Feature Img

Farid Ahmedফোনটা আসে ঠিক দুপুরের দিকে, ভয়ংকর এক অশুভ সংকেত হয়ে। ফোনের স্ক্রিনে নাম্বার দেখেই টের পাই যে বাংলাদেশ থেকে এসেছে। হ্যালো বলতেই, ওপাশ থেকে ভেসে আসে শ্যালক রানার কণ্ঠ: “মিলটন ভাই, আপনার জন্য একটা খারাপ খবর আছে। আপনার বন্ধু অভিজিৎ রায় খুন হয়েছেন। তাঁর ওয়াইফও আহত।’’

ওর সঙ্গে আমার আর কী কী কথা হয়েছে কিছুই মনে নেই এখন। ফোনটা রেখেই ত্বরিৎগতিতে ‘প্রথম আলো’ খুলি। মন বলছে, এ সবের কিছুই সত্যি নয়। কিন্তু খুলে দেখি সত্যি সত্যিই ঘটেছে এটি। অভি নিহত, চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে তাকে। বন্যাও গুরুতরভাবে আহত।

স্তব্ধ হয়ে বসে থাকি আমি। গত এক দশকের কত স্মৃতি, কত হাস্য-রসিকতা, কত স্বপ্ন, কত পরিকল্পনা, কত কিছু দুজনে একসঙ্গে। দুজনে বললেও ভুল হবে, আমার আসলে বলা উচিত, তিনজনে মিলে। বন্যাও জড়িত থাকত প্রায় সবকিছুর সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে। দশ বছরে আমাদের সামনাসামনি দেখা হয়েছে মাত্র একবার। কিন্তু প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে যোগাযোগ হয়েছে আমাদের, হয়েছে চিন্তার আদান-প্রদান। সেই অভি আর নেই।

প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে যোগাযোগ হয়েছে আমাদের, হয়েছে চিন্তার আদান-প্রদান
প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে যোগাযোগ হয়েছে আমাদের, হয়েছে চিন্তার আদান-প্রদান

শুধুমাত্র মুক্তমনার প্রতিষ্ঠাতা ছিলো না সে, বাংলাদেশে মুক্তবুদ্ধির যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল অনলাইনে তার পুরোধা ছিল সে। যুগে যুগে তাকে স্মরণ করা হবে তার এই ভূমিকার জন্য। বিজ্ঞান লেখক হিসাবেও সে অনন্য। সাহিত্যসমৃদ্ধ সুললিত ভাষায় বিজ্ঞানের একেবারে সর্বশেষ ও প্রান্তিক বিষয়গুলো নিয়ে এমন সুখপাঠ্য বই আর কেউ লেখেনি কখনও। জনপ্রিয়তা সব সময় শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি নয়, কিন্তু অভির ক্ষেত্রে এই দুইয়ের সমন্বয় ঘটেছিল অসাধারণভাবে।

চৌদ্দ বছর আগে দেশ ছেড়েছিলাম। শ্বেতশুভ্র বরফের দেশ কানাডায় এই আমি তখন ক্ষ্যাপার মতো ঘোরাফেরা করি আর সব কিছুতেই খুঁজে বেড়াই স্বদেশের পরিচিত আদরমাখা সুশীতল পরশ। প্রতিদিন বেশ খানিকটা সময় ব্যয় হয়ে যেত খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বাংলাদেশের দৈনিক আর সাপ্তাহিক পত্রিকাগুলো ইন্টারনেটে পড়ার কারণে।

একদিন ‘যায় যায় দিন’ পত্রিকায় কুদ্দুস খানের একটা লেখা থেকে পেয়ে যাই ‘ভিন্নমত’ নামের একটি ওয়েবসাইটের ঠিকানা। দেখি অসাধারণ আর বিচিত্র সব বিষয় নিয়ে রংবেরংএর অসংখ্য প্রবন্ধ দিয়ে ভরপুর ওয়েবসাইটটি। সে সমস্ত প্রবন্ধের আবার বিরাট একটা অংশ জুড়েই ছিল পুরোপুরি প্রথাবিরুদ্ধ লেখা।

আমার দৃষ্টি বিশেষভাবে কেড়ে নিল এক অকুতোভয় তরুণের লেখা। খাপখোলা তলোয়ারের মতো তীক্ষ্ণ শাণিত যুক্তি, ঝরঝরে প্রাঞ্জল ভাষা, তত্ত্ব আর তথ্যের সুসংবদ্ধ উপস্থাপনা এবং বিতর্কের এক অত্যাধুনিক স্টাইলে একের পর এক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে যাচ্ছিল সে।

সেই তরুণের ক্ষুরধার বুদ্ধি, জ্ঞানের অতলস্পর্শী গভীরতা, চিন্তার আধুনিকতা এবং ভাষার সাবলীলতা দেখে তার ভক্ত হয়ে যাই। অজানা, অচেনা এক তরুণ বেশ বড়সড় একটা জায়গা করে নেয় মনের মণিকোঠায়। গভীর আগ্রহ নিয়ে বসে থাকতাম তার পরবর্তী লেখা পাওয়ার আশায়।

এরই মধ্যে একদিন দেখলাম, সেই তরুণ নিজেই খুলে ফেলেছে দারুণ ঝকঝকে, তকতকে, স্মার্ট এবং ব্যতিক্রমী একটি ওয়েবসাইট। সেই তরুণটি আর কেউ নয়, সে আমাদের সকলের প্রিয় অভিজিৎ রায়। সেই ওয়েবসাইট হল আমাদের সবার প্রিয়, সবার ভালবাসায় সিক্ত, ‘মুক্তমনা’।

সেই তরুণ নিজেই খুলে ফেলেছে দারুণ ঝকঝকে, ব্যতিক্রমী একটি ওয়েবসাইট
সেই তরুণ নিজেই খুলে ফেলেছে দারুণ ঝকঝকে, ব্যতিক্রমী একটি ওয়েবসাইট

তখন ২০০১ সাল। মূলত অভিজিৎ এককভাবেই এর প্রতিষ্ঠাতা। আরও কেউ কেউ যে ছিলেন না এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, সেটা বলছি না। আসলে একটি আলোচনাচক্রের মাধ্যমে এর জন্ম। কিন্তু জন্মসময় এবং জন্মের পরে এর বিকাশে অভিজিতের একক অবদান অনেক বেশি প্রত্যক্ষ, প্রাচুর্যময় এবং প্রধানতর। মানবমনের বৌদ্ধিক বিকাশে যুক্তি, বুদ্ধি এবং বৈজ্ঞানিক চিন্তাচেতনার গুরুত্ব বৃদ্ধিই ছিল এর মূল কাজ।

মুক্তমনার বিরুদ্ধে গুরুতর একটি অভিযোগ হচ্ছে যে, এটি ধর্মবিরোধী, বিশেষ করে ইসলামবিরোধী। মুক্তমনা অবশ্যই ধর্মবিরোধী, এতে লুকোছাপার কিছু নেই। কিন্তু এখানে কোনো ধর্মের প্রতি বিশেষ পক্ষপাত নেই। ইসলাম নিয়ে লেখা বেশি আসে মুক্তমনায় শুধুমাত্র এ কারণেই যে, এর বেশিরভাগ সদস্যই মুসলিম পরিবার থেকে এসেছেন; তাঁদের জন্য ইসলাম নিয়ে লেখা যতটা সহজতর, অন্য ধর্ম নিয়ে ততটা নয়। তবে সংখ্যায় কম হলেও, অন্য ধর্মগুলোর তীব্র সমালোচনা করতে মুক্তমনা কখনও দ্বিধা করেনি।

শুধুমাত্র ধর্মের সমালোচনা করার মতো সংকীর্ণ গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকার জন্য মুক্তমনার জন্ম হয়নি। একে একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন হিসেবে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছি আমরা। আলাপ, আলোচনা আর তর্কবিতর্কের মাধ্যমেই সেটা সম্ভব। মানুষ যখন এগুলো সম্পর্কে সচেতন হবে, তখন আপনাআপনি ভ্রান্ত বিশ্বাসের কবল থেকে বের হয়ে আসা তাদের পক্ষে সহজ হবে।

নিরন্তর এই লড়াইয়ের পাশাপাশি মানবতা ও ন্যায়ের পক্ষেও কাজ করে যাচ্ছে মুক্তমনা। যেখানেই মানবতা লঙ্ঘিত হচ্ছে, সেখানেই মুক্তমনা তার সামর্থের শেষ বিন্দু দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। হোক না তা বাংলাদেশে, ভারতে, ফিলিস্তিনে বা ইরাকে। মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধেও মুক্তমনা সোচ্চার কণ্ঠ।

বই মেলায় গিয়েছিল বন্যা আর অভিজিৎ সেদিন। বই মেলাকে সবাই বলে প্রাণের মেলা। অভিজিতের মতো পড়ুয়া একজন মানুষের জন্য এটা আরও বেশি কিছু। এবার অবশ্য অন্য তাগিদ ছিল বেশি। অভিজিতের দুটো বই প্রকাশিত হয়েছে এই মেলায়– ‘শূন্য থেকে মহাবিশ্ব’, ‘ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো: এক রবি-বিদেশিনীর খোঁজে’। দুটোই অসাধারণ মানের বই। মেলার প্রথম দিন থেকেই বিক্রি হচ্ছে দুরন্ত গতিতে।

আমরা যখন ছাত্র ছিলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে ভাবা হত বাংলাদেশের সবচেয়ে মুক্তবুদ্ধিসম্পন্ন এলাকা। মাত্র বিশ বছরের ব্যাবধানে সেই ক্যাম্পাস এখন পরিণত হয়েছে দুর্বৃত্তদের পদচারণায় মুখর।

মুক্তমনার শুরুর দিক থেকেই আমরা নানা ধরনের হুমকি পেতাম, শুনতাম অশ্লীল খিস্তিখেউড়। আমি পেতাম কম, অভিজিৎ অনেক বেশি। এসব হুমকির বেশিরভাগই আসত ইমেইলে। নানা ধরনের গালিগালাজসমৃদ্ধ ছিল সে সব হুমকি। আমরা এগুলো পাত্তাও দিতাম না। বরং নানা সময়ে রসিকতাই করেছি এ নিয়ে। এগুলো সিরিয়াসলি না নেবার পিছনে অবশ্য তখন যুক্তিও ছিল আমাদের কাছে। সে সময় মূলত ব্লগেই লিখতাম আমরা। সেখানে আমাদের ছবি ছিল না, পরিচিতিও নয়। কোথা থেকে লিখছি সেটা নিজে না বলে দিলে কারও পক্ষেই অনুমান করা সম্ভব ছিল না। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র উপায় ছিল ইমেইল।

কিন্তু ফেসবুকে আমরা সক্রিয় হবার পর পরিস্থিতি রাতারাতি পালটে গেল। এখন অনেকেই আমাদের চেহারায় চেনে। অভিজিতের জন্য কাল হল আর বেশি। সে ফেসবুকে অনেক বেশি সক্রিয়, অনেক বন্ধু তার। এ সময় থেকেই আসলে হুমকিগুলো সিরিয়াস দিকে টার্ন নিতে থাকে। নানাজন তাকে হুমকি দিতে থাকে।

এর মধ্যে বহুল প্রচারিত হুমকিটি ছিল ফারাবির। রাজীব হায়দার হত্যাকাণ্ডের পর তার জানাযা পড়িয়েছিলেন যে ইমাম তাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার মধ্য দিয়ে লাইমলাইটে আসে সে। এর পরপরই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। কিন্তু বেশিদিন আটকে রাখেনি। এই আটক হওয়াটাই ফারাবিকে উচ্চতর অবস্থানে নিয়ে যায়। অসংখ্য গুণমুগ্ধ অনুসারী জুটে যায় তার। আর এর প্রভাবেই একে-ওকে-তাকে অহর্নিশ মৃত্যুর হুমকি দিতে থাকে সে।

অভিজিতের সঙ্গে তার প্রথম ঝামেলা শুরু হয় অভিজিতের একটা লেখা কেন্দ্র করে। সেটির শিরোনাম, ‘বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নতুন সংযোজন ‘ধর্ম ও নৈতিকতা’ নিয়ে কিছু কথা’। লেখায় অভিজিৎ জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নতুন প্রস্তাবিত ‘ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ বইগুলোর কিছু সমালোচনা করেছিল। সে রেফারেন্স দিয়েই ধর্মের অনৈতিক বিষয়গুলো তুলে ধরেছিল। কিন্তু লেখাটি পড়ে গভীরভাবে গোস্বা করে ফারাবি। অভিজিতকে হত্যার ফতোয়া জারি করে সে। অভিজিৎ একা নয়, মুক্তমনার সকল নাস্তিক ব্লগারদের পাথর ছুঁড়ে হত্যা করার হুমকিও দেয় সে।

অভিজিৎ একা নয়, মুক্তমনার সকল নাস্তিক ব্লগারদের পাথর ছুঁড়ে হত্যা করার হুমকিও দেয় সে
অভিজিৎ একা নয়, মুক্তমনার সকল নাস্তিক ব্লগারদের পাথর ছুঁড়ে হত্যা করার হুমকিও দেয় সে

আগে যে সমস্ত হুমকি ছিল কাগজেকলমে সীমাবদ্ধ, সেগুলোই গুরুত্ববহ হয়ে ওঠে ২০১৩ সালে রাজীব হায়দারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকে। ২০১৪ সালে গলা কেটে হত্যা করা হয় মাওলানা ফারুকীকে, তাঁর নিজের বাসায়। তিনি উদারপন্থী বলে পরিচিত ছিলেন। বোঝা যায় যে, অন্তর্জালে যুক্তিবাদ এবং নাস্তিকতার যে চর্চা চলছে, তাকে সশস্ত্র আক্রমণ করেই নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে ধর্মীয় মৌলবাদীরা। এর মধ্যে ফারাবি গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অভিজিত হত্যার পরিকল্পনার ঘোষণা দেয়।

এ সমস্ত হুমকিতে অভিজিৎ ভয় পায়নি, কিন্তু সতর্ক যে ছিল না, সেটা বলা যাবে না। দেশে গেলে সমস্যা হতে পারে, সে আশংকাও ছিল তার মনে। কিন্তু সেই অভিজিতই দেশে যাবার পর বই মেলার টানে নিজের সফরটা লো লেভেলে রাখতে পারেনি। রাখতে পারার কথাও নয়। নিজস্ব গুণে সে পরিণত হয়েছিল সেলিব্রিটিতে। বইয়ের মোড়ক উদ্বোধন করেছে সে; নিজের বইয়ের অটোগ্রাফ দিয়েছে; পাঠকদের সঙ্গে ছবি তুলেছে; সমমনা লেখক, পাঠক, গুণগ্রাহীদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছে; আড্ডা দিয়েছে প্রশ্নবিদ্ধ সংগঠনের মানুষজনদের সঙ্গেও। আর এর মাধ্যমে নিজেকে পরিণত করেছে মৌলবাদীদের সহজতর শিকারে।

প্রতিটা যুগেই মুক্তচিন্তা যাঁরা করেছেন, সমাজকে নিয়ে যেতে চেয়েছেন সামনের দিকে, গাঢ় অন্ধকার দূর করতে চেয়েছেন প্রদীপ জ্বেলে– প্রতিক্রিয়াশীল স্বার্থপর গোষ্ঠী তাঁদের সহ্য করতে পারেনি। নৃশংসভাবে হামলে পড়েছে মুক্তবুদ্ধি, মুক্তকচিন্তা রুদ্ধ করতে। ভয়ানক আক্রোশে ঝাঁপিয়ে পড়েছে আলোর মশাল নিভিয়ে দিতে। তাঁদের এই আক্রোশে, নৃশংস হামলায় রক্ত ঝরেছে মুক্তচিন্তকদের। তাঁদের শরীর থেকে চুইয়ে চুইয়ে রক্ত পড়েছে রুক্ষ মাটিতে। বন্ধ্যা মাটি সেই রক্তে হয়ে উঠেছে উর্বর। মুক্তচিন্তকদের রক্তবীজ থেকে বের হয়ে এসেছে আরও অসংখ্য মুক্তচিন্তার মানুষ।

অদ্ভুত এক আঁধার নেমে এসেছে আজ বাংলাদেশে। এখানে মুক্তবুদ্ধির চর্চা আর কোনোভাবে নিরাপদ নয়। অসহিষ্ণুতা এমনই সর্বব্যাপী যে, বিপরীত চিন্তা, বিশেষ করে ধর্মের সমালোচনাবিষয়ক কোনো কিছু সহ্য করতে পারছে না কেউ। সমাজটাও হয়ে উঠেছে ধর্মাচ্ছন্ন। দিকে দিকে শুধু ধর্মানুভূতি আহত হবার জিগির। এ আঘাতে আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তি তখন মরিয়া হয়ে ঘুরে বেড়ায় রক্তের নেশায়। সে উত্তেজনা ও ক্ষিপ্ততায় এখন বাংলাদেশও কাঁপছে। মুক্তচিন্তার লেখকদের জান হাতে রেখে লেখালেখি করতে হয়। অসীমসাহসী না হলে নিজের নামে আর লিখছে না কেউ।

আরেকটি মর্মান্তিক খবর এল। ৩০ মার্চ বাংলাদেশ সময় সকাল পৌনে ১০টার দিকে বাসার কাছেই রাস্তার মধ্যে তিনজন চাপাতি নিয়ে ব্লগার ওয়াশিকুরের ওপর হামলা চালায়। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বিভিন্ন ব্লগে নিয়মিত লেখালেখি করতেন। এ কারণে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

দেশের বাইরে যাঁরা আছেন তাঁরাও যে নিরাপদ নয়, সেটা অভিজিৎ রায় এবং বন্যা আহমেদকে দেখেই বোঝা গেছে। বিদেশে থাকি আর যেখানেই থাকি না কেন, আমাদের সবার শিকড় তো পোঁতা রয়েছে বাংলাদেশেই। কোনো না কোনো প্রয়োজনে ফিরতেই হয় সেখানে।

অভিজিৎ হত্যার এক মাস পার হয়ে যাবার পরও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। খুনি বা খুনিদের ধরা তো দূরের কথা, কে তাকে খুন করতে পারে, সে সম্পর্কেই পুলিশের ধারণা নেই। সেই শুরুতে তারা যেখানে ছিল, সেখানেই পড়ে আছে আজকেও। ২২শে মার্চ মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন যে, অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড ‘ক্লু-লেস’ হওয়ায় এর সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মনিরুল যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে প্রবলভাবে শঙ্কিত না হয়ে উপায় নেই। প্রকাশ্য রাজপথে অসংখ্য মানুষের সামনে সংঘটিত খুনের ‘ক্লু’ যদি পুলিশ ঘটনার এক মাস পরও বের না করতে পারে, তবে সে খুনের তদন্তে কী ফলাফল বেরিয়ে আসবে, সেটি সহজেই অনুমেয়।

ব্লগার রাজীব হায়দারের খুনিদের অবশ্য পুলিশ ধরতে পেরেছে। তারা পাঁচজনই এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। ঘটনা এ পর্যন্তই। এদের কবে বিচার হবে, কবে সাজা হবে, আদৌ হবে কিনা, তার আমরা কিছুই জানি না।

ব্লগার রাজীব হায়দারের খুনিদের পাঁচজনই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে, ঘটনা এ পর্যন্তই
ব্লগার রাজীব হায়দারের খুনিদের পাঁচজনই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে, ঘটনা এ পর্যন্তই

বাংলাদেশে বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, সেটাই হত্যাকারীদের উৎসাহ দিয়ে চলেছে অবিরাম। এখানে অপরাধ ঘটানো সুলভ, বিচার পাওয়াটা দুর্লভ। তাই তো অভিজিৎ হত্যার এক মাস পর বন্যা আহমেদকে বিবৃতি দিতে হয় সুষ্ঠু তদন্ত আর ন্যায়বিচার চেয়ে। বিচারের জন্য কেন রাষ্ট্রের কাছে কাকুতি-মিনতি করতে হবে? কেন ভিক্ষা চাইতে হবে? রাষ্ট্রের তো স্বাভাবিক দায়িত্ব অপরাধীদের ধরা, তাদের সাজা দেওয়া। সেই স্বাভাবিক আচরণটা করতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে রাষ্ট্র।

অভিজিতকে অকালে, অকস্মাৎভাবে হারানোটা মুক্তমনাদের জন্য বিশাল বড় একটা ধাক্কা। বিপুলভাবে বিচলিত আমরা শুরুতে থমকে গিয়েছি, সংশয়ে পড়েছি, দ্বিধাগ্রস্ত আচরণও করেছি কেউ কেউ। এতে দোষের কিছু নেই। অভিজিৎ এককভাবে বিশাল এক ছাদ হয়ে সবাইকে ছায়া দিয়ে গিয়েছে এতদিন। শুরুর বিচলিত অবস্থা দ্রুত সামলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে মুক্তমনারা। অসুরবধ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। দ্রোহের আগুনে পুড়িয়ে দেব ঘরদোর।

আমাদের চারপাশে জমে থাকা সহস্রাব্দের অন্তহীন আঁধার দূরে সরিয়ে জানি একদিন ভোর হবে। দিগন্তের কাছে ক্ষীণ অস্পষ্ট যে আলোর রেখা দেখা যাচ্ছে, তার আড়ালেই তো লুকিয়ে আছে অনাগত সূর্যের উজ্জ্বল হাসি।

ফরিদ আহমেদ: মডারেটর, ‘মুক্তমনা’।

২২ Responses -- “একের পর এক হত্যাকাণ্ড অতঃপর মুক্তমতের প্রকাশ”

  1. তাজ

    জনৈক রিচার্ড সাহেব একটি মন্তব্য করেছেন-
    “আপনি মানুষকে জিহবা দিয়ে আক্রমণ করবেন আর কলমের নিব দিয়ে খোঁচাতে থাকবেন মানুষের চোখে আর মগজে….. এর নাম মুক্তচিন্তা?!! মানুষের জিহ্বায় এত বিষ কেন? চাপাতির চেয়ে জিহ্বা অনেক বেশী ধারালো? চাপাতি দিয়ে ক’জনকে আক্রমণ করা যায়? আর জিহবা দিয়ে……………..?। ”
    আচ্ছা, বাবু হত্যাকারী কীট দুইটা ধরা পড়ছে তাদের কার চোখে আর মগজে ক্ষত পাওয়া গেছে? এমন হলে কেউ এটেম্পট টু মার্ডারের কি আঘাতের মামলা করে না কেন? শব্দবাক্যের লেখা পড়ে কারো যদি চোখে-মগজে ঘা হয় (সেই মানুষ নির্ঘাত অসুস্থ), তাইলে সেই লেখাপড়ার তার দরকার কী?

    “আপনি সাধারণ হয়ে যান, মানুষের মাঝে থাকুন।”– কথা এইখানেই। অভিজিতের মতো অসাধারণ মেধাবী লোকজন শফি হুজুর আর দেলু রাজাকারদের রাজত্বে বড় বেমানান। তাদের মুরিদরা বিপন্ন হয়।

    Reply
  2. মুনিম সিদ্দিকী

    অভিজিত ভাইরাস আক্রান্ত রোগীরা নিজেরা নিজেদের মধ্যে বা ফেসবুক, ব্লগে নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার গালাগালি কুৎসিত কার্টুন প্রকাশ করতে পারলেও প্রকাশ্যে আম জনতার সামনে সে বলার সাহস রাখেনা।

    তখন তাদের বক্তব্যকে বাংলা উত্তর আধুনিক বিমূর্ত কবিতায় ব্যবহৃত উপমার মত এমন কিছু প্রতিশব্দ ব্যবহার করে যার ফলে সাধারন মানুষ তাদের ধূর্তামী ধরতে পারেননা। উদাহরণ স্বরূপ থাবা, অভিজিত এবং ওয়াশিকুরকে মিডিয়া বিজ্ঞান মনষ্ক মুক্তচিন্তার ধারক বাহক বলে প্রচার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার প্রয়াস চালাচ্ছে।

    আপনারা যারা মিডিয়ার আর এন্টি ইসলামিস্টদের প্রকাশ কথা বার্তা থেকে তাদের ধুর্তামী ধরতে পারেননা, তাদের জন্য আমাদের এই টিপস।

    ১- মুক্তচিন্তা = নাস্তিকতা
    ২- মুক্তমনা =নাস্তিক
    ৩- মৌলবাদ, ধর্মান্ধতা = ইসলামি দর্শন
    ৪- মৌলবাদী ,ধর্মান্ধ = ইসলাম অনুগত মুসলিম
    ৫- বাংগালীত্ব = পৌত্তলিকতা
    ৬- বাংগালী সংস্কৃতি = পৌত্তলিক সংস্কৃতি
    ৭- ধর্মনিরপেক্ষতা = ধর্মহীনতা,বস্তুবাদীতা
    ৮- মানবতাবাদীতা= ইসলাম বিদ্বেষীতা
    ৯- জঙ্গী = টুপি দাড়িওয়ালা মুসলিম তরুণ
    ১০- জঙ্গিবাদী পুস্তক = হাদিস এবং ইসলামী বই

    অভিজিত ভাইরাসে আক্রান্তরা বা তাদের মিডিয়া যখন উপরের শব্দগুলো উচ্চারণ করবে, তখন আপনারা বুঝে নিবেন আসলে তারা কি বলে যাচ্ছে।

    Reply
  3. সব্যসাচী

    ধর্মের নাকি সমালোচনা করা যাবেনা?কেন ? ধর্মের মধ্যে সতীদাহ থাকলেও তার বিরোধিতা করা যাবে না। ধর্মের মধ্যে গন্ডা ধরে নিকাহ করার বিধান থাকলেও তার বিরোধিতা করা যাবেনা। শিশু বিবাহ থাকলেও তার বিরোধিতা করা যাবেনা। অপবিজ্ঞান চর্চা করা দেখলেও তার সমালোচনা করা যাবেনা। কিন্তু পৃথিবী কি ঘুরা বন্ধ আছে?বিধবারা কি এখন আগুনে আত্মাহুতি দিচ্ছে? অকাল বৈধব্যরা কি এখনও বিয়ে করতে পারে না? শিশু বিবাহ কি চলতেই থাকবে?গন্ডায় গন্ডায় নারীকে ক্যাপচার করে বউ সাজানো কি চলতেই থাকবে?

    Reply
    • তাজ

      বাংলাভাষায় সমালোচনা করলে এইসব গোমর ফাঁক হয়ে যাবে। তার চেয়ে আমজনতা মানেটানে না বুঝে সুর করে বিদেশি ভাষায় ধর্মগ্রন্থের পাঠ জারি রাখুক- আহা কী শান্তি!

      Reply
  4. মুনিম সিদ্দিকী

    কানা সন্তানের নাম পদ্মলোচন রাখলেই কি আন্ধা ভালো যায়! মুক্তমনা বলে নিজদেরকে ঘোষণা দিলেই মুক্তমনের অধিকারী যে কেউ হয়ে যেতে পারে! ফ্রি থিংকারের সরল অর্থ হচ্ছে মুক্ত চিন্তা।
    যে কেউ মুক্ত চিন্তা করুক তাতে কারো কিছু যায় আসেনা। কিন্তু আপনারা যারা মুক্তমনা বলে দাবি করেন তাদের মধ্যে খুব কম লোক আছেন যারা সত্যিকারের মুক্তমনের অধিকারী বলে দাবি করতে পারেন। আপনারা মুক্ত চিন্তার নামে সমাজে ধর্মে প্রচলিত মূল্যবোধ ক্রমাগত ভাবে ভেংগে চলেন কিন্তু নতুন কোন মূলবোধ সৃস্টি করতে পারেন না।
    মুক্তমন সে তো বিশাল মনের অধিকারী কিন্তু আপনাদের কথা বার্তা থেকে সে রকম কিছু পাওয়া যায়না। আপনারা আর ধর্মান্ধরা এক ভাষায় কথা বলে যান। তাহলে আপনারা কি করে মুক্তমনের বলে দাবি করেন? ইসলামের নবীকে নিয়ে আপনাদের খেস্তি খেঊড় দেখে কি প্রতিয়মান হয় আপনারা মুক্তমনা?
    সমাজকে বদলাতে চান তাহলে তা হবে ভালবাসা দিয়ে না হয় যুদ্ধের মাধ্যমে কিন্তু গালাগালির মাধ্যমে নয়। অভিজিতদের প্রাণনাশের মধ্য থেকে যদি আপনারা এই সত্য অনুধাবন করতে পারেন তাহলে তা হবে আপনাদের জন্য ভালো এবং আমাদের জন্য ভালো। ধন্যবাদ।

    Reply
    • মো মোমিনুল

      মুনিম সিদ্দিকী ভাই কাকে কি বলছে যারা নিজে অন্ধ হয়ে অপরকে পথ দেখানোর কথা বলে যাদের মূল উদ্দেশ্য মানুষ কে ছোট করে নিজেকে সফল ভাবা যাদের ইসলাম ধম ছাড়া অন্য কোন ধম নেই ।এদের আসল কাজ হল মানুষকে কোন কিছু বলে ক্ষেপিয়ে তোলা। এরা নাস্তিক না এরা ধমবিরোধী আর এই কাজের জন্য তাদের কিছু স্বাথ থাকে।আমার কাছে একটাই মজার বিষয় লাগে তারা বিষেশ করে মুসলমান ধমবিরোধীরা ইসলাম নিয়ে আনেক খারাপ খারাপ কথা বলে কিন্তু তাদের নাম বা পরিচয় থাকে ইসলামিক তারা ইসলাম কে ঘৃনা করে কিন্তু তাদের ইসলামিক পরিচয় কে নয় আবর মরার পর ইসলামিক তরিকায় শেষ কাজ সম্পন হয় ।এরা মুক্তমনা নয় এরা বাক্তিত হরা স্বথমনা।এদের কাছে কোন কথা বলা আর চোরের কাছে ধমের কাহিনী বলা একই কথা এর পরও আপনার মন্তব্য এর জন্য আপনাকে আনেক ধন্যবাদ

      Reply
    • বাংগাল

      “মুক্তমন সে তো বিশাল মনের অধিকারী কিন্তু আপনাদের কথা বার্তা থেকে সে রকম কিছু পাওয়া যায়না। আপনারা আর ধর্মান্ধরা এক ভাষায় কথা বলে যান। তাহলে আপনারা কি করে মুক্তমনের বলে দাবি করেন? ইসলামের নবীকে নিয়ে আপনাদের খেস্তি খেঊড় দেখে কি প্রতিয়মান হয় আপনারা মুক্তমনা?………

      আপনার লেখার চুম্বক অংশ টুকু তুলে দিলাম । ওদের মুক্তমনে এই সহজ কথা যত তাড়াতাড়ি ঢুকবে , সমাজের মঙ্গল তত তাড়াতাড়ি হবে , নয়তো অনিষ্ট বাড়তেই থাকবে । ক্যান্সার , এইডস , ইবোলা , সোয়াইন ফ্লুর পথ ধরে মুক্তমনা !!

      Reply
  5. Sudipto Dhar

    সত্য একদিন না একদিন প্রতিষ্ঠিত হয়ই… ইতিহাস তার সাক্ষি… হত্যার মাধ্যমে সত্যকে দমিয়ে রাখা যায় না…

    Reply
    • মুনিম সিদ্দিকী

      সত্য তো প্রতিষ্ঠিত হবে, তবে সে সত্য যে আপনাদের ম্যাতকার তা কেমন করে বুঝলেন? এই যুদ্ধ আপনারা শুরু করেছেন, এতদিন সাধারন মানুষ নেটের আওয়তায় ছিলোনা তাই যা ইচ্ছে তাইকে সত্য বলে চালিয়ে আসতে পারলেও এখন আর পার পাবেননা।।আপনাদের গালাগালি সব কিছু ফটো কপি করে গ্রামে গঞ্জে সাধারন মানুষের কাছে পৌছে গেছে, মানুষজন ফোঁসে উঠছে, কিছুটা সময় এর মধ্যে এই দেশে সত্যিকারে গণ অভ্যুত্থান হতে যাচ্ছে, তখন আপনারা কেউ পালাবার পথ পাবেননা। কাজেই সময় থাকতে সংশোধনে সংশো হয়ে যান। নতুবা গণ মানুষ এর প্রতিরোধ এর মুখে পড়বেন।

      Reply
  6. আসমা সুলতানা মিতা

    অভিজিৎদা এর অসম্পূর্ণ স্বপ্ন আমাদের পূরণ করতেই হবে । অভিজিৎ দা শুধুমাত্র একজন মুক্তমনা মানুষই ছিলেন না, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান, আমাদের সেই প্রতিষ্ঠানকে আরো বড় আকারে নিয়ে যেতে হবে । তাঁর নাম কে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে । দেশ থেকে দূর করতেই এই অদ্ভুত আধাঁর । যে কোনো মূল্যে !
    শুভকামনা।

    Reply
  7. Nizam

    প্রতিটি হত্যার ই বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু যে ব্যাক্তিরা ৭০০ কোটি মানুষের ধর্মাভুতিকে আঘাত করছে, মানুষ কে খেপিয়ে তুলছে তাদেরকে ও দ্রুত বিচারের মুখ মুখী করা উচিত। যাতে ভবিষ্যতে কেউ ক্ষিপ্ত হয়ে মানুষ হত্যা না করে।

    Reply
  8. Rahat USA

    ধর্মই মানুষ কে সভ্য হতে চিখিয়েছে, সেই ধর্মই যেন তার শত্রু। কি অকৃতজ্ঞ মানুষ হতে পারে? যে আমার ধর্ম ইসলাম কে তুচ্ছ তাচ্ছিল করে সে আর যেই হোক – কোনো সুস্ত মস্তিস্কের মানুষ হতে পারে না। সে নাস্তিক, যার নিশ্চিত গন্তব্য জাহান্নাম। আর একজন মুসলমানের কাছে এই নাস্তিচ্কেরা কোনো প্রসংশার পত্র হতেই পারা না!!! একমাত্র একজন নাস্তিক অন্য নাস্তিকের প্রশংসা করতেই পারে। আল্লাহ আমাদের হেদায়েত করুন। আমিন……

    Reply
  9. সাজ্জাদ

    আমার মনে হয় কোনো ধর্মকে ছোট করার দরকার নাই। শুধু আপনাদের মুক্ত চিন্তা গূলোই প্রকাশ করূন।

    Reply
    • তাজ

      দুইচারটা ভাল কথার বর্ম দিয়ে ধর্ম নিজের থেকেই যত রকম ছোটলোকি ধরে আছে তাতে তারে নতুন করে ছোট করার কিছু নাই,,, বড়জোর মানুষকে জানানো যায়, সচেতন করা যায়

      Reply
  10. গীতা দাস

    এক নিঃশ্বাসে পড়লাম। লেখা চালিয়ে যেতে হবে, তবে দোহাই লাগে দেশে আসা যাবে না।
    এদেশ অন্ধকারের দিকে চলেছে।

    Reply
  11. আহমেদ ওয়াছি

    হা ভোর হবেই। সে প্রতিক্ষায় জাতী। এমনি করে চলবে আর কত কাল!!!!

    Reply
  12. আহসান হাবিব বিজন

    আমি কাউকে ছোট করে কিছু বলছি না,,, মুক্তমনা হতে হলে যে শুধু ধর্মের সমালোচনা করতে হবে এমন কোন কথা নেই।।। প্রত্যেক ধর্মের মানুষের কিছু মৌলিক বিশ্বাস রয়েছে। সেগুলোকে সবারই শ্রদ্ধা করা উচিত। আমি মুসলমান বলে অন্যদেরকে দেখতে পারবোনা এটা কোন কথা নয়।।। আমাদের ইসলাম ধর্ম শান্তির ধর্ম। আমরা আমাদের ধর্মকে ভালোবাসি, তেমনি অন্য ধর্মের মানুষরাও তাদের ধর্মকে ভালোবাসে।।। তাই ধর্মের সমালোচনা নয় এটা নিয়ে আলোচনা করুন বুঝুন।।। ধর্মকে ভালোবাসতে শিখুন,,,, আজ হয়তো একজন একটা পথে বিশ্বাসি তবে সবার শিকড়টা কিন্তু কোন একটা ধর্ম থেকেই,,,

    Reply
    • ইয়ামেন

      হাবিব সাহেব,
      আমি নাস্তিক নই। কিন্তু কেউ আমার ধর্মের সমালোচনা করলে সেটা নিয়ে উচ্চবাচ্য করার মানুষও আমি না। কেউ যদি ধর্মের সমালোচনা করে, সেই মৌলিক অধিকার তার রয়েছে। তার জন্য তাকে কোপান কোনভাবেই জায়েজ হয়ে যায় না। যে ধর্মের সমালোচনা করছে, তার গুনাহ হয়ে থাকলে সেটা রোজ হাশরের দিন আল্লাহতালাই বিচার করবেন। আপনার আমার অধিকার নেই এ নিয়ে তবে কিন্তু ত্যানা পেঁচিয়ে ধর্মান্ধ মৌলবাদদের চাপাতি চালানোর ইন্ধন জোগানর। এটা আপনার মত মানুষেরা বুঝতে চান না, কিন্তু বুঝেও না বোঝার ভান করেন।

      Reply
      • মুনিম সিদ্দিকী

        শুধু ইসলাম ধর্মের সমালোচনা হচ্ছে মৌলিক অধিকার! অন্য কোন ধর্মের সমালোচনা কি মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়েনা? অন্য ধর্মের সমালোচনা কারীকে যে আপনারা সাম্প্রদায়িক তকমা লাগিয়ে দেন তাও কি মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে?
        সমাজে রাষ্ট্র এ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী কথা বার্তা কেমন করে মৌলিক অধিকার হয় বুঝিয়ে বলতে কি পারবেন?

      • তাজ

        “সমাজে রাষ্ট্র এ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী কথা বার্তা কেমন করে মৌলিক অধিকার হয় বুঝিয়ে বলতে কি পারবেন?”
        যে কোন কথাবার্তাই মৌলিক অধিকার যদি না তা মিথ্যা ও অশ্লীল হয়। সমাজ-রাষ্ট্রে
        বিশৃঙ্খলা কথাবার্তার জন্য ঘটে না, মনের চাপাতি হাতে তুলে নিলে ঘটে। সহজ সত্যটা বুঝতে না পারায় বা বুঝতে না চাওয়ায় সিদ্দিকীসাব মেলা খাটতেছেন। এলা বিশ্রাম নেন।

      • রিচার্ড

        আপনি ততক্ষণ পর্যন্ত স্বাধীন যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি অন্যে্র স্বাধীনতা খর্ব না করেন। কেউটে আর টিকটিকি, বিষের মাত্রা কার বেশী? নিরীহ সুন্দর ভয়ঙ্কর। আসুন, মানুষকে ভালবাসতে চেষ্টা করি।
        আপনি মানুষকে জিহবা দিয়ে আক্রমণ করবেন আর কলমের নিব দিয়ে খোঁচাতে থাকবেন মানুষের চোখে আর মগজে….. এর নাম মুক্তচিন্তা?!! মানুষের জিহ্বায় এত বিষ কেন? চাপাতির চেয়ে জিহ্বা অনেক বেশী ধারালো? চাপাতি দিয়ে ক’জনকে আক্রমণ করা যায়? আর জিহবা দিয়ে……………..?। আপনি সাধারণ হয়ে যান, মানুষের মাঝে থাকুন। বাজে কথা বলে দেশের আর নিজের পরিস্থিতি আর নিরাপত্তা বিপন্ন করে তুলবেন কেন? ভাল থাকুন, সুন্দর থাকুন। থাকুক না যে যার মত। প্রত্যেক মানুষের ধর্মই আলাদা আর কর্মটাইতো ধর্ম। কিন্তু আমরা মনে করছি এখন তর্কটাই ধর্ম। সবাই কাজে লেগে পড়–ন যে যা পারুন। দেখবেন অন্যের দোষ দেখার সময় নেই। এদেশের মানুষের ২০/২২ ঘন্টা কাজ করা উচিৎ যাতে করে দেশের উন্নতি হয় আর অন্যের দোষ দেখার সময় না হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—