- মতামত - https://opinion.bdnews24.com/bangla -

মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেবেই নারী

খবরটা সকালে ভাসা ভাসা একবার শুনলাম, ঠিক ধরতে পারিনি। সারাদিন প্রায় বাইরে বাইরে থাকায় খবরটা ঠিক খুঁজে পড়ার ফুরসত পাইনি। কিছুক্ষণ আগে বিশদ পড়লাম বিভিন্ন জনের পোস্টে; অনলাইন পত্রিকায়। আমার নিজের এ দুদিনের বর্ষবরণের অনুষ্ঠানমালার সব আনন্দ নিমেষেই মাটি হয়ে গেল। তীব্র ঘৃণা, সীমাহীন অসহায়ত্ব অবশ করে দিচ্ছে বোধশক্তি। এ কী শুনি! এ আমার দেশ? এ আমার মাতৃভূমি? এই দেশ, এই তারুণ্য ঘিরে আমার কী বিপুল ভালবাসা! সব আশা, সব গর্ব যেন চুরমার হয়ে যাচ্ছে আমার চারপাশে।

বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে গত রাতে এক দল জানোয়ারের দ্বারা কয়েকজন নারী যৌনহয়রানির শিকার হয়েছেন, এ ঘটনা জেনে মন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠল। যে দামাল বাঙালি ছেলেরা মা-বোনের ইজ্জতরক্ষার জন্য অকাতরে প্রাণ দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধে– কী করে এরা তাদের সন্তান হয়? এ তবে কেমন দেশ আমার? যে দেশে মেয়েরা নিরাপদ নয়– সে দেশের আর কোন উন্নতি নিয়ে গর্ব করব?

প্রতিক্রিয়াশীল সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে চরম অপছন্দের বিষয় বাঙালি সংস্কৃতির সবচেয়ে দৃপ্ত উচ্চারণ এই বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। তারা কি তবে ভীতি সৃষ্টির জন্য এটা করল? দিনে দিনে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান হয়ে উঠছে বাঙালির আত্মপরিচয় খুঁজে পাওয়ার ঠিকানা। জাতিধর্মবর্ণনির্বিশেষে সকলের বাঙালি পরিচয়ের স্পষ্ট প্রকাশ। একে ধ্বংস করতে চাইবে তারা তাদের ধর্মান্ধ, মৌলবাদী প্রতিক্রিয়াশীল আদর্শের উত্থানের জন্য– এটা আর এমন কী কঠিন বোঝা? বোমা মেরে হোক, নারী নির্যাতন করে হোক– ভয়-ভীতি-ত্রাস সৃষ্টি করে জনগণকে, বিশেষ করে নারীদের আটকে রাখার এটি নিগূঢ় চক্রান্ত কিনা তা ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে।

 

[১]
দিনে দিনে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান হয়ে উঠছে বাঙালির আত্মপরিচয় খুঁজে পাওয়ার ঠিকানা

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বুকে বহিরাগতরা এসে এত বড় অপরাধ করে যাবে, এটা কি বিশ্বাসযোগ্য? অভিজিতকে যে নৃশংসভাবে হত্যা করা হল, তখন এমন কথা শুনেছিলাম যে, আশেপাশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো শিবিরের কর্মীতে ভরে গেছে। যার ফলে খুনিরা এত সহজে পালিয়ে বা অন্ধকারে মিশে যেতে সুযোগ পেয়েছে। সত্যাসত্য খুঁজে বের করা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

আর যদি তা না হয়, যদি এরা তথাকথিত শিক্ষিত, প্রগতিশীল শ্রেণির বা ছাত্রদের কেউ হয়, তবে আরও কঠোর হতে হবে এদের প্রতি। তার মানে শিক্ষা, আদর্শ, মানবতা– সবই শ্লোগান; অন্তরে আর মস্তিষ্কে তার বাস নেই! তাহলে আর কোন তরুণদের নিয়ে আশা করব? কাদের নিয়ে এত গর্ব করব?

বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের বলছি, তোমরা খুঁজে বের কর কারা এরা। নিজেদের সম্মান পুনরুদ্ধার কর। এদের খুঁজে বের করতেই হবে। মানবতার স্বার্থে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে, এদের ধরে বের করে কঠিন শাস্তি দিতে হবে; খুব দ্রুত। এরা যে রাজনৈতিক দলেরই হোক না কেন– হোক এরা বহিরাগত, ছাত্র বা কোনো নেতা– ক্ষমা করা যাবে না কাউকেই। এ কাজ সরকারকেই করতে হবে এবং তা করতে হবে অতিদ্রুত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতার পাল্লা ভারি হতে হতে ছিঁড়েই যাবে বোধহয়। বই মেলা, বর্ষবরণ স্থলে সকলের নিরাপত্তা দিতে পারতে হবে। সে জন্যই আপনাদের ওই বড় বড় পদে বসানো হয়েছে। পুলিশেরও এবার জনগণের কাছে স্পষ্ট জবাবদিহি করার সময় এসেছে। খুব তলিয়ে দেখা দরকার সমস্যাটা কোথায়? আপনারা ঘটনাস্থলে তালগাছের মতো নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন কেন? সন্ত্রাসীদের ধরতে পারছেন না কেন? রাজনৈতিক চাপ? নাম বলুন। কারা আপনাদের এ কুলাঙ্গারদের রক্ষা করতে বলে? কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব?

রাজনীতিবিদদের বলব, অল্পকিছু বিপথগামী নষ্ট ছেলের জন্য সব তরুণের বদনাম হতে দেবেন না। নিজেদের দলের তাতে উপকার তো হবেই না, বরং ক্ষতি হবে, নিন্দা হবে। এগুলো ঝেড়ে ফেলে দিন, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিন। তাতে বরং দলের উপকার হবে, সুনাম বাড়বে।

এভাবে অপরের সম্মান, অপরের স্বাধীনতায় আঘাত করতে দেখেও যদি চুপ করে থাকি, তবে সামনে সবার জন্যই ভয়ঙ্কর দিন অপেক্ষা করছে। আজ হয়তো আমরা দূরে আছি। কাল সেই অপশক্তি আমাদের দিকেই আঘাত হানবে। তাই এদের এখনই রুখতে হবে। মনে রাখতে হবে, নারীর অসম্মান– তা সে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতেই হোক কী বাঙালির হাতে– একই রকম অন্যায় ও অপরাধ। এ জন্য অপরাধীদের এমন কঠিন শাস্তি দেখতে চাই যেন আর কোনো নপুংসক নারীকে অসম্মান করার চিন্তাও করতেও সাহস না পায়।

তবে আবারও বলছি, অভিজিতকে হত্যা করে এত সহজে পালিয়ে যাওয়ার মাঝে, বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে নারীকে অসম্মানের মাঝে, আমি আমাদের প্রগতির পথে এগিয়ে যাবার চেষ্টার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। একটি সর্বজনীন অসাম্প্রদায়িক জাতীয় উৎসব থেকে সবাইকে, বিশেষত নারীদের দূরে রাখতে এই হীন কাজ হচ্ছে বলে মনে করলে ভুল হবে না। এ জন্যই বই মেলায় অভিজিৎ নিহত হয়; এ জন্যই রমনা বটমূলে বোমা হামলা হয়। তবু যখন বাঙালিকে দমিয়ে রাখা যাচ্ছে না, তখন সেই একাত্তরের কায়দায় নারীকে আক্রমণ– কেমন যেন চেনা চেনা লাগছে নৃশংসতাটা।

 

[২]
একটি সর্বজনীন অসাম্প্রদায়িক জাতীয় উৎসব থেকে সবাইকে, বিশেষত নারীদের দূরে রাখতে এই হীন কাজ হচ্ছে বলে মনে করলে ভুল হবে না

 

যারা চায় না মুক্তবুদ্ধির চর্চা হোক, যারা চায় না নারী মুক্ত বাতাসে স্বাধীনভাবে চলুক– এটা তাদের কাজ– তা সে এখন যে দলেই ঘাঁপটি মেরে থাকুক না কেন, তারা একই গোত্রের। এই অশুভের বিরুদ্ধেই শুভবুদ্ধির যুদ্ধ চিরকাল। চার লাখ মা বোনকে ধর্ষণের পরও বাঙালি মায়েরা দেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম থেকে পিছপা হননি। রমনা বটমূলে যে বার বোমা হামলা হয়, রমনার পাশেই ছিলাম আমি। বোমা হামলার পরের বছর আমার স্বামী ও ছোট্ট মেয়েকে নিয়ে– তখন মেয়ে ছিল ছবছরের– বটমূলে গিয়েছিলাম। আমার ছেলেটি তখন আমার ভিতর বেড়ে উঠছে; মাতৃগর্ভে চলছে তার অষ্টম মাসটি। তবু আমরা ছিলাম নিঃশঙ্ক চিত্ত।

যে যত চেষ্টাই করুক না কেন, জাতির পিতা বলে গেছেন, ‘বাঙালিকে দাবায়ে রাখতে পারবা না’– আমরা আবারও আসব আগামী শত-সহস্র বছর রমনা বটমূলে, চারুকলায়, টিএসসিতে বর্ষবরণ করতে। নিশ্চয়ই আসব। সাহসী শত সহস্র বাঙালি নারী– আমরা আসব বারবার– আমাদের কেউ ‘দাবায়ে রাখতে পারবা না’।

৩৩ Comments (Open | Close)

৩৩ Comments To "মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেবেই নারী"

#১ Comment By তাজ On এপ্রিল ১৬, ২০১৫ @ ২:২৮ পূর্বাহ্ণ

এই না হলে শহীদ বুদ্ধিজীবীর সন্তান! ডা. আলীম চৌধুরীরা বেঁচে থাকলে দেশ-সমাজের এই অবক্ষয় হতো না। নুজহাত আপনি সপরিবারে কুশলে থাকুন।

#২ Comment By কাজী মুইদুর রহমান শাওন On এপ্রিল ১৬, ২০১৫ @ ৪:৩৩ পূর্বাহ্ণ

নারীজাতী আমা‌দের মা‌য়ের জ‌াত তাই তা‌দের প্র‌তি আমার আকুল আ‌বেদন থাক‌বে দয়া রাস্তা বা অন্য যে কোন স্থানই হোকনা কেন একটু যদ‌ি শালীনতা বজায় রে‌খে চ‌লি তাহ‌লে ম‌নে হয় এই ধর‌নের সমস্যা থে‌কে মু‌ক্তি পাওয়া যে‌তে পা‌রে।

#৩ Comment By Imran Topu Sardar On এপ্রিল ১৬, ২০১৫ @ ৪:৫৪ পূর্বাহ্ণ

দায় এড়ানো আমাদের স্বভাব হয়ে গেছে।
আমরা চোখ খুলে যেমন দেখি না, তেমনি আমরা অন্যের কথায় কান খাড়া করে রাখি, কিসে কি বলে?
আমরা ভীত, তা সারা জীবনই থেকে যাবে। কীভাবে বদলাবো আমরা।
ধন্যবাদ।

#৪ Comment By জিয়া উদ্দিন On এপ্রিল ১৬, ২০১৫ @ ৫:০০ পূর্বাহ্ণ

আপনার এ সময় উপযোগী সাহসী লেখার জন্য অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে গভীর শ্রদ্বা জ্ঞাপন করছি।

#৫ Comment By DR. SIRAJ On এপ্রিল ১৬, ২০১৫ @ ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ

THIS IS THE HIGH TIME
Any self-dignified/respected personal, individual who have minimum love for Bangladesh, it is not a matter of any longer BNP issue but undermining all BANGLADESHI by nasty AUWMILIG . Are we cowards? What about 1952, 1971, and 1990 our bright records against any criminals /autocratic leaders?

HASINA INSULTED/KILLED VIGOROUSLY OUR INDEPENDENCY, DEMOCRACY, FREEDOM FIGHTER’S SOULS even her own father MR S.MAJIB : she is her pathetic+ disgusting child (authentic way)
LET US PAY BACK TO OUR NATION & TO THOSE HEROS who DEDICATED for our motherland like, LATE MAULANA VASANI.

#৬ Comment By arin amir On এপ্রিল ১৬, ২০১৫ @ ৮:২০ পূর্বাহ্ণ

Thanks Dr. Nuzhat Chowdhury for your concern. It is really really frustrating to see no news paper’s editors showed concern on this or empathy for the harassed women! It is a shame! Thanks BDNews for publishing this article.

#৭ Comment By নাহিদ On এপ্রিল ১৬, ২০১৫ @ ৮:২৭ পূর্বাহ্ণ

আপু আপনার সন্দেহটাই যৌক্তিক মনে হচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তো প্রতিবছরই বর্ষবরণের অনুষ্ঠান পালিত হয়। এই ধরনের ঘটনা ঘটে না, সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে বিরুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে যারা, তাদের ছাড়া তো কারও এমন সহিংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণ দেখি না।

#৮ Comment By Faisal Ahmed On এপ্রিল ১৬, ২০১৫ @ ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ

বর্ষবরন অনুষ্ঠানে এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন বা নতুন কিছু না। আজ থেকে ১৮/২০ বছর আগে ২১শে ফেব্রয়ারী বই মেলায় একই ঘটনা আমি নিজে প্রত্যক্ষদর্শী। সেইদিনও লিটনদের মতো কিছু বীর যুবক এগিয়ে এসেছিল । আমি বলতে চাই বাঙ্গালী তার প্রানের উৎসবগুলো এইভাবে পালন করবেই। নারী বা পুরুষ। সবাই। বোমা হামলা ড. হুমায়ুন আজাদ, অভিজিত দের ঘটনা কোন কিছুই বাঙ্গালীকে দাবাতে পারবেনা।

আমি যেটা বলতে চাই একজন শিক্ষককে ৭১ এ বিবস্ত্র করে অপমান করে কামারুজ্জামান যদি ফাঁসি যোগ্য অপরাধ করে তাহলে ১লা বৈশাথ এর এই ঘটনায় অভিযুক্তদের না দুস্তকক্রীতকারীদের ফাঁসি ই দেয়া উচিত। সিসি ক্যামেরা থেকে সহজেই ওদের চেনা যাবে। নাকি ওনারা বিশেষ কোন গোষ্ঠীর স্নেহধন্য। নাকি ছাত্রলীগ যুবলীগ এর হোমরা চোমরা । পুলিশ পাশেই নিষ্ক্রিয় চেয়ে দেখে। যেখানে ছাত্র ইউনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি স্বয়ং অসহায় নিজ ক্যাম্পাসে। ওই কর্তব্যরত পুলিশ অভিসারদের শুধু কি ক্লোজ করার দাবি করা হবে নাকি ফাঁসি দাবি করা হবে। সাথে শাহবাগ থানার ওসি। জানিনা ওনি বেগম খালেদা জিয়া ভাষ্যমতে গোপালী কি না? নাকি বিশেষ মহলের আশীর্বাদ পুষ্ট? এরং বিশ্বিবিদ্যালয়ের প্রক্টর (ঘটনা শুনেও দাবা খেলায়রতবলে অভিযুক্ত)? আমি জোর দাবি জানাই কামারুজ্জামানের মতো এদের ও ফাঁসি ,ফাঁসি, ফাঁসি চাই। আবারও বলি হাজারবার বলি ফাঁসি ,ফাঁসি, ফাঁসি চাই।

#৯ Comment By আব্দুুর রহমান On এপ্রিল ১৬, ২০১৫ @ ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ

আপনি ঠিকই বলেছেন, মেয়েদের এগিয়ে আসতে হবে। আর সাথে থাকতে হবে তাঁদের ভাইদের।

কতগুলো বিষয় একটু ভেবে দেখুনঃ
১-যেখানে পুলিশ এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং রমনা বটমূলে বিকাল ৪টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করে সবাইকে চলে যাবার জন্য আগেই নির্দেশনা দিয়ে রেখেছিল, সেখানে যে কোন একটি প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য সাড়ে সাতটা পর্যন্ত কিছু মেয়ে সেখানে থাকে এবং দূর্ঘটনার সম্মুখীন হয়;

২-ঐ ঘোষনার কারনেই সচেতন মানুষগুলো ৪টার পরে থাকেনি, ফলে জনপ্রতিরোধ গড়ে উঠেনি;

৩-দুপুরের পরেই মেয়েদের সংখ্যা কমতে শুরু করে আর ঘোষনামত ৪টার পরে অনেক অভিভাবক মেয়ে, এমনকি ছেলেদের থাকতে নিরুৎসাহিত করেন;

৪-এখানে পুলিশের ব্যর্থতা-কেই আমি বড় মনে করি, কারণ যতক্ষন লোক সমাগম থাকে ততোক্ষণ নিরাপত্তা দেয়াটা তাদেরই;

৫-আর যদি পুলিশ কঠোর হয়ে তাঁদের ঘোষনামত ৪টা বাজার সাথে সাথে জনতাকে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে স্থান ত্যাগে বাধ্য করত, তাহলে অন্ততঃ সূর্যাস্ত তথা সাড়ে ছয়টার পরে কেউ ওখানে থাকতে পারত কি?

৬- দশ-পনের বছর আগে হঠাৎ করে ইংরেজী নববর্ষ পালনের অতি আগ্রহ দেখা গিয়েছিল, এই টিএসসিতেই রাত ১২টায় ছেলে-মেয়েরা হৈচৈ করতে বের হত, কিছু কিছু অঘটন ঘটার সম্ভাবনাও দেখা গিয়েছিল – সরকার এবং পুলিশ তখন থেকেই রাতের সমাবেশ নিষিদ্ধ করে কঠোর অবস্থান নেয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে এসেছিল, যদিও গুলশান এলাকায় কিছু সমস্যা এখনও হয় বলে শোনা যায়;

৭-পহেলা বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারী এবং পহেলা জানুয়ারীসহ সকল জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠান যদি মাঠে বা রাস্তায় করা হয় তাতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের অনুমোদন এবং কঠোর নজরদারী থাকার প্রয়োজনীয়তা আছে;

#১০ Comment By কান্টি টুটুল On এপ্রিল ১৬, ২০১৫ @ ১০:৫০ পূর্বাহ্ণ

রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থলে দুজন সাংবাদিককে হত্যা করে খুনীরা হাওয়ায় মিলিয়ে গেল, এটি যদি আপনার মেনে নিতে সমস্যা না হয় তবে বইমেলার অভিজিত হত্যাকাণ্ড কিংবা বর্ষবরণের মেলায় কয়েকজন নারীর যৌনহয়রানির শিকার হওয়া নিয়ে এত বিচলিত হচ্ছেন কেন?

প্রতিপক্ষ কিংবা ভিন্নমতাবলম্বীর উপর অবিচার,নির্যাতনের বিষয়গুলো যখন আমরা দেখেও না দেখার ভান করি কিংবা অবচেতনে বাহবা দিই তখন সত্যিকার অর্থে আমরা নিজেদেরকেই ঐসব অবিচার, নির্যাতনের মুখে ঠেলে দিই।

এ প্রসঙ্গে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র এর উক্তিটি স্মরণযোগ্য ….

“Injustice anywhere is a threat to justice everywhere”

#১১ Comment By tariq On এপ্রিল ১৭, ২০১৫ @ ৩:৪৭ অপরাহ্ণ

superb

#১২ Comment By tariq On এপ্রিল ১৭, ২০১৫ @ ৪:৫০ অপরাহ্ণ

To save us from others attack the attire, body movement, style of talking is playing a great role. but now a days we are not following those points & trying to show as a desperate as well as a sexual body who is ready to do. i couldn’t understand why those woman/ladies/girls are wearing so sexy dress & now a days minimum 70% ladies are showing their one breast or half half from both – but why ? it of course to attract oppositions human & which also supporting from their family, its really bad for everyone.

#১৩ Comment By জাহিদ On এপ্রিল ১৬, ২০১৫ @ ১২:০৭ অপরাহ্ণ

সন্তানেরা শিশুকালে ভুতের ভয়ে সরে আসতো বুকের কাছে। যেন বাবা বললেই সব ভুতেরা পালিয়ে যাবে। অবশেষে আমার আশ্বাসে বিশ্বাস রেখে ওরা নির্ভয়ে ঘুমিয়ে পড়তো।

আমার ২২ বছরের মেয়ে আর ২১ বছরের ছেলের চোখে-মুখে এখন ভিন্ন রকম ভয়। কিন্তু তাঁদের বাবা এখন আর বলতে পারে না, “ভয় নেই, ভুতেরা তোমাকে কামড়াবে না”।

আশা হারিয়ে ফেলার যন্ত্রণা বড় ভয়ানক।

#১৪ Comment By Obak Valobasha On এপ্রিল ১৬, ২০১৫ @ ১২:২৭ অপরাহ্ণ

এই বিষয়ে তেমন জোরালো কোনো প্রতিবাদ না দেখে খুবই মর্মাহত হলাম. আসলেই কি আমাদের অনুভুতি গুলো দিন দিন ভোঁতা হয়ে যাচ্ছে ?

#১৫ Comment By Khaza On এপ্রিল ১৬, ২০১৫ @ ১২:২৭ অপরাহ্ণ

৪০টি কুত্তা বনাম ১০,০০০ নারী – কার শক্তি বেশি?
নারীর সম্ভ্রম বাঁচাতে নারী কি কোনকালেই এগিয়ে আসবে না? তোমাদের বিবস্ত্র অবস্থায় বাঁচাতে পুরুষদেরই আসতে হবে আর হাত পাও ভাঙতে হবে?
নারী – তোমার কি হাত পা নাই? গলায়তো ওড়না ছিলো! ৪০ কুত্তাকে ওড়না দিয়ে ফাঁস দিয়ে আটকানোর জন্য ৪০ জন নারীও কি ছিলো না? তাহলে ঐসময়ে যে ১০,০০০ নারী ছিলো , তারা আসলে কী?
টিএসসির এই নারকীয় ঘটনার যদি বিচার করতে না পারো, বিচারের জন্য যদি প্রতিবাদী না হও তবে নারী তোমাকে এবার বিবস্র করেছে, আগামীবার ধর্ষিতা হয়ে তোমার লাশ পরে থাকবে, কেউ তোমাকে বাঁচাবে না, কেউ আসবে না , বরং কিছু পুরুষ কুকুরদের সাথে মিলে কুকুর হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বে।
বিঃদ্রঃ ঐ ৪০টা কুকুরের ছবি পাওয়ামাত্র ছড়িয়ে দিন, সোশ্যাল মিডিয়াসহ সর্বত্র।

#১৬ Comment By sujan On এপ্রিল ১৬, ২০১৫ @ ১২:৩৭ অপরাহ্ণ

আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে পাশেই একটি সিএনজি-তে ছিলাম। অকস্মাৎ মেয়লি কন্ঠে চিৎকার শুনে হতভম্ব হয়ে যাই। সিএজি চালক বের হতে নিষেধ করে। ভেবেছিলাম বোধহয় ছেলেরা মারামারি করছে দেখে কোন মেয়ে ভয় পেয়েছে। পরে শুনলাম আসল ঘটনা। আতংক, ঘৃণা এবং ধিক্কারে মন ভরে উঠল। এ কোন দেশে বসবাস করছি। বিষয়টি শুধু পহেলা বৈশাখকে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যে নাও হতে পারে। একটি সংঘবদ্ধ দল কাজটি করেছে যাদের চেহারায় সত্যিকারের অপরাধের ছায়া।

সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ আপা।

সুজন

#১৭ Comment By জাহেদ On এপ্রিল ১৬, ২০১৫ @ ৮:২৬ অপরাহ্ণ

সুজন সাহেব আপনি কি কি িদেখেছেন বা সিএনজি চালক কি বলেছে বিস্তারিত জানালে আমরা খুশি হতাশ। আসল রহস্য উদঘাটনে সহায়তা করা সবার দায়িত্ব

#১৮ Comment By setu mohammad On এপ্রিল ১৬, ২০১৫ @ ১২:৪৫ অপরাহ্ণ

যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ভেতরে এই কুকর্ম ঘটান হয়েছে, সেহেতু প্রথমেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অযোগ্য প্রোক্টরকে বরখাস্ত করতে হবে। আর পুলিশের যারা দায়িত্তে ছিল তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।পুলিশের ব্যর্থতাকে আর কত ধামাচাপা দিয়ে রাখবেন পুলিশ কমিশনার সাহেব?আর যারা এই জঘন্য অপকর্মের সাথে জড়িত তাদের এমন শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে যেন তারা আর কোন দিন মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে।সে তারা যে দলেরই হোকনা কেন।

#১৯ Comment By swapan On এপ্রিল ১৬, ২০১৫ @ ১২:৫৮ অপরাহ্ণ

জাগ নারী জাগ

#২০ Comment By arif On এপ্রিল ১৬, ২০১৫ @ ১:০৯ অপরাহ্ণ

মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার এই পরিনতি । এর পরও এ ধরনের মন্তব্য যখন করেন তখন অবাক হতে হয় আপনাদের মত মন মানুষিকতার মেযেদের কথা শুনে। একটি সত্য কথা মনে রাখবেন ‘এক হাতে তালি বাঝে না’।

#২১ Comment By penuka On এপ্রিল ১৭, ২০১৫ @ ১১:০২ অপরাহ্ণ

arif ‘মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার এই পরিণতি’ আপনি কি বোঝাতে চাইছেন? আপনার কোথাও বেড়াতে যাইতে ইচ্ছে করছে…এটা যদি আপনার অধিকার হয় আমার (কোন নারীর)নয় কেন? আর এক হাতে তালি বাজে না…আপনাদের মতো মানসিকতার পুরুষেরা সবসময় নারীদের এই ধরণের হেনস্তার জন্য হয় ‘তাদের আচরণ/পোশাক কিংবা কেন বাপু তোমরা ওইখানে গেলা জানোই তো পুরুষেরা যা ইচ্ছে তাই করে তোমরা পারো না’ এগুলোকেই তুলে ধরেন। আপনাদের ঘৃণা করতেও আমার লজ্জা লাগে।

#২২ Comment By Abdul On এপ্রিল ১৬, ২০১৫ @ ২:৪৮ অপরাহ্ণ

Honourable mum and sister you can breath in the open environment, in side the house, you can go to University, you can do job, you can do business. Islam did never say todo these will never say do these. Moreover Islam has given honour to our mums and sisters; may be you’re not aware of these, if not read and learn about Islam. So called western covilizations did not give any respects to the honourable women; moreover they disrespect the women and they made them toys of their blind lusts. When talk about Islam the person like you normally smells of fundamentalisasm. These persons are totally wrong. Oh human being back to Islam you will gain the paradise here after and will get absolute peace here @amin

#২৩ Comment By rafique On এপ্রিল ১৬, ২০১৫ @ ৩:০৬ অপরাহ্ণ

প্রিঅ মাদাম, সব কিসুতে শুধু জামাত শিবির খুজেন কেন । নারিদের উপর হাম্লা কারিদের পুলিশ চেরে দেই এরা কারা হতে পারে ! একতু ভাবুন ! এরা সবাই সুনার সেলে চাত্রলেীগ । তাই পুলিশ চেরে দিয়াসে। সিঃ সিঃ চাত্রলিগ & পুলিশ ! তবে ধন্নবাদ সাত্র ইউনিঅনকে ।

#২৪ Comment By khursad alam On এপ্রিল ১৮, ২০১৫ @ ১২:৩২ অপরাহ্ণ

আমি ও এক মত। সব কিছুতে জামাত জামাত আর করবেন না। এভাবে প্রকৃতি দোষীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। আগে সত্যটা দেখুন তারপর রিপোট লিখুন। ম্যাডাম আপনি তো অনেক জ্ঞানী আপনানে সম্মান ও সালাম জানাই। আপনাকে একটা কথা বলি নারীকে কোন দল সবচেয়ে সম্মান দেয় একটু নিজ চোখে দেখুন যাচাই করুন। তারপর লিখুন।

#২৫ Comment By zarna On এপ্রিল ১৬, ২০১৫ @ ৫:৪২ অপরাহ্ণ

এই কাজটি যারা করেছে তারা আমার মনে হয় না মানুষ মানুষ নামে পশু। এই কাজটা করার সময় যারা নীরবে দেখেছে তারা ও মানুষ না আর আইনশৃঙ্খলার বাহিনী বা পুলিশ তাদের তো কেউ মানুষ মনে করে না। তাই তাদের কথা বাদ দেন তারা তো হুকুমের গোলাম বা টাকার গোলাম। আর আমাদের মেয়েদের ও কিছু দোষ আছে আমরা কিছুটা হলেও উগ্র হয়ে উঠেছি আর বয় ফ্রেন্ডডের ক্ষেত্রে ও তাদরে সাথে অনেক খোলামেলাভাবে মেলা মেশা করি

#২৬ Comment By Haider On এপ্রিল ১৭, ২০১৫ @ ২:১১ পূর্বাহ্ণ

I live in a western country. Only a little population are Muslims.. Bangladesh is s land of 90% Muslim population.. I am in my 40’s. I was young once not to long ago. I cry out for my country sometimes. When I was back home cable TV just started to arrive. I went to Dhaka in 1996. Everyone can afford cable TV.. I found everyone was watching Tv at night.. Those generation parents make their life fucked up, what will be their next generation. Free mixing is one of the big factor that a whole count this getting fucked up.. Everyone is hunting for money during the day and hunting woman at night. Bangladesh is a Muslim country. In Islam celebrating for anything g it’s a shirk.. Even wedding, Gaye holud, sriti shoudh, shahid miner , pohela boyshkh etc. I hD very fun in 70’s and 80’s with limited sources of entertainment..we are very lucky to born as Muslim .Allah swt could let us born in other riligeon .he chose us to be Muslim.. Non Muslim ( a very few people ) got lucky to see the light. allH has given Quran for man kind , Quran is not only for Muslims. It’s for everybody. If you follow it you will have smooth, if you leave it Quran will leave you too..please we are not India or United States.. We don’t need to follow anyone but Quran … That’s the request to the new generations… I am not a mollah, but I know the way Bangladesh is walking 100% wrong.. I got lack of knowledge, if I personally attaché to anyone I appolizige to him or her.
In conclusion we don’t need shariah law , that we can’t afford just try to follow Quran each and every steps in everyone’s life or family as a whole. Today is the first day of correct our selves, one person or family at a time . Thank you for reading

#২৭ Comment By rajib On এপ্রিল ২০, ২০১৫ @ ৩:৩১ অপরাহ্ণ

Religion can not solve this sort of problem. If Religion was able to solve this type of problems, then there would be no such incidents in Bangladesh, Pakistan, Nigeria, Afganistan or any other country where most of the people are muslims.

The reality is, sexual harrashments occur in those countries where most of the people follow a religion.

#২৮ Comment By গীতা দাস On এপ্রিল ১৭, ২০১৫ @ ১:১৯ অপরাহ্ণ

নারী কখন সাজবে, কীভাবে সাজবে, নববর্ষে কখন এবং কোথায় বেড়াতে যাবে তা সিদ্ধান্ত নেবার অধিকার নারীর। যেহেতু আমরা স্বাধীন হলেও সভ্য দেশের নাগরিক না সেহেতু কিছু উচ্ছৃংখল লোক বাধা দেবার বা উত্যক্ত করার চেষ্টা করতেই পারে । কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা লজ্জাজনক, দুঃখজনক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর জন্য অপমান জনক।

#২৯ Comment By আব্দুল আউয়াল চৌধুরী On এপ্রিল ১৮, ২০১৫ @ ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ

আশা করি সব শেষ হবার আগে পুলিশের আই জি , ডিএম পি কমিশনার , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভি সি , স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দয়া করে জেগে ঊঠবেন – কিছু নির্বোধ বেপরোয়া তরুন দূর্বৃত্তের হাতে আমাদের আর জিম্মি করে রাখবেন না !

#৩০ Comment By sefat ullah On এপ্রিল ১৭, ২০১৫ @ ৩:৫১ অপরাহ্ণ

Just I want to say, Shame on us all mainly on our politicians who made our society corrupt.

#৩১ Comment By sayeed h Khan On এপ্রিল ১৭, ২০১৫ @ ১০:০৫ অপরাহ্ণ

জাগো নারী জাগো ১৯৭১ এর মতো

#৩২ Comment By mosparvez On এপ্রিল ১৮, ২০১৫ @ ১২:৪৪ অপরাহ্ণ

এত লেখালেখি করে লাভ নেই। যদি জামাত সিবির হেফাজতকে জরান না যায়, তবে এই ঘতনা ধামাচাপা পরবে।

#৩৩ Comment By ম্যানিলা নিশি On এপ্রিল ১৮, ২০১৫ @ ৪:৪৫ অপরাহ্ণ

দেশে সুশাসনের বড়ই অভাব, যেকারণে অনাকাঙ্খিত ঘটনাগুলো ঘটছে।

জাতির জনক কিংবা চার দশক আগে ঘটে যাওয়া যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িত অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে সাজা কার্যকর করার মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন তথা সুশাসন নিশ্চিত হয়ে গেল, এমনটা ভেবে থাকলে আপনি নিশ্চিতই ভুল করবেন!