- মতামত - https://opinion.bdnews24.com/bangla -

সাঈদীর রায়: কিছু কথা কিছু বাস্তবতা

Sayedee [১]১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে নানাবিধ আন্তর্জাতিক অপরাধে সংশ্লিষ্ট থাকবার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ট্রাইব্যুনালে ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিল আসামি দেলাওয়ার হোসেইন সাঈদী। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, উক্ত মামলাটির পরবর্তী নিষ্পত্তি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিলেট ডিভিশন আসামি সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের দণ্ড হ্রাস করে তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেবার রায় প্রদান করেন ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৪।

ইন্টারন্যশনাল ক্রাইমস রিসার্চ ফাউন্ডেশন [আইসিআরএফ] বাংলাদেশে বিদ্যমান আইন ও আদালতের প্রতি যদিও অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল, তথাপিও আইসিআরএফ মনে করে রায়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রদত্ত প্রাথমিক রায়ের তুলনায় অসামাঞ্জস্যপূর্ণ, বাঙালি জাতির জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং আসামি সাঈদীর মাধ্যমে নির্যাতিত সকল পরিবার ও স্বজনদের প্রতি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পরিপন্থী।

সাম্প্রতিক সময়ে বর্তমান সরকারের সঙ্গে আলোচ্য আসামির রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর যে গোপন সমঝোতার সন্দেহ বাংলাদেশের সকল মানুষের মনে দানা বেঁধেছে সেই প্রেক্ষিতে আইসিআরএফ এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে উপনীত হয়নি। যদিও জনমনের এই জোরালো সন্দেহের অবস্থানের প্রেক্ষিতে আইসিআরএফ পুরো পরিস্থিতির উপর তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ করছে।

তবে আইসিআরএফ এ কথা স্পষ্টভাবে বলতে চায় যে, সরকার তাদের প্রসিকিউটরবৃন্দ ও তদন্ত সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে আশানুরূপ সাফল্য দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এই মামলার বিভিন্ন স্তরে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রয়োজনে যে দলিল, তথ্য, প্রমাণ ও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা অপরিহার্য ছিল সেগুলোর কোনো কিছুই আমরা যথাযথভাবে দেখতে পাইনি।

উল্লেখ করা যায় যে, আপিলেট ডিভিশনে মামলা চলাকালীন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা এই মামলার প্রয়োজনে ঘটনাস্থল ও নানাবিধ তথ্যাদি সংগ্রহে যখন স্বয়ং নিজেই উদ্যোগী হয়েছিলেন, তখনই বস্তুত এই মামলাটির হীনদশা সম্পূর্ণভাবে আমাদের বোধগম্য হয়েছিল। অথচ এই তথ্য-প্রমাণ কিংবা যে কোনো প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ প্রাথমিকভাবে মূলত তদন্ত সংস্থা এবং মামলার সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর গুরুদায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। রাষ্ট্রপক্ষের এই সকল ব্যর্থতা প্রাথমিকভাবে ট্রাইব্যুনালের রায়ের ভিত্তিতে হলেও, এই ব্যাপারে আরও স্পষ্টভাবে বলা যাবে আপিলেট ডিভিশনের পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে আসবার পর।

আসামি সাঈদীর মামলা চলাকালীন বেলজিয়াম-প্রবাসী যে ব্যক্তির সঙ্গে মাননীয় বিচারপতি নাসিমের কথোপকথনের অডিও এবং ইংল্যান্ড-প্রবাসী যে বিতর্কিত ব্যক্তির নাম বার বার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল সেই ক্ষেত্রেও উল্লেখিত ওই দুই প্রবাসীর ব্যাপারে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা কিংবা তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্তের সংবাদ পরবর্তী সময়ে আমরা পাইনি।

এই কথোপকথন এবং বিচারপতির ই-মেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করবার পরবর্তী সময়ে এই মামলার একজন রাষ্ট্রপক্ষীয় সাক্ষী মোস্তফা হাওলাদারকে রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা এসে খুন করে চলে গেলেও, সরকার সাক্ষীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বরাবর উদাসীন অবস্থানেই থেকেছেন, যদিও এই ঘটনাগুলোর মধ্যে স্পষ্ট যোগসাজশ রয়েছে বলেই দৃশ্যমান হয়। বিচার বিতর্কিত করবার জন্য এমন বিদেশি ষড়যন্ত্রের সুষ্ঠু প্রতিকার ঘটনার দুই বছর অতিবাহিত হয়ে গেলেও পাওয়া যায়নি যা এই বিচারের নিরাপত্তা তীব্রভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এই রায় কেন্দ্র করে জনমনে যে হতাশা তৈরি হয়েছে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে ঐতিহাসিক গণজাগরণ মঞ্চের যে প্রতিবাদ এবং অবস্থান সেটির মূল দর্শনের সঙ্গে আইসিআরএফ একমত; যদিও আমরা আগেও বলেছি যে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সমঝোতার চলমান ধারণাটি এখন পর্যন্ত আইসিআরএফ-এর কাছে পর্যবেক্ষণমূলক অবস্থায় রয়েছে। গণজাগরণ মঞ্চের এই নৈতিক প্রতিবাদের মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক তাঁদের ওপর যে অত্যাচার, নির্যাতন ও প্রহসনের ঘটনা ঘটেছে সেই ঘটনার তীব্র নিন্দা আমরা জানাচ্ছি। সরকারি কর্তৃপক্ষের এহেন কার্যকলাপ অবশ্যম্ভাবীভাবেই আলোচিত “আঁতাত কিংবা সমঝোতা”-র সন্দেহ আরও বেগবান করে তুলছে বলেই আইসিআরএফ মনে করে।

যদিও আমরা এই রায়ে অত্যন্ত ব্যথিত এবং বিস্মিত, তথাপিও আমরা মনে করি রায় নিরবচ্ছিন্ন রাখাটাই মূলত সরকারের জন্য এখন সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কিংবা এর প্রতি শ্রদ্ধার জায়গার যে বিস্তর ফারাক আমরা দল ভেদে বরাবর দেখতে পাই, সেটি মাথায় রেখেই বর্তমান বাংলাদেশ সরকার সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদের ব্যাপারে মনোযোগী হবেন, এই বিশ্বাস আমরা করতে চাই।

সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে মহামান্য রাষ্ট্রপতির হাতে দণ্ডিতের যে দণ্ড হ্রাসের ক্ষমতা বিদ্যমান সেটির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে দণ্ডিত ব্যক্তির সাজা হ্রাস করবার ক্ষমতা অনতিবিলম্বে লোপ করে সংবিধান সংশোধিত হলেই জনমনে আশার সঞ্চার হবে। সে ক্ষেত্রে সরকার বদলের সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের অপরাধীদের ক্ষমা পাবার যে সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে, তা রহিত হবে এবং সর্বোচ্চ সাজাহীন শাস্তিগুলোর ব্যাপারে একটি চিরনিশ্চয়তার স্থান তৈরি হবে।

সংবিধান পরিবর্তনের পাশাপাশি এই মামলায় কিংবা এই ট্রাইব্যুনালে অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রে যে গাফিলতির প্রশ্ন এসেছে তদন্ত কিংবা প্রসিকিউশন দলের বিরুদ্ধে, সেটির ক্ষেত্রেও একটি শুদ্ধি অভিযান চালানো আবশ্যক বলে আইসিআরএফ মনে করে। বিচার চলাকালীন যে প্রসিকিউটর বা তদন্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে সন্দেহজনক ‘‘নানাবিধ গুজব” রটেছে তাদের বিরুদ্ধেও আবশ্যিকভাবে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।

আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে উল্লিখিত বিষয়গুলোর দিকে লক্ষ্য করবার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

বৃন্দলেখক: [২] লেখকগণ ইন্টারন্যশনাল ক্রাইমস রিসার্চ ফাউন্ডেশন [আইসিআরএফ]-এর সদস্য।

১৪ Comments (Open | Close)

১৪ Comments To "সাঈদীর রায়: কিছু কথা কিছু বাস্তবতা"

#১ Comment By Chandra Bindu On সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৪ @ ১:০৭ অপরাহ্ণ

খুবই আগ্রহোদ্দীপক লেখা। উনারা আন্তর্জাতিক অপরাধ নিয়ে যেসব গবেষণা করেছেন, সেগুলো কোথায় প্রকাশিত হয়েছে?

#২ Comment By salim On সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৪ @ ১:৫৬ অপরাহ্ণ

এখন সরকার ৪৯ ধারা সংশোধন করলে পরবর্তীতে নতুন সরকার এসে আবার তা সংশোধন করবে না এর গ্যারান্টি কোথায়? সংবিধান তো যে কোনো সময় সংশোধন করা যায়।

সুতরাং এসব ফালতু বিষয় নিয়ে গবেষণা না করাই উচিত।

#৩ Comment By sheikh abdur rahim On সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৪ @ ৪:৪১ অপরাহ্ণ

সাঈদী এবং জামায়াতকে ক্ষমতায় যাওয়া বা থাকার জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ব্যবহার করতে অথবা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উগ্রপন্থীদের সঙ্গে কৌশলী আচরণের ফাঁক গলিয়ে এরা (এসব জঘন্য খুনী-ধর্ষক ভণ্ড ধর্মব্যবসায়ীরা) পার পেয়ে যেতে পারে।

সেজন্যই নিবন্ধটিতে রাষ্ট্রপতির সাজা কমানোর ক্ষমতা অন্তত যুদ্ধাপরাধের ক্ষেত্রে সীমিত করে সাংবিধানিক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

#৪ Comment By আরমান ইলাহী সুজন On সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৪ @ ৭:৪৪ অপরাহ্ণ

লেখাটা খুব ভালো লেগেছে। ইন্টারন্যশনাল ক্রাইমস রিসার্চ ফাউন্ডেশনের আরও নানান ভূমিকা দেখেছিলাম ফেসবুক এবং এই ট্রাইবুনালের কিছু বিষয়ের ক্ষেত্রে। মন থেকে তাদের কর্মকাণ্ডে সাধুবাদ জানাই।

ICRF দীর্ঘজীবী হবে, এই কামনা করছি।

#৫ Comment By Chandra Bindu On সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৪ @ ২:৫৩ অপরাহ্ণ

আরমান ইলাহী সুজন,

আপনি সম্ভবত ICSF এর গবেষণা পড়েছেন। ICRF ভিন্ন সংগঠন এবং আনকোরা নতুন।

#৬ Comment By আরমান ইলাহী সুজন On সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৪ @ ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ

Chandra Bindu,

আপনি যাদের গবেষণার কথা বলছেন ঐ অর্গানাইজেশনের নাম শুনেছিলাম স্কাইপি কেলেংকারির সময়, ২০১৩ সালের শুরুর দিকে। তারপর আর তাদের গবেষণা-টবেষণা পড়ার ইচ্ছা মরে গেছে। ওই সংগঠনের বেশ কয়েকজন জড়িত ছিল বলে শুনেছি।

International Crimes Research Foundation (ICRF) হতে পারে নতুন কিন্তু কয়েক দিন আগেও স্টিফেন র‍্যাপকে নিয়ে তাদের প্রতিবাদ খুব কার্যকরী হয়েছিল। আর তাদের অনেক সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বিষয়ক অনেক গবেষণা পড়ার সৌভাগ্য হয়েছে ইতোপূর্বে ব্লগে ও ফেসবুকে।

কিন্তু, ভাই, একটা জিনিস বুঝলাম না যে, আপনি হঠাৎ করে আমার মুখে তুলে দেবার চেষ্টা করছেন একটা সংগঠনের নাম। আমি তো জেনে-বুঝেই লিখেছি, ঠিক নয় কি?

ICRF দীর্ঘজীবী হোক। সামনের সময়ে ICRF এর কাছে আমাদের আমজনতার অনেক চাওয়া।

#৭ Comment By বাঙালী.বাংলাদেশী On সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৪ @ ১:০৮ পূর্বাহ্ণ

কোনো অসুবিধা নেই… হয়তো আরও বড় অপমানের অপঘাতে এই ধর্ষণকারী খুনীকে দুনিয়া থেকে চলে যেতে হবে… আমি এমনটাও বিশ্বাস করি।

আল্লাহ সর্বশক্তিমান যখন যা চান সেভাবেই ঘটে। তাঁর মাজেজা দেখে বুঝে বিশ্বাস আরও দৃঢ় করার অনেক উপায় আছে।

নিশ্চয়ই তিনিই আরও ভালো জানেন…

#৮ Comment By আব্দুস সবুর On সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৪ @ ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

সম্পূর্ণ সহমত।

আজকাল প্রাণদণ্ডের পরিবর্তে দীর্ঘ মেয়াদে (৪০/৫০/১০০ বছর তথা অবশিষ্ট জীবনকাল ) জেল দেওয়া হচ্ছে এ ধরনের কুলাঙ্গার খুনি ধর্ষক বদমাইশদের– প্রায় সব উন্নত বিশ্বে যা দেখা যায়। আমরা নিজেদের উন্নত দাবি করতে হলে বুঝেশুনে এ ধরনের একটা উপায় বের করে নিতে হবে; তবে নিশ্চয়তা থাকতে হবে পরবর্তীতে কেউ যেন সাজা কমাতে না পারে।

এ ধরনের সাজার বৈশিষ্ট্য হল, অপরাধীকে তিলে তিলে মারা এবং অন্য সবাইকে তা দেখিয়ে দেওয়া যাতে এদের অনুসৃত পথ কেউ অনুসরণ না করে!

আমাদের দেশে প্রচলিত হয়ে আসছিল যাবজ্জীবন (অর্থাৎ মাত্র ১৪ বছর জেল) অথবা ফাঁসি– খুব বড় মাপের অপরাধীদের এই দুটির যে কোনো একটি দেওয়া হলে বিতর্কের সুযোগ থাকে; কারণ পক্ষ-বিপক্ষ তো থাকতেই পারে!

এসবের মাঝামাঝি অবস্থানে গিয়ে সম্মানিত ট্রাইব্যুনাল গোলাম আযম, সাঈদী, আবদুল আলীম (সম্প্রতি পরলোকগত)সহ কতিপয় যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসি বা ১৪ বছরের যাবজ্জীবন না দিয়ে, ‘অবশিষ্ট জীবনকাল জেল’ দিয়েছেন।

এখন আমাদের উচিত, উপযুক্ত সাংবিধানিক বিধান দ্বারা এই রায়ের সুরক্ষা করা– প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করে ‘অবশিষ্ট জীবনকাল জেলভোগী’ -দের সাজা কমানোর সুযোগ চিরতরে রোধ করা।

#৯ Comment By ashraful islam On অক্টোবর ৪, ২০১৪ @ ৩:০৩ অপরাহ্ণ

সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে বিনীত অনুরোধ করছি, যাতে ভবিষ্যতে শীর্ষ অপরাধীদের সাজা কমাতে কেউ রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করতে না পারে।

#১০ Comment By তমাল On সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৪ @ ১:৩৯ অপরাহ্ণ

১.

লেখাটার তিন নং প্যারায় আপনারা বলছেন, জনমনের ‘জোরালো সন্দেহ দানা বেঁধেছে, সে প্রেক্ষিতে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে উপনীত’ হননি। ঠিক বুঝলাম না, কী সিদ্ধান্তের কথা বলছেন? সন্দেহ আপনাদের ভাষায় ‘জোরালো’ হলেই সেটা কি সন্দেহের সত্যতা সম্পর্কে কোনো বস্তুগত ভিত্তি তৈরি করে? একটা সন্দেহ ক্ষীণ বা জোরালো এটা দিয়ে কি কোনো বিষয়ে অবজেকটিভ হওয়া যায়? আপনাদের কাছ থেকে বরং সে সন্দেহের কোনো সারবেত্তা আছে কিনা, না থাকলে এমন সন্দেহের বিপদজনক দিক কী সেটা নিয়ে আলোকপাত করা উচিত নয়?

২.

৪ নং প্যারায় বলছেন,’সরকার তাদের প্রসিকিউটরবৃন্দ ও তদন্ত সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে আশানুরূপ সাফল্য দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে এই মামলার বিভিন্ন স্তরে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রয়োজনে যে দলিল, তথ্য, প্রমাণ ও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা অপরিহার্য ছিল সেগুলোর কোনো কিছুই আমরা যথাযথভাবে দেখতে পাইনি।’

এটা কি ‘উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে’ চাপানোর মতো হয়ে গেল না? দলিল, তথ্য, প্রমাণ উদ্ধারের দায়িত্ব তো তদন সংস্থার। তাহলে প্রসিকিউটর এবং তদন্ত সংস্থাকে একই সরল রেখায় দাঁড় করিয়ে দায়ী করাটা কি যৌক্তিক?

৩.

৫ নং প্যারায় আপনারা দাবি করছেন, ‘তখনই বস্তুত এই মামলাটির হীনদশা সম্পূর্ণভাবে আমাদের বোধগম্য হয়েছিল।’

তা, তখনই যদি আপনাদের বোধগম্য হয়ে থাকে সেটা কোথায় প্রকাশ করেছিলেন? এ সংক্রান্তে কোনো সচেতনতামূলক প্রচারণা কি করেছিলেন?

৪.

৬ নং প্যারায় এসে স্কাইপের প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন। যদিও এটার দায় ট্রাইব্যুনাল বা বিচারপতির উপর যায় না, তবু বিচারকে সমালোচনার উর্ধ্বে তুলে ধরার জন্য মাননীয় বিচারপতি তখন পদত্যাগ করেছিলেন। এটা ঠিক যে, এ হ্যাকিংএর সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা দরকার। কিন্তু আপনাদের টার্গেট শুধু দুইজনের দিকে কেন? এর সঙ্গে যে জামাত জড়িত সেটা কি আপনারা মনে করেন না?

তাহলে বিচারবিরোধী যে শক্তি হ্যাকিংএ জড়িত তাদের বিচারের দাবিই তো তোলা দরকার? আপনারা তাদের ওয়াকওভার দিচ্ছেন কেন, জানতে পারি? ইনিয়ে বিনিয়ে কাউকে টার্গেট করছেন, আবার যারা অপরাধী তাদের ওয়াকওভার দিচ্ছেন? উদ্দেশ্যমূলক হয়ে গেল না ব্যাপারটা?

বিচার চাই, শাস্তি চাই, যুদ্ধাপরাধীমুক্ত দেশ চাই। স্বাধীন দেশে রাজাকার, আল-বদরদের ঠাই নেই।

জয় বাংলা।

#১১ Comment By Alhaj A.S.M. Wahidul Islam On সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৪ @ ৭:৫২ অপরাহ্ণ

১৯৮১ সালের কথা। আমি তখন চন্দ্রঘোনা কর্ণফুলী পেপার মিল (কে পি এম) স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ি। একদিন আমাদের পরিচিত, বরিশালের এক আনসার কমান্ডার আমাকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে যান তার ক্যাম্পে। কর্ণফুলী নদীর তীরে পেপার মিলের সঙ্গে ছিল সেই আনসার ক্যাম্প। আমি যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার রুমের জানালা খুলে দেন। আর সঙ্গে সঙ্গে কর্ণফুলী নদীর বাতাস প্রচণ্ড গতিতে ভিতরে প্রবেশ করে। জানালা দিয়ে নদীও দেখা যাচ্ছে। সে এক মনোরম পরিবেশ।

তখন তিনি চেঞ্জার (ক্যাসেট প্লেয়ার) নিয়ে এসে টেবিলের উপর রেখে চালু করে আমার পাশে বসে যান। আমি মনে করেছিলাম কোনো জনপ্রিয় গানের ক্যাসেট। কিন্তু এ কী! ওয়াজের ক্যাসেট। চমৎকার কণ্ঠস্বর। সে স্বরের উঠানামায় শরীরের লোমকূপ দাঁড়িয়ে যায়। এর আগে কখনও এমন ক্যাসেট শুনিনি।

আনসার কমান্ডার আমার মনোভাব বুঝতে পেরে নিজ থেকেই বললেন, ‘‘ইনি হলেন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। প্রখ্যাত মুফাসসের। আমি তার একজন ভক্ত।’’

এরপর ১৯৮৭ সালে ঢাকা কলেজে পড়ার সময় মিরপুরের কাজীপাড়ায় আমার বোনের বাসায় থাকতাম। ঐ সময় কলেজে যাওয়া-আসার পথের হোটেলে প্রায়ই দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ক্যাসেটে বাজানো ওয়াজ কানে আসত। সম্ভবত সেই সময় তার লেটেস্ট ক্যাসেট ছিল কাদিয়ানি-বিরোধী। তাই সব জায়গায় শুনতাম, বিশেষ করে হোটেলগুলোতে তার কাদিয়ানি-বিরোধী ওয়াজ।

ঐ সময় আমি আহমদীয়াত নিয়ে গবেষণা করছিলাম। যার ফলে আমি বুঝতে পারছিলাম যে, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ইমাম মাহদী ও মসিহ মাওউদ (আ:) দাবীকারী মির্যা গোলাম আহমদ সম্পর্কে মিথ্যা কথা বানিয়ে বানিয়ে বেশ রসালোভাবে বলছিলেন। বিশেষ করে মির্যা সাহেব পায়খানায় পড়ে মারা গেছেন এবং এই মিথ্যার সঙ্গে আরও একটু রসালোভাবে তিনদিন মির্যা সাহেব পায়খানায় পড়েছিলেন বলে হাসি-তামাশা করেছিলেন!

ইমাম মাহদী ও মসীহ মাওউদ (আ:)-এর সঙ্গে আল্লাহ ওয়াদা করেছেন যে, তাকে অপমান যে করবে তিনি তাকে অপমানিত করবেন। কিন্তু তার কোনো লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি না। বরং ক্রমান্বয়ে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। দিন দিন তার ওয়াজের টাকার পরিমাণও বাড়ছে। মানুষ পাগলের মতো তার দিকে ছুটছে। যত টাকাই লাগুক নিজ এলাকায় তাকে ভাড়া করে নিয়ে যেতে হবে।

এতে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ওয়াজ ব্যবসা যেমন প্রসার লাভ করেছে, সঙ্গে সঙ্গে যারা তাকে ভাড়া করে নিচ্ছে তাদেরও কিছু আয় হচ্ছে।

২০১০ সালের ২৯ জুন সাঈদীকে গ্রেফতারের পর থেকে ইমাম মাহদী ও মসীহ মাওউদ (আ:)-এর সঙ্গে আল্লাহর ওয়াদা পূরণ হওয়ার সুস্পষ্ট নিদর্শন দেখতে পাই। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কুকীর্তি ধরা পড়তে থাকে।

১৯৭১ সালে এ জন্য পিররোজপুরে সে ’দেইল্লা রাজাকার’ নামে পরিচিত ছিল। এক সময়ে লঞ্চে-গাড়িতে তাবিজ বিক্রি করে বেড়াত। ১৯৭১ সালে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, নির্যাতন ও ধর্মান্তরে বাধ্য করার অপরাধে অপরাধী হয় সাঈদী। দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় ’দেইল্লা রাজাকার’ মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়ে নিজ এলাকা থেকে বোরকা পরে পালিয়ে যায়। পত্রিকা, বই, ইন্টারনেট-এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ লোক সে কথা জানতে পারে। এর থেকে বড় অপমান কী হতে পারে!

মেয়েদের সঙ্গে তার নোংরা কথোপকথন ইন্টারনেটের মাধ্যমে সারা বিশ্ব জেনে যায়। যদিও বাংলাদেশের পত্রপত্রিকায় তা প্রকাশিত হয়নি।

৭৪ বছর বয়সী সাঈদী বর্তমানে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। ২০১০ সালের ২৯ জুন থেকে কারাবন্দি তিনি। তবে এর মধ্যে মা ও ছেলের মৃত্যুর পর, দুই দফায় কয়েক ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছিলেন। এর থেকে করুণ দৃশ্য আর কী হতে পারে!

পিরোজপুরে সাক্ষীকে রাতের আঁধারে হত্যা করে মৃত্যুদণ্ড থেকে রক্ষা পেলেও, স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে থাকতে হবে। অর্থাৎ আমৃত্যু জেলখানায়। হয়তো এর মাধ্যমে আমাদের জন্য আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে আরও নিদর্শন অপেক্ষা করছে।

কাজেই আমরা অপেক্ষায় থাকলাম…

#১২ Comment By সুলতান শেখ On নভেম্ভর ১৫, ২০১৬ @ ১০:২৯ অপরাহ্ণ

ভাই পক্ষে না বিপক্ষে লিখলেন কিছুই ত বুঝলাম না

#১৩ Comment By M. Mahmood Hossain, Mamun On জুন ২৩, ২০১৬ @ ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ

Those who have not seen ’71, very difficult for them to think the situation. At that ’71, when we were could not live in the house, moving in a remote to remote village for saving life, sitting under a tree, wanted to put our self inside tree. More, we were thinking – why we are Bangai – why not a tree. If we became a tree, Pakistani Soldier would not hit us. We could live with our Father, Mother, family.

#১৪ Comment By মোহাম্মদ খাইরুল বশর On নভেম্ভর ১৪, ২০১৬ @ ১১:০২ পূর্বাহ্ণ

আমজনতা, আমজনতা। আমজনতার বক্তব্য বুঝা যাবে গণভোটে যদিও এসময়ে সুষ্ঠু গণভোট আমজনতা আশাও করেনা। তাহলে গণমানুষের মতের প্রতিফলনটা কোথায়? গণজাগরণ নিশ্চয় আমজনতার প্রতিফলক না। সন্দেহ হলে কষ্ট করে বেশী না দশজন খেটে খাওয়া মানুষের মত নিয়েন যেটা নিজেই করা যাবে। তাই সাহসী হলে সুষ্ঠু গণভোটের আয়োজনে সোচ্চার হোন- যুদ্ধপরাধ বিচার বিষয়ে, রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বিষয়ে, অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বিষয়ে। তাত্ত্বিকতা অনেক করা যায় সত্যকে মানার হৃদয়ের সাহসিকতা কজনের আছে???