ্রেমী প্রজন্মের কাছে যে বক্তব্য রাখে তা হল, মহাবিশ্বের কোনো উন্নত মহাপ্রাণের সঙ্গে তাদেরই যোগাযোগ হয়েছে– তারাই সেই ‘চুজেন ওয়ান’।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সেই পিউরিটান এলিটিস্ট আদর্শবাদ– আবেগ ও রাজনীতি মন্দ, মানুষ অসৎ আর প্রযুক্তিই ভালো। যে সব মানুষ কম্পিউটারের মতো, তারা শুদ্ধ। আমরা শুদ্ধ; কারণ আমরা মহাশক্তিধর সত্তার আশীর্বাদপুষ্ট। এটাই এলিটিজম।

প্রায় নির্বাক এই চলচ্চিত্রের কাহিনি বোঝা অবশ্য অত সহজ নয়। যারা মহাকাশ বিজ্ঞান, জীব-বিবর্তন, সাইবারনেটিক্স (বুদ্ধিমান কম্পিউটার) আর জীবনের দার্শনিক দিকগুলো নিয়ে ছোটখাট চর্চা করেন না তাদের কাছে এই ছবি অতি ধীর ও বিরক্তিকর মনে হতে পারে। তবে কাহিনি বুঝতে পারলে প্রায় নির্বাক ও আ্যাবস্ট্রাক্ট এই ছবি যেন দৃশ্যমান কবিতা।

জর্জ বুশ ইরাক আক্রমণের আগে বলেছিলেন, তিনি নাকি স্বপ্নে দেখেছেন ঈশ্বর তাকে ইরাক আক্রমণ করতে বলেছেন
জর্জ বুশ ইরাক আক্রমণের আগে বলেছিলেন, তিনি নাকি স্বপ্নে দেখেছেন ঈশ্বর তাকে ইরাক আক্রমণ করতে বলেছেন

ছবিটি কয়েক পর্বে ভাগ করা। ‘দ্য ডন অব মুন’ নামের প্রথম পর্বে দেখা যাচ্ছে, খরাময় পাথুরে অঞ্চলে দুদল হোমিনিড (মানব প্রজাতির প্রাইমেট) একটা ছোট জলাশয়ের দখল নিয়ে মারমুখী অবস্থানে। সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় তারা হিংস্র শিকারি প্রাণির ভয়ে সেদিনের মতো যুদ্ধবিরতি দিয়ে গুহায় ফিরে যায়। ভোরের আলো ফুটতে থাকলে বাইরে বেরিয়ে একটা দল তাদের গুহার সামনের মাটিতে স্থাপিত মসৃণ নিকষ কালো অদ্ভুত আয়তাকার একটি বস্তু দেখতে পায়। যাকে বলা হয়েছে, ‘মনোলিথ’– টিএমএ-জিরো (টাইকো ম্যাগনেটিক অ্যানোমেলি)। উৎসাহী কেউ কেউ সেটা স্পর্শও করে দেখে।

আজব দেখতে কোনো বুদ্ধিমান সত্তা-নির্মিত বস্তুটি যারা স্পর্শ করল তারা মৃত প্রাণির লম্বা হাড়গুলো লাঠির মতো করে ধরার কৌশল আয়ত্ত করে ফেলল। এরপর নিরস্ত্র বিবাদী দলকে (যারা মনোলিথ ছোঁয়নি) তারা সেই হাড় দিয়ে পিটিয়ে দ্রুত পরাজিত করে। অর্থাৎ কোনো দূর মহাশূন্যের বুদ্ধিমান সত্তার কৃপায় অস্ত্রের ব্যবহার শিখল প্রাইমেটরা।

এখানেই সেই বিখ্যাত সিনেমাটিক শট। জেতার পর ঐ দলের নেতা হাড়টা আকাশের দিকে ছুঁড়ে দেয়। সেটা ঘুরতে ঘুরতে ওপরে ওঠে যায়। তখনই কাট শটে দেখা যায় মহাশূন্যে একইভাবে ঘুরছে ডাম্বেল আকৃতির একটি স্পেস স্টেশন। প্রি-হোমোস্যাপিয়েন যুগ থেকে আমরা চলে যাই এক লাফে ২০০১ সালে।

দ্বিতীয় পর্ব ‘টিএমএ-ওয়ান’এর কাহিনি চাঁদে। চাঁদের পিঠে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে রয়েছে সোভিয়েত ও মার্কিনিদের বেস স্টেশন। কিছু একটা লুকোছাপা চলছে দুদেশে। গুজব রটেছে, মহামারী দেখা দিয়েছে আমেরিকান বেসে, তাই সেটা এখন বিচ্ছিন্ন। আসলে আমেরিকান বেসে আবার দেখা গিয়েছে ‘মনোলিথ’। সেটা তারা গোপন রাখতে চায় সোভিয়েতদের কাছ থেকে। চন্দ্রপৃষ্ঠে খননকাজ করতে গিয়ে সেটা পাওয়া যায় এক রাতে। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ‘মনোলিথ’ থেকে রেডিও সংকেত ছুটে যায় বৃহস্পতির দিকে।

এখানেই সেই বিখ্যাত সিনেমাটিক শট, জেতার পর ঐ দলের নেতা হাড়টা আকাশের দিকে ছুঁড়ে দেয়
এখানেই সেই বিখ্যাত সিনেমাটিক শট, জেতার পর ঐ দলের নেতা হাড়টা আকাশের দিকে ছুঁড়ে দেয়

তৃতীয় পর্ব ‘জুপিটার মিশন’এ দেখা যায়, আঠার মাস পর মহাকাশযান ডিসকভারি ছুটে চলেছে বৃহস্পতির দিকে। ছয় মহাকাশচারীর তিনজন ক্রায়োজেনিক নিদ্রায়, দুজন ভ্রমণরত। শেষের জন সদাজাগ্রত মিশনের সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণকারী। আসলে সে মানববুদ্ধি অনুকরণকারী, অত্যাধুনিক কথা-বলিয়ে কম্পিউটার যার নাম ‘হ্যাল- ৯০০০’। যদিও সে কিছুটা আবেগও প্রদর্শন করে মাঝে মধ্যে, তবে সেটা আসল কিনা তা নিয়ে কেউ নিশ্চিত নয়।

মিশন চলছিল রুটিনমাফিক। হঠাৎ ‘হ্যাল’ মিশন ক্রু ‘ডেভ বো-ম্যান’কে বলে যে, মিশনটা সন্দেহজনক, সে এ বিষয়ে বিশেষ কিছু জানে কিনা। ‘বো-ম্যান’ অবাক হয়। ‘হ্যাল’ বলে, অতিমাত্রায় নিরাপত্তা, বাকি ক্রুদের মিশন শুরুর আগে থেকেই ঘুমপাড়ানো এসব দেখে তার সন্দেহ হয়েছে। সে রিপোর্ট করে, বাইরে প্রধান আ্যান্টেনার একটা যন্ত্র নষ্ট হয়ে যাবে বলে তথ্য মিলছে, সেটা মেরামতের জন্য মহাকাশযানের বাইরে কাজ করতে হবে। তারা ইভিএ করে সেটা খুলে নিয়ে আসার পর ‘হ্যাল’ বলে, সেটা ঠিকই আছে।

পৃথিবীতে থাকা মিশন কন্ট্রোলের কাছে এমনটা ঘটার কারণ জানতে চায় অন্য ক্রুরা। কন্ট্রোল বলে, তাদের কাছে ‘হ্যাল’এর যে জমজ ইউনিট রয়েছে তাকে দিয়ে পরীক্ষা করানোর পর দেখা গেছে যে, ডিসকভারির ‘হ্যাল’ ত্রুটিপূর্ণ কাজ করেছে। গোপন আলাপে দুজন মহাকাশচারী সিদ্ধান্ত নেয় ‘হ্যাল’এর নিয়ন্ত্রণক্ষমতা কমিয়ে দেবার। কিন্তু ‘হ্যাল’ তাদের লিপ রিডিং করে সেটা বুঝে ফেলে।

মিশন ক্রু ‘পুল’ আবার ইভিএ করতে যায় প্রধান আ্যান্টেনার ঐ যন্ত্র পুনঃস্থাপন করতে। ‘বো-ম্যান’ দেখে, সংযোগ-রজ্জু ছিঁড়ে ‘পুল’ মহশূন্যে হরিয়ে যাচ্ছে। তখনও সে বুঝতে পারেনি যে, ‘হ্যাল’ এই অপকর্ম করেছে। ‘পুল’কে বাঁচাতে ‘বো-ম্যান’ দ্রুত পড (ছোট যান) নিয়ে বের হয়ে যায়। গিয়ে দেখে, ‘পুল’এর আক্সিজেন টিউবও কাটা। ‘বো-ম্যান’ বুঝতে পারে, এটা দুর্ঘটনা নয়। ফিরতে গিয়ে সে দেখে, ‘হ্যাল’ পড বে ডোর (ডিসকভারিতে ঢোকার দরজা) আটকে দিয়েছে। বাকি তিন ঘুমিয়ে থাকা ক্রুকেও দ্রুত মেরে ফেলেছে। তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জরুরি দরজা দিয়ে ডিসকভারিতে ঢোকে ‘বো-ম্যান’। প্রথমেই ‘হ্যাল’কে অকার্যকর করে সে। ‘হ্যাল’ শাট-ডাউন হলে চালু হয় এক গোপন ভিডিও বার্তা। যাতে জুপিটার মিশনের আসল উদ্দেশ্য পঠিত হয়। চার মিলিয়ন বছরের পুরনো চাঁদে পাওয়া ‘মনোলিথ’ ওপরে বৃহস্পতির দিকে রেডিও বিকিরণ করছে, সে কথাও জানা যায়।

চতুর্থ পর্ব ‘জুপিটার অ্যান্ড বিয়ন্ড দ্য ইনফিনিট’। একাই বৃহস্পতির কক্ষপথে পৌঁছায় ‘বো-ম্যান’। সেখানে সে দেখা পায় আরেকটি বিশাল মনোলিথের। সেটির কাছে যাওয়া মাত্রই রঙিন আলোর ঝলকানির এক ঘূর্ণির মধ্যে নিমজ্জিত হয় সে। শুরু হয় সৃষ্টিকর্তা সত্তার সঙ্গে তার মিলিত হবার যাত্রা।

চার মিলিয়ন বছরের পুরনো চাঁদে পাওয়া ‘মনোলিথ’ রেডিও বিকিরণ করছে
চার মিলিয়ন বছরের পুরনো চাঁদে পাওয়া ‘মনোলিথ’ রেডিও বিকিরণ করছে

তাহলে ছবিটির সারমর্ম কী? সেটি হল, দূর আসমানের কোনো অতিবুদ্ধিমান সত্তার ছোঁয়ায় আমরা বুদ্ধিমত্তা লাভ করে মানুষ হয়েছি (টিএমএ-জিরো)। মহাশূন্য-ভ্রমণ শেখার পর তারা (টিএমএ-ওয়ান) আমাদের বলেছে বৃহস্পতির দিকে যাত্রা করতে। কিন্তু মানুষের আবেগ ও গোপন রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপ ‘বিশুদ্ধ’ কম্পিউটারকে বিভ্রান্ত করে তাকে বিপথে চালিত করেছে। অতিবুদ্ধিমান সত্তা যাদের নির্বাচিত করেছে তারাই ‘দ্য চোজেন ওয়ান’। আর এভাবেই মানুষের লক্ষ বছরের আবেগ, ভালোবাসা, রাজনীতি ও যুদ্ধে বহু ত্যাগ ও আদর্শে পশু থেকে মানবিকতায় উত্তরণের সংগ্রামের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে এই চলচ্চিত্রে।

খ্যাতনামা মিথতত্ত্ববিদ জোসেফ ক্যম্পবেল বলেছেন, প্রাকৃতিক বা আদি ধর্মগুলোর চেয়ে আসমানের ধর্মগুলোর ক্ষতিকর দিক এই যে, সেগুলো প্রকৃতি থেকে মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। প্রকৃতি-ধর্মে যেখানে ভালো-মন্দ সকল বস্তু ও প্রাণির মধ্যে ঈশ্বর বিদ্যমান, তাই সব কিছুই পূজনীয় এই ধারণা দেয় এবং তাতে সারা পৃথিবী একীভূত সত্তায় পরিণত হয়, আসমানি ধর্ম তার বিপরীত। সেখানে মানুষ সব কিছু থেকে আলাদা, উন্নত; কারণ ঈশ্বরের ছোঁয়ায় তার সৃষ্টি। এমনকি মানুষের আবেগ, ভালোবাসা, রাজনীতি এ সবই পথভ্রষ্টকারী। মানুষের পরম লক্ষ্য ঈশ্বরের সঙ্গে মিলিত হওয়া, সাত আসমানের উপরে।

স্বয়ং বিজ্ঞানের খোলসে এমন প্রকৃতিবিরোধী ও অবৈজ্ঞানিক দর্শনের প্রচার সত্যি এক অসাধারণ ফাঁকিবাজি। এ যেন মধ্যযুগের কোনো যুদ্ধবাজ রাজাকে ধর্মগুরুর আশীর্বাদের রূপকথা শোনানো হচ্ছে– ‘যাও, ওগিয়ে যাও, শত্রু খতম কর, তুমিই ‘দ্য চোজেন ওয়ান’। সমাজতন্ত্রের প্রসারের ভয়ে ভীত এবং মিসাইল গবেষণায় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার নাসাতে লগ্নি করার সময় এমন এক বিজ্ঞানসম্মত ধর্মীয় আশীর্বাদের খুবই প্রয়োজন ছিল।

সন্দেহ নেই, পশ্চিমা বিজ্ঞান-সংস্কৃতির অনেক কিছুই আজও এমন হঠকারী ও বিভ্রান্তিকর।

সিরাজুল হোসেন: লেখক, আলোকচিত্রী।

১১ Responses -- “স্ট্যানলি কুবরিকের ‘স্পেস অডিসি’: বিজ্ঞানের খোলসে রাজনীতি”

  1. Ali Xahangir

    He wanted to take us places we could never have imagined, and so he imagined them for us.

    He is Stanley Kubrick.

    He died before he could witness the century he had already made famous with 2001: A Space Odyssey.

    Stanley wanted us to see his movies absolutely as he envisioned them. He never gave an inch on that.
    He dared us to have the courage of his convictions, and when we take that dare we’re transported directly to his world and we’re inside his vision.

    And, in the whole history of movies there’s been nothing like that vision… ever. It was a vision of hope and wonder, of grace and of mystery.

    It was a gift to us, and now it’s a legacy.
    We will be challenged and nourished by that as long as we keep the courage to take his dare, and I hope that will be long after we’ve said our thanks and our goodbyes.

    This is Steven Spielberg’s tribute to Stanley Kubrick at the 1999 Oscars, shortly after Kubrick’s death.

    Reply
  2. Max Ether

    সিরাজুল হোসেনের রাজনৈতিক মন ! এই মন নিয়ে কুবরিকের দেখতে বলব ! অলরেডি দেখে থাকলে সেটার একটা মতামত আশা করব ! আমি নিশ্চিত সেটিতেও এরূপ চমক থাকবে !

    Reply
  3. সিরাজুল হোসেন

    মন্তব্যের জন্য সকলকে ধন্যবাদ। লেখাটা একটি চলচিত্রের দার্শনিক ও মনস্তাত্বিক উদ্দ্যশ্য ও প্রভাব নিয়ে লেখা, চলচিত্রকার বা স্ক্রিপ্ট লেখকের জীবনদর্শন নিয়ে নয়। মনে রাখতে হবে Film is a Director’s media, যাতে পরিচালকের মনস্তাত্বিক উদ্দ্যেশ্যই পরিশেষে প্রক্ষেপিত হয়। আর্থার সি ক্লার্কের কোন উপন্যাস নিয়েও 2001 চলচিত্রটি তৈরী হয়নি, তার একটি ছোটগল্প এই চলচিত্রের কাহিনির প্রারম্ভিকতা মাত্র। ক্লার্ক ও কুবরিক যৌথভাবে এই চলচিত্রের স্ক্রিপ্ট রচনা করেন। যার উপর ভিত্তি করে ক্লার্কের নামে উপন্যাস আকারে সেটি প্রকাশিত হয় চলচিত্র মুক্তি পাবার পর। কুবরিক যুদ্ধবাজ ছিলেন না এবং সমরবিরোধী ছিলেন একথা সত্য। কিন্তু তার প্রচারিত “we are the chosen one” এই দর্শন ধর্মভিত্তিক যুদ্ধবাজদের শক্ত ভিত্তি তৈরী করে দিতে পারে। এই চলচিত্র সম্পর্কে প্রখ্যাত চলচিত্রকার আন্দ্রেই তার্কোভস্কি বলেছেন “2001: A Space Odyssey is phony on many points, even for specialists. For a true work of art, the fake must be eliminated.” এই ছবির প্রতিক্রিয়াতেই তার্কোভস্কি তার “সোলারিস” নির্মান করেন।

    Reply
    • কাজী মাহবুব হাসান

      একটা অদ্বুত ব্যাপার হচ্ছে আপনি উদ্ধৃতিগুলো আগে পিছে এডিট করে দিচ্ছেন যে সাক্ষাৎকারে উনি কথাটা বলেছেন তার কনটেক্সট কিন্তু ভিন্ন.. আপনি যে মন্তব্যটি দিয়েছেন সেটি এসেছে এখানে থেকে: Naum Abramov: Dialogue with Andrei Tarkovsky about Science-Fiction on the Screen. From Ekran, 1970-1971, 162-165. Translated from Russian by Jake Mahaffy and Yulia Mahaffy. In Tarkovsky Interviews. Edited by John Gianvito. University of Mississippi Press, 2006.
      এখানে পুরো প্রশ্ন আর উত্তরটি আছে;

      ABRAMOV: The majority of directors of science-fiction movies think it necessary to impress the viewer’s imagination with the concrete details of everyday life on other worlds or the details of a spacecraft’s construction, which often crowd out the central idea of the film. I think Kubrick’s ‘Space Odyssey’ is guilty of that.

      TARKOVSKY: For some reason, in all the science-fiction films I’ve seen, the filmmakers force the viewer to examine the details of the material structure of the future. More than that, sometimes, like Kubrick, they call their own films premonitions. It’s unbelievable! Let alone that 2001: A Space Odyssey is phoney on many points even for specialists.

      For a true work of art, the fake must be eliminated. I would like to shoot Solaris in a way that the viewer would be unaware of any exoticism. Of course, I’m referring to the exoticism of technology.

      For example, if one shoots a scene of passengers boarding a trolley, which, let’s say, we’d never seen before or known anything about, then we’d get something like Kubrick’s moon-landing scene. On the other hand, if one were to shoot a moon landing like a common trolley stop in a modern film, then everything would be as it should. That means to create psychologically, not an exotic but a real, everyday environment that would be conveyed to the viewer through the perception of the film’s characters. That’s why a detailed ‘examination’ of the technological processes of the future transforms the emotional foundation of a film, as a work of art, into a lifeless schema with only pretensions to truth.

      Design is design. Painting is painting. And a film is a film. One should ‘separate the firmament from the waters’ and not engage in making comic books.

      When cinema moves out from under the power of money, namely, the costs of production, when there will be a method for the author of a work of art to record reality as with a pen and paper, paints and canvas, chisel and marble, ‘X’ and the filmmaker, then we’ll see. Then cinema will be the foremost art and its muse the queen of all the others.

      এছাড়া তারাকোভস্কির সোলারিস নির্মানের উদ্দেশ্য কুবরিকের সিনেমার প্রতিক্রিয়া না ( যা কোল্ড ওয়ারের সময় আমেরিকার মিডিয়া ব্যবহার করেছিল তাদের স্বার্থেই,নানা ধরণের প্রক্সি ওয়ার তখন নর্ম ছিল).. কারন তার কাজের ভাবনার সাথে (তার আগের ছবির ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করতে হবে)এর সোলারিস এর মূল ভাবনার একটা যোগসূত্র আছে। এই সাক্ষাৎকারেই তিনি বলেছেন:

      As for Solaris, my decision to adapt it to the screen is not at all a result of some fondness for the genre. The main thing is that in Solaris, Lem presents a problem that is close to me: the problem of overcoming, of convictions, of moral transformation on the path of struggle within the limits of one’s own destiny. The depth and meaning of Lem’s novel are not at all dependent on the science-fiction genre, and it’s not enough to appreciate his novel simply for the genre.

      ((http://diaryofascreenwriter.blogspot.ca/2013/10/andrei-tarkovsy-dialogue-on-science.html)

      এছাড়াও সোলারিস নির্মানের জন্য তার প্রণোদনার অন্য কিছু বাস্তব ব্যাখ্যা আছে সোভিয়েত সেন্সরশীপ প্রক্রিয়ায়

      Though he made only seven features, thwarted by Soviet censors and then by cancer, each honored his ambition to crash through the surface of ordinary life and find a larger spiritual meaning, to heal modern art’s secular fragmentation by infusing it with metaphysical dimension. To that end, he rejected Eisensteinian montage and developed a demanding long-take aesthetic, which he thought better able to reveal the deeper truths underlying the ephemeral, performing moment.

      Since Tarkovsky is often portrayed as a lonely, martyred genius, we’d do well to place him in a wider context, as the most renowned of an astonishing generation—Larisa Shepitko, Alexei German, Andrei Konchalovsky, Sergei Parajanov, Otar Iosseliani—that effected a dazzling, short-lived renaissance of Soviet cinema. All had censorship problems. In the early 1970s, Tarkovsky, unable to get approval for a script that was considered too personal-obscurantist, proposed a film adaptation of Stanislaw Lem’s novel Solaris, thinking it stood a better chance of being green-lit by the commissars, as science fiction seemed more “objective” and accessible to the masses.

      http://www.criterion.com/current/posts/239-solaris-inner-space

      এখানে আমরা একটা তুলনা দেখতে পাই :

      We know that Tarkovsky had seen Kubrick’s 2001: A Space Odyssey (1968) and disliked it as cold and sterile. The media played up the cold-war angle of the Soviet director’s determination to make an “anti-2001,” and certainly Tarkovsky used more intensely individual characters and a more passionate human drama at the center than Kubrick. Still, hindsight allows us to observe that the two masterworks are more cousins than opposites. Both set up their narratives in a leisurely, languid manner, spending considerable time tracking around the space sets; both employ a widescreen mise-en-scène approach that draws on superior art direction; and both generate an air of mystery that invites countless explanations.

      http://www.criterion.com/current/posts/239-solaris-inner-space

      আর ন্তু তার প্রচারিত “we are the chosen one” এই দর্শন ধর্মভিত্তিক যুদ্ধবাজদের শক্ত ভিত্তি তৈরী করে দিতে পারে এটির কোন যৌক্তিকতা মূল সিনেমা কিংবা সেন্টিনেল গল্পটির সাথে যায় না,
      এছাড়া এটি নির্মিত হয়ছে ১৯৬৮ সালে বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধবাজদের প্রণোদনা ভিন্ন আর ধর্মভিত্তিক যুদ্ধবাজদের ক্ষেত্রে তো বটেই । কুবরিক অবশ্য তারাকোভস্কির বিশেষ ভক্ত ছিলেন, কারণ তার সেরা চলচ্চিত্রের তালিকায় তারাকোভস্কি কাজ সঙ্গতকারণেই ছিল।

      Reply
      • সিরাজুল হোসেন

        দুটি চলচিত্রের পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনা যতটা চলচিত্র দুটোর নিবিড় পর্যবেক্ষণপ্রসুত অনুভব ও অনুধাবনের উপর নির্ভর করে, পরিচালকদের বিচ্ছিন্ন কথামালা নিয়ে যুক্তিতর্কের উপরে ততটা নয়। উদ্ধৃতি মানেই বক্তব্যের অংশ নয় কি? সামগ্রীক অর্থে এখানে যেটি মোটেই ভিন্ন কনটেক্সটের নয়। আপনার উদ্ধৃতির অনুবাদটি ত্রুটিপুর্ণ ও অসম্পুর্ণ। এখানে দেখুন তার্কোভস্কি বলছেন:

        “Why is it that in all the science fiction films I’ve seen the authors force the viewer to watch the material details of the future? Why do they call their films — as Stanley Kubrick did — prophetic? Not to mention that to specialists 2001 is in many instances a bluff and there is no place for that in a work of art. I’d like to film Solaris in such a way as to avoid inducing in the viewer a feeling of anything exotic. Technologically exotic that is. For example: if we filmed passengers getting on a tram and we knew nothing about trams — let’s assume — because we had never seen them before, then we’d obtain the effect similar to what Kubrick did in the scene of the spaceship landing on the Moon. If we film the same landing the way we would normally film a tram stop, everything will fall in its rightful place. Thus we need to put the characters in real, not exotic, scenery because it is only through the perception of the former by the characters in the film that it will become comprehensible to the viewer. That’s why detailed expositions of technological processes of the future destroy the emotional foundation of film.”

        (Interview Dialog s Andreiem Tarkovskim o nauchnoi fantastikie na ekrane with Nikolai Abramov in Ekran 1970-1971, Moscow 1971, pp. 162-165 [anonymous Pol. trans.])

        তার্কোভস্কি আরও স্পষ্ট করে বলেছেন:

        “I saw Stanley Kubrick’s 2001 recently. The film has made on me an impression of something artificial, it was as if I have found myself in a museum where they demonstrate the newest technological achievements. Kubrick is intoxicated with all this and he forgets about man, about his moral problems. And without that true art cannot exist.
        I believe in maximal directness in film narration. And in this film as well I’m employing the simplest means without any gimmicks. I’m avoiding what is nowadays fashionably referred to as “spectacular”. Although, I admit, the film will be in colour. Until recently I’ve been adamantly opposed to the use of colour but what can one do, today it’s impossible to avoid it and I am trying to put this invention to the best use somehow, to make it fit within the boundaries of realism. Realism in a science fiction film? Yes, I think this is possible. We are striving to make this imagined world as concrete as possible, especially in its purely external manifestations. Reality shown in Solaris must be materially tangible, almost graspable. We are achieving it through the textures of the decorations, through Vadim Yusov’s cinematic style.

        In our film there are also scenes taking place on Earth which are not in the book as we know. I need the Earth for contrast but that’s not all. I would like the viewer to become aware of the beauty of our planet so that — having been immersed in an atmosphere of matters inscrutable and mysterious — with even more eagerness he would come back home to Earth, would freely and joyfully breathe its ordinariness. I would like for him to understand the bitterness of homesickness. After all Kris decides to stay on Solaris because this is what is demanded by his calling as a scientist, by the debt he owes to those who entrusted him with the project’s supervision. In this situation the images of Earth should act as catalysts of viewers’ psychological reactions making them see the full implications of Kris’ decision more clearly.”

        (Andrei Tarkovsky, Zachem proshloe vstrechaetsa s budushchim?, Iskusstvo Kino 1971 (11), pp. 96–101 [anonymous Pol. trans.])

        “I don’t like science fiction, or rather the genre SF is based on. All those games with technology, various futurological tricks and inventions which are always somehow artificial. But I’m interested in problems I can extract from fantasy. Man and his problems, his world, his anxieties. Ordinary life is also full of the fantastic. Life itself is a fantastic phenomenon. Fyodor Dostoievsky knew it well. That’s why I want to focus on life itself — everyday, ordinary. Because within it anything can happen. My Solaris is not after all true science fiction. Neither is its literary predecessor. What counts here is man, his personality, his very persistent bonds with planet Earth, responsibility for the times he lives in. I don’t like your typical science fiction, I don’t understand it, I don’t belive in it. The fact is when I was working on Solaris I was concerned with the same subject as in Rublov. Human being. These two films are only separated by the time the action is taking place.”

        (Interview Andrzej Tarkowski — spotkanie z rezyserem with Wiesława Czapinska in Ekran 1980 (1), pp. 18-19)

        পরিশেষে মানুষের ভবিষ্যত মানুষ, তার আবেগ, অনুভুতি, বোধ ও বিবেকের উৎকর্ষতা, তার হতাশা, যন্ত্রণার অবসান এবং তার প্রিয় বাসস্থান পৃথিবীর বাসযোগ্যতা; যন্ত্রপাতি, মহাশুন্য ও শুন্যস্থান নিয়ে অলিক কল্পনা নয়। এই জবাবটই তার্কোভস্কি তার সোলারিসের মাধ্যমে দিয়েছেন।

        http://people.ucalgary.ca/~tstronds/nostalghia.com/TheTopics/On_Solaris.html

  4. শাহবাজ নজরুল

    কিছু তালিকা দেখা যাক –

    ১. সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সায়েন্স ফিকশন বইয়ের তালিকা (ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও দ্বারা তৈরী করা) –

    http://www.listchallenges.com/npr-top-100-science-fiction-and-fantasy-books

    ২০০১: স্পেস অডিসি এর অবস্থান ২৪

    ২. এমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউট এর করা প্রথম ১০০ বছরের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ১০০ ছবির তালিকা –

    http://www.afi.com/100years/movies10.aspx

    ২০০১: স্পেস অডিসি এর অবস্থান ১৬

    ৩. দশ জন সেরা সায়েন্স ফিকশন লেখকের তালিকা –

    http://listverse.com/2008/03/03/top-10-most-influential-science-fiction-writers/

    আর্থার সি ক্লার্কের অবস্থান ৪

    ৪. সেরা ৫০ জন সিনেমা পরিচালকের তালিকা –

    http://www.amc.com/movie-guide/the-50-greatest-directors-of-all-time

    স্ট্যানলি কুব্রিকের অবস্থান ৩

    Reply
  5. মিজানুর রহমান

    স্পেস ওডিসি শুধু্ই কি কুবরিকের ছবি? আর্থার সি ক্লার্ক এর লেখক। এটি তার একটা সিরিজের প্রথম বই। যারা আর্থার সি ক্লার্কের সায়েন্স ফিকশন গুলো পড়েছেন, তারা তার সব বইয়ের মধ্যেই এই কথাগুলো খুজে পাবেন। মানব সভ্যতার শুরু ও শেষ তার অধিকাংশ লেখার মূল উপজীব্য। এখানে তিনি যেমন মানুষের সভ্যতার পেছনে এলিয়েন দেখেছেন, আবার কোন বইতে যেমন, সংগ’’স ফ্রম ডিস্টান্ট আর্থ ( সন্দেশ থেকে বাংলা অনুবাদ আছে) বইতে তিনি কোন ঈশ্বর ছাড়া গড়ে ওঠা এক সভ্যতার গল্প বলেছেন। সমালোচনা করলে তো ক্লার্কে র করতে হয়, কুবরিকের না। কুবরিক ক্লার্কে র কাছে গিয়েছিলেন একটা সত্যিকারের সায়েন্স ফিকশন বানাতে। ক্লার্ক সাড়া দিয়ে এমন এক সায়েন্স ফিকশন লিখেছিলেন, যা এখনও আমাদের আলোড়িত করে, ভাবায়। সবকিছুতে আমেরিকান আর পুজিবাদী চক্রান্ত খোজা দীর্ঘদিন ধরে গরীব বাংলাদেশের কিছু মানুষের অভ্যাস । আমেরিকার বিরুদ্ধে যে কোন কথা বিশ্বাস করার জন্য বিশাল অর্ধশিক্ষিত জনগন তো বসেই আছে। ছোটবেলার সমাজতন্ত্রের ভূত কাধ থেকে নামতে আমার অনেকদিন লেগেছে। কারও কারও এখনও আছে।

    Reply
  6. abc

    লেখকের বিশ্লেষণ সম্পূর্ণই একপেশে এবং নিজস্ব বলে ধরে নিচ্ছি। স্ট্যানলি কুবরিক এবং তার স্পেস ওডিসি’র সম্পর্কে আপনার ধারণা অমূলক এবং যথেষ্ট প্রমাণের দাবী রাখে। লেখকের প্রতি পরামর্শ, কুবরিকের চলচ্চিত্রগুলো দেখে ধীরে ধীরে বোঝার চেষ্টা করুন। তবেই এ ধরণের অলীক উপসংহারে আসতে দু’বার ভাববেন।

    Reply
  7. শাহবাজ নজরুল

    আপনার লেখাটিতেও একটি দর্শন প্রচারিত হচ্ছে। উপসংহারে বলেছেন –

    “স্বয়ং বিজ্ঞানের খোলসে এমন প্রকৃতিবিরোধী ও অবৈজ্ঞানিক দর্শনের প্রচার সত্যি এক অসাধারণ ফাঁকিবাজি। এ যেন মধ্যযুগের কোনো যুদ্ধবাজ রাজাকে ধর্মগুরুর আশীর্বাদের রূপকথা শোনানো হচ্ছে– ‘যাও, ওগিয়ে যাও, শত্রু খতম কর, তুমিই ‘দ্য চুজেন ওয়ান’। সমাজতন্ত্রের প্রসারের ভয়ে ভীত এবং মিসাইল গবেষণায় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার নাসাতে লগ্নি করার সময় এমন এক বিজ্ঞানসম্মত ধর্মীয় আশীর্বাদের খুবই প্রয়োজন ছিল।

    সন্দেহ নেই, পশ্চিমা বিজ্ঞান-সংস্কৃতির অনেক কিছুই আজও এমন হঠকারী ও বিভ্রান্তিকর।”

    এই উপসংহারই বলে দেয় আপনি পর্যাপ্ত রিসার্চ না করেই সিদ্ধান্তে এসেছেন। “২০০১-এ স্পেস অডিসি” এর মর্মার্থ সম্পর্কে কুব্রিক নিজেই বলেছেন –

    You’re free to speculate as you wish about the philosophical and allegorical meaning of the film—and such speculation is one indication that it has succeeded in gripping the audience at a deep level—but I don’t want to spell out a verbal road map for 2001 that every viewer will feel obligated to pursue or else fear he’s missed the point.

    আপনার লেখাতে উপন্যাসটির লেখক বিখ্যাত সায়েন্স ফিকশন লেখক আর্থার সি ক্লার্কের কথাই আসেনি – তাই আপনার মূল্যায়ন অসম্পূর্ণ। আর্থার সি ক্লার্ক মনোলিথ সম্পর্কে বলেছেন –

    Clarke’s novel explicitly identifies the monolith as a tool created by an alien race that has been through many stages of evolution, moving from organic forms, through biomechanics, and finally has achieved a state of pure energy. These aliens travel the cosmos assisting lesser species to take evolutionary steps. The novel explains the hotel room sequence as a kind of alien zoo—fabricated from information derived from intercepted television transmissions from Earth—in which Dave Bowman is studied by the invisible alien entities. Kubrick’s film leaves all this unstated.

    অর্থাত মূল লেখকের মতে মানব জাতিকে বিবর্তনের মাধ্যমে উন্নততর প্রজাতিতে পরিনত করতে আরো উন্নত কোনো এলিয়েন প্রজাতি ধাপে ধাপে সহয়তা করছে সেই কালো মনোলিথের মাধ্যমে – এখানে ধর্মীয় ব্যাখ্যা আসেনি।

    তবে ওপেন ইন্টারপ্রিটেশনের আলোকে কেউ সিনেমাটিতে ধর্মীয় ও চোজেন ওয়ান – জাতীয় ব্যাখ্যা নিতেই পারেন। তবে আমার মতে এমনতরো ব্যাখ্যা নেবার পক্ষে শক্তিশালী যুক্তি নেই। মূল লেখক, কুব্রিক ও এই সম্পর্কে আলোচিত অনেক ব্যাখ্যার মধ্যে কেবল প্রান্তিক এক ব্যাখ্যাকে একমাত্র ব্যাখ্যা বলে প্রচার করে আপনার এই লেখাটিতে অপরিপক্কতা ও অর্বাচীনতা প্রকাশ পেয়েছে।

    কুব্রিকের জীবনদর্শন সামান্যভাবে পড়ে দেখলেও তাকে চোজেন ওয়ান কিংবা ধর্মের দোহাই দিয়ে যুদ্ধবাজ ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখানোর চেষ্টা যার পর নাই অর্বাচীনতা। কুব্রিকের জীবনে করা মাত্র ১৩ খানি ছবির মধ্যে আছে “Paths of Glory” আর “Full Metal Jacket” – যে ছবিগুলোর মধ্যে অবশ্য দ্বান্বিকতা নেই – নেই ব্যাখ্যাহীনতা। ওই ছবিগুলো আপাদমস্তক “যুদ্ধবিরোধী” ছবি। “Dr. Strangelove” ছবিটিতেও একইভাবে যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখানো হয়েছে। একজন আপাদমস্তক যুদ্ধ বিরোধী লোককে নিজের ইচ্ছেমত ব্যাখ্যা দিয়ে আপনি ধর্মের খোলসে থাকা যুদ্ধবাজ বানিয়ে দিলেন!!! উপরের উল্লিখিত ছবিগুলো দেখলে এও মনে হয় যে কুব্রিক ছিলেন পশ্চিমা হেজেমনির বিরুদ্ধবাদী – আর তাকে আপনি পশ্চিমা শক্তির এজেন্ট বানিয়ে দিলেন???

    আর এই লাইনটির মানে কি –

    স্বয়ং বিজ্ঞানের খোলসে এমন প্রকৃতিবিরোধী ও অবৈজ্ঞানিক দর্শনের প্রচার সত্যি এক অসাধারণ ফাঁকিবাজি।

    আপনি এমন অনায়াসে আর্থার সি ক্লার্কের সমালোচনা করলেন যেন তিনি বিজ্ঞান বিরোধী, প্রকৃতিবিরোধী, অবৈজ্ঞানিক ও ফাঁকিবাজ? কিভাবে সম্ভব? আর্থার সি ক্লার্ক আর স্ট্যানলি কুব্রিক হচ্ছেন পৃথিবীর ইতিহাসে জন্মানো দু’জন উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাই উপসংহারে আগে এসে তাদেরকে জোর করে আপনার চিন্তার ছাঁচে ফেলে ঋণাত্মকভাবে প্রকাশ করার এই প্রয়াসের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

    Reply
    • আলী জাহাঙ্গীর

      ধন্যবাদ শাহবাজ নজরুলকে চমৎকার মন্তব্বের জন্য। ২০০১ নিয়ে এত বড়সড় একটা ক্লেইম করার আগে Arthur C. Clarke আর Stanley Kubrik কে নিয়ে লেখকের আরও বিশদ পরিসরে জেনে নেয়া উচিত ছিল। হয়ত তিনি দাবি করতে পারেন দুজন সমন্ধেই যথেষ্ট ধারনা তিনি রাখেন। সেক্ষেত্রেও প্রস্ন থেকে যায় মুল লেখক Clarke এর কোনোরকম উল্লেখই এখানে নাই। Clarke যারা পরেছেন তারা কখনই 2001 : A Space Oddessy এর এই রকম সমালোচনা একনিমিসেই উরিয়ে দিবেন।
      লেখককে অনুরধ করবো clarke আর kubrik এর কাজ সমন্ধে আরও জানুন। এরপর আরেকটা লেখা দিন 2001 সম্বন্ধে। ২০০১ এর আরও দুইটা সিকুয়েল আছে সেই দুটিও জেনে নিন ভালো করে।

      Reply
      • কাজী মাহবুব হাসান

        অনেক ধন্যবাদ শাহবাগ নজরুল আর আলী জাহাঙ্গীর,
        লেখকের চিন্তার মৌলিক ভ্রান্তিগুলো ধরিয়ে দেয়ার জন্য । আসলেই আর বাড়তি কিছু যোগ করার নেই।
        প্রবন্ধটির লেখক আর্থার সি ক্লার্ক এর মনোলিথ এরই ইপোনিমাস গল্প সেন্টিনেল – যার উপর ভিত্তি করেই কুবরিক তার সিনেমার মূল কাঠামোর সূচনা যদিও পুরো নয়)করেছিলেন, এবং ১৯৫১ সালের এই ছোটগল্প বিস্তারিত হয়েছে তার স্টেস অডিসি উপন্যাসগুলোয়। সেখানে মনোলিথের ভূমিকাটা খুবই ভিন্ন এবং লেখকের মূল থিসিসেরই পরিপন্থী। প্রকারন্তরের তিনি বরং যুক্তি দেখাতে পারতেন মনোলিথগুলোর ভূমিকা মানব সভ্যতার জন্য পাহারাদারের ভূমিকারই সমার্থক । সুতরাং তিনি বর্তমানের ভ্রান্তি প্রসূত চিন্তাধারায় সৃষ্ট তথাকথিত বিজ্ঞানবাদ এর ছদ্ম সমর্থনই করে গেলেন পুজিবাদ -সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ন্যারেটিভে। শুধু যদি সিনেমাটার তৃতীয় এবং চতুর্থ অংশর কথা ধরা যায়..হ্যালকে অকেজো করা কিংবা মানব বিবর্তনের সেই বিখ্যাত স্টার চাইল্ড মেটাফর..কোনটাই তার বক্তব্যের সাথে মেলে না। এধরণের লেখা মতামত বিশ্লেষণে জায়গা পাবার কারণটা রীতিমত ভাবাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—