Feature Img

tareq-fএকটা বড় মাপের ঘটনার অনেক চরিত্র থাকে। কেন্দ্রীয় চরিত্রের পাশাপাশি থাকে অনেক পার্শ্বচরিত্র। ঘটনার পরিক্রমায় পার্শ্ব চরিত্রগুলো কখনও কখনও কেন্দ্রে চলে আসে। আবার অনেকে পার্শ্ব-ভূমিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও ইতিহাসের নির্মমতা তাদের দূরে ঠেলে দেয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কর্নেল তাহের তেমনি এক চরিত্র । আমাদের চার দশকের রাজনৈতিক ইতিহাস কখনো তাঁকে দূরে ঠেলে দিয়েছে। আবার কখনো টেনে নিয়েছে কাছে।

সন্দেহ নাই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সবচাইতে সাহসী সৈনিকদের একজন ছিলেন তাহের। আইএসআইয়ের গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে পালিয়ে এসে যিনি শুধু মুক্তিযুদ্ধেই যোগ দেন নাই, একটি সেক্টরের নেতৃত্ব দিয়েছেন। আর নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে। কামালপুরের সম্মুখ সমরে হানাদার পাকবাহিনীর সাথে লড়ে নিজের একটি পা হারিয়েছেন। নিজে তো বটেই, গোটা পরিবারকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছেন। তারপর যুদ্ধ শেষে দেশে ফিরে শোষনহীন সমাজ গড়বার স্বপ্ন দেখেছেন। সেই স্বপ্ন পরবর্তীতে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন রাস্ট্রের সবচাইতে শক্তিধর ও রক্ষনশীল দুর্গগুলোর একটি — সেনাবাহিনীর মধ্যে। উপনিবেশিক ধারার সেনা-কাঠামোকে ভেঙে সদ্য স্বাধীন দেশের জন্য উৎপাদনশীল সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে চেয়েছেন। সেই প্রচেস্টার সাফল্য ব্যর্থতা ইতিহাস নির্ধারণ করবে– কিন্তু ব্যাক্তি তাহেরের ক্ষেত্রে তাঁর পরিণতি হয়েছিল নির্মম। রাস্ট্রদ্রোহিতার অপবাদ মাথায় নিয়ে গোপন সামরিক ট্রাইব্যূনালের দেয়া ফরমানে ফাঁসির দড়িতে ঝুলে পড়তে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু মৃত্যুর আগ মূহুর্তেও শোষনহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন থেকে এক চুল নড়ানো যায়নি তাঁকে। নিজের প্রাণের জন্য বিন্দুমাত্রও মায়া হয়নি তাঁর। এমন আত্মত্যাগ প্রকৃত বীর ছাড়া আর কারো পক্ষে সম্ভব কিনা জানি না। গ্রীক ট্র্যাজেডীর মহানায়কদের সাথেই কেবল তাহেরের এই আত্মত্যাগের তুলনা চলে।taher--in

তবে তাহের হত্যার পুনঃবিচার সংক্রান্ত আলোচনায় যাবার আগে বাংলাদেশের ইতিহাসের সেই নাটকীয় সময়টায় আমাদের আরো একবার ফিরে যেতে হবে। পঁচাত্তরের মধ্য আগস্ট থেকে পরবর্তী প্রায় বৎসরাধিক কাল সময়ের ব্যাপ্তিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলীকে কেবল একটি পলিটিক্যাল থ্রিলার ছবির সাথেই তুলনা করা চলে। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে বাংলাদেশ নামের রাস্ট্র তখন তার প্রতিষ্ঠাতাকে হারিয়েছে — যিনি সপরিবারে নৃশংসভাবে নিহত হন। নিহত হন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় আরো একাধিক নেতা ও মন্ত্রী, জেলখানার অভ্যন্তরে নিহত হন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাকালীন শীর্ষস্থানীয় একাধিক মন্ত্রী ও নেতা। দেশে একাধিক ক্যু পাল্টা ক্যু ঘটে। সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড সম্পূর্ণ ভেঙে মাঝারি সারির কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা এসব হত্যাকান্ড ঘটায়, অথচ পরবর্তীতে দীর্ঘকাল বিচারের আওতার বাইরে তাদেরকে রাখা হয়। আর ঘটনাক্রমের শেষ পর্যায়ে কর্নেল তাহেরের মতো একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে কোন ধরনের আইনী লড়াইয়ের সুযোগ না দিয়ে রীতিমতো ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।

লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, এই গোটা সময় জুড়েই আমাদের রাজনীতি প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল। আর রাজনীতিবিদরা যেন কলের পুতুলে পরিণত হয়েছিলেন। যার প্রমান আমরা পাই, সংবিধান ও শাসন কাঠামোর কোন রকম তোয়াক্কা না করেই ক্ষমতাসীন সরকারের মন্ত্রী থেকে খন্দকার মোশতাক আহমদ দেশের রাষ্ট্রপতি বনে যান। এমনকি মওলানা ভাসানী আর আতাউর রহমান খানের মতো প্রবীণ রাজনীতিবিদরাও যেন দূর থেকে এসব তামাশা কেবল দেখেই যাচ্ছিলেন। কোন প্রতিবাদ দূরে থাক, প্রতিদ্বন্দী রাজনৈতিক নেতৃত্বের এই নির্মম পরিণতি দেখে কোন প্রতিবাদ করতে দেখা যায় নি। অন্যদিকে, আমাদের বাম রাজনৈতিক দলগুলোও তখন প্রতিদ্বন্দী গ্রুপগুলোকে কেবল রুশ ভারতের দালাল কিম্বা পিকিংপন্থী বা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের চর ইত্যাদি বিশেষণে অভিহিত করে পরোক্ষে নিজেরাই নানা ধরনের দেশী বিদেশী শক্তির ক্রীড়নকে পরিণত হয়েছিল। যার ফল হিসেবে আমরা দেখি, পরবর্তী ৫ বছরের মধ্যেই অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক একটি মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে সৃস্ট বাংলাদেশ রাষ্ট্রে চরম ডান ও ধর্মীয় শক্তিগুলো রাজনৈতিকভাবে দ্রুত বিকাশ লাভ করে। তারপর রাষ্ট্র ক্ষমতার আশেপাশে অবস্থান নিয়ে ছলে বলে কৌশলে রাষ্ট্রটিকে একটি ধর্মীয় রাষ্ট্রে পরিণত করার চূড়ান্ত চেষ্টা চালায়।

তাহেরের পুনঃবিচার সংক্রান্ত রিট শুনানী চলাকালেই প্রধান বিরোধী দল বি.এন.পি. এই পুনঃবিচার প্রক্রিয়ার জন্য সরকারকে দায়ী করেছে। তাদের ভাষায়, লরেন্স লিফসুলজের মতো ’ভাড়াটে’ সাংবাদিক ডেকে এনে সরকার জিয়াউর রহমানের ভাবমূর্তি হননের চেষ্টা করছে। কোন কোন নেতা এমনও বলছেন যে, সামরিক ট্রাইব্যুনালে তাহেরের বিচার সঠিকই ছিল। তাহের হত্যার পুনঃবিচারের প্রক্রিয়া নিয়ে দেশের প্রধান এই বিরোধী দলের তৎপরতা দেখে যে কেউ এটা মনে করতে পারেন, দলটি তাদের অতীত কলঙ্ক ঢাকবারই যেন চেষ্টা করছে।

একথা সত্যি যে, তাহেরের মামলার পুনঃবিচার চেয়ে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে রীট আবেদনটি এমন সময় করা হয়েছে — যখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায়। এই রীট আবেদনটি যদি বিএনপি সরকারের সময় আদালতে শুনানী হতো তবে গোটা দেশের মানুষই দেশে আইনের শাসন আছে বলে স্বস্তি পেত। কিন্তু বংলাদেশে এটা আশা করাও বৃথা। খুব একটা অবাক হবো না, যদি দেখি,পরবর্তীতে কোন এক বিএনপি সরকারের সময় সিরাজ শিকদার হত্যার বিচার চেয়ে একটি মামলা আদালতে রুজু করা হয়। আর,তাহের হত্যা মামলা নিয়ে আজ বিএনপি নেতারা যে ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন, ভবিষ্যতে সিরাজ শিকদার হত্যা মামলা হলে হয়তো আওয়ামী লীগ নেতারাও একই কথা বলবেন।

সত্যি কথা বলতে কি আমাদের রাজনৈতিক নেতারা যতই চেষ্টা করুন–অতীত তাদের পিছু ছাড়ছে না। আমাদের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল তাদের দুই নেতার কাল্টের গুনগানেই জাতীয় সংসদ মুখরিত করে রাখছেন। অন্য কোন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তাদের বিবেচ্য নয়। কিন্তু ক্ষমতার পথ নিরঙ্কুশ করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বা জিয়ার মতো ক্যারিশম্যাটিক নেতাও যে রক্তে রঞ্জিত করেছিলেন তাদের হাত সেটা যেন তাদের অনুসারী দল বিএনপি বা আওয়ামী লীগের কোন নেতা স্বীকার করতে চান না।

ইতোমধ্যেই কর্নেল তাহেরের বিচারকে অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট রায় দিয়েছে। হাইকোর্টের রায়ে জিয়াকে তাহের হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিহিত করায় তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি এই রায়কে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের ভাষায় এটি করা হয়েছে, কেবলমাত্র জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারের সুনাম নষ্ট করার জন্য। কিন্তু তারা ভুলে গেছেন,তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সৎ মানুষ হিসেবে সুনাম থাকলেও তাহের বিষয়ে সাজানো মামলা তো বটেই, এমনকি তার জীবদ্দশায় ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটি ব্যর্থ অভ্যুত্থান এবং তার ফলশ্রুতিতে যে অসংখ্য সেনা কর্মকর্তা ও সৈনিককে প্রাণ দিতে হয়, সে সব হত্যাকাণ্ডের দায়ভার তার ওপরই বর্তায়। নিজের ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করবার জন্যই যে জিয়া এসব করেছিলেন, তা দেশের সচেতন যে কোন মানুষই এতদিনে বুঝে নিয়েছেন।

আদালতের রায়ে সুষ্পষ্ট নির্দেশনা না থাকলেও সামরিক শাসনামলে সেনাবাহিনীর ভেতর ঘটে যাওয়া এসব অজানা ঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন। জিয়া ও পরবর্তীকালে এরশাদের সামরিক শাসনামলে সেনাবাহিনীতে ঘটে যাওয়া নানা অভ্যুত্থান ও হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য জাতি জানতে চায়। শুধু তাই নয়, ৭২ থেকে ১৯৯০ সন পর্যন্ত সময়কালে নানা বাহিনীর হাতে নিহত জানা অজানা মানুষ সম্পর্কেও তথ্য দেশের সাধারণ মানুষ জানতে চাইতে পারে।

আমাদের রাজনীতিবিদরা যদি দেশে সত্যিকার অর্থেই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চান তাহলে নিজেদের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। এজাতীয় সংলাপই কেবল আমাদের সাধারণ নাগরিকদের মাঝে রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।

আর রাজনীতিকে ভবিষ্যতমুখী করতে হলে শুধু তাহের হত্যার পুনঃবিচার নয়– সিরাজ শিকদার, খালেদ মোশাররফ, জেনারেল মঞ্জুর ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ প্রতিটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন। সামরিক ও অসাংবিধানিক শাসনামলে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডসহ আলোচিত অন্যান্য সব ঘটনারও তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন।

Responses -- “তাহের হত্যার পুনঃবিচার যে কারণে প্রয়োজন”

  1. কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর

    লেখাটা পড়লাম। ভালোই লাগলো। তবে আমি মনে করি, একজন বিপ্লবীকে কোর্টের মাধ্যমে নিজের পবিত্রতা প্রমাণের প্রয়োজন নেই। জনতার আদালতই বড়ো আদালত। কোর্ট কাউকে বিশুদ্ধ করলেই কেউ বিশুদ্ধ হয়ে যায় না বা, রাষ্ট্রদ্রোহী বললেই রাষ্ট্রদ্রোহী হয়ে যায় না। কারণ কোর্ট রাষ্ট্রব্যবস্থপনাকে রিপ্রেজেন্ট করে মাত্র।

    Reply
  2. Rupam

    ১৯৭১ এর শীর্ষ রাজাকার গোলাম আযমের সাথে বিশিষ্ট বাম রাজনীতিক মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সৈনিক কমরেড হাসানুল হক ইনু (১৯৯৩) তত্তাবধায়ক সরকার ইস্যুতে উনারা তখন এক মেরুতে ছিলেন !!!!!

    Reply
  3. Abdur Raqib

    আমি লেখকের সাথে সম্পূর্ণরূপে একমত যে সকল হত্যাকান্ডের বিচার হতে হবে। বঙ্গবন্ধু থেকে শুরু করে নয়, বরং এরও আগে থেকে যেসব হত্যাকান্ড ঘটেছে, বিচারের নামে অথবা বিনা বিচারে, সবগুলোরই বিচার হওয়া উচিত। তাহেরকে তো অন্ততঃ কোনো এক ধরণের বিচার করা হয়েছিলো? সিরাজ শিকদারের বিষয়টি কী? অনেকে তো এটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ক্রসফায়ার বলে অভিহিত করে থাকেন। হাতকড়া লাগানো অবস্থায় সিরাজ শিকদার নাকি পুলিশের গাড়ি থেকে পালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন! আবার শুনা যায়, পুলিশের গুলিতে সিরাজ শিকদার নিহত হবার পর সংসদে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু নাকি তার স্বভাবসুলভ হুংকার দিয়ে বলেছেন, “কোথায় আজ সিরাজ শিকদার?” এই বক্তব্যকে কেউ যদি হত্যাকারীর বাহাদুরী বলে আখ্যায়িত করে, তাহলে কী বলা যাবে?

    কর্ণেল তাহেরের বিচার-পূণর্বিচার নিয়ে অনেকে বিভিন্ন কথা বলছেন। পত্রিকায় বিভিন্ন জনের কলাম ছাপা হচ্ছে। সম্প্রতি তৎকালীন ক্যাপ্টেন (পরবর্তীকালে মেজর জেনারেল এবং বিডিআর প্রধান) ফজলুর রাহমান তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেছেন যে, কর্ণেল তাহেরের প্রতিষ্ঠিত গোপন সৈনিক সংস্থার হাতে অনেক অফিসার নিহত হয়েছেন। তিনি নিজেও মরতে মরতে বেঁচে গেছেন। কর্ণেল তাহের তাদেরকে মারার আদেশ দেননি বলে দাবী করলেই কি তিনি এই সংস্থার সকল অপরাধ থেকে রেহাই পেতে পারবেন? যদি পারেন, তাহলে কোন যুক্তিতে আপনি যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তি দাবী করবেন? তাদের অনেকের অপরাধ তো শুধু এই যে, তাদের প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন দল ও সংগঠণ নিরপরাধ লোককে হত্যা করেছে। তারা কেউইতো নিজে থেকে স্বীকার করবেন না যে, তারা এসব অন্যায়ের জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাহলে? একই ধরণের ঘটনায় তো সম্পূর্ণ বিপরীত দুই রায় হতে পারেনা!

    মেজর জেনারেল (অবঃ) ফজলুর রহমান বলেছেন যে, আর্মি এক্টের অধীনে কর্ণেল তাহেরের বিচার হয়েছিলো। আর্মি এক্ট দেশের একটি প্রতিষ্ঠিত আইন। সেই ১৯৫২ সালে আইনটি পাশ হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কার্যকর আছে। বর্তমান গণতান্ত্রিক মহাজোট সরকারও এটিকে বাতিল ঘোষনা করেনি। বিডিআর হত্যাযজ্ঞের পর যে ক’জন আর্মি অফিসারকে বরখাস্ত করা বা জেলে পোরা হয়েছে, তাদেরেকেও তো এই আইনের অধীনে কোর্ট মার্শাল করে বা না করে রায় দেয়া হয়েছে। আমরা কি তাহলে ধরে নেবো যে, এদের সবার প্রতিই অবিচার বা বিচারের নামে প্রহসন করা হয়েছে? মাননীয় বিচারপতিগণ কি এই আইনটিকে সংবিধানবিরোধী বলে রায় দিয়েছেন? সংবাদপত্রে এবিষয়ে কোনো বর্ণনা দেখতে পাইনি।

    সংবাদপত্রে পড়েছি, আমেরিকান সাংবাদিক লিফশুল্জকে অনেক চেষ্টা-সাধনা করে নিয়ে আসা হয়েছে। প্রথমে নাকি তিনি আসতে অসামর্থ্য প্রকাশ করেছিলেন। পরে মত পরিবর্তন করে এসেছেন এবং জবানবন্দী নিয়েছেন। বলা যায়, তার সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই হাইকোর্টের রায়টি দেয়া হয়েছে। তার সমালোচনা করা হলেও আদালতের অবমাননা করা হবে বলে সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। এটি কেমন রায়, আমার নিকট স্পষ্ট হয়নি। একজন সাক্ষীর সমালোচনা করা যাবেনা কেনো?

    সম্প্রতি প্রখ্যাত সাংবাদিক সিরাজুর রহমান তার এক কলামে লিখেছেন যে, আলোচ্য সময়টিতে বেশ কয়েকজন বাঘা বাঘা সাংবাদিক বাংলাদেশ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছেন। এদের অনেকেই লিফশুলজ থেকে নাকি মানে মর্যাদায় অনেক বড়। তাদেরকে কেনো সাক্ষ‌্য দিতে ডাকা হলোনা, এ নিয়ে সিরাজুর রহমান সাহেব প্রশ্ন তুলেছেন, বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি অবাক হবারই মতো। আমি নিজে ছোটবেলা থেকে জানি লিফফশুলজ আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতিশীল। তার লেখা কয়েকটি বইয়ের বাংলা অনুবাদ ছোটবেলায় পড়েছি। কিছু লেখা আমার কাছে গল্পের মতো মনে হয়েছে। হাইকোর্ট শুধুমাত্র তাকে নিয়ে আসাটা কিছু সন্দেহের কারণ সৃষ্টি করবেই – এটা ধরে নেয়া যায়। অন্যদের কেনো ডাকা হলো না সেবিষয়ে একটি ব্যাখ্যা পেলে হয়তো মন্দ হতো না।

    কেউ কেউ বলেন, বঙ্গবন্ধুর আমালে তাহেরকে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিলো, কিন্তু ফাঁসী দেয়া হয়নি। আমি যতটুকু জানি, ভিন্নমত পোষনের জন্য তিনি নিজে থেকে অব্যাহতি নিয়েছিলেন। তাকে বরখাস্ত করা হয়নি। বঙ্গবন্ধুর আমলে তিনি কিন্তু কোনো অফিসারকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্তও ছিলেন না। নইলে একথা নিঃসন্দেহে দাবী করা যাবেনা যে, বঙ্গবন্ধু গুরু অপরাধে লঘুদন্ড দিয়ে রেহাই দিতেন। সিরাজ শিকদার ছাড়াও অসংখ্য জাসদকর্মী নিজেদের জীবন দিয়ে এ নির্মম সত্যটিই প্রমান করে গেছেন।

    যাই হোক, আবার শুরুর কথাটিতে ফিরে আসি। সকল হত্যারই বিচার হওয়া উচিত এবং যতো তাড়াতাড়ি তা হবে, ততোই মঙ্গল। তবে বিচার যেনো ন্যায় বিচার হয়, বিচারের নামে প্রহসন যেনো জনগণকে বারবার দেখতে না হয়, এই আমাদের কাম্য।

    Reply
  4. Md. Mahbubul Haque

    আমাদের বিচারিক প্রক্রিয়া খুবই ধীর ও এর সাথে জড়িতরা কম বেশি কোন এক পক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাই প্রভাবমুক্ত থেকে কর্ণেল তাহেরের সুষ্ঠু বিচার আমরা কি পাবো!

    Reply
  5. Arif

    তাহেরকে একটি বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। সেটা গোপন হোক আর প্রকাশ্য হোক। সেটার নতুন তদন্ত ও বিচার হওয়া প্রয়োজন, ঠিক আছে। এখন প্রশ্ন হলো, তাহেরের বাহিনীর হাতে নিহত ৬০জনের মতো সেনা অফিসার হত্যার বিচার কি চাচ্ছেন? এধরনের হত্যাকান্ড চালানোর অপরাধে তাহেরের বিচার হওয়া কি প্রয়োজন নয়? সামরিক বাহিনীতে গোপন সংগঠন করে, অবৈধ তৎপরতা চালানোর বিচার হওয়া কি উচিত নয়?

    Reply
  6. mukta Sarawar

    একটি হত্যাকান্ডের বিচার না হলে তা আরেকটি হত্যাকান্ডে উৎসাহ জোগায়। তাই প্রত্যেকটি হত্যাকান্ডের বিচার হওয়া উচিত।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—