এত দুঃখ নিয়ে আমি এর আগে কখনও কাগজ কলম নিয়ে বসিনি। গত বছর যখন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে সবাই মিলে চিৎকার চেঁচামেচি করছিলাম, তখন একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলে গেছে আসলে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি, কিছু কিছু ‘সাজেশন’ প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ঘটনাক্রমে মিলে গেছে মাত্র। যারা এটা বলেছেন, তারা নিজেরাও জানেন যে, দেশের মানুষ এত বড় নির্বোধ নয় যে, তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই কথাগুলো বিশ্বাস করবে। আমরা ভেবেছিলাম যথেষ্ট চেঁচামেচি করার কারণে এবারে হয়তো সবাই একটু বাড়তি সতর্ক থাকবে, প্রশ্নপত্র হয়তো এবারে ফাঁস হবে না।

আবারও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। আমার কাছে আগের রাতে পাঠানো হয়েছে, পরের দিন পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছি। কেউ যদি বিশ্বাস না করেন নিজের চোখে দেখতে পারেন (নিচের ছবি)। আমি যখন এই লেখাটি লিখছি তখন আবার আমার কাছে প্রশ্নপত্রসহ ই-মেইল এসেছে, ইচ্ছে করলে কালকে মিলিয়ে দেখতে পারব, কিন্তু আর রুচি হচ্ছে না।

AAAAA

যারা আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা চালান, আমি অনুমান করতে পারি, এই দেশের লেখাপড়া নিয়ে তাদের নিশ্চয়ই বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা নেই। যদি থাকত তাহলে নিশ্চয়ই এ রকম একটা কিছু ঘটতে দিতেন না। আমাদের শিক্ষানীতিতে পঞ্চম শ্রেণির শিশুদের জন্যে কোনো পাবলিক পরীক্ষার কথা বলা নেই, আমলারা নিজেদের উর্বর মস্তিষ্ক থেকে এটি বের করে জোর করে এটা চালিয়ে যাচ্ছেন। বাবা-মায়েরা আগে আরও বড় হওয়ার পর ছেলেমেয়েদের কোচিং করতে পাঠাতেন, এখন এই শিশুদেরকেই গোল্ডেন ফাইভ পাওয়ার জন্যে কোচিং করতে পাঠাচ্ছেন।

তাতেই শেষ হয়ে যায়নি– এখন তাদের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করা হচ্ছে, ছোট ছোট শিশুদের অন্যায় করতে শেখানো হচ্ছে। সারা পৃথিবীর কোথাও এই নজির নেই, যেখানে একটি রাষ্ট্র তার দেশের শিশুদের অন্যায় করতে শেখায়। একটা দেশের মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার কি এর চাইতে পরিপূর্ণ কোনো পদ্ধতি আছে?

নেই। সারা পৃথিবীতে কখনও ছিল না, ভবিষ্যতেও কখনও থাকবে না। শুধুমাত্র আমাদের দেশেই কিছু আমলা আর কিছু গুরুত্বপূর্ণ মানুষেরা একটা শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করার একটা প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। যে জাতি শৈশবে অন্যায় করতে শিখে বড় হয়, সেই জাতি দিয়ে আমরা কী করব?

AAA

এই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার হর্তাকর্তা বিধাতারা, আপনাদের কাছে করজোড়ে প্রার্থনা করি, আমাদের দেশের শিশুদের আপনারা মুক্তি দিন। এই শিশুগুলো যদি কোনো পরীক্ষা না দিয়ে শুধুমাত্র বইগুলো নাড়াচাড়া করে সময় কাটিয়ে দিত তাহলে অন্তত তাদের একটা সুন্দর শৈশব থাকত, তারা অন্তত অন্যায় করা শিখত না।

আমাদের শিশুদের লেখাপড়ার দরকার নেই, দোহাই আপনাদের, তাদের ক্রিমিনাল করে বড় করবেন না!

২৫.১১.১৪

মুহম্মদ জাফর ইকবাললেখক ও অধ্যাপক, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

৮৪ Responses -- “দোহাই, আমাদের শিশুদের ক্রিমিনাল বানাবেন না”

  1. Rafatur Rahman

    Sir, Assalamu Alaikum. I am working in an Int’l Org. Recently wrote about the quality of the book of Junior school level of our text book board; published on a online newspaper.
    Thank you so much for your protest. Not only that, I am really worried about the quality of creative method which made the children more reluctant as they can write the answers by their own. They are not attentive to their lessons. As a mother of 2 children; Im very much worried about the future of my lovests. This year the performance of the students who took part in the admission tests in different universities,I understood from my heart that it is not at all a matter to get GPA-5 or more but ultimately they are getting so far from the real development of their brilliance. I think, education system should be changed or get back to the previous system immediately, Sir this is the time to analyze it and you could take the role. This is my earnest request.

    Reply
  2. Muhammad Subel

    একটা দেশের মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার কি এর চাইতে পরিপূর্ণ কোনো পদ্ধতি আছে? আমরা সবাই যদি কথাটা মানি, তাহলেই হেো পুরোপুরি পাল্টে যেত সব।

    আর প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠিকই হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অসাবধানতা।

    Reply
  3. mosparvez

    পরীক্ষা জিনিসটাই তুলে দেওয়া হোক। নব্বই শতাংশ ক্লাসে উপস্থিত থাকলেই নতুন ক্লাসে উঠে যাবে, এমন সিস্টেম চালু করতে হবে।

    Reply
  4. Miazi

    একটা দেশের মেরুদণ্ড পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার কি এর চাইতে পরিপূর্ণ কোনো পদ্ধতি আছে?

    নেই। সারা পৃথিবীতে কখনও ছিল না, ভবিষ্যতেও কখনও থাকবে না। শুধুমাত্র আমাদের দেশেই কিছু আমলা আর কিছু গুরুত্বপূর্ণ মানুষেরা একটা শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করার একটা প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। যে জাতি শৈশবে অন্যায় করতে শিখে বড় হয়, সেই জাতি দিয়ে আমরা কী করব?

    জাফর ইকবাল, তুমি লিখে যাও। তোমার লেখা, আমাদের সচেতনতা, হয়তো-বা কোনো একদিন, কোনো কালে এদেশে হবে সুফলা। তুমি যখন লিখ মনে হয় আপন, আমাদের কথা, আমাদের দুঃখ, আমাদের আশঙ্কাগুলোই কলমে তোমার, তুমি দুঃখ নিয়ে লিখতে থাক, মানুষ সুখের স্বপ্ন নিয়ে ঘুমাবে।

    তুমি স্যার, কিন্তু কবি-সাহিত্যিকরা স্যারের অবস্থানে থাকে না তারা থাকে হৃদয়ে– যেমনি মানুষের মুক্তির কথা লিখে লিখে হয়েছেন কবি নজরুল, যাকে আমরা বলি তুমি।

    স্যার, তাই রাগ কর না, তুমি বলায়।

    Reply
  5. Geologist Md. Sahiduzzaman

    ‘ছোটদের এসএসসি’ নামে পরিচিত পিএসসি পরীক্ষায়ও প্রশ্নফাঁসের মতো জঘন্য ঘটনার শিকার এই বাংলাদেশ! শুধু পিএসসি নয়, প্রশ্নপত্র ফাঁসের কথা শোনা যায় সব পরীক্ষার ক্ষেত্রে। হোক সে ভর্তিপরীক্ষা বা চাকরির পরীক্ষা।

    এ দেশে এটা যেন একটা রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরীক্ষার আগের রাতে অভিভাবকগণ তাদের কোমলমতি শিশুসন্তান, পুত্রকন্যাদের হাতে প্রশ্নপত্র তুলে দিতে নামেন প্রশ্ন সংগ্রহের যুদ্ধে। এখন নাকি আর যুদ্ধ করে প্রশ্ন আনতে হয় না। হাতের কাছেই ‘ফেসবুক’ নামক সোশ্যাল মিডিয়া নাকি খাঁটি প্রশ্ন সরবরাহ করছে!

    এভাবে প্রশ্নপত্র নিয়ে পরীক্ষা দিয়ে কতটা লাভবান হচ্ছে এই দেশ আর কতটা লাভবান হচ্ছেন অভিভাবকগণ? নষ্ট হচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি। সর্বোপরি, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের শিক্ষার্থীরা।

    পিএসসির শিক্ষার্থীদের ক্ষতির কথা চিন্তা করে ড. জাফর ইকবাল স্যার বলেছেন:

    ‘‘এই শিশুগুলো যদি কোনো পরীক্ষা না দিয়ে শুধুমাত্র বইগুলো নাড়াচাড়া করে সময় কাটিয়ে দিত তাহলে অন্তত তাদের একটা সুন্দর শৈশব থাকত, তারা অন্তত অন্যায় করা শিখত না। আমাদের শিশুদের লেখাপড়ার দরকার নেই, দোহাই আপনাদের, তাদের ক্রিমিনাল করে বড় করবেন না!”

    আপনি আমি সকলেই আমাদের নিজেদের অজান্তেই আমাদের শিশুদের গড়ে তুলছি ক্রিমিনাল করে।

    স্যারের মতো চিন্তা-ভাবনা হয়তো আমাদের স্কুলের ডায়নামা স্যারের (আসল নাম আবদুল হক, কিন্তু কখন, কোথায়, কীভাবে, কেন তাঁর নাম ‘ডায়নামা স্যার’ হয়েছিল আমাদের কেউ জানে না, এমনকি আমার বাবাও জানতেন না, তিনিও এই স্যারের ছাত্র ছিলেন) ছিল। তিনি ক্লাসে এসে পাঁচটি করে শব্দার্থ, বাক্য রচনা বা বিপরীত শব্দ লিখতে দিতেন। আমরা খাতায় লিখে উত্তর সাজিয়ে তাঁর কাছে জমা দিতাম। সবগুলো সঠিক হলে তবেই তিনি ‘হ’ নামক এই প্রতীকটি খাতায় এঁকে দিতেন। আর সব উত্তর সঠিক না হলে খাতা ফিরিয়ে দিতেন।

    যতক্ষণ না সকল ছাত্রের খাতায় ‘হ’ নামক প্রতীকটি আঁকা হত ততক্ষণ চলত স্যারকে খাতা দেখানো এবং ফিরানো। আমরা এর ওর কাতা দেখে লিখতাম, এদিক ওদিক ছোটাছুটি করতাম, তিনি কিছু বলতেন না, তবে বই দেখতে দিতেন না। একসময় সবার খাতায় ‘হ’ প্রতীক বসে যেত। তখন আমাদের ক্লাস ক্যাপ্টেন চেক করত কার খাতায় ‘হ’ প্রতীক নেই। যার খাতায় থাকত না তার শাস্তি হত। ততক্ষণে ক্লাসের ঘণ্টা পড়ে যেত, আর ক্লাসের সবচেয়ে দুষ্টু ও অমনোযোগী ছেলেটিও আবিষ্কার করত, সে পাঁচটি শব্দার্থ, বাক্য রচনা বা বিপরীত শব্দ শিখে ফেলেছে! এভাবে শিখলে ক্লাসের সবচেয়ে দুষ্টু ও অমনোযোগী ছেলেটিরও প্রশ্নপত্র ফাঁস করার প্রয়োজন হয় না।

    প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ ও পরীক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে আনিসুল হক স্যার বলেছেন:

    ‘‘পাঁচ সেট প্রশ্নপত্র তৈরি রাখুন, সব হলে হলে পাঠিয়ে দিন। পরীক্ষা শুরু হওয়ার আধ ঘণ্টা আগে ঢাকায় সাংবাদিকদের সামনে লটারি করে স্থির করুন কোন সেটে পরীক্ষা হবে। সব হলে মোবাইল, ফোন, অনলাইনে জানিয়ে দিন। যদি কোনো হল কেন্দ্রীয় নির্দেশ না পায়, তারা সবার সামনে লটারি করে স্থির করবেন কোন সেটে পরীক্ষা হবে। সেটা ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।

    ৫ সেট প্রশ্ন শিখে গেলে ছাত্ররা মোটামুটি মানুষ হয়েই বের হবে। তবে বাঙালির যা বুদ্ধি, ৫ সেট উত্তরও আগে থেকে লিখে নিয়ে যেতে পারে। কোন সেট এসেছে বলা মাত্রই সেই খাতা জমা দিয়ে দেবে। এই সমস্যার সমাধান হল, এ সেটের ‘ক’ অংশ, বি সেটের ‘খ’ অংশ নিয়ে।

    উফ! এই দেশের মানুষ এত খারাপ কেন? কেন এদের ‘রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি’?’’

    স্যারের এই মন্তব্য পড়তে পড়তে আমার স্কুলজীবনের কথা মনে পড়ে গেল। আমাদের হাই স্কুলের একজন স্যার ছিলেন, ‘বল্টু স্যার’। আসলে তাঁর নাম ছিল মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। কিন্তু কখন, কোথায়, কীভাবে, কেন তাঁর নাম ‘বল্টু স্যার’ হয়েছিল আমাদের কেউ জানে না। স্যারের পড়ানোর বিষয় ছিল বায়োলজি। তিনি আমাদেরকে নবম ও দশম শ্রেণিতে বায়োলজি পড়াতেন।

    আমাদের সময়ে ত্রিমাসিক, ষান্মাসিক এবং বার্ষিক পরীক্ষা নামের বছরে তিনটি পরীক্ষা হত। তিনি এই পরীক্ষার বাইরে আরও তিনটি টিউটোরিয়াল পরীক্ষা নিতেন এবং প্রত্যেক পরীক্ষার আগে সাতটি করে প্রশ্ন সাজেশন আকারে দিতেন। সেই সাতটি প্রশ্নই পরীক্ষায় আসত যার মধ্যে পাঁচটির উত্তর লিখতে হত। আমি সবসময়ই পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর তৈরি করে যেতাম। দুই বছরে বায়োলজিতে আমি তৈরি করেছিলাম মোট ষাটটি (৬০) প্রশ্নের উত্তর। আর মাহমুদ রিয়াজ (আমাদের ক্লাসের ভালো ছাত্রটি) তৈরি করেছিল চুরাশিটি (৮৪) প্রশ্নের উত্তর।

    এসএসি পরীক্ষার সময় মনে হয়েছিল, আমি হয়তো বায়োলজিতে পাশই করতে পারব না। কিন্তু বায়োলজি চতুর্থ বিষয় হওয়াতে ততটা টেনশন করিনি। কিন্তু পরীক্ষার হলে গিয়ে তো অবাক, প্রায় সত্তর ভাগ প্রশ্ন কমন পড়েছিল। এই বিষয়ে আমি ৬৮% নম্বর পেয়েছিলাম। আর আমাদের ওই ভালো ছাত্রটি সবগুলো বিষয়ে লেটার মার্কস নিয়ে এসএসসি পাশ করেছিল।

    এখনকার ছাত্রছাত্রীরা প্রায় সবাই সকল বিষয়ে লেটার মার্কস নিয়ে পাশ করছে। তবে তাদের মধ্যে নাকি অনেকেই ফাঁস করা প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষা দিতে যায়।

    প্রশ্ন ফাঁস রোধে অনেকেই অনেক পদ্ধতি, পন্থা বা উপায়ের কথা বলেছেন। কিন্তু আমার মতে এখন প্রয়োজন হয় মোহাম্মদ খুরশিদ আলম স্যারের মতো অভিভাবক, না হয় ‘ওপেন বুক এক্সামিনেশন’ পদ্ধতি।

    মোহাম্মদ খুরশিদ আলম স্যার বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপের একজন প্রাক্তন মহাপরিচালক। তাঁর নাতনি এবারে পিএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। তো, একদিন ঘটনাক্রমে স্যারকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘‘স্যার, আপনার নাতনি তো পিএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে, প্রশ্ন পেয়েছেন?’’

    স্যার বললেন, ‘‘না।’’

    বললাম, ‘‘ফেসবুকে নাকি পাওয়া যায়, দেখবেন নাকি একবার চেষ্টা করে।’’

    তিনি উত্তর করলেন, ‘‘না, দরকার নেই, কারণ আমার নাতনি যদি বি মাইনাসও পায় তবুও আমি খুশি। কারণ, সে যে এই বয়সে এ রকম একটি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে এটাই তো বেশি। আর এই পরীক্ষা থেকে সে পাচ্ছে যে কোনো পরীক্ষা মোকাবেলা করার সাহস।’’

    আর যদি এ রকম অভিভাবক না-ই পাওয়া যায়, তবে প্রয়োজন ‘ওপেন বুক এক্সামিনেশন’ যেখানে থাকবে বই খুলে লেখার সুযোগ। অথবা সারাদেশে শুধু কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা থাকবে যেখানে চালু থাকবে শুধু ব্যাবহারিক পরীক্ষা।

    Reply
    • আব্দুস সবুর

      ওপেন বুক এক্সামিনেশন একটা উত্তম সমাধান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর শ্রেণিতে কিছু কিছু বিষয়ে এই পদ্ধতি চালু আছে।

      আমার মতে, এটা হতে পারে খুব ভালো একটি সমাধান। তবে এটার পাশাপাশি পূর্বেই ছাপানো উত্তরপত্রে প্রশ্ন নং এবং তার নিচে পরিমাণম খালি জায়গা রেখে পরীক্ষার হলে তা বিলি করা যেতে পারে। প্রতিটি প্রশ্নের সঙ্গেই প্রয়োজনীয় গাইডলাইন দিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

      খুব সংক্ষিপ্ত প্রশ্নপত্র পরীক্ষার দিন সকালে প্রস্তুত করে পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে ইমেইল বা এসএমএসের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের নিকট প্রেরণ করে তা পিসি এবং প্রিন্টারের সাহায্যে সঙ্গে সঙ্গে ছাপিয়ে বিলি করা যেতে পারে।

      Reply
      • Miazi

        সরি, এটা সে পর্যায় নয়।

        আমরা এই শিক্ষার্থীদের পাবলিক পরীক্ষা থেকে মুক্ত করতে পারি। জাস্ট লোক্যালি বা উপজেলা পর্যায়ে পরীক্ষা হোক। যেমন, এটা হতে পারে প্রাইমারি স্কুল লেভেলিং এক্সাম (PSLE)।

  6. ম্যানিলা নিশি

    ১৯৭১এ আমাদের কিছু সংখ্যক বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়েছিল যাতে আমরা বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারি; আর এখন দেশের ভবিষ্যৎ বুদ্ধিজীবীদের সমূলে ‘বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী’ করার পায়তাঁরা চলছে!

    দেশের এত বড় সর্বনাশ কারা করছে সেটি নিশ্চয়ই জাফর ইকবাল সাহেবের অজানা নয়। আশা করি প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে তিনি এই চক্রটি থেকে বের হয়ে আসবেন।

    Reply
  7. ashraful islam

    এইচএসসিতে জিপিএ ৫ (বা আরও ভালো করলে সব বিষয়ে ‘এ প্লাস’ বা কথিত ‘গোল্ডেন’) পাওয়ার পরেও কোথাও ভর্তিপরীক্ষায় টিকতে না পারা এবং পিএসসি বা জেএসসির মতো ছোট বাচ্চাদের পরীক্ষায় ঢালাও প্রশ্ন ফাঁস– এই দুটি ‘মহাবিপর্যয়’ আজকের গোটা শিক্ষাব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, জনমনে তৈরি হচ্ছে প্রচুর হতাশা।

    যত সাফল্যই দাবি করা হোক না কেন, শিক্ষাব্যবস্থার ‘মহাবিপর্যয়’ ঠেকাতে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হচ্ছে কেন?

    আমার মতে কিছু কিছু সংস্কার আজ জরুরি হয়ে পড়েছে:

    ১.

    বহুনির্বাচনী( MCQ) পরীক্ষায় নম্বর খুব বেশি উঠে এবং নকল বা প্রশ্ন ফাঁস করেও পুরো নম্বর পাওয়া যায়। যেখানে কোনোভাবেই এই সমস্যা দূর হচ্ছে না, সেহেতু দেশের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে অন্তত পাবলিক (PSC/JSC/SSC/HSC) থেকে এটা পুরোপুরি উঠিয়ে দিতে হবে এবং সৃজনশীল ও রচনামূলক প্রশ্ন দিয়েই সব পরীক্ষা নিতে হবে।

    ২.

    ব্যবহারিক পরীক্ষাতেও প্রচুর গলদ। নামি-দামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীদের পুরো নম্বর দেন, অথচ এক্সটার্নাল পরীক্ষার্থীদের নম্বর কম দেন, এমনকি ফেলও করিয়ে দেন।

    আইডিয়াল কলেজের (কেবল ছাত্রী পড়ে এইচএসসিতে) পরীক্ষার্থীদের নির্দয়ভাবে ফেল করিয়ে দেন নটরডেম কলেজের শিক্ষকরা। বোর্ড পরীক্ষায় ব্যবহারিক রাখার দরকার কী? লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি এতে। ভালো দাবিকারী কলেজগুলো যত খুশি ব্যবহারিক পরীক্ষা নিক নিজেদের ছাত্রদের জন্য!

    ৩.

    পিএসসি এবং জেএসসিতে গ্রেডিং সরলীকরণ করা হোক। A+ ও B+ উঠিয়ে দিয়ে শুধু A (৬৫% ও তদূর্ধ্ব) B (৫৫% থেকে ৬৪%) C (৪০% থেকে ৫৪%) করা হোক এবং কম গ্রেডের জন্য কাউকে হেয় না করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ছোট ছোট বাচ্চাদের মানসিক বিকাশের স্বার্থে গ্রেডের বিষয়টি মোটামুটি গোপন রেখে শুধু কারা বা কতজন পাশ করেছে তা পরিসংখ্যানে দেওয়া যেতে পারে।

    ৪.

    পিএসসি এবং জেএসসিতে আগের দিনের বৃত্তি পরীক্ষার আদলে এক দিনে পিএসসি ৩ ঘণ্টা এবং জেএসসিতে ৪ ঘণ্টায় সব বিষয়ের জন্য একটিমাত্র উত্তরপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে, পরীক্ষার্থীদের বারবার পরীক্ষার হলে ঢুকানো, খাতা বণ্টন ইত্যাদি করতে হবে না। উত্তরপত্রে প্রশ্ন-সম্পর্কিত নির্দেশিকা এবং উত্তরের জন্য শূন্যস্থান রেখে দেওয়া যেতে পারে।

    যেমন, বলা হবে, “১৯ নং প্রশ্ন: আনুমানিক ১০০ শব্দে প্রশ্নপত্রে উল্লিখিত ৫টি শিরোনামের মধ্য থেকে নিজ পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো একটি শিরোনামে রচনা লিখ।” একই সঙ্গে বিলিকৃত প্রশ্নপত্রের ১৯ নং প্রশ্নে থাকবে ‘‘ক- বাংলাদেশের মৎস্য সম্পদ’’। ‘‘খ- বাংলাদেশের বনসম্পদ’’। ‘‘গ- আমাদের গ্রাম’’। ঘ- টেলিভিশন’’। ‘‘ঙ- আমাদের স্কুল’’।

    এভাবে প্রশ্নপত্র ছোট হবে এবং পরীক্ষার দিনই তা বোর্ডে বসে তৈরি করে পরীক্ষা শুরুর ২০ বা ৩০ মিনিট আগে ইমেইল বা এসএমএসে পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রধান শিক্ষকের নিকট পাঠানো হবে। তখন তিনি নিজের কাছে রাখা পিসি এবং ফটোকপি মেশিন ব্যবহার করে বণ্টনের ব্যবস্থা করবেন। MCQ না থাকলে কিছুটা জানাজানি হলেও অসদুপায়ের সুযোগ কমে যাবে।

    সংশ্লিষ্ট মহল ভেবে দেখবেন কি?

    Reply
  8. সুহাসিনী সোবহান

    প্রিয় জাফর ইকবাল স্যার,

    বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্রিকায় আমরা আপনাকে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে অনেক বার লিখতে দেখেছি। আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আমরা সবাই, বিশেষভাবে অভিভাবকেরা খুব বেশি উদ্বিগ্ন।

    আমার ভাইয়ের ছেলে মাহাদি এবার তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে। ওকে রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি করানোর উদ্দেশে পুরো একটা বছর স্কুল বাদ দিয়ে সকাল-বিকেল কোচিং করানো হচ্ছে। কয়েক দিন আগে মাহাদি কোচিংএর মডেল টেস্টে কম নাম্বার পাওয়ায় আমার ভাই তাকে প্যান্টের বেল্ট দিয়ে ভীষণ মেরেছে।

    এখানে উল্লেখ্য যে, আমার ভাই একজন শিক্ষিত মানুষ যে কিনা একটি স্বনামধন্য টেলি কোম্পানির ডেপুটি ডাইরেক্টর। তাকে যখন আমি জিজ্ঞেস করলাম কেন সে এইটুকুন বাচ্চাকে এভাবে মারল, সে জবাবে জানাল যে, এখন ভালো কোনো স্কুলে দিতে পারলে কলেজ পর্যন্ত তারা নিশ্চিত থাকতে পারবে। আর তাছাড়া পরবর্তীতে ভালো কোনো ভার্সিটিতে ভর্তি হতে পারবে। আর যদি তা না হয় তাইলে ছেলের লাইফটাই শেষ!

    আমার ভাইকে আমি যতটুকু চিনি, সে এভাবে চিন্তা করার মতো মানুষ নয়া। কিন্তু আজ আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের এভাবে ভাবতে বাধ্য করছে।

    এর পরিণতি কী? এর ফলে আমাদের কোমলমতি শিশুরা কী আসলেই মানুষ হবে নাকি অন্য কিছু!

    স্যার, আপনারা যারা আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবী, তাদের কাছে আমাদের সবার আকুল আবেদন, যত তাড়াতাড়ি কিছু একটা করেন। এভাবে আর চলতে দেওয়া যায় না। আমরা শুধু ভুরিভুরি জিপিএ-৫ চাই না। আমরা সুন্দর সুস্থ একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চাই।

    আমরা চাই, আমাদের শিশুরা শিশুদের মতো করেই বাঁচুক।

    Reply
  9. ashraful islam

    পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। সহজে ফাঁস হতে পারে এবং অসদুপায় অবলম্বন করার সুযোগ বিদ্যমান এমন প্রশ্ন, যেমন, এমসিকিউ/ব্যবহারিক সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে সৃজনশীল ও রচনামূলক দিয়েই ১০০% নম্বর বণ্টন করতে হবে। প্রশ্ন তৈরি এবং বণ্টন ইন্টারনেটের সহায়তায় পরীক্ষার দিন সকালে করতে হবে।

    পাবলিক পরীক্ষার ব্যাপ্তি অবশ্যই সঙ্কুচিত করতে হবে, যাতে নজরদারি করা সম্ভব হয়।

    Reply
  10. MD AKTERUZZAMAN

    স্যার,

    এই একটা বিষয়ে আমি আপনার সঙ্গে খুবই একমত যে, কর্ণধাররা মোটেই স্বীকার করতে চান না যে, প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা ঘটনা ঘটছে। আমরা চোখের সামনে সব কিছু দেখছি, কিন্তু পুলিশের ভয়ে কিছু বলতে পারছি না। পত্রিকায় প্রায়ই দেখছি প্রশ্ন পত্র ফাঁস হয়েছে, এই সত্যি কথা বলার জন্য অনেককে হাজতবাস করতে হচ্ছে। ভয়ে আমরা এখন আর সত্য কথা বলতে পারছি না।

    এখন আমরা কোনদিকে যাব। কবে এ থেকে মুক্তি পাব?

    Reply
  11. মাহাবুব

    যত দোষ ঐ অভিভাবকের, শিক্ষকের, কোচিং সেন্টারের, যেন কেষ্ট ব্যাটাই চোর!!! আর কত, স্যার? কত দিন গা বাঁচিয়ে লিখবেন! এবার অন্তত ব্যর্থ মন্ত্রীর পদত্যাগ চান?

    এতে আপনার বেতন-ভাতা কমবে না, কিন্তু বিবেকটা যে বেঁচে যাবে।

    নিশ্চিত!!!

    Reply
  12. মোহাম্মদ ফজলুল হক

    ধন্যবাদ স্যার, প্রশ্নফাঁস নিয়ে বলার জন্য। কিন্তু স্যার, এর স্থায়ী সমাধান কি কোনো দিন হবে? কারণ সরকার যা বলবে তাই করবে। এ প্রাইমারি আর জেএসসি সার্টিফিকেট দিয়ে কী হবে?

    তবে, আমার মনে হয় কিছু একটা হবে; সেটা হল পুরো জাতি ধ্বংস হবে। এ থেকে দেশকে রক্ষার দায়িত্ব কার?

    Reply
  13. আলী রেজা

    যিনি এই ই-মেইল পাঠিয়েছেন তিনি লিখেছেন ‘পিএসসি’ পরীক্ষা। ‘পিএসসি’ বলে কোনো পরীক্ষা নেই। আসলে যে পরীক্ষাটা নেওয়া হয় তা হচ্ছে, ‘পিইসিই’ বা প্রাইমারি এডুকেশন কমপ্লিশন এগজামিনেশন।

    Reply
  14. শম্পা রহমান

    স্যার,

    এ সব কথা বলার জন্য আপনি বা আপনার মতো কিছু মানুষ আছেন। আর সে সব কথা শুনবার মতো আমি বা আমার মতো কিছু মানুষ আছে। কিন্তু কী লাভ! আমরা তো নিরুপায়।

    মনের কষ্টের কথা বলতেও ভয় পাই। কখন যে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ উপাধি দিয়ে দেয়!

    Reply
  15. নজরুল

    স্যার,

    আপনি অত্যন্ত মূল্যবান একটি কথা বলেছেন। মন থেকে আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। আমরাও আপনার মতো বলতে চাই, কিন্তু কেউ আমাদের কথা শুনতে চায় না। তারপরও বলার চেষ্টা করি।

    ধন্যবাদ আপনাকে।

    Reply
  16. জাহিদা

    প্রশ্নফাঁসের ঘটনা সব ধরনের পরীক্ষার ক্ষেত্রেই ঘটছে। পাবলিক পরীক্ষা, ভর্তিপরীক্ষা, নিয়োগ পরীক্ষা– সব ক্ষেত্রে। এটা তো এক ধরনের অসুস্থতার লক্ষণ। আমরা যখন অসুস্থ হই, তখন একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার রোগের কারণ খুঁজে বের করেন এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থাপত্র দেন। প্রশ্নফাঁস নামক এ সামাজিক ব্যাধিটা দূর করার জন্য তাই আমাদের এর কারণ খুঁজে বের করতে হবে।

    আমাদের ছেলেমেয়েরা কি এ শিক্ষাক্রমের ভার বহন করতে পারছে না? ক্লাসরুমে কি ঠিকমতো পড়াশুনা হচ্ছে না? জিপিএ ৫ না পাবার আতঙ্ক অভিভাবকদেরকে কি এ সবর্নাশা পথে হাঁটতে বাধ্য করছে? আমাদের নৈতিকতাবোধ কি ক্রমশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে?

    একটা সময় আমি ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশুনার ঘোর বিরোধী ছিলাম। এখন মনে হচ্ছে, ইংলিশ মিডিয়ামে বাচ্চাদের না পড়িয়ে ভুল করিনি তো?

    Reply
  17. sheikh abdur rahim

    এখনই এমসিকিউ তুলে দিয়ে ছোট রচনামূলক প্রশ্ন চালু করা হোক। প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করা হোক পরীক্ষার দিন সকালে। বিলি হোক ইন্টারনেটে। এছাড়া আর কোনো পথ নেই।

    নকলবাজরা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, আর শিক্ষা বোর্ড রয়েছেন প্রাগৈতিহাসিক যুগে!

    শিক্ষামন্ত্রী তো ব্যস্ত ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে নেওয়ার সংগ্রামে’! তার নিজের লেখা নিবন্ধ থেকে উদ্ধৃত করেছি…

    Reply
  18. ্মিলন

    যে দেশের বাবা-মায়েরা তাদের ছেলেমেয়েদের পড়ালেখা করানোর জন্য সবচাইতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, কাড়ি কাড়ি টাকা খরচ করছেন, নিজেদের সাধ-আহ্লাদ ভুলে গিয়ে ছেলেমেয়েদের শিক্ষা দান করার জন্য তাদের সাধ্য-অসাধ্য সব কিছুই করছেন– সেই ছেলেমেয়েরা আসলে কী শিখছে???

    Reply
  19. mozahid

    স্যার,

    ‘করজোড়ে প্রার্থনা’, ‘মুক্তি দিন’ এসব তো তারা বলবে যারা অন্যায় করেছে। ওরা ধ্বংস করার প্রক্রিয়াটা শুরু করেছে, ধ্বংস করার জন্য। প্রার্থনায় মুক্তির আশা করা কি ঠিক?

    দোহাই আপনাকে, প্রার্থনায় মুক্তি নেই! লড়াই করেই মুক্তি অর্জন করতে হয়। আমরা আপনার সেই ছাত্র হতে চাই যারা সন্তানের ‘মুক্তির জন্য’ লড়াই করতে জানে।

    Reply
  20. Badiuzzaman Dider

    একজন সুন্দর মানুষ সুন্দর করে ভাববেন, এটাই স্বাভাবিক। অন্যায় কিছু দেখলে তিনি মর্মাহত হবেন এটাই কাম্য।

    আমার সন্তান পিএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। আপনি যে কষ্টটি পাচ্ছেন তা আমি প্রতিদিন পাচ্ছি। আমার মেয়েটির জন‌্য প্রশ্ন যোগাড় করতে হয়তো খুব কষ্ট হত না। তবে নিজের বিবেকের কাছ থেকে সায় পাইনি আমার এত আদরের সন্তানটিকে কুশিক্ষা দিতে।

    ফল প্রকাশের দিন হয়তো আমার মেয়েটি তার সমকক্ষ মেয়েদের চেয়ে নম্বরের দিক থেকে পিছিয়ে থেকে কষ্ট পাবে। তবে এটুকু আশা যে, একজন ভালো মানুষ হয়ে সে বড় হয়ে উঠবে। সবচেয়ে বড় স্বার্থকতা, আমার আমার মেয়েটিকে আমি অন্যায় করতে শিখাইনি। জীবনে আর যাই হোক, সে হয়তো ভালো মানুষ হয়ে বড় হয়ে উঠবে।

    আপনার লেখার মাঝ দিয়ে যদি শুধুমাত্র অভিভাবকরা সচেতন হতেন, নিজেদের সন্তানদের ভালো মানুষ হয়ে ওঠার বিষয়ে, তাহলে মুদি দোকানে প্রশ্নপত্র পাওয়া গেলেও তা মূল্যহীন হয়ে পড়ত।

    অনেক ধন্যবাদ স্যার, আপনাকে একটি সুন্দর লেখার জন্য– আমাদের সন্তানদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

    Reply
  21. মিরন

    আমাদের দেশের যারা শিক্ষানীতি প্রণেতা বা যারা শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করেন, খোঁজ নিয়ে দেখেন তাদের কয়জনের সন্তান বাংলা মিডিয়ামে পড়ে। সবাই ইংরেজি মিডিয়ামে পড়ান নিজেদের ছেলেমেয়েদের।

    বাংলা মিডিয়ামে তো পড়ে আমাদের দেশের গরিব, মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানের। তাই, তাদের তো কোনো মাথাব্যথা থাকার কথা নয় যে, দেশের শিক্ষা কোথায় গেল না গেল তা নিয়ে!

    একজন ইংলিশ মিডিয়ামের ছাত্রকে জিজ্ঞেস করলে ঠিকভাবে বলতে পারবে না বাংলাদেশের ইতিহাস।

    Reply
  22. সালেহ জসিম

    কিছুই বলার নেই! এই সমস্ত জিনিস নজরে এলে নিজেদেরকে খুব পাপী মনে হয়। তা না এটা কীভাবে সম্ভব?

    আমলাদের কাছে আর্জি, PSC পরীক্ষা উঠিয়ে দেওয়া হোক।

    Reply
  23. salim

    আমার কাছে সব মানুষই শিশু। কারণ, একজন শিশু (সে যার সন্তানই হোক) পড়ে গিয়ে ব্যথা পেলে আমরা দৌড় গিয়ে তাকে কোলে নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে হৃদয়ের সমস্ত ভালোবাসা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করি। শিশুর কান্না সইতে পারি না বলে, কান্না থামাবার জন্য হাতে আইসক্রিম, চকলেট খেলনা তুলে দিই।

    আমি যখন ভিড়ের মধ্যে বাসে উঠি, আর আমার পিছনে কোনো বয়স্ক মানুষকে দেখি, তখন আমি সরে গিয়ে তাঁকে উঠতে সহযোগিতা করি। কারণ এই বয়স্ক মানুষটি যদি বাসে উঠতে গিয়ে পড়ে গিয়ে ব্যথা পান, আমি সহ্য করতে পারব না। এই লোকটির মুখে যখন তাকাই তখন আমার কাছে লোকটিকে শিশু মনে হয়। এই লোকটি তো একসময় শিশু ছিলেন।

    শিশুরা যখন কোনো সমস্যায় পড়ে, তাকে আমরা যেভাবেই হোক উদ্ধার করি। এই শিশু যখন লেখাপড়া শিখে বড় হয়, তখন তাকে সরকারি বা বেসরকারি চাকরি দেবার আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে ২ লক্ষ, ৩ লক্ষ, ৪ লক্ষ, ৫ লক্ষ বা ৬ লক্ষ বা তারও বেশি টাকা দাবি করি। তখন কি আমাদের মনে হয় না, এই শিশু এই টাকা যোগাড় করতে, শিশুটির হৃদয় ফেটে কান্না আসবে!

    এই শিশু যখন ছোট ছিল তখন তার কান্না আমরা সহ্য করতে পারতাম না। এখন এই শিশুটিকে আমরা কীভাবে কাঁদাই? এই শিশু যখন স্কুলে পড়ে, আমরা শিক্ষকেরা ক্লাসে ঠিকমতো পড়াই না। এই শিশুরা যখন আমার কোচিংএ পড়ে তখন তাকে ভালো নয় শুধু, খুব ভালো করে পড়াই।

    এভাবে শিশুদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন শিক্ষক। এই প্রতারক শিক্ষক শাস্তি পান না। সারাটি জীবন কষ্ট করে যে শিশু পড়ালেখা করে মেধাবী হল, তার চাকরি হল না। এই মেধাবী ছাত্রকে আটকানো হল লিখিত পরীক্ষার প্রতারণার জালে। এখানে না আটকাতে পারলে, আটকানো হল ভাইভা পরীক্ষায়। উদ্দেশ্য, প্রতারণা করা।

    এই প্রতারণাকারীদের শাস্তি হয় না।

    খাদ্যে ফরমালিন নামের বিষ মিশিয়ে শিশুদের কিডনি নষ্ট করছি এবং মেরে ফেলছি, এই প্রতারকদের শাস্তি হয় না। এই প্রতারণাকে আমি বলি, ‘ক্যান্সারের ব্যবসা’। আসলে আমরা সবাই এ করছি। আমরা যে, যে যেখানে আছি সেখান থেকে বসে এই ব্যবসা করছি। যার ফলে কেউ কাউকে শাস্তি দিতে পারে না।

    প্রতিটি ব্যবসার কয়েক ধরনের পুঁজি; এখন নতুন একটি পুঁজি যোগ হয়েছে “প্রধানমন্ত্রীর ছবি”, এই ছবি আমরা পিছনে টাঙিয়ে বুক ফুলিয়ে প্রতারণা করছি শিশুদের সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে ব্যবসা হচ্ছে, তিনি জানেন না, এই ব্যবসার ভাগও তিনি পান না। পান এই ব্যবসার দুর্ণাম। এই দুর্নামের কারণে তিনি ‘জনগণের ভোট’ হারান। এর মানে দাঁড়ায়, টাকা খায় প্রতারকরা, বদনামের বোঝা দেয় প্রধানমন্ত্রীর মাথায়।

    এখন এর থেকে শিশুদের কীভাবে বাঁচানো যায়? আমার দৃষ্টিতে ‘সত্যিকারের মেধাবীকে’ আমাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়, আমাদেরই আনতে হবে।

    এখন প্রশ্ন হচ্ছে সত্যিকারের মেধাবী কীভাবে যাচাই করব। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আপনি বা আপনার সন্তান যতই শিক্ষিহ হোন, নম্র-ভদ্র, নামাজী সমাজসেবক হোন, সমাজ যে বিচারে একজনকে মেধাবী বলে, সে হিসেবে আপনি বা আপনার সন্তান মেধাবী, তাহলে আপনি বা আপনার সন্তান কি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে? উত্তর, না। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর ছবির ব্যবসা বন্ধ করা যাচ্ছে না।

    এখন কী করা যায়? আমার দৃষ্টিতে, বাংলাদেশে একটি আইন করা প্রয়োজন, যেমন, এক ব্যক্তি দু’বারের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে দাঁড়াতে পারবেন না। এর ফলে যোগ্য ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার সুযোগ তৈরি হবে এবং আমাদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

    Reply
  24. Shain

    বড়ই দুঃখজনক ঘটনা! কবি সুকান্তের মতো ‘জঞ্জালমুক্ত পৃথিবী’ পরবর্তী প্রজন্মের জন্য রেখে যেতে পারলাম না…

    Reply
  25. লুতফুর পাশা

    স্যার,

    যতদূর জানি, আপনি নিজেই জাতীয় শিক্ষা কমিশনের সদস্য। এ ব্যপারে আপনি পদক্ষেপ না নিয়ে আবেগী কথা কেন বলছেন? আপনি অপরাধীদের শাস্তি কেন দাবি করছেন না? ক্রিমিনাল বানানোর প্রসেসটা কি আপনার হাত ধরে হচ্ছে না?

    সরি স্যার, আমাদের খুব দুভার্গ্য, আমরা আপনাদের হাতে পড়েছি।

    Reply
  26. মো: আব্দুল মতিন

    বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা শুধু সার্টিফিকেটে ভালো রেজাল্ট ছাড়া আর কিছু দিতে পারে না, পরবর্তী জীবনে যা কোনো কাজে লাগে না বললেও ভুল বলা হবে না…

    Reply
  27. alam

    স্যার,

    দয়া করে আপনি কি কনসার্ন অথরিটির কাছে বিষয়টা তুলে ধরবেন, যাতে আরও ক্ষতি কমানো যায়?

    Reply
  28. আব্দুস সবুর

    “যারা জেগে ঘুমায় তাঁদের জাগানো অসম্ভব”– বাংলাদেশের আমলাতন্ত্রের দিকে তাকালে এই সত্যটি বারবার মনে আসে।

    আপনি লিখেছেন:

    “তাতেই শেষ হয়ে যায়নি– এখন তাদের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করা হচ্ছে, ছোট ছোট শিশুদের অন্যায় করতে শেখানো হচ্ছে। সারা পৃথিবীর কোথাও এই নজির নেই, যেখানে একটি রাষ্ট্র তার দেশের শিশুদের অন্যায় করতে শেখায়। একটা দেশের মেরুদন্ড পুরোপুরি ভেঙে দেওয়ার কি এর চাইতে পরিপূর্ণ কোনো পদ্ধতি আছে?”

    সামান্যতম দেশপ্রেম থাকলে আমাদের মধ্য থেকে কেউ কি আর ঘুমিয়ে থাকতে পারেন?

    দয়া করে এগিয়ে আসুন!

    আগের মতে, একদিনে দুই বেলা (প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা) শুধু বাংলা (সঙ্গে সমাজ), অংক (সঙ্গে বিজ্ঞান) পরীক্ষা, শুধু ছোট রচনামূলক প্রশ্নপত্রেই উত্তর দেওয়ার জায়গা রেখে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন!

    Reply
  29. জাহিদ হোসেন

    প্রতিক্রিয়া লেখার আর কিছু নেই। আমাদের দেশে এখন পরীক্ষার যে অবস্থা তাতে বিদ্যালয়ে না গিয়ে ঘরে বসে শিক্ষা নিলে আরও বেশি জানতে পারবে আর চুরি থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারবে।

    শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষিত আমলাদের নিকট অনুরোধ, স্যার, আমাদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিবেন না ।

    Reply
  30. Kamrul Hasan Golap

    আমার এখনও বিশ্বাস হয় না যে, পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। কিন্তু জাফর স্যারের লেখাটা পড়ে বিশ্বাস করতে বাধ্য হলাম।

    অনেককেই বলতে শুনি, বাংলাদেশ নাকি ‘সব সম্ভবের দেশ’। এদেশে সবই সম্ভব। এ জাতির কী হবে???

    Reply
  31. bithika

    আমাদের দেশের শিক্ষার মা-বাপ যারা, তারা প্রশ্নফাঁসের সত্যি ঘটনা অস্বীকার করে ক্রমাগত গণমাধ্যমে মিথ্যা কথা বলে যাচ্ছেন। এতবড় প্রমাণ হাতে থাকতেও তাদের এই মিথ্যা বলা আমাদের ভীষণভাবে লজ্জায় ফেলছে।

    আমাদের ছেলেমেয়েরাও বুঝতে পারছে, মিথ্যা বলা ‘মহান’ কাজ! তাতে মন্ত্রী হওয়া যায় তাড়াতাড়ি!

    Reply
  32. মাসুম

    শিক্ষামন্ত্রী নিজেকে ‘উটপাখি’ এবং সমগ্র জাতিকে ‘গোল্ডফিশ’ মনে করেছেন।

    Reply
  33. saydujjaman

    প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য আমরা বারবার সরকার, এর প্রশাসনকে দুষছি। আসল দোষ ঐ সব বাবা-মায়ের যারা এই প্রশ্নের পিছনে দৌড়ে তাদের কোমলমতি বাচ্চাদের জীবন নষ্ট করে দিচ্ছেন। এইসব শিশুরা জানে না প্রশ্নপত্র ফাঁস কী, তাদের শেখান তাদের বাবা-মা।

    দুর্নীতির জন্য নেতা-আমলাদের দুষি, এই সব বাবা-মা কি দুর্নীতি করছেন না? আমরা যদি ভালো না হই তবে দেশটা ভালো হবে কেমনে? কেউ প্রশ্ন না কিনলে আর ফাঁসও হবে না ।

    Reply
  34. মাহমুদুল হাসান

    স্যার, আমি আপনার মাধ্যমে পিএসসি এবং জেএসসি পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিলের জন্য আবেদন করছি। তাদের জন্য স্কুলের পরীক্ষাই যথেষ্ট।

    Reply
  35. সানা উল্লাহ সানু

    স্যার, আপনাকে ধন্যবাদ দেওয়ার ভাষা আমার জানা নেই। প্রশ্নফাঁস ছাড়াও শুধু পাসের হার বৃদ্ধির জন্য পরীক্ষার হলে যা হয় তাও নজিরবিহীন। এর চেয়ে পিএসসি ও জেএসসি বাতিল করে আগের ব্যবস্থা ফিরে না গেলে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম বলে কিছু থাকবে না।

    Reply
  36. haque

    মনে হচ্ছে, সরকার বলবে যে, প্রশ্নফাঁস হল যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য একটি ‘স্যাবোটাজ’!!!

    আমাদের অবশ্যই মানতে হবে যে, এই লোকগুলো, যারা প্রশ্ন ফাঁস করে, তারা অনেক বড় কালপ্রিট, তথাকথিত যুদ্ধাপরাধীদের চেয়েও বেশি!!!

    Reply
  37. Mohammad Lutfor Rahman

    স্যার,

    আপনাকে পা ছুঁয়ে সালাম করতে ইচ্ছে করছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার পর আমি যা চিন্তা করেছিলাম, আপনি আমার মনের কথাগুলো লিখেছেন, স্যালুট আপনাকে স্যার। আমার মনে হয় আপনি সমগ্র জাতির মনের কথা লিখেছেন।

    আমার বেবীর বয়স এখন ২ বছর ৪ মাস। আমি খুবই শংকিত আমার বেবীর ভবিষ্যত নিয়ে। চারিদিকে এত ‘ফাঁস হওয়া’, ‘ফাঁস হওয়া’ শুনে মনে হল, বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করে আমরা ফেঁসে গেছি। ছোটবেলার একটা প্রবাদ বাক্য মনে পড়ছে, “ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুই অন্তরে”। আমার সব স্বপ্ন আমার বেবীর মধ্যে। আমরা গরিব মানুষ, আমরা স্বপ্ন দেখতে পছন্দ করি। দয়া করে আমাদের স্বপ্ন দেখা নষ্ট করে দিবেন না।

    আমি স্বপ্ন দেখি, আমার বেবী পড়াশুনা করে মানুষের মতো মানুষ হবে, কিন্তু এভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে আমার স্বপ্ন বেবীকে স্কুলে ভর্তি করানোর আগেই শেষ হয়ে যাবে। একইভাবে শুধু আমার নয়, সকল অভিভাবক তথা বাংলাদেশের সব শিশুর স্বপ্ন ভেঙে দিবেন না। কারণ আমার বেবী শিক্ষক হবে, নাকি ডাক্তার হবে, নাকি ই্ঞ্জিনিয়ার হবে তা অনেক সময়ের ব্যাপার। সে সময় পর্যন্ত আমরা স্বপ্ন দেখতে চাই।

    প্রশ্নপত্র এভাবে ফাঁস করে আমাদের সেই স্বপ্ন শুরুতে শেষ করে দিবেন না। কারণ আমরা ডাক্তার হয়ে, ই্ঞ্জিনিযার হয়ে, শিক্ষক হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে স্বপ্ন নিয়ে বাঁচতে চাই। আর কিছু না হোক, আমাদের স্বপ্ন দেখতে দিন এবং স্বপ্ন দেখাতে দিন। ভেবে দেখবেন, আপনাদেরও ঘরে সন্তান আছে!

    সত্যি, আমি এখনও স্বপ্ন দেখি…

    Reply
  38. Shafiqul Alam

    এটা সত্যিই দুখঃজনক। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার একটি বিশেষ পদক্ষেপ নিতে পারে। নিম্নে তার বর্ণনা দেওয়া হল:

    ১. প্রশ্নপত্র বিতরণে এমন কোনো পদ্ধতি বের করতে হবে যেটার মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খোলার ব্যপারে কমপক্ষে ৩-৫ জনের সমন্বয়ে একটি টিমের প্রয়োজন পড়ে। যেমন, একই তালা খোলার কোড ভিন্ন ভিন্ন জনের কাছে থাকবে।

    ২. প্রশ্নপত্রে কাগজের কিংবা পলি প্যাকেটের পরিবর্তে বিশেষভাবে নির্মিত স্বচ্ছ প্লাস্টিকের প্যাকেট কিংবা বাক্স ব্যবহার করতে হবে, যা প্রশ্নপত্র বিলির সময় কেবলমাত্র ১০-১৫ অঙ্কের ডিজিটাল নাম্বার সম্বলিত কোনো তালা দ্বারা বন্ধ থাকবে।

    ৩. নির্ধারিত বিষয়ের পরীক্ষার দিন কোনো স্কুল কিংবা কলেজের জন্য নির্দিষ্ট ৩- ৫ জনের কাছে প্রতি পত্রের ভিন্ন ভিন্ন কোড দেওয়া থাকবে। তারা পর্যাক্রমে তাদের কোড দিয়ে ওই তালা সকলের সামনে খুলবে। প্রতিটি বাক্স খোলার আগে ও পরে তারা নিশ্চিত হয়ে নিবে বাক্সটি পূর্বে খোলা বা ভাঙা হয়নি। বাক্সে লাগানো স্টিকারে তারা তাদের স্বাক্ষর দিবে এবং সেই খালি বাক্সটি পুনরায় সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে ঐদিন ফেরত পাঠাবে। ভাঙা/খোলা বাক্স কিংবা তালা-খোলা বাক্স যখন যার কাছে পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

    আশা করি এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে অনেকাংশে প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হবে।

    Reply
    • সৈয়দ আলী

      আপনার প্রস্তাবটি চমৎকার এবং বাস্তবানুগ। কিন্তু কর্তারা চান না যে ডেলিগেশন অব পাওয়ার হোক!

      ড. জাফর ইকবালকে ঠেস দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, “তিনি মানেন না যে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। তা অন্যরা যাই খুশি বলুক।”

      যে দেশে দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় বা সরকারি পদে থেকে এ রকম নির্ভেজাল মিথ্যা বলা হয়, সে দেশে ফ্যাসিবাদ আসবে না কি সোনার স্বপ্ন আসবে?

      Reply
  39. md delwar hossain

    আমি ঠিক বুঝতে পারছি না যে, ঠিক কী উদ্দেশ্যে সমাপনী পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করা হচ্ছে। যারা করছে তারা প্রশ্ন বিক্রি করে টাকা উপার্জন করার জন্যে মনে হয় এটা করছে না। তাহলে হয়তো সবার কাছে এটা সহজলভ্য হত না। তাহলে কি শুধু নিজেদের সময়ে ভালো ফলাফল দেখানোর জন্য সরকার নিজেই এই কাজ করছে, নাকি কোনো মহল সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এই চক্রান্ত করছে? দ্বিতীয়টি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। আর যদি হয়ও, তবে সেটাই সরকারের বড় ব্যর্থতা।

    যদি এটা কোনো অনার্স পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হত, তাহলেও মনকে বোঝানো যেত যে, যারা পরীক্ষা দিচ্ছে তারা অনেক কিছু শিখে আসছে। কিন্তু যদি প্রাথমিক সমাপনীতে এমন হয়, তাহলে এই শিশুরা কী শিখবে?

    সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুরোধ করছি, দয়া করে নিজেদের দায় এড়ানোর জন্য বলবেন না যে, কোনো প্রশ্ন ফাঁস হয়নি। কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে দেশ ও বাঙালি জাতিকে রক্ষা করুন নিশ্চিত ধ্বংসের হাত থেকে।

    Reply
    • আব্দুস সবুর

      ইংরেজি অক্ষরে বাংলা লেখা! ১৯৫২ সালে পাকিস্তানের দালালরা বলেছিল, আরবি বা উর্দু হরফে বাংলা লিখতে, যা বাঙালি মেনে নেয়নি। আর এখন ছোট ছোট শিশুরা মোবাইল মেসেজে ইংরেজি অক্ষরে বাংলা লেখে।

      আপনি দয়া করে অভ্র ডাউনলোড করুন অথবা বিডিনিউজের মতামতের ঘরে দেওয়া “অভ্র ফোনেটিক” সিলেক্ট করে টাইপ করুন, দেখবেন কী সুন্দর বাংলা লেখা উঠে আসে!!!

      Reply
  40. Atauar Rahman

    এখন ভালো বা রুচিশীল মানুষেরা রাজনীতি করে না। শিশুদের ক্রিমিনাল না বানাইলে রাজনীতির হাল ধরব কে!!!

    Reply
  41. সজল সরকার

    আমাকে ওরা যতই বোঝানোর চেষ্টা করুক, সব শুনে আমি বলব, আমি কিছুই বুঝিনি।

    হ্যাঁ, আমি সেই গল্পটার কথা বলছি, আর গল্পের চরিত্র ‘শিক্ষামন্ত্রী’।

    Reply
  42. Moyeen Uddin

    স্যার,

    আপনার লেখা পড়ে খুব খারাপ লাগল। আমাদের এক্সাম নেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে আমারও খুব সন্দেহ আছে, এটার যৌক্তিকতা কতটুকু বা এটা কতটুকু কার্যকর। এত ছোট বযসে এক্সাম না নিয়ে অন্য কোনো সৃজনশীল উপায়ে মেধা বিকাশ করার ব্যবস্থা করতে হবে।

    আমি স্যারসহ অন্য শিক্ষাবিদদের কাছে অনুরোধ করছি, এমন কোনো উপায় বের করুন যেখানে শিশুদের মেধার বিকাশ করা যাবে এক্সাম ছাড়া…

    Reply
  43. মর্তুজা

    প্রতিটি পরীক্ষার পূর্বে এভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়, কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা বলেন, ‘ফাঁস হয়নি, গুজব’। উল্টো গুজব সৃষ্টির জন্য আইনি ব্যবস্থা নিবেন বলেন।

    তখন বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, কী উদ্দেশ্য নিয়ে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার বারোটা বাজানোর পাঁয়তারা চলছে!

    Reply
  44. রবিন সাজিন

    আমার খুব হাসি পাচ্ছে, একটা রাজনৈতিক কৌতুকের কাছে জাফর ইকবাল স্যার অসহায়! তাঁর মতো মানুষের অসহায়ত্ব দেখে আমার খুব কান্নাও পাচ্ছে। আপনার মতো সেলিব্রিটিদের অন্য দেশে এমন অসহায়ভাবে হয়তো কথা বলার প্রয়োজনও হয় না।

    স্যার, জানি না আপনার মতো একজন জনপ্রিয় এবং অত্যন্ত ভালো লেখকের মতামত তাদের দৃষ্টিগোচর হবে কি না!

    Reply
  45. হারুণ ইয়াহইয়া

    আমি একবাক্যে বলছি, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এ ধরনের শিক্ষা ও শিক্ষাপদ্ধতি দিয়ে সারা জিন্দেগিতে শিক্ষিত জাতি গঠন করা যাবে না। তবে করা যাবে একটা কাজ। সেটা হল, ছাত্রদেরকে প্রশ্নের জন্য লোভী বানানো যাবে!

    এ ধরনের শিক্ষা ও শিক্ষা পদ্ধতি যারা আমাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে, রোজ কিয়ামতে তাদেরকে আল্লার আদালতে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করাব, রিমান্ডে নেওয়া ছাড়া। এরাই আমাদের মেরুদণ্ড অত্যন্ত কৌশলে ভেঙে দিচ্ছে।

    আমরা পাশ হতে চাই না, বরং সঠিক জ্ঞানার্জন করে সাতবার প্রবেশিকা হলে ঢুকতে চাই। আমাদের সোনার ধানটি ফিরিয়ে দাও…

    Reply
  46. অন্তর

    আমি একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিস্ট্রিতে পড়াশোনা শেষ করে বসে আছি দেড় বছর হয়ে গেল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পছন্দের প্রার্থী আগে থেকে ঠিক করা!

    প্রশ্ন ফাঁস-টাস তো আরও পরের কথা। আমি দারুণ হতাশায় নিমজ্জিত।

    Reply
  47. roni

    স্যারের এই লেখার পাশেই শোভা পাচ্ছে বিডিনিউজে আজকের হেডলাইন– “প্রাথমিকের প্রশ্নফাঁসের খবর ‘ভিত্তিহীন’: মন্ত্রণালয়”।

    দেখে একটা প্রশ্নই মনে জাগে, ‘মন্ত্রণালয়, না বালিতে মাথা গোঁজা একপাল উটপাখি’!

    Reply
    • মোঃ একরাম হোসেন

      স্যার, আপনি মূল্যবান কথা বলছেন, কিন্তু বললে কী হবে, মানুষের মনে যদি দয়া-মায়া না থাকে।

      Reply
  48. মোকাম্মেল হক সোহেল

    স্যার,

    আপনার এই অসাধারণ লেখাটা পড়ার পর মনে হচ্ছে, আমার শিক্ষা আমার জীবনে কোনো কাজে আসেনি। এমনকি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার নীতিনির্ধারকদের জীবনেও কোনো কাজে আসেনি। এতটুকুও যদি কাজে আসত, তাহলে অন্তত এই বুঝ আসত যে, “আমি আমার সন্তানদের কী শিক্ষা দিব”।

    সত্যিই আমরা খুব হতভাগা জাতি!!!

    Reply
    • রবিউল হক মিলন

      ১৯৭১এ আমাদের কিছু সংখ্যক বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয়েছিল যাতে আমরা বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারি; আর এখন দেশের ভবিষ্যৎ বুদ্ধিজীবীদের সমূলে ‘বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী’ করার পায়তাঁরা চলছে!

      দেশের এত বড় সর্বনাশ কারা করছে সেটি নিশ্চয়ই জাফর ইকবাল সাহেবের অজানা নয়। আশা করি প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে তিনি এই চক্রটি থেকে বের হয়ে আসবেন।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—