Feature Img

Dr. Dipu Moniসম্প্রতি কোলকাতার ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকায় একজন সাংবাদিক তিস্তা চুক্তি নিয়ে মমতা ব্যানার্জীর মত প্রসঙ্গে লিখেছেন যাতে ডা. দীপু মণিকে নিয়ে কিছু কথা আছে। এ বিষয়ে দীপু মণি তাঁর বক্তব্য আমাদের পাঠিয়েছেন। পাঠকের আগ্রহ বিবেচনা করে লেখাটি প্রকাশ করা হল।

বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দিয়ে চমকে দিয়েছিলেন অনেককেই। সে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মাঝে মাঝেই এমন ধরনের সমালোচনা শুনতে হয়েছে যার যৌক্তিকতা খুব নির্মোহ আত্মসমালোচনা, আত্মবিশ্লেষণে অভ্যস্ত আমি খুঁজে পাইনি। এমনকি যাঁরা বস্তুনিষ্ঠভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করতে পারেন এবং খোঁজ-খবর রাখেন বিভিন্ন বিষয়ে, তাঁরাও এসব সমালোচনার যৌক্তিকতা খুঁজে পাননি। সে সময়ে একজন বর্ষীয়ান শিক্ষাবিদ-গবেষক আমাকে বলেছিলেন “এত কম বয়সে এত বড় দায়িত্ব পাবেন এবং শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে সে গুরুদায়িত্ব মুন্সীয়ানার সঙ্গে পালন করবেন– অথচ কেউ ঈর্ষান্বিত হবে না তা কি হয়?”

যখনই কোনো নিন্দা শুনেছি, তা ঈর্ষাপ্রসূত হোক কী যথার্থ– আমি তার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে যেখানে যতটুকু নিজের কাজ শুধরে নেবার প্রয়োজন মনে করেছি, তা করে নিয়েছি। যখনই সুযোগ পেয়েছি, নিন্দুককেও ধন্যবাদ জানিয়েছি আমাকে ভুল সংশোধনের সুযোগ করে দিবার জন্য। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখেছি, ভদ্রতা, বিনয় লোকে দুর্বলতা ভেবেছে।

কয়েকটি ‘চিহ্নিত মহল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সকল সাফল্য ছোট করতে চেয়েছে। বারবার আমাকে ছোট করতে চেয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যার স্নেহভাজন, ঘনিষ্ঠজন হিসেবে যারা পরিচিত, তাদেরকে দূরে সরাবার প্রক্রিয়াও চালিয়েছে ২০০৭-০৮ এর কুশীলবরা, মাইনাস-টু-ওয়ালারা। তাদেরও আক্রোশের শিকার হতে হয়েছে আমাকে। সে উদ্দেশ্যে বারবার তথ্য বিকৃত করেছে বা অসত্যকথন করেছে। মাঝে মধ্যে যখন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছি, প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি, তখন উত্তর দিয়েছি; ভ্রান্ত, বিকৃত, অসত্য তথ্য সম্পর্কে আমার বক্তব্য তুলে ধরেছি।

তবে প্রায়শই তথ্য বিকৃতকারীরা, অসত্য বক্তব্য দেওয়া ব্যক্তিরা আমার সামনে আসেননি। সামনাসামনি প্রশ্ন তোলেননি। আমাকে সরাসরি উত্তর দিয়ে ভ্রান্তি, বিকৃতি, অসত্য দূর করবার সুযোগ দেননি। আমিও সময় দিয়ে, কষ্ট করে এ কাজ সর্বক্ষেত্রে করিনি। সে সব বিকৃত, ভ্রান্ত বা অসত্য তথ্য সম্পর্কে আমি লিখতে পারতাম। সত্য তুলে ধরতে পারতাম। করিনি। কারণ এ কাজ করতে হলে আমাকে যতটা সময় দিতে হত লেখালেখি করবার জন্য সে সময়টুকুতে আমার দায়িত্ব পালনে ব্যাপৃত থাকাই আমি দেশের স্বার্র্থের জন্য জরুরি বলে জ্ঞান করেছি।

আমি আমার দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থেকেছি— কারা কোন উদ্দেশ্যে অসত্য তথ্য ছড়িয়ে আমাকে ছোট করার অপচেষ্টা করছে তা নিয়ে মাথা ঘামাইনি বা তা রোধ করতে ব্যস্ত হয়ে যাইনি।

ভেবেছিলাম ভবিষ্যতে যখন আমার প্রায় পাঁচ বছরের পররাষ্ট্রন্ত্রিত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছু লিখব, তখন এ বিষয়গুলোকেও তাতে ছোট করে হলেও একটু জায়গা দেব। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে, বোধহয় এখনই একটু লেখা প্রয়োজন।

ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং ২০১১ সালের ৫-৬ সেপ্টেম্বরে ঢাকা এলেন। সবাই আশা করেছিলেন তাঁর এই ঐতিহাসিক সফরের সময় অন্য বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পাশাপাশি তিস্তার পানি বণ্টন বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটিও স্বাক্ষরিত হবে। স্থল সীমান্ত চুক্তির প্রটোকল, সহযোগিতার কাঠামো চুক্তিসহ বেশ কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল স্বাক্ষরিত হলেও তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়নি এ সফরের সময়। আমরা সবাই জানি কেন তা হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর আসবার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে। তিনি আমার আমন্ত্রণ গ্রহণ করে জবাবও দিয়েছিলেন। আসবার আগ্রহের কথাও জানিয়েছিলেন। কেন আসেননি তাও সবাই জানেন।

হঠাৎ করেই সে ঘটনার কয়েক মাস পর থেকে লেখালেখি শুরু হল আমার সঙ্গে তাঁর বৈঠকের সময় নাকি ‘ঝগড়া-ঝাঁটি’ হওয়াতেই তিনি ঢাকা আসেননি। সুতরাং তিস্তা চুক্তি না হবার কারণ আমি। এই ‘তত্ত্বে’র শুরু শুনেছি কোলকাতার কোনো একটি পত্রিকা। আমাদের কিছু পত্রিকা এবং কিছু টকশোর অতিথির কল্যাণে এটি একসময় বেশ চাউর হয়েছিল। আমাকে দুয়েকজন সরাসরি জিজ্ঞেসও করেছিলেন। আমি তাদেরকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, এ প্রচারণা কতটা ভিত্তিহীন, মনগড়া এবং অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

আজ আবার দেখলাম জয়ন্ত ঘোষাল কোলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় মমতা ব্যানার্জীর তিস্তা চুক্তি নিয়ে সাম্প্রতিক মত পরিবর্তন সম্পর্কে লিখতে গিয়ে পুরনো কাঁসুন্দির মতো আবারও সেই পুরনো ভিত্তিহীন বিষয়টি লিখেছেন। মমতা ব্যানার্জীর সঙ্গে আমার কথিত ‘কথা কাটাকাটির’ কারণেই নাকি তিস্তা চুক্তি ‘বিশবাও জলে পড়ে গিয়েছিল’! এবার অবশ্য লেখা হয়েছে আমি যখন মমতা ব্যানার্জীকে ‘বোঝাতে গিয়েছি’, তখন এ ঘটনা ঘটে। আমি তাঁকে বোঝাতে যাইনি। অন্য অনুষ্ঠানে গিয়ে ফিরতি পথে একটি সৌজন্যমূলক বৈঠক হয়েছিল।

আমি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে কয়েকটি তথ্য জানাতে চাই জয়ন্ত ঘোষালকে, তাঁর পাঠককে এবং অন্য আরও যারা এ গল্প এর আগে গিলেছেন বা গিলতে বাধ্য হয়েছেন (এ গল্পের পরিবেশকদের পটুতায় এবং আমার প্রতিবাদের অনুপস্থিতিতে)। ড. মনমোহন সিং ঢাকা সফর করেছিলেন ২০১১এর সেপ্টেম্বরের ৫-৬ তারিখে। মমতা ব্যানার্জী আসেননি, তিস্তা চুক্তি হয়নি সে সময়ে। আর মমতার সঙ্গে আমার আলোচিত বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১১এর নভেম্বরের ১৬ তারিখে। অর্থাৎ ২ মাস ১০ দিন পর! সে বৈঠকে যদি তাঁর সঙ্গে আমার সত্যি সত্যি কথিত ‘কথা কাটাকাটি’ হয়েও থাকে তাহলেও তার ফলে নিশ্চয়ই ২ মাস ১০ দিন আগে তিস্তা চুক্তি ‘বিশবাও’ জলে পড়তে পাড়ে না!

আর সে বৈঠকে কথা কাটাকাটি কেন, কোনো অসৌজন্যমূলক কথা কোনো দিক থেকেই হয়নি। হবেই বা কেন? একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বিরাট দেশটির একেবারে লাগোয়া রাজ্যের নবনির্বাচিত প্রথম নারী মূখ্যমন্ত্রীর এটি ছিল প্রথম বৈঠক। রাষ্ট্রের কাঠামোর ব্যাকরণ অনুসারে বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান সমান্তরাল না হলেও, অভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির গভীর বন্ধনের কারণে শুধু কবিতা ও গানেই ‘দুই বাংলার’ নৈকট্য প্রকাশ পায় না, মনস্তাত্ত্বিকভাবেও আমাদের নিকট সম্পর্ক রয়েছে। এ সম্পর্কের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হয়েছে ’৭১-এ যে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা আর সহমর্মিতা পেয়েছে বাংলাদেশের মানুষ পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছ থেকে, তার মাধ্যমে।

দু’জনের এর আগেও দেখা হয়েছে। কথা হয়েছে। দু’জনেই বাঙালি। দু’জনেই সংস্কৃতমনা। দু’জনেরই রয়েছে পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। বৈঠকটি বেশ আন্তরিক ছিল। আমরা সব বিষয়েই কথা বলেছি। মাননীয় মূখ্যমন্ত্রী যথযথভাবে ও আন্তরিকতায় আপ্যায়নও করেছেন। সেখানে উপস্থিত ছিলাম আমরা সর্বসাকুল্যে ছ’জন। আমি, আমাদের হাইকমিশনার ও ডেপু্টি হাইকমিশনার এবং মমতা ব্যানার্জী, মুকুল রায় ও পশ্চিমবঙ্গের চিফ সেক্রেটারি। পরে শুনেছি, কোনো একজন সাংবাদিক নাকি দাবি করেছেন, তিনি ঐ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন!

তিস্তা চুক্তি ২০১১এর সেপ্টেম্বরে হয়নি কেন সবাই জানেন। সে দোষ আমার ঘাড়ে চাপাবার ব্যর্থ চেষ্টা করেন যারা তারা একই সঙ্গে এবং একই কারণে ভুলে যান উল্লেখ করতে যে, তিস্তা চুক্তির বিষয়টি দ্বিপাক্ষিক আলোচ্যসূচির অনেক নিচে থেকে একেবারে উপরে টেনে এনে চুক্তিটি স্বাক্ষরের জায়গায় নিয়ে আসবার কাজটি কিন্তু হয়েছিল এই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সময়েই। আর সেই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে দেশ ও জনগণের স্বার্থে নিরলস কাজ করে গেছেন ৪৫ দিন কম ৫ বছরের প্রতিটি দিন। কোনো প্রশংসা পাবার আশায় নয়।

বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে সততা, নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব যথাযথ পালন ও দেশের স্বার্থ সুরক্ষাই ছিল তার পরম পাওয়া।

ডা. দীপু মণি এমপি: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী; পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি।

২০ Responses -- “একটি অভিযোগ ও আমার উত্তর”

  1. Shahed Hossain

    আমি সৌদি এয়ারলাইন্স এর আমেরিকান টেকনিক্যল সেকশানে কর্মরত। আমাদের রেমিটেন্সে আর জনসাধারণের টেক্সের টাকায় রেকর্ড সংখ্যক বিদেশ ভ্রমন আমেরিকা এবং সৌদিআরবের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে কোন কাজে আসেনি। কি পরিমান আমরা বিদেশে ভুগেছি, তা শুধু প্রবাসীরাই জানি। অথচ, বিএনপি সমর্থক হয়েও বিদেশ থেকে সব আত্মীয়স্বজনকে বলেছিলাম আপনাদের নির্বাচিত করতে। আমরা আশাহত!!

    Reply
  2. Taherul Islam

    আমি দীপু মনির লেখা ও নিচের ১২ টি প্রতিক্রিয়া পড়লাম। অামার প্রতিক্রিয়া –

    * কোলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার নাম আমি অনেক শুনেছি কিন্তু এর কোন বিস্তৃত ইতিহাস আমার জানা নাই। তবে কোন পেশাদার পত্রিকা এই বিষয়টিকে সংবাদ করার জন্য স্থান দিতে পারে না তাও আবার এই ধরণের অপেশাদার ও কূটনীতিক শব্দবির্বজিত বাক্যে গঠিত শিরোনামে!!!!! (যদিও আমি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ছাত্র ।)

    আর জয়ন্ত ঘোষাল!!! তাকে স্বাগত জানাচ্ছি বাংলাদেশে এসে ভালো কিছু প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পরিচালিত স্বল্প বা র্দীঘমেয়াদী সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ কোর্সে ভর্তি হবার জন্য। তিনি চাইলে আমি তাকে এ বিষয়ে সাহায্য করতে পারি।

    * মনে হয় না শেখ হাসিনা, দীপু মনিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় পাঠাবার আগে তাকে পাবনার পাগলাগারদ থেকে করে নিয়েছেন যে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তার পর্যায় ও প্রটোকল ভেঙ্গে কারো সাথে (কোন মূখ্য মন্ত্রীতো দূরের কথা) ঝগড়া বা বিবাদ করে বসবেন । এটা কি গ্রামের দুই মহিলার গরু ধান ক্ষেত নষ্ট করেছে সেই নিয়ে বিবাদ বা ঝগড়া। সত্যিই হাস্যকর। অামরা আবার সেটা বিশ্বাস করে মতামত দিই বা কথা বলি। সত্যিই হাস্যকর।

    * দীপু মনির এ বিষয় মতামত তুলে ধরা ও অবস্থান ব্যাখ্যা করার কিছু নাই। এগুলো ইগনোর করার বিষয়। তিনি লিখেছেন যেকোন ভুল তিনি মন্ত্রী থাকাবস্থায় শোধরাতে প্রস্তুত ছিলেন এটাই যথেষ্ঠ। এত সহজ স্বীকারক্তি আজকের দুনিয়ায় কেউ করে না। অার তার জন্যেই ওনাকে লিখতে হয়েছে এই বাক্যটি – “তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখেছি, ভদ্রতা, বিনয় লোকে দুর্বলতা ভেবেছে।”

    * দেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার সময়ে যতটুকু সফলতা দেখিয়েছেন তা ঢের। বাকিটা পরে যদি সুযোগ পান দেখাবেন।

    * প্রত্যেকেরই কর্ম ও যাপিত জীবনে সমালোচনা করার মত বিষয় থাকে এবং থাকবেই স্বাভাবিক। আমরা যারা সমালোচনা করছি তাদেন জন্যও কিন্তু কথাটি সত্য । অাসুন ইতিবাচক বিষয়গুলো তুলনামূলকভাবে একটু বেশি বলবার চেষ্টা করি এবং সমালোচনা করি গঠনমূলকভাবে – জেনে, বুঝে ও ভেবে।

    * অামার কাছে কেন জানি মনে হয় দীপু মনি নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন বলেই নাকি এত কথা, একটু বেশি বেশিই মনে হয়। কি জানি!!!

    Reply
  3. bakarh

    দীপুমনি মহোদয়ার এই সুন্দর জবাব দেয়ার জন্য ওনাকে জানাই অশেষ ধন্যবাদ।আজকাল দেশে যারা রাজনীতির সাথে জরিত তাদের অনেকেই গুঁছিয়ে নিজের অবস্থান বা বক্তব্য প্রকাশে ব্যার্থতার পরিচয় দিয়ে থাকেন । যে কারনে অপব্যাখ্যা অনেক ক্ষেত্রই জয়ী হয় । তবে আমাদের দেশের রাজনীতিতে আনুগত্যের দায় এতটাই প্রকট যে সেখানে ব্ক্তিযাত্বের উন্মেষ একেবারেই অনুপস্থিত। যা কিনা একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের প্রগতির পথে বড় বাধা । মন্ত্রী হলেই ওঁনাকে “মাননীয়” এই বিশেষ বিশেষন ছাড়া কেউই কথা বলতে সাহস পায়না অথচ “মনত্রী মহোদয়” বা মহোদয়া সর্বকালেই একটি সম্মান জনক বিশেষন । সংসদীয় অধিবেশনেও খুব যত্যনের সাথে এই “মাননীয়” বিশেষনটি সংরক্ষন করা হয় । এটা কি অতি বিণয় না অতি আনুগত্য ? ভোটারদেরকে তো কখনো কোথাও “মাননীয় ভোটার” বা “মাননীয় ভাই ও বোনেরা” বলতে বা লিপিবদ্ধ করতে দেখা যায়না ! সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাতো সাধারন জন গনকে একটি মুরগীর চেয়ে বেশি সম্মান দেয়াকে রীতিমত রীতি বিরুদ্ধ একটি অপরাধ হিসাবেই বিবেচনা করে! রিক্সাওয়ালা ও অন্যান্ন পেশাদারী চালকদের কথা বাদই দিলাম । পারস্পরিক সম্মান বোধ একটি জাতির জাতীয় মানসিকতার উন্নয়নে ও বিকাশে অনেক গুরুত্ব বহন করে । দাসত্বের মানসিকতার উন্নয়ন না ঘটালে জাতি হিসাবে আমরা কোথাও মাথা উঁচু করে দাড়াতে শিখবো না ।

    Reply
  4. রাহুল

    তিস্তা চুক্তি ২০১১এর সেপ্টেম্বরে হয়নি কেন সবাই জানেন।”
    না ম্যাডাম, আমরা জানিনা। আপনারা সেসব প্রকাশের কোন প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। কোনদিন ও করেন না। বিদেশিদের সাথে দেশের কি চুক্তি হয়, কিসের প্রেক্ষিতে তা জনগণ জানে না। আপনারা আমাদের অধিকার, সম্মান, মর্যাদাবোধ বিক্রি করে দেন কিনা তা আমরা জানিনা। আমরা শুধু জানি চুক্তি হয়েছে অথবা হয়নি। একজন সাবেক মন্ত্রী হিসাবে ব্যাপারটা আপনার জানার কথা।

    Reply
  5. rahul

    তিস্তা চুক্তি ২০১১এর সেপ্টেম্বরে হয়নি কেন সবাই জানেন।” না ম্যাডাম, আমরা জানিনা। আপনারা সেসব প্রকাশের কোন প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। কোনদিন ও করেন না। বিদেশিদের সাথে দেশের কি চুক্তি হয়, কিসের প্রেক্ষিতে তা জনগণ জানে না। আপনারা আমাদের অধিকার, সম্মান, মর্যাদাবোধ বিক্রি করে দেন কিনা তা আমরা জানিনা। আমরা শুধু জানি চুক্তি হয়েছে অথবা হয়নি। একজন সাবেক মন্ত্রী হিসাবে ব্যাপারটা আপনার জানার কথা।

    Reply
  6. R. Masud

    বাংলাদেশের একটা জনগুস্টি আছে তারা শত, হাজার লক্ষ বছর পরও আওয়ামীলীগকে সমর্থন দেবেনা।
    দুঃখের ব্যাপার হলো এই লোকগুস্টির একটা অংশ শিক্ষিত এবং প্রভাবশালী।
    এদের সাথে বিদেশী শক্তি যারা বাংলাদেশের ভালো চায়না তাদের সাথে যোগাযোগও শক্ত।
    প্রচার যন্ত্র প্রচুর এদের হাতে। এদের বিরুদ্ধে দাড়াতে হলে শক্ত একতার দরকার।
    আওয়ামীলীগ পন্থীরা এদের বিরুদ্ধে দাড়ানোর চেষ্টা করে কিছুটা সাফল্য পেলেও পুরপুরি সাফল্যটা পাচ্ছেনা
    কারন, তাদের মাঝেও একদল আছে, যারা নিজের স্বার্থটাকে বড় করে দেখে। তাদের কাছে দেশের স্বার্থ থেকে দলের স্বার্থ বড়, দলের থেকে নিজের স্বার্থটা বড় এই ফরমুলায় বিশ্বাসী বলে।
    যারা আওয়ামীলীগ বিরোধী তারা সুধু একটাই বিশ্বাস করে আর হল নিজের স্বার্থটাই সদাসর্বদা উপরে–

    উপরের লিখিত ধর্মই হলো বাঙ্গালী ধর্ম।

    Reply
  7. নানা ভাই

    এ্যাতোদিনে অরিন্দম কহিলো বিষাদে…….।
    ভালই তো ভালো না?????

    Reply
  8. KAILASH TEWARI

    যারা কাজ করেন তাদেরি কাজে হয়তো একটু ভুল হয় আর যারা কাজ করেন না, তাদের ভুলই কী আর সঠিক কী? আপনার এত কম বয়সে এত বড় দায়িত্ব পালন করাটাই আপনার জন্য একটু বাড়তি চ্যালেঞ্জ ছিল তার পরেও আপনি আপনার দায়িত্ব সঠিক ভাবেই পালন করেছেন বলে আমার মনে হয়। নিন্দুকেরাতো একটু সমোলচনা করবেই, তাই বলে কী আপনি যে আদর্শকে লালন করে রাজনীতি করেন তা কখন থেমে যাবে, কখনই যাবে না। এই জন্য রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন” যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলরে…………।। যাইহোক বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা খুব নাজুক, এই সময় এই সব বিষয় নিয়ে মাথা না রেখে কী ভাবে আমদের এই উন্নয়নের যাত্রা ও অর্জিত স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখা যায় তার চেষ্টা মনোনিবেশ করা উচিৎ। সুশীল সমাজনামক ব্যক্তিগণ কি ভাবে ক্ষমতার লোভে নেক্কারজনক কাজে অবতীর্ণ হয়েছেন তার জলন্ত উধারন মান্নাসাহেবরা না জানি এই রকম কত মান্নাসাহেব আমাদের সুশীলসমাজে আছেন! তাই এদের কথায় কান না দিয়ে, আমদের অর্জিত স্বাধীনতার এবং আমদের জান-মাল নিরাপত্তার দায়িত্ব যখন নিজের কাঁধে নিয়েছেন, সেই কাজটুকু সঠিক ভাবে পালন করার মনোনিবেশ করুন অন্যথ্যা না থাকবে স্বাধীনতার, না থাকবে পররাষ্ট্র না স্বরাষ্ট্র না থাকবে জাতীয় ঐতিয্য।

    Reply
  9. মাহমুদ

    দেশের টাকা নষ্ট করে বিনা কারনে আপনার বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে আমরা অসন্তুষ্ট ।

    Reply
  10. JH

    আপনি কম বয়সে ফরেন মিনিস্টার, তা বেশি বয়্স টা কত ? লজ্জা পেলাম !!!!

    Reply
  11. মাসুদ করিম

    সমস্যা অনেক বেশি জয়ন্ত ঘোষালের, এই গালগল্পের সাংবাদিক প্রায় সময়ই আবোলতাবোল সংবাদ সৃষ্টি করেন এবং কখনোই পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতের কোনো দোষ দেখতে পান না, বাংলাদেশ বলতে খালি ইলিশ মাছ আর এখানে এসে কব্জি ডুবিয়ে খাওয়া বোঝেন – এধরনের লোককে আনন্দবাজার পত্রিকা কেন আন্তর্জাতিক খবরের দায়িত্ব দিয়েছে তা সবারই বোঝা উচিত, কারণ আনন্দবাজার পত্রিকা খবরের চেয়ে গল্পগাছা পরিবেশনে তার দক্ষতা প্রদর্শন করতেই সর্বক্ষণ ব্যস্ত থাকে।

    Reply
  12. সাজেদ রোমেল

    ওয়ান ইলেভেনের আগের আপনার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কতটুকু ছিল বলেন নি। শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত আনুগত্যেই আপনি হয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিভাবে চালাতে হয়, তা বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে শিখে নিন। দেশ-বিদেশে এতো বৈরি পরিস্থিতিতেও তার ব্যক্তিগত উদ্যোগেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাফল্য যুক্ত হচ্ছে নিরবে-নিবৃত্তে। আর আপনি সমুদ্রসীমা নির্ধারণে মামলার বাংলাদেশের অর্জনে কৃতিত্ব নিতে এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে নিজেকে জাহির করতেই কখনো আদালতের শুনানীতেও উপস্থিত থেকেছেন। যখন সারাদেশে শেখ হাসিনার জনসভায় লোকে লোকারণ্য তখনও আপনার নিজের জেলাতেই লোকের উপস্থিতি ছিলে খুবই কম। আপনার ভদ্রতা, বিনয়কে লোকে দুর্বলতা ভাবে বলে আপনি মনে করেন। বাস্তবে লোক এতো বোকা নয় যে, আপনার হাসি যে কৃত্রিমতা ছাড়া কিছুই নয় তা বুঝবে না। আপনার লেখায় গর্ব করে প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিজেকে জাহির করতে চেয়েছেন। কাজের চেয়ে আপনার ব্যক্তিপ্রচার, অদক্ষতা আসলে নারীর ক্ষমতায়নকেই একধাপ পিছিয়ে দিয়েছে।

    Reply
  13. কাজী রাশেদ

    ধন্যবাদ বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডাঃ দীপুমনিকে। আপনার সাবলীল তথ্য অনেক ব্যক্তির কুতসা আর রটনার জবাব সন্দেহ নেই। তবে অনেক দেরি করে ফেলেছেন। বাংলাদেশের মানুষের স্বভাব আপনার জানা। যখন কোন কথা বা গুজব উঠে তখন তার সত্যতা না যাচাই করেই আলোচনা শুরু করে দেয়। আর সুশীল দের কে আমি মানুষ হিসাবে গন্য করি না। তারা মানুষের চেয়েও উত্তম কিছু হয়ে থাকতে পারেন। এবষিয়ে আমার কোন ধারনা নেই তবে তারা যে মানুষ নন এজন্যে আমার করুনাই হয়। আবারো ধন্যবাদ সত্য টাকে দেরীতে হলেও প্রকাশ করার জন্যে।

    Reply
  14. mohiuddin

    আপনার ব্যক্তিত্ব ও স্মার্টনেসের কারণে দেশ উপকৃত হয়েছে সন্দেহ নেই। রেকর্ড সংখ্যক বার বিদেশ ভ্রমণের ব্যাপারে আপনার প্রকৃত বক্তব্য, ভালো-খারাপ যাই হোক, পেলে ভালো হয়। জনগণ জানবে, আর ভবিষ্যতে আপনার মতো সৎ ও উদ্যমী মন্ত্রী পেলে বাংলাদেশের লাভ।

    লেখাটির জন্য ধন্যবাদ।

    Reply
  15. Md. Abul Kashem

    এত ভালো কাজ করেও এবার তাহলে ফরেন মিনিস্টার হতে বাদ পড়লেন কেন দীপু আপু!!!

    আর কী বলছেন, এত কম বয়সে এত গুরুদায়িত্ব নিয়েছেন আপনি? বয়স তো কোনো বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে, মেধা. সততা. দায়িত্ববোধ।

    Reply
  16. ADIB

    ভেবেছিলাম লোকজন এটা ভুলে গেছে। কিন্তু আমি তো দেখছি ভুল ছিলাম। কারও কারও ক্ষোভ ও হতাশা তাদের এখনও তাড়া করে ফিরছে।

    যাহোক, ম্যাডাম, আপনি হয়তো কিছুটা পরিষ্কার করতে চেয়েছেন বিষয়টা যাতে অন্যেরা ফাঁকা মাঠে গোল দিতে না পারে।

    Reply
  17. ঢাকাইয়া

    সে সময়ে একজন বর্ষীয়ান শিক্ষাবিদ-গবেষক আমাকে বলেছিলেন, “এত কম বয়সে এত বড় দায়িত্ব পাবেন এবং শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে সে গুরুদায়িত্ব মুন্সীয়ানার সঙ্গে পালন করবেন– অথচ কেউ ঈর্ষান্বিত হবে না তা কি হয়”– ব্যাপারটায় অনেকগুলো কিন্তু আছে। শত্রু কে? বিএনপিকে বোঝাচ্ছেন নাকি অপামর জনগণ? সেই শিক্ষাবিদই বা কীভাবে পরিমাপ করলেন যে সব দায়িত্বই মুন্সীয়ানার সঙ্গে পালন করেছেন আপনি? উনি কি দেশ ও মানুষকে রিপ্রেজেন্ট করেন?

    আপনার রেকর্ড সংখ্যক বার বিদেশ ভ্রমণের সফলতা সম্বন্ধে কিছু প্রকাশ করলে ভালো হবে। জানতে চাই তাতে দেশ কী পেয়েছে।

    Reply
    • A.T.M. Abdur Rahim

      dear, can u mention a name by mentioning his real achievements as a foreign minister of Bangladesh other than Dr. Dipu Moni (whom u feel a better perfomer)? Pls try to avoid regime 1972-1975 n 1996-2001)

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—