Feature Img

Rumana Hashemমুক্তমনা ব্লগার ওয়াশিকুর রাহমান বাবু হত্যাকাণ্ডের সপ্তাহ দুয়েক পার হয়ে গেল। আর খ্যাতনামা বিজ্ঞানী ও লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের দেড় মাসেরও বেশি। এখনও সরকারপক্ষ থেকে পরিস্কার কোনো বার্তা আসেনি যে, বাবু ও অভিজিতকে যারা কুপিয়ে মারল তাদের চক্রটিকে সরকার ধরতে চায় কিনা। অনেকের মনেই প্রশ্ন, বাংলাদেশে বুঝি এখন থেকে এটাই নাস্তিকদের নিয়তিতে পরিণত হল। সরকার ও বিরোধী দলের নেতাদের এ নিয়ে কথা বলার সময় নেই। সিটি কর্পোরেশনেরর নির্বাচন এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সব দলের কাছেই। তবু কদিন আগে ‘চ্যানেল আই’এ বিবিসি সংলাপ দেখে মনে হল, কিছু না লিখলেই নয়।

|| এক ||

বিবিসির ওই সংলাপে চার আলোচকের মাঝে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা ছাড়া একজন সমাজ বিজ্ঞানী ও একজন আইনজীবী ছিলেন। আলোচনায় দুটো হত্যাকাণ্ড নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন ছিল। আলোচকদের অবস্থা দেখে মনে হল যেন সবাই ধর্মভীরুদের সান্তনা দিতেই বেশি ব্যস্ত। যারা মরছে আর সমানে মার খাচ্ছে সেই মুক্তমনা মানুষদের জন্য পরিস্কার কোনো বক্তব্য বিএনপি নেতা হান্নান শাহ ও আওয়ামী লীগের মন্ত্রী শাজাহান খানের কাছে ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা ওয়াহিদার কাছেও পাওয়া যায়নি কিছু। একমাত্র আইনজীবী সারা হোসেনকে মনে হল তিনি কিছু পরিস্কার সমাধান খুঁজছেন।

রাজনীতিক ও মন্ত্রীরা যে ভোটের জন্য উদ্ভট স্বরে কথা বলবেন এতে বিস্মিত হবার কিছু নেই। তবে ধর্মের নামে মানুষকে জবাই হতে দেখেও যাদের হৃদয় এতটুকু কাঁদে না তাদের নিয়ে কী করা? ব্লগাররা ইসলামবিরোধী কথাবার্তা লিখে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে কিনা এ প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী কিছুক্ষণ আজেবাজে বকলেন। তারপর প্রশ্নকারী হুজুরকে সান্তনা দেবার ভঙ্গিতে বললেন যে, ধর্মের শরীরে আঘাত লাগে এমন মন্তব্য করলে তাকে আদালতে নিয়ে শাস্তি দেওয়ার বিধান রয়েছে। সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিলেন নির্বাচিত সাংসদ ও সাবেক মন্ত্রী সিদ্দিকীর ক্ষেত্রে কী করা হয়েছে সে কথা। ব্লগ লিখলে যে কারও দেহে আঘাত লাগে না সেটি কিন্তু তিনি বললেন না। বরং মনে করিয়ে দিলেন যে, ধর্ম নিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি খুব সুবিধের নয়।

একদিকে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলছেন, অন্যদিকে ধর্মের সমালোচনা করার দায়ে নির্বাচিত সাংসদকে তার পদ থেকে বহিস্কার করে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন, এর ফল হিসেবেই আজ ধর্মান্ধরা দিনেদুপুরে মানুষ খুনের মহড়ায় নেমেছে। বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিতে; সেখানে আজ ‘মুক্তমনা’ শব্দটি অনাকাঙ্ক্ষিত হয়ে উঠেছে। ধর্মান্ধের দল সমাজে যে শুধু বিশৃঙ্খলা নয়, চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করছে– দেশকে বর্বরতা ও অমানবিকতার চরমে নিয়ে যাচ্ছে– সে কথা চেপে গেলেন মন্ত্রী মহোদয়।

বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিতে, সেখানে আজ ‘মুক্তমনা’ শব্দটি অনাকাঙ্ক্ষিত হয়ে উঠেছে
বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিতে, সেখানে আজ ‘মুক্তমনা’ শব্দটি অনাকাঙ্ক্ষিত হয়ে উঠেছে

||| দুই ||

এবার একজন রাজনীতিক-সমাজ বিজ্ঞানী হিসেবে অধ্যাপক জিনাত হুদা ওয়াহিদার সচেতন আলোচনা শুনি। মুক্তমনা ব্লগাররা ইসলামবিরোধী কথাবার্তা লিখে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে বলে দাবি করলেন যে হুজুর, তাকে সান্তনা দেবার ভঙ্গিতে তিনি বললেন, ভিন্নমতাবলম্বীরা সভ্যতার সব যুগেই ছিলেন। প্রথমে শুনে বেশ যুক্তিসঙ্গত মনে হল। তবে পরের বাক্যগুলো লক্ষণীয়। সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষার উপর গুরুত্ব দিয়েই অধ্যাপক জানালেন যে, হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও একজন ভিন্নমতাদর্শী মানুষ ছিলেন। তিনি আল্লাহ তাআলার দূত হিসেবে এসেছিলেন। ফলে আমাদেরকে ভিন্নমত মেনে নেওয়ার সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হতে হবে।

কথাগুলো জিনাত হয়তো মুসল্লিদের সান্তনা দেবার জন্য বলেছেন। তবে বলবার সময় তিনি সমাজ বিজ্ঞানের উপর দায় চাপালেন কেন বোঝা মুশকিল। সমাজ বিজ্ঞানে কি ধর্মযাজকদের সমাজ সংস্কারক হিসেবে কখনও আখ্যা দেওয়া হয়েছে? নাকি ভিন্নমতাবলম্বীরা ধর্মযাজক হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে কোনো সমাজে? আর সামাজিক অস্থিরতা, অমানবিকতা, বর্বরতা এবং নৃশংসতা কি ধর্ম নিয়ে রাজনীতির ফলে সৃষ্টি হয়নি?

যে হুজুর মানুষের খুন হবার কারণ হিসেবে কলমের আঁচড়ের ওপর দায় চাপাচ্ছেন, সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে অধ্যাপক ওয়াহিদার শক্ত করে বলা প্রয়োজন ছিল যে, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করার কারণেই বহু যুগ ধরে সমাজে অমানবিকতা ও অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে। সোশিওলোজি অব রিলিজিয়নের গবেষকরা এটি একবার নয় বহুবার প্রমাণ করে দেখিয়েছেন। সর্বশেষ, ২০১২ সালে লন্ডনের গোল্ডস্মিথ ইউনিভার্সিটি থেকে সম্পাদিত পিএইচডিতে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত নারীবাদী সমাজ বিজ্ঞানী সুখুয়ান্থ ডালিওয়ালি প্রমাণ করেছেন যে, আজ ব্রিটেনের সমাজে অস্থিরতার মূলে রয়েছে ধর্ম।

অধ্যাপক ওয়াহিদার কাছে সঠিক উত্তর জানা ছিল এ ব্যাপারে আমি নিঃসন্দেহ। তবু তিনি এমন সব উদাহরণ দিলেন যেন কোনো মুসলমান শিক্ষার্থী তার উপর নারাজ না হয়। ইসলামি জঙ্গিদের হাতে মানুষ মরলে তার বিরুদ্ধে কী করা দরকার সে প্রসঙ্গ সম্পূর্ণ হারিয়ে গেল এ আলোচনায়।

|| তিন ||

সংলাপের শেষের দিকে বাবু ও অভিজিতের হত্যাকাণ্ড নিয়ে দুজন সাহসী দর্শক প্রশ্ন রাখলেন। তারা দুজনেই নারী। তাদের প্রশ্ন হচ্ছে, জিহাদিরা যে এভাবে মানুষকে কুপিয়ে মারছে, তাহলে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে? এর উত্তর সারা হোসেন ছাড়া আর কেউ আন্তরিকভাবে দিতে চাননি। আবদুল হান্নান প্রশ্নটি নিয়ে হাসলেন, যেন এটি একটি মশকরার বিষয়। আর মাননীয় মন্ত্রী দ্রুত সারা হোসেনের প্রস্তাবিত বিশেষ বাহিনী গড়ার ধারণা সম্পূর্ণ বাতিল করে দিলেন। জিনাত পরিস্কার করে কিছু না বলে শুধু সহনশীল হবার পরামর্শ দিলেন। স্বীকার করলেন যে, নিরাপত্তা বলে কিছু নেই আমাদের দেশে।

এতে শেষের প্রশ্নটির উত্তর পাওয়া গেল না। প্রশ্নকারী নিজেই ধরিয়ে দিলেন যে, অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড সরকারের তথাকথিত নিরাপত্তা বাহিনীর চোখের সামনেই ঘটেছিল। প্রশ্ন হচ্ছে, কার ইশারায় এবং কাদের মদদে এ খুন সম্ভব হয়েছে? এক মাস ধরে খুনিদের ধরা গেল না কেন তা কেউ বলতে চান না। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিচারকাজ শুরু হচ্ছে না কেন? কেউ মন্তব্য করতে নারাজ। এমনকি সুচিন্তিত ও মুক্তবুদ্ধির সমাজ বিজ্ঞানীও পুরো সত্য সাহসের সঙ্গে উচ্চারণ করলেন না।

বিবিসির সংলাপ শেষ হলে আমার পাশে বসে থাকা ইংরেজভাষী ইতিহাসবিদ পোল ডাডমেন হেসে বললেন, “ধর্মের জাল থেকে বেরিয়ে আসা বড় কঠিন। তবে সমাজ বিজ্ঞানী ও আইনজীবীদের তা পারতেই হবে। তারা তথ্য এড়িয়ে গেলে গোটা বাংলাদেশ হেরে যাবে।”

মনে পড়ল, সেদিন ট্রাফেলগার স্কয়ারে ‘আমিই অভিজিৎ’ প্রদীপ মিছিলে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য শুধু অভিজিতের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই ছিল না, বরং সমস্ত মুক্তমনা ব্লগার ও লেখকদের হত্যার বিরুদ্ধে অনড় প্রতিরোধ গড়তে চেয়েছিল মানুষ। প্রগতিশীল চিন্তায় উজ্জীবিত মানুষের মিছিলটি বরফঠাণ্ডা বৃষ্টি আর ঝড়ো হাওয়া উপেক্ষা করে গেয়েছিল, ‘আগুনের পরশমনি ছোঁয়াও প্রাণে’। ভেবেছিল, এবার সরকার কিছু একটা করবে। জঙ্গিদের বিচার হবে। কিন্তু বিবিসি সংলাপে ব্লগারদের প্রতি মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি শুনে নতুন সন্ত্রাসের আতঙ্ক ছাড়া কিছুই মনে আসছে না।

সরকারি দল ও বিরোধী দলের রাজনীতিবিদদের মধ্যে অন্য সব বিষয়ে দ্বিমত থাকলেও একটি বিষয়ে এক অবস্থানে রয়েছেন। এখন সমাজ বিজ্ঞানী আর রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরাই পারেন মানুষকে বোঝাতে; সমাজে প্রগতি ও শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিতে।

ড. রুমানা হাশেম: যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডনের সেন্টার ফর মাইগ্রেশন, রিফ্যুজি ও বিলংগিংএর শিক্ষক।

১৮ Responses -- “যেখানে সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলেমিশে একাকার”

  1. ডঃ এম ইউ আহমেদ

    খ্যাত নামা বিজ্ঞানী । বিজ্ঞানে তাহার অবদান টা কি বলেন একটু শোনি ।

    Reply
  2. গোলাম রব্বানী

    নেতা, উকিল, মাস্টার এরা সবাই সমাজেরই তো প্রতিনিধি, তাই না? বাংলাদেশের মানুষ যেমন, এই চার ব্যক্তিও তেমন; এমনকি আপনার লেখার নিচে কমেন্টগুলোরও অনুপাত, দৃষ্টিভঙ্গি তেমন। আপনিই যে বরং সমাজে ‘বেখাপ্পা’ সেটা কমেন্টে মশিউর রহমান দেখিয়ে দিয়েছেন।

    একজন মানুষ যখন আন্তঃকল্পনায় ডুবে যায় এবং চারদিকে নির্দিষ্ট বিশ্বাসের উঁচু দেয়াল তুলে দেয়, তখন আপনি বাইরে থেকে চিল্লাপাল্লা করে কী করবেন? বাঙালিরা কখনও বাঙালি বলে আমার অন্তত মনে হয় না। এরা কখনও হিন্দু, কখনও মুসলমান এবং চিরকালের দাস। দাসেরা অজান্তেই ‘আমি’টা পুরোপুরি প্রভুত্বের কাছে সমর্পণ করে তবেই ভুমিষ্ঠ হয়।

    এই জনপদে এর বাইরে যা (মুক্তি, মুক্ত, স্ব ইত্যাদি), সব ব্যতিক্রম ও ক্ষণস্থায়ী। ফলে সে সবের উপর ভর করে লেখালেখি একটা জাতিবাস্তবতা এড়িয়ে যাওয়া।

    Reply
    • জহিরুল হক

      আপনি মনে হয় ধর্মকে আক্রমণ করে নাস্তিকদের কিছু বাড়াবাড়ির সমালোচনা করতে চেয়েছেন। তবে আরেকটু যুক্তি বা ব্যাখ্যা দিয়ে লিখলেই পারতেন। আসল কথা হল, মুক্তচিন্তা দোষের নয়, বরং একান্ত জরুরি। কারণ, মুক্তচিন্তা দিয়ে মানবজাতি এতদূর এগিয়ে এসেছে; বেড়েছে শিক্ষা, উন্নত চিকিৎসা, অধিকতর কৃষি উৎপাদন, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীমুক্তি এবং সর্বোপরি অন্যায়-অত্যাচারের প্রতিবাদ।

      সমস্যা হল, নাস্তিক বা মুক্তমনাদের কেউ কেউ না বুঝে নিরীহ ধার্মিকদের আক্রমণ করে বলেন, ‘আমরা মুক্তমনা’– এটা অবশ্যই দূর করতে হবে। তবে ধর্মচর্চার নামে কিছু লোক করেন ধর্মব্যবসা, ধর্মভীরুরা জেনেও তাদের রুখেন না। আর তাতে করে প্রশ্রয় পেয়ে যায় ধর্মব্যবসায়ী লুটেরা চক্র। এরা ইহুদি-মার্কিনদের সঙ্গে ঢলাঢলি করে মসজিদে বোমা মেরে মুসলমান হত্যা করে (সব অস্ত্র আমেরিকা আর ইসরাইলের তৈরি)। মুক্তিযুদ্ধের সময় এরাই তো খুন-ধর্ষণ করে আমাদের মা-বোনদের, অসহায় মানুষ, বুদ্ধিজীবীদের। বাংলার সাধারণ মুসলমান কখনও এসবে জড়িত ছিল না।

      যারা পবিত্র কোরআন শরীফে নিষিদ্ধ হত্যা-ধর্ষণকাজে লিপ্ত ছিল, তাদেরকে কি মুসলমান বলা যায়?

      Reply
  3. স্বদেশী

    আপনারা বিদেশের ট্রাফালগার স্কোয়ারে প্রতিবাদ করে ভাববেন বাংলাদেশকে প্রগতিশীল করবেন– সেটা আকাশকুসুম কল্পনা।

    ব্লগ বা চ্যাটরুম থেকে বের হয়ে দেশে এসে সামাজিক অন্যায় অবিচারের প্রতিবাদ করুন। আর যদি বিদেশ থেকে দেশে আসতে কষ্ট হয়, তাহলে প্রবাসে বসে দেশকে নিয়ে আগডুম বাগডুম চিন্তা বাদ দিন।

    Reply
  4. Shahid

    কিছু বকধার্মিক আস্তিক হওয়ার ভান করছে। অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা না করে বরং বিভিন্ন কৌশলে একে জায়েজ করার চেষ্টা করছে। যা ইসলামের জন্য মারাত্মক ক্ষতি।

    কারণ আযেব ইবনে উযায়েব নামে এক ব্যক্তি ‘মোহাম্মদ’ (স:) (অর্থ: প্রশংসিত) না বলে বিকৃত করে ‘মোজাম্মম’ (অর্থ: নিন্দিত) বলত। এতে তিনি ক্ষিপ্ত না হয়ে হেসে বলতেন, ‘মোহাম্মদ কখনও মোজম্মম হতে পারে না।’ কাজেই ইসলাম এত ঠুনকো জিনিস নয় যে, একটু কিছু বললেই তা ধ্বংস হয়ে যাবে। পবিত্র কোরআন নাম বিকৃত করতে এবং কাউকে মন্দ নামে ডাকতে নিষেধ করেছে (হুজরাত, আল কোরআন)।

    তা সত্ত্বেও জামায়াতে ইসলামীর পেশাদার বক্তা সাঈদী সাহেব জাহানারা ইমামকে বলতেন. ‘জাহান্নামের ইমাম’; নরসীমা রাওকে বলতেন, ‘নরপশু রাও’; মুক্তিযোদ্ধা সিআর দত্তকে বলতেন, ‘শিয়াল দত্ত’; অনেকের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক আহমদ শরীফকে বলতেন, ‘আহম্মক শরীফ’।

    অভিজিৎ রায়েরর শাস্তি যদি মৃত্যুদণ্ড হয় তাহলে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড নয় কেন? তা সত্ত্বেও নাস্তিকরা সাঈদীকে হত্যা করেনি। এখানে নাস্তিকরা মোল্লাদের তুলনায় নৈতিক দিক থেকে উচ্চে প্রমাণিত হয়। এ ব্যাপারে সকল ধর্মকে অভয় দিয়ে বলতে পারি, এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআনে শাস্তি নেই।

    এহেন নামবিকৃতিকে ইসলাম পছন্দ করে না। মহানবী (স:) বলেছেন, সুন্দর নামে ডাক। যদি কারও নাম অসুন্দর এবং অশুদ্ধ হত, তাহলে তিনি ঐ নাম সুন্দর এবং শুদ্ধ করে দিতেন (হাদিস মেশকাত দ্রষ্টব্য)।

    পরিশেষে, আমি আস্তিক ভাইদের বলব, আল্লাহর আইন আর মোল্লার আইন এক নয়। আসুন আমরা আল্লাহর আইন অনুসরণ করি। আমাদের আচরণ যেন এমন না হয় যাতে অন্যরা ইসলাম সম্পর্কে ভুল বুঝতে পারে।

    Reply
    • আব্দুুর রহমান

      আপনি লিখেছেনঃ
      “পরিশেষে, আমি আস্তিক ভাইদের বলব, আল্লাহর আইন আর মোল্লার আইন এক নয়। আসুন আমরা আল্লাহর আইন অনুসরণ করি। আমাদের আচরণ যেন এমন না হয় যাতে অন্যরা ইসলাম সম্পর্কে ভুল বুঝতে পারে।”

      আমার প্রশ্নঃ
      এখানে ‘অন্যরা’ বলতে কাদের বুঝাচ্ছেন? অন্যরা বলতে “অন্য সবাই” হলেই ভাল- কারণ জনগণ যারা বিভ্রান্ত তাদেরকে বিষয়টা বুঝতে হবে, একই সাথে নাস্তিকদের মধ্যে ধর্ম বিষয়ে খুব বেশী নেগেটিভ ধারণা করেন তাদেরও

      Reply
  5. মশিউর রহমান

    এতো কথা পেঁচিয়ে নিজেদের ‘মুক্তমনা’ বলে পরিচয় দিতে লজ্জা করে না? ‘মুক্তমনা’ মানেই কি অপরের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে ব্লগে, সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি করা?

    আগে অপরের ধর্ম ও মূল্যবোধে সম্মান দিতে শিখুন।

    Reply
  6. পথিক

    মানুষ হত্যা করার মতো অপরাধ যাতে না ঘটে, সে জন্য সবাইকে নিজের জায়গা থেকেই প্রতিবাদ করতে হবে। ভিন্নমতাবলম্বী হলেই তাকে হত্যা করতে হবে কেন?

    কোনো হত্যারই ক্ষমা নেই…

    Reply
  7. আহমেদ

    যারা কলমের জবাব চাপাতি দিয়ে দেয়, আমার মনে হয় তারা শিক্ষিত মানুষ চায় না, কসাই চায়।

    আর যারা যেমন তারা তেমন চাইবে, এতে আর অবাক হওয়ার কী আছে???

    Reply
  8. সৈয়দ আলি

    “.. ধর্ম নিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি খুব সুবিধের নয়।”

    — এটিই হচ্ছে লাখ কথার এক কথা।

    Reply
  9. সাদেক মোহাম্মদ

    আপনি লিখেছেন:

    “সংলাপের শেষের দিকে বাবু ও অভিজিতের হত্যাকাণ্ড নিয়ে দুজন সাহসী দর্শক প্রশ্ন রাখলেন। তারা দুজনেই নারী। তাদের প্রশ্ন হচ্ছে, জিহাদিরা যে এভাবে মানুষকে কুপিয়ে মারছে, তাহলে আমাদের জীবনের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে? এর উত্তর সারা হোসেন ছাড়া আর কেউ আন্তরিকভাবে দিতে চাননি। আবদুল হান্নান প্রশ্নটি নিয়ে হাসলেন, যেন এটি একটি মশকরার বিষয়। আর মাননীয় মন্ত্রী দ্রুত সারা হোসেনের প্রস্তাবিত বিশেষ বাহিনী গড়ার ধারণা সম্পূর্ণ বাতিল করে দিলেন। জিনাত পরিস্কার করে কিছু না বলে শুধু সহনশীল হবার পরামর্শ দিলেন। স্বীকার করলেন যে, নিরাপত্তা বলে কিছু নেই আমাদের দেশে।”

    আমার মন্তব্য:

    আবদুল হান্নান নামটি মনে হয় হান্নান শাহকে বলা হয়েছে। আমাদের দেশে মৌলবাদ বা নাস্তিকতাবাদ কোনো কিছুই কিন্তু বিধি মেনে চলছে না। ধর্মব্যবসায়ীরা খুন-ধর্ষণ জায়েজ মনে করে। সুদ-ঘুষের বিরুদ্ধে ফরজ জেহাদের ডাক দেন না। একইভাবে নাস্তিকরা ব্যক্তিজীবনে অনেক অনৈতিক কাজ করে নিজেদের নাস্তিকতা নিয়ে বড়াই করেন। ফলে এঁদের কোনো যুক্তি সাধারণ মানুষ সহজে মেনে নিচ্ছে না। আর তারা উভয়েই (কাঠমোল্লা বা নাস্তিক) চরম হতাশায় নিমজ্জিত।

    Reply
    • shaman

      সাদেক মোহাম্মদ, আপনি বলেছেন, “একইভাবে নাস্তিকরা ব্যক্তিজীবনে অনেক অনৈতিক কাজ করে নিজেদের নাস্তিকতা নিয়ে বড়াই করেন।”

      — আপনার কাছে আবেদন:

      নাস্তিকরা কী ধরনের অনৈতিক কাজ করছে তাদের ব্যক্তিজীবনে, তার একটা ফর্দ দিন তো। তথ্যসূত্র উল্লেখ করবেন সে সঙ্গে। মনের মাধুরী মিশিয়ে কোনো কিছু তুলে ধরবেন না, প্লিজ।

      ধন্যবাদ আপনাকে।

      Reply
      • সাদেক মোহাম্মদ

        ফর্দ দিচ্ছি:

        ১. আমাদের দেশের নাস্তিকরা ধার্মিকদের প্রতি স্বাভাবিক শ্রদ্ধা দেখাতে ব্যর্থ, প্রমাণ চান? ঠাণ্ডা মাথায় আপনার আশেপাশের ধার্মিক কাউকে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিন। সমাজে বাস করতে গিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ পোষণ করা জরুরি। আর তাতে বারবার ব্যর্থ হওয়া কি নাগরিকসুলভ? আর এ ধরনের আচরণ কি নৈতিক?

        ২. তারা জানে না যে, অনেক ধার্মিক লোক এ দেশে আছেন যারা মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক, কিন্তু ধর্মের লেবাসধারী খুনি-ধর্ষকেদের সমালোচনা করতে গিয়ে তারা সাধারণভাবে ধর্মকে নানাভাবে আক্রমণ করে বসেন।

        ৩. আমরা সমাজবদ্ধ জীব, পশু নই। সুতরাং সমাজের আচরণ মেনে চলতে হবে। কিন্তু বেশিরভাগ নাস্তিক তা মানতে চান না। কেউ যদি নেশা করে, অন্য যে কোনো সমাজবহির্ভূত কাজ করে অথবা inter-religious marriage সম্পর্ক গড়েন, তারা আমাদের সমাজে সহজে গ্রহণযোগ্য নয় (আমি নিষিদ্ধ বলছি না, বলছি সহজে গ্রহণযোগ্য নয়)। এ সব ক্ষেত্রে সতর্ক এবং সমাজের অন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে চলা উচিত। নাস্তিকরা কি তা করেন?

        ৪. যারা ঘোষণা দিয়ে নাস্তিক আমি তাদের কথাই বলছি। অন্যদের আমি ততটা দায়ী করি না। কারণ অন্যের ধর্মে আঘাত না দিয়ে গোপনে ধর্মাচার বা নাস্তিকতা অনুসরণ সামাজিক সমস্যা করে না।

      • কাঁঠালজনতা

        সাদেক মোহাম্মদ, আপনার কমেন্টে যুক্তি বা রেফারেন্স বলে যে চালাতে চেয়েছেন, তা আসলে ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ।

        এত কথা না বলে শুধু একটি উদাহরণ দিন পুরো মানবসভ্যতার ইতিহাস ঘেঁটে, যেখানে ধর্মচর্চার কারণে একজন নাস্তিক হত্যা করেছে কোনো আস্তিককে। কিন্তু ধর্মরক্ষার নামে নাস্তিকদের, ভিন্নধর্মপালনকারীদের, এমনকি নিজ ধর্মের ভিন্নমতাদর্শীদের হত্যার কত নজির দেখতে চান?

        ধার্মিকেরা যদি নিজেদের মতামত প্রচার করতে পারে, তাহলে নাস্তিকেরা কেন তা পারবে না? উচ্চকণ্ঠ নাস্তিকের অস্ত্র হল কলম আর যুক্তি। সেখানে উচ্চকণ্ঠ আস্তিকেরা ব্যবহার করে চাপাতি, ভোজালি, এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র। সে সঙ্গে নাস্তিকদের সামাজিকভাবে হেনস্থা তো করা হয়ই।

      • সাদেক মোহাম্মদ

        তা হলে আপনি কি চান এখন নাস্তিকরা খুনাখুনিতে নেমে পড়ুক – তাতে করে যুক্তি-উদাহরণ পাওয়া যাবে!
        আমি “যুক্তি বা রেফারেন্স”কে বেশী গুরুত্ব দেব না , কারণ সব কিছুতেই পাল্টাকিছু থাকতে পারে, আমার উপরের দুটি লেখাই ভাল করে পড়ুন। আমি সকল পক্ষকে নিজ নিজ কাজের ফল বা প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন হতে বলেছি – আমাদের দেশে নাস্তিক এবং চরমপন্থীদের (রাজনীতি বা ধর্ম নিয়ে) মধ্যে এ সবের বালাই নেই এবং যার ফলে তাঁদের কোন কিছু মানুষ শুনতে চায় না। প্রত্যেকের উচিৎ নিজ কাজের ফলাফল কি হচ্ছে সে দিকে খেয়াল রাখা। মৌলবাদীরা খুন-ধর্ষনের মধ্যে জড়িয়ে পড়ছে এবং মনে করছে ধর্মের দোহাই দিয়ে তাঁরা রেহাই(!) পাবে। একইভাবে নাস্তিকরা অন্য ধর্মের বিশ্বাস (মহান সৃষ্টিকর্তা, ধর্মের বানী বা প্রেরিত পুরুষ) নিয়ে আপত্তিকর ভাষা প্রয়োগ করে এবং সমাজে গ্রহণযোগ্য নয় চলন-বলনে সেভাবে চলে যার ফলে সাধারণ মানুষ তাঁদের কোন কিছুই গ্রহন করতে চায় না। আমরা কি পারি না সুন্দরভাবে চলতে, সৎ ও আদর্শ জীবন অনুসরণ করে চলতে যাতে আমাদের আমাদের কথা সবাই অন্ততঃ মনোযোগ দিয়ে শুনে? হজরত মুহাম্মদ(সাঃ)এবং সাহাবীরা যে সুন্দর জীবনাদর্শ নিয়ে চলেছেন তা ঠিকমত অনুসরণ করলে পরবর্তীকালে মুসলমানদের এই দুরবস্থা হত কি? আর নাস্তিকদেরকে মারধোর বা কটু কথা বলতেও রসুল(সাঃ) নিষেধ করতেন – যুদ্ধের ময়দান ছাড়া মানুষ মানুষকে খুন করতে পারে না যদি ইসলামকে অনুসরণ করা হয় – আজকের মৌলবাদীরা কতটুকু মানেন? নাস্তিকরা যদি সৎ ও সুন্দরভাবে জীবনযাপন করেন, পাপ কাজ থেকে দূরে থাকেন তা হলে আল্লাহ্‌ হেদায়েত করলে তাঁরাও পরকালে মুক্তি পেতে পারেন। অনেক নাস্তিক-বিধর্মী সচেতন থাকেন ব্যক্তিগত জীবনে সৎ হতে। আর তা না করে নাস্তিকদের মধ্যে কিছু বিভ্রান্ত লোক নিরীহ মুসলমান বা অন্য ধর্মের সরল অনুসারীদের অযথা আক্রমণ করেন , কটাক্ষ করেন। খুনী-ধর্ষক-ঘুষখোর যে ধর্মের অনুসারীই হোন তিনি পাপী, নিন্দার পাত্র। কিন্তু পাপীদের পাপের জন্য তাঁর ধর্মকে কটাক্ষ করতে হবে কেন?

  10. বিপ্লব রহমান

    খুন হওয়া “নাস্তিক ব্লগার”দের অপরাধ শনাক্ত হয়েছে, তাই খুনের বিচার চেয়ে লাভ কী? তার চেয়ে আসুন বলি, অভিজিৎ রায় নামে কেউ ছিল না, ওই নামে কেউ খুনও হয়নি।

    জিও পাকিস্তান অর চাপাতিস্তান! 😛

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—