Feature Img
ছবি. মুস্তাফিজ মামুন
ছবি. মুস্তাফিজ মামুন

আমাদের দেশে এখন আভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বেশ ক’টি চালু হয়েছে। সম্প্রতি নতুন একটি  আভ্যন্তরীণ বিমানের ফ্লাইট চালু হবার জন্যে অন্যান্য বিমানগুলো প্যাসেঞ্জারের পকেট কাটার ব্যবসা থেকে নিজেদের একটু সামলে নেবার চেষ্টা করছে! আগে যেখানে বিমানে যশোর যাতায়াত করতে লাগত আট হাজার টাকা, এখন সেখানে যাতায়াত করতে লাগছে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা। এক রাতের ভেতরেই তিনহাজার টাকা কম হয়ে গেছে। আমরা নিরীহ প্যাসেঞ্জাররা বুঝতে পারি সুযোগ পেলে সব কোম্পানিই জনগণের পকেট কাটতে তৎপর।

তবে এসব দুঃখের কথা থাক। কারণ এসব দুঃখের কোন ফয়সালা নেই। আগেও কোনদিন ছিল না, এখনও নেই। বর্তমানে বিমান ভাড়া একটু কমলেও পরে দুই কোম্পানির যখন গোপন আঁতাত হয়ে যাবে তখন আবারও বিমানে আভ্যন্তরীণ যাতায়াতের ভাড়া বেড়ে যাবে। সে সময়ের জন্যেও আমরা মনে মনে প্রস্তুতি নিচ্ছি!

আজ আমরা বিশেষ একটি ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে এই লেখাটি লিখছি, সেটা হল নতুন এই বিমান কোম্পানিটির এয়ার হোস্টেসদের পোশাক। তারা দুই ধরনের পোশাক চালু করেছে বিমানবালাদের জন্যে। একটা হল গ্রাউন্ড হোস্টেসদের পোশাক, আরেকটা আকাশে উড্ডীয়মান এয়ার হোস্টেসদের পোশাক।
গ্রাউন্ডহোস্টেসদের পোশাকের ব্যাপারে আমাদের কিছু বলার নেই। কারণ সত্যিকার অর্থে সেই পোশাকটি দেখতে খুবই সুন্দর এবং রুচিশীল। পোশাকটি হল শাড়ি। শাড়ি আমাদের দেশের মেয়েদের জাতীয় পোশাক। ফলে সব বিমান কোম্পানি, কী আভ্যন্তরীণ বা কী আন্তর্জাতিক, সকলেই তাদের বিমানবালাদের পোশাক রেখেছে শাড়ি। কিন্তু  বর্তমানে এই নতুন আভ্যন্তরীণ বিমানটি তাদের বিমানবালাদের আকাশে উড্ডীয়মান পোশাক দিয়েছে প্যান্টশার্ট এবং কোট, যেটা সত্যিকার অর্থে আমাদের দেশের আভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের সাথে একেবারে বেমানান। এমনকি বিদেশে উড্ডীয়মান বাংলাদেশী বিমানবালার জন্যেও বেমানান।  কারণ এই পোশাক আমাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করে না।

তবে চাকরির জন্যে মানুষ করতে পারে না কি। সুতরাং এসব বিমানবালাদের হয়ত বলার কিছু নেই। কিংবা হয়ত বলার ইচ্ছাও নেই। আজকাল দেশের মেয়েরা বিদেশী পোশাক যেমন পাকিস্তানি পোশাক সালোয়ার কামিজে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এমনইভাবে অভ্যস্ত হয়েছে যে এই সালোয়ার কামিজই আমাদের জাতীয় পোশাকের স্থান অধিকার করে নিচ্ছে ধীরে ধীরে। দশ বছর পরে শুনব যে সালোয়ার কামিজই আমাদের জাতীয় পোশাক। পাকিস্তানি মনোভাবের বাংলাদেশী সরকারগুলো তাদের শাসনকালের সময় আমাদের দেশের নার্সদের শরীর থেকেও খুলে নিয়েছে শাড়ি, তার বদলে পরিয়েছে তাদের সালোয়ার কামিজ, যে কামিজের অন্তরালে মৃত্যু হয়েছে মমতাময়ী নার্সের।  সেই সালোয়ার কামিজের ওপর তারা চাপিয়ে দিয়েছে ডাক্তারদের এ্যাপ্রন, ফলে কে যে নার্স আর কে যে ডাক্তার মাঝে মাঝে ভুল হয়ে যায়। নার্সকে ভুল করে ডাক্তার বললে হয়ত সে খুশিই হয়, কিন্তু ডাক্তারকে ভুল করে নার্স বললে তখন ঝামেলা বাঁধে। তাই নার্সদের আবার শাড়ি পরাতে গেলে ’সংবিধান’ সংশোধন করতে হবে।

ওদিকে আবার ভারতের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনও আমাদের মেয়েদের ভেতরে সালোয়ার কামিজবোধ জাগিয়ে তুলেছে, কারণ তারাও চায় না যে আমরা শাড়ি পরে বাঙালি থেকে যাই। মোটকথা আমাদের ভেতর থেকে বাঙালিবোধ যত দ্রুত শেষ হবে ততই তারা অর্থাৎ ভারত এবং পাকিস্তান খুশি হবে। কারণ বাঙালি অর্থই হল ‘‘ঝামেলাকারী’’। আমাদের হয়ত ধারণাও নেই পাকিস্তান এবং ভারতের ভেতরে আপাত দৃষ্টিতে বৈরীতা থাকলেও ভেতরে ভেতরে তাদের কত মিল, কারণ তারা মোটামুটি একই ভাষায় কথা বলে। একজন হিন্দিঅলা আর একজন উর্দুঅলার ভেতরে প্রাণের সখ্য। এটা দেখা যায় যখন ভারতে বিভিন্ন দেশের মানুষেরা সম্মেলন করতে যান। ভাষা এমন একটি জিনিস যা ভাইরাসের চেওে দ্রুতগতিতে মানুষের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে। যেসব বাঙালি কোনদিন বিদেশে থেকেছেন তারাই আমাদের কথা অনুধাবন করতে পারবেন।

এতসব কথা বলার পর এটাও ঠিক কথা যে আমাদের পুলিশ বাহিনীতে মেয়েদের পোষাক সময়োপযুক্ত। তাদের কাজের ধরন তাদের পোশাক নির্ধারণ করেছে।  বিশেষ করে আমাদের মত অস্থির একটি দেশের জন্যে মেয়ে পুলিশের পোশাক যতদূর সম্ভব আঁটসাট হওয়া প্রয়োজন। কারণ রাস্তাঘাটে বা বাইরের অভিযানের জন্যে তাদের সর্বদাই প্রস্তুত থাতে হয়।  এটা তাদের কর্মক্ষেত্রের উপযুক্ত পোশাক। কিন্তু বিমানবালাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা গ্রাউন্ডেই থাকুন আর আকাশেই উড়ুন, শাড়ি হচ্ছে তাদের উপযুক্ত পোশাক। কারণ দেশের এক ধরনের প্রতিভূ হয়ে যাচ্ছেন তারা। একথা হয়ত আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে যে কোন দেশের সংস্কৃতি কিন্তু মেয়েরাই ধরে রাখেন। বাংলাদেশী হিসাবে আমাদের নিজেদের কিছু সংস্কৃতি আছে, ষেখানে শাড়ি একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে।

চারপাশে আমাদের সমাজে মা দাদিরা যতই সালোয়ার কামিজ পরে ঘোরেন না কেন, আমরা আমাদের দেশনেত্রীদের সালোয়ার কামিজে চোখে দেখতে চাই না।  কারণ সালোয়ার কামিজ আমাদের দেশের সংস্কৃতি নয়। আমাদের কৃষ্টি এবং ঐতিহ্যের ভেতরে সালোয়ার কামিজ মিসফিট। এজন্যে দেখবেন রবীন্দ্রসঙ্গীত কেউ বাইরে গাইতে গেলে তারা শাড়ি পরেই গানটি গান, সালোয়ার কামিজ পরে গান না। অন্তত এখন পর্যন্ত গাননি।  সমাজ এবং পরিবেশের সাথে সমতা রেখেই আমরা চলতে চাই। এমন কোন কিছু ঠিক সেই পরিবেশের সাথে খাপ খায় না আমরা করতে চাই না। আমরা দেখতে চাই না যে সংসদ নেতা সাজেদা চৌধুরী, বা মতিয়া চৌধুরী বা বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া বা আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাল্লু দেয়া সালোয়ার কামিজ পরে সংসদে আসছেন। তারা বাড়িতে যা ইচ্ছা পরুন, কিন্তু বাইরে যখন দেশনেতা হয়ে যাবেন অবশ্যই আমরা তাদের আমাদের দেশীয় পোশাক শাড়িতেই দেখতে চাইবো, খোট্টাদের পোশাকে নয়, অবশ্যই নয়।

এই নতুন বিমানটির এয়ার হোস্টেসদের পোশাক প্যান্টশার্ট করার পেছনে বিমান কোম্পনির খুব সূক্ষ্ম একটি গোপন বাসনা কাজ করছে বলে আমাদের সন্দেহ হয়। আর সেটি হল নারীর শরীরকে ভিন্নভাবে প্রদর্শন করা এবং ভিন্ন একটি প্রেক্ষিতে পুরুষ প্যাসেঞ্জারদের সমুখে তাদের তুলে ধরা। যার পেছনে মূল কারণ হচ্ছে প্যাসেঞ্জারের সংখ্যা বাড়ানো দ্রুত হারে। এবং অন্য বিমান কোম্পনিদের বুড়ো আঙুল দেখানো। উদ্দেশ্যমূলক ভাবে করা যে কোন কাজই সমালোচনার সুযোগ তৈরি করে। সেইদিন তো আর নেই, যখন এয়ার হোস্টেসদের আদেশ দেয়া হত প্যাসেঞ্জারদের মনোরঞ্জনের জন্যে।  ‘‘টি, কফি অর মি.. ’’ এই ছিল তখনকার বিমান কোম্পানিগুলোর বিমানবালাদের দিয়ে কাস্টমার বা প্যাসেঞ্জার আকৃষ্ট করার স্লোগান। নারীকে তখন চা ও কফির সাথে সমগোত্রের বলে স্লোগান দেয়া হত। নারীকে পণ্য হিসাবে গণ্য করে সেটাই ছিল বোধহয় নির্লজ্জ একটি স্লোগান। এয়ার হোস্টেসরা সেসব দিনে বেয়াদব প্যাসেঞ্জারদের দৌরাত্ম অনেক সহ্য করেছেন।

অনেক এয়ার হোস্টেস প্যাসেঞ্জারদের অসভ্য ব্যবহার সহ্য করতে না পেরে চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে এয়ারহোস্টেসদের জন্যে সেসব বিভীষিকাময় দিনগুলো গত হয়েছে। নারীর দেহ এবং চেহারা দেখিয়ে প্যাসেঞ্জার মনোরঞ্জন করা বন্ধ হয়েছে। এমনকি আমি কিছুদিন আগে একজন গর্ভবতী এয়ার হোস্টেসকেও বিদেশী ফ্লাইটে কাজ করতে দেখেছি খুব গাম্ভীর্যের সাথে। এবং খুব মর্যাদার সাথে। তারা এখন বিবাহিত জীবন যাপন করতে পারেন। আগের মত নিজের বিয়ে এবং সংসার করাটাকে আর অবৈধ মনে হয় না!  বিমান কোম্পানির নজর এড়িয়ে স্বামী সন্তানের সাথে সম্পর্ক রাখতে হয় না।

পুরুষ প্যাসেঞ্জারদের ব্যবহারও সেই অনুপাতে এখন অনেক শালীন। এমনকি কোন ফাজিল পুরুষ বিমানে উঠে মদ খেয়ে এয়ার হোস্টেসকে উত্যক্ত করলে সঙ্গে সঙ্গে কো পাইলট বা পার্সার এসে হাজির হন এবং প্যাসেঞ্জারকে সংযত হতে উপদেশ দেন। কখনও বা প্যাসেঞ্জারদের ধমক দিতেও দেখেছি। সুতরাং দিনকাল অবশ্যই পাল্টে গেছে। মানুষের মন মানসিকতা পাল্টে গেছে।  মেয়েদের ভেতরে আত্মসম্মানবোধ বেড়েছে। তারা এখন সমাজের পুরুষের অশালীন ব্যবহারের প্রতিবাদ করতে শিখেছে। সুতরাং নারীদেহ প্রদর্শনী করে এখন আর কেউ পুরুষের মনোরঞ্জনে আগ্রহী নয়। বিমানবালাদের পুরুষের পোশাক পরিয়ে ভিন্ন প্রেক্ষিতের যৌন সুড়সুড়ি দেবার প্রবণতা আমরা মেয়েরা খুব খারাপ চোখে দেখছি। জানিনে পুরুষেরা কীভাবে এটাকে দেখছেন। প্রতিটা দেশের নিজস্ব একটি ইমেজ আছে। সেই ইমেজের সাথে বিমানবালাদের প্যান্ট শার্ট পরানোটা কতখানি যৌক্তিক সেটা বিমান কোম্পানিকে ভেবে দেখতে বলব। ডিউটি শেষে বিমানবালারা প্যান্ট শার্ট কেন, ইচ্ছে হলে লুঙি গেঞ্জি পরে বাড়ি ফিরে যান বা রাস্তায় ঘোরেন, সেটা আমরা না দেখার ভান করবো। এবং সেটা তাদের নিজস্ব রুচি এবং ইচ্ছে।  কিন্তু ফর্মাল ডিউটি করার সময় তাদের আমরা আবহমান কালের বাংলার শাড়িতেই দেখতে পছন্দ করি।

আশা করি বিমান কোম্পানি এটা ভেবে দেখবেন।
১০/১২/১০

ফেসবুক লিংক । মতামত-বিশ্লেষণ

৪৭ Responses -- “বিমানবালার পোশাক”

  1. এ কে এম ফজলুল হক

    পোশাক নিয়ে যা লিখেছেন তাতে আমি যা বুঝি তা হল, সমাজ-স্বীকৃত পোশাক পরিধান করাই উত্তম। মেয়েরা সাধারণত নিজ দায়িত্বে পরাধীন থাকে। যেমন, কোনো ভদ্র এক মহিলা হাই হিল পরে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন এবং একই সঙ্গে আঁটসাট জুতা পরে আরেকজন ভদ্রমহিলা একই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন। এখন একজন ছিনতাইকারী তার ছিনতাইকাজের সফলতার জন্য হাইহিলওয়ালা মহিলাকে বাছাই করবে। তারপর আক্রান্ত মহিলা বলতে পারে যে, মেয়েমানুষ পেয়ে ছিনতাই করল। আসলে ভেবে দেখতে হবে বিষয়টা কী।

    সে রকম সমাজে দুষ্ট পুরুষ ৫০০ বছর বা ১০০০ বছর আগ্ওে ছিল। আগামীতেও থাকবে। এখন সে দুষ্টদের হাত থেকে রক্ষার জন্য পোশাক একটি বিষয় হতে পারে। এখন নারী স্বাধীনতার নামে যদি কেউ আজেবাজে পোশাক পরিধান করে আক্রান্ত হয় এবং যদি বলে আমার নারী স্বাধীনতা পুরুষেরা নিয়ে গেছে, এ ক্ষেত্রে ভেবে দেখা দরকার যে, একজন দুষ্ট লোক সব সময়ই দুষ্ট এবং সেই দুষ্ট লোকটার কারণে সমাজের সকল পুরুষ খারাপ নয়। কিন্তু সেই দুষ্ট লোকের হাত থেকে রক্ষার জন্য যদি একজন নারী পোশাকের দিকে নজর দেন তাতে নারী স্বাধীনতা বিনষ্ট হয় না।

    নারী স্বাধীনতা তখনই বিনষ্ট হবে যখন সমাজের একজন ভালো পুরুষ দ্বারা নারী ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    Reply
  2. abu eusuf mia

    অজস্র ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা আনোয়ারা সৈয়দ হককে। এমন একটি সময়োপযোগী লেখা আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য। আমি নিজেও এ অপসংস্কৃতির শিকার। আর এখানে শাড়ি পরার বিষয়ে যেসব অরুচিকর প্রসঙ্গের অবতারণা করা হয়েছে তা আলোচনার বাইরের বিষয়।
    শ্রদ্ধেয় লেখিকা যে বাঙালির জাতীয় সংস্কৃতির এবং জাতীয় পরিচিতির কথা বলছেন তা হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।

    Reply
  3. tapu

    ম্যাডাম প্রথমেই দুঃখিত খারাপভাবে দুএকটা কথা বলার জন্য। আপনিই বলেছেন গ্রাউন্ড হোস্টেসদের পোশাক শাড়ি। কোম্পানীর উদ্যেশ্য যদি শরীর দেখানো হতো এখানেও শাড়ি না দিয়ে শার্ট প্যান্ট দিতে পারতো। উদ্যেশ্য যাই হোক আপনার ভাবনায় নিরাপত্তার বিষয়টা আসা দরকার ছিল।

    Reply
  4. Fatima Shanta15 Dec,2010

    I strongly oppose writer’s view because Sari as a dress make women more vulnerable.Women can’t move freely by wearing sari. Even it is a dress which exposes women body in a more erotic order.Present is a time for change. it is better for us to adapt with change,otherwise human survival will be in a threat of vanish.

    Reply
  5. Sabur Khan

    In real the passenger has no time to watch the body of air hostages due to the short time of travel as well as their own hectic. The dress of Air hostages have to be as per INTERNATIONAL STANDARDS and safe to perform their duty, then the national heritage.

    Reply
  6. Nakib

    To the writer,

    Culture is not an eternal constant. Define culture first. Then define what you mean by “Bangali culture”.

    Safety should be the first issue here, not YOUR sense of fashion, or cultural values. If you don’t like to see an air-hostess in her uniform, you always have the option to ask assistance from a male steward. Have you ever considered how a person wearing “Shaari” can use a parachute?

    Resisting change is a clear sign of fundamentalism. Yes, fundamentalists come in various forms – religious, cultural, or both.

    And I don’t think Robindronath wrote in his will that his songs should only be sung by women in Sharis. Having pride in your own “culture” doesn’t necessarily require you to insult other’s.

    Also, just because YOU don’t like the uniform doesn’t provide enough reason for the companies to change the dress-code. If, hypothetically, I say that I hate to see naked bellies of women, would you stop wearing Sharis? I don’t think so.

    However, I admire the fact that you have shared your opinion on the issue.

    Thank you for the article.

    Have a nice day!

    🙂

    Reply
  7. Shawon

    Its ok to wear Salwar-kamij or Pant-shirt in some situation though sari makes an women more beautiful but it has to be considered,on a plane they may have to wear them as safety issue.. I vote for Pant-shirt on plane…

    Reply
  8. reja

    ১.কথায় কথায় ভারত/পাকিস্তান বিরোধিতা করতে পারলেই আমরা ভালো মানের লেখক বনে যাই সতি আবার কোটি টাকা খরচ করে ভারতীয় মানুষের অনুষ্ঠানে গিয়ে আদর চাওয়াটা মেনে নিতে, মেনে নিতে পারিনা কেবল সময়ের দাবিটা। ৬০ বছর আগে তো মেয়েদের লেখাপড়া করাটাও আমাদের সমাজে বেমানান ছিল। তাই বলে কি এখনকার মেয়েরা ৬০ বছর আগেকার মেয়েদের মতো হবে………সময়ের দাবিটা মেনে চলাটাই নবীননতা .

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      কিসের মধ্যে কি, শুটকি মাঘে ঘি! আনোয়ারা সৈয়দ হক লিখেছেন দুটি বিষয়ে, এক: নারীকে পণ্যরূপে ব্যবহার করার ব্যবসায়িক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে, যা আমাদের তথা সমস্ত বিশের নারীদের শালীন পোষাক কোড নিয়ে, দ্বিতীয়ত, আমাদের নিজেদের সংস্কৃতিকে ধারণ ও বিকশিত করা। পাকিস্তান ভারত প্রসঙ্গ এই কারনেই এসেছে। তিনি সঠিকভাবেই লক্ষ্য করেছেন যে শেলোয়ার কামিজ বহুল প্রচলিত হয়ে উঠছে। এর আরেকটি কারন হচ্ছে ওয়াহাবী পন্থী জামাতীরা প্রচার করে যে শাড়ি পড়লে জমিন, নারীর নগ্নতা দেখে ফেলে। অতএব চালাও শেলোয়ার কামিজ। তো মাননীয় রেজা, এই পাকিস্তান ভারতের নাম উল্লেখ করাতেই আপনার জিগরে কেনো এত চোট লাগলো, তা বের করতে হবে। আনোয়ারা সৈয়দ হক যথার্থই বলেছেন যে পাকিস্তানী-ভারতীয়রা অন্তত: বিদেশে এক বা কাছাকাছি ভাষার কারনে তারা এককাট্টা! বাঙ্গালী বিরোধিতা ভারত-পাকিস্তানের সব অবাঙ্গালীর ঐতিহাসিকভাবে একই হুক্কা হুয়া!

      Reply
      • maruf

        মি: সৈয়দ আলী, আপনার মতামতও লেখিকার মতন আ্ক্রমনাত্নক। এতো জাতীয়তাবাদী এই বৈশ্বায়নের যুগে তবে যান না ধুতি লুংগী পড়ে অফিসে। কে ঠেকায় আপনাকে। কলার পাতায় ভাত খেলেও কেউ কিছু মনে করবে না। আপনাদের মতন কট্টর সংস্কৃতিপ্রেমীরা নিজের যতোটুকু পরিবর্তন ঠিক ততোটুকু মেনে নিয়ে যেমন ভন্ডামীর পরিচয় দেন তেমনি সংকৃতির সংস্কৃতি জিকির তুলে জাতিকে পিছনের দিকে ঠেলে রাখেন। আপনি যতোটুকু সৈয়দ পদবীর জন্য লেখিকার (লেখিকার পদবীও সৈয়দ) সমর্থন করছেন সম্ভবত ঠিক ততোটুকু দরদ রেজা সাহেবের ভারত পাকিস্তানের প্রতি থাকলেও থাকতে পারে। খামোখা এতোটা উত্তেজিত হবেন না pls.

    • মোঃ নবীউল করিম(সমাজ)

      সৈয়দ সাহেব কেন অযথা ধর্মকে টানছেন?দয়া করে প্রাসংগিক হোন…….ধর্ম ব্যপারে আপনি যে বিশষজ্ঞ তা পরিষকার…..আর মারুফ সাহেব, অন্যকে মত প্রকাশ করতে দেওয়া এবং অন্যের মতকে অসম্মান না করাটাই যে আধুনিকতা তা জেনেও কেন শুধু শুধু তরক ভাই……সম্মানিত লেখিকাকে ধন্যবাদ চমৎকার লেখার জন্য…..শালীন ও অশালীন ব্যাপারটা বোধকরি আপেক্ষিক…..তবে কখনো কখনো অনেক শারি পরিহিতাকে দেখে নিমনাংঙ্গে কম্পন শুরু হয়, যেমন আমাদের দেশী প্রায় সব shirt আর pant পরিহিতাকে দেখলেও….আবার অনেক শারি পরিহিতাকে দেখে খুবই ভালো লাগে,সম্মান করতে মন চায়……আসলে শারি পরতে জানলে ভালো(খুব কম জনই তা জানে)না জানলে এর চেয়ে বশী vulgar বাংলা ২ নম্বর গানের নাচানাচিও না……আর সংস্কৃতির কথা?তা কতো বছর আগে এটা আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়েছে? বাঙ্গালী সংস্কৃতিটা আসলে কী?এটা কি সংস্কৃত থেকে আসা নয়?যেমন হিনদু ও ঊর্দূও তো একই সংস্কৃত থেকে আসা?তবে????? আমাদেরকে বিবর্তন মানতেই হবে সম্মানিত লেখিকা…….তবে অবশ্যই আমাদেরকে সতর্ক লক্ষ্য রাখতে হবে কোন উদ্দেশ্যে এই pant ও shirt পরানো……দু’টা জিনিস খুবই প্রনীধানযোগ্য,এক,আমরা যা দেখে এবং জেনে অভ্যসত তার অন্যথা হলেই মানতে পারিনা আর দুই,আমাদের ধর্ম আর কর্ম( সংস্কৃতির) একদম বিপরীতমুখী……ধর্ম আর কর্ম(সংস্কৃতি)যদি একই হতো তাহলে এই conflict হতো না……… Dialectical materialism বুঝলে এটা বুঝা সহজ হবে বোধ করি…….ক্ষমা করবেন কোন ভুল হলে…….

      Reply
  9. atikul islam

    নিরাপততার কারনে বিমানবালাদের পোশাক শাড়ী হওয়া উচিত নয়। শাড়ী পরে পেরাসুট জামপ দেওয়া যায় না। পেনট শারট অনেক নিরাপদ। নিরাপততার বিষয় লেখিকা চিনতা করে নাই।

    Reply
    • mahbub

      যাত্রিবাহী বিমানে ক্রুদের জন্য প্যারাসুট থাকে জানতাম না তো ।ভাই যাত্রিদের জন্য ও থাকে নাকি । তা হলে তো সবার আর্মি আউট ফিট পরে বিমানে চড়া উচিত বলা যায় না কখন পেরাসুট জাম্প দিতে হয়

      Reply
      • Marina Nazneen

        প্লেন কখনও ক্র্যাশ করলে প্যারাসুটের প্রয়োজন পড়ে। আমি, আপনি বা যাত্রীরা প্রতিদিন ভ্রমণ করি না। তাই বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভাবতে হয় না। কিন্তু এয়ার হোস্টেসদের এটা জব, রেগুলার তাদের আকাশভ্রমণ করতে হয়। তাই নিরাপত্তার ইস্যুটা এসেই যায়।

    • পাভেল

      তাহলে কি শাড়ি পরে বিমান ভ্রমণ নিষিদ্ধ করতে হবে এখন?

      Reply
  10. Riaz Sharif

    pant-shirt porlei je shorir dekhano hobe,ei kothar shathe ami di-mot prokash korchi.

    pant-shirt+coat porle shorir borong kom dekha jabar kotha karon pant+shirt+coat r jeans+t-shirt er moddhe bepok parthokko.

    onno dik theke sharee porle borong meyeder ajkal beshi sexy lage karon onekei hata kata blouse+tissue sharee pore.sharee pore navir onek niche and blouse eto choto je sharee r navir majhe durotto onek.
    amar nijer oviggota theke bolchi,ajkal meyera party te jevabe sharee pore jay tate beshi akorshonio(sexy) lage.

    tobe lekhika jodi bangladesher culture er jonne sharee porte bole thaken,shekhane amio ekmot kintu shei sharee+blouse hote hobe shalin.

    Reply
  11. রাসেন

    লেখাটা ভাল। কিন্তু দেশের সমস্যার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এটার মূল্য খুবই সামান্য। দেশে এই মুহুর্তে বহু গুরুতর সমস্যা রয়েছে। সেগুলো বাদ দিয়ে এ মুহুর্তে শাড়ী চুড়ির মধ্যে ঢুকে যাওয়া খুব জরুরী নয়। তাছাড়া সংস্কৃতি কখনো static নয়। এটা সময় এবং প্রয়োজনের খাতিরে বদলায়। শার্ট প্যান্টকে বাংলা সংস্কুতির শত্রূ ভাবা একরকম fundamentalism যেটা সুখকর নয়। আর শাট প্যান্টের সংগে শালীনতা অশালীনতার যে সম্পর্ক, শাড়ীর সংগেও ঠিক একই রকম সম্পর্ক। শাড়ী পরেও যেমন অশালীন হওয়া যায় ঠিক তেমনি শার্ট পরেও শালীন থাকা যায়। সংস্কৃতি নিয়ে এ ধরনের গোড়ামী থাকা ঠিক নয়। আজ থেকে ১০০ বছর আগে বাংগালী সংস্কৃতি এখনকার মতো ছিল না। সময়ের সাথে পাল্টিয়ে বাংলা সংস্কৃতি যদি এখনকার পর্যায়ে আসতে পারে তবে বাঙলা সংস্কৃতি শার্ট প্যান্টের সংগেও মানিয়ে নিতে পারবে। কস্ট পাবার কোন কারন নেই।

    Reply
  12. Common sense

    Totally disagree with the writer.

    Sharee may be our cultural heritage but that doesn’t mean we have to adhere to that fanatically. We do not wear animal skinn anymore, do we? Things change, culture changes. Just go back only 500 years and see what our ladies used to wear.

    I am not an expert but judging from my frequent air travels, I feel that saree is not the most easy dress, especially when the flight enters into an Air Pocket.

    It is very much unfortunate to infer that wearing shirt and pant is a revealing attire. This is complete disrespect to 80% of working ladies around the world. I have been a frequent traveler and have been exposed to many types of dresses of women. I never found any particular one offensive. It is the one wearing makes all the difference. If you do not believe me, take a latest edition of Sananda or go to any high profile ladies fashion house. You will find plenty of examples of ladies wearing sarees which is not adhering to our culture.

    It is absolutely offensive to call any dress as “Khottader Dress”. If you don’t show respect to others, can you expect that from others?

    Reply
  13. Amin

    খুবই চমৎকার এবং বাস্তব লেখা। কিন্তু লেখকের অনুভুতি কয়জন বাঙ্গালীর মধ্যে আছে ?

    Reply
  14. Bangladeshi

    সুন্দর মতামতের জন্য লেখিকা কে ধন্যবাদ।আশা করি বিমান কোম্পানি এটা ভেবে দেখবেন।

    Reply
  15. akasher Taraguli

    খুবই সময়োপযোগী সুন্দর লেখা, লেখিকাকে অনেক ধন্যবাদ।

    আশা করি বিমান কোম্পানি এটা ভেবে দেখবেন।

    Reply
  16. Mafiul

    সালোয়ার কামিজ আমাদের দেশের সংস্কৃতি নয়….
    disagree: culture is always changeable. Bangladeshi culture was not established in one day. By thousand years we mixed up with different cultures and people and with time, we made up out one. It’s an automatic process. For an example, few thousand years back when Bangle Language was not exactly the same as we found in our book today, we used to talk in different kind of Bangle Language. With time the language changed it self, and get written version. And now we have kind of solid one. But it must be noticed, what ever we are saying right form of Bangle did not exist when Bangle couture was start beginning. But obviously we are to telling we are practicing wrong bangle, because change is so obvious in language, culture and dress up.

    Reply
  17. Babu

    বিমান-বালাদের পোশাক যে শর্ট স্কার্ট করা হয়নি এইততো বহুৎ! যে হারে আমরা নারীর শরীর দেখিয়ে ব্যবসা করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছি তাতে হয়ত অচিরেই এদের পোশাক হবে স্কার্ট। ধন্যবাদ, শাড়ির প্রতি মমত্ব প্রকাশ করার জন্য।

    Reply
  18. NIPU

    আজ সব জায়গায়ই নারী দেহের ব্যবহার হয়… TV, Advertise, Newspaper সব জায়গায়……………..তাই এতে আর অবাক হবার কি আছে………Its very simple

    Reply
  19. মারজু

    এত প্রতিক্রিয়া(সু)শীলতা নিয়ে কি করে চলবে বাংলাদেশ !
    একটা পোশাক কি করে কোনো দেশের হয়?
    সালোয়ার কামিজ ‘পাকিস্তানি পোশাক’! সারা ভারত জুড়েও ত মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত এই সালোয়ার কামিজ-ই পড়ে।

    প্রিয় ম্যাডাম!
    বাঙালি নারী তো রনাঙ্গনে ঘোড়ায় সওয়ার হয়নি। তার ওটা দরকার হয়নি। তার শাড়িতেই চলতো। কিন্তু কর্মজীবনের ঘোড়ার পিঠে দুই পা ওয়ালা ওই সালোয়ারই ফিট।
    বাঙালির অর্থনৈতিক যাত্রার কিম্বা বৈষয়িক উন্নতির অংশ হিসাবে তো এই আকাশযান তৈরি হয় নি। কাজেই বাঙালির ‘কৃষ্টি কালচার’ এর সাথে বিমান তো ‘মিসফিট’ই বটে। আর গ্রাউন্ডহোস্টেসদের বাইরে যারা ইনফ্লাইট দায়িত্ব পালন করেন, তাদের জন্য শাড়ি খুবই অসুবিধাজনক পোশাক। (বিপদের সময় তো মহা মুশকিলের পোশাক এই শাড়ি।)কোট প্যান্ট অনেক দুরদেশের হলে আপনার যদি অপসন্দ হয় তবে সালোয়ার কামিজের সুপারিশ করতে পারেন ইনফ্লাইট ক্রুদের জন্য।

    Reply
    • bipu

      বাঙগালী সংস্কৃতি যদি প্যান্ট ছেড়ে শাড়ীর মধ্যে ঢুকে পড়ে তবে ম্যাডাম আপনিসহ কোন বাংগালীর আর উড়োজাহাজে চড়া হবে না, সারা জীবন নৌকাতেই চড়তে হবে। এটাওতো বিদেশের আবিস্কার। কাজেই একবার যখন উড়োজাহাজে উঠেই পড়েছেন তখন শার্ট প্যান্ট পড়ে দেখেন না এই বয়সেও খারাপ লাগবে না।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—