- মতামত - https://opinion.bdnews24.com/bangla -

নোবেল পুরস্কার এবং আমার অনিয়ত ভাবনা

১.

এবারের নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তির বিষয়ে কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। একটি হল পদার্থ বিজ্ঞানে, নীল এলইডি (LED) বাতি আবিষ্কারের জন্য নাগয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসামু আকাসাকি, হিরোশি আমানো এবং বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারা ক্যাম্পাসের অধ্যাপক শুজি নাকামুরা নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। অনেকেই হয়তো ইতোমধ্যেই পত্রপত্রিকা থেকে নীল এলইডি বাতির প্রয়োগের ব্যাপারটা জেনে গেছেন।

এর মধ্যে যদি না জেনে থাকেন, তবে আমি বলব রাগিবের খুব সহজ সরল কিন্তু কাজের একটি লেখা থেকে জানুন। প্রিয় লেখক রাগিব হাসান চমৎকার একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ফেসবুকে। তার কথা উদ্ধৃত করেই বলি:

“খুব কাছ থেকে দেখা এমন একজন বিজ্ঞানী ছিলেন আমার পিএইচ-ডি’র সময়কার ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় এট আরবানা শ্যাম্পেইনের নিক হলোনিয়াক। তিনি ছিলেন লাইট এমিটিং ডায়োড (LED) এর আবিষ্কর্তা। নোবেল বাদে সব পুরস্কার পেয়েছেন, এটাই খালি বাকি। তাই অক্টোবর এলেই ধরা হয় উনি পাবেন হয়তো। কিন্তু এখনও এবারেও তার ভাগ্যে সেটা জুটল না। কিন্তু জুটেছে নীল রঙের এলইডি বাতির আবিষ্কারক তিনজনের কপালে।

এলইডি বাল্বের নানা সুবিধা আছে, খুব ছোট, অনেক কম বিদ্যুৎ খরচ, আর আলো অনেক বেশি। কিন্তু নব্বইএর দশক পর্যন্ত ত্রিশ বছর ধরে গবেষণা করেও কেউ নীল এলইডি বানাতে পারেননি, কেবল লাল-সবুজই হত। ফলে বাসায় ব্যবহার করার মতো সাদা আলোর জন্য এলইডি বানাতে পারেননি কেউ। অনেকে তো এটাকে রীতিমতো অসম্ভব বলে রায় দিয়ে দিয়েছিলেন।

কিন্তু জাপানের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন বিজ্ঞানী নব্বইএর দশকের শুরুতে অনেক খেটেখুটে নীল এলইডি বাতি বানাবার কৌশল বের করলেন। তবে সেটা ঠিক সস্তায় সহজে বানানো যায় না। এগিয়ে এলেন এক ছোট্ট ইলেকট্রনিক্স কোম্পানির একজন প্রকৌশলী। বাঘা বাঘা বিজ্ঞানীরা ‘এইটা করা সম্ভব নয়’ বলে যে ঘোষণা দিয়েছেন, তার তোয়াক্কা না করে তিনি বানিয়ে ফেললেন খুব সস্তায় নীল এলিইডি বাতি। সবগুলা প্রাথমিক রঙ দিয়ে সাদা আলোর বাল্ব বানাতে আর বাধা রইল না।

সেই নীল এলইডি বাতির জয়জয়কার তখন থেকেই, সেটা নীল লেজার বানাতে, ব্লু রে ডিভিডি বানাতে, কিংবা অন্য নানা কাজে। আজকের এলইডি টিভি থেকে শুরু করে এলইডি বাল্ব, সেগুলার কোনোটাই সম্ভব হত না, যদি এই দুইজন বিজ্ঞানী আর এক প্রকৌশলী তাদের স্বপ্ন থেকে যেতেন পিছিয়ে, ‘বাঘা বাঘা বিশেষজ্ঞ’দের কথা বিশ্বাস করে এই কাজ করা অসম্ভব, তা ভেবে বসতেন।

অসম্ভবকে সম্ভব করাই, আপনার, আমার, মানুষের কাজ।”

LED টিভি থেকে শুরু করে LED বাল্ব, কোনোটাই সম্ভব হত না, যদি দুই বিজ্ঞানী আর এক প্রকৌশলী স্বপ্ন থেকে যেতেন পিছিয়ে [১]
LED টিভি থেকে শুরু করে LED বাল্ব, কোনোটাই সম্ভব হত না, যদি দুই বিজ্ঞানী আর এক প্রকৌশলী স্বপ্ন থেকে যেতেন পিছিয়ে

পদার্থ বিজ্ঞানের এই খবরের বাইরে আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংবাদ হল, এবার মেডিকেলে নোবেল পেয়েছেন তিনজন নিউরোসায়েন্টিস্ট– জন ও’কিফ, মে-ব্রিট মোসার ও অ্যাডভার্ড আই মোসার। এদের দুইজন নরওয়েজীয় বিজ্ঞানী (মে-ব্রিট ও অ্যাডভার্ড আই মোসার আসলে দম্পতি) এবং অন্যজন (জন ওকিফ) ইংল্যান্ডে কর্মরত আমেরিকান বিজ্ঞানী।

সিএনএনএর রিপোর্ট থেকে জানলাম, তিন বিজ্ঞানী মস্তিষ্কে কিছু কোষ শনাক্ত করেছেন, সেগুলির মাধ্যমেই নাকি আমাদের ‘ইনার জিপিএস’ গঠিত হয়। অর্থাৎ, আমরা কোথায় আছি, কী করছি, কোথায় চলেছি– আবিষ্কৃত এই কোষগুলির কাজের মাধ্যমেই নাকি তা নির্ধারিত হয়। এর ফলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্ল্যানিংএ সুবিধা হয়। আমার মাথায় এই কোষগুলো একটু কম আছে বলে আমার স্ত্রীর ধারণা। অবশ্য আমার প্ল্যানিংএর যে ছিরি তা দেখে এই সিদ্ধান্তে আসতে কারও আইনস্টাইন হওয়া লাগে না।

যা হোক, নোবেল পাওয়া এই তিনজন বিজ্ঞানীর কাছ থেকে আলঝেইমার্সে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাজকর্মও বোঝা সম্ভব হবে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। এখানে বলে রাখি, আলঝেইমার্স রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায় ক্ষেত্রেই কোথায় আছেন বা কী করছেন তা যে বুঝতে পারেন না হয়তো তার কারণ, তাঁদের মস্তিষ্কের এই জায়গাগুলোই বিনষ্ট হয় আগে। কে জানে!

এটি সত্য হলে এই তিন গবেষকের আবিষ্কার এবং কাজ হয়তো ভবিষ্যতে আলঝেইমার্সের চিকিৎসার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখবে।

২.

এবারে সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন ফরাসি লেখক প্যাট্রিক মোদিয়ানো। আমি ভদ্রলোকের কোনো বই পড়িনি, পুরস্কার পাওয়ার আগে তাঁর নামও শুনিনি। আমি সাহিত্যের মানুষ নই, বিজ্ঞান এবং দর্শনের জগতেই আমার পদচারণা বেশি। তাই আমার সাহিত্যের জ্ঞানশূন্যতার বিষয়টি পাঠকেরা ক্ষমা-ঘেন্না করে ছেড়ে দেবেন বলে আশা করছি। আমি এ বিষয়ে কিছু লিখব না আগেই ঠিক করেছি।

তবে সাহিত্যের ব্যাপারটা ছেড়ে দিলেও, এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিষয়টি নিয়ে কিছু লিখতেই হচ্ছে। বিশেষত আমার সাম্প্রতিক ফেসবুকের ক্লান্তিকর অভিজ্ঞতা আমাকে বাধ্য করছে এ নিয়ে দু’কলম লিখতে।

‘সারাদিন নর্দমা ঘাটা যার স্বভাব, ফুলের গন্ধ তার নাকে যায় না’– গান্ধী কি বলেছিলেন কথাগুলো? যে-ই বলুন, মালালা প্রসঙ্গে বাঙালির ফেসবুকীয় বুদ্ধিজীবিতার নমুনা দেখে আমার নিরেট মাথায় কেন যেন এ কথাগুলোই বার বার ঘুরেফিরে উঠে আসছে।

মালালা ইউসুফজাইয়ের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ের খবর পত্রিকায় আসার পর থেকেই ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে শুরু হয়েছে নিরন্তর বাণী প্রক্ষেপণের মহড়া। এর মধ্যে আবার কেউ কেউ মালালা সম্বন্ধে একবিন্দু না জেনে তার কাজ কিংবা অবদান সম্বন্ধে জ্ঞান না রেখে গালির তুবড়ি ছোটাচ্ছেন অহর্নিশি– “একটা গুলি খায়াই নোবেল পায়া গেল?” কেউ বা বলছেন, “মালালা একটা গুলি কেয়ে নোবেল পাইল, আমারে কামান মার।” কেউ আবার বলছে, “একটা গুলি খাওয়া ছাড়া মালালার শান্তিতে কী অবদান আছে কইবেন কেউ?”

বেচারি মালালা! মাত্র সতের বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ নোবেল বিজয়ী হয়েও গালি খাচ্ছেন তালিবানদের, ইসলামিস্টদের, মৌলবাদীদের। পাশাপাশি, দেশপ্রেমিক বাঙালিদের, জাতীয়তাবাদী বাংলাদেশিদের, সেক্যুলারিস্টদের, কমিউনিস্টদের। সবার!

তালিবানি ইসলামিস্ট ঘরানার লোকজন মালালার উপর কেন খ্যাপা তা বোধহয় বিশ্লেষণ না করলেও চলবে। কিন্তু অন্যরা? অন্যদের ব্যাপারটা ইন্টারেস্টিং!

‘পাইক্কা-বিরোধী’ দেশপ্রেমিক বাঙালিরা, জাতীয়তাবাদী বাংলাদেশিরা, সেক্যুলারিস্টদের কিছু অংশ খ্যাপা; কারণ পাকিস্তানের সব কিছুই তাদের কাছে হারাম, এমনকি তাদের কেউ ‘যদি ফুল নিয়ে আসে তবুও’। তাদের বাঙালিপনা এমনই যে উর্দু-ফার্সি শব্দ, মায় ভাষাও জঘন্য– যদিও তাদের অনেক কথাতেই উর্দু শব্দের আধিক্য চোখে পড়বে, রুনা লায়লার ‘দমাদম মাসকালান্দার’ তো বটেই, বলিউডি সিনেমার কিছু চোস্ত উর্দু ডায়ালগও তাদের ঠোঁটস্থ। তাতে কী? ‘পাইক্কার সঙ্গে সম্পৃক্ত’ যে কোনো কিছুতেই ‘গাইল’ দিতে হবে না? এদের কাছে তালিবান যা– আসমা জাহাঙ্গীর, পারভেজ হুদোভয়ও তা– ব্যতিক্রম নয় মালালাও।

সর্বকনিষ্ঠ নোবেল বিজয়ী হয়েও মালালা গালি খাচ্ছেন তালিবানদের, ইসলামিস্টদের, মৌলবাদীদের, দেশপ্রেমিক বাঙালি, জাতীয়তাবাদী বাংলাদেশিদের, সেক্যুলারিস্টদের, কমিউনিস্টদের-- সবার [২]
সর্বকনিষ্ঠ নোবেল বিজয়ী হয়েও মালালা গালি খাচ্ছেন তালিবানদের, ইসলামিস্টদের, মৌলবাদীদের, দেশপ্রেমিক বাঙালি, জাতীয়তাবাদী বাংলাদেশিদের, সেক্যুলারিস্টদের, কমিউনিস্টদের-- সবার

কমিউনিস্ট আর বাম ঘরানার লোকজনের কাছে মালালার পুরস্কার কেবলই ‘পশ্চিমা পুঁজিবাদী চাল’ । এদের অনেকে নিশ্চিত, মালালাকে ‘খাড়া’ করা হয়েছে ইসলাম আর আইসিসের বিপরীতে ‘প্রোপাগাণ্ডা মেশিন’ হিসেবে। এদের মধ্যে একজন দেখলাম গ্রামসীয় হেজিমনি কায়দায় তত্ত্ব দিয়েছেন– ‘‘আইসিস আর ইসলামোফোবিয়ার দ্বন্দ্বে এবারের নোবেল পিস প্রাইজ হিসেবে মালালার নির্বাচন তাৎপর্যময়।’’

এবারে যারা মনে করেন গুলি খাওয়া ছাড়া মালালার কোনো অবদান নেই, তারা বোধহয় জানেনও না যে, গুলি খাওয়ার তিন বছর আগে, মাত্র এগার বছর বয়সে বিবিসির সাইটে মেয়েদের শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং তালিবানদের প্রচারণার বিরুদ্ধে ব্লগিং শুরু করেছিলেন মালালা। এত কম বয়সে ব্লগিং শুনে হয়তো অনেকে ‘অসম্ভব’ ভেবে নাক কুঁচকাতে পারেন, যেমনটি অনেকে কুঁচকেছেন আমার এ সংক্রান্ত একটি স্ট্যাটাস ফেসবুকে দেবার পর। কিন্তু আমার অভিমত হল, এগার বছরের মেয়ে অবশ্যই ব্লগিং করতে পারেন। আর উদ্যোগটা যেহেতু বিবিসির, তাই তাকে ব্লগিং করতে সাহায্য করার লোক ছিল বিবিসি থেকে। বিবিসির উর্দুসহ ছাব্বিশটি ভাষার সার্ভিস আছে জানেন তো?

বলাবাহুল্য, মালালাকে কেউ গবেষণা-প্রবন্ধ লিখতে বলেনি; মালালা যা লিখছিলেন তা একটা ডায়েরির মতো। Gul Makai (পশতুন লোকগীতির এক বীর নারী) ছিল তার ‘পেন নেইম’। সেটা করা একেবারে অসম্ভব কিছু ছিল না মালালার জন্য। কারণ তিনি তার স্কুলের শীর্ষস্থানীয় ছাত্রী ছিলেন, প্রায় প্রতি বছরই প্রক্টর হিসেবে নির্বাচিত হতেন। যখন এ লেখাটা লিখছি তখন আমার হাতে এ বছর প্রকাশিত I am Malala বইটা ধরা। সেখানে স্কুলের অগণিত ট্রফি হাতে মালালার ছবিও আছে। ওর বাবা ছিলেন শিক্ষক, একসময় ছিলেন স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল। তাই মালালার পক্ষে ইংরেজিটা রপ্ত করা সহজ হয়েছিল।

অবশ্য ব্লগিং যে মালালা করবেনই তা তিনি আগে থেকেই ঠিক করে রাখেননি। এই সময়টা এক বিশাল ক্রান্তিলগ্ন। সোয়াতের মতো পশতুন এলাকাগুলো আফগানি তালিবানরা ক্রমশ দখল করে নিচ্ছিল। মেয়েদের স্কুল জোর করে বন্ধ করে দিচ্ছিল। তালিবানরা জায়গাগুলো দখল করে মেয়েদের স্কুলে পাঠানো নিষিদ্ধ করতে থাকে; তাদের বাধ্যতামূলকভাবে নিকাব, বোরকা প্রভৃতি পরার জন্য চাপ দিতে থাকে। ঠিক এই সময়টাতেই বিবিসির পক্ষ থেকে প্রস্তাব আসে ব্লগিংএর। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রীদের কেউ রাজি না হওয়াতে অনেকটা বাধ্য হয়েই মালালাকে এ দায়িত্ব নিতে হয়।

মালালা অবশ্য শুরু থেকেই ছিলেন কিছুটা বিদ্রোহী; মুখঢাকা, বোরকা-পরার বিরুদ্ধে সোচ্চার। I am Malala বইটি থেকে কিছু অংশ তুলে দিচ্ছি–

I told my parents that no matter what other girls did, I would never cover my face like that. My face was my identity. My mother who is quite devout and traditional, was shocked. Our relatives thought I was very bold (some said rude). But my father said, I could do as I wished. “Malala will live as free bird” he told everyone.

মালালা তার প্রথম ব্লগটি লিখেন ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসের ৩ তারিখে, I am afraid শিরোনামে। তালিবানদের বিরুদ্ধে ব্লগিং যখন শুরু করলেন, মৃত্যু-হুমকি পেয়েছিলেন অজস্র। তার লেখায় এমনই আক্রান্ত বোধ করেছিল তালিবানি জঙ্গিরা যে, যে বাসে করে মালালা স্কুল থেকে ফিরত সেখানে তারা হামলা করে বসে। দু’জন তালিবানি যুবক বাসে উঠে রাইফেল তাক করে তার সহপাঠীদের দিকে। তাদের বাধ্য করা হয় বাসের মধ্যে মালালা কোন জন সেটা চিনিয়ে দিতে। সহপাঠীদের একজন ভয় পেয়ে মালালাকে চিনিয়ে দিলে তৎক্ষণাৎ তাকে গুলি করে ওরা।

হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তিন দিন মালালা সংজ্ঞাহীন ছিলেন। জ্ঞান ফিরেছিল ইংল্যান্ডে নেওয়ার পর। সেখানে সার্জারি করে তার গলার কাছ থেকে বুলেট অপসারণ করা হয়। তার মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ থামাতে খুলির কিছু অংশ কেটে বাদ দিতে হয়েছিল।

যারা মালালাকে আজ উঠতে-বসতে গাল দিচ্ছেন, তাদের কেউ কি অনুধাবন করতে পারছেন যে, যে সময়টা হেসে-খেলে বেড়াবার বয়স, সেই কৈশোরেই কী রকম ‘চাইল্ডহুড ট্রমা’র মধ্য দিয়ে মেয়েটাকে যেতে হয়েছিল!শুধু এই কারণেই তো মালালা শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা পেতে পারেন আমাদের কাছ থেকে। তার আগের কিংবা পরের কাজ ও পুরস্কারগুলো– যেমন, নারীশিক্ষার জন্য মালালা ফান্ড গঠন, মৌলবাদ বিরোধিতা, ২০১৩ সালে ইউএনএ তার ঐতিহাসিক বক্তৃতা, ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেনস পিস প্রাইজের জন্য ডেসমন্ড টুটুর নমিনেশন, শাখারভ পুরস্কার, টাইম ম্যাগাজিনের চোখে ২০১৩ সালের ‘অন্যতম প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তি’ নির্বাচিত হওয়া-– সেগুলো না হয় বাদ দিলাম।

যাহোক, অনেক হাবিজাবি স্ট্যাটাসের ভিড়ে শিবরাজ চৌধুরীর এই স্ট্যাটাসটি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, এটি পড়তে অনুরোধ করি–

‘একটা গুলি খায়াই নোবেল পায়া গেল’, পাবলিকের কথায় মনে হয় গুলি খাওয়াটা মনে হয় খুব ইজি, যে কেউ খাইতে পারে। অক্টোবর ২০১২ তে মালালা গুলি খাইছিল। কেন খাইছিল সেইটা কি কেউ জানে? এইটুক একটু জানাই।

পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকায় যখন তালিবানি আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হল, তালেবান কী করল? এরা খালি গোলাগুলি ছাড়া সবকিছুই ব্যান করতে পারে। মেয়েদের স্কুলের কথা তো বলাই বাহুল্য। এইসব যখন শুরু হইছে, তখন বিবিসি উর্দু চিন্তা করল যে ওইখানের আম আদমিরা কী ভাবতেছে সেইটা ফোকাসে আনা উচিত, এনোনিমাসলি। মালালার বাবা জিয়াউদ্দিন সাহেব একটা স্কুল চালান। তাঁর সাথে পরিচয় ছিল বিবিসি উর্দুর স্থানীয় প্রতিনিধির। তাকে বলার পর এই ব্যাপারে স্টেপ নেওয়া হল। কিন্তু তালেবানের ভয়ে কেউ রাজি হচ্ছিল না। আয়েশা নামের একটা মেয়ে, যে কিনা মালালার চেয়ে বয়সে বড় ছিল, সে প্রথমে রাজি হয়েছিল। পরে তার অভিভাবকরা পারমিট করে নাই। পরে জিয়া সাহেব রিস্ক নিয়ে নিজের মেয়েকেই এই দায়িত্ব দেন। মালালাকে তিনি ওই অস্থিতিশীল অঞ্চলেই নিজে পড়াতেন, অনেক বিষয় নিয়ে আলাপ করতেন মালালার সাথে। মালালা ইংলিশ, উর্দু এবং পশতুতে ফ্লুয়েন্ট। যারা সমালোচনা করল, তারা ভুলে যাচ্ছে যে, সোয়াত উপত্যকা ছেড়ে উনি পরিবার নিয়ে করাচি, পিন্ডি চলে যেতে পারতেন। যান নাই কেন? জিয়া সাহেব নিজেও একজন এডুকেশন একটিভিস্ট।

যাই হোক, মালালা তখন ব্লগ লেখা শুরু করল। লিংক–

http://news.bbc.co.uk/2/hi/south_asia/7834402.stm [৩]

‘ডায়েরি অব আ পাকিস্তানি গার্ল’। মালালা মাত্র এগার বছর বয়সে করাচি প্রেসক্লাবে তালিবান শাসন নিয়ে বলেছিল। উইকিপিডিয়া থেকে তুলে দিলাম। ওখানে লিংক দেওয়া আছে।

‘‘How dare the Taliban take away my basic right to education?” Yousafzai asked her audience in a speech covered by newspapers and television channels throughout the region.

বিবিসির ব্লগ সূত্রে ওকে নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস একটা ডকুমেন্টারি বানাবে বলে ঠিক করল। যাই হোক, এইভাবে তালিবান মালালারে চিনল। এরপরে টার্গেট করল। দা রেস্ট ইজ হিস্ট্রি।

সুতরাং, মালালা খালি গুলি খায়াই নোবেল পায় নাই। সোয়াতের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে থেকে যে এতটুকু সাহস নিয়ে এগিয়ে এল তালেবানের বিরুদ্ধে, এত অনিরাপদ জীবন নিয়েও যে তারা ওই জায়গা থেকে নিরাপদ জায়গায় চলে যাবার কথা ভাবে নাই, এইসব নিয়ে দেখি কারও মাথাব্যথা নাই।

যাই হোক, এই বেলায় আরেকটু তথ্য দিই। মালালা গুলি খাবার আগেই সে চিলড্রেন রাইটস একটিভিস্ট হিসেবে পরিচিত। দক্ষিণ আফ্রিকার ডেসমন্ড টুটু (আমি নিশ্চিত, জাতি টুটুরেও চিনে না) ২০১১ সালে মালালাকে ইন্টারন্যাশনাল চিলড্রেনস পিস প্রাইজের জন্যে নমিনেট করেছিলেন। পুরষ্কার আরেকজন পেয়েছিল সেবার। তবে মালালার ব্যাপারে বলা হয়েছিল,

Malala dared to stand up for herself and other girls and used national and international media to let the world know girls should also have the right to go to school.

সুতরাং, আবালামি করার আগে একটু জাইনা নিলে ভালো হয়।”

কৈশোরেই যে ‘চাইল্ডহুড ট্রমা’র মধ্য দিয়ে মেয়েটাকে যেতে হয়েছিল, শুধু এই কারণেই তো সে শ্রদ্ধা সহমর্মিতা পেতে পারে [৪]
কৈশোরেই যে ‘চাইল্ডহুড ট্রমা’র মধ্য দিয়ে মেয়েটাকে যেতে হয়েছিল, শুধু এই কারণেই তো সে শ্রদ্ধা সহমর্মিতা পেতে পারে

হ্যাঁ, আবলামি করার আগে জেনে নিলে ভালো হয়, এমন উপদেশ শিবরাজ চৌধুরী দিচ্ছেন বটে, কিন্তু যাদের দিচ্ছেন তাদের কাছে এটা উলুবনে মুক্তো ছড়ানোর মতোই। এরা জানার চেয়ে আমার আপনার চোদ্দগুষ্টি নিয়ে ‘গাইল’ দিতে ওস্তাদ। এত জানার সময় কোথায় এদের?

গত বছর টিভিতে জন স্টুয়ার্টের ‘ডেইলি শো’ দেখছিলাম বলে মনে আছে। সেখানে একটি পর্বে মালালাকে আনা হয়েছিল। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল– ‘‘তোমাকে যারা গুলি করেছিল, আবার যদি তাদের কারও সঙ্গে মুখোমুখি হতে হয়, তবে তুমি কী বলবে?’’

উত্তরে মালালা বলেছিলেন-–

“আমি বলব, মেয়েদের পড়ালেখার ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি তোমার মেয়ের শিক্ষার জন্যও আমি লড়ব।”

আমরা বুড়ো হাবড়ারা যখন এ-ওর পেছনে লাগতে ব্যস্ত, ব্যস্ত কথার তুবড়ি ছোটাতে আর কিছু না পড়ে না জেনে ফেসবুকীয় বুদ্ধিজীবিতা জাহির করতে– তখন এই ষোল-সতের বছরের মেয়েটা আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছে কীভাবে কথা বলতে হয়, কীভাবে কাজ করতে হয়।

আমি আমার স্ট্যাটাসটা ফেসবুকে দেওয়ার পর অবধারিতভাবে সেই স্পর্শকাতর বিষয়টিও উঠে এসেছে যে, যে পাকিস্তান, তার মিলিটারি ত্রিশ লক্ষ বাঙালির হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী তার সবকিছু অস্বীকার করাটা দোষের কোথায়? এমনটি লিখেছেন এক ফেসবুক বন্ধু স্ট্যাটাসের মন্তব্যে। আমি বলব, কেউ কিন্তু অস্বীকার করছে না যে, পাকিস্তানি সেনারা আমাদের ত্রিশ লক্ষ বাঙালিকে হত্যা করেছিল। আমরা তার প্রতিবাদ করছি, যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তিও চাচ্ছি। ঘৃণিত পাকসেনাদের বিচার দাাব করছি, দেশে এবং আন্তর্জাতিকভাবেও।

আমি নিজেও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। বড় হয়েছি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিমণ্ডলেই। তাই ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ জিনিসটা এত সংকীর্ণ হবার কথা নয় যে, একটি সাহসী মেয়ে তালিবানদের বিরুদ্ধে একা যুদ্ধ করছে, নারীশিক্ষার প্রসারে কাজ করছে, অথচ তাকে সাধুবাদ দিতে পারব না, প্রশংসা করতে কুণ্ঠিত হব! এটা করলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনারই অপমান করা হয়। আসুন বিশ্বমানব হতে শিখি। বাঙালিত্বের অপর নাম যে বিশ্বমানব হবার শিক্ষা– তা ভুলে যাই কেন?

আর যে সব বাম ঘরানার লোকজন মালালার পুরস্কারের পেছনে যথারীতি, ‘পশ্চিমা চক্রান্ত’-এর গন্ধ পাচ্ছেন, হেজিমনির ‘হেঁজেল’ গোঁফে তা দিয়ে ভাবছেন হঠাৎ করেই আইসিস ঠেকাতে এ বছর মালালাকে নির্বাচন করা হয়েছে নোবেলের জন্য, তারা জানেনও না যে, মালালার নোবেল পুরস্কার পাওয়ার কথা ছিল গত বছরই। সে সময় অনেক বিখ্যাত জন পিটিশন করেছিলেন মালালার পক্ষে। ২,৫৯,০০০ সাক্ষর জমা হয়েছিল সপ্তাহখানেকের মধ্যেই; এমনকি রিচার্ড ডকিন্সের মতো বিজ্ঞানীর পক্ষ থেকেও ক্যাম্পেইন করা হয়েছিল। ২৫৯ টি নমিনেশন পেছনে ফেলে মালালা এগিয়েও ছিলেন; কিন্তু তবু সেবার তিনি নোবেল কমিটির বিবেচনায় উত্তীর্ণ হননি।

তবে সবাই বুঝেছিল মালালার নোবেলপ্রাপ্তি কেবল সময়ের ব্যাপার। তাই এ বছর তিনি নোবেল পেলে সেটা ভুঁইফোড় হিসেবে অথবা ‘আইসিস ও ইসলামোফোবিয়া’ ট্যাকলের জন্য হবে কেন, তা আমার বোধগম্য হল না কোনোভাবেই।

অবশ্য এর মাধ্যমে আমি বোঝাতে চাইছি না যে, নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক নেই। অবশ্যই আছে। ওবামা, রুজভেল্ট, হেনরি কিসিঞ্জারের মতো লোকজন এই পুরস্কার পেয়েছেন, যা অবশ্যই বিতর্কিত। কিন্তু এ পুরস্কার তো মার্টিন লুথার কিং, শাখারভ, মাদার তেরেসা, নেলসন ম্যান্ডেলাও পেয়েছেন, সেটা ভুলে গেলে চলবে কেন? মালালা এ পুরস্কার পেলেন বলে পুরস্কারটা ‘ঘৃণিত’ হয়ে যাবে? নোবেল পিস প্রাইজের ‘কবর’ রচনা হবে তাতে? মালালার পুরস্কারে খুশি হতে না পারি, ঘৃণা করার মতো কিছু তো ঘটেনি।

আরেকটি ব্যাপার। মালালার এ পুরস্কারের প্রচার ও আর বিতর্কে কৈলাস সত্যার্থীর পুরস্কারপ্রাপ্তির ব্যাপারটা ধামাচাপা পড়ে গেছে। তার “বাঁচপান বাঁচাও” আন্দোলন ভারতের শিশুদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এখনও ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী অধিকারবঞ্চিত দিন কাটাচ্ছে। সেখানে যে কৈলাস সত্যার্থীর মতো লোকজন এ জন্য কাজ করে চলেছেন সেটাই আশার কথা।

তার চেয়েও বড় কথা, উপমহাদেশের দুই চিরশত্রু অন্তত একটি ব্যাপারে এক হয়ে পুরস্কার ভাগ করে নিতে যাচ্ছে– এটাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

২৬ Comments (Open | Close)

২৬ Comments To "নোবেল পুরস্কার এবং আমার অনিয়ত ভাবনা"

#১ Comment By Prodip On অক্টোবর ১২, ২০১৪ @ ১২:৪৭ অপরাহ্ণ

ভাই, আপনার লেখা আমার পছন্দ, কিন্তু আপনি নিজেকে বেশি প্রকাশ করেন, যেখানে আমিত্বটা বেশি দৃশ্যমান হয়।

“আমি সাহিত্যের মানুষ নই, বিজ্ঞান এবং দর্শনের জগতেই আমার পদচারণা বেশি। তাই আমার সাহিত্যের জ্ঞানশূন্যতার বিষয়টি পাঠকেরা ক্ষমা-ঘেন্না করে ছেড়ে দেবেন বলে আশা করছি।”

আপনি সাহিত্য পড়েননি, তাতে এই বিশ্বের বিপুল জ্ঞানভাণ্ডারের কোনো ক্ষতি বৃদ্ধি হবে না। সেটা নিয়ে হাইলাইট করে পাঠককে কী ‘শান্তি’ দিয়েছেন তা বোঝা গেল না।

আর কেউ ‘জ্যাক অব অল ট্রেড’ হয় না, হওয়া সম্ভবও নয়।

তবে মালালাকে নিয়ে আপনার সুতীক্ষ্ণ মন্তব্য খুব ভালো লাগল।

#২ Comment By অভিজিৎ On অক্টোবর ১২, ২০১৪ @ ৭:২৯ অপরাহ্ণ

ভাই, আমি সত্যই সাহিত্যে প্রায় জ্ঞানশূন্য এক লোক। প্যাট্রিক মোদিয়ানোর নাম আমি সত্যিই এই পুরস্কার পাওয়ার আগে শুনিনি। আমি ইচ্ছে করলে এখন ইন্টারনেট থেকে প্যাট্রিক মোদিয়ানোর একগাদা বই, তার সাহিত্যকীর্তি ইত্যাদির কথা বলে বিশেষজ্ঞ সাজতে পারতাম। তা না করে আমি যা, তা সততার সঙ্গে বলায় দোষের কী? আমি আমার দুর্বলতা প্রকাশে কুণ্ঠিত নই।

“তবে মালালাকে নিয়ে আপনার সুতীক্ষ্ণ মন্তব্য খুব ভালো লাগল”।

মালালা সম্পর্কে আপনার অভিমতের জন্য ধন্যবাদ।

#৩ Comment By Badol On অক্টোবর ১২, ২০১৪ @ ১:৪৭ অপরাহ্ণ

ভাই, আপনার লেখা পড়ে মনে হচ্ছে যে, আপনি নিজেকে ‘ইয়ে’ ধাঁচের কিছু মনে করছেন, যার ফলে অন্যদের খুব তীর্যকভাবে কথা বলার চেষ্টা করেছেন। এটাই হয়তো আপনাদের মতে “সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা”!

তবে ভাই, সত্যিকার অর্থে আপনার এই লেখার প্রতিউত্তরে আমার যা লেখার ইচ্ছে, তা লিখছি না; কারণ আপনারা মিডিয়ার কর্তাব্যক্তি, পছন্দ না হলে আবার আমার লেখাটাই এখানে প্রকাশ করবেন না, ওটা আবার ‘জনগণের স্বাধীনতা’ তো।

যাক, শুধু মনে রাখবেন, আপনার চাইতে বেশি খবর সাধারণ মানুষও রাখে। বাস্তবতা হল, মালালা একটি ‘পণ্য’ ছাড়া কিছুই নয়, যাকে দিয়ে ‘নারীস্বাধীনতা’র কথা বলে বেলাল্লাপনায় নামানো হচ্ছে। সিআইএ এর এজেন্ট দিয়ে তাকে গুলি করিয়ে, তালিবানদের নাম দিয়ে পশ্চিমাদের আরেকটি নোংরামি শুরু।

পাকিস্তানিদের খুশি রাখা, এশিয়ানদের সঙ্গে আঞ্চলিক সম্পর্কের উন্নতির স্বার্থে পাকিস্তানিদের ব্যবহার করা, নিজেদের প্রতিটি অপকর্মের বৈধতা দেওয়ার উপকরণ হিসেবে ‘নোবেল’ পুরস্কার ব্যবহার করা হল।

সবচেয়ে বড় কথা, মালালা পাকিস্তানি এটা কারও মাথাব্যথা হলে তাকে আমি অসুস্থ বলব। কিন্তু নোবেল পাওয়ার যোগ্যতার কথা বললে বলব, এটা নিছক ফাজলামি।

মনে রাখবেন, ‘নোবেল’ পুরস্কারের এই একমাত্র শাখা, যেখানে পুরস্কৃত করার জন্য কোনো গাণিতিক গবেষণা করার সুযোগ বা দরকার নেই। তাই যারা যখনই আমেরিকার পা চেটেছে, তারা প্রত্যেকেই বাড়িতে একটি করে ‘নোবেল’ নিয়ে গেছে। যেমন, কফি আনান, সুচি, আল গোর, লিউ শিয়াওবো, এল বারাদি, ইউনুস, সিমন পেরেস, এমনকি বারাক ওবামাও।

দুঃখ হয় বুশদের জন্য– কী অপরাধ তারা করেছিল???

#৪ Comment By Prodip On অক্টোবর ১২, ২০১৪ @ ৪:৩২ অপরাহ্ণ

মালালাকে নিয়ে অনলাইন মাধ্যমগুলোতে অনেকেরই মন্তব্য এমন মর্মভেদী, এমন নির্মম, অন্ধকার পর্বতচূড়া থেকে গড়িয়ে পড়া বিশাল প্রস্তরখণ্ডের মতো এমন বিনাশী-– মনে হয় আমাদের অবচেতনে সুপ্ত রয়েছে ফেলে আসা বহু শতাব্দীর ভয়ংকর অপশক্তি, যে জ্ঞান-বিজ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত এই একবিংশ শতকে এখনও পরাভব মানেনি, যে অনাগত কালকে একদিন টুঁটি চেপে ধরবে।

#৫ Comment By অভিজিৎ On অক্টোবর ১২, ২০১৪ @ ৭:২৪ অপরাহ্ণ

আপনি বলেছেন–

ভাই, আপনার লেখা পড়ে মনে হচ্ছে যে, আপনি নিজেকে ‘ইয়ে’ ধাঁচের কিছু মনে করছেন, যার ফলে অন্যদের খুব তীর্যকভাবে কথা বলার চেষ্টা করেছেন। এটাই হয়তো আপনাদের মতে “সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা”!

আমি কোথায় অন্যদের খুব তীর্যকভাবে কথা বলার চেষ্টা করলাম? আমি যা মনে করেছি সোজা পথেই বলেছি। সত্য কথা কারো কারো একটু তীর্যক শোনাতে পারে বটে!

আপনি বলেছেন–

“তবে ভাই, সত্যিকার অর্থে আপনার এই লেখার প্রতিউত্তরে আমার যা লেখার ইচ্ছে, তা লিখছি না; কারণ আপনারা মিডিয়ার কর্তাব্যক্তি, পছন্দ না হলে আবার আমার লেখাটাই এখানে প্রকাশ করবেন না, ওটা আবার ‘জনগণের স্বাধীনতা’ তো।”

আমাকে ‘মিডিয়ার কর্তাব্যক্তি’ ভাবার কী কারণ? আমি একজন সামান্য লেখক, আমার লেখা তারা দয়াপরবশ হয়ে ছাপিয়েছে। আমি কীভাবে ‘মিডিয়ার কর্তাব্যক্তি’ হলাম বোধগম্য হল না। আমি আমার অভিমত দিয়েছি। আপনিও লিখে আপনার অভিমত দিন, অসুবিধা কী! তা না করে ‘মিডিয়ার কর্তাব্যক্তি’র ষড়যন্ত্র খুঁজলে হবে?

“যাক, শুধু মনে রাখবেন, আপনার চাইতে বেশি খবর সাধারণ মানুষও রাখে।”

সেটা জানি। সাধারণ মানুষের উপর আস্থা আছে। তবে আপনার মতো ‘অসাধারণ’ মানুষদের নিয়ে একটু ‘ইয়ে’ আছে আর কি!

আপনি বলেছেন–

“বাস্তবতা হল, মালালা একটি ‘পণ্য’ ছাড়া কিছুই নয়, যাকে দিয়ে ‘নারীস্বাধীনতা’র কথা বলে বেলাল্লাপনায় নামানো হচ্ছে। সিআইএ এর এজেন্ট দিয়ে তাকে গুলি করিয়ে, তালিবানদের নাম দিয়ে পশ্চিমাদের আরেকটি নোংরামি শুরু।”

এইবার লাইনে এসেছেন। মালালা ‘পণ্য’, তাকে তালিবানরা নয় ‘সিআইএ-এর এজেন্ট’ দিয়ে গুলি করানো হয়েছে, তাকে ‘বেলাল্লাপনায় নামানো’ হয়েছে, ‘নোংরামি শুরু’ হয়েছে। চমৎকার সব কথা বলেছেন।

হুমম, আর কথা না বাড়াই! নোবেলটা মনে হচ্ছে আপনাকেই দেওয়া উচিত ছিল।

শুভকামনা!

#৬ Comment By অভিজিৎ On অক্টোবর ১৩, ২০১৪ @ ৭:৪৬ অপরাহ্ণ

আরেকটি ব্যাপারে ছোট মন্তব্য করি। আপনি লিখেছেন–

“মনে রাখবেন, ‘নোবেল’ পুরস্কারের এই একমাত্র শাখা, যেখানে পুরস্কৃত করার জন্য কোনো গাণিতিক গবেষণা করার সুযোগ বা দরকার নেই। তাই যারা যখনই আমেরিকার পা চেটেছে, তারা প্রত্যেকেই বাড়িতে একটি করে ‘নোবেল’ নিয়ে গেছে।”

নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার জন্য আপনি কি তবে গাণিতিক গবেষণার প্রস্তাব করছেন? আপনি কেন ভাবছেন এটাই একমাত্র ‘‘শাখা, যেখানে পুরস্কৃত করার জন্য কোনো গাণিতিক গবেষণা করার সুযোগ বা দরকার নেই”?

তাহলে যারা সাহিত্যে নোবেল পান তারা কোন গাণিতিক মডেল উপস্থাপন করছেন, শুনি?

আর আমেরিকার পা চেটে নোবেল পাওয়ার কথা না-হয় বাদই দিলাম। এইটা তো আপনাদের একটা খুব ‘কমন থিওরি’। আপনি কি জানেন যে, সাহিত্য তো বটেই, অনেক শাখাতেই আমেরিকাবিরোধী ‘অ্যান্টি-ইমপেরিয়ালিস্ট’ লোকজনও নোবেল পেয়েছেন? পেয়েছেন জেন অ্যাডামস। আরাফাত। আর আপনি কি জানেন যে, সাহিত্যের ব্যাপারে ইদানিংকার একটা কমন অভিযোগ হল– অ্যান্টি আমেরিকান সাহিত্য থেকেই নাকি বেশি নোবেল দেওয়া হচ্ছে।

কে ঢোকাবে আপনাদের মাথায় কথাগুলো?

মাথা খাটানোর চেয়ে ‘কন্সপিরেসি থিওরি’ মানাই বরং সোজা। আর ‘কন্সপিরেসি থিওরি’ বানানো বোধকরি আপনার গাণিতিক গবেষণার চেয়েও মধুর!

#৭ Comment By চপল On অক্টোবর ১২, ২০১৪ @ ৩:০০ অপরাহ্ণ

ধন্যবাদ, সুন্দর লেখাটির জন্য

#৮ Comment By অভিজিৎ On অক্টোবর ১২, ২০১৪ @ ৭:১৪ অপরাহ্ণ

আপনাকেও ধন্যবাদ লেখাটি পড়ার এবং মতামত দেওয়ার জন্য।

#৯ Comment By অন্তর সাহা On অক্টোবর ১২, ২০১৪ @ ৫:১০ অপরাহ্ণ

অভিজিৎ রায়, আপনি নোবেল কবে পাচ্ছেন?

#১০ Comment By Obayed On অক্টোবর ১২, ২০১৪ @ ৫:২৭ অপরাহ্ণ

When Malala was attacked by so called Talibal, I was in Australia and doing PhD. At that time i shared with my friend that you just wait Malal will won the novel prize. Surprisingly she got it. So many people in this world scarified like Malala but they are so unfortunate that could not manage a Novel prize. So sad, Malal is really a perfect element for global politics and use against Muslim.

#১১ Comment By zillur On অক্টোবর ১২, ২০১৪ @ ৭:০১ অপরাহ্ণ

বাদল ভাই যা বল্লেন, আমি উনার সঙ্গে সহমত প্রকাশ করলাম।

#১২ Comment By nurnabi On অক্টোবর ১২, ২০১৪ @ ৭:৩০ অপরাহ্ণ

বড় কথা হচ্ছে, মার্কিন শাসকরা ও তাদের জনগণ বোঝাতে চায় যে, তারা শুধু শত শত নারীকে হত্যা করে না, নোবেল দেয়! গুলি খেয়ে নোবেল পেলে সেটা দোষের। নারীশিক্ষায় যদি বালিকাকে নোবেল দেওয়া হয়, তাহলে নোবেল কমিটি যেন লাখ লাখ নারী-শিশুকে বিনা কারণে হত্যা করার দায়ে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত তাদের।

আর মালালার উচিত এই নোবেল এওয়ার্ড ফিরিয়ে দিয়ে মার্কিনি শাসকদের বিচারের দাবি করা। তালেবান জঘন্য, তবে মার্কিনিরা দুধে ধোয়া তুলসি পাতা নয়।

তাই আবেগ দিয়ে ফালতু লেখা বাদ দিয়ে বাংলা সিনেমার চিত্রনাট্য লেখা উচিত।

#১৩ Comment By Wahid On অক্টোবর ১২, ২০১৪ @ ৮:২৪ অপরাহ্ণ

মালালার নোবেল পুরস্কার পাওয়ার বিরোধিতাকারীরা একই গোত্রের। তারা বেগম রোকেয়ার সময় জন্মগ্রহণ করলে একইভাবে অন্য অজুহাতে ও ধর্মের দোহাই দিয়ে বিরোধিতা করত। আমাদের ভাগ্য ভালো যে, এরা বেগম রোকেয়ার সময় জন্মগ্রহণ করেনি।

তাহলে বাঙালি নারীদের আজ কী অবস্থা হত?

#১৪ Comment By শরীফ On অক্টোবর ১২, ২০১৪ @ ৮:৫২ অপরাহ্ণ

অসাধারণ একটি লেখা। মালালা ইউসুফজাই নোবেল পাবার পর আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে একটা পোস্ট দেওয়ার পর যতগুলো কমেন্ট পেয়েছি, তার প্রায় সবই নেতিবাচক। ব্যঙ্গ করে অনেকে এমনও বলেছে– মালারা নোবেল পাবার পর এখন থেকে নাকি মুরগি-চোরকে নোবেল দিলে সেটিও জাস্টিফায়েড হবে! এমনকি একজন এমনও বলেছে, তালেবানরা ভুল করেছিল, মালালাকে গুলি না করে জবাই করা উচিত ছিল।

সত্যি, এই একুশ শতকেও মানুষ কত বুনো, অসভ্য আর যুক্তিহীন হতে পারে ভাবা কঠিন। মালালা ইউসুফজাই যেটা করেছেন সেটি করার সাহস, আমি নিশ্চিত, গোটা পাকিস্তানে দু-চারজনের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরও ছিল না, যেটা মালালা মাত্র এগার বছর বয়সে করেছেন। মিঙ্গেরার মতো জায়গায়, তালেবানের নাকের ডগায় বসে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের তর্জনি তুলেছেন। নারীশিক্ষা ও নারী অধিকারের জন্য জেনেশুনে নিজের জীবন বাজি রাখাটা যদি কোনো অর্জন না হয় তাহলে অর্জন জিনিসটা কী?

আমি নোবেল পুরস্কারদাতাদের অভিনন্দন জানাতে চাই এমন অসাধারণ একটি সিদ্ধান্ত নেওেয়ার জন্য। জয়তু মালালা। বিশ্বের প্র্যত্যেক মেয়ে মালালা হোক….

#১৫ Comment By মুহাম্মদ মিস্‌বাহ্‌ উদ্দিন On অক্টোবর ১২, ২০১৪ @ ৯:১৬ অপরাহ্ণ

আস্‌সালামু আ’লাইকুম।

আপনার লেখা পড়লাম। পড়ে বুঝলাম আপনি অনেক জ্ঞানী মানুষ। আপনি কি কখনও কোরআন এবং হাদিস নিয়ে গবেষণা করেছেন? আল্লাহ পাক সমস্ত শান্তি রেখেছেন দ্বীনের মধ্যে। আর দ্বীন হল আল্লাহ্‌র হুকুম মানা এবং নবী করিম (সা:) এর তরিকায় চলা। আপনি কি একটি বিষয় লক্ষ্য করেছেন, মুসলমানের ঘরে জন্ম নেওয়া যেসব মানুষ কোরআন এবং হাদিসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাদেরকেই নোবেল প্রাইজ দেওয়া হয়। যেমন, সুদ ইসলামে হারাম, আর এই সুদের জন্য ইউনূস পেলেন নোবেল প্রাইজ। পর্দা ইসলামে আবশ্যক, আর এর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় মালালা পেলেন নোবেল প্রাইজ।

কোরআন এবং হাদিস নিয়ে গবেষণা করেন এবং খুঁজে বের করেন এর মধ্যে অশান্তি কোথায়?

#১৬ Comment By আবিদ ইসলাম On অক্টোবর ১২, ২০১৪ @ ১১:২৩ অপরাহ্ণ

ঠিক বলেছেন বাদল ভাই…

#১৭ Comment By ডাক্তার আইজূ On অক্টোবর ১৩, ২০১৪ @ ২:৪১ পূর্বাহ্ণ

নোবেল পুরস্কার পাবার ক্রাইটেরিয়া যদি ‘চাইল্ডহুড ট্রমা’ হয়, তবে বাংলাদেশের ফুলবানুরা অনেক বেশি কোয়ালিফায়েড!!!

#১৮ Comment By অভিজিৎ On অক্টোবর ১৪, ২০১৪ @ ১:১৫ পূর্বাহ্ণ

নোবেল পুরস্কার পাবার ক্রাইটেরিয়া যদি ‘চাইল্ডহুড ট্রমা’ হয় ..

ক্রাইটেরিয়া শব্দটা আপনার বসানো। লেখার কোথাও বলা হয়নি সেটা নোবেল বিজয়ের ‘ক্রাইটেরিয়া’।

আর হ্যাঁ, বাংলাদেশ থেকে কোনো ফুলবানু নোবেল বিজয়ী হতেই পারেন কোনোদিন, তাচ্ছিল্য করে উড়িয়ে দেবারও কোনো কারণ নেই।

#১৯ Comment By জাহেদ On অক্টোবর ১৩, ২০১৪ @ ১২:০২ অপরাহ্ণ

লেখক সাহেব, আপনি যা বুঝাতে চাইছেন আলহামদুলিল্লাহ আমরা তার থেকেও বেশি অবগত আছি মালালা বিষয়ে। সুতরাং আবেগ দিয়ে দু’কলম লিখে ফেললেই কোনো কিছুর সত্যতা প্রমাণ করা যায় না। মালালা যে ওদের তৈরি করা পুতুল মাত্র আর ভবিষ্যৎ পাকিস্তানের রাজনীতির মহামারী, সেটা সামনে প্রমাণ পাবেন।

তখন হয়তো আপনি ‘মালালা কাব্য’ লেখার জন্য কাগজ পাবেন না।

#২০ Comment By মোহাম্মদ আলী On অক্টোবর ১৩, ২০১৪ @ ৮:৪১ অপরাহ্ণ

১৯৭১ সালে ‘গণ্ডগোল’এর সময় পূর্ব পাকিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার নিয়তে শান্তি কমিটি গঠন করার জন্য অধ্যাপক গোলাম আযমকে যতদিন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া না হবে, ততদিন শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিতর্কিত হতে থাকবে।

মালালার মতো মুসলিম মহিলাদের ‘বেলেল্লাপনা’ উৎসাহিত করার জন্য মালালাকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ইহুদি-নাসারাদের এই চাল আশা করি সকল মুসলিম বুঝতে পারছে।

আল্লাহতায়ালা নোবেল কমিটিকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

#২১ Comment By নিপু On অক্টোবর ১৪, ২০১৪ @ ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ

জনাব,

আপনার লেখা পড়লাম, কিন্তু কিছুই বুঝতে পারলাম না! তবে হালকাভাবে যেটুকু বুঝতে পেরেছি তা হল, আপনি মালালার সাহসিকতার পুরস্কার হিসেবে ‘নোবেল’কে দেখাতে চেয়েছেন।

আমি অনেক বছর আগে থেকেই মালালার জীবন বা মালালাকে ফলো করছি। হাঁ, আমি স্বীকার করছি মালালা যা করেছে তা পাকিস্তানের মতো দেশের মেয়েদের ক্ষেত্রে করে দেখানো একটা অনেক বড় রকমের ঝুঁকি ছাড়া আর কিছুই নয়। আর এর জন্য মালালা প্রশংসা পাওয়ার দাবিদার।

তবে আমার একটি বারের জন্যও মনে হয়নি যে, এই সাহসিকতার জন্য তার এখনই ‘নোবেল’ পেতে পারে সে!

হ্যাঁ, সে পেতে পারত আরও কয়েকটি বছর পরে, তাহলে বিষয়টি এত দৃষ্টিকটু হত না, যা আমার মতো অনেক বাংলাদেশি বোঝাতে চাচ্ছেন (যেটা আপনার লেখায় ‘পাইক্কা-বিরোধী’ হিসেবে উঠে এসেছে)।

আসলে নোবেলটা একটা আরাধ্য বিষয়। এত সস্তায় পেয়ে যাচ্ছে বলেই তো এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই বিষয়টা আশা করি ভেবে দেখবেন।

#২২ Comment By অরিন্দম পাল On অক্টোবর ১৪, ২০১৪ @ ৯:৫৭ অপরাহ্ণ

মূলত মালালাকে যদি পশ্চিমারা তাদের এজেন্ট বানিয়ে কাজ করতে চায় তবে দেখার বিষয়, তারা কী কাজ মালালাকে দিয়ে করাচ্ছে। যদি সেটা পজেটিভ হয়, মানে মালালার কাজ যদি বিশ্বশান্তির জন্য পজেটিভ হয় , তাহলে যে কেউই তাকে ফোর্স করুক না কেন সেটা দেখার বিষয় নয়। তার এগিয়ে আসার ফলে যদি পাকিস্তানের মেয়েরা একটু হলেও শিক্ষার প্রতি অনুপ্রাণিত হয় সেটাই তো মঙ্গল। আর মালালা যদি নিজে থেকেই কাজগুলো করে, তাহলে তো কথাই নেই।

অনেকের মন্তব্য, ভারত পাকিস্তান উত্তপ্ত সম্পর্ক শান্ত করতে দু’দেশ থেকে দুজনকে প্ল্যান করে নোবেল দেওয়া হয়েছে। তো, তার ফলে ভারত পাকিস্তান সীমান্ত একটু হলেও যদি শান্ত হয় তবে সেটা তো অতি সুখময় কথা।

আজ শুধু মালালা বা কৈলাসবাবু, যে কেউ একজন নোবেল পেলে তো আসলেই ভারত পাকিস্তানের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়ে যেত। তার থেকে যে এখন দু’দেশের মানু্ষই নোবেল পেয়ে একটু হলেও শান্ত আছেন সেটা ভালো নয়?

আর পাকিস্তানের মতো স্থানে বসে, পশ্চিমা এজেন্ট হোক আর তালেবান এজেন্ট হোক, নারীশিক্ষার কথা বলাই তো একটা বিষম সাহসের কাজ। সেই কাজটা করার জন্যও মালালার কিছু একটা প্রাপ্য ছিল। পাকিস্তানের মতো একটা দেশের মানুষ কুশিক্ষা, কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে এসে একটু মানুষের মতো মানুষ হোক এটা তো সবার কাম্য হওয়া উচিত।

#২৩ Comment By তানিয়া On অক্টোবর ১৬, ২০১৪ @ ৮:৪৬ অপরাহ্ণ

অনেক নতুন তথ্য জানলাম। ভালো লাগল। মালালাকে নিয়ে আগে আমিও অন্যদের মতোই ভেবেছি যে, শুধু গুলি খাওয়ায় সে নোবেল পেয়েছে। আমার ভুল দূর হল।

ধন্যবাদ আপনাকে।

#২৪ Comment By জাহিদ হোসেন On অক্টোবর ২০, ২০১৪ @ ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ

ভাই অভিজিৎ রায়,

অনেক দিন পরে আপনার এ লেখা পড়লাম এবং ভালো লেগেছে। কারণ আমি নিজের কাজে এত ব্যস্ত থাকি যে, কারও বায়োগ্রাফি পাঠ করার সময় পাই না। মালালা সম্পর্কে যা লিখলেন আমি তার কিছুই জানতাম না। এত অল্পবয়সী এক পশ্চাদপদ সমাজের মেয়ের চিন্তা-চেতনা এত শক্তিশালী তা ভাবতেই অবাক লাগে।

মেয়েটি নোবেল পুরস্কার পেল কী না পেল তাতে কী আর এসে গেল? সে নারীশিক্ষা নিয়ে এই বয়সে যে কাজ করে গুলি খেল– নিন্দুকেরা যাই বলুক– তা ছিল কালজয়ী মহৎ কাজগুলির মধ্যে অন্যতম এবং তাকে নোবেল দেওয়া সঠিক হয়েছে। বরং বলা যায়, অনেক বছর পরে নোবেল কমিটি একটা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর যারা গুলি করেছে তাদেরকে শয়তানের বাস্তব প্রতিনিধিত্বকারী ছাড়া আর কিছুই বলব না আমি।

অন্যদিকে আবার যারা নিন্দা করছে তারা সবাই যে ব্যক্তি মালালাকে আক্রমণ করছে আমি তা মনে করি না। নোবেল পুরস্কারের পিছনে যে পশ্চিমাদের কিছু না কিছু প্রভাব ও ইন্ধন থাকে সেটা ঠিক এবং একশত ভাগই নিরপেক্ষ তাও কিন্তু নয়। তাদেরকে তৈলমর্দন বা ইনফ্লুয়েন্স ব্যতীত নোবেল প্রাইস পেয়েছে এমন কয়জনের নাম করতে পারেন আপনি?

তাহলে, আপনার লেখার সূত্র ধরেই বলছি, নিক হলোনিয়াকে অবশ্যই এলইডি আবিস্কারের জন্যে নোবেল দেওয়া হত আগে। কিন্তু দেওয়া হল যিনি নাকি একই জিনিসে ভিন্ন রঙের মাত্রা বাড়ালেন, তাঁকে। তাহলে মানুষের প্রশ্ন কিন্তু এখানেই থেকে যায়।

নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক তো আছেই। কারণ ইসরাইলের রাষ্ট্রপ্রধানও তা পেয়েছেন। এটার ব্যাপারে মানুষের প্রশ্ন থাকাটা অস্বাভাবিক নয় আমি মনে করি। তাই অনেকগুলো বিরোধী কথা বা সমালোচনা বিভিন্ন মাত্রায় এসেছে এবং তার প্রায় সবই,আমার মতো, মালালা সম্পর্কে না জানার কারণে ঘটেছে। এর মধ্যে পশ্চিমা বিরোধী মনোভাবই ঢের বেশি কাজ করছে এবং তাতে মালালা-বিরোধিতার সার্বিক ধারণা লাভ করেছে বিরোধীদের মাঝে, আমি তাই মনে করি না। বরং বলা যায়, পশ্চিমাদের বিরোধিতার জন্যে মালালার মহৎ কর্মে নোবেল পাওয়ার বিষয়টি অনেকের কাছে বিশ্বে ঘৃণ্য রাজনীতির চাল।

তবে আমি মনে করি, এর পিছনে পশ্চিমাদের কূটকৌশল বা কোনো উদ্দেশ্য থাকলেও, অবশ্যই মালালা একদিন না একদিন নোবেল পেত।

যাহোক, লেখাটি ভালো লেগেছে এবং এ রকম লেখা বার বার আসুক তাই চাই আমি।

ধন্যবাদ আপনাকে।

#২৫ Comment By রাক্ষস On অক্টোবর ২৯, ২০১৪ @ ২:৩২ পূর্বাহ্ণ

কথা হইল গিয়া, মালালা নুবেল পাইছে দেইখা ইসলামোফোবিয়াক্রান্ত অভিজিত বাবুর আনন্দ হইতাছে!

সেম টাইপের গুলি খাইয়া বাংলাদেশের ফেলানী কাঁটাতারে আটকাইয়া ছিল; সেইটা নিয়া ইসলামোফোবিয়াক্রান্ত বাবু কিছু কইবেন না, দাদারা মনে ব্যথা পাবে, তাই।

#২৬ Comment By নির্মল On জানুয়ারি ২৪, ২০১৫ @ ৫:৪৫ অপরাহ্ণ

তোরা যে যাই বলিস ভাই,
অভি দা তোমার লেখা বারবার পড়তে চাই।