লেখক অভিজিৎ রায় হত্যার প্রায় তিন সপ্তাহ পার হতে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত খুনীদের চিহ্নিত করতে দৃশ্যত ব্যর্থ পুলিশ। যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই তদন্তে সহায়তা দিলেও দৃশ্যমান অগ্রগতির তথ্য আপাতত নেই।

এই হত্যাকাণ্ড কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বিভিন্ন খবর বেরিয়েছে, এখনও বের হচ্ছে। এগুলোর কিছু অনুমাননির্ভর, কিছু অনুসন্ধাননির্ভর। পৃথিবীর সব দেশেই চাঞ্চল্যকর ঘটনা কেন্দ্র করে সংবাদ মাধ্যম অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা চালিয়ে থাকে। মনে রাখতে হবে, সংবাদ মাধ্যম কোনো পুলিশি সংস্থা বা আদালত নয়। ঘটনাক্রমে কোনো অসঙ্গতি খুঁজে পেলে তা প্রকাশ করার মানে এই নয় যে, এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অপরাধী হিসেবে রায় দিয়ে ফেলা হচ্ছে। বরং কোনো অপরাধ সংগঠিত হলে পূর্বাপর প্রেক্ষিতের চুলচেরা বিশ্লেষণ হওয়া এবং প্রতিটি বিষয়ের দিকে মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা সংবাদ মাধ্যমের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

অভিজিৎ হত্যার ঠিক কিছু সময় আগে অমর একুশে গ্রন্থ মেলায় বিজ্ঞান লেখকদের একটি আড্ডা নিয়ে সম্প্রতি চারদিকে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। সেটির প্রধান আয়োজক ছিলেন বুয়েটের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী। আড্ডা শেষ হওয়ার মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটলেও বিষয়টি নিয়ে আয়োজকের একটানা নিরবতা এবং কাকতালীয় একাধিক ঘটনাক্রমের সমন্বিত ক্রিয়াশীলতা স্বাভাবিক কিছু প্রশ্নের জন্ম দেয়। আর সেই ঘটনাক্রম প্রকাশ করা স্বাভাবিক সাংবাদিকতারই অংশ মাত্র। তবে বিষয়টি কারও কারও কাছে স্বাভাবিক ঠেকছে না। কেউ কেউ খুঁজে পাচ্ছেন ‘হলুদ’ গন্ধও।

 

সেটির প্রধান আয়োজক ছিলেন বুয়েটের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী
সেটির প্রধান আয়োজক ছিলেন বুয়েটের তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী

 

অভিজিৎ রায় খুন হওয়ার আগের কয়েকটি ঘণ্টা বইমেলায় কী করেছেন, কারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন, কাদের অনুষ্ঠানে তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, আমন্ত্রণকারীরা পরে ঘটনাটি কেন বেমালুম চেপে যেতে চাইলেন তা না খোঁজার চেষ্টাই কি তবে ‘হলুদ’ গন্ধ এড়ানোর একমাত্র উপায়?

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে অভিজিৎ রায়ের বাবা অধ্যাপক অজয় রায়ের সাক্ষাৎকারভিত্তিক ধারাবাহিক কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই মূলত বিষয়টি নিয়ে তুমুল আলোচনার সূত্রপাত। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন সাংবাদিক শামীমা বিনতে রহমান। এর কয়েক দিন আগে ৬ মার্চ ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনে প্রচারিত শাহরিয়ার অনির্বাণের একটি প্রতিবেদন দেখানো হয়েছে শুধু ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী নন, বই মেলার সেদিনের আড্ডায় অংশ নেওয়া তরুণদের প্রায় সবাই এ ব্যাপারে ন্যূনতম প্রতিক্রিয়া তো জানানইনি বরং কেউ কেউ ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতের বেলায় ‘দিনটি বেশ ভালো কেটেছে’ জাতীয় স্ট্যাটাস ফেসবুকে দিয়েছেন। আর বিজ্ঞান লেখক হিসেবে পরিচিত সেই তরুণদের ঘনিষ্ঠ কেউ কেউ সন্তুষ্টির বন্যা বইয়ে দিয়েছেন অভিজিৎ খুন হওয়ায়।

নিঃসন্দেহে এই হত্যাকাণ্ডে সবাই শিউরে উঠেছেন, অনেকের মনে আতঙ্ক জাগাও স্বাভাবিক। সঙ্গত কারণেই কেউ কেউ নিশ্চুপ হয়ে যাবেন। কিন্তু যাদের আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে বের হওয়া মাত্র একজন খুন হলেন তাদের প্রায় সবাই একযোগে প্রতিক্রিয়াহীন হলে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে উচ্ছ্বাস জানালে, কোনো প্রশ্ন না-তোলা কি সংবাদ মাধ্যমের দায়িত্বহীনতার মধ্যে পড়ে না?

 

সন্ধ্যা ৭টা ৩ মিনিটে তোলা ছবিতে ডান দিক থেকে দ্বিতীয় কাওসার ফরহাদ; সাড়ে ৭টার দিকে কাওসার ও তার সঙ্গীদের সবাই আড্ডা থেকে চলে যান
সন্ধ্যা ৭টা ৩ মিনিটে তোলা ছবিতে ডান দিক থেকে দ্বিতীয় কাওসার ফরহাদ; সাড়ে ৭টার দিকে কাওসার ও তার সঙ্গীদের সবাই আড্ডা থেকে চলে যান

 

এতদিন ধরে ফেসবুকে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদীর সর্বশেষ পোস্টটি ছিল প্রায় তিন সপ্তাহ আগের। অভিজিৎ রাতের যে সময়ে খুন হন তার প্রায় ২১ ঘণ্টা আগে বই মেলার একটি ছবি পোস্ট দেন তিনি। এরপর যেন হারিয়ে যান। এমনকি ওই পোস্টে দুজন অভিজিৎ রায়ের মৃত্যু নিয়ে বার্তা লিখেছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারির দিকে পোস্ট করা ওই দুটি বার্তার একটিতে প্রশ্ন ছিল, সহ-লেখক মারা যাওয়ার পরেও তিনি কেন নিশ্চুপ! ফারসীম মান্নান কোনো সাড়া দেননি, বরং প্রশ্নসূচক সেই বার্তাটি মুছে দিয়েছেন!

ধরে নেওয়া যেতে পারে যে, আতঙ্কের কারণে তিনি হয়তো ফেসবুকে নিশ্চুপ ছিলেন। কিন্তু তাই বলে কি একবার হাসপাতালেও যাওয়া যেত না? তাতেও না হয় বিপদের গন্ধ; তিনি অধ্যাপক অজয় রায়কে তো সঙ্গোপনে ফোন করে সান্তনা জানাতে পারতেন, কিংবা যেতে পারতেন তাঁর বাসায়। এর কোনোটিই তিনি করেননি।

সবশেষ গত ১৬ মার্চ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির একটি সভায় অধ্যাপক অজয় রায়ের সঙ্গে দেখা ও কথা হয়েছে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদীর। সম্ভবত এতদিনে তৈরি হওয়া প্রবল চাপের কারণে তিনি নিজে থেকে এগিয়ে গিয়ে অজয় রায়ের সঙ্গে পরিচিত হন এবং বুয়েট ক্লাবে নিয়ে গিয়ে আলোচনা করেন। ফারসীম মান্নানের ভাষায়:

‘’অনেক কিছু খুঁটিয়ে জিজ্ঞেস করলেন (অজয় রায়)। আমিও যতটুকু জানতাম, বললাম। অনেক ধোয়াশা দূর হল; দেখা গেল, অনেক কিছু স্যারকে যেভাবে জানানো হয়েছে সেভাবে আসলে হয়নি; অথবা আমরা যেটা জেনেছি সেটাও স্যার বলেননি। গুজবের পাখি কোথায় যে যায়। যেমন কাওসার নামের ছেলেটি নাকি মিটিংয়ে এসেছিল এবং তারপর বই হারিয়ে যাওয়ার নাম করে মিটিং থেকে উঠে গিয়েছিল বলে একটা রহস্য সৃষ্টি হয়েছিল। সে ঐ মিটিংয়ে ছিলই না সেটা পরিষ্কার হল; ছবিও দেখানো হল যেখানে সব মুখই স্পষ্ট দেখাচ্ছে। বিজ্ঞান বক্তা আসিফ নাকি আমন্ত্রিতই ছিলেন না বলে শোনা গিয়েছিল। কিন্তু তিনি প্রকৃতই ইনভাইটেড ছিলেন, এটা স্যারকে দেখালাম। আর কারা ইনভাইটেড ছিলেন, কারা কারা মিটিংয়ে ছিলেন ছবিতে দেখানো হল। স্যার একটা মূল্যবান কথা বললেন, আসলে যারা কালপ্রিট তারা তো সভায় বসে নিজেদের চেহারা দেখাবে না।’’

ওই সন্ধ্যার একাধিক প্রতক্ষ্যদর্শীর বিবরণ অবশ্য ফারসীম মান্নান মোহাম্মদীর এই বক্তব্য খুব একটি সমর্থন করছে না। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আড্ডাটি সন্ধ্যা ৬টার দিকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফারসীম মান্নান দেরি করে মেলায় আসায় এবং এরপর শুদ্ধস্বরের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে সেটি শুরু হতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার বেশি বেজে যায়। এর আগেই অবশ্য একদল তরুণ আড্ডাটি শুরু করে দেন, যাদের একজন ছিলেন কাওসার ফরহাদ। আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার আগে তিনি কয়েক জন সঙ্গীকে নিয়ে উঠে চলে যান হারানো বই খোঁজার কথা বলে। আড্ডায় কাওসারের থাকার সময়কার ছবিও আছে সংবাদ মাধ্যমের কাছে।

 

সেদিন অনানুষ্ঠানিক মিটিংয়ে ছিলেন, বাঁ থেকে, ১. আবদুল গাফফার রনি, ২. ব্যস্তানুপাতিক অসংজ্ঞায়িত, ৩ সালমান ইয়াসিন, ৪. তারেক অণু, ৫. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, ৬. সুমন সাহা, ৭. হাসিবুল আমিন হিমেল, ৮. সারোয়ার আহমেদ কিরণ ৯. কাওসার ফরহাদ ১০. সালমান আহমেদ (কুষ্টিয়া ইউনিভার্সিটি)
সেদিন অনানুষ্ঠানিক মিটিংয়ে ছিলেন, বাঁ থেকে, ১. আবদুল গাফফার রনি, ২. ব্যস্তানুপাতিক অসংজ্ঞায়িত, ৩ সালমান ইয়াসিন, ৪. তারেক অণু, ৫. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, ৬. সুমন সাহা, ৭. হাসিবুল আমিন হিমেল, ৮. সারোয়ার আহমেদ কিরণ ৯. কাওসার ফরহাদ ১০. সালমান আহমেদ (কুষ্টিয়া ইউনিভার্সিটি)

 

ফারসীম মান্নানও জানতেন আড্ডায় কাওসারের উপস্থিতির কথা। প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণই বলছে, আনুষ্ঠানিক বৈঠকীর শুরুতে তিনি কাওসারের চলে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। অথচ তিনি এখন শুধু তুলে ধরছেন আনুষ্ঠানিক পর্বের ২০-২৫ মিনিটের আলোচনার কথা, দেখাচ্ছেন কেবল সেই সময়কার ছবি। এটি কেন, সেই প্রশ্নের জবাব নিশ্চয়ই তিনিই ভালো জানেন।

অভিজিৎ হত্যার তিন দিন পর ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের রাত ১২টার ‘বাংলাদেশ এখন’ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ফারসীমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আলোচনার বিষয় জানার পর তিনি আর আসতে রাজি হননি। কারণ হিসেবে অবশ্য তিনি নিরাপত্তাহীনতার কথা বলেননি, বরং তুলেছিলেন ব্যস্ততার প্রসঙ্গ। এর কিছু সময় পরেই বন্ধ হয়ে যায় তার ফোন।

সাংবাদিক সুলতানা রহমানের সঞ্চালনায় সেদিনের অনুষ্ঠানে পরে এসেছিলেন ফারসীম মান্নানের পরিচিত এবং বই মেলার আড্ডাটির আয়োজকদের আরেক জন, ‘পাই জিরো টু ইনফিনিটি’ নামের ম্যাগাজিনের সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ। কথায় কথায় তিনি জানান, ঘটনার পরদিন তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, ‘নাথিং টু সে’। তবে এই ‘বলার কিছু নেই’ শব্দত্রয়ও মুছে ফেলতে বাধ্য করেন তার মা। অবশ্য ‘ভয়ার্ত’ এই তরুণ দু’দিন বাদেই টেলিভিশন টক শোতে হাজির হন এবং তার মা-ও এসেছিলেন টেলিভিশন কার্যালয়ে। ওই অনুষ্ঠানেই আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, তাদের সাময়িকীতে অভিজিৎ রায়ের বিজ্ঞানবিষয়ক একাধিক লেখা ছাপা হয়েছে এবং অভিজিৎ বেছে বেছে সেখানে শুধু ‘অ-বিতর্কিত’ লেখাগুলোই পাঠাতেন।

‘জিরো টু ইনফিনিটি’ সাময়িকী যে বিতর্কের ব্যাপারে খুবই ‘স্পর্শকাতর’ তার অনেক নজির রয়েছে। এমনকি তারা বিবর্তনবাদ সংক্রান্ত লেখা প্রকাশেও কুণ্ঠিত, এমন প্রমাণ দেওয়া যেতে পারে। এই সাময়িকীর ফেসবুক পেইজের এডমিনের তালিকায় মাত্র ক’দিন আগেও ফারসীম মান্নাম মোহাম্মদী, ত্রিভুজ আলম, মুহাইমিনুল ইসলাম অনিক, আবদুল্লাহ আল মাহমুদসহ ছিলেন মোট ছ’জন। তবে এখন আর প্রথমোক্ত তিনজনের নাম দেখা যাচ্ছে না।

 

এই সাময়িকীর ফেসবুক পেইজের এডমিনের তালিকায় মাত্র ক’দিন আগেও ফারসীম মান্নাম মোহাম্মদী, ত্রিভুজ আলম, মুহাইমিনুল ইসলাম অনিক, আবদুল্লাহ আল মাহমুদসহ ছিলেন মোট ছ’জন
এই সাময়িকীর ফেসবুক পেইজের এডমিনের তালিকায় মাত্র ক’দিন আগেও ফারসীম মান্নাম মোহাম্মদী, ত্রিভুজ আলম, মুহাইমিনুল ইসলাম অনিক, আবদুল্লাহ আল মাহমুদসহ ছিলেন মোট ছ’জন

 

‘পাই জিরো টু ইনফিনিটির’ পরিচালক বা লেখক গোষ্ঠীকে নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন পর্যায় থেকে। তাদের কারও কারও সঙ্গে ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠতা নিয়েও আলোচনা আছে। এমনকি বই মেলা শেষ হওয়ার প্রায় দুই সপ্তাহ বাদে দেওয়া ফারসীম মান্নানের নিজের বিবৃতিতেও আছে সন্দেহের আভাস। তিনি বলছেন:

‘’প্রথম বছর দেড়েক উপদেষ্টা হিসেবে সে (আবদুল্লাহ আল মাহমুদ) আমার কথা শুনেছে, কথা রেখেছে। কিন্তু পত্রিকাটির পরিসর যত বৃদ্ধি পেয়েছে, যত তার নিজের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে, তত সে আমার উপদেশ থেকে দূরে সরে গেছে।… তার পত্রিকা, সে কীভাবে চালাবে, এটা তাকেই ঠিক করতে হবে। এ কথাও ঠিক, বেশ কিছু বেঠিক মানুষের সাথে সখ্য দেখা গেছে, তবে আমি জানামাত্রই সম্পাদককে সতর্ক করেছি। তারপরও ঠিক পদক্ষেপ নেওয়া বা না নেওয়া তার দায়িত্ব। আমি তার কোনোই দায় গ্রহণ করব না।’’

আবদুল্লাহ আল মাহমুদের কী সেই দায়, সেটি পরিষ্কার করার দায় কিন্তু ফারসীম মান্নান মোহাম্মদীরও। আবদুল্লাহ আল মাহমুদ স্বীকার করেছেন, অভিজিৎ হত্যার পরপরই ‘জিরো টু ইনফিনিটি’ সাময়িকী পরিচালনার দায়িত্ব থেকে ত্রিভুজ আলমকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মৌলবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে। তাই মাহমুদের ওপর ফারসীম মান্নানের আস্থা ও বিশ্বাস ‘হারানো’র কারণ বোঝা সম্ভবত খুব কঠিন নয়।

 

মাহমুদের ওপর ফারসীম মান্নানের আস্থা ও বিশ্বাস ‘হারানো’র কারণ বোঝা সম্ভবত খুব কঠিন নয়
মাহমুদের ওপর ফারসীম মান্নানের আস্থা ও বিশ্বাস ‘হারানো’র কারণ বোঝা সম্ভবত খুব কঠিন নয়

 

প্রশ্ন হল, আস্থা হারানোর কারণগুলো আগে থেকে বিদ্যমান থাকার পরেও ২৬ ফেব্রুয়ারি স্পর্শকাতর ব্যক্তিদের উপস্থিতির আড্ডায় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে থাকা অভিজিতকে ডেকে নেওয়ার দায়িত্ব এখন কে নেবে? আর যদি দাবি করা হয় উপলব্ধিটি ‘সাম্প্রতিক’– তাহলে তার কারণও নিশ্চয়ই ফারসীম মান্নান খোলাখুলি জানাবেন। সেদিন আড্ডা শুরু হতে দেরি হওয়ার কারণও খতিয়ে দেখা দরকার।

মামলার তদন্তের প্রয়োজনে জানা দরকার, আড্ডা দেরিতে শুরু হচ্ছে অভিযোগ করে যে কয়েক তরুণ সেখান থেকে চলে গিয়েছিলেন তারা কারা? সেই তরুণেরা আড্ডায় এসেছিলেন জানতে পেরে ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী নিজেও তো সেদিন ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। আরও জানা দরকার, আড্ডার জন্য মেলার মধ্যে ঠিক এমন জায়গাটি কেন বেছে নেওয়া হল যেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা খুব একটা কার্যকর নয়!

একটি খুনের ঘটনার পর সম্ভাব্য সবদিকে নজর দেওয়ার দায়িত্ব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর। আর সংবাদ মাধ্যমও চাইবে প্রসঙ্গ ও প্রশ্ন উত্থাপন করে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে সেগুলোর জবাব খোঁজার। এর মানে নিশ্চয়ই এই নয় যে, সেদিনের আড্ডার আয়োজকদের ওপর খুনের দায়িত্ব নিশ্চিত করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যম শুধু বলছে অনেকগুলো কাকতালীয় ঘটনা ঘটার বিষয়টিও কাকতাল কিনা সেটি নিশ্চিত হতে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন। খুনীরা নিশ্চয়ই হাওয়া খেতে বেরিয়ে আকস্মিকভাবে অভিজিতের মুখোমুখি হয়ে তাকে খুন করেনি। অপরাধ বিজ্ঞানের সাধারণ সূত্রই বলে দেয়, সেদিন নিশ্চয়ই অভিজিতকে মেলার ভেতরে ও বাইরে বহু সময় ধরে অনুসরণ করা হয়েছে; আর এতে বই মেলার আড্ডা বা তার আশপাশের কেউ ভূমিকা রেখেছে কিনা, তা অবশ্যই যাচাই করা দরকার।

সংবাদ মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ায় যাদের গোস্বা, চূড়ান্ত তদন্ত শেষে তারা সবাই স্বস্তি ও উল্লাসে থাকবেন, এমন শুভকামনাই করি। তবে সেটি ঘটলেও যে আক্ষেপ থাকবেই তা হল, এই সমাজে আত্মরতিতে ভরপুর একদল ‘বিজ্ঞানমনস্ক’র প্রাদুর্ভাব সম্ভবত ঘটেছে, মানবিকতার বিজ্ঞান যাদের আয়ত্তে এখনও আসেনি।

সঞ্জয় দে

১৬ Responses -- “অভিজিৎ হত্যা: সংকটে মানবিকতার বিজ্ঞান”

  1. রাখাল রাহা

    চারপাশে সন্দেহ! কে, কতজনকে, কিভাবে, কত বেশী সন্দেহ ক’রে ক’রে সাধু হতে পারে তার যেন প্রতিযোগিতা চলছে! আইন, বিচার আর শাসনব্যবস্থার উপর আস্থার সংকট কতটা দীর্ঘ হ’লে, কতটা তীব্র হ’লে মানুষ আপন-পর বোঝা-না-বোঝার এমন তীব্র সংকটে উপনীত হয়? কিন্তু আমাদের বোঝা দরকার এতে শাসকশ্রেণীরই লাভ, অন্ধকারের শক্তিরই লাভ। (রাখাল রাহা, ১৩ই মার্চ ২০১৫)

    Reply
  2. Bangal

    আপনারা যখন এত বড় জ্ঞানী গুনী ,সব কাজের কাজী , দুনিয়ার এমন কোনো ব্যাপার নেই যা আপনাদের অজানা , আপনারা ইঁচরে পাকা বিজ্ঞানী , নিজেদের বিজ্ঞানী হিসেবে জাহির করেন আবার মনে চাইলে রহস্য ভেদি গোয়েন্দা হয়ে যান , হাস্যকর আপনাদের ব্যাপার স্যাপার ! তাহলে আর এফ বি আই কে কেনো ডেকে আনলেন ? পুলিশের সাহায্যই বা কি দরকার ! আপনারাই তো রহস্য ভেদ করে ফেলছেন ! একেবারে এফোঁড় ওফোঁড় ! আসলে আপনারা কিছুই নন , আপনারা সকল দুষ্টের শিরোমনি !

    Reply
  3. ডঃ এম ইউ আহমেদ

    ফারসীমের মত প্রথম আলো আর মুক্তমনা ব্লগ আর জাফর ইকবাল ঘেঁষা প্র্যাক্টিসিং মুসলিম কেন অভিজিতের মত তথাকথিত মুক্তমনা কে হত্যা করতে যাবে ? কি কারণে , কি স্বার্থে ? এই প্রশ্ন কেন কেউ করছে না ? সেই দিন কে কাকে মিটিং এ ডেকেছে তা নিয়ে কথা হচ্ছে কিন্তু কেউ ত বলছে না ।এই বা ঐ নিয়ে দন্ধের কারণে ফারসীম এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত হবে।

    Reply
  4. আব্দুল গাফফার রনি

    Sanjay Dey​দাদা, আপনার সব কথাই যুক্তি আছে। তবে একটা বিষয়ে দায় আমার। ছায়বীথির সামনে অনুষ্ঠানটা করার প্রস্তাব আমিই দিয়েছিলাম। ওখানকার সিসিটিভির ক্যামেরা ভালো কি মন্দ সেটা আমার জানার কথা নয়। এমন একটা খুন হয়ে যাবে সেটাও কী ঘুণাক্ষরেও অণুমান করেছিলাম! ফারসীম স্যার আড্ডাটা লেখক আড্ডায় যে ছাউনিটা আছে ওখানে করতে চেয়েছিলেন। আমিই তাঁকে অনুরোধ করেছিলাম এখানে করতে। দুটো কারণ। বেশ কজন বিজ্ঞান লেখকের বই ছায়াবীথি আর সংহতি থেকে প্রকাশ হয়েছে। তাঁদের বই খুঁজতে ওই দুই প্রতিষ্ঠানে পাঠকরা আসবে স্বাভাবিক। পাঠকরা বই কিনতে গেলে লেখকের অটেগ্রাফ চান। অর্থাৎ আড্ডাটা কাছাকাছি হলেই সুবিধা। দ্বিতিয়ত পুরোপুুর নিশ্চিত না হলেও জানতাম অভিজিৎদা আসছেন। তাঁর দুটো প্রকাশনীই পাশাপাশি–অবসর আর শুদ্ধস্বর। ছায়বীথির একেবারে পেছনে। তিনি এলে ওখানেই বসেন বা দাঁড়ান। তাঁকে বইমেলার প্রায নির্জন লেখক আড্ডার দিকে টেনে নিয়ে যাওয়টা কতটুকু সঙ্গত হত জানি না। ওখানকার ক্যামেরার মান কেমন তাও তো জানতাম না। আর ক্যামেরার কথা তখন ভাবিইনি। শুধু চেয়েছিলাম ছায়াবীথির সামনে অনেক জায়গা। সেখানকার পরিবেশও খোলামেলা। অভিজিৎদার এখোনে আসাই বরং সুবিধা তাই আড্ডাটা এখানে বসানোর ব্যবস্থা আমিই করেছিলাম।

    Reply
  5. আরিফ জেবতিক

    একটি হত্যা মামলা তদন্তাধীন থাকলে সেটা নিয়ে কথা বলা অনুচিত। নিশ্চিত কোনো স্বাক্ষী প্রমান না থাকলে সবগুলো সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়েই তদন্ত এগিয়ে যায় এবং কখনো কখনো আমাদেরকে সারপ্রাইজড করে দিতে পারে। প্রায়শই দেখা যায় যে লোকটি মৃতের জানাজায় এসে কান্নাকাটি করে গেছে পরে দেখা যায় অপহরনের মূল হোতা সেই একই লোক।
    এরকম পরিস্থিতিতে বুয়েট শিক্ষক ডক্টর ফারসীম মান্নান মোহাম্মদীর দিকে অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার যে ইঙিত উঠেছে সেটা নিয়ে চূড়ান্ত কথা বলা বিপজ্জনক। তবে সংশ্লিষ্টরা যদি বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্রমাগত সন্দেহের তীর ছুড়ে না দিয়ে পুলিশের কাছে উথাপন করেন, তাহলে সেটা যৌক্তিক হয়।
    ডক্টর ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী এমন একটি বিজ্ঞান চক্র এবং পত্রিকার সঙ্গে জড়িত যাদের সাথে (তাঁর ভাষাতেই) বেঠিক মানুষের সংশ্লিষ্টতা আছে। সেই বেঠিক মানুষ বলতে আমার বুদ্ধিতে প্রথমেই ত্রিভুজকে বুঝলাম। বাংলা ব্লগে ‘ছাগু’ শব্দটির উৎপত্তি এই ত্রিভুজকে দিয়ে, এর পরে বহু বহু ছাগুদিকপাল ইন্টারনেট জগত আলোকিত করেছে এবং ব্লগীয় বিবর্তনে ত্রিভুজ সম্ভবত বহুদিন ধরেই আলোচনার বাইরেই ছিল কিন্তু যেহেতু একটু খুন সংগঠিত হয়েছে, তখন শেষ বৈঠকের আয়োজক সংগঠনে ত্রিভুজের সংশ্লিষ্টতার কারনে বিষয়টি একটু গুরুত্ব পেয়েছে বৈকি। ‘পৃথিবী সূর্যের চারপাশে ঘুরে না’ এমন বিজ্ঞান শিক্ষকও এই পৃথিবীতে অস্তিত্বমান, সুতরাং বিজ্ঞান চর্চার অধিকার সকলেরই আছে, এমনকি ত্রিভুজ কিংবা তার বন্ধুবান্ধবদেরও এরকম একটি পত্রিকা ও সংগঠন চালানোর অধিকার আছে। এবং অভিজিৎ যদি সেই বৈঠকে হাজির থাকতে চান, সেটাও তার ইচ্ছাধীন।

    কিন্তু শুধুমাত্র একটি বৈঠক আয়োজনের কারনেই ফারসীমকে বলির পাঠা বানানোর তৎপরতা ভালো লক্ষন নয়।
    ঘটনা হচ্ছে, এরকম আড্ডা/বৈঠক বইমেলায় আকছার ঘটে। বিষয়টি এমন নয় যে ‘বৈঠকে ডেকে এনে হত্যা করা হয়েছে’-সুতরাং আহ্বানকারীরা দায়ী হবে। এর আগে হুমায়ূন আজাদের উপর হামলা, রাজিবকে হত্যা কিংবা আসীফ মহিউদ্দিনকে হামলার সময় এরকম কোনো বৈঠক করে খুনি আর ভিকটিমকে সম্মিলিত করে দিতে হয়নি। বিশেষ করে রাজীবের বাড়িঘরের ঠিকানা আক্রমনকারীরা আগে থেকেই জানত, রেকি করে এসেছে বলে গ্রেফতারকৃতদের ভাষ্যে বেরিয়ে এসেছে। একই অবস্থা হয়েছে আসিফ মহিউদ্দিনের উপর হামলার সময়ও, আসিফ যে উত্তরায় একটি অফিসে কাজ করেন এবং কোন সময় বের হন এটা খুব প্রকাশ্য তথ্য না হওয়া সত্ত্বেও সেটা আক্রমনকারীরা ঠিকই বের করে ফেলতে পেরেছিল। এই তুলনায় বইমেলায় অভিজিৎকে চিহ্নিত করা অনেক বেশি সহজ কাজ ছিল, তিনি প্রকাশ্য ছিলেন এবং নিয়মিত বইমেলায় উপস্থিত হচ্ছিলেন। অভিজিৎকে হত্যা করার ক্ষেত্রে তাই এই বৈঠক খুনিদেরকে আলাদা কোনো সুবিধা এনে দিয়েছে বলে আমার মনে হচ্ছে না।
    এর বাইরে অভিজিৎ হত্যার পরবর্তীতে ফারসীম এবং ঐ বিজ্ঞান সংগঠন/পত্রিকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফেসবুকে নীরবতাও নিয়েও অনেককে প্রশ্ন করতে দেখা যাচ্ছে। এটাকে আমি অস্বাভাবিক ব্যাপার বলে দেখি না।
    যখন অপরিচিত ঘাতকদলের উদ্যোগে একটি হত্যা সংগঠিত হয়, তখন ভয় পাওয়াটা মানুষের স্বাভাবিক ব্যাপার। সাধারন মানুষ ‘কোনো ঝামেলায়’ জড়িত হতে চায় না, অচেনা ভয়ে কুকড়ে যায়। এর বাইরে পরিচিত কোনো মানুষের এমন নৃশংস খুন যে কাউকেই বিচলিত, বিমর্ষ করে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। এমন কোনো আইন নেই যে কেউ খুন হওয়ার পরেই নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে সবাইকে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে হবে।
    অভিজিৎ খুনের সঙ্গে কারা জড়িত সেটি রাষ্ট্রকেই খুঁজে বের করতে হবে। আমাদের গোয়েন্দা দল অত্যন্ত দক্ষ, তাঁরা এর আগেও রাজীবের খুনিদের অধিকাংশকেই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
    আমাদের উচিত হচ্ছে এবারও যাতে খুনিরা ধরা পড়ে এজন্য রাষ্ট্রকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করা এবং তারা যাতে এই কাজে ব্রতী থাকে তারজন্য জনমতের চাপ তৈরি করে রাখা।
    এর বাইরে গণহারে মিডিয়া ট্রায়াল চালিয়ে অভিজিৎ এর খুনিদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।

    Reply
    • akil

      আরিফ জেবতিক ঠিকি বলেছেন , দোষ কেবল গোলটুপি ওয়ালাদের নাও হতে পারে ! সারপ্রাইজ হিসেবে আরও চতুর শিয়ালেরাও সামনে চলে আসতে পারে । ভুল হল খুব? আপনি কিন্তু বলেছেন কান্নাকাটি করা লোকটি দায়ী হতে পারে! সারপ্রাইজ ! আরেকটু যোগ করি কান্নাকাটির সাথে কালো ব্যাজ !!
      সবাই সব ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ তো ! তবে সেটা নিজের সুবিধা মত ! আর কিঞ্চিত খ্যাতি থাকিলে তো —!
      একটা কথা সত্যি, আমাদের তদন্তকরার মত যথেষ্ট ভালো কর্মকর্তা আছেন , জেনে বলছি দক্ষিন এশিয়ার যে কোন বাহিনীর চেয়ে অনেক দক্ষ তারা।
      আবার এটাও জানেন সাগর- রুনি অমীমাংসিত !
      তবু যাদের কাজ তারা করুক, সাহায্য না করলেও রহস্য উদ্ধারের যোগ্যতা আছে তাদের কেবল যদি কাজটা করতে দেন

      Reply
  6. বিজন সরকার

    অপরাধবিদ্যাতে একটি কথা খুব গুরত্ব দেওয়া হয়।
    “Circumstantial evidences are the best evidences”
    অভিজিতদার হত্যার পিছনে ব্যাকগ্রাউন্ড নির্মাতারা কারা, তা বুঝার জন্য বিশেষ বাহিনীর সদস্য কিংবা অক্সফোর্ড থেকে অপরাধবিদ্যাতে পিএইচডি নেওয়ার দরকার নেই।
    সঞ্জয়দা, যে প্রশ্নগুলি উপস্থাপন করেছেন, বিডিনিউজ২৪ এর প্রথম রিপোর্টটি পড়ার পর থেকেই আমার মাথায় সেই প্রশ্নগুলি কাজ করছিল। চমৎকার লিখেছেন।
    তবে আমার মনে হয় না, সরকারের ভিতর যেসব ইভিল রয়েছে সেই ইভিলরা সঠিক তদন্ত হতে দিবে।

    Reply
  7. রানা রায়হান

    লেখাটি ভালো লেগেছে। অন্তত একটি অভিমুখ লক্ষ্য করা গেছে, অভিজৎ হত্যার।

    Reply
  8. iqbal hasnu

    প্রশ্ন তোলা উচিত আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা কোন কর্তার ইচ্ছায় কার কাজটি করে দেন?

    Reply
  9. Bichar chai

    অসাধারণ লেখা!

    অজয় রয় এতবার বলার পরেও ফারসিম মান্নানকে এতদিনেও পুলিশ একবারও জিজ্ঞাসাবাদ করছে না কেন সেটাও সন্দেহের।

    Reply
  10. সুমন সাহা

    ছবি তিনটির ভিতর একটা ছবিতে আমাকে দেখা যাচ্ছে এবং আমার নাম ও দেখছি এসেছে। জানি না, কে কি করবে তবে যেহেতু আমার ছবি এখানে এসেছে আমি আমার বিষয়টা পরিষ্কার রাখতে চাই।

    ২৬ শে মার্চ এ আমার ডায়েরিঃ

    ঐ দিন আমার একটা বিজ্ঞান সংগঠন “বাংলাদেশ সায়েন্স সোসাইটি” এর উদ্বোধন অনুষ্ঠান ছিল। অনুষ্ঠানটা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি অডিটরিয়ামে। (আমার ফেসবুক প্রোফাইলে সব ছবি দেওয়া আছে।) আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছাই বেলা ৩টার দিকে। অনুষ্ঠান শুরু হয় বেলা ৪ঃ৩০ এর দিকে। সেখানে হিমাংশু কর দাদা,এন সি দাদা, হিমেল সহ প্রায় ৪০ জনের মত ছিল এবং সবাই পরিচিত। আমার সাথে সেখানে আমার ছোট দুই ভাই, এক ছোট বোন ও এক দাদা গিয়েছিলাম, যারা শুধু আমার সংগঠনের উদ্বোধন দেখতে গিয়েছিলেন। এরপর অনুষ্ঠান শেষে অনেক খাবারের প্যাকেটই বেঁচে গিয়েছিল। হিমেল আমাকে বলল যে “বই মেলাতে বিজ্ঞান লেখক আড্ডা হবে সেগুলো ওখানে দিলে কেমন হয়। স্যারেরা খেলেন, আপনার উদ্দ্যোগ সম্পর্কেও জানলেন”। আমার কাছে আইডিয়া খুব ভালো লাগল। আমার সাথে আমার দাদা,ভাই,বোন সহ হিমেল, সাদমান ও শরিফ গেলাম বই মেলাতে। গিয়ে দেখি ছায়াবীথি প্রকাশনীর সামনে রনি ভাইয়ায়, তারেক ভাইয়া, মাহমুদ ভাই, কাওসার দাঁড়ানো। জিরোতে লেখা পাঠাচ্ছি ২ বছরের বেশি হবে। তাই কাওসার, মাহমুদ ভাইয়ের সাথে পরিচয় আছে। রনি ভাইয়া বললেন চলো সবাই মিলে ছবি তুলি। আমরা সবাই রাজি হয়ে গেলাম। রনি ভাইয়ার ক্যামেরায় ছবি তোলা হলো। শরিফ গিয়ে স্যারদের জন্য খাবার দিতে গেল আর আমি সারাদিন আমার প্রোগ্রামটা নিয়ে অনেক ব্যাস্ত থাকায় অনেক ক্লান্ত ছিলাম। এদিকে আমার ছোট বোনটা বাসায় ফেরার জন্য উদগ্রীব ছিল, কারণ তার বাবা বারবার তাকে ফোন করছিল। এদিকে মাহমুদ ভাইয়া অনুরোধ করছিলেন লেখক আড্ডাতে থাকতে, কিন্তু আমি নিরুপায় ছিলাম। শুক্রবার আমার দুই ভাইয়ের ভার্সিটিতে পরীক্ষা ও ছিল। তাই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমি প্রায় সাড়ে ৫টা নাগাদ বইমেলা থেকে বের হই এবং শাহবাগ থেকে উত্তরার বাসে চড়ে বাসায় ফিরে আসি।

    বাসায় এসে আমি স্নান করে একটা ঘুম দেই। ঘুম থেকে উঠে যখন বিবিসি এর সংবাদ শুনছিলাম তখন অভিজিৎ রায়ের খুনের খবর পাই এবং সত্যিই অনেক হতাশ হই। এরপর ফেসবুকে এসে তো দেখি সবাই তাকে নিয়ে অনেক লেখা লেখি করছেন। অভিজিৎ রায়কে আমি ব্যাক্তিগত ভাবে চিনি না, কখনই তার সাথে আমার কথা হয় নাই বা দেখাও না। এই জীবনে তার একটা লেখাই আমি পড়েছি সেটা হলো “মহাবিশ্বের অন্তিম পরিনিতি”। যাই হোক,আমি এরপর নানা পত্রিকাতে তার খুনের খবর পড়তে লাগলাম। খুবই কষ্ট লাগছিল একজন বড় মাপের বিজ্ঞান লেখককে আমরা হারালাম। নিজে কোন স্ট্যাটাস না দিলেও কম করে হলেও ১৫-১৮টা স্ট্যাটাসে আমি প্রতিবাদ জানালাম(ফেসবুক প্রোফাইল খুজলেই সেগুলো পাবেন)। আর আমি কি বা স্ট্যাটাস দিব বলুন, আমি না তাকে ব্যাক্তিগতভাবে চিনি না তার অনেক বই পড়েছি। আমার চোখে তিনি একজন উচু মাপের বিজ্ঞান লেখকই ছিলেন যা তার একটা লেখা পড়েই বুঝেছিলাম।

    যাই হোক,আস্তে আস্তে জানলাম এখানে ফারসীম স্যারকে সন্দেহ এর চোখে দেখা হচ্ছে, জিরো কে মৌলবাদী সংগঠন ভাবা হচ্ছে। সত্যি কথা বলতে আমি একজন জিরোর একজন সাধারণ লেখক হিসাবে এদের কারো ভিতরেই কখনই আমি মৌলবাদী চিন্তা-ভাবনা দেখি নাই। কখনই ত্রিভুজ নামের মানুষের নাম এখানে জড়িত এটাও দেখি নাই (ত্রিভুজ কে বা কি করে আমি এখন ও জানি না)। যাই হোক, অনেকেই অনেক কথাই বলছে, অনেকে সত্য জানতে চাইছেন। তাই আমি আমার মন্তব্য জানালাম।

    আর এটাই বলতে চাই, আমি অভিজিৎ রায়ের হত্যাকান্ডের সঠিক বিচার চাই। এই বিচার যদি আমরা না পাই তবে ঐসব ঘাতকেরা আমাদের তাদের অন্ধকারেই বন্দি করে রাখবে, আলো কখনই আসবে না।

    Reply
  11. অভিজিৎ রায়

    1. আপনার মত আবা*রা নিজেদের মুক্তমনা বলে দাবি করে, এত ‘মুক্ত মনের’ চর্চা যদি করেই থাকেন তাহলে খামোখা একটা মানুষকে হ্যারাস করছেন কেন? ফারসীম মান্নান পালায়ে যায় নাই, যা বলার থানায় যেয়ে বলুন। তা তো করবেন না, কয়েকদিন আগে যখন এফবিআই আসছিলো তখন আপনার মত আবা* কন্সপিরেসি থিওরিষ্ট রা কি দু*দু খাচ্ছিলো? আর এখন সবার ‘মুক্তমত’ উত্থিত হইছে।

    2. ছায়াবীথি আর শুদ্ধ স্বরের মালিকগণ নিজেকে ভাগ্যবান ভাবতে পারে- যে সেদিন অভিজিতের শেষ প্রোগ্রাম ছিল ফারসীম মান্নান স্যারের আলোচনা সভা, নতুবা ছায়াবীথি আর শুদ্ধস্বরের মালিকরা ফাইসা যাইত একই কারণে – যে কারনে মান্নান স্যার ফাঁসল- তখন মুক্তমনারা বইলত- শুদ্ধস্বরের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ শেষে বাসায় ফেরার পথে যেহেতু অভিজিৎ কোপ খাইছে- তার মানে এর মালিকরা সব জানে।

    3.ফারসীম মান্নান স্যারের আপনার মত বুদ্ধি নাই। দেখেন তিনি যদি একটু শোকের অভিনয় করত, তাইলেই কিন্তু আইজ সন্দেহের বাইরে থাকতে পারত। ফারসীম মান্নানের স্যারের উচিত ছিল একাত্তর টিভিতে ১ ঘণ্টার একটা শোক অনুষ্ঠান প্রচার করা। হুনছি, হাসিনা বুবু-ও নাকি অভিজিতের মৃত্যুতে কোন শোক জ্ঞাপন করে নাইক্কা, আমার মনে লয় হাসিনা বু-ও এর সাথে জড়িত।

    Reply
  12. অভিজিৎ রায়

    1. আপনার মত আবালরা নিজেদের মুক্তমনা বলে দাবি করে, এত ‘মুক্ত মনের’ চর্চা যদি করেই থাকেন তাহলে খামোখা একটা মানুষকে হ্যারাস করছেন কেন? ফারসীম মান্নান পালায়ে যায় নাই, যা বলার থানায় যেয়ে বলুন। তা তো করবেন না, কয়েকদিন আগে যখন এফবিআই আসছিলো তখন আপনার মত আবাল কন্সপিরেসি থিয়রিস্ট রা কি দুদু খাচ্ছিলো? আর এখন সবার ‘মুক্তমত’ উত্থিত হইছে।

    2. ছায়াবীথি আর শুদ্ধ স্বরের মালিকগণ নিজেকে ভাগ্যবান ভাবতে পারে- যে সেদিন অভিজিতের শেষ প্রোগ্রাম ছিল ফারসীম মান্নান স্যারের আলোচনা সভা, নতুবা ছায়াবীথি আর শুদ্ধস্বরের মালিকরা ফাইসা যাইত একই কারণে – যে কারনে মান্নান স্যার ফাঁসল- তখন মুক্তমনারা বইলত- শুদ্ধস্বরের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ শেষে বাসায় ফেরার পথে যেহেতু অভিজিৎ কোপ খাইছে- তার মানে এর মালিকরা সব জানে।

    3.ফারসীম মান্নান স্যারের আপনার মত বুদ্ধি নাই। দেখেন তিনি যদি একটু শোকের অভিনয় করত, তাইলেই কিন্তু আইজ সন্দেহের বাইরে থাকতে পারত। ফারসীম মান্নানের স্যারের উচিত ছিল একাত্তর টিভিতে ১ ঘণ্টার একটা শোক অনুষ্ঠান প্রচার করা। হুনছি, হাসিনা বুবু-ও নাকি অভিজিতের মৃত্যুতে কোন শোক জ্ঞাপন করে নাইক্কা, আমার মনে লয় হাসিনা বু-ও এর সাথে জড়িত।

    Reply
    • সুমন সাহা

      ঠিকই বলেছেন অভিজিৎ রায়। নিরাপরাধ একজন মানুষকে নিয়ে আপনারা টানা হ্যাচড়া শুরু করেছেন। এতে আসল খুনীরাই পালিয়ে যাবার সুযোগ পাচ্ছে।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—