Feature Img

Nasim_Ferdousযুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ড ফাউন্ডেশন ও ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় ১৯৬১ সালে ঢাকায় একটি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম এবং বহুদিন দেশের একমাত্র গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ ছিল। এর অবকাঠামো, শিক্ষার কারিকুলাম ও শিক্ষক নিয়োগের কাঠামো ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের গার্হস্থ্য অর্থনীতি শিক্ষার ধারায় প্রণীত হয়।

গার্হস্থ্য অর্থনীতি বায়োলজিক্যাল বিজ্ঞানের অধীনে পড়ে। এটি এমন একটি ডিসিপ্লিন যেখানে বহু পাঠ্যবিষয়ের সমন্বয় ঘটেছে। তৎকালীন বাংলাদেশের শিক্ষানীতির ধারাবাহিকতায় এই কলেজে তিনটি ধাপ ছিল। যথা– দু’বছরের এইচএসসি, দু’বছরের বিএসসি এবং সর্বশেষে দু’বছরের এমএসসি।

গার্হস্থ্য অর্থনীতি বায়োলজিক্যাল বিজ্ঞানের অধীনে পড়ে, এটি এমন ডিসিপ্লিন যেখানে বহু পাঠ্যবিষয়ের সমন্বয় ঘটেছে
গার্হস্থ্য অর্থনীতি বায়োলজিক্যাল বিজ্ঞানের অধীনে পড়ে, এটি এমন ডিসিপ্লিন যেখানে বহু পাঠ্যবিষয়ের সমন্বয় ঘটেছে

গার্হস্থ্য অর্থনীতি বহুপাঠবিশিষ্ট ডিসিপ্লিন হওয়াতে এই কলেজের ডিগ্রি ও মাস্টার্স কারিকুলামে যে সকল মূল বিষয় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে গৃহায়ণ ও গৃহ ব্যবস্থাপনা (Home Management), শিশু বিকাশ ও পারিবারিক সম্পর্ক (Child Development & Family Relations), বস্ত্রপরিচ্ছদ ও বয়ন শিল্প (Clothing & Textile), খাদ্য ও পুষ্টি (Food & Nutrition) এবং ব্যবহারিক শিল্পকলা (Related Arts)।

এই প্রাথমিক ছয়টি বিষয়ের অন্তর্ভূক্ত ছিল আরও অনেকগুলো বিষয়; যেমন রসায়ন, জীববিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান, অর্থনীতি, বায়োকেমিস্ট্রি, ফিজিওলোজি ইত্যাদি। এ সকল বিষয়ের সমন্বয়ে গঠিত হয় গার্হস্থ্য অর্থনীতি শিক্ষাধারা।

আমার মনে পড়ে, আমি যখন এই কলেজ থেকে পাশ করে প্রথম বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন আমাকে আমার এক শুভাকাঙ্ক্ষী বলেছিলেন, তুমি তো ‘সকল বিষয়ের সবজান্তা, কোনো বিষয়ের মাস্টার না’… তুমি কি করে বিসিএস পরীক্ষা দিবে?

আজ প্রায় চল্লিশ বছর পর মনে হয় সেই ‘সবজান্তা’ বিদ্যা সবচেয়ে বেশি কাজে লেগেছে আমার জীবনে। একটি বিশেষ বিষয় আলোকিত হয়ে বাকি সব বিষয়ে অন্ধ থাকার চেয়ে, সব বিষয়ে একটু বেশি আলোকিত হয়ে একটি বিষয়ে মাস্টার হওয়া অনেক ভালো নয় কি?

আমার জীবনে যা কিছু অর্জন তার প্রায় সবটার সঙ্গে বার বার এই ‘সবজান্তা’ কথাটার মিল খুঁজে পাই। আমরা যারা মূলধারার গার্হস্থ্য অর্থনীতি পড়েছি, তারা জীবনকে একটু ভিন্নধারায় দেখি এবং পরিচালনা করতে পারি বলে আমার দৃঢ়বিশ্বাস। আমি আমার শিক্ষকবৃন্দ ও ফোর্ড ফাউন্ডেশনের মিস বনির কাছে ঋণী। আমাদের সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত মিস বনি ছিলেন কলেজের অ্যাডমিনিসট্রেটর।

দুঃখের বিষয় হচ্ছে, গত দুই দশক ধরে এই কলেজের উন্নতির নামে ধাপে ধাপে অবনতি ঘটেছে
দুঃখের বিষয় হচ্ছে, গত দুই দশক ধরে এই কলেজের উন্নতির নামে ধাপে ধাপে অবনতি ঘটেছে

কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, গত দুই দশক ধরে এই কলেজের উন্নতির নামে ধাপে ধাপে অবনতি ঘটেছে। ১৯৮৫-৮৬ সালে স্নাতক সম্মান এবং ১ বছরের স্নাতকোত্তর কোর্স চালু করার মাধ্যমে এই ডিসিপ্লিনের মূলধারার শিক্ষাকে পাঁচ ভাগে ভাগ করে প্রতিটি বিষয়ে অনার্স চালু করা হয়। যার ফলশ্রুতিতে আজকে এই কলেজে পাঁচটি ভিন্ন বিষয় একক শিক্ষাদানের মাধ্যমে মূলধারার শিক্ষাটি বিনিষ্ট হয়ে গেছে। বিশেষ করে যেখানে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের বড় অভাব।

এই বিভাজন কোনো সময়ই কোনো কর্তৃপক্ষ অনুমোদন করেছেন বলে জানা নেই। বরং বিভিন্ন সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা ডাইরেক্টরেটে সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে কলেজ কর্তৃপক্ষকে বার বার সতর্ক করেছেন বলে জানা যায়। কিন্তু তাতে টনক নড়েনি কারও। পর্যায়ক্রমে এক ভুলের উপর আরেক ভুল করে কলেজের শিক্ষাব্যবস্থাটিকে আরও ঘোলাটে করা হয়েছে।

গার্হস্থ্য অর্থনীতিকে যে পাঁচটি ডিপার্টমেন্টে পরিণত করা হয়েছে সে সকল বিষয়ে অন্যান্য জায়গায় সমমানের ডিগ্রি নেওয়া সম্ভব। যেমন, খাদ্য ও পুষ্টির জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, ক্লোদিং অ্যান্ড টেক্সটাইলেরর জন্য রয়েছে টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অন্তর্ভূক্ত আছে শিশু বিকাশ।

মজার ব্যপার হল, দেশের একমাত্র গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজটিকে ভেঙে টুকরো করার প্রক্রিয়া যখন শুরু হয়, প্রায় একই সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কলেজে গার্হস্থ্য অর্থনীতি একটি সমন্নিত বিষয় হিসেবে চালু করা হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আরেকটি নতুন গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজও চালু হয়। এছাড়া ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা কলেজে (পাস ও স্নাতক) এবং রাজশাহীর মাদার বক্স কলেজ গার্হস্থ্য অর্থনীতিকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করে।

তাই প্রশ্ন জাগে, কেন ঢাকার প্রথম গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজকে ধীরে ধীরে ভেঙে টুকরো করে ধংসের পথে ঢেলে দেওয়া হচ্ছে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারের অনুমোদন ছাড়া এই বিভাজনের কারণে কলেজে নানাবিধ, বিশেষ করে, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক জটিলতাও সৃষ্টি হয়েছে। এর চেয়ে বড় দুঃখ হচ্ছে, এই কলেজের ছাত্রীরা তাদের অজান্তে ভীষণভাবে ঠকে গেছে। তারা একটি দৃশ্যমান শিক্ষা থেকে সরে এসে একটি ‘সরু দৃষ্টির’ শিক্ষার শিকার। তাদের ডিগ্রি দুর্বল। তারা মাত্র একটি বিষয় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন, কিন্তু গার্হস্থ্য অর্থনীতির মূলধারার যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করেন না।

মূলত যারা খাদ্য ও পুষ্টি পড়েন, তারা এ বিষয়ের বাইরে গার্হস্থ্য অর্থনীতির অন্যান্য বিষয়ে খুবই সীমিত জ্ঞান রাখেন। তাই এ কলেজ থেকে পাশ্চাত্য দেশে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে উচ্চশিক্ষা লাভের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

এই কলেজ থেকে পাশ্চাত্য দেশে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে উচ্চশিক্ষা লাভের পথ বন্ধ হয়ে গেছে
এই কলেজ থেকে পাশ্চাত্য দেশে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে উচ্চশিক্ষা লাভের পথ বন্ধ হয়ে গেছে

গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা অন্যান্য কলেজসমূহের মতোই একটি উপাদানকল্প কলেজ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাদানকল্প আরেকটি কলেজ। একবার ভেবে দেখুন, ডিএমসি যদি বহু পাঠ্যবিষয়ে সমন্বিত এমবিবিএসকে ভেঙে শুধুমাত্র অ্যানাটমিতে স্নাতক (সমমান) ডিগ্রি প্রদান করত, তাহলে কী হত? আমরা কি একজন সম্পূর্ণ তৈরি ডাক্তার পেতাম?

আমরা পেতাম অ্যানাটমি বিশেষজ্ঞ, প্যাথলজি বিশেষজ্ঞ ইত্যাদি। সৌভাগ্যবান বাংলাদেশি যে এখনও একজন সম্পূর্ণ ডাক্তারের চিকিৎসা পায়, যিনি কলেজ থেকে প্রথমে সম্মিলিতভাবে সকল প্রয়োজনীয় বিষয়ে অধ্যায়ন করে এমবিবিএস পাশ করেন, তারপর প্রয়োজনবোধে বিশেষজ্ঞ হওয়ার জন্য একটি বিষয়ে অধ্যয়ন করেন। গার্হস্থ্য অর্থনীতি এ রকমই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেখানে সামগ্রিক শিক্ষা প্রদান তার প্রধান লক্ষ্য।

তবে যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গার্হস্থ্য অর্থনীতির কিছু বিষয়ে বিশেষজ্ঞ তৈরির দাবি অযৌক্তিক নয়। কিন্তু সেটা সঠিকভাবে প্রণীত হতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কীভাবে পড়ানো হয় তার দিকে নজর দিলে বিষয়টি পরিস্কার হবে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজগুলোতে মূলধারার শিক্ষার প্রচলন এখনও সিংহভাগ।

এসব ক্ষেত্রে স্নাতক কারিকুলামের ৭০ শতাংশ কোর্স মূলধারায় প্রণীত আর ৩০ শতাংশ বিশেষায়িত। অর্থাৎ স্নাতক পর্যায়ে মূল পাঁচটি বিষয়ই অন্তর্ভূক্ত। তবে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ১০০ ভাগই বিশেষায়িত বিষয়ে কোর্স নির্ধারণ করা হয়। সমগ্র বিশ্বে যে কোনো কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ অথবা বিএস করতে হলে চার বছরের মূলধারার শিক্ষা গ্রহণ বাধ্যতামূলক। তারপর আসে বিশেষায়িত শিক্ষা।

ঢাকার গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজকে যদি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে নিতে হয় তাহলে অবশ্যই বর্তমান শিক্ষাধারাকে আবারও ঢেলে সাজাতে হবে। এই ঢেলে সাজানো নিম্নরূপ হতে পারে, যেমনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (IER) এ চালু আছে।

বিএসসি সমমান ডিগ্রি লাভের জন্য চার বছরের প্রথম দু’বছর সামগ্রিক একটি কারিকুলাম থাকবে। পরবর্তী দু’বছর একটি সামগ্রিক শিক্ষা ধারায় চলমান থাকতে পারে। এতে শুধুমাত্র বিএসসি (গার্হস্থ্য অর্থনীতি) ডিগ্রি দেওয়া হবে। অথবা এই দ্বিতীয় অংশের দু’বছরে বিশেষায়িত শিক্ষা বেছে নেবার অপশন থাকতে পারে। একটি বিষয়ে ‘মেজর’ এবং একটি বিষয়ে ‘মাইনর’ করার সুযোগ থাকতে পারে। অথবা শেষের দু’বছরে দুটি বিষয়ে মেজর করার সম্ভাবনাও রাখা যেতে পারে।

গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা অন্যান্য কলেজসমূহের মতোই একটি উপাদানকল্প কলেজ
গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা অন্যান্য কলেজসমূহের মতোই একটি উপাদানকল্প কলেজ

এ ধরনের নানা মিশ্রণ দ্বারা স্নাতক ও স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি দেওয়া যেতে পারে। এতে একজন ছাত্রী একটি অসম্পূর্ণ শিক্ষা থেকে রেহাই পাবেন এবং পাশ করা ছাত্রীদের চাকরির সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। আবার ক্রেডিট ট্রান্সফার করে বিদেশে অধ্যায়নের সুযোগ পুনঃস্থাপন হবে।

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে জটিলতারও অবসান ঘটবে। সকল শিক্ষকের সকল বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান থাকার কারণে তারা স্নাতক পর্যায়ে সব বিষয়ে পড়াতে পারবেন। এছাড়া তার নিজের বিশেষায়িত স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকলে তিনি সে বিষয়েও পড়াতে পারবেন।

এভাবে এই কলেজকে অনেক সমৃদ্ধ, সম্প্রসারিত এবং সত্যিকারের ঐতিহ্যবাহী কলেজে পরিণত করা সম্ভব। প্রয়োজন শুধু ব্যতিক্রমধর্মী চিন্তার যা আনতে পারে কলেজের এবং ছাত্রীসমাজের জন্য সুফল।

এ ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে যাতে সকল সৃষ্ট জটিলতার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বমানের শিক্ষা প্রদান করে আবারও গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ মাথা সোজা করে দাঁড়াতে পারে। এই কলেজ থেকে পাশ করা ছাত্রীরা শিক্ষকতা ছাড়াও অন্য সকল প্রতিযোগিতামূলক ও সম্ভাবনাময় চাকরি পেতে পারেন।

নাসিম ফেরদৌস: প্রাক্তন ছাত্রী, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ; সাবেক সচিব, বাংলাদেশ সরকার।

১৫ Responses -- “ঐতিহ্যবাহী গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ কি বিলুপ্তির পথে”

  1. নৈমি

    অনেকেই দেখলাম সমন্বিত গার্হস্থ্য অর্থনীতির মাহাত্ম বয়ান করছেন। বলছেন যে বিশেষায়িত কোর্স বাংলাদেশের বাইরে অচল। চলুন ইন্টারনেটে ঘেঁটে দেখা যাক আপনাদের ধারণার সত্যতা–

    *পাকিস্তানের এই কলেজটি ফোর্ড ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত–

    http://chek.edu.pk/

    *ভারতের সবচেয়ে নামকরা গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ–

    http://www.ihe-du.com/

    *এবার ওকলাহামা বিশ্ববিদ্যালয় যারা এদেশে বিষয়টির সূচনাকারী–

    http://humansciences.okstate.edu/

    দেখুন তো, কোথায় আপনাদের সমন্বিত গার্হস্থ্য অর্থনীতি পড়ানো হয়?

    কোথাও না…

    Reply
  2. Nasima, Home Economics Post Graduate, Eden College

    হোম ইকনোমিক্স কলেজে বিশেষায়িত বিষয়ে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রস্তুতির বিষয়টি সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আমাদের নজরে এসেছে। নাসিম ম্যাডামের লেখাটি পড়েছি প্রথম দিনই। অনেক প্রতিক্রিয়া থাকলেও তা প্রকাশের তাগিদ বোধ করিনি ততটা। এখন নিয়োগ বিষয়টি এসে পড়ায় সবকিছু একেবারে আমাদের ঘাড়ে এসে পড়েছে। তাই প্রতিক্রিয়া জানাতেই হয়।

    আমাদের শিক্ষক ও বড়রা আমাদের ভালোমন্দ ভাববেন ও অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করবেন, এটাই আমাদের চাওয়া। তবে এতসব অনিয়ম হচ্ছে কেমন করে? হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত নিয়ে কেউ ভাবছেন না বা কেউ ছিনিমিনি খেলছেন, তা কেমন করে হয়?

    বিশ-পঁচিশ বছর ধরে হোম ইকনোমিক্স শিক্ষা ও এ বিষয়ে সরকারি নিয়োগে নানা অনিয়ম ও অব্যস্থাপনা চলে আসছে বলে শুনতে পাচ্ছি। সিনিয়রদের থেকে জেনেছি যে, ব্যক্তিগত সুবিধার জন্যে গোঁজামিল দিয়ে এ সব অন্যায়-অনিয়মের জন্ম। এসবের সূত্র ধরেে বিশ-পঁচিশ বছর ধরেই গোঁজামিল দিয়ে পাবলিক সার্ভিস কমিশন নিয়োগের ক্ষেত্রে সমন্বিত গার্হস্থ্য অর্থনীতি ও এর বিশেষায়িত (যেমন খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান, গৃহ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি) বিষয়ে সনদধারীদের সমান সুযোগ দিয়ে আসছিল।

    সমন্বিত গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে সনদধারীরা যেমন জানতেন, তেমনি এর বিশেষায়িত (যেমন খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান, গৃহ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি) বিষয়ে সনদধারীরাও বুঝতেন যে, সূক্ষ মূল্যায়নে এ দুটি এক নয়। দুঃখের বিষয়, ১৯৮৫-৮৬ সাল থেকে সরকারি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা ছাড়া ও শোনা যায় যে শিক্ষা প্রশাসনের অনুমতি না নিয়েই সেখান থেকে সমন্বিত গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিষয়টি বিলোপ করে নতুন বিশেষায়িত (যেমন খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান, গৃহ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি) বিষয়ে নতুন ধারার কোর্স প্রবর্তন করে।

    তবে সরকারি ইডেন কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা কলেজসহ অন্যান্য কলেজে সমন্বিত গার্হস্থ্য অর্থনীতির প্রচলিত শিক্ষাধারাটি বলবৎ থাকে। ফলে দুটি ভিন্ন কারিকুলামে গার্হস্থ্য অর্থনীতি নামে শিক্ষাধারার প্রচলন হয়।

    জানা যায় যে, সে সময়েই অভিজ্ঞ শিক্ষকদের একাংশ, বিশেষ করে যারা মূলধারার গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিষয়ে শিক্ষিত ও সরকারি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজেরই শিক্ষার্থী ছিলেন, এ সংক্রান্ত জটিলতা অাঁচ করে এর বিরোধিতা করেন। তবে তাদের অধিকাংশই সরকারি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের বাইরে কর্মে নিয়োজিত থাকায় সরকারি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে কর্মরতদের সঙ্গে কৌশলগত শক্তিতে পেরে ওঠেন না।

    দুর্ভাগ্যজনক যে, এমনও অভিযোগ পাওয়া যায় যে সরকারি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে তৎকালীন শিক্ষাকর্মে নিয়োজিতদের প্রভাবশালী অংশ আদৌ মূলধারার গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিষয়ে শিক্ষিত ও সনদধারী না হওয়ায়, নিজেদের শিক্ষাগত বিষয়ে কোর্স প্রচলন করে মূলধারার গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিষয়টি অবলোপনে উৎসাহী হন।

    তবে সরকারি শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ ক্ষেত্রে উভয় ধারায় শিক্ষিতদের সমান সুযোগ থাকায় এ বিষযে এতদিন কেউ গা করেননি। তবে এবার পূর্ব-ষড়যন্ত্রের দ্বিতীয় ধাপে এসে সুদুরপ্রসারী কৌশলের যে আলামত পাওয়া যাচ্ছে তাতে বসে থাকা যায না।

    এতদিন গার্হস্থ্য অর্থনীতির কিছু অংশ পড়ে সরকারি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ থেকে বিশেষায়িত শাখায় পাশ করা শিক্ষার্থীরা নিয়োগ ক্ষেত্রে গার্হস্থ্য অর্থনীতি নামের সুবিধা ভোগ করেছেন। অথচ আজকে সরকারি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে ১৬ টি বিশেষায়িত শাখায় নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট শাখায় শিক্ষাপ্রাপ্তদের উপযুক্ত বিবেচনা করা এবং মূলধারা বা সমন্বিত গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে শিক্ষাপ্রাপ্তদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।

    গার্হস্থ্য অর্থনীতির কিছু অংশ পড়ে এই বিশেষায়িত ধারার শিক্ষার্থীরা যদি গার্হস্থ্য অর্থনীতি নামের সুবিধা ভোগ করতে পারেন, তবে মূলধারা বা সমন্বিত গার্হস্থ্য অর্থনীতি শিক্ষায় তুলনামূলকভাবে বিশেষায়িত শাখায় অধিক অংশ পড়ে প্রাথমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা কেন ভিন্নভাবে বিবেচিত হব? এটা কোন ধরনের মূল্যায়ন?

    তারা সরকারি শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ ক্ষেত্রে আমাদের পাতে ভাগ বসাবেন, আর নিজ নিজ পাতটি আগলে রাখবেন, এ কেমন আবদার?

    এ ধরনের অন্যায় ও অনিয়মকে আমরা মূলধারা বা সমন্বিত গার্হস্থ্য অর্থনীতি শিক্ষায় শিক্ষিতরা অবশ্যই রুখে দাঁড়াব। প্রয়োজনে আমরা এক বৃহত্তর ও অটুট ঐক্যে প্রতিরোধ গড়ে তুলব। বিশেষায়িত ধারার শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে যে, এতদিন আমরা তাদেরকে সহোদর না হলেও ‘কাজিন’ বা একই পরম্পরায় বৃহৎ পরিবারের অংশ গণ্য করতাম। আজ তাদের শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাদের এক ক্ষুদ্র গোষ্ঠীতে পরিণত বা এক রকম একঘরে করে ফেলতে চায়। তাদেরকে বুঝতে হবে যে এভাবে তাদের সরকাররিসহ সকল নিয়োগের ক্ষেত্র নিতান্তই সংকীর্ণ হয়ে পড়তে হবে।

    এমনটি প্রচলিত হলে সরকারি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের বিশেষায়িত শাখায় ১৬ টি পদ ছাড়া তাদের বৃহৎ সরকারি শিক্ষা ক্যাডারে, বেসরকাররি কলেজে (যেখানে মূলধারা বা সমন্বিত গার্হস্থ্য অর্থনীতি শিক্ষাদান করা হয়) ও গার্হস্থ্য অর্থনীতি পূর্ব-যোগ্যতা দাবি করে এমনসব (অন্তত হাজার খানেক) পদে নিয়োগের কোনো সুযোগই খাকবে না।

    এমনকি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজসমূহের বাইরে থেকে যারা এ সব বিশেষায়িত শাখায় শিক্ষা লাভ করেছেন (যেমন, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইএনএফএস ও মনোবিজ্ঞান বিভাগ ইত্যাদি) তারাও এই ১৬টি পদের দাবিদার হবেন। এমনটি হলে একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর সামান্য তাৎক্ষণিক প্রাপ্তি ঘটবে। তবে বিশেষায়িত ধারার শিক্ষার্থীদের বৃহৎ অংশই বিপদগ্রস্ত হবেন দীর্ঘমেয়াদে।

    বুঝতে পারলে এ প্রতিরোধে তারাও শামিল হবেন নিশ্চয়ই।

    Reply
  3. Shahena Akter, Home Economics Teacher

    কলেজ শিক্ষক তানজিলার কথায় একটি ভয়াবহ প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কথাটি খুবই সত্য যে, কোনো একাডেমিক কোর্স না থাকা সত্ত্বেও নার্সারি ও প্রাতিষ্ঠানিক খাদ্য ব্যবস্থাপনায় কেন ক‌্যাডার পদে নিয়োগ দিতে ১৬ তম বিসিএস সুপারিশ করল এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় কোনো যাচাই-বাছাই না করেই তাতে নিয়োগ দিল?

    এর পিছনে কোনো ব্যক্তিস্বার্থ বা ষড়যন্ত্র আছে কিনা এখনই তা তদন্তে আনা দরকার। এ ধরনের নিয়োগ দিয়ে পিএসসি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় যে শুধু দক্ষতা ও ভাবমূর্তির সংকটে পড়ছে তা-ই নয়, বিপাকেও পড়ছে।

    এখন শোনা যাচ্ছে যে, ৩৫ তম বিসিএসে দুটি পদসহ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে ১৬ টি পদ শূন্য দেখিয়ে গার্হস্থ্য অর্থনীতির বদলে বিশেষায়িত শাখার নাম করে প্রার্থিতার আবেদন আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে। এমন হলে তা বিশৃঙ্খলাকে চরমে পৌঁছে দেবে।

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জানা থাকার কথা যে, এই পদগুলোতে গত ২০-২৫ বছর ধরে বিশেষায়িত শাখার নামে নয়, বরং প্রভাষক, গার্হস্থ্য অর্থনীতি নামে পিএসসির সুপারিশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ই প্রার্থীদের নিয়োগ দিয়ে আসছে। সে কারণে এ পদগুলিতে প্রভাষক, গার্হস্থ্য অর্থনীতি নামে নিয়োগপ্রাপ্ত সকলেরই লিয়েনে রয়েছে, যদিও তারা প্রশাসনিক অাদেশে দেশের নানান কর্মস্থলে পদায়ন পেয়ে কর্মরত আছেন।

    এ পদগুলি তাহলে কী করে শূন্য হয়? কলেজ কর্তৃপক্ষ কীভাবে পদগুলিকে শূন্য দেখান বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় কীভাবে পদগুলিতে নিয়োগ দিতে পিএসসিকে অনুরোধ জানায়?

    এভাবে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলায় সবাই কি চুপ করে বা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে? দায়িত্বশীল কেউ এগিয়ে না এলে স্বাভাবিক নিয়মেই ভুক্তভোগীরা নিশ্চয়ই ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হবেন, নিজের স্বার্থরক্ষায় বিচার প্রার্থনাসহ চরম ব্যবস্থা নিতেও পিছ-পা হবেন না। এ্ই বিশৃঙ্খলা গার্হস্থ্য অর্থনীতি শিক্ষাধারা ও শিক্ষাপ্রশাসনকে কতটা অস্থির করে তুলতে পারে তা সংশ্লিষ্ট সকলেরই ভেবে দেখা উচিত।

    কলেজ কর্তৃপক্ষ বা শিক্ষা মন্ত্রণালয় কি এই আসন্ন পরিস্থিতির দায় বহন করতে প্রস্তুত?

    নাসিম ফেরদৌস আপা কিন্তু বিষয়টি মোটেও গুরুত্ব সহকারে আলোচনায় আনেননি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা প্রশাসনকে বিষয়টি জাতীয় স্বার্থেই ব্যাপক আলোচনায় আনতে হবে। বড় ধরনের তালগোল এড়াতে বিষয়টি খুবই জরুরিও মনে করতে হবে।

    গার্হস্থ্য অর্থনীতি শিক্ষাধারা বিলুপ্ত হওয়ার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজটিও যেন অনাকাঙ্ক্ষিত বিভাজন এবং জটিল অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলায় আক্রান্ত হয়ে বিলুপ্তির পথে পা না বাড়ায়।

    সবকিছু ঠিকঠাক করার এখনই বোধহয় শেষ সময়…

    Reply
  4. Nurjahan

    আর্টিকেলটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার দাবি রাখে। একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান এবং একটি জনপ্রিয় জীবন ও সমাজমুখী শিক্ষাধারা বহুদিন ধরে গভীর সংকটে নিমজ্জিত অথচ দায়িত্বে নিয়োজিততের কারও-ই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নেই– বিষয়টি ভাবনার ও উৎকণ্ঠার।

    যে কোনো শিক্ষাধারার অন্তত দুটি ফলশ্রুতি থাকে– এক, জীবন ও সমাজকে সম্বৃদ্ধ করা; দুই, কর্মমুখীনতা। এ দুই চাহিদা মেটাতে গার্হস্থ্য অর্থনীতি অনন্য ও অনবদ্য। আমাদের মতো একটি পরিবারবদ্ধ সমাজের শিক্ষিত সকল নারীই কর্মমুখী হবেন তা আজও বাস্তব নয়।

    তবে পরিবার পরিচালনায় দক্ষ ভূমিকা পালন করে জীবন ও সমাজকে সম্বৃদ্ধ করার দায়িত্ব অনস্বীকার্য। আনুষ্ঠানিক কর্মক্ষেত্রের বাইরে ব্যক্তিজীবন, পরিবার ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষিত নারীরা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অপরিসীম অবদান রাখতে পারেন।

    পরিবার পরিচালনা ও আনুষ্ঠানিক পেশার বাইরে স্বকর্মসংস্থান, খণ্ডকালীন পেশা ইত্যাদি নানাভাবে উচ্চশিক্ষিত নারীরা অর্থনৈতিক ও সেবাখাতে অংশগ্রহণ করে পরিবার ও সমাজকে উন্নত করায় প্রভূত ভূমিকা রাখতে সক্ষম। গার্হস্থ্য অর্থণীতির এই ‘বহুজান্তা’ (সবজান্তা নয়) বহুমুখী সম্ভবনাই শুধু দেশেই নয়, বিশ্বব্যাপী এই শাস্ত্রকে নারীদের মধ্যে এত জনপ্রিয় করে তুলেছিল।

    নবধারায় প্রচলিত বিশেষায়িত শিক্ষা গার্হস্থ্য অর্থণীতির এই সর্বজনীন প্রায়োগিক সম্ভবনা এবং জীবন ও সমাজকে সম্বৃদ্ধ করার সক্ষমতা অবশ্যই খর্ব করেছে। স্নাতক পর্যায়ে বিশেষায়িত শিক্ষায় শিক্ষিতদের কর্মক্ষেত্রও সংকীর্ণ কর তুলেছে।

    তবে লাভটা হল কী? কেউ কি বুঝতে পারছেন না? বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় কী ভেবে ও কী লক্ষ্যে এমন ধারা প্রবর্তনে সায় দিল, কেউ কি বলতে পারবেন?

    Reply
  5. TANJILA,COLLEGE TEACHER

    আমিও নাসিম আপার সঙ্গে একমত যে, গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজটি বিলুপ্তির পথে। যদি তাই না হবে, তবে কীভাবে ১৬ তম বিসিএস পরীক্ষায় এ কলেজে নার্সারি ও প্রাতিষ্ঠানিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিসিএস ক্যাডার পদে শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল? কারণ তখন থেকে আজ পর্যন্ত ওই দুটি বিষয়ে কোনো কোর্স নেই, কোনোদিন একজন ছাত্রীও ভর্তি হয়নি।

    শোনা যাচ্ছে, পিএসসি এ বছরও ওই দুটি বিষয়ে ক্যাডার পদে প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞাপন দিবে। সম্পূর্ণ মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে এ কাজ করা হচ্ছে। কোর্স না থাকলেও সেখানে শিক্ষক নিয়োগ জালিযাতি নয় কি?

    এ বিষয়ে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ব্যবস্থা না নিলে কলেজটিতে অরাজকতা দেখা দিবে।

    Reply
  6. কাজী আহমদ পারভেজ

    আমি একটা বিষয় সম্পর্কেই জানি। সেটা নিয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি।

    বিষয়টা “খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞান”।

    এটা একটা প্রফেশনাল ডিগ্রি হবারই কথা। এর পাঠ্যক্রম এমন হওয়া উচিত যেন তা শেষ করে একজন শিক্ষার্থী নিজেকে একজন পেশাদার পুষ্টিবিদ (নিউট্রিশনিস্ট) বা ডায়েটেশিয়ান হিসেবে দাবি করতে পারেন।

    প্রথম সমস্যা হল, খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞানের পাঠ্যক্রমটি এমনভাবে ডিজাইনড নয় যাতে চার বছরের পড়া শেষ হলে একজন গ্রাজুয়েট অটোমেটিকভাবে নিজেকে স্বতন্ত্র পুষ্টিবিদ বা ডায়েটেশিয়ান হিসেবে দাবি করার মতো কনফিডেন্স পাবেন।

    দ্বিতীয় সমস্যা হল, এই জাতীয় প্রফেশনাল স্বীকৃতি প্রদানের জন্য একটা লাইসেন্সিং বডি থাকা প্রয়োজন। আমাদের এখানে পুষ্টিবিদ বা ডায়েটেশিয়ান হিসেবে কাজ করার জন্যও সেই সেই কাজের গুণগত মানের যথার্থতা রক্ষার জন্য লাইসেন্স প্রদানকারী কোনো কর্তৃপক্ষ আছে কি?

    এখনও খুঁজে পাইনি।

    উন্নত বহু দেশেই তা আছে। আর এটা থাকা জরুরিও। যতটা না পুষ্টিবিদ বা ডায়েটেশিয়ানদের জন্য তার চেয়ে অনেক বেশি ক্লায়েন্টদের স্বার্থরক্ষায়।

    তৃতীয় সমস্যা হল, সরকারি বা অন্য হাসপাতালসমূহে পুষ্টিবিদ বা ডায়েটেশিয়ানের অবস্থান।

    যতদূর জানি, পুষ্টিবিদ হিসেবে নিয়োগ পেতে হলে চিকিৎসক হওয়া বাধ্যতামূলক। খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞানে শুধু অনার্স মাস্টার্সই নয়, পিএইচ-ডি করা থাকলেও কারও জন্য সরকারি হাসপাতালে পুষ্টিবিদ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সম্ভব নয়।

    তাহলে বাকি থাকে একমাত্র ডায়েটেশিয়ানের পদ। সেখানে বিড়ম্বনা হল এটি একটি সাবঅর্ডিনেট, অর্থাৎ দ্বিতীয় গ্রেডের নিযুক্তি। চার বছরের অনার্স ও এক বছরের মাস্টার্স করে যত বড় পুষ্টিবিদ পেশাজীবীই একজন হোক না কেন, তার জন্য অপেক্ষা করছে একটি দ্বিতীয় গ্রেডের নিযুক্তি।

    কেমন যেন খাপছাড়া হয়ে গেল না ব্যাপারটা?

    Reply
  7. samia begum

    গার্হস্থ্য অর্থনীতি শিক্ষাকে আধুনিকীকরণ ও যুগোপযোগীকরণের প্রস্তাবটি আলোচনার দাবি রাখে।

    Reply
  8. samia

    গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের বর্তমান সমস্যা সমাধানের জন্য অনতিবিলম্বে নাসিম ফেরদৌস ম্যাডামের মতো বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে করে পরবর্তীতে কোনো সমস্যা দেখা না দেয়।

    এই পদক্ষেপ নিতে গিয়ে যেন গার্হস্থ্য অর্থনীতি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য নষ্ট না হয় সেদিকে সরকারকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।

    ম্যাডামকে অনেক ধন্যবাদ আন্তরিকতার সঙ্গে গার্হস্থ্য অর্থনীতির সমস্যাটি তুলে ধরার জন্য।

    Reply
  9. ferdousi

    গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে স্নাতক পর্যায়ে মাইনর হিসেবে গার্হস্থ্য অর্থনীতির সকল বিষয় এবং মেজর হিসেবে বিশেষায়িত কোর্সের ওপর গুরুত্ব দিলে, একজন ছাত্রী গার্হস্থ্য অর্থনীতির সম্পূর্ণ শিক্ষা লাভ করবে, পাশ করা ছাত্রীদের চাকরির সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে এবং কলেজে বিভিন্ন বিভাগে বিদ্যমান শিক্ষক নিয়োগ জটিলতা নিরসনে এই শিক্ষা-পদ্ধতি কার্যকর সমাধান আনবে।

    এর ফলে শিক্ষকরা স্নাতক পর্যায়ে গার্হস্থ্য অর্থনীতির সব বিষয় পড়াতে পারবেন। এছাড়া নিজের বিশেষায়িত স্নাতোকত্তর ডিগ্রি থাকলে তিনি সে বিষয়ও পড়াতে পারবেন।

    বর্তমানে যে কোনো একটি বিভাগ থেকে পাশ করে ছাত্রছাত্রীরা চাকরির যে সুযোগ পাচ্ছে, নতুন কার্যক্রম গ্রহণ করলে প্রত্যেক ছাত্রীর জন্য সে সুযোগের দ্বার খুলে যাবে।

    Reply
  10. soniya Begum

    গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে স্নাতক পর্যায়ে ১ম, ২য় ও ৩য় বর্ষে মাইনর হিসেবে গার্হস্থ্য অর্থনীতির সকল বিষয় এবং ৪র্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মেজর কোর্সের ওপর গুরুত্ব দিলে, অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও একজন ছাত্রী গার্হস্থ্য অর্থনীতির প্রকৃত শিক্ষা লাভ করবে এবং পাশ করা ছাত্রীদের চাকরির সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে।

    এ ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, বর্তমানে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে বিভিন্ন বিভাগে বিদ্যমান শিক্ষক নিয়োগ জটিলতা নিরসনে এই শিক্ষা পদ্ধতি কার্যকর সমাধান আনবে। এর ফলে শিক্ষকদের সকল বিষয়ে জ্ঞান থাকার কারণে তারা স্নাতক পর্যায়ে গার্হস্থ্য অর্থনীতির সব বিষয় পড়াতে পারবেন।

    অধিকন্তু তার নিজের বিশেষায়িত স্নাতোকত্তর ডিগ্রি থাকলে তিনি সে বিষয়ও পড়াতে পারবেন।

    Reply
  11. Farzana Chowdhury

    নাসিম ফেরদৌস আপাকে ধন্যবাদ জানাতেই হয়। তিনি শুধু আমার নিজেরই নয়, আমাদের অনেকেরই দীর্ঘদিনের ও গভীর উপলব্ধির কথাটি ব্যাপক আলোচনায় এনেছেন। পুষ্টিবিজ্ঞান, গৃহ-ব্যবস্থাপনা, শিশু বিকাশ ইত্যাদি অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা বাস্তবানুগ শাস্ত্র হলেও, এককভাবে কোনোটিই গার্হস্থ্য অর্থনীতি শাস্ত্রের সমার্থক নয়। বরং এ সকল বিষয় বা শাস্ত্রের পরিমিত সমন্বয়েই গার্হস্থ্য অর্থনীতি শাস্ত্রের উদ্ভব হয়।

    ফলে আলাদা আলাদাভাবে স্নাতক পর্যায়ে পুষ্টিবিজ্ঞান, গৃহ-ব্যবস্থাপনা, শিশু বিকাশ ইত্যাদি বিষয়ে কোর্স চালু করায় গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিষয় বা শাস্ত্রটি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে এক রকম বিলুপ্তই হয়ে গেছে।

    অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিষয়ে কোর্স চালু থাকলেও মূল গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে তা পাঠ্য না হওয়ায় গার্হস্থ্য অর্থনীতির মতো একটি বহুমুখী জ্ঞানসমৃদ্ধ এবং জীবন ও কর্মমুখী একটি পাঠ্যশাস্ত্র আজ অভিভাবকহীন হয়ে অকালমৃত্যুর পথে।

    নাসিম ফেরদৌস আপার পথ ধরে এ বিষয়ের সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকগণ এই অকালমৃত্যুরোধে সমর্থ হবেন বলেই বিশ্বাস।

    সকলকে বৃহত্তর স্বার্থে একতাবদ্ধ হবার আহ্বান রইল।

    Reply
  12. কাজল ভূঁইয়া

    লেখাটি পড়ে খুব ভালো লাগল। গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের প্রাক্তন ছাত্রী হিসেবে বিষয়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমার কাছে। কলেজটি ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাক, তা কখনও কাম্য নয় আমাদের কাছে।

    এটা আপন বৈশিষ্ট্যে অটুট থাকুক, সেই কামনা করি।

    Reply
  13. rezwana

    কিছু মনে করবেন না… যদিও ডিপার্টমেন্ট আলাদা হয়েছে, তবু আমাদের সব বিষয়ে পড়তে হয়। আর এই কলেজ যদি বিলুপ্তির পথেই থাকত, তাহলে আমরা যখন ফ্যাকাল্টির জন্য আন্দোলন করেছিলাম, তখনই আলাদা করে দিত।

    দিন দিন আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হচ্ছে। আপনাদের সময় আপনারা যে শিক্ষা পেয়েছিলেন, তার চেয়ে এখন সুবিধা অনেক গুণ বেশি।

    ‘সবজান্তা’ হতে চাই না… শুধু যেটা জানি তাতেই ‘সেরা’ হতে চাই।

    আর যেহেতু পড়েছি সবই, তাই বাকি বিষয়গুলোর ওপর জ্ঞান তো আছেই….

    Reply
    • Jhuma

      রেজওয়ানা আংশিক সত্য লিখেছেন। আপনারা সবকিছু পড়লে তো অজান্তেই সবজান্তাই হয়ে গেছেন। গার্হস্থ্য অর্থনীতির মূল কারিকুলাম দেখলে বুঝতে পারবেন যে ‘সবকিছু পড়া’র ধারণায় যা পড়েছেন তা হল গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিষয়ের উপাদান বিষয়সমূহের নিতান্তই ‘কিঞ্চিত অংশ’। শিক্ষা সনদে গার্হস্থ্য অর্থনীতি পরিচয় ধারণের জন্য তা যথার্থই ‘পর্যাপ্ত অংশ’ নয়।

      ভেবে দেখবেন, আপনার পরিচিতি না গার্হস্থ্য অর্থনীতি, না আপনার ভাষায়, আপনার বিশেষায়িত ক্ষেত্র। গার্হস্থ্য অর্থনীতি না হয়ে এ পরিচয় বহন করেই আপনি কর্ম বা চাকরি ক্ষেত্রে মূল্যায়িত হচ্ছেন। কর্মক্ষেত্রে গার্হস্থ্য অর্থনীতিই আপনার পরিচয়। এ বিষয়ের জন্য নির্ধারিত পদেই আপনি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিয়োগ পান।

      ‘সবজান্তা’র ধারণাটা অনেকেই বিদ্রুপের চোখে দেখেন। সেরা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা অবশ্যই প্রশংসনীয়। একবার ভেবে দেখুন, জীবন কতটা ব্যাপক ও বহুমাত্রিক ক্ষেত্র। এখানে প্রকৃতার্থে সেরা হতে হলে বহুমাত্রিকতা অর্জন করতে হয়। ক্ষুদ্র গণ্ডিতে যেটুকু সেরা হওয়া যায় তা জীবনকে সমৃদ্ধ করা তো দূরে থাক, সামান্য ছুঁতে পারে মাত্র।

      নাসিম ফেরদৌসের মতো একজন সফল মানুষ এই ব্যাপকধর্মীতার স্বাদ তো পেয়েছেনই বটে, তা দিয়ে জীবনকে সমৃদ্ধও করতে পেরেছেন। তাঁর অনুভূতিটুকু আবেগজাত নয়, বরং বাস্তবপ্রসূত। দিন দিন আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা যে আরও শক্তিশালী হচ্ছে ও আগের চেয়ে এখন সুবিধা অনেক গুণ বেশি, এটুকু তারাই প্রকৃত মূল্যায়ন করতে সক্ষম যারা একাল ওকাল দু’ কালই দেখেছেন।

      সে ক্ষেত্রে নাসিম ফেরদৌসের মূল্যায়ন অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য। যদি গার্হস্থ্য অর্থনীতি আপনার গৌরবের বিষয় হয়ে থাকে, ভাবলে বিহ্বল হবেন যে, আজিমপুরের সেই সর্বজনপরিচিত স্থানটি আজও গার্হস্থ্য অর্থনীতির গৌরবময় নামফলকে দখল রেখেছে।

      অন্তর থেকে গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিলুপ্ত না হলেও উধাও হয়েছে বটে।

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—