Feature Img

Md. Jafar Iqbal ১.

পত্রিকায় একটা খবরের শিরোনাম দেখে আমি রীতিমতো চমকে উঠেছিলাম, শিরোনামটি হল: ‘বাংলাদেশ হচ্ছে মৃতদের দেশ’। চোখ কচলে দ্বিতীয়বার পড়তে হল, ইংরেজি শিরোনামটির বাংলার সঠিক অনুবাদ করলে অর্থ হয় আরও ভয়ানক, ‘বাংলাদেশ হচ্ছে মৃত চিন্তা-ভাবনার দেশ’। আমি খুবই অবাক হলাম, এই দেশে থাকি, খাই, ঘুমাই, দেশের খবরাখবর রাখার চেষ্টা করি। হঠাৎ কেমন করে দেশের সব রকম চিন্তা-ভাবনা মরে গিয়েছে জানতেই পারলাম না!

আমি যখন খবরের ভেতরের অংশ পড়ার চেষ্টা করলাম, তখন বুকে পানি ফিরে এল। উক্তিটি একজন ব্রিটিশ লেখকের। লেখক তরুণ এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে তার এ রকম একটা মন্তব্য করার অধিকার রয়েছে বলে মনে করেন। কারণ, তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। (এ রকম একটা কঠিন শব্দ লিখছি বলে ক্ষমা চাই, কিন্তু আমি সঠিক শব্দটা লিখতে চাই, জিয়া হায়দার রহমান নামের এই তরুণ লেখকের পরিচয় দিতে তার সম্পর্কে এই শব্দটা ব্যবহার করা হয়েছে।)

আমি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলাম, তাই বাংলাদেশ সম্পর্কে বলতে হলে কী ধরনের শব্দ চয়ন করে কী ধরনের সম্মানজনক কথা বলা একই সঙ্গে ফ্যাশন এবং বুদ্ধিজীবীদের আচরণ হয়, সেটি আমার থেকে ভালো করে কেউ জানে না। আমি যে আঠার বছর দেশের বাইরে ছিলাম, তখন বাংলাদেশে অনেক ঘটনা ঘটেছে যেটি আমাকে আহত করেছে, বিচলিত করেছে এবং ক্রুদ্ধ করে তুলেছে, কিন্তু দেশের বাইরে থেকে আমি একটিবারও নিজ দেশের সমালোচনা করিনি। আমার মনে হয়েছে দেশের বাইরে নিশ্চিন্ত নিরাপদ আরামে থেকে দেশের সমালোচনা করার আমার কোনো অধিকার নেই! যখন দেশে ফিরে এসেছি, শুধুমাত্র তখনই আমার নিজের দেশের সমালোচনা করার অধিকার হয়েছে বলে মনে হয়েছে। তখন লেখালেখি করেছি, চেঁচামেচি করেছি, পথে-ঘাটে বসে থেকেছি, আন্দোলনে অংশ নিয়েছি। (এখন এই দেশে আমাকে দু’চোখে দেখতে পারে না সে রকম মানুষের সংখ্যা যে কোনো হিসেবে ঈর্ষনীয়!)

কিন্তু একজন মানুষ যদি বাংলাদেশি না হয়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হয় এবং মানুষটি যদি লেখালেখির জগতে খুব অল্প বয়সে অনেক সুনাম অর্জন করে থাকেন, তাহলে বাংলাদেশ সম্পর্কে তার মন্তব্য সবাইকে হজম করতে হবে। খবরের কাগজে দেখেছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রছাত্রী এবং বড় বড় অধ্যাপকেরা সেটা বেশ ভালোভাবে হজম করেছেন।

‘বাংলাদেশ হচ্ছে মৃত চিন্তা-ভাবনার দেশ’ এই শিরোনামের খবরের ভেতরের অংশ আমি পড়িনি। কান এবং চোখের মাঝে একটা খুবই মৌলিক পার্থক্য আছে; কানের কোনো গতি নেই, তাই কানের কাছে কেউ কিছু বললে সেটা না চাইলেও শুনতে হয়। চোখের পাতা থাকে, তাই আমি যদি কিছু দেখতে না চাই, চোখের পাতা ফেলে চোখ বন্ধ করে ফেলতে পারি। তাই জিয়া হায়দার রহমান নামের অত্যন্ত প্রতিভাবান এবং বিখ্যাত সেই তরুণ লেখকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেই বক্তব্যটি আমি পড়ে দেখার প্রয়োজন মনে করিনি, চোখ বন্ধ করে পৃষ্ঠা উল্টিয়ে ফেলেছি এবং কিছুক্ষণের মাঝে পুরো বিষয়টি ভুলে গেছি।

কিন্তু ডিসেম্বরের ৯ তারিখ ‘প্রথম আলো’তে শ্রদ্ধেয় সৈয়দ আবুল মকসুদের লেখা একটা প্রবন্ধ ‘চিন্তা-চেতনায় মৃত বা বন্ধ্যা ভূখণ্ড’ দেখে আবার চমকে উঠলাম– একই ধরনের শিরোনাম এবং এবারে লেখক বিদেশি নন, তিনি আমাদের বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান বুদ্ধিজীবী। আমি লেখাটি পড়ে দ্বিতীয়বার চমকে উঠলাম; কারণ এই লেখাটিতে পরিস্কারভাবে বলা হয়েছে, বিখ্যাত এবং তরুণ লেখক জিয়া হায়দার রহমান যেটা বলেছেন সেটা সত্যি– আসলেই আমাদের দেশের চিন্তা-ভাবনা মরে গেছে, বাংলাদেশ চিন্তা-ভাবনার জন্ম দিতে অক্ষম একটি মৃত ভূখণ্ড।

আমি যাদের সঙ্গে সময় কাটাই, তারা প্রতি মূহূর্তে নূতন নূতন চিন্তা-ভাবনা করে, এখন তাহলে কি আমার তাদেরকে বলতে হবে তোমাদের চিন্তা-ভাবনা মৃত? তোমরা বন্ধ্যা দেশের নিস্ফল কারিগর? তোমরা এই দেশ পরিত্যাগ করে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা কর, সেই সব দেশে গিয়ে হোটেলে বাসন ধোয়ার ফাঁকে ফাঁকে বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা কর। কারণ, এই দেশে বুদ্ধিবৃত্তির কোনো স্থান নেই? চিন্তা-ভাবনার কোনো অস্তিত্ব নেই?

আমার মনে হল, আমার আশেপাশে যারা থাকে তাদেরকে এত কঠিন একটা কথা বলার আগে আমার সম্ভবত বিষয়টা আরেকটু তলিয়ে দেখা দরকার। তখন আমাকে পুরানো পত্রিকার (ডিসেম্বর, ২০১৪, ‘ডেইলি স্টার) খুঁজে বিখ্যাত তরুণ লেখক জিয়া হায়দার রহমানের আসল বক্তব্যগুলো পড়তে হল। প্রথমে আমি ছোট একটা ধাক্কা খেলাম। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে আধিপত্য চালিয়ে যাচ্ছেন দুজন মহিলা, নিজেদের যোগ্যতায় নয়, মৃত ব্যক্তিদের ছায়ায়! (যে দেশে রাজা-রানি, রাজপুত্র-রাজকন্যা থাকে, সেই দেশের মানুষ যখন এ রকম কথা বলেন, তখন আমি কৌতুক অনুভব করি। যাই হোক, সেটা ভিন্ন কথা।)

তবে ‘দুই মহিলা’ কিংবা ‘দুই বেগম’এর তত্ত্ব অবশ্যি মৌলিক কথা নয়, পশ্চিমা দেশের পত্র-পত্রিকা শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে কথা বলতে হলে এভাবে ব্যাখ্যা করে এবং পশ্চিমা পত্র-পত্রিকা পড়তে অভ্যস্ত মানুষ কিংবা বুদ্ধিজীবীরাও এই ভাষায় কথা বলতে আরাম বোধ করেন। তারা নিশ্চয়ই ভাবেন, এত বড় নামিদামি পত্রিকা যেহেতু এই ভাষায় লিখে, সেটা তো নিশ্চয়ই ভুল হতে পারে না!

যাই হোক, আমি বিষয়টা একটু অন্যভাবে দেখানোর চেষ্টা করি। ধরা যাক, শেখ হাসিনার নাম শেখ হাসান, অর্থাৎ তিনি মহিলা নন পুরুষ, বঙ্গবন্ধুর কন্যা নন, বঙ্গবন্ধুর পুত্রসন্তান। ধরা যাক, খালেদা জিয়ার নাম খালেদ রহমান, অর্থাৎ তিনি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী নন, জিয়াউর রহমানের ভাই কিংবা অন্য কোনোভাবে সম্পর্কযুক্ত একজন পুরুষ মানুষ।

ধরা যাক, এই দুজন পুরুষ মানুষই একাধিকবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। ধরা যাক, শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়া যেভাবে পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে কথাবার্তা বলেন, শেখ হাসান এবং খালেদ রহমান নামে এই দুজন কাল্পনিক পুরুষ প্রধামন্ত্রী হুবহু একইভাবে কথাবার্তা বলেন। তাহলে কি ‘ইকোনমিস্ট’ নামের বিখ্যাত পত্রিকা তাদের আচার-আচরণ ব্যাখ্যা করার জন্যে ‘দুই পুরুষের কর্মকাণ্ড’ এ রকম শব্দ ব্যবহার করত? বিখ্যাত তরুণ লেখক জিয়া হায়দার রহমান এই দুজন মানুষকে বোঝানোর জন্যে ‘দুই পুরুষ’ শব্দটা ব্যবহার করতেন? কিংবা শ্রদ্ধেয় সৈয়দ আবুল মাকসুদই কি তাদের দুইজনকে ‘দুই পুরুষ’ বলতেন?

আমি লাখ টাকা বাজি ধরে বলতে পারি, তারা এই দুজনকে তখন ‘দুই পুরুষ’ কিংবা ‘দুই সাহেব’ বলতেন না, ‘দুই প্রধানমন্ত্রী’ বলতেন।

কিন্তু শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার বোঝানোর জন্যে বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে সবাই ‘দুই মহিলা’ বা ‘দুই বেগম’ শব্দ ব্যবহার করেন। তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয়, তাঁদের প্রধানমন্ত্রিত্ব কিছুই কারও চোখে পড়ে না– তাদের চোখে পড়ে যে তাঁরা দুজন মহিলা!

একাত্তরে আমার বাবা মারা যাবার পর আমার সাদাসিধে মা যদি আমাদের দায়িত্ব না নিতেন আমরা কোথায় ভেসে যেতাম জানি না। বিয়ে করার পর আমি প্রথমবার একজন মহিলাকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছি এবং মহিলাদের কী ধরনের শক্তি কিংবা সাহস থাকে টের পেয়েছি। কর্মজীবনে মহিলাদের সঙ্গে কাজ করেছি এবং এখন অসংখ্য ছাত্রী এবং সহকর্মীদের দেখে মুগ্ধ হয়েছি! আমি খুব ভালো করে জানি, টিটকারি করার জন্যে মহিলা শব্দটা আবিস্কার করা হয়নি। তাই যখন কাউকে (কিংবা কোনো বিখ্যাত সংবাদপত্রকে) দেখি একজন মানুষের হাজারটা পরিচয়ের মাঝে তার ‘মহিলা’ পরিচয়টাকেই খারাপ কিছুকে প্রকাশ করার জন্যে ব্যবহার করা হয়, তখন আমার মেজাজ খারাপ হয়।

মেজাজ খারাপটা আমি নিজের ভেতরেই রাখি, কিন্তু যখন দেখি শ্রদ্ধেয় আবুল মকসুদের মতো মানুষেরাও একই কথা বলেন, তখন আমি এক ধরনের বেদনা অনুভব করি। আমার মনে হয়, মেয়েদেরকে জানানো উচিত সবাই এভাবে ভাবে না, অনেকেই তাদের প্রাপ্য সম্মান দিতে প্রস্তুত।

আমি বিজ্ঞানের ছাত্র, তাই সোজাসুজি কথা বললে সেটা বোঝা আমার জন্যে সহজ হয়। সংখ্যা দিয়ে কিংবা উদাহরণ দিয়ে কিছু বলা হলে সেটা ধরতে পারি, ঢালাওভাবে কিছু বলা হলে আমি একটু বিভ্রান্ত হয়ে যাই। বিখ্যাত তরুণ লেখক জিয়া হায়দার রহমান এবং শ্রদ্ধেয় সৈয়দ আবুল মকসুদের লেখা পড়েও আমি একটু বিভ্রান্ত হয়েছি। কারণ, দু’জনেই পরিস্কারভাবে বলেছেন যে, তারা বাংলাদেশের ভবিষ্যতে বিন্দুমাত্র আলো দেখতে পাচ্ছেন না! (লেখার এই অংশটুকু আমাকে কয়েকবার পড়তে হয়েছে। কোনো মানুষের পক্ষে এত নিশ্চিতভাবে একটা দেশ সম্পর্কে এ রকম একটা ভয়ংকর কথা বলা সত্যিই সম্ভব সেটি নিজের চোখে দেখেও বিশ্বাস হয়নি।)

আমাদের দেশ সম্পর্কে এ রকম একটি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন হেনরি কিসিঞ্জার, যুক্তরাষ্ট্রের সকল প্রচেষ্টা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হয়ে গেল, তখন কিসিঞ্জার আমাদের দেশকে ভবিষ্যতের একটি ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ আখ্যা দিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে খুব সমীহ করে চলে এবং নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন অনেকবার বলেছেন, সামাজিক সূচকের অনেক দিক দিয়ে বাংলাদেশ এখন ভারত থেকে অনেক এগিয়ে আছে! হেনরি কিসিঞ্জার এখন কি এই কথাগুলো জানেন?

যাই হোক, একটি দেশের ভবিষ্যতে ‘বিন্দুমাত্র আলো নেই’ এটি একটি অত্যন্ত কঠিন কথা। আমরা যারা বাংলাদেশে থাকি বাংলাদেশের হৃৎস্পন্দর শুনি, তারা জানি এটি কিছুতেই সত্যি হতে পারে না! এই দেশের সমস্যার কোনো শেষ নেই, কিন্তু এ কথাটি পুরোপুরি সত্যি যে, কেউ বিশ্বাস করুক আর নাই করুক, বাংলাদেশ আসলে মাথা তুলে দাঁড়াতে যাচ্ছে।

বিখ্যাত তরুণ লেখক জিয়া হায়দার রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রীদের সামনে ঘোষণা দিয়েছেন যে, বাংলাদেশ হচ্ছে চিন্তা-ভাবনায় মৃত একটি দেশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী বা কোনো শিক্ষক সেটার প্রতিবাদ করে কিছু বলেছেন সেটা চোখে পড়েনি। বরং শ্রদ্ধেয় মকসুদ সেই ছোট ঘোষণার পক্ষে অনেক বড় একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন স্কুলে ‘ব্যাখ্যা কর’ বলে গভীর জ্ঞানের একটা লাইন লিখে দেওয়া হত। আমরা শুরু করতাম এভাবে, “আলোচ্য অংশটি অমুক লেখকের অমুক লেখা থেকে নেওয়া হয়েছি”, তারপর সেই একটি লাইনকে অনেক ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বড় করে লিখতাম। প্রদ্ধেয় আবুল মকসুদের লেখাটি পড়ে আমার হুবহু সেই কথাটি মনে হয়েছে। লেখাটি দেখে মনে হয়, কোনো এক গুরুত্বপূর্ণ মানুষ শ্রদ্ধেয় আবুল মকসুদকে দায়িত্ব দিয়েছেন বিখ্যাত তরুণ লেখক জিয়া হায়দার রহমানের দুই-তিনটি লাইনকে অনেক বড় করে ব্যাখ্যা করার জন্যে এবং তিনি সত্যিকারের ভালো ছাত্রের মতো সেটা ব্যাখ্যা করেছেন।

একজন শ্রদ্ধেয় বুদ্ধিজীবী এভাবে একটা ধারণা প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করলে অনেক তরুণ কমবয়সী ছেলেমেয়ে সত্যি সত্যি সেটা বিশ্বাস করে ফেলতে পারে্ তারা মনে করতে পারে সত্যি বুঝি বাংলাদেশে চিন্তা-ভাবনার জন্ম হয় না, সত্যিই বুঝি বাংলাদেশ চিন্তা-ভাবনার দিক থেকে মৃত এবং একটি বন্ধ্যা ভূখণ্ড। কাজেই আমার মনে হয়েছে, আমি নিজে এ ব্যাপারে কী ভাবি সেটা একটু বলা দরকার।

আমি আঠার বছর পাশ্চাত্যে দেশে কাটিয়ে এসেছি, আমার নিজের অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ অন্য রকম। ঐ দেশগুলোতে আমার চিন্তা-চেতনা বিকাশের যেটুকু সুযোগ ছিল আমার নিজের দেশে সুযোগ তার থেকে অনেক বেশি। এই দেশে অসংখ্য মানুষ নূতন নূতন চিন্তা-ভাবনা নিয়ে কাজ করছে, আমি শুধুমাত্র আমার একান্ত নিজস্ব চিন্তা-ভাবনার একটা তালিকা দিই।

প্রায় এক যুগ আগে আমরা কয়েকজন ভাবছিলাম আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা যেন আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে যেতে পারে সে রকম একটা ব্যবস্থা করলে কেমন হয়। আমাদের সঙ্গে যে তরুণ ছেলেমেয়েরা কাজ করেছে, তারা গণিত অলিম্পিয়াডকে গণিত উৎসবে পরিণত করে সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছে। পৃথিবীর কোনো দেশে ক্লাস থিতে পড়া বাচ্চাদের নিয়ে গণিত অলিম্পিয়াড হয় না– আমাদের দেশে হয় এবং আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের কর্তাব্যক্তিরা আমাদের এই চমকপ্রদ আইডিয়ার কথা শুনে হতবাক হয়ে যান।

আমি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষক শিক্ষিকা এবং ছাত্রছাত্রীদের সাথে কাজ করি। কয়েক বছর আগে তাদেরকে বলেছিলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি রেজিস্ট্রেশনের যন্ত্রণা কমানোর জন্যে মোবাইল টেলিফোনে এসএমএস করে পুরো প্রক্রিয়াটি কি শেষ করা সম্ভব? আমার ‘বাচ্চা’ সহকর্মীরা এই দেশের মানুষের জন্যে মোবাইলে ভর্তি রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা তৈরি করে দিয়েছে। এটি মৃত আইডিয়া নয়, বাংলাদেশের প্রায় সব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করা হয়।

আমার সাথে ছাত্রছাত্রীরা কাজ করে, আমি যখন তাদেরকে বলি, ‘এরপর আমরা একটা ড্রোন বানাব’– তারা আমাকে ড্রোন বানিয়ে দেয়। যখন বলি, ‘একটা রবোট বানালে কেমন হয়– তারা রোবোট বানিয়ে দেয়। যখন বলি, ‘পরীক্ষার খাতা দেখতে দেখতে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি– তারা পরীক্ষার খাতা দেখা থেকে মুক্তি দেবার জন্যে এপস বানিয়ে দেয়। যখন বলি, ‘দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্যে সহজ ব্রেইল কি তৈরি করা সম্ভব’– তারা দ্রুত তার একটি সমাধান বের করে আনে। যখন বলি, ‘পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে হবে’– দেশের নানা ইউনিভার্সিটির ছেলেমেয়েরা একশটা আইডিয়া নিয়ে পথে নেমে আসে।

আমি যাদেরকে নিয়ে সময় কাটাই তারা আমাকে নূতন নূতন কী আইডিয়া দিয়েছে, আমি সারাদিন ধরে বলে সেটা শেষ করতে পারব না। যদি এই দেশের অন্যান্য মানুষের অভিজ্ঞতার কথা বলি, তাহলে সেটি কি বলে শেষ করা সম্ভব? কয়েকটা উদাহরণ কি দেব?

গণজাগরণ মঞ্চের কথা মনে আছে? একজন যুদ্ধাপরাধীর বিচারের রায়টি যথাযথ হয়নি বলে এই দেশের তরুণ সমাজ সম্মিলিতভাবে পথে নেমে এসে, সারা দেশ নয়– সারা পৃথিবীতে কী রকম আন্দোলন গড়ে তুলেছিল, তার কথা মনে আছে? সেটি কি চিন্তা-ভাবনার জগতের একটি বিপ্লব ছিল না? পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশ যুদ্ধাপরাধীর বিচার করার জন্যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নেয়। আমাদের দেশে নিজেদের ট্রাইব্যুনাল তৈরি করে যুদ্ধাপরাধীর বিচার শুরু করেছি, সেটি কি সারা পৃথিবীর জন্যে ভবিষ্যতের একটা উদাহরণ হয়ে থাকবে না?

প্রফেসর ইউনূস তাঁর নূতন নূতন চিন্তা-ভাবনা নিয়ে পৃথিবীকে চমৎকৃত করছেন না? তাঁর চিন্তার ক্ষেত্রটি তো বাইরের কোনো দেশ নয়– আমাদের বাংলাদেশ। ঠিক সে রকম স্যার ফজলে হাসান আবেদ তাঁর বিশাল প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের নানা কর্মকাণ্ড দিয়ে সবাইকে অবাক করে দিচ্ছেন না? সেটি কি গতানুগতিক কাজ, নাকি নূতন চিন্তা-ভাবনার বাস্তবায়ন? দেশের অসংখ্য এনজিও নিজেদের মতো কাজ করে যাচ্ছে, কত বিচিত্র তাদের আইডিয়া, কত আন্তরিক তাদের কাজকর্ম। সেগুলো একটাও কি চিন্তা-ভাবনার জগতের একটা অবদান হিসেবে বিখ্যাত তরুণ লেখক জিয়া হায়দার রহমান বা শ্রদ্ধেয় আবুল মকসুদের চোখে পড়তে পারে না?

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের নানা অভিযোগ, কিন্তু দেশের তিন কোটি ছেলেমেয়ের হাতে বছরের প্রথম দিনে নূতন পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার পরিকল্পনাটা কি নূতন আইডিয়া নয়? নানা রকম চেষ্টা-চরিত্র করে দেশের মেয়েদের দেশের ছেলেদের সাথে সমান হারে লেখাপড়া করানো কি চিন্তা-ভাবনার জগতের একটা অবদান মনে করা যায় না? বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী পৃথিবীর নানা দেশে শান্তিরক্ষা বাহিনী হিসেবে কাজ করে, সে রকম অনেক দেশে বঙ্গবন্ধুর নামে রাস্তা তৈরি হয়েছে, এমনকি রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা ভাষাকে গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলো কি একটা বন্ধ্যা দেশের পরিচয়? পৃথিবীর কয়টা দেশ আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের গড়ে তোলা বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মতো একটা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা নিয়ে অহংকার করতে পারবে? আর কত উদাহরণ দেব?

আমি একবারও বলিনি এই দেশের কোনো সমস্যা নেই, এই দেশে অসংখ্য সমস্যা আছে। অসংখ্য অবিচার, অনাচার, দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রণা আছে। দেশের অনেক কিছু নিয়ে আমাদের তীব্র ক্ষোভ আছে। অনেক জগদ্দল পাথর আমাদের বুকের উপর চেপে বসে আছে, আমরা ঠেলে সরাতে পারি না। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, আমাদের দেশ চিন্তা-চেতনায় মৃত একটি দেশ, আমরা একটি নিস্ফলা বন্ধ্যা দেশ!

একজন মানুষ তার স্বপ্নের মতো বড়। একাত্তরের বাস্তবতায় বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার কথা ছিল না, কিন্তু এই দেশের মানুষ সেই স্বপ্ন বুকে ধারণ করে অচিন্ত্যনীয় আত্মত্যাগ করতে রাজি ছিল বলে আমরা একটা দেশ পেয়েছি। আমার মতো ক্ষুদ্র একজন মানুষ এই দীর্ঘ জীবনে যতবার যা কিছু নিয়ে স্বপ্ন দেখেছি, সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমি কেন তাহলে সেই সত্যটি উচ্চকণ্ঠে সবাইকে শোনাব না?

যাদের সেই স্বপ্ন দেখার শক্তি, সাহস বা ক্ষমতা নেই, তারা যদি অন্যদেরকেও স্বপ্ন দেখতে দিতে না চান, কেন তাহলে আমি প্রতিবাদ করব না?

মুহম্মদ জাফর ইকবাললেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৫ Responses -- “না, বাংলাদেশ মারা যায়নি”

  1. Hero parliament

    “রক্ত কথা বলে”। জিয়া হায়দার রহমান রাজাকারের জামাতা। আর সৈয়দ আবুল মকসুদ হলো- কাদের, কামু আর যুদ্ধাপরাধের পেতাত্বা। আগেই বলেছি রক্ত কথা বলে, এদের জন্মগত তথ্যই বলে এরা জাতির মঙল চাইতে পারে না । এরা মিথ্যার বেসাতি দিয়ে দেশকে ধ্বংশ করতে চায় । আমরা কি করতে পারবো পারি তা 71 এ বুঝতে পারেনি। এখনও ভাবতে পারে না। শয়তানের কাজ যা তাই করছে। আমাদের কাজ আমরা করবো। আপনি সেনা প্রধান, সৈনিক আমরা। আমরা চাদে বসতি গড়বো। জয় বাংলা

    Reply
  2. রতন জ্যোতি

    মানুষকে আশাহত করা বড় পাপ।

    মাটি; নদী; বৃক্ষ; ফুল, ফল, ফসলভরা মাঠ; স্নেহময়ী মা; নরম-গরমের শাসক বাবা; অল্পতে সন্তুষ্ট জাতি, দুঃখ-কষ্টে সুখে আছি। সবচেয়ে বড় কথা, নতুন প্রজন্ম ক্রিকেট নিয়ে মেতে উঠেছি…

    Reply
  3. তামান্না ঝুমু

    হোটেলে বাসন মাজার কাজটি আপনার কাছে এত অমর্যাদাকর ও মানহানিকর?

    Reply
  4. শাহানা জেসমিন

    পরহিতে নিজের জীবন উৎসর্গ করার ব্রত, যে দেশের জাতির আছে সে দেশ কখনও মারা যেতে পারে না।

    Reply
  5. Sabuj Kanti Mazumder

    স্যার, আপনার সাথে আমিও একমত। আমিও বিদেশে স্কলারশিপ নিয়ে পড়াশুনা করতে আসার পর দেখতে পেলাম আমাদের মতই অনেক তথাকথিত শিক্ষিত ভদ্র সমাজ বিদেশে থেকে আমার প্রিয় বাংলাদেশ কে কত বাজে ভাবে মূল্যায়ন করে। শুধু তাই না তারা এটা করে যে শুধু বাংলাদেশ কে ছোট করে তাই না আমি খুব অবাক বিশ্বয়ে দেখতে পেলাম এর পিছনে তাদের অনেক স্বার্থ জড়িয়ে আছে। তারা সবসময় বাংলাদেশ কে অনেক গরিব আর অভাব অনটন এ ভরা দেশ বানিয়ে বাংলাদেশ এর নামে সাহায্য নেয় আর সেই সাহায্য এর কিছু অংশ বাংলাদশ এ তাদের নিজেদের নামে তাদের পছন্দের মানুষদের দেয়। আমার সাথে কয়েকজনের কথা হয়েছে, তারা সবসময় অধিকাংশ সরকারি চাকুরীজীবী। তাদের কে সরকার শিক্ষা ছুটি দিচ্ছে পূর্ণ বেতন এ কিন্তু এটা তারা ত স্বীকার করতেই চায় না উল্টা বলে এই দেশকে দিয়ে নাকি কিছুই হবে না। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেলাম যখন কিছুদিন আগে বাংলাদেশ এর একটি নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় এর একজন সম্মানিত শিক্ষক বলে বসলেন বাংলাদেশ হচ্ছে মাফিয়ার দেশ। তাদের মত তথাকথিত শিক্ষিত বুদ্ধিজীবীর কথা সুনলে শুধু একটি কথাই শরণে আসে হে সৃষ্টিকর্তা তুমি এদের কে একটু মানুষ কর।

    Reply
  6. আব্দুল আউয়াল চৌধুরী

    স্যার, আপনি বিজয়ের মাসে একটা অতীব সুন্দর লেখা উপহার দিলেন।

    ডিসেম্বর মাসটা অর্ধেক শোকের, ১৫ তারিখ পর্যন্ত আর অর্ধেক বিজয়ের। পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দালাল রাজাকাররা হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে, ১৪ তারিখে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে। আর আমরা যারা ’৭১এর বিজয় স্বচক্ষে দেখেছি, কী আনন্দের ছিল শেষ ১৫ দিন!

    আপনার লেখাতে যে আশার আলো জ্বালিয়েছেন, তা এ দেশের নতুন প্রজন্ম অনুধাবন করুক, সাহসের সঙ্গে এগিয়ে যাক।

    আজ আমাদের রিজার্ভ পাকিস্তানের দ্বিগুণ, সিমলা চুক্তি লঙ্ঘন করে পাকিস্তানিরা যুদ্ধাপরাধী সেনাদের বিচার বন্ধ করেছিল, ফেরত দেয়নি বৈদেশিক মুদ্রা– আমরা রিজার্ভ দ্বিগুণ করে দেখিয়ে দিয়েছি। আমাদের ক্রিকেটের অবস্থান এখন ঈর্ষণীয়, রফতানি উর্ধ্বমুখী, প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক। আমাদের সমৃদ্ধ মাতৃভাষার কারণে আমাদের জাতি এগিয়ে যাবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

    কিন্তু অতি উল্লসিত হয়ে আমরা যেন সতর্কতা থেকে বিরত না হই। আমাদের ব্যবসা এবং প্রশাসনে চলছে অসহনীয় দূর্বৃত্তায়ন। অতিরিক্ত পয়সা ছাড়া কোনো কাজই চলে না। রাস্তা-নদী-খাস জমি-বন-ফুটপাত বেদখল এবং চাঁদাবাজি চলে ব্যাপকভাবে। শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নতি হলেও পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরি হয় সেকেলে পদ্ধতি, ডিজিটাল প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ার পরেও।

    আসুন এসব থামাই, দেশকে আরও এগিয় নিয়ে যাই।

    জয় বাংলা।

    Reply
  7. শাওন

    যারা মনে করে আমাদের চিন্তাভাবনা মরে গেছে আসলে তাদের আত্তিক মরণ না হলেও তাদের চিন্তাভাবনার মরণ হয়ে গেছে। জিয়া হায়দার রহমান হয়তো অনেক বিখ্যাত(!) মানুষ। তবে ওনার কছে আমাদের দাবী থাকবে আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র খানা ফেরত দিয়ে যেনে এই ধরনের কথা বলে। কারণ আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে বিদ্যা শিক্ষা দিতে পারলেও মনের দিকে বড় করতে পারেনি, পজেটিভ চিন্তা করতে শেখাতে পারেনি।

    আমার শ্রদ্ধেয় আবুল মকসুদ সারের কথা কি বলব। দিনকাল যা পরল শুধু এইটুকু বুঝতেছি সুশীলরা ও বিক্রি(!)হয়। এই যে শ্রদ্ধেয় আবুল মকসুদ সাহেব অনেক চিন্তা করে বললেন, ‘বাংলাদেশ হচ্ছে মৃত চিন্তা-ভাবনার দেশ’। এইখানে কী তার চিন্তাভাবনা প্রকাশ পায়নি??? যদি চিন্তাভাবনার প্রকাশ পেয়ে থাকে তা হলে বাংলাদেশ কিভাবে,”মৃত চিন্তা-ভাবনার দেশ” হয়??? নাকি মকসুদ সাহেব নিজেকে আর বাংলাদেশি মানুষ ভাবেন নাহ!???

    Reply
  8. justicedenied

    স্যারের কথাটা পড়ে মনে হলো ছোট বেলার একটি কবিতার কয়েকটি লাইন- “এই নিয়েছে, এই নিলো যা- কান নিয়েছে চিলে। কানের পিছে মরছি ঘুরে আমরা সবাই মিলে”
    একটি লেখার শিরোনাম হয়তো সবার মনোপুত নাও হতে পারে তাই বলে পুরো লেখাটাতে কি বলাহলো তাকে উপেক্ষা করা মনেহয় চরম বোকর কাজ। শিরোনামে বল্লো যে ‘বাংলাদেশ হচ্ছে মৃত চিন্তা-ভাবনার দেশ’ তাতেই বাংলাদেরশ যেমন মরে যায়না তেমনি এই কথার উপর সমালোচনা করতেগিয়ে বাস্তব সমস্যাগুলোকেও পাশকাটিয়ে যাওয়াযায়না। স্যার সমালোচনা করতে গিয়ে বর্তমান বাস্তবতাকে পাশকাটিয়ে গেছেন। হয়তো কারো বিরাগ ভাজন হতে চান্নি বা নিজেই সেই সমস্যাগুলোকে দেখতেপাননা। বা দেখতে চান না। পাছে যদি নিজেও নব্যরাজাকার এর খেতাব পেয়ে যান। স্যার প্লিজ একটু নিরোপেক্ষ ভাবে লেখার অভ্যাস গড়েতুলুন। আপনার কাছে আমাদের অনেক চাওয়া। হতাশ করলেন।

    Reply
  9. Prodip

    আমাদের মনের সব না বলা কথা, বলার এই একজন মানুষ সব সময় আছেন। পরম প্রিয় ড জাফর ইকবাল। মকসুদ সাহেবের নামের আগে তিনি যে ভাবে শ্রদ্ধেয় শব্দটা পুনঃ পুনঃ বসিয়েছেন, আমি নিশ্চিত তিনিও আমার মতো মকসুদ সাহেব কে ভয় করেন। এই ভদ্রলোকের মনে যে অশান্তি প্রথম আলোর পাতায় প্রতি নিয়ত দেখি,সেই নিত্য অসন্তোষের গদা ঘোরানো , সেই হতাশ্বাস ধুম্র কুন্ডলী – সত্যি ই ভয়ানক। এমনকি তাঁর নিজের জন্যেও । কারন ক্রমাগত অসন্তোষ জন্ম নিচ্ছে তাঁর অন্তরে। তিনি একটুও সুখী নন, ইতিবাচক কিছুই তাঁর চোখে পড়ে না । এটা ব্যামোর লক্ষন । অথচ তিনি গান্ধীর ভাবশিষ্য । যে গান্ধী,জীবদ্দশায় – ভারতকে নেতিবাচক হিসাবে তুলে ধরে লেখা বিতর্কিত বই ‘মাদার ইন্ডিয়া’র লেখক মিস মেও কে নর্দমা পরিদর্শক বলে বিদ্রুপ করেছিলেন । জিয়া হায়দার রহমান জাতীয় মানুষরা মকসুদ সাহেব ও তাঁর গুণগ্রাহী প্রতিভার সমজদার দের কে ধন্য করলেন তাঁর লেখার ও প্রকাশনার খোরাক জুগিয়ে আর তাঁর অশান্তির ধনুকে ছিলা বাঁধার সুযোগ দিয়ে ।
    আশা করি ড জাফর ইকবাল এর প্রতিক্রিয়ায় মকসুদ সাহেব মোটেই বিচলিত হবেন না,কারন তাঁর চিত্ত ভয় শূন্য। তিনি আমাদের মতো ভীত নিকৃষ্ট প্রানী নন। এরকম আরও মহৎ উপাদান তাঁর মননে আটকা পড়বে প্রতিনিয়ত । তিনি নির্বিকার ভাবে প্রথম আলোর ঔজ্ঝল্য’র মাঝে বিচরন করবেন এবং লিখে যাবেন ।

    Reply
  10. md

    Come on man when India making job market for young generation then he is showing happiness making some proto type drone. If you would really feel for this country you would talk about the fake dream this nation got named “digital BD”, why our young programer still not getting enough help….oh sorry I forgot he can’t say anything…so called “chetona jibi”. Makes me laugh reading his article. Surprise myself thinking that once a time in my teenage life he was my favorite writer….how people changes.

    Reply
  11. সুরাজ

    স্যার আপনার লেখা পড়ে,কথা শুনে সবসময় উতসাহিত হই,উজ্জিবিত হই । আমার দেশকে আমি ভালবাসি।আমার দেশের চিন্তা আমি করব নাকি অন্য দেশ করবে । স্যার একটা সত্যি কথা,আমি আপনার লেখার উল্লেখিত দুই লেখকের নাম কখনো শুনিনি,আমি ভবিষ্যতে তাদের লেখা পড়ব কিনা জানি না,তবে ইচছা নাই আমি হতাশাবাদিদের দলে নই । উনারা বাংলাদেশ বলতে শিখেছে “আমার সোনার বাংলা” বলতে শিখে নাই । আমরা প্রতিদিন প্রতি মূহুত কোন না কোনভাবে উন্নতি করছি ।

    Reply
  12. মোঃ জহিরুল ইসলাম

    যে যেমন সে পৃথিবীটাকে সে ভাবে দেখে। যদি কেউ বাংলাদেশকে বন্ধ্যা দেখে তবে তাকে পৃথিবীটাকেও বন্ধ্যা দেখতে হয় কেননা বাংলাদেশ এ পৃথিবীরই অংশ। আবার সে নিজেও বন্ধ্যা হিসেবে নিজেকে প্রমান করে। যখন আমার দেশ দূর্বল থাকে তখনই এরকম মন্তব্য গুলো উঠে আসে এবং দেশ ক্রমাগত দূর্বল হতে থাকলে তা প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। কিন্তু দেশ শক্তিশালী হয়ে উঠলেই তা ভ্রান্ত বলে প্রমানিত হয়। দেশ কতটা এগিয়ে গিয়েছে তা দেশের মানুষ জানেন। যখন কোন ব্যক্তি দেশের উন্নয়ন নিয়ে মতামত ব্যক্ত করবেন তখন তার যথেষ্ট রাজনৈতিক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলছি যে দেশের স্বীকৃত জ্ঞানী মানুষের মধ্যেও রাজনৈতিক জ্ঞানের অভাব থাকতে পারে।
    যখন একটি দেশে বিপ্লব এবং প্রতিবিপ্লব ঘটে এবং দেশ সে বিষয়টি থেকে অতি দ্রুত নিজেকে সরিয়ে নিয়ে আসে তখন সে দেশটিকে গুরুত্ব না দিয়ে থাকা যায় না। তাই যদি হয় তাহলে আপনি সে দেশকে গুরুত্বহীন বলতে পারেন না।

    Reply
  13. এস কবির

    জাফর স্যারের লেখা এর আগেও অনেক পড়েছি,বেশ দেশাত্নবোধক লেখনি উনার।কিন্তু জিয়া হায়দার রহমান ও আবুল মকসুদ স্যারের লেখা নিয়ে উনার বীরোধিতা আমার কাছে “ভুল চিকিতসায় রোগীর মৃর্ত্যূ”র মতো মনে হয়েছে। জিয়া হায়দার রহমান ও আবুল মকসুদ স্যার তাদের লেখায় দেশের রাজনৈতিক আচলাবস্থা,রাজনীতি কে ব্যাবসায় নীতি ও প্রয়োগ মেনে জীবন চলা,রাজনীতিকে ঢাল স্বরূপ ব্যবহার করে ফায়দা নেওয়া এছাড়াও অন্যান্য রোগগুলোকে সনাক্ত করে দিয়েছেন। রোগগুলোর প্রতিকার ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহন করলে হতেই পারে “আমাদের দেশখানি(গ্রামখানি)ছবির মতন মাটির তলায় এর ছড়ানো রতন”। কিন্তু জাফর স্যার কেন রোগগুলোর প্রতিকার ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহনের পক্ষে করনীয় কি সে বিষয় উপেক্ষা করলেন?কেনই বা উনি ক্রমশ রোগ বৃদ্ধির পক্ষেই সাফাই গাইলেন?আমার তো মনে হয় এমনিভাবে রাজনৈতিক ভুল গুলোকে উস্কে দিলে একসময় ভুল বনাম ভুলের বিস্ফোরন হবে তখন আমাদের দেশ হয়তোবা সব অপকর্মের আঁতুড় ঘরে পরিনত হবে তখন কিন্তু এর দায়ভার অবশ্যই জাফর স্যারদেরকেই নিতে হবে।

    Reply
  14. পরাগ

    দেশ এবং দুই প্রধান মন্ত্রি সম্বন্ধে এরকম মন্তব্য করতে পেরেছেন জিয়া হায়দার ও সৈয়দ আবুল মকসুদ সাহেব কারন ওনারা লিঙ্গে এবং মননে পুরুষ। ওনাদের প্রথম পরিচয় “পুরুষ” পরে মানুষ!আর
    অামাদের দেশে লিঙ্গের উর্ধে উঠে মনুষ লেখকের সংকট ব্যপক।
    স্যার আপনার বক্তব্যের সাথে সহমত প্রকাশ করছি।

    Reply
  15. শাহজাহান সিরাজ

    আমাদের মাথাপিছু আয় ৪০ হাজার ৫০ হাজার ডলার না হলেও বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ আজও উন্নত দেশের মানুষের চেয়ে সৎ, নিঃস্বাথর্, অতিথিপরায়ন, নিষ্ঠাবান ও সাহসী! বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুের আমি এই বাস্তব অভিজ্ঞতা পেয়েছি! বাংলাদেশের মানুষ ব‍্যবসায়িক কৌশলী নয়, স্বপ্ন বিলাসী! স্বপ্ন দেখে, আমিও দেখি! পারিবারিক কারণে আমি প্রায়শঃ জাপানে থাকি , এখানে ভাল কিছু দেখলেই তা বাংলাদেশে কিভাবে করা যায়, তার স্বপ্ন দেখি, সংশ্লিষ্ট বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলি, স্বপ্ন দেখাই, চিন্তা করি! …যারা সবকিছুতেই শমসেরী ও গুরুগিরি দেখােনার জন‍্য উেল্টা কথা বলেন, তারা েকমন চিন্তুাশীল েসটাও কিন্ত িবচাযর্! আমি নিশ্চিত ‘িশক্ষা, মানবাধীকার ও আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠা পেলে তরতর করে বাংলােদশ এগিয়ে যাবে, েকউ পথ রুখতে পারবে না! গত ২ দশকে বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারা দেখে আমি অভিভূত! প্রচন্ড আশাবাদী! দেশপ্রেমিক েখালামেলা মতামতের জন‍্য জাফর ইকবালকে ধন‍্যবাদ…

    Reply
    • আকিব

      বাংলা দেশের মানুষ সৎ কিন্তু যেখানে সৎ থাকার দরকার সেখানে সৎ না আমরা সহসী কিন্তু যেখানৃ সহস দেখানো দরকার সেখিনে ভয পাই।

      Reply
  16. kaya

    জনাব জিয়া হায়দার রহমান ও আবুল মকসুদ সাহেব আমাদের ঘাড়ে চেপে বসা দৈত্যটিকে পাথর দিয়ে আঘাত করছেন আর আপনি দৈত্যটিকে কাঁধে বয়ে বেড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন আর রাজা রানীর দেশের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করে লজ্ঝা/কষ্ট চেপে রাখতে চাইছেন! চোখ বন্ধ রাখলেই প্রলয় বন্ধ হয়ে যায় না, যদি যেত আপনি এখনও বিদেশেই থাকতেন অচেনা কেউ একজন হিসেবে!!

    Reply
  17. Antora

    সত্তিই বাংলাদেশ মারা যায়নি। যারা প্রতিনিয়ত এধরনের কথা বলে নিজেদের অনেক বড় ভাবছেন আসলে তাদের ই মৃত্তু হয়েছে ।

    Reply
  18. রাকিব

    না, বাংলাদেশ মারা যায়নি। কিন্তু সুন্দরবন মারা যাচ্ছে………তিলে তিলে। হয় আপনি ভাবছেন সুন্দরবন মারা গেলে বাংলাদেশ মারা যাবে না নয়ত সুন্দরবনের দিকে আপনি টিনের চশমা পরে তাকিয়ে আছেন।
    নাকি ভয় পান যে সুন্দরবন নিয়ে কিছু লিখলে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হবে? নাকি পরে লিখবেন? যা ইচ্ছে করেন।
    কিন্তু আমরা পূজা চলে গেলে শবরী কলা দিয়ে কি করবো?

    Reply
    • Prodip

      ভাই কিসের মাঝে কি, পান্তা ভাতে ঘি । উনার উপর চাপিয়ে দেবার আর কিছুই নেই হাতের কাছে । পারলে সুন্দরবনের দাফনের চিত্র ফটশপ করে দিয়ে দিন না কেন ?

      Reply
  19. মইন উদ্দিন

    কিছু মানুষ আছে না বুঝে বক্তব্ব দেই। স্যার খুব ভাল লিখছে। আবার রুবেল ভাই ও অনেক ভাল বলেছে। কথা যেটাই হোক, আমাদের প্রটিজ্ঞ করতে হবে অন্নোজন কি করল তা না দেখে নিজে দেশের জন্য কি করলাম তা দেখা। তা হলেই দেশ উন্নত হবে।

    Reply
  20. buyzid

    ।আমি স্যারের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে এরকম নিরাশা মূলক নিবন্ধ থেকে সরে আসার আহবান জানাচ্ছি।

    Reply
  21. জুলিয়ান সিদ্দিকী

    বাংলাদেশ উর্বর আর জীবন্ত চিন্তা-ভাবনার দেশ তখনই হতো যদি, পাকিদের সঙ্গে আবার মিলে যেতো, যুদ্ধাপরাধীরা যেভাবে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা দিয়ে তাদের জুতা আর গাড়ি মুছতে আরম্ভ করেছিল, তা চলমান থাকতো, নিজামী যখন যাত্রাবাড়ি সমাবেশে বুক ফুলিয়ে বলেছিল, এখন আওয়ামী লিগ কোথায়? তা যদি রাজাকারদের সব মিটিঙে সমাবেশে এখনও উচ্চারিত হতো। যুদ্ধাপরাধীদের যদি জাতীয় বীর উপাধী দেয়া যেত। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে কেউ কোনো টুশব্দ না করতো। লন্ডন জামাতে ইসলামীর টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যাওয়া লোকদের যদি কেউ চিহ্নিত না করতো। আমেরিকার নির্লজ্জ বিরোধীতা যদি এদেশের মানুষ নীরবে মেনে নিতো। জিয়া হায়দারের পাকি প্রেমকে যদি দেশ-প্রেমের মর্যাদা দেয়া যেত। এমন আরো অনেক ভাবেই দেখা যেতে পারে।

    আবুল মকসুদ, ফরহাদ মাজহাররা আসলে বক-ধার্মিকদের মতো। বুদ্ধিজীবী তকমা গায়ে চড়িয়ে তারা ঠিকই ‘৭১ টেলিভিশনের ভূমিকায় সক্রিয়। কিন্তু আমাদের তরুণরা এখনো পচে যায়নি। নষ্ট হয়ে যায়নি সবার চরিত্র। ভাত ছিটালে কাকের অভাব হয়তো হয় না। কিন্তু যারা মানুষ তারা একগ্রাস ভাতের কাছে নিজেকে বিক্রি করবে না।

    আমাদের দেশে অনেক পণ্ডিতই তো রয়েছেন, কই তারা কেউ তো জিয়া হায়দার বা আবুল মকসুদের কথার প্রতিবাদ করলো না। কেন একজন (অধ্যাপক ড.) জাফর ইকবালকেই প্রতিবাদ করতে হলো। সে অর্থে জিয়া হায়দার বা আবুল মকসুদ সাময়িক সহি হলেও হতে পারেন।

    Reply
  22. রমেন্দ্র চন্দ্র বসাক

    অধ্যাপক জাফর ইকবাল স্যার কে অভিনন্দন জানাই আমাদের মনের কথাগুলো যুতসই ভাবে বলার জন্য ।জিয়া হায়দার শিকরবিহীন বাংলাদেশী ।এদেশ সম্বন্ধে তাঁর ধারণা ভাসা ভাসা ।স্বচ্ছন্দ জীবনের কৃপায় তিনি বাংলাদেশের আত্মার খবর রাখতে পারেননি । কিন্তু আবুল মকসুদ সাহেবের ভাব সম্প্রসারণ পড়ে আমরা হতবুদ্ধি । বাংলাদেশের চিন্তা চেতনার গতিশীলতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল লোকেরা জানেন ।আমরাতো জানিই। আর কয়েক বছর পরে জিয়া সাহেবরাও খালি চোখেই দেখতে পারবেন বলে আমরা আশা করি ।

    Reply
  23. কাজী খালেদ

    মরা চিন্তার মানুষ থাকবে মরা চিন্তা নিয়ে ,কিন্তু বাংলাদেশ এগিয়ে যাবেই

    Reply
  24. এস,এম,রাফসান

    কারো যদি অসুখ করে,তাহলে তাকে ঔষধ খাওয়াতে হয়।”আপনার কিছুই হয়নি” বলে মিথ্যে সান্ত্বনা দিলে কি রোগ ভাল হবে?আমি জাফর সারের লেখা পরেছি,আবুল মকসুদ সারের লেখাও পরলাম।আমাদের দেশের বর্তমান রাজনৈতিক কিংবা সামাজিক পরিস্থিতিকে আর যাই হোক, কোনভাবেই সুস্থ কিংবা সাভাবিক বলা জায়না।আর এভাবে চলতে থাকলে যে আমাদের কপালে দুর্গতি আছে সেটা সুনিশ্চিত। নিজের রোগ গুলিকে যদি শিকার করতেই না পারেন তাহলে চিকিৎসা করবেন কিভাবে, আর সুস্থই বা হবেন কিভাবে?জিয়া সাহেব সেটাই করেছেন।তার লেখা অনেক বেশি যুক্তিনির্ভর এবং প্রাসঙ্গিক। লেখার শিরোনামটা যদিও বিভ্রান্তিকর,তবে উদ্দেশটা ভাল,সেটা পড়লেই বোঝা যায়।তিনি বাংলাকে বন্ধ্যা বলেন্নি,কিংবা বাংলার তরুণ সমাজকেও বন্ধ্যা বলেননি। বন্ধ্যা বলেছেন বাংলাদেশের রাজনিতিকে,বর্তমান রাজনৈতিক ভাবাদর্শকে।আর এটাতো দিবালোকের মতই সত্য।তিনি এটাও বলেছেন,তরুণ সমাজই পারে দেশকে এই অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে।আমি বুঝলাম না জাফর স্যার কেন সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক ভাবে এটার বিরুদ্ধে লিখতে গেলেন…

    Reply
    • আকিব

      আমি আপনির সাথে এক মত এত গুল মন্তব্য পডলাম কিন্তু এটাই ভালো লাগলো আমাদের সুশীল সমাজ ভালতে চায না কারন তারা কষ্ট পাযনা কষ্ট পায আমরা সাধারণ মানুষ তাদের গাযে তো ভি আই পি ছিল থাকে থাকে এসি তাদের কি দেশ যেখানে যায় যাক তাদের অবস্থির পরিবতন হবেনা
      সে বলছে বাসুন মেজ বুদ্ঝজীবী কথা কিন্তু এই বাসন মাজা টাকায় আনেক অংশ দেশ চলে

      Reply
  25. তুষার

    মকসুদ স্যার, কয়েক দিন আগেই আমার রুমমেটের সঙ্গে আপনার লেখা সম্পর্কে কথা হচ্ছিল। আমি তাকে বলেছিলাম, আপনার লেখায় কিছু পাওয়া না পাওয়ার বেদনা থাকে। আপনি কি মাকে ‘মাআআআআআ’ বলে ডাকতে পারেন না?? ডাকে অপূর্ণতা থাকবে কেন?

    আর কিছু পাওয়া না পাওয়ার বেদনাই বা থাকবে কেন? ডাকুন না, ডাকুন, মাকে ডাকুন। মাও ভাববে আমি বন্ধ্যা নই।

    Reply
  26. ফারুক

    একাত্তর সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হবে এমন চিন্তা বা ধারণা অনেকেই করে নি,কিন্তু আমাদের দেশের অকুতোভয় ছেলেরা লাল সবুজের পতাকা ঠিকই ছিনিয়ে এনেছে।আবার যখন দেশটি স্বাধীন হলো তখন বলা হল অর্থনৈতিক কাঠামো দূর্বল বেশি দূর এগোতে পারবে না ।ইনশিআল্লাহ বর্তমানে আমাদের দেশের কেন্দ্রিয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২২বিলিয়ন ডলারের উপরে বর্তমানে পাকিস্তানে রিজার্ভ ৮ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ পাকিস্তানের চেয়ে আড়াইগুণেরও বেশি রিজার্ভ আমাদের।আমাদের পোশাক শিল্প বিশ্বে চিনের পরেই আমাদের অবস্হান।২০৫০সালের মধ্যে পৃথিবীর ১০টি ধনী রাষ্ট্রের মধ্যে থাকবে বাংলাদেশ বিশেষঙ্গরা মতামত দিয়েছেন।তাহলে কিভাবে সম্বব একটি মৃত চিন্তা কল্পনা রাষ্ট্রের মানুষদের দ্বারা?হয়ত চমকপ্রদ লেখার মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়া যায় সেটা ব্যক্তি স্বার্থ কিন্তু বৃহৎ স্বার্থ হলো নিজে না পারলেও দেশের মানুষকে স্বপ্ন দেখাবো,চরম মুহুর্তে তাদের পাশে থাকবো কখনোই হতাশ হবো না।আমি স্যারের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে এরকম নিরাশা মূলক নিবন্ধ থেকে সরে আসার আহবান জানাচ্ছি।

    Reply
  27. johans

    যারা নিজে সাধিন চিন্তাচেতনা অপরের কাছ এ বিকিয়ে দিয়ে আসে তাদের সবার সাধিন্ চিন্তাচেতনার সখ্মতা নিয়ে মন্তব্ করার অধিকার কে দেয়াচে ????? জাফর সার কে সেলুট।।।।।।।।।।।।

    Reply
  28. ফেরদৌস আরা পারভীন বানু

    আমি একজন মুক্তিযাদ্ধা , যুদ্ধের সময় ভারতে থাকাকালীন প্রায়ই মনে হচ আর হয়ত আমাদের স্বাধীন হওয়া হবেনা , কিন্ত আল্লাহর রহমতে আমরা সন্মানের সাথে ভারত থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে ঢুকেছি । যেহেতু আমার স্বামী সেনাবাহিনীতে , দেশ স্বাধীনের পর একটা অস্থির সময় কাটিয়েছি ( কিছুদিন পর পর সামরিক কু ), সেটাথেকেও আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে পরিত্রাণ দিয়েছেন । শিক্ষানগনের সেশন জটের ভিতরেও আমার প্রথম সন্তান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি শেষ করে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এস এবং বাথ ইউনিভার্সিটি ইউ কে থেকে পি এইচ ডি সমাপ্ত করেছে । আমার ছোট সন্তান মিসিসিপি থেকে এম বি এ করে এসেছে । দুজনই চাইলে দেশের বাইরে থেকে যেতে পারতো ; কিন্তু আবারও আমার বাংলাদেশ আমার সন্তানদেরকে জায়গা করে দিয়েছে ; একজন বিশ্ব ব্যাংক অন্যজন ব্র্যাক ব্যাংক এ সন্মানের সাথে তাদের যোগ্যতা প্রমান করার সাথে সাথে দেশ সেবার চেষ্টা করছে ! গ্রামের বাড়ীতে অনায়াসে যাতায়াত করা যায় বলে কিছু দাতব্য কাজ করার সুযোগ আল্লাহতায়ালা করে দিয়েছেন ! অনেক হতাশার ভিতরেও আমরা সবাই যদি একসাথে চেষ্টা করি , নিশ্চিত আমরা আমাদের আওলাদ বুনিয়াদের জন্য একটা আশার এবং অনুকরনযোগ্য অতীত রেখে যেতে পারবো ইনশাআল্লাহ !

    Reply
  29. মোশাররফ হোসেন

    ধন্যবাদ স্যার, এরকম একটি চমৎকার লেখা উপহার দেয়ার জন্য।যে তার নিেজর দেশ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে পারেনা তার দেশে থাকার কোনো অধীকার নেই।আর যে নিজেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে পারেনা তার আত্মহত্যা করা উচিত।কারন মানুষ আত্মহত্যা তখনই করে যখন তার মধ্যে আর কোনো স্বপ্ন থাকে না।

    Reply
  30. onim

    যে দেশে এমন সরকার আর রাজ‌নৈতিক ব্যবস্থা বিদ্যমান তার কপালে খারাপই আছে। মনে রাখতে হবে ” গণতন্ত্র মানেই সেচ্চাচারিতা নয়”মনে রাখতে হবে ষোল কোটি মানুষ এদেশের সম্পদ, এ দেশের নাগরিক। কেবল আওয়ামীলীগার আর মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া কেউ এ দেশের নাগরিক নয় মনে করা হলে বুদ্ধিবৃত্তির চর্চাও হবেনা ঠেকসই উন্নয়ন ও আসবেনা।

    Reply
    • কুটুম

      “কেবল আওয়ামীলীগার আর মুক্তিযোদ্ধা ছাড়া কেউ এ দেশের নাগরিক নয় মনে করা হলে বুদ্ধিবৃত্তির চর্চাও হবেনা ঠেকসই উন্নয়ন ও আসবেনা।”

      চমৎকার বলেছেন। রাজাকারদের সাথে নিয়ে কুবুদ্ধিবৃত্তির চর্চা করতে হবে- পাকিস্তানের সাথে রিকনসিলিয়েশনের মাধ্যমে ডেগসই উন্নয়ন আনতে হবে।

      Reply
  31. M R Uddin

    আমার মনে হয় স্বপ্ন দেখে বলেই মানুষ এগিয়ে যায়. দয়াকরে আমাদের স্বপ্ন দেখা খেকে বিরত রাখার ব্যর্থ চেষ্টা করবেন না।

    Reply
  32. Hamid

    Abdul Maksud is more rightful than Jafor Ikbal. He is able to give more example in favour of his logic. He may write against what Jafor Ikbal has written. The first identity of a man is that he is a man.Than a man is a male or female. The third identity is his designation or others. We should bear in mind that thinking varies from man to man.

    Reply
  33. md.rejaul islam

    apni sothik bolacan sir ,unar moto akjon baktir amon montobo amder moto notun projonmo k hotas kora asa hoto koree ,kintu amra asa hoto hobo na jotokhon porjunto apnar moto baktira amader poth dakhabe.

    Reply
  34. নাজমুল রানা

    স্যার ভালোই লিখেছেন। প্রত্যেক যুক্তির বিপরীত যুক্তি থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে খেয়াল রাখতে হবে, অন্যকে খারিজ করতে গিয়ে যেনো কোন পক্ষপাত না হয়ে যায়।

    Reply
    • কুটুম

      হ্যাঁ, বরাহ আপনি ঠিকই বলেছেন। পক্ষপাত যেন না হয়ে যায়। দেশের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতীর বিরুদ্ধাচরণ করে এমন কোন বক্তব্যের প্রতিবাদ করতে হলেও স্যারকে পক্ষপাত যেন না হয়ে যায় অর্থাৎ প্রতিবাদে বলা কথাগুলোর বেশিরভাগ যেন বাংলাদেশের পক্ষের না হয়, তা খেয়াল রাখতে হবে। বাংলাদেশের পক্ষে যতগুলো কথা বলবেন, ঠিক ততগুলো কথা স্যার বাংলাদেশের বিপক্ষে, বাঙালি জাতির বিপক্ষেও বলতে হবে।

      Reply
      • বিজন বিহারি শর্মা

        “হ্যাঁ, বরাহ আপনি ঠিকই বলেছেন।” – এই বরাহ শব্দটার মানে বুঝলাম না ।

      • Aguntuk

        বরাহ মানে ‘শুয়র’। যে আসল বরাহটা আপনাকে বরাহ বলেছে সে দেখেন গিয়ে দেশে আশার-আলো দেখতে না পেয়ে ‘উন্নত’ জীবনের লোভে ‘প্রথম-বিশ্বের’ কোন দেশে বসে আছে…

    • আহমেদ ফয়েজ

      স্যার আপনাকে স্যালুট জানাই। স্ব-ঘোষিত বুদ্ধিজীবীদের সংখ্যা এদেশে কম নয়। তারা বইয়ে পড়া বিদ্যাকেই কাজে লাগিয়ে কলমবাজি-গলাবাজি করে যাচ্ছেন দিব্যি। তাদের মুখোশ খুলে গেছে লেখাটির মাধ্যমে। আর ওই বাংলাদেশ বংশদ্ভুত লেখককে একবার আমন্ত্রণ জানাই বাংলাদেশে দেখে যাক কত সৃজনশীল আমাদের কৃষক। কত সৃজন শীল আমাদের শিশুরা। তাতেই তার হয়ে যাবে।

      Reply
    • হুমায়ূন কবীর ইমন

      সৈ আ মকসুদের লেখাটা পড়েছি। অনেক গোানো লেখা। পাশাপাশি এই লেখাটাকে মনে হয়ছে অনেক দুরবল, আবেগী। মকসুদ ও জিয়া সম্ভবনার আগুনটি উশকে দিতে চেয়েছেন, জাফর ইকবালের প্রশস্তিগাঁথা সে আগুনে পানি ঢেলে দেয়। এখন ঘুরে দাঁড়ানোর পালা, বুঝে বা নাবুঝে অরাজকতার পক্ষে দাঁড়াবেন না।

      Reply
      • kaya

        হুমায়ূন কবীর ইমন, আপনি এক্কেবারে ষাঁড়ের চোখে হিট মেরেছেন, অনেক লাইক দিলাম।

      • বিজন বিহারি শর্মা

        আমারও মনে হয়, জনাব জাফর ইকবালের এই লেখাটি কারো কারো ক্ষমতা দখল করে রাখায় উতসাহ যোগাবে । দেশের আসলে কি দরকার তা বুঝে লেখা লেখি করা দরকার । কাউকে খুশী করার জন্য বা নিজের আখের গুছইবার জন্য নয় ।

      • Prodip

        হুমায়ূন কবীর ইমন@ নেতিবাচক বক্তব্য আম পাব্লিক বেশী খায়, সেই পাব্লিক কারা ? তাই যারা সব সময় নেতিবাচক কথা বলে তাঁদের কদর বেশী, কাদের কাছে সেই কদর ? মনে রাখবেন প্রত্যেকার একটি রাজনৈতিক সীমা বদ্ধতা আছে । মকসুদ সাহেব কি তাঁর বাইরে ? তবে দুঃখ, তিনি যাদের অপছন্দ করেন, তারাও এ সুযোগে তাঁকে কোলে নিচ্ছেন। এঁদের এটাই ট্র্যাজেডি । ড জাফর ইকবালের একটি লেখা এক সাথে অনেক পত্রিকা ছাপায় ,আনলাইক মি মকসুদ ।

  35. Tawfiq Rahman

    Sir, I think we should make a national black board of our invention and innovations so that these people can see and realize what they fail to realize and/see by them selves. The industry I am from, I a can provide with facts that can strike them on the face hard, big time. We help make world class state of the art technologies that is being used by the whole world.

    Sir you don’t worry, we will stand high one day soon, stand so high that a Bangladeshi flag will be known by the world without noticing twice.

    My best regards Iqbal sir.

    Reply
  36. বাংগাল

    লেখক , আপনার লেখায় যুক্তি খন্ডন করার যোগ্যতা আমার নেই . তবে এটুকু বোঝার মতো বয়স হয়েছে যে , যারা হতাশার সাগরে তলিয়ে যাচ্ছে ভেবে সর্বাঙ্গে কাফনের কাপড় জড়িয়ে নির্দ্বিধায় হেটে চলে বেড়ায় তাদেরকে আমি বুদ্ধিজীবী বলতে পারিনা . কাফনের কাপড় সর্বাঙ্গে পেঁচিয়ে দশ জনের থেকে নিজেকে আলাদা করে দেখানো যায় কিন্তু ওরা বন্ধা বৃক্ষের চেয়ে বেশি কিছু জগতকে দেশকে দিতে পারে বলে আমার মনে হয়না .

    Sent from http://bit.ly/hrFXfA

    Reply
  37. Joy

    স্যার খুব উত্তেজিত মনে হয় !! আপনার নতুন আইডিয়া গুলো ভালো আবার গণজাগরণের মতো সরকার দলিও আন্দোলনও ভালো কিন্ত জনাব মকসুদ স্যার এর বিষয়টা বুঝার ক্ষমতাটা মনে হয় একটু দলকানা ঘরানার !!! কই আর জাতীয় কোন সমস্যায় আপনার আন্দোলন ত দেখলাম না !! আমি আপনাকে যতটা খুব উদ্দ্যমি দেখেছি প্রথমআলো গণিত অলিম্পিয়াডে তা খুব গুটি কয়েকটা পাওয়া যায়। কিন্তু স্যার শ্রধ্যা নিয়ে বলছি দেশের এত দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, চাকরী বাজারে হাহাকারি ১৬ কোটি মানুষের ও আমাদের মতো প্রবাসী দের উন্নয়নে সামাজিক আন্দোলনের ডাক দিতে পারবেন ??? পারবেন না কারণ সরকার বিরোধী কোন কাজে আপনার দেখা মিলবে না …. উপদেশ দেয়া খুব সোজা !!!আপনাদের কোন সমস্যা হয় না গনপ্রজাতন্ত্রের যে কোন যায়গায়(ট্রেনের, বাস , লঞ্চ, পাবলিক ব্যাংক, স্কুল, কলেজ, বিশ্ব বিদ্দালয়ঃ জাতীয়, পাসপোর্ট অফিস, নানা কাজে জনগণ কত বাড়তি টাকা গুনতে হয় আপনার জানা আসে কী ?)এত কষ্ট করে বিদেশ থেকে টাকা পাঠাই, সেই টাকায় ব্যাবসা বাণিজ্য করবে তাও পার্টি চাঁদা দিতেই পুজি শেষ…. কই এগুলা নিয়া আপনাদের কোন লেখা আজও আমাদের চোখে পড়ে নাই ???

    Reply
  38. রুবেল

    স্যার আপনার লেখাটা অসাধারন হয়েছে। কিন্তু স্যার শুধু কয়েকটা সাধারন কাজ দিয়ে এ গতিশীল পৃথিবীর সাথে তাল মেলানো যবে? নিয়মিত প্রশ্ন ফাস হচ্ছে। আপনিও আন্দোলন করলেন। কোন লাভ হয়েছে? বরং যারা বলবে প্রশ্ন ফাস হয়েছে তাদের জন্য শাস্তির ব্যবস্হা করে আইন পাশ হলো। আজ কোমলমতি শিশুরা পরীক্ষার আগের রাতে পড়া বাদ দিয়ে প্রশ্নের জন্য বসে থাকে এটা কি ভবিষতের জন্য আশংকার না? প্রশ্ন কোথা থেকে ফাস হয় তা না খুজে মন্ত্রী বিভিন্ন পদ্ধতির কথা বলে (ফেসবুক বন্ধ করবে, ধারাবাহিক পরীক্ষা নেবে ইত্যাদি)। যে দেশের মন্ত্রনালয় জানে না কোথা থেকে প্রশ্ন ফাস হয় বা জানলে ব্যবস্থা নিতে পারে না সে দেশের ভবিষত আশা কতটুকু?
    দেশের রাজনৈতিক ব্যবহার একটু চিন্তা করা দরকার বলে আমি মনে করি। আজ ‘মত’ প্রকাশের স্বধীনতা কতটুকু। কোন লোক বা ব্যক্তি সহিংসতায় মারা গেলে একটি শব্দ ব্যয় করে, বেচারা (!)। উদাহরণ আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ নাভম্বরের ঘটনা।
    দুজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রীর কথা ধরে নিলেন। আমার প্রশ্ন স্যার তার একজন কেন বঙ্গবন্ধুর ছেলেই হতে হবে, অন্য জন কেন জিয়াউর রহমানের আত্মীয়ই হতে হবে। এটা কি রাজতন্ত্র বা একনায়কতন্ত্র প্রকাশ করে না? হ্যা বাংলাদেশে একনায়কতন্ত্র বা পরিবারতন্ত্রই চলে। যে কেই ইচ্ছে করলেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে না।
    অমর্ত্য সেন কি বললেন সেটা আমাদের মাপ কাঠি কি? আজ আমরা জে সমাজে বাস করি তা কি বাসের যোগ্য। এমন কোন কাজ আছে যেটায় স্বজনপ্রীতি নেই, ঘুষ লাগে না, ঠিক ভাবে পাওয়া যায়, অন্যায় হয় না?
    স্যার শ্রদ্ধার সাথে বলতে চাই দেশে অবস্থা খুবই ভালো ধরে নিলাম। কিন্তু শাবিপ্রবি ২০ নভেম্বর থেকে বন্ধ কেন?

    Reply
    • কুটুম

      জাফর স্যার তো “বাংলাদেশ হচ্ছে মৃত চিন্তা-ভাবনার দেশ”- জাতির বিরুদ্ধে, দেশের বিরুদ্ধে বলা এই ভয়ঙ্কর এই কথাটারই শুধু প্রতিবাদ করেছেন। এ কথায় যেন হতাশা না ছড়ায় সেজন্য তিনি আশা জাগানিয়া দৃষ্টিভঙ্গিতে লিখেছেন। প্রতিবাদ করতে গিয়ে উদাহরণস্বরূপ আমাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের উল্লেখ করেছেন। প্রসঙ্গতঃ প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি নিয়ে তিনি এবং তাঁর মেধাবী ছাত্ররা যে কাজ করছেন, এটাও উল্লেখ করেছেন।
      মজার ব্যাপার হচ্ছে, জাফর স্যারের কোন লিখা দেখলেই এক শ্রেণীর পাঠকবলদ বাক স্বাধীনতা থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী হওয়া। প্রধানমন্ত্রী হওয়া থেকে শুরু করে হ্যাপি কেন রুবেলের সাথে প্রেম করলো, এর জবাবদিহিতাও স্যারের কাছে চেয়ে বসে।

      Reply
      • Prodip

        আপনার সাথে একমত । অনলাইনে অনেক কেই লিখতে দেখেছি, তারেক রহমান তো যুক্তি দিয়ে বলেছেন, তাঁকে যুক্তি দিয়ে ঠেকান ? প্রজ্ঞাবানরা এসব লিখে, নিশ্চয় ই সেরকম মানুষ গুলো জাফর ইকবালের মতো মানুষকে সে ভাবে অনুগ্রহ করেন । কারো জানার কি বাকি আছে যে, জাফর ইকবাল কাদের চোখের বালি ?? কিন্তু তারেকের মতো যুক্তি দিয়ে তাদেরকে বলতে হবে ।

    • নাজমুল আলম শিশির

      সাধারন কয়েকটা কাজই একদিন অনেক অসাধারন হবে..!! তাই বলে কি আমরা কাজ বন্ধ করে দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকবো..!!!
      আজ প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে ,,
      স্যার তার প্রতিবাদ করছে..!!
      তাই বলে কি প্রশ্ন ফাঁস হতেই থাকবে..!! আমরা কি স্বপ্ন দেখতে পারবো না ..!
      একদিন আমরা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলবো..!!
      প্রশ্ন ফাঁস হয়েছে ,,সেই জন্য লেখাপড়া বাদ দিয়ে বসে থাকবো,,!!
      মন্ত্রনালয় জানেনা কোথা থেকে প্রশ্ন ফাঁস হয়.!
      অতি উত্তম কথা বলেছেন,,!! কি প্রশ্ন ফাস রোধ করা যায় সেই চিন্তাও কি কেউ আমরা করবো না,,!! স্যার সেই কথাই বলেছেন,,!!
      আপনি শাবিপ্ররি ২০ নভেম্বরের কথা বলেছেন..!! আমরা চাই এর বিচার হোক!! প্রতটি হত্যাকান্ডের বিচার হোক!! এটাই আমাদের দাবি আর স্বপ্ন দেখা..!!
      এই দাবি বা মতপ্রকাশের জন্য এই দেশ স্বাধীন হয়েছে!! স্যার এই কথাটাই বলেছেন,,!!!

      আপনার প্রতি অনেক শ্রদ্ধা রেখেই বলছি..!! দুজন প্রধান মন্ত্রীর বিষয়টা স্যার উদাহরণ হিসেবে দিয়েছেন..!! কোন পরিবারতন্ত্র এর কথা বলেন নাই। নারীর প্রতি বৈষ্যমের কথা বলতে গিয়ে স্যার এই উদাহরন দিয়েছেন..!! আপনি হয়তো বিষয়টা বুঝতে পারে নাই বা ভালো করে পড়েন নাই..!!!

      দেশের অবস্থা খুব ভালো ধরে নিবেন কেন?? আপনি লেখাটা দয়া করে আবার পড়ুন। স্যার লিখেছেন,
      “আমি একবারও বলিনি এই দেশের কোনো সমস্যা নেই, এই দেশে অসংখ্য সমস্যা আছে। অসংখ্য অবিচার, অনাচার, দুঃখ, কষ্ট, যন্ত্রণা আছে। দেশের অনেক কিছু নিয়ে আমাদের তীব্র ক্ষোভ আছে। অনেক জগদ্দল পাথর আমাদের বুকের উপর চেপে বসে আছে, আমরা ঠেলে সরাতে পারি না। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, আমাদের দেশ চিন্তা-চেতনায় মৃত একটি দেশ, আমরা একটি নিস্ফলা বন্ধ্যা দেশ!”

      শাবিপ্রবি বন্ধ কেন? এই প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে,,আপনার মত হতাশ ব্যাক্তিদের জন্য!! যারা মনে করেন, যোগ্যতা নয় , স্বজন প্রীতি আর ঘুষ দিয়ে উপরে উঠবেন..!! এই দেশে এখনও অনেক জায়গা আছে যেখানে যোগ্যতাই এক মাত্র মাপকাঠি..!!
      শেষে বলতে চাই . স্বপ্ন দেখতে শিখুন। আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করতে শুরু করুন.!! ধন্যবাদ!!!

      Reply
  39. মাসুদ রানা

    শত সমস্যার মাঝেও আমাদের তরুণরা দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে চলেছ। যারা বাইরে থেকে আয়েশি জীবন যাপন করেন তাদের এই সোনার বাংলা সম্পর্কে ভবিষ্যৎবাণী করার কোনো অধিকার নেই।আমাদের সমস্যা অনেক তবু এরই মাঝে অামরা লড়ে যাই সুন্দর অাগামী গড়ার জন্য। আমাদের তরুণেরা,কৃষকেরা,গার্মেন্টস কর্মীরা,বীদেশে মানবেতর জীবন কাটানো শ্রমিকেরা আমাদের সত্যিকারের যোদ্ধা। স্যার, আপনাকে স্যালুট এরকম লেখার প্রতিবাদের জন্য।

    Reply
  40. Supayan

    What a great lesson to our so call one eyed intellectual who thinks always negative and enjoying their life in our native land, they never consider this country independent by sacrificing million cultivators and workers life to build their own way.

    Reply
  41. মৌন

    অসাধারণ, স্যার!

    আসলে সবার উচিত ভালো কিছু চিন্তা করা। কারও সঙ্গে কথা বললে বুঝা যায় দেশটা বুঝি তলিয়ে গেল। বেশিরভাগ মানুষ দেশ সম্পর্কে ভালো কথা বলে না, তার আগের জীবন আর বর্তমান জীবনের পার্থক্য।

    আর ‘নারী স্বাধীনতা’ শব্দটি বদলানো দরকার। আমার কাছে তা মনে হয়। কারণ কে কাকে স্বাধীনতা দিবে এই স্বাধীন পৃথিবীতে? সবাই তো মানুষ। নারী-পুরুষ-হিজড়া। জয় হোক মানবতার, জয় হোক ভালো চিন্তা-ভাবনার।

    Reply
  42. অধীর

    অসম্ভব দৃঢ়তার সাথে যে প্রত্যুত্তর আপনি দিয়েছেন স্যার, তা শুধু যথার্থই নয়ঃ যথোপযুক্ত।হীনমন্যতাই কোন ব্যক্তি বা জাতির জীবন্মৃতের প্রকৃষ্ট উদাহরণ যা উক্ত ব্যক্তিদ্বয়ের জন্য একান্তই প্রযোজ্য, বাংলাদেশ বা জাতির জন্য কখনো নয়।

    Reply
  43. নাজমুল আলম শিশির

    স্যার আপনাকে ধন্যবাদ অতি চমৎকার লেখার জন্য..!! স্যার বাংলাদেশ মারা যায়নি!! আর আমরা স্বপ্ন দেখতেও ভুলে যাইনি!! বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় খুব কাছ থেকে আপনাকে দেখার সুযোগ হয়েছে!! আমি জানি , আপনি নিজে সব সময় স্বপ্ন দেখাতে জানেন আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য কাজ করার অনুপ্রেরণা দেন!!!
    আমরা স্বপ্ন দেখেই যাব..!!কে কি বললো তাতে কি বাংলাদেশ থেমে যাবে!! ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে দেশ স্বাধীন হতে পারে তার স্বপ্ন মরবে না স্যার!! এই দেশ হাজারো/লাখো/কোটি সমস্যার পরও একদিন সবার উপরে থাকবে। সেই স্বপ্ন যারা দেখতে জানে না..তারাই বরং মারা গেছে!! বলতে পারেন জীবিত থেকেও মৃত!!! জিয়া হায়দার বা সৈয়দ আবুল মকসুদ সাহেবরা হয়তো স্বপ্ন দেখতে ভুলে গেছে বা তাদের স্বপ্ন মারা গেছে..!!তারা মারা গেছে বলেই কি আমাদের স্বপ্ন দেখা বন্ধ হবে!!!
    হবে না স্যার..!!!
    আমরা শুধু স্বপ্নই দেখতে জানি না,,সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্যও কাজ করতে জানি স্যার!! এক দিন আমরাদের এই স্বপ্নই আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাবে শীর্ষে ..!!স্যার আপনাকে আবারো ধন্যবাদ..!!!

    Reply
  44. Iqbal

    ধন্যবাদ স্যার এমন সময়োপযোগী লেখা (প্রতিবাদ) লিখার জন্য। তথাকথিত বুদ্ধিজীবিরা বাজে প্রচারণা করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশকে এত ছোট করতে চায় কেন তা বোধগম্য নয়। আমার মনে হয় এ ধরনের লোকদেরকে বুদ্ধিজীবি না বলে জ্ঞানপাপী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে।

    Reply
  45. লিয়াকত আলী

    অমাদের দেশে কিছু প্রাজ্ঞজন আছেন যাদের কথা মানুষ বেদ-বাক্যের মত বিবেচনা করেন। কিস্তু তারা মাঝেমধ্যে দেশে নিয়ে দেশের রাজনীতি নিয়ে, দেশের মানুষ নিয়ে এমন সব কথা বলেন যা আমাদের হতাশ করে কিন্তু অবদমিত করতে পারে না। আমরা নানা সমস্যার ভিতর দিয়েও এগিয়ে যাচ্ছি, এগিয়ে যাব। আমি জাফর ইকবাল সাহেবের কথাগুলোর সাথে একমত।

    Reply
  46. Rayhan ara Zaman

    অসাধারণ লিখেছেন। লেখাটি অনুপ্রাণিত করে নতুন চোখে দেশ দেখতে, আলোড়িত করে দেশপ্রেমকে। এরকম প্রেরণা পেলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া অনেক সহজ হবে, তাই নানাভাবে আমাদের উৎসাহিত করবেন আপনার কাছে এটিই প্রত্যাশা।

    Reply
  47. Jonaki

    আমি আমার ৩ বছরের ছেলেকে প্রথম যে গানটা শিখিয়েছিলাম সেটা ছিল বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত। কিছু মানুষ নিজের ‘পুঙ্গ’ চিন্তাভাবনার প্রমাণ দেয় এই সব কথাবার্তায়।

    সরকারের সমালোচনা আর দেশের সমালোচনা কোনোদিনও এক হতে পারে না…

    Reply
  48. গোলাম হককানী

    একটি কাক যখন কোন জিনিষ লুকিয়ে রাখে সে তখন চোখ বন্ধ রাখে কাকের ধারনা সে দেখছে না এতএব তবদ দুনিয়ার কেউ দেখছে না। কিন্তু বাস্তবতা কি তাই? অবশ্যই না। জনাব জিয়া হায়দার রহমান ও শ্রদ্ধেয় আবুল মকসুদ মহোদয়ের ভাবনা তদরুপ।

    Reply
  49. Tahseen Ali

    Sir,
    Your comments and encouragement influences us each and everyday.
    Hopefully people will realize that criticizing from outside is nothing but creating more problems.
    People chose to leave country, but they are still taking benefit of our beloved Bangladesh. But what we did for Bangladesh that should be the question, not criticizing over and over again.

    Reply
  50. সৈয়দ আলি

    ধন্যবাদ। আপনার লেখা এখনো পড়িনি, পড়বো। তারপরেও এখনি বুকে চাপড় দিয়ে বলছি বাংলাদেশকে মারে সাধ্য কার?

    Reply
  51. শামীম আহ্সান

    অনেক ভালো লাগলো স্যার, পৃথিবীর বুকে ছোট্ট এই দেশটি অনেকের কাছেই মডেল

    Reply
    • Sumit

      আমি বাংলাদেশের একটা প্রতিষ্ঠান নিয়ে খুব আশাবাদী, সেটা হল কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। আমি অবাক হয়ে যাই নিজেদের টাকায় কীভাবে একটা প্রতিষ্ঠান এত বড় কাজ করে।

      অভিনন্দন বাংলাদেশ, অভিনন্দন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। এদের দেখলেই আশায় বুকটা ফুলে যায়।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—