Feature Img

Dr. Md. Zafar Iqbalঠিক কী কারণ জানা নেই, কোনো ভয়ংকর খবর পড়লে নিজের অজান্তেই আমি নিজেকে সে অবস্থানে কল্পনা করতে শুরু করি। পদ্মা নদীতে লঞ্চডুবির খবর পড়লে আমি কল্পনায় দেখতে পাই একটা লঞ্চ ডুবে যাচ্ছে, আমি তার ভেতরে আটকা পড়েছি, পানি ঢুকছে, মানুষ আতংকে চিৎকার করছে আর পানির নিচে নিঃশ্বাস নিতে না পেরে আমি ছটফট করছি। যখন একটা বাসে পেট্রোল বোমা দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার খবর পড়ি, তখন কল্পনায় দেখতে পাই আমি বাসের ভেতর আটকা পড়েছি, দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে আর আমি তার ভেতর দিয়ে ছুটে বের হওয়ার চেষ্টা করছি; আমার সারা শরীরে আগুন জ্বলছে।

পরশু দিন আমি যখন খবর পেয়েছি অভিজিৎকে বইমেলার সামনে কুপিয়ে হত্যা করেছে, তখন পুরো দৃশ্যটি আমি আবার দেখতে পেয়েছি– এই দৃশ্যটি আমার জন্যে অনেক বেশি জীবন্ত; কারণ অভিজিৎ যে রকম বই মেলা ঘুরে তার স্ত্রীকে নিয়ে হেঁটে হেঁটে বের হয়ে এসেছে, আমি আর আমার স্ত্রী গত সপ্তাহে ঠিক একইভাবে মেলা থেকে হেঁটে হেঁটে বের হয়ে এসেছি। আমি জানি, অভিজিতের মতো আমার নামও জঙ্গিদের তালিকায় আছে। কল্পনায় দেখেছি, আমার মাথায় আঘাতের পর আঘাত পড়ছে, আমার স্ত্রী আমাকে বাঁচাতে গিয়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাচ্ছে। কাছে, খুব কাছেই পুলিশ নিস্পৃহভাবে দাঁড়িয়ে আছে, তাকিয়ে তাকিয়ে ঘটনাটা দেখছে, কিন্তু কিছু করছে না।

সিলেটে বসে আমি প্রায় সাথে সাথেই ঘটনাটা জানতে পেরেছিলাম। অভিজিৎকে হাসপাতালে নিয়েছে জেনে দোয়া করছিলাম যেন বেঁচে যায়, কিন্তু অভিজিৎ বাঁচল না।

অভিজিৎকে হাসপাতালে নিয়েছে জেনে দোয়া করছিলাম যেন বেঁচে যায়, কিন্তু অভিজিৎ বাঁচল না
অভিজিৎকে হাসপাতালে নিয়েছে জেনে দোয়া করছিলাম যেন বেঁচে যায়, কিন্তু অভিজিৎ বাঁচল না

অভিজিৎ রায় আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রফেসর অজয় রায়ের ছেলে। যারা হাসপাতালে ছিল তাদের কাছে আমাদের স্যারের খবর নিয়েছি। একজন বাবার কাছে তাঁর সন্তানের মৃত্যুসংবাদ থেকে কঠিন সংবাদ আর কী হতে পারে? আমাদের পদার্থ বিজ্ঞানের স্যার প্রফেসর অজয় রায় এই ভয়ংকর দুঃসময়ে তাঁর বুকের ভেতরের ওথাল পাথাল হাহাকার ঢেকে রেখে যে অসাধারণ মানসিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে সন্তানের মৃত্যুসংবাদ গ্রহণ করেছেন, প্রিয়জনের সাথে কথা বলেছেন, গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন, তার কোনো তুলনা নেই। আমরা তাঁর ছাত্রছাত্রীরা যদি তাঁর ভেতরকার শক্তির একটা ক্ষুদ্র অংশও আমাদের জীবনের কোথাও ব্যবহার করতে পারি তাহলে ধন্য মনে করব।

আমি আসলে ফেসবুক, নেট, ব্লগের সাথে পরিচিত নই। আমি জানি সারা পৃথিবীতেই এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারপরও আমি শুধুমাত্র বইপত্র, ছাপা খবরের কাগজ দিয়েই দুনিয়ার খবর রাখি। সে কারণে আমি অভিজিত রায়ের ব্লগ জগতের সাথে পরিচিত ছিলাম না, আমি শুধুমাত্র তার বইয়ের সাথে পরিচিত ছিলাম। আমি আমার নিজের লেখায় তার বই থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছি। আমার খুব আনন্দ হত যখন আমি দেখতাম একজন তরুণ ইঞ্জিনিয়ার কী সুন্দর ঝরঝরে বাংলায় লিখে, কী সুন্দর বিশ্লেষণ করে, কত খাটাখাটুনি করে একটা বিষয় যুক্তি-তর্ক দিয়ে বুঝিয়ে দিতে পারে।

আমি জানতাম না ধর্মান্ধ গোষ্ঠী তাকে এভাবে টার্গেট করেছে। ধর্মান্ধ জঙ্গি গোষ্ঠীর তালিকায় আমাদের অনেকেরই নাম আছে, আমরা ধরেই নিয়েছি এই দেশে এভাবেই বেঁচে থাকতে হয়। কিন্তু সত্যি সত্যি যে তারা অভিজিৎকে এভাবে হত্যা করার একটা সুযোগ পেয়ে যাবে আমি কল্পনাও করতে পারিনি। স্বজন-হারানোর এই দুঃখ আমি কোথায় রাখি?

শনিবার দুপুরে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা অভিজিৎ হত্যার প্রতিবাদে একটি মানববন্ধন ও মৌনমিছিল শেষে আমাদের লাইব্রেরির সামনে জমায়েত হয়েছিল। ছাত্র-শিক্ষকরা নিজেদের ক্ষোভের কথা বলেছেন, দুঃখের কথা বলেছেন, হতাশার কথা বলেছেন, অভিজিতের জন্যে গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার কথা বলেছেন।

সমাবেশের শেষে তারা আমার হাতেও মাইক্রোফোন দিয়ে তাদের জন্যে কিছু বলতে বলেছে। মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে আমি কী বলব বুঝতে পারছিলাম না। তরুণ শিক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে আমি শেষ পর্যন্ত সবসময় যে কথাগুলো বলি তাই বলেছি। এই দেশের দায়িত্বটি এখন এই তরুণদেরকেই নিতে হবে। বলেছি, তাদের দুঃখ পাবার কারণ আছে, তাদের ক্রুদ্ধ হবার কারণ আছে; কিন্তু যত কারণই থাকুক, তাদের হতাশাগ্রস্ত হলে চলবে না।

আমাদের পদার্থ বিজ্ঞানের স্যার প্রফেসর অজয় রায় অসাধারণ মানসিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে সন্তানের মৃত্যুসংবাদ গ্রহণ করেছেন
আমাদের পদার্থ বিজ্ঞানের স্যার প্রফেসর অজয় রায় অসাধারণ মানসিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে সন্তানের মৃত্যুসংবাদ গ্রহণ করেছেন

অন্ধকার জগতের যে মানুষগুলো পিছন থেকে এসে একজনকে হত্যা করে আনন্দে উল্লসিত হয়ে যায়, তারা কোন বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায় আমরা এখন সেটা জানি। তারা ভয় পায় বিজ্ঞানমনস্ক যুক্তিবাদী চিন্তা; তারা ভয় পায় উদার মনের মানুষ; তারা সবচেয়ে বেশি ভয় পায় মুক্তচিন্তা। আমি আমার ছাত্রছাত্রীদেরকে অনুরোধ করেছি, তারা যেন অভিজিতের সম্মানে আর ভালোবাসায় আধুনিক পৃথিবীর উপযোগী মুক্তচিন্তার মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে।

সরকার অভিজিতের হত্যাকারীদের ধরতে পারবে কিনা জানি না। যদি ধরতে পারে, এই দেশের আইনে শাস্তি দিলেই কি যে বিষবৃক্ষ এই দেশে জন্ম নিয়েছে তার শিকড় উৎপাটিত হবে? সারা পৃথিবীতে ধর্মান্ধ মানুষের যে নৃশংসতা শুরু হয়েছে, আমাদের দেশেও কি তার ছোঁয়া লাগতে শুরু করেনি? অভিজিতের বাবা, আমার শিক্ষক প্রফেসর অজয় রায় তাঁর সন্তানের মৃত্যুর পর যে কথাটি বলেছেন, আমাদের সবারই এখন কি সেই একই কথার প্রতিধ্বনি করার সময় আসেনি?

ত্রিশ লক্ষ মানুষ প্রাণ দিয়ে যে বাংলাদেশ তৈরি করেছিল; আমরা সেই বাংলাদেশকে ফিরে পেতে চাই। এই বাংলাদেশ আমাদের সেই ত্রিশ লক্ষ মানুষের, তাদের আপনজনের। এই দেশ অভিজিতের, এই দেশ অভিজিতের আপনজনের। এই দেশ জঙ্গিদের নয়; এই দেশ ধর্মান্ধ কাপুরুষের নয়।

খুব দুঃখের সময় আপনজনেরা একে অন্যের হাত ধরে নিজেদের ভেতর সান্তনা খুঁজে পায়, সাহস খুঁজে পায়। অভিজিতের আহত স্ত্রী, তার কন্যা, তার বাবা-মা, ভাইবোনকে বলতে চাই, আপনাদের পাশে আমরা আছি। একজন দুইজন নয়, লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশের মানুষ।

আপনারা হয়তো আমাদের দেখছেন না, কিন্তু আমরা আছি। আপনাদের পাশে আছি। পাশে থাকব।


মুহম্মদ জাফর ইকবাল:
লেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

মুহম্মদ জাফর ইকবাললেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৪ Responses -- “প্রিয় অভিজিৎ”

  1. Gazi Sohel Rana

    স্যার আসলে অভিজিৎকে যারা খুন করেছে, তারা কোন ধর্মের না। তারা কোন ধর্মের লেবাস হয়তো ধারণ করছে। তবে সে যেই হোক না কেন আমি বলব কোন ধর্মে বিশ্বাসি কোন ব্যাক্তি কোন মানুষ খুন করতে পারে না। যাই হোক আমরা একটা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খুনিদের চিহ্নিত করে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য দেশের সরকারের কাছে অনুরোধ করছি। যাতে করে এভাবে আর যেন কোন মানুষ প্রকাশ্যে বা গোপনে কোথাও যেন কোন প্রকার খুন করতে বা অন্যায় করতে সাহস না পায়। আমার মনে হয় স্যার দেশের সরকার যদি সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই সকল ঘটনা মোকাবেলা করে তবে পুনঃরায় এ ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা অনেকটা কমে আসবে। সরকারকে মনে রাখতে হবে ব্যাক্তির চেয়ে দল বড়, আর দলের চেয়ে দেশ বড়।

    Reply
  2. জুসেফ মোহাম্মদ

    স্যার! জীবনের প্রতি ঝুঁকি জেনেও মাতৃভূমি ও মাতুভাষার টানে দূর পরবাস হতে বীরের মত এদেশে এসে শহীদ অভিজি‍‍ৎ এদেশেরই অন্ধ, বকধার্মিক, উগ্র, মৌলবাদী ও জঙ্গী গোষ্ঠির ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ক্ষত বিক্ষত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগসহ নিজ দেহের তাজা রক্ত ঢেলে এদেশের মাটিকে যে সঞ্জিবনী দান করে গেল তার বলে বলীয়ান হয়ে আমরাও যেন আমাদের এ মাতৃভূমি ও মাতুভাষাকে ভালবেসে অভিজিৎ হতে পারি, নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করতে পারি সেজন্য দোয়া করবেন।

    Reply
    • Tahmina

      আমি একজন অতি সাধারণ মানুষ। অভিজিতদার এই করুণ মৃত্যু সম্পর্কে বলার মতো ক্ষমতা আমার নেই। মুক্তিযুদ্ধ আমি দেখিনি কিন্তু গল্প শুনেছি। যুদ্ধের সময়কার ভয়, আতঙ্ক ও বেঁচে থাকার জন্য প্রতিটি মুহূর্তের প্রাণপণ লড়াই, যুদ্ধের বিভীষিকাময় দিনযাপন আর এখন স্বাধীন দেশে স্বস্তির মধ্যে আরাম কেদারায় বসে যুদ্ধ নিয়ে কল্পনা করা আকাশ-পাতাল নিয়ে ভাবার মতো। যেমন যত দূর দৃষ্টি যায় খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে আকাশপানে তাকিয়ে মনে হয়, দৃষ্টির শেষ সীমান্তে তারা মিলিত হয়েছে। কিন্তু কাছে গেলে আবার তা মিলিয়ে যায় আরও দূরের দৃষ্টিরেখার শেষে।

      গতকাল ০৩/০৩/১৫ তারিখে ধানমণ্ডি গিয়েছিলাম অফিসের কাছে। আসার পথে রাত তখন প্রায় ৮ টা বাজে। বাসে ওঠার পর হঠাৎ করে মনের মধ্যে এক ভয় গেড়ে বসল, যদি এই বাসে কেউ পেট্টোল বোমা নিক্ষেপ করে তাহলে কী হবে? ভেবে কোনো উত্তর মেলাতে পারলাম না। মনে মনে যত দোয়া-দরুদ, যা ছোটবেলায় ওস্তাদজীর কাছ থেকে এবং মায়ের কাছ থেকে শিখেছি, তা আওড়াতে লাগলাম।

      আবার মনে হল, যারা এ যাবত এই পেট্টোল বোমায় হতাহত হয়েছে বা জীবনের বাকি সময়টুকু আপন জনদের কাছ থেকে পাওয়ার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে, তারাও তো আমার মতোই এমন করে কোনো এক বাসের যাত্রী হয়েছিল। তারাও তো হৃদযন্ত্রের মধ্যে কালেমার ধ্বনি উপলব্ধি করতে পারছিল। তবে তারা কেন বাঁচল না?

      আমি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান বোঝার চেয়ে আগে বুঝি মানুষ। পরপারে তাদের কি কোনো হিসাব দেওয়ার নেই যারা এ রক্তপাত ঘটায়? মানুষে মানুষে অনুভূতির তারতম্য রয়েছে জানি, কিন্তু এত বেশি তা তো প্রতি মুহূর্তে জানতে হচ্ছে।

      বোবায় ধরলে নাকি শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে চিৎকার করলেও পাশে শুয়ে থাকা মানুষটিও শুনতে পায় না। তবে কি পুরো মাতৃভূমিটাকে ধীরে ধীরে বোবায় গ্রাস করছে? তবে কি এ নিরাশার মধ্যে বেঁচে থাকার ক্ষীণ আশাটুকু নিঃশ্বাস নিতে পারবে না?

      Reply
  3. faruq

    স্যার, “ধর্মান্ধ জঙ্গি গোষ্ঠী” এই ধরনের আক্রমনাত্বক ভাষা আপনার মত াবস্থান থেকে সোভা পায় না . বরং যে পুলিশ দাড়িয়ে দেখেছে তাকেই প্রশ্ন করুন না . বরং আমরা নিশ্চিত করি যাহারা এই ধরনের হত্যাকান্ড করছে সঠিক তথ্য প্রমানের ভিত্তিতে তাদের খুজে বের করা প্রয়োজন.
    আর একটা বিষয় কি জানেন ? আপনি সব কল্পনায় নিজেকে দেখতে পান । কিন্তু খালপাড়ের ক্রসফায়ারের দৃশ্যে নিজেকে দেখতে পান না। এটাই হলও মুল সমস্যা ।

    Reply
    • সাধারণ মানুষ

      স্যার মৃত্যুর মুহূর্তে কষ্ট পাওয়া মানুষের উদাহরণ হিসেবে ২টি উদাহরণ টেনেছেন- লঞ্চ ডোবার ক্ষেত্রে েএবং আগুনে পোড়ার ক্ষেত্রে। ২টি ক্ষেত্রেই মৃত্যুপথযাত্রী একেবারে নিরীহ সাধারণ মানুষ। একজন নিরীহ মানুষ মারা যাচ্ছে এরকম কল্পনায় কারও মনে হওয়া স্বাভাবিক নয়, যে সে ছিনতাই করে পালাচ্ছে আর তাকে জনগণ ধরে গণপিটুনী দিচ্ছে অথবা সে পেট্রোল ঢেলে বাসে আগুন দিচ্ছে আর তখন তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গুলি করছে অথবা সে ভয়ংকর বা নব্য সন্ত্রাসী বা নাশকতাকারী বা নাশকতার পরিকল্পনাকারী, তাকে ধরে নিয়ে ক্রসফায়ার করা হচ্ছে।

      তাছাড়া মৃত্যু তো আরও অনেক অনেকভাবেই হয়। সবচেয়ে কমন যেটা তা হলো সড়ক দুর্ঘটনা। সেটাতেও তো স্যার কল্পনা করেননি!!!!!

      একটা বিষয় খুবই নিন্দনীয় ও কষ্টকর, বিবেকহীন ও অমানবিক এবং সর্বোপরি উদ্দেশ্যপূর্ণ (মাঝে মাঝে মনে হয় এবং কারও কারও ক্ষেত্রে পরিস্কারভাবে বোঝা যায়)মনে হয়, যে, দেশে যেভাবে সাধারণ মানুষকে পেট্রোল বোমা দিয়ে ককটেল দিয়ে মারা হচ্ছে বা আহত করা হচ্ছে সেটাকে পাশ কাটিয়ে বা সেটা সম্পর্কে না বলে ক্রসফায়ারে মারা যাওয়াদের প্রতিে এত বেশি সরব মানুষ কিভাবে হয়?
      আমার তো মনে হয় ক্রসফায়ারের ভয় রয়েছে বলেই প্রতিটি এলাকায় সন্ত্রাস আগের চেয়ে কমেছে। ক্রসফায়ার তুলে দিয়ে শুধু পুলিশের ভয় দেখিয়ে অনেক সন্ত্রাসীকে মোটেও নিবৃত করা যাবে না। তবে আমিও ক্রসফায়ারকে অমানবিক মনে করি এবং মনে করি ক্রসফায়ার না চালিয়ে সন্ত্রাসিদের র‌্যাব ধরে নিয়ে তাদের হেফাজতে রাখুক।

      তবে ক্রসফায়ারের ভিকটিম যারা হচ্ছে তাদের মধ্যে হয়তো ভুলক্রমে নিরীহ লোক পড়ে যেতে পারে কিন্তু ক্রসফায়ার নিরীহ লোক ধরে হত্যার উদ্দেশ্যে নয়, বরং নিরীহ লোকদের বাচানোর জন্য। কিন্তু বাসে পেট্রোল বোমা,ককটেল নিক্ষেপ, ট্রেনলাইন উপড়ে ফেলা, রাস্তায় বালুর বস্তায় গাড়ির চাকা ফুটো করার মারনাস্ত্র রাখা – এসব যারা সহ্য করে, তারা জানে না যে, যে কোন দিন তারাও এরকম ভিকটিম হতে পারে। আমাদের জাফর স্যার (বেঁচে থাকুন স্যার)তো এসব সব ক্ষেত্রে ভিকটিম হয়ে মারা যাবার কথাও কল্পনা করেননি!!!!!!এগুলো উদাহরণ হিসেবে না বলাও তো স্যার এর সমস্যা!!!!!!!তা বলছেন না কেন!!!!!

      আর জঙ্গি বলাতে কি আক্রমনাত্বক ভাষা আপনারা খুজে পেলেন। যারা মানুষকে লেখালেখির কারণে খুন করতে পারে তারা জঙ্গি ছাড়া আর কি হতে পারে। অামি আপনাকে কিছু ক্ষেত্রে আক্রমন করেছি(আপনি কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমাপ্রার্র্থী) কিন্তু এজন্য অাপনি আমাকে মেরে ফেলতে চাইবেন না বা পারেন না। আর আমি তো অবশ্যই না। আমি আপনার লেখায় কষ্ট পেয়েছি বলে আপনাকে লেখা দিয়েই জবাব দিলাম কিন্তু আমরা আমাদের মেরে ফেলতে পারি না। মানুষ হয়ে যদি অন্য মানুষের বক্তব্য মতামত উদারভাবে নিতে না পারে, এর কারণে তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করে বা মেরে ফেলে, তবে সে মানুষ তবে মনুষ্যত্বহীন।

      প্রতি মিনিটে পৃথিবীতে কোটি কোটি শব্দ বাক্য বা লেখা ইন্টারনেটে বা ব্লগে প্রকাশিত হ্েচছ যার মধ্যে যে কারও নিজের মতামত বা ধারণার বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ বা শব্দ বাক্য বা লেখা হয়ত থাকছে তার পেছনে ছোটা কি যৌক্তিক!!!!আমার মনে হয় না!!!!!কারণ এতে মানুষ মনুষ্যত্বের পথ ছেড়ে অভিশপ্ত পথ জঙ্গিবাদের দিকে ঝুকবে। েএকজন নেশাগ্রস্ত যেমন বুঝতে পারে না সে নেশাগ্রস্ত হয়ে তার পরিবারের ও অন্য মানুষদের ক্ষতি করছে বা সে ভুল পথে আছে, একজন জঙ্গির ক্ষেত্রেও তাই হয়।
      আমরা বাংলাদেশে কোন জঙ্গির উত্থান চাই না। জঙ্গিদের মেরে নয়, তাদের নেশাগ্রস্ত পথভ্রষ্ট অবস্থা হতে ফিরিয়ে আনতে হবে। আমার মনে হয় অনেক জঙ্গি পরিবর্তিত হয়ে সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি মানবিক হতে পারবে। যাদের রাগ ক্ষোভ আদর্শের প্রতি বিশ্বাস বা ভুল(অন্যের কাছে) বিশ্বাস যত বেশী (যেটা জঙ্গিবাদীদের ক্ষেত্রে হয়েছে) তাদের আবেগও সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশী, যে কারণে আমার মনে হয় একজন জঙ্গী মনোভাবের মানুষ যখন জঙ্গীবাদ থেকে ফিরে এসে মানষের কষ্ট দূর করতে চাইবেন তখন তার মানবিকতা মানুষের প্রতি ভালবাসা অনেক অনেক বেশী হবে।
      সেক্ষেত্রে ক্রসফায়ারও সমর্থনযোগ্য নয়।

      Reply
  4. A Khalil Ahmed

    জাফর সাহেব কেমনে জানলেন, ইসলামী জংগীরা মরেছে ? এটা উনার উস্কানীমূলক মন্তব্য | আমরা বুঝে নিয়েছি, অভিজিতের খুন, রাজনৈতিক খুন | কিন্তু জাফর সাহেবের উস্কানী দেয়া বন্ধ হল না |

    Reply
  5. Mickey

    আমরা কেও কারো বিশ্বাস বা ধর্মের ব্যাপারে কটূক্তি না করি।ঘটনমূলক সমলোচনা আর কটূক্তি এক পর্যায়ে পড়ে না।……Sir your are so old…So, technology te apnake manaye na….

    Reply
  6. রাজ

    ইসলাম নামক জঘন্যতম অপরাধকে লালন করলে আর কিই বা হবে!সভ্যতার শত্রু ইসলাম…

    Reply
  7. রাহুল দে

    স্যারের কল্পনা শুধু একচোখা হয়ে গেলো না?! গত ২ বছরে কত মানূষ ক্রস্ফায়ারে মরেছে, কত মানুষ গুম হয়েছে, তাদের ব্যাপারে তো এই পর্যন্ত আপনার কোন লেখা পেলাম না!
    তো কি বাংলাদেশ আপনারা বানাতে চান, জনগনের সামনে বলুন, অভিজিৎ এর ১০ টা লেখার মধ্যে ৯ টা-ই ছিলো ইসলাম ধর্ম বিরোধী, শুধু ধর্মকে কটাক্ষ করা প্রজন্ম যদি তৈরী করতে চান, তাহলে রাস্তায় নেমে সাহস থাকলে ঘোষনা দিন, দেখেন এই ৩০ লক্ষ শহীদের উত্তরসুরী’রা কেমন রেসপন্স করে।

    Reply
    • Rojoni Kanta

      I have same opinion with Mr. Rahul Deb. i have same question to mr. Jafar Sir. We never seen such comments when bangladeshi people deing without any reason…..its really flexible to heat Islam for you in fact of Bangladesh. Its really same as a muslim. Please clear us about relegion smoothly…..

      Reply
    • অজানা মানুষ

      স্যারের কল্পনা শুধু একচোখা হয়ে গেলো না?! গত ২ বছরে কত মানূষ ক্রস্ফায়ারে মরেছে, কত মানুষ গুম হয়েছে, তাদের ব্যাপারে তো এই পর্যন্ত আপনার কোন লেখা পেলাম না!
      তো কি বাংলাদেশ আপনারা বানাতে চান, জনগনের সামনে বলুন, অভিজিৎ এর ১০ টা লেখার মধ্যে ৯ টা-ই ছিলো ইসলাম ধর্ম বিরোধী, শুধু ধর্মকে কটাক্ষ করা প্রজন্ম যদি তৈরী করতে চান, তাহলে রাস্তায় নেমে সাহস থাকলে ঘোষনা দিন, দেখেন এই ৩০ লক্ষ শহীদের উত্তরসুরী’রা কেমন রেসপন্স করে।

      Reply
  8. নীল আকাশ

    ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার, দয়া করে আরো লিখুন। আপনাদের মত মানুষরাই পারে কোন পরিবর্তন আনতে।।।।

    Reply
  9. বিপ্লব রহমান

    কাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অভি দা’র মরদেহ আনা হয়েছিল। টিভিতে লাইভ দেখাচ্ছিল। ইচ্ছে হচ্ছিল ছুটে যাই, কফিনটি একবার ছুঁয়ে দেখি। …

    আবার ভাবলাম, কি লাভ! শুধু শুধু কষ্ট বাড়বে। টিভি স্ক্রিনে অজয় স্যারের ক্রন্দনরত চেহারাটা দেখে বুকের ভেতর মুচড়ে উঠলো!

    ঠিক এই সময় ফোন করলেন মুক্তমনার ব্লগার মাহফুজ ভাই। আরো পরে আরেক ব্লগার আফরোজা আপা। টিভি দেখেই তারা ফোন করেছেন। আফরোজা আপা আরেকটু হলেই কেঁদে ফেলতেন।

    তাদের বলেছি, পান্ডুলিপি পোড়ে না। প্রকৃত লেখকের মৃত্যু নেই। মৃত্যু নেই মুক্তচিন্তার। আমরা প্রত্যেকেই এখন একেকজন অভিজিৎ। বলা ভালো, আমিই অভিজিৎ। মৌলবাদের নাতি, এসো লড়বে যদি…

    Reply
  10. কায়সার

    স্যার অবশ্যয় হত্যাকাণ্ডর বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ করা উচিত।তবে সাথে সাথে বুঝা উচিত যে, অন্য কারো বিশ্বাস কে আঘাত দেওয়া ঠিক না।প্রত্যেক মানুষের যেমন তার মায়ের ব্যাপারে দুর্বলতা থাকে,তার মাকে খারাপ কিছু বললে যেমন সে কষ্ট পায়, ঠিক তেমনই অনেক মানুষের ধর্মের জন্য দুর্বলতা কাজ কাজ করে। তাই আমি অনুরোধ সবাইকে যেন আমরা কেও কারো বিশ্বাস বা ধর্মের ব্যাপারে কটূক্তি না করি।ঘটনমূলক সমলোচনা আর কটূক্তি এক পর্যায়ে পড়ে না।

    Reply
    • muktochinta

      বিশ্বাস বা ধর্ম কখনো কারও দুর্বলতা হয় না। এক জন এর মন্তব কখন্ও কটূক্তি হ্য় না। যাদের বিশ্বাস দুর্বল তারাই সমলোচনাকে কটূক্তি বলে।

      Reply
  11. তানিয়া খান

    http://insidebd.net/news/2015/02/27/details/12093

    মুক্তমনা ব্লগের এই ধর্ম বিদ্বেষী আলোচনা বন্ধ করে দেশের ও মানুষের উন্নতির কথা যতদিন না ভাবা হবে ততদিন এমন ঘটনা বন্ধ করা যাবে বলে মনে হয়না। কোথাও আগুন লাগলে তা নেভাতে হয়, তা না করে এই সব ব্লগ আরো তুস দিয়ে উত্তপ্ত করে। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটবে এটাই তো প্রমাণ হলো।

    Reply
  12. Khan

    Sir, why don’t we find your similar writing when a Muslim died. There is a severe oppression going on by the western hegemony for all over Muslim lands, then why you are not outspoken about them. Is your humanity works only for those devils who tirelessly working to defame Islam & their Prophets.

    Reply
  13. dr.tapas chatterjee

    The people of Bangla
    desh must realise that they are standing at a crossroad of secular polity and Islamic extremism of iris brand.the common people need to be mobilised in the ideological fight.

    fight to eliminate
    this

    Reply
  14. Prodip

    মরে যাওয়া কোন কাজের কথা নয় । বেঁচে থাকতে হবে, এই দানব্ দেরকে রুখতে হলে। আপনি সতর্ক থাকবেন প্রিয় জাফর ইকবাল । অভিজিত কেন এই জল্লাদের দেশে জেনে শুনে আসতে গেল ?? এখানে আবেগ, ট্রাস্ট এসবের ক্ষুদ্র কানা কড়ি মূল্য নেই । বেঁচে থাকতে হবে । অভিজিত যদি না আসতো এদ্দিনে অনেক নতুন স্ট্যাটাস দেখতাম, অনেক নতুন প্রসঙ্গ ওর মাথায় খেলত । অথচ সব শেষ। এবং এটাই এখন বাস্তবতা। জাফর ভাই, আপনিও এদের হিট লিস্ট এ আছেন সেদিন এফবি তে করছে। সর্ষের মাঝে ভুত আছে। এদের উপর বিশ্বাস রাখবেন না । অভিজিতের বাবা(অজয় স্যার) যেদিন বক্তব্য দিলেন, সেদিন অনেকে উনার উপর বিষধগার করেছে, হুশিয়ারি দিয়েছে ফেইস বুক এ । আজে বাজে উক্তি করেছে। কই সরকারের লোকদের গা নড়ছে না। তাঁকে বলেছে ইন্ডিয়া চলে যেতে । দুর্বৃত্তরা কতটুকু বেড়েছে একবার ভাবুন ? আপনার নামেও কেউ একজন হুশিয়ারি দিয়েছে। সরকারের লোকরা এসব দেখে ও না দেখার ভান করছে। কই, এদেরকে ধরতে সরকারের লোকদের অনীহা কেন ?? কতটুকু লাই পেলে এরা সামাজিক মাধ্যমে এই আস্ফালন করে ??

    Reply
  15. দূরন্ত প্রতীক।

    আম জানিনা আপনি মু্ক্তচিন্তা বলতে কি বুঝিয়েছেন কিংবা আধুনি বিজ্ঞান সম্যত্ব চিন্তা কি?আপনার সাথে তর্ক করার বা মন্তব্য করার নূন্যতম যোগ্যতাও আমার নাই তবে আপনি যে বিজ্ঞান সম্মত চিন্তার কথা বলছেন সে চিন্তার পথ দেখিয়েছে আল কোরআন।শিক্ষা দিয়েছেন হযরত মোহাম্মদ (সঃ)। আর অভিজিৎ রায়রা যখন মু্ক্ত চিন্তার নামে নবীর হাদীসকে বিকৃত করে নিজের নামে চলাই। যখন আল্লাহকে নয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল করে কথা বলে তখন একজন সাধারণ মুসলিম হিসেবে রক্ত টকবক করে । অভিজিৎ রায়দের পক্ষে কথা বলবেন না স্যার উরা কখনোই ধর্মসহ্যয় করতে পারতোনা। তবে যারা মেরেছে তারা কখনোই প্রকৃত ইসলাম চর্চা করে না । উগ্রতা আর অরাযকাতা সৃষ্টি করে ক্ষমতায় যেতে চায় মাত্র।৭১ এর পরাজিত হয়ানার প্রধান অস্ত্র তারা।উদের দুনিয়াই না হলেও অাখিরাতের কাটগড়াই দাড়াতে হবে।

    Reply
  16. falguny

    ত্রিশ লক্ষ মানুষ প্রাণ দিয়ে যে বাংলাদেশ তৈরি করেছিল; আমরা সেই বাংলাদেশকে ফিরে পেতে চাই। এই বাংলাদেশ আমাদের সেই ত্রিশ লক্ষ মানুষের, তাদের আপনজনের। এই দেশ অভিজিতের, এই দেশ অভিজিতের আপনজনের। এই দেশ জঙ্গিদের নয়; এই দেশ ধর্মান্ধ কাপুরুষের নয়।

    Reply
  17. ফোয়ারা

    আমাদের চেয়ে বড় শত্রু আমাদের আর কেহ নাই
    আমরাই খুন করি আমাদের বুদ্ধিজীবি ভাই ।

    Reply
  18. রাজন

    স্যার আপনি বললেন, “আমি দোয়া করলাম, যেন বেঁচে যায়” কিন্তু দোয়াটা কার কাছে ? আল্লাহর কাছেই তো? বিষয়টা কেমন না ? আর একটা বিষয় কি জানেন ? আপনি সব কল্পনায় নিজেকে দেখতে পান । কিন্তু খালপাড়ের ক্রসফায়ারের দৃশ্যে নিজেকে দেখতে পান না। এটাই হলও মুল সমস্যা ।

    Reply
  19. Rafiq

    ত্রিশ লক্ষ মানুষ প্রাণ দিয়ে যে বাংলাদেশ তৈরি করেছিল; আমরা সেই বাংলাদেশকে ফিরে পেতে চাই। এই বাংলাদেশ আমাদের সেই ত্রিশ লক্ষ মানুষের, তাদের আপনজনের. আর এই দেশে জার জার ধর্ম সে সে পালন করবে কারো বিশ্বাসের ওপর আঘাত দেওয়া যদি বিজ্ঞান, যুক্তি, মানবতা, মুক্তচিন্তা হয় তা হলে
    এই চিন্তা নাকরাই ভাল

    Reply
  20. পথিক

    আমি বিশ্বাস করি আমাদের দেশের মানুষ একদিন বুঝতে স্বক্ষম হবে ধর্ম আর ধর্মান্ধের মধ্যে পর্াথ্যক কি? পৃথিবীতে এমন কোন ধর্মীয় গ্রন্থ নেই
    যেখানে একজন মানুষকে মেরে ফেলার আদেশ দিয়েছে। আমরা যাদের নাস্তিক বলি, মতের অমিলের জন্য তারা কি কখনো ধর্মান্ধ কাউকে মেরেছে?

    Reply
    • কামরুদ্দিন আহমদ

      পবিত্র ইসলাম ধর্মে খুন করা হারাম এবং কঠিন পাপ যা পবিত্র কোরআন শরীফের বহু আয়াত দ্বারা সমর্থিত। ঠিক একইভাবে অন্যান্য ধর্মেও তা আছে। তাহলে প্রশ্ন করতে পারেন, বিচারের মাধ্যমে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করতে বা যুদ্ধের ময়দানে কিভাবে হত্যা করা যাবে?

      এই প্রশ্নের উত্তর বিভিন্ন আয়াতে রয়েছে এবং এটা নিশ্চিত করা হয়েছে যে, সুস্পষ্ট ভাবে ঘোষনা করা যুদ্ধে এবং বিচারের রায়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা যাবে।

      তারপরেও প্রশ্ন করতে পারেন যদি কেউ বিচার না পায় বা যুদ্ধ করতে না পারে সে কি কাউকে ‘তাঁর মতে যুক্তিসঙ্গত কারনে’ কাউকে খুন করতে পারে?

      এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর থাকার কথা নয়, তবে একটা আয়াত আছে যেটার মর্ম উপলব্ধি করা প্রয়োজন,তবে সেটার আগেই মানুষ হিসাবে আমাদের যথার্থ উপলব্ধি করা দরকার যে, বিচার না পেলে বিচারের জন্য উচ্চতর আদালত বা ফয়সালা তথা মহান আল্লাহ্‌ নির্ধারিত কিছু অথবা সময়ের অপেক্ষা করা কি উত্তম নয়?
      আমি পবিত্র কোর আন শরীফের সুরা বনী ইসরাইলের ৩৩ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করতে চাইঃ ” সে প্রাণকে হত্যা করো না, যাকে আল্লাহ হারাম করেছেন; যথার্থ কারণ ছাড়া। যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে নিহত হয়, আমি তার উত্তরাধিকারীকে প্রতিশোধ নেবার ক্ষমতা দান করি। অতএব, সে যেন হত্যার ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন না করে। নিশ্চয় সে সাহায্যপ্রাপ্ত। ”

      আমি সকলকে তাঁর বিবেক প্রয়োগ করে এই আয়াতটি ব্যাখ্যা করতে অনুরোধ করব, যেখানে স্পষ্টতঃই সীমা লঙ্ঘন না করতে বলা হয়েছে। নাস্তিক এবং বিধর্মীদের যুদ্ধের ময়দানে হত্যা করতে বলা হলেও শান্তিকালীন সময়ে সকল মানুষকে রক্ষা করাই মুসলমানের ঈমানী দায়িত্ব, হত্যা করা তো প্রশ্নই আসেনা।

      নিরস্ত্র এবং নিরীহ যে কোন কাউকে হত্যা করা জঘন্য অপরাধ আর এটাই তো খুন যাকে ইসলামে হারাম করা হয়েছে।

      আজকের দিনে যারা (১) বিতর্কে না পেরে আরেকজন মানুষকে নিরস্ত্র অবস্থায় খুন করছে অথবা (২) ভয় দেখানোর জন্য সম্পূর্ন নির্দোষ নিরীহ মানুষকে বোমা মেরে খুন করছে – তারা যে কত বড় পাপ করছে তা কি তারা বুঝতে পারছে?

      Reply
  21. Banggal

    Here is Lot of Pakistani People, who are living in Dhaka who are giving support to this kind of terrorist & staying against Garments Job or Buying House Job at Baridhara DOHS, Gulshan or Banani. we have to aware of them.

    Reply
  22. Jubayer

    “অভিজিৎকে হাসপাতালে নিয়েছে জেনে দোয়া করছিলাম যেন বেঁচে যায়”

    কার কাছে দোয়া করেছেন???

    Reply
    • siddik

      vogobaner kachey, r kar kachey ? ভগবানের কাছে, আর কার কাছে ? আল্লাহর কাছে চাইলে তো আর মুক্তমনা হওয়া যাবে না ।

      Reply
  23. শাহজাহান সিরাজ

    জাফর স‍্যার – অভিজিত আমাদেরকে কাঁদালো , আপনিও প্রানের কথা বলে আমাদের কাঁদালেন। কষ্ট হলেও – পৃথিবীতে সবসময়ই শেষ পযর্ন্ত ভালো জয় না, মন্দের পরাজয় ঘটে!

    Reply
  24. আজাদ

    sir মুক্ত চিন্তা বলতে কি ধর্ম কে আঘাত করা । যে নাস্তিক তার যদি কোনো মতামত থাকে তবে তা ধর্ম গুরু যারা আছে তাদের সাথে যুক্তি তর্কে বসুক সমাধানে আসুক । মুক্তমনা ওয়েব পেজে যা লিখেছেন তা একজন ব কলমের কাছ থেকে আশা করা যায় না আর উনি তো শিক্ষীত। ধর্ম প্রচার কি বাক- সাধীনতার মধ্যে পরনা। বর্তমান আমাদের মিডিয়া রাজাকার বা জংগী র থেকে বেশী ভয়াবহ।

    Reply
    • ওবায়েদ

      কারো মতামত প্রকাশের জন্য ভিন্ন মতধারীর সাথে যুক্তি তর্কে বসতে হবে কেন ? নাস্তিকদের কথা বাদই দিলাম ; এক কোরান ও এক রাসুল (সঃ)এর অনুসারী দাবীদারদের এত ভিন্নতা কেন ? তারা কি সবাই যুক্তি তর্কে বসে সমাধান করেছে ? তারা তো একে অন্যকে ভুল বলে মতামত প্রকাশ করছে ।। খোদ রাসুল (সঃ) বলে গিয়েছেন, তার অনুসারীদের মধ্যে ৭৩ টি ফেকড়া হবে, যার মধ্যে মাত্র ১ টিই সঠিক হবে । কিন্তু ঐ ৭৩ টিই নিজেদেরকে সঠিক বলে দাবি করবে ।। ” গ্লাস অর্ধেক ভরা বা অর্ধেক খালি ” এটা কি যুক্তি তর্ক দিয়ে সমাধান সম্ভব হয়েছে ? শিয়া , সুন্নি, কাদিয়ানী , আহম্মদী , হানাফি , শাফি, মালেকী , হাম্বলী , এরা কি কখনো একসাথে যুক্তি তর্কে বসে সমাধান করেছে ? আছে কোন দৃষ্টান্ত ?

      Reply
      • Rezwan

        @ওবায়েদ যুক্তি-তক্ক-গপ্পো এর ব্যাপার না। আস্তিকতা বা নাস্তিকতার ব্যাপারও না। সহমত পোষণ করতেই হবে কথা নেই; ভিন্ন মত থাকবে, থাকবে তার মতপ্রকাশের অধিকারও! কিন্তু যে প্রানিটি কে নিয়ে এত আলোচনা তার মত প্রকাশের ধরন মানব সন্তানের মত নয়!
        এখানে চিন্তার স্বচ্ছতার অভাব প্রচণ্ড! ইচ্ছে করেই হোক অর অনিচ্ছা করেই হোক! এখানে একটা সহজ উপসংহারে আসা যায় এভাবে – একজন উগ্র অধর্মীয় প্রানিকে আর এক জন উগ্র ধর্মীয় প্রানি হত্যা করেছে! আর এতে মানবতার ক্ষতিসাধন হয়েছে!

      • sheikh abdur rahim

        আপনার বক্তব্যে খুন করাকে স্বাভাবিক বলে মেনে নেবার যে প্রবণতা দেখছি তা গ্রহনযোগ্য নয়, কারণ কোন অজুহাতে আইন নিজ হাতে তুলে নিয়ে খুন করা যায় না । আর এখানে তর্কাতর্কি থেকে মারামারি এসব হয় নি, হয়েছে সুপরিকল্পিতভাবে ঠান্ডা মাথায় খুন – এধরনের হত্যাকে ইসলমা বা কোন ধর্মই সমর্থন করে না।

      • সাধারণ মানুষ

        শিয়াদের কাছে সুন্নী ভুলধার্মিক বা বিধর্মি বা অধার্মিক বা তার চেয়েও অনেক অনেক ধর্মহীন। আবার একজন সুন্নীর কাছে শিয়াও তাই।
        শিয়াদের পক্ষে যেমন সব সুন্নী শেষ করা সম্ভব না, তেমনি সুন্নীর পক্ষেও সব শিয়াদের শেষ করা সম্ভব নয়। ধর্ম নিয়ে এরকম অসহিষ্ণুতা অনুদারতা শুধু অন্যের ধ্বংসের সাথে পালাক্রমে নিজের ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনতে পারে না।

        একজন শিয়া বা সুন্নী মারা যাবার পর পৃথিবীতে সব মুসলমান শিয়া নাকি সুন্নী থাকলো তাতে তার কি যায় আসে। আর অন্য ধর্মের কত লোক থাকলো তাতে মৃতের কি যায় আসে। তার তো সম্বল তার নিজের কর্মফল, তার তো ব্যস্ত থাকতে হবে তার কৃতকর্মের বিচার বা পুরস্কার নিয়ে। দুনিয়ার উপর তখন কে কি করছে, কয়জন সুন্নী কয়জন শিয়া, কয়জন হিন্দু, কয়জন খ্রীস্টান, কয়জন কোন কোন ধর্মের তাতে তার কিছু যায় আসবে না।

  25. বিগ বস

    খুব ভাল লিখেছেন । আপনার লিখা আমার সব সময় ভাল লাগে । কিন্তু এইভাবে একজন নিরপরাদ মানুস কে কেন পৃথিবী থেকে কেন বিদায় নিতে হবে ? তার কি দোষ ছিল ? তাহলে আমরা কত টুকু নিরাপদ এই দেশে ? সরকার বা কি করছে ? যারা এই কাজ করছে তারা ত ধরা ছোঁয়া এর বাহিরে রয়ে যাচ্ছে ।।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—