Feature Img

kamrul6প্রতিবছর শীতকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জলাশয়গুলো পাখির কল-কাকলিতে ভরে ওঠে। ঢাকা থেকে অনেক পাখিপ্রেমী এ সময়টাতে অতিথি পাখিদের দেখতে সেখানে যান। সুদূর সাইবেরিয়া থেকে কয়েক হাজার কিলোমিটার আকাশপথ পাড়ি দিয়ে উড়ে আসে পাখিগুলো। দূরত্ব চিন্তা করলে এটা অসম্ভব বলেই মনে হয়, পাখিগুলো কী করে দক্ষিণের নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলগুলো খুঁজে পায়, সেও এক বিস্ময়! সাইবেরিয়ার প্রচণ্ড শীত থেকে বাঁচতে অপেক্ষাকৃত উষ্ণ আবহাওয়ামণ্ডলে পাখিগুলো চলে আসে। প্রকৃতিই এই ভ্রমণের রসদ জোগায়। পাসপোর্ট, ভিসার ঝামেলা নেই বলে পাখিরা সহজেই এক দেশ থেকে অন্যদেশে চলে আসতে পারে।

শৈশবে আমাদের গ্রামাঞ্চলে বেশ ঝড়-বৃষ্টি হতে দেখেছি। প্রায়শই দমকা হাওয়ার সাথে বৃষ্টি হত, মাঝে মাঝে ঘূর্ণিঝড়। রেডিওতে প্রায়শই আবহাওয়ার সংবাদে শুনতাম বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়েছে, দেশের নদীবন্দরগুলোকে অত নাম্বার সতর্কসংকেত দেখাতে এবং মাছ ধরার নৌকাগুলোকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হতো। নিম্নচাপকে তখন মনে হত এক বিশাল দৈত্য, যে উপকূলে চোখ রাঙাচ্ছে। ফলতঃ বালকবয়সে নিম্নচাপ নিয়ে কৌতুহলের সীমা-পরিসীমা ছিল না। বড় হয়ে জেনেছি একটি অঞ্চলের বায়ু সূর্যের উত্তাপে হালকা হয়ে উপরে উঠে গেলে সেখানে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয় তাকেই নিুচাপ বলে। ঐ শূন্যস্থান পূরণ করতে চারপাশের উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে প্রবল বেগে বায়ু প্রবাহিত হয়ে ঝড়ের সৃষ্টি করে। প্রকৃতি শূন্যতাকে ঘৃণা করে, উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলে বায়ু প্রবাহিত হবেই। এটাই প্রকৃতির নিয়ম।

এখন এশিয়া হয়ে উঠেছে পৃথিবীর জনসংখ্যার উচ্চচাপ অঞ্চল আর ইউরোপ ও আমেরিকা হয়ে উঠেছে নিম্নচাপ অঞ্চল। বর্তমান পৃথিবীর ৬৮৮ কোটি জনসংখ্যার ৪০০ কোটি অর্থাৎ ৬০% বাস করে এশিয়ায়, অথচ পৃথিবীর স্থলভাগের মাত্র ৩০ ভাগ হল এশিয়া মহাদেশ। কেবল গত শতাব্দীতেই এশিয়ার জনসংখ্যা চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ৬৮৮ কোটি  জনসংখ্যার ১৩৪ কোটি চীনে আর ১১৯ কোটি ভারতে বসবাস করে। অর্থাৎ এই দুটো দেশেই বাস করে সারা পৃথিবীর ৩৭% বা এক-তৃতীয়াংশ জনগণ। এই দুই দৈত্যদেশের মাঝে ছোট্ট যে বাংলাদেশ তার জনসংখ্যার ঘনত্ব সারা পৃথিবীতেই সর্বোচ্চ। আগের একটি রচনায় লিখেছিলাম, সমগ্র দুনিয়ার মানুষ যদি আমেরিকায় গিয়ে বসবাস করতে শুরু করে, তবু আমেরিকার জনসংখ্যার ঘনত্ব বাংলাদেশের সমান হবেনা। এরকম একটি লোকঠাঁসা দেশের লোকজন ছট্ফট্ করে বাইরের দুনিয়ায় বেরিয়ে পড়বে এটাইতো স্বভাবিক। আজ যে লবণাক্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে বা কাল মরক্কোর দুস্তর মরু পার হয়ে ইউরোপের মূল ভূখন্ডে পা রাখে বাংলার দামাল ছেলেরা, সেতো ঐ ঘর ছেড়ে (ভূ)স্বর্গে যাবার অদম্যস্পৃহা থেকেই জাগ্রত। তবু ঘরকুনো বাঙালী অতীতে বিদেশে তেমন পাড়ি জমায়নি, বাংলার এক রাজপুত্র বিজয় পিতা কর্তৃক ত্যাজ্য ঘোষিত হলে দলবল নিয়ে সাগর পাড়ি দিয়ে সিংহল দ্বীপে গিয়ে উঠেছিল। আজকের সিংহলীরা ঐ রাজা বিজয় ও তার অনুসারীদেরই বংশধর। একইভাবে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বা মাছ ধরতে গিয়ে ঝড়ের কবলে পড়ে বাংলাদেশী জেলেরা মালদ্বীপ বা মালয়েশিয়ায় পত্তন গেড়েছে। তখন উড়োজাহাজের প্রচলন ছিলনা, সমুদ্রের জাহাজ বা নৌকাই ছিল দূরদেশে গমনের একমাত্র বাহন।

বাঙালী ঘর ছেড়ে বাইরে, বিশেষ করে ইউরোপে যেতে শুরু করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর। যুদ্ধের ধকলে ইউরোপ তখন পুরোপরি বিধ্বস্ত, পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে ইউরোপের অনেক দেশ। তখন খালাসীরা জাহাজের চাকুরী নিয়ে বিলেতে পাড়ি জমাত আর জাহাজ থেকে পালিয়ে গিয়ে আশ্রয় নিত ভিনদেশে। আশ্রয় জুটতে বেগ পেতে হত না কেননা,  সেসব দেশে লোকের প্রয়োজন ছিল প্রচুর। আজকের ইংল্যান্ডে যে সিলেটি লোকদের দেখা যায় তাদের পূর্বপুরুষেরা মূলতঃ জাহাজের খালাসী ছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার এক দশক পরে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারগুলো উন্মুক্ত হলে প্রচুর বাংলাদেশী সেসব দেশে শ্রমিক হয়ে চলে যায়। এরা অবশ্য খন্ডকালীন অভিবাসী, কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তারা স্বদেশেই ফিরে আসবে। তেলের খনিগুলো আবিস্কৃত হবার পরে একসময়কার মরুভূমির দরিদ্র দেশগুলো পেট্রোডলারে চকচক করে ওঠে। সেখানে মেধার কাজগুলো পায় সাদারা আর কায়িক পরিশ্রমের কাজগুলো দেয়া হয় কালোদের।

একজন চীনা যেমন জানে বড় হয়ে সে কোন চাকুরী পাবেনা, তাকে আপন আপণ (দোকান) খুলতে হবে, তেমনি আশির দশকে একজন শিক্ষিত বাংলাদেশী বুঝতে পারল  দেশে তার কোন কর্মসংস্থান হবে না। চীনাদের মত ব্যবসায়িক ঐতিহ্য বা ঝোঁক বাঙালীর নেই, ব্রিটিশ আমল থেকেই তার কেরানী মানসিকতা।  চাকুরী করাকেই সে ধ্যানজ্ঞান ভাবে, কেরানী হওয়াই তার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। সে কেরানির চাকুরীও যখন তার জুটলনা সে হয়ে পড়ল পুরোপুরি বেকার; নিজের,  সংসারের এবং সমাজের জন্য বোঝা। সে সময়েই মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমের বাজার সিসিম ফাঁকের মত খুলে গেল, আর বাঙালী বেকার যুবকেরা দলে দলে পাড়ি জমাল বিদেশে। আরো পরে ইউরোপের অন্যান্য দেশ জার্মানী, ইতালী, সুইডেনে রাজনৈতিক আশ্রয়গ্রহণের হিড়িক পড়ে গেল। ঐতিহাসিকভাবে ব্রিটেনতো বাংলাদেশীদের জন্য সুখের ঠিকানা ছিলই। যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিশেষ করে বিমান পরিবহনের অগ্রগতির ফলে, নতুন নতুন দেশের দরোজা খুলে যেতে থাকে আর ঘরকুনো বাঙালী ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। এখন এমন দেশ খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে, যেখানে বাংলাদেশী নেই।

নব্বই দশক থেকে শিক্ষিত বাংলাদেশীদের প্রধান গন্তব্য হয়ে উঠল উত্তর আমেরিকার দুটি প্রধান দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। এমনিতেই শরণার্থীদের দেশ বলে খ্যাত  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা অর্থনৈতিকভাবে সবল ও উদার দৃষ্টিভঙ্গীর দুটি দেশ; ফলে শুধু বাংলাদেশীদের জন্য নয়, সারা পৃথিবীর অভিবাসনে উন্মুখ মানুষদের জন্যই দেশ দুটো প্রথম পছন্দের। এর মাঝে উপার্জনের জন্য আমেরিকা আর সামাজিক নিরাপত্তার জন্য কানাডা ছিল অগ্রগণ্য। নব্বই দশক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ডি ভি লটারীর মাধ্যমে সারা পৃথিবী থেকে যখন লোক নিতে শুরু করল তখন বাংলাদেশীরা সে লটারী জিততে মরীয়া হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল। আগে কোনক্রমে আমেরিকা বা কানাডা পৌঁছাতে পারলেই হত,  অপরাধ না করলে সেসব দেশ থেকে কাউকে বের করে দেয়া হত না। এসকল অবৈধ অভিবাসী একটা নির্দ্দিষ্ট সময় পরে সাধারণ ক্ষমা ঘোষনার মাধ্যমে প্রথমে গ্রীনকার্ড, পরে নাগরিকত্ব পেয়ে গেছেন। ডি ভি লটারী সরাসরি বৈধ নাগরিকত্ব পাবার সুযোগ করে দিল। কানাডীয় সরকারও গোটা দুনিয়া থেকে অভিবাসী নিতে শুরু করল  সেদেশের ক্রমঃহ্রাসমান জনসংখ্যাকে স্থিতধী, তথা অর্থনীতিকে সচল রাখতে। অন্য কারণ, ইংরেজী জানা দেশসমূহ থেকে অভিবাসী এনে ফরাসী ভাষাভাষী প্রধান কুইবেক অঞ্চলের মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা হওয়াকে ঠেকিয়ে রাখা। সাম্প্র্রতিক বছরগুলোতে পড়াশোনার আঁড়ালে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ব্রিটেনে প্রচুর বাংলাদেশী ছাত্র চলে গেছে, বিদেশে ভর্তির শিক্ষাবানিজ্য ফুলে-ফেঁপে উঠেছে, যেমন ফুলে উঠেছিল জনশক্তি রফতানীর ব্যবসা। এসব দেশও প্রকারান্তরে এই মাইগ্রেশন সমর্থন করে, রেডিমেড জিনিষ কে না চায়?

স্বাধীনতার পর  থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চলছে তাতে মানুষের মনে নিরাপত্তাবোধ তৈরী হয়নি। বেকারত্ব ও রাজনৈতিক হানাহানির কারণে সামাজিক অপরাধ বেড়ে যায় বহুগুণ। এসব কারণে মানুষের মধ্যে দেশ ছেড়ে চলে যাবার ঝোঁক বাড়ে। মজার ব্যাপার হল, যাদের অপেক্ষাকৃত বেশী সামাজিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা আছে,  সেই শিক্ষিত মধ্যবিত্ত, এমনকি উচ্চবিত্ত শ্রেনীর সদস্যরাই অধিকহারে অভিবাসী হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডায় অভিবাসী বাংলাদেশীদের দিকে তাকালেই এটা বোঝা যায়। ব্যাপারটি একই সাথে দুঃখেরও, কেননা এর ফলে বাংলাদেশ হারাচ্ছে তার মেধাবী সন্তানদের। একেই আমরা ‘ব্রেইন্ ড্রেইন্’ (Brain drain)  বলে থাকি। আমার অনেক ঘনিষ্ঠ প্রকৌশলী ও চিকিৎসক বন্ধু, পরিচিত জন, সহকর্মী উন্নত দেশগুলিতে পাড়ি জমিয়েছেন, কেউ বহু পূর্বেই, কেউবা অতিসাম্প্রতিক কালে। যারা অতিসম্প্রতি অভিবাসী হয়েছেন, তারা অনেকদিন অপেক্ষা করেছেন বাংলাদেশ কোন আশা (hope) দেখায় কিনা, শেষাবধি নিরাশ হয়েই তারা চলে গেছেন বিদেশ-বিভূঁইয়ে। এটা এক ধরণের পলায়ন, তারা নিজেরাও তা জানেন।  দুঃখ হচ্ছে গরীব দেশটি অনেক কষ্ট করে ডাক্তার বা প্রকৌশলী তৈরী করে, অথচ তাদের সেবা পায় উন্নত দেশগুলো। এজন্যই বলা হয় অভিবাসনের ফলে মূলত লাভ হয় উন্নত দেশগুলি আর লোকসান হয় গরীব দেশগুলোর।

স্বদেশে উচ্চপদে আসীন যেমন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, যুগ্ম সচিব, ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়াররা তাদের পেশাগত দক্ষতার কাছাকাছি কোন কাজ পাওয়া দূরে থাক, যেগুলোকে বলা হয় Odd job,  যেমন রেষ্টুরেন্ট, শপিংমল বা গ্যাস স্টেশনের কাজ, সেগুলোও পায় না, তখন হতাশার বিবরে বিবর্ণ হওয়া ছাড়া তাদের আর উপায় থাকেনা। পৃথিবীর ম্বর্গ আমেরিকায় গিয়েও অনেকেরই স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। ৯/১১-র পরে অবস্থা হয়েছে আরো করুণ। নিউইয়র্কের ম্যানহাটান দ্বীপে টুইন টাওয়ার বিধ্বস্ত হবার পরে আমেরিকানদের কাছে মুসলমান মানেই হল আল কায়েদা বা ইসলামী জঙ্গী; যদিও বাস্তবতা হল ৯৯% মুসলমানই শান্তিপ্রিয় ও নিরীহ, জঙ্গীবাদের সাথে তাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। ফলে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক মন্দার বছরগুলোতে বাংলাদেশের প্রধাণতঃ মুসলমান নাগরিকেরা, কর্মক্ষেত্রে আরো কোনঠাঁসা হয়ে পড়েছে।

আমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই সেখানে আমার একজন সহকর্মী আছেন যিনি একসময়ে নিউজিল্যান্ডে অভিবাসী হয়ে চলে গিয়েছিলেন। ছবির মত সুন্দর দেশটি তার কাছে আর সুন্দর থাকে না, যখন মাসের পর মাস তিনি বা তার শিক্ষিত স্ত্রী কোন কাজ খুঁজে পাননা। একবার যাত্রাপথে তিনি এক বাংলাদেশী ডাক্তার দম্পতিকে দেখেন, যারা আপেল বাগানে আপেল তুলছিল। সবকিছু দেখে তিনি স্বদেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন এবং ফিরে আসেন। আমার বেশ কিছু সহকর্মী আছেন যাদের স্ত্রী-পুত্র-কন্যারা বিদেশে থাকেন আর তারা থাকেন বাংলাদেশে। ব্যাপারটি সহজেই অনুমেয়, উচ্চশিক্ষিত এই মানুষেরা তাদের মনোমত কোন কাজ বিদেশে পাননি। আমি একজন প্রকৌশলীকে চিনি, যিনি কানাডায় অভিবাসী হতে গিয়ে ছয় মাসের ভিতর ফিরে এসেছেন। চট্টগ্রামের এক লেখক-প্রকাশককে জানি, যিনি বহুবছর কানাডায় বসবাস করে ফিরে এসেছেন। ‘আবার কবে ফিরে যাবেন?’ এমন প্রশ্নের উত্তরে দৃঢ়ভাবে বলেছিলেন, ‘আর কখনোই ফিরে যাবো না।’

আমি ইংল্যান্ডে দেখেছি রসায়ন শাস্ত্রে পি এইচ ডি ডিগ্রীধারী তার ভাষায় ‘ভাতের হোটেল’ চালান। একসময়ে তিনি ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক। পি এইচ ডি করতে এসে ইংল্যান্ড থেকে তিনি আর ফিরে যাননি। দক্ষিণ লন্ডনে বসবাসকারী ভদ্রলোকের ‘ভাতের হোটেল’টি স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবরায়। প্রতি সপ্তাহেই তিনি সেখানে যান। ইংল্যান্ডে চেনাশোনা সমস্ত শিক্ষিত  লোকদের দেখেছি হয় কোন রেষ্টুরেন্ট বা মুদি দোকানের মালিক। এরা বহুবছর ধরেই ঐ দেশে বসবাস করছেন। নতুন যারা তারা ঐসব রেষ্টুরেন্ট বা মুদি দোকানে কর্মচারী হয়ে কাজ করছেন। কেমব্রীজে এক ‘ভারতীয়’ (আসলে বাংলাদেশী) রেস্তোরায় দুপুরের আহার করতে গিয়ে দেখেছি ছোট্ট কিচেনের  ধোঁয়ার ভিতর গাদাগাদি করে কাজ করছে কতিপয় সুদর্শন বাংলাদেশী যুবক। রেস্তোরাটির মালিক সিলেটি, তিনি একদিকে সস্তা শ্রমে মজুর পাবার জন্য সিলেট থেকে এসব বেকার যুবকদের অবৈধপথে ইংল্যান্ডে এনেছেন, অন্যদিকে এদের আনা বাবদ প্রত্যেকের কাছ থেকে একটা মোটা অঙ্কের টাকাও নিয়েছেন। বিলাতের নামে লাফিয়ে ওঠা ও স্বপ্ন দেখা এসব যুবকেরা তখন দৈনিক ষোল থেকে আঠার ঘন্টা কাজ করতেন একটি অত্যন্ত অপরিসর, ধোঁয়াময় রান্নাঘরের ভিতর। প্রতিদিন গভীর রাতে রেস্তোরার মালিক এদের কাভার্ড ভ্যানের পিছনে লুকিয়ে লন্ডনে নিয়ে যান, আবার পরদিন একইভাবে কেমব্রীজে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। এরা বিলাতের কিছুই দেখেনি, কেননা বেরুলেই পুলিশের হাতে ধরা পড়ার ভয় দেখিয়ে রেখেছেন তাদের নিয়োগকারী। এদের দেখে আমার মনে হয়েছিল এখনো পৃথিবীতে কতরূপেইনা দাসপ্রথা টিঁকে আছে ।

আমি কুয়ালালামপুরে দেখেছি শিক্ষিত বাংলাদেশী যুবারা সড়কে, শপিংমলে পরিচ্ছন্নকর্মী এবং নির্মাণ প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। যে প্রলোভন ও আশ্বাস দিয়ে তাদের মালয়েশিয়ায় আনা হয়েছিল তার কোনটিই বাস্তবে মিলে নি। যে টাকা খরচ করে তারা এদেশে এসেছে তা তুলতেই তাদের তিন/চার বছর লাগবে। নূন্যতম মজুরীরও একটা অংশ কেটে নেয় মধ্যস্বত্ত্বভোগকারী প্রতিষ্ঠান। কেবল নিচুমানের কাজ নয়, তাদের থাকতে হয় গাদাগাদি করে অপরিসর, অস্বাস্থ্যকর জায়গায়। আমরা যতই ভাইয়ের পরিচয় দেই না কেন, মধ্যপ্রাচ্যের বা মালয়েশিয়ার মুসলমান ভাইয়েরা আমাদের স্রেফ ‘ফকির’ বা ‘মিসকিন’ মনে করে। অথচ সমুদ্রে তেল পাবার কয়েক দশক আগে এরাই মিসকিন হয়ে ভারতবর্ষে আসত সওদা ফেরী করতে। বাংলাদেশের একশ্রেনীর জনশক্তি রফতানিকারক অসাধু প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাজসে এসব করছে মালয়েশিয়ার কিছু অসৎ প্রতিষ্ঠান। এটাও একপ্রকার দাসপ্রথাই! আমাদের দারিদ্রের সুযোগ নিচ্ছে উন্নত বিশ্ব আর সে অগ্নিতে ঘি ঢালছে কিছু  মানবতাবর্জিত ও লোভী বাংলাদেশী ব্যবসায়ী। ভিটে-মাটি বিক্রি করে কত অসহায় মানুষ সুখের আশায় মরুভূমের প্রখর রৌদ্রের ভিতর বা শীতপ্রধান দেশের বরফের ভিতর দিনের পর দিন গাধার মত খেঁটে গেছেন আর বিদেশী পুজির জন্য তৈরী করেছেন উদ্বৃত্ত মূল্য তার ইয়ত্তা নাই।  সেদিন ফেসবুকে কথা বলছিলাম ইংল্যাণ্ড প্রবাসী এক কবি-সম্পাদকের সাথে যিনি অবলীলায় স্বীকার করলেন তার দৈনিক বার ঘন্টা বরফভাঙ্গার কষ্টকর সংগ্রামের কথা।  গাঁটের পয়সা খরচ করে স্বপ্নের বিদেশে গিয়ে বছরের পর বছর দুঃস্বপ্নের জেল খেটেছে কত অসহায় বাংলাদেশী শ্রমিক, তার ইয়ত্তা নেই, সংবাদপত্রে তাদের করুণ কাহিনী আমরা পড়েছি।

তবে সকল নেতিবাচক চিত্র বাদ দিলেও একথা স্বীকার করতেই হবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান আয় বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিটেন্স আর্নিং। এই রেমিটেন্সের অর্ধেকই আসে সৌদি আরব থেকে, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। গার্মেন্টস শিল্পের আয় ও রেমিটেন্স আয় দরিদ্র ও দুর্বল অর্থনীতির বাংলাদেশকে বাঁচিয়ে দিয়েছে, বিশ্বমন্দার ভিতরেও টিকে থাকতে সাহায্য করছে। হাজারে হাজারে নয়, বিদেশে লোক পাঠাতে হবে লক্ষ লক্ষ। মেধাবী মানুষদের নয়, কায়িক পরিশ্রমের, যেমন কৃষক বা জেলেদের, পাঠাতে হবে প্রচুর সংখ্যায়। সম্প্রতি মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে ‘মাছধরার জেলে’ নিতে চেয়েছে, এটা আশার কথা। তেমনি লক্ষ লক্ষ হেক্টর অনাবাদী জমি চাষ করতে অস্ট্রেলিয়া নিতে পারে হাজার হাজার চাষী। অদক্ষ শ্রমিকের তুলনায় দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে পারলে আয় হবে কয়েকগুন বেশী। মধ্যপ্রাচ্যে যেমন মোটর মেকানিকের মত দক্ষ কর্মী প্রয়োজন, তেমনি উন্নত বিশ্বে প্রয়োজন প্রচুর নার্সের। আমাদের মস্ত সুবিধা হচ্ছে আমাদের রয়েছে প্রচুর তরুণ জনশক্তি, যাদের সামান্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে  উপযুক্ত করে তোলা যায়, দক্ষ শ্রমিক হলে তাদের আয় দ্বিগুন, তিনগুণ বেড়ে যাবে।

গরমৎধঃরড়হ বা অভিপ্রয়াণ নতুন কিছু নয়। আজ থেকে সত্তর হাজার বছর আগে মানবজাতির আদিপুরুষেরা আফ্রিকা থেকে ইউরোএশিয়াতে ছড়িয়ে পড়েছিল বলেই মানবসভ্যতার এত বিস্তার। আজ গোটা দুনিয়ার আকর্ষণ যে আমেরিকাকে ঘিরে, সেখানে মাইগ্রেশন শুরু হয়েছিল পনের থেকে কুড়ি হাজার বছর আগে। প্রাচীনকালে বৈরী আবহাওয়া থেকে বাঁচতে, খাবারের সন্ধানে, ঐ শীতের পাখির মতই, মানুষেরা দলে দলে আপন ভূখণ্ড ছেড়ে অজানা-অচেনা ভূখণ্ডের দিকে পাড়ি জমিয়েছিল। আজ আবহাওয়া যেহেতু মানব নিয়ন্ত্রণে, তাই জীবিকা ও উন্নত জীবনের খোঁজে মানুষ ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বে। পঞ্চদশ শতকে কালা জ্বরের মহামারীর প্রকোপ কমবার পর থেকেই পৃথিবীর জনসংখ্যা ক্রমাগত হারে বাড়ছে, সঙ্গে বাড়ছে  এক দেশ থেকে অন্যদেশে বসবাসের হার (এ শতকের গোড়ার দিকে এ হার ছিল বিশ্বজনসংখ্যার ৩%)। মজার ব্যাপার হল, আজ বাংলাদেশের প্রচুর মানুষ ভিনদেশে অভিবাসী হলেও বর্তমান বাংলাদেশেই প্রায় দশ লক্ষ বিদেশী উদ্বাস্তু রয়েছে। এরা হল ১৯৪৭ সালের দেশবিভাগের সময়ে ভারতের বিহার থেকে আসা বিহারী মুসলমান, ১৯৯৩ সালে ভারতের ত্রিপুরা থেকে প্রাণ বাঁচাতে আসা চাকমারা, এবং ১৯৯৭ সালে আরাকান থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীগণ।

ইউরোপে যে হারে মূল জনসংখ্যা কমছে তাতে খোদ ইউরোপেই শ্বেতাঙ্গদের একসময়ে সংখ্যালঘু হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ধনী হবার কারণে উন্নাসিক ইউরোপীয়রা বা আমেরিকানরা কায়িক শ্রমের কাজগুলো, বিশেষ করে পরিচ্ছন্নতা বা সেবাপ্রদানের মত কাজগুলো, করতে আগ্রহী নয়।  ঐ কাজগুলো তারা এশীয় বা আফ্রিকানদের দিয়ে করিয়ে নিচ্ছে, ভবিষ্যতেও নেবে। বেকার ও নিজের দেশে চালচুলোহীন এশীয় ও আফ্রিকানরা তা আনন্দের সাথেই করবে, কেননা যতই কঠিন হোক, জীবনধারণের জন্য তাদের প্রয়োজন ‘কাজ’। ১৯৯৬ থেকে ২০০৫ এই দশ বছরে গড়ে প্রায় আড়াই লক্ষ বাংলাদেশী প্রতিবছর কাজের সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। ২০০৭ সালে এই সংখ্যা হঠাৎ লাফিয়ে ৮.৩ লাখে এবং ২০০৮ সালে তা ৮.৭ লাখে পৌঁছায়। বিদেশে সেটেলড্ মেধাবী ও স্বচ্ছল মালয়েশীয়রা যখন দেশে ফিরে বিনিয়োগ করতে শুরু করল, দেশের নেতৃত্ব হাতে তুলে নিল, তখন মালয়েশিয়ার চিত্রপট পাল্টে গেল। বর্তমান বিশ্বে প্রায় আশি লক্ষ বাংলাদেশী বিভিন্ন  দেশে বহুবিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত আছেন; এদের ক্ষুদ্রাংশ চিরস্থায়ী অভিবাসী, বৃহদাংশ স্বল্পমেয়াদী অভিবাসী। যারা চিরস্থায়ী অভিবাসী তারা অধিকতর শিক্ষিত ও বেশী উপার্জন করেন, কিন্তু স্বদেশে রেমিটেন্স পাঠান স্বল্প;  এরা মূলত উন্নত বিশ্বের নাগরিক। অন্যদিকে যারা স্বল্পকালীন অভিবাসী, তারা বেশীরভাগই শ্রমিক, স্বল্প শিক্ষিত ও কম উপার্জন করেন, কিন্তু স্বদেশে রেমিটেন্স পাঠান বেশী; এরা আছেন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ ও মালয়েশিয়ায়।

সম্মিলিতভাবে তারা যে বিপুল পরিমান রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন (২০০৮ পর্যন্ত প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো সর্বমোট রেমিটেন্সের পরিমান ৫৬,৯৯৩ মিলিয়ন ডলার) তাদের স্বজনদের কাছে, যে টাকা মূলতঃ বিনিয়োগ হচ্ছে রিয়েল এস্টেটের মত অনুৎপাদনশীল খাতে (জমি আর ফ্লাটের মূল্যের রকেটগতি এদের আর কালো টাকার মালিকদের কল্যাণেই)। যদি এ টাকা উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করা যায়, তবে বাংলাদেশের অর্থনীতির চেহারা পাল্টে যাবে। জনবল ছাড়া বাংলাদেশের তেমন কোন সম্পদ নেই। বর্তমানে এই জনবলই আমাদের বড় বিপদ, আবার এই জনবল দিয়েই ভবিষ্যতে আমরা একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে পারি। উপায় একটাই – বিপুল সংখ্যায় বিদেশে লোক পাঠানো। সরকারী উদ্যোগ এক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে বড় ভূমিকা নিবে। সরকার উদ্যোগ না নিলেও আমাদের গরীব দেশটি থেকে ধনী দেশগুলোয় উদ্বাস্তু ও অভিবাসী মানুষের স্রোত বইতেই থাকবে; কেননা এটাই ভূ-রাজনৈতিক প্রকৃতির নিয়ম। অভিবাসনের সোনার হরিণ বাঙালীকে আরো আরো দূরে নিয়ে যাক, সে ছড়িয়ে পড়–ক বিশ্বের মায়াবী জঙ্গলে; কেননা আমাদের ছোট তরীটি প্রায় ডুবু ডুবু, আর কোন ভার নিতে সে নিতান্তই অক্ষম।

কামরুল হাসান : কবি, ছোটগল্পকার, প্রবন্ধিক এবং অনুবাদক । বেসরকারি এক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।

কামরুল হাসানকবি, প্রাবন্ধিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।

৪৪ Responses -- “অভিবাসনের সোনার হরিণ ও বাঙালীর বিশ্বপরিক্রমা”

  1. Syed Najmus Saquib

    I couldn’t help being impressed after going through this informative and refreshing post. I agree with you on most of the points you highlighted. Especially I would like to stress on the fact that we indeed need to utilize our brains for the betterment of our own country and the people to be migrated should be the portion of our population who are earning their breads by physical efforts. But the number one problem lies in their communication skills. I have a friend working in Spanish Embassy. She told me about those huge number of Bengali people aspiring to go to Spain when they don’t even have ideas about basic communication in English let alone in Spanish! Government as well as some private NGOs got major roles to play here. They should launch new projects to develop this portion of our population for the sake of migration and earing more remittance.
    Hope to read more of your articles and thanks a bunch for this one.
    Saquib

    Reply
    • Anisa.M

      Well thought out,refreshing and to the point writing. Very good observation from all the right angles. If I’d comment I’d say mostly these things… and thanks for the example… helps to see through the reality.

      Reply
  2. Nurul Momen

    বিদেশের মাটিতে নিজের সত্যিকারের মূল্যায়ন করা যায়. দেশের মাটিতে আপনার পরিচিত, বাবার/মামার পরিচিয়, আপনার ফ্যামিলের পরিচয়ে চাকরি/ব্যবসায় সফল হওয়া যায়. কিন্তু বিদেশের মাটিতে আপনার কর্ম দক্ষতাই একমাত্র পরিচয়.

    আপনি যদি আসলেই কাজ জানেন তাহলে আপনার অবশ্যই চাকরি হবে, নয়তো হবেনা. ভয়ঙ্কর কথা, কিন্তু সত্য কথা.

    Reply
  3. Sabbir Ahmed

    রায়হান,

    যদিও আপনার লেখার প্রত্যেকটা বর্ণই সত্যি, তবুও এটা শুধু নেতিবাচক দিকটাই বলছে. যারা এই সমাজে এসে লেখাপড়া শিখে ভালো করেছে তাদের অনেকে খুবই ভালো আছে. আমি টরন্টোর খুব একটা ছোট্ট উপশহরে থাকি, এখানে ৭-৮ টা বাঙালী পরিবারের সাথে পরিচয় আছে. এদের কেও, প্রফেস্সর, প্রজেক্ট ম্যানেজার, কম্পিউটার প্রোগ্রামার, ইঞ্জিনিয়ার এবং এক জন ব্যাবাসী ও আছেন. সবাই গড়ে লাখ ডলারের বা কাছাকাছি আয় করেন বছরে. ৪-৭ কোটি টাকা দামের অপূর্ব সুন্দর সব বাড়িতে থাকেন.

    আমার বউএর বান্ধবীর জামাই ইঞ্জিনিয়ার এবং তার বন্ধুদের প্রায় সবাই ইঞ্জিনিয়ার (১০০ জনেরও বেশি আমি চিনি). এরা সবাই অত্যন্ত ভালোভাবে আছেন, সবার বেশ দামী বাড়ি, গাড়ী আছে. আমি আমার এক বন্ধুর ছেলের ভর্তির সময় কানাডার একটা অত্যন্ত নামী উনিভের্সিটি তে গিয়েছিলাম ওদের সঙ্গে. সেখানে অল্প বয়সী এক বাঙালী ছেলের সাথে পরিচয় হলো কফি কেনার সময়. জানতে পারলাম উনি এই উনিভের্সিটির প্রফেসর এবং উনার পরিচিত আরো ৭-৮ জন বাংলাদেশির সাথে পরিচয় করিয়ে দিল সবাই ওই উনিভের্সিটিতে PhD করে ঐখানেই পড়ায়. উনাদের বউরাও কেউ কেউ পড়ায়, কেউ কেউ PhD করছে. কাজেই অনেকই খুব খারাপ আছেন এটা যেমন সত্যি, আবার অনেকে খুবই ভালোও আছেন.

    আমাদের দেশের লেখাপড়ার মান খুব খারাপ. এইটা বলার কারণটা আমি বলছি. বাংলাদেশ থেকে লেখা পরা করে কানাডা এসে একটা ভালো চাকরি পেয়েছে এইরকম উদাহরণ আমাদের চোখের সামনে খুব একটা নাই. কিন্তু ইন্ডিয়া দিয়ে ছেলে মেয়েরা এসে ১-২ মাসের মধ্যেই খুব ভালো চাকরি পেয়েছে এইরকম উদাহরণ অনেক. আমাদের অন্য অসুবিধা হলো আমাদের গল্প, আমার মনে হয় আমাদের দেশ থেকে যারা কানাডা বা আমেরিকায় এসেছেন এরা সবাই হাসিনা এবং খালেদের উপদেষ্টা ছিলেন একসময়. এরা যদি এই গল্প গুলো বন্ধ করে একটু কাজে মনদিতেন তাহলে খুব ভালো কিছু না করলেও, কিছু অবশ্যই করতে পারতেন.

    Reply
  4. Rajbanul

    The points I want to high light about skilled people to send abroad is:
    Our poeple has the loswest communication skill which is essential to gain other skills. Thus our poeple are always behind the indian or pakistani people as they have better english then us. They also have thier mother langauge but they learn enaglish to compite the mdoern economy. But we are foolish nation who learn Hindi as our second langauge not english. Our school and colleges have no desire to provide the better english lesson.
    Please dont mix up two things together:
    (1) learning english to get us fit internationaly.
    (2) Dont learn englsih too much, it will destroy our mother langauge as we have sacrificed our lives for this.
    Bnagla will remain as our first langauge , No one will ever be able to take that away from us. But we need to be to fit by learning right foreign langauge.
    This article has highlighted many potential things but less about the causes why we are behind the other nation.
    But Having said that, I agree with every sigle things on this article.

    Reply
  5. Raihan

    ভাই বাংলাদেশে বসে এই লেখা গুলো লিখলে আপনি কোনদিন ঠিক মত লিখতে পারবেননা. আর দেশে যেয়ে যারা গল্প বলেন তারা খুব সুন্দর করে তাদের সুবিধা মত গল্পটা বানান, কাজেই সত্যিটা প্রায় কখনই পাবেননা.

    আমি কানাডায় থাকি প্রায় ২৫ বছর, এখানের প্রত্যেক প্রদেশে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, প্রফেসর, টিচার হিসাবে বাঙালিরা কাজ করছে. অবশ্যই অনেক ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, PhD করা ভদ্রলোকেরা চাকরি পাচ্ছেনা এইটাও ঠিক. কিন্তু যারা চাকরি পাচ্ছেনা তার প্রায় সবটাই তাদের নিজেদের দোষে. অনেকেই এখানকার certificate exam গুলোয় ভালো করতে পারেনা তার সহজ কারণ ইংলিশ. এবং এখানকার পরীক্ষা গুলোয় প্রচুর পরিমানে স্থানীয় বিষয়ের উপর প্রশ্ন থাকে যেটা ইম্মিগ্রান্ট দের জন্য উত্তর দেয়া প্রায় অসম্ভব.

    কানাডা এসেও অনেকে প্রচুর কোর্সে করেন. এদের মধ্যে দুই রকম বাঙালি আছেন. একদল কোর্সে যান education lone নেবার জন্য (যার বেশির ভাগ মাফ হয়ে যাবে), আর একদল যান সত্যিকার কোর্সে তাদের আবার পাশ করার সমর্থ নাই. এমনকি যে সব বাঙালির ছেলেপেলারা এইখানে স্চ্কুলে পরেছে তাদের ও একটা বড় অংশ কখনই উনিভার্সিটি শেষ করেনা এবং মিথ্যা বলতে থাকে.

    Reply
    • Raihan

      কানাডার টরন্টো, অন্টারিও এবং মন্ট্রিয়াল, কুবেক এর অনেক (close to ৫০%) বাঙালী welfare (সরকারী ভাতায়) থাকে. এদের বেশিরভাগ আবার সরকারী বাসায় থাকে (নিম্ন আয়ের ফ্যামিলির জন্য সরকারী সাহায্য). টরন্টোর সরকারী বাসা গুলোর একটা এলাকার নাম পার্লামেন্ট (যেহেতু এটা পার্লামেন্ট স্ট্রীটে অবস্থিত). এরা বাংলাদেশে যেয়ে গল্প করে যে governmenter চাকরি করি (যেহেতু সরকারী চেক পায় welfare এ থাকার কারণে) এবং governmenter quarter পাইছি. এদের আত্তীয় স্বজনরা গল্প শুরুকরে, ও তো governmenter quarter পাইছে, এখন খুব ভালো আছে. আমি federal governmenter চাকরি করি ১৫-১৬ বছর ধরে, আমি তো ভালো আমার manager ও সরকারী বাসা পায়না, পাবেনা. এদেশের সরকারী চাকরি জীবিরা সরকারী বাসা পায়না. সরকারী বাসা মানে subsidized housing for low income (পড়ুন no income) family .

      কিন্তু যখন দেশে যেয়ে গল্পটা ছাড়ে যে “আমি সরকারী চাকরি করি আর পার্লামেন্টে থাকি” তখন যার কানাডা সম্পর্কে কোনো ধারণা নাই সেতো মনে করে যাক আমার আত্তীয় তো ভালই করছে. এদের চাপাবাজি থেকে সাবধান.

      Reply
    • সৈয়দ আলি

      আপনাকে ধন্যবাদ। একদম সত্যি কথা। আসল কথা হচ্ছে, বাংলাদেশে থাকার বড় অসুবিধা হচ্ছে, পেশাদারী চ্যালেন্জটা নেই। যা অনেকের জন্য সুখের বিষয়।

      Reply
  6. Ashikur RAHMAN

    In Dhaka, we use to judge people based on their ‘Home District’. And when we arrive in overseas we expect that no one will judge us based on our ‘Home Country’. How hipocrate we are!

    We really need to think that we live in a ‘Global Village’.

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      ঠিকই বলেছেন আশিকুর রহমান, বাংলাদেশেও যতক্ষন প্রতিদ্বন্দিতা না হয় ততক্ষন কোন সমস্যা নেই। কিন্তু প্রতিদ্বন্দিতা শিরু হলেই সব দোস্তি হাওয়ায় উবে যায়, আর “মালাউন” “নোয়াখইল্যা” সহ কত গালি শুনতে হয়। এটিও রেসিজম, তাই যারা অভিবাসী দেশের মানুষের বিরুদ্ধে রেসিজমের অভিযোওগের আঙ্গুল তুলেন তাদের একটু দেশের কথা মনে করতে বলি।

      Reply
  7. arif

    I am doing my MS in Sunderland University,UK. after a long time I feel pleasure to read ur article. it’s really nice. You know better why ppl do’t start business in BD because “chadabaz” & why not to live in BD u know very well. Although life is very hard in abroad but security, life style is high standard. so they have no way to chose to leave BD. BD ppl not only doing odd job but also in higher position of some organization in abroad, it is a positive sign for BD.

    Reply
  8. Luipa

    apni onek sabolil vasae kothin sotti gulo ke onek sundor kore futie tulecen.Realy apreciatable. .but amader aei bangladesh e onek joggo manus job paccena. so Europe or America te valo job na korleo at least money earning er jonno “Sonar Horin” er picone dourae. hope for the best that one day Bangladesh will be like USA or UK. And speacial thanx for writing on this topic.Keep it up.

    Reply
  9. muqtadir

    one article is enough to change our behaVIOR, to open our close eyes, to make us think in different ways.
    this article is really a best one in my life.
    As i am very close to my graduation i have a plan for mirgration.
    this acticle is helpful for me and all other students like me those who have a plan for migration.
    thank you

    Reply
  10. sagira sultana

    i really like the way you bring the present scenario in front of us. it is really painful that we really do not want to stay here and go abroad for a secure and better future. for a peaceful life there is no alternative rather immigration. everybody wants to be doctor and engineer but nobody wants to be a politician. from ur article i come to know lots of real picture. plz always write like this i have a request.
    thank you

    Reply
  11. Nasim Zaman

    I agree with Syed Ali. To get a job in foreign country you have to learn how to sale yourself. Your attitude should show your prospective employer that you are very confident about the job that you are applying for. If you are not successful at any stage of you recruitment process, interviewer normally gives the reason why you were not successful on this occasion. After finishing my university I was applying job here and there and I was unsuccessful in different occasion. I still remember one of interviewer told me that I can’t sale myself. So I knew what to do after that.

    When I was a student I used to pick apples too but I don’t have to do now. Because now I know how to sale myself. Now I work one of the leading company in the world. Now a days world becoming multicultural. Wherever you go you find the people from different culture and race. Few of my friend wives are doctor here. They did not have to pick apples. They came here with Bangladeshi degree and upgraded themself and got a decent job whereas couple of senior friends driving taxi with MBBS degree. I can name few University professors here who are from Bangladesh. I myself go to a Bangladeshi dentist.

    At the end I would say opportunities are every where. You have to learn how to grave it.

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      ধন্যবাদ নাসিম জামান। আমি বিশ্বাস করি আপনি আরো বিস্তারিত ও যৌক্তিকভাবে অভিবাসনের সাফল্যের সুত্রটি তুলে ধরেছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার ক্ষুদ্র পরিমন্ডলে একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও ভৌগোলিক পরিবেশে সফল হওয়ার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করে থাকি, কেউ শুনে, কেউ শুনেনা। বাংলাদেশের বসবাসরত অনেক ডিগ্রীধারী মানুষ (এর অর্থ শিক্ষিত নয়) ধারনা করেন যে উন্নত বিশ্বে অভিবাসন নেয়া হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে “আকামা” (work permit)নিয়ে যাওয়ার মতো। বিমানযাত্রার শেষেই সেখানে চাকুরীতে যোগদান করা যায়। অভিবাসিত দেশে তো ব্যপারটি তা নয়। ছাত্রাবস্থায় অথবা প্রতিষ্ঠাকালে বিভিন্ন কাজ করা এদেশে সবার জন্যই একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। বাংলাদেশে আমি রাজা-গজা ছিলাম বলেই এখানে এসে একই অবস্থানে থেকে জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখা একটি মূর্খতা (তাই বলছিলাম, ডিগ্রীধারী আর শিক্ষিত হওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে)। যারা এখানে এসে নুতন করে সবকিছু শুরু করার ইচ্ছে পোষন করেন না, তাদের দেশ ত্যাগ না করাই উচিৎ। ষহেষ কথা এই, অনেকের আচরণে মনে হয়, মাতৃভুমি ত্যাগ করে আমরা যেনো দেশদ্রোহী হয়ে গেছি। এ কথা মনে রাখা উচিৎ (যা বাংলাদেশে বসে বোঝা দুষ্কর) বর্তমান পৃথিবী একটি বৈশ্বিক গ্রাম (global village) যেখানে পুঁজির মতো শ্রমেরও অবাধ চলাচল শুরু হয়েছে। রাজশাহীর মানুষ কি চট্টগ্রামে গিয়ে জীবিকার্জন করেনা? এটিও একই ব্যপার। ধন্যবাদ।

      Reply
  12. মহিউদ্দিন খান খোকন

    আমাদের এই ছোট্ট বাংলাদেশে যত অভাবই থাকুকনা কেন জনসংখ্যার অভাব নাই- মানুষের অভাব নাই ।
    আশার কথা হলো পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোতে দিন দিন জনসংখ্যার হার কম আর উল্টো আমাদের দেশের জনসংখ্যা বাড়ছে । এমন একদিন আসবে যখন ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোতে মানুষ অনেক কমে যাবে, ওদের দেশের কলকারখানা, অফিস আদালত চালাবার লোকও খাকবেনা- তখন আমরাই গিয়ে ওদের দেশ দখল করবো ।

    Reply
  13. mahbub

    লেখাটা বেশ প্রাসংগিক। আমি নিজে প্রবাসী হয়ে হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছি। Australia তে Skilled Immigrant Visa নামে যে ভিসা ছিল তার মাধ্যমে যারা এসেছে ১০০% লোকই এসেই Odd job করতে হয়েছে। এটা একটা রাস্ট্রিয় প্রতারণা। আর Racism!!! you r viery nice man until u r in line with me. But u r bloody Asian if you are otherwise. Indeed, this is the so called social justice remaining here and i assume almost everywhere in western countries.

    Reply
  14. Mafiul

    আজ থেকে সত্তর হাজার বছর আগে মানবজাতির আদিপুরুষেরা আফ্রিকা থেকে ইউরোএশিয়াতে ছড়িয়ে পড়েছিল বলেই মানবসভ্যতার এত বিস্তার। আজ গোটা দুনিয়ার আকর্ষণ যে আমেরিকাকে ঘিরে, সেখানে মাইগ্রেশন শুরু হয়েছিল পনের থেকে কুড়ি হাজার বছর আগে। প্রাচীনকালে বৈরী আবহাওয়া থেকে বাঁচতে, খাবারের সন্ধানে, ঐ শীতের পাখির মতই, মানুষেরা দলে দলে আপন ভূখণ্ড ছেড়ে অজানা-অচেনা ভূখণ্ডের দিকে পাড়ি জমিয়েছিল। আজ আবহাওয়া যেহেতু মানব নিয়ন্ত্রণে, তাই জীবিকা ও উন্নত জীবনের খোঁজে মানুষ ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বে। . . . .

    How wonderful & logical explanation :))

    Reply
  15. Heemel Dutta

    I think age factor should be the most important decision for considering settling abroad along with skill. Many people who went abroad in their 20’s is doing better than people who went abroad in their 30’s or 40’s. Adaptation to a whole new country and culture is much easier when a person is young. My Uncle & Aunt who went to Canada last year said me the exact thing. Many people in their mid age, who were in good positions in Bangladesh, choose to settle abroad and got into problem by not getting suitable jobs. Another thing is to mention that if anyone wants to get a white collar job in foreign, he/she must have a respected degree preferably from any institution of that country. Bangladeshi degrees are not valued hence they fall into non-degree holder category in job market.

    Reply
  16. shams shamim

    মধ্যবিত্ত ও উচ্চ বিত্ত বাংগালির তুলনায় নিম্নবর্গের চাষাভূষারাই আসল দেশপ্রেমিক। প্রবাসী শ্রমিকরাতো আরো বেশি দেশপ্রেমিক। তাদের কায়িক পরিশ্রমের সমূহ টাকাই পাঠিয়ে দেন স্বজনদের কাছে। এ তুলনায় প্রবাসী উচ্চ বিত্তরা বরাবরের মতই প্রায় দেশপ্রেমহীন…! আমাদের ইউরোপ প্রবাসী সিলেটিরাতো দেশে বিনিয়োগের বদলে আলিশান বাড়ি আর বাড়ির ভেতরে কোটি টাকার বাথরুম এবং বাড়িতে প্রবেশের জন্য বিশাল তোরণ বানানোতেই সীমাবদ্ধ।
    ইতিহাসের গলি-উপগলির ঘুরে সাম্প্রতিক কালের অনেক নতুন তথ্যই জানলাম আপনার মূল্যবান লেখাটিতে।
    আমরাও চাই কোন প্রকার হয়রানী ও প্রতারণার আশ্রয় না নিয়ে আরো বেশি পরিমাণ দক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠানো হোক। শ্রমিক পাঠানোর নামে যেন মা বোন ও বউয়ের সোনা বিক্রি এবঙ জমি ও গরু বিক্রির টাকা বৃথা না যায়। কারণ চোখের সামনে অনেককে দালালদের প্রতারণায় ফতুর হতে দেখেছি।

    Reply
  17. IDRISH

    Thanks for writting very very true and factful articles.

    If we look at present situation in B/desh,their is no alternate to immigration for better life specially in Europen/North American countries. Educated,scholars are useless if they are not involved in politics, lobbying, oiling etc… in Bangladesh scholars are not habituated,eventually they leaves country.Political unstability,lake of social security pushes scholars to immigrate.

    Reply
  18. Muhammad Abu Saleh

    Sir
    Thanks for your nice writing.I have got many information from your writing that really important for all types of people.I hope you will write such informative and educative writing more in future. Take care…………..

    Reply
  19. Tanvir

    ভাই এক্দম খাটি একটি লিখা। মনটা ভরে গেল। আমার নিজের শিক্ষিত ডাক্তার বোন যখন স্বামীর ইচ্ছায় সূদুর কানাডা প্রবাসী হন এবং মোটামুটি তৃতীয় শ্রেণীর নাগরিকের মর্যাদা ভোগ করেন (কারন কানাডায় বৃটিশ কারিকুলাম এম.বি.বি.এস গ্রহণযোগ্য নয়, অনেক দুর্মুখজন বলেন- অস্ট্রলিয়া হলে আর এই ভুল হতো না!) তারা কেবল স্বান্তনা খোজেন এই ভেবে, আর কিছু হোক আর না হোক, “নিজের সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে”।

    আমার সন্দেহ জাগে, আদৌ তাদের সম্তান সু-মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠবে নাকি সু-নাগরিক হবে? আমি জানি, এমন তর ভব্য ডিসিপ্লনের দেশে সু-নাগরিক হতে পারাটা বড় বিষয় নয়, ছিন্নমূল বৃক্ষ অন্যত্র লাগালে আরেকটা ‘বিদেশী বৃক্ষের’ উপাধিই জোটে। ‘তারা’ আর ‘আমরা’ হয়ে উঠতে পারে না। আফসোস।

    Reply
    • সৈয়দ আলি

      আপনি আপনাকে আহত বা অসম্মান করার স্পর্ধা দেখাতে চাইনা, তবে, আমার দুই আত্মীয়া এখানেও ডাক্তারী পাশ করে পুরোদস্তুর ডাক্তারী করছে। কানাডার বেশিরভাগ প্রদেশই বিদেশি পেশাদারদের একটি বা দুটি টেস্ট নিয়ে লাইসেন্স দিচ্ছে। আমি নিজেকে কানাডার তৃতীয় বা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক মনে করার কোন কারণ দেখি না।

      Reply
    • শাহিদ

      যিনি আপনাকে বলেছেন কানাডায় ডাক্তার হওয়া যায়না উনি খুব বড় একটা মিথ্যা কথা বলেছেন. পরিক্ষা ২ টা অত্যন্ত কঠিন, এবং সবার পক্ষে পাশ করা সম্ভব হয়না. কিন্তু কানাডার ১০ টা প্রভিন্স এবং ২ টেরিটরির সব কটাতেই বাঙালী ডাক্তার এবং ডেন্টিস্ট আছে.

      যেসব বাঙালিরা কিছু করতে পারেনা তারা মিথ্যা কাহিনী বানিয়ে তাদের মান রক্ষা করে. সুতারং ঐসব ছেদো কথায় মানুষ ভুলানোর দিন আর নাই. যে লোক PhD নিয়ে একটা স্চ্কুল টিচার হতে পারেনা তারাতো দেশে ফিরে যাবেই. বাঙালিদের নিজেদের যোগ্যতা আর একটু বাড়ালেই এরা চাকরি পাবে. এদের বেশির ভাগই একটা certificate নিয়ে এসেছে, কিন্তু করতে দিলে এখনো কিছুই করতে পারেনা. এইমুহুর্তে যোগ্যতা সম্পূর্ণ একজন বাঙালিও ভালো চাকরি ছাড়া নাই. যারা ভালো চাকরি করে না সোজা ধরে নেন এদের যোগ্যতা নাই.

      Reply
  20. G. M. Wali Ullah (Arman)

    The facts presented by the columnist is really eye-opening to prospective students like us. Due to the hazardous and unproductive corporate sector, we all hope to someday go abroad and make a secure future for ourselves. But true pictures always remain eluded to us. Properly utilizing the remittance money could have provided job opportunities and prospect we search for without having us to go outside the country. I fervently hope this “missing link” arises sooner than later!!

    Reply
  21. Syed Mahbubul Alam

    অসাধারণ লেখনী। ধন্যবাদ লেখককে একটি তথ্য সমৃদ্ধ রচনার জন্য। দেশের মানুষের টাকায় পড়ালেখা করার পর বিদেশে গিয়ে দেশকে অনেকেই ভুলে যান। উন্নত দেশে গিয়ে যারা অবস্থান করছেন তাদের দেশের মানুষের ঋণ শোধ করার জন্য তাদের কিছু করা উচিত।

    Reply
  22. সৈয়দ আলি

    আমি প্রবাসী, তাই সম্ভবত: প্রবাসী বাঙ্গালীদের বিদেশে কর্মসংস্থান নিয়ে দুকথা বলার হক সম্ভবত: অর্জন করেছি। উত্তর আমেরিকার কথা বিশেষভাবে বলছি, কারণ, আমার আবাস এখানেই। পূঁজিবাদী বিশ্বে শ্রম একটি পণ্য মাত্র এবং যে পণ্যের বাজারমূল্য আছে, তাই বাজারে বিক্রি হবে। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, বিশেষত: বাংলাদেশি পেশাজীবিরা এদেশের শ্রমবাজারে নিজেদের বিক্রয়যোগ্য করে তোলার প্রচেষ্টা বা ধারণা, দুটোরই দারুন অভাব। বিক্রয়যোগ্য হতে হলে, স্থানীয় কথ্য ভাষায় ব্যুৎপত্তি ও স্বাচ্ছন্দ অর্জন করতে হবে। ধরা যাক, আমরা স্বদেশে যে ইংরেজী ভাষাটি শিখি, তা লেখ্য ভাষা। ইংরেজীভাষী অঞ্চলে লেখ্য ইংরেজীতে কথা বলা অগ্রহণীয়, অন্তত: চাকুরী পাওয়ার ক্ষেত্রে (আমরা কেরাণীর জাত হিসাবে করণিক কর্ম খুঁজি তাতে দোষের কিছু দেখিনা)। ভাষার পরে প্রধান প্রতিবন্ধক হচ্ছে, নিজেদের প্রবাসের পেশাগত ও শিক্ষাগত যোগ্যতার নিরিখে সফল হতে হবে। একজন হিসাবরক্ষক বাংলাদেশে নামকরা চার্টার্ড একাউন্টেন্ট হতে পারেন, বা একজন প্রকৌশলী বিপুল কৃতি হতে পারেন, কিন্তু তারা যতক্ষন পর্যন্ত না অভিবাসী দেশের পেশাগত স্বীকৃতি না পাচ্ছেন, তখন তার স্বদেশের সাফল্য মূল্যহীন হয়ে থাকবে। তাই স্থানীয় কথ্যভাষায় ব্যুৎপত্তি ও পেশাগত উৎকর্ষতা অর্জন করলেই ডাক্তারদের আর আপেল তুলতে হবেনা বা প্রকৌশলীকে ট্যাক্সি চালাতে হবেনা। ধন্যবাদ!

    Reply
    • arifeen

      yes…true….i am 100% agreed with you….it is us who have failed to show the western world that we are smart enough to handle the western society rather blamming them for our misplaced status in their own society….it is us who is migrating not them and so it is our duty to upgrade ourselves in order to face a developed civilization,……well said and thanks again for picking up this issue.
      thanks for your another smooth and non-stop-readable article. As a whole the article is quite a nicely described one. But in some points you have made some general comments which are not specific though and thus it gets some kind of opportunity to be confused. it is our mentality of laziness and unwillingness of improving ourselves, which at the same times not paying our reasonable price in the foreign society, specially for the immigrants. Most of the case it is a cultural shock that also keep them captive for not moving forward, as we all know that if one doesn’t want to help himself then no one is gonna help him/her.

      Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রতিক্রিয়া লেখার সময় লক্ষ্য রাখুন--

  • ১. স্বনামে বাংলায় প্রতিক্রিয়া লিখুন।
  • ২. ইংরেজিতে প্রতিক্রিয়া বা রোমান হরফে লেখা বাংলা প্রতিক্রিয়া গৃহীত হবে না।
  • ৩. প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রমণ গৃহীত হবে না।

দরকারি ঘর গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে—